সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা পাঁচদিন অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।     আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর এবং তৎসংলগ্ন মিয়ানমার উপকূলে অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ আকারে আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।       সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।       মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।       সেই সাথে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।       বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবতী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।     সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।   বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।       শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

১ ঘন্টা আগে
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই: এসপি

কুমিল্লায় চলমান কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, “আজ পর্যন্ত আমাকে কেউ ফোন দেয় সবাই সাধুবাদ জানিয়েছে। কেউ চাপ দিলে আমি আপনাদের সামনে নাম প্রকাশ করে দেব।”     সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার এসব কথা বলেন।       অভিযানের নামে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে আটকের পর টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে এসপি আনিসুজ্জামান বলেন, “যদি কেউ নিয়ে থাকে, এ বিষয়ে একটা প্রমাণ দিতে পারেন, ওই পুলিশ অফিসারকে তাৎক্ষণিক সাসপেন্ড করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে এক ফোঁটাও ছাড় দেওয়া হবে না।”     তিনি আরও জানান, যেসব শিক্ষার্থী বা কিশোর অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়, তাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন সন্ধ্যার পর সন্তানদের বাইরে না রাখেন।     কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় আসে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।     এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লার ১৮টি থানায় তালিকা তৈরি করে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।     ২৩ সেপ্টেম্বরের অভিযান: মোট ৬২৪ জনকে আটক করা হয়; যার মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় এবং ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।     ২৬ সেপ্টেম্বর ও পরবর্তী অভিযান: ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ২৫৪ জনকে আটক করে ১৪৬ জন কিশোরকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ১০৮ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সর্বশেষ রবিবারের অভিযানেও ৪৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে।     কিশোর গ্যাংয়ের কারণে ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ বাড়ছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধ করা গেলে পুরো জেলার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি ঘোষণা দেন, “কিশোর গ্যাং নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অভিযান কন্টিনিউয়াস থাকবে এবং এতে কোনো বিরতি দেওয়া হবে না।”     অভিযানের পেছনে কোনো ‘বড় ভাই’ বা প্রভাবশালীদের মদদ থাকলে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করে এসপি বলেন, “যদি কোনো বড় ভাই বা অভিভাবক থেকে থাকেন, তাকেও আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব, আপনারা নিশ্চিত থাকুন।”

১ ঘন্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী চিকিৎসকদের সহায়তায় নতুন পদক্ষেপ এফবিএমএসএর

আগামীতে আরও কত সহজে এবং সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা অভিবাসী চিকিৎসকদের সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ফেরাডেশান ওব বাংলাদেশ মেডিকেল সোটাইসিজ অব অস্ট্রেলিয়া।     সিডনিতে দুইদিনব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়ের সমাপনী দিনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।       অস্ট্রেলিয়ার ৬টি রাজ্য ও ২টি টেরেটোরিতে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চাহিদা রয়েছে। যদিও এই চাহিদা পূরণ ও বিধিসম্মতভাবে অভিবাসন নিতে প্রয়োজন দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব। এছাড়া চিকিৎসকদের যথাযথ প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়সহ আরও অনেক বিষয় আলোচিত হয়েছে সারাবিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ফেরাডেশান ওব বাংলাদেশ মেডিকেল সোটাইসিস্ অব অস্ট্রেলিয়া (এফবিএমএসএ) এর দুই দিন ব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়াজে।     এছাড়া আগামীতে আরও কত সহজে এবং সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা অভিবাসী চিকিৎসকদের সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের এই সংগঠনটি। সিডনিতে দুইদিনব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়ের সমাপনী দিনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।        সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা চিকিৎসকদের পেশাগত অগ্রযাত্রায় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আয়োজকেরা নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী ও অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধির কাছে হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল অ্যাটাচমেন্টের সুযোগ এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ বা কোর্সের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনার অনুরোধ জানান।       উল্লেখ করা যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ায় ৬টি রাজ্য ও ২টি টেরেটোরিতে প্রায় এক হাজার ৮০০ চিকিৎসক বসবাস করছেন। যারা অস্ট্রেলিয়াতে অতি গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে গবেষণা ও কারিগরি দিকগুলোর উন্নয়নে নিবেদিতভাবে কাজ করে আসছেন।      দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক অধিবেশনগুলোর সমন্বয় করেন ডা. আকবর আশরাফী এবং বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের শিক্ষা সম্পাদক ডা. মিহির রায়।     জুনিয়র চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের পেশাগত দিক-নির্দেশনার পাশাপাশি হরমোন ও কিডনি রোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।       এছাড়া হৃদরোগের পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞের কাছে রোগী পাঠানো নিয়ে আলোচনা করেন ডা. জামিল আহমেদ ও ডা. ময়েজুর রহমান। ক্যান্সার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য রাখেন ডা. মোহাম্মদ ইসলাম।     আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসায় ডোনানেমাব নিয়ে আলোচনা করেন ডা. মনোয়ার হোসেন এবং রিউমাটোলজির সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন ডা. মুখলেসুর রহমান।     এ ছাড়া আরএসভি টিকাদান, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্তকরণ, মেনোপজ ব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন ডা. লুতফুন্নেসা কুদ্দুস, ডা. শাহনাজ আক্তারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।     এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী জিহাদ ডিব এমপি, অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম. বুরহানউদ্দিন, অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী এবং অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নিউ সাউথ ওয়েলস শাখার সভাপতি ডা. ফ্রেড বেট্রোস।     বাংলাদেশ থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চিকিৎসাশিক্ষায় তাঁদের অবদান রাখার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।     জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রবাসী চিকিৎসকদের আরও সম্পৃক্ত করার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।     বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের আতিথেয়তায় ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর পেনরিথের ওয়েস্টার্ন সিডনি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত দুই দিনের এই আয়োজন চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞানচর্চা, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারিবারিক মিলনমেলার এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।       উল্লেখ্য শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা হয়। চিকিৎসক, তাদের পরিবারের সদস্য এবং সন্তানদের অংশগ্রহণে সংগীত ও নানা পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা শিল্পী ও কলাকুশলীদের পরিবেশনার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নকীব খানের মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা ছিল সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ। ছয় শতাধিক চিকিৎসক ও তাদের পরিবার-পরিজন এই সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করেন।

২ ঘন্টা আগে
জর্ডান সীমান্ত থেকে অস্ত্রভর্তি ড্রোন জব্দ করল ইসরায়েলি বাহিনী

জর্ডান সীমান্ত দিয়ে ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের চেষ্টা নস্যাৎ করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। রাতভর পরিচালিত অভিযানে অস্ত্রসহ ড্রোনটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।     আইডিএফের দাবি, নজরদারি ক্যামেরা এবং ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করা ড্রোনটি শনাক্ত করা হয়। পরে দক্ষিণাঞ্চলীয় জর্ডান সীমান্তের দায়িত্বে থাকা ইয়োয়াভ আঞ্চলিক ব্রিগেডের সেনাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।       সেনারা সেখানে ড্রোনটি খুঁজে পায়। এতে নয়টি কালাশনিকভ অ্যাসল্ট রাইফেল, সেগুলোর ম্যাগাজিন এবং একটি পিস্তল ছিল বলে জানিয়েছে আইডিএফ। জব্দ করা অস্ত্র ও ড্রোন পরবর্তী তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।     ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জর্ডান ও মিসর সীমান্ত দিয়ে ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলে অস্ত্র এবং কখনো মাদক পাচারের চেষ্টা হয়েছে।     এদিকে দক্ষিণ লেবাননের মানসৌরি শহরে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংসে বড় ধরনের অভিযান শেষ করার দাবি করেছে আইডিএফ।       মানসৌরি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ লেবাননের বাফার জোনের মধ্যে অবস্থিত। প্রায় দুই মাস আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।     আইডিএফের দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ৫৫তম রিজার্ভ প্যারাট্রুপার্স ব্রিগেড এবং অভিজাত ইয়াহালোম কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের সদস্যরা মানসৌরিতে অভিযান চালান। এতে হিজবুল্লাহর ৬০০টির বেশি অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি সুড়ঙ্গও রয়েছে।       সেনারা নিরাপত্তা অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে হিজবুল্লাহর ফেলে যাওয়া কয়েক ডজন রকেট লঞ্চারও খুঁজে পেয়েছে বলে দাবি করেছে আইডিএফ।     ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মানসৌরিতে পরিচালিত এই ‘ব্রিগেড পর্যায়ের অভিযান’-এর লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তা অঞ্চলে হিজবুল্লাহকে পুনরায় সংগঠিত হতে না দেওয়া।   সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

গত সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তার কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ রোববার এই তথ্য প্রকাশ করেন।   তবে মার্কিন আইনেই চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাষ্ট্রদূত পারডিউয়ের মন্তব্যে জল্পনা তৈরি হতেই বিষয়টি স্পষ্ট করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   দপ্তরটি জানায়, আইন অনুযায়ী চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনও সুযোগ নেই এবং এমন কোনও প্রস্তাব বা পরিকল্পনাও যুক্তরাষ্ট্রের নেই।   ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত পারডিউ বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের নানা দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। তিনি মূলত সেই প্রসঙ্গ ধরেই একপর্যায়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, চীনও কিছু অস্ত্র কিনতে চায় কি না।   তবে ট্রাম্পের এই প্রশ্নের জবাবে শি কী বলেছিলেন, সে বিষয়ে পারডিউ বিস্তারিত কিছু জানাননি।   তাইওয়ানে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে ডনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা চলার মাঝেই চীনা প্রেসিডেন্টের কাছে অস্ত্র বেচার এই অপ্রত্যাশিত প্রস্তাবের খবর সামনে এল।   তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কণ্টকাকীর্ণ বিষয় হয়ে আছে। চীন তাইওয়ানকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিরোধী। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করতে বাধ্য।   তবে ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে কৌশলগতভাবে একটি অস্পষ্ট অবস্থান ধরে রেখেছেন।   গত মে মাসে বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি-র সঙ্গে বৈঠকের পর তাইওয়ানের ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি আটকে রাখা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, এটি চীনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি “চমৎকার দরকষাকষির হাতিয়ার”।   তবে মার্কিন সিনেটের চার রিপাবলিকান সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি দিয়ে দ্রুত তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির চুক্তিটি সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন।   তাদের মতে, মিত্রদের আত্মরক্ষার সুযোগ না দিলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাহত হবে।   শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং কতগুলো স্পর্শকাতর বিষয়কে ‘রেড লাইন’ হিসেবে চিহ্নিত করে দেন, যার শীর্ষে ছিল ‘তাইওয়ান প্রসঙ্গ’।   সফর শেষে ট্রাম্প জানান, সম্মেলনে তাইওয়ান নিয়ে তাদের খুব একটা কথা হয়নি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, তার ক্ষমতায় থাকাকালীন চীন তাইওয়ানে আক্রমণ চালাবে না বলে শি তাকে আশ্বাস দিয়েছেন।   অবশ্য চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে ওয়াশিংটনকে জোর তাগিদ দিয়েছেন শি জিনপিং।   ওদিকে, চীনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও তাদের হাতে আছে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া থেকে ওয়াশিংটনগামী এক চালানের পথ পরিবর্তন হয়ে হংকংয়ে চলে যাওয়ার পর সেটি চীনের হাতে যায়।   মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগন নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, চালানটির বিষয়ে তারা অবগত এবং যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।   সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরই আরও দুবার বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প ও শি জিনপিং, নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে অ্যাপেক সম্মেলনে এবং ডিসেম্বরে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
‘সরকারের প্রতি অনাস্থা আড়াল করতেই দেশে বিশৃঙ্খলা’: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকারের প্রতি জনগণের তৈরি হওয়া অনাস্থা আড়াল করতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।   সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।   গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকারের কয়েক মাসের মেয়াদেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ উদ্বেগ জানাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।   তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি মানবিক, নিরাপদ ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্তরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত, হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন।   গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সার বিতরণ, সার ডিলার নিয়োগ, ইমাম-খতিবদের ভাতা এবং কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা তৈরিসহ নানা ইস্যুতে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ ও সংঘাত দেখা দিচ্ছে। এমনকি সার বিতরণকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।   সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ তোলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের নামে এক শ্রেণির প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের চেষ্টা চলছে।   তিনি আরও দাবি করেন, এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের বাছাইয়ের উদ্দেশ্য জড়িত থাকতে পারে। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ তিনি ব্রিফিংয়ে উপস্থাপন করেননি।   সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর অনির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। উন্নয়ন বরাদ্দ ও ডিও লেটার দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।   দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার এসব ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ইসিবি এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।   গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, অপরাধের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কেউ কেউ জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিরোধীদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বা সংকেত না থাকলে অপরাধীরা এমন সুযোগ পেত না। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ তিনি ব্রিফিংয়ে উপস্থাপন করেননি।   তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য, সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জনগণের ভোট ও গণরায়ের বিষয়টি উপেক্ষা করে সরকার দেশকে নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর দাবি, জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেটি আড়াল করতে বিভিন্ন ইস্যু সামনে এনে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।   জামায়াতের এই নেতা বলেন, তাঁদের দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।   ব্রিফিংয়ে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। এর মধ্যে রয়েছে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, লুট হওয়া টিকা ও সংশ্লিষ্ট নথি উদ্ধার, বিকল্প স্থানে টিকাদান কার্যক্রম চালু, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার সময় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত।   ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ড. রেজাউল করিমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
২ কোটি টাকা দেন, সব সই করে দেব’ ভিডিও ছড়ানোর পর প্রকৌশলী বরখাস্ত

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর লক্ষ্মীপুরের বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।     দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, ‘মো. নুরুল আমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, বিউবো, লক্ষ্মীপুর এর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২ এর ১৪১ (১) নং বিধির অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’     এতে আরও বলা হয়, ‘ওই বিধিমালার ১৪১ (১) নং বিধি অনুসারে মো. নুরুল আমিন কে বিউবো’র চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।’      এর আগে গতকাল রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।    এরমধ্যে কিছু অংশে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনো একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না। ৬ কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কি কয়। একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নেই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গা মতো পোস্টিং দেবে। সোজা হিসেব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। হিসেব করে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন আমি সব সই করে দেব।    ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। তবে ওইসব ব্যক্তিদের মুখ দেখা যায়নি। পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।    ভিডিওতে তিনি ওইসব ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে কত? ওই ব্যক্তি বলেন, এখানে ৩৫ স্যার। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এক লাখ ৩৫। ওই ব্যক্তি বলেন, আগে দিয়েছি এক লাখ স্যার।   এ ঘটনায় পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এই ব্যক্তিকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। আমি ইতোমধ্যেই তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি এবং তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছি। এটি শেষ হলে তার চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।’

কক্সবাজারে আসছে আন্তর্জাতিক পাঁচ তারকা ইকো-রিসোর্ট, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ৫০০ মিলিয়ন ডলার

মালয়েশিয়ার  ধনকুবের ও শীর্ষ  হোটেল- রিসোর্ট  ব্যবসায়ী তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো, মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি এবং পর্যটন মন্ত্রী আহমেদ আদিব ও ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। বাংলাদেশের পর্যটন খাতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ তারকা পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।                                                                                                                                                                          এ লক্ষ্যে কুয়ালালামপুরের পুলম্যান হোটেলে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট  ব্যবসায়ী তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো, মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিব এবং ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান।   প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে একটি বৃহৎ টেকসই ও বিলাসবহুল পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে একটি যৌথ বিনিয়োগ কোম্পানি গঠন করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।   আন্তর্জাতিক হোটেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্বের উদ্যোগ: প্রস্তাবিত প্রকল্পের আন্তর্জাতিক পরিচালনা ও ব্র্যান্ড অংশীদারিত্বের জন্য মুভেনপিক, নভোটেল ও গ্র্যান্ড হায়াত-সহ বিশ্বখ্যাত হোটেল ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা প্রক্রীয়াধীন এবং  বাণিজ্যিক আলোচনার পর চূড়ান্ত হোটেল ব্র্যান্ড ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে।   প্রস্তাবিত অবকাশকেন্দ্রে বিলাসবহুল হোটেল ও ভিলা, আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরাঁ, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র, বিনোদন সুবিধা এবং প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।   মালয়েশিয়ার হোটেল খাতের অভিজ্ঞতা: তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো মালয়েশিয়ার হোটেল ও পর্যটন খাতের একজন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও একাধিক বিশ্বমানের ব্রান্ডেড হোটেলের প্রতিষ্ঠাতা।তাঁর সঙ্গে ফোর সিজনস কুয়ালালামপুর, কনকর্ড হোটেল, কাসা ডেল মার লাংকাউই, কাসা ডেল রিও মালাক্কা, জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট রিসোর্ট, হার্ড রক হোটেল পেনাং এবং হার্ড রক ক্যাফে-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও অবকাশকেন্দ্র উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠায় সম্পৃক্ততা রয়েছে।   সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর তান শ্রী জোজো বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটন খাতের একটি নতুন অধ্যায়ের অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত। কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ তারকা পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা আমাদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং বিনিয়োগ বান্ধব।”   তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও  কাজে লাগাতে চান।   মালদ্বীপের পর্যটন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে: মালদ্বীপের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিব তাঁর দীর্ঘ সরকারি ও পর্যটন খাতের অভিজ্ঞতা এই প্রকল্পে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগকে তিনি  সময়ের সঠীক সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্তব্য করেন।   তিনি বলেন, “মালদ্বীপের পর্যটন উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগানোর এটি একটি অসাধারণ সুযোগ। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমি আমার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই উদ্যোগে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”   ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান বলেন, “বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আনা এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব এবং দেশপ্রেমের অংশও বটে। তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আদিবের মতো আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদার হতে আগ্রহী—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।”   তিনি বলেন, “আমরা শুধু একটি হোটেল নির্মাণ করতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য কক্সবাজারে এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র তৈরি করা, যা বাংলাদেশের পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দেশী ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরবে।” প্রস্তাবিত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, বিস্তারিত পর্যালোচনা, স্থান নির্বাচন, সরকারি অনুমোদন এবং চূড়ান্ত বিনিয়োগ চুক্তির ওপর নির্ভরশীল।   কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য একটি বিশ্বমানের টেকসই বিলাসবহুল পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইসিএও-আইসিজেতে ইরানের অভিযোগ

ইরানের বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে তেহরান।    ইরানের অভিযোগ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির কয়েকটি বিমান সংস্থার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে এবং বিমান চলাচল খাত গুরুতর সংকটে পড়েছে।   ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান আবুজার শিরউদি দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে জানান, বিমান চলাচল শিল্পের অধিকার রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ‘অবৈধ বিধিনিষেধের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থায় (আইসিএও) আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ দাখিল করেছে ইরান।   শিরউদি বলেন, “বিমান চলাচল শিল্পের বৈধ অধিকার রক্ষা এবং আমেরিকার আরোপ করা অবৈধ বিধিনিষেধ মোকাবিলায় ইরান আইসিএওতে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ প্রস্তুত করে জমা দিয়েছে।”   আইসিএও জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা। কানাডার মন্ট্রিয়লে এর সদর দফতর অবস্থিত। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, পরিচালনা ও কারিগরি মানদণ্ড নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সমন্বয়ে সংস্থাটি কাজ করে।   আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও অভিযোগ শুধু আইসিএওতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এও অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিরউদি।   তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।”   ইরানের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটির বিমান চলাচল খাত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।   ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর ওপর মার্কিন চাপ চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান চলাচল শিল্পের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ওয়াশিংটন জানায়, তারা যদি ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা বা অন্যান্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদেরও পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।   ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির বিমান চলাচল খাতে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লেনদেন, বিমান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।   তেহরানের অভিযোগ, বেসামরিক বিমান চলাচলের মতো একটি খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়ম ও নীতিমালা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছে ইরান।   নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম অংশ হলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দুই দেশের সামরিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে।   নতুন বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইসিএও এবং আইসিজেতে অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে ইরান এখন বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি ও কূটনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।   তবে এসব অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কী পদক্ষেপ নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।   সূত্র: আল-জাজিরা

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ক্রেতার অভাবে ৭০০ কোটি লিটার ইথানল নিয়ে বিপাকে ভারত
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

ভারত জুড়ে ইথানল উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে অভ্যন্তরীণ বাজার ও চাহিদা তৈরি না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন দেশটির ইথানল উৎপাদকরা। বর্তমানে বার্ষিক বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত ইথানল হাতে নিয়ে নতুন ক্রেতা এবং বিকল্প ব্যবহারের পথ খুঁজতে হন্যে হয়ে ঘুরছেন তারা।    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে বার্ষিক ইথানল উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি লিটারে এবং চলতি বছরের মধ্যেই এতে আরও চারশত কোটি লিটার যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদিত এই বিশাল জ্বালানির সিংহভাগ ব্যবহারের পর্যাপ্ত জায়গা এখনো তৈরি হয়নি। বর্তমানে দেশটির বহুল আলোচিত ই-২০ পেট্রোল মিশ্রণ কর্মসূচির আওতায় বছরে প্রায় এক হাজার একশত কোটি লিটার ইথানল ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, জ্বালানি খাতের বাইরে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়, ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্পে আরও তিনশত থেকে সাড়ে তিনশত কোটি লিটার ইথানল ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সব খাত মিলিয়ে ব্যবহারের পরও দেশটির প্রায় সাতশত কোটি লিটার ইথানলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাজার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।   চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বেশি হওয়ায় ভারতীয় ইথানল কারখানাগুলো তাদের ক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে পারছে না। কারখানাগুলো বর্তমানে গড়ে মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী অন্তত তিন বছর এই সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। রাজ্যভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, কেবল মহারাষ্ট্রেই উদ্বৃত্ত ইথানলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭৭ কোটি লিটারে। ২০২৫-২৬ সরবরাহ বর্ষে তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে এক হাজার কোটি লিটার ইথানল সরবরাহের চুক্তি থাকলেও গত আগস্ট পর্যন্ত শেষ পর্যন্ত সরবরাহ সম্ভব হয়েছে মাত্র ৮৯৫ কোটি লিটার।   উদ্বৃত্ত এই ইথানল সংকট নিরসনে উৎপাদকরা সরকারের দ্বারস্থ হলেও নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান মিলছে না। সরকার পেট্রোলে ইথানলের মিশ্রণের মাত্রা ই-২০ থেকে বাড়িয়ে ই-২৫ বা ই-৩০ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনে উচ্চমাত্রার ইথানল ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ই-২০ ব্যবহারের বর্তমান নিয়ম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ অবস্থায় শিল্প বিশেষজ্ঞরা ব্রাজিল বা যুক্তরাষ্ট্রের আদলে নমনীয় জ্বালানি নীতির পরামর্শ দিচ্ছেন। উইলো ইন্ডিয়ার প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা রবীন্দ্র উতগিকর জানান, সবার জন্য একই মিশ্রণ বাধ্যতামূলক না করে জ্বালানির ধরন অনুযায়ী আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা উচিত, যাতে চালকেরা গাড়ির বয়স ও প্রযুক্তি বুঝে ই-১০, ই-২০ কিংবা ই-৮৫ জ্বালানি বেছে নিতে পারেন।   অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটতির মুখে আন্তর্জাতিক বাজারও ভারতীয় ইথানলের জন্য খুব বেশি সহায়ক হয়ে উঠতে পারেনি। প্রথম প্রজন্মের ইথানল রপ্তানিতে সরকারি বিধি নিষেধ থাকায় বিদেশের বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মের ইথানল রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হওয়ার পর ভারত বর্তমানে তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং কেনিয়ার মতো কয়েকটি দেশে সামান্য পরিমাণ অ-জ্বালানি ইথানল রপ্তানি করছে। এছাড়া গ্রেইন ইথানল প্রস্তুতকারক সংস্থা বা জিইএমএ প্রতিবেশী দেশ নেপালে ইথানল সরবরাহের জন্য জোর আলোচনা চালাচ্ছে। নেপাল তাদের ব্যবহৃত পেট্রোলে ১০ শতাংশ ইথানল মেশানোর পরিকল্পনা করলেও সেখানে নিজস্ব প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা না থাকায় ভারত এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চায়।   ভবিষ্যতে বাজার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে পেট্রোলের বাইরে ডিজেল চালিত যানবাহনে ইথানল থেকে প্রস্তুতকৃত বায়ো-আইসোবুটানল মেশানোর নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাঞ্জ ইন্ডিাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিস গাইকোয়াড় জানান, এই বায়ো-আইসোবুটানল প্রযুক্তি এখন বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভারতে পেট্রোলের চেয়ে ডিজেলের ব্যবহার বহু গুণ বেশি হওয়ায় দিজেলে মাত্র দুই শতাংশ বায়ো-আইসোবুটানল মেশানো সম্ভব হলেও তা প্রায় তিন হাজার কোটি রুপিরও বেশি নতুন বাণিজ্যিক প্রকল্পের দ্বার উন্মোচন করতে পারে।   বর্তমানে ভারতে অ-জ্বালানি খাতে মোট ইথানল চাহিদার প্রায় ১৮.৭ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে এক্সট্রা নিউট্রাল অ্যালকোহল বা ইএনএ-এর বাজার ২০২৫ সাল নাগাদ প্রায় ৩৮০ কোটি লিটারে পৌঁছেছে, যা প্রতি বছর গড়ে পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের পানীয় অভ্যাসে পরিবর্তন আসায় এবং দেশি মদের বদলে উন্নত ব্র্যান্ডের মদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ খাতের ব্যবহার কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। তা সত্ত্বেও, দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো ইথানল কারখানাগুলোকে স্থায়ী অর্থনৈতিক লোকসান থেকে বাঁচাতে হলে সরকারকে দ্রুত নতুন নীতি গ্রহণ করে দেশীয় বাজার ও আন্তর্জাতিক রপ্তানি পথ সহজ করতে হবে।   সূত্র: দ্য ইকোনোমিক টাইমস

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর বাড়ল তেলের দাম
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও।   যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া ইরানের প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ফের বেড়েছে।   সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের কাছাকাছি উঠে যায়। পরে, কিছুটা কমে বাংলাদেশ সময় দুপুরের আগে নভেম্বরের ব্রেন্ট ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৩৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।   ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার আলোচনায় বসবে তেহরান।   এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে হবে এবং দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। পাশাপাশি, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধও শেষ করতে হবে।   তবে, গত শনিবার ট্রাম্প জানান, ইরানের এ প্রস্তাব তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর এই বক্তব্যের পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথ বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ।   যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ১৩২টি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ১১৬।   যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত। উপসাগরীয় এলাকায় কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।   এদিকে, তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচক কমলেও হংকং ও অস্ট্রেলিয়ার সূচক বেড়েছে।   সূত্র: আল-জাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

গত সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তার কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ রোববার এই তথ্য প্রকাশ করেন।   তবে মার্কিন আইনেই চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাষ্ট্রদূত পারডিউয়ের মন্তব্যে জল্পনা তৈরি হতেই বিষয়টি স্পষ্ট করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   দপ্তরটি জানায়, আইন অনুযায়ী চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনও সুযোগ নেই এবং এমন কোনও প্রস্তাব বা পরিকল্পনাও যুক্তরাষ্ট্রের নেই।   ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত পারডিউ বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের নানা দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। তিনি মূলত সেই প্রসঙ্গ ধরেই একপর্যায়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, চীনও কিছু অস্ত্র কিনতে চায় কি না।   তবে ট্রাম্পের এই প্রশ্নের জবাবে শি কী বলেছিলেন, সে বিষয়ে পারডিউ বিস্তারিত কিছু জানাননি।   তাইওয়ানে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে ডনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা চলার মাঝেই চীনা প্রেসিডেন্টের কাছে অস্ত্র বেচার এই অপ্রত্যাশিত প্রস্তাবের খবর সামনে এল।   তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কণ্টকাকীর্ণ বিষয় হয়ে আছে। চীন তাইওয়ানকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিরোধী। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করতে বাধ্য।   তবে ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে কৌশলগতভাবে একটি অস্পষ্ট অবস্থান ধরে রেখেছেন।   গত মে মাসে বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি-র সঙ্গে বৈঠকের পর তাইওয়ানের ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি আটকে রাখা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, এটি চীনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি “চমৎকার দরকষাকষির হাতিয়ার”।   তবে মার্কিন সিনেটের চার রিপাবলিকান সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি দিয়ে দ্রুত তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির চুক্তিটি সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন।   তাদের মতে, মিত্রদের আত্মরক্ষার সুযোগ না দিলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাহত হবে।   শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং কতগুলো স্পর্শকাতর বিষয়কে ‘রেড লাইন’ হিসেবে চিহ্নিত করে দেন, যার শীর্ষে ছিল ‘তাইওয়ান প্রসঙ্গ’।   সফর শেষে ট্রাম্প জানান, সম্মেলনে তাইওয়ান নিয়ে তাদের খুব একটা কথা হয়নি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, তার ক্ষমতায় থাকাকালীন চীন তাইওয়ানে আক্রমণ চালাবে না বলে শি তাকে আশ্বাস দিয়েছেন।   অবশ্য চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে ওয়াশিংটনকে জোর তাগিদ দিয়েছেন শি জিনপিং।   ওদিকে, চীনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও তাদের হাতে আছে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া থেকে ওয়াশিংটনগামী এক চালানের পথ পরিবর্তন হয়ে হংকংয়ে চলে যাওয়ার পর সেটি চীনের হাতে যায়।   মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগন নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, চালানটির বিষয়ে তারা অবগত এবং যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।   সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরই আরও দুবার বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প ও শি জিনপিং, নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে অ্যাপেক সম্মেলনে এবং ডিসেম্বরে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে।

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইসিএও-আইসিজেতে ইরানের অভিযোগ
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

ইরানের বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে তেহরান।    ইরানের অভিযোগ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির কয়েকটি বিমান সংস্থার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে এবং বিমান চলাচল খাত গুরুতর সংকটে পড়েছে।   ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান আবুজার শিরউদি দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে জানান, বিমান চলাচল শিল্পের অধিকার রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ‘অবৈধ বিধিনিষেধের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থায় (আইসিএও) আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ দাখিল করেছে ইরান।   শিরউদি বলেন, “বিমান চলাচল শিল্পের বৈধ অধিকার রক্ষা এবং আমেরিকার আরোপ করা অবৈধ বিধিনিষেধ মোকাবিলায় ইরান আইসিএওতে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ প্রস্তুত করে জমা দিয়েছে।”   আইসিএও জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা। কানাডার মন্ট্রিয়লে এর সদর দফতর অবস্থিত। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, পরিচালনা ও কারিগরি মানদণ্ড নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সমন্বয়ে সংস্থাটি কাজ করে।   আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও অভিযোগ শুধু আইসিএওতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এও অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিরউদি।   তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।”   ইরানের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটির বিমান চলাচল খাত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।   ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর ওপর মার্কিন চাপ চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান চলাচল শিল্পের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে ওয়াশিংটন জানায়, তারা যদি ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা বা অন্যান্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদেরও পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।   ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির বিমান চলাচল খাতে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লেনদেন, বিমান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।   তেহরানের অভিযোগ, বেসামরিক বিমান চলাচলের মতো একটি খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়ম ও নীতিমালা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছে ইরান।   নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম অংশ হলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দুই দেশের সামরিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে।   নতুন বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইসিএও এবং আইসিজেতে অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে ইরান এখন বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি ও কূটনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।   তবে এসব অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কী পদক্ষেপ নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।   সূত্র: আল-জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব