সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম এলো, ভোরে যাবে রূপপুরে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।   শুক্রবার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে রাশিয়া থেকে একটি জ্বালানিবাহী কার্গো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।    বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাশিয়ার পারমাণবিক সংস্থা-রোসাটমের বাংলাদেশের পিআর সংস্থা-ট্রাইউইন গ্রুপের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।   এই কর্মকর্তা বলেন, প্লেন থেকে ইউরেনিয়াম গাড়িতে লোড করতে ৪ ঘণ্টা লাগবে। সেক্ষেত্রে শনিবার ভোর রাত ৪টার দিকে ঢাকা থেকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়ি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।    এর আগে, শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানিবাহী বিমানটি ইতোমধ্যে রাশিয়া থেকে রওনা হয়েছে। ভারতে বিরতি নিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী বিমানটি ঢাকায় পৌঁছাবে।   মন্ত্রী জানান, জ্বালানিবাহী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর রূপপুরে নেওয়ার সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ইউরেনিয়ামের চালানটি রূপপুরে পৌঁছাবে।   আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ৯টি ফ্লাইটে দেশে আসবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য বাড়তি ৪৮টি ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ‍্যাসেম্বল। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ইউরেনিয়ামের এই চালান দেশে আসার কথা।   এর আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর এই ইউরেনিয়াম আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে জটিলতা থাকায় তা শেষ পর্যন্ত দেশে আসতে পারেনি। তারও আগে ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি এসেছিল। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে বসানো হয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
যুদ্ধ-সংঘাতে ইয়েমেনে খাবারের সংকটে ৭৪ শতাংশ পরিবার

ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে খাদ্যসংকট। দেশটির সরকার-নিয়ন্ত্রিত যেসব এলাকায় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) কাজ করতে পারছে, সেখানে ৭৪ শতাংশ পরিবার এখন তাদের ন্যূনতম খাদ্যচাহিদা পূরণ করতে পারছে না। চলতি বছরে এ হার সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   ডব্লিউএফপির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই এর আগেও সংঘাতের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়েছিলেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অনেকে আদেন ও তাইজের আশপাশে পানি ও খাবার ছাড়াই পৌঁছাচ্ছে।   ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারে বেড়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সীমান্তপারের হামলা অনেকটা বন্ধ হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে গুরুতর সংঘাত বৃদ্ধি বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। এই লড়াই দেশটির নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য বদলে দেওয়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।   সংঘাতের কারণে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইয়েমেন তার প্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। ফলে বন্দর, সড়ক ও বাণিজ্যপথে সামান্য বিঘ্নও খাদ্যের দাম ও সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। তাইজের কিছু এলাকায় মাত্র দুই সপ্তাহে গমের আটার দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে।   ডব্লিউএফপির সহকারী নির্বাহী পরিচালক ম্যাথিউ হলিংওয়ার্থ বলেছেন, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ইয়েমেনের খাদ্যনিরাপত্তার ওপর “ভয়াবহ” প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, ক্ষুধার সংকটও তত বাড়বে।   ইয়েমেনে এরই মধ্যে ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ শিশু গুরুতর অপুষ্টির শিকার।   সংঘাত থেকে পালিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের চাপও দ্রুত বাড়ছে। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু। সংস্থাটি তাইজ ও লাহজের বড় দুটি বাস্তুচ্যুতি এলাকায় ইতোমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে গরম খাবার ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়েছে। আরও ১৫ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।   তবে অর্থ ও খাদ্য মজুতের সংকটও বড় হয়ে উঠছে। জরুরি সহায়তা চালিয়ে যেতে ডব্লিউএফপির আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ডলার প্রয়োজন। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, নতুন অর্থ না এলে বাস্তুচ্যুত ১ লাখ ৫২ হাজার মানুষ এবং ইতোমধ্যে সহায়তা পাওয়া ১৪ লাখ মানুষের জন্য খাদ্য ও অর্থের মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।   সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালি- যা লোহিত সাগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ- এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে অস্থিরতা তৈরি হলে খাদ্য ও জ্বালানির বৈশ্বিক দাম আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে খাদ্য আমদানিনির্ভর দরিদ্র দেশগুলোর ওপর।   ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের তাইজ ও হোদেইদার কিছু এলাকায় তাদের প্রবেশাধিকারও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। একই সময়ে সংস্থাটি ভবিষ্যতের জন্য রাখা খাদ্য মজুতও এখন জরুরি সহায়তায় ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।   তথ্য সূত্র- রয়টার্স।

১ ঘন্টা আগে
সাত শতাধিক আটকের পরও থামেনি বিক্ষোভ, ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়াচ্ছে আন্দোলন

ভারতের দিল্লিতে সাত শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটকের একদিনের মধ্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার মুম্বাইয়ে বড় সমাবেশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আর দিল্লির পাশাপাশি আরও কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।    বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে অনুষ্ঠিত সমাবেশের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে নতুন আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটির নেতা অভিজিৎ দিপকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, এসআইআরের মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এ কারণে কমিশনের জবাবদিহি প্রয়োজন।   দিল্লিতে অবশ্য পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। গান্ধী জয়ন্তীর দিন যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপরও আম আদমি পার্টি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের কর্মীরা সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সাত শতাধিক মানুষকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ ও সঞ্জয় সিং, বামপন্থি নেত্রী বৃন্দা কারাত এবং অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও ছিলেন।   বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ১২ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে মধ্য দিল্লির ১২টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।   দিল্লির বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে। ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের কমিশনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ।   তবে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কমিশন নতুন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এসআইআর শেষ হওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলোর প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেও বিষয়টি জানানো হয়।   এ ছাড়া এসআইআর শেষ হওয়া রাজ্যগুলোতে অনলাইনে ভোটার হওয়ার ফর্ম-৬ থেকে এসআইআর-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ঘোষণাটিও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। আগে ওই ফর্মে নতুন আবেদনকারীর সঙ্গে তার বাবা-মা বা দাদা-দাদির আগের ভোটার তালিকায় থাকার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছিল।   এই বিতর্ক আরও জোরালো হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য- সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য পরে বলা হয়েছে, এসআইআরসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে।   এদিকে আন্দোলন দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রয়টার্স জানিয়েছে, গোয়া, কলকাতা ও বেঙ্গালুরুসহ আরও কয়েকটি শহরে কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দিকে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।   ফলে সাত শতাধিক আটকের মধ্য দিয়ে দিল্লিতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা এখন ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নাগরিক বিতর্কের দিকে এগোচ্ছে। একই সময়ে কমিশনের নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগও পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।   তথ্য সূত্র- এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

১ ঘন্টা আগে
ট্রাম্পের হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরি ও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

শনিবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। নতুন রণতরীর সঙ্গে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনাও ওই অঞ্চলে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।   চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী—ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন—মোতায়েন রয়েছে।   সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ওই অঞ্চলে অবস্থানের পর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে নেওয়ার পর তার জায়গায় জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েন করা হয়।   থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন নতুন নৌবহর যোগ হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বড় আকার ধারণ করবে। সব মিলিয়ে সেখানে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন নৌ-সেনা ও নাবিক এবং শত শত যুদ্ধবিমান অবস্থান করতে পারে।   ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের এদিকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান থেকে দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প।   হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ইরান ব্যাপকভাবে পরাজিত অবস্থায় রয়েছে। এ কারণেই তারা দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ফ্লাইদুবাই বিমানের ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত অন্যদিকে, ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলটের হাতে ক্যাপ্টেন ছুরিকাহত হওয়া এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।   গত বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।\   ঘটনাটিতে ইরান দায়ী প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র পালটা হামলা চালাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানা হবে।   আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হামলাকারী ব্যক্তি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন কিংবা অন্য কোনোভাবে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   তবে এখন পর্যন্ত যাত্রীবাহী ওই বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

১ ঘন্টা আগে
সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরি ও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

শনিবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। নতুন রণতরীর সঙ্গে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনাও ওই অঞ্চলে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।   চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী—ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন—মোতায়েন রয়েছে।   সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ওই অঞ্চলে অবস্থানের পর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে নেওয়ার পর তার জায়গায় জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েন করা হয়।   থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন নতুন নৌবহর যোগ হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বড় আকার ধারণ করবে। সব মিলিয়ে সেখানে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন নৌ-সেনা ও নাবিক এবং শত শত যুদ্ধবিমান অবস্থান করতে পারে।   ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের এদিকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান থেকে দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প।   হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ইরান ব্যাপকভাবে পরাজিত অবস্থায় রয়েছে। এ কারণেই তারা দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ফ্লাইদুবাই বিমানের ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত অন্যদিকে, ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলটের হাতে ক্যাপ্টেন ছুরিকাহত হওয়া এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।   গত বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।\   ঘটনাটিতে ইরান দায়ী প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র পালটা হামলা চালাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানা হবে।   আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হামলাকারী ব্যক্তি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন কিংবা অন্য কোনোভাবে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   তবে এখন পর্যন্ত যাত্রীবাহী ওই বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি
সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি, শিমের কেজি ২০০ টাকা

বাজারে আগাম শীতের সবজি উঠলেও ক্রেতার স্বস্তি নেই। দাম শুনে পিছু হটছেন ক্রেতারা। প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকা। এছাড়া বেশির ভাগ সবজির দাম ৭০ থেকে ১০০ টাকা বা তারও ওপরে। সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মাছের দামও। এর সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল ও প্যাকেটজাত চিনি। আগে থেকেই চড়া ডিম ও মুরগির বাজার। সব মিলিয়ে অপরিবর্তিত আয়ের বিপরীতে নিত্যপণ্যের এমন অস্বাভাবিক দামে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ।   রাজধানীর কাওরান বাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজরসহ একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি করলা, লতি, পটোল, কাঁকরোল ও শসা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে ৬০-৮০ টাকা, প্রতি কেজি গাজর ১৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা এবং গোল বেগুন ১৪০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গে প্রতি কেজি লম্বা বেগুন ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে আগাম শীতের সবজি শিম। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। তবে কিছুটা কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। কয়েকদিন আগেও ২০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হলেও শুক্রবার ১৪০-১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।   কাওরান বাজারে সবজি কিনতে আসা সাজিদ যুগান্তরকে বলেন, বাজারে বিক্রেতাদের ঝুড়িতে পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ আছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি। বিশেষ করে শীতের সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি। এছাড়া অন্যান্য সবজিতেও হাত দেওয়া যাচ্ছে না।   বেড়েছে মাছের দাম : খুচরা বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ আকার ও মানভেদে ৪০০-৬০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৪০০-৫০০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি পাবদা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা, কই ৩৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ২৪০-২৬০ টাকা ছিল। এছাড়া খুচরা বাজারে চিংড়ি আকারভেদে প্রতি কেজি ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।   বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে তেল-চিনি : পণ্যের দামে নাজেহাল অবস্থার মধ্যেই ক্রেতার ভোগান্তি বাড়িয়েছে ভোজ্যতেল ও চিনি। বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে এই দুই পণ্য নির্ধারিত খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনির খুচরা মূল্য ১১০ টাকা হলেও ১২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আবার এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকার পরিবর্তে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা চিনিও কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।    নয়াবাজারে চিনি কিনতে আসা জিল্লুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, চিনি কিনতে এসে দেখি চোখের সামনেই নৈরাজ্য করছে বিক্রেতা। প্যাকেটের গায়ে ১১০ টাকা লেখা থাকলেও ১২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এছাড়া তিন দোকান ঘুরে বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে পেরেছি। বিক্রি হচ্ছে লিটারে ৬ টাকা বেশি দামে। একই বাজারের মুদি বিক্রেতা মো. সোহান বলেন, কোম্পানিগুলো চিনি ও তেল চাহিদামতো সরবরাহ করছে না। বাজারে সংকটও রয়েছে। বেশি দামে আনতে হয় তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।   ডিম-মুরগিতে ক্রেতার নাভিশ্বাস : রাজধানীর খুচরা বাজারে কয়েক সপ্তাহ ধরে ডিম ও মুরগির দামে ক্রেতার নাভিশ্বাস উঠছে। নতুন করে দাম না বাড়লেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকায়। তবে ডিমের দামে স্থানভেদে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকায়। 

সংগৃহীত ছবি
সাত শতাধিক আটকের পরও থামেনি বিক্ষোভ, ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়াচ্ছে আন্দোলন

ভারতের দিল্লিতে সাত শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটকের একদিনের মধ্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার মুম্বাইয়ে বড় সমাবেশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আর দিল্লির পাশাপাশি আরও কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।    বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে অনুষ্ঠিত সমাবেশের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে নতুন আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটির নেতা অভিজিৎ দিপকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, এসআইআরের মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এ কারণে কমিশনের জবাবদিহি প্রয়োজন।   দিল্লিতে অবশ্য পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। গান্ধী জয়ন্তীর দিন যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপরও আম আদমি পার্টি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের কর্মীরা সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সাত শতাধিক মানুষকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ ও সঞ্জয় সিং, বামপন্থি নেত্রী বৃন্দা কারাত এবং অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও ছিলেন।   বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ১২ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে মধ্য দিল্লির ১২টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।   দিল্লির বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে। ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের কমিশনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ।   তবে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কমিশন নতুন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এসআইআর শেষ হওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলোর প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেও বিষয়টি জানানো হয়।   এ ছাড়া এসআইআর শেষ হওয়া রাজ্যগুলোতে অনলাইনে ভোটার হওয়ার ফর্ম-৬ থেকে এসআইআর-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ঘোষণাটিও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। আগে ওই ফর্মে নতুন আবেদনকারীর সঙ্গে তার বাবা-মা বা দাদা-দাদির আগের ভোটার তালিকায় থাকার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছিল।   এই বিতর্ক আরও জোরালো হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য- সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য পরে বলা হয়েছে, এসআইআরসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে।   এদিকে আন্দোলন দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রয়টার্স জানিয়েছে, গোয়া, কলকাতা ও বেঙ্গালুরুসহ আরও কয়েকটি শহরে কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দিকে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।   ফলে সাত শতাধিক আটকের মধ্য দিয়ে দিল্লিতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা এখন ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নাগরিক বিতর্কের দিকে এগোচ্ছে। একই সময়ে কমিশনের নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগও পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।   তথ্য সূত্র- এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

ছবি: সংগৃহীত
মদিনায় মসজিদে নববীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা—এমনটাই দাবি করেছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।    গত মঙ্গলবার ভোরে ঘটা এই ঘটনায় তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে বৃহত্তর বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে জানিয়েছে জোটটি।    এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, কাতার, আরব লীগ এবং কায়রোভিত্তিক আল-আজহারসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।   সৌদি জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই কেন্দ্রে আঘাত হানা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে হামলার পেছনে হুথি বিদ্রোহীদের হাত রয়েছে। তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হুথি পক্ষ।   এদিকে মদিনায় এই হামলার পর ইয়েমেনে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি সমর্থিত সরকার ও জোট বাহিনী।    হুথিদের দাবি, এসব হামলায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব ইয়েমেন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসলেও ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এই ঘটনার ফলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।   সূত্র: সিএনএ  

সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধ-সংঘাতে ইয়েমেনে খাবারের সংকটে ৭৪ শতাংশ পরিবার

ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে খাদ্যসংকট। দেশটির সরকার-নিয়ন্ত্রিত যেসব এলাকায় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) কাজ করতে পারছে, সেখানে ৭৪ শতাংশ পরিবার এখন তাদের ন্যূনতম খাদ্যচাহিদা পূরণ করতে পারছে না। চলতি বছরে এ হার সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   ডব্লিউএফপির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই এর আগেও সংঘাতের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়েছিলেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অনেকে আদেন ও তাইজের আশপাশে পানি ও খাবার ছাড়াই পৌঁছাচ্ছে।   ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারে বেড়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সীমান্তপারের হামলা অনেকটা বন্ধ হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে গুরুতর সংঘাত বৃদ্ধি বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। এই লড়াই দেশটির নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য বদলে দেওয়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।   সংঘাতের কারণে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইয়েমেন তার প্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। ফলে বন্দর, সড়ক ও বাণিজ্যপথে সামান্য বিঘ্নও খাদ্যের দাম ও সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। তাইজের কিছু এলাকায় মাত্র দুই সপ্তাহে গমের আটার দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে।   ডব্লিউএফপির সহকারী নির্বাহী পরিচালক ম্যাথিউ হলিংওয়ার্থ বলেছেন, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ইয়েমেনের খাদ্যনিরাপত্তার ওপর “ভয়াবহ” প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, ক্ষুধার সংকটও তত বাড়বে।   ইয়েমেনে এরই মধ্যে ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ শিশু গুরুতর অপুষ্টির শিকার।   সংঘাত থেকে পালিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের চাপও দ্রুত বাড়ছে। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু। সংস্থাটি তাইজ ও লাহজের বড় দুটি বাস্তুচ্যুতি এলাকায় ইতোমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে গরম খাবার ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়েছে। আরও ১৫ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।   তবে অর্থ ও খাদ্য মজুতের সংকটও বড় হয়ে উঠছে। জরুরি সহায়তা চালিয়ে যেতে ডব্লিউএফপির আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ডলার প্রয়োজন। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, নতুন অর্থ না এলে বাস্তুচ্যুত ১ লাখ ৫২ হাজার মানুষ এবং ইতোমধ্যে সহায়তা পাওয়া ১৪ লাখ মানুষের জন্য খাদ্য ও অর্থের মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।   সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালি- যা লোহিত সাগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ- এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে অস্থিরতা তৈরি হলে খাদ্য ও জ্বালানির বৈশ্বিক দাম আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে খাদ্য আমদানিনির্ভর দরিদ্র দেশগুলোর ওপর।   ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের তাইজ ও হোদেইদার কিছু এলাকায় তাদের প্রবেশাধিকারও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। একই সময়ে সংস্থাটি ভবিষ্যতের জন্য রাখা খাদ্য মজুতও এখন জরুরি সহায়তায় ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।   তথ্য সূত্র- রয়টার্স।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধ-সংঘাতে ইয়েমেনে খাবারের সংকটে ৭৪ শতাংশ পরিবার
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬

ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে খাদ্যসংকট। দেশটির সরকার-নিয়ন্ত্রিত যেসব এলাকায় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) কাজ করতে পারছে, সেখানে ৭৪ শতাংশ পরিবার এখন তাদের ন্যূনতম খাদ্যচাহিদা পূরণ করতে পারছে না। চলতি বছরে এ হার সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   ডব্লিউএফপির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই এর আগেও সংঘাতের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়েছিলেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অনেকে আদেন ও তাইজের আশপাশে পানি ও খাবার ছাড়াই পৌঁছাচ্ছে।   ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারে বেড়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সীমান্তপারের হামলা অনেকটা বন্ধ হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে গুরুতর সংঘাত বৃদ্ধি বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। এই লড়াই দেশটির নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য বদলে দেওয়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।   সংঘাতের কারণে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইয়েমেন তার প্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। ফলে বন্দর, সড়ক ও বাণিজ্যপথে সামান্য বিঘ্নও খাদ্যের দাম ও সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। তাইজের কিছু এলাকায় মাত্র দুই সপ্তাহে গমের আটার দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে।   ডব্লিউএফপির সহকারী নির্বাহী পরিচালক ম্যাথিউ হলিংওয়ার্থ বলেছেন, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ইয়েমেনের খাদ্যনিরাপত্তার ওপর “ভয়াবহ” প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, ক্ষুধার সংকটও তত বাড়বে।   ইয়েমেনে এরই মধ্যে ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ শিশু গুরুতর অপুষ্টির শিকার।   সংঘাত থেকে পালিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের চাপও দ্রুত বাড়ছে। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু। সংস্থাটি তাইজ ও লাহজের বড় দুটি বাস্তুচ্যুতি এলাকায় ইতোমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে গরম খাবার ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়েছে। আরও ১৫ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।   তবে অর্থ ও খাদ্য মজুতের সংকটও বড় হয়ে উঠছে। জরুরি সহায়তা চালিয়ে যেতে ডব্লিউএফপির আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ডলার প্রয়োজন। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, নতুন অর্থ না এলে বাস্তুচ্যুত ১ লাখ ৫২ হাজার মানুষ এবং ইতোমধ্যে সহায়তা পাওয়া ১৪ লাখ মানুষের জন্য খাদ্য ও অর্থের মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।   সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালি- যা লোহিত সাগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ- এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে অস্থিরতা তৈরি হলে খাদ্য ও জ্বালানির বৈশ্বিক দাম আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে খাদ্য আমদানিনির্ভর দরিদ্র দেশগুলোর ওপর।   ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের তাইজ ও হোদেইদার কিছু এলাকায় তাদের প্রবেশাধিকারও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। একই সময়ে সংস্থাটি ভবিষ্যতের জন্য রাখা খাদ্য মজুতও এখন জরুরি সহায়তায় ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।   তথ্য সূত্র- রয়টার্স।

সংগৃহীত ছবি
সাত শতাধিক আটকের পরও থামেনি বিক্ষোভ, ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়াচ্ছে আন্দোলন
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬

ভারতের দিল্লিতে সাত শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটকের একদিনের মধ্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার মুম্বাইয়ে বড় সমাবেশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আর দিল্লির পাশাপাশি আরও কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।    বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে অনুষ্ঠিত সমাবেশের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে নতুন আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটির নেতা অভিজিৎ দিপকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, এসআইআরের মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এ কারণে কমিশনের জবাবদিহি প্রয়োজন।   দিল্লিতে অবশ্য পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। গান্ধী জয়ন্তীর দিন যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপরও আম আদমি পার্টি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের কর্মীরা সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সাত শতাধিক মানুষকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ ও সঞ্জয় সিং, বামপন্থি নেত্রী বৃন্দা কারাত এবং অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও ছিলেন।   বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ১২ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে মধ্য দিল্লির ১২টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।   দিল্লির বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে। ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের কমিশনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ।   তবে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কমিশন নতুন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এসআইআর শেষ হওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলোর প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেও বিষয়টি জানানো হয়।   এ ছাড়া এসআইআর শেষ হওয়া রাজ্যগুলোতে অনলাইনে ভোটার হওয়ার ফর্ম-৬ থেকে এসআইআর-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ঘোষণাটিও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। আগে ওই ফর্মে নতুন আবেদনকারীর সঙ্গে তার বাবা-মা বা দাদা-দাদির আগের ভোটার তালিকায় থাকার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছিল।   এই বিতর্ক আরও জোরালো হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য- সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য পরে বলা হয়েছে, এসআইআরসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে।   এদিকে আন্দোলন দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রয়টার্স জানিয়েছে, গোয়া, কলকাতা ও বেঙ্গালুরুসহ আরও কয়েকটি শহরে কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দিকে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।   ফলে সাত শতাধিক আটকের মধ্য দিয়ে দিল্লিতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা এখন ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নাগরিক বিতর্কের দিকে এগোচ্ছে। একই সময়ে কমিশনের নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগও পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।   তথ্য সূত্র- এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

সংগৃহীত ছবি
ট্রাম্পের হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরি ও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬

শনিবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। নতুন রণতরীর সঙ্গে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনাও ওই অঞ্চলে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।   চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী—ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন—মোতায়েন রয়েছে।   সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ওই অঞ্চলে অবস্থানের পর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে নেওয়ার পর তার জায়গায় জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েন করা হয়।   থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন নতুন নৌবহর যোগ হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বড় আকার ধারণ করবে। সব মিলিয়ে সেখানে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন নৌ-সেনা ও নাবিক এবং শত শত যুদ্ধবিমান অবস্থান করতে পারে।   ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের এদিকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান থেকে দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প।   হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ইরান ব্যাপকভাবে পরাজিত অবস্থায় রয়েছে। এ কারণেই তারা দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ফ্লাইদুবাই বিমানের ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত অন্যদিকে, ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলটের হাতে ক্যাপ্টেন ছুরিকাহত হওয়া এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।   গত বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।\   ঘটনাটিতে ইরান দায়ী প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র পালটা হামলা চালাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানা হবে।   আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হামলাকারী ব্যক্তি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন কিংবা অন্য কোনোভাবে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   তবে এখন পর্যন্ত যাত্রীবাহী ওই বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ছবি: সংগৃহীত
মদিনায় মসজিদে নববীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০২, ২০২৬

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা—এমনটাই দাবি করেছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।    গত মঙ্গলবার ভোরে ঘটা এই ঘটনায় তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে বৃহত্তর বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে জানিয়েছে জোটটি।    এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, কাতার, আরব লীগ এবং কায়রোভিত্তিক আল-আজহারসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।   সৌদি জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই কেন্দ্রে আঘাত হানা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে হামলার পেছনে হুথি বিদ্রোহীদের হাত রয়েছে। তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হুথি পক্ষ।   এদিকে মদিনায় এই হামলার পর ইয়েমেনে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি সমর্থিত সরকার ও জোট বাহিনী।    হুথিদের দাবি, এসব হামলায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব ইয়েমেন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসলেও ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এই ঘটনার ফলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।   সূত্র: সিএনএ  

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব