সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করার কিছু টিপস

শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল লিভার। এটি খাদ্য হজমে সহায়তা  এবং শরীরের রক্ত বিশুদ্ধ করে। লিভার শক্তিশালী হলে খাবার হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। লিভারের সাহায্যে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়। অনেক সময় লিভার আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রার সাথে তাল মেলাতে পারে না, যার ফলে আমরা মাঝে মাঝে অলস এবং অসুস্থ বোধ করি। শরীরের ইন্দ্রিয় এবং শক্তির স্তরকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইলে লিভার ডিটক্স করা প্রয়োজন।   প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করতে চাইলে কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-   রসুন খান রান্নাঘরে থাকা রসুন লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে।  এটি ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এমন এক উপাদান যা এনজাইম সক্রিয় করতে পারে। এর ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা সহজ হয়। এতে থাকা অ্যালিসিন এবং সেলেনিয়াম লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। শরীর থেকে দ্রুত বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য সপ্তাহে অন্তত এক কোয়া রসুন খাওয়ার চেষ্টা করুন অথবা রান্নায় ব্যবহার করুন।   বিষাক্ত খাবার বাদ দিন আজকাল অনেকেই প্রক্রিয়াজাত খাবার খান। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে শরীরের ভেতরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অভ্যাস না করলে লিভারের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।   লেবু যোগ করুন শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে চাইলে খাদ্যতালিকায় লেবুর মতো সাইট্রাস ফল যোগ করুন। এসব ফল ভিটামিন সি-এর অন্যতম সেরা উৎস। আপনার লিভারকে সক্রিয় করতে লেবু মেশানো পানি পান করুন। শরীর শোধনে প্রক্রিয়া এখান থেকেই শুরু হয়, কারণ লেবুর পানি আপনার শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলোকে সংশ্লেষণ করতে পারে, যাতে সেগুলো প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।   পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান আমাদের সকলেরই প্রতিদিন ৪,৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়ামের প্রয়োজন। সমস্যা হলো, আমরা যে ধরনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করি, তাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণটুকু ঠিকমতো পূরণ হয় না। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি লিভারের ঠিকমতো কাজ করতে না পারারও একটি কারণ। এ কারণে আপনার খাদ্যতালিকায় পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ খাবার কলা, মিষ্টি আলু, শিম এবং পালং শাক যোগ করুন।    ক্রুসিফেরাস সবজি গুরুত্বপূর্ণ  লিভার পরিষ্কার করার জন্য আরেকটি পদক্ষেপ হলো খাদ্যতালিকায় আরও বেশি ক্রুসিফেরাস সবজি যোগ করা, কারণ এগুলো লিভারের এনজাইমগুলোকে উদ্দীপিত করে খাবার ভাঙতে এবং এর সাথে শরীরে ঢোকা বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে সাহায্য করে। ব্রকলি এবং ফুলকপি হলো দুটি সেরা ক্রুসিফেরাস সবজি যা লিভারকে পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে।     সূত্র: হেলদি বিল্ডার্স

৭ মিনিট আগে
সিডিএ চেয়ারম্যান হলেন বিএনপি নেতা বেলায়েত হোসেন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-৩ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।     চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন বিএনপি নেতা প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।   বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার এক আদেশে তাকে এক বছরের জন্য সিডিএ চেয়ারম্যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।   আদেশে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্ত দেওয়া হয়েছে বেলায়েতকে।   পাশাপাশি আরেক আদেশে সিডিএ চেয়ারম্যান পদে এতদিন দায়িত্ব পালনকারী প্রকৌশলী নুরুল করিমের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছিলেন।   সিডিএ চেয়ারম্যান পদে নতুন দায়িত্ব পাওয়া বেলায়েত হোসেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৩(সন্দ্বীপ) আসন থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।   ছাত্রজীবনে বেলায়েত ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন।   যোগাযোগ করা হলে বেলায়েত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তৃণমূলের একজন কর্মী হিসেবে আমাকে মূল্যায়ন করায় আমি মাননীয় প্রধনামন্ত্রী তারেক রহমান ও আমার দলের কাছে কৃতজ্ঞ।   “চট্টগ্রাম হলো পাহাড়, সাগর, নদী ও সমতলের এক অনন্য মেলবন্ধন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামকে ঘিরে যে পরিকল্পনা তা বাস্তবায়নে আমি কাজ করে যাব। এজন্য সবার পরামর্শ নিব।”   চট্টগ্রাম নগরীর আবাসন সমস্যা নিরসনকে কাজের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারে রাখবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “বন্দর নগরী চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে বিশ্বের অন্য আধুনিক নগরীর মত গড়তে চাই। একটি গ্রিন সিটি করাই আমার লক্ষ্য।”   আগামী রোববার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানান প্রকৌশলী বেলায়েত।

১১ মিনিট আগে
নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান ট্রাম্পের

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  গত সপ্তাহে এক ফোনালাপে  নেতানিয়াহুকে এ আহ্বান জানান ট্রাম্প।    মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই একটি চুক্তি হতে পারে।    অ্যাক্সিওস বলছে,  ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তিটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে।   ওই কর্মকর্তা জানান, ফোনালাপের সময় নেতানিয়াহু বুঝতে পেরেছিলেন যে, তেহরানের সঙ্গে চুক্তির পথে এগোতে ওয়াশিংটনকে তিনি বাধা দিতে পারবেন না।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার বেশ অগ্রগতি হয়েছে।  দুই দেশ সমঝোতা চুক্তির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।  মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করতে জেনেভা সফরে যেতে পারেন।    মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের ওপরই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি নির্ভর করবে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও যেসব কারিগরি বিষয় অমীমাংসিত থাকবে, সেগুলো নিয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আরও আলোচনা হতে পারে।

২০ মিনিট আগে
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৭ দাবি, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক ও উদ্বেগের মধ্যে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অপসারণসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। সংগঠনটি জানিয়েছে, শনিবার (১৩ জুন) বিকাল চারটার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে রবিবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।   শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী।   সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমকে অপসারণ করে ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞ, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।’’ একইসঙ্গে ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে যেকোনও বিতর্কিত উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।   জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে নুর উন-নবী বলেন, ‘‘সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা হওয়ায় সেখানে উপস্থাপিত তথ্যের বিষয়ে জনগণের আস্থা থাকে। ফলে এ বিষয়ে কোনও তথ্যগত অসামঞ্জস্য থাকলে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।’’   লিখিত বক্তব্যে সচেতন গ্রাহক ফোরাম সাতটি দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিকে নিয়োগ, ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করা, ব্যাংক খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা, ব্যাংক খাতে অনিয়মে জড়িতদের পুনরায় প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার।   সংগঠনটির দাবি, ইসলামী ব্যাংক ও অন্যান্য ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা এবং অপপ্রচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।   সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অনেক আমানতকারী আতঙ্কিত হয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করছেন। তাদের মতে, এ পরিস্থিতি দ্রুত নিরসনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।   উল্লেখ্য, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পাঁচ পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালক। গত ২৪ মে ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবসে ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ব্যাংকটিকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা ও আন্দোলন শুরু হয়।   ২০১৭ সালে শেয়ারবাজার থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেয়ার কিনে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয় এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।   ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ইসলামী ব্যাংকের মোট ঋণের প্রায় ৫০ শতাংশ বর্তমানে খেলাপি হয়ে পড়েছে, যার বড় অংশ এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিতরণ করা হয়েছিল। এ পরিস্থিতি ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

২৫ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
মার্কিন অভিযানের আশঙ্কায় ইউরেনিয়াম ভাণ্ডারে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আরও সুরক্ষিত করতে নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান তাদের কয়েকটি ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণস্থলের প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।   সূত্রগুলোর দাবি, কিছু সুড়ঙ্গ ইচ্ছাকৃতভাবে ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখগুলোতে বিস্ফোরক মাইন স্থাপন করা হয়েছে। ফলে সেখানে সংরক্ষিত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামে পৌঁছানো আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য নয়, বরং চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চললেও নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা বাস্তবায়ন আরও জটিল হতে পারে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইরানের নিজের পক্ষেও ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণস্থল থেকে এসব উপাদান সরিয়ে নেওয়া সহজ হবে না। কারণ এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারী খননযন্ত্র, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে।   পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সংরক্ষণস্থলে প্রবেশে দীর্ঘ সময় লাগে বা সব উপাদান যাচাই করা সম্ভব না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে সংরক্ষিত রয়েছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা জোরদারের ফলে এসব স্থাপনায় প্রবেশ আরও সীমিত হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।   এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও বহু কারিগরি ও রাজনৈতিক বিষয় নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় এবং জটিল আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে।   বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর এই ইস্যুতে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা সইয়ের সম্ভাবনা, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা আগামী রোববারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির জন্য সুইজারল্যান্ডের জেনেভাকে সবচেয়ে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তির ভাষা চূড়ান্ত করার কাজ এখনও চলছে। বিশেষ করে লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।   সূত্রগুলো বলছে, শনিবারের মধ্যে চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নাম আলোচনায় রয়েছে।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার দিকে অগ্রগতি হয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আলোচনার বর্তমান পর্যায়ে ইরান তাদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি বাস্তবায়নের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে হামলা বন্ধের বিষয়।   এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিও সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   তবে প্রাথমিক সমঝোতায় পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না-ও থাকতে পারে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এ বিষয়ে পরবর্তী পর্যায়ে পৃথক আলোচনা চালানো হবে।   ইরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের দাবি জানানো হয়ে আসছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।   ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আলোচনার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস এবং ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। এমনকি দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক সহায়তা পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   যদিও সম্ভাব্য চুক্তির সব শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবু বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের নতুন পথ খুলে যেতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
জাপানে জন্মহার ও প্রজনন হার ইতিহাসের সর্বনিম্নে, বিয়ে কমার প্রভাব স্পষ্ট

জাপানে জন্মহার ও প্রজনন হার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। কম সংখ্যক বিয়ে ও পরিবার গঠনের প্রবণতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে দেশটির গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞরা।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৭১ হাজারের কিছু বেশি শিশু, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার কম। ১৮৯৯ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর এটি সর্বনিম্ন জন্মসংখ্যা বলে জানিয়েছে জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে।   একই সময়ে দেশটির মোট প্রজনন হার (একজন নারী তার জীবদ্দশায় গড়ে কতজন সন্তানের জন্ম দিতে পারেন) কমে দাঁড়িয়েছে ১.১৪-এ, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বনিম্ন হার।   এ নিয়ে টানা দশ বছর ধরে জাপানে জন্মহার কমছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের গতি পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক দ্রুত ঘটছে।   সরকারি গবেষকেরা ধারণা করেছিলেন, প্রজনন হার এত নিচে নামতে ২০৪০ সালের কাছাকাছি সময় লাগতে পারে। তবে বাস্তবে তা অনেক আগেই ঘটে গেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মহার কমার অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়া। শতাব্দীর শুরুতে জাপানে বছরে প্রায় ৮ লাখ বিয়ে নিবন্ধিত হতো, যা এখন কমে প্রায় ৫ লাখে নেমে এসেছে।   জাপানে সাধারণত বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যেই সন্তান জন্মের হার বেশি হওয়ায় বিয়ে কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জন্মহারের ওপর।   তবে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অবিবাহিত জাপানিদের প্রায় ৮০ শতাংশ এখনো বিয়ে করতে আগ্রহী।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক পরিবর্তনের কারণে জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে। কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগের পরিবর্তন, বিশেষ করে রিমোট ওয়ার্কের বিস্তার, ব্যক্তিগত যোগাযোগের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে।   এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে হয়রানি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রও সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ে বিষয়ক সংস্থা ও ম্যাচমেকিং সেবাগুলোর চাহিদা আবারও বাড়তে শুরু করেছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা হ্রাস এখন জাপানের সবচেয়ে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।   তথ্যসূত্র: আনাদোলু

ছবি: সংগৃহীত
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে: শিশির মনির

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি বলে দাবি করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের পরিবর্তে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করেছে।   শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতালের লাইসেন্স নম্বর এইচএসএম-৪৩১০০৫৮ বহাল রয়েছে, তবে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স নম্বর এইচএসএম-৪৩১০০৫৯ বাতিল করা হয়েছে।   শিশির মনির বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য পৃথক লাইসেন্স এবং প্যাথলজি সেন্টার পরিচালনার জন্য পৃথক লাইসেন্স রয়েছে। হাসপাতালের লাইসেন্সে ‘হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপন ও পরিচালনা’ এবং প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্সে ‘প্যাথলজি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনা’ উল্লেখ রয়েছে।   তিনি আরও দাবি করেন, গত ৪ জুন জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ করা হয়েছিল এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। পরে অতিরিক্ত সময় চেয়ে জবাব দাখিল করা হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স ও প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার অবহেলার ফল নাকি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে—তা সংশ্লিষ্টদের বিবেচনার বিষয়।   তিনি বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে বলে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা নথিপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রচারের আহ্বানও জানান তিনি।   উল্লেখ্য, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও আলোচনার পর লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থি চার আন্দোলনকারীর ৪–৮ বছরের কারাদণ্ড, ‘সন্ত্রাস সংশ্লিষ্টতা’ নিয়ে বিতর্ক

যুক্তরাজ্যের বিচারিক ইতিহাসে এক বিতর্কিত রায় হিসেবে ফিলিস্তিনপন্থি চার আন্দোলনকারীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ৪ থেকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।   মামলাটি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ব্রিস্টলের কাছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস ইউকে’-এর একটি কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনায় দায়ের করা হয়। ওই ঘটনায় ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ সংগঠনের ছয় কর্মী অভিযুক্ত হন।   জুরি বোর্ডের রায়ে চারজন—লিওনা কামিও, স্যামুয়েল কর্নার, ফাতেমা রাজওয়ানি ও শার্লট হেড—দোষী সাব্যস্ত হন। একই মামলায় জর্ডান ডেভলিন ও জো রজার্স খালাস পান। তবে জুরিরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ বিবেচনা করেননি।   শুক্রবার (১২ জুন) রায় ঘোষণার সময় প্রধান বিচারপতি জেরেমি জনসন দণ্ডপ্রাপ্তদের কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিচারক বলেন, রাজনৈতিক ও আদর্শিক উদ্দেশ্য থেকে তারা গুরুতর সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন এবং কর্মচারী ও সাধারণ মানুষকে ভীত করার চেষ্টা করেছেন।   তিনি আরও দাবি করেন, তাদের কার্যক্রম যুক্তরাজ্য সরকারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ছিল, যা সেন্টেনসিং অ্যাক্ট অনুযায়ী সাজা নির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   এর ভিত্তিতে শার্লট হেড ও লিওনা কামিওকে ৬ বছর করে, ফাতেমা রাজওয়ানিকে ৫ বছর ৮ মাস এবং স্যামুয়েল কর্নারকে ৮ বছর ৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।   রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আদালত কক্ষে প্রতিবাদ জানান।   অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত ফরেনসিক প্রতিবেদনের সময় ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় পর জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনের কারণে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   রায়কে কেন্দ্র করে আদালতের বাইরে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ থেকে পুলিশ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা সইয়ের সম্ভাবনা, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত
আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা আগামী রোববারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির জন্য সুইজারল্যান্ডের জেনেভাকে সবচেয়ে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তির ভাষা চূড়ান্ত করার কাজ এখনও চলছে। বিশেষ করে লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।   সূত্রগুলো বলছে, শনিবারের মধ্যে চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নাম আলোচনায় রয়েছে।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার দিকে অগ্রগতি হয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আলোচনার বর্তমান পর্যায়ে ইরান তাদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি বাস্তবায়নের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে হামলা বন্ধের বিষয়।   এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিও সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   তবে প্রাথমিক সমঝোতায় পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না-ও থাকতে পারে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এ বিষয়ে পরবর্তী পর্যায়ে পৃথক আলোচনা চালানো হবে।   ইরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের দাবি জানানো হয়ে আসছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।   ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আলোচনার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস এবং ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। এমনকি দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক সহায়তা পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   যদিও সম্ভাব্য চুক্তির সব শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবু বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের নতুন পথ খুলে যেতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন অভিযানের আশঙ্কায় ইউরেনিয়াম ভাণ্ডারে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইরান
আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আরও সুরক্ষিত করতে নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান তাদের কয়েকটি ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণস্থলের প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।   সূত্রগুলোর দাবি, কিছু সুড়ঙ্গ ইচ্ছাকৃতভাবে ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখগুলোতে বিস্ফোরক মাইন স্থাপন করা হয়েছে। ফলে সেখানে সংরক্ষিত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামে পৌঁছানো আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য নয়, বরং চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চললেও নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা বাস্তবায়ন আরও জটিল হতে পারে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইরানের নিজের পক্ষেও ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণস্থল থেকে এসব উপাদান সরিয়ে নেওয়া সহজ হবে না। কারণ এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারী খননযন্ত্র, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে।   পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সংরক্ষণস্থলে প্রবেশে দীর্ঘ সময় লাগে বা সব উপাদান যাচাই করা সম্ভব না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে সংরক্ষিত রয়েছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা জোরদারের ফলে এসব স্থাপনায় প্রবেশ আরও সীমিত হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।   এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও বহু কারিগরি ও রাজনৈতিক বিষয় নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় এবং জটিল আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে।   বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর এই ইস্যুতে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন: ইলন মাস্কের সম্পদের উত্থানের গল্প
আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬

বিশ্বের ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। স্পেসএক্স, টেসলা, এক্স (সাবেক টুইটার), স্টারলিংক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।   দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ছিলেন মাস্ক। তবে তার সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। কোম্পানিটির দ্রুত সম্প্রসারণ, স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের সাফল্য এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার কারণে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।   এর আগে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার উত্থানও মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টেসলার শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি এবং কোম্পানির বিস্তৃত বৈশ্বিক কার্যক্রম তাকে বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তিদের কাতারে নিয়ে আসে।   ২০২৫ সালে তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়ে। পরবর্তীতে টেসলার শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিক প্যাকেজ এবং স্পেসএক্সের বাজারমূল্য বৃদ্ধির ফলে তার সম্পদের পরিমাণ আরও দ্রুত বাড়তে থাকে।   ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনীতিতেও সক্রিয় উপস্থিতির কারণে আলোচনায় থাকেন মাস্ক। এক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি প্রযুক্তি, অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা এবং বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত মতামত প্রকাশ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক যানবাহন, মহাকাশ প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—এই চারটি খাতে আগাম বিনিয়োগ ও ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই মাস্ককে অন্য উদ্যোক্তাদের থেকে আলাদা করেছে। সেই দূরদর্শিতার ফলেই তিনি সম্পদের নতুন এক বিশ্বরেকর্ড গড়ে ব্যবসায়িক ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন।   তবে তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিকা নিয়ে বিতর্কও কম নয়। সমর্থকদের কাছে তিনি উদ্ভাবনের প্রতীক হলেও সমালোচকদের মতে, তার বিপুল অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিশ্ব রাজনীতি ও জনমতের ওপর নতুন ধরনের প্রশ্ন তৈরি করছে।

ছবি: সংগৃহীত
কেন বাড়ছে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রবণতা?
আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত নাগরিকত্ব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচিত হয়ে আসছে মার্কিন নাগরিকত্ব। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মার্কিন নাগরিক স্বেচ্ছায় তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন এবং অন্য দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ বেছে নিচ্ছেন।   নিউজিল্যান্ডপ্রবাসী এরিন ক্লাট তাদেরই একজন। এক দশক আগে কাজের সুযোগ নিয়ে দেশটিতে যাওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভের পর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন রাজনৈতিক পরিবেশ এবং বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের ওপর কর সংক্রান্ত জটিলতা এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব ত্যাগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক করনীতি। যুক্তরাষ্ট্র এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে অন্যতম, যারা নাগরিকদের বিশ্বব্যাপী আয়ের ওপর কর আরোপ করে। অর্থাৎ, একজন মার্কিন নাগরিক পৃথিবীর যে দেশেই থাকুন না কেন, তাকে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে কর-সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হয়।   এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন তথাকথিত ‘অ্যাক্সিডেন্টাল আমেরিকান’ বা অনিচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন নাগরিক হয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা। জন্মসূত্রে বা পারিবারিক কারণে নাগরিকত্ব পেলেও তাদের অনেকেই কখনও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেননি। তবুও মার্কিন কর আইনের আওতায় পড়ায় বিদেশি ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ব্যক্তিগত পরিচয়বোধ। দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাসকারী অনেকেই নিজ দেশের চেয়ে নতুন আবাসস্থলের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ততা অনুভব করেন। ফলে দ্বৈত নাগরিকত্বের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট জাতীয় পরিচয় গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।   তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নাগরিকত্ব ত্যাগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত। একবার নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও ভিসা ও অন্যান্য নিয়মের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তাই আবেগ নয়, বরং সম্ভাব্য সব সুবিধা ও ঝুঁকি বিবেচনা করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।   পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণ মিলেই এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। সূত্র: সিএনএন

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি