ভারতের মুম্বাইয়ে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকত্ব ও ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের দায়ে অভিনেতা ইমরান খানকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে বোম্বে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওসিসি কার্ডধারীরা ভারতে বসবাস করার সময় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না। গত মাসে মুম্বাইয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ অভিনেতা ইমরান খানকে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেয়। এই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। সোমবার (০২ নভেম্বর) (পরবর্তী শুনানিতে) আদালত তার অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার মেয়াদ ০৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ালেও, এই ঘটনায় তাকে একটি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু একটি সাধারণ হলফনামা জমা দিলেই চলবে না, তাকে স্পষ্টভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয় আদালত। শুনানিকালে আদালত মন্তব্য করে বলেন, ‘কোনো ভারতীয় নাগরিক যদি বিদেশে গিয়ে এ ধরনের কাজ করতেন, তবে তাকে পরের ফ্লাইটে সোজা ভারতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হতো।’ আদালত আরও বলেন, ‘আপনি এত বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন, অথচ এতদিন কখনো কোনো প্রতিবাদে অংশ নেননি। এত দিন এখানে থাকার পর হঠাৎ এখন কেন একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?’ বিচারপতিরা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করুন, এমনকি সেখানে গিয়ে ভোটও দিতে পারেন; কিন্তু আমাদের এখানে আপনাদের কোনো বিক্ষোভ সহ্য করা হবে না।’ তবে এর পাশাপাশি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (বিশ্ব একটি পরিবার) নীতির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত আশা প্রকাশ করেন যে, একসময় সবাই উদারতা দেখিয়ে এই মানুষটিকে ভারতেই থাকার সুযোগ করে দেবেন। মামলার শুনানিতে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল যুক্তি দেন যে, ইমরান খান একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি ভারতের ওসিসি কার্ডধারী হওয়ায় তার অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সীমিত ও একজন পূর্ণ ভারতীয় নাগরিকের চেয়ে আলাদা। তিনি জানান, ইমরান খান জনসাধারণের ওপর যথেষ্ট প্রভাব রাখেন এবং ইনস্টাগ্রামে বেশ জনপ্রিয়। বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য জেনেই তিনি তাতে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, অভিনেতা ইমরান খান আদালতকে জানান যে, গত দুই বছর আমেরিকা কাটানো বাদে তার পুরো জীবনটাই ভারতে কেটেছে। ভারতই তার আসল ঠিকানা। তার সন্তান, পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন—সবকিছুই ভারতে অবস্থিত এবং তার শিকড় এই দেশেই গাঁথা। উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত সিজেপি-র প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পর মুম্বাইয়ে আটক হন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। মার্কিন নাগরিক ও ওসিসি কার্ডধারী হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে গত ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা কিংবা সামরিক সংঘাত দুই পরিস্থিতির জন্যই ইরান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দেয় কি না, তার ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে। সোমবার (২ নভেম্বর) তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আরাগচি। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তেহরান এরই মধ্যে নিজেদের প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছে। আরাগচি বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিচক্ষণতার ওপর। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তেহরানের শর্ত মেনে নিলেই কেবল গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলে দেওয়া এবং আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং আলোচনা আবার শুরু হবে। অন্যথায় বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। ইরান মাথা নত করবে না।
অবৈধ সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে আবারও অযৌক্তিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে নাহিদ বলেন, ‘অবৈধ সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে আবারও অযৌক্তিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এর ফলে বিএনপি ক্ষমতায় আসার মাত্র আট মাসের মাথায় সিলিন্ডার গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।’ দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি করা হলেও এর পেছনে সরকার কোনো যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেনি। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় এখনও বাংলাদেশের অর্ধেক দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে।’ বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সরকার নির্ধারিত দামে দেশের কোথাও সিলিন্ডার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতদিন নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।’ এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘সিলিন্ডার গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বতোভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের অযোগ্যতায় গুটিকয়েক কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে দেশের ১৮ কোটি মানুষ।’ নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমি গ্যাস সিলিন্ডারের এই অযৌক্তিক ও অবৈধ মূল্যবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে।’ প্রসঙ্গত, সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সরকার ১২ কেজির এলপিজি গ্যাসের দাম ১৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে।
মেয়ের বিয়ে প্রতিটি মা-বাবার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। প্রত্যেক সচেতন অভিভাবকেরই চাওয়া থাকে, মেয়ের জামাতা যেন দ্বীনদার, সৎ, নৈতিক চরিত্রবান এবং দায়িত্বশীল হন। কারণ বিয়ে কেবল দুজন মানুষের সামাজিক মেলবন্ধন নয়; এটি একটি নতুন পারিবারিক জীবনের সূচনা, যা উভয় পক্ষের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে অনেক সময় দেখা যায়, প্রস্তাব আসা পাত্রের উপার্জনের সঙ্গে সরাসরি সুদ বা অবৈধ আর্থিক লেনদেন সম্পৃক্ত। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের মনে সংশয় জাগে—সুদ বা হারাম উপার্জনে জড়িত ব্যক্তির কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া কি শরিয়তসম্মত? তার এই উপার্জনের প্রভাব কি নতুন সংসারজীবনে পড়বে? পাত্রের অন্যান্য গুণ ভালো হলেও কেবল সুদি পেশায় থাকার কারণে অভিভাবকের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনার আলোকে বিষয়টির শরয়ি সমাধান বিশ্লেষণ করা যাক। ১. ইসলামে সুদের ভয়াবহতা ও অবস্থান ইসলামি শরিয়তে সুদকে সবচেয়ে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহগুলোর অন্যতম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ—যেকোনোভাবে সুদের প্রক্রিয়ায় জড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন— وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ‘আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৫) মুমিনদের সুদের যাবতীয় অবশিষ্টাংশ বর্জনের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা আরও এরশাদ করেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৮) সুদের পাপের বিস্তৃতি কেবল এর প্রত্যক্ষ গ্রহীতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই সমান অপরাধী। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং এর দুই সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন। আর বলেছেন, তারা সবাই (গুনাহের ক্ষেত্রে) সমান।’ (সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮) সুতরাং সুদি কারবারকে কোনোভাবেই হালকা বা সাধারণ পেশা ভাবার অবকাশ নেই; এটি আল্লাহর বিধানে চূড়ান্ত পর্যায়ের অবাধ্যতা। ২. সুদি কারবারির সঙ্গে মেয়ের বিয়ে কি বৈধ? বিষয়টি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে পাত্রের ব্যক্তিগত সুদি কারবারে লিপ্ত থাকা এবং তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনের বৈধতার শরয়ি দিকটির সূক্ষ্ম পার্থক্য বোঝা জরুরি। ইসলামি আইনশাস্ত্র অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সুদের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া আকদ বা বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা অবৈধ হয়ে যায় না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি জেনেবুঝে হারাম সুদি লেনদেনে অবিচল থাকে এবং তা থেকে তওবা না করে, তবে তা তার দ্বীনদারির মারাত্মক ঘাটতি ও নৈতিক স্খলনের স্পষ্ট প্রমাণ। এমন পাত্রের ব্যাপারে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ করে সে যদি সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান জানা সত্ত্বেও তা বর্জন করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে মেয়ের দ্বীন ও আখিরাতের সুরক্ষায় তাকে পাত্র হিসেবে প্রত্যাখ্যান করাই বিচক্ষণ অভিভাবকের দায়িত্ব। শাইখ ইবনে বায (রহ.)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, একজন পাত্র সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করেন এবং বিকল্প কাজ না পাওয়া পর্যন্ত তা ছাড়তে নারাজ; এমন পাত্রের কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া সমীচীন হবে কি না? জবাবে তিনি পরিষ্কারভাবে অভিমত দেন—পাত্রের মানসিকতা ও অবস্থা যদি এমন হয়, তবে সে ওই চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় তার কাছে মেয়েকে পাত্রস্থ না করাই বাঞ্ছনীয়। সুতরাং অভিভাবকদের উচিত পাত্রের পেশাগত স্বচ্ছতার বিষয়ে আপসহীন থাকা এবং তাকে হালাল উপার্জনে ফিরে আসার জোরালো তাগিদ দেওয়া। ৩. পাত্র নির্বাচনে দ্বীনদারি ও চরিত্রের অগ্রাধিকার পাত্রের পদমর্যাদা বা সম্পদের চেয়ে তার দ্বীনদারির মূল্যায়নকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি ইরশাদ করেছেন— إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ ‘তোমাদের কাছে এমন কেউ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলে, যার দ্বীনদারি ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তাহলে তার সঙ্গে বিয়ে দাও।’ (জামে তিরমিজি: ১০৮৪) এই নির্দেশনায় স্পষ্ট যে, বৈষয়িক প্রাচুর্য, বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি বা সামাজিক প্রতিপত্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। বরং পাত্রের নিয়মিত সালাত, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, আমানতদারি, হালাল-হারামের বাছবিচার ও সুন্দর আচরণই হওয়া উচিত প্রধান মাপকাঠি। ৪. পরিবারে হারাম উপার্জনের প্রভাব হারাম উপার্জন মানুষের জীবনে বরকত ও মানসিক প্রশান্তি কেড়ে নেয় এবং মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি ডেকে আনে। একজন মুমিনের প্রতিটি লোকমা হালাল হওয়া জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (সহিহ মুসলিম: ১০১৫) তবে ব্যবহারিক মাসআলার ক্ষেত্রে স্বামীর উপার্জনে হারামের মিশ্রণ থাকলেই সংসারের প্রতিটি পাই-পয়সা স্ত্রীর জন্য ঢালাওভাবে হারাম হয়ে যায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। উপার্জনের প্রকৃত ধরন, অর্থের মূল উৎস এবং স্ত্রীর নিরুপায় অবস্থার ওপর অনেক বিধান নির্ভর করে। তা সত্ত্বেও পারিবারিক জীবনের বরকত নিশ্চিত করতে বিয়ের প্রস্তাবের সময়ই পাত্রের উপার্জনের মাধ্যম শতভাগ হালাল করার ব্যাপারে শর্ত দেওয়া আবশ্যক। ৫. পাত্র অতীত থেকে তওবা করলে করণীয় কোনো পাত্র অতীতে সুদের কারবারে জড়িত থাকলেও যদি সে আন্তরিক অনুশোচনা নিয়ে তা পুরোপুরি পরিহার করে এবং হালাল বিকল্পের সন্ধানে সচেষ্ট হয়, তবে তার অতীতের কারণে তাকে আজীবনের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করা শরিয়তের উদ্দেশ্য নয়। মহান আল্লাহ তাওবাকারীদের জন্য তাঁর ক্ষমার দ্বার উন্মুক্ত রেখে ঘোষণা করেন— قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ‘বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৫৩) সুতরাং পাত্রের মধ্যে যদি আন্তরিক তাওবার প্রতিফলন দেখা যায় এবং সে বৈধ উপার্জনের প্রতি যত্নবান হয়, তবে তার সার্বিক দ্বীনদারি বিবেচনায় নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করা যেতে পারে। ৬. কন্যার স্পষ্ট মতামত ও সম্মতি পাত্র নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ায় কন্যার মতামতকে উপেক্ষা করার সুযোগ ইসলামে নেই। জোরপূর্বক অভিভাবকের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্ব্যর্থহীনভাবে আদেশ করেছেন— لَا تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ ‘বিধবা বা পূর্বে বিবাহিত নারীকে তার পরামর্শ ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকেও তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।’ (সহিহ বুখারি: ৫১৩৬, সহিহ মুসলিম: ১৪১৯) মেয়ের বিয়ে কেবল একজন সচ্ছল ব্যক্তির হাতে কন্যাকে তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি এমন একজন দ্বীনি অভিভাবক ও জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার বিষয়, যার ছায়াতলে একটি মেয়ে নিরাপদে তাঁর ঈমান ও আমল সংরক্ষণ করতে পারবে। সুদি কারবারে লিপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া আইনগতভাবে বাতিল না হলেও, সচেতনভাবে সুদে যুক্ত থাকা ব্যক্তিকে জামাতা হিসেবে বরণ না করাই সতর্কতামূলক ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত। আর যে ব্যক্তি ভুল বুঝতে পেরে সুদের কারবার ছেড়ে হালাল পথে ফিরে এসেছে, তার প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা ইসলামের ক্ষমার নীতির অংশ।
তুরস্কে অনুষ্ঠেয় কপ৩১-এর দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিট’-এ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনে গ্রান্ট বা অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন এবং প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর কাছ থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানাবে বাংলাদেশ। আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবার অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সফরে যাবেন, তিনি দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দেবেন।’ জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) ৩১তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ৩১) আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ার ‘আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে’ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’ অনুষ্ঠিত হবে। শামা ওবায়েদ জানান, জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজনের ক্ষেত্রে নিজেদের অর্জনগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি উন্নত দেশগুলোকে তাদের দায়িত্ব পালনে চাপ দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরবে। কারণ, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে যেসব দেশের অবদান নগণ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি মোকাবিলায় তাদের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপানো উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ‘কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায় হলেও শেষ পর্যন্ত আমাদেরই এর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির অধীনে প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে। তিনি জানান, গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার কর্তৃক গৃহীত পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্মেলনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ। শামা ওবায়েদ বলেন, এসব উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং এর বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, তাও তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, সফরসঙ্গীদের তালিকা এবং সম্মেলনে বাংলাদেশের বিস্তারিত আলোচ্য অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা বলেন, সফরের আগে সফরের আগে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করা হবে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।’ এই সম্মেলনে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু অভিযোজন জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন জোরদার করা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে বৈশ্বিক রূপান্তরকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর আলোকপাত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য করার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এ অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে । জলবায়ু সংকটের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার জোরদার, জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেবেন। তুরস্ক এই কপ৩১ সম্মেলনটি আয়োজন ও সভাপতিত্ব করবে, অন্যদিকে আলোচনা বা দরকষাকষির মূল সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করবে অস্ট্রেলিয়া। তুরস্ক কপ-৩১-এর আয়োজক ও সভাপতিত্ব করবে। অন্যদিকে আলোচনা কার্যক্রমের সভাপতিত্ব করবে অস্ট্রেলিয়া।
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ায় চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সাভারের উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানার সামনে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন ও সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা। ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। শ্রমিক ভাই-বোনদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ কাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। যারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং হবে।’ ডিআইজি আরও বলেন, ‘কোনোভাবেই তাদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেওয়া হবে না। আইনের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত যাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এদিকে, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। তিনি বলেন, ‘গতকাল রোববার কিছুটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা জেলা পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আজ কোনো গার্মেন্টসে হামলার সুযোগ ছিল না। কঠোরহস্তে ঢাকা জেলা পুলিশ পরিস্থিতি দমন করেছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস মালিকরা নিজেরা ছুটি ঘোষণা করেছেন অথবা কোনো কারণে কারখানা বন্ধ করেছেন।’ এসপি শামীমা পারভীন বলেন, ‘পুলিশ কারখানাগুলোর পাশে রয়েছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তার ঘাটতি হবে না। শ্রমিকদের রুটি-রুজি ও দেশের অর্থনীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারখানা খোলা রাখা এবং শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।’ ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিরা শ্রমিক নন দাবি করে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে দুষ্কৃতকারীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এ বিষয়ে শ্রমিকদের সচেতন থাকতে হবে এবং কোনো কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।’ এসপি আরও বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। হেলমেট বা মাস্ক পরে যারা ভাঙচুর করছে, তাদের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’ শ্রমিকদের উদ্দেশে শামীমা পারভীন বলেন, ‘আপনারা কোনো ধরনের কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা দেবেন না। কাজে ফিরে আসুন। নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আপনাদের কেউ কাজে বাধা দিলে সেই তথ্য আমাদের দিয়ে সাহায্য করুন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) ও বাপেক্স। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আপাতত গ্যাস উন্মুক্তভাবে নির্গমণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আনুমানিক ১৫ দিনের মধ্যে আগুনের প্রবাহ কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী সেতু-সংলগ্ন এলাকায় গভীর নলকূপ খননের সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১ হাজার ফুট খননের পর ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনার পরপরই বাপেক্সের দুইজন ভূতত্ত্ববিদকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা কক্সবাজারে অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী গ্যাস উন্মুক্তভাবে নির্গমণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ না কমলে বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণসহ গ্যাস প্রবাহ বন্ধের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। পেট্রোবাংলা, বাপেক্স ও স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল এলাকায় গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ নিরূপণে ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও দ্বিমাত্রিক (২ডি) সাইসমিক জরিপসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। ৪ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ, কমবে সরবরাহ মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ কম থাকবে। এ সময়ে সারাদেশে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত সামিট এলএনজি টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ সময় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরেও একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্নের কারণে গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক চলছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত রয়েছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্ত ও আইনের খসড়া এ বৈঠকে অনুমোদন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে (তৃতীয় তলায়) সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন এবং বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী রয়্যাল নেভি ও বিমানবাহিনী রয়্যাল এয়ার ফোর্সকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান। একই সঙ্গে ব্রিটিশ বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-কে ‘শত্রু গোষ্ঠী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে তেহরান। রোববার (০১ নভেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লন্ডনের বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জবাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১৩ জুলাই যুক্তরাজ্য ‘স্টেট থ্রেটস অ্যাক্ট ২০২৬’-এর আওতায় আইআরজিসিকে তালিকাভুক্ত করেছিল। এ ছাড়া ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ব্রিটেনও অংশ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারাধীন সামরিক ও রসদ সরবরাহের ঘাঁটি এবং স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ওই হামলার জবাবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে পাল্টা আঘাত হানে। পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও উত্তেজনা কমেনি। বিশেষ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
নাসির উদ্দিন
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ভারতের মুম্বাইয়ে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকত্ব ও ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের দায়ে অভিনেতা ইমরান খানকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে বোম্বে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওসিসি কার্ডধারীরা ভারতে বসবাস করার সময় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না। গত মাসে মুম্বাইয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ অভিনেতা ইমরান খানকে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেয়। এই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। সোমবার (০২ নভেম্বর) (পরবর্তী শুনানিতে) আদালত তার অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার মেয়াদ ০৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ালেও, এই ঘটনায় তাকে একটি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু একটি সাধারণ হলফনামা জমা দিলেই চলবে না, তাকে স্পষ্টভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয় আদালত। শুনানিকালে আদালত মন্তব্য করে বলেন, ‘কোনো ভারতীয় নাগরিক যদি বিদেশে গিয়ে এ ধরনের কাজ করতেন, তবে তাকে পরের ফ্লাইটে সোজা ভারতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হতো।’ আদালত আরও বলেন, ‘আপনি এত বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন, অথচ এতদিন কখনো কোনো প্রতিবাদে অংশ নেননি। এত দিন এখানে থাকার পর হঠাৎ এখন কেন একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?’ বিচারপতিরা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করুন, এমনকি সেখানে গিয়ে ভোটও দিতে পারেন; কিন্তু আমাদের এখানে আপনাদের কোনো বিক্ষোভ সহ্য করা হবে না।’ তবে এর পাশাপাশি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (বিশ্ব একটি পরিবার) নীতির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত আশা প্রকাশ করেন যে, একসময় সবাই উদারতা দেখিয়ে এই মানুষটিকে ভারতেই থাকার সুযোগ করে দেবেন। মামলার শুনানিতে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল যুক্তি দেন যে, ইমরান খান একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি ভারতের ওসিসি কার্ডধারী হওয়ায় তার অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সীমিত ও একজন পূর্ণ ভারতীয় নাগরিকের চেয়ে আলাদা। তিনি জানান, ইমরান খান জনসাধারণের ওপর যথেষ্ট প্রভাব রাখেন এবং ইনস্টাগ্রামে বেশ জনপ্রিয়। বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য জেনেই তিনি তাতে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, অভিনেতা ইমরান খান আদালতকে জানান যে, গত দুই বছর আমেরিকা কাটানো বাদে তার পুরো জীবনটাই ভারতে কেটেছে। ভারতই তার আসল ঠিকানা। তার সন্তান, পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন—সবকিছুই ভারতে অবস্থিত এবং তার শিকড় এই দেশেই গাঁথা। উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত সিজেপি-র প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পর মুম্বাইয়ে আটক হন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। মার্কিন নাগরিক ও ওসিসি কার্ডধারী হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে গত ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা কিংবা সামরিক সংঘাত দুই পরিস্থিতির জন্যই ইরান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দেয় কি না, তার ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে। সোমবার (২ নভেম্বর) তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আরাগচি। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তেহরান এরই মধ্যে নিজেদের প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছে। আরাগচি বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিচক্ষণতার ওপর। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তেহরানের শর্ত মেনে নিলেই কেবল গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলে দেওয়া এবং আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং আলোচনা আবার শুরু হবে। অন্যথায় বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। ইরান মাথা নত করবে না।
মিয়ানমারে জান্তা সরকারের বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এতে আরো ৩২ জন আহত হয়েছে। দেশটির রাখাইন ও কারেন্নি রাজ্যের চার শহরের আবাসিক এলাকা, মাতৃসদন এবং স্কুলে এই হামলায় চালানো হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাবতী’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রবিবার রাখাইন রাজ্যের কিয়াকতাও, ম্রাউক-ইউ, পাউকতাও এবং কিয়াকফিউ শহরের জনবসতি ও একটি মাতৃসদন হাসপাতালে বিমান হামলা চালায় সামরিক বাহিনী। এতে সেখানে ১২ জন প্রাণ হারান। অন্যদিকে, শনিবার কারেন্নি রাজ্যের পূর্ব লোইকাও শহরের একটি স্কুলে ছুটির দিনে পুষ্টি কর্মসূচির জন্য জড়ো হওয়া শিশুদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে ৩ শিশু নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ তীব্র রূপ নিয়েছে। বর্তমানে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র গ্রুপের ধারাবাহিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যার ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতার ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় সোমবার একদিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সোমবার বেলা ২টার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার ৯০ সেন্ট বা ৬ শতাংশ কমে ১০৬ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার ২৫ সেন্ট বা ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৭ ডলার ৮৭ সেন্টে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের অবসানে সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। এদিকে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন। বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সামরিক ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের শর্তের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়টি যুক্ত করেছে তেহরান। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান। এদিকে তেলের বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই রোববার বৈঠকে বসে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের সাত সদস্যদেশ। বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরেও তেল উৎপাদন না বাড়িয়ে বর্তমান পর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গত অক্টোবর থেকে তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।