সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
এক সপ্তাহে ১৩ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরাল সৌদি আরব

সৌদি আরবে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার ৯৭০ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৩ হাজার ২৫১ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।   রোববার (২৬ জুলাই) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য প্রকাশ করে।   মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ হাজার ৪৩৭ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৯৯১ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৫৪২ জন রয়েছেন।   এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ৬২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয়, নিয়োগ বা অন্যান্যভাবে সহায়তা করার অভিযোগে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে ৩০ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৫৫৭ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯৮৯ জন নারী।   এদিকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ১৭ হাজার ৭৪৭ জনকে নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ৬ হাজার ১১৩ জনের দেশে ফেরার ভ্রমণ বুকিং সম্পন্ন করা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ২৫১ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সৌদি আরবের আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন কার্যকর রাখতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

১ ঘন্টা আগে
সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবজুড়ে এক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযানে ১৪ হাজার ৯৭০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   রোববার (২৬ জুলাই) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ হাজার ৪৩৭ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৯৯১ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৫৪২ জনকে আটক করা হয়েছে।   এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ৬২৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৬২ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৩৭ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। একই সময়ে অবৈধভাবে দেশত্যাগের চেষ্টা করার অভিযোগে আরও ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয়, নিয়োগ বা অন্যভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৫৫৭ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯৮৯ জন নারী।   এদিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৭ হাজার ৭৪৭ জনকে ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার ১১৩ জনের নিজ দেশে ফেরার ভ্রমণ বুকিং সম্পন্ন করা হয়েছে।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ২৫১ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন কার্যকর রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

১ ঘন্টা আগে
অ্যাগ্রো-টেক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলবে: ড. আব্দুল্লাহ

কৃষিপ্রযুক্তিভিত্তিক (অ্যাগ্রো-টেক) শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।   সোমবার (২৭ জুলাই) কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কুড়িগ্রামের মতো কৃষিপ্রধান জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। তিনি কৃষি ও কৃষিপ্রযুক্তি খাতে সরকারের বিনিয়োগের সুফল শিক্ষার্থী, গবেষক এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   তিনি আরও বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের পাশাপাশি কৃষি পর্যটনের সম্ভাবনাকেও কাজে লাগাতে হবে, যাতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয় এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।   একই দিনে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ভূমি নির্বাচন বিষয়ে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত পৃথক সমন্বয় সভায় ইউজিসি সদস্য বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্বাচন করতে হবে স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে।   তিনি পরামর্শ দেন, কৃষি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক ফসলি বা তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ না করে খাস জমিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পাশাপাশি সহজ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে কৃত্রিমভাবে জমির মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।   সমন্বয় সভার আগে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাসের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং স্থানীয় উচ্চশিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।   জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

১ ঘন্টা আগে
পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপির পদায়ন

বাংলাদেশ পুলিশের ৯৩ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) একযোগে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হয়েছে।   সোমবার (২৭ জুলাই) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ পদায়ন আদেশ জারি করা হয়।   প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নবনিযুক্ত এসব শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), কক্সবাজার জেলা পুলিশ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি), সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি), বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) এবং শিল্পাঞ্চল পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হয়েছে।   প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপাররা তাদের বাস্তব প্রশিক্ষণ (Practical Training) সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান করবেন।

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তুললেই দেশ এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।   সোমবার বিকালে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি আমরা তখনই সফলভাবে করতে পারব, যখন তোমরা আজকে যারা গ্যালারিতে বসে আছো এবং যারা খেলার মাঠে পুরস্কার পেয়েছ, তোমরা নিজেদেরকে আগামী দিনের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা সঠিকভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের দিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তুলতে পারো, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই কাজ আমরা হয়তো শুরু করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ গড়ার কাজ তোমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’   প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় বিশ্বাস রেখে বলেন, ‘আজ প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে, যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই ছোট্ট বন্ধুরা তোমরা শক্তভাবে নিজেদের আত্মগঠনে মনোযোগ দাও।’   ছোট্ট শিশুদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। এই দেশটা আমাদের সকলের দেশ। এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি, তাহলে আমরা একটি সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারব। তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তোমার বাসার আশেপাশে অনেকে বিভিন্ন রকম ময়লা, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে যায়। কেউ এগুলো ফেলছে, সেটি পুকুর হোক, নদীনালা হোক, বাসার আশেপাশে এখন থেকে যদি এরকম কোনো দৃশ্য তোমাদের চোখে পড়ে, প্লিজ তোমরা তাকে বারণ করবে। দরকার হলে সেই ময়লাটি তোমরা তুলে নিয়ে গিয়ে যেইখানে ময়লা ফেলার জায়গা, নির্দিষ্ট সেই জায়গায় ময়লা ফেলতে হবে।’   তিনি বলেন, ‘আরেকটি কাজ তোমাদের করতে হবে, কেউ যদি পুকুর নদীনালায় ময়লা ফেলে, যদি তুমি পারো’ বন্ধুদেরকে সাথে নিয়ে সেই ময়লাটিকে পরিষ্কার করবে। যাতে আমাদের পরিবেশটি আমাদের নদীর পানি, পুকুরের পানি যাতে পরিষ্কার থাকে, যাতে সেখানে মানুষ সুন্দরভাবে হাঁটাচলা করতে পারে বা মানুষ সেখানে বসতে পারে।’   শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিবছর চেষ্টা করবে, তোমার বাড়ির আশেপাশে হোক, তোমার স্কুলের আশেপাশে হোক অথবা যেখানে তুমি সুবিধা মনে করো সেইখানে একটি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছ যদি আমরা লাগাতে পারি, আমাদের পরিবেশটা সুন্দর হবে, পরিষ্কার হবে। আমরা সকলে মিলে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব।’   কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা প্রকৃতির প্রতি বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয় হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমার সকল ছোট বন্ধুদের আমি অনুরোধ করব, আসো আমাদের আশেপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে, আমরা চেষ্টা করব, এই যে প্রকৃতির, আল্লাহ দেওয়া বিভিন্ন জীব, পশুপাখি এদের যত্ন নেওয়ার। যত্ন যদি নিতে না পারি, অন্তত আমরা চেষ্টা করব, তাদের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি হতে না পারে।’   বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের বিকশিত করতে চায়, তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, গান বা ছবি আঁকা যাই হোক না কেন সরকার তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’   উপস্থিত সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রায়ই নানামুখী রাজনৈতিক ও সামাজিক খবর লিড নিউজ হিসেবে প্রাধান্য পায়। তবে শিশুরা এবং তাদের এই আয়োজনই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃত ভবিষ্যৎ। তাই আগামীকালের পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদে শিশুদের এই উদ্যোগ ও তাদের সাফল্যকে যেন অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচার বা ‌‘লিড নিউজ’ করা হয়, এটা আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকল।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে।   সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বিভাগীয় পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   মির্জা ফখরুল বলেন, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের অবস্থান আগেই জানানো হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। তা সম্ভব না হলে আগামী বছরের প্রথম দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের করার কিছু নাই। এটা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশন করবে। আর আমাদের যেহেতু স্থানীয় সরকারের বিষয় আছে, এ বিষয়টা আমরা মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’   মন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদী বলেন, ‘তাদের হয় জ্ঞানের অভাব রয়েছে, নয়তো তাদের মানসিকতা সেভাবেই গড়ে উঠেছে। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।’   জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি যেন গণতন্ত্র সম্পর্কে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করেন। এরপর কী ব্যবস্থা হবে, তা দেখা যাবে। জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক দল কি না, সেটি তাদেরই বিবেচনা করা উচিত।’   তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের মেয়াদ মাত্র চার মাস অতিরিক্ত হয়েছে। এরই মধ্যে কৃষির উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে এবং কৃষিখাতের জন্য বিভিন্ন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’   বিআরডিবি’র বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে রংপুর পল্লী মেলা পরিদর্শন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   অনুষ্ঠানে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবজুড়ে এক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযানে ১৪ হাজার ৯৭০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   রোববার (২৬ জুলাই) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ হাজার ৪৩৭ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৯৯১ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৫৪২ জনকে আটক করা হয়েছে।   এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ৬২৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৬২ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৩৭ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। একই সময়ে অবৈধভাবে দেশত্যাগের চেষ্টা করার অভিযোগে আরও ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয়, নিয়োগ বা অন্যভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৫৫৭ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯৮৯ জন নারী।   এদিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৭ হাজার ৭৪৭ জনকে ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার ১১৩ জনের নিজ দেশে ফেরার ভ্রমণ বুকিং সম্পন্ন করা হয়েছে।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ২৫১ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন কার্যকর রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত
অ্যাগ্রো-টেক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলবে: ড. আব্দুল্লাহ

কৃষিপ্রযুক্তিভিত্তিক (অ্যাগ্রো-টেক) শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।   সোমবার (২৭ জুলাই) কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কুড়িগ্রামের মতো কৃষিপ্রধান জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। তিনি কৃষি ও কৃষিপ্রযুক্তি খাতে সরকারের বিনিয়োগের সুফল শিক্ষার্থী, গবেষক এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   তিনি আরও বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের পাশাপাশি কৃষি পর্যটনের সম্ভাবনাকেও কাজে লাগাতে হবে, যাতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয় এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।   একই দিনে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ভূমি নির্বাচন বিষয়ে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত পৃথক সমন্বয় সভায় ইউজিসি সদস্য বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্বাচন করতে হবে স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে।   তিনি পরামর্শ দেন, কৃষি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক ফসলি বা তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ না করে খাস জমিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পাশাপাশি সহজ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে কৃত্রিমভাবে জমির মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।   সমন্বয় সভার আগে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাসের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং স্থানীয় উচ্চশিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।   জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
এক সপ্তাহে ১৩ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরাল সৌদি আরব

সৌদি আরবে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার ৯৭০ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৩ হাজার ২৫১ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।   রোববার (২৬ জুলাই) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য প্রকাশ করে।   মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ হাজার ৪৩৭ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৯৯১ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৫৪২ জন রয়েছেন।   এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ৬২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয়, নিয়োগ বা অন্যান্যভাবে সহায়তা করার অভিযোগে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে ৩০ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৫৫৭ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯৮৯ জন নারী।   এদিকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ১৭ হাজার ৭৪৭ জনকে নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ৬ হাজার ১১৩ জনের দেশে ফেরার ভ্রমণ বুকিং সম্পন্ন করা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ২৫১ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সৌদি আরবের আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন কার্যকর রাখতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক সেবা ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের অঙ্গীকার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশের সামাজিক সেবা (সোশ্যাল কেয়ার) ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের অঙ্গীকার করেছেন।    তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে চাপের মুখে থাকা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস)-এর ওপর চাপ কমানো হবে।   সোমবার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।   সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এনএইচএস দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা এবং সীমিত সম্পদের সংকটে ভুগছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক সেবার বেশিরভাগই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।    দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহ পর বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমার যতটুকু রাজনৈতিক শক্তি আছে, তার সবই আমি ভেঙে পড়া সামাজিক সেবা ব্যবস্থা ঠিক করতে কাজে লাগাব। এ ক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তন না এনে আমি দায়িত্ব ছাড়তে চাই না।’   বার্নহ্যামের বাবা আলঝেইমারে আক্রান্ত। তিনি বহু বছর ধরে সামাজিক সেবা ব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছেন। ২০০৯ থেকে ২০১০ সালে গর্ডন ব্রাউনের সরকারে স্বাস্থ্যসচিব থাকাকালেও তিনি এ বিষয়ে কাজ করেন।   সে সময় তিনি এনএইচএসের মতো ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি জাতীয় পরিচর্যা সেবা (ন্যাশনাল কেয়ার সার্ভিস) চালুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।   বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমি যত দ্রুত সম্ভব সামাজিক সেবা ব্যবস্থার সংস্কারে এগোব।’   তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থা চালু করতে ‘সময় লাগবে’। তবে দায়িত্বে থাকাকালেই ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’ আনতে তিনি আশাবাদী।   বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বাসাবাড়ি ও আবাসিক পরিচর্যা সেবা আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। এসব সেবা দেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় কর্তৃপক্ষের। কিন্তু বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চাহিদা সামাল দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছে।   সামাজিক সেবার ব্যবস্থা না থাকায় বয়স্ক ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল রোগীদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিতে না পারাও এনএইচএসে দীর্ঘদিনের শয্যা ও জনবল সংকটের অন্যতম কারণ।   প্রধানমন্ত্রী ক্রমবর্ধমান কল্যাণ ব্যয় কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, মানুষকে কাজে ফিরতে উৎসাহিত করতে ভাতা পাওয়ার শর্ত আরও কঠোর করা হতে পারে।   বার্নহ্যাম বলেন, ‘সহায়তার ধরন বদলাতে হবে। পাশাপাশি মানুষের সামনে যে সুযোগগুলো আসবে, সেগুলো গ্রহণের শর্তের সঙ্গে কিছু সহায়তা যুক্ত করতে হবে।’

ছবি : সংগৃহীত
৩৫ দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ফের পিছিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ৯৭তম স্থানে। বছরের শুরুতে এ সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ছিল ৯৫তম স্থানে। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়াও।   লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স ২১ জুলাই মঙ্গলবার তাদের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ সূচক প্রকাশ করে।   বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি সম্ভাব্য ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। কোনো দেশের নাগরিক আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় কতটি দেশে প্রবেশ করতে পারেন, সেটিই এই সূচকের মূল ভিত্তি।   সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২০২৫ সালের সূচকে এ সংখ্যা ছিল ৩৭। অর্থাৎ, ছয় মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ দুইটি ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধার গন্তব্য হারিয়েছে।   তবে ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা কমলেও ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি জুলাই মাসে তিন ধাপ উন্নত হয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম।   নতুন সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০২৫ সালের জুলাই মাসের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম। সর্বশেষ হালনাগাদে দেশটির অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়েছে এবং বাংলাদেশ ও কাতার একই কাতারে এসেছে।   বাংলাদেশের মতো উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্ট দিয়ে মোট ৩৫টি দেশে কোনো অগ্রিম ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা যায়। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা প্রায় ৮ থেকে ১০টি। বাকি প্রায় ২৫ থেকে ২৭টি দেশে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা ভিসা অন অ্যারাইভাল বা পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়ার সুবিধা পান।   যে ৩৫ দেশে ভিসামুক্ত ও অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সূচবক অনুসারে, বর্তমান অবস্থাানের জোরে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত সুবিধা পাবেন ১৭টি দেশ ও অঞ্চলে। এই দেশগুলোতে ভ্রমণের জন্য আগে থেকে কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং বিমানবন্দরে নেমেও কোনো ভিসার আবেদন করতে হবে না; সরাসরি পাসপোর্ট ও রিটার্ন টিকিট নিয়ে প্রবেশ করা যাবে। এই দেশ ও অঞ্চলগুলো হলো রুয়ান্ডা, বাহামা, বার্বাডোজ, জাম্বিয়া, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, কুক আইল্যান্ডস, ভানুয়াতু, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।   এছাড়া অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পাবেন আরও ১৪টি দেশে। এই দেশগুলোতে পৌঁছানোর পর সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা সীমান্ত ইমিগ্রেশন কাউন্টার থেকে সরাসরি ভিসা সংগ্রহ করতে হয় (কিছু দেশ এর জন্য নির্দিষ্ট ফি নিয়ে থাকে)। দেশগুলো হলো—ভুটান, বুরুন্ডি, মালদ্বীপ, নেপাল, কম্বোডিয়া, তিমুর-লেস্তে, কোমোরোস দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, সিয়েরা লিওন, নিউই, সামোয়া ও টুভ্যালু।   এছাড়া ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন সুবিধা পাওয়া যাবে শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, ও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস— এই চার দেশে। এ দেশগুলোতে যাওয়ার আগে অনলাইনে একটি ফ্রি বা স্বল্প খরচের ‘প্রাক-ভ্রমণ অনুমোদন’ বা ইটিএ ফরম পূরণ করে অনুমতি নিতে হয়। এটি কোনো প্রথাগত কনসুলার ভিসা নয়, তবে বোর্ডিংয়ের আগে এটি বাধ্যতামূলক।   বাংলাদেশের পাসপোর্টের ২০ বছরের পশ্চাৎযাত্রা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০০৬ সূচকে বাংলাদেশে পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ৬৮তম। তারপর থেকে প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে পেছাচ্ছে পাসপোর্টের মান। ২০১৫ সালে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সূচকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ৯৯তম।   তবে এ সূচকের ইতিহাসে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সবচেয়ে নিম্ন অবস্থায় পৌঁছেছিল ২০২১ সালের জুলাইয়ে। সেবার পাসপোর্টের মান নেমে গিয়েছিল ১০৮তম অবস্থানে।   তারপর থেকে অবশ্য উন্নতি হতে থাকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থানের, তা খুব ধীর গতিতে।   ২০২২ সালে অবস্থান হয় ১০৩তম এবং ২০২৩ সালে ১০১তম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৯৭তম স্থানে উঠে আসে। ২০২৫ সালে নেমে যায় ১০০তম অবস্থানে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে উন্নতি হয়ে ৯৫তম হলেও জুলাইয়ে তা আবার ৯৭তম হয়েছে।   ২০২৬ সালের জুলাই সূচকে অন্যান্য দেশের অবস্থান সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশযোগ্য গন্তব্য ১৮৮টি।   তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন, যার পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করা যায়। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন।   পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ১৮৫টি গন্তব্য। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। সপ্তম স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া। অষ্টম স্থানে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়া। নবম স্থানে লিচেনস্টেইন ও লিথুনিয়া এবং দশম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।   এবার ও একই অবস্থানে রয়েছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুটি দেশের অবস্থান ১৬তম এবং তাদের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই ১৬৯টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।   যুদ্ধরত ইউক্রেন রয়েছে ৩১তম এবং রাশিয়া ৪৭তম অবস্থানে। ইউক্রেনের নাগরিকরা ১৪২টি এবং রাশিয়ার নাগরিকরা ১১৪টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান।   ইসরায়েল রয়েছে ১৮তম অবস্থানে। দেশটির নাগরিকরা ১৬৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে ইরান ও ফিলিস্তিন যৌথভাবে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে ভিসামুক্ত গন্তব্য ৩৭টি।   মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব রয়েছে ৫৪তম অবস্থানে। চীন কসোভোর সঙ্গে যৌথভাবে ৬০তম এবং হাইতি ও ভিয়েতনাম রয়েছে ৮৭তম স্থানে।   দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। দেশটি ৫২তম অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান। এরপর রয়েছে ভারত, যার অবস্থান ৮১তম এবং ভিসামুক্ত গন্তব্য ৫৫টি। ভুটান রয়েছে ৮৮তম স্থানে, মিয়ানমার ৯১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৯৪তম অবস্থানে।   হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স সূচকে বাংলাদেশের ঠিক পরেই অর্থাৎ ৯৮তম স্থানে রয়েছে নেপাল। নেপালের নাগরিকরা তাদের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ৩৪টি দেশে সহজে ভ্রমণ করতে পারবেন।   অন্যদিকে পাকিস্তান রয়েছে ১০১তম অবস্থানে এবং তাদের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্য ২৯টি। সিরিয়া ১০৩তম, ইরাক ১০২তম এবং আফগানিস্তান ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানের নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন, যা সূচকের সর্বনিম্ন।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের ফাঁদে ট্রাম্প, খুঁজছেন বের হওয়ার পথ
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কী করবেন, তা আগে থেকে অনুমান করা যায় না; আর এই স্বভাব নিয়ে তিনি প্রায়ই গর্ব করেন। তার ভাষায়, এ বিষয়টি শত্রু-মিত্র সবাইকে একই ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখে।   ট্রাম্প ১৩ মাস আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার সিদ্ধান্ত। গত জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনতে কমান্ডো পাঠান।   তার ভাষ্য, এসব ঘটনাই প্রমাণ করে, সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে তিনি কতটা বেপরোয়া হতে পারেন। তার পূর্বসূরিরা কেউ এমন কাজ করার সাহসও করতেন না।   নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে তিনি কেবল নিজের 'নিজের বিবেকর কাছে’ দায়বদ্ধ।   কিন্তু ইদানিং তাকে ফাঁদে আটকে পড়া এক নেতার মত মনে হচ্ছে, যিনি যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না, ধীরে ধীরে সেই যুদ্ধ তার প্রেসিডেন্সিকে গ্রাস করছে।   ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দ্রুত বন্ধ করা এবং দেশটির সরকার উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পুরোদমে সামরিক অভিযান শুরু করেন ট্রাম্প। তখন তিনি সম্ভবত কল্পনাও করতে পারেননি যে তার ক্ষমতারও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।   নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, পাঁচ মাস পর, সেই লক্ষ্যগুলো ট্রাম্পের অধরাই রয়ে গেছে।   একসময় তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, বিপুল শক্তি প্রয়োগ করে ইরানে তিনি ‘ভেনেজুয়েলা মডেল’ বাস্তবায়ন করতে পারবেন। মানে সেখানকার সরকার পাল্টে মার্কিনপন্থি সরকার বসাতে পারবেন।   কিন্তু এখন তিনি আবার বড় যুদ্ধ শুরু করতে ইতস্তত করছেন; কারণ তার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, তেহরানে ওই কৌশল কাজ করবে না।   তেলের দাম চড়ছে, শেয়ারবাজার পড়ছে—এগুলো তিনি থামাতে পারছেন না। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে; মাঝে কিছুদিন চালু ছিল, এখন আবার কমে গেছে।   লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে আরেকটি সংকীর্ণ পথও এখন হুমকির মুখে। ট্রাম্প যদিও হুমকি দিয়েছিলেন যে তিনি ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল করবেন অথবা তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডার দখল করে নেবেন, তবে প্রকাশ্যে তিনি এও স্বীকার করেছেন যে সেখানে স্থলবাহিনী পাঠানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই।   তার সহযোগীদের মতে, এই ব্যর্থতাগুলো ট্রাম্পকে ক্রমশ হতাশ করে তুলেছে; তার স্বভাবসুলভ আচরণকে আরও খামখেয়ালি করে তুলছে।   বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গত সপ্তাহেই সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্পের জ্বালানিমন্ত্রী। কিন্তু ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নিজে সেই চুক্তি উল্টে দেন।   ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব যতক্ষণ না ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে আসছে, ততোক্ষণ পর্যন্ত ওই চুক্তি অকার্যকর থাকবে।   ১৮ মাসের আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি করা ওই চুক্তি এভাবে ভেস্তে যেতে দেখে সৌদিরা একেবারে হতবাক হয়ে যায়।   পশ্চিম এশিয়ার বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, “মিস্টার ট্রাম্প আবারও সৌদিদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খুশি করেছেন।   “ইরানকে তিনি এই শক্তিশালী যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করা বোকামি, কারণ তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবেই।”   পরদিন সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতু সংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে জনপ্রিয় এক হকি তারকার নামে এই সেতুটির নামকরণ করা হছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন ধরনের কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা তার প্রথম মেয়াদে করা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির লঙ্ঘন বলেই মনে করা হচ্ছে।   এ অবস্থায়, গর্ডি হাও সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমেরিকানদের আমন্ত্রণপত্র যে কানাডা প্রত্যাহার করে নেবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সোমবার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে সেতুটি।   নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, রাগ বা হতাশা থেকে ট্রাম্পের এ ধরনের খামখেয়ালি আচরণ তার দলকেও সামলাতে হচ্ছে।   একটি বিরল দ্বিদলীয় আবাসন বিল স্বাক্ষরের জন্য রিপাবলিকানরা ক্যাপিটল ভবনে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউজও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল।   কিন্তু সবাইকে হতবাক করে বেঁকে বসেন ট্রাম্প; ওই বিলে সই করতে অস্বীকার করেন তিনি।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তার একমাত্র অগ্রাধিকার হল 'সেইভ আমেরিকা অ্যাক্ট', যা মূলত ভোটাধিকার আইন পরিবর্তনের একটি চেষ্টা। সেই আইনের পক্ষে রিপাবলিকানদের যথেষ্ট সমর্থন ছিল না।   শেষ পর্যন্ত ক্যাপিটল হিলের অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়। ট্রাম্পের সই ছাড়াই বিলটি আইনে পরিণত হয়। এর ফলে নতুন বাড়ির মালিকদের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসা এই পদক্ষেপের কৃতিত্ব নেওয়ার সুযোগ হারায় তার দল।   প্রেসিডেন্টের কাছের লোকেরা বলছেন, ট্রাম্পের এই হতাশার পুরোটাই যে যুদ্ধ থেকে আসছে তা নয়, তবে এর বড় অংশই যুদ্ধের কারণে।   ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৯ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকাকে সমর্থন করেছেন।   যখন মিত্ররাই এ যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে, তখন যে কোনো মূল্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প নিজেকে আরও চাপে ফেলছেন।   স্পিকার মাইক জনসন গত সপ্তাহে বলেন, “আমাদের এটা শেষ করতে হবে।” ট্রাম্পের সবচেয়ে কট্টর সমর্থকদের কাছ থেকেও এখন এমন মন্তব্য শোনা যাচ্ছে।   নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, প্রেসিডেন্টের কাছে তার লক্ষ্য অর্জনের স্পষ্ট কোনো পথ নেই। জয়ী হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশল ছাড়াই যুদ্ধে জড়ানোর পর, এখন তিনি সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন।   এক মাস আগেও ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে জয়ের পথ তিনি পেয়ে গেছেন। গত ১৭ জুন তিনি ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে তাড়াহুড়ো করে ১৪ দফার একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ১৯১৯ সালে সেখানেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছিল।   সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের একদল ‘যুক্তিবাদী’ নেতা এখন বুঝতে পারছেন, কীসে তাদের অর্থনীতির লাভ হবে।   ১৪ জুন নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, তারা যথেষ্ট শিক্ষা পেয়েছে।”   তিনি দাবি করেন, তার ব্যাপক হামলার হুমকির কারণেই ইরান পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।   “আমরা বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, আর তারা বলল, ‘দয়া করে এটা করবেন না, আমরা চুক্তি করব।’ আর ঠিক তার পরপরই আমরা চুক্তি করলাম,” বলেছিলেন ট্রাম্প।   কিন্তু সেই চুক্তি টিকে ছিল মাত্র দুই সপ্তাহ।   নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, যে ইরানি নেতারা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তারা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন বলে ধারণা করা হয়। যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত চ্যানেল ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, আইআরজিসি সেসব জাহাজের ওপর গুলি চালায়।   ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ইরানি নেতারা চান—বিদেশে আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের তহবিল অবমুক্ত করা হোক এবং তেল রপ্তানি আবার চালু হোক। কিন্তু আইআরজিসি মনে হয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ দেখাতেই বেশি আগ্রহী।   পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি পথ আছে—আরও সামরিক হামলা চালানো, আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া, অথবা বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ থেকে সরে আসা।   গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকে এই তিনটি বিকল্প নিয়েই আলোচনা হয়েছে।   তবে প্রতিটি পথই ভিন্ন ভিন্ন কারণে কঠিন বলে মনে হচ্ছে।   গত সপ্তাহে পুরোটা সময় ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি দিলেও শুক্রবার সেখান থেকে সরে আসেন ট্রাম্প।   কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পের সহযোগীরা সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে বা ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করলেই যে তারা আবার আলোচনায় ফিরবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং সেটা করলে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হতে পারে।   ট্রাম্পকে জানানো হয়, এ ধরনের হামলায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। অথচ একসময় তিনিই ইরানিদেরই তাদের সরকারের হাত থেকে বাঁচানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।   ওভাল অফিসে শুক্রবার যখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হল, তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করতে দ্বিধা বোধ করছেন কি না, কারণ সেটি যুদ্ধাপরাধ হতে পারে।   জবাবে তিনি বলেন, “আমি এই প্রশ্নের উত্তর দেব না।”   নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ট্রাম্পের দ্বিধান্বিত হওয়ার আসল কারণ হতে পারে এই যে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী অস্ত্রের মজুদ হয়ত ফুরিয়ে আসছে।   সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ গত এপ্রিলে এক মূল্যায়নে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেপ্টরের মজুদ হয়তো এরই মধ্যে অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে।   চলতি মাসে টানা ১৩ রাত ধরে চলা হামলা ও পাল্টা হামলার পর, কিছু কর্মকর্তার মতে, সেই মজুদ এখন আশঙ্কাজনক স্তরে নেমে এসেছে। আর এটাই ট্রাম্পকে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান থেকে বিরত রেখেছে।   মার্কিন কর্মকর্তারা এখন চিন্তিত যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হয়ত যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘাটতির সুযোগ নিতে পারেন।   পুতিন ইউক্রেইন ও ইউরোপে এবং শি জিনপিং তাইওয়ানে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি হিসাবের মধ্যে রাখতে পারেন।   ট্রাম্পের দ্বিতীয় বিকল্প হল, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হতে দেওয়া। হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ চলাচলে নতুন করে অবরোধ আরোপ করে তেল রপ্তানির ওপর আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে।   কিন্তু নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে সময় লাগে। ওবামার সময়ে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে বেরিয়ে এসে ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন, ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু আট বছর পর ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে আছে একজন নতুন নেতার নেতৃত্বে, যিনি গোপনে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর বিষয়ে আবারো উদ্যোগী হতে পারেন।   অবরোধের কৌশল হয়তো কাজে দেবে, কিন্তু সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলে সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখতে হবে, যা অনেক ব্যয়বহুল। আর মাঝেমধ্যে গোলাগুলি হবে, যা মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি বাড়াবে; মিত্র দেশগুলোর ওপরও হামলা হতে পারে।   তৃতীয় পথ হল নিজের বিজয় ঘোষণা করে ফিরে আসা। ট্রাম্প এক মাস আগে সেটাই করতে চেয়েছিলেন। তিনি যুদ্ধবিরতি বেছে নিয়েছিলেন, কারণ তিনি অর্থনৈতিক মন্দা চাননি, যেটা হার্বার্ট হুভারের সময়ে হয়েছিল।   ৩১তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুভারের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমি কখনোই তার মত হতে চাইনি। আমি অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি। যুদ্ধ চলতে থাকলে বিশ্বে তেলের মজুত ফুরিয়ে যেত।”   কিন্তু সেই প্রস্থানের জন্যও ট্রাম্পকে মূল্য দিতে হবে। তিনি যদি ইরানে বোমা তৈরির উপযোগী ইউরোনিয়াম রেখে চলে আসেন এবং হরমুজ প্রণালি ইরানের হাতে ছেড়ে দেন, তাহলে যে কারণে তিনি আক্রমণের সূচনা করেছিলেন, তার সমাধান করতে তিনি ব্যর্থ হবেন এবং জ্বালানি বাজারের জন্য একটি নতুন বড় সমস্যা তৈরি করবেন।   এটা তার নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে। আর এটা প্রমাণ করবে যে, তার ক্ষমতারও সীমা আছে, যা তিনি জানুয়ারিতে ভাবতেও পারেননি।

ছবি : সংগৃহীত
মোদিবিরোধী পোস্টের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের অভিযান
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে পরিচালিত নিট আন্দোলনের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।    ইতোমধ্যে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের এই পদক্ষেপে চিহ্নিত করা অধিকাংশ আপত্তিকর ভিডিও, পোস্ট ও মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।    একটি বিশেষ পুলিশ দল নিয়মিত ডিজিটাল কনটেন্ট নজরদারিতে রাখছে এবং নতুন কোনো বিতর্কিত উপাদান নজর এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছে।   কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি তাদের আন্দোলন গুটিয়ে নেওয়ার ঠিক এক দিন পরই দিল্লি পুলিশের এই সাইবার অভিযানের খবর সামনে এলো। মে মাসের শুরুতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন প্রায় ৩৭ দিন ধরে চলার পর গত শনিবার (২৫ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের আরও দুটি প্রধান দাবি মেনে নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে রুজু করা সমস্ত এফআইআর বা মামলা প্রত্যাহার করা।   দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হওয়া শর্তগুলো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস পেয়েই শুভ বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। সাবেক আপ (এএপি) কর্মী অভিজিৎ দিপকের প্রতিষ্ঠিত এই দলটি গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিল।    পরবর্তীতে পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক আন্দোলনে যোগ দিলে তা আরও গতি পায়। গত ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘সংসদ চলো মার্চ’-এর সময় পুলিশি লাঠিচার্জের পর তৈরি হওয়া চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে শান্ত হয় এবং আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।   সূত্র: এনডিটিভি।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি