সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে লন্ডনে ‘বিপ্লব সমাবেশ’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ‘৩৬ জুলাই অ্যালায়েন্স, ইউকে’-এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে এক বৃহৎ বিপ্লব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।   বুধবার (৫ আগস্ট) লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।   সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ৩৬ জুলাই অ্যালায়েন্স, ইউকের কনভেনর আব্দুল লতিফ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গ্লোবাল ভয়েস অব জাস্টিসের সভাপতি ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের প্রধান মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা।   এছাড়া বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ, ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, ব্যারিস্টার নুরুল গাফফার, ড. শামসুল আলম গোলাপ, মুফতি সালেহ আহমদ ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নুর বক্স। স্বাগত বক্তব্য দেন সিরাজুল ইসলাম শাহীন।   অ্যালায়েন্সের যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার এবং সদস্য সচিব শাহরিয়ার আলম শিপারের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা।   প্রধান অতিথি ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই বলেন,   ‘জাতির কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেব জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা বাস্তবায়ন না হলে তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন।’   প্রধান বক্তা ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন,   ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে।’   সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার আলোকে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তারা গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইনের শাসন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ রুদ্ধ করার আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানের শুরুতে মাওলানা মিজানুর রহমান পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে মেসেজ কালচারাল গ্রুপ ও ওয়াননেস কালচারাল গ্রুপ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।   লন্ডন প্রবাসী বিভিন্ন বয়স ও পেশার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক উপস্থিতি আলতাব আলী পার্কে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনে এক বিশেষ আবহ তৈরি করে।

২ ঘন্টা আগে
লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিসবন।   বুধবার (৫ আগস্ট) দূতাবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিস সামিয়া ইসরাত রনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দূতালয় প্রধান এসএম গোলাম সরোয়ার।   অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।   এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।   আলোচনা সভায় অংশ নেন পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনে প্রবাস থেকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা এবং পর্তুগালের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।   সভায় বক্তারা ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বর্তমান সরকার ও দূতাবাসের কাছে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ঢাকা-লিসবন সরাসরি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালু এবং ঢাকায় পর্তুগাল দূতাবাস স্থাপনের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়।   চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সামিয়া ইসরাত রনি তার বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।   তিনি আরও বলেন, দেশ গঠনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রবাসীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠান শেষে দূতাবাসের পক্ষ থেকে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।

২ ঘন্টা আগে
ঢাবির আইএমএল পরিচালকের বিরুদ্ধে শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামালের বিরুদ্ধে এক ভাষাবিদ ও শিক্ষকের চুক্তিভিত্তিক খণ্ডকালীন নিয়োগের মেয়াদ নবায়নে প্রশাসনিক হয়রানি ও গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে।   বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে ওই শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দিলেও দীর্ঘদিন তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের হস্তক্ষেপে আবেদনটি প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়। তবে এক বছরের পরিবর্তে তাকে মাত্র ছয় মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন।   অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের মে মাসে তিনি যথাসময়ে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং বিভিন্ন মহলের প্রভাবে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।   ওই শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, তার আন্তর্জাতিক মানের পাঠদান পদ্ধতির সঙ্গে অন্য এক শিক্ষকের পাঠদানের ধরন মিল নেই— এমন মন্তব্য করে তার পেশাগত সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।   তিনি জানান, গত ২৫ বছরে যুক্তরাজ্য, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়া ক্যামব্রিজ, অক্সফোর্ড, কিংস কলেজ লন্ডন ও সোয়াসসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা ও ভাষা অর্জনবিষয়ক সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন এবং প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।   বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি নিরসনের জন্য একাধিকবার আইএমএল পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানালেও কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।   অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি নিজে এবং তার শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। উপাচার্য আবেদনগুলো রেজিস্ট্রার দপ্তরের মাধ্যমে আইএমএলে পাঠালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।   এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপক পদে আবেদন করার সময় যে গোষ্ঠী তার বিরোধিতা করেছিল, একই গোষ্ঠী এখন আইএমএলেও তার বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে।   নিজেকে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের শিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং একাধিক ভাষায় দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত পক্ষপাতের কারণে তাকে বারবার পেশাগতভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও যোগ্য শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।   অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইএমএল পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল বলেন,   ‘আমাদের ইতোমধ্যে একজন অনারারি অধ্যাপক আছেন। বর্তমানে কোনো শিক্ষক প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘ওনার যোগ্যতা নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। তবে তিনি আগে ফার্সি বিভাগে ছিলেন। আমাদের কোর্সগুলো খুবই বেসিক, সে হিসেবে তাকে ওভারকোয়ালিফায়েড মনে হয়েছে। এছাড়া সিলেবাস অনুসরণ নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল। এই মুহূর্তে আমাদের শিক্ষকের প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি দেখব।’

২ ঘন্টা আগে
নেতানিয়াহুর ফোনে মোদির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি ভারত-ইসরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি গুরুত্ব পায়।   বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে তাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা।   ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানায়, ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন মোদি ও নেতানিয়াহু। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই নেতা ভবিষ্যতেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে দুই দিনের সফরে ইসরায়েল গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরে ২০১৭ সালে মোদির ঐতিহাসিক ইসরায়েল সফর এবং ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফরের প্রসঙ্গও উঠে আসে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল বলে জানায় এনডিটিভি।   ফোনালাপে উদীয়মান প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতার অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়।   দুই প্রধানমন্ত্রী শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধিকে ভিত্তি করে ভারত-ইসরায়েল কৌশলগত সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।   এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভারত-ইসরায়েলের যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধির যৌথ লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিল।   সূত্র: এনডিটিভি

২ ঘন্টা আগে
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ফাইল ছবি
জাতীয়
ভারত সফর করবেন কি না, সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের (বিমসটেক) বর্তমান সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নিজেই নেবেন বলে জা‌নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।   বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতিত্ব করছে। ব্রিকস একটি বহুপাক্ষিক সংস্থা, যেখানে বাংলাদেশ অবশ্যই অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। সেই হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সেখানে অংশগ্রহণ করবেন কি করবেন না, সেটা ওনার ব্যস্ততা, ওনার সময় এবং উনি সেটা বলে দেবেন।   তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটা ওনাকেই নিতে হবে, কারণ ওনার সময়সূচির ওপর নির্ভর করবে—উনি যেতে পারবেন কি পারবেন না।   ভারতের দিক থেকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সফরের এক‌টি আমন্ত্রণ র‌য়ে‌ছে। দু‌টি আমন্ত্রণ কি এখ‌নো রয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, দাওয়াত তো আছে।   আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাংলাদেশ সম্মেলনে যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   সাংবাদিকরা জানতে চান, বাংলাদেশের অবস্থান বারবার ভারতকে জানানোর পরও বুধবার (৬ জুলাই) দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিং হয়েছে। এরকম চলতে থাকলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফরের মতো ভালো সম্পর্ক থাকবে কিনা।      শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা চাই ভালো সম্পর্ক থাকুক দুই দেশের জনগণের স্বার্থে। কিন্তু সম্পর্কটা তো হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা সম্মানের জায়গা রেখে এবং নিজেদের স্বার্থটাকে বজায় রেখে। ভারত সেটা বুঝতে পারলে সবার জন্য মঙ্গল।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হোক—সেটা আমি বিশ্বাস করি যে দুই দেশের সরকার দুই দেশের জনগণ সেটা চায়। কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের প্রধান যদি এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে এবং সেটা যদি ভারত সরকার এখনই বন্ধ না করে, এই মুহূর্তে বন্ধ না করে—তাহলে অবশ্যই সেটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি করে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬

ফাইল ছবি
বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার তল্লাশির নির্দেশ

ভিআইপি ও সিআইপি ব্যক্তিসহ সবার ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধি সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।   বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।   মন্ত্রী বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ক দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়কারী সংস্থা এনসিএসসির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।   বাংলাদেশের আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। যেসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আইসিএও’র মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেন।   আফরোজা খানম আরও বলেন, যাত্রীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রীদের সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।   সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করবে।   তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পর এনসিএসসির সভা হয়েছে। তাই এর সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।   প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।   সভায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ।   কমিটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করে।   এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম প্রতিরোধে ক্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়।   যাত্রীসেবা উন্নত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করে কমিটি।

ছবি: সংগৃহীত
ঢাবির আইএমএল পরিচালকের বিরুদ্ধে শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামালের বিরুদ্ধে এক ভাষাবিদ ও শিক্ষকের চুক্তিভিত্তিক খণ্ডকালীন নিয়োগের মেয়াদ নবায়নে প্রশাসনিক হয়রানি ও গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে।   বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে ওই শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দিলেও দীর্ঘদিন তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের হস্তক্ষেপে আবেদনটি প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়। তবে এক বছরের পরিবর্তে তাকে মাত্র ছয় মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন।   অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের মে মাসে তিনি যথাসময়ে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং বিভিন্ন মহলের প্রভাবে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।   ওই শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, তার আন্তর্জাতিক মানের পাঠদান পদ্ধতির সঙ্গে অন্য এক শিক্ষকের পাঠদানের ধরন মিল নেই— এমন মন্তব্য করে তার পেশাগত সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।   তিনি জানান, গত ২৫ বছরে যুক্তরাজ্য, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়া ক্যামব্রিজ, অক্সফোর্ড, কিংস কলেজ লন্ডন ও সোয়াসসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা ও ভাষা অর্জনবিষয়ক সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন এবং প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।   বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি নিরসনের জন্য একাধিকবার আইএমএল পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানালেও কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।   অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি নিজে এবং তার শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। উপাচার্য আবেদনগুলো রেজিস্ট্রার দপ্তরের মাধ্যমে আইএমএলে পাঠালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।   এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপক পদে আবেদন করার সময় যে গোষ্ঠী তার বিরোধিতা করেছিল, একই গোষ্ঠী এখন আইএমএলেও তার বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে।   নিজেকে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের শিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং একাধিক ভাষায় দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত পক্ষপাতের কারণে তাকে বারবার পেশাগতভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও যোগ্য শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।   অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইএমএল পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল বলেন,   ‘আমাদের ইতোমধ্যে একজন অনারারি অধ্যাপক আছেন। বর্তমানে কোনো শিক্ষক প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘ওনার যোগ্যতা নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। তবে তিনি আগে ফার্সি বিভাগে ছিলেন। আমাদের কোর্সগুলো খুবই বেসিক, সে হিসেবে তাকে ওভারকোয়ালিফায়েড মনে হয়েছে। এছাড়া সিলেবাস অনুসরণ নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল। এই মুহূর্তে আমাদের শিক্ষকের প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি দেখব।’

ছবি: সংগৃহীত
লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিসবন।   বুধবার (৫ আগস্ট) দূতাবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিস সামিয়া ইসরাত রনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দূতালয় প্রধান এসএম গোলাম সরোয়ার।   অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।   এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।   আলোচনা সভায় অংশ নেন পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনে প্রবাস থেকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা এবং পর্তুগালের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।   সভায় বক্তারা ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বর্তমান সরকার ও দূতাবাসের কাছে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ঢাকা-লিসবন সরাসরি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালু এবং ঢাকায় পর্তুগাল দূতাবাস স্থাপনের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়।   চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সামিয়া ইসরাত রনি তার বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।   তিনি আরও বলেন, দেশ গঠনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রবাসীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠান শেষে দূতাবাসের পক্ষ থেকে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।

ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে লন্ডনে ‘বিপ্লব সমাবেশ’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ‘৩৬ জুলাই অ্যালায়েন্স, ইউকে’-এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে এক বৃহৎ বিপ্লব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।   বুধবার (৫ আগস্ট) লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।   সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ৩৬ জুলাই অ্যালায়েন্স, ইউকের কনভেনর আব্দুল লতিফ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গ্লোবাল ভয়েস অব জাস্টিসের সভাপতি ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের প্রধান মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা।   এছাড়া বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ, ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, ব্যারিস্টার নুরুল গাফফার, ড. শামসুল আলম গোলাপ, মুফতি সালেহ আহমদ ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নুর বক্স। স্বাগত বক্তব্য দেন সিরাজুল ইসলাম শাহীন।   অ্যালায়েন্সের যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার এবং সদস্য সচিব শাহরিয়ার আলম শিপারের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা।   প্রধান অতিথি ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই বলেন,   ‘জাতির কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেব জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা বাস্তবায়ন না হলে তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন।’   প্রধান বক্তা ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন,   ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে।’   সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার আলোকে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তারা গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইনের শাসন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ রুদ্ধ করার আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানের শুরুতে মাওলানা মিজানুর রহমান পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে মেসেজ কালচারাল গ্রুপ ও ওয়াননেস কালচারাল গ্রুপ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।   লন্ডন প্রবাসী বিভিন্ন বয়স ও পেশার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক উপস্থিতি আলতাব আলী পার্কে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনে এক বিশেষ আবহ তৈরি করে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুর ফোনে মোদির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৬, ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি ভারত-ইসরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি গুরুত্ব পায়।   বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে তাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা।   ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানায়, ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন মোদি ও নেতানিয়াহু। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই নেতা ভবিষ্যতেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে দুই দিনের সফরে ইসরায়েল গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরে ২০১৭ সালে মোদির ঐতিহাসিক ইসরায়েল সফর এবং ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফরের প্রসঙ্গও উঠে আসে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল বলে জানায় এনডিটিভি।   ফোনালাপে উদীয়মান প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতার অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়।   দুই প্রধানমন্ত্রী শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধিকে ভিত্তি করে ভারত-ইসরায়েল কৌশলগত সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।   এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভারত-ইসরায়েলের যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধির যৌথ লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিল।   সূত্র: এনডিটিভি

ছবি: সংগৃহীত
দুই দশক আগে যে কিশোরের লিভারে বেঁচেছিলেন, এবার তার ভাইকেই বিয়ে করছেন তরুণী
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৬, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে এক হৃদয়ছোঁয়া ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে দুটি পরিবার। প্রায় দুই দশক আগে যে কিশোরের দান করা লিভারে নতুন জীবন পেয়েছিলেন ব্রুকলিন ডোস্টন, এবার তিনি বিয়ে করতে যাচ্ছেন সেই কিশোরের ছোট ভাই নোহা ডোটোনকে।   ঘটনার শুরু ২০০৩ সালে। তখন কেন্টাকির বাসিন্দা ব্রুকলিন ছিলেন শিশু। তার লিভারে জটিল রোগ ধরা পড়ে এবং চিকিৎসকরা জানান, দ্রুত লিভার প্রতিস্থাপন না করলে তার বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম।   এ সময় ব্রুকলিনের মা মরিয়া হয়ে ডোনার খুঁজতে থাকেন।   ঠিক তখনই ওহিওতে ঘটে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। ১০ বছর বয়সী মাইকেল ডোটোন গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। শোকের মধ্যেও তার বাবা-মা মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মাইকেলের অঙ্গ দান করতে সম্মত হন।   পরবর্তীতে মাইকেলের লিভার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ব্রুকলিন নতুন জীবন ফিরে পান।   এই ঘটনার পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছরের পর বছর সেই যোগাযোগ বজায় থাকে। একসময় মাইকেলের ছোট ভাই নোহা ডোটোন ও ব্রুকলিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।   নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   নোহা এ প্রসঙ্গে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন,   ‘আমি কখনো ভাবিনি, ২০ বছর আগে আমার বড় ভাই যে শিশুটির জীবন বাঁচিয়েছিল, সেই মেয়েটিই একদিন আমার স্ত্রী হবে।’   মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা থেকে শুরু হওয়া এই গল্প এখন পরিণতি পাচ্ছে ভালোবাসা ও জীবনের নতুন অধ্যায়ে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

ছবি: সংগৃহীত
হুথি হামলায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর ৩০ সদস্য নিহত
মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬

ইয়েমেনের হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। হুথি বিদ্রোহীদের পৃথক হামলায় দেশটির সরকারি বাহিনীর অন্তত ৩০ সৈন্য নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধ-শতাধিক।    বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিভিন্ন সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছে।    হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় ‘শত শত’ মানুষ হতাহত হয়েছে।   ইয়েমেনি সেনাবাহিনী এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। একে হুথিদের বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে অভিহিত করেছে।   ইয়েমেনি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হুথিরা মারিবের উত্তরে অবস্থিত আল-জাওফ প্রদেশ থেকে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এ হামলায় হাদরামাউতের আল-থিনিয়া ও আল-আবর এবং মারিবের আল-রুক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।   চার বছরের তুলনামূলক শান্তি অবস্থা বজায় থাকার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান-সমর্থিত হুথি এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।   হুথিরা সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণাও দিয়েছে এবং ইয়েমেনের উত্তর প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহাজে হামলা চালিয়েছে।   ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করলে দেশটিতে গৃহ যুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হলেও তারা হুথিদের সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা।

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম
মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের মূল্য সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্সের। হরমুজ প্রণালি আবারও চালু হওয়ার আশা জোরালো হওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবেই স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার জিএমটি সময় সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,২৭১.৩৩ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে দিনের শুরুতে এটি ১৮ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর আগের দিন বুধবার স্বর্ণের দাম ফেব্রুয়ারির পর এক দিনে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। সেদিন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৪,২৬৭.২৪ ডলারে উঠেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৩৩০.২০ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: রয়টার্স

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি