হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি পণ্যবাহী জাহাজসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এ যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইরান কয়েকটি অপ্রাসঙ্গিক দেশের জাহাজে গুলি চালিয়েছে, যার মধ্যে একটি দক্ষিণ কোরিয়ার কার্গো জাহাজও রয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সাতটি ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো জাহাজে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে যুক্তরাষ্ট্র এই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান শুরু করেছে। দ্য কোরিয়া টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার শিপিং কোম্পানি পরিচালিত পানামা পতাকাবাহী একটি জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সিউল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছাকাছি অবস্থানরত ওই জাহাজে ২৪ জন নাবিক ছিলেন। এর মধ্যে ছয়জন দক্ষিণ কোরীয় এবং বাকিরা বিদেশি নাগরিক। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় দলের পাইপলাইন মজবুত করতে বড় ভূমিকা পালন করে হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগ। যে কারণে প্রতি বছরই এইচপি বিভাগের জন্য খেলার সূচি আলাদা করে সাজানোর চেষ্টা ও পরিকল্পনা থাকে বিসিবির। আসন্ন মৌসুমেও এইচপি নিয়ে বড় পরিকল্পনা রয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের। এর অংশ হিসেবে এইচপির প্রধান কোচ হতে যাচ্ছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। জাতীয় দলে কাজ করা এই কোচের ওপরই পরের মৌসুমের জন্য ভরসা রাখতে যাচ্ছে বিসিবি। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে কথাও হয়েছে সালাউদ্দিনের। আসন্ন পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়বেন সালাউদ্দিন এমনটি জানা গিয়েছে। এ ছাড়া এবারের এইচপি বিভাগে থাকছে না কোনো বয়সের মানদণ্ড। সবমিলিয়ে সাদা এবং লাল বল মিলিয়ে ক্রিকেটার থাকবেন ৩৫ জন। কোচ হিসেবে আরও থাকছেন সোহেল ইসলাম, মিজানুর রহমান বাবুল, রাজিন সালেহ ও তালহা জুবায়েররা। সবকিছু ঠিক থাকলে এইচপির প্রথম সিরিজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই দায়িত্ব বুঝে নেবেন সালাউদ্দিনরা। জানা গেছে, আগামী ১ জুন শুরু হবে সিরিজের ক্যাম্প। জুন মাসের ৩ তারিখ জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল এইচপি বিভাগের সঙ্গে খেলতে আসবে। এরপর ৮, ১০ এবং ১৩ জুন ওয়ানডে সিরিজ মাঠে গড়াবে বগুড়া এবং রাজশাহীতে। এরপর দুটি চারদিনের ম্যাচ মাঠে গড়াবে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। পরবর্তীতে জুলাইয়ে বাংলাদেশ এইচপি দল সফর করবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে তারা তিনটি একদিনের ম্যাচ এবং দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে। এরপর ১৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকবে বাংলাদেশ হাই-পারফরম্যান্স বিভাগ। এবারও সেখানে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টির পরে দুটি চারদিনের ম্যাচ খেলবে তারা। এ ছাড়া ইমার্জিং এশিয়া কাপেও এইচপি থেকে ক্রিকেটারদের খেলানোর কথা রয়েছে।
কুমিরের পেট থেকে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পুমালাঙ্গার কোমাটিপোর্টের কাছে কোমাটি নদীতে প্রায় ৫শ কেজি ওজনের একটি কুমিরের পেট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল নিখোঁজ হয়েছিলেন গাউটেং প্রভিন্স এলাকার এক ব্যবসায়ী (৫৯)। এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর সন্ধান চালানো হয় দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় পুমালাঙ্গার প্রদেশের মোজাম্বিক সীমান্তে ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের কাছে কোমাটিপোর্টে। পুলিশের মুখপাত্র কর্নেল মাভেলা মাসোন্দো বলেছেন, শনিবার (২ মে) উদ্ধারকৃত দেহাবশেষটি ওই ব্যবসায়ীর বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি একটি জলমগ্ন নিচু সেতুর উপর দিয়ে তার ফোর্ড রেঞ্জার গাড়িটি চালানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তিনি গাড়িসহ স্রোতে ভেসে যান। নিখোঁজ ব্যক্তিকে আক্রমণ করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। মাসোন্দো বলেছেন, সাউথ আফ্রিকান পুলিশ সার্ভিস সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইউনিট, ন্যাটজয়েন্ট, স্যানপার্কস, ইএমএস, সিকিউরকন এবং পোর্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে নিয়ে গঠিত একটি যৌথ দল সেই কুমিরটিকে শনাক্ত করেছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়। অনুমতি পাওয়ার পর কুমিরটিকে যন্ত্রণাহীন মৃত্যু দেওয়া হয়। সেটির অন্ত্র থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির পোশাকের সঙ্গে দেহাবশেষ পাওয়া যায়। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য এখন ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। প্রবল স্রোত ও কুমিরের ব্যাপক আনাগোনার কারণে কঠিন এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে অনুসন্ধানকারী দলগুলোর অভিযানের জন্য তাদের নিষ্ঠা ও সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন পুমালাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত প্রাদেশিক কমিশনার মেজর জেনারেল ড. জেফ মখওয়ানাজি।
ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাওয়া এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই ফরাসি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। রোববার (৩ মে) রাতে তার আবাসিক হোস্টেল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য প্যারিসের নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর নাম মহাদেব ঘোষ (২৪)। তিনি প্যারিসে অবস্থিত একটি বিজনেস স্কুলে এমবিএ প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমন্বয়কারী প্রথমে ফোনে বিষয়টি মহাদেবের পরিচিতজনদের জানান। পরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মহাদেব ঘোষ বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শ্যামল কুমার ঘোষ ও সাগরদীপা ঘোষ রায়ের ছেলে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে তিনি ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাওয়া এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই ফরাসি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। রোববার (৩ মে) রাতে তার আবাসিক হোস্টেল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য প্যারিসের নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর নাম মহাদেব ঘোষ (২৪)। তিনি প্যারিসে অবস্থিত একটি বিজনেস স্কুলে এমবিএ প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমন্বয়কারী প্রথমে ফোনে বিষয়টি মহাদেবের পরিচিতজনদের জানান। পরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মহাদেব ঘোষ বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শ্যামল কুমার ঘোষ ও সাগরদীপা ঘোষ রায়ের ছেলে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে তিনি ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
পরিচয়পত্রহীন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। নেই কোনো বৈধ পাসপোর্ট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র। বিদেশের মাটিতে কারাবন্দি অবস্থায় নিভে গেছে জীবনের প্রদীপ। দেশে ফেরার পথও ছিল অনিশ্চিত। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে মানবিক বিবেচনায় দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ গ্রিসের মাটিতেই শেষ ঠিকানা হতে যাচ্ছে প্রবাসী কামরান দেলোয়ার হোসেন খানের। দেশটির রাজধানী এথেন্সের উপকণ্ঠে করিদালোজ কারাগারে গত ১৪ মার্চ মারা যান কামরান। মৃত্যুর পর তার পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে জটিলতায় পড়ে এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাস। তার কাছে পাসপোর্ট কিংবা কোনো সরকারি নথিপত্র না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তবে গ্রিক নথিতে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে উল্লেখ থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় তার লাশের দায়িত্ব নেয় তারা। এসব তথ্য জানিয়ে শনিবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে দূতাবাস। এতে বলা হয়, কামরানের পরিচয় নিশ্চিত করতে অনুসন্ধানে নামেন তারা। অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পূর্বপুরুষদের বাড়ি বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলায়। তবে সেখানে এখন কোনো আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ‘অন্য একটি দেশে অবস্থানরত কামরানের এক ভাইয়ের’ খোঁজ মেলে। টেলিফোনে তিনি জানান, বাংলাদেশে তাদের আর কোনো স্বজন অবশিষ্ট নেই। এ কারণে লাশ বাংলাদেশে না পাঠিয়ে গ্রিসেই দাফন করার জন্য তিনি দূতাবাসের কাছে লিখিত অনাপত্তিপত্র দেন। বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত বাজেট সাধারণত বৈধ নথিপত্রধারী কর্মীদের লাশ দেশে পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। বিদেশে দাফন করার জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ থাকে না। এছাড়া পরিচয় নিশ্চিত না হলে সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো দায়বদ্ধতাও নেই। কিন্তু কামরানের বিষয়টি ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে গ্রহণ করে দূতাবাস। একজন কর্মীর শেষ বিদায় যেন ধর্মীয় বিধানে হয়, সেই অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব উদ্যোগে দাফনের সব ব্যয়ভার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে তারা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৃত কামরান একজন ‘আনডকুমেন্টেড’ কর্মী হওয়া সত্ত্বেও মানবিক কারণে সরকার ও দূতাবাস বিষয়টি দেখভাল করছে। এথেন্স থেকে দূরবর্তী থেসালোনিকি অঞ্চলের কুমুটিনি এলাকায় মুসলিম কবরস্থানে লাশ দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি একদিকে যেমন ব্যয়বহুল, অন্যদিকে স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটির অনুমোদনেরও প্রয়োজনীয়তা ছিল। সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসছে ৭ মে লাশ দাফন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে এক র্যালি থেকে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার কয়েকজন সাংবাদিকের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষ্যে রোববার নিউ ইয়র্কে এ র্যালি অনুষ্ঠিত হয় ‘নিউ ইয়র্ক জার্নালিস্ট কমিউনিটি’ ব্যানারে। পিনাকি তালুকদারের সঞ্চালনায় র্যালিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ভিন্নমতের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের, সিনিয়র সাংবাদিকদের আটক এবং বহু সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সাংবাদিক ও সম্পাদকের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছে, পাসপোর্ট জব্দ করে বিদেশযাত্রা সীমিত করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ বলেন, মিডিয়া প্রতিষ্ঠান দখল, সাংবাদিক ছাঁটাই এবং শতাধিক সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের ঘটনা উদ্বেগজনক। ওয়াশিংটন ডি.সিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ বলেন, মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় দেশের গণমাধ্যমকর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে। র্যালিতে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক লাবলু আনসার, অধ্যাপক হোসনেআরা, শহিদুল ইসলাম, আবু জাফর মাহমুদ, হাকিকুল ইসলাম খোকন, এম ফজলুর রহমান ও মোজাহিদ আনসারী।
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ পদার্থের মজুদ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জল্পনা সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচির কারিগরি বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। বরং ইরানের প্রধান লক্ষ্য এখন চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বন্ধ করা। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক মজুদ নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অনুমাননির্ভর। তিনি দাবি করেন, এসব আলোচনা অতীতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এর মিল নেই। ইসমাইল বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অগ্রাধিকার সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, এখন মূল বিষয় হলো আমেরিকা ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ করা।” একই সঙ্গে তিনি জানান, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের একটি বার্তা তেহরান পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের “অতিরিক্ত ও পরিবর্তনশীল দাবি”র কারণে সেই বার্তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের কারণে বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে আসে। সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন ইসমাইল বাঘাই। জবাবে তিনি বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা ইরানের দায়িত্বের অংশ। যদিও তেহরান এমন এক পক্ষের সঙ্গে কথা বলছে, যারা বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তার মতে, এই পরিস্থিতি আলোচনা কঠিন করে তুললেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা জরুরি। আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। ইসমাইল বাঘাই স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে সরে গিয়েছিল। এরপরই ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তার দাবি, বর্তমান অচলাবস্থার বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের “বৈপরীত্যপূর্ণ আচরণ”। ২০১৫ সালের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তির মাধ্যমে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপে সম্মত হয়েছিল। এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে পারমাণবিক আলোচনা এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবুও তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে না বলেই ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ
হরমুজ প্রণালির যে অংশটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, এই নিয়ন্ত্রিত এলাকাটি পশ্চিম দিকে ইরানের কেশম দ্বীপের পশ্চিম প্রান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কোয়াইন আমিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রেখা দিয়ে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, পূর্ব দিকে এই এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে ইরানের মাউন্ট মোবারক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ আমিরাত পর্যন্ত একটি রেখা দ্বারা। তবে ইরানের দাবি করা এই নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকা আগের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তার ব্যাপ্তি ঠিক কতটুকু, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ‘খাতামুল আনাম্বিয়া (স.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর’-এর কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে হতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী, যদি হরমুজ প্রণালীর কাছে আসতে বা প্রবেশ করতে চায়, তবে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ পদার্থের মজুদ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জল্পনা সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচির কারিগরি বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। বরং ইরানের প্রধান লক্ষ্য এখন চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বন্ধ করা। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক মজুদ নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অনুমাননির্ভর। তিনি দাবি করেন, এসব আলোচনা অতীতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এর মিল নেই। ইসমাইল বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অগ্রাধিকার সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, এখন মূল বিষয় হলো আমেরিকা ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ করা।” একই সঙ্গে তিনি জানান, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের একটি বার্তা তেহরান পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের “অতিরিক্ত ও পরিবর্তনশীল দাবি”র কারণে সেই বার্তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের কারণে বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে আসে। সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন ইসমাইল বাঘাই। জবাবে তিনি বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা ইরানের দায়িত্বের অংশ। যদিও তেহরান এমন এক পক্ষের সঙ্গে কথা বলছে, যারা বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তার মতে, এই পরিস্থিতি আলোচনা কঠিন করে তুললেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা জরুরি। আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। ইসমাইল বাঘাই স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে সরে গিয়েছিল। এরপরই ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তার দাবি, বর্তমান অচলাবস্থার বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের “বৈপরীত্যপূর্ণ আচরণ”। ২০১৫ সালের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তির মাধ্যমে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপে সম্মত হয়েছিল। এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে পারমাণবিক আলোচনা এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবুও তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে না বলেই ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ
হরমুজ প্রণালির যে অংশটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, এই নিয়ন্ত্রিত এলাকাটি পশ্চিম দিকে ইরানের কেশম দ্বীপের পশ্চিম প্রান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কোয়াইন আমিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রেখা দিয়ে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, পূর্ব দিকে এই এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে ইরানের মাউন্ট মোবারক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ আমিরাত পর্যন্ত একটি রেখা দ্বারা। তবে ইরানের দাবি করা এই নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকা আগের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তার ব্যাপ্তি ঠিক কতটুকু, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ‘খাতামুল আনাম্বিয়া (স.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর’-এর কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে হতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী, যদি হরমুজ প্রণালীর কাছে আসতে বা প্রবেশ করতে চায়, তবে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘাঁটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো আর ব্যবহারযোগ্য নেই। স্যাটেলাইট ছবি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বড় অংশই ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কিছু সূত্রের মতে, ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন পাওয়া গেছে। কয়েকটি ঘাঁটি এতটাই ধ্বংস হয়েছে যে সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনায় আছে, তবে কিছু স্থাপনা কৌশলগত কারণে মেরামতের পরিকল্পনাও চলছে। স্যাটেলাইট চিত্রে আরও দেখা যায়, ইরানের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং যুদ্ধবিমান। এসব সরঞ্জাম অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন। একটি সূত্র দাবি করেছে, ইরান এমন জায়গাগুলোতেই বেশি আঘাত করেছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে রাডার ব্যবস্থা যা এই অঞ্চলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সীমিত সম্পদ। এদিকে মার্কিন পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্রের মতে, প্রকৃত খরচ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। বর্তমানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি হচ্ছে না বলে তিনি হতাশ। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর প্রথমবারের মতো ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লিতে দলের সদর দফতর থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও প্রথম মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের আভাস তুলে ধরেন। খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ বাংলা। বিজয় ভাষণে মোদি বলেন, বাংলার জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে—যেখানে উন্নয়ন, আস্থা ও নতুন উদ্যম একসঙ্গে পথ চলবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে বিজেপি দিনরাত কাজ করবে। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শপথ গ্রহণের সম্ভাব্য সময় নিয়েও ইঙ্গিত দেন মোদি। তিনি বলেন, ২৫শে বৈশাখ তথা ৯ মে—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর দিনটিকে সামনে রেখে নতুন যাত্রা শুরু হতে পারে। এই দিনকে তিনি ‘নতুন সূচনার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্নের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, আজকের এই ফলাফলে তাঁর আত্মা নিশ্চয়ই শান্তি পাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বাংলায় এখন ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং রাজ্য উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্পষ্টভাবে উঠে আসে—পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন দিশায় এগোতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।