সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিক কারাগারে, জামিন আবেদন খারিজ

সীমান্ত পেরিয়ে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় দুই নাগরিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন রংপুরের একটি আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৭ অক্টোবর।   আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন ইসমাইল হোসেন ও আব্দুল আলীম মন্ডল। তাঁদের বাড়ি ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুরের একটি ক্লিনিকে খোঁজ নেয় পুলিশ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই ভারতীয় নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁরা আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরে তাঁদের বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে পাসপোর্ট ও ভিসা দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেছে পুলিশ।   পুলিশের অভিযোগ, ওই দিন সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দইখাওয়ার চর সীমান্ত দিয়ে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। বৈধভাবে প্রবেশের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাঁদের বিরুদ্ধে দ্য কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট, ১৯৫২-এর ৪ ধারায় মামলা করা হয়।   বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করার পর আসামিপক্ষের জামিন আবেদন শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।   আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমন জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ রয়েছে। সেদিন আদালতে আসামিদের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
সোনারগাঁয়ে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৩

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরে গ্যাসের চাপ বাড়ানোর কম্প্রেসার লাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে একই ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও শ্যালকসহ তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিস্ফোরণে আহত অপর একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) ও বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়।   নিহতরা হলেন শরীফ হোসেন (৩৪), তাঁর স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩০) এবং শরীফের শ্যালক রিয়াজ (২২)।   জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, বুধবার দুপুরে দগ্ধদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে ও দুপুরে আরও দুজন মারা যান। নিহত রোজিনা আক্তারের শরীরের ৬০ শতাংশ এবং শরীফ হোসেন ও রিয়াজের শরীরের ৪০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছিল।   একই ঘটনায় দগ্ধ রনি নামে আরও একজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   জানা গেছে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের সোনাপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় শাহ আলম মিয়ার মালিকানাধীন ইসলাম টাওয়ার নামের ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত কম্প্রেসার লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের সদস্যসহ চারজন দগ্ধ হন।   গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়।

১ ঘন্টা আগে
জলবায়ু অর্থায়নের ৫৮ শতাংশই ঋণ, অনুদান বাড়ানোর তাগিদ

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাচ্ছে, তার বড় অংশই ঋণনির্ভর। প্রতি এক মার্কিন ডলার অনুদানের বিপরীতে প্রায় ২ দশমিক ৭০ ডলার ঋণ পেয়েছে দেশটি। জলবায়ু অভিযোজন খাতে প্রাপ্ত অর্থের ৫৮ শতাংশই এসেছে ঋণ হিসেবে। এ পরিস্থিতিতে ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন বাড়ানো এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর শেরাটন অ্যানেক্সে আয়োজিত ‘প্যারিস থেকে আন্তালিয়া: জলবায়ু ও প্রকৃতির জন্য অর্থায়ন বিষয়ক একটি প্রতিফলন’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।   চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংলাপে সহযোগিতা করে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। এতে সহায়তা দেয় সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি)।   জলবায়ু অর্থায়নে ঋণের চাপ ও স্থানীয় সংকট আয়োজকদের গবেষণায় উঠে এসেছে, জলবায়ু অর্থায়নের মূল সমস্যা শুধু অর্থের ঘাটতি নয়; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে অর্থ পৌঁছানো এবং প্রকল্পের সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। ‘গোফোরইমপ্যাক্ট’ (GO4IMPact) কর্মসূচির আওতায় সাতক্ষীরা ও নওগাঁ অঞ্চলে পরিচালিত মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, উপকূলীয় এলাকার মাত্র ৩৫ শতাংশ পরিবার সারা বছর নিরাপদ পানির সুবিধা পায়। গবেষণায় আরও উঠে আসে, স্থানীয় বাজেটে পানি সরবরাহসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবার রক্ষণাবেক্ষণের তুলনায় নতুন অবকাঠামো নির্মাণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু অর্থায়নে অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো, স্থানীয় পর্যায়ে অর্থের সুষম বণ্টন এবং দীর্ঘমেয়াদি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।   তৃণমূলের চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনার তাগিদ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের সফলতা শুধু কত অর্থ পাওয়া গেল, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নতুন নীতিগত প্ল্যাটফর্মকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।   ঋণনির্ভরতার পরিবর্তে ন্যায্য অর্থায়নের দাবি চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. জাকির হোসেন খান বলেন, প্রকৃতি ও মানুষের মৌলিক অধিকারকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তিনি জলবায়ু অর্থায়নে ঋণের বোঝা কমানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। জাকির হোসেন খান আরও বলেন, পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নির্ধারিত নয়টি গুরুত্বপূর্ণ সীমার মধ্যে সাতটি ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে। এ অবস্থায় প্রকৃতির অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে সুশাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দীপক এলমার বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, সুস্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধু অর্থ সংগ্রহ করলেই চলবে না; সেই অর্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তায় কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।   জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান সংলাপে সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত না করে কোনো উন্নয়ন উদ্যোগ টেকসই করা সম্ভব নয়। তাই পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ জলবায়ু পরিবর্তন, প্রকৃতির অবক্ষয় ও দূষণকে সমন্বিতভাবে মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেন। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির পানি ও খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ বলেন, জলবায়ু অভিযোজন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার। আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস. হোসেন প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম চালু রাখতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।   নতুন নীতি প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু সংলাপের মাধ্যমে ‘ন্যাচার অ্যান্ড গভর্ন্যান্স পলিসি প্ল্যাটফর্ম’ (এনজিপিপি) নামে একটি স্বাধীন উপদেষ্টা প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্ল্যাটফর্মটি জলবায়ু, প্রকৃতি ও সুশাসন বিষয়ে গবেষণা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করবে। চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ এর কারিগরি সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে প্ল্যাটফর্মটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনে সম্মতি জানিয়েছেন।   এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়নসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পর্যায়ক্রমে প্ল্যাটফর্মটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর (ইন-চার্জ) মো. তাহমিদুল ইসলাম জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে তরুণদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নতুন প্ল্যাটফর্মটির সফলতা কামনা করেন তিনি।

২ ঘন্টা আগে
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা এবং তাঁর স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুদকের ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   দুদক সূত্র জানায়, প্রথম মামলায় পুলিশ পরিদর্শক ফখরুদ্দীন ভূঞাকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তিনি ৯০ লাখ ৯১ হাজার ২৬৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।   অনুসন্ধানে তাঁর নামে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯১১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অন্যদিকে তাঁর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫৭ টাকা। এ হিসাবে তাঁর বিরুদ্ধে ৯২ লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।   এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।   অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলায় পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রী জাহানারা খানমকে আসামি করা হয়েছে। একই মামলায় অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে সহযোগিতার অভিযোগে ফখরুদ্দীন ভূঞাকেও আসামি করেছে দুদক।   মামলার এজাহার অনুযায়ী, জাহানারা খানমের নামে ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদকের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ফখরুদ্দীন ভূঞা তাঁর অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্ত্রীর নামে সম্পদ কেনার মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা করেছেন এবং এ কাজে সহযোগিতা করেছেন।   এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
জলবায়ু অর্থায়নের ৫৮ শতাংশই ঋণ, অনুদান বাড়ানোর তাগিদ

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাচ্ছে, তার বড় অংশই ঋণনির্ভর। প্রতি এক মার্কিন ডলার অনুদানের বিপরীতে প্রায় ২ দশমিক ৭০ ডলার ঋণ পেয়েছে দেশটি। জলবায়ু অভিযোজন খাতে প্রাপ্ত অর্থের ৫৮ শতাংশই এসেছে ঋণ হিসেবে। এ পরিস্থিতিতে ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন বাড়ানো এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর শেরাটন অ্যানেক্সে আয়োজিত ‘প্যারিস থেকে আন্তালিয়া: জলবায়ু ও প্রকৃতির জন্য অর্থায়ন বিষয়ক একটি প্রতিফলন’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।   চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংলাপে সহযোগিতা করে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। এতে সহায়তা দেয় সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি)।   জলবায়ু অর্থায়নে ঋণের চাপ ও স্থানীয় সংকট আয়োজকদের গবেষণায় উঠে এসেছে, জলবায়ু অর্থায়নের মূল সমস্যা শুধু অর্থের ঘাটতি নয়; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে অর্থ পৌঁছানো এবং প্রকল্পের সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। ‘গোফোরইমপ্যাক্ট’ (GO4IMPact) কর্মসূচির আওতায় সাতক্ষীরা ও নওগাঁ অঞ্চলে পরিচালিত মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, উপকূলীয় এলাকার মাত্র ৩৫ শতাংশ পরিবার সারা বছর নিরাপদ পানির সুবিধা পায়। গবেষণায় আরও উঠে আসে, স্থানীয় বাজেটে পানি সরবরাহসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবার রক্ষণাবেক্ষণের তুলনায় নতুন অবকাঠামো নির্মাণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু অর্থায়নে অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো, স্থানীয় পর্যায়ে অর্থের সুষম বণ্টন এবং দীর্ঘমেয়াদি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।   তৃণমূলের চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনার তাগিদ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের সফলতা শুধু কত অর্থ পাওয়া গেল, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নতুন নীতিগত প্ল্যাটফর্মকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।   ঋণনির্ভরতার পরিবর্তে ন্যায্য অর্থায়নের দাবি চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. জাকির হোসেন খান বলেন, প্রকৃতি ও মানুষের মৌলিক অধিকারকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তিনি জলবায়ু অর্থায়নে ঋণের বোঝা কমানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। জাকির হোসেন খান আরও বলেন, পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নির্ধারিত নয়টি গুরুত্বপূর্ণ সীমার মধ্যে সাতটি ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে। এ অবস্থায় প্রকৃতির অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে সুশাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দীপক এলমার বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, সুস্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধু অর্থ সংগ্রহ করলেই চলবে না; সেই অর্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তায় কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।   জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান সংলাপে সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত না করে কোনো উন্নয়ন উদ্যোগ টেকসই করা সম্ভব নয়। তাই পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ জলবায়ু পরিবর্তন, প্রকৃতির অবক্ষয় ও দূষণকে সমন্বিতভাবে মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেন। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির পানি ও খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ বলেন, জলবায়ু অভিযোজন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার। আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস. হোসেন প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম চালু রাখতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।   নতুন নীতি প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু সংলাপের মাধ্যমে ‘ন্যাচার অ্যান্ড গভর্ন্যান্স পলিসি প্ল্যাটফর্ম’ (এনজিপিপি) নামে একটি স্বাধীন উপদেষ্টা প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্ল্যাটফর্মটি জলবায়ু, প্রকৃতি ও সুশাসন বিষয়ে গবেষণা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করবে। চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ এর কারিগরি সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে প্ল্যাটফর্মটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনে সম্মতি জানিয়েছেন।   এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়নসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পর্যায়ক্রমে প্ল্যাটফর্মটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর (ইন-চার্জ) মো. তাহমিদুল ইসলাম জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে তরুণদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নতুন প্ল্যাটফর্মটির সফলতা কামনা করেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৬, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনে প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, গৃহযুদ্ধের শঙ্কা

ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে অবস্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চালানো এ হামলায় চার নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদরদপ্তর এই প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে অবস্থিত। হুথিদের এ হামলার পর দেশটিতে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার এবং পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের প্রথম হামলা। দেশটির সরকারি সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   গত দুই মাস ধরে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। নতুন করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র আক্রান্ত হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন দেশটির সাধারণ মানুষ।   সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এতে সৌদি আরবসহ অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সম্পৃক্ততা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমর্থন আদায়ে সৌদি আরব অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালাচ্ছে। রিয়াদের অভিযোগ, হুথিরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করছে।   ইয়েমেনের রাজধানী সানা হলেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এডেনকে অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে হামলার মধ্য দিয়ে হুথিরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতার বার্তা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ হামলার জবাবে হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী সদরদপ্তরকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো কঠিন হতে পারে। গোষ্ঠীটির নেতারা বিমান হামড়া এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকেন।   সব মিলিয়ে, ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   সূত্র: আলজাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিক কারাগারে, জামিন আবেদন খারিজ

সীমান্ত পেরিয়ে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় দুই নাগরিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন রংপুরের একটি আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৭ অক্টোবর।   আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন ইসমাইল হোসেন ও আব্দুল আলীম মন্ডল। তাঁদের বাড়ি ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুরের একটি ক্লিনিকে খোঁজ নেয় পুলিশ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই ভারতীয় নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁরা আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরে তাঁদের বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে পাসপোর্ট ও ভিসা দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেছে পুলিশ।   পুলিশের অভিযোগ, ওই দিন সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দইখাওয়ার চর সীমান্ত দিয়ে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। বৈধভাবে প্রবেশের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাঁদের বিরুদ্ধে দ্য কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট, ১৯৫২-এর ৪ ধারায় মামলা করা হয়।   বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করার পর আসামিপক্ষের জামিন আবেদন শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।   আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমন জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ রয়েছে। সেদিন আদালতে আসামিদের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
সোনারগাঁয়ে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৩

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরে গ্যাসের চাপ বাড়ানোর কম্প্রেসার লাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে একই ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও শ্যালকসহ তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিস্ফোরণে আহত অপর একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) ও বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়।   নিহতরা হলেন শরীফ হোসেন (৩৪), তাঁর স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩০) এবং শরীফের শ্যালক রিয়াজ (২২)।   জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, বুধবার দুপুরে দগ্ধদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে ও দুপুরে আরও দুজন মারা যান। নিহত রোজিনা আক্তারের শরীরের ৬০ শতাংশ এবং শরীফ হোসেন ও রিয়াজের শরীরের ৪০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছিল।   একই ঘটনায় দগ্ধ রনি নামে আরও একজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   জানা গেছে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের সোনাপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় শাহ আলম মিয়ার মালিকানাধীন ইসলাম টাওয়ার নামের ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত কম্প্রেসার লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের সদস্যসহ চারজন দগ্ধ হন।   গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়।

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা, আটক ৭

ট্রেনের ছাদে উঠে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভ্রমণের অভিযোগে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সাত যাত্রীকে আটক করেছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৭০৪ ডাউন মহানগর প্রভাতী ট্রেনটি চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছালে ছাদে থাকা যাত্রীদের আটক করা হয়।   রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আরএনবি কমান্ড্যান্ট মো. মোরশেদ আলমের নির্দেশনায় সিআই আরএনবি মো. এয়াসিন উল্লাহর নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।   অভিযানের পর টিকিট চেকারের (টিসি) মাধ্যমে জরিমানাসহ মোট ১ হাজার ২০০ টাকার টিকিট আদায় করা হয়। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   আরএনবি জানায়, আটক যাত্রীদের মধ্যে যাঁদের বৈধ টিকিট ছিল, তাঁদের মুচলেকা নিয়ে প্রথমবারের মতো সতর্ক করা হয়েছে। বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করছিলেন।   এ বিষয়ে আরএনবি কমান্ড্যান্ট মো. মোরশেদ আলম বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা, নিহত ১৯
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৫, ২০২৬

সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩৬৪ জন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এ তথ্য জানিয়েছেন।   সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আখবারিয়াকে দেওয়া তথ্যে তুর্কি আল-মালিকি জানান, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসির অঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরে প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুজন।   তিনি জানান, অক্টোবরের শুরু থেকে সৌদি আরবে হুথিদের হামলার তীব্রতা বেড়েছে। গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে গোষ্ঠীটির সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   তুর্কি আল-মালিকির ভাষ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরু থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০ বার হামলা চালানো হয়েছে। শুধু ৭ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে ওই বিমানবন্দরে হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ৩৩৩ জন আহত হন।   এ ছাড়া আসির অঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরে হামলায় দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। জাজান অঞ্চলের কিং আব্দুল্লাহ বিমানবন্দরে হামলায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।   এর আগে গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সামরিক জোটের মুখপাত্র।   সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   সূত্র: আল-আরাবিয়া

ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনে প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, গৃহযুদ্ধের শঙ্কা
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৫, ২০২৬

ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে অবস্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চালানো এ হামলায় চার নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদরদপ্তর এই প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে অবস্থিত। হুথিদের এ হামলার পর দেশটিতে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার এবং পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের প্রথম হামলা। দেশটির সরকারি সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   গত দুই মাস ধরে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। নতুন করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র আক্রান্ত হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন দেশটির সাধারণ মানুষ।   সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এতে সৌদি আরবসহ অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সম্পৃক্ততা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমর্থন আদায়ে সৌদি আরব অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালাচ্ছে। রিয়াদের অভিযোগ, হুথিরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করছে।   ইয়েমেনের রাজধানী সানা হলেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এডেনকে অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে হামলার মধ্য দিয়ে হুথিরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতার বার্তা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ হামলার জবাবে হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী সদরদপ্তরকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো কঠিন হতে পারে। গোষ্ঠীটির নেতারা বিমান হামড়া এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকেন।   সব মিলিয়ে, ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   সূত্র: আলজাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা দিলেন না হাইকোর্ট
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৫, ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধের আবেদন নাকচ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন। তবে বিক্ষোভের সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন বিচারপতিরা।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে দলটি।   এদিকে নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (এনডিএমসি) জানিয়েছে, প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকবে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশে কী ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   এর আগে গত ১০ অক্টোবর সিজেপির ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়া শত শত মানুষকে আটক করে পুলিশ। তারা কনট প্লেসের কাছাকাছি যন্তর মন্তর রোডের দিকে যাচ্ছিলেন। একই দাবিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ইনডিয়াও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।   ব্যবসায়ীদের আবেদনে শুনানি বিক্ষোভের কারণে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশঙ্কা জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন ফুটপাতে পণ্য বিক্রির লাইসেন্সধারী এক ব্যবসায়ী। তাঁর দাবি, কনট প্লেস এলাকায় বিক্ষোভ হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হবে এবং উৎসবের মৌসুমে দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেও সাম্বরে ও বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আবেদনটির শুনানি হয়। আবেদনকারীর আইনজীবী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানান। কর্তৃপক্ষের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতকে জানান, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে একই সময়ে বিক্ষোভ করার অনুমতি পেয়েছে সিজেপি।   সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীপকের বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক অভিযোগ করেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনে যোগ দেওয়া বিরোধী নেতাদেরও আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। দীপকের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় সিজেপির দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে ওই এলাকাটি তালিকাভুক্ত না থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে আইসার নেতা নেহা বোরা অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের প্রেস কার্ড থাকা সত্ত্বেও মারধর করা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছে। তাঁদের ক্যামেরাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   সূত্র: এনডিটিভি

ছবি: সংগৃহীত
ধ্রুজদের ওপর হামলা বন্ধে সারাকে ফোন করেছিলেন নেতানিয়াহু
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৫, ২০২৬

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল সারার সঙ্গে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে টেলিফোনে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজ রাজনৈতিক দল লিকুদ পার্টির এক বৈঠকে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।   নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, সিরিয়ার ধ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বন্ধের বিষয়ে কথা বলতে তিনি সারাকে ফোন করেছিলেন। তার দাবি, ওই ফোনালাপের পর ধ্রুজদের ওপর হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়।   নেতানিয়াহু বলেন, “আমি সারাকে ফোন করি। এটি ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ আলাপ। আর এরপরই সিরিয়ার ধ্রুজদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়।”   উল্লেখ্য, ওই ফোনালাপের কয়েক দিন আগে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।   ২০২৪ সালে সিরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসেন আহমেদ আল সারা। এরপর তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথিত ফোনালাপের বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ঘটনা হিসেবে এই ফোনালাপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।   দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ধ্রুজ সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। এ সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী সিরিয়ায় এবং অন্য একটি অংশ ইসরায়েলে বসবাস করে।   সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব