চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ৪৬টি নির্ধারিত মার্কিন কোম্পানির তৈরি পণ্য কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো তালিকাভুক্ত মার্কিন কোম্পানিগুলোর উৎপাদিত পণ্য কিনতে পারবে না। নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন এবং রেথিয়ন মিসাইল ও প্রতিরক্ষাসহ মোট ৪৬টি মার্কিন প্রতিষ্ঠান। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনের সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার আওতায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। তবে চীনে পরিচালিত মার্কিন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আদেশটি জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। সূত্র: সিনহুয়া।
সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্ট লাইসেন্স প্রদানের জন্য মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেও তা স্থগিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে চট্টগ্রামের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স প্রদানের জন্য প্রথমবারের মতো লিখিত পরীক্ষার আয়োজন করে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি (সিইভিটিএ)। ২ হাজার ৫২১ লাইসেন্সপ্রত্যাশী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। যাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীপন্থি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতরাও অংশ নেন পরীক্ষায়। কিন্তু ফলাফলে দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিচয়ে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের এক-দুজন ছাড়া কেউ পাস করতে পারেননি লিখিত পরীক্ষায়। ফলে পরীক্ষার পর থেকেই অদৃশ্য চাপ তৈরি হয় এনবিআরের ওপর। নিয়মানুযায়ী পরীক্ষার দিনই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও সময় লাগে ১৫ দিন। ১ জুন প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ২১০ জন পাস করেছেন। তবে তার মধ্যে দলীয় নেতাকর্মীরা নেই একেবারেই। এতেই তোলপাড় শুরু হয়। শাসক দলের একাধিক নেতাকর্মী প্রকাশিত ফলাফল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রকাশ্যে। সবশেষ গত ১৭ জুন লিখিত পরীক্ষায় পাস করা লাইসেন্স-প্রত্যাশীদের মৌখিক পরীক্ষার নোটিস ইস্যু করে এনবিআর। ২১ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত চারটি ধাপে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই নোটিস জারির এক দিন পর ১৮ জুন অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সেই মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পাস করা লাইসেন্সপ্রত্যাশীদের ধারণা, দলীয় নেতাকর্মীদের লাইসেন্স দিতেই নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়েছে। পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আমদানি-রপ্তানি, পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণ কার্যক্রমে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা আমদানিকারক কিংবা রপ্তানিকারকের অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের আমলে দলীয় বিবেচনায় ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপেই লোভনীয় এই কাজের লাইসেন্স দেওয়া হতো। কিন্তু সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, লাইসেন্স দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা গ্রহণ ও লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্ব কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির (সিইভিটিএ) ওপর ন্যস্ত করা হয়, যা এই খাতে জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে গত জানুয়ারিতে নতুন করে সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স প্রদানের জন্য আবেদন আহ্বান করে এনবিআর। লাইসেন্স পেতে আবেদন করেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার লাইসেন্সপ্রত্যাশী। যাচাই-বাছাই করে লিখিত পরীক্ষার জন্য ২৯৮৭ আবেদনকারীকে মনোনীত করা হয়। গত ১৬ মে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। মনোনীত প্রায় তিন হাজার লাইসেন্সপ্রত্যাশীর মধ্যে ২৫২১ জন সরাসরি পরীক্ষায় অংশ নেন। ৮০ নম্বরের পরীক্ষায় পাস মার্ক নির্ধারণ করা হয় ৪০, যা অর্জন করতে পেরেছেন মাত্র ২১০ লাইসেন্সপ্রত্যাশী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কাস্টমস কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ঠিকাদাররা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পারেননি কেউ। ফলে পরীক্ষার পর থেকে ফলাফলে অনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হয় রাজনৈতিক মহল থেকে। একপর্যায়ে ১১০ জনের একটি তালিকাও ধরিয়ে দেওয়া হয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঘোষণা করার জন্য। তালিকাটি এনবিআরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সিইভিটিএ’র কাছে পৌঁছে দিয়ে বলেন, এই ১১০ জনকে পাস করাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের চাপ আছে। কিন্তু এনবিআরের কোনো কর্মকর্তা তালিকা পৌঁছে দিয়েছেন কিংবা সরকারের উচ্চপর্যায় বলতে কী বোঝাতে চাচ্ছেন— এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি ওই কাস্টমস কর্মকর্তা। তিনি জানান, পরীক্ষার ফলাফলে অনৈতিক হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না এমন সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তারা। পরীক্ষার দিন ১৬ মে মধ্যরাতেই ফলাফল চূড়ান্ত হয়ে যায়। ২১০ জনের তালিকাসহ প্রতিবেদন তৈরি করে কমিটির ছয় সদস্য সই করেন। বিধি অনুযায়ী, পরদিনই ফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে টানাপোড়েনের কারণে নির্ধারিত সময়ে ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সবশেষ পরীক্ষা নেওয়ার ১৫ দিন পর ১ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাফল না দেওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২১০ জন উত্তীর্ণ লাইসেন্স প্রত্যাশীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ জানান, লাইসেন্স প্রদান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা। প্রকাশ্যে বিভিন্ন সভা সেমিনারেও ক্ষোভ জানান তারা। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘দীর্ঘ ১৭টা বছর মামলা, হামলা, জেল খেটে ব্যবসা বাণিজ্য ও চাকরি-বাকরি কিছুই জোটেনি দলের নেতাকর্মীদের। আজ সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্সে বঞ্চিত হলো অসংখ্য নেতাকর্মী। ১৭ বছর বিএনপি করার অপরাধে বঞ্চিত, এখনো বিধি ও আত্মীয়দের কারণে বঞ্চিত দলের নেতাকর্মীরা।’ চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল লেখেন, ‘আওয়ামী দোসরদের লাইসেন্স দিচ্ছে অথচ আমরা রাস্তায়’। সৌরভ প্রিয় পাল জানান, পরীক্ষার পরদিন ফলাফল প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু ১৫ দিন পর ফলাফল দিয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিএনপি নেতাকর্মীরা সবাই ফেল করেছেন, কিন্তু উত্তীর্ণদের মধ্যে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও রয়েছেন। এটা রহস্যজনক বলেই ক্ষোভ জানিয়েছেন তিনি। পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে অনৈতিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে নতুন লাইসেন্স প্রদানের এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে উঠে পড়ে লাগে প্রভাবশালী একটি চক্র। গত বৃহস্পতিবার এনবিআরের কাস্টমস মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তি শাখা থেকে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে স্থগিতাদেশের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তার দাবি, বিধিমালায় এনবিআরের পক্ষ থেকে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করার এখতিয়ার থাকলেও স্থগিত করার কোনো বিধান নেই। তিনি জানান, ‘বিধিমালা অনুযায়ী ২৪ জুনের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ না করার জন্যও বিভিন্ন পর্যায় থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই চাপ উপেক্ষা করে সিইভিটিএ গত ১৭ জুন মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করে। কিন্তু পরদিনই এনবিআর থেকে পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ আসে।’ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো এই পরীক্ষার আয়োজন করে এনবিআর-অধীনস্থ সংস্থা সিইভিটিএ। আবেদন যাচাই-বাছাই, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা পরিচালনা ও ফল প্রকাশের জন্য ছয় সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়। পরীক্ষা কমিটির সদস্যদের দাবি, এনবিআরের পক্ষ থেকে পাঠানো তালিকায় এমন পরীক্ষার্থীর নামও ছিল, যারা লিখিত পরীক্ষায় ১০ নম্বরও পাননি। তাদের অন্তর্ভুক্ত না করায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তারা। পরীক্ষার আয়োজক প্রতিষ্ঠান সিইভিটিএ মহাপরিচালক ম সফিউজ্জামান জানান, ‘বিধিমালা অনুযায়ী দুই মাসের মধ্যে পরীক্ষা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা। আমরা সে অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছিলাম। কিন্তু এনবিআরের পক্ষ থেকে পরীক্ষাটি আপাতত স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে কী কারণে স্থগিত করা নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না। এনবিআরের এমন এখতিয়ার আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিনিয়র কর্মকর্তারা কোনো নির্দেশনা দিলে সেটার এখতিয়ার তার আছে কি না এমন প্রশ্ন করার অধিকার জুনিয়র কর্মকর্তাদের নেই। তবে এনবিআর যখন এমন নির্দেশনা দিয়েছে, সেটা বিচার বিবেচনা করেই দিয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সিইভিটিএ’র মহাপরিচালক জানান, তার ওপর এমন কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল না। এমনকি পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তার অধীনস্ত কর্মকর্তারাও কেউ এমন অভিযোগ তার কাছে করেননি। ১১০ জনের যে তালিকার কথা বলা হচ্ছে, এই বিষয়েও তার কিছু জানা নেই বলে জানান। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য চেয়ে এসএমএস পাঠালেও সাড়া মেলেনি। চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের তালিকাভুক্ত প্রায় তিন হাজার সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স আছে। এটাই অতিরিক্ত। সবাই কাজ পায় না। কাজ না থাকায় অনেকে লাইসেন্স বিক্রিও করে দিয়েছেন। এই বাস্তবতায় নতুন লাইসেন্স দেয়ার তেমন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। তারপরও সরকার নতুন লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আবার প্রক্রিয়া স্থগিতও করেছে। কেন উদ্যোগ নিল আর কেন তা স্থগিত করল- সেটা অবগত নই।
বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ৩০.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় অর্জন করেছে। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই অসামান্য অবদান আবারও প্রমাণিত হলো। মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের চতুর্দশ বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়। সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৫.৬ শতাংশ। রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ থেকে এসেছে ৪.২৬ বিলিয়ন ডলার। এর ঠিক পরপরই তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছে ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার। এই শীর্ষ তিন দেশ সম্মিলিতভাবে ১৩.১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৩.৪ শতাংশ। তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার। এর পরের অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ২.৮০ বিলিয়ন ডলার। মন্ত্রীর দেওয়া এই পরিসংখ্যান দেশের অর্থনীতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের শ্রমবাজারের একচ্ছত্র আধিপত্যকে আবারও সামনে এনেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইন—এই ছয়টি দেশ থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৩.৬৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে, যা মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রায় ৪৫ শতাংশ। এদিকে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যেও রেমিট্যান্সের গতি বেশ ভালো ছিল। এর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইতালি, যেখান থেকে এসেছে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে ফ্রান্স থেকে ৩৩৫.৫৯ মিলিয়ন ডলার এবং গ্রিস থেকে ১৮৫.২১ মিলিয়ন ডলার এসেছে। এ ছাড়া জার্মানি থেকে ১৮০.৬২ মিলিয়ন ও পর্তুগাল থেকে এসেছে ১০২.৪৩ মিলিয়ন ডলার। প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে অন্য দেশগুলো থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিট্যান্স এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২২৭.০৪ মিলিয়ন ডলার, কানাডা থেকে ২২৩.৯৮ মিলিয়ন ডলার, অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৭৭.০৯ মিলিয়ন ডলার এবং জর্ডান থেকে ১৬৮.১৭ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪০২.৯১ মিলিয়ন ডলার, মালদ্বীপ থেকে ১৪১.০৯ মিলিয়ন ডলার, মরিশাস থেকে ১৪৩.৭১ মিলিয়ন ডলার, জাপান থেকে ১০৫.৯৪ মিলিয়ন ডলার এবং ব্রুনাই দারুসসালাম থেকে ৮৭.৩৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।
বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে গতিশীল করতে নীতিগত সংস্কার, কর ও শুল্ক হ্রাস এবং সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ‘সৌর বিপ্লব’ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার ক্ষেত্র হতে পারে, বিশেষ করে রুফটপ সোলার ও বিতরণভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক এক সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “পাকিস্তানে স্বল্প সময়ে সৌরবিদ্যুতের বিস্তৃত ব্যবহার বিদ্যুৎ খাতের চিত্র বদলে দিয়েছে। বাংলাদেশও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে।” তিনি জানান, এবারের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও ব্যাটারি শিল্পে কিছু কর ও রাজস্ব সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে কৃষি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।” সংলাপে উপস্থাপিত ‘সোলার রাশ’ শীর্ষক প্রবন্ধে মোহাম্মদ বাসিত ঘৌরি বলেন, “বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুতের রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তবে উচ্চ কর, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত জটিলতা এ খাতের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।” তিনি জানান, ২০২৫ অর্থবছরে পাকিস্তানে সৌর প্যানেল আমদানি ১৭ দশমিক ৯ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা দেশটির গ্রিড সক্ষমতার চেয়েও বেশি। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২৮ থেকে ৩৮ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপিত হয়েছে, যার বড় অংশই বিতরণভিত্তিক ব্যবস্থায়। তার ভাষ্যে, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য ও গ্রিড ব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের দ্রুত বিস্তারের প্রধান কারণ। পাশাপাশি চীনে উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে সৌর প্যানেলের দাম কমে যাওয়া এই খাতে ‘সোলার রাশ’ তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৭৩ লাখ পরিবার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যার বড় অংশই গ্রামীণ এলাকায়।” সৌরবিদ্যুতের কারণে বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমেছে এবং আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সংলাপে উপস্থাপিত আরেকটি গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের সোলার হোম সিস্টেম একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অফ-গ্রিড কর্মসূচি ছিল এবং দুই কোটির বেশি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এনেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই কর্মসূচির গতি কমে এসেছে এবং অনেক সিস্টেম অকার্যকর হয়ে পড়েছে। গবেষণায় বলা হয়, দেশে বর্তমানে নেট-মিটারিংভিত্তিক রুফটপ সোলার স্থাপনার সংখ্যা সীমিত হলেও তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে উচ্চ কর, নেট মিটারিং অনুমোদনের জটিলতা, অর্থায়নের ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা খাতটির বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বলেন, “সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর-সুবিধা দিয়েছে এবং সেচ পাম্পসহ বিভিন্ন খাতে সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশও পাকিস্তানের মতো দ্রুতগতির সৌর রূপান্তরের পথে এগোতে পারে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীনের তৈরি জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি হতে পারে। বর্তমানে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে চীনে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে বলে জানা গেছে। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরেও বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় হতে পারে। তবে এ সফরে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই; বরং আলোচনা ও দর-কষাকষির অগ্রগতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়সংক্রান্ত আলোচনা সাধারণত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। তবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়গুলো অবশ্যই আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০টি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে বহরে থাকা পুরোনো যুদ্ধবিমানগুলোর পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিমান যুক্ত করে আকাশসীমা সুরক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এর মূল লক্ষ্য। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, দেশের বর্তমান যুদ্ধবিমানগুলোর অনেকগুলোই পুরোনো মডেলের। ফলে আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। জে-১০ সিই হলো চীনের বহুল আলোচিত জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানিযোগ্য সংস্করণ। আধুনিক রাডার, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা এবং বহুমুখী যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতার কারণে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের আলোচনা নতুন নয়। গত এক দশকে বিভিন্ন সময় ফ্রান্সের রাফাল, ইউরোপের ইউরোফাইটার টাইফুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে সেসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’কে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনা, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরো সহজলভ্য করার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’র ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবার ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। চীনের ডালিয়ান শহরের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু সহনশীলতা তৈরিতে অংশীদারি, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’কে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনা, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরো সহজলভ্য করা এবং পাশাপাশি ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’কে কার্যকর করতে হবে। সম্মেলনস্থলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। উল্লেখ্য, চীনের ডালিয়ান শহরে ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত চলছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন দাভোস। ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিল্প কাঠামোর পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ, চীনের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টাস্কফোর্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। টাস্কফোর্সের প্রধান কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে— জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা এবং মাঠ পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে অবহিত করা। বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই কমিটি। ১৯ সদস্যের এই টাস্কফোর্সে স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের প্রতিনিধি, দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী, স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রকল্পের প্রতিনিধিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। টাস্কফোর্সের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন-২ শাখার উপসচিব। সভায় আশা প্রকাশ করা হয়, এই উদ্যোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সারাদেশে মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকার কারণে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আগামী ৫ দিন পর বা সপ্তাহের শেষদিকে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়ার দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
ভারতে প্রায় হাজার বছরের পুরোনো মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের বিরুদ্ধে আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। তাঁর এ মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘বিদ্বেষপ্রসূত পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লি বলেছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার ইসলামাবাদের নেই। ভারতের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে জারদারির এক্সে শেয়ার করা একটি পোস্টের পর। সেখানে তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসীর ঐতিহাসিক মসজিদ-ই-গাঞ্জে শাহীদা এবং ভারতের বিভিন্ন মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুরের হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়, ভারতে ঐতিহাসিক মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, এসব স্থাপনার মধ্যে বারাণসীর হাজার বছরের পুরোনো মসজিদ-ই-গাঞ্জে শাহীদাও রয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভারতকে অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতকে বিচ্ছিন্নতা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। পাশাপাশি তিনি সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান জানান। জারদারির এই মন্তব্যের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের করা মন্তব্য ভিত্তিহীন এবং ভারত তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, যা হোক, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনো অবস্থান বা অধিকার তাঁর নেই। জয়সওয়াল আরও বলেন, মানবাধিকার ইস্যুতে পাকিস্তানের নিজস্ব রেকর্ড অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এ ধরনের মন্তব্য আরও বেশি অযৌক্তিক বলে মনে হয়। তাঁর ভাষ্য, ‘পাকিস্তানের নিজস্ব মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ও নিপীড়নের যে ইতিহাস পাকিস্তানের রয়েছে, তা সুপরিচিত।’ ভারতের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে সক্রিয় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো দেশটিতে ধর্মভিত্তিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ভারত বলেছে, ধর্ম অবমাননা-সংক্রান্ত সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলা পাকিস্তানে এখনও অব্যাহত রয়েছে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সরকারি নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আইনও এ পরিস্থিতিকে উৎসাহিত করছে। রণধীর বলেন, জারদারির মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতানির্ভর রাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে কেবল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবেই দেখা যায়, যা পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও ঘৃণানির্ভর জাতীয় নীতির দ্বারা পরিচালিত।’ ভারতের অবস্থান হলো, ইসলামাবাদের ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় এবং এ ধরনের বিষয়ে পাকিস্তানের মন্তব্য দেশটি আগেও একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ৪৬টি নির্ধারিত মার্কিন কোম্পানির তৈরি পণ্য কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো তালিকাভুক্ত মার্কিন কোম্পানিগুলোর উৎপাদিত পণ্য কিনতে পারবে না। নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন এবং রেথিয়ন মিসাইল ও প্রতিরক্ষাসহ মোট ৪৬টি মার্কিন প্রতিষ্ঠান। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনের সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার আওতায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। তবে চীনে পরিচালিত মার্কিন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আদেশটি জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। সূত্র: সিনহুয়া।
পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি সম্মাননাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানোর পর জেলেনস্কি এই পদক্ষেপ নেন। ২০২৩ সালে তৎকালীন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা ইউক্রেনীয় নেতা জেলেনস্কিকে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত করেছিলেন। তবে সম্প্রতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের বিতর্কিত ইউক্রেনীয় ইনসার্জেন্ট আর্মি (ইউপিএ)-এর নামে একটি সামরিক ইউনিটের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইউক্রেনের অনেকের কাছে ইউপিএ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হলেও পোল্যান্ডের দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভলহিনিয়া অঞ্চলে হাজারো জাতিগত পোলিশ নাগরিক হত্যার সঙ্গে গোষ্ঠীটির সংশ্লিষ্টতা ছিল। এই প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে জেলেনস্কির রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি জানান, অতীতের সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক ইতিহাস নিয়ে বিরোধ এড়িয়ে দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখতে ইউক্রেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি পোল্যান্ডের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কিয়েভ কৃতজ্ঞ। জেলেনস্কির প্রতি সংহতি জানিয়ে ইউক্রেনের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পোল্যান্ডের দেওয়া রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেছে, তবুও পোলিশ প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি স্পষ্ট করেছেন যে, ইউক্রেনের প্রতি পোল্যান্ডের সামরিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে শুরু থেকেই পোল্যান্ড ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। দেশটি লাখো ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কেন্দ্রীয় করিডর হিসেবেও কাজ করছে।
ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র দুই নম্বরের জন্য কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও স্বপ্ন থেকে সরে যাননি ভারতের তরুণ সংকেত কুমার। অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি এখন ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোতে বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ভারতের মেরঠের দিওয়ান পাবলিক স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী সংকেত ২০২১ সালে জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় মাত্র দুই নম্বরের জন্য উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন। অনেকেই তাকে বিকল্প পথে এগোনোর পরামর্শ দিলেও তিনি নিজের লক্ষ্যে অটল ছিলেন। কোনো কোচিংয়ের সহায়তা ছাড়াই ইউটিউব লেকচার, পুরোনো প্রশ্নপত্র ও স্বশিক্ষার মাধ্যমে প্রস্তুতি নিয়ে পরের বছর জেইই মেইন ও জেইই অ্যাডভান্সড—উভয় পরীক্ষায় সফল হন। পরে তিনি তিরুবনন্তপুরমের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইআইএসটি) অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। আইআইএসটিতে পড়াশোনার সময় অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেখানে প্রোপালশন বা অ্যারোডাইনামিক্স বেছে নিয়েছিলেন, সেখানে সংকেত ‘ভাইব্রেশনস অ্যান্ড অ্যাকোস্টিকস’ বিষয়ে বিশেষায়িত পড়াশোনা করেন। তার ব্যাচে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি এই বিষয়টি নির্বাচন করেছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি জাপানের শিনরা ইনকর্পোরেশনের একটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান। তিন মাসের ওই অভিজ্ঞতা তার পেশাগত দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করে। আইআইএসটি থেকে ৮.২ সিজিপিএ অর্জনের পর ইসরোর নিয়োগ সাক্ষাৎকারে অংশ নেন সংকেত। সফলভাবে সব ধাপ অতিক্রম করে তিনি বিজ্ঞানী হিসেবে নির্বাচিত হন। তার প্রথম কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়েছে মহেন্দ্রগিরির ইসরো প্রোপালশন কমপ্লেক্সে, যেখানে রকেট উৎক্ষেপণের আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালিত হয়। নিজের এই অর্জনের কৃতিত্ব পরিবারকে দিয়েছেন সংকেত। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে পরিবারের সমর্থনই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। বিশেষ করে তার ভাইয়ের আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা তার যাত্রাপথকে সহজ করেছে। সংকেতের এই গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা—একটি ব্যর্থতা কখনোই জীবনের শেষ নয়; দৃঢ় সংকল্প ও পরিশ্রম থাকলে সাফল্যের দরজা একদিন খুলবেই।
ভারতে প্রায় হাজার বছরের পুরোনো মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের বিরুদ্ধে আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। তাঁর এ মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘বিদ্বেষপ্রসূত পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লি বলেছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার ইসলামাবাদের নেই। ভারতের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে জারদারির এক্সে শেয়ার করা একটি পোস্টের পর। সেখানে তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসীর ঐতিহাসিক মসজিদ-ই-গাঞ্জে শাহীদা এবং ভারতের বিভিন্ন মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুরের হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়, ভারতে ঐতিহাসিক মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, এসব স্থাপনার মধ্যে বারাণসীর হাজার বছরের পুরোনো মসজিদ-ই-গাঞ্জে শাহীদাও রয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভারতকে অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতকে বিচ্ছিন্নতা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। পাশাপাশি তিনি সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান জানান। জারদারির এই মন্তব্যের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের করা মন্তব্য ভিত্তিহীন এবং ভারত তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, যা হোক, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনো অবস্থান বা অধিকার তাঁর নেই। জয়সওয়াল আরও বলেন, মানবাধিকার ইস্যুতে পাকিস্তানের নিজস্ব রেকর্ড অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এ ধরনের মন্তব্য আরও বেশি অযৌক্তিক বলে মনে হয়। তাঁর ভাষ্য, ‘পাকিস্তানের নিজস্ব মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ও নিপীড়নের যে ইতিহাস পাকিস্তানের রয়েছে, তা সুপরিচিত।’ ভারতের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে সক্রিয় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো দেশটিতে ধর্মভিত্তিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ভারত বলেছে, ধর্ম অবমাননা-সংক্রান্ত সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলা পাকিস্তানে এখনও অব্যাহত রয়েছে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সরকারি নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আইনও এ পরিস্থিতিকে উৎসাহিত করছে। রণধীর বলেন, জারদারির মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতানির্ভর রাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে কেবল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবেই দেখা যায়, যা পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও ঘৃণানির্ভর জাতীয় নীতির দ্বারা পরিচালিত।’ ভারতের অবস্থান হলো, ইসলামাবাদের ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় এবং এ ধরনের বিষয়ে পাকিস্তানের মন্তব্য দেশটি আগেও একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।