বলিউডে কারিনা কাপুর খানকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। কাপুর খানদানের কন্যা আর নবাব পরিবারের ঘরণি এই দুই পরিচয় কি তাকে অন্যদের চেয়ে একটু দূরে রাখে? কেউ তাকে বলেন ‘আত্মসচেতন’, আবার অনেকের চোখে তিনি চরম ‘অহংকারী’। সম্প্রতি গ্যালারিতে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা যেন সেই পুরনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিল। ঘটনাটি আইপিএল নয়, বরং ইন্ডিয়ান স্ট্রিট প্রিমিয়ার লিগ (আইএসপিএল)-এর। সেখানে নিজের দল ‘কলকাতা টাইগার্স’-এর হয়ে গলা ফাটাতে হাজির ছিলেন সাইফ আলি খান ও কারিনা কাপুর খান। সঙ্গে ছিল দুই সন্তান তৈমুর ও জেহ্। গ্যালারিতে যখন সাইফ-করিনা খোশমেজাজে খেলা উপভোগ করছিলেন, তখনই সেখানে উপস্থিত হন ‘বিগ বস ১৩’ খ্যাত অভিনেত্রী আরতি সিংহ। সঙ্গে ছিলেন তার মা ও স্বামী দীপক চৌহান। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাইফকে সামনে পেয়ে আরতি ও তার মা ছবি তোলার জন্য বেশ উৎসাহী হয়ে পড়েন। তবে বিপত্তি বাঁধে করিনাকে নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, আরতি ও তার পরিবার কারিনার উপস্থিতি প্রায় উপেক্ষা করেই সাইফের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বিষয়টি মোটেও সহজভাবে নেননি ‘বেবো’। ভিডিওতে দেখা যায়, আরতির দিকে বেশ কড়া ও বাঁকা নজরে তাকাচ্ছেন তিনি। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সাইফ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি নিজেই কারিনাকে ডেকে নেন এবং সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে পোজ দেন। তবে ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে দাঁড়ালেও মাঝেমধ্যেই আরতির দিকে করিনার সেই ‘তীক্ষ্ণ নজর’ নেটিজেনদের চোখ এড়ায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। করিনা বিরোধীরা মন্তব্য করতে ছাড়ছেন না। কেউ লিখেছেন, ‘ওর অ্যাটিটিউড সবসময়ই এমন মাত্রাছাড়া।’ আবার কেউ বলছেন, ‘নিজেকে অনেক বড় কিছু ভাবেন তিনি।’
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাস ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়। তাদের বিশেষ অভিযানে একটি বাসের ভেতর ও ২ ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে ১১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. ইমরান (২৭) ও মো. মাহমুদুল হাসান (৪৬) নামের ২ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত ‘টুডে ট্রাভেলস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডিএমপি যাত্রাবাড়ী থানাধীন গুলিস্তান টোল প্লাজার দক্ষিণ পাশে সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকার সিটি মাঠে এ অভিযান চালানো হয়। ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘টুডে ট্রাভেলস’ নামের বাসে তল্লাশি চালিয়ে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেন। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে দেহ তল্লাশি ও বাসের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়—দুই আসামির দেহ থেকে পৃথকভাবে ৬ হাজার পিস ইয়াবা, বাসের পেছনের একটি তালাবদ্ধ বক্স থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ সবমিলিয়ে উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যা ১১ হাজার পিস উদ্ধার করা হয়। যার মোট ওজন প্রায় ১ কেজি ৮৫ গ্রাম। এ ছাড়াও অভিযানে কয়েকটি মোবাইল ফোন, বাসের কাগজপত্র ও গাড়ির চাবি জব্দ করা হয়। ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত বাসটি ঘটনাস্থল থেকেই জব্দ করা হয়েছে। ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার ইমরান পরিবহন সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত ছিলেন এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে মাদক পাচার করে আসছিলেন। উদ্ধার ইয়াবাগুলো বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে তারা স্বীকার করেছে। ঘটনার পর যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ মামলার এজাহারটি দায়ের করেন। এদিকে উদ্ধার ইয়াবার নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। ডিএনসি কর্তৃপক্ষ বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে কোনো ছাড় নেই, পরিবহন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে যারা মাদক ব্যবসা করছে—তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মায়ানমার সীমান্তে ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুইবারের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। এর ১৭ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে ফের ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। ভূ-পৃষ্ঠের ৬৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার গভীরে এ কম্পন হয়েছে। এর আগে প্রথম দফায় ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের বিভিন্ন এলাকা। এটির উৎপত্তি স্থল ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমের শেষ জেলা সাতক্ষীরা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা সকালে বলেছিলেন, এটি ছিল হালকা মাত্রার ভূমিকম্প; রিখটার স্কেলে ছিল ৪ দশমিক ১ মাত্রা।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঢাকা সেনানিবাসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং জাপান সরকার এর মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সিলেন্সি সাইডা শিনিচি। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে উভয় পক্ষের নিবিড় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ এই চুক্তিটি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থা, সমন্বিত দৃষ্টি, এবং সহযোগিতার প্রতিফলন, যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দূরদর্শী ও কার্যকর কূটনীতির ফলে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়। এই চুক্তি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে। সূত্র জানিয়েছেন, চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলির সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতি রেখে করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অধিগ্রহণ এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে। পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরের ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে উভয় দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক ও সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর আগে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়া বা আলোচনার কোনো উদ্যোগ না আসায় মঙ্গলবার থেকে কর্মসূচির সময়সীমা বাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টা করা হয়। শ্রমিক-কর্মচারীদের তিন দফা দাবি হলো—আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বদলি হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহাল, বিডিএ বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে না দেওয়া। কর্মবিরতির কারণে এনসিটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থসহ বন্দরের সব টার্মিনালেই কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে বন্দরের সামগ্রিক অপারেশন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সকালে শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হলে পুলিশ বাধা দেয়। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন জানান, এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বদলি হওয়া ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। কর্মবিরতির ফলে বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ, সিসিটি, এনসিটি ও কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনারবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানিকারকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চার দিন ধরে জেটিতে জাহাজ অপেক্ষায় থাকায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং রপ্তানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি চলছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল এনসিটিকে কোনোভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। তারা এনসিটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিও জানান। বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, সকালে সীমিত পরিসরে কিছু কার্যক্রম চললেও বিক্ষোভ শুরুর পর তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বর্তমানে সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। কর্মবিরতির কারণে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আমদানিকৃত পণ্য ও কনটেইনার সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, নির্বাচন ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা এবং লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষের জীবনে যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা ভোটারদের মনোভাবেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। নিত্যদিনের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া মানুষ ক্রমেই রাজনীতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে, বাস্তব জীবনের সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরানো কঠিন হয়ে পড়বে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাবলিক ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্ক (পাইনেট) আয়োজিত ‘দ্রব্যমূল্য ও ভোটার ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব উদ্বেগের কথা উঠে আসে। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আয় ও ব্যয়ের অসমতা এবং অর্থনৈতিক চাপ মানুষের রাজনৈতিক আচরণকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। এসব বিষয় উপেক্ষা করে কেবল নির্বাচনী আয়োজনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব নয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, বর্তমানে ভোটারদের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা বক্তৃতার চেয়ে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের সংকটকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় মানুষকে হতাশ করছে। এই বাস্তবতায় অনেকেই রাজনীতিকে নিজেদের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন মনে করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ভোটার বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। গোলটেবিল বৈঠকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ভূঁইয়া, সাবেক সচিব সালেহা আফরোজ, বিআইজিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. জোবায়ের আহমেদ, অপরাজিতা বিডির সম্পাদক আকলিমা ফেরদৌসী, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, ক্যাব প্রতিনিধি মোহা. শওকত আলী খান এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের জন্য সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য হলেও বর্তমানে ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এটি শুধু রাজনৈতিক অনীহার ফল নয়, বরং নাগরিকদের মধ্যে জন্ম নেওয়া আস্থাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ। ভোটাধিকার সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচনই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না বলে মত দেন তারা। আলোচনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে ভোটার আস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে বক্তারা বলেন, কেবল বাজার তদারকি বা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর নীতি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে। মানুষ যখন নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতেই ব্যস্ত থাকে, তখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা অবাস্তব। বৈঠক থেকে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি। এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া ভোটারদের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব নয় বলে মত দেন বক্তারা।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, কিশোরগঞ্জ থেকে শুরু করে নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এখনই সময় পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল ও অতীতের আড্ডা ভুলে সৃজনশীল ও অংশগ্রহণমূলক পথ গ্রহণের। তিনি বলেন, “অতীতের কাসুন্দি শোনানোর দিন শেষ। জনগণ এসব আর শুনতে চায় না। তাদের ঘুম পাড়িয়ে রেখে ক্ষমতার সুযোগে লুটপাট যারা করেছে, তাদের জায়গা এই দেশেই আর থাকবে না। আমরা আমাদের প্রিয় জাতিকে টুকরা টুকরা হতে দেব না। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। ঢাকার হেলিকপ্টারে করে কটিয়াদী পৌঁছে বেলা ১১টায় মঞ্চে উপস্থিত হন শফিকুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মো. রমজান আলী। জনসভায় তিনি বলেন, “কিশোরগঞ্জ জেলা নানা বৈচিত্রে সমৃদ্ধ। এখানকার মানুষ স্বভাবগতভাবে ধর্মপ্রাণ, তবুও অন্য ধর্মের মানুষদের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক রক্ষা করে। এটাই ধর্মের সৌন্দর্য। আমরা দেশটাকে সব ধর্মের মানুষ দিয়ে ফুলের বাগানের মতো সাজাব, ইনশা আল্লাহ। শফিকুর রহমান বিগত শাসনামলে জেলা প্রশাসন ও শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “কিশোরগঞ্জ সমতল আর হাওরের মিলনক্ষেত্র, কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। বছরের পর বছর সরকারি শীর্ষ পদ দখল করা সত্ত্বেও জনগণ উন্নয়নের স্বাদ পায়নি। আমরা জয়লাভ করলে হাওরের কৃষিকে শিল্পে পরিণত করব। বিদেশে পাচার হওয়া কোটি কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনব। এখানে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী বাড়ির কোনো নজির থাকবে না। আমরা মামলামুক্ত, শোষণমুক্ত ও পারিবারিক জমিদারিমুক্ত দেশ গড়ব এবং আপনাদের আস্থা প্রতিদান দেব। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান ও নারীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “জুলাইয়ে কেবল যুবকেরা নয়, নারীরাও লড়াই করেছে। বর্তমানে মা–বোন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই। আমরা মায়েদের সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত অংশ হিসেবে মাথায় তুলব।” বেকারত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের বিপুল যুবক বেকার। তারা রাস্তায় নেমে বেকার ভাতা চায়নি, তারা মেধার মূল্যায়ন চেয়েছে। আমরা তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশ গড়ার কারিগর বানাব। বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজে তোমাদের বসিয়ে দিব, তোমরাই চালাবা। আমরা পেছনে বসব। বাংলাদেশ তোমরা গড়বা। নির্বাচনে প্রতিপক্ষ দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, “ছলে–বলে জেতার দিন শেষ। জনগণের সিদ্ধান্তের বাইরে আর কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে না। পুরোনো স্লোগান থেকে বেরিয়ে আসুন। আমার ভোট আমি দিব, তোমার ভোট আমি দিব—সেই দিন আর ফিরে আসবে না। প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “নির্বাচনে দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন। আমরা কারও কাছে আনুকূল্য চাইব না, তবে যদি আমাদের ক্ষতি করা হয়, কাউকেই ছাড়ব না।” দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমার অধিকার মানে হলো মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—১৮ কোটি মানুষের অধিকার। আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। যারা অন্ধকার গলিতে হাঁটতে চায়, হাটুক। আমরা আলোকিত রাস্তায় হাঁটব। তিনি আরও জানান, “জামায়াতে ইসলামীর পালে হাওয়া লেগেছে। পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের বিজয় স্পষ্ট হয়েছে। সবাই ন্যায়–ইনসাফ ও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। চব্বিশের পক্ষে। ১১ দল ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছরের মধ্যে শিশুদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে এবং প্রতিটি শিশুকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হবে। বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, তবে কোনো প্রভুর নির্দেশ মেনে চলা হবে না।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে গত এক সপ্তাহে অন্তত ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। দলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফ্যাসিবাদী আমলে তৈরি মিথ্যা বয়ান পুনরায় ছড়িয়ে দিয়ে একই ভাষা ও স্লোগান ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন এ অভিযোগ জানান। তিনি বলেন, খুলনা ও যশোরে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফরে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী, সমর্থক, ভোটার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জনসমর্থনের মুখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সুস্থ প্রতিযোগিতার পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপতথ্য ছড়ানোর কৌশল বেছে নিয়েছে। মাহদী আমীন জানান, নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে তারেক রহমান আগামীকাল বুধবার বরিশাল ও ফরিদপুরে যাচ্ছেন। বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে আকাশপথে বরিশালে গিয়ে দুপুর ১২টায় বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন। এরপর বেলা একটায় বরিশাল থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্বে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেট মোতায়েনের বিষয়ে বিএনপি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটি অভিযোগ করেছে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক ক্যাডেট কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে ক্যাডেট মোতায়েন না করার অনুরোধ জানিয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়েও বিএনপি প্রশ্ন তুলেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮১টি স্থানীয় সংস্থার ৫৫,৪৫৪ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৬টি সংস্থা থেকে ৩৪,৪৪২ জন পর্যবেক্ষক রয়েছেন। বিএনপি অভিযোগ করেছে, কয়েকটি সংস্থার নেতৃত্বে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন, যা নির্বাচনের দিন অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি কমিশনের প্রতি দুটি দাবি জানিয়েছে। প্রথম, পর্যবেক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা যাচাই করে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া এবং অভিজ্ঞতা কম সংস্থার পর্যবেক্ষকসংখ্যা সীমিত করা। দ্বিতীয়, কোনো ভোটকেন্দ্রে একসঙ্গে দুজনের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনা জারি করা। রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে মাহদী আমীন বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। ২০১৬ সালে ভিশন–২০৩০, ২০২২ সালে ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদব্যবস্থা প্রবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগে ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব প্রথম তাদের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিএনপি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। দলটির মতে, জনগণের ভোটাধিকার ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বিএনপি আশঙ্কা করছে, ভুয়া তথ্য ছড়ানো, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও ক্যাডেট মোতায়েনে হস্তক্ষেপ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দল সমর্থক ও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রমাণভিত্তিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সরকারি পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বনানী মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবির দ্রুত সমাধান চেয়ে এই কর্মসূচি নিয়েছেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে শত শত ইজিবাইক, বাস, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকা পড়ে এবং তীব্র যানজট তৈরি হয়, যা যাত্রী ও চালকদের জন্য চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুই ঘণ্টা আটকে থাকার পর কিছু ক্ষুব্ধ যাত্রী শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা পর্যন্ত ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য ১৫ মিনিট সময় বেঁধে দেন। পরে বেলা দুইটার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে ফিরে যান এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবির সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নেবেন। এর আগে গত বছরের ১৫, ১৬ ও ১৭ এপ্রিল বনানী এলাকায় একই মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ দেখান। এছাড়া, গত বছরের ২০ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল একই দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত।
মরক্কোয় টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যার হুমকি দেখা দেওয়ায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর কাসার এল-কেবির থেকে ৫০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সংখ্যা শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। খবর রয়টার্সের। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লুক্কোস নদীর পানি দ্রুত বেড়ে আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে মানুষজনকে শহর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা হিশাম আজতু জানান, শহরটি এখন প্রায় ফাঁকা। সব দোকানপাট ও বাজার বন্ধ রয়েছে। অনেক মানুষ নিজেরাই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন, বাকিদের কর্তৃপক্ষ সরিয়ে নিয়েছে। বন্যার ঝুঁকির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। স্কুলগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী শিবির খোলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের কাছে থাকা উয়েদ মাখাজিন বাঁধ পুরোপুরি ভরে যাওয়ায় অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এই পানিও বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। মরক্কোর সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজে নেমেছে। সেনা সদস্য, চিকিৎসক দল, ট্রাক ও অন্যান্য সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। বাস ও ট্রাকের মাধ্যমে মানুষজনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে দেশের অন্য এলাকাতেও নদীর পানি বাড়ছে। সেবু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিদি কাসেম অঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম থেকেও বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, টানা সাত বছর খরার পর মরক্কোয় এবার ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে খরা কাটলেও এখন বন্যা, নদীভাঙন ও বাঁধ উপচে পড়ার মতো নতুন সংকট দেখা দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীর বাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামে জামায়াত কর্মী তাজুল ইসলামের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তাজুল ইসলামসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। তাজুল ইসলাম জানান, তার ছেলে কবির হোসেন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সোমবার সকাল ১১টার দিকে পাশ্ববর্তী সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মান্দারপাড়া গ্রামের হাবু মেম্বার এবং তার ভাই নুরা পাগলার নেতৃত্বে প্রায় ৩০–৪০ জন লোক ট্রাকযোগে এসে বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় লাঠি-সোঠা, রাম-দাসসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। বাড়ির ছাদে অবস্থান নিলে হামলাকারীরা ছাদে উঠে তাজুলকে কুপিয়ে জখম করে। বাড়ির নারী-পুরুষদের মারধরসহ আসবাপত্র ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করা হয়। হামলায় পরিবারের ছানাউল্লাহ, মুসা, ফারুক, কবিরসহ ৬ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তারা ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়। হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিকালে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামী। সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াছ মোল্লা বলেন, উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে হত্যার উদ্দেশ্যে তাজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। বিএনপির এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায়। ইতিপূর্বে আরও বেশ কয়েকবার তারা সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ নেতা-কর্মীদের বাড়ি ঘরে আক্রমণ করেছে। তবে প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের দক্ষিণের আমির মাওলানা হাদিউল ইসলাম ও সাবেক আমির মোতাহার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। হামলার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। তাদের দাবি, লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও সহকারী রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। বিচারিক কমিটি তদন্ত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা পুলিশ পাঠিয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মরক্কোয় টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যার হুমকি দেখা দেওয়ায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর কাসার এল-কেবির থেকে ৫০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সংখ্যা শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। খবর রয়টার্সের। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লুক্কোস নদীর পানি দ্রুত বেড়ে আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে মানুষজনকে শহর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা হিশাম আজতু জানান, শহরটি এখন প্রায় ফাঁকা। সব দোকানপাট ও বাজার বন্ধ রয়েছে। অনেক মানুষ নিজেরাই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন, বাকিদের কর্তৃপক্ষ সরিয়ে নিয়েছে। বন্যার ঝুঁকির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। স্কুলগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী শিবির খোলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের কাছে থাকা উয়েদ মাখাজিন বাঁধ পুরোপুরি ভরে যাওয়ায় অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এই পানিও বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। মরক্কোর সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজে নেমেছে। সেনা সদস্য, চিকিৎসক দল, ট্রাক ও অন্যান্য সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। বাস ও ট্রাকের মাধ্যমে মানুষজনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে দেশের অন্য এলাকাতেও নদীর পানি বাড়ছে। সেবু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিদি কাসেম অঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম থেকেও বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, টানা সাত বছর খরার পর মরক্কোয় এবার ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে খরা কাটলেও এখন বন্যা, নদীভাঙন ও বাঁধ উপচে পড়ার মতো নতুন সংকট দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। নতুন ঘোষণায় ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর মূল শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। তবে আগে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ফলে কার্যকর মোট শুল্কহার নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। গত বছরের ২৭ আগস্ট থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অভিযোগে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এতে ভারতের পণ্যের ওপর মোট শুল্কহার বেড়ে ৫০ শতাংশে দাঁড়ায়। নতুন সিদ্ধান্তে মূল শুল্ক কমানো হলেও অতিরিক্ত শুল্ক বহাল থাকলে কার্যকর শুল্কহার ৫০ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৪৩ শতাংশে নামতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এতে ভারতের তৈরি পণ্যের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মোদি আরও বলেন, বিশ্বের দুটি বৃহৎ অর্থনীতি ও বৃহত্তম গণতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করলে তার সুফল সাধারণ মানুষ পায়। বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মার্কিন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও বাড়ানোর সিদ্ধান্তে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। সে সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে অনুপযুক্ত ও অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছিল। নতুন এই শুল্ক হ্রাসের ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। যেকোনো সময় তেহরানে মার্কিন হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির প্রতিবেশীরা। এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার উদ্যোগ নেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি আলোচনা শুরু করার পর কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এরপর চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। গত জানুয়ারিতে ইরানে সহিংস বিক্ষোভ ও কঠোর দমনপীড়নের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে যায় যে এক পর্যায়ে ট্রাম্প হামলার হুমকি দেন। এ জন্য তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী “আব্রাহাম লিংকন” এবং কিছু ডেস্ট্রয়ার জড়ো করেছেন। তবে ইরানও সরাসরি কথা বলছে না; হামলা হলে আঞ্চলিক যুদ্ধ বেধে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির মুখে সংঘাত এড়াতে মধ্যস্থতার উপায় খুঁজছিল আঙ্কারা। সম্প্রতি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে দেখা করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচী। তখন ফিদান ইরানে হামলার বিরোধীতা করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দেন। এরপর আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে তৎপরতা শুরু করেন এরদোগান। তিনি ট্রাম্পকে ফোন করে উভয় দেশের নেতাদের মধ্যে টেলিকনফারেন্সেরও ব্যবস্থা করেন। এবার আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। স্পষ্ট ধারণা না দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য বেশ কিছু বিষয় সামনে আনা হয়েছে। এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। শিগগিরই সিদ্ধান্ত পৌঁছানো যাবে বলে আশা করছি। এদিকে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী বাঘেরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেব না। এ ধরনের গুঞ্জন স্রেফ গুজব। তেহরান কখনোই ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে আলোচনা বা চুক্তি করবে না।
আন্তর্জাতিক গণপরিবহন সংস্থা ইউআইটিপি জানিয়েছে, দুবাই এমন একটি শহর যা ভবিষ্যতের নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। ২০২৬ সালে ইউআইটিপি-এর বৈশ্বিক সম্মেলন দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে। ইউআইটিপি-এর সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ মেজঘানি বলেন, দুবাইয়ের উন্নয়ন দর্শনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও শক্তশালী নেতৃত্ব। দুবাই একসময় ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর ছিল। তবে এখন গণপরিবহনকে নগর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি জানান, দুবাইয়ের রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (আরটিএ) সঙ্গে ইউআইটিপি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এই সময়ে দুবাইয়ে মেট্রো, বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তাই এই অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে দুবাইয়ে সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। মেজঘানি বলেন, দুবাই শুধু দ্রুত উন্নয়নশীল শহর নয়, বরং আধুনিক ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, স্মার্ট প্রযুক্তি ও বড় আকারের গণপরিবহন প্রকল্প এর উদাহরণ। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের অনেক দেশ এখন গণপরিবহন খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের সম্মেলন ইউআইটিপির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ বছর সংস্থাটি ১৪০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। মেজঘানির মতে, দুবাই অতীত ও ভবিষ্যতের গণপরিবহন ভাবনাকে একসঙ্গে তুলে ধরার উপযুক্ত শহর। ব্যক্তিগতভাবে ইউআইটিপি সম্মেলন তার কাছে মানুষের জন্য কাজ করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার আশা, দুবাইয়ে আয়োজিত সম্মেলনটি হবে শিক্ষণীয়, অনুপ্রেরণাদায়ক এবং আনন্দময়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।