বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবৈধ অভিবাসন রোধ, ভাষা শিক্ষা ও নগর ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়ে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ভূমিকা রয়েছে। তবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের বিষয়ে জনগণকে আরও সচেতন করা সম্ভব। দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী ইতালীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় দেশটির সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশে প্রশিক্ষক তৈরির পাশাপাশি ইতালিতে কর্মসংস্থানে আগ্রহী দক্ষ কর্মীদের ভাষাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ-ইতালি সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতালিতে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশী বসবাস করছেন। দক্ষতা উন্নয়ন ও ইতালীয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে বৈধ জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে ইতালির সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বলেন, মিলান সিটির সঙ্গে খুলনা সিটি করপোরেশনের খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য অপচয় রোধে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের স্থপতিদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দুই দেশের বাণিজ্য, রেমিট্যান্স ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ-ইতালি অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান । রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তার সঙ্গে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এই সংকটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কারণ, নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান। এছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তিনি তুলে ধরেন। এসময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনার দরকার নেই। প্রধানমন্ত্রী যথাসময়ে ভারত সফর করবেন বলে জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ইস্যুর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পরিবেশ বিষয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। এসময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরালো বলেও মন্তব্য করেন পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরালো। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে রাজনীতি এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে। পরিবেশ সুরক্ষায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন ৬ থেকে ৭ হাজার যাত্রী। এই স্টেশন থেকে প্রতি মাসে সরকারের প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। কিন্তু যাত্রী নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা স্টেশনের সব সিসিটিভি ক্যামেরাই অচল হয়ে আছে। স্টেশনে স্থাপিত ১৪টি এবং রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির আরও ৬টি—মোট ২০টি ক্যামেরার কোনোটিই বর্তমানে কার্যকর নেই বলে জানা গেছে। ফলে স্টেশনে চুরি, ছিনতাই কিংবা মাদকসহ কোনো অপরাধ ঘটলে ঘটনাটি শনাক্ত করা এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ না হওয়ায় অপরাধের সময় ঘটনাস্থলের গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যও পুলিশের হাতে থাকছে না। সড়কপথের যানজট ও দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তি এড়াতে নিরাপদ ও দ্রুত যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন হাজারো মানুষ রেলপথ বেছে নেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, সিসিটিভি অচল থাকায় স্টেশন এলাকায় পকেটমার, ছিনতাই, টিকিট কালোবাজারি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতে স্টেশনের বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কিছু সদস্যের যোগসাজশে স্টেশন এলাকায় মাদক পাচার, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। চুরি-ছিনতাই ও মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তার মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন এলাকার কয়েকটি অংশের সীমানাপ্রাচীরও ভেঙ্গে আছে। পুলিশ বলছে, এসকল অংশ দিয়ে রাতে মাদকসেবীদের আনাগোনা ও আড্ডা বসে। যাত্রী ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সীমানাপ্রাচীর সংস্কারের পাশাপাশি স্টেশনের সব সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করা এবং মাদক, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। রেলওয়ে পুলিশ বলছে, স্টেশন এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়মিতই আসে। সম্প্রতি এক প্রবাসীর মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনাতেও সিসিটিভি অচল থাকায় ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক শাহ আলম বলেন, সিসিটিভি সচল থাকলে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়ত। স্টেশন এলাকার অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা সমাধান করা গেলে মাদক, চুরি ও ছিনতাই দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এবিষয়ে স্টেশন মাস্টার মো. শাকির জাহান বলেন, ক্যামেরাগুলোর হার্ডডিস্কে সমস্যা হওয়ায় গত প্রায় ১৫ দিন ধরে স্টেশন এলাকার কোনো ফুটেজ সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। বর্তমানে স্টেশনে ১৪টি ক্যামেরা রয়েছে। আরও ১৪টি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলেও জানান তিনি।
সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে পুরো দেশকে সহনশীলতার রাজনীতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যেন আর হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে এদিন বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার পূরণ করে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ঠাকুরগাঁওসহ এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আনন্দের দিন। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।’ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি বলেছেন, জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। এক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আজ জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন "জনসংখ্যা বোনাস, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং আইসিপিডি (ICPD) প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা" শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি'র সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মোঃ গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, এমপি এবং ইউএনএফপিএ এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মিজ ক্যাথেরিন ব্রিন ক্যামকং। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের বর্তমানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে জাতীয় সংসদ কাজ করে যাচ্ছে। স্পীকার বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিরসন, কিশোরী শিক্ষা ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একইসাথে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব সমস্যা নিরসনে সংসদ-সদস্যদের নিজ এলাকার জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ কাজে লাগাতে হবে। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে সংখ্যাগত দিক দিয়ে দেখার সুযোগ নাই। আমাদের জনসংখ্যাকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। তিনি বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে আমাদের সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য সংসদীয় কার্যক্রমে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, জনগণের সমস্যা সমাধানে নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, এমপি বলেন, একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না; দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে তার বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। দক্ষ, শিক্ষিত ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান শক্তি। জাতিসংঘের জনংখ্যা উন্নয়ন বিষয়ক তহবিল (ইউএনএফপিএ) এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথেরিন ব্রিন ক্যাম্পকং বলেন, বাংলাদেশ সরকার জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জনসংখ্যার সামাজিক সুরক্ষায় জনবান্ধব নীতি প্রণয়ন করে উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করছে। স্পীকার এসময় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, হুইপবৃন্দ, সংসদ-সদস্যবৃন্দ, ইউএনএফপিএ ও এসপিসিপিডি প্রকল্পের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রয়োজনে জীবনের বিনিময়ে হলেও দেশ ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চাই। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস হতে পারে না। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে বিভেদ ভুলে ঐক্যের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলার বিশিষ্ট নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিসহ পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সফরের শুরুতে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক এবং পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন ও নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা। পরে দুপুরে সার্কিট হাউসে পৌঁছে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে মা-বাবার কবর জিয়ারত শেষ করে কালিবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন রাষ্ট্রপতি। রাতে নিজ বাসভবনেই অবস্থান করবেন তিনি। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম, সাকিট হাউস, সেনুয়া কবরস্থান ও রাষ্ট্রপতির নিজ বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) নিজ বাসভবনে গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষ সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও সফর শেষ করে ঢাকায় বঙ্গভবনে ফিরে যাবেন। নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির দুদিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছি। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো শহর নিরাপত্তার চাদরে রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯৪ জনে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৩ জন রোগী এসেছে। তাদের মধ্যে ৯৫৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৩১৯ জন, রাজশাহীতে ২৩, সিলেটে ১১২, চট্টগ্রামে ২৩৮, বরিশালে ১১৬, ময়মনসিংহে ৪৮, খুলনায় ৮৫ এবং রংপুরে ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭২ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬৯৬ জন।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের একটি ছয় তলা মেসবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় বহু মানুষের আটকে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে পড়া অনেক শিক্ষার্থী ফোন করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও আনন্দবাজার বলছে, রোববার দুপুর দেড়টার দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের ওই ভবনটি হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। মূলত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা ওই ভবনে ভাড়া থাকতেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকে আছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে অন্তত ১৫ থেকে ৫০ জন আটকে থাকার আশঙ্কার কথা বলছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। রোববার ছুটির দিন হওয়ায় ঘটনার সময় বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ভবনে অবস্থান করছিলেন। আটকে পড়াদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (এইমস) ট্রমা সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাস্থলে থাকা বিজেপির বিধায়ক অনিল শর্মা সাংবাদিকদের বলেন, “আটকে পড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ফোন করছেন। ঠিক কতজন ভেতরে আছেন–পাঁচ, দশ নাকি বিশ জন–তা বলা কঠিন। তবে সেখানে যে শিক্ষার্থীরা আটকে আছে, তা নিশ্চিত।” পুলিশ জানিয়েছে, ৭৫ শয্যার ওই মেসবাড়ির মালিক থাকেন গুরুগ্রামে। ধসে পড়া ভবনের নিচে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ভবনটির বেজমেন্টে বা ভূগর্ভস্থ অংশে নির্মাণকাজ চলছিল, যা এই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। খবর পেয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। অন্তত ১২টি ফায়ার ইঞ্জিন ও এক্সক্যাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। ভিড় সামলাতে দাঙ্গা পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের ভবনগুলো খালি করা হয়েছে। এদিকে, এ দুর্ঘটনার জন্য দুর্নীতিকে দায়ী করেছে আম আদমি পার্টি (এএপি)। দলটির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লির (এমসিডি) ভবন নির্মাণ বিভাগে বদলি বাণিজ্যের কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, "অডিটের নামে কোটি কোটি টাকা লুট করা হবে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলাবে না।" দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ও লেফটেনেন্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উদ্ধারকাজে সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তারা। দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ বলেছেন, সরকার নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আটকে পড়াদের নিরাপদে উদ্ধার করাই এখন প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
বাংলাদেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাঁকে হত্যা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানালেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানান। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ তাঁর নিজের দেশ। তাই দেশে ফেরার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দেশে ফিরলে নিজের জীবন নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে শুধু তাঁর নিজের জীবন নয়, তাঁর সঙ্গে দেশে ফেরার উদ্যোগে যুক্ত অন্যদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এ কারণে কাউকে বিপদের মুখে ফেলতে চান না বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে উদ্বেগ বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে এবং এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রতিবেশী দেশ ভারতকেও এর প্রভাব মোকাবিলা করতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের সম্পর্ককে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমানকে নিয়ে শেখ হাসিনার অভিযোগ সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তাঁর ভারত সফর এবং দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দরকষাকষির অভিযোগ তোলেন তিনি। তারেক রহমানকে নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্যে রাজনৈতিকভাবে তীব্র সমালোচনাও উঠে আসে। লন্ডন থেকে তিনি বাংলাদেশে সহিংসতার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সাক্ষাৎকারে স্বাধীন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়েও বক্তব্য আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গেও কথা বলেন শেখ হাসিনা। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতির দায়িত্ব শেখ ফজলুল করিম সেলিম পালন করবেন বলে জানান তিনি। শেখ রেহানার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর বোন সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। দলের নেতৃত্বে কারা থাকবেন, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে শেখ সেলিমের নাম বিশেষভাবে উঠে আসে। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আবেগপ্রবণ শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আবেগ প্রকাশ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দেশের পরিস্থিতি দেখে তাঁর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ভারতে অবস্থানের পর কোনো ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে শেখ হাসিনার দেওয়া প্রথম টেলিফোনিক সাক্ষাৎকার। এতে তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছা, নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তারেক রহমান, ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তবে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার দেওয়া রাজনৈতিক অভিযোগ ও আশঙ্কাগুলো তাঁর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব দাবির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
গাজায় আগ্রাসন চালানোর পাশাপাশি এবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারেও হামলা চালানোর কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলি একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কাতারকে সরাসরি একটি ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। নেতানিয়াহু অহংকার করে বলেন, যুদ্ধের সময় তারা কাতারের মাটিতে আক্রমণ ও বোমা হামলা চালিয়েছেন। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ভোটে উগ্র সমর্থকদের টানতেই নির্বাচনের মুখে এমন বিতর্কিত ও উসকানিমূলক কথা বলছেন নেতানিয়াহু। মূলত গত বছরের সেপ্টেম্বরে কাতারের রাজধানী দোহায় এক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল, যেখানে হামাসের পাঁচ প্রতিনিধি এবং কাতারের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রাণ হারান। একটি শান্তি আলোচনার বৈঠক চলাকালে এই হামলা চালানো হয়েছিল, যা নিয়ে সারা বিশ্বে চরম সমালোচনা শুরু হয়। জাতিসংঘসহ বিশ্বের একাধিক দেশ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে হোয়াইট হাউস থেকে ফোন করে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিলেন নেতানিয়াহু। একই সাক্ষাৎকারে নিজের দেশের বিরোধীদের সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন নেতানিয়াহু। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল—নেতানিয়াহুর মদদে কাতার থেকে যে অর্থ গাজায় এসেছে, তা দিয়েই ২০২৩ সালে বড় হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল হামাস। জবাবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাই গাজায় ত্রাণের টাকা পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিল এবং সেই টাকা গাজায় আসা মোট সহায়তার মাত্র দুই শতাংশ। কাতারও এই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের সব সাহায্য অত্যন্ত স্বচ্ছ উপায়ে শুধুই সাধারণ মানুষের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সূত্র: আল-জাজিরা।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের একটি ছয় তলা মেসবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় বহু মানুষের আটকে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে পড়া অনেক শিক্ষার্থী ফোন করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও আনন্দবাজার বলছে, রোববার দুপুর দেড়টার দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের ওই ভবনটি হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। মূলত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা ওই ভবনে ভাড়া থাকতেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকে আছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে অন্তত ১৫ থেকে ৫০ জন আটকে থাকার আশঙ্কার কথা বলছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। রোববার ছুটির দিন হওয়ায় ঘটনার সময় বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ভবনে অবস্থান করছিলেন। আটকে পড়াদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (এইমস) ট্রমা সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাস্থলে থাকা বিজেপির বিধায়ক অনিল শর্মা সাংবাদিকদের বলেন, “আটকে পড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ফোন করছেন। ঠিক কতজন ভেতরে আছেন–পাঁচ, দশ নাকি বিশ জন–তা বলা কঠিন। তবে সেখানে যে শিক্ষার্থীরা আটকে আছে, তা নিশ্চিত।” পুলিশ জানিয়েছে, ৭৫ শয্যার ওই মেসবাড়ির মালিক থাকেন গুরুগ্রামে। ধসে পড়া ভবনের নিচে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ভবনটির বেজমেন্টে বা ভূগর্ভস্থ অংশে নির্মাণকাজ চলছিল, যা এই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। খবর পেয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। অন্তত ১২টি ফায়ার ইঞ্জিন ও এক্সক্যাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। ভিড় সামলাতে দাঙ্গা পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের ভবনগুলো খালি করা হয়েছে। এদিকে, এ দুর্ঘটনার জন্য দুর্নীতিকে দায়ী করেছে আম আদমি পার্টি (এএপি)। দলটির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লির (এমসিডি) ভবন নির্মাণ বিভাগে বদলি বাণিজ্যের কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, "অডিটের নামে কোটি কোটি টাকা লুট করা হবে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলাবে না।" দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ও লেফটেনেন্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উদ্ধারকাজে সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তারা। দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ বলেছেন, সরকার নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আটকে পড়াদের নিরাপদে উদ্ধার করাই এখন প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ড্রোন হামলা, সাইবার আক্রমণ ও রাশিয়ার নাশকতামূলক তৎপরতা মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিস্তৃত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জার্মানি। গত মাসে একটি বিমানবন্দরে ব্যর্থ ড্রোন হামলার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড অ্যাম জোনটাগ। জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট সংবাদপত্রটিকে বলেন, রাশিয়ার হাইব্রিড হামলা এখন দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে। এসব হামলা আরও বাড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তবে তার দাবি, জার্মানি নিজেদের রক্ষা ও প্রতিরোধ করতে সক্ষম। রাশিয়া পশ্চিম ইউরোপে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করে আসছে। জার্মান বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। বরং এ ধরনের অভিযোগকে রাশিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিল্ড জানিয়েছে, পরিকল্পনার আওতায় পুলিশের মোবাইল ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্র ও সরকারি এলাকার আকাশসীমা সুরক্ষায় বিভিন্ন শহরে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য কাউন্টার-ড্রোন ইউনিট রাখা হবে। এসব ইউনিট প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করবে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু ড্রোন শনাক্ত নয়, সেগুলো প্রতিহত করার আইনগত ক্ষমতাও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনায় জাতীয় পর্যায়ে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে, যাকে সাইবারডোম নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এর আওতায় ডিজিটাল সেন্সরের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে, যা সম্ভাব্য সাইবার হামলা শনাক্ত ও প্রতিহত করতে কাজ করবে। এ ছাড়া নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি, বায়োমেট্রিক মুখ শনাক্তকরণ এবং ভিডিও নজরদারি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। রেলস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলেও এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা রয়েছে। সূত্র : রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।