সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে জোরালো সমর্থনের ঘোষণা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একই সঙ্গে তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে জোরালোভাবে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।     মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক্স পোস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জাপান সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আমার একটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধু হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারকে জাপান জোরালোভাবে সমর্থন করবে।     সানায়ে তাকাইচি বলেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যকার ‘কৌশলগত অংশীদারি’ এবং আজ ঘোষিত ‘নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতি’র আলোকে, আমরা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ‘একসঙ্গে, শক্তিশালীভাবে ও সমৃদ্ধির পথে’ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করব।     ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাব।   তিনি বলেন, আজ এই প্রেক্ষাপটেই আমরা বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছি। একটি মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক (FOIP) অঞ্চল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই উপলক্ষ্যে আমরা বে অফ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট ('BIG-B' নামে পরিচিত) উদ্যোগটিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি।     এটি আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা এই উদ্যোগটিকে একটি নতুন কৌশলগত সহযোগিতামূলক কাঠামোয় রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'শেয়ারিং প্রসপারিটি বিআইজি-বি' (Sharing Prosperity BIG-B)।     জাপানের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে শুনেছি যে, জাপান কীভাবে একটি 'শান্তিপ্রিয় জাতি' হিসেবে পথ চলেছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দেশগুলোর অন্যতম ছিল—যা জাপানের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের মনে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছে। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপান সরকার ও জনগণের দেওয়া ব্যাপক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।     তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ—যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্ত করে, জাপানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।     ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ও তরুণ জনসংখ্যার দেশ হিসেবে এখানে রয়েছে অপার সম্ভাবনা।

৩ মিনিট আগে
ডিভি লটারি পুনরায় চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে মার্কিন আদালতের নির্দেশ

২০২৭ সালে ডাইভারসিটি গ্রিন কার্ড লটারি বা ডিভি লটারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন আদালত।     যেসব দেশ থেকে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে খুব বেশি অভিবাসী আসার সুযোগ পান না, সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য এটি বড় সুখবর।     আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করে ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ আদেশ দেন।     আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু থাকতে পারে। তবে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত ও আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।     মামলাটি করেছিল রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত কর্মসূচিটি আটকে রেখেছে। এতে আবেদনকারীদের পাশাপাশি লটারি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেয়া প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়।     ডিভি লটারি সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত।   এ কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের জন্য প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেয়া হয়। নির্বাচিত হলে আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পান।     অন্যান্য অনেক কর্মভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মতো এ লটারিতে অংশ নিতে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন হয় না। তবে লটারিতে নাম উঠলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। নির্বাচিত আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হয়।   আবেদনের জন্য সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও দরকার হতে পারে।     প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালের ‘ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’-এ স্বাক্ষর করার মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করেন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।     ১৯৬৫ পরবর্তী অভিবাসন ব্যবস্থার অধীনে নির্দিষ্ট কিছু দেশের অভিবাসীদের ক্ষেত্রে যে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছিল, মূলত তা দূর করতেই এটি চালু করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল পরিবার কিংবা পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে প্রাপ্ত অভিবাসন সুবিধার বাইরে গিয়ে অনগ্রসর ও কম প্রতিনিধিত্বশীল জনগোষ্ঠীর যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।     এই কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত ভিসার সংখ্যায় মূল আবেদনকারীর স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকে।

১০ মিনিট আগে
রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ২, আহত ১৫

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুই দেশের কর্মকর্তারা হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছেন।   রুশ নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একটি যাত্রীবাহী বাসের এক যাত্রী নিহত হন। ওই অঞ্চলের মস্কো নিয়োগ করা গভর্নর ইয়েভগেনি বালিৎস্কি এ তথ্য জানিয়েছেন।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিমফেরোপোল থেকে মস্কোগামী বাসটিতে ৩১ জন যাত্রী ছিলেন। প্রিমোরস্ক শহরের কাছে বাসটি ড্রোন হামলার শিকার হয়। এতে একজন নিহত হন এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।   বালিৎস্কি আরও জানান, যেসব যাত্রীর হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি, তাঁদের খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান।   অন্যদিকে, ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় একজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এসব হামলায় স্থলভিত্তিক নির্ভুল নিশানার অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, কিয়েভের প্রতিরক্ষা শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন অবকাঠামো, খারকিভ অঞ্চলের একটি সরবরাহকেন্দ্র এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর স্বার্থে ব্যবহৃত কয়েকটি জাহাজ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ফলাফল সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা চলমান সংঘাতের মানবিক ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করেছে।

২৮ মিনিট আগে
অদরকারি টিন সার্টিফিকেট বাতিলের সহজ উপায় ও নিয়মাবলি

টিন সার্টিফিকেট এখন অনেকের কাছেই আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই নানান কারণে টিন সার্টিফিকেট করেছেন।   কেউ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়ে বা ব্যাংক ঋণ নিতে গিয়ে, কেউ আবার ফেসবুক মনিটাইজেশন করতে গিয়ে টিন সার্টিফিকেট করেছেন। কিন্তু পরবর্তিতে যে কী ধরনের ঝামেলায় পড়তে পারেন তা জানতেই পারেননি।   হয়তো এখন আপনার করযোগ্য আয় নেই বা ফেসবুক থেকেও আর আয় হচ্ছে না কিন্তু এই টিন সার্টিফিকেটের জন্য যে আপনাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে তা বেশিরভাগেরই অজানা। হুট করেই জানলেন রিটার্ন দাখিল না করায় আপনাকে জরিমানা দিতে হবে ৩০০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত।     ফলে এখন অনেকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই টিন সার্টিফিকেট। তবে চাইলে কিন্তু আপনি এটি এখনই বাতিল করতে পারেন। অনলাইনে করা গেলেও সার্ভারের সমস্যা বা সঠিকভাবে বুঝতে না পারায় অনেকে তা করতে পারছেন না। তারা সশরীরে কাজটি করতে পারেন।   এজন্য টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে আপনার সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে (ট্যাক্স সার্কেল) বা স্থানীয় কর অফিসে গিয়ে লিখিত আবেদন করতে হবে। বর্তমানে সম্পূর্ণ অনলাইনে সরাসরি টিন সার্টিফিকেট বাতিলের সুযোগ সীমিত; তাই সশরীরে কর অফিসে যোগাযোগ করতে হয়।   কোন পরিস্থিতিতে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করা যায়? টিআইএন বাতিলের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। যেমন-   ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট টিআইএন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে।    ভুল করে একাধিক টিআইএন হলে  কোনো কারণে একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় একটি রেখে অন্যটি বাতিল করার আবেদন করা যেতে পারে।   টিআইএন আর ব্যবহার করার প্রয়োজন না থাকলে কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য টিআইএন নেওয়া হলেও পরবর্তীসময়ে সেটির আর প্রয়োজন না থাকলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।   আয় করসীমার নিচে নেমে গেলে কোনো ব্যক্তির আয় কমে গিয়ে যদি তিনি করযোগ্য সীমার বাইরে চলে যান এবং টিআইএন রাখার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে বাতিলের আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।   বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কোনো বাংলাদেশি নাগরিক কাজের কারণে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকেন এবং বাংলাদেশে তার কোনো করযোগ্য আয় না থাকে, তাহলে দেশে থাকা অবস্থায় নেওয়া টিআইএন বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারেন।    করদাতার মৃত্যু হলে কোনো করদাতা মারা গেলে তার টিআইএন আর প্রয়োজন না থাকায় সেটি বাতিল করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আবেদন করতে হয়। তবে মৃত ব্যক্তির নামে কোনো ব্যবসা বা এমন কার্যক্রম থাকলে, টিআইএন বাতিলের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার কাগজপত্রও বাতিল করে নতুন করে করার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তরাধিকারীরা টিআইএন বাতিলের আবেদন করতে পারবেন না এ বিষয়টি আগে যাচাই করা জরুরি।   কোথায় যেতে হবে? আপনার রেজিস্ট্রেশনকৃত বা এলাকার সংশ্লিষ্ট ট্যাক্সেস সার্কেল অফিস বা কর অঞ্চলে যেতে হবে। এটি আপনার টিন সার্টিফিকেটেই দেখুন লেখা আছে ট্যাক্সেস সার্কেল এবং জোন কোথায়।   এবার আসুন টিন সার্টিফিকেট বাতিল করার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় ধাপ জেনে নেই- টিন সার্টিফিকেট বাতিলের জন্য সাধারণত করদাতাকে পরপর ৩ বছর জিরো আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। এরপর আপনার এলাকার উপ-কর কমিশনার বরাবর একটি লিখিত দরখাস্ত লিখতে হবে।  দরখাস্তে টিন সার্টিফিকেট কবে খুলেছিলেন, কেন খুলেছিলেন, বাতিলের উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য কারণ (যেমন : ব্যবসা বন্ধ হওয়া, করযোগ্য আয় না থাকা, বা বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস) উল্লেখ করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা : আবেদনের সঙ্গে নিচের কাগজপত্রগুলো জমা দিতে হবে-  ই-টিন সার্টিফিকেটের কপি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এর ফটোকপি বিগত ৩ বছরের শূন্য রিটার্ন জমার রিসিট বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রযোজ্য ক্ষেত্রে করদাতার মৃত্যুসনদ/ ব্যবসা বন্ধ হয়ে থাকলে বা অন্য কোনো কারণ থাকলে তার স্বপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণপত্র আপনার জমা দেওয়া কাগজপত্র ও আবেদন সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করবে। সবকিছু সঠিক থাকলে তারা আপনার টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া টিন বাতিল হয়েছে বলে ধরা যাবে না। এরপর আপনাকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে যে আপনার টিন সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছে। মনে রাখবেন একবার বাতিল হলে এই টিন সার্টিফিকেট আর ব্যবহার করতে পারবেন না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ওয়েবসাইট।

৩৩ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে জাপান-বাংলাদেশের অঙ্গীকার

বৈশ্বিক বাস্তবতার নিরিখে নিজেদের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে বিশেষ অংশীদারত্বমূলক উদ্যোগ ‘বিগ-বি’ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান ও বাংলাদেশ।   মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।   এতে বলা হয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে এগিয়ে নেওয়া হবে। এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও তথ্যযোগাযোগপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবে দুই দেশ।   এর মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়ানো হবে।   এ জন্য চারটি ক্ষেত্রে কাজ করা হবে—যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো; অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি ও নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার করা।   যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করতে পারে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে জাপান ও বাংলাদেশের যৌথ ঘোষণায়।   ঘোষণায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে।   মাতারবাড়ী ও অন্যান্য অবকাঠামো   মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি ও শিল্পের বড় কেন্দ্রে গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।   এ ছাড়া ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকায় মেট্রোরেল লাইনের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করবে দুই দেশ।     সমঝোতা স্মারক সই বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। অন্যদিকে বিনিয়োগ সহজ করতে কর, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ পাঠানো ও লাইসেন্স দেওয়ার মতো কার্যক্রমে নিয়মকানুন ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান।   অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।   খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে।   দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও বাড়াতে জাপানের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পাঠানো এবং অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।   এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত তা কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। এ চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাংলাদেশের শিল্প খাতে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্য রয়েছে।   স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম উত্তরণে এ চুক্তি সহায়তা করবে বলে যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতেও জাপান আগ্রহী।   প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় সহযোগিতা বিশ্বে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।   প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরবিষয়ক চুক্তি সই এবং কার্যকর হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তার আওতায় একটি টহলজাহাজ দেওয়ার বিষয়টিও যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে।   এ ছাড়া জাপানের সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহলবোট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচির আওতায় আরও সহযোগিতার সুযোগ খোঁজার অঙ্গীকারও করেছেন তারা।   জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের বড় অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে সমুদ্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় টহল ও বন্দরের নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে জাপান।   রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোর মিয়ানমারের সংকট, আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এর প্রভাব এবং রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।   তারা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পরিবেশ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন তাকাইচি। তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে জাপানের সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।   তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই হাতেই রয়েছে।   রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং টেকসইভাবে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়াই এ সংকটের চূড়ান্ত সমাধান বলে দুই প্রধানমন্ত্রী একমত হন।   জলবায়ু, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে জাপান ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ু সহযোগিতাবিষয়ক আগ্রহপত্র সই হয়েছে। জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছেন তারা।   বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের’ দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।   দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সাংস্কৃতিক বিনিময়, জাপানবিষয়ক গবেষণা, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং শিক্ষাবৃত্তির মতো কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যৌথ ঘোষণায়।   আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিন্ন অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন মেনে সমুদ্রপথ ও আকাশপথে চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।   মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং সব জাহাজের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন দুই নেতা।   গাজা পুনর্গঠনের সমন্বিত পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানসহ ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায্য ও স্থায়ী সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধেও একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।   যৌথ ঘোষণার শেষে তারেক রহমান সফরকালে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য তাকাইচি এবং জাপানের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৭, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব জোরদারের অঙ্গীকার

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণা প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধা, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। অবকাঠামো, দ্রুতগতির রেল ও যোগাযোগব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তার সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তার সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব, সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত করা, সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। ​​​​

ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসকদের অবহেলায় যেন কোনো রোগীর ক্ষতি না হয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু

চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে কোনো রোগী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।   মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বসবাস। এখানে একটি জেনারেল হাসপাতাল ও একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। জেনারেল হাসপাতালের সেবার মান কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করার চেষ্টা চলছে। তবে সেবার মানের দিক থেকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। ঢাকার হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি এখান থেকেও উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে মানুষ মনে করে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক।   তিনি বলেন, হাসপাতালের সেবার মান কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে ইনশাআল্লাহ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে। যার যার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে যেন কোনো রোগীর ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক ও যত্নশীল হতে হবে। এ সময় হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল সংকট দ্রুত দূর করার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স স্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি।   সভায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবলের সংকট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসরঞ্জামের সরবরাহ, রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান, ওয়ার্ডের পরিবেশ, খাবারের মান এবং চিকিৎসকদের যথাসময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।   এ ছাড়া হাসপাতাল থেকে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ, গেটের সামনে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান, টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, ফরেনসিক বিভাগ চালু এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার মানোন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।   সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন।   এ ছাড়া সভায় চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফখরুল আমিন বাদল।

ছবি: সংগৃহীত
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ এখন ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’, জারি প্রজ্ঞাপন

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করা হয়েছে। নতুন নাম অবিলম্বে কার্যকর করে সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।   তবে মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলা নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম এ প্রজ্ঞাপন জারি করেন।   নতুন নাম কার্যকর হওয়ায় এখন থেকে সরকারি নথিপত্র, দাপ্তরিক যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে মন্ত্রণালয়ের বাংলা নাম হিসেবে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ ব্যবহার করা হবে।   তবে ইংরেজিতে মন্ত্রণালয়ের নাম ‘Ministry of Women and Children Affairs’ আগের মতোই থাকবে।   এর আগে গত ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।   নারী ও শিশুদের উন্নয়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুরক্ষা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে মন্ত্রণালয়টি।  

ছবি: সংগৃহীত
ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলেই ১০ লাখ ডলার পুরস্কার, ঘোষণা ট্রাম্পের

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট জালিয়াতি সম্পর্কে তথ্য দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২০২০ সালের নির্বাচনে নিজে জয়ী হয়েছিলেন বলে যে দাবি তিনি করে আসছেন, সেটিকে আবারও সামনে আনতে এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি করতেই সোমবার তিনি এই নতুন ঘোষণা দেন।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘অতীতের নির্বাচন বা আসন্ন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেউ ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করলে এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও সাজা নিশ্চিত হলে, তথ্যদাতাকে ১০ লাখ ডলার দেওয়া হবে!’ তবে এই পুরস্কারের অর্থ কোথা থেকে আসবে বা কীভাবে তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।   আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের মাত্র আট দিন আগে হওয়া জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে তা ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করতে পারে।   ট্রাম্প এর আগেও বারবার নির্বাচন নিয়ে জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। যদিও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি, বিশেষ করে নাগরিকদের বাইরে অন্য কারও ভোট দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। ফেডারেল নির্বাচনে এটি এমনিতেই বেআইনি।   নির্বাচনের আগে ট্রাম্প আরও কিছু অভাবনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এই প্রস্তাবে ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি খরচ হবে, যার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া রিপাবলিকানরা জয়ী হলে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি সামরিক ঘাঁটিতে দূষিত পানির কারণে অসুস্থ হওয়া সাবেক সেনাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
প্রতীকী ছবি
ডিভি লটারি পুনরায় চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে মার্কিন আদালতের নির্দেশ
মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৭, ২০২৬

২০২৭ সালে ডাইভারসিটি গ্রিন কার্ড লটারি বা ডিভি লটারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন আদালত।     যেসব দেশ থেকে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে খুব বেশি অভিবাসী আসার সুযোগ পান না, সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য এটি বড় সুখবর।     আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করে ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ আদেশ দেন।     আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু থাকতে পারে। তবে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত ও আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।     মামলাটি করেছিল রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত কর্মসূচিটি আটকে রেখেছে। এতে আবেদনকারীদের পাশাপাশি লটারি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেয়া প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়।     ডিভি লটারি সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত।   এ কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের জন্য প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেয়া হয়। নির্বাচিত হলে আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পান।     অন্যান্য অনেক কর্মভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মতো এ লটারিতে অংশ নিতে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন হয় না। তবে লটারিতে নাম উঠলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। নির্বাচিত আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হয়।   আবেদনের জন্য সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও দরকার হতে পারে।     প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালের ‘ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’-এ স্বাক্ষর করার মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করেন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।     ১৯৬৫ পরবর্তী অভিবাসন ব্যবস্থার অধীনে নির্দিষ্ট কিছু দেশের অভিবাসীদের ক্ষেত্রে যে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছিল, মূলত তা দূর করতেই এটি চালু করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল পরিবার কিংবা পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে প্রাপ্ত অভিবাসন সুবিধার বাইরে গিয়ে অনগ্রসর ও কম প্রতিনিধিত্বশীল জনগোষ্ঠীর যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।     এই কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত ভিসার সংখ্যায় মূল আবেদনকারীর স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ২, আহত ১৫
মোঃ নাহিদ হোসেন অক্টোবর ২৭, ২০২৬

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুই দেশের কর্মকর্তারা হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছেন।   রুশ নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একটি যাত্রীবাহী বাসের এক যাত্রী নিহত হন। ওই অঞ্চলের মস্কো নিয়োগ করা গভর্নর ইয়েভগেনি বালিৎস্কি এ তথ্য জানিয়েছেন।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিমফেরোপোল থেকে মস্কোগামী বাসটিতে ৩১ জন যাত্রী ছিলেন। প্রিমোরস্ক শহরের কাছে বাসটি ড্রোন হামলার শিকার হয়। এতে একজন নিহত হন এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।   বালিৎস্কি আরও জানান, যেসব যাত্রীর হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি, তাঁদের খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান।   অন্যদিকে, ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় একজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এসব হামলায় স্থলভিত্তিক নির্ভুল নিশানার অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, কিয়েভের প্রতিরক্ষা শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন অবকাঠামো, খারকিভ অঞ্চলের একটি সরবরাহকেন্দ্র এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর স্বার্থে ব্যবহৃত কয়েকটি জাহাজ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ফলাফল সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা চলমান সংঘাতের মানবিক ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করেছে।

ছবি : রয়টার্স
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল উৎপাদন নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম ওপেকের
মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৭, ২০২৬

তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের সদস্যরা আগামী ডিসেম্বরের জন্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখতে পারে। রবিবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।     বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন তিন ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মতে, আগামী বছর পর্যন্ত তেল উৎপাদনের নীতিতে আর কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম। ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশের মধ্যে অনলাইনে এ বৈঠক হবে। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান।       ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে কয়েক মাস ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এখন এসব দেশ আবার রপ্তানি বাড়াচ্ছে। তবে বেশির ভাগ দেশ এখনো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম তেল উৎপাদন করছে।       ওই তিন ব্যক্তি নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।   তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওপেক প্লাসের মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং রাশিয়াসহ এর সহযোগী দেশগুলো। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও ওপেক ও রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।   গত সেপ্টেম্বরে ওপেক প্লাস দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের কাজ শেষ করে। ২০২৩ সালে প্রথম এই উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।     তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে তেল উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো নির্ধারিত সীমার চেয়ে কম তেল উৎপাদন করছে।   রয়টার্স গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, চলতি বছরের শেষ তিন মাসে ওপেক প্লাসের তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নেই। এর পরিবর্তে জোটটি ২০২৭ সালের উৎপাদন কোটা নিয়ে আলোচনায় মনোযোগ দিচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত ওপেক প্লাসের বেশির ভাগ সদস্যের জন্য দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর আরো একটি সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে।       সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জন্য উৎপাদনের নতুন ভিত্তিমাত্রা নির্ধারণের আগে সদস্যদেশগুলোর তেল উৎপাদনের সক্ষমতা পর্যালোচনার কাজ শেষ করতে হবে ওপেক প্লাসকে। এই ভিত্তিমাত্রার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে প্রতিটি দেশের তেল উৎপাদনের কোটা। পাশাপাশি, উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তগুলো কিভাবে ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে, সেই পরিকল্পনাও এর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরাকের উপকূলে জাহাজে আগুন
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৭, ২০২৬

ইরাকের আল-ফাও উপকূল থেকে ৬৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।   সোমবার যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ইউকেএমটিও এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।   সংস্থাটি বলেছে, তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে জাহাজটিতে আগুন লাগার খবর পেয়েছে তারা।   তবে জাহাজটির নাবিকদের অবস্থা, ক্ষতির পরিমাণ কিংবা পরিবেশের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়েছে কিনা, তা এখনো জানা যায়নি।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ

চাকরি
ব্যাবসা-বাণিজ্য
শিক্ষা
সর্বশেষ