সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
সমালোচনার পর অবস্থান বদল জবি প্রশাসনের, ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ে নেই নিষেধাজ্ঞা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রক্টরের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন ও উদযাপনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে কোনো আয়োজনের কারণে অন্য কারও কর্মসূচি বা উদযাপন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।   খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দেখা দিলে দায়িত্ব পালনরত প্রক্টর ঘটনাস্থলে উদ্যোগ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির সমাধান করেন। পরদিন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা ও বিবৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে বিষয়টি আরও সন্তোষজনকভাবে নিষ্পত্তি হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রক্টরের আহ্বান ঘিরে ভুল বোঝাবুঝি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, সাম্প্রতিক ঘটনার পর নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রক্টর পশু জবাইয়ের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজন ও উদযাপনের অধিকার সবার রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।   শিক্ষার্থীদের শোকজ নিয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা এদিকে, ১৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ ছড়ানোর পর জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।   সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক পক্ষের আয়োজন যেন অন্য পক্ষের অধিকার বা কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
ডিসেম্বরে পূর্বাচলে জাতীয় রোভার মুট, অংশ নেবে ৬৪ জেলার স্কাউটরা

আগামী ২৪ থেকে ৩০ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে ‘দ্বাদশ জাতীয় রোভার মুট’। পূর্বাচলের ১ নম্বর সেক্টরে ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সাত দিনব্যাপী এ মহাসমাবেশের আয়োজন করছে বাংলাদেশ স্কাউটস। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।   চার বছর পরপর হয় জাতীয় রোভার মুট স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং তরুণদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বিকাশের উদ্দেশ্যে প্রতি চার বছর পরপর জাতীয় রোভার মুট আয়োজন করা হয়। এবারের আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে ৭৭ সদস্যের একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করেছে সরকার।   অংশ নেবে প্রায় দুই হাজার রোভার স্কাউট দল মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোকে জাতীয় রোভার মুটে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানানো হয়েছে। আয়োজনে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রায় দুই হাজার রোভার স্কাউট দলের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি দলে থাকবেন আটজন দীক্ষাপ্রাপ্ত রোভার স্কাউট এবং একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোভার স্কাউট লিডার বা শিক্ষক। দল গঠনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ লিডারের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছেলেদের দলের সঙ্গে পুরুষ লিডার এবং মেয়েদের দলের সঙ্গে নারী লিডার থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো মেয়েদের দলের সঙ্গে পুরুষ লিডার পাঠানো যাবে না।   নিবন্ধন ফি ৩ হাজার টাকা আয়োজকদের নির্দেশনা অনুযায়ী, মুটে অংশ নিতে নির্ধারিত নিবন্ধন ফরম পূরণ করে আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে ফি জমা দিতে হবে। প্রতি দলের নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা। কাকরাইলের জাতীয় স্কাউট ভবনে অবস্থিত রোভার অঞ্চল অফিসে ব্যাংক ড্রাফট অথবা পে-অর্ডারের মাধ্যমে ফি জমা দিতে হবে। পরে জেলা রোভার স্কাউটস সম্পাদকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   অংশগ্রহণে যেসব শর্ত মানতে হবে জাতীয় রোভার মুটে অংশগ্রহণকারীদের কমপক্ষে প্রশিক্ষণ স্তরের রোভার হতে হবে। পাশাপাশি সাঁতার জানা বাধ্যতামূলক এবং তাঁবুতে অবস্থানের মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নিজেদের রান্নাবান্না ও তাঁবু স্থাপনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে আনতে হবে বলে জানিয়েছে আয়োজক কমিটি। সাত দিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার রোভার স্কাউটদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২ ঘন্টা আগে
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পর্যালোচনায় যাচ্ছেন মন্ত্রণালয় ও বোয়েসেলের চার কর্মকর্তা

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারের সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ খতিয়ে দেখতে দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) চার কর্মকর্তা।   গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক সরকারি আদেশে এ সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়।   প্রতিনিধি দলে রয়েছেন চার কর্মকর্তা সফরকারী দলের নেতৃত্ব দেবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন—মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডল, বোয়েসেলের কোম্পানি সচিব (উপসচিব) সাব্বির আহমেদ এবং উপমহাব্যবস্থাপক (জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব) নাজমুন নাহার।   তিন দিনের সফর সরকারি আদেশ অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলের মালয়েশিয়া সফরের নির্ধারিত সময় ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর। সফরে দেশটির শ্রমবাজারের পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ পর্যালোচনা করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সফরকে দেখা হচ্ছে।

২ ঘন্টা আগে
মিরপুরে তাহামসের চতুর্থ ডিসপ্লে সেন্টারের যাত্রা শুরু

কাস্টমাইজড পণ্য নিয়ে কাজ করা দেশীয় ব্র্যান্ড তাহামস আজ মিরপুরে তাদের চতুর্থ  ডিসপ্লে সেন্টার চালু করেছে।   নতুন এই সেন্টারের মাধ্যমে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার গ্রাহকেরা এখন সরাসরি পণ্য নির্বাচন, ডিজাইন তৈরি এবং কাস্টমাইজেশন প্রক্রিয়া দেখার সুযোগ পাবেন।   মিরপুর-১-এর আল-নাহিয়ান শপিং কমপ্লেক্সে চালু হওয়া এই ডিসপ্লে সেন্টারে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কাস্টমাইজড পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সাইজের টি-শার্ট, কাস্টমাইজড পানির বোতল, মগ ও ফটো ফ্রেম। টি-শার্টের ক্ষেত্রে ০ থেকে ১০ এক্সএল পর্যন্ত সাইজের সুবিধা রাখা হয়েছে।   তাহামস জানিয়েছে, নতুন আউটলেটে গ্রাহকেরা পছন্দের ডিজাইন নির্বাচন করার পাশাপাশি নিজেদের সামনে প্রিন্টিং ও কাস্টমাইজেশনের পুরো প্রক্রিয়াটি দেখতে পারবেন। ব্যক্তিগত ব্যবহার, উপহার কিংবা বিশেষ দিনের জন্য পছন্দ অনুযায়ী পণ্য তৈরির সুযোগ থাকছে এখানে।   নতুন ডিসপ্লে সেন্টারে তাহামসের নিজস্ব পণ্যের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য উদ্যোগ লুমিনা বাই তাহামস, তাহামস লিটল স্টার, পারফিউম ডি তাহামস এবং আল জামেয়া-এর পণ্যও রাখা হয়েছে।   উদ্বোধন উপলক্ষে নির্বাচিত পণ্যে সপ্তাহব্যাপী সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   তাহামসের প্রতিষ্ঠাতা ইসরাত সুলতানা তোহফা বলেন, “গ্রাহকেরা এখানে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী টি-শার্টসহ বিভিন্ন পণ্য কাস্টমাইজ করার সুযোগ পাবেন। আমরা চাই, মানুষের চিন্তা ও সৃজনশীলতা তাদের ব্যবহার করা পণ্যের মাধ্যমে প্রকাশ পাক।”   ২০২০ সালে অনলাইনভিত্তিক টি-শার্ট ব্যবসা হিসেবে তাহামসের যাত্রা শুরু হয়। ইসরাত সুলতানা তোহফা, তাঁর স্বামী কম্পিউটার প্রকৌশলী ও আলোকচিত্রী আশিক আহমেদ এবং কয়েকজনবন্ধুর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে কাস্টমাইজড ফ্যাশন ও গিফটিং পণ্যের পরিধি বাড়িয়েছে।   বর্তমানে তাহামসের পণ্য তালিকায় টি-শার্টের পাশাপাশি পাঞ্জাবি, জিনসসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক রয়েছে। সব বয়সী ও বিভিন্ন আকারের গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।   মিরপুরে নতুন ডিসপ্লে সেন্টার চালুর মাধ্যমে গ্রাহকদের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোর পাশাপাশি কাস্টমাইজড ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল পণ্যের বাজারে নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার  পরিকল্পনা  রয়েছে তাহামসের।

৩ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে দুই দিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা করে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে যেসব স্থানে ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার হতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার করি।’   প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বিশেষ করে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।   তিনি বলেন, ‘ঘরের আনাচকানাচে কিংবা রাস্তাঘাট ও জনসমাগমস্থলে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু মশা বংশবিস্তার করে। আমরা যদি এসব প্রজননস্থল পরিষ্কার করতে পারি, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও বেশি সফল হব।’   তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বহু পরিবারকে স্বজন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।   ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষ অনেক বড় বড় অর্জন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছে, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সফল হয়েছে এবং ২০২৪ সালে সর্বস্তরের মানুষের প্রচেষ্টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করেছে।’   প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমরা যদি সবাই মিলে এসব অর্জন করতে পারি, তাহলে দেশের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কেন সম্মিলিতভাবে অবদান রাখতে পারব না?’   তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও রেড ক্রিসেন্টের মতো বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী ও এসব সংগঠনের সদস্যরা প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় যতটা সম্ভব ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের চেষ্টা করছেন।   ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যকর পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘টিকার ওপর নির্ভর করার চেয়ে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা বেশি কার্যকর। বিভিন্ন পরীক্ষায় ডেঙ্গুর টিকার কার্যকারিতা সীমিত বলে দেখা গেছে।’   তারেক রহমান বলেন, ‘একটি সরকার তখনই সফল হয়, যখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করে। সরকার-জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে চায়।’   ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ রোগে আক্রান্ত বহু রোগীর প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব। তাই আসুন, সবাই মিলে চেষ্টা করি। সবাই চেষ্টা করলে আগামী দিনে ডেঙ্গুর অভিশাপ থেকে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে পারব।’

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
চীনের সামুদ্রিক তৎপরতা ঠেকাতে নতুন ছক ফিলিপাইনের

পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক তৎপরতা ও চাপ মোকাবিলায় শুধু ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশ যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে ফিলিপাইনকে।   অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণে এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কিত সামুদ্রিক এলাকায় চীনের জাহাজ মোতায়েন, ফিলিপাইনের নৌযানের চলাচলে বাধা এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এসব তৎপরতার তথ্য আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরতে ফিলিপাইন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও সক্রিয় হয়েছে। তবে শুধু এসব ঘটনা প্রকাশ করে চীনের আচরণে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এ জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি কূটনৈতিক ও তথ্যগত কৌশলও শক্তিশালী করতে হবে।   বিতর্কিত এলাকায় চীনের জাহাজ মোতায়েন ফিলিপাইনের পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স জানিয়েছে, পালাওয়ান প্রদেশের ফিলিপাইন-নিয়ন্ত্রিত কোটা দ্বীপের কাছে চীনের সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ২২টি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ৯৬২২ নম্বর জাহাজটি ২২টি ছোট নৌযান নিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পর ওই এলাকায় ফিরে আসে।   টাস্কফোর্সের অভিযোগ, এসব নৌযান সেখানে অনুমতি ছাড়া মাছ ধরা এবং সমুদ্রে বর্জ্য ফেলার সঙ্গে জড়িত ছিল।   এর আগে ৮ অক্টোবর আয়ুঙ্গিন শোল এলাকায় ফিলিপাইনের একটি চিকিৎসা ও উদ্ধার মিশনে জলকামান ব্যবহার করে চীনা কোস্টগার্ড। মিশনটির উদ্দেশ্য ছিল ফিলিপাইনের সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হয়ে থাকা বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজ থেকে একজন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া।   স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের বিতর্কিত মিসচিফ রিফ এলাকায় চীনের সামরিকীকরণের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৯৯ সালে ফিলিপাইন ইচ্ছাকৃতভাবে বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজটি আয়ুঙ্গিন শোলে স্থাপন করে। এরপর থেকে জাহাজটি ওই এলাকায় ফিলিপাইনের উপস্থিতি বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।   সমঝোতার পরও কমেনি উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে সংঘাতের ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে একটি অস্থায়ী সমঝোতা হয়। তবে ফিলিপাইনের অভিযোগ, সমঝোতার পরও বিতর্কিত এলাকায় তাদের সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে বাধা দেওয়া হচ্ছে।   গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজে সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে চীনের কোস্টগার্ড এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি বাধা দেয় বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন। এর কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর ফিলিপিনো জেলেদের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার সময় চীনা কোস্টগার্ডের একটি জাহাজের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফিলিপাইনের মাছ ধরার সহায়ক নৌযান বিআরপি দাতু মাগাত সালামাত।   এদিকে পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের সামরিক ও কোস্টগার্ড জাহাজের উপস্থিতিও বেড়েছে। ফিলিপাইনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পাক-আসা দ্বীপ, আয়ুঙ্গিন শোল, এসকোদা শোল ও স্কারবরো শোলের আশপাশে চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ১০১টি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৫৬।   চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশল সামুদ্রিক তৎপরতার পাশাপাশি তথ্য প্রচারের মাধ্যমেও চীন ফিলিপাইনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিহাসের পুনর্ব্যাখ্যা, ফিলিপাইনের স্বাধীনতার গুরুত্ব খাটো করে দেখানো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার মতো বিষয় রয়েছে।   এ ধরনের প্রচার ফিলিপাইনের প্রভাবশালী মহলে চীনের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সরকারি বিবৃতি বা সামুদ্রিক ঘটনার ছবি প্রকাশ নয়, বরং তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোও জরুরি।   সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ফোর্বস গ্লোবাল সিইও সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, চীনের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর বাস্তবতা তার দেশ উপলব্ধি করে। তবে এটিকে চীনের কাছে নতি স্বীকার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   ফিলিপাইন এখন নীরব কূটনীতির পরিবর্তে সামুদ্রিক এলাকায় চীনের কর্মকাণ্ডের ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর লক্ষ্য জনসচেতনতা বাড়ানো, অপতথ্য মোকাবিলা এবং ২০১৬ সালের সালিশি রায়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা।   তবে এসব উদ্যোগ চীনের আচরণে কতটা পরিবর্তন আনতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। লোয়ি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তথ্য প্রকাশের কৌশলের পাশাপাশি চীনের আগ্রাসী তৎপরতার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে—এমন কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।   প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র সরকারের ‘কমপ্রিহেনসিভ আর্কিপেলাজিক ডিফেন্স কনসেপ্ট’ বা সমন্বিত দ্বীপপুঞ্জ প্রতিরক্ষা ধারণায় সামরিক ঘাঁটি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া, দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীনের প্রবেশ-প্রতিরোধ ও নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল মোকাবিলায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   এ লক্ষ্য অর্জনে বিদেশি সামরিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ নির্ধারণ এবং অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ কোথায় ও কীভাবে মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।   একই সঙ্গে চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় স্বার্থ ও অভিন্ন মূল্যবোধের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য এবং বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। ফিলিপাইনের বিপুলসংখ্যক মানুষ সংবাদ ও তথ্যের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভর করেন। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ছড়ানো ঠেকানো এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।   এ ক্ষেত্রে মিত্র দেশ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রসমর্থিত বা রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   আসিয়ানের নেতৃত্ব কাজে লাগানোর সুযোগ আঞ্চলিক কূটনীতিতেও ফিলিপাইনের সামনে সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব কাজে লাগিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে পারে দেশটি।   মিয়ানমার সংকট, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা মোকাবিলায় আসিয়ান কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।   ১৯৬৭ সালে আসিয়ান প্রতিষ্ঠার সময় সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্য এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি আঞ্চলিক বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব নীতি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক নীতিমালা হালনাগাদ এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণেও নেতৃত্ব দিতে পারে ফিলিপাইন।   সব মিলিয়ে, পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা মোকাবিলায় তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এককভাবে তা যথেষ্ট নয়। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার, ডিজিটাল মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত এবং আসিয়ানভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকর করার সমন্বিত পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদে ফিলিপাইনের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
সরকারি কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা সংসদীয় কমিটির সভাপতির, ‘আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী’

সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্য নয়, বরং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ এমপি।   তিনি বলেছেন, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করার পাশাপাশি সরকারি কাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাঈদ আহমেদ।   নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশনা বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে কমিটির সভাপতি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক কিংবা বাস্তবসম্মত বাধা থাকলে তা কমিটির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি গোপন না করে প্রকৃত পরিস্থিতি উপস্থাপনেরও আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির প্রতিনিধি নন। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এবং তাদের মূল দায়িত্ব দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করা। প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।   নাগরিক সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ নাগরিক সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে পুরোনো কর্মপদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাঈদ আহমেদ। তার মতে, ডিজিটাল সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার জনগণের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে কর্মকর্তাদের ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং সংসদীয় কমিটিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে দেশের মানুষের কল্যাণে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।   উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। পরে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, বিআইএএম ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সরকারি বাজেট বরাদ্দের তুলনায় যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধীরগতিতে চলছে, সেগুলোর কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয় সংসদীয় কমিটি। এ ছাড়া সরকারি কার্যক্রমে অবহেলা বা অসহযোগিতার অভিযোগ থাকলে তা শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।   শোক প্রস্তাব গ্রহণ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।   বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপিসহ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), শাহজাহান চৌধুরী, মো. আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার রানু এবং মো. নূরুল ইসলাম এমপি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

ছবি: সংগৃহীত
গেইল-লুইসকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন শাই হোপ

ভারত সফরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে আরও একটি বিধ্বংসী সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরির সংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছেন দুই স্বদেশি তারকা ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসকে।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫০ বলে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলেন হোপ। চারটি চার ও নয়টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৪। ইনিংসের শেষ দুই বলে টানা দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি।   গেইল-লুইসকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি হোপের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এই সংস্করণে সর্বাধিক শতকের মালিক হয়েছেন তিনি। এর আগে ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসের দুটি করে টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি ছিল। এবার তাঁদের পেছনে ফেলে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। চলমান ভারত সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এটি হোপের চতুর্থ শতক। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও মাত্র ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেছিলেন তিনি। এর আগে ওয়ানডে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেন এই ডানহাতি ব্যাটার।   দুই হাজার রানের মাইলফলক রেকর্ড গড়া ইনিংসে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন হোপ। ৭৪ ম্যাচের ৭২ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ২ হাজার ৪ রান। ব্যাটিং গড় ৩৩ দশমিক ৪০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪১ দশমিক ৮২। এই সংস্করণে তিনটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি তাঁর রয়েছে ১৩টি অর্ধশতক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে দুই হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন রোভম্যান পাওয়েল (২,৪০০), নিকোলাস পুরান (২,২৭৫) ও ব্র্যান্ডন কিং (২,০২৮)।   এক সিরিজে একাধিক কীর্তি দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি করা পঞ্চম ব্যাটার হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছেন হোপ। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন ফিল সল্ট, সাঞ্জু স্যামসন, তিলক ভার্মা ও মোহাম্মদ ইহসান। এ ছাড়া টেস্ট খেলুড়ে দুটি দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার কীর্তিতেও নাম লিখিয়েছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। এই তালিকায় আগে থেকেই রয়েছেন বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব ও সাহিবজাদা ফারহান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বাধিক ১৬টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার রেকর্ডেও ক্রিস গেইলের পাশে বসেছেন ৩২ বছর বয়সী হোপ।   হোপের ব্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের পাহাড় অধিনায়কের দুর্দান্ত শতকে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ইনিংসে কোনো দলের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। পাশাপাশি যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটি। ভারত সফরে একের পর এক সেঞ্চুরি ও রেকর্ড গড়ে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন শাই হোপ।

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরামকোর সদরদপ্তরে হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর

ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথির সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির রাজধানী সানায় হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মঙ্গলবার রাতে ব্যাপক হামলা চালায় সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী।    অপরদিকে সৌদির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি আরামকোর দাহরান কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। এ পরিস্থিতির মধ্যে বুধবারও সৌদির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা, যা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঠেকিয়েছে।    এ সময় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক আরব নাগরিক আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি বাড়ি ও একটি গাড়ি।   বুধবার সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানায়। এতে বলা হয়, রিয়াদে হামলার আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।    এর জবাবে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছিল হুথিরা।   মঙ্গলবারের এসব পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই পক্ষের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। হুথির হামলায় আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনটির একটি অফিস টাওয়ারের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।    সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে অবস্থিত আরামকোর থেকে দেশটির বিস্তৃত তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, শোধনাগার ও রপ্তানি টার্মিনালের কার্যক্রম তদারকি করা হয়।   এর আগে হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদির তেল স্থাপনার আশপাশে থাকা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এসব স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইভাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানার উপকণ্ঠে ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় জ্বালানি ডিপো থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।   জোটের এই নির্দেশের জবাবে ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, সানায় হামলা চালানো হলে সৌদির রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।   হামলার আশঙ্কায় সানার কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে জ্বালানির সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ইয়েমেনের তেল কোম্পানি জানায়, তাদের মজুতকেন্দ্রগুলো খালি ছিল। ফলে সৌদি হামলায় তেলের মজুত বা বাসিন্দাদের সরবরাহে প্রভাব পড়বে না।  ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় হামলা চালালে যেসব স্থাপনা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোয় আঘাত হানবে হুথি।   সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, প্রতিহত করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টি বাড়ি। আহতদের মধ্যে দুজন নারী, এক পুরুষ ও এক শিশু রয়েছে।   সৌদি আরবের বিশেষ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এক সপ্তাহ ধরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে হুথি। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। এর জেরেই হুথি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।    শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হন। আহত হন ৩০০ জনের বেশি। এক দশকে সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। হামলার পর দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়।   রোববারের হামলায় আরও একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। এ ছাড়া সরকারপন্থি ইয়েমেনি বাহিনী মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের অবস্থান ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।  তাইজ প্রদেশে ৯টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ধুবাব জেলায় এবং চারটি আল-মাসরাখ জেলায়।    ইয়েমেনের সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাইজ মিলিটারি অ্যাক্সিস মিডিয়া সেন্টার জানিয়েছে, তাইজ শহরের দক্ষিণে আল-শাকাব এলাকায় সরকারপন্থি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই চলছে।   এদিকে ইয়েমেন নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডম মঙ্গলবার জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় তাইজে হুথিদের হামলায় অন্তত ৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সি এক মেয়েশিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন।    সংগঠনটির অভিযোগ, হুথিরা আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে। এতে অন্তত সাতটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় তাইজজুড়ে ১৮০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চীনের সামুদ্রিক তৎপরতা ঠেকাতে নতুন ছক ফিলিপাইনের
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬

পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক তৎপরতা ও চাপ মোকাবিলায় শুধু ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশ যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে ফিলিপাইনকে।   অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণে এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কিত সামুদ্রিক এলাকায় চীনের জাহাজ মোতায়েন, ফিলিপাইনের নৌযানের চলাচলে বাধা এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এসব তৎপরতার তথ্য আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরতে ফিলিপাইন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও সক্রিয় হয়েছে। তবে শুধু এসব ঘটনা প্রকাশ করে চীনের আচরণে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এ জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি কূটনৈতিক ও তথ্যগত কৌশলও শক্তিশালী করতে হবে।   বিতর্কিত এলাকায় চীনের জাহাজ মোতায়েন ফিলিপাইনের পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স জানিয়েছে, পালাওয়ান প্রদেশের ফিলিপাইন-নিয়ন্ত্রিত কোটা দ্বীপের কাছে চীনের সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ২২টি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ৯৬২২ নম্বর জাহাজটি ২২টি ছোট নৌযান নিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পর ওই এলাকায় ফিরে আসে।   টাস্কফোর্সের অভিযোগ, এসব নৌযান সেখানে অনুমতি ছাড়া মাছ ধরা এবং সমুদ্রে বর্জ্য ফেলার সঙ্গে জড়িত ছিল।   এর আগে ৮ অক্টোবর আয়ুঙ্গিন শোল এলাকায় ফিলিপাইনের একটি চিকিৎসা ও উদ্ধার মিশনে জলকামান ব্যবহার করে চীনা কোস্টগার্ড। মিশনটির উদ্দেশ্য ছিল ফিলিপাইনের সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হয়ে থাকা বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজ থেকে একজন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া।   স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের বিতর্কিত মিসচিফ রিফ এলাকায় চীনের সামরিকীকরণের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৯৯ সালে ফিলিপাইন ইচ্ছাকৃতভাবে বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজটি আয়ুঙ্গিন শোলে স্থাপন করে। এরপর থেকে জাহাজটি ওই এলাকায় ফিলিপাইনের উপস্থিতি বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।   সমঝোতার পরও কমেনি উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে সংঘাতের ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে একটি অস্থায়ী সমঝোতা হয়। তবে ফিলিপাইনের অভিযোগ, সমঝোতার পরও বিতর্কিত এলাকায় তাদের সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে বাধা দেওয়া হচ্ছে।   গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজে সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে চীনের কোস্টগার্ড এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি বাধা দেয় বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন। এর কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর ফিলিপিনো জেলেদের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার সময় চীনা কোস্টগার্ডের একটি জাহাজের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফিলিপাইনের মাছ ধরার সহায়ক নৌযান বিআরপি দাতু মাগাত সালামাত।   এদিকে পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের সামরিক ও কোস্টগার্ড জাহাজের উপস্থিতিও বেড়েছে। ফিলিপাইনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পাক-আসা দ্বীপ, আয়ুঙ্গিন শোল, এসকোদা শোল ও স্কারবরো শোলের আশপাশে চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ১০১টি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৫৬।   চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশল সামুদ্রিক তৎপরতার পাশাপাশি তথ্য প্রচারের মাধ্যমেও চীন ফিলিপাইনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিহাসের পুনর্ব্যাখ্যা, ফিলিপাইনের স্বাধীনতার গুরুত্ব খাটো করে দেখানো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার মতো বিষয় রয়েছে।   এ ধরনের প্রচার ফিলিপাইনের প্রভাবশালী মহলে চীনের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সরকারি বিবৃতি বা সামুদ্রিক ঘটনার ছবি প্রকাশ নয়, বরং তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোও জরুরি।   সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ফোর্বস গ্লোবাল সিইও সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, চীনের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর বাস্তবতা তার দেশ উপলব্ধি করে। তবে এটিকে চীনের কাছে নতি স্বীকার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   ফিলিপাইন এখন নীরব কূটনীতির পরিবর্তে সামুদ্রিক এলাকায় চীনের কর্মকাণ্ডের ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর লক্ষ্য জনসচেতনতা বাড়ানো, অপতথ্য মোকাবিলা এবং ২০১৬ সালের সালিশি রায়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা।   তবে এসব উদ্যোগ চীনের আচরণে কতটা পরিবর্তন আনতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। লোয়ি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তথ্য প্রকাশের কৌশলের পাশাপাশি চীনের আগ্রাসী তৎপরতার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে—এমন কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।   প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র সরকারের ‘কমপ্রিহেনসিভ আর্কিপেলাজিক ডিফেন্স কনসেপ্ট’ বা সমন্বিত দ্বীপপুঞ্জ প্রতিরক্ষা ধারণায় সামরিক ঘাঁটি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া, দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীনের প্রবেশ-প্রতিরোধ ও নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল মোকাবিলায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   এ লক্ষ্য অর্জনে বিদেশি সামরিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ নির্ধারণ এবং অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ কোথায় ও কীভাবে মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।   একই সঙ্গে চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় স্বার্থ ও অভিন্ন মূল্যবোধের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য এবং বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। ফিলিপাইনের বিপুলসংখ্যক মানুষ সংবাদ ও তথ্যের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভর করেন। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ছড়ানো ঠেকানো এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।   এ ক্ষেত্রে মিত্র দেশ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রসমর্থিত বা রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   আসিয়ানের নেতৃত্ব কাজে লাগানোর সুযোগ আঞ্চলিক কূটনীতিতেও ফিলিপাইনের সামনে সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব কাজে লাগিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে পারে দেশটি।   মিয়ানমার সংকট, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা মোকাবিলায় আসিয়ান কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।   ১৯৬৭ সালে আসিয়ান প্রতিষ্ঠার সময় সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্য এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি আঞ্চলিক বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব নীতি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক নীতিমালা হালনাগাদ এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণেও নেতৃত্ব দিতে পারে ফিলিপাইন।   সব মিলিয়ে, পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা মোকাবিলায় তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এককভাবে তা যথেষ্ট নয়। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার, ডিজিটাল মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত এবং আসিয়ানভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকর করার সমন্বিত পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদে ফিলিপাইনের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে তলিয়ে গেল আড়াই হাজার কনটেইনার
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬

হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে নৌরদ বোমার (নেভাল মাইন) সঙ্গে ধাক্কা লেগে ও অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে ২ হাজার ৫০০-র বেশি কনটেইনারসহ একটি বিশাল পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ঘটে যাওয়া এই খবরটি নিশ্চিত করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।   আইআরজিসি নৌবাহিনীর জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, জাহাজটি হরমুজ প্রণালির একটি অননুমোদিত ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করছিল। পথিমধ্যে এটি একটি নৌরদ বোমার ওপর উঠে পড়লে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুততম সময়ে জাহাজে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। একপর্যায়ে অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতায় জাহাজটি সাগরে তলিয়ে যায়।   জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর ওই জলসীমায় বেশ কিছু কনটেইনার ভেসে রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় অন্যান্য নৌযান ও জেলেদের সতর্কতার সাথে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী, যাতে পানিতে ভাসমান কনটেইনারগুলোর সাথে ধাক্কা লেগে নতুন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।   সূত্র: মেহের নিউজ

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরামকোর সদরদপ্তরে হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬

ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথির সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির রাজধানী সানায় হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মঙ্গলবার রাতে ব্যাপক হামলা চালায় সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী।    অপরদিকে সৌদির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি আরামকোর দাহরান কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। এ পরিস্থিতির মধ্যে বুধবারও সৌদির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা, যা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঠেকিয়েছে।    এ সময় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক আরব নাগরিক আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি বাড়ি ও একটি গাড়ি।   বুধবার সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানায়। এতে বলা হয়, রিয়াদে হামলার আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।    এর জবাবে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছিল হুথিরা।   মঙ্গলবারের এসব পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই পক্ষের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। হুথির হামলায় আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনটির একটি অফিস টাওয়ারের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।    সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে অবস্থিত আরামকোর থেকে দেশটির বিস্তৃত তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, শোধনাগার ও রপ্তানি টার্মিনালের কার্যক্রম তদারকি করা হয়।   এর আগে হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদির তেল স্থাপনার আশপাশে থাকা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এসব স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইভাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানার উপকণ্ঠে ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় জ্বালানি ডিপো থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।   জোটের এই নির্দেশের জবাবে ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, সানায় হামলা চালানো হলে সৌদির রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।   হামলার আশঙ্কায় সানার কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে জ্বালানির সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ইয়েমেনের তেল কোম্পানি জানায়, তাদের মজুতকেন্দ্রগুলো খালি ছিল। ফলে সৌদি হামলায় তেলের মজুত বা বাসিন্দাদের সরবরাহে প্রভাব পড়বে না।  ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় হামলা চালালে যেসব স্থাপনা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোয় আঘাত হানবে হুথি।   সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, প্রতিহত করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টি বাড়ি। আহতদের মধ্যে দুজন নারী, এক পুরুষ ও এক শিশু রয়েছে।   সৌদি আরবের বিশেষ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এক সপ্তাহ ধরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে হুথি। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। এর জেরেই হুথি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।    শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হন। আহত হন ৩০০ জনের বেশি। এক দশকে সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। হামলার পর দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়।   রোববারের হামলায় আরও একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। এ ছাড়া সরকারপন্থি ইয়েমেনি বাহিনী মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের অবস্থান ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।  তাইজ প্রদেশে ৯টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ধুবাব জেলায় এবং চারটি আল-মাসরাখ জেলায়।    ইয়েমেনের সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাইজ মিলিটারি অ্যাক্সিস মিডিয়া সেন্টার জানিয়েছে, তাইজ শহরের দক্ষিণে আল-শাকাব এলাকায় সরকারপন্থি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই চলছে।   এদিকে ইয়েমেন নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডম মঙ্গলবার জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় তাইজে হুথিদের হামলায় অন্তত ৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সি এক মেয়েশিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন।    সংগঠনটির অভিযোগ, হুথিরা আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে। এতে অন্তত সাতটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় তাইজজুড়ে ১৮০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
বিশ্বজুড়ে ডিজেল সংকট কাটবে কবে, যা জানাল আইইএ
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬

বিশ্ববাজারে ডিজেলের যে সংকট চলছে, তা সহজে কাটছে না। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বা আইইএর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির এই টানাপোড়েন ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।   মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেল সরবরাহের পুরো ব্যবস্থাটিই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এর প্রভাব হিসেবে চলতি বছর বৈশ্বিক তেলের চাহিদা দৈনিক প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মজার বিষয় হলো, এই চাহিদ হ্রাসের বড় একটা অংশ, অর্থাৎ প্রায় এক চতুর্থাংশই আসছে শুধু ডিজেল থেকে।   এদিকে ডিজেলের চড়া দাম সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে, জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং অর্থনীতির চাকাকে ধীর করে দিচ্ছে। তেলের মজুত কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ থেকে তেল রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজে তেল পরিবহনও কিছুটা শুরু হয়েছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ পথে নতুন করে হামলার ঝুঁকি এই চেষ্টাকে বারবার অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে।   এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা এবং ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭ জরুরি মজুত থেকে তেল ছেড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছে। তবে বিশেষজ্ঞ ও সংস্থাটির মতে, ভূ-রাজনীতির এই উত্তাপ না কমলে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের আগে বিশ্ববাসীর এই জ্বালানি কষ্ট কমার কোনো লক্ষণ নেই।   সূত্র: রয়টার্স

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব