সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
মার্কিন আদালত ট্রাম্পের ৩৯ দেশের অভিবাসনবিরোধী নীতি বাতিল করল

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত কিছু অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করেছেন।    ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট), গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্বের আবেদন ঝুলিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে এসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি জটিলতায় থাকা হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর জন্য বড় ধরনের স্বস্তি মিলল।   রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সের চিফ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল শুক্রবার (৫ জুন) এই রায় দেন। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) যেসব নীতি গ্রহণ করেছিল, তা এশীয়, আফ্রিকান, ল্যাটিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ডজনখানেক দেশের নাগরিকদের এক অনির্দিষ্টকালের আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।   সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত এই বিচারক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কংগ্রেসের আইন মেনে অভিবাসীরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা সত্ত্বেও ইউএসসিআইএস মাসের পর মাস ধরে তাদের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কোনো সংবিধিবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ছাড়াই এই নীতিগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংস্থাটি মূলত অভিবাসনবিরোধী মনোভাব থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিচারক ম্যাককনেল তার পর্যবেক্ষণে আরও যুক্ত করেন, এই আবেদনগুলো আটকে থাকার পেছনে আবেদনকারীদের কোনো ভুল ছিল না, বরং তাদের জন্মস্থান কোন দেশে—কেবল সেই পরিচয়ের কারণেই তাদের এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।   চলতি বছরের মার্চ মাসে বেশ কিছু অভিবাসী সেবা সংস্থা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে মামলা দায়ের করে। আদালতের এই রায়কে সেই জোটের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী লিবারেল লিগ্যাল গ্রুপ ‘ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড’-এর প্রধান স্কাই পেরিমান এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আদালত একটি মৌলিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন—তা হলো, কেন্দ্রীয় সরকার কোনো বৈধ অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না এবং মানুষের জন্মস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোনো বৈষম্য করতে পারে না। তবে এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে নিয়োজিত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। সরকারি প্রসিকিউটরদের দাবি, ওই হামলার পেছনে একজন আফগান অভিবাসী জড়িত ছিলেন, যিনি অবশ্য আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।    ওই ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে তিনি সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখবেন। পরবর্তীতে তার প্রশাসন আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং সিরিয়াসহ মোট ৩৯টি দেশের ওপর পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার পক্ষে নিরাপত্তা এবং কঠোর স্ক্রিনিংয়ের অজুহাত দেওয়া হয়েছিল।   সেই ধারাবাহিকতায় ইউএসসিআইএস ওই ৩৯টি দেশের নাগরিকদের সব ধরনের অভিবাসন সুবিধা সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের জীবনকে থমকে দেওয়া হয়েছে, যা কংগ্রেসের তৈরি মূল অভিবাসন আইন এবং প্রশাসনিক আইন—উভয়েরই চরম লঙ্ঘন। আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত এবং এই ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস সঠিক উপায়ে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে আদালত চূড়ান্ত রায় দেন।   সূত্র: রয়টার্স।  

৩০ সেকেন্ড আগে
আম্বানিকে ছাড়িয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী টিকটকের ঝ্যাং ইমিং

টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটডান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ঝ্যাং ইমিং সম্পদের পরিমাণে ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে ছাড়িয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানে উঠে এসেছেন। সাম্প্রতিক সম্পদ বৃদ্ধির ফলে চীনের ধনকুবেরদের তালিকায় নিজের শীর্ষ অবস্থানও আরও শক্তিশালী করেছেন তিনি।   ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৮৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। ফলে আম্বানি এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন।   ঝ্যাং ইমিং ২০১২ সালে বাইটডান্স প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে টিকটক ও এর চীনা সংস্করণ ডউইন বাইটডান্সের প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত। প্রযুক্তি খাতে কোম্পানিটির দ্রুত সম্প্রসারণ এবং বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টিকটক নিয়ে রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাইটডান্সের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা কোম্পানিটির মূল্যায়ন বাড়াতে সহায়তা করেছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত সম্পদের ওপরও।   এদিকে, ১১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের শিল্পপতি গৌতম আদানি। অবকাঠামো, বন্দর, জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে বিস্তৃত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের কারণে গত কয়েক বছরে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের দ্রুত বিকাশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক ব্যবসার সম্প্রসারণ এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় নতুন পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ঝ্যাং ইমিংয়ের উত্থান সেই প্রবণতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।   বর্তমানে এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় প্রথম স্থানে গৌতম আদানি, দ্বিতীয় স্থানে ঝ্যাং ইমিং এবং তৃতীয় স্থানে মুকেশ আম্বানি রয়েছেন। এছাড়া বৈশ্বিক ধনীদের তালিকাতেও ঝ্যাং ইমিংয়ের অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

২ মিনিট আগে
বাংলাদেশ ব্যাংক কেন ডলার কেনে

বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও বাজার থেকে ডলার কিনছে। প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার সংগ্রহ করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে— বাংলাদেশ ব্যাংকের তো নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আছে, তাহলে আবার কেন ডলার কিনতে হচ্ছে?   প্রশ্নটি স্বাভাবিক। কারণ অনেকেই মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মানেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা থাকা বিপুল পরিমাণ ডলার। বাস্তবে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন।   অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার পেছনে শুধু রিজার্ভ বাড়ানোর লক্ষ্যই নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য রক্ষা, ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং রফতানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহকে উৎসাহিত করার মতো একাধিক অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করে।   রিজার্ভ আসলে কী সহজ ভাষায় বলতে গেলে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ই হলো রিজার্ভ। এই রিজার্ভ ব্যবহার করা হয় বিদেশি ঋণ পরিশোধ, আমদানি বিল মেটানো এবং জরুরি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি রফতানি বা রেমিট্যান্স থেকে ডলার পায় না। এসব ডলার প্রথমে আসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক সেই ডলার বাজার থেকে কিনে রিজার্ভে যোগ করে। অর্থাৎ রিজার্ভ বাড়াতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাজার থেকেই ডলার সংগ্রহ করতে হয়।   ডলার বেশি হলে কেন বাংলাদেশ ব্যাংক কেনে? এক সময় দেশে ডলারের তীব্র সংকট ছিল। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রফতানি আয়ের উন্নতি এবং অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে অনেক ব্যাংকের হাতে অতিরিক্ত ডলার জমা হচ্ছে।   বাজারে কোনও পণ্যের সরবরাহ বেড়ে গেলে সাধারণত তার দাম কমে যায়। ডলারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ডলারের দাম দ্রুত কমতে শুরু করলে রপ্তাফতানিকারক ও প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।   কারণ একজন প্রবাসী যদি এক হাজার ডলার দেশে পাঠান, তাহলে ডলারের দাম কমে গেলে তিনি কম টাকা পাবেন। একইভাবে রফতানিকারকরাও কম টাকার সমপরিমাণ আয় পাবেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে অতিরিক্ত সরবরাহের একটি অংশ তুলে নেয়। ফলে ডলারের দাম হঠাৎ করে পড়ে যায় না এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।   ডলার কেনা মানে কি শুধু রিজার্ভ বাড়ানো না। এটি একইসঙ্গে একটি বাজার ব্যবস্থাপনার কৌশল। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন বাজার থেকে ডলার কেনে, তখন একদিকে রিজার্ভ বাড়ে, অন্যদিকে বাজারে ডলারের অতিরিক্ত সরবরাহ কমে যায়। ফলে ডলারের বিনিময় হার একটি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে থাকে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারের দাম খুব বেশি বেড়ে যাওয়া যেমন অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর, তেমনই খুব দ্রুত কমে যাওয়াও ভালো নয়। উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবসা-বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ হলো দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।   আগে ডলার বিক্রি, এখন ডলার কেনা গত কয়েক বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করতে হয়েছিল। তিন অর্থবছরে ২৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সরবরাহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত জ্বালানি, খাদ্যশস্য, সার এবং অন্যান্য জরুরি আমদানি ব্যয় মেটাতে এই ডলার ব্যবহার করা হয়। এর ফলে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।   বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সেই হারানো রিজার্ভ পুনর্গঠনের সুযোগ পাচ্ছে। তাই বাজার থেকে ডলার কিনে ধীরে ধীরে রিজার্ভ শক্তিশালী করা হচ্ছে।   আইএমএফের শর্তও একটি কারণ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে ডলারের বাজারকে আরও বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দিয়ে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন ডলারের রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করছে এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যদি বাজারে ডলারের দাম নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য সীমার নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনে থাকে। এতে বিনিময় হার কৃত্রিমভাবে নয়, বরং বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতে স্থিতিশীল থাকে।   সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ কী বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। প্রথমত, রিজার্ভ শক্তিশালী হলে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ও আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা বাড়ে। দ্বিতীয়ত, ডলারের বাজার স্থিতিশীল থাকলে আমদানি পণ্যের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয় না। তৃতীয়ত, রেমিট্যান্স ও রফতানি খাত উৎসাহিত হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান দুই উৎস। চতুর্থত, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছে দেশের আর্থিক সক্ষমতার ইতিবাচক বার্তা যায়।   সামনের চ্যালেঞ্জ তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু রেমিট্যান্সের প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা বা বৈদেশিক লেনদেনের চাপ আবারও ডলারের বাজারকে অস্থির করে তুলতে পারে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনে মূলত তিন কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনে মূলত তিনটি কারণে— রিজার্ভ বাড়াতে, ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং রফতানি ও রেমিট্যান্স খাতকে সুরক্ষা দিতে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ডলার কেনা কোনও সংকটের লক্ষণ নয়, বরং বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে এবং অর্থনীতির অবস্থার উন্নতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে রিজার্ভ পুনর্গঠনের একটি কৌশল।

৪ মিনিট আগে
ইসরায়েলবিরোধী মনোভাবে শীর্ষে বাংলাদেশ, সর্বনিম্ন ভারতে

বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের ভাবমূর্তি এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বের তিন ডজন দেশে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ দেশের সিংহভাগ মানুষ ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর ভূমিকার ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই।    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর বিশ্বজুড়ে এই নেতিবাচক মনোভাব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার পরিচালিত ‘স্প্রিং ২০২৬ গ্লোবাল অ্যাটিটিউড সার্ভে’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।    চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত বিশ্বের ৩৬টি দেশে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রাপ্ত তথ্যের গড় অনুযায়ী, প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি চরম অসন্তোষ বা নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এর বিপরীতে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ দেশটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব সবচেয়ে তীব্র রূপ ধারণ করেছে। বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলের বিরুদ্ধে রেকর্ড পরিমাণ নেতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে ৭৯ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এই জরিপ চালানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পিউ রিসার্চ সেন্টার।   ইউরোপের দেশগুলোতেও ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং স্পেনের মতো দেশগুলোতে প্রায় অর্ধেক বা তার চেয়েও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক জানিয়েছেন, ইসরাইলের প্রতি তাদের মনোভাব অত্যন্ত প্রতিকূল। বিপরীতে একমাত্র সাব-সাহারা অঞ্চলের কয়েকটি আফ্রিকান দেশ এবং ভারতের মতো কিছু রাষ্ট্রে ইসরাইলের পক্ষে তুলনামূলক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। জরিপে দেখা গেছে, ভারতের নাগরিকদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম।   এই জরিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বয়স ও রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে মতামতের ভিন্নতা। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে বয়স্কদের তুলনায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব অনেক বেশি প্রবল। উদাহরণস্বরূপ, হাঙ্গেরিতে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সিদের মধ্যে ৭২ শতাংশ মানুষ ইসরাইলকে পছন্দ করেন না, যেখানে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে এই হার মাত্র ৪৫ শতাংশ।   রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কট্টরপন্থী বামপন্থী বা লিবারেল ভাবধারার মানুষেরা ডানপন্থীদের চেয়ে ইসরাইলের প্রতি বেশি ক্ষুব্ধ। এই আদর্শিক ব্যবধান সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ৮৩ শতাংশ লিবারেল বা উদারপন্থী নাগরিক ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, অথচ অনুদারপন্থী বা কনজারভেটিভদের মধ্যে এই হার মাত্র ৩৭ শতাংশ।    এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন এবং সুইডেনে বামপন্থী মতাদর্শের প্রায় ৯০ শতাংশ বা তার বেশি মানুষ ইসরাইলকে নেতিবাচক চোখে দেখেন।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, গত ২০১৫ সালের তুলনায় চলতি বছরে ইসরাইলের ভাবমূর্তি দ্রুত ভেঙে পড়েছে। পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনামূলক ডেটা থাকা ২৪টি দেশের মধ্যে ১৩টি দেশেই ইসরাইল বিরোধী মনোভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। যেমন আর্জেন্টিনায় গত বছর যেখানে ৪৬ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন, এবার তা বেড়ে ৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।    এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, নাইজেরিয়া, পোল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যেও ইসরাইলের ওপর মানুষের ক্ষোভ আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। কেবল গ্রিসে ইসরাইলের পক্ষে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে, যদিও সেখানেও মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ ইসরাইলকে সমর্থন করেন।   এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর থেকে বিশ্ববাসীর আস্থা প্রায় সম্পূর্ণ উঠে গেছে। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, স্পেন, সুইডেন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিশ্ব রাজনীতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর ওপর তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই।    জরিপভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র কেনিয়া এবং ফিলিপাইনে অর্ধেকের বেশি মানুষ নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রতি কিছুটা আস্থা দেখিয়েছেন।   নেতানিয়াহুর প্রতি বিশ্ববাসীর এই অনাস্থা গত বছরের তুলনায় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় এই পরিবর্তনের হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে গত বছর ৬৪ শতাংশ মানুষ নেতানিয়াহুর ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন, তা এবার বেড়ে ৭৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ইতালিতেও নেতানিয়াহুর ওপর সম্পূর্ণ অনাস্থা প্রকাশকারীর সংখ্যা গত বছরের ৪৫ শতাংশ থেকে লাফিয়ে এক লাফে ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে।    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত সামরিক আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের কারণেই বিশ্বজুড়ে ইসরাইল এবং নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় এই ঐতিহাসিক ধস নেমেছে।

৬ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থানে পুশইন ব্যর্থ, ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে দীর্ঘ সময় ধরে চলা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।   শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার এলাকায় ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবির দ্রুত অবস্থান নেওয়ায় পুরো ঘটনা জটিল পরিস্থিতিতে রূপ নেয়।   নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, খবর পাওয়ার পরই সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয় এবং মানবিক বিবেচনায় প্রথমে তাদের শূন্য লাইনে অবস্থান করতে দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের নোম্যান্স ল্যান্ডে রাখা হয়।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৯ ঘণ্টা ধরে দুই বাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েন চলে। রাতের দিকে বিএসএফ সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দিয়ে তাদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে রাত ১টার দিকে ১৭ জনকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয় তারা।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ১৭ জনের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ছিল। তারা যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং কান্নাকাটির ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়রা বিজিবির অবস্থানকে মানবিক ও দৃঢ় বলে প্রশংসা করেন।   বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত এলাকায় ‘পুশইন’ ইস্যুতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ০৬, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,০৩২

দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩২ শিশু।   শনিবার (৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে ঢাকায় দুই শিশু এবং সিলেটে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ৫২২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯১ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৩ জনে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৭৭ হাজার ৭৯১ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ১৩৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৮ হাজার ৯৬৪ শিশু।   এ ছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৯ হাজার ৬২০ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি কার্যকর হবে না: পুতিন

ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের যে কোনো উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত বরাবরই নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান বজায় রাখবে।   সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত অবস্থানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ভারত তার প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার নির্বাচন করার পূর্ণ অধিকার রাখে।   পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের মতো একটি স্বাধীন দেশকে চাপের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করা সম্ভব নয়। দেশের প্রয়োজন, কার্যকারিতা এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই নয়াদিল্লি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।   ভারত যদি রাশিয়ার অত্যাধুনিক এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান বা এস-৫০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক চাপ বা নিষেধাজ্ঞা সেই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে না বলেও ইঙ্গিত দেন রুশ প্রেসিডেন্ট।   রাশিয়া-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই এই সম্পর্ক এগিয়ে চলছে।   পুতিন আরও বলেন, রাশিয়া তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং ভারতের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। কোনো তৃতীয় পক্ষের নির্দেশনা মেনে মস্কো তার সহযোগিতা সীমিত করবে না।   এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান প্রসঙ্গে তিনি জানান, একসময় ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আলোচনা হয়েছিল। যদিও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি, পরে রাশিয়া নিজস্ব উদ্যোগে প্রকল্পটি সম্পন্ন করে। বর্তমানে ভারত আগ্রহ দেখালে দেশটির কাছে এই যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া।   রুশ প্রেসিডেন্টের মতে, এসইউ-৫৭ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
ঈদ শেষে কাজে ফিরেই চাকরি হারালেন ১,৮৬৮ পোশাক শ্রমিক

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কাজে ফিরেই চাকরি হারানোর খবর পেলেন শত শত পোশাক শ্রমিক। ব্যবসায়িক মন্দা ও বিদেশি ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে সাভার ও আশুলিয়ার তিনটি কারখানা থেকে একযোগে ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে আল-মুসলিম গ্রুপ।   ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে সাভারের উলাইল এলাকার একেএম নিটওয়্যার লিমিটেডের ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনির প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যারের ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলসের ৫৩ জন কর্মী রয়েছেন।   শনিবার (৬ জুন) সকালে উলাইল ও রেডিও কলোনি এলাকার কারখানাগুলোর সামনে গিয়ে দেখা যায়, চাকরি হারানো অনেক শ্রমিক কারখানার ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজছেন। কেউ কেউ ছাঁটাইয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।   আল-মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, বৈশ্বিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় উৎপাদন সংকুচিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ২০ ধারা অনুযায়ী শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের সব ধরনের পাওনা ও বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।   তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। উলাইল কারখানার সুইং সেকশনের শ্রমিক সাব্বির হোসেন বলেন, ঈদের আগে ২০ দিনের বেতন দিয়ে ছুটি দেওয়া হয়। অর্ডার কমার অজুহাতে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আজ এসে জানতে পারলাম চাকরি নেই। অথচ এতদিন নিয়মিত ওভারটাইম করেছি।   একই অভিযোগ করেন শ্রমিক নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে কাজ করছি। ছুটি শেষে কারখানায় ঢুকতেই আইডি কার্ড নিয়ে নেয়। পরে বলে মোবাইলে মেসেজ দেওয়া হয়েছে (পাওনাদি)। কিন্তু বাড়ি গিয়ে দেখি কোনো মেসেজই পাইনি।   শ্রমিক নেতাদের দাবি, শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাইয়ের পর প্রয়োজন হলে পুনঃনিয়োগের সুযোগ রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে চাকরি হারানো শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানো উদ্বেগজনক। তার মতে, পোশাক খাতে অভিজ্ঞ ও তুলনামূলক বেশি বেতন পাওয়া শ্রমিকরাই অনেক সময় ছাঁটাইয়ের শিকার হন, যা শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় সংকট তৈরি করে।   ঈদের পরপরই প্রায় দুই হাজার শ্রমিকের চাকরি হারানোর ঘটনায় সাভারের শ্রমঘন শিল্পাঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের একাংশের আশঙ্কা, ক্রয়াদেশ সংকট অব্যাহত থাকলে আরও কারখানায় একই ধরনের ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন আদালত ট্রাম্পের ৩৯ দেশের অভিবাসনবিরোধী নীতি বাতিল করল

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত কিছু অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করেছেন।    ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট), গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্বের আবেদন ঝুলিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে এসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি জটিলতায় থাকা হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর জন্য বড় ধরনের স্বস্তি মিলল।   রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সের চিফ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল শুক্রবার (৫ জুন) এই রায় দেন। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) যেসব নীতি গ্রহণ করেছিল, তা এশীয়, আফ্রিকান, ল্যাটিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ডজনখানেক দেশের নাগরিকদের এক অনির্দিষ্টকালের আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।   সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত এই বিচারক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কংগ্রেসের আইন মেনে অভিবাসীরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা সত্ত্বেও ইউএসসিআইএস মাসের পর মাস ধরে তাদের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কোনো সংবিধিবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ছাড়াই এই নীতিগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংস্থাটি মূলত অভিবাসনবিরোধী মনোভাব থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিচারক ম্যাককনেল তার পর্যবেক্ষণে আরও যুক্ত করেন, এই আবেদনগুলো আটকে থাকার পেছনে আবেদনকারীদের কোনো ভুল ছিল না, বরং তাদের জন্মস্থান কোন দেশে—কেবল সেই পরিচয়ের কারণেই তাদের এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।   চলতি বছরের মার্চ মাসে বেশ কিছু অভিবাসী সেবা সংস্থা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে মামলা দায়ের করে। আদালতের এই রায়কে সেই জোটের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী লিবারেল লিগ্যাল গ্রুপ ‘ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড’-এর প্রধান স্কাই পেরিমান এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আদালত একটি মৌলিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন—তা হলো, কেন্দ্রীয় সরকার কোনো বৈধ অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না এবং মানুষের জন্মস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোনো বৈষম্য করতে পারে না। তবে এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে নিয়োজিত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। সরকারি প্রসিকিউটরদের দাবি, ওই হামলার পেছনে একজন আফগান অভিবাসী জড়িত ছিলেন, যিনি অবশ্য আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।    ওই ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে তিনি সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখবেন। পরবর্তীতে তার প্রশাসন আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং সিরিয়াসহ মোট ৩৯টি দেশের ওপর পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার পক্ষে নিরাপত্তা এবং কঠোর স্ক্রিনিংয়ের অজুহাত দেওয়া হয়েছিল।   সেই ধারাবাহিকতায় ইউএসসিআইএস ওই ৩৯টি দেশের নাগরিকদের সব ধরনের অভিবাসন সুবিধা সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের জীবনকে থমকে দেওয়া হয়েছে, যা কংগ্রেসের তৈরি মূল অভিবাসন আইন এবং প্রশাসনিক আইন—উভয়েরই চরম লঙ্ঘন। আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত এবং এই ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস সঠিক উপায়ে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে আদালত চূড়ান্ত রায় দেন।   সূত্র: রয়টার্স।  

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন আদালত ট্রাম্পের ৩৯ দেশের অভিবাসনবিরোধী নীতি বাতিল করল
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৬, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত কিছু অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করেছেন।    ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট), গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্বের আবেদন ঝুলিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে এসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি জটিলতায় থাকা হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর জন্য বড় ধরনের স্বস্তি মিলল।   রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সের চিফ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল শুক্রবার (৫ জুন) এই রায় দেন। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) যেসব নীতি গ্রহণ করেছিল, তা এশীয়, আফ্রিকান, ল্যাটিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ডজনখানেক দেশের নাগরিকদের এক অনির্দিষ্টকালের আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।   সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত এই বিচারক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কংগ্রেসের আইন মেনে অভিবাসীরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা সত্ত্বেও ইউএসসিআইএস মাসের পর মাস ধরে তাদের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কোনো সংবিধিবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ছাড়াই এই নীতিগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংস্থাটি মূলত অভিবাসনবিরোধী মনোভাব থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিচারক ম্যাককনেল তার পর্যবেক্ষণে আরও যুক্ত করেন, এই আবেদনগুলো আটকে থাকার পেছনে আবেদনকারীদের কোনো ভুল ছিল না, বরং তাদের জন্মস্থান কোন দেশে—কেবল সেই পরিচয়ের কারণেই তাদের এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।   চলতি বছরের মার্চ মাসে বেশ কিছু অভিবাসী সেবা সংস্থা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে মামলা দায়ের করে। আদালতের এই রায়কে সেই জোটের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী লিবারেল লিগ্যাল গ্রুপ ‘ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড’-এর প্রধান স্কাই পেরিমান এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আদালত একটি মৌলিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন—তা হলো, কেন্দ্রীয় সরকার কোনো বৈধ অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না এবং মানুষের জন্মস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোনো বৈষম্য করতে পারে না। তবে এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে নিয়োজিত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। সরকারি প্রসিকিউটরদের দাবি, ওই হামলার পেছনে একজন আফগান অভিবাসী জড়িত ছিলেন, যিনি অবশ্য আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।    ওই ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে তিনি সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখবেন। পরবর্তীতে তার প্রশাসন আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং সিরিয়াসহ মোট ৩৯টি দেশের ওপর পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার পক্ষে নিরাপত্তা এবং কঠোর স্ক্রিনিংয়ের অজুহাত দেওয়া হয়েছিল।   সেই ধারাবাহিকতায় ইউএসসিআইএস ওই ৩৯টি দেশের নাগরিকদের সব ধরনের অভিবাসন সুবিধা সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের জীবনকে থমকে দেওয়া হয়েছে, যা কংগ্রেসের তৈরি মূল অভিবাসন আইন এবং প্রশাসনিক আইন—উভয়েরই চরম লঙ্ঘন। আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত এবং এই ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস সঠিক উপায়ে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে আদালত চূড়ান্ত রায় দেন।   সূত্র: রয়টার্স।  

ছবি : সংগৃহীত
আম্বানিকে ছাড়িয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী টিকটকের ঝ্যাং ইমিং
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৬, ২০২৬

টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটডান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ঝ্যাং ইমিং সম্পদের পরিমাণে ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে ছাড়িয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানে উঠে এসেছেন। সাম্প্রতিক সম্পদ বৃদ্ধির ফলে চীনের ধনকুবেরদের তালিকায় নিজের শীর্ষ অবস্থানও আরও শক্তিশালী করেছেন তিনি।   ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৮৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। ফলে আম্বানি এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন।   ঝ্যাং ইমিং ২০১২ সালে বাইটডান্স প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে টিকটক ও এর চীনা সংস্করণ ডউইন বাইটডান্সের প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত। প্রযুক্তি খাতে কোম্পানিটির দ্রুত সম্প্রসারণ এবং বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টিকটক নিয়ে রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাইটডান্সের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা কোম্পানিটির মূল্যায়ন বাড়াতে সহায়তা করেছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত সম্পদের ওপরও।   এদিকে, ১১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের শিল্পপতি গৌতম আদানি। অবকাঠামো, বন্দর, জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে বিস্তৃত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের কারণে গত কয়েক বছরে তার সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের দ্রুত বিকাশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক ব্যবসার সম্প্রসারণ এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় নতুন পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ঝ্যাং ইমিংয়ের উত্থান সেই প্রবণতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।   বর্তমানে এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় প্রথম স্থানে গৌতম আদানি, দ্বিতীয় স্থানে ঝ্যাং ইমিং এবং তৃতীয় স্থানে মুকেশ আম্বানি রয়েছেন। এছাড়া বৈশ্বিক ধনীদের তালিকাতেও ঝ্যাং ইমিংয়ের অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলবিরোধী মনোভাবে শীর্ষে বাংলাদেশ, সর্বনিম্ন ভারতে
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৬, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের ভাবমূর্তি এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বের তিন ডজন দেশে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ দেশের সিংহভাগ মানুষ ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর ভূমিকার ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই।    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর বিশ্বজুড়ে এই নেতিবাচক মনোভাব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার পরিচালিত ‘স্প্রিং ২০২৬ গ্লোবাল অ্যাটিটিউড সার্ভে’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।    চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত বিশ্বের ৩৬টি দেশে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রাপ্ত তথ্যের গড় অনুযায়ী, প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি চরম অসন্তোষ বা নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এর বিপরীতে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ দেশটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব সবচেয়ে তীব্র রূপ ধারণ করেছে। বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলের বিরুদ্ধে রেকর্ড পরিমাণ নেতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে ৭৯ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এই জরিপ চালানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পিউ রিসার্চ সেন্টার।   ইউরোপের দেশগুলোতেও ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং স্পেনের মতো দেশগুলোতে প্রায় অর্ধেক বা তার চেয়েও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক জানিয়েছেন, ইসরাইলের প্রতি তাদের মনোভাব অত্যন্ত প্রতিকূল। বিপরীতে একমাত্র সাব-সাহারা অঞ্চলের কয়েকটি আফ্রিকান দেশ এবং ভারতের মতো কিছু রাষ্ট্রে ইসরাইলের পক্ষে তুলনামূলক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। জরিপে দেখা গেছে, ভারতের নাগরিকদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম।   এই জরিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বয়স ও রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে মতামতের ভিন্নতা। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে বয়স্কদের তুলনায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব অনেক বেশি প্রবল। উদাহরণস্বরূপ, হাঙ্গেরিতে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সিদের মধ্যে ৭২ শতাংশ মানুষ ইসরাইলকে পছন্দ করেন না, যেখানে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে এই হার মাত্র ৪৫ শতাংশ।   রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কট্টরপন্থী বামপন্থী বা লিবারেল ভাবধারার মানুষেরা ডানপন্থীদের চেয়ে ইসরাইলের প্রতি বেশি ক্ষুব্ধ। এই আদর্শিক ব্যবধান সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ৮৩ শতাংশ লিবারেল বা উদারপন্থী নাগরিক ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, অথচ অনুদারপন্থী বা কনজারভেটিভদের মধ্যে এই হার মাত্র ৩৭ শতাংশ।    এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন এবং সুইডেনে বামপন্থী মতাদর্শের প্রায় ৯০ শতাংশ বা তার বেশি মানুষ ইসরাইলকে নেতিবাচক চোখে দেখেন।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, গত ২০১৫ সালের তুলনায় চলতি বছরে ইসরাইলের ভাবমূর্তি দ্রুত ভেঙে পড়েছে। পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনামূলক ডেটা থাকা ২৪টি দেশের মধ্যে ১৩টি দেশেই ইসরাইল বিরোধী মনোভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। যেমন আর্জেন্টিনায় গত বছর যেখানে ৪৬ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন, এবার তা বেড়ে ৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।    এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, নাইজেরিয়া, পোল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যেও ইসরাইলের ওপর মানুষের ক্ষোভ আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। কেবল গ্রিসে ইসরাইলের পক্ষে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে, যদিও সেখানেও মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ ইসরাইলকে সমর্থন করেন।   এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর থেকে বিশ্ববাসীর আস্থা প্রায় সম্পূর্ণ উঠে গেছে। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, স্পেন, সুইডেন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিশ্ব রাজনীতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর ওপর তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই।    জরিপভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র কেনিয়া এবং ফিলিপাইনে অর্ধেকের বেশি মানুষ নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রতি কিছুটা আস্থা দেখিয়েছেন।   নেতানিয়াহুর প্রতি বিশ্ববাসীর এই অনাস্থা গত বছরের তুলনায় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় এই পরিবর্তনের হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে গত বছর ৬৪ শতাংশ মানুষ নেতানিয়াহুর ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন, তা এবার বেড়ে ৭৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ইতালিতেও নেতানিয়াহুর ওপর সম্পূর্ণ অনাস্থা প্রকাশকারীর সংখ্যা গত বছরের ৪৫ শতাংশ থেকে লাফিয়ে এক লাফে ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে।    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত সামরিক আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের কারণেই বিশ্বজুড়ে ইসরাইল এবং নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় এই ঐতিহাসিক ধস নেমেছে।

ছবি : সংগৃহীত
কাশ্মীর কখনোই ভারতের অংশ ছিল না, হবেও না
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৬, ২০২৬

জম্মু ও কাশ্মীর ‘কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং কখনো হবেও না’ বলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। বিতর্কিত এ অঞ্চলটি নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে শুরু হওয়া এক কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে নয়াদিল্লির দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইসলামাবাদ এ মন্তব্য করেছে।   জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করার পর পাকিস্তানের পক্ষে জবাব দেওয়ার অধিকার (রাইট অব রিপ্লাই) প্রয়োগ করে এ মন্তব্য করেন পাকিস্তানি কূটনীতিক গুল কায়সার সারওয়ানি।   ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারওয়ানি বলেন, ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর যে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় এখনো রয়েছে।   তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এ বিরোধের ঐতিহাসিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে বদলে দেওয়া যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং কখনো হবেও না।   এর আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জম্মু-কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন—উভয় সংকটেরই ধারাবাহিক প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টি উঠে এসেছে। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী এ দুই সংকটের সমাধান হওয়া জরুরি। তার ই বক্তব্যের পরই দুদেশের মধ্যে এ কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়।   সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত আসিম উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালীন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ সংক্রান্ত ২০টিরও বেশি চিঠি বা যোগাযোগ নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনা হয়েছে।   তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদ এই ইস্যুতে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছে। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সাত দশকেরও বেশি সময় পরও কাশ্মীর বিরোধটি এখনো নিরাপত্তা পরিষদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   আসিম আহমেদ বলেন, পাকিস্তান বিশ্বাস করে যে দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তি বজায় রাখতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাশ্মীর বিরোধের একটি ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। কাশ্মীরি জনগণকে অবশ্যই তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে।   পাকিস্তানি এই দূত আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে ফিলিস্তিন ও কাশ্মীর সংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী বিরোধগুলোর প্রাসঙ্গিকতা বারবার ফুটে উঠছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং এগুলোর সমাধান হওয়া আবশ্যক।   ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে পাকিস্তানি প্রতিনিধি বলেন, ফিলিস্তিনের চলমান ট্র্যাজেডি, বিশেষ করে গাজার পরিস্থিতি নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে। রক্তপাত বন্ধে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর, নিরাপত্তা পরিষদ অবশেষে গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবটি পুরোপুরি এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।   আসিম আহমেদ আরও যোগ করেন, ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে (আল-কুদস আল-শরিফ) রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে ইসলামাবাদ।   জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং বিশেষ রাজনৈতিক মিশনগুলোর অপরিহার্য ভূমিকার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত আসিম আহমেদ। তিনি বলেন, পাকিস্তান শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এবং এ মিশনগুলো যেন কার্যকর, পর্যাপ্ত সম্পদসমৃদ্ধ ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো একটি অধিকতর গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বশীল এবং জবাবদিহিমূলক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে ‘ভেটো’ ক্ষমতার ব্যবহার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখনো একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।   তাই এটি স্পষ্ট যে, নিরাপত্তা পরিষদে একক স্থায়ী সদস্য পদের সম্প্রসারণ এবং ভেটো ক্ষমতার ব্যবহার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভিন্ন লক্ষ্যের পরিপন্থি।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি