তেল না পাওয়ার অভিযোগে সাতক্ষীরায় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কের ছয়ঘরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, একটি পেট্রোল পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও সাধারণ গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছিল না। এ নিয়ে মোটরসাইকেল চালকসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে এবং বাঁশ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল মজুত রেখে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে, এর আগেও একই অভিযোগে শহরের অন্য একটি ফিলিং স্টেশন এলাকায় সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, তেলের দাবিতে সড়কে আগুন জ্বালানো হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতিতে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর পরিচালক কাশ প্যাটেল। তার ব্যক্তিগত ই-মেইল ইনবক্স হ্যাক করার দাবি প্রকাশ্যে করেছে এবং তার কিছু ছবি ও জীবনবৃত্তান্ত অনলাইনে প্রকাশ করেছে ইরান-ভিত্তিক হ্যাকাররা। এ সাইবার হামলার পেছনে ‘হানদালা হ্যাক টিম’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী জড়িত বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, প্যাটেল এখন হ্যাকের শিকার ব্যক্তিদের তালিকায় নিজের নাম দেখতে পাবেন। রয়টার্স জানিয়েছে, হ্যাকারদের প্রকাশ করা ইমেইলগুলোর সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আপলোড করা তথ্যের মধ্যে ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক যোগাযোগের তথ্যের মিশ্রণ রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, প্যাটেলের ইমেইল হ্যাক হয়েছে, তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এফবিআই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি এবং হ্যাকাররাও যোগাযোগের জবাব দেয়নি। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ‘হানাদালা’ গ্রুপ একাধিক সাইবার হামলা চালিয়েছে।এর মধ্যে একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বহুজাতিক মেডিকেল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর ম্যালওয়্যার আক্রমণ। আরেক ঘটনায় হানাদালা গ্রুপ ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৯০ জন ব্যক্তির নাম ও সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করে। সবশেষ এফবিআই প্রধানের ইমেইল হ্যাক করলো গ্রুপটি। সূত্র : রয়টার্স
ঢাকাই সিনেমার এ সময়ের ব্যস্ততম নায়ক শাকিব খান। দুই যুগের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ধরে রেখেছেন। শাকিব মানেই যেন দর্শকের উচ্ছ্বাস ও প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের ভরসার নাম। প্রযোজক-পরিচালকরাও তাই শাকিবেই খুঁজে পান আস্থা। প্রতি বছরের দুই ঈদে ধারাবাহিকভাবেই মুক্তি পাচ্ছে এ নায়কের সিনেমা, যা অনেক হল মালিকেরই মুখে হাসি ফুটিয়েছে। খুলেছে অনেক বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হল। এ বছরও শাকিব অভিনীত ‘প্রিন্স’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এটি নির্মাণ করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ। তবে এবার যেন শাকিব অনেকটা নিস্তেজ। কিন্তু এখানে নায়কের ব্যর্থতা খুব একটা আছে এমনটাও নয়। অন্যদিকে পুরোটা সফল হয়েছেন এমনও বলা যাবে না। ঈদে মুক্তির পর থেকেই শাকিব অভিনীত ‘প্রিন্স’ নানা জটিলতায় পড়েছে। সর্বাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমা ঈদের দিন থেকেই স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখা যাচ্ছে না। কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমনটা হয়েছে বলে জানান প্রযোজক ও পরিচালক। ঈদের চতুর্থ দিন থেকে দেখানো গেলেও, বেশ কয়েকটি শাখায় টিকিট বিক্রি হওয়ার পরও থিয়েটারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দর্শকের টাকা ফেরত দিতেও দেখা গেছে সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে। এ পরিস্থিতিতে প্রত্যাশার জায়গা থেকে খানিক পিছিয়ে রয়েছে শাকিবের ‘প্রিন্স’। তবে যে ভরাডুবি হয়েছে এমনটাও বলা যাবে না। সিঙ্গেল স্ক্রিনে এখনো দাপট দেখাচ্ছে সিনেমাটি। এ কারণে বিশ্লেষকদের মতে, শাকিব এবার অনেকটা নিস্তেজ তবে দমে যাননি। এদিকে শাকিব বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন তার নতুন সিনেমার শুটিং নিয়ে। জানা গেছে, তিনি এখন ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং করছেন মালয়েশিয়ায়। এরই মধ্যে কয়েক দিনের শুটিং সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে আগামীকাল শাকিবের জন্মদিন। ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ গোপালগঞ্জে জন্ম তার। আর এ বিশেষ দিনেই জন্মদিনের উপহার হিসেবে প্রকাশ হবে ‘রকস্টার’ সিনেমার টিজার। এমনটাই জানান পরিচালক আজমান রুশো। পরিচালক বলেন, ‘খুব বেশি ট্রেন্ডি একজন রকস্টার লুক আমরা দেখাব, যিনি বিলং করেন এই সময়ে। তিনি একজন রক মিউজিশিয়ান, নিজে গান লেখেন এবং নিজেই কম্পোজিশন করেন। এ আইডিয়া থেকে আমরা রকস্টার ক্যারেক্টার ডিজাইন করেছি। আজ তার (শাকিব খান) জন্মদিন উপলক্ষে আমরা এটি সবার জন্য প্রকাশ করব।’ নির্মাতার ভাষ্যমতে, প্রায় ২৭ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শাকিব এ ধরনের চরিত্র এবারই প্রথম করছেন। এজন্য তিনি শুটিংয়ের আগে কয়েক দিন অনুশীলন করে গিটারও শিখেছেন। রকস্টারের গল্প, নির্মাণশৈলী এবং শাকিব খানের লুকসহ সবকিছুতেই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ‘রকস্টার’-এর চিত্রনাট্য করেছেন আয়মান আসিব স্বাধীন। সান কমিউনিকেশন প্রযোজনা করেছে সিনেমাটি। এতে শাকিবের বিপরীতে দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে রয়েছেন তানজিয়া জামান মিথিলা। প্রধান নায়িকা হিসেবে সাবিলা নূর রয়েছেন এমনটা শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি সংশ্লিষ্টরা। দর্শকও নিশ্চয়ই অপেক্ষায় রয়েছেন নতুন রূপে শাকিবকে দেখার জন্য। প্রতিটি সিনেমায় এ নায়ক নতুন কিছু নিয়েই পর্দায় হাজির হচ্ছেন, যা গত কয়েক বছরে প্রমাণিত। এবারও এমনটাই প্রত্যাশা সবার। প্রসঙ্গত, শাকিবের জন্ম গোপালগঞ্জ হলেও তার শৈশব কেটেছে নারায়ণগঞ্জে। ১৯৯৯ সালে সোহানুর রহমান সোহানের ‘অনন্ত ভালোবাসা’ সিনেমা দিয়ে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি দর্শকপ্রিয় এ নায়ককে।
প্রথম সিনেমার আনন্দ ভাগ করে নিতে ঢাকায় এসেছেন কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। প্রিন্স সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। জানা গেছে গত ২৬ মার্চ ঢাকায় পৌঁছান এই অভিনেত্রী। বাংলাদেশে এসেই রাজধানীর বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সে ছুটে যান জ্যোতির্ময়ী। সেখানে দর্শকদের সঙ্গে বসে উপভোগ করেন নিজের অভিনীত এই সিনেমা। পরে হল পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মিরপুরের সনি সিনেপ্লেক্সেও যান তিনি। এদিন মেরুন রঙের একটি শাড়িতে উপস্থিত হয়ে সহজেই উপস্থিত দর্শকদের নজর কাড়েন এই অভিনেত্রী। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জ্যোতির্ময়ী জানান প্রথমবার দর্শকদের সঙ্গে প্রিন্স উপভোগ করে তিনি দারুণ আনন্দিত। সিনেমা দেখার পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো এবং কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। এখানকার কাচ্চি বিরিয়ানির অনেক প্রশংসা শুনেছেন তাই এর স্বাদ কোনোভাবেই মিস করতে চান না বলে জানান জ্যোতির্ময়ী। পশ্চিমবঙ্গের এই অভিনেত্রী ২০২৪ সালে বঁধুয়া ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনয়জগতে নিজের যাত্রা শুরু করেন এবং খুব অল্প সময়েই দর্শকের নজর কাড়তে সক্ষম হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে প্রজাপতি ২ সিনেমায় কলকাতার সুপারস্টার দেবের বিপরীতে অভিনয় করে বেশ আলোচনায় আসেন তিনি।
বাসের তেল শেষ হওয়ায় রেললাইনে বিশ্রাম নেওয়ার সময় ট্রেন দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের ধলাটেংগর ৭ নম্বর সেতুর পাশে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন যমুনা সেতু পূর্ব থানার ওসি সফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেনে কাটা পড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ২ জন নারী, ২ জন পুরুষ ও এক জন শিশু রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে নিহতরা সবাই একই পরিবারের বলে ধারণা পুলিশের। টাঙ্গাইল রেলস্টেশন ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান জানান, কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর নামকস্থানে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের তেল শেষ হয়ে গেলে কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে রেললাইনে বসেছিলেন। তিনি জানান, এ সময় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক শিশু, দুই নারী ও দু’জন পুরুষ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা সবাই একই পরিবারের। তিনি আরও জানান, রেললাইনের পাশে বসে থাকা অবস্থায় ট্রেন আসার সময় কোনো শব্দ না পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে কাটা পড়েন।
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে ছেড়ে যাওয়ার পর ‘কেরামত আলী’ নামের একটি ফেরিতে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ফেরিতে থাকা যাত্রী, চালক ও শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, ফেরিটি ঘাট থেকে লোডিং শেষ করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কিছু দূর পরেই হঠাৎ ইঞ্জিনের কাছ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে থাকেন। প্রাথমিকভাবে ফেরির কর্মচারীরা নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিবালয় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিআইডব্লিউটিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আব্দুস সালাম জানান, ফেরির সাইলেন্সার পাইপ জ্যাম হয়ে যাওয়ায় ধোঁয়া ও সামান্য আগুনের সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বলেন, এটি বড় কোনো দুর্ঘটনা নয়, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এমনটি হয়েছে। বর্তমানে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ফায়ার সার্ভিস জানায়, দ্রুত খবর পাওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই একই পরিবারের বলে ধারণা পুলিশের। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। টাঙ্গাইল রেলস্টেশন ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর নামকস্থানে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের তেল শেষ হয়ে গেলে কয়েকজন যাত্রী সেখানে বাস থেকে নেমে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশেই রেললাইনে বসেছিলেন। তিনি জানান, এ সময় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক শিশু, দুই নারী ও দু’জন পুরুষ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ধারণা করা হচ্ছে নিহতরা সবাই একই পরিবারের।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির গোয়েন্দা তথ্য বলছে, চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মাত্র প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস বা ভূগর্ভস্থ টানেলে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে এগুলোর প্রকৃত অবস্থা এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি। একই ধরনের মূল্যায়ন ইরানের ড্রোন সক্ষমতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং নৌ-সামরিক উৎপাদন অবকাঠামোর ৬৬ শতাংশের বেশি ধ্বংস বা অকার্যকর করে দিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনও জটিল। কারণ, ইরান তাদের সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এসব টানেলে ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার ও ড্রোন লুকিয়ে রাখা হয়, যা বিমান হামলার পরও অনেক ক্ষেত্রে অক্ষত থাকতে পারে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত অস্ত্রও পরবর্তীতে মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ইসরায়েলি সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ লঞ্চার অকার্যকর করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা গেছে, ইরান এখনও আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। উদাহরণস্বরূপ, তারা সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর দিকে একদিনেই ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এমনকি প্রথমবারের মতো ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার ক্ষেত্রে কিছুটা সফল হলেও তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে পারেনি। বরং ইরান কৌশলগতভাবে তাদের অস্ত্র মজুদ আড়ালে রেখে আংশিকভাবে ব্যবহার করছে। দীর্ঘমেয়াদে লড়াই চালিয়ে যেতে এ কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে দেশটি।
মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশকিছু হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং বাকি চারটি উপসাগরীয় জলসীমা বা জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর শুয়াইক বন্দরে হামলা হয়েছে। দেশটির বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং নয়টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে তারা মোট ৩৬২টি ড্রোন এবং ১৫৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। আগের দিনের তুলনায় ড্রোন প্রতিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সেসব এলাকার আশপাশ থেকে বেসামরিক জনগণকে সরে যেতে আলটিমেটাম দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট ফার্স নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী মোতায়েন থাকা এলাকাগুলোর আশপাশে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেসামরিক জনগণকে ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিক ও ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যার অভিযোগও করা হয়।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর বড় অঙ্কের শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর লিটারপ্রতি ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক কমছে। এর ফলে পেট্রলের ওপর ধার্য করা শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকায়, আর ডিজেলের ক্ষেত্রে এই শুল্ক নামিয়ে আনা হয়েছে শূন্যে। তবে এই শুল্ক কমানোর সুফল সাধারণ মানুষ সরাসরি কতটা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহকের সরাসরি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম। মূলত দেশটিতে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর (ওএমসি) লোকসান লাঘব করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারকে বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাতে হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতীয় সংস্থাগুলো যে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার ওপর দেশটির সরকার অন্তঃশুল্ক আদায় করে। গত বছরই এই শুল্ক বাড়িয়েছিল মোদি সরকার। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি অনেকটা বাড়লেও ভারতের বাজারে সাধারণ পেট্রল ও ডিজেলের দাম এখনো বাড়েনি। এতে বিপণন সংস্থাগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই ক্ষতির ধাক্কা সামাল দিতেই এই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই ভারত এই পথে হেঁটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশটিতেও দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে। শুল্ক কমানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। প্রথমত, অন্য দেশের মতো ভারতেও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেওয়া; দ্বিতীয়ত, আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে দেশবাসীকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করা। মোদি সরকার দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিয়েছে বলে তিনি জানান। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং তেহরানের পাল্টা আঘাতের আগে ভারতের তেল আমদানির অর্ধেকের বেশি আসত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে। তবে সংঘাতের পর ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে এবং কোনো জাহাজ পারাপার করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেয়। এমনকি কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে এবং ভারতের কয়েকটি জাহাজসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উৎকণ্ঠা থাকলেও মোদি সরকার বারবার আশ্বস্ত করছে যে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল ও গ্যাস মজুত রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত আছে, তা দিয়ে ৬০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই সময়ের মধ্যে বৈশ্বিক বড় কোনো সংকট তৈরি হলেও তেলের জোগান ব্যাহত হবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দেশ থেকে গ্যাসবাহী জাহাজ দ্রুতই ভারতের বন্দরে পৌঁছাবে। ইতোমধ্যে ৮ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দিয়ে আগামী এক মাস গ্যাসের কোনো সংকট হবে না বলে জানানো হয়েছে।
ডনাল্ড ট্রাম্প হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট, যার স্বাক্ষর দেশটির মুদ্রায় দেখা যাবে। আগে ডলারে সাবেক দুই মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি থাকলেও কখনোই জীবিত-মৃত কোনো প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছিল না। থাকতো অর্থমন্ত্রী আর ট্রেজারারের স্বাক্ষর। ১৬৫ বছরের সেই পুরনো রীতি এবার ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার আড়াইশ বছর পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্প ও তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের স্বাক্ষর সম্বলিত ডলারের নোট বাজারে ছাড়ার এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। জুনে প্রথম এ দুইজনের স্বাক্ষর দেওয়া ১০০ ডলারের নোট ছাপা হবে; এরপর ধাপে ধাপে অন্য নোটগুলোতেও এটা করা হবে। নোটগুলো বাজারে আসতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। "আমাদের মহান দেশ ও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড জে ট্রাম্পের ঐতিহাসিক অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে ডলারের বিলগুলোতে তার স্বাক্ষরের চেয়ে আর শক্তিশালী কিছু হতে পারে না," বলেছেন বেসেন্ট। সর্বশেষ ছাপা হওয়া ডলারের নোটগুলোতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন ও ট্রেজারার লিন মালেরবার স্বাক্ষর রয়েছে। ১৮৬১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক নোটগুলোতে মার্কিন ট্রেজারারের স্বাক্ষর রাখার রীতি চালু হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় এবার থেকে তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র তার আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার আড়াইশ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই ১৩টি উপনিবেশ, পরে যেগুলো অঙ্গরাজ্য হয়, ব্রিটেন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ব্যাংক নোটে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর রাখার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। "নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, গ্যাস, বাড়ি ভাড়া ও স্বাস্থ্য সেবায় বেশি খরচের জন্য কাকে দায় দিতে হবে তা এখন মার্কিনিরা পরিষ্কারভাবে জানতে পারবে," সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এভাবেই কটাক্ষ করেছেন নিউসম। যুক্তরাষ্ট্রের এখনকার আইনে মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টদের ছবি বা প্রতিকৃতি ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু স্বাক্ষর নিয়ে কিছু বলা নেই। এই ফাঁকফোকরকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা কেবল স্বৈরশাসক বা রাজা-বাদশাদের শাসনকাঠামোতেই সম্ভব, বলছেন সমালোচকরা। কেবল নোটেই কেন, চলতি মাসে মার্কিন এক ফেডারেল আর্টস কমিশন আমেরিকার জন্মের আড়াইশ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে ট্রাম্পের ছবি সম্বলিত ২৪ ক্যারেটের স্মারক স্বর্ণমুদ্রারও অনুমোদন দিয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার সোয়া এক বছরের মধ্যেই জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস, ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস এমনকী যুদ্ধজাহাজের আসন্ন এক শ্রেণির নামেও স্থান করে নিয়েছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে কোটি কোটি মার্কিনিকে দেওয়া সহায়তার চেকেও তার নাম ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বার্তা এবং রুশ জনগণের সমর্থন ইরানকে অনুপ্রাণিত করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, 'রাশিয়ার জনগণের সমর্থন এবং পুতিনের বার্তা এই যুদ্ধে আমাদের সাহস জোগাচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, ইরানি জনগণের প্রতিরোধ ও সাহস আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা জোরদারে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলবে। রাশিয়ার সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে, ইরানকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, 'চূড়ান্ত আঘাত' হানতে স্থলবাহিনী ব্যবহার এবং ব্যাপক বোমা হামলার পরিকল্পনাও বিবেচনায় ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারত। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ, লারাক ও আবু মুসা দ্বীপসহ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে ইরানি তেলবাহী জাহাজ অবরোধের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করেন, 'অপ্রতিরোধ্য শক্তি প্রদর্শন' করলে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং মিসর এখনও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে পুরোপুরি আলোচনা থেকে সরে যায়নি। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য স্থল অভিযানকে এখনো 'কাল্পনিক' হিসেবেই দেখছেন।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তারা বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইসরাইলের বিভিন্ন স্থান এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরএনএ এবং ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, এই হামলায় দূরপাল্লার ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি অত্যন্ত বিধ্বংসী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইন। বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা দ্বিতীয়বারের মতো পিছিয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধ আসায় এবং শান্তি আলোচনা 'খুব ভালোভাবে' এগিয়ে চলায় তিনি এই ১০ দিনের বিরতি দিয়েছেন। ট্রাম্প আরও জানান, আলোচনার সদিচ্ছা দেখাতে ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে ১৫ দফা সংবলিত একটি 'অ্যাকশন লিস্ট' পাঠানো হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক জবাব তেহরান ইতিমধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠিয়েছে। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাতে হবে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে কিছুটা সুর নরম করতে দেখা গেলেও হোয়াইট হাউসের বৈঠকে তিনি ইরানকে 'পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার' হুমকি দিতে ছাড়েননি। এমনকি ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে ইসরাইলের ভেতরেও রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের সক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল ছাড়াই সরকার তাদের একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ডার আলী রেজা তাংসিরিসহ বেশ কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা জবাবে ইরানের ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে দুইজন নিহত হয়েছে এবং সৌদি আরব ও কুয়েতেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে দুই পক্ষই আলোচনার টেবিলে থাকলেও মাঠপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।