গত তিন বছরে ফুটবলে ব্রাজিলিয়ানদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যদিও জনসংখ্যার বেশিরভাগই ফুটবলকে অনুসরণ করেন। ডাটাফোলহার জরিপে উঠে এসেছে, ১৬ বছর বা তার ঊর্ধ্বের ৬৪ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান বলেছেন, ফুটবলে তাদের অনেক (২৮ শতাংশ) বা কিছু আগ্রহ (৩৫ শতাংশ) আছে। বাকি ৩৬ শতাংশ বলেছেন, তারা ফুটবল দেখেনই না। এই বিষয়ে আগের জরিপের সঙ্গে তুলনা করা যাক। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত জরিপে ৭২ শতাংশ উত্তর প্রদানকারী বলেছিলেন, তারা ফুটবল অনুসরণ করেন, ২৮% বলেছিলেন তাদের কোনো আগ্রহ নেই। মানে এবার ফুটবলে অনাগ্রহীর সংখ্যা ৮% কমেছে। এই গবেষণায় উঠে এসেছে, আরেকটি বড় ধরনের পার্থক্য। পুরুষদের মধ্যে ৭৭% বলেছেন, তারা ফুটবল অনুসরণ করেন। নারীদের মধ্যে এই হার ৫২%। ব্রাজিল ফুটবলে আগ্রহ হারানোর অন্যতম কারণ হচ্ছে, নিকট অতীতে তাদের তেমন কোনো সাফল্য নেই। ২০১৯ সালে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। ২০০২ সালে জিতেছিল শেষ বিশ্বকাপ। তারপর সেরা সাফল্য তারা পেয়েছিল ২০১৪ সালে সেমিফাইনালে উঠে। আর শেষ আসরে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার শেষ ষোলোতেই থেমে গিয়েছিল তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা। তাছাড়া দলের পারফরম্যান্সেও মন্ত্রমুগ্ধ হওয়ার মতো কিছু চোখে পড়ে না। ছন্দহীন তাদের খেলার ধরন। ব্রাজিল কি ফিরে পাবে তাদের নান্দনিক ফুটবল খেলার ধরন, তাহলেই হয়তো ব্রাজিলিয়ানদের ফুটবলের প্রতি আগ্রহ আবার ফিরবে!
শেষ এক বছর ধরে ভারত-পাকিস্তানের শীতল সম্পর্কটা চরমে গিয়ে পৌঁছেছে। মূলত কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে হামলার পর থেকে দুই দেশের ক্রিকেটাররাও হাত মেলানোর রীতিতে বাধ সাধেন। সেই ধারা ভেঙে পাকিস্তানের ফাতিমা সানাকে জড়িয়ে ধরলেন জেমাইমা রদ্রিগেজ। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যে দৃশ্য একরকম নিয়মে পরিণত হয়ে গিয়েছিল, তাতে হঠাৎই পরিবর্তন এল। ভারত ও পাকিস্তানের দুই মহিলা ক্রিকেটার শুধু হাত মেলাননি, একে অপরকে জড়িয়েও ধরেছেন। আর এই দৃশ্যই জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের। ঘটনাটি ঘটে ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ লিগে। সাদার্ন ব্রেভ দলের হয়ে খেলেন ভারতের জেমাইমা রদ্রিগেজ, আর পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা খেলেন বার্মিংহ্যাম ফিনিক্সের হয়ে। দুই দলের মধ্যকার ম্যাচ শেষে যখন সব খেলোয়াড় একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করছিলেন, তখন প্রশ্ন উঠেছিল—জেমাইমা ও ফাতিমা কি হাত মেলাবেন? এই মুহূর্তের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, ফাতিমার দিকে এগিয়ে যান জেমাইমা, প্রথমে হাত মেলান, এরপর দু’জনে জড়িয়ে ধরেন একে অপরকে। দু’জনের মুখেই ছিল হাসি, কথাও বলেন কিছুক্ষণ। এরপর যে যার সাজঘরের দিকে চলে যান। ২০২৫ সালে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হামলা এবং তার পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে চরম তিক্ততা তৈরি হয়। সেই সময় থেকেই এশিয়া কাপে সূর্যকুমার যাদবদের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানো বন্ধ করে দেয়। এরপর পুরুষ, মহিলা কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯—সব স্তরের ক্রিকেটেই এই প্রবণতা বজায় ছিল, এমনকি অন্যান্য খেলাতেও তার প্রভাব দেখা গিয়েছে। কিন্তু এবার দেখা গেল একেবারে ভিন্ন চিত্র। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। একদল মনে করছেন, জেমাইমার এই আচরণ ঠিক হয়নি; দেশের অন্য ক্রিকেটারেরা যে অবস্থান বজায় রেখেছেন, তারও তা মেনে চলা উচিত ছিল, এমনকি কেউ কেউ শাস্তিরও দাবি তুলেছেন। আবার অন্য একটি অংশের বক্তব্য, জেমাইমা প্রকৃত ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং খেলার মধ্যে রাজনীতি টেনে আনা উচিত নয়। তাদের মতে, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে যা সম্ভব হয়নি, বিদেশের লিগে সেটাই করে দেখিয়েছেন এই ভারতীয় ক্রিকেটার। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না।
দ্বিতীয় দফায় রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে ফিরেই ‘স্পেশাল ওয়ান’খ্যাত হোসে মরিনহো স্কোয়াডে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসছেন। তার একের পর এক সাইনিংয়ে তৈরি হয়েছে মধুর সমস্যা! বার্নার্দো সিলভা, মার্ক কুকুরেয়া, ডেঞ্জেল ডামফ্রিস ও ইব্রাহিমা কোনাতে এসেছেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যু শিবিরে। ইয়ান দিওমান্দের আগমনও কার্যত নিশ্চিত, তবে স্প্যানিশ তারকা রদ্রিগো হার্নান্দেজকে পেতে বড় মুখ ছাটাই করতে হবে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে। গ্রীষ্মের দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি করতে গিয়েই রিয়ালকে আসল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কারণ ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় শুধু নতুন খেলোয়াড় আনলেই হবে না, খেলোয়াড় বিক্রির অনেক বেশি জটিল সমীকরণও বাস্তবায়ন করতে হবে। কেমন দল চান ইতোমধ্যেই তা নির্ধারণ করেছেন মরিনহো, কিন্তু এটি গড়তে মাঠের প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তার পরিকল্পনার সঙ্গে খাপ খান না, খেলার সুযোগ পাওয়ার উপযোগী এবং বিক্রি করলে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হবে– এমন খেলোয়াড়ের ব্যবস্থাপনা হতে হবে ঠিকঠাক। এক্ষেত্রে প্রথমেই যে নামটি আলোচনায় আসছে, তা হলো ডিফেন্ডার রাউল অ্যাসেনসিও। এই মুহূর্তে লস ব্লাঙ্কোস থেকে তারই বিদায়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যদিও এই স্প্যানিশ সেন্টারব্যাক ছুটির সময়েও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন শুধুমাত্র মরিনিয়োকে সন্তুষ্ট রাখার লক্ষ্যে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্তুগিজ কোচের হাতে। পরবর্তী আলোচনা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে ঘিরে। ফরাসি এই তারকার চাহিদা এখনও রয়েছে, বিশেষত ইংল্যান্ডে। রিয়ালও বোঝে যে তাকে বড় অঙ্কের টাকায় বিক্রি করতে পারলে মরিনহোর কাছে অপরিহার্য রদ্রিকে দলে নেওয়া সহজ হয়ে যাবে। যদিও কামাভিঙ্গার সঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে রিয়ালের। আবার ক্লাবও তাকে ছাড়ার কথা ক্লাব ভাবছে না, এবং তার বয়সী ও সম্ভাবনাময় একজন খেলোয়াড়কে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে রাজি নয়। তবে গত মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স না করায় কামাভিঙ্গা আর দলের অপরিহার্য খেলোয়াড় নন। তার জায়গা হয়নি ফ্রান্সের বিশ্বকাপ দলেও। রিয়ালের প্রাক-মৌসুমের আক্রমণভাগে একটি অপ্রত্যাশিত মোড় এসেছে। গঞ্জালো গার্সিয়ার ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন থাকলেও, তার সামর্থ্য দেখে মত বদলাতে পারেন মরিনহো। মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াল কোচের মতে– গার্সিয়ার মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অন্য কোনো স্ট্রাইকার নেই এবং তিনি এমন একজন নম্বর নাইন যে সেন্টার-ব্যাকদের আটকে রাখতে, বাতাসে বলের দখল নিতে এবং ম্যাচে ভিন্ন কৌশলের প্রয়োজনে বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ফলে তাকে ধরে রাখা অপরিহার্য বলে মনে করছেন মরিনিয়ো। যদিও কিলিয়ান এমবাপের স্বাভাবিক বিকল্প হওয়ায় তিনি গত মৌসুমে খুব কম খেলার সুযোগ পেয়েছেন। গার্সিয়া থেকে গেলে এর প্রভাব পড়বে ব্রাজিলিয়ান বিস্ময়বালক এন্ড্রিকের ওপর। তিনি নিজেকে কয়েক মাস আগের পরিস্থিতির মতোই এক অবস্থায় খুঁজে পেতে যাচ্ছেন! নিজের উন্নতি অব্যাহত রাখতে তার খেলার সুযোগ প্রয়োজন, কিন্তু আক্রমণভাগে প্রতিযোগিতা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রাক-মৌসুমে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে, তার অগ্রগতি যাতে আবারও থেমে না যায়, সেজন্য তাকে ধারে অন্য ক্লাবে পাঠানোর বিষয়টি একটি বাস্তব সম্ভাবনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনোর ক্ষেত্রেও একই বিবেচনা প্রযোজ্য। এই আর্জেন্টাইন তরুণ তার প্রথম অনুশীলন পর্ব থেকেই মরিনহোর ওপর এক অসাধারণ ছাপ ফেলেছেন। তার প্রতিভা সমস্ত প্রত্যাশাকে সত্যি প্রমাণ করেছে, এবং বার্নাব্যুতে নিজের ছাপ ফেলতে সক্ষম এই খেলোয়াড়ের ওপর ক্লাবের অটল আস্থা রয়েছে। ঠিক এই কারণেই, কয়েক সপ্তাহ আগেও যে সম্ভাবনাটি প্রায় বিবেচনাতেই আসেনি, তা এখন গতি পাচ্ছে। তার জন্য এমন একটি ঠিকানা খুঁজে বের করা যেখানে সে নিয়মিত খেলতে পারবে। সবমিলিয়ে মরিনিয়োকে এখন জটিল ধাঁধার সমাধান করতে হবে।
প্রায় ছয় বছর বন্ধ থাকার পর কোভিড মহামারি ও সীমান্ত উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে পূর্ব সিকিমের ঐতিহাসিক নাথুলা পাস দিয়ে ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুই দেশের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়ায় ইন্দো-চীন নাথুলা বর্ডার ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অনিল গুপ্তা সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের বকেয়া বা ওপারে আটকে থাকা পণ্য উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকা ব্যবসায়ীদের মাঝে এর ফলে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। তবে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া ও ভেড়ার পাশাপাশি বর্তমান যুগের বাণিজ্যিক চাহিদা মেটাতে অনুমতিপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ করে শিল্পপণ্য অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ জন ব্যবসায়ী পাস পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই করছে। এই বাণিজ্যিক পুনরুজ্জীবন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনার মধ্যে আজ (১ আগস্ট) বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মূলত নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হতে পারে রাষ্ট্রপতির নাম। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা কিংবা প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও দলীয় সাংগঠনিক বিষয়ও বৈঠকে আলোচনা হবে। ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার মধ্যে বিএনপির জানায়, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঠিক করা হবে। দলীয় সূত্র জানায়, নতুন রাষ্ট্রপতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থায়ী কমিটির সভায় দলের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন। তাদের মতামত শোনার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। সূত্রমতে, আনুগত্য, দক্ষতা, বিচক্ষণতা, সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও জাতীয় সংকটে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার সাহসিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। সিনিয়র ৪ নেতার মধ্যে থেকে হতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি নতুন রাষ্ট্রপতির দৌড়ে জোর আলোচনায় থাকা চার সিনিয়র নেতা হলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও আবদুল মঈন খান। দলীয় সূত্র বলছে, সংক্ষিপ্ত এ তালিকা থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি আসতে পারেন। আলোচনায় থাকা সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খান দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তারা বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সক্রিয় সদস্য। রাষ্ট্রপতি হলে তারা দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারবেন না। বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নামও আলোচনায় রয়েছে। যদিও তাদের সম্ভাবনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো ইঙ্গিত আসেনি। সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলে স্পিকারের পদ শূন্য হবে। সেক্ষেত্রে শূন্য পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান আসতে পারেন। ২২ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২২ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ২৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। এজন্য সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা বা সংসদ সদস্যদের নাম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সভায় সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) থাকেন এ নির্বাচনের 'নির্বাচনি কর্তা'। সাধারণত স্পিকার ও সিইসির বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল ঘোষণার পর তাতে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ উল্লেখ থাকবে। ভোট হবে সংসদ কক্ষে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে। সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই সংসদ কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনি কর্মকর্তা ভোটের আয়োজন করবেন। নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে নিজের স্বাক্ষর দিয়ে তা জমা দেবেন সংসদ সদস্যরা। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় রাজধানীসহ সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা চালাতে পারে, গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। শনিবার (০১ আগস্ট) এক জরুরি বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা বলা হয়, পুলিশের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ডিউটির সময় এবং ডিউটি শেষে পার্কিং করা যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বার্তায় বলা হয়, ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামানোর প্রয়োজন হলে সেটি অবশ্যই নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া যানবাহন ফেলে রাখা যাবে না। অর্থাৎ আনঅ্যাটেন্ডেড অবস্থায় কোনো পুলিশি যানবাহন রাখার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইনস, অফিস কম্পাউন্ড কিংবা অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে রাখা সব সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তাও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত টহল, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ, জেলা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।
জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, বিএনপি কথায় কথায় আমাদের উদ্দেশ্য করে বলে- জুলাই নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে। তারা এগুলো বলে অপমান করতে চায়। এগুলো বলে বলে হাদিকে কিন্তু নিউজ ফিড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী আন্দোলনে ১৯ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। তাদের নিয়েও আপনাদের ব্যবসা করতে হবে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। মাহমুদা মিতু বলেন, জুলাইয়ের কথা এনসিপি ছাড়া আর কে বলে। ১১ দলীয় জোট বলে। কিন্তু সরকারি দল কতক্ষণ বলে। বরং তারা দমায়ে রাখে যাতে ওরা না বলে। এসব অপমান গায়ে মাখবেন না। জুলাইয়ের ব্যবসা করবেন। তারা যদি জিয়া ব্যবসা করতে পারে, জুলাই ব্যবসা করতে অসুবিধা কী। আপনারা যেটাকে ব্যবসা বলেন, এটা স্নেহ, মায়া, মমতা, এটা দরদ। এই দরদ আমরা বাঁচিয়ে রাখবো। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যেই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা আজকে সরকার গঠন করেছেন, তাদের মায়েরা তো আপনাদের কথা বলে না। তারা সংস্কারের কথা বলে, সংবিধান সংস্কারের কথা বলে, পুলিশ কমিশন, গুম কমিশন গঠনের কথা বলে। আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই শহীদের আকাঙ্খা বাস্তবায়নের লড়াই। ভালো রাষ্ট্র উপহার দেওয়ার লড়াই। হাজার বেকার তরুণ ভাইয়ের হাতে চাকরি তুলে দেয়ার লড়াই। আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই নারীর সম্মানের লড়াই। আমরা পুলিশ সংস্কার চেয়েছি। এই পরিবর্তনগুলোই আমরা আনতে চাই। আমরা জনগণের কথা বলতে চাই। মাহমুদা মিতু বলেন, আপনারা একটা লাঠি দিয়ে বারি দেবেন, একটা চোখ অন্ধ করে ফেলবেন এগুলোর ভয় করি আমরা? আপনাদের মনে হয় এই ছেঁচড়া গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে, ওই জিয়া সাইবার ফোর্সের গুন্ডাগুলা লেলিয়ে দিয়ে, নোংরা নোংরা ছবি এডিট করে, নোংরা কমেন্ট করে আমাদেরকে দামিয়ে রাখবেন। আমরা এসব পরোয়া করি না। এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ। আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নারী শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার খালেদা আক্তার, জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক মো. মুজিব, জাতীয় ছাত্র শক্তির জেলার আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিমুল চৌধুরী প্রমুখ।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। শুক্রবার (৩১ জুলাই) কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরগুলোর একটিতে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে এবং তাদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি। সার্জিও গর বলেন, “আজ আমি রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছি। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এই শিবিরে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। আমরা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন তাদের সহায়তার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করে।” শুক্রবার দুপুরে তিনি উখিয়ার কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন এবং শরণার্থীদের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিন দিনের সরকারি সফরে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গর। সফরের প্রথম দিন তিনি পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরের অংশ হিসেবে শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মার্কিন এই বিশেষ দূত।
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্যে ইয়েমেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন আল-বাইদা প্রদেশে স্থল অভিযান চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরে নৌ-অভিযানের প্রস্তুতিও চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীর কিছু ইউনিট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের অবরোধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনের চেষ্টা করছে রিয়াদ। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটকে সমর্থন জানিয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর সৌদি অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে। এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি আরও চাপে পড়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই বাধা তৈরি হওয়ায় সৌদি তেলবাহী জাহাজের জন্য সুয়েজ খালই এখন প্রধান বিকল্প। তবে এটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ। হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজের পাশাপাশি সৌদি আরবের ভেতরেও একাধিক হামলা চালিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে সৌদি আরব ইরাকে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালায়। এছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরেও সৌদি হামলার খবর পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিমান হামলা ও নৌ অবরোধের জবাবে হুতিরা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনায় সেই স্থিতাবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
প্রায় ছয় বছর বন্ধ থাকার পর কোভিড মহামারি ও সীমান্ত উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে পূর্ব সিকিমের ঐতিহাসিক নাথুলা পাস দিয়ে ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুই দেশের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়ায় ইন্দো-চীন নাথুলা বর্ডার ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অনিল গুপ্তা সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের বকেয়া বা ওপারে আটকে থাকা পণ্য উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকা ব্যবসায়ীদের মাঝে এর ফলে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। তবে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া ও ভেড়ার পাশাপাশি বর্তমান যুগের বাণিজ্যিক চাহিদা মেটাতে অনুমতিপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ করে শিল্পপণ্য অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ জন ব্যবসায়ী পাস পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই করছে। এই বাণিজ্যিক পুনরুজ্জীবন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্যে ইয়েমেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন আল-বাইদা প্রদেশে স্থল অভিযান চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরে নৌ-অভিযানের প্রস্তুতিও চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীর কিছু ইউনিট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের অবরোধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনের চেষ্টা করছে রিয়াদ। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটকে সমর্থন জানিয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর সৌদি অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে। এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি আরও চাপে পড়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই বাধা তৈরি হওয়ায় সৌদি তেলবাহী জাহাজের জন্য সুয়েজ খালই এখন প্রধান বিকল্প। তবে এটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ। হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজের পাশাপাশি সৌদি আরবের ভেতরেও একাধিক হামলা চালিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে সৌদি আরব ইরাকে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালায়। এছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরেও সৌদি হামলার খবর পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিমান হামলা ও নৌ অবরোধের জবাবে হুতিরা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনায় সেই স্থিতাবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ভুয়া ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কায় নতুন আর্থ এআই ফিচার সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে গুগল। ফিচারটি চালুর দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, এই টুল ব্যবহার করে বাস্তব স্যাটেলাইট ছবির ওপর কৃত্রিমভাবে ভুয়া দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব, যা সহজেই ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে। নতুন ফিচারটিতে ব্যবহারকারীরা লিখিত নির্দেশনা (টেক্সট প্রম্পট) দিয়ে বাস্তব স্যাটেলাইট ছবির ওপর বিভিন্ন কাল্পনিক ঘটনা যুক্ত করতে পারতেন। পরে সেই ছবিগুলো ডাউনলোড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ারও করা যেত। বিবিসির পরীক্ষায় টুলটি আইফেল টাওয়ার ধসে পড়া, মিসরের গিজার মহাপিরামিডের পাশে বিশাল গর্ত এবং ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ ট্যাংক অবস্থানের মতো সম্পূর্ণ ভুয়া ছবি তৈরি করতে সক্ষম হয়। সমালোচনার মুখে গুগল জানায়, কিছু ব্যবহারকারী এমন ছবি তৈরি ও শেয়ার করেছেন, যা তাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারে। তাই আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফিচারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। গুগলের দাবি, তাদের এআই দিয়ে তৈরি সব ছবিতে অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক থাকে এবং জেমিনি বা গুগল লেন্স দিয়ে সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব। তবে বিবিসির ভেরিফাইয়ে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এসব শনাক্তকরণ পদ্ধতিও ভুল করেছে। যুদ্ধ বা সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে এ ধরনের ভুয়া স্যাটেলাইট ছবি দ্রুত বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। গুগল জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই ফিচারটি আবার চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সৌদি আরবে বিএমডব্লিউর কিছু গাড়িতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় ৬ হাজারের বেশি গাড়ি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ কার্যক্রম শুরু করেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, চালকের আসনের ওয়্যারিং হারনেসে ত্রুটি থাকার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ত্রুটির ফলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতে পারে, যা ধোঁয়া নির্গমন বা গাড়িতে আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ মডেল বছরের মোট ৬ হাজার ৫৭৪টি বিএমডব্লিউ গাড়ি এই রিকলের আওতায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিএমডব্লিউ ৫ সিরিজ ও ৭ সিরিজের বিভিন্ন মডেল অন্তর্ভুক্ত। সৌদি কর্তৃপক্ষ গাড়ির মালিকদের রিকলস ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের গাড়ির ভিআইএন (Vehicle Identification Number) যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে গাড়িটি রিকলের আওতায় রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য গ্রাহকদের সৌদিতে বিএমডব্লিউর অনুমোদিত পরিবেশক মোহাম্মদ ইউসুফ নাগি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মেরামত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক গাড়িতে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার জটিলতা বাড়ার কারণে এ ধরনের ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো যাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সূত্র: গালফ নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।