জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা ছয়টি যাত্রীবাহী বাস ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত মুঠোফোনের ক্ষতিপূরণ আদায়ের পর ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেওয়ার পর বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আহত দুই শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরেক শিক্ষার্থীর ক্ষতিগ্রস্ত মুঠোফোনের জন্যও ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। সব মিলিয়ে ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধের পর বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাস কর্তৃপক্ষ লিখিত মুচলেকাও দিয়েছে যে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করবে না। এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে গাবতলী থেকে মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হিরু মিয়া ও তাঁর দুই বন্ধু। বাসটি আমিনবাজার এলাকায় পৌঁছালে শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র দেখিয়ে তিনজনের হাফ ভাড়া হিসাবে ৬০ টাকা দেন হিরু মিয়া। কিন্তু বাসচালকের সহকারী হাফ ভাড়া নিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হলে হিরু মিয়ার জামার কলার ধরেন সহকারী। পরে হেমায়েতপুর এলাকায় তাঁকে ঘাড় ধরে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন। হিরু মিয়া বিষয়টি তাঁর বন্ধুদের জানালে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বাসটি আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাসচালক দ্রুতগতিতে বাসটি নিয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা জানান, পরে অন্য একটি বাসে করে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে ওই বাসকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল ফটক এলাকায় আটক করা হয়। এ সময় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাগিব মারজান কাঁধে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ইয়াছির আরাফাত আঙুলে চোট পান। পরে শিক্ষার্থীরা একই পরিবহনের আরও পাঁচটি বাস আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনার পর গত রোববার রাতে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও বাস কর্তৃপক্ষ। ওই আলোচনায় ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর আজ ক্ষতিপূরণ পরিশোধের পর বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
২০১১ সালে জনপ্রিয় বলিউডের ভাইজানখ্যাত অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে ‘রেডি’ সিনেমায় জুটি হয়ে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী জেরিন খান। সেই সিনেমার সুপারহিট ‘ক্যারেকটর ঢিলা হ্যায়’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা এনে দেয় অভিনেত্রীকে। সেই গান জনপ্রিয় হলেও বাস্তবে জেরিন খান রক্ষণশীল তা অভিনেত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে নতুন বিপণিবিতানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অভিনেত্রী। সেখানে আলোকচিত্রীর 'অশালীন' আবদারে রেগে আগুন ভাইজানের নায়িকা। মেজাজ হারিয়ে কড়া জবাব দিলেন জেরিন খান। মায়ানগরীর সিনেপাড়ায় সেলিব্রেটিরা পাপারাজ্জিদের বাড়াবাড়িতে ‘অতিষ্ঠ’— এটা এক রকম সবার জানা। সম্প্রতি এমন কয়েকটি ঘটনাও ঘটেছে— পাপারাজ্জিদের আচরণে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ‘দাবাং গার্ল’ অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা। পাপারাজ্জিদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশে নাস্তানাবুদ শাহরুখপুত্র আরিয়ানসহ উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীরা। এবার মুম্বাইয়ে পাপারাজ্জিদের ‘হুঁশিয়ারি’ অভিনেত্রী জেরিন খানের। সামাজিক মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল ‘অগ্নিশর্মা’ জেরিনের মন্তব্য। এযাবৎকাল সিনেপর্দায় আনাগোনা না থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় চর্চায় রয়েছেন সালমানের নায়িকা জেরিন খান। পাপারাজ্জিদের সঙ্গে যে কারণে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় অভিনেত্রীর? সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি বিপণিবিতানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন জেরিন খান। সেখানেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। নতুন বিপণিবিতানের পোশাক প্রদর্শনের সময় হঠাৎ এক পাপারাজ্জি তাকে পোশাকটি পরে দেখানোর আবদার করে বসেন। আর সে কথা শুনেই মেজাজ হারান জেরিন খান। কড়া ভাষায় ওই আলোকচিত্রীকে সতর্ক করে দেন অভিনেত্রী। সুর চড়িয়ে ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়ে জেরিন খান বলেন, 'সবার সামনে পোশাক পরে দেখাব! এ ধরনের বাজে কথা ভবিষ্যতে আর কখনো আমাকে বলবেন না। শালীনতার সীমা অতিক্রম করবেন না। আমি কিন্তু এসব সহ্য করব না।' অতঃপর সেখানে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে এ মুহূর্তে সেই ভিডিও একেবারে দাবানলের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুতই নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়ে পড়ে। পেশাগত সীমা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্য জেরিন খানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের একাংশ। অভিনেত্রীর সমর্থনে এক নেটিজেন লিখেছেন— ‘একদম ঠিক করেছেন। জেরিনের প্রতিক্রিয়া যথাযথ।’ আরেক নেটিজেন লিখেছেন— ‘পাপারাজ্জিরা কীভাবে এ ধরনের কথা বলতে পারেন?’ জেরিনের মন্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে আরেক নেটিজেন বলেছেন— ‘উনি একদম সঠিক জবাব দিয়েছেন।’
বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেই কিছুটা সময় বের করে উড়াল দিয়েছেন নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপে। সেখানেই প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন অভিনেত্রী। প্রকৃতির মাঝে নিজেকে মেলে ধরছেন গ্ল্যামারাস কুইন কেয়া পায়েল। মালদ্বীপ ভ্রমণের দারুণ কিছু মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে তার ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। সমুদ্রের নীল পানি, বালুময় সৈকত আর ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের সেসব মোহময়ী ছবি তার ভক্তদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। বিদেশের মাটিতেও বাঙালি নারীর চিরচেনা রূপ! মালদ্বীপের সাগরের বুকে কাঠের তৈরি ওয়াকওয়েতে হালকা নীল ও বেগুনি রঙের শাড়ির সঙ্গে লাল রঙের কাঁচের চুড়ি পরে পোজ দিয়েছেন কেয়া পায়েল। মালদ্বীপের সমুদ্রসৈকতে কাচের মতো স্বচ্ছ নীল জলরাশিতে জলকেলিতে মেতেছেন ওঠেন কেয়া পায়েল। ফ্লোরাল প্রিন্টের পোশাকে সাগরের পানি ছুঁয়ে ক্যামেরার বিপরীতে থাকা তার এ ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে এখন বেশ ভাইরাল। আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে, সৈকতের পাশে ক্যাফেতে বসে হালকা গোলাপি পোশাকে চুলে হাত বুলিয়ে ক্যাজুয়াল লুকে পোজ দিচ্ছেন কেয়া পায়েল। চোখে সানগ্লাস আর শান্ত প্রকৃতির মাঝে তার এই স্নিগ্ধ রূপ ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। সমুদ্রের একেবারে কোলঘেঁষে তৈরি কটেজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সাগরের ঢেউ উপভোগ করছেন তিনি। মাথায় স্টাইলিশ হ্যাট ও সাদা সিল্কের গাউনের সঙ্গে ম্যাচিং লেস শ্রাগ জড়িয়ে তার এই ক্ল্যাসিক পোজটি বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। সমুদ্রসৈকতে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে ব্যাকলেস ফ্লোরাল পোশাকে আর সানগ্লাস চোখে এক অন্য রকম লুকে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী কেয়া। ব্যাকগ্রাউন্ডে রিসোর্টের ওয়াটার ভিলা আর নীল আকাশ তার এই রূপকে আরও আবেদনময়ী করে তুলেছে। মালদ্বীপের রাতের মায়াবী আবহে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের রোমান্টিক মুহূর্তে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন কেয়া পায়েল। সামনের টেবিলে সাজানো বাহারি খাবার, ড্রিংকস আর লণ্ঠনের আলো-আঁধারির মাঝে তার এই মিষ্টি হাসি নেটিজেনদের দারুণ মন কেড়েছে।
বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান ‘মায়া শালিক’, ‘ইন্টার্নশিপ’ কিংবা বড়পর্দার ‘কাজলরেখা’ দিয়ে যিনি অল্প সময়েই কোটি কোটি দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন। ব্যস্ত অভিনেত্রী কাজের ফাঁকে নিজেকে বিশ্রাম আর একটু মানসিক প্রশান্তি পেতে ছুটে গেছেন প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি থাইল্যান্ডের নীল সমুদ্রসৈকত ফুকেট দ্বীপে। ফুকেটের চোখজুড়ানো আর মনমাতানো সম্প্রতি একগুচ্ছ ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে নিয়েছেন সাদিয়া আয়মান, যা মুহূর্তেই নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়ে পড়ে। পোস্ট করা ছবির ক্যাপশনে অভিনেত্রী নিজের ভালোলাগার অনুভূতি প্রকাশ করে লিখেছেন— শুধু সমুদ্র আর আমি! ঠিক এখানেই আমার থাকা উচিত। সেই সঙ্গে সেখানকার ফুরফুরে পরিবেশ ও সুস্বাদু খাবারের প্রশংসা করে সাদিয়া আয়মান আরও লিখিছেন— সমুদ্রের তীরে সোনালি বিকেল আর একটুখানি রোদে পোড়া তামাটে ত্বকেই যেন জীবনটা একদম নিখুঁত মনে হচ্ছে। আর সমুদ্রের গর্জন, লোনা হাওয়া আর নীরবতার মাঝে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন নিজের সত্যিকারের ঠিকানা বলে জানান অভিনেত্রী।
চট্টগ্রাম বিভাগের স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো ছাড়া দেশের বাকি সব শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু বলেন, পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সূচিতেই পরীক্ষা চলবে এবং শিক্ষা বোর্ডগুলো সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। এর আগে সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় দেশের সার্বিক পরীক্ষা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা, শিক্ষা সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় জানানো হয়, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে শুধু চট্টগ্রাম বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। গতকালের পরীক্ষাও একটি কেন্দ্র ছাড়া প্রায় সব কেন্দ্রেই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সভায় সিদ্ধান্ত হয়, চট্টগ্রাম বিভাগ ব্যতীত দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে মঙ্গলবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা দুর্যোগপূর্ণ এলাকার পরীক্ষা স্থগিত, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। এসব দাবিতে ঢাকার সায়েন্স ল্যাব, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সংশোধন আনার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে প্রয়োজন হলে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা যায়। ইসি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই কমিশনের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সংশোধনীর খসড়া ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় সশস্ত্র বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পথ তৈরি হবে। ইসির কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। একই ধরনের বিধান এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কার্যকর করতে চায় কমিশন, যাতে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের মোতায়েন করা সম্ভব হয়। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন-সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলতে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র্যাব, আনসার, আনসার ব্যাটালিয়ন, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং প্রতিরক্ষা সেবা বিভাগকে বোঝানো হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এই সংজ্ঞার আওতায় নেই। প্রস্তাবিত পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা কয়েকটি সংজ্ঞায় সংশোধনী আনছি। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে। স্থানীয় সরকারের কিছু স্তরের নির্বাচনে তারা ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অন্য ক্ষেত্রে নেই। যেসব ক্ষেত্রে নেই, সেখানে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জেলা পরিষদ নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনে এই বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে মঙ্গলবার অথবা বুধবার কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংজ্ঞা পরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা মানেই তাদের মোতায়েন বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজন হলে মোতায়েন করা হবে, আর প্রয়োজন না হলে হবে না। বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের নজির নেই। তবে ২০১১ সালের অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে পাঁচ দিনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছিল তৎকালীন নির্বাচন কমিশন। যদিও সেই অনুরোধ বাস্তবায়ন হয়নি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যকে আট দিনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল। ভোটের আগের তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের চার দিন তারা দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ১৩টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় এবং অনেক জনপ্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন বড় ধরনের নির্বাচনী ব্যাকলগের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আগামী আগস্টের প্রথমার্ধে তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে এবং স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের আচরণবিধির খসড়া মতামতের জন্য কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসি ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০২৫ সংশোধন করেছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ভোটকেন্দ্র রাখার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আইনি পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী অক্টোবর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা সম্ভব হবে।
টানা বৃষ্টির মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের মূল্যায়ন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রুমিন ফারহানা জানতে চান, টানা বৃষ্টিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধ সত্ত্বেও কেন পরীক্ষা কয়েকদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়নি। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৬৪ জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে স্থানীয় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরীক্ষা স্থগিত বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রথমে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত সারাদেশে পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতিই ছিল। তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া কুমিল্লা মহিলা কলেজে এক পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ার ঘটনায় তাকে শুকনো পোশাকের ব্যবস্থা করে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের দুটি প্রশ্নে ত্রুটি পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি না হয়, সেজন্য ওই দুটি প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল এবং পূর্ববর্তী মডারেটরদের তৈরি প্রশ্নই এ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে।
বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন না হয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারেনি, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বর্ষাকালে পরীক্ষা পরিচালনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যেসব কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করেছে, সেখানে দ্রুত বিকল্প কেন্দ্র নির্ধারণ করে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা সরকারি কলেজের ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। এছাড়া দেশের আরও কয়েকটি কেন্দ্রে সাময়িক সমস্যা দেখা দিলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোথাও যদি প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে, তাহলে তদন্ত ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ চলছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমের ঝুঁকি এড়াতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি আরও এগিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে ধাপে ধাপে এসএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিসেম্বর-জানুয়ারি শিক্ষাবর্ষ চালুর বিষয়েও সরকার কাজ করছে। তবে এ ক্ষেত্রে সিলেবাস সম্পন্ন করার বিষয়টি সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখা হবে। তিনি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে সবাই যেন পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলের কাছে দুই ট্যাংকারে ড্রোন হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। এ ঘটনায় নয়াদিল্লিতে ইরানের দূতাবাসের উপপ্রধানকে তলব করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ইরানি দূতাবাসের উপপ্রধান মোহাম্মদ জাভেদ হোসেইনিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়। তবে বৈঠকে তাকে কী বার্তা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যাংকার মোম্বাসা ও আল বাহিয়াহ-কে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, হামলাটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পরিচালনা করেছে। হামলায় মোম্বাসা জাহাজে থাকা এক ভারতীয় ক্রু সদস্য নিহত হন। এছাড়া আরও আটজন আহত হন, যাদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুইজন ইউক্রেনের নাগরিক। আহতদের চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্ধারকারী দলকে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাতে হয়েছে। এক বিবৃতিতে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, দেশের ভূখণ্ড, নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে প্রচারণা শুরু করেছে ভারত। বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেছে দেশটি। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিউইয়র্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রচারণা শুরু করে নয়াদিল্লি। প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্ব বর্তমানে নজিরবিহীন সংঘাত, সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও সক্ষম জাতিসংঘ গড়ে তোলা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, ভারতের লক্ষ্য এমন একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেবে ভারত। জয়শঙ্কর জানান, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভারত ‘শান্তি’ নামে একটি নীতিগত কাঠামো অনুসরণ করবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধানের প্রতি সম্মান, পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মিলিত অগ্রগতির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ভারতের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটি এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি শান্তিরক্ষা মিশনে প্রায় তিন লাখ সদস্য পাঠিয়েছে। বর্তমানে জাতিসংঘের ১০টি সক্রিয় মিশনে চার হাজার ৩০০-এর বেশি ভারতীয় শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার, দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়ন, সামুদ্রিক বাণিজ্য সুরক্ষা এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে ভারতের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, উন্নয়ন অংশীদারত্ব এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর খাদ্য, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের বিভিন্ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক কল্যাণে দেশটির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। বক্তব্যের শেষে জয়শঙ্কর জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ভারতের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের উপস্থিতি জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে এবং একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গঠনে ভূমিকা রাখবে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষকে আবারও যুদ্ধে না ফেরার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে প্রণালির উপকূলীয় দেশগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বেইজিং। খবর আনাদোলু এজেন্সির। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ায় চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো আহ্বান বিবেচনায় নিয়ে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে হবে এবং নতুন করে সংঘাত এড়াতে হবে। লিন জিয়ান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচিত সংঘাত যেন আরও বিস্তৃত না হয় এবং নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ না বাড়ে, তা নিশ্চিত করা উচিত। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় দেশগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং প্রণালিতে দ্রুত স্বাভাবিক ও নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃস্থাপনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা। চীনের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়ে বেইজিং বলেছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত একই লক্ষ্য নিয়ে সংকটের গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে কাজ করা।
২০২৬ সালেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও শেনজেন অঞ্চলের বাইরের ৬২টি দেশের নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা বহাল রেখেছে জার্মানি। তবে এ তালিকায় স্থান পায়নি বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আগের মতোই জার্মানিতে ভ্রমণের জন্য ভিসা নিতে হবে। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে অবস্থান করতে পারবেন। এই সুবিধা পর্যটন, ব্যবসায়িক সফর, পারিবারিক সাক্ষাৎ কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ভিসামুক্ত প্রবেশের এই সুযোগ কোনো ধরনের চাকরি, কর্মসংস্থান বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে না। এসব উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ধরনের ভিসা বা আবাসিক অনুমতি নিতে হবে। ভিসামুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইসরায়েল, ব্রাজিল, মেক্সিকো, ইউক্রেন, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, অস্ট্রেলিয়াসহ মোট ৬২টি দেশ ও অঞ্চল। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এ তালিকার বাইরে থাকায় জার্মানিতে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ, ব্যবসায়িক সফর কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে যেতে আগের নিয়ম অনুযায়ী শেনজেন ভিসা গ্রহণ করতে হবে।
হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলের কাছে দুই ট্যাংকারে ড্রোন হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। এ ঘটনায় নয়াদিল্লিতে ইরানের দূতাবাসের উপপ্রধানকে তলব করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ইরানি দূতাবাসের উপপ্রধান মোহাম্মদ জাভেদ হোসেইনিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়। তবে বৈঠকে তাকে কী বার্তা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যাংকার মোম্বাসা ও আল বাহিয়াহ-কে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, হামলাটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পরিচালনা করেছে। হামলায় মোম্বাসা জাহাজে থাকা এক ভারতীয় ক্রু সদস্য নিহত হন। এছাড়া আরও আটজন আহত হন, যাদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুইজন ইউক্রেনের নাগরিক। আহতদের চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্ধারকারী দলকে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাতে হয়েছে। এক বিবৃতিতে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, দেশের ভূখণ্ড, নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।