সামাজিক মাধ্যমে আর্জেন্টিনা দলকে বিদায় বললেও এখনো লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতি ঘটেনি। অক্টোবরে দেখা যাবে তার ‘ওয়ান লাস্ট ড্যান্স’। আর্জেন্টাইন তারকার বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের কৌতূহলের যেন শেষ নেই। কোন জার্সি পরে খেলবেন, সেটার ডিজাইন কেমন—অবশেষে সব আজ জানা গেল। আগামী ৬ অক্টোবর মনুমেন্তালে বেনিন ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবেন মেসি। বিদায়ী ম্যাচে বিশেষ এক জার্সি পরবেন তিনি। তিন স্ট্রাইপবিশিষ্ট জার্সিটি আজ প্রকাশ করেছে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারের জার্সিতে দুটি বড় উল্লম্ব আকাশি-নীল স্ট্রাইপ থাকবে। মাঝখানে থাকবে একটি সাদা স্ট্রাইপ। কেন্দ্রে থাকবে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার সূর্যের প্রতীক। মেসির নাম, জার্সি নম্বর ১০— সব সোনালি রঙে লেখা থাকবে। নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিদায়ী ম্যাচের জার্সি নিয়ে পোস্ট করেছেন মেসি। সেই ভিডিওতে দেয়ালে পুরোনো জার্সি সরিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের জার্সি টাঙাতে দেখা গেছে। দেয়ালে বিদায়ী ম্যাচের জার্সি রেখেই মেসি বসে থাকেননি। তার সামনে রাখা একটা সোফায় রেখেছেন আকাশি-নীল রঙের এক জোড়া জুতা। আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী তারকা ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘একটা মাত্র ম্যাচ। সারা জীবনের এক জার্সি।’ অ্যাডিডাস মেসির যে তিন স্ট্রাইপবিশিষ্ট জার্সি আজ প্রকাশ করেছে, সেটা এরই মধ্যে বিক্রির জন্য বাজারে এসেছে। এ ছাড়া তার বিদায়ী ম্যাচের টিকিট কাটতে গতকাল ভক্ত-সমর্থকেরা দিপোর্তিক ওয়েবসাইটে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। তাতে টিকিট বিক্রির সার্ভারটি দ্রুত ক্র্যাশ করেছে বলে আর্জেন্টিনার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। দুই ঘণ্টার মধ্যে টিকিটগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। এবারের ১৬ দিনের ফিফা উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা তিন ম্যাচ খেলবে। ৩০ সেপ্টেম্বর মারিও আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে হবে আর্জেন্টিনা-বলিভিয়া ম্যাচ। লিওনেল স্কালোনির দলের পরের দুই ম্যাচের ভেন্যু মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম। আগামী ২ ও ৬ অক্টোবর আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো ও বেনিন। মেসি শুধু ৬ অক্টোবর খেলবেন। ডায়েরির তিনটি ছেঁড়া পাতা, একটি সোনালি কলম—গত ৩১ আগস্ট সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি ছবিসহ আবেগঘন পোস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন মেসি। পুরো বিশ্বে যেন তখন ভূকম্পন অনুভূত হয়। গত ২১ বছরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন মেসি। অ্যাসিস্ট করেছেন ৬৮ গোলে। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২৪ কোপা আমেরিকা—আর্জেন্টিনার জার্সিতে এই চার শিরোপা জিতেছেন তিনি। অবসরের ঘোষণা দেওয়ার ৩৬ দিন পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষ ম্যাচ খেলতে নামছেন আর্জেন্টাইন তারকা। সূত্র : গোল.কম
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) টাঙ্গানিকা হ্রদে নৌকা ডুবে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। ডিআরসির টাঙ্গানিকা প্রদেশের পরিবহণমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোইয়ি বলেন, নৌকাটিতে থাকা বাকি যাত্রীদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। স্থানীয় মাপেরা গ্রামের কাছে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ও পণ্য ছিল বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে ডিআরসির কালেমি শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল নৌকাটি। পথে এটি ডুবে যায়। উদ্ধার হওয়া যাত্রী অ্যানি মোয়োনি জাতিসংঘ-সমর্থিত কঙ্গোর সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপিকে বলেন, রাত ১টার দিকে যাত্রীদের ঘুম থেকে জাগিয়ে দেওয়া হয়। তখন তারা দেখতে পান, নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে গেছে। নৌকাটি কেন ডুবে গেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিআরসিতে নৌকাডুবির ঘটনায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির নৌযানগুলো প্রায়ই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে এবং অনেক নৌযানে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট থাকে না। ডিআরসির অনেক মানুষের জন্য নৌপথে যাতায়াতই সবচেয়ে সস্তা ও সহজলভ্য যোগাযোগব্যবস্থা। বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর একটি ডিআরসিতে ১০ কোটির বেশি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। কিগোমা-কালেমি নৌপথে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় কোনো কঙ্গোলিজ নৌযান দুর্ঘটনার ঘটনা। রেডিও ওকাপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট কিগোমা বন্দরে জ্বালানি তোলার সময় কঙ্গোলিজ নৌযান এমভি প্যাসিফিকেতে আগুন ধরে যায় এবং পরে বিস্ফোরণ ঘটে। বন্দর কর্তৃপক্ষের বরাতে রেডিও ওকাপি জানায়, ওই ঘটনায় নৌযানটির ছয়জন কর্মী নিহত হন এবং আরও একজন নিখোঁজ হন। এর আগে গত জুলাইয়ে মধ্য ডিআরসিতে রাষ্ট্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে অন্তত ২০ জন নিহত হন। সূত্র: আলজাজিরা
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলি হওয়ার পরও ওই থানার একটি মামলায় চার্জশিট দিয়েছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলাম। বদলিজনিত প্রস্থান বা সিসি নেওয়ার পরদিনই মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিনের যোগসাজশে এসআই মাহিদুল ওসির ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) আইডি ব্যবহার করে ওই চার্জশিট দাখিল করেন। এসআই মাহিদুল ইসলামের বদলির আদেশ, বদলিজনিত প্রস্থান (সিসি) এবং সংশ্লিষ্ট মামলার চার্জশিট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা থেকে এসআই মাহিদুল ইসলামকে তেজগাঁও থানায় বদলির আদেশ দেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান। এরপর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলিজনিত প্রস্থান (সিসি) নেন তিনি। কোনো কর্মকর্তা বদলিজনিত প্রস্থান নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে তার দায়িত্বগত সম্পর্ক শেষ হয়। একই সঙ্গে সিডিএমএসে তার আইডি লক হয়ে যায়। কিন্তু নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোহাম্মদপুর থানায় দায়িত্ব শেষ করে সিসি নেওয়ার পরদিনই অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল ওই থানার একটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন এসআই মাহিদুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করে ওই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং এর পেছনে মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের যোগসাজশ ছিল। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আমরা যেহেতু সরকারি চাকরি করি আমাদের যে কোনো সময় বদলির অর্ডার হতে পারে। যদি কোনো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বদলির অর্ডার হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি নিয়ে তার কাছে থাকা মামলার ডকেট (কাগজপত্র) দ্রুততম সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করে সিসি নিয়ে নিতে হয়। সিসি নেওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি মামলার চার্জশিট ও ফাইনাল রিপোর্ট মামলার তদন্ত যে কোনো কিছু করতে পারবেন। সেটির সুযোগ থাকে। কিন্তু আপনি যখন থানা থেকে সিসি নেবেন তখন আপনার সঙ্গে এই থানার সমস্ত সম্পর্ক শেষ। আপনি কোনোভাবেই মামলার কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। চার মাসের মধ্যে চার্জশিট মোহাম্মদপুর থানার এ বছরের জানুয়ারি মাসের ৩ নম্বর মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২ জানুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত পাইলট সৈয়দ নাজিম মাহমুদ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৪ ধারায় করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাহিদুল ইসলাম। মামলা রুজুর প্রায় চার মাসের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে অভিযোগপত্র দাখিলের সময় এসআই মাহিদুল আর মোহাম্মদপুর থানায় কর্মরত ছিলেন না। এর আগেই তিনি বদলির আদেশ পেয়ে ১৮ এপ্রিল সিসি নিয়ে মোহাম্মদপুর থানা ছাড়েন। পরদিন ১৯ এপ্রিল তিনি অভিযোগপত্র (অভিযোগপত্র নম্বর-২৫৮) দাখিল করেন। ঘটনা তদন্তে সহকারী কমিশনার এসআই মাহিদুলের বদলির পরও চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এসআই ও ওসির বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বদলির পরও চার্জশিট দেওয়া এসআই মাহিদুল ইহলাম জানান, আমি সিসি নিয়েছি ১৮ তারিখ সেটা সঠিক। কিন্তু আমি নিয়ম মেনেই চার্জশিট দিয়েছি। আমার আইডি যদি লক হয়ে যায় তাহলে আমি চার্জশিট দিয়েছি কীভাবে। আমি রাত ১২টার আগে সিডিএমএস এন্ট্রি দিয়েছিলাম, ত্রুটির কারণে সেটি পরদিন নিয়েছে। আপনি তো আপনার আইডি দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেননি। তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেছেন- এমন তথ্য আছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে তিনি বলেন, আমি তার সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করিনি, বিষয়টি সঠিক নয়। বদলির পরেও কীভাবে এসআই মাহিদুল মামলার চার্জশিট দিয়েছেন সে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তৎকালীন (বর্তমানে ডিবি রমনায় কর্মরত) ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, বদলি হওয়ার পরেও তিনি চার্জশিটে দিতে পারবেন। যেহেতু তার একই ডিভিশনে বদলি হয়েছে। তার সিডিএমএস আইডি লক হয়নি। লক হলে তিনি কীভাবে চার্জশিট দিয়েছেন? আপনার আইডি ব্যবহার করে চার্জশিট দিয়েছেন- এমন অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে তিনি বলেন, তিনি আমার ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড জানবেন কীভাবে? আমার ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড তো তার কাছে থাকার কথা নয়। আর আমি তো ওখান থেকে চলে এসেছি, এখন এটা নিয়ে এত ঘাঁটাঘাঁটি করে কী লাভ। মামলার বিচারে প্রভাব পড়ে : আইনজীবী এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, যে থানায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব বা পোস্টিং নেই, সেই থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে রিপোর্ট দাখিল করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ একজন তদন্ত কর্মকর্তা নির্দিষ্ট থানার কর্মকর্তা হিসেবে একটি মামলার তদন্ত করেন। পরবর্তীতে ওই থানায় তার পোস্টিং না থাকলে সেখানে তার দায়িত্ব পালনের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা যদি এক তারিখে থানা থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বদলি হয়ে চলে যান, কিন্তু পরদিন ওই মামলার চার্জশিটে স্বাক্ষর করেন, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই প্রশ্নের জন্ম দেবে। কারণ চার্জশিট দাখিলের দিন ওই কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ট থানায় দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব ছিল কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মনজিল মোরসেদ বলেন, এ ধরনের ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তার ভুল বা অসতর্কতার কারণে মামলাটি দুর্বল হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিচার পর্যায়ে আসামিপক্ষ বিষয়টি জানতে পারলে তারা জেরার সময় এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তখন তদন্ত কর্মকর্তার ওই দিন মামলার রিপোর্ট দাখিলের আইনগত কর্তৃত্ব ছিল কি না, সেটি আদালতের সামনে আসবে। এতে আসামিপক্ষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং মামলাটিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আদালত চাইলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি ফেরতও দিতে পারেন। তবে সাধারণত রিপোর্ট গ্রহণের পর্যায়ে এ ধরনের বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয় না। বিচারপর্বে আসামিপক্ষ বিষয়টি তুলে ধরলে তখন এর গুরুত্ব বাড়তে পারে। এই আইনজীবী আরও বলেন, দায়িত্বে না থাকা থানার মামলায় রিপোর্ট দাখিল করা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার জন্য দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের বিষয়ও হতে পারে। পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন, বিধিবিধান ও শর্ত রয়েছে। সেই দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা রিপোর্ট দাখিল করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে যদি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি তার পক্ষে একটি সুরক্ষার বিষয় হতে পারে। কিন্তু এমন কোনো অনুমতি না থাকলে বিষয়টি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা মিসকন্ডাক্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মনজিল মোরসেদ বলেন, যে থানায় তার দায়িত্বই নেই, সেই থানার মামলায় তিনি কীভাবে রিপোর্ট দাখিল করেন এটা তো তিনি করতে পারেন না। তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এখানে কারো কোনো গাফিলতি আছে কি না, এটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত এবং আইনগতভাবে হয়েছে কি না সে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এখন তদন্তে বেরিয়ে আসবে, সিসি নেওয়ার পর এসআই মাহিদুল কীভাবে চার্জশিট দাখিল করল, তার সিডিএমএস আইডি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এতে তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না।
কুমিল্লায় বহুল আলোচিত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এর আগে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। নথিপত্র পাওয়ার পর তদন্তের কাজ শুরু করবেন তিনি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি। সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে মামলাটির তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিনজনের স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। ওই দিন তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তার বাবা। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য অপ্রতিমকে মাথায় বাঁশ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় ওই তিনজন। ওই দিন সিয়াম ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের আদেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর পাইকারি ও খুচরায় সবজির দাম বেড়েছে। আরেক দফা বাড়ল আটা, ময়দা ও চালের দাম। তেল, ডাল, ডিম ও দুধের দামও বাড়তি। জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর শুক্রবার ঢাকার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার, কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কথা বলছেন। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে অনেক পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের নতুন কাঁচাবাজারের সুজন গুড ভাণ্ডার থেকে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে গুঁড়ো চাল কিনছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস। ৯০০ গ্রামের এক প্যাকেট গুঁড়ো চালের দাম ৭০ টাকা। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ ক্রেতা বলেন, “কিছুদিন আগেই প্যাকেট কিনেছিলাম ৬৬ টাকায়। আজকে নিল ৭০ টাকা।” দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে দোকানটির স্বত্বাধিকারী সেলিম মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যে মালগুলো আগে আনা ছিল ওগুলোর দাম বাড়াইনি। আজকে-কালকে যে মালগুলো কেনা লাগছে, ওগুলোতে দুই-তিন টাকা বেশি নেওয়া লাগছে। বেশি নেওয়ার কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কথা বলেছেন তিনি। সেলিম বলেন, চিড়া ও মুড়ির দামও বাড়তে পারে। রোববার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হবে। এর পর থেকেই পণ্য পরিবহনে ভাড়া বেড়ে গেছে। নির্দিষ্ট করে ভাড়া কত শতাংশ বাড়বে, সেটি ঠিক না হওয়ায় যে যার মত ভাড়া নিচ্ছেন ট্রাক, লরি, পিকআপ ও কভার্ড ভ্যান মালিকরা। যার প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। গত মাসে মোড়কের প্রতিকেজি ময়দা ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এক সপ্তাহ আগে থেকে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ টাকা। তেলের দাম বাড়ার পর আরও ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৮৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে এক প্যাকেট ময়দা কিনতে ৬ শতাংশের বেশি খরচ করতে হচ্ছে ভোক্তাকে। গত মাসে দাম বাড়ার পর খুচরায় মোড়কের আটা বিক্রি হয়েছিল কোম্পানিভেদে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে। সেই এখন আটা কিনতে হচ্ছে ৭০ টাকায়। মোড়কের আটা ও ময়দার দাম বাড়লেও খোলাটা কিছু কম ছিল। কিন্তু বুধবার থেকে সেটার দামও বাড়তে শুরু করেছে। খোলা ময়দার দাম বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা। আর খোলা আটা প্রতিকেজি ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। নতুন করে দুই কেজির যে মোড়কের আটা ও ময়দা খুচরা দোকানে দিয়েছে কোম্পানিগুলো, তার গায়ে খুচরা মূল্য লেখা রয়েছে যথাক্রমে ১৪০ ও ১৬০ টাকা। কারওয়ান বাজারের মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, “ময়দা (দাম) কই উঠবে বলা যায় না। দুই মাস দাম বাড়ে। দুই দিন আগে আরেক দফা বাড়ে। কোম্পানি যে দাম লিখে দেয়, ওই দামেই বিক্রি করি।” কেন ফের দাম বাড়ানো হল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই আর কি, তেলের কথাই বলল, প্রোডাকশন কস্ট বাড়ছে, গাড়ি ভাড়া ভাড়ছে, তাই দাম বেশি।” দীর্ঘদিন ধরে ডজন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল খামারের লাল ডিম। এখন সেই ডিমের দাম ছুঁয়েছে ১৬০ টাকা ডজন। এক হালি নিলে দাম দিতে হচ্ছে ৫৫ টাকায়। মোটা দানার মসুর ডাল প্রতিকেজি ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় পাওয়া যেত, শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা। যদিও রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির দৈনিক বাজার দর বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে এ মানের মসুর দামের দাম প্রতিকেজি ৯০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯২ টাকা। চলতি মাসের শুরুতে বাজারে বোতলের এক ও দুই লিটারের সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দেয়। লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর পর সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বুধবার থেকে আবার সয়াবিন তেলের এক ও দুই লিটারের বোতলের সংকট দেওয়ার কথা বলেছেন খুচরা বিক্রেতারা। বছিলার সিটি হাউজিং এলাকার ডেইলি নিডসের স্বত্বাধিকারী তানভীর জয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুই-এক সপ্তাহ তেল নিয়ে সমস্যা ছিল না। বুধবারে কারওয়ান বাজার থেকে মাল নিতে গেলাম, ছোট বোতল নাই। আধা লিটার, এক লিটারের তেল পাইকারি থেকে অনুরোধ করেই আনলাম। এই এলাকায় বড় বোতলের চেয়ে ছোট বোতলের চাহিদা বেশি।” সরবরাহ সংকটের মধ্যেই সয়াবিনের দাম বেড়েছে। দুই লিটারের বোতলের সরকার নির্ধারিত দাম ৩৯৮ টাকা। কিন্তু সেই তেল বিক্রি হচ্ছে ৪০৪ টাকা। পাঁচ লিটার বোতল সয়াবিনের সরকার নির্ধারিত দাম ৯৭৫ টাকা, তা বেড়ে হয়েছে ৯৮৮ টাকা। মিরপুরের পাইকপাড়ার এক গৃহিণী বলেন, তিনি রূপচাঁদার পাঁচ লিটারের বোতল কিনেছেন ১ হাজার টাকায়। আটা ও ময়দার পাশাপাশি মাঝারি মানের পাইজাম ও আটাশ চালের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে এ চাল বিক্রি হয় প্রতিকেজি ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা দরে। শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা। চালের দাম বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের নতুন কাঁচাবাজারের ‘আল্লাহর দান চাউল ভাণ্ডারের’ অংশীদার লোকমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমককে বলেন, “কুষ্টিয়া থেকে চাউল আনতে গাড়ি ভাড়া ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বেড়েছে। এগুলো তো পাইকারিতে মেলাতে হবে। পাইকারিতে বস্তা প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি পড়ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ২ থেকে ৩ টাকা বাড়তি নিবেই।” তিনি বলেন, “কিছুদিন পরেই ধান উঠবে এখন মৌসুম, চাল উঠছে। চলের দাম বাড়বো না।” জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আঁচ লেগেছে সবজির বাজারে। গোল বেগুনের দাম প্রতিকেজি ৪০ থেকে ১৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১২০ টাকা। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে, যা ছিল ৮০ টাকা। চিচিঙ্গা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ৬০ টাকা ছিল। আর ঝিঙা প্রতিকেজি ৮০ টাকা। পটল, করলা ও ধুন্দল প্রতিকেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব সবজির ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারের পাইকারি সবজি বিক্রেতা ইদ্রিস ফল ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. ইদ্রিস ফকির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বর্তমানে প্রতি কেজিতে এক টাকা ভাড়া বেশি পড়ে যাচ্ছে। পঞ্চগড় থেকে এক ট্রাক মাল আনতাম ২৬ হাজার টাকা ভাড়ায়। ওই ভাড়া এখন ৩১ হাজার টাকা। এক গাড়ি ৫ হাজার টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে।” তিনি বলেন, যে লাউ আগে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন, শুক্রবার সেটির দাম পড়েছে ১৬ টাকা। আর প্রতিটির দাম ১৮ টাকা। আকার ও মান ভেদে দামের পার্থক্য হয়। ইদ্রিস ফকির বলেন, এদিন করলা বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে। তবে ময়মনসিংহের ভালো মানের করলার পাইকারি দাম পড়ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা দরে। চিচিঙ্গা বিক্রি হয়েছে ২৬ টাকা দরে। ঝিঙ্গা বিক্রি করেছেন ৩০ টাকা কেজি। খুচরায় প্রতিটি সবজির দাম দ্বিগুণ কেন? জবাবে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের বাইরে বসা খুচরা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাইকারি ব্যবসায়ীর দেওয়া হিসাবটা সঠিক নয়।” তার দাবি, করলা কেনা পড়েছে ৫৫ টাকা কেজি দরে। ঢেঁড়শ আড়ত থেকেই কেজি ৫০ টাকা পড়েছে। “এছাড়া আমরা লটে বা বস্তায় মাল কিনি। সব মাল ভালো পড়ে না। কেনার পর আলাদা করি। ধরেন করলা আমার এখানে দুই রকমের করলা আছে; কেজি ৫০ টাকাও আছে ৭০ টাকাও আছে। কিন্তু সব মিলায়ে এ সপ্তাহে দাম বাড়ছেই।” কমতে থাকা কাঁচামরিচের দামও ফের বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি কাঁচামরিচের মানভেদে দাম ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এখন তা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা গিয়ে ঠেকেছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকুরীজীবী চল্লিশোর্ধ্ব ইমরুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশে এমনিতেই নানা সংকট। বহির্বিশ্বে যখন সংকট হয় তেলের দাম বাড়তেই পারে। বাড়াইল কখন, যখন বহির্বিশ্বে কমতেছে। তেলের দামের অজুহাতে সব জিনিসের দাম বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশে যেটা বাড়ে সেটা কি কমে?” তবে তেলের দাম বাড়ার প্রভাব এখনো দেখা যায়নি মুরগির বাজারে। এক মাস ধরে ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকায়। দুধের দাম লিটারে বাড়ল ১০ টাকা সব কোম্পানির মোড়কের তরল দুধ লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, খুচরা দোকানে মিল্কভিটা, ফার্ম ফ্রেশ, আড়ং ও প্রাণ ডেইরির আধা লিটারের দাম ৫৫ টাকা ও এক লিটার ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়নের (মিল্কভিটা) সভাপতি এস এম আমীর হামজা শাতিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মিল্কভিটা একটি সমবায় সমিতি। আরও অনেকগুলো সমবায়ের কেন্দ্রীয় সমিতি এটি। ছোট সমবায় সমিতির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে দুধের দাম বাড়ানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। “গ্যাসের সংকট চলছে ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। দুধ প্রক্রিয়াজাত করার খরচ বেড়ে গেল। পরিবহন খরচ বাড়ল। প্রান্তিক পর্যায়ে গো-খাদ্যের দাম বাড়ল। ফলে আমাদের অংশীজনরা চাপ দিলেন দাম বাড়াতে হবে।”
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকার ও মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান। তিনি জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক ফোরামে দুই দেশের সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে ২৪ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন। এ ছাড়া সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমের স্টেনারগার্ডের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারির ভূমিকা জোরদার এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সহযোগিতার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকগুলোতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে এসব দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করছে। সূত্র: বাসস
কুমিল্লায় বহুল আলোচিত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এর আগে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। নথিপত্র পাওয়ার পর তদন্তের কাজ শুরু করবেন তিনি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি। সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে মামলাটির তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিনজনের স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। ওই দিন তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তার বাবা। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য অপ্রতিমকে মাথায় বাঁশ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় ওই তিনজন। ওই দিন সিয়াম ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের আদেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলি হওয়ার পরও ওই থানার একটি মামলায় চার্জশিট দিয়েছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলাম। বদলিজনিত প্রস্থান বা সিসি নেওয়ার পরদিনই মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিনের যোগসাজশে এসআই মাহিদুল ওসির ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) আইডি ব্যবহার করে ওই চার্জশিট দাখিল করেন। এসআই মাহিদুল ইসলামের বদলির আদেশ, বদলিজনিত প্রস্থান (সিসি) এবং সংশ্লিষ্ট মামলার চার্জশিট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা থেকে এসআই মাহিদুল ইসলামকে তেজগাঁও থানায় বদলির আদেশ দেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান। এরপর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলিজনিত প্রস্থান (সিসি) নেন তিনি। কোনো কর্মকর্তা বদলিজনিত প্রস্থান নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে তার দায়িত্বগত সম্পর্ক শেষ হয়। একই সঙ্গে সিডিএমএসে তার আইডি লক হয়ে যায়। কিন্তু নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোহাম্মদপুর থানায় দায়িত্ব শেষ করে সিসি নেওয়ার পরদিনই অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল ওই থানার একটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন এসআই মাহিদুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করে ওই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং এর পেছনে মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের যোগসাজশ ছিল। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আমরা যেহেতু সরকারি চাকরি করি আমাদের যে কোনো সময় বদলির অর্ডার হতে পারে। যদি কোনো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বদলির অর্ডার হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি নিয়ে তার কাছে থাকা মামলার ডকেট (কাগজপত্র) দ্রুততম সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করে সিসি নিয়ে নিতে হয়। সিসি নেওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি মামলার চার্জশিট ও ফাইনাল রিপোর্ট মামলার তদন্ত যে কোনো কিছু করতে পারবেন। সেটির সুযোগ থাকে। কিন্তু আপনি যখন থানা থেকে সিসি নেবেন তখন আপনার সঙ্গে এই থানার সমস্ত সম্পর্ক শেষ। আপনি কোনোভাবেই মামলার কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। চার মাসের মধ্যে চার্জশিট মোহাম্মদপুর থানার এ বছরের জানুয়ারি মাসের ৩ নম্বর মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২ জানুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত পাইলট সৈয়দ নাজিম মাহমুদ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৪ ধারায় করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাহিদুল ইসলাম। মামলা রুজুর প্রায় চার মাসের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে অভিযোগপত্র দাখিলের সময় এসআই মাহিদুল আর মোহাম্মদপুর থানায় কর্মরত ছিলেন না। এর আগেই তিনি বদলির আদেশ পেয়ে ১৮ এপ্রিল সিসি নিয়ে মোহাম্মদপুর থানা ছাড়েন। পরদিন ১৯ এপ্রিল তিনি অভিযোগপত্র (অভিযোগপত্র নম্বর-২৫৮) দাখিল করেন। ঘটনা তদন্তে সহকারী কমিশনার এসআই মাহিদুলের বদলির পরও চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এসআই ও ওসির বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বদলির পরও চার্জশিট দেওয়া এসআই মাহিদুল ইহলাম জানান, আমি সিসি নিয়েছি ১৮ তারিখ সেটা সঠিক। কিন্তু আমি নিয়ম মেনেই চার্জশিট দিয়েছি। আমার আইডি যদি লক হয়ে যায় তাহলে আমি চার্জশিট দিয়েছি কীভাবে। আমি রাত ১২টার আগে সিডিএমএস এন্ট্রি দিয়েছিলাম, ত্রুটির কারণে সেটি পরদিন নিয়েছে। আপনি তো আপনার আইডি দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেননি। তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেছেন- এমন তথ্য আছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে তিনি বলেন, আমি তার সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করিনি, বিষয়টি সঠিক নয়। বদলির পরেও কীভাবে এসআই মাহিদুল মামলার চার্জশিট দিয়েছেন সে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তৎকালীন (বর্তমানে ডিবি রমনায় কর্মরত) ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, বদলি হওয়ার পরেও তিনি চার্জশিটে দিতে পারবেন। যেহেতু তার একই ডিভিশনে বদলি হয়েছে। তার সিডিএমএস আইডি লক হয়নি। লক হলে তিনি কীভাবে চার্জশিট দিয়েছেন? আপনার আইডি ব্যবহার করে চার্জশিট দিয়েছেন- এমন অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে তিনি বলেন, তিনি আমার ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড জানবেন কীভাবে? আমার ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড তো তার কাছে থাকার কথা নয়। আর আমি তো ওখান থেকে চলে এসেছি, এখন এটা নিয়ে এত ঘাঁটাঘাঁটি করে কী লাভ। মামলার বিচারে প্রভাব পড়ে : আইনজীবী এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, যে থানায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব বা পোস্টিং নেই, সেই থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে রিপোর্ট দাখিল করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ একজন তদন্ত কর্মকর্তা নির্দিষ্ট থানার কর্মকর্তা হিসেবে একটি মামলার তদন্ত করেন। পরবর্তীতে ওই থানায় তার পোস্টিং না থাকলে সেখানে তার দায়িত্ব পালনের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা যদি এক তারিখে থানা থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বদলি হয়ে চলে যান, কিন্তু পরদিন ওই মামলার চার্জশিটে স্বাক্ষর করেন, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই প্রশ্নের জন্ম দেবে। কারণ চার্জশিট দাখিলের দিন ওই কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ট থানায় দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব ছিল কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মনজিল মোরসেদ বলেন, এ ধরনের ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তার ভুল বা অসতর্কতার কারণে মামলাটি দুর্বল হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিচার পর্যায়ে আসামিপক্ষ বিষয়টি জানতে পারলে তারা জেরার সময় এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তখন তদন্ত কর্মকর্তার ওই দিন মামলার রিপোর্ট দাখিলের আইনগত কর্তৃত্ব ছিল কি না, সেটি আদালতের সামনে আসবে। এতে আসামিপক্ষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং মামলাটিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আদালত চাইলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি ফেরতও দিতে পারেন। তবে সাধারণত রিপোর্ট গ্রহণের পর্যায়ে এ ধরনের বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয় না। বিচারপর্বে আসামিপক্ষ বিষয়টি তুলে ধরলে তখন এর গুরুত্ব বাড়তে পারে। এই আইনজীবী আরও বলেন, দায়িত্বে না থাকা থানার মামলায় রিপোর্ট দাখিল করা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার জন্য দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের বিষয়ও হতে পারে। পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন, বিধিবিধান ও শর্ত রয়েছে। সেই দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা রিপোর্ট দাখিল করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে যদি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি তার পক্ষে একটি সুরক্ষার বিষয় হতে পারে। কিন্তু এমন কোনো অনুমতি না থাকলে বিষয়টি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা মিসকন্ডাক্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মনজিল মোরসেদ বলেন, যে থানায় তার দায়িত্বই নেই, সেই থানার মামলায় তিনি কীভাবে রিপোর্ট দাখিল করেন এটা তো তিনি করতে পারেন না। তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এখানে কারো কোনো গাফিলতি আছে কি না, এটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত এবং আইনগতভাবে হয়েছে কি না সে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এখন তদন্তে বেরিয়ে আসবে, সিসি নেওয়ার পর এসআই মাহিদুল কীভাবে চার্জশিট দাখিল করল, তার সিডিএমএস আইডি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এতে তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই-কে ঘিরে বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির তথ্যভাণ্ডারে হানা দেওয়ার দাবি করেছে ‘শাইনিহান্টার্স’ নামের এক সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী। এফবিআই-এর সিস্টেম হ্যাক করা এই সাইবার অপরাধীরা দাবি করছে যে, তাদের কাছে সংস্থাটির হাজার হাজার বিশেষ এজেন্টের অত্যন্ত সংবেদনশীল চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য (মেডিকেল ডাটা) রয়েছে। ফিটনেস-ফর-ওয়ার্ক বা কাজের উপযোগীতা পরীক্ষার চুরি যাওয়া মেডিকেল রিপোর্টের কিছু নমুনা বিবিসি নিউজ দেখেছে। এই নমুনাগুলোতে এজেন্টদের রক্ত ও মূত্র পরীক্ষার ফলের মতো তথ্য এবং শেলফিশ (চিংড়ি বা কাঁকড়ার মতো জলজ প্রাণী) ও কলার অ্যালার্জির মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ থাকা চিকিৎসকের নোট রয়েছে। এই রেকর্ডগুলোতে এজেন্টদের পুরো নাম এবং ঠিকানা রয়েছে, পাশাপাশি মূত্রে রক্ত এবং উচ্চ কোলেস্টেরল-সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এফবিআই হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। একারণে সংস্থাটির কর্মকর্তারা ধোঁকাবাজি, ব্ল্যাকমেইল এবং নির্দিষ্ট হামলার শিকার হতে পারেন। এমনকি অপরাধীরা নিজেদের পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বেড়ানোর সুযোগও পেতে পারে। ক্যাটো নেটওয়ার্কসের 'থ্রেট ইন্টেলিজেন্স' বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এতায় মাওর বলেন, একটি তালিকা পাওয়া গেছে , যার একদিকে এজেন্টদের নাম আছে এবং তার সাথে মিলিয়ে অন্যদিকে তাদের স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের বিস্তারিত তথ্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে বা ট্র্যাক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পাসওয়ার্ড হ্যাক হলে বদলে ফেলা যায়। কিন্তু স্বাস্থ্যের গোপন রিপোর্ট বা মেডিকেল রেকর্ড একবার চুরি হলে তা আর কোনোদিন পরিবর্তন বা গোপন করা সম্ভব নয়। আর পুরো কোম্পানির সব কর্মচারির ক্ষেত্রে যখন এমন ঘটে, তখনই বিষয়টি চরম বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।” এফবিআই মন্তব্যের অনুরোধে কোনও সাড়া দেয়নি। তবে বুধবার তারা এই হ্যাকিং বা তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে, এটি কীভাবে ঘটল তা তারা সক্রিয়ভাবে তদন্ত করে দেখছে। সাইবার অপরাধী চক্র শাইনিহান্টার্স জানিয়েছে, তারা সোমবার এফবিআই-এর সিস্টেম হ্যাক করেছে এবং পরবর্তীতে তাদের ডার্কনেট সাইটে এই সাইবার হামলার বিবরণ পোস্ট করেছে। হ্যাকার গ্রুপটি চুরি করা তথ্যের কিছু নমুনা সাংবাদিকদের দেখিয়েছে এবং একইসঙ্গে একটি হুমকিমূলক দাবি করেছে। সাধারণত এমন হয় না। তবে হ্যাকাররা এবার কোনও অর্থ দাবি করছে না। তারা কেবল মে মাসে প্রকাশ করা এফবিআই-এর একটি নোটিশ তুলে নিতে বলছে। ওই নোটিশটি তাদেরকে ক্ষুব্ধ করেছে বলে দাবি করেছে তারা। হ্যাকাররা চুরি করা তথ্যের যে নমুনা সাংবাদিকদের দেখিয়েছে সেটি আসল বলেই প্রতীয়মান হয়েছে এবং সেখানে এজেন্টদের নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার, ব্যাজ নাম্বার, চাকরিতে পদবী এবং তাদের স্বামী-স্ত্রীদের সম্পর্কিত তথ্যও আছে। রেকর্ডগুলো দেখে মনে হয়, এগুলো হাজার হাজার এজেন্টের, যার মধ্যে উপ-পরিচালকদের মতো বড় বড় কর্মকর্তারাও আছেন।
নাসির উদ্দিন
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) টাঙ্গানিকা হ্রদে নৌকা ডুবে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। ডিআরসির টাঙ্গানিকা প্রদেশের পরিবহণমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোইয়ি বলেন, নৌকাটিতে থাকা বাকি যাত্রীদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। স্থানীয় মাপেরা গ্রামের কাছে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ও পণ্য ছিল বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে ডিআরসির কালেমি শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল নৌকাটি। পথে এটি ডুবে যায়। উদ্ধার হওয়া যাত্রী অ্যানি মোয়োনি জাতিসংঘ-সমর্থিত কঙ্গোর সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপিকে বলেন, রাত ১টার দিকে যাত্রীদের ঘুম থেকে জাগিয়ে দেওয়া হয়। তখন তারা দেখতে পান, নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে গেছে। নৌকাটি কেন ডুবে গেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিআরসিতে নৌকাডুবির ঘটনায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির নৌযানগুলো প্রায়ই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে এবং অনেক নৌযানে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট থাকে না। ডিআরসির অনেক মানুষের জন্য নৌপথে যাতায়াতই সবচেয়ে সস্তা ও সহজলভ্য যোগাযোগব্যবস্থা। বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর একটি ডিআরসিতে ১০ কোটির বেশি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। কিগোমা-কালেমি নৌপথে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় কোনো কঙ্গোলিজ নৌযান দুর্ঘটনার ঘটনা। রেডিও ওকাপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট কিগোমা বন্দরে জ্বালানি তোলার সময় কঙ্গোলিজ নৌযান এমভি প্যাসিফিকেতে আগুন ধরে যায় এবং পরে বিস্ফোরণ ঘটে। বন্দর কর্তৃপক্ষের বরাতে রেডিও ওকাপি জানায়, ওই ঘটনায় নৌযানটির ছয়জন কর্মী নিহত হন এবং আরও একজন নিখোঁজ হন। এর আগে গত জুলাইয়ে মধ্য ডিআরসিতে রাষ্ট্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে অন্তত ২০ জন নিহত হন। সূত্র: আলজাজিরা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় বার্তার মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগামী সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা দিয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের এক ফাঁকে বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটন তাদের এই প্রস্তাব গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে সাত দিনের এই সময়সীমা গণনা শুরু হতে পারে। তবে শর্ত হল, ওয়াশিংটনকে তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং আরও কিছু নির্দিষ্ট দাবি পূরণ করতে হবে। ইরানের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দেয়। মাঝে সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খোলা হলেও যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় আবার তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে উচ্চ যুদ্ধঝুঁকির বীমা খরচ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রণালিটি বর্তমানে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ আছে। ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে নতুন করে ইরানের পরিকল্পনা জমা দেওয়ার খবরে আবার এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের মাঝের এই জলপথ আবার উন্মুক্ত করতে বৃহস্পতিবার তেহরানের সাতদিনের পরিকল্পনায় কি আছে তা বিস্তারিত ব্যাখা করেছে আল জাজিরা। শুক্রবার আল জাজিরা এক্সপ্লেইনারে বলা হয়, নিউ ইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এই পরোক্ষ যোগাযোগকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছে। কিন্তু যুদ্ধ সাত মাসে পা দিলেও তা বন্ধে দুই দেশের মধ্যে কোনো বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা আল জাজিরাকে বলেছেন, অবিলম্বে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ইরান এখনও গত জুনে হওয়া একটি চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী এগোতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরনো ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় ইরান এবং ওমানকে প্রধান ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। যদিও দুই দেশের মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ খুলতে ওই সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে যায়। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ আছে দাবি করা যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করাকে যে কোনো আলোচনার মূল বিষয়বস্তু বানাতে চায়। যদিও ইরান আগেই স্পষ্ট করেছিল, হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং মার্কিন হামলার সমাপ্তির নিশ্চয়তাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা পারমাণবিক কর্মসূচির মত বৃহত্তর কোনো শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না। কি আছে ইরানের প্রস্তাবে আব্বাস আরাঘচি নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। যদি কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা হয়, তাহলে সপ্তমদিনের শেষে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং শান্তি আলোচনা ফের শুরু হবে। তাদের পরিকল্পনার বিশদ বিবরণ না দিলেও আরাঘচি বলছেন, এই প্রস্তাবের পরিকল্পনার সঙ্গে গত ১৭ জুন হওয়া সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে মিল আছে। তারা এই পরিকল্পনা গ্রহণ করার পরদিন থেকেই এই সময়সূচি শুরু হতে পারে, এবং সাত দিন পর প্রণালীটি উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ফলে গত জুনে হওয়া সমঝোতা চুক্তিতে থাকা পরিকল্পনাগুলো আবার আলোচনায় এসেছে। ওই চুক্তিতে ছিল, ইরান পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য কোনো টোল বা মাশুল ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে; যা ছিল মূলত শান্তি আলোচনার জন্য বরাদ্দ করা সময়। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী হবে, তা ওই চুক্তিতে অস্পষ্ট রাখা হয়েছিল। আরাঘচি স্পষ্ট করেননি যে নতুন প্রস্তাবেও একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না। এমনকি সাত দিনের সময়সূচি শুরু হওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, উভয় পক্ষ কীভাবে সেই পদক্ষেপগুলো যাচাই করবে, কিংবা হরমুজ প্রণালি খোলার পর জাহাজ চলাচলের জন্য কী ধরনের নিয়ম কার্যকর হবে, সে সম্পর্কেও তিনি কোনো তথ্য দেননি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যে পরিকল্পনাই দেওয়া হোক, ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে, এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক আরবান কানিংহাম বলেন, “ইরান আগে যে ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে যুদ্ধপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য তারা হরমুজ প্রণালিকেই তাদের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে। “হরমুজ প্রণালি হল ইরানের চূড়ান্ত রেড লাইন বা অতিক্রমণীয় সীমানা। ইরানিরা যুদ্ধের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না, তাই প্রণালির নিয়ন্ত্রণই তাদের অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র উপায়। আমি মনে করি না তারা এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসবে।” জুন মাসের চুক্তিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। কারণ ইসরায়েল হামলা চালিয়ে লেবাননের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে। পাশাপাশি একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছিল। এতে ইরানি তেল রপ্তানির ওপর মার্কিন ছাড় এবং হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যোগাযোগ আবার শুরুর বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুতসহ অন্যান্য জটিল বিষয়গুলোকে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। আরবান কানিংহাম বলেন, “ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবটি তাদের আগের মডেলটিকেই অনুসরণ করছে। এর মাঝে সাত দিনের মধ্যে প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু করা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। “তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব ইস্যুকে আলাদা আলাদাভাবে না দেখে, সবকিছুকে একটি একক প্যাকেজ হিসেবে ধরে আলোচনা করতে চায়।” ইরানের নতুন প্রস্তাব কি যুক্তরাস্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে মার্কিন নাগরিকরা যখন জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্যের সঙ্গে লড়াই করছে, তখন জাতিসংঘের মত বৈশ্বিক মঞ্চে ইরানের এই প্রস্তাব দেওয়াকে একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক চাল’ মনে করছেন কানিংহাম। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ বন্ধে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এটিই হয়ত শেষ সুযোগ বলে বর্ণনা করছে তেহরান। এভাবে ইরান মূলত তেল ও গ্যাসের দাম এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরির একটি পদ্ধতি। কানিংহাম বলছেন, ইরান ও ওমানের মধ্য দিয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালিটি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দাম এই অঞ্চলের বাইরেও বহুগুণ বেড়েছে, যা দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনকে অর্থনৈতিক তাগিদ দিচ্ছে। এক্সপ্লেইনারে বলা হয়, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি আবার খোলার চুক্তি ট্রাম্পকে ভোটারদের কাছে যাওয়ার আগে জ্বালানির দাম কমানোর একটি সুযোগ দিতে পারে; যা নির্বাচনের আগে তার দল রিপাবলিকান পার্টিকে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সুবিধা দিতে পারে। যদিও ট্রাম্প এই নির্বাচনি হিসাবটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান মূলত নভেম্বরে তার রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে কেমন ফল করে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। ট্রাম্প ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, ভোটের পরেই চুক্তি হবে। না হলে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। ফলে এই প্রশ্নটি থেকেই যায় যে, কম জ্বালানি মূল্যের সম্ভাবনা কি ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের প্রস্তাবিত আলোচনার শর্তাবলী মেনে নিতে রাজি করানোর জন্য যথেষ্ট কিনা? কানিংহাম সন্দেহ প্রকাশ করেন, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি এভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে মূল সমস্যাটি আগের মতোই রয়ে গেছে, কারণ ইরানের প্রস্তাবটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেয় না।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোস্তভ অঞ্চলের নোভোশাখতিনস্ক তেল শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর ইউরি স্লিউসার। শুক্রবার স্লিউসার জানান, রাতভর রোস্তভ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০টি ড্রোন ধ্বংস করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে হামলায় নোভোশাখতিনস্ক তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারটির বার্ষিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন, যা দৈনিক প্রায় ১ লাখ ব্যারেলের সমান। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত জ্বালানির বড় অংশ রপ্তানি করা হয়। ফলে হামলার কারণে শুধু রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নয়, দেশটির জ্বালানি রপ্তানিতেও প্রভাব পড়তে পারে। রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, নোভোশাখতিনস্ক ও কামেনস্ক-শাখতিনস্ক শহরসহ অঞ্চলের ছয়টি জেলায় রাতভর ড্রোন হামলা হয়। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব এলাকায় প্রায় ৫০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার পর শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারটি রোস্তভ অঞ্চলের একমাত্র কার্যকর তেল শোধনাগার এবং দক্ষিণ রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। এর উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে পেট্রোল, ডিজেল, জাহাজের জ্বালানি, ফার্নেস ফুয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা নতুন নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চাপ তৈরি করাই এসব হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারে এবারের হামলার সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের বিষয়ে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর আগে জেলেনস্কি জাতিসংঘে সতর্ক করে বলেছিলেন, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সমঝোতা না হলে ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে এবং আসন্ন শীতে রাশিয়ার জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলবে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবারের হামলায় শুধু নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারই নয়, রাশিয়ার আরও কয়েকটি অঞ্চলের শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনাও আক্রান্ত হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, রাতভর হামলায় রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগার ও একটি যাত্রীবাহী ট্রেনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, পুরো দেশজুড়ে ওই রাতে মোট ৫৯২টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলা এবং ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় রুশ হামলা- দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ যুদ্ধের সামরিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
ইয়েমেনের হুথিদের হামলা ঘিরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা। সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে তিন দেশের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বৈঠকের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, দেশটির সেনাপ্রধান সৌদি আরব সফর করবেন এবং বৈঠকে অংশ নেবেন। তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় এখনও জানানো হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। হুথিরা সৌদি ভূখণ্ড ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর মধ্যে রিয়াদ ও ইয়ানবুর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার ঘটনাও রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কয়েকটি হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। তিন দেশের এই সামরিক বৈঠকের পেছনে রয়েছে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই চুক্তিতে সই করে। চুক্তির অন্যতম মূলনীতি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে সেটিকে অন্য সদস্যদের ওপরও আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। তিন দেশ এরই মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত তুরস্ক বা পাকিস্তান হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যাওয়ার ঘোষণা দেয়নি। তুরস্ক সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার বিষয়ে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে, আর পাকিস্তানও চুক্তির আওতায় সৌদির নিরাপত্তায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিকে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও লোহিত সাগরসংলগ্ন এলাকায় তাদের তৎপরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের বৈঠক আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সমন্বয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এই বৈঠক সরাসরি নতুন কোনো বড় যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নির্দেশ করে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।