গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো আমের মৌসুম। পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রাণ আর সুস্বাদু স্বাদ এই সময়ের অন্যতম আকর্ষণ। আম দিয়ে তৈরি ম্যাঙ্গো শেক, স্মুদি, জুস কিংবা বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট গরমের দিনগুলোকে আরও আনন্দময় করে তোলে। তবে এই আনন্দ বেশিদিন থাকে না। মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাজার থেকে আম প্রায় উধাও হয়ে যায়, আর প্রিয় ফলটি খেতে অপেক্ষা করতে হয় পরবর্তী গ্রীষ্ম পর্যন্ত। তবে চাইলে সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে অনেক মাস ধরে আমের স্বাদ উপভোগ করা সম্ভব। ফ্রিজে ঠিকভাবে রাখলে আমের টুকরো ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে এবং স্বাদ-গুণাগুণও অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে। ভালো মানের আম বেছে নিন সংরক্ষণের জন্য এমন আম নির্বাচন করুন, যা পুরোপুরি পাকা, মিষ্টি এবং সতেজ। অতিরিক্ত নরম, পচা বা কালচে দাগযুক্ত আম ব্যবহার না করাই ভালো। ভালো মানের ফল সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন মান বজায় থাকে। ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন আমগুলো প্রথমে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর একটি শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিন, যাতে খোসায় কোনো পানি না থাকে। আর্দ্রতা থেকে গেলে ফ্রিজে বরফ জমে ফলের স্বাদ ও গঠন নষ্ট হতে পারে। সমান আকারে টুকরো করুন খোসা ছাড়িয়ে আঁটি থেকে শাঁস আলাদা করে ছোট বা মাঝারি আকারের সমান টুকরো করে কেটে নিন। একই আকারের টুকরো হলে সেগুলো সমানভাবে জমবে এবং পরে ব্যবহার করতেও সুবিধা হবে। ট্রেতে ছড়িয়ে ফ্রিজে রাখুন কাটা আমের টুকরোগুলো একটি ট্রে বা বড় প্লেটে এমনভাবে সাজান, যাতে একটির সঙ্গে আরেকটি লেগে না থাকে। এরপর ট্রেটি ফুড গ্রেড প্লাস্টিক র্যাপ বা পরিষ্কার পলিথিন দিয়ে ঢেকে ফ্রিজারে রেখে দিন। আগে আলাদাভাবে ফ্রিজ করুন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা, অথবা সারা রাত ফ্রিজারে রাখলে প্রতিটি টুকরো আলাদা আলাদাভাবে জমে যাবে। এতে পরে প্রয়োজনমতো টুকরো বের করতে সুবিধা হবে এবং সবগুলো একসঙ্গে আটকে যাবে না। এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করুন টুকরোগুলো শক্ত হয়ে গেলে সেগুলো একটি জিপ-লক ব্যাগ বা বায়ুরোধী (এয়ারটাইট) পাত্রে ভরে সংরক্ষণ করুন। ব্যাগে যতটা সম্ভব কম বাতাস রাখার চেষ্টা করুন। এতে আমের সতেজতা ও স্বাদ দীর্ঘদিন বজায় থাকবে। কতদিন ভালো থাকবে? এই নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করলে আমের টুকরো সাধারণত ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। এ সময়ের মধ্যে সহজেই ম্যাঙ্গো শেক, স্মুদি, আইসক্রিম, ফলের সালাদ কিংবা বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ যতটুকু প্রয়োজন, কেবল ততটুকু আম ফ্রিজার থেকে বের করুন। অবশিষ্ট অংশ দ্রুত আবার ফ্রিজে রেখে দিন। ব্যবহার করার প্রায় পাঁচ মিনিট আগে আম বের করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে এর স্বাদ ও টেক্সচার আরও ভালো থাকবে।
কুমিল্লার গোলাবাড়ি এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাস দমনে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে লং মার্চের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন যদি মাদকের ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমি নিজেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি দেবো। এমনকি সরকার কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবো।’ শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এমপি মনিরুল হক বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন, কিন্তু গোলাবাড়ি কেন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না? সেখানে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। গ্রেফতার করলে কেউ হয়তো অখুশি হবে এমন চিন্তা থাকলে চলবে না।’ তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উদ্দেশে বলেন, ‘গোলাবাড়ির মূল অপরাধীদের তালিকা করুন। ডিসি সাহেব, এসপি সাহেব, আপনারা যদি পারেন ব্যবস্থা নিন। না হলে বাকিটা আমি দেখবো। প্রয়োজনে গোলাবাড়িতে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে লং মার্চ করবো। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনও আপস হবে না। সরকার যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবো।’ জেলা জজ আদালতের পিপি কাইমুল হক রিংকুকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘মার্ডার, মাদকসহ ৩৫টা মামলার আসামি কীভাবে জামিন পায়? এ বিষয়ে আপনারা কঠোর হন।’ কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু, রেজা হাসানের সভাপতিত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক বজলুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিজিবির সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম, জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর কাইমুল হক রিংকু, অধ্যক্ষ শরীফুল ইসলাম, লাকসাম সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার সনদ বড়ুয়া, সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী অফিসার সুজন চন্দ্র রায়, আদর্শ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা প্রমুখ।
চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার ফলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকলে তেল রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং নতুন বিনিয়োগের সুবাদে আগামী এক দশকের মধ্যেই ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ৬০ দিনের জন্য ইরানের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেয়। এর ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলো সরাসরি ইরানি তেল কিনতে পারবে, ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে পারবে এবং আগে কালো তালিকাভুক্ত ট্যাংকার থেকেও তেল সংগ্রহের সুযোগ পাবে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে ইরানি তেলের ওপর বিধিনিষেধ কার্যত শিথিল হলো। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ১৯৮০ সালে। পরে ২০১০-এর দশকে আরও কঠোর 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' আরোপ করা হয়, যাতে অন্য দেশগুলোকেও ইরানি তেল কেনা থেকে বিরত রাখা হয়। ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির পর কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হলেও ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর সেগুলো আবার কার্যকর হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সিদ্ধান্ত আগের সব ছাড়ের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত। এর মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানির বড় বাধাগুলো সাময়িকভাবে দূর হয়েছে এবং দেশটির জ্বালানি খাত নতুন করে গতি পেতে শুরু করেছে। জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রায় স্থবির অবস্থায় থাকা ইরানের তেল রপ্তানি বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। তবে যুদ্ধের আগে যে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল রপ্তানি হতো, সেই পর্যায়ে ফিরতে এখনও সময় লাগবে। বিশ্ববাজারেও এই ঘোষণার বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজার আগেই ইরানি তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা ধরে নিয়েছিল। তবে রপ্তানি আরও বাড়াতে হলে ইরানকে নতুন ক্রেতা খুঁজতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির অধিকাংশ তেল কিনেছে চীনের ছোট স্বাধীন শোধনাগারগুলো। কিন্তু এখন ইরানি তেলের দাম ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলের কাছাকাছি চলে আসায় আগের মতো সস্তায় কেনার সুযোগ নেই। এ ছাড়া সম্ভাব্য নতুন ক্রেতাদের মধ্যে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের এই ছাড় আপাতত ৬০ দিনের জন্য কার্যকর। পাশাপাশি ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় অনেক আন্তর্জাতিক ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী এখনও ইরানের সঙ্গে বড় আকারে বাণিজ্যে আগ্রহী নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই লাইসেন্স যদি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকে, তাহলে ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো পুরোনো ক্রেতারাও আবার ইরানি তেল আমদানি শুরু করতে পারে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত সুফল এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ প্রাথমিক সমঝোতার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেয়। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের চলাচল আরও সক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সমন্বয়ের জন্য একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে শুধু তেল রপ্তানিই নয়, ইরানের তেল মজুত কমছে, উৎপাদন বাড়ছে এবং পরিবহন ও আর্থিক লেনদেনের ব্যয়ও কমে যাচ্ছে। ফলে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রিতে দেশটি আগের তুলনায় বেশি মুনাফা করছে। তাদের মতে, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকলে, এর সঙ্গে অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত হওয়া, সম্ভাব্য ট্রানজিট ফি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তা যুক্ত হলে আগামী এক দশকে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট
গত বছর আলেক্সান্ডার ইসাককে ১৪৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনেছিল লিভারপুল। ব্রিটিশ ফুটবলে এটাই দলবদলের রেকর্ড ফি। বিবিসির খবর বলছে, এই রেকর্ড ভেঙে দিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডারসন ইলিয়ট। নটিংহ্যাম ফরেস্ট ছেড়ে তিনি যাচ্ছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। কিছু সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ইলিয়টকে কিনতে ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি করেছে সিটি। ফরেস্ট অ্যান্ডারসনের জন্য আরও বেশি অর্থ দাবি করছিল। সে কারণেই সিটির আগের দুটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। তবে ম্যানচেস্টার সিটির সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, অ্যান্ডারসনের জন্য নির্ধারিত ট্রান্সফার ফি ১৩৪ মিলিয়ন ইউরো, যা সিটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এ চুক্তিতে কোনো বোনাস সংযুক্ত নেই। ২৩ বছর বয়সি ইলিয়ট এখন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে। শনিবারের পানামা ম্যাচকে সামনে রেখে তিনি এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিগগির তার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে সিটিতে যোগ দেবেন। এই ফুটবলার ২০২৪ সালে নিউক্যাসল ৪০ মিলিয়ন ইউরোর ট্রান্সফার ফিতে নটিংহাম ফরেস্টে যোগ দেন। এরপর ক্লাবটির হয়ে ৮৮টি ম্যাচ খেলে ৪টি গোল করেছেন। তিনি ফরেস্টকে ২০২৪–২৫ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সপ্তম স্থানে শেষ করতে সাহায্য করেন। এরপরের মৌসুমে দলটি ১৬তম স্থানে শেষ করলেও ইউরোপা লিগের সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
মালদ্বীপে মাত্র চার মাস আগে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা বাংলাদেশি মেজবাহ উদ্দিনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মেজবাহ উদ্দিনের বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মাহাদিয়া গ্রামে। তিনি মোজিবুল হকের (সুরুজ মিয়া) ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানী মালের সিট্রন বাই লেমনগ্রাস কোম্পানির স্টাফ কোয়ার্টার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কবির আহমেদ জানান, স্টাফ কোয়ার্টারের একটি কক্ষে চারজন একসঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার সময় দুইজন কর্মস্থলে এবং দুইজন ছুটিতে ছিলেন। রাতের খাবার খেতে বের হওয়ার পর ফিরে এসে এক সহকর্মী মেজবাহ উদ্দিনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করা হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মামা মো. জহিরুল ইসলাম (সুমন) জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জীবিকার সন্ধানে মেজবাহ উদ্দিন মালদ্বীপে আসেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন বলে পরিবারের ধারণা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন এবং মালদ্বীপ পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বর্তমানে মরদেহ রাজধানী মালের একটি মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। নিহতের পরিবার মালদ্বীপে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে। এ বিষয়ে মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশির এই মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। বিষয়টি সম্পর্কে হাইকমিশন অবগত রয়েছে এবং ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানতে মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় দ্রুত ড্রোন ও ড্রোন-বিধ্বংসী ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এর অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাঁচ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ গড়ে তুলবে দেশটি। সম্মুখসারির যুদ্ধক্ষেত্রের সামরিক ইউনিটগুলোতেও দেশীয়ভাবে তৈরি শতশহস্র মানববিহীন ড্রোন মোতায়েন করা হবে। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও মেরিন বাহিনীর জন্য ১ লাখ ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংখ্যা কমিয়ে প্রায় ৬০ হাজারে নামিয়ে আনে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ড্রোন ২০২৬ সালেই চালু করা হবে। মন্ত্রণালয় জানায়, এসব ড্রোন সব বাহিনীকেই দেওয়া হবে, যাতে প্রতিটি সেনার জন্য ড্রোন একটি নিয়মিত হাতিয়ারে পরিণত হয়। সেনা, নৌ, বিমান ও মেরিন বাহিনীর পাঁচ লাখ সেনাসদস্যকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসাবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক বলেন, “ড্রোন আর সীমিতসংখ্যক ইউনিটের ব্যবহারের জন্য রাখা উচিত না, বরং এটি হবে সর্বজনীন যুদ্ধাস্ত্র।” তিনি আরও বলেন, ড্রোনকে ‘দ্বিতীয় ব্যক্তিগত অস্ত্র’ হিসেবে সেনাদের ব্যবহার করা উচিত। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ড্রোন তৈরিতে চীনা যন্ত্রাংশের পরিবর্তে শতভাগ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত উপাদান ব্যবহার করবে সিউল। দক্ষিণ কোরিয়ার এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন দুই কোরিয়াই ড্রোন সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক বলেন, ইউক্রেইন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে ড্রোন এখন লড়াইয়ের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। স্বল্প খরচে আনেক বেশি ড্রোনের ব্যবহার যুদ্ধের প্রকৃতিই বদলে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়াও নিজেদের মনুষ্যবিহীন হাতিয়ার তৈরির সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য হুমকি বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পরিকল্পনায় লেজার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্রের মতো ড্রোন-রোধী ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়টিও রয়েছে। তাছাড়া, অভিযান পরিচালনার কাঠামোও এমনভাবে বদলানো হবে, যাতে প্রতিটি বাহিনী কেন্দ্রীয় কমান্ডের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালানো এবং হামলা পরিচালনা করতে পারে। এক ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনী শিগগিরই ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার-ব্যবহার্য ড্রোন সংগ্রহ করবে। একইসঙ্গে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ড্রোন-সোয়ার্ম ব্যবস্থা এবং লয়টারিং মিউনিশনও অর্জন করবে। সূত্র: রয়টার্স।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালির অদূরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাতনামা উৎস থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫২ ডলার বা ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ২৬ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫৮ ডলার বা ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ৯২ ডলারে ওঠে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তখন উভয় সূচকই ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরাকে ঘিরে মধ্যপ্রচ্য সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এ কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।
ইবোলা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তিন দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ভিসা প্রদান এবং সৌদিতে প্রবেশও স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি), উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদান থেকে অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে (ভায়া) আসা ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগে ২১ দিনের মধ্যে ওই তিনটি দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সৌদি আরবের পাবলিক হেলথ অথরিটি (ওয়াকায়া) জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দেশটির স্বাস্থ্য নজরদারি ও মহামারি মোকাবিলা ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। প্রাদুর্ভাবের কবলে পড়া দেশগুলোর প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীদের জন্যও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে সৌদি আরব। এর আওতায় প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান-প্রক্রিয়া আরও উন্নত করা হয়েছে। ওয়াকায়া জানিয়েছে, সৌদি আরবের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। এসব পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ইবোলা-সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা রোগী শনাক্ত হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ
গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো আমের মৌসুম। পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রাণ আর সুস্বাদু স্বাদ এই সময়ের অন্যতম আকর্ষণ। আম দিয়ে তৈরি ম্যাঙ্গো শেক, স্মুদি, জুস কিংবা বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট গরমের দিনগুলোকে আরও আনন্দময় করে তোলে। তবে এই আনন্দ বেশিদিন থাকে না। মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাজার থেকে আম প্রায় উধাও হয়ে যায়, আর প্রিয় ফলটি খেতে অপেক্ষা করতে হয় পরবর্তী গ্রীষ্ম পর্যন্ত। তবে চাইলে সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে অনেক মাস ধরে আমের স্বাদ উপভোগ করা সম্ভব। ফ্রিজে ঠিকভাবে রাখলে আমের টুকরো ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে এবং স্বাদ-গুণাগুণও অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে। ভালো মানের আম বেছে নিন সংরক্ষণের জন্য এমন আম নির্বাচন করুন, যা পুরোপুরি পাকা, মিষ্টি এবং সতেজ। অতিরিক্ত নরম, পচা বা কালচে দাগযুক্ত আম ব্যবহার না করাই ভালো। ভালো মানের ফল সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন মান বজায় থাকে। ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন আমগুলো প্রথমে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর একটি শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিন, যাতে খোসায় কোনো পানি না থাকে। আর্দ্রতা থেকে গেলে ফ্রিজে বরফ জমে ফলের স্বাদ ও গঠন নষ্ট হতে পারে। সমান আকারে টুকরো করুন খোসা ছাড়িয়ে আঁটি থেকে শাঁস আলাদা করে ছোট বা মাঝারি আকারের সমান টুকরো করে কেটে নিন। একই আকারের টুকরো হলে সেগুলো সমানভাবে জমবে এবং পরে ব্যবহার করতেও সুবিধা হবে। ট্রেতে ছড়িয়ে ফ্রিজে রাখুন কাটা আমের টুকরোগুলো একটি ট্রে বা বড় প্লেটে এমনভাবে সাজান, যাতে একটির সঙ্গে আরেকটি লেগে না থাকে। এরপর ট্রেটি ফুড গ্রেড প্লাস্টিক র্যাপ বা পরিষ্কার পলিথিন দিয়ে ঢেকে ফ্রিজারে রেখে দিন। আগে আলাদাভাবে ফ্রিজ করুন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা, অথবা সারা রাত ফ্রিজারে রাখলে প্রতিটি টুকরো আলাদা আলাদাভাবে জমে যাবে। এতে পরে প্রয়োজনমতো টুকরো বের করতে সুবিধা হবে এবং সবগুলো একসঙ্গে আটকে যাবে না। এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করুন টুকরোগুলো শক্ত হয়ে গেলে সেগুলো একটি জিপ-লক ব্যাগ বা বায়ুরোধী (এয়ারটাইট) পাত্রে ভরে সংরক্ষণ করুন। ব্যাগে যতটা সম্ভব কম বাতাস রাখার চেষ্টা করুন। এতে আমের সতেজতা ও স্বাদ দীর্ঘদিন বজায় থাকবে। কতদিন ভালো থাকবে? এই নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করলে আমের টুকরো সাধারণত ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। এ সময়ের মধ্যে সহজেই ম্যাঙ্গো শেক, স্মুদি, আইসক্রিম, ফলের সালাদ কিংবা বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ যতটুকু প্রয়োজন, কেবল ততটুকু আম ফ্রিজার থেকে বের করুন। অবশিষ্ট অংশ দ্রুত আবার ফ্রিজে রেখে দিন। ব্যবহার করার প্রায় পাঁচ মিনিট আগে আম বের করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে এর স্বাদ ও টেক্সচার আরও ভালো থাকবে।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার ফলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকলে তেল রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং নতুন বিনিয়োগের সুবাদে আগামী এক দশকের মধ্যেই ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ৬০ দিনের জন্য ইরানের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেয়। এর ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলো সরাসরি ইরানি তেল কিনতে পারবে, ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে পারবে এবং আগে কালো তালিকাভুক্ত ট্যাংকার থেকেও তেল সংগ্রহের সুযোগ পাবে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে ইরানি তেলের ওপর বিধিনিষেধ কার্যত শিথিল হলো। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ১৯৮০ সালে। পরে ২০১০-এর দশকে আরও কঠোর 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' আরোপ করা হয়, যাতে অন্য দেশগুলোকেও ইরানি তেল কেনা থেকে বিরত রাখা হয়। ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির পর কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হলেও ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর সেগুলো আবার কার্যকর হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সিদ্ধান্ত আগের সব ছাড়ের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত। এর মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানির বড় বাধাগুলো সাময়িকভাবে দূর হয়েছে এবং দেশটির জ্বালানি খাত নতুন করে গতি পেতে শুরু করেছে। জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রায় স্থবির অবস্থায় থাকা ইরানের তেল রপ্তানি বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। তবে যুদ্ধের আগে যে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল রপ্তানি হতো, সেই পর্যায়ে ফিরতে এখনও সময় লাগবে। বিশ্ববাজারেও এই ঘোষণার বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজার আগেই ইরানি তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা ধরে নিয়েছিল। তবে রপ্তানি আরও বাড়াতে হলে ইরানকে নতুন ক্রেতা খুঁজতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির অধিকাংশ তেল কিনেছে চীনের ছোট স্বাধীন শোধনাগারগুলো। কিন্তু এখন ইরানি তেলের দাম ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলের কাছাকাছি চলে আসায় আগের মতো সস্তায় কেনার সুযোগ নেই। এ ছাড়া সম্ভাব্য নতুন ক্রেতাদের মধ্যে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের এই ছাড় আপাতত ৬০ দিনের জন্য কার্যকর। পাশাপাশি ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় অনেক আন্তর্জাতিক ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী এখনও ইরানের সঙ্গে বড় আকারে বাণিজ্যে আগ্রহী নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই লাইসেন্স যদি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকে, তাহলে ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো পুরোনো ক্রেতারাও আবার ইরানি তেল আমদানি শুরু করতে পারে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত সুফল এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ প্রাথমিক সমঝোতার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেয়। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের চলাচল আরও সক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সমন্বয়ের জন্য একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে শুধু তেল রপ্তানিই নয়, ইরানের তেল মজুত কমছে, উৎপাদন বাড়ছে এবং পরিবহন ও আর্থিক লেনদেনের ব্যয়ও কমে যাচ্ছে। ফলে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রিতে দেশটি আগের তুলনায় বেশি মুনাফা করছে। তাদের মতে, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকলে, এর সঙ্গে অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত হওয়া, সম্ভাব্য ট্রানজিট ফি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তা যুক্ত হলে আগামী এক দশকে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট
ইবোলা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তিন দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ভিসা প্রদান এবং সৌদিতে প্রবেশও স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি), উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদান থেকে অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে (ভায়া) আসা ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগে ২১ দিনের মধ্যে ওই তিনটি দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সৌদি আরবের পাবলিক হেলথ অথরিটি (ওয়াকায়া) জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দেশটির স্বাস্থ্য নজরদারি ও মহামারি মোকাবিলা ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। প্রাদুর্ভাবের কবলে পড়া দেশগুলোর প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীদের জন্যও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে সৌদি আরব। এর আওতায় প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান-প্রক্রিয়া আরও উন্নত করা হয়েছে। ওয়াকায়া জানিয়েছে, সৌদি আরবের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। এসব পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ইবোলা-সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা রোগী শনাক্ত হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর ঐক্য ও প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে বাল্টিক রাষ্ট্র ও পোল্যান্ডের মধ্যকার অন্তত দুটি দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়া ‘উসকানিমূলক’ সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পশ্চিমা গোয়েন্দারা। তাদের মতে, ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে চাপ বাড়তে থাকায় ক্রেমলিন নতুন কৌশল গ্রহণের চেষ্টা করতে পারে। গত সোমবার লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, বাল্টিক অঞ্চল কিংবা পোল্যান্ডকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক উসকানির প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ সামরিক আগ্রাসনে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। ন্যাটোর আরেক সদস্য দেশের এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদও গত সপ্তাহে একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানান। তার ভাষ্য, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে কিছু পরিকল্পনা করছেন। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যখন ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কতটা দৃঢ়—তা যাচাই করতে ন্যাটোর তুলনামূলক ছোট সদস্য রাষ্ট্র এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তার মতে, পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে এটি পুতিনের শেষ দিকের একটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ বাজি’ হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গদানস্কে অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক সম্মেলন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর একটি জোট হিসেবে আমরা প্রস্তুতি নিতে চাই।’ লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, রাশিয়ার এখনই দ্বিতীয় কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধফ্রন্ট খোলার সক্ষমতা নেই। তবে তারা ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা অন্যান্য সীমিত আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হতে পারে ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর প্রতি বার্তা দেওয়া—‘ইউক্রেনকে সমর্থন বন্ধ করুন, নইলে আপনাদেরও নিজেদের সমস্যা তৈরি হবে।’ সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রকে সামনে রেখে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মহাকাশ, সাইবার যুদ্ধ এবং ইলেকট্রনিক স্পেকট্রাম সক্ষমতা জোরদারে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়েল গ্রসম্যান দ্য জেরুজালেম পোস্টকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নতুন বাস্তবতায় শুধু অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নয়, আগামী দিনের সংঘাতের জন্যও বাহিনীকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি তথ্য বিপ্লব চলছে। আইডিএফের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সক্ষমতা আমাদের সর্বত্র নিয়ে যেতে হবে। শুধু আগের যুদ্ধের জন্য নয়, আসন্ন যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই আমাদের সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে সংগঠিত হতে হবে। গ্রসম্যান বলেন, ইসরায়েল এখন উপলব্ধি করছে যে শক্তিশালী মহাকাশ কৌশল ছাড়া ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। কারণ, আধুনিক যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে ডেটা এবং নজরদারি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আইডিএফ চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদি সামরিক পরিকল্পনায় মহাকাশকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। গ্রসম্যান বলেন, আইডিএফ প্রধান স্পষ্ট বলেছেন, আমরা মহাকাশকে উপেক্ষা করতে পারি না। এরপর থেকেই মহাকাশ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগে আমাদের বিপুল শক্তি ও সম্পদ বরাদ্দ করা হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ বছর আগে ইসরায়েল মহাকাশ কর্মসূচি শুরু করলেও বর্তমানে দেশটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুনে পরিচালিত ১২ দিনের অভিযানে ইরানের ১২ হাজারের বেশি ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ চলাকালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজারেরও বেশি। গ্রসম্যান জানান, ইসরায়েলের সীমান্ত থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে বিমানবাহিনীর অভিযান পরিচালনার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে নতুন স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা। তার মতে, ভবিষ্যতে আরও বেশি ডেটা স্থানান্তর এবং মহাকাশভিত্তিক নতুন সক্ষমতা তৈরির জন্য একাধিক পেলোডসহ নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে হবে এবং সেই সক্ষমতা ইসরায়েল অর্জন করছে। রাশিয়া, চীন ও ইরানের মহাকাশে স্যাটেলাইট ধ্বংস কিংবা কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহাকাশ থেকেও হুমকি রয়েছে। আমরা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বৃহত্তর প্রতিরক্ষা কাঠামোর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো আলাদা স্পেস কমান্ড গঠনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসরায়েলের পুরো মহাকাশ ইকোসিস্টেমকে একই কাঠামোর আওতায় আনা। তার ব্যাখ্যায়, এতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, নজরদারি, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, স্যাটেলাইট প্রতিরক্ষা, স্যাটেলাইট আক্রমণ এবং নতুন প্রকৌশল সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আইডিএফ তাদের সিফোরআই ও সাইবার প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর পুনর্গঠন করে। এর আওতায় গঠন করা হয় নতুন এআই-কেন্দ্রিক ব্রিগেড স্ফেইরা এবং সম্প্রসারিত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট। এই ব্রিগেড ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, এআই এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনা করছে। আইডিএফের দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া প্রায় ১ হাজার ১০০টি ড্রোনের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ নিষ্ক্রিয় করে ৫১১৪তম স্পেকট্রাম ওয়ারফেয়ার ব্যাটালিয়ন। সূত্রমতে, ইরান ও লেবাননে পরিচালিত স্পেকট্রাম-সম্পর্কিত অভিযান ছিল যুদ্ধের সবচেয়ে কম আলোচিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি। গ্রসম্যান বলেন, ২৮শে ফেব্রুয়ারির আগের মাসগুলোতে, গ্রসম্যানের কমিউনিকেশনস কমান্ডের ক্ষেত্রে আইডিএফ প্রায় যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির কাছাকাছি ছিল। অনেক দিক থেকেই, যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে প্রায় আট মাস সময় কেটে যায়, অপারেশন রোয়ারিং লায়ন ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে জুন ২০২৫-এর যুদ্ধের একটি সম্প্রসারণ বা দ্বিতীয় পর্ব। অপারেশন রাইজিং লায়ন থেকে আমরা ইরানের সাথে যুদ্ধ করার বিষয়ে অনেক কিছু শিখেছি। আমরা সামরিক শক্তি ব্যবহারের একটি নতুন কৌশল শিখেছি, যা যুদ্ধ এবং তথ্যের কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের উপর আলোকপাত করে। বিষয়টি তিনি ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, এর ফলে আমরা যুদ্ধ-সম্পর্কিত কয়েক ডজন নতুন সমাধান অর্জন করতে পেরেছিলাম। তবে তিনি কিছু গোপনীয় শিক্ষা গোপন রাখেন। আইডিএফের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের যুদ্ধের সময় বিমান বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পে ২,৬০০টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বিমান বাহিনী যখন এত বিপুল সংখ্যক লক্ষ্যবস্তুর সন্ধান করত, তখন তারা গ্রসম্যানের ব্রিগেডের সরবরাহ করা একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করত। গ্রসম্যান বলেন, আমরা আইডিএফ-এর তথ্য কারখানা নির্মাণ ও পরিচালনা করছি। কমিউনিকেশনস কমান্ডের আগে থেকেই একটি ডেটা সেন্টার এবং ডেটাবেস ছিল। এখন বিমান বাহিনী, সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ এবং স্থল বাহিনীর নিজস্ব ডেটাবেস রয়েছে যা নিয়মকানুনের অধীনে পরিচালিত হয় এবং তারা ডিজিটাল আর্কিটেকচার ব্যবহার করছে, যা আইডিএফ-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং তথ্যের আরও ভালো ব্যবহারে সহায়তা করবে। অপারেশন রাইজিং লায়ন এবং রোয়ারিং লায়ন চলাকালীন, গ্রসম্যানের ব্রিগেড (যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে) দীর্ঘ দূরত্বে বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ ও স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছিল, যার ফলে ইসরায়েল দূরবর্তী দেশগুলোর তৃতীয় বৃত্তটিকে ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী দেশগুলোর প্রথম বৃত্তের সমান করে ফেলে। এই অবকাঠামোর ফলে সীমান্তবর্তী দেশ এবং হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কার্যত কোনো পার্থক্য থাকছে না। তিনি বলেন, এতে কোনো জাদু নেই। যোগাযোগ স্থাপন, ছবি তোলা, হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে তথ্য প্রেরণ এবং হাজার হাজার কিলোমিটারের ফুটেজ রেকর্ড করার জন্য স্যাটেলাইটের প্রয়োজন হয়। গ্রসম্যান উল্লেখ করেন, এর জন্য পদার্থবিদ্যা, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার প্রয়োজন, যাতে বিমান বাহিনীর কমান্ডার মাহা ইরানে এমনভাবে কাজ করতে পারেন যেন এটি একটি প্রথম সারির দেশ। আমরা নিশ্চিত করি যে আইডিএফের সমস্ত শাখা যখন এবং যেখানে চায়, পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইরানও পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এবং ক্রমাগত নিজস্ব পরিবর্তন আনছে। গ্রসম্যান জানান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুধু ২০২৬ সালের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নয়; বরং ২০৩৫ সালের সম্ভাব্য যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে করা হচ্ছে। কমিউনিকেশনস কমান্ডের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার প্রযুক্তি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বিশ্বকে মৌলিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও বেসামরিক পর্যায়ে ইসরায়েলকে এআই ও ডেটা সেন্টার উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ার সমালোচনা রয়েছে, আইডিএফের দাবি, সামরিক প্রেক্ষাপটে তাদের আলাদা সক্ষমত আছ্যাঃ। নতুন এআই ব্রিগেড ডেটা সেন্টার, সফটওয়্যার, অপারেশনাল মডেল, ডেটা সায়েন্স এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত চাহিদা মূল্যায়নের কাজ করছে। এই ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরিচয় গোপন রাখা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বি। বেসামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা বলেন, যেখানে যৌথভাবে কাজ করা সম্ভব, সেখানে তারা একসঙ্গে কাজ করেন; আর প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা দায়িত্বও পালন করেন। গ্রসম্যানের মতে, সাইবার প্রতিরক্ষা শুধু নিজের নেটওয়ার্ক রক্ষা নয়; বরং শত্রুর ডিজিটাল অবকাঠামোতেই হুমকি মোকাবিলা করা বেশি কার্যকর। যোগাযোগ কমান্ড নিজের নেটওয়ার্কের বাইরেও কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণ করে আগাম প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তার মতে, আইডিএফের বিশেষ প্রযুক্তিগত অবকাঠামো রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকারদের হাত থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। গাজায় মানবিক সহায়তা বিতরণে ব্যর্থতার প্রসঙ্গে আইডিএফের যোগাযোগ কমান্ড জানায়, তথ্য যতই নির্ভুল হোক, বাস্তব পরিস্থিতিতে সবসময় তা একইভাবে কার্যকর হয় না। তাদের মতে, হামাস যদি সহায়তা দখল করতে চায়, তাহলে অ্যালগরিদম দিয়ে সেই বাস্তবতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কারণ খাদ্য সহায়তাসহ সব বিষয়ে সরকার যে নীতি নির্ধারণ করে, আইডিএফ সেটিই অনুসরণ করে। আইডিএফ জানায়, সব সেন্সর থেকে সংগৃহীত তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটা প্ল্যাটফর্মে পাঠানো হয়। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে এফপিভি ড্রোন এবং ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র মোকাবিলায় নতুন কৌশল তৈরি করা হচ্ছে। তবে সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে, এফপিভি ড্রোনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান তাদের হাতে নেই এবং এটি তৈরি করতে আরও কয়েক মাস বা কয়েক বছর লাগতে পারে। গ্রসম্যান বলেন, শত্রুর হুমকির ধরন ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এআইভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংগৃহীত তথ্যই বহু সেনার জীবন রক্ষা করেছে। আইডিএফের বহু প্রযুক্তি ইউনিটকে ধাপে ধাপে বেয়ারশেবা অঞ্চলের নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ২০২০-এর দশকজুড়ে আইডিএফের বিভিন্ন ইউনিট এবং ইসরায়েল ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছে। খুব শিগগিরই আরও বড় পরিসরে এই স্থানান্তর সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।