দীর্ঘ চার বছর পর প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। চলতি মাসের শেষের দিকে লন্ডনের কুইন্স ক্লাবে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউটিএ-৫০০ টুর্নামেন্টের নারী ডাবলসে অংশ নেবেন ৪৪ বছর বয়সী আমেরিকান তারকা। টুর্নামেন্টটির মূল পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৮ জুন, যেখানে খেলার জন্য সেরেনাকে একটি ওয়াইল্ডকার্ড দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা হলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেরেনা জুটি বাঁধতে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সী কানাডিয়ান উদীয়মান তারকা ভিক্টোরিয়া মবোকোর সাথে। ২২ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৩টি গ্র্যান্ড স্লাম সিঙ্গেলস শিরোপাজয়ী সেরেনা ২০২২ সালের ইউএস ওপেনের পর টেনিস থেকে দূরে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৯৬ সপ্তাহ পর এই ঘাসের কোর্টের টুর্নামেন্ট দিয়েই তার নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে সেরেনা জানান, ‘এই নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য কুইন্স ক্লাবকে আমার একদম নিখুঁত জায়গা বলে মনে হচ্ছে। ঘাসের কোর্ট আমার ক্যারিয়ারে অনেক অর্থবহ মুহূর্ত উপহার দিয়েছে এবং টেনিসের অন্যতম আইকনিক এই মঞ্চে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারার জন্য আমি রোমাঞ্চিত।’ সেরেনার এই প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন মূলত শুরু হয়েছিল গত বছর, যখন ড্রাগ-টেস্টিং পুলের খেলোয়াড়দের তালিকায় তার নাম দেখা যায়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সির পুনর্বহাল তালিকায় তার নাম আসার পর সেই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। অবশেষে সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টেনিস কোর্টে প্রবেশের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে সেরেনা নিজেই এই ফেরার ইঙ্গিত দেন। আধুনিক টেনিসের ইতিহাসে নারীদের মধ্যে সর্বাধিক ২৩টি গ্র্যান্ড স্লাম সিঙ্গেলস শিরোপার মালিক সেরেনা। এছাড়া বড় বোন ভেনাস উইলিয়ামসের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি ১৪টি গ্র্যান্ড স্লাম ডাবলস শিরোপা জিতেছেন। অলিম্পিক গেমসেও ৩টি ডাবলস এবং ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে একটি একক গোল্ড মেডেলসহ ক্যারিয়ার গোল্ডেন স্লাম পূর্ণ করার অনন্য কীর্তি রয়েছে তার।
একসময় মাসে মাত্র আড়াই হাজার রুপি বেতনে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। আর এখন তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী। এমনই এক অবিশ্বাস্য রাজনৈতিক যাত্রার সাক্ষী হলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী কালিতা মাঝি। সোমবার (১ জুন) পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর আরএন রবি কলকাতার লোক ভবনে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে কালিতা মাঝিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় কালিতা মাঝি বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত। কখনো কল্পনাও করিনি যে আমি বিধায়ক হব, মন্ত্রী হওয়া তো আরও দূরের কথা। ২০১৪ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে কাজ করছি। আগে শুধু নিজের কেন্দ্রের দায়িত্ব ছিল, এখন পুরো পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব আমার কাঁধে। কালিতা মাঝি আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেছেন। তার স্বামী পেশায় একজন প্লাম্বার এবং ছেলে পার্থ বর্তমানে স্কুলে পড়াশোনা করছে। রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু হয় দলীয় বুথকর্মী হিসেবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হলেও পরাজিত হন তিনি। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও সুযোগ পেয়ে আউশগ্রাম আসন থেকে জয়ী হন এবং এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মোট ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নেন। এর ফলে রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় ১৩ জন মন্ত্রিসভার সদস্য, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সূত্র : এনডিটিভি
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে খণ্ড-বিখণ্ড করে হত্যার ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যেই মূল আসামি সোহেল রানা নতুন করে ডলার নামের আরেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার দাবি করেছেন বলে মনে করছে পুলিশ। সোমবার (১ জুন) পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, যেদিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সেদিন সোহেল রানাকে জানালার গ্রিল ভেঙে একাই পালিয়ে যেতে আশপাশের অনেক মানুষ দেখেছে। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে এবং তদন্তে তার স্ত্রীর ছাড়া অন্য কারো সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওসি বলেন, কারাগারে বিভিন্ন ধরনের অপরাধী থাকে। সেখানে কেউ হয়তো তাকে পরামর্শ দিয়েছে যে অন্য কারো নাম জড়ালে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া কিছুটা হলেও বিলম্বিত হতে পারে। তবে ডলারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তবে এটা পরিষ্কার, সোহেল রানা মামলা বিলম্বিত করার জন্য কারো পরামর্শে এ কাজ করেছেন। অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘কারাগারে হয়তো কোনো বন্দি সোহেল রানাকে বুদ্ধি দিয়েছে কারো নাম বললে বিচারপ্রক্রিয়া পিছিয়ে যাবে। দুষ্টুমির ছলে হোক আর যেভাবে হোক, এ রকম বুদ্ধি তাকে কেউ না কেউ দিয়েছে।’ আজ সোমবার শিশু রামিসাকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দিন।’ এ সময় তিনি দাবি করেন, মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ‘ডলার’ নামে একজন তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল। সোমবার এ মামলায় ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মঙ্গলবার (২ জুন) দিন ধার্য করেন আদালত। এর আগে গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওই দিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর চার্জশুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। মামলার অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে আসামি কৌশলে ভিক্টিমকে তার ফ্ল্যাটের রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় বাদী মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে আসামি সোহেল রানার রুমের সামনে বাদী তার মেয়ের জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বাদী তার স্ত্রী ও অন্য ফ্ল্যাটের লোকজনকে নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় আসামির শয়ন কক্ষের মেঝেতে ভিকটিম রামিসার মাথাবিহীন লাশ দেখতে পান। আর মাথা রুমের ভেতর রঙের বড় বালতির ভেতর দেখতে পান। এসময় আসামি স্বপ্নাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার স্বামী সোহেল রানা বাদীর শিশু কন্যাকে বাথরুমের আটকে রেখে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে। লাশ গুম করার উদ্দেশে স্বপ্নার সহায়তায় সোহেল ভিকটিমের মাথা, ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ও যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে এবং দুইহাত কাঁধ থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে লাশ বাথরুম থেকে আসামিদের শয়ন কক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। পরে ওই রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। রামিসার বাবা তার পরিবারকে নিয়ে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ নির্দেশনায় এবারের ঈদ ব্যবস্থাপনায় ‘দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন’ এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। আজ সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মাহদী আমিন বলেন, ‘এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারের কার্যক্রমে ১০টি গণমুখী বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, দেশীয় পশুর বাজার সুরক্ষা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চামড়া খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা ছিল প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম নির্দেশনা।’ তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন ঈদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সেবাকে আরো জনসম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এই কর্মযজ্ঞকে পাথেয় করে গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা এবং সুশাসনের এই ধারাকে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই হবে বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। জনকল্যাণের সেই আন্তরিক অগ্রযাত্রায় গণতান্ত্রিক সরকারের সাফল্য অনিবার্য, ইনশাআল্লাহ।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ১৬ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় ও ধ্বংসস্তূপ মাত্র তিন মাসে সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব নয়—এই কঠিন বাস্তবতা দেশবাসী অনুধাবন করে। তবু দীর্ঘদিনের দুঃশাসনে ক্লান্ত জনগণ এবার ঈদে উপলব্ধি করেছে যে রাষ্ট্র তাদের প্রতি সংবেদনশীল এবং প্রশাসন কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, বরং জনসেবার কার্যকর ও দায়িত্বশীল মাধ্যম।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম এই ঈদুল আজহা উদযাপনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যসহ সর্বমহলে আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা ছিল সর্বোচ্চ, যা নিকট রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। তবু কোথাও কোনো প্রশাসনিক ঘাটতি বা সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হলে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিরসনে সরকার সর্বদা সচেষ্ট ও আন্তরিক।’ ঈদুল আজহায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত ও গণমুখী উদ্যোগের বিষয়াবলি জানাতে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবিরামভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তার অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ভালো কাজগুলো করার জন্য সব সময় সচেষ্ট রয়েছেন। আপনারা হয়তো দেখেছেন, সরকারি ছুটির দিনগুলোতে আমরা সবাই কম-বেশি ছুটি কাটিয়েছি, কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি মুহূর্তও ঘরে বসে থাকেননি। তিনি প্রতিটি মুহূর্তই কাজ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যারা তার খুব কাছে আছি এবং তার সঙ্গে কাজ করছি, তারা প্রতিনিয়তই দেখছি কখন কোথায় কী কী করতে হবে, সেটা তিনি সব সময় চিন্তা করছেন এবং তার প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন। ঈদের পরের দিন বর্জ্য অপসারণ হলো কি না, তা দেখতে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামকে নিয়ে নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার রাজপথের অলিগলিতে ঘুরে দেখেছেন। কোথায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়নি, কোথায় কার গাফিলতি ছিল—এসব বিষয়ে তিনি নিজে গাড়িতে বসে ফোন করেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য অপসারণ হয়েছে কি না, প্রধানমন্ত্রী তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদারকি করেছেন। বাসায় বসেও তিনি ক্ষান্ত হননি। সেখান থেকে সংশ্লিষ্টদের ফোন করে বুঝিয়েছেন যে দেশটি সবার, নগরী পরিষ্কার রাখতে হবে।’ আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘ডিজিটাল মিডিয়া ও ফেসবুকে ফটোকার্ড অথবা ছোট ভিডিও ক্লিপ নিমিষেই ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। আমরা যারা বড় বড় গণমাধ্যমে আছি, তারা না বুঝে, না শুনে অনেক সময় সেগুলো কপি করে ভাইরাল করে দিচ্ছি। এতে একজন মানুষের কতখানি ক্ষতি হবে, কিংবা একটি দল বা একটি দেশের কী ক্ষতি হবে’ সেগুলো আমরা চিন্তা করি না।’ তিনি বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে’ এ ধরনের কিছু প্রচার করার আগে অবশ্যই যার বিরুদ্ধে হোক, যাকে কেন্দ্র করে হোক, তার সঙ্গে কথা বলে সময় নিয়ে বিবেচনা করে সেগুলো প্রচার করা দরকার। না হলে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা- ১. দীর্ঘ ছুটি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ছুটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। ফলে সরকারি উদ্যোগেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ করতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফলে ঈদের আগের দিনগুলোতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে আসে। তবে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং অতীতের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা কম হলেও কয়েকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে। টাঙ্গাইলে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনা এবং ট্রেনের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। ২. পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ : তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যাংক, মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হয়। অধিকাংশ কারখানায় সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ সম্ভব হয় এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। ৩. দেশীয় পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ : স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দেশজুড়ে কোরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ ছিল। প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে ১ কোটি ২৩ লাখ পশু প্রস্তুত ছিল। ফলে কোরবানিতে পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিশ্চিত হয়। তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় কিছু প্রান্তিক খামারি প্রত্যাশিত মূল্য পাননি বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। ৪. দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও নাগরিক সেবা : ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের বড় বড় পৌরসভায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কোরবানির পর ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার অধিকাংশ এলাকার বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়, যা অতীতে কয়েক দিন সময় নিত। ঈদের পরদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকি করেন। অবহেলার দায়ে তাঁর নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একাধিক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ৫. গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও বিশেষ সুবিধা : ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কাউন্টারগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ছিল। পাশাপাশি, প্রথমবারের মত রেলে এবং মেট্রোরেলে নারীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আলাদা সংরক্ষিত কোচ বা বগি চালু এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার ওপর বিশেষ ছাড় প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারের ঈদ যাত্রায় কোনো ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটেনি, বরং লঞ্চে সরকার নির্ধারিত ভাড়া রুট ভেদে ৫-৮% ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাস, লঞ্চসহ সকল যানহবনে ডিজিটাল বোর্ড, স্টিকারের মাধ্যমে ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান রাখা হয়েছে। লঞ্চে হুইলচেয়ার ও ট্রলির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, লঞ্চঘাট রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ কুলি ও হকারমুক্ত, মালামাল বহনের জন্য কোনো যাত্রীকে টাকা খরচ করতে হয়নি। বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় নতুন লঞ্চঘাট স্থাপন করে সেখান থেকে নিয়মিত লঞ্চ ছাড়া হয়েছে, যার ফলে এলাকাভিত্তিকভাবে মানুষ এসব জায়গা থেকে যাত্রা করতে পেরেছে, সবাইকে সদরঘাটে যেতে হয়নি, এ ঘটনা সরকারের একটি অবিস্মরণীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ন্যায্য ভাড়া ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের অভূতপূর্ব ভূমিকা জোরালো ও সাহসী ছিল বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। ৬. চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটবিরোধী অভিযান : পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ভূমিকা পালন করে। পশুর হাটে অবৈধ চাঁদা আদায়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়নি এবং সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে পশু কিনতে পেরেছেন বলে জানানো হয়। ৭. লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ : ঈদের ছুটিতে শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অধিকাংশ এলাকায় লোডশেডিং সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বিদ্যুৎখাতে গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয়ের মাধ্যমে মৌসুমি দুর্যোগের ফলে যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল, তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেছে। ৮. সামাজিক সংবেদনশীলতা ও জননিরাপত্তা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কোরবানিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। ঈদুল আজহার দিন কিংবা ঈদকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্য কোনো সামাজিক সংঘাত বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেনি বলে দাবি করা হয়। ৯. চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ও তদারকি : লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে কাঁচা চামড়ার ন্যূনতম মূল্য আগেভাগেই নির্ধারণ করা হয়। মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করায় চামড়া নষ্ট হওয়া বা অবিক্রিত থাকার হার আগের বছরের তুলনায় কমেছে বলে জানানো হয়। ১০. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা : ঈদের আগে চাল, ডাল, মসলা, তেল, চিনিসহ কোরবানিসংক্রান্ত নিত্যপণ্যের বাজারে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থাকা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।
দক্ষিণ সুদানে মিশনে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ভোলার লালমোহনের মো. মহিউদ্দিন চপল। তিনি সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই মাস আগে সেনাবাহিনী থেকে মিশনে দক্ষিণ সুদান যান মহিউদ্দিন চপল। শনিবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলে তাৎক্ষণিক তাকে উগান্ডার একটি হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মৃত্যু হয় তার। মহিউদ্দিন চপলের বাড়ি লালমোহন ফরাজী বাজার এলাকায়। বাবা দেলোয়ার হোসেন মেম্বার ও মা পুত্রশোকে বারবার মূর্ছা যান। তারা মানতে পারছেন না তাদের ছেলে আর নেই। শনিবার রাতে মৃত্যুবরণ করলেও মৃত্যু সংবাদ তাদের কাছে পৌঁছে রোববার দুপুরে। মৃত্যুর খবরে পরিবারে সবার মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার স্ত্রী ও ২ ছেলে সন্তান রয়েছে।
জুন মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন ঘোষণায় পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। রোববার (৩১ মে) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন মূল্য সোমবার (১ জুন) থেকে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম আগের মতোই ১১৫ টাকা প্রতি লিটার বহাল রাখা হয়েছে। এর ফলে মে মাসের তুলনায় অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে বেড়েছে। মে মাসে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে ডিজেলের মূল্য ছিল ১১৫ টাকা, যা জুন মাসেও অপরিবর্তিত থাকছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করে সরকার ডিজেলের দাম বাড়িয়ে ১১৫ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল। একই প্রজ্ঞাপনে পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেই মূল্য অনুযায়ী এতদিন দেশের বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। সরকারের বিদ্যমান মূল্য সমন্বয় ব্যবস্থার আওতায় প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। জুন মাসের নতুন মূল্যও সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৯ শিশু। এতে মৃত্যু বেড়ে ৫৮৮ তে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুগুলো হামের উপসর্গজনিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯০ শিশু এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৯৮ শিশুসহ মোট ৫৮৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে মোট ৭২ হাজার ৭০ শিশুর শরীরে। এর মধ্যে ৫৭ হাজার ৯০২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ হাজার ৭২২ শিশু। এ সময়ের মধ্যে ৯ হাজার ৯৪ শিশুর শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ১৭৯ শিশুর মধ্যে ৪৫ জনের হামে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৩৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সারা দেশে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সৈয়দপুর স্টেশনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজকের দিনে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে। তীব্র রোদ ও গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। অনেকে কাজের ফাঁকে গাছের ছায়ায় বা ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন। রিকশাচালক ও শ্রমিকরা জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রচণ্ড রোদে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই অতিরিক্ত গরমে কাজ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় বাজার ও ফুটপাতে আখের রস, লেবুর শরবতসহ ঠান্ডা পানীয় বিক্রি বেড়েছে, তৃষ্ণা মেটাতে এসবের ওপরই নির্ভর করছেন সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়টিতে তাপমাত্রার ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুজব নাকচ করে দিয়েছে। রোববার (৩১ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তাসনিমের বরাতে একটি সূত্র জানায়, ‘পেজেশকিয়ান কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তিনি আজও স্বাভাবিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে।’ সূত্রটি আরও দাবি করে, ‘এসব গুজব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিভেদ সৃষ্টি এবং ইরানের সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।’ একই সূত্রের মতে, ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ নেটওয়ার্ক যেসব তথাকথিত সূত্রের কথা উল্লেখ করেছে সেগুলো সাধারণত ওই নেটওয়ার্কের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কল্পনা ও ভ্রান্ত ধারণার ফল।’ এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
লেবানন ও গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি আলোচনা বা বার্তা বিনিময় করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তাসনিম নিউজের বরাতে জানা যায়, লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ বার্তা বিনিময় প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরানের প্রতিনিধি দল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান এবং তাদের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ (আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীসমূহ) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ইয়েমেন উপকূলে অবস্থিত বাব আল-মান্দাব প্রণালিসহ অন্যান্য ফ্রন্টগুলোকে সক্রিয় করার বিষয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। উল্লেখ্য, ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হুতিরা ইরানের অন্যতম প্রধান মিত্র। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে তাদের হাত রয়েছে এবং ইরানের বিবৃতিতে মূলত এই হুতিদের মতো মিত্র বাহিনীগুলোকেই ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ১৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এটিকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার (১ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, হিজবুল্লাহর ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর পূর্ণমাত্রায় সংঘাত বন্ধ হয়নি, তবুও বৈরুতকে সরাসরি হামলার বাইরে রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। নেতানিয়াহুর ঘোষণার পরপরই বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের ব্যাপকভাবে এলাকা ছাড়তে দেখা যায়। প্রধান সড়কগুলো যানবাহনে ভরে যায়। গত কয়েক মাসে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হওয়া স্থানীয়দের জন্য এটি নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় নিয়মিত বিমান হামলার পাশাপাশি বহু শহর ও গ্রামে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর আগে রোববার দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ দখলের ঘোষণা দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে গভীর স্থল অগ্রগতি বলে দাবি করা হচ্ছে। দুর্গ দখলের পর নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আমাদের উপস্থিতি আরও গভীর ও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা আগের চেয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং শক্তিশালী। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা বিউফোর্ট দুর্গের আশপাশে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করেছে। সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ লেবাননি আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ পরিস্থিতির জন্য লেবানন সরকারকে দায়ী করে বলেন, সরাসরি আলোচনার পথ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। ইসরায়েলের নতুন সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক উত্তেজনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মাত্রার সামরিক বিস্তারের কোনো যৌক্তিকতা নেই। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বানের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও জার্মানিও ইসরায়েলের নতুন অভিযানের সমালোচনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলতে পারে। তেহরান ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ না হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি বা নতুন কোনো চুক্তি সম্ভব নয়। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘বাস্তব ও দৃশ্যমান ফলছাড়া কোনো চুক্তি গ্রহণ করা হবে না। রোববার (৩১ মে) ইরানের পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুনর্নির্বাচিত স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গালিবাফ বলেন, কোনো আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতির ওপর ইরান ভরসা করবে না। তিনি বলেন, ‘শত্রুর কথা ও প্রতিশ্রুতির ওপর কোনো আস্থা নেই।’ তার মতে, ইরানের একমাত্র মানদণ্ড হলো—নিজেদের কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আগে চুক্তি থেকে বাস্তব, যাচাইযোগ্য এবং কার্যকর ফল পাওয়া নিশ্চিত করা। এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইরানের দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও অনাস্থারই প্রতিফলন। দুই দেশের মধ্যে বহু বছর ধরে নানা বিষয়ে উত্তেজনা ও মতবিরোধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে ‘আস্থা নেই’ গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণভাবে ফলাফলনির্ভর। তিনি বলেন, ‘আমরা পালটা কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণের আগে বাস্তব ফলাফল অর্জন করাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখি।’ তিনি আরও জানান, ইরানের ঘোষিত শর্তগুলো পূরণ হয়েছে—এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান কোনো চুক্তির পথে এগোবে না। এতে বোঝা যায়, আলোচনার ক্ষেত্রে দেশটি এখন আরও সতর্ক ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ইরানের আলোচক দল তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতেও ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের এই অবস্থান দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং প্রয়োজন হলে জনগণের জন্য ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতিও তাদের রয়েছে। এমন সময়ে এই বক্তব্য এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরোক্ষ। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা শান রাজ্যের একটি গ্রামে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয় সময় রোববার (৩১ মে) দুপুর ১২টার দিকে চীন সীমান্তের পাশে নামখাম টাউনশিপের কাউং তাত গ্রামে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ নারী এবং ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন। তবে অন্যান্য প্রতিবেদনে এই সংখ্যা কিছুটা কমবেশি উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই গ্রামটির ওপর দিয়ে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। এলাকাটির নিয়ন্ত্রণকারী এবং জান্তাবিরোধী লড়াইয়ে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ট্যআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (টিএনএলএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক থেকে এই ‘আকস্মিক বিস্ফোরণ’ ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় এক বাসিন্দা লিখেছেন, প্রথম দিকে অনেকেই ধারণা করেছিলের এটি কোনো বিমান হামলা হবে। টেলিগ্রাম পোস্টে বলেছে, এই বিস্ফোরণে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি পালাউং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্ট/টিএনএলএ গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। এতে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ঘটা এই বিস্ফোরণের তদন্ত চলছে এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব ত্রাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির আশপাশে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে এবং ইট-পাথরের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাছপালা থেকে তখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে। সূত্র: নিক্কেই এশিয়া
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।