মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে গত প্রায় দুই সপ্তাহে তার একের পর এক মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ভোটারদের জন্য ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের প্রতিশ্রুতি থেকে শুরু করে দুর্যোগ সহায়তা নিয়ে মন্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং ২০২৪ সালের হত্যাচেষ্টার সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ—সব মিলিয়ে তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তার দল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া হবে। তবে কীভাবে এই অর্থ দেওয়া হবে বা এর অর্থায়ন কোথা থেকে হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। সিএনএনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২৬ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে এই অর্থ দিতে হলে মোট ব্যয় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। এর আগে ট্রাম্প শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থের ভিত্তিতে ২ হাজার ডলারের ‘টারিফ ডিভিডেন্ড’ এবং ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডজ) থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থের একটি অংশ নাগরিকদের দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নতুন ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অর্থায়ন ও আইনগত প্রশ্ন উঠেছে। দুর্যোগ সহায়তা নিয়েও বিতর্ক নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির পক্ষে প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেন, রাজ্যটি যদি ওই প্রার্থীকে নির্বাচিত না করে, তাহলে বকেয়া দুর্যোগ সহায়তার অর্থ দেওয়া হবে না। পরে তিনি বলেন, মন্তব্যটি তিনি রসিকতা করে করেছিলেন। তবে এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্টের সরকারি সহায়তাকে নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার প্রশ্ন উঠেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ভোটারদের উদ্দেশে নিজেকে কার্যত ব্যালটে থাকা প্রার্থীর মতো বিবেচনা করার আহ্বানও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নভেম্বরে ভোটারদের উচিত তার সমর্থিত কংগ্রেস সদস্য ও সিনেটরদের নির্বাচিত করা। ৯/১১ ও হত্যাচেষ্টা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর আগে ট্রাম্প নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এলাকায় নিজের উপস্থিতি ও সে সময়কার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি গল্প বলেন। কিন্তু তার বর্ণনার বিভিন্ন অংশের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সময়ে ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে তাকে হত্যার চেষ্টাকে ‘ডেমোক্র্যাটদের ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি। এ ঘটনায় হামলাকারী থমাস ক্রুকসের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পৃক্ততার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলও পরে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ক্রুকস অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছিল—এমন কোনও প্রমাণ নেই। বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার না কমালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে—এমন দেশগুলোর সঙ্গে বড় অংশের বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। উত্তর ক্যারোলাইনায় তিনি বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করলে বছরে অন্তত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। তবে বাণিজ্য ঘাটতি ও বাণিজ্য বন্ধের মাধ্যমে এ ধরনের আয় করার যুক্তি নিয়ে অর্থনৈতিক প্রশ্ন রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত এরপর হোয়াইট হাউসে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। এর পরদিন সিএনএনের এক প্রতিবেদককে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তার প্রেস পাস নিয়ে নেওয়া হয়। পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদেরও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। আরও কিছু সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য ট্রাম্প সম্প্রতি তার মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা নাকি তার সাক্ষাৎকারের সময়কার ব্যক্তিদের মতো আর নেই। দীর্ঘদিনের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান থেকে সরে গিয়ে আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথাও বলেছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকেও ‘ভাঁওতা’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। অথচ একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু গবেষক ও প্রতিষ্ঠান এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। এছাড়া কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করার বিষয়ে আদালতের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তার নাম যুক্ত করার উদ্যোগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে আদালত অনুমোদন না দিলে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আগ্রহ হারাতে পারেন। নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তার আচরণ, বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, ইরান যুদ্ধ, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন—সবকিছু একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। সিএনএন ও ফক্স নিউজের জরিপে সাতজনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ও নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ১০ জন বলেছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই—যদিও এ ধরনের জরিপ নির্দিষ্ট সময়ের জনমতকে প্রতিফলিত করে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তার রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আরও বেশি আলোচনায় আসছে। তার সমর্থকেরা এসব পদক্ষেপকে প্রশাসনের এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আর সমালোচকেরা এগুলোর আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সূত্র: সিএনএন
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে কলেজে ভর্তি কার্যক্রম। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে আটটায় প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে শিক্ষার্থীরা কে কোন কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তা জানতে পেরেছেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আজ থেকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত কলেজে সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবেন। ভর্তির চূড়ান্ত ফল শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট xiclassadmission.gov.bd-এ প্রবেশ করে দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে নিবন্ধিত মোবাইল ফোন নম্বরেও ফল এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়। ওই ধাপে মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন পান। যদিও অনলাইনে আবেদন করেও ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন ১৪ হাজার ৪১৫ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী রয়েছেন ২ হাজার ২০৫ জন। এ ছাড়া দেশের ১১টি অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পছন্দক্রমে কলেজ হিসেবে নির্বাচন করেননি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য কোনো শিক্ষার্থী মনোনয়ন পাননি। একইভাবে ৪১৬টি প্রতিষ্ঠান কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য মনোনয়ন পায়নি। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর অনলাইনে একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন শুরু হয়। আবেদন গ্রহণ শেষ হয় ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে রাখতে পেরেছেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে মহাসড়কের উভয় লেনে যানজটের শঙ্কা। অবরোধ চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। এর ফলে মহাসড়কের ওই অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এর আগে, সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ১১টায় গন্ধমতি এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। এর আগে, শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর তার মরদেহের সন্ধান মেলে। পুলিশের তথ্য মতে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় সে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি নির্জন স্থানে স্থানীয় কয়েকজন অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তুহিন নামে একজনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামে আরও দুজনসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়।
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। শনিবার রাতে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে শিক্ষার্থীদের কোন কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তা জানানো হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আজ থেকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত কলেজে সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবে। আর আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) থেকে একাদশ শ্রেণির ১ম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট xiclassadmission.gov.bd-এ প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা চূড়ান্ত ফল দেখতে পারবে। এছাড়া অনলাইন আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানায়, শনিবার রাতে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর আজ থেকে মনোনীত শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর পুনর্নির্ধারণ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। সংশ্লিষ্ট সব উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিষয়টি জানাতেও বলা হয়েছে।
রামিসা হত্যার বিচারের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত করতে পারবো। বিচার করবে আদালত, আমরা সব সহযোগিতা করবো। সচিবালয়ে সমসাময়িক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যে মোবাইল সেটি উদ্ধার করা হয়েছে, সন্দেহভাজন আসামি তুহিনের কাছ থেকে। প্রসঙ্গত, মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। নিখোঁজের এক দিন পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের গভীরে মিলেছে তার লাশ। এ ঘটনায় তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের তিন তরুণকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতিতে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় শোকস্তব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা অংশ নেন। তারা অকালে প্রাণ হারানো কিশোর অপ্রতিমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে তারা জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।
মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতি সাধনের অভিযোগে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, সাবেক ছয় মন্ত্রী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন ঢাকার একটি আদালত। রবিবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এ জন্য ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ড-বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপ-সচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস)-কে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্বের বৈধ টেন্ডার বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়। সিএনএস লিমিটেডকে টাকার অংকে নয় বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০-২০১৫ মেয়াদে একই সেতুতে যৌথভাবে এমবিইএল-এটিটি কোম্পানিকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দিতে খরচ হয়েছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি। ২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তিতে তিন বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকায় চুক্তি পায়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে প্রায় ১১২ কোটি টাকা হয়। ফলে সিএনএস লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৭ সালের হজের নিবন্ধনের সময় শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের শেষ দিন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর আর নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হবে না। গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালের হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসহ সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। গত ২৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নিবন্ধন কার্যক্রম ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৩১১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৩ হাজার ৯৮৩ জন হজযাত্রী চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশের জন্য এবার হজের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৫০০ জন। ফলে এখনো বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর নিবন্ধন বাকি রয়েছে। প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রীদের বাকি কর্মদিবসের মধ্যে প্যাকেজের সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। তা না হলে তাদের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির মালিকরা বলছেন, অনেক হজযাত্রী এত আগে হজের টাকা জমা দিতে আগ্রহী নন। এ কারণে চূড়ান্ত নিবন্ধনের গতি বাড়ছে না। শেষ সময়ে বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর নিবন্ধন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হজের ব্যয় বৃদ্ধি, মানুষের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ এবং সৌদি আরবে আবাসন ও পরিবহণসহ বিভিন্ন সেবার খরচ বাড়ায় বাংলাদেশের হজের কোটা পূরণ হচ্ছে না। এর মধ্যে সৌদি আরব এবার বাংলাদেশের হজ কোটা প্রায় ৫০ হাজার কমিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন নির্ধারণ করেছে। ২০২৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। অন্য প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ী প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। সাধারণ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা এবং বিশেষ প্যাকেজের মূল্য ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা। ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকা। তবে ওই প্যাকেজে খাবারের খরচ ছিল না। এবার খাবারের জন্য ৩৯ হাজার ৫০৮ টাকা যোগ হয়েছে। এছাড়া মিনা ও আরাফাতে সৌদি সরকারের সর্বনিম্ন ডি ক্যাটাগরি প্রত্যাহার, ৭০০ রিয়াল এবং বিনিময় হারজনিত ব্যয়ও যুক্ত হয়েছে। এ কারণে বিমান ভাড়া প্রায় ২৫ হাজার টাকা কমলেও এবার হজের মোট ব্যয় কমেনি। বরং সর্বনিম্ন সরকারি প্যাকেজের দাম গত বছরের তুলনায় ৩৮ হাজার ৫১১ টাকা বেড়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেও হজের খরচ বেড়েছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটক তিনজনই ‘ঘাতক’ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তারা হলেন— মো. তুহিন, শাহরিয়া আনাস ও মো. ফাহিম। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতীমের মায়ের আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহিম ও আনাস নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক তুহিন, আনাস ও ফাহিমই ঘাতক। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। আটকের আগে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবরসংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে ফেসবুকে পোস্ট দেন শাহরিয়া আনাস। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। বাচ্চাদের কাছে দামী জিনিস, তার জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। আল্লাহ তার মা, বাবাকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুক।’ পোস্টে অপ্রতীমের সঙ্গে নিজের কথোপকথনের স্মৃতিও তুলে ধরেন আনাস। তিনি লেখেন, ‘মাঝেমধ্যে ছেলেটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বলতো যে ভাই কই আছো ছবি তুলবো কয়েকটা। আসলে এগুলো ভেবে এখন খারাপই লাগতেছে। এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি। অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সর্বশেষ ফাহিম আহমেদকেও আটক করা হয়। অপ্রতীম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। এদিকে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তারা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর আগে তিনজনকে আটকের পর কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানিয়েছিলেন, অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে আজ বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছে ভারতের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমেছে ভারতীয়রা। শুরুতে ব্যাট করতে নেমেই একটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছেন ভারতীয় ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানা। নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের রেকর্ড গড়লেন ভারতের সহ-অধিনায়কের। কোরোগি স্পোর্টস পার্কে চলমান এই ম্যাচের তৃতীয় ওভারে আট রান করার পর এই মাইলফলক স্পর্শ করেন মান্ধানা। শুক্রবার জাপানের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্যাট করেননি তিনি। এটি ছিল মান্ধানার ক্যারিয়ারের ১৭৮তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটসকে পেছনে ফেলে শীর্ষে ওঠেন তিনি। মাত্র ১৭১ ইনিংসে এই কীর্তি গড়েন ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ১৭৮ ইনিংসে ৪৭৫৮ রান করেছিলেন বেটস। পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসের হিসেবেও সবার ওপরে আছেন মান্ধানা। ক্যারিয়ারে তার নামে আছে দুটি সেঞ্চুরি এবং ৩৬টি হাফ সেঞ্চুরি। এই ফরম্যাটে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ডও তার দখলে। একশ ছক্কার মাইলফলক থেকে তিনি এখন মাত্র দুই ছক্কা দূরে আছেন। এই মাসের শুরুতে নারী ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে ওঠেন মান্ধানা। দুবাইয়ে এশিয়া কাপ ২০২৬ চলাকালীন ভারতের সাবেক অধিনায়ক মিতালি রাজকে পেছনে ফেলেন তিনি। ক্যারিয়ারের ৩০৩তম আন্তর্জাতিক ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন মান্ধানা। মিতালির ১০৮৬৮ রানের রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। আজ তিনি টি-টোয়েন্টির বিশ্বরেকর্ডও নিজের করে নিলেন। নারী টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রান করা ব্যাটারদের তালিকায় শীর্ষে আছেন মান্ধানা। ১৭১ ইনিংসে তার রান ৪৭৫৯, সর্বোচ্চ ১২৪, গড় ৩০.৬৫ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৬.৫৫। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন সুজি বেটস। ১৭৮ ইনিংসে তার রান ৪৭৫৮। তৃতীয় স্থানে আছেন ভারতের হরমনপ্রীত কৌর। ১৮৬ ইনিংসে তার রান ৪২৮৭। চতুর্থ স্থানে শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু, ১৬৯ ইনিংসে রান ৪২৮২। পঞ্চম স্থানে নিউজিল্যান্ডের সোফি ডিভাইন, ১৫৪ ইনিংসে রান ৩৮১৭।
নাসির উদ্দিন
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে গত প্রায় দুই সপ্তাহে তার একের পর এক মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ভোটারদের জন্য ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের প্রতিশ্রুতি থেকে শুরু করে দুর্যোগ সহায়তা নিয়ে মন্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং ২০২৪ সালের হত্যাচেষ্টার সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ—সব মিলিয়ে তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তার দল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া হবে। তবে কীভাবে এই অর্থ দেওয়া হবে বা এর অর্থায়ন কোথা থেকে হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। সিএনএনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২৬ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে এই অর্থ দিতে হলে মোট ব্যয় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। এর আগে ট্রাম্প শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থের ভিত্তিতে ২ হাজার ডলারের ‘টারিফ ডিভিডেন্ড’ এবং ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডজ) থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থের একটি অংশ নাগরিকদের দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নতুন ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অর্থায়ন ও আইনগত প্রশ্ন উঠেছে। দুর্যোগ সহায়তা নিয়েও বিতর্ক নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির পক্ষে প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেন, রাজ্যটি যদি ওই প্রার্থীকে নির্বাচিত না করে, তাহলে বকেয়া দুর্যোগ সহায়তার অর্থ দেওয়া হবে না। পরে তিনি বলেন, মন্তব্যটি তিনি রসিকতা করে করেছিলেন। তবে এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্টের সরকারি সহায়তাকে নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার প্রশ্ন উঠেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ভোটারদের উদ্দেশে নিজেকে কার্যত ব্যালটে থাকা প্রার্থীর মতো বিবেচনা করার আহ্বানও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নভেম্বরে ভোটারদের উচিত তার সমর্থিত কংগ্রেস সদস্য ও সিনেটরদের নির্বাচিত করা। ৯/১১ ও হত্যাচেষ্টা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর আগে ট্রাম্প নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এলাকায় নিজের উপস্থিতি ও সে সময়কার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি গল্প বলেন। কিন্তু তার বর্ণনার বিভিন্ন অংশের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সময়ে ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে তাকে হত্যার চেষ্টাকে ‘ডেমোক্র্যাটদের ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি। এ ঘটনায় হামলাকারী থমাস ক্রুকসের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পৃক্ততার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলও পরে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ক্রুকস অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছিল—এমন কোনও প্রমাণ নেই। বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার না কমালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে—এমন দেশগুলোর সঙ্গে বড় অংশের বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। উত্তর ক্যারোলাইনায় তিনি বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করলে বছরে অন্তত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। তবে বাণিজ্য ঘাটতি ও বাণিজ্য বন্ধের মাধ্যমে এ ধরনের আয় করার যুক্তি নিয়ে অর্থনৈতিক প্রশ্ন রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত এরপর হোয়াইট হাউসে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। এর পরদিন সিএনএনের এক প্রতিবেদককে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তার প্রেস পাস নিয়ে নেওয়া হয়। পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদেরও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। আরও কিছু সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য ট্রাম্প সম্প্রতি তার মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা নাকি তার সাক্ষাৎকারের সময়কার ব্যক্তিদের মতো আর নেই। দীর্ঘদিনের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান থেকে সরে গিয়ে আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথাও বলেছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকেও ‘ভাঁওতা’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। অথচ একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু গবেষক ও প্রতিষ্ঠান এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। এছাড়া কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করার বিষয়ে আদালতের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তার নাম যুক্ত করার উদ্যোগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে আদালত অনুমোদন না দিলে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আগ্রহ হারাতে পারেন। নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তার আচরণ, বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, ইরান যুদ্ধ, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন—সবকিছু একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। সিএনএন ও ফক্স নিউজের জরিপে সাতজনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ও নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ১০ জন বলেছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই—যদিও এ ধরনের জরিপ নির্দিষ্ট সময়ের জনমতকে প্রতিফলিত করে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তার রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আরও বেশি আলোচনায় আসছে। তার সমর্থকেরা এসব পদক্ষেপকে প্রশাসনের এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আর সমালোচকেরা এগুলোর আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সূত্র: সিএনএন
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের কিছু সামরিক ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে এবং ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্ক সেসব প্রয়োজন কীভাবে পূরণ করা যায়, তা বিবেচনা করবে। শুক্রবার তুরস্কের সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তিন দেশ একে অপরের পাশে থাকার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করা গ্রহণযোগ্য নয়। রিয়াদও এই সংঘাতে জড়াতে চায় না। যুদ্ধ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি। লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের অগ্রগতি এদিকে ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগরের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা এবং কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বাড়িয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের সীমান্ত, জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালিয়েছে হুতিরা। ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে ইয়ানবু, তাইফ, বায়শ ও ফারাসানেও হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেশটি বিভিন্ন মিত্র ও অংশীদারের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা চাচ্ছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানেরও প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি সৌদির পাশে থাকার একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তানও। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আরব নিউজকে বলেছেন, সৌদি আরবকে ‘যেকোনও মাত্রায়’, এমনকি সরাসরি সামরিকভাবেও রক্ষা করবে ইসলামাবাদ। তবে সৌদি আরব অতিরিক্ত পাকিস্তানি সেনা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর অবশ্য জানিয়েছে, বর্তমানে এই চুক্তির আওতায় কোনও সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। প্রয়োজন দেখা দিলে চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি? সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয় গত ৭ আগস্ট মক্কায়। এতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতি হলো—তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পরবর্তীতে ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর জোটটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয় ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। একই বৈঠকে সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য একজন পাকিস্তানি মহাসচিব এই সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেবেন। চুক্তিতে সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্য দেশকেও এতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ন্যাটোর সঙ্গে পার্থক্য তবে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটকে এখনই ন্যাটোর সমতুল্য সামরিক জোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর মতো সমন্বিত সামরিক কমান্ড কাঠামো ও স্থায়ী যৌথ বাহিনী এই জোটে এখনও নেই। এমনকি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এবং কী প্রক্রিয়ায় কার্যকর হবে, সেটিও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ইস্তাম্বুলের বৈঠকে অবশ্য তিন দেশ যৌথ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের বিষয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা নতুন এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর বাস্তব সক্ষমতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে নিজেদের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে ক্রমেই বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে। সূত্র: আল-জাজিরা
ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আর্টিলারি হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে অন্তত ৮ জন নিহত ও বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে। এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপজুড়ে ১৭৪টি ড্রোন এবং রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল থেকে দুটি জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। খবর আলজাজিরার। টেলিগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে বিমানবাহিনী আরও জানিয়েছে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৪১টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস বা জ্যাম করেছে। ১৫টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং নয়টি অঞ্চলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শত্রুর জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।’ এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কৃষ্ণসাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানতে গেরান-৪ সিকার ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। জাহাজ দুটির একটি ওডেসাগামী ইউক্রেনীয় বাল্ক ক্যারিয়ার এবং অন্যটি ওডেসা বন্দরে নোঙর করা একটি ট্যাংকার। উভয় জাহাজেই সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে রাশিয়া। খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিহুভভ নিশ্চিত করেছেন, ১৪টি লোকালয়ে রাশিয়ার হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। এতে বালাকলিয়া ও লিপকুভাতিভকার মতো শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খারসন অঞ্চলের গভর্নর ওলেকসান্দর প্রকুদিনের মতে, ২৫টি এলাকা লক্ষ্য করে চালানো গোলাবর্ষণে তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। তিনি জানান, এই হামলায় বহুতল আবাসিক ভবন, ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি, একটি মোবাইল টাওয়ার এবং একটি গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দনেপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেকসান্দর গানজা জানান, ড্রোন, আর্টিলারি এবং এরিয়াল বোমা ব্যবহার করে ১০টিরও বেশি স্থানে ভারী হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ( এআই) খাতের নিয়ন্ত্রণে 'এআই ফোর্স' গঠন করার ঘোষণা দিয়েছেন। যার নাম হবে ও 'এআই জার'। অতি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, লিবারেলদের কারণে তৈরি হওয়া বিতর্কের মুখে তিনি এই উদীয়মান শিল্পখাতটিকে কোনোভাবেই ধসে পড়তে দেবেন না। গত এক দশকে যেখানে প্রযুক্তি খাত নিয়ে নানা মহলে নীতিগত বিতর্ক চলেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ঘোষণা দিলেন। মহাকাশ গবেষণা ও নিরাপত্তার জন্য ২০১৯ সালে 'স্পেস ফোর্স' গঠনের পর প্রযুক্তিখাতে এটিই তার বড় কোনো নতুন কাঠামোগত উদ্যোগ। ট্রাম্পের দাবি, এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বানগুলো প্রকৃতপক্ষে ডেমোক্র্যাটদের ছড়ানো একটি ভুয়া প্রচারণা। প্রযুক্তি খাতের স্বাধীনতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এই শিল্পের অভিভাবক হিসেবে পাশে থাকবে এবং একে প্রয়োজনীয় সব সমর্থন জোগাবে। তবে ওয়াশিংটনের এই নতুন অবস্থানের পেছনে প্রযুক্তি বিশ্বের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সম্প্রতি এক নিবন্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য বিপর্যয়কর ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন এবং উন্নয়নের গতি কমানোর তাগিদ দেন। তার এই অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্কও। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই সতর্কবার্তাকে পাশ কাটিয়ে বরং এআই খাতের উন্মুক্ত অগ্রযাত্রাকেই মার্কিন অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।