সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ইরান যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়াল, নীরবে বদলানো হলো হিসাব

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যেই পেন্টাগন তাদের ক্যাজুয়ালটি ডেটাবেসে (ডিসিএএস) চুপিসারে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করে হতাহতের এই হিসাবে পরিবর্তন এনেছে। গত ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নতুন হিসাবকে মূলত মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন এড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, কাকতালীয়ভাবে ঠিক ওই দিনটিতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর দাবি করেছিলেন।   শনিবার হালনাগাদ করা পেন্টাগনের নতুন তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে সিএনএনের পর্যবেক্ষণে আহতের সংখ্যা ৪৮২ জন থাকলেও, নতুন তালিকায় তা এক লাফে ১৪০ জনের বেশি বেড়েছে। ফিরে এসেছে বাদ পড়া নিহত চার সেনার নামও। জর্ডান ও উত্তর ইরাকে প্রাণ হারানো সেনারাও এই তালিকায় রয়েছেন।   গত সপ্তাহে ডেটাবেসে হতাহতের সংখ্যা হঠাৎ কমে গেলে ১২ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চান। জবাবে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ সামাজিক মাধ্যমে এটিকে নিছক ‘সাময়িক ডেটা বিভ্রাট’ বলে দাবি করেন। তবে শুক্রবার সিএনএনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও রোববার পর্যন্ত পেন্টাগন কোনো জবাব দেয়নি।   পেন্টাগনের এই ৭ জুলাইয়ের নতুন হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকাউস্কি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, প্রশাসন মূলত কৌশলে ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে চাইছে। তবে গত মে মাসেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা এই আইনটিকে পুরোপুরি ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেছিলেন।

১১ মিনিট আগে
নতুন পে-স্কেল নিয়ে কঠিন চাপে সরকার

আর্থিক সংকটের কারণে সরকারি কর্মচারীদের নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা বাড়ছেই। নতুন এই পে স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরকালে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকের সময় এমন পরামর্শ দেয়। তবে সংস্থাটির প্রস্তাব আমলে নিচ্ছে না সরকার। এজন্য আগামী অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে চায় সরকার।   অন্যদিকে, আইএমএফ চায় এটাকে অক্টোবর পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখতে। তাহলে অক্টোবরে থাইল্যান্ডে আয়োজিত আইএমএফের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নভেম্বরে একটি টিম বাংলাদেশ সফরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচি ও পে স্কেল নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করতে চায়। সরকার আইএমএফকে সেই সুযোগ দিতে চায় না। এজন্য অক্টোবরের আগেই পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে তা বাস্তবায়ন করতে চায়। অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।   এদিকে নতুন পে স্কেলের প্রস্তাবনা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থ বিভাগ। চলতি সপ্তাহের শেষে কিংবা আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে এর সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর অংশ হিসেবে পে স্কেলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে পে স্কেলের প্রস্তাবনা।   বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও পে স্কেল সংক্রান্ত ফোকাল পারসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। এ সময় পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতার নানা দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। পরে বাস্তবায়নের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখান থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে আমরা আরও ভাবতে পারি তা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।   সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব সক্ষমতা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে আইএমএফের আপত্তির বিষয়গুলো সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে। চলতি বাজেটে নতুন পে স্কেলের জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সেটা অপ্রতুল কি না তা নিয়েও বিশ্লেষণ করা হয়েছে বৈঠকে।   এর আগে বর্তমানে প্রচলিত অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এক দশকের বেশি সময় ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। এর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং নিত্যপণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, সরকারের অধীনে কর্মরত প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী নতুন পে স্কেলের আওতায় আসবেন। বেতন বাড়ার পাশাপাশি বৃদ্ধি পেতে পারে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা। এর ফলে পেনশন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ, মহার্ঘ ভাতা সমন্বয় এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছে।   অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি এবং সরকারি রাজস্ব সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে বেতন কাঠামো নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। এদিকে বাংলাদেশ বর্তমানে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলার ঋণ কর্মসূচির আলোচনা শুরু হয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারের বার্ষিক রাজস্ব ব্যয় বেড়ে যাবে। এতে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের ওপর বেশি চাপ তৈরি করবে। এ কারণে সংস্থাটি নতুন পে স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্ত অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে।   অর্থনীতিবিদদের ধারণা, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় অন্তত ৮২ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পেনশন, উৎসব ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধির কারণে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।   বর্তমান অর্থবছরে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশই বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে ব্যয় হয়। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। ফলে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অধিক দক্ষতা প্রয়োজন হবে।   সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় কমে গেছে। মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রয়ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, মেধাবী জনবল আকর্ষণ এবং কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য নতুন পে স্কেল প্রয়োজন।   নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ বিকল্প কয়েকটি মডেল নিয়েও কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট গ্রেডে অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা এবং কয়েক ধাপে আর্থিক প্রভাব সমন্বয়ের পরিকল্পনা। এ ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করলে এককালীন আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।   বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে, অন্যদিকে আইএমএফের সঙ্গে চলমান সংস্কার কর্মসূচির ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে।   সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন মিললে অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের পথ খুলে যাবে।   চা শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, সংকট সমাধানে কমিটি গঠনের নির্দেশ: বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে চা শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দেশের চা শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।   সভায় দেশের বিভিন্ন চা বাগানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা চা শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়ন সংকট, জ্বালানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার নানা চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে তারা কিছু দাবি ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চা শিল্পকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ শিল্পের বিকাশে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করবে।   সভায় চা বাগান মালিকদের বিদ্যমান ঋণের দায় সহজীকরণ এবং স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া চা বাগানের যেসব জমি চা চাষের অনুপযোগী, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি। এ ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতাও দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে চা শিল্পের সার্বিক সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত ও কার্যকর সমাধান বের করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং চা শিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।   সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চা বাগান মালিক ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৩ মিনিট আগে
ইমনের পর এবার লাহোর কালান্দার্সে ডাক পেলেন শামীম

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার শামীম হোসেন পাটোয়ারী গ্লোবাল সুপার লিগে (জিএসএল) খেলতে যাচ্ছেন। তিনি টুর্নামেন্টের দল লাহোর কালান্দার্সে যোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন শামীম।   লাহোর কালান্দার্সে আগে থেকেই খেলছেন আরেক বাংলাদেশি ক্রিকেটার পারভেজ হোসেন ইমন। সর্বশেষ ম্যাচে অপরাজিত ৪৭ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। এবার শামীমকে দলে নেওয়ায় একই দলে দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার খেলবেন।   এবারের জিএসএলে দুই ম্যাচ খেলেই দুই জয় পেয়েছে লাহোর কালান্দার্স। নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে তারা বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে। দলের নিয়মিত অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদির অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের মাইকেল ব্রেসওয়েল।   লাহোর কালান্দার্সের পরবর্তী ম্যাচ ২৭ জুলাই, গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে ভোর ৫টায়।

১৮ মিনিট আগে
আগামী নির্বাচন ঘিরে তারেক রহমানের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য তারেক রহমান ইতোমধ্যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।   তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিকে বসানো হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।   রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় এনসিপির 'জুলাই পদযাত্রা' কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা খুব ভালো করেই বুঝে গিয়েছি, তারেক রহমানকে দিয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমি আপনাদের লিখে দিয়ে গেলাম। আজকে এই কথা ছয় মাস পরে আপনারা আমাদেরকে খুঁজবেন।   তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, বিএনপির ছত্রছায়ায় অসংখ্য বিভিন্ন ‘খারাপ লোক’ বিভিন্ন সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছে। এমন সব ব্যক্তিদের উপজেলা প্রশাসনের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষরা উপজেলা প্রশাসনে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।   ভালুকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রসঙ্গে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতার স্থানীয় মানুষের ভবিষ্যৎ ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আপনার সন্তানের ভাগ্য পরিবর্তন আপনাকেই করতে হবে।   এ সময় এলাকা থেকে সব ধরনের সামাজিক অনাচার দূর করতে আহ্বান জানিয়ে তিনি ভালুকায় স্থানীয়ভাবে মাদক, জুয়া, চোরাচালান ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার তাগিদ দেন।   আওয়ামী লীগের বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিও জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, যদি সংস্কার বাস্তবায়িত না হয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিচার সুসম্পন্ন না হয় এবং জুলাই বিপ্লবে শহীদ ১৪শ আত্মদানকারীর রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হয়—তবে রাজপথে এনসিপি এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করব না তারেক রহমানের সরকারকে পালাইতে।

২০ মিনিট আগে
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়
রাষ্ট্রপতি থাকতেই শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলার আসামি হন সাহাবুদ্দিন

মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারির অভিযোগে এক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছিল, যা সামনে এসেছে প্রায় ১০ মাস পর, যখন তিনি পদত্যাগ করেছেন।   ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।   ‘দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ লুণ্ঠন ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পারস্পরিক যোগসাজশে’ ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগ আনা হয় মামলার ২০ আসামির বিরুদ্ধে।   বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি আমলে নেন। একই সঙ্গে আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।   সর্বশেষ গত ২৩ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ছিল। তবে ওইদিন দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি ৷ এ কারণে ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর আগামী ১১ অগাস্ট প্রতিবেদন জমার পরবর্তী দিন রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান।   বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা যায় না। তাহলে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হল কী করে? আদালত তদন্তের নির্দেশইবা কী করে দিল?   মামলার এজাহারে দেখা যায়, ১২ নম্বর আসামির নাম দেওয়া হয়েছে মো. শাহাবুদ্দিন। তার পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক। পাশে ব্র্যাকেটের ভেতরে বলা হয়েছে, “জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেড কর্তৃক মনোনীত এবং ১ নম্বর ও ৩ নম্বর আসামির যোগসাজসে নির্বাচিত।”   জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও পরে ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছিলেন দুদকের সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন। ব্যাংকের অডিট কমিটিরও সদস্য ছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তিনি সেই পদ ছেড়ে দেন।   রোববার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে মামলার শাহাবুদ্দিন আর সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন একই ব্যক্তি কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়।   কেবল সাহাবুদ্দিনের নামের বানান নয়, তার বাবার নামের বানান এবং ঠিকানাতেও গড়মিল রয়েছে। তার বাবার নাম শরফুদ্দিন আনছারী হলেও মামলার এজাহারে লেখা হয়েছে সারাফ উদ্দিন আনসারি।   সাহাবুদ্দিনের স্থায়ী ঠিকানা পাবনা জেলায়। তবে মামলায় ঠিকানা লেখা হয়েছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, "মামলার এজাহারে ১২ নম্বর আসামি শাহাবুদ্দিন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি কি আমার জানা নেই। আমি ব্যাংকের পক্ষে প্যানেল আইনজীবী হিসেবে মামলা ফাইলিং করেছি। এর বাইরে আমার কিছুই জানা নেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে লিস্ট দিয়েছে তা ধরে মামলা ফাইলিং করা হয়েছে।"   পরে মামলার বাদী আবদুচ ছামাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তখন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন, তিনিই এ মামলার আসামি।   মামলার অপর আসামিরা হলেন- ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন, আরাস্ত খান, অধ্যাপক মো. নাজমুল হাসান, আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সৈয়দ আবু আসাদ, মো. কামরুল হোসেন, আহসান আলম, ডা. মো. সেলিম উদ্দিন, শওকত হোসেন, খুরশিদ-উল-আলম, ডা. কাজী শহীদুল আলম, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল মতিন, জামাল মোস্তফা চৌধুরী ও ডা. মো. সিরাজুল করিম।   কী অভিযোগ? মামলার অভিযোগ বলা হয়, আসামিদের পরিচালিত ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে, যা কোম্পানির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ। এসব শেয়ারের মোট দাম ২৫১ কোটি টাকা।   ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। মাত্র ৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের একটি কোম্পানির নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   এ কারণে আসামিরা ‘পরিকল্পিতভাবে, পরস্পরের যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে’ এ লেনদেন সম্পন্ন করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলায় বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছিল ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি, যার অনেকগুলোই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।   আর্জিতে বলা হয়, এই শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শেয়ার বিক্রি ও কেনার তারিখ একই। অর্থাৎ শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি পূর্ব-পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।   “এস আলম গ্রুপ, তার মালিক এবং উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি এবং তাদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে এই ব্যাংকের উপর দখল প্রতিষ্ঠার কৌশল অবলম্বন করেছেন এবং তার দায়-দায়িত্বও সম্মিলিতভাবেই তাদের উপর বর্তায়। এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, অবৈধভাবে নিজেরা লাভবান হয়ে জনগণের অর্থের তসরূপে একই অভিপ্রায়ে ফৌজদারী বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে।”   কী বলছে দুদক? সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাহার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কোনো প্রকার ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাইবে না এবং তাহার গ্রেপ্তার বা কারাবাসের জন্য কোনো আদালত হইতে পরোয়ানা জারি করা যাইবে না।”   তাহলে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে মামলা কী করে হল জানতে চাইলে দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "রাষ্ট্রপতি থাকাকালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। হয়ত তারা (বাদীপক্ষ) পরিচয় গোপন করে কোর্টকে মিসগাইড করে আদেশ করিয়ে নিয়েছে।"   তিনি বলেন, "আমি মামলাটা সম্পর্কে অবগত না। দুদক তদন্ত করছে। এখন দুদক সিদ্ধান্ত নেবে কী করা যায়।"   এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড-সংক্রান্ত একটি মামলার নথিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নাম থাকার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে তদন্তের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট তদন্ত দলের কাছে পৌঁছায়নি।   “আদালত থেকে কোনো বিষয় তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হলে তা কমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও অনুমোদন শেষে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আসে। বিষয়টি কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে কি না, সে তথ্যও তদন্ত দলের কাছে নেই।   তিনি বলেন, কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও দায়িত্ব না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে এ ধরনের তদন্ত শুরু করতে পারেন না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৬, ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত
মঙ্গলবার বঙ্গভবনে প্রথম অফিস করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বঙ্গভবনে প্রথম অফিস করবেন। এদিন দুপুর ১২টায় বঙ্গভবনে যাবেন তিনি। রোববার (২৬ জুলাই) সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের জন্য তিনি নির্বাচিত হলেও তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর একই দিনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।   হাফিজ উদ্দিন আহমদ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে (স্মারক বই) মন্তব্য লেখেন এবং তাতে সই করেন।   এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরাসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   সেখান থেকে ফিরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এ শ্রদ্ধা জানান।

ছবি : সংগৃহীত
সিলেটের শিক্ষিকার গান নিয়ে বিতর্ক, ‘গান গাওয়া অন্যায় নয়’ বললেন প্রতিমন্ত্রী

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের গানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক-শিক্ষিকারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন।   বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নেই। বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম। ভিডিওটিও দেখিনি। তবে যাদের কাছে শুনেছি, তারা বলেছেন সেখানে কোনো অশ্লীলতা নেই। যদি সত্যিই কোনো অশ্লীলতা না থাকে, তাহলে শুধু গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। ভিডিও না দেখে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’   এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজের অনেকেই বলছেন, শিক্ষকরাও রক্ত-মাংসের মানুষ। তাদেরও আনন্দ-বেদনা, ব্যক্তিগত জীবন ও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। প্রতিদিন সমাজে নানা অশালীন ও অনৈতিক ঘটনা ঘটলেও তা নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। অথচ শিক্ষকরা ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সাধারণ বিষয় প্রকাশ করলেই তা সমালোচনার মুখে পড়ে।   কলেজশিক্ষক জান্নাত আরা খান পান্না ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমিও শিক্ষক। নাচতে জানি না বলে হাঁটছি। কারও দৃষ্টিতে যদি নাচ মনে হয়, তবে নাচছি। আর কারও জাত গেলে আমার কিছু করার নেই। সংহতি বিউটি পাল।’   শিক্ষিকা সামিয়া শিকদার লিখেছেন, ‘বিউটি রানী পাল ম্যাডামকে হেনস্তার চেষ্টা সফল হয়নি। আজ প্রতিটি সাহসী শিক্ষকই একেকজন বিউটি রানী পাল। আমরা মাথা নত করব না, সম্মান নিয়ে এগিয়ে যাব।’   শিশুসাহিত্যিক হুমায়ুন কবীর ঢালী লিখেছেন, ‘একজন শিক্ষকও রক্ত-মাংসের মানুষ। তারও আনন্দ প্রকাশের অধিকার আছে, কষ্টে মন খারাপ হওয়ার অধিকার আছে। যা অশ্লীল, তা শুধু শিক্ষকের জন্য নয়, সবার জন্যই অশ্লীল। আর যা শালীন ও মার্জিত, তা কোনো নির্দিষ্ট পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।’   রাসেল আমিন লিখেছেন, ‘একটি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়া সহজ কথা নয়। বিউটি রানী পাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর। তিনি অত্যন্ত মেধাবী। তাকে নিয়ে এক শ্রেণির বিকৃত মানসিকতার মানুষ নোংরামি করার চেষ্টা করেছে। তবে তারা সফল হয়নি।’   শিক্ষক দীপা মণ্ডল লিখেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের আনন্দময় পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের নাচ, গান, অভিনয়সহ নানা দক্ষতা অর্জনের কথা বলা হয়। অথচ একজন শিক্ষক নিজের আনন্দের একটি মুহূর্ত প্রকাশ করলেই সমালোচনার মুখে পড়েন। শাড়ি পরিহিত অবস্থায় একটি সাধারণ ভিডিও কীভাবে অশ্লীল হতে পারে?’   শিক্ষক তন্দ্রা তনু লিখেছেন, ‘এখনও কেউ কেউ মনে করেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মানেই অভাবের প্রতীক। তাই একজন শিক্ষক পরিচ্ছন্ন পোশাকে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হাসিমুখে থাকলে তা অনেকের সহ্য হয় না। কিন্তু সময় বদলেছে। শিক্ষকও সুন্দরভাবে বাঁচবেন, হাসবেন, নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করবেন, এটাই স্বাভাবিক।’   জানা গেছে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল স্কুল চলাকালে নয়, বরং ছুটির পর ভিডিওটি ধারণ করেন বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা। পরে একটি ফেসবুক পেজ থেকে নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে ভিডিওটি প্রকাশ করেন প্রবাসী তরুণ আসিফ আহমদ ইকবাল হিরণ।   বিউটি রানী পাল বলেন, ‘আসিফ আহমদ ইকবাল হিরণ আমার অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি ডাউনলোড করে তার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছেন। সেখানে আমাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যও করা হয়েছে।’   তার দাবি, আসিফ আহমদ ইকবাল হিরণের পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এমন কাজ করেছেন। পরে ফোন করে ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রশ্ন করে হেনস্তার চেষ্টা করেন। ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।   এ ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিউটি রানী পালের পক্ষে অবস্থান নেন। অনেকেই তার ব্যবহৃত একই গান দিয়ে ভিডিও তৈরি করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।   বিউটি রানী পাল বলেন, ‘কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।’   তিনি শিক্ষক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষকদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হলে সমাজ আরও বেশি নৈতিক হবে।’   অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আইনি জটিলতায় যেতে চাই না। সারা দেশের মানুষের যে নৈতিক সমর্থন পেয়েছি, সেটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’   অভিযোগের বিষয়ে আসিফ আহমদ ইকবাল হিরণ বলেন, ‘আমি ম্যাডামকে আদাব জানিয়ে শুধু ভিডিওটি সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে চেয়েছি। এর বাইরে আর কিছু বলিনি।’   এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুহেল মোল্লা বলেন, ‘বিউটি রানী পালের মূল পোস্টটি আমি এখনো সরাসরি দেখিনি। তবে ভাইরাল ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালার কোনো লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।’   তিনি আরও জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনায় ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন। তবে কী ধরনের পোস্ট বা মন্তব্য করা যাবে, সে বিষয়ে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। বিউটি রানী পালের ভাইরাল ভিডিও বা পোস্টে নীতিমালাবিরোধী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, সেটিই তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।   প্রসঙ্গত, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হন বিউটি রানী পাল। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ প্রহরা প্রত্যাহার, কারণ জানাল ডিএমপি

মন্ত্রিসভার ২৪ সদস্যের মধ্যে ১৮ জনের রাজধানীতে চলাচলের সময় পুলিশের প্রহরা প্রত্যাহার করা হয়েছে।   তবে রাজধানীর বাইরে কোথাও গেলে তারা যথানিয়মে পুলিশ পা পাবেন। এছাড়া তাদের জন্য গানম্যান, বাসভবনে প্রহরা সুবিধাও বহাল থাকবে।   গেল ২০ জুলাই থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একজন কর্মকর্তা।   এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়ে তিনি বিষয়টি ‘স্পর্শকাতর’ বলে এড়িয়ে যান।   তবে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী বলেন, “জ্বালানি এবং পুলিশ স্বল্পতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটা শুধু ঢাকার জন্য। মন্ত্রীরা ঢাকার বাইরে গেলে যথানিয়মে যে নিরাপত্তা পেতেন, সেটা তারা পাবেন।”   বর্তমানে যে ছয়জন মন্ত্রী পুলিশ প্রহরা পাচ্ছেন তারা হলেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।   এছাড়া মন্ত্রী পদমর্যাদার পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও এই সুবিধার আওতায় থাকছেন।   এই ছয় মন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রহরা প্রত্যাহার না করার বিষয়ে ডিএমপির নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “এই মন্ত্রণালয়গুলো তূলনামূলক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য এই ছয় মন্ত্রীকে তালিকায় রাখা হয়নি।”   মন্ত্রীদের নিরাপত্তা বহর বা ‘এসকর্টের’ আকার কেমন হবে, তা মূলত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘রাষ্ট্রাচার’ (প্রটোকল) নির্দেশিকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং সরকারের বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, একজন মন্ত্রীর নিরাপত্তা বহরে সাধারণত একজন এসআই বা কোনো ক্ষেত্রে এএসআই এবং চারজন কনস্টেবল থাকেন। মোট পাঁচজনের এই দলটি মন্ত্রীর চলাচলের সময় সার্বক্ষণিক থাকে।   ডিএমপির নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “মন্ত্রীদের বহরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের জন্য একটি গাড়ি থাকে। সে জন্য সরকারি কোষাগার থেকে জ্বালানি দিতে হয়। তাদের দিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কাজ করানো যায় না। এখন তাদের সরিয়ে নেওয়ার কারণে প্রায় ৯০ জনকে দিয়ে অন্য কাজ করান যাবে।”

ছবি : সংগৃহীত
দুইবার পদত্যাগ করতে চেয়েও পারেননি ধর্মেন্দ্র, শেষ পর্যন্ত বদলে গেল পরিস্থিতি

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন থেমেছে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর।   রাজপথ কাঁপানো এ আন্দোলন শনিবার বিকালে থামে তার পদত্যাগের ঘোষণায়। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আগেও দুবার তিনি আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। সরকারের অবস্থানের কারণেই তিনি তা করেননি। গত শুক্রবার পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না করা নিয়ে কট্টর অবস্থানে ছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেভাবে তাকে বার্তাও দেওয়া হয়।   কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কীভাবে এবং কোন চাপের ফলে সরকার সিজেপির দাবি মানতে বাধ্য হল, তা নিয়ে এখন চলছে নানা বিশ্লেষণ।   রোববার ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অন্তত দুইবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তাকে ঠেকিয়ে রেখেছিল। তখন তাকে শিক্ষাক্ষেত্রের পদ্ধতিগত সমস্যা ও সংস্কারের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শনিবার সরে দাঁড়ান তিনি। মূলত সিজিপির নতুন করে আন্দোলনের হুমকি এবং অনলাইন মাধ্যমে আন্দোলন আরো ছড়িয়ে দেওয়ার খবরের পরই সরকার ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়।   সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদনে বলা হয়, “জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিজেপির তীব্র আন্দোলনের মধ্যে ২০ জুলাই মন্ত্রীদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ধর্মেন্দ্র প্রধান সর্বশেষ পদত্যাগের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তার সেই পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে পদত্যাগের চিন্তা বাদ দিয়ে শিক্ষা খাতের সংস্কারে মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ দেয়।   কারণ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মত ছিল, একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ হল সবচেয়ে সহজ পথ। এটা অনেকটা দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার মত। মোদী সরকার সমস্যা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে তা সমাধানে বিশ্বাসী।”   তবে দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন আসে শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে। এতে সরকারের তরফে সিজেপি প্রতিনিধিদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিলেন তারা। এক পর্যায়ে দুই মন্ত্রী ঘোষণা দেন, সিজেপির সব দাবি মানা হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদ্যোগের দাবি মানা সম্ভব না।   এর পর সিজেপিও আন্দোলন কঠোর করার দিকে পা বাড়ায়। গত ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ প্রতিবাদের মত আরও একটি বড় আকারের পদযাত্রার হুমকি দেয়।   ইন্ডিয়া টুডের খবরে দাবি করা হয়, দিল্লিতে ২০ জুলাইয়ের ওই বিক্ষোভের সময় পুলিশের লাঠিপেটায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর থেকে আন্দোলন তীব্রতা পায়। এ নিয়ে সরকারের চিন্তা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও সতর্ক করা হয়েছিল, দেশবিরোধী শক্তিগুলো এই অসন্তোষকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।   নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, “এরইমধ্যে ডিজিটাল নজরদারিতে গোয়েন্দারা ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অনলাইনে উসকে দেওয়ায় সক্রিয় ৪০০টিরও বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত প্রায় ১০০টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট রয়েছে।   “প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চিহ্নিত অ্যাকাউন্টগুলো আগে ‘অপারেশন সিঁদুর (২০২৫ সালের ৭ মে ভারতের সেনাবাহিনীর পাকিস্তানে অভিযান) এর সময় সক্রিয় ছিল। অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে এবং ভারতবিরোধী মন্তব্য, ভুল তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ান হচ্ছিল।   এছাড়াও ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে দিল্লি পুলিশের ডিজিটাল মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা যন্তর মন্তর এলাকায় সিজেপির প্রতিবাদস্থলের চারপাশে অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা প্রায় ৪০০ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে। চিহ্নিত এই ব্যক্তিরা ২০ জুলাই ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফলে সিজেপির সঙ্গে চূড়ান্ত দফার আলোচনার আগে সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, জাতীয় স্বার্থ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”   গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকে সিজেপি প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে তিন দাবি তুলে ধরেছিল। এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াও ছিল নিট পরীক্ষার (চিকিৎসাবিদ্যা ও দন্তচিকিৎসা কোর্সে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা) প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা।   বৈঠকে দুই মন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া বাকি দুই দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও আন্দোলনকারীরা ছিলেন অনড়।   আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, দ্বিতীয় বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে কথা বলেন জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। রুদ্ধদ্বার এ বৈঠক চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও কিছু পদক্ষেপ করে।   এক ধাক্কায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। এনটিএর কাঠামোগত সংস্কারের জন্য নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তুতি শুরু হয়।   পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস রুখতে ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এভাবে আন্দোলনকারীদের পরোক্ষ বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর পর দুটি ভিডিও বার্তা দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আশ্বস্ত করেন। প্রশ্নফাঁস রুখতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের কথা বলেন তিনি।   শনিবার জেপি নাড্ডাদের সঙ্গে সিজেপির তৃতীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের একের পর এক পদক্ষেপের মধ্যেও যে মূল দাবিতে সিজেপি অনড়, তা বোঝা যায় ওই দিন সকালে।   সংগঠনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তৃতীয় দফার আলোচনার কোনো অর্থ নেই। এর পরেই ধর্মেন্দ্র পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।   ওইদিনই ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রলহাদ জোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখভালের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়াল, নীরবে বদলানো হলো হিসাব
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যেই পেন্টাগন তাদের ক্যাজুয়ালটি ডেটাবেসে (ডিসিএএস) চুপিসারে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করে হতাহতের এই হিসাবে পরিবর্তন এনেছে। গত ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নতুন হিসাবকে মূলত মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন এড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, কাকতালীয়ভাবে ঠিক ওই দিনটিতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর দাবি করেছিলেন।   শনিবার হালনাগাদ করা পেন্টাগনের নতুন তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে সিএনএনের পর্যবেক্ষণে আহতের সংখ্যা ৪৮২ জন থাকলেও, নতুন তালিকায় তা এক লাফে ১৪০ জনের বেশি বেড়েছে। ফিরে এসেছে বাদ পড়া নিহত চার সেনার নামও। জর্ডান ও উত্তর ইরাকে প্রাণ হারানো সেনারাও এই তালিকায় রয়েছেন।   গত সপ্তাহে ডেটাবেসে হতাহতের সংখ্যা হঠাৎ কমে গেলে ১২ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চান। জবাবে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ সামাজিক মাধ্যমে এটিকে নিছক ‘সাময়িক ডেটা বিভ্রাট’ বলে দাবি করেন। তবে শুক্রবার সিএনএনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও রোববার পর্যন্ত পেন্টাগন কোনো জবাব দেয়নি।   পেন্টাগনের এই ৭ জুলাইয়ের নতুন হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকাউস্কি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, প্রশাসন মূলত কৌশলে ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে চাইছে। তবে গত মে মাসেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা এই আইনটিকে পুরোপুরি ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেছিলেন।

ছবি : সংগৃহীত
দুইবার পদত্যাগ করতে চেয়েও পারেননি ধর্মেন্দ্র, শেষ পর্যন্ত বদলে গেল পরিস্থিতি
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৬, ২০২৬

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন থেমেছে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর।   রাজপথ কাঁপানো এ আন্দোলন শনিবার বিকালে থামে তার পদত্যাগের ঘোষণায়। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আগেও দুবার তিনি আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। সরকারের অবস্থানের কারণেই তিনি তা করেননি। গত শুক্রবার পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না করা নিয়ে কট্টর অবস্থানে ছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেভাবে তাকে বার্তাও দেওয়া হয়।   কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কীভাবে এবং কোন চাপের ফলে সরকার সিজেপির দাবি মানতে বাধ্য হল, তা নিয়ে এখন চলছে নানা বিশ্লেষণ।   রোববার ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অন্তত দুইবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তাকে ঠেকিয়ে রেখেছিল। তখন তাকে শিক্ষাক্ষেত্রের পদ্ধতিগত সমস্যা ও সংস্কারের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শনিবার সরে দাঁড়ান তিনি। মূলত সিজিপির নতুন করে আন্দোলনের হুমকি এবং অনলাইন মাধ্যমে আন্দোলন আরো ছড়িয়ে দেওয়ার খবরের পরই সরকার ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়।   সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদনে বলা হয়, “জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিজেপির তীব্র আন্দোলনের মধ্যে ২০ জুলাই মন্ত্রীদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ধর্মেন্দ্র প্রধান সর্বশেষ পদত্যাগের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তার সেই পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে পদত্যাগের চিন্তা বাদ দিয়ে শিক্ষা খাতের সংস্কারে মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ দেয়।   কারণ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মত ছিল, একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ হল সবচেয়ে সহজ পথ। এটা অনেকটা দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার মত। মোদী সরকার সমস্যা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে তা সমাধানে বিশ্বাসী।”   তবে দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন আসে শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে। এতে সরকারের তরফে সিজেপি প্রতিনিধিদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিলেন তারা। এক পর্যায়ে দুই মন্ত্রী ঘোষণা দেন, সিজেপির সব দাবি মানা হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদ্যোগের দাবি মানা সম্ভব না।   এর পর সিজেপিও আন্দোলন কঠোর করার দিকে পা বাড়ায়। গত ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ প্রতিবাদের মত আরও একটি বড় আকারের পদযাত্রার হুমকি দেয়।   ইন্ডিয়া টুডের খবরে দাবি করা হয়, দিল্লিতে ২০ জুলাইয়ের ওই বিক্ষোভের সময় পুলিশের লাঠিপেটায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর থেকে আন্দোলন তীব্রতা পায়। এ নিয়ে সরকারের চিন্তা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও সতর্ক করা হয়েছিল, দেশবিরোধী শক্তিগুলো এই অসন্তোষকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।   নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, “এরইমধ্যে ডিজিটাল নজরদারিতে গোয়েন্দারা ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অনলাইনে উসকে দেওয়ায় সক্রিয় ৪০০টিরও বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত প্রায় ১০০টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট রয়েছে।   “প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চিহ্নিত অ্যাকাউন্টগুলো আগে ‘অপারেশন সিঁদুর (২০২৫ সালের ৭ মে ভারতের সেনাবাহিনীর পাকিস্তানে অভিযান) এর সময় সক্রিয় ছিল। অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে এবং ভারতবিরোধী মন্তব্য, ভুল তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ান হচ্ছিল।   এছাড়াও ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে দিল্লি পুলিশের ডিজিটাল মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা যন্তর মন্তর এলাকায় সিজেপির প্রতিবাদস্থলের চারপাশে অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা প্রায় ৪০০ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে। চিহ্নিত এই ব্যক্তিরা ২০ জুলাই ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফলে সিজেপির সঙ্গে চূড়ান্ত দফার আলোচনার আগে সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, জাতীয় স্বার্থ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”   গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকে সিজেপি প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে তিন দাবি তুলে ধরেছিল। এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াও ছিল নিট পরীক্ষার (চিকিৎসাবিদ্যা ও দন্তচিকিৎসা কোর্সে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা) প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা।   বৈঠকে দুই মন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া বাকি দুই দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও আন্দোলনকারীরা ছিলেন অনড়।   আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, দ্বিতীয় বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে কথা বলেন জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। রুদ্ধদ্বার এ বৈঠক চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও কিছু পদক্ষেপ করে।   এক ধাক্কায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। এনটিএর কাঠামোগত সংস্কারের জন্য নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তুতি শুরু হয়।   পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস রুখতে ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এভাবে আন্দোলনকারীদের পরোক্ষ বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর পর দুটি ভিডিও বার্তা দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আশ্বস্ত করেন। প্রশ্নফাঁস রুখতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের কথা বলেন তিনি।   শনিবার জেপি নাড্ডাদের সঙ্গে সিজেপির তৃতীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের একের পর এক পদক্ষেপের মধ্যেও যে মূল দাবিতে সিজেপি অনড়, তা বোঝা যায় ওই দিন সকালে।   সংগঠনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তৃতীয় দফার আলোচনার কোনো অর্থ নেই। এর পরেই ধর্মেন্দ্র পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।   ওইদিনই ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রলহাদ জোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখভালের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহত ৬৫
আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৬, ২০২৬

সিরিয়ার মধ্য-পূর্বাঞ্চলের মরুভূমি এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দামেস্ক-দেইর এজোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির।   রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার খবরে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর সামরিক হেলিকপ্টারে করে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে নিহত ও আহতদের মধ্যে কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, তা জানানো হয়নি।   রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে একটি বাসে আগুন জ্বলতে এবং মহাসড়কজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।   জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী রায়েদ আল সালেহ বলেন, নিহতের সংখ্যার দিক থেকে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর একটি। তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়ক অবকাঠামোর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা জরুরি।   তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর অবহেলা এবং গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের সড়ক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে সড়ক পরিবহন বিভাগের পরিচালক মোয়াজ নাজ্জার জানান, পূর্বাঞ্চলের সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, গত ১৫ বছরে দেশের অধিকাংশ সড়কের যথাযথ সংস্কার হয়নি।   চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণাঞ্চলের দারা প্রদেশে সৌদি আরব থেকে ফেরা তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে পাঁচজন নিহত হন। এছাড়া গত বছর উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় একটি বাস ও তেলবাহী ট্যাংকারের সংঘর্ষে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০২০ সালে দামেস্ক-হোমস মহাসড়কে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় দুটি বাসের ৩২ আরোহী নিহত হয়।   সিরিয়ার মধ্য-পূর্বাঞ্চলের মরুভূমি এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দামেস্ক-দেইর এজোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির।   রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার খবরে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর সামরিক হেলিকপ্টারে করে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে নিহত ও আহতদের মধ্যে কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, তা জানানো হয়নি।   রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে একটি বাসে আগুন জ্বলতে এবং মহাসড়কজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।   জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী রায়েদ আল সালেহ বলেন, নিহতের সংখ্যার দিক থেকে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর একটি। তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়ক অবকাঠামোর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা জরুরি।   তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর অবহেলা এবং গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের সড়ক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে সড়ক পরিবহন বিভাগের পরিচালক মোয়াজ নাজ্জার জানান, পূর্বাঞ্চলের সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, গত ১৫ বছরে দেশের অধিকাংশ সড়কের যথাযথ সংস্কার হয়নি।   চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণাঞ্চলের দারা প্রদেশে সৌদি আরব থেকে ফেরা তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে পাঁচজন নিহত হন। এছাড়া গত বছর উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় একটি বাস ও তেলবাহী ট্যাংকারের সংঘর্ষে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০২০ সালে দামেস্ক-হোমস মহাসড়কে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় দুটি বাসের ৩২ আরোহী নিহত হয়।

ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমতীরে সেটেলারদের হামলা, মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৬, ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি সেটেলারদের হামলায় একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।   রোববার (২৬ জুলাই) স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম জানায়, নাবলুসের কুসরা গ্রামে অবস্থিত একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ লেখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   এ ছাড়া উত্তর-পূর্ব রামাল্লার আল-মুগাইর গ্রামে কয়েকটি ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার সময় কয়েকটি সড়ক অবরোধ করা হয় এবং চলাচলরত ফিলিস্তিনিদের গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি গ্রামের প্রবেশমুখে সেটেলারদের অবস্থান নিতে এবং একটি গাড়িকে গ্রামে প্রবেশে বাধা দিতে দেখা গেছে।   এর আগে শুক্রবার পশ্চিমতীরের তেল গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনাও উত্তেজনা বাড়ায়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সশস্ত্র সেটেলারদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই ইসরায়েলি নিহত হন। একই ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে চার ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়।   ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিহত ফিলিস্তিনিদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি পক্ষের দাবি, তারা নিজেদের গ্রাম রক্ষার চেষ্টা করছিলেন। উভয় পক্ষের এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি