দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার হ্রাস এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার নানা আর্থিক প্রণোদনা, ছুটি ও আবাসন সুবিধা চালু করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। এবার ভিন্ন এক উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বৌদ্ধ সম্প্রদায়। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে উৎসাহিত করতে শতাব্দীপ্রাচীন একটি বৌদ্ধ মন্দিরে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ ‘ডেটিং রিট্রিট’। দেশটির পালগংসান পাহাড়ের কোলে অবস্থিত প্রায় এক হাজার ২০০ বছরের পুরোনো ডংহওয়াসা মন্দিরে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তরুণ-তরুণীরা শুধু জীবনসঙ্গীই নয়, নতুন বন্ধু ও আত্মবিশ্বাসও খুঁজে পাচ্ছেন। দেশ বাঁচাতে সঙ্গী খুঁজুন অনুষ্ঠানের শুরুতেই গেরুয়া বস্ত্র পরিহিত এক বৌদ্ধ ভিক্ষু অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, তারা শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের ভবিষ্যতের জন্যও এখানে এসেছেন। তার ভাষায়, “আপনাদের লক্ষ্য শুধু একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া নয়, ভবিষ্যতে পরিবার গঠন করে দেশের জন্মহার বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখা।” ডংহওয়াসা মন্দিরের আয়োজক ইউ চোল-জু বলেন, অতীতে বিদেশি আগ্রাসনের সময় যেমন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা দেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনি এখন জন্মহার কমে যাওয়াও একটি জাতীয় সংকট। তাই এ সমস্যার সমাধানে তারাও ভূমিকা রাখতে চান। ভয়াবহভাবে কমছে জন্মহার বিশ্বের সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশগুলোর একটি দক্ষিণ কোরিয়া। ২০২৩ সালে দেশটিতে একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার নেমে আসে ০.৭২-এ, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ২.১ হারের অনেক নিচে। বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, সন্তান পালনের উচ্চ খরচ, নারীদের কর্মজীবনে অগ্রাধিকার এবং বিয়ে নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন- সব মিলিয়েই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে প্রেম ও সামাজিক মেলামেশার প্রবণতাও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কঠিন প্রতিযোগিতা পেরিয়ে সুযোগ ডেটিং রিট্রিটে অংশ নেওয়া সহজ নয়। আবেদনকারীদের প্রশ্নপত্র, ভিডিও সাক্ষাৎকার এবং বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে তাদের আন্তরিকতা যাচাই করা হয়। এবারের আয়োজনে অংশ নিতে এক হাজার ৫৮০ জনের বেশি আবেদনকারীকে পেছনে ফেলে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র কয়েক ডজন তরুণ-তরুণী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ব্যস্ত জীবনে সঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন ২৮ বছর বয়সী কিম আহ-কিয়ং, যার বৌদ্ধ নাম ‘সুনহিয়েজি’, বলেন, চাকরির কারণে রাজধানী সিউল ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার পর তার নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “অফিস আর বাসা- এই দুই জায়গার মধ্যেই জীবন সীমাবদ্ধ। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগই নেই।” ৩০ বছর বয়সী কোয়ন সেউং-ওহ, যিনি এনিও নামে পরিচিত, জানান, বন্ধুদের উদ্যোগে প্রায় ১০টি ‘ব্লাইন্ড ডেট’-এ অংশ নিলেও কোনও সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। তার কর্মস্থলে প্রায় ৯৭ শতাংশ সহকর্মীই পুরুষ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন নারীসঙ্গী খুঁজে পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনভর পরিচয়, আড্ডা আর নানা আয়োজন ৩০ ঘণ্টার এই রিট্রিটে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল পরিচয়পর্ব, জুটি বেঁধে হাঁটা, মধ্যাহ্নভোজ, দ্রুতগতির ‘স্পিড ডেটিং’, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং দলীয় নানা কার্যক্রম। প্রথম পরিচয়পর্বেই এনিও নিজের হাতে তৈরি ফরাসি পেস্ট্রি সবার মধ্যে বিতরণ করে উপস্থিতদের প্রশংসা কুড়িয়ে নেন। অন্যদিকে সুনহিয়েজির প্রথম সঙ্গী হন ৩২ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা মিনহো। পরে মধ্যাহ্নভোজের জন্য মিনহো বেছে নেন ২৮ বছর বয়সী ডিজাইনার রুবিকে। দিনজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পেশা, শখ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। সবচেয়ে বিব্রতকর পর্ব দিনের সবচেয়ে অস্বস্তিকর কিন্তু সবচেয়ে প্রাণবন্ত আয়োজন ছিল ট্যালেন্ট শো। কেউ জনপ্রিয় কে-পপ গানের সঙ্গে নাচেন, কেউ গান গেয়ে শোনান, কেউ আবার স্প্যানিশ ভাষায় নিজের পরিচয় দেন। এক নারী অংশগ্রহণকারী বাঁশিতে কে-পপের জনপ্রিয় একটি সুর পরিবেশন করে সবার মন জয় করেন। সরকারও করছে উৎসাহ দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিয়ে ও সন্তান জন্মে উৎসাহ দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘ মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি, নবজাতকের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা, নবদম্পতিদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত আবাসনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ২০০৬ সাল থেকে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে সরকার। এছাড়া স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নিয়মিত ‘ম্যাচমেকিং’ আয়োজন করছে। কোথাও কাঠের কাজ শেখানোর কর্মশালা, কোথাও নদীর তীরে সঙ্গীতানুষ্ঠান-সবকিছুর লক্ষ্য একটাই, তরুণদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা। ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দীর্ঘ সময় জন্মহার কমতে থাকলেও ২০২৪ সাল থেকে কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এ বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ১.০-এ পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৫ সালের ০.৮ হার থেকে কিছুটা বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু সরকারি উদ্যোগের ফল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে অবিবাহিতদের মধ্যে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত কী হলো? রিট্রিট শেষে মোট আটটি নতুন জুটি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে দুটি সম্পর্ক তৈরি হয় অনুষ্ঠানের কর্মী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে। যারা সঙ্গী খুঁজে পাননি, তারাও হতাশ হয়ে ফেরেননি। এনিও জানান, সুযোগ পেলে তিনি আবারও এই আয়োজনে অংশ নেবেন। অন্যদিকে সুনহিয়েজি বলেন, তিনি জীবনসঙ্গী না পেলেও অনেক নতুন বন্ধু পেয়েছেন। রাত তিনটা পর্যন্ত সহঅংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে গল্প করেছেন এবং ইতোমধ্যে একসঙ্গে ব্রাঞ্চ করার পরিকল্পনাও করেছেন। আয়োজকদের মতে, সবাই জীবনসঙ্গী নিয়ে ফেরেন না, কিন্তু প্রায় প্রত্যেকেই নতুন বন্ধুত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন আশাবাদ নিয়ে মন্দির ছাড়েন। সূত্র: বিবিসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণ–অভ্যুত্থান হবে না।’ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানে যে স্বপ্ন ছিল চব্বিশে, শেষবারের মতো মানুষ তার জীবন বাজি রেখেছিল। তারপর যখন দেখল, এটা কতিপয় মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি, এটা বাংলাদেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান, অদ্ভুতভাবে কিছু নেই থেকে শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার একটা প্রকল্প, তখন স্বাভাবিকভাবেই গণমানুষ হাজারবার, লক্ষবার, কোটিবার চিন্তা করবে এ রকম গণ–অভ্যুত্থানে যাওয়ার জন্য।’ আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন। ‘গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। আলোচনায় রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তুলে বলেন, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে হিজাব পরা ও হিজাব ছাড়া নারীরা যেভাবে অংশ নিয়েছিলেন, গণ–অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে সেই পরিবেশ কেন রক্ষা হলো না? চব্বিশের অভ্যুত্থানের ঠিক পরেই মুক্তিযুদ্ধের মুর্যাল ও ভাস্কর্যগুলো কারা ভাঙল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। একাত্তর আর চব্বিশকে কেন মুখোমুখি করা হলো, সে প্রশ্নও তোলেন। গণ–অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে দেশে ‘ভয়াবহ উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। সেটা আগে জানলে কয়জন রাস্তায় আন্দোলনে নামতেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০–এর গণ–আন্দোলনের পরও দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে এবং প্রতারিত হয়েছে।’ ‘চব্বিশেও ব্যর্থ হয়েছি’ ’৪৭, ৭১ ও ৯০ সালের আন্দোলনের পরে জাতিগতভাবে দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পরে প্রতারিত না হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকলেও ব্যর্থ হয়েছেন বলেন তিনি। প্রতিবারের মতো এবারও আন্দোলনপরবর্তী অংশীজনদের বিভাজনের চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন হাসনাত কাইয়ুম। নতুন রাজনীতির কথা বলা ব্যক্তিরাও বিভক্ত হয়েছেন বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কয়েকটা আসনের জন্য বিএনপির দিকে, অথবা সংস্কারের দোহাই দিয়ে কয়েকটা আসনের জন্য কেউ জামায়াতের দিকে চলে গেলেন।’ জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ১২টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও পরে তা একটি ‘ঐক্যমত কমিশনে’ সীমিত করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ছোট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাসনাত কাইয়ুম। তাঁর মতে, জুলাই সনদ আর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মূল প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ‘জন–আকাঙ্ক্ষা এখনো উপেক্ষিত’ আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, চব্বিশ–পরবর্তী গণমানুষের বহুল আকাঙ্ক্ষিত যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা ছিল, সেটা এখনো উপেক্ষিত। সংস্কারের জন–আকাঙ্ক্ষা অর্জিত না হলে বাংলাদেশ বারবার হোঁচট খাবে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, গণ–অভ্যুত্থান সংগঠিত করা যত সহজ, অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। তাই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সামনে এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিরল সুযোগ রয়েছে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমেদ, জেএসডির সহসভাপতি নুরুল আখতার, সিরাজ মিয়া প্রমুখ।
‘লিবার্তে, এগালিতে, ফ্রাতের্নেতে’। ফ্রান্সের এই তিন জাতীয় মূলমন্ত্রের বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘স্বাধীনতা, সমতা ও একতা’। ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের পর ফ্রান্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তিন মূলমন্ত্র বদলে হয়ে যায় ‘স্বাধীনতা, সমতা ও এমবাপ্পে’। আর এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ত্রয়ী যেমন খেলছে, তাতে আপনি চাইলে এই মূলমন্ত্রটি বদলে ‘এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও ওলিসে’ করে ফেলতে পারেন! এই বিশ্বকাপে ‘ছবির দেশে, কবিতার দেশের’ ফ্রান্সের খেলা মানেই কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের সবুজ মাঠে শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনো চিত্রকর্ম। বিশ্বকাপে এই তিন জনের অবদান দেখুন—এখন পর্যন্ত এমবাপ্পে ৮টি গোল করে ফেলেছেন, সঙ্গে ৩টি অ্যাসিস্ট। বেশি অ্যাসিস্টের সুবাদে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে। পরশু মরক্কোর বিপক্ষে দেম্বেলেও করে ফেলেছেন টুর্নামেন্টে নিজের পঞ্চম গোল, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের একমাত্র হ্যাটট্রিকটি ব্যালন ডি’অরজয়ী ফরোয়ার্ডেরই। ওলিসের এখনো গোল না পাওয়াটাকে দুর্ভাগ্যের সঙ্গে রহস্যও বলতে পারেন। তবে পাঁচ গোল করিয়ে অ্যাসিস্টের তালিকায় তিনি আবার সবার ওপরে। সামনে হাতছানি দিচ্ছে কিংবদন্তি পেলের এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছয় অ্যাসিস্টের কীর্তি। এর বাইরেও তিনজনের ‘টেলিপ্যাথিক’ বোঝাপড়াটা এমনই দুর্দান্ত যে কে বলবে তিনজন এই প্রথম বড় কোনো আসরে একসঙ্গে খেলছেন! এক বিশ্বকাপে একই দলের দুজনের অন্তত পাঁচ গোল করার আরেকটা কীর্তিও মনে করিয়ে দিয়েছেন এমবাপ্পে ও দেম্বেলে। সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপে যেটি ছিল দুই ব্রাজিলিয়ান গ্রেট রোনালদো ও রিভালদোর। কাকতালীয়ই বটে, এমবাপ্পে-দেম্বেলের মতো রোনালদো-রিভালদোর গোলও ছিল ৮টি ও ৫টি। এবার ওলিসেকে যদি সেই বিশ্বকাপের তরুণ রোনালদিনিওর সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে এই ত্রয়ী ব্রাজিলের সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে পারে। তুলনাটা এখনই বাড়াবাড়িই হয়ে যাবে, ফ্রান্সের এই ত্রয়ী তো এখনো বিশ্বকাপ জেতা থেকে আরও দুই ম্যাচ দূরে। কিন্তু একটা জায়গায় ব্রাজিলের সেই ‘থ্রি আর’ কেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। ফ্রান্সের তিনজনের এই বিশ্বকাপে মোট গোল ও অ্যাসিস্ট হয়ে গেছে ২৩টি, ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেই তিনজনের যা ছিল মোট ২০টি। সেটি আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ ফ্রান্সের এই তিনজনের সামনে। প্রতিপক্ষ রক্ষণের নাভিশ্বাস ছড়ানো এই তিনজনকে নিয়ে ম্যাচের পর তাই স্তুতি গাইছেন সবাই। ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচের পর তাদের কোচ স্তালে সলবাকেন যেমন ঘোষণা করে দিয়েছেন, ‘ফ্রান্সের আক্রমণ সন্দেহাতীতভাবে এই বিশ্বকাপের সেরা।’ এই তিনজনের সঙ্গে দেজিরে দুয়ের নাম যোগ করে সলবাকেন বলেছিলেন, আক্রমণে বিশ্বকাপে এই চারজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সুইডেন কোচ গ্রাহাম পটার যেমন বলেছিলেন, ফ্রান্সের এই আক্রমণকে কীভাবে থামানো সম্ভব, তিনি জানেন না! আর এই সতীর্থদের নিয়ে ফ্রান্সেরই আক্রমণভাগের আরেক সদস্য ব্রাডলি বারকোলা বলেছেন, এই তিনজনের সঙ্গে খেলাটাই অবিশ্বাস্য অনুভূতি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই ত্রয়ীর জায়গা কোথায়? ফ্রান্সেরই ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী দলে এই ত্রয়ীর মধ্যে শুধু এমবাপ্পে ছিলেন, সেবার আক্রমণের বাকি দুজন ছিলেন গ্রিজমান ও জিরু। এমবাপ্পে ও গ্রিজমানময় সেই টুর্নামেন্টে জিরু অবশ্য কিছুটা আড়ালেই ছিলেন। অন্যদিকে ১৯৯৮ ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলে সেই অর্থে কোনো ত্রয়ী ছিলেন না। সেবার ফ্রান্সের হয়ে ফাইনালে তাদের সর্বোচ্চ স্কোরার থিয়েরি অঁরিই প্রথম একাদশে খেলেননি। আর ষাট ও সত্তরের দশকে ফুটবলেও চার, এমনকি পাঁচজন ফরোয়ার্ডও একসঙ্গে খেলতেন। সত্তরের ব্রাজিল দলে যেমন পেলে-তোস্তাও-জেয়ারজিনহো ও রিভেলিনো এই চারজনের নাম একসঙ্গেই নিতে হয়। ক্লাব ফুটবলে ত্রয়ী বলতে বার্সেলোনায় মেসি-নেইমার-সুয়ারেজের এমএসএন বা রিয়াল মাদ্রিদের বেল-বেনজেমা-রোনালদোর বিবিসি ত্রয়ীর নাম আসে। এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসে যেভাবে খেলছেন, তাতে এই দুই ত্রয়ীর স্মৃতিও মনে পড়ে যেতে পারে আপনার!
ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ফু কুওকের উপকূলে একটি নৌকা উল্টে অন্তত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ভিএনএক্সপ্রেস। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌকাটিতে ৩৬ জন আরোহী ছিলেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক, তিনজন ক্রু সদস্য ও একজন সহকারী। এদের মধ্যে ২১ জন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ভিয়েতনামের ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে আর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে হো চি মিন সিটি ও হ্যানয়ে জরুরি রেসপন্স কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। দূতাবাস ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ বলে বর্ণনা করে বলেছে, “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। ঘটনার সঠিক বিবরণ যাচাই করা হচ্ছে।” কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ভিএনএক্সপ্রেস জানিয়েছে, নৌকাটি হন মে রুত দ্বীপ থেকে ফু কুওকের আন থয় বন্দরে যাচ্ছিল। সাগর পথে ৪০০ মিটার এগোনোর পর নৌকাটি উল্টে যায়। তখন সাগর উত্তাল ছিল, তখন ওই এলাকায় বিশাল সব ঢেউ বইছিল। ফু কুওক ভিয়েতনামের বৃহত্তম দ্বীপ। এটি দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। কয়েক বছর ধরে বহু ভারতীয় পর্যটক দ্বীপটিতে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটান এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। সকালে ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান হোস্টেলটি ঘুরে দেখেন। উল্লেখ্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালে ডা. জুবাইদা রহমান এই হোস্টেলেই অবস্থান করতেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে হোস্টেলের সামনে শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীকে কাছে পেয়ে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পরিদর্শনের সময় অতীতের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাজীবনে ডা. জুবাইদা রহমানকে প্রায়ই নিজে মেডিকেলে পৌঁছে দিতেন। সেই স্মৃতির ধারাবাহিকতায় এবারও তাঁকে পাশে নিয়েই ক্যাম্পাসে আসার কথা উল্লেখ করেন তিনি। নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতি তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের এই ক্যাম্পাস তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অংশ। বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি পরিশ্রম, ইতিবাচক মনোভাব এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিদর্শনের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্মারক ছবি ও সেলফি তোলেন।
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ টানা চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়কের ‘৩ কিলো’ এলাকায় বড় অংশ ধসে পড়ায় ৮ জুলাই থেকে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে শুক্রবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমতে শুরু করায় উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা থেকে ধীরে ধীরে পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজনও নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে মাটি ভরাট ও সংস্কার কাজ চলছে। আপাতত ভারী যানবাহন চলাচল সম্ভব না হলেও আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে পৌরসভা, সাজেক, বঙ্গলতলীসহ বিভিন্ন এলাকার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৫৮৭টি পরিবারের ২ হাজার ৩৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় নিয়েছিলেন সাজেকের বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। এদিকে রাঙ্গামাটি প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত অতিরিক্ত ১২.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
খেলাধুলার ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যাদের সাফল্যের চেয়ে সংগ্রামের গল্প মানুষকে বেশি স্পর্শ করে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো তেমনই একজন। অন্যদিকে ভারতীয় মহাকাব্য মহাভারত-এর কর্ণও এমন এক চরিত্র, যিনি পরাজিত হয়েও মানুষের শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি অর্জন করেছেন। দুই ভিন্ন সময়, ভিন্ন বাস্তবতা ও ভিন্ন পরিচয়ের এই দুই ব্যক্তিত্বের জীবনে কিছু বিস্ময়কর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কর্ণ জন্ম থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। নিজের পরিচয় ও সামাজিক অবস্থানের কারণে তাঁকে বারবার অবমূল্যায়নের শিকার হতে হয়েছিল। কিন্তু অসাধারণ দক্ষতা ও কঠোর সাধনার মাধ্যমে তিনি নিজেকে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর জীবনেও ছিল একই ধরনের সংগ্রাম। পর্তুগালের মাদেইরার সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম এবং কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতা। কর্ণকে যেমন সারাজীবন অর্জুনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, তেমনি রোনালদোকেও দীর্ঘ দুই দশক লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনার মুখে পড়তে হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আধুনিক ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। তবে দুই খেলোয়াড়ের পথ, সামর্থ্য ও অর্জন ভিন্ন হওয়ায় তাদের মূল্যায়নও ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে করা উচিত। রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ও আবেগঘন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পারফরম্যান্সে পরিবর্তন এসেছে, জাতীয় দলে নিজের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তবু দেশের হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার ইচ্ছা তিনি কখনো হারাননি। এই অদম্য মানসিকতাই তাঁকে কোটি ভক্তের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক করে তুলেছে। কর্ণের জীবন আমাদের শেখায়, সব লড়াইয়ের শেষ বিজয়ে হয় না; কখনো কখনো সম্মান ও আত্মত্যাগই একজন মানুষকে অমর করে তোলে। একইভাবে রোনালদোর গল্পও শুধু ট্রফি, গোল কিংবা ব্যক্তিগত পুরস্কারের গল্প নয়; এটি অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতাকে জয় করার এক অনন্য উদাহরণ। তাই রোনালদোকে কর্ণের সঙ্গে তুলনা করা একটি সাহিত্যিক রূপক হতে পারে, তবে এটি ঐতিহাসিক বা বাস্তব সমতুল্যতা নয়। একজন পৌরাণিক বীর এবং অন্যজন আধুনিক ফুটবলের কিংবদন্তি—দুজনেরই পরিচয় আলাদা, কিন্তু সংগ্রাম, আত্মনিবেদন এবং অসম্পূর্ণতার মধ্যেও মহান হয়ে ওঠার গল্প তাদের এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে।
তুরস্ক ইসরাইলের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি সামরিক যুদ্ধে জড়ানোর পরিকল্পনা করছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তাঁর মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আঙ্কারা সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে চায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর মতো কোনো যৌক্তিক কারণ তুরস্ক দেখছে না। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দেশটির কিছু রাজনৈতিক নেতা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সুবিধার জন্য উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে থাকেন। ফিদানের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহল নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে প্রায়ই নতুন বিরোধী পক্ষ বা শত্রুর চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার পাশাপাশি এখন তুরস্ককেও রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইলের সব রাজনীতিবিদ বা নাগরিক একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন না। তাঁর মতে, দেশটিতে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যারা সংলাপ ও বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণ–অভ্যুত্থান হবে না।’ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানে যে স্বপ্ন ছিল চব্বিশে, শেষবারের মতো মানুষ তার জীবন বাজি রেখেছিল। তারপর যখন দেখল, এটা কতিপয় মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি, এটা বাংলাদেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান, অদ্ভুতভাবে কিছু নেই থেকে শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার একটা প্রকল্প, তখন স্বাভাবিকভাবেই গণমানুষ হাজারবার, লক্ষবার, কোটিবার চিন্তা করবে এ রকম গণ–অভ্যুত্থানে যাওয়ার জন্য।’ আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন। ‘গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। আলোচনায় রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তুলে বলেন, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে হিজাব পরা ও হিজাব ছাড়া নারীরা যেভাবে অংশ নিয়েছিলেন, গণ–অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে সেই পরিবেশ কেন রক্ষা হলো না? চব্বিশের অভ্যুত্থানের ঠিক পরেই মুক্তিযুদ্ধের মুর্যাল ও ভাস্কর্যগুলো কারা ভাঙল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। একাত্তর আর চব্বিশকে কেন মুখোমুখি করা হলো, সে প্রশ্নও তোলেন। গণ–অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে দেশে ‘ভয়াবহ উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। সেটা আগে জানলে কয়জন রাস্তায় আন্দোলনে নামতেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০–এর গণ–আন্দোলনের পরও দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে এবং প্রতারিত হয়েছে।’ ‘চব্বিশেও ব্যর্থ হয়েছি’ ’৪৭, ৭১ ও ৯০ সালের আন্দোলনের পরে জাতিগতভাবে দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পরে প্রতারিত না হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকলেও ব্যর্থ হয়েছেন বলেন তিনি। প্রতিবারের মতো এবারও আন্দোলনপরবর্তী অংশীজনদের বিভাজনের চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন হাসনাত কাইয়ুম। নতুন রাজনীতির কথা বলা ব্যক্তিরাও বিভক্ত হয়েছেন বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কয়েকটা আসনের জন্য বিএনপির দিকে, অথবা সংস্কারের দোহাই দিয়ে কয়েকটা আসনের জন্য কেউ জামায়াতের দিকে চলে গেলেন।’ জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ১২টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও পরে তা একটি ‘ঐক্যমত কমিশনে’ সীমিত করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ছোট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাসনাত কাইয়ুম। তাঁর মতে, জুলাই সনদ আর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মূল প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ‘জন–আকাঙ্ক্ষা এখনো উপেক্ষিত’ আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, চব্বিশ–পরবর্তী গণমানুষের বহুল আকাঙ্ক্ষিত যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা ছিল, সেটা এখনো উপেক্ষিত। সংস্কারের জন–আকাঙ্ক্ষা অর্জিত না হলে বাংলাদেশ বারবার হোঁচট খাবে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, গণ–অভ্যুত্থান সংগঠিত করা যত সহজ, অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। তাই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সামনে এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিরল সুযোগ রয়েছে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমেদ, জেএসডির সহসভাপতি নুরুল আখতার, সিরাজ মিয়া প্রমুখ।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার হ্রাস এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার নানা আর্থিক প্রণোদনা, ছুটি ও আবাসন সুবিধা চালু করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। এবার ভিন্ন এক উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বৌদ্ধ সম্প্রদায়। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে উৎসাহিত করতে শতাব্দীপ্রাচীন একটি বৌদ্ধ মন্দিরে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ ‘ডেটিং রিট্রিট’। দেশটির পালগংসান পাহাড়ের কোলে অবস্থিত প্রায় এক হাজার ২০০ বছরের পুরোনো ডংহওয়াসা মন্দিরে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তরুণ-তরুণীরা শুধু জীবনসঙ্গীই নয়, নতুন বন্ধু ও আত্মবিশ্বাসও খুঁজে পাচ্ছেন। দেশ বাঁচাতে সঙ্গী খুঁজুন অনুষ্ঠানের শুরুতেই গেরুয়া বস্ত্র পরিহিত এক বৌদ্ধ ভিক্ষু অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, তারা শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের ভবিষ্যতের জন্যও এখানে এসেছেন। তার ভাষায়, “আপনাদের লক্ষ্য শুধু একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া নয়, ভবিষ্যতে পরিবার গঠন করে দেশের জন্মহার বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখা।” ডংহওয়াসা মন্দিরের আয়োজক ইউ চোল-জু বলেন, অতীতে বিদেশি আগ্রাসনের সময় যেমন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা দেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনি এখন জন্মহার কমে যাওয়াও একটি জাতীয় সংকট। তাই এ সমস্যার সমাধানে তারাও ভূমিকা রাখতে চান। ভয়াবহভাবে কমছে জন্মহার বিশ্বের সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশগুলোর একটি দক্ষিণ কোরিয়া। ২০২৩ সালে দেশটিতে একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার নেমে আসে ০.৭২-এ, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ২.১ হারের অনেক নিচে। বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, সন্তান পালনের উচ্চ খরচ, নারীদের কর্মজীবনে অগ্রাধিকার এবং বিয়ে নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন- সব মিলিয়েই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে প্রেম ও সামাজিক মেলামেশার প্রবণতাও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কঠিন প্রতিযোগিতা পেরিয়ে সুযোগ ডেটিং রিট্রিটে অংশ নেওয়া সহজ নয়। আবেদনকারীদের প্রশ্নপত্র, ভিডিও সাক্ষাৎকার এবং বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে তাদের আন্তরিকতা যাচাই করা হয়। এবারের আয়োজনে অংশ নিতে এক হাজার ৫৮০ জনের বেশি আবেদনকারীকে পেছনে ফেলে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র কয়েক ডজন তরুণ-তরুণী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ব্যস্ত জীবনে সঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন ২৮ বছর বয়সী কিম আহ-কিয়ং, যার বৌদ্ধ নাম ‘সুনহিয়েজি’, বলেন, চাকরির কারণে রাজধানী সিউল ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার পর তার নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “অফিস আর বাসা- এই দুই জায়গার মধ্যেই জীবন সীমাবদ্ধ। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগই নেই।” ৩০ বছর বয়সী কোয়ন সেউং-ওহ, যিনি এনিও নামে পরিচিত, জানান, বন্ধুদের উদ্যোগে প্রায় ১০টি ‘ব্লাইন্ড ডেট’-এ অংশ নিলেও কোনও সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। তার কর্মস্থলে প্রায় ৯৭ শতাংশ সহকর্মীই পুরুষ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন নারীসঙ্গী খুঁজে পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনভর পরিচয়, আড্ডা আর নানা আয়োজন ৩০ ঘণ্টার এই রিট্রিটে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল পরিচয়পর্ব, জুটি বেঁধে হাঁটা, মধ্যাহ্নভোজ, দ্রুতগতির ‘স্পিড ডেটিং’, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং দলীয় নানা কার্যক্রম। প্রথম পরিচয়পর্বেই এনিও নিজের হাতে তৈরি ফরাসি পেস্ট্রি সবার মধ্যে বিতরণ করে উপস্থিতদের প্রশংসা কুড়িয়ে নেন। অন্যদিকে সুনহিয়েজির প্রথম সঙ্গী হন ৩২ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা মিনহো। পরে মধ্যাহ্নভোজের জন্য মিনহো বেছে নেন ২৮ বছর বয়সী ডিজাইনার রুবিকে। দিনজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পেশা, শখ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। সবচেয়ে বিব্রতকর পর্ব দিনের সবচেয়ে অস্বস্তিকর কিন্তু সবচেয়ে প্রাণবন্ত আয়োজন ছিল ট্যালেন্ট শো। কেউ জনপ্রিয় কে-পপ গানের সঙ্গে নাচেন, কেউ গান গেয়ে শোনান, কেউ আবার স্প্যানিশ ভাষায় নিজের পরিচয় দেন। এক নারী অংশগ্রহণকারী বাঁশিতে কে-পপের জনপ্রিয় একটি সুর পরিবেশন করে সবার মন জয় করেন। সরকারও করছে উৎসাহ দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিয়ে ও সন্তান জন্মে উৎসাহ দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘ মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি, নবজাতকের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা, নবদম্পতিদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত আবাসনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ২০০৬ সাল থেকে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে সরকার। এছাড়া স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নিয়মিত ‘ম্যাচমেকিং’ আয়োজন করছে। কোথাও কাঠের কাজ শেখানোর কর্মশালা, কোথাও নদীর তীরে সঙ্গীতানুষ্ঠান-সবকিছুর লক্ষ্য একটাই, তরুণদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা। ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দীর্ঘ সময় জন্মহার কমতে থাকলেও ২০২৪ সাল থেকে কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এ বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ১.০-এ পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৫ সালের ০.৮ হার থেকে কিছুটা বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু সরকারি উদ্যোগের ফল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে অবিবাহিতদের মধ্যে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত কী হলো? রিট্রিট শেষে মোট আটটি নতুন জুটি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে দুটি সম্পর্ক তৈরি হয় অনুষ্ঠানের কর্মী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে। যারা সঙ্গী খুঁজে পাননি, তারাও হতাশ হয়ে ফেরেননি। এনিও জানান, সুযোগ পেলে তিনি আবারও এই আয়োজনে অংশ নেবেন। অন্যদিকে সুনহিয়েজি বলেন, তিনি জীবনসঙ্গী না পেলেও অনেক নতুন বন্ধু পেয়েছেন। রাত তিনটা পর্যন্ত সহঅংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে গল্প করেছেন এবং ইতোমধ্যে একসঙ্গে ব্রাঞ্চ করার পরিকল্পনাও করেছেন। আয়োজকদের মতে, সবাই জীবনসঙ্গী নিয়ে ফেরেন না, কিন্তু প্রায় প্রত্যেকেই নতুন বন্ধুত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন আশাবাদ নিয়ে মন্দির ছাড়েন। সূত্র: বিবিসি
ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ফু কুওকের উপকূলে একটি নৌকা উল্টে অন্তত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ভিএনএক্সপ্রেস। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌকাটিতে ৩৬ জন আরোহী ছিলেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক, তিনজন ক্রু সদস্য ও একজন সহকারী। এদের মধ্যে ২১ জন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ভিয়েতনামের ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে আর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে হো চি মিন সিটি ও হ্যানয়ে জরুরি রেসপন্স কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। দূতাবাস ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ বলে বর্ণনা করে বলেছে, “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। ঘটনার সঠিক বিবরণ যাচাই করা হচ্ছে।” কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ভিএনএক্সপ্রেস জানিয়েছে, নৌকাটি হন মে রুত দ্বীপ থেকে ফু কুওকের আন থয় বন্দরে যাচ্ছিল। সাগর পথে ৪০০ মিটার এগোনোর পর নৌকাটি উল্টে যায়। তখন সাগর উত্তাল ছিল, তখন ওই এলাকায় বিশাল সব ঢেউ বইছিল। ফু কুওক ভিয়েতনামের বৃহত্তম দ্বীপ। এটি দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। কয়েক বছর ধরে বহু ভারতীয় পর্যটক দ্বীপটিতে যাচ্ছেন।
ইরানের কয়েকটি সন্দেহভাজন পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র-সম্পর্কিত স্থাপনায় পুনর্নির্মাণ বা মেরামতের কাজ চলার ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এসব স্থাপনায় নতুন নির্মাণকাজ ও যানবাহনের চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি-এর সহযোগিতায় বিশ্লেষণ করা চিত্রে তেহরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সের একটি স্থাপনায় মেরামতের আলামত পাওয়া গেছে। সেখানে হামলায় সৃষ্ট গর্ত ঢেকে দেওয়া, লোহার জাল বসানো এবং কংক্রিট মিশ্রণের যানবাহন দেখা গেছে। এ ছাড়া ইসফাহানের কাছে অবস্থিত পিক্যাক্স মাউন্টেন এলাকার একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনার টানেলে ট্রাক চলাচলের চিত্রও ধরা পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কার্যক্রম জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা কার্যক্রমের বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে। সূত্র: সিএনএন
পাকিস্তান সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সুদভিত্তিক (রিবা) ব্যাংকিং ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে একটি নতুন রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। তবে রূপান্তর প্রক্রিয়ায় বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে প্রচলিত ও ইসলামিক—উভয় ধরনের ব্যাংকিং সেবা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে নতুন অর্থায়ন ও ঋণ কার্যক্রম শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। তবে এর আগে সম্পাদিত ঋণ ও আর্থিক চুক্তিগুলো মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগের নিয়মেই বহাল থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে আইনি জটিলতা ও আর্থিক অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হবে। পাকিস্তানের ফেডারেল শরিয়ত কোর্ট ২০২২ সালে সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে সংবিধানের ২৬তম সংশোধনীর মাধ্যমে ২০২৮ সালকে চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। নতুন রোডম্যাপে ইসলামিক অর্থায়ন সম্প্রসারণে নিয়মিত সুকুক (ইসলামিক বন্ড) ইস্যুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে সম্পদভিত্তিক অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিদেশি ব্যাংককে দ্বৈত ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়া হলেও দেশীয় ব্যাংকের ক্ষেত্রে একই নীতি না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রতিযোগিতা ও গ্রাহকের পছন্দকে গুরুত্ব দিলে ইসলামিক ও প্রচলিত ব্যাংকিং কিছু সময় পাশাপাশি চলতে দেওয়াই অধিক কার্যকর হতে পারে। সূত্র: ডন ও নিক্কেই এশিয়া।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।