সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
৩৩৬ কোটি টাকার রেলপথ, সাড়ে তিন বছরে চলেনি একটি ট্রেনও

পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেড ও রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের মালপত্র পরিবহনের জন্য প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ। উদ্বোধনের পর প্রায় সাড়ে তিন বছরে দু-একটা শান্টিং মালবাহী খালি বগি আর রেল কর্মকর্তাদের নিয়ে মোটরট্রলি ছাড়া এ রেলপথে চলেনি কোনো ট্রেন। ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন করা ‘রূপপুর স্টেশন’ বর্তমানে ‘ওয়াগন ইয়ার্ড’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটারের রেলপথটি কাশবন, ঘাস, লতাপাতা ও জঙ্গলে ঢেকে গেছে।   ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাঁকজমক করে এমপি, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ এবং রূপপুর রেলস্টেশন ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী (বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত) শেখ হাসিনা। স্টেশনটি হার্ডিঞ্জ সেতুর কাছে ফাঁকা স্থানে হওয়ায় অনেকে সেখানে অবসর সময়ে বেড়াতে যান। কিন্তু স্টেশনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি গত সাড়ে তিন বছরে।   জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী যন্ত্রপাতি প্রকল্পের অভ্যন্তরে পৌঁছাতে এবং লোড-আনলোডের জন্য তৈরি করা হয় রূপপুর রেলস্টেশন ও ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ। এ ছাড়া ঈশ্বরদী ইপিজেডের মালপত্র এই রেলপথে পরিবহনের কথাও ছিল। উদ্বোধনের প্রায় সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও এক ছটাক পণ্যও পরিবহন হয়নি এই রেলপথে।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলপথ ও স্টেশন নির্মিত হলেও এখনও প্রকল্পের বিভিন্ন মালপত্র ও ভারী যন্ত্রাংশ নদী ও সড়কপথেই আনা হচ্ছে রূপপুর প্রকল্পে। রূপপুর প্রকল্প ও রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ করে রেল কর্তৃপক্ষ। ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন থেকে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন হয়ে রূপপুর পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার রেলপথ ও রূপপুর নামে একটি রেলস্টেশন নির্মাণ করা হয়।   এর মধ্যে ১৩টি লেভেল ক্রসিং, সাতটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য কম্পিউটার বেইজ কালার লাইট সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়। এসব কর্মযজ্ঞে ব্যয় হয় ৩৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এই রেলস্টেশন ও রেলপথ উদ্বোধনের সময় প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এখান থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালপত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ইপিজেডের মালপত্র পরিবহন করা হবে।   সম্প্রতি রূপপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাকশীর পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে আধুনিক স্টেশনটি জনশূন্য। রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। প্ল্যাটফর্মে ময়লা জমে আছে। টিকিট কাউন্টার, মালপত্র বুকিং কক্ষ, অতিথিশালা, ভিআইপি কক্ষ, প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার, স্টেশন মাস্টার, সহকারী স্টেশন মাস্টারের কক্ষসহ সব কক্ষই তালাবন্ধ। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সদস্য বলেন, ‘স্টেশন থেকে যে রাস্তা রয়েছে, সেটি হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচ দিয়ে। এদিক দিয়ে মালপত্র আনা-নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। শুনেছি এজন্যই নাকি মালপত্র লোড-আনলোড করা হচ্ছে না।’   পাকশী বিভাগীয় রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই রেলপথে পাকশী বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনে মোটরট্রলি চালানো হয়ে থাকে। স্টেশন ইয়ার্ডে রেলের নতুন কিছু ওয়াগন ও কোচ রাখা হয়েছে, যেগুলো ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা। স্থান সংকুলান ও নিরাপত্তার অভাবে বর্তমানে রূপপুর স্টেশনে এসব কোচ এনে রাখা হয়েছে। নতুন রেলপথ দিয়ে রূপপুর প্রকল্পের জন্য কোনো মালপত্র এখনও আনা-নেওয়া হয়নি।    পাকশী বিভাগীয় বাণ্যিজ্যিক কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এখনও এ রেলপথে বাণিজ্যিকভাবে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি।   রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের জন্য এ রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। তারাই এটি ব্যবহার করবে। এখন হয়তো ব্যবহার হচ্ছে না, কিন্তু ভবিষ্যতে রূপপুর প্রকল্পের কাজে অনেক বেশি ব্যবহার হতে পারে।

২২ মিনিট আগে
বিভাগ চালানোর যোগ্যতা নেই, হয়ে গেছেন উপাচার্য’: শিবির সভাপতি

বিভাগের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা না থাকা ব্যক্তিদের দলীয় পরিচয়ে সরাসরি উপাচার্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।   শনিবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।   এসব নিয়োগকে ‘মেধার অবমূল্যায়ন’ মন্তব্য করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, “১৮টা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি আমরা খুঁজে পেলাম, যাদের একটা ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব পালন করার যোগ্যতাও হয়নি, অথবা ডিপার্টমেন্টে দায়িত্ব পালন করেনি, ডাইরেক্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি হয়েছেন। শুধু দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও দলের সঙ্গে থাকার কারণে তারা এসব পদ পেয়েছেন। এগুলো মেধার চূড়ান্ত অবমূল্যায়ন।”   তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম সংস্কার ও গণভোটের যে আশা নিয়ে আন্দোলন করেছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলবে।   শিবির সভাপতি বলেন, ক্যাম্পাসে র‍্যাগিং, সিট দখল ও ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে আদর্শ ও নৈতিকতা চর্চার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।   অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আতিয়ার রহমান বলেন, “রাজনীতি এখন অনেকের কাছে ‘ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ বা এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এ ধরনের চেতনা আর চলবে না। এখন ছাত্রদের কাছে আদর্শ, নতুন চিন্তা ও নতুনত্ব নিয়ে যেতে হবে।”   বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আরিফুর রহমান সৈকতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার এবং ছাত্রশিবিরের ক্রীড়া সম্পাদক মুশফিকুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আবদুর রহমান।

২৪ মিনিট আগে
ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে যেখানে শরিফুল টেস্ট ইতিহাসে প্রথম!

দিনের খেলার শেষ দিকে ধারাভাষ্যকার বলে উঠলেন- শরিফুল দ্য কামব্যাক ইসলাম! আসলেই তো তা-ই। যে দিনটা হওয়ার কথা ছিলো কেবলই হতাশার, সেখানে আশার বাতি জ্বালিয়ে রাখলেন তিনি। দেড়শো বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম হিসেবে একটা জায়গায় নামও উঠে গেল তার।    ডারউইনে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের ম্যাচে চোটের কারণে ছিলেন না শরিফুল। দুরন্ত ছন্দে থাকা বাঁহাতি পেসার ফিরেই দেখালেন ঝলক। প্রথমে ব্যাট হাতে দলের চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১১ নম্বরে নেমে করলেন ১৪, সেটাই ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ!   পরে বল হাতে ক্যারিয়ারসেরা স্পেলে ৩৫ রানে নিলেন ৬ উইকেট। এগারো নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ রান আর কমপক্ষে পাঁচ উইকেট পাওয়া প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার তিনি।   ম্যাকাইতে প্রথম দিনে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। যা নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন। কোণঠাসা অবস্থায় বল হাতেও হাল ছাড়েননি শরিফুল।   বোলিংয়ে এসেই জোড়া আঘাত হানেন তিনি। ৪১ রানে ৩ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়াকে ৭৭ রানের জুটি পাইয়ে দেন স্টিভেন স্মিথ-ক্যামেরন গ্রিন। অফ স্টাম্পে পড়ে ভেতরে ঢোকা বলে স্মিথকে এলবিডব্লিউ করে এই জুটি ভাঙেন তিনি। অ্যালেক্স কেরি মেহেদী হাসান মিরাজের বলে উইকেট ছুঁড়ে দিলে আবার শরিফুলের আগমন।   এবার একে একে তিন শিকার ধরেন তিনি। বো ওয়েবস্টারকে দুর্দান্ত ইনসুইঙ্গারে এলবিডব্লিউ করার পর প্যাট কামিন্সকে সারপ্রাইজ বাউন্সারে বানান উইকেটের পেছনে ক্যাচ। খানিক পর মিচেল স্টার্কের স্টাম্প উপড়ে ছয় শিকার ধরেন তিনি। শরিফুলের কারণেই ৬৪ রানে গুটিয়েও টেস্ট জয়ের স্বপ্ন এখনো দেখছে বাংলাদেশ।   প্রথম দিন শেষে ১০১ রানে এগিয়ে অজিরা। হাতে আছে ২ উইকেট। এখনো ম্যাচ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো ব্যাট করলে বাংলাদেশ ভালোভাবেই ফেরার সুযোগ পাবে।   ১৮ উইকেটের দিনে দুই বাঁহাতি স্টার্ক আর শরিফুল নিয়েছেন ১২ উইকেট। স্টার্ক ১২ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার সময়ও করেছেন রেকর্ড। প্রথম বলেই টেস্টে চতুর্থবার উইকেট পেলেন তিনি। যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। প্রথম ওভারে উইকেট পেলেন নবমবার, এটাও ইতিহাসে সর্বাধিক।

২৬ মিনিট আগে
প্রথম দফার চেয়ে তিন গুণ, কালুরঘাট ফেরির দর ৭ কোটি ১ লাখ

কালুরঘাট ফেরীর ইজারা আদায়ের জন্য দ্বিতীয় দফা টেন্ডারে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। আগামী তিন বছর ফেরী থেকে ইজারা আদায়ের লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে দ্বিতীয় দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল।   টেন্ডারে চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ এবারও সর্বোচ্চ (প্রথম দফা টেন্ডারের মতো) দরদাতা হিসেবে ফেরীর ইজারা নেয়ার জন্য ৭ কোটি ১ লাখ টাকায় দরপত্র দাখিল করেছে। প্রথম দফা টেন্ডারে আমানত শাহ্‌ এন্টারপ্রাইজ ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার দর দাখিল করেছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দরদাতা ছিল।   এদিকে দ্বিতীয় দফা টেন্ডারে টে–নাইট লিমিটেড ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং মাহফুজ এন্ড ব্রাদার্স আড়াই কোটি টাকায় ফেরীর তিন বছরের জন্য ইজারা নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে দরপত্র দাখিল করেছে। চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইদ্রিস এন্ড সন্স দরপত্র দাখিল করলেও কোনো পে অর্ডার দাখিল করেনি। যার ফলে এই দরপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার ফেরীর ইজারা আদায়ে তিনগুণের বেশি দর উঠেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের রহমতগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে গত ২০ আগস্ট দাখিলকৃত টেন্ডার ওপেন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রম তালিকায় দেখা যায়, আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ সর্বোচ্চ ৭ কোটি ১ লাখ টাকায় ফেরীর ইজারা নিতে দরপত্র দাখিল করে। এই প্রতিষ্ঠানকে এক নম্বরে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় তালিকায় থাকা টে–নাইট লিমিটেড ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ইজারা নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে দরপত্র দাখিল করেছে, যা আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে ২ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা কম। এই ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রাম রহমতগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীনকে কয়েকবার ফোন করার পরও তিনি রিসিভ করেননি।   তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রহমতগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩ বছরের জন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত কালুরঘাট ফেরী ইজারা দেয়ার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। প্রথম দফায় টেন্ডারে কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ দ্বিতীয় দফায় টেন্ডার আহ্বান করে।   উল্লেখ্য, কালুরঘাট ফেরী ইজারার প্রথম দফায় আহ্বানকৃত টেন্ডার ওপেন করা হয়েছিল গত ১৫ জুলাই। প্রথম দফা টেন্ডারে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার দর দাখিল করেছিল আমানত শাহ্‌ এন্টারপ্রাইজ। এরপর দ্বিতীয় দরদাতা হিসেবে ২ কোটি ৫০ লাখ দর দাখিল করেছে মাহফুজ এন্ড ব্রাদার্স।   সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের রহমতগজ্ঞের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালুরঘাট ফেরীর চলমান ইজারা প্রক্রিয়ার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর। টোল নীতিমালা অনুযায়ী চলমান ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার ন্যূনতম চার মাস পূর্বে নতুন ইজারাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আগামী তিন বছরের জন্য ফেরীর টোল আদায়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।   সূত্র জানায়, এর আগে ২০২৩ সালে এই কালুরঘাট ফেরী সার্ভিস চালাতে ইজারাদার নির্বাচন করতে চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে সাত দফা টেন্ডার আহ্বান করতে হয়েছিল।   সর্বশেষ ২ কোটি ১৪ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে আমরিন অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে তিন বছরের জন্য এই ফেরী সার্ভিস ইজারা দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান তিনবছর ধরে ফেরী থেকে ইজারা আদায়ে করে আসছে।

২৮ মিনিট আগে
নিহতদের পুরোনো ছবি | সংগৃহীত
সারাদেশ
রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের ৪ জনের লাশ উদ্ধার

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।   শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বাড়িটির তালা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ভেতর থেকে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে।   নিহতরা হলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), তাদের সন্তান পার্থী চক্রবর্তী (২৪) ও পিয়ম চক্রবর্তী (১২)।   গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজ বাসায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী রংপুরের কারমাইকেল কলেজে মাস্টার্সে পড়াশোনা করতেন। আর ছেলে পিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।   পুলিশ সূত্র জানায়, দুইতলা বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায়। তার স্ত্রী ও কন্যার মরদেহ ছিল বাসার সিঁড়িতে এবং ছেলের মরদেহ একটি কক্ষে পাওয়া যায়।   ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট, মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।   রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগের। প্রাথমিক আলামত দেখে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। গামছা বা কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।   তিনি আরও বলেন, বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ছিল। পাশাপাশি আসবাবপত্রের যেসব স্থানে স্বর্ণালংকার রাখা হতো, সেসব জায়গা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
অক্টোবরে এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষা, বোর্ড পরীক্ষা কবে?

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের নির্বাচনি (টেস্ট) পরীক্ষায় বসতে হবে। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। শুধু দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।   চলতি বছরের ১০ নভেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনি পরীক্ষা শেষ হবে। এরপর শুরু হবে বোর্ড পরীক্ষার ফরম পূরণ। তবে ঠিক কবে এসএসসি ও সমমানের বোর্ড পরীক্ষা শুরু হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।   গত মে মাসে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছিলেন। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর সম্ভাব্য সময়সূচিও সাংবাদিকদের দেওয়া হয়। তাতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল।   তবে ৭ জানুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষার শুরুর যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসার চিন্তা-ভাবনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর এবং অভিভাবকদের মতামতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জানুয়ারির পরিবর্তে দুই মাস পিছিয়ে মার্চে এ পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।   মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক উইংয়ে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, রোজা এবং ঈদুল ফিতরের ছুটি ও অভিভাবকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা মার্চে শুরু করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।   ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী- স্কুলে টেস্ট পরীক্ষা হবে। বোর্ড পরীক্ষা পেছানোর কোনো সিদ্ধান্ত হলে সেটা জানিয়ে দেওয়া হবে।’   ধোঁয়াশা বা বিভ্রান্তি এড়িয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মতো করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বোর্ড চেয়ারম্যান।

ছবি: সংগৃহীত
বিনামূল্যে চক্ষুসেবা পেলেন ভাসানটেক-কড়াইল-সাততলার প্রায় ১ হাজার মানুষ

রাজধানীর ভাসানটেক, কড়াইল ও সাততলা বস্তি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ছানি শনাক্তকরণ ও অপারেশন-সংক্রান্ত সেবা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।   শনিবার (২২ আগস্ট) জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করেন ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।   এদিন তিনি চিকিৎসা ক্যাম্পটি পরিদর্শন করেন।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার; ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রোগ্রাম) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ; পরিচালক (প্রোগ্রাম) প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম; পরিচালক (প্রোগ্রাম) কৃষিবিদ ড. খন্দকার মাহফুজুল হক বাচ্চু; পরিচালক প্রকৌশলী একেএম জহিরুল ইসলাম; আজীবন সদস্য রেজাউর রহমান চৌধুরী সুমন; ডা. সাঈদ মেহেবুব কাদির ও সোহেল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা।   কর্মসূচিতে ভাসানটেক, কড়াইল ও সাততলা বস্তি এলাকার প্রায় এক হাজার সুবিধাবঞ্চিত নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা সরবরাহের পাশাপাশি ছানি রোগীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্বোধন ও উপস্থিতি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী রোগী, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ ও প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।   আয়োজকেরা জানান, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিম্নআয়ের মানুষের একটি বড় অংশ সময়মতো প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে ছানি ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন—এই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।   চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ‘নতুন সিন্ডিকেট’ চায় না এনসিপি

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে নতুন করে কোনো সিন্ডিকেট যাতে গড়ে না ওঠে সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে দলটি।   বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে শুক্রবার ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস।   এর পরদিন শনিবার রাতে এ তালিকা প্রকাশের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি বলেছে, “অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে কোনো সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা যাবে না।”   এনসিপির মুখপাত্র এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রাতে এ বিষয়ক বিবৃতিতে বলেন, মালয়েশিয়ার এফডব্লিউসিএমএস কোন প্রক্রিয়া, মানদণ্ড ও ভিত্তিতে এসব এজেন্সি নির্বাচন করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   এর আগে বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দেশটির কাছে পাঠিয়েছিল। সেই তালিকা থেকে ২৫টি এজেন্সি নির্বাচনের ‘প্রক্রিয়া ও ভিত্তি’ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা জরুরি বলে মনে করে এনসিপি।   অতীতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল।   সরকার নির্ধারিত ৭৯ হাজার টাকার বিপরীতে একজন কর্মীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে বিদেশে যাওয়ার আশায় অনেক কর্মী জমি-জমা বিক্রি, সহায়-সম্বল শেষ করা কিংবা ঋণ নিয়ে বিপুল অর্থের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়েছেন।   বিবৃতিতে এনসিপি বলে, নতুন করে সীমিতসংখ্যক এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একই ধরনের ব্যবস্থা তৈরি হলে এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবেন কর্মপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ।   বিদেশগামী কর্মীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ বন্ধ করতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করে দলটি।   বিবৃতিতে আসিফ মাহমুদ বলেন, “মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া বাংলাদেশের কর্মপ্রত্যাশী মানুষের জন্য একটি বড় সুযোগ। আমরা কোনোভাবেই চাই না, অতীতের সিন্ডিকেট ভেঙে নতুন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি হোক।   “একজন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে যাওয়ার জন্য জমি বিক্রি বা ঋণ নেওয়ার পর তার কষ্টার্জিত অর্থ যেন কোনো সিন্ডিকেটের পকেটে না যায়—সরকারকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।”   দলটি মনে করে, “পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই এবং সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”   অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি একই চক্র যেন নতুন নামে বা নতুন কাঠামোয় ফিরে আসতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।   একই সঙ্গে ২০২৪ সালে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা কর্মীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের দাবি জানিয়েছে এনসিপি।   বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সংখ্যা, পদ্ধতি, অভিবাসন ব্যয় ও অন্যান্য শর্ত স্বচ্ছভাবে চূড়ান্ত করে তা জনসম্মুখে প্রকাশেরও আহ্বান জানায় এনসিপি।   দলটি মনে করে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কোনো নির্দিষ্ট কয়েকটি এজেন্সির একচেটিয়া ব্যবসার ক্ষেত্র হতে পারে না।   দলটি বলছে, যোগ্য ও বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য ন্যায্য সুযোগ, কর্মীদের জন্য সহনীয় অভিবাসন ব্যয় এবং পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের কর্মীদের কষ্টার্জিত অর্থ কোনোভাবেই নতুন কোনো সিন্ডিকেটের মুনাফার উৎস হতে দেওয়া যাবে না।

ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনকে মুছে দিচ্ছে ইসরাইল’

একশরও বেশি সাবেক ফরাসি ও ব্রিটিশ কূটনীতিক বলেছেন, বিশ্বের চোখের সামনেই ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে ইসরাইলকে বাধ্য করার লক্ষ্যে বাণিজ্য ও অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞাসহ জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।   শনিবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক নজিরবিহীন যৌথ চিঠিতে প্রথাগত কূটনৈতিক ভাষা পরিহার করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযানের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে সতর্ক করা হয়, বিশ্ব এখন আর ইসরাইলকে প্রকৃত গণতন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করছে না।   আধুনিক মধ্যপ্রাচ্য গঠনে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে কূটনীতিকরা বলেন, উভয় দেশই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাদের যুক্তি, মধ্যপ্রাচ্যের মৌলিক সংকট—অর্থাৎ ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের সমান অধিকারের প্রশ্নে একজোট হয়ে কাজ করা এখন যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের দায়িত্ব।   ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের কাছে পাঠানো এ চিঠিতে ৫২ জন সাবেক ফরাসি কূটনীতিক এবং ৫০ জন সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সই করেছেন। তাদের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ—যেমন মিসর, ইরান, বাহরাইন, ইসরাইল, সিরিয়া, তুরস্ক, কুয়েত, সৌদি আরব ও কাতারে—উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   ব্রিটিশ কূটনীতিকদের তালিকায় আছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত দুই সাবেক দূত জেরেমি গ্রিনস্টক ও এমির জোন্স প্যারি এবং ফরেন অফিসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক পরিচালক এডওয়ার্ড চ্যাপলিন। ফরাসি স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক পরিচালক প্যাট্রিস পাওলি এবং জেরুজালেমে নিযুক্ত সাবেক কনসাল জেনারেল স্তানিসলাস দে লাবুলে।   ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান এবং ফ্রান্সের ল্য মঁদ পত্রিকায় হস্তান্তর করা চিঠিটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স আরও নয়টি দেশের সঙ্গে মিলে ইসরাইলের ‘ই-১’ বসতি প্রকল্পের নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বানের নিন্দা জানিয়েছে।    তারা বলেছে, প্রস্তাবিত এ আবাসন প্রকল্প ‘ইসরাইলকে শান্তি প্রক্রিয়া থেকে আরও দূরে সরিয়ে নেবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে’।   ওই যৌথ বিবৃতিতে কোনো কঠোর পরিণতির স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হয়নি। তবে নিজ নিজ দেশের ব্যবসায়ীদের দরপ্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, একটি অবৈধ বসতি নির্মাণে বিনিয়োগের ফলে আইনি জটিলতা ও সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।   যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরকে দ্বিখণ্ডিত করে ১ হাজার ২০০টি বাড়ি নির্মাণের জন্য আহ্বান করা দরপত্রকে ‘দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কার্যকারিতার জন্য এক ধ্বংসাত্মক হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ইসরাইলের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড্যানিয়েলা গ্রুডস্কি একস্টিনকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।   কূটনীতিকদের আশা, তাদের এ চিঠি ম্যাক্রোঁ ও বার্নহ্যামের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, যাতে ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধান’ প্রক্রিয়াটি টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।   গাজা থেকে ইসরাইলের সরে আসার শর্তাবলি নিয়ে কূটনৈতিক বিষয়টি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ইসরাইলের মধ্যকার আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ইসরাইল গাজাবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সর্বশেষ ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মুসলিম মিত্র আটটি মুসলিম দেশ এর সমালোচনা করেছে।    তারা বলেছে, ইসরাইলের এসব পদক্ষেপ একটি ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে মৌলিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।   সাবেক কূটনীতিকদের যুক্তি, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার যে পদক্ষেপটি অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল, তা এখন জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দেওয়া প্রয়োজন।    কারণ, ইসরাইল সরকার আইন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অসংখ্য প্রস্তাবকে অবজ্ঞা করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের যেকোনো সম্ভাবনা ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।   কূটনীতিকরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, গাজা ও এর জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার ইসরাইলের সুপরিকল্পিত নীতিকে কোনোভাবেই যৌক্তিক বলা যায় না। ‘তলোয়ারের জোরে’ টিকে থাকতে হবে—নেতানিয়াহুর এ দাবি নৈতিকভাবে ভুল এবং তা হিতে বিপরীত ফল বয়ে এনেছে। এটি ইসরাইলের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করেছে এবং আলোচনার কোনো সুযোগ রাখেনি।   তাদের মতে, বিশ্ব এখন আর ইসরাইলকে একটি প্রকৃত গণতন্ত্র হিসেবে দেখে না। কারণ, অন্যদের অধিকার ও ভূমি থেকে বঞ্চিত করার মধ্যে গণতান্ত্রিক কিছু নেই।   চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গাজায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের বিধ্বস্ত ভূখণ্ডের মাত্র ৩০ শতাংশ এলাকায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তারা ক্ষুধার্ত এবং তাদের ওষুধ ও বাসস্থানের অভাব রয়েছে। তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’র পর থেকে ১ হাজার ২০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।   পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরের অন্যান্য অংশে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের যোগসাজশে বসতি স্থাপনকারীদের ব্যাপক সহিংসতা জাতিগত নির্মূল অভিযানের শামিল বলেও দাবি করেন কূটনীতিকরা।   তারা বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনেই ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলা হচ্ছে।’ এটি মানবতার বিবেকে এক কলঙ্ক। এ পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আইফোন কেনার জেদে মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬

ভারতের মহারাষ্ট্রে আইফোন কেনাকে কেন্দ্র করে এক তরুণ এবং তার বাবা ও মা পাহাড় থেকে পড়ে নিহত হয়েছেন। বাবা ও ছেলে পাহাড় থেকে গড়িয়ে গিরিসঙ্কটে পড়ে যাওয়ার পর সেখানে থাকা মা তাদের অনুসরণ করে ঝাঁপিয়ে পড়েন।   ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাজ্যের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলায়। শনিবার ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, অনেকের মোবাইল ফোনের ক্যামেরা অন করা থাকায় পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড হয়ে গেছে।   এনডিটিভি জানিয়েছে, কুনাল (১৮) কিস্তিতে একটি আইফোন কেনেন, কিন্তু কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। এ থেকেই ঘটনার উৎপত্তি। এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।   তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কুনাল যে আইফোন কিনেছিলেন তার কিস্তি পরিশোধ করার জন্য পরিবারের কাছে টাকা চান। এই নিয়ে বাবার সঙ্গে তার জোর কথা কাটাকাটি হয়। উত্তেজিত কুনাল বাড়ি থেকে বের হয়ে যান আর সকাল ১০টার দিকে নিকটবর্তী তিসগাঁওয়ের একটি পাহাড় বেয়ে ওঠেন।   পেছনে পেছনে তার বাবা ও মা সেখানে এসে হাজির হন। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কুনালকে বুঝিয়ে সুজিয়ে পাহাড় থেকে নামনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কুনাল পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিতেই থাকে।   ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “তোমার মা-র জন্য বেঁচে থাকো।” কিন্তু কুনাল উত্তর দেয়, “না, আমাকে মরতে হবে। এ ছাড়া আর পথ নেই।”   যারা কুনালকে বুঝিয়ে নামানোর চেষ্টা করছিলেন তাদের মধ্যে তিসগাঁওয়ের পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় যাদবও ছিলেন। তারা সবাই মিলে কুনালকে একটি আইফোন ১৫ প্রো কিনে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন।   “আমরা অনেক অনুনয়-বিনয় করেছিলাম, যে তার উচিত তার মাকে দেখা। তার ঝাঁপ দেওয়া উচিত হবে না। সে শিক্ষিত আর তার একটি ভবিষ্যৎ আছে। যা যা বলে তাকে বোঝানো যায় আমরা সব বলার চেষ্টা করেছিলাম,” বলেন যাদব।   কিন্তু কুনাল কোনো কথাই শুনছিল না। সে বারবার কাঁধ ঝাকাচ্ছিল আর মৃত্যুই তার একমাত্র পথ বলে জেদ করছিল।   এভাবে প্রায় তিন ঘণ্টা পার হওয়ার পর দুপুর প্রায় ১টার দিকে কুনালের বাবা মুরালিধর চাঁদগুডে ছেলে পাহাড়ের যে কিনারে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে গিয়ে হাজির হন। তিনি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন আর এক পর্যায়ে তাকে পাহাড়ের কিনার থেকে টেনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।   কিন্তু একপর্যায়ে দুজনেই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন আর গড়িয়ে পাহাড়ের পাশের গিরিসঙ্কটে পড়ে যান। অদূরে দাঁড়ানো কুনালের মা সঙ্গীতা স্বামী ও ছেলেকে পড়ে যেতে দেখে কিছুক্ষণের মধ্যে নিজেও লাফ দেন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।   কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।   স্থানীয় অনেক বাসিন্দা ও ওই এলাকায় থাকা পর্যটকদের সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। তাদের অনেকেই কুনালকে বুঝানোর চেষ্টায় যোগ দিয়েছিলেন। এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশ আর কিছু জানায়নি।

ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনকে মুছে দিচ্ছে ইসরাইল’
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬

একশরও বেশি সাবেক ফরাসি ও ব্রিটিশ কূটনীতিক বলেছেন, বিশ্বের চোখের সামনেই ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে ইসরাইলকে বাধ্য করার লক্ষ্যে বাণিজ্য ও অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞাসহ জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।   শনিবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক নজিরবিহীন যৌথ চিঠিতে প্রথাগত কূটনৈতিক ভাষা পরিহার করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযানের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে সতর্ক করা হয়, বিশ্ব এখন আর ইসরাইলকে প্রকৃত গণতন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করছে না।   আধুনিক মধ্যপ্রাচ্য গঠনে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে কূটনীতিকরা বলেন, উভয় দেশই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাদের যুক্তি, মধ্যপ্রাচ্যের মৌলিক সংকট—অর্থাৎ ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের সমান অধিকারের প্রশ্নে একজোট হয়ে কাজ করা এখন যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের দায়িত্ব।   ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের কাছে পাঠানো এ চিঠিতে ৫২ জন সাবেক ফরাসি কূটনীতিক এবং ৫০ জন সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সই করেছেন। তাদের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ—যেমন মিসর, ইরান, বাহরাইন, ইসরাইল, সিরিয়া, তুরস্ক, কুয়েত, সৌদি আরব ও কাতারে—উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   ব্রিটিশ কূটনীতিকদের তালিকায় আছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত দুই সাবেক দূত জেরেমি গ্রিনস্টক ও এমির জোন্স প্যারি এবং ফরেন অফিসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক পরিচালক এডওয়ার্ড চ্যাপলিন। ফরাসি স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক পরিচালক প্যাট্রিস পাওলি এবং জেরুজালেমে নিযুক্ত সাবেক কনসাল জেনারেল স্তানিসলাস দে লাবুলে।   ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান এবং ফ্রান্সের ল্য মঁদ পত্রিকায় হস্তান্তর করা চিঠিটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স আরও নয়টি দেশের সঙ্গে মিলে ইসরাইলের ‘ই-১’ বসতি প্রকল্পের নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বানের নিন্দা জানিয়েছে।    তারা বলেছে, প্রস্তাবিত এ আবাসন প্রকল্প ‘ইসরাইলকে শান্তি প্রক্রিয়া থেকে আরও দূরে সরিয়ে নেবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে’।   ওই যৌথ বিবৃতিতে কোনো কঠোর পরিণতির স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হয়নি। তবে নিজ নিজ দেশের ব্যবসায়ীদের দরপ্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, একটি অবৈধ বসতি নির্মাণে বিনিয়োগের ফলে আইনি জটিলতা ও সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।   যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরকে দ্বিখণ্ডিত করে ১ হাজার ২০০টি বাড়ি নির্মাণের জন্য আহ্বান করা দরপত্রকে ‘দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কার্যকারিতার জন্য এক ধ্বংসাত্মক হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ইসরাইলের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড্যানিয়েলা গ্রুডস্কি একস্টিনকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।   কূটনীতিকদের আশা, তাদের এ চিঠি ম্যাক্রোঁ ও বার্নহ্যামের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, যাতে ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধান’ প্রক্রিয়াটি টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।   গাজা থেকে ইসরাইলের সরে আসার শর্তাবলি নিয়ে কূটনৈতিক বিষয়টি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ইসরাইলের মধ্যকার আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ইসরাইল গাজাবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সর্বশেষ ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মুসলিম মিত্র আটটি মুসলিম দেশ এর সমালোচনা করেছে।    তারা বলেছে, ইসরাইলের এসব পদক্ষেপ একটি ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে মৌলিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।   সাবেক কূটনীতিকদের যুক্তি, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার যে পদক্ষেপটি অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল, তা এখন জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দেওয়া প্রয়োজন।    কারণ, ইসরাইল সরকার আইন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অসংখ্য প্রস্তাবকে অবজ্ঞা করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের যেকোনো সম্ভাবনা ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।   কূটনীতিকরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, গাজা ও এর জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার ইসরাইলের সুপরিকল্পিত নীতিকে কোনোভাবেই যৌক্তিক বলা যায় না। ‘তলোয়ারের জোরে’ টিকে থাকতে হবে—নেতানিয়াহুর এ দাবি নৈতিকভাবে ভুল এবং তা হিতে বিপরীত ফল বয়ে এনেছে। এটি ইসরাইলের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করেছে এবং আলোচনার কোনো সুযোগ রাখেনি।   তাদের মতে, বিশ্ব এখন আর ইসরাইলকে একটি প্রকৃত গণতন্ত্র হিসেবে দেখে না। কারণ, অন্যদের অধিকার ও ভূমি থেকে বঞ্চিত করার মধ্যে গণতান্ত্রিক কিছু নেই।   চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গাজায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের বিধ্বস্ত ভূখণ্ডের মাত্র ৩০ শতাংশ এলাকায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তারা ক্ষুধার্ত এবং তাদের ওষুধ ও বাসস্থানের অভাব রয়েছে। তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’র পর থেকে ১ হাজার ২০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।   পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরের অন্যান্য অংশে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের যোগসাজশে বসতি স্থাপনকারীদের ব্যাপক সহিংসতা জাতিগত নির্মূল অভিযানের শামিল বলেও দাবি করেন কূটনীতিকরা।   তারা বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনেই ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলা হচ্ছে।’ এটি মানবতার বিবেকে এক কলঙ্ক। এ পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে পুলিশের গাড়িতে ভুল দিকের গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৭
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২২, ২০২৬

ইংল্যান্ডের উত্তরাপূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভুল দিক থেকে আসা এক গাড়ি পুলিশের একটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ সাতজন নিহত হয়।   শনিবার স্থানীয় সময় ভোররাত প্রায় ৩টা ৩৯ মিনিটে মিডলসব্রোর পূর্বে সাউথ ব্যাঙ্ক এলাকার কাছে ঘটনাটি ঘটে, জানিয়েছে ক্লিভল্যান্ড পুলিশ। ঘটনাস্থলেই দুই গাড়ির সব আরোহীর মৃত্যু হয়।   ক্লিভল্যান্ড পুলিশের প্রধান কনস্টেবল ভিক্টোরিয়া ফুলার বলেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনার রেশ পুরো ক্লিভল্যান্ড, আমাদের কমিউনিটি এবং সমস্ত পুলিশ পরিবারের ওপর পড়বে।”   রয়টার্স জানিয়েছে, পুলিশ তখনও দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখছিল এবং নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করার জন্য কাজ করছিল।   প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট অফিস ফর পুলিশ কন্ডাক্ট’ ঘটনাটি পর্যালোচনা করবে।   সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রতিবেশী দেশ আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের কাছে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের দুটি ঘটনা ঘটেছে। এর একটিতে পাঁচজন নিহত হয়।   এরপর চলতি সপ্তাহে আয়ারল্যান্ডের পুলিশ প্রধান সতর্ক করে বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে লাইক পাওয়ার জন্য’ কিছু তরুণ গাড়ি চলাচলের পথে উল্টো পথে ভুল দিক দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে।   আইরিশ পার্লামেন্টের একটি কমিটি ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটককে ‘রাস্তায় বিপজ্জনক ও বেআইনি আচরণকে মহিমান্বিত করে বলে মনে হয়’, এমন সব কন্টেন্ট অপসারণ করার অনুরোধ করেছে। মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ডের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থাও একই অনুরোধ জানিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
কলকাতার ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু, মালিক গ্রেপ্তার
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২২, ২০২৬

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় হোটেল মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   শনিবার কলকাতার বেহালা এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আনন্দবাজার জানিয়েছে।   পূলিশ সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আত্মগোপনে ছিলেন ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে। সেখান থেকে শনিবার বেহালার ডায়মন্ড হারবার রোডের বাড়িতে ফেরেন। এরপরই তাকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।   মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলটিতে আগুন লাগে। এতে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের প্রাণ যায়।   এরপর শুক্রবার অভিযান চালিয়ে নিউ মার্কেট এলাকায় ১১টি হোটেল বন্ধ করে দেয় সেখানকার কর্তৃপক্ষ। শনিবার আরও ছয়টি হোটেল বন্ধ করা হয়।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি