সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ফারহানকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন লঙ্কান কোচ, শিরোপায় এগিয়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদকে নিয়ে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার কোচ আব্দুল্লাহ আল মুতাইরি। তাঁর বিশ্বাস, আগামী এক দশকের মধ্যে ফারহান দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে উঠবেন। একই সঙ্গে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে স্বাগতিক বাংলাদেশকেই শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছেন তিনি।   বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফারহানকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান কুয়েতি এই কোচ। তাঁর সরাসরি ও রসাত্মক মন্তব্যে সংবাদ সম্মেলনে বেশ প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়।   সংবাদ সম্মেলন শেষে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে মজার ছলে আল মুতাইরি বলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে ফারহানের জার্সি তিনি নিজের সংগ্রহে রাখতে চান। অন্য কোনো খেলোয়াড় সেই জার্সি নিতে চাইলে তাঁকে সাসপেন্ড করার কথাও রসিকতার ছলে উল্লেখ করেন। তবে হামজা চৌধুরীর জার্সি নেওয়ার ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এর আগে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ফারহানের প্রশংসা করে আল মুতাইরি বলেন, তিনি এই তরুণ ফুটবলারের বড় ভক্ত এবং তাঁকে ভালোভাবে চেনেন। তাঁর মতে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে ফারহান দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফুটবলার হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।   সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলও নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে। কয়েকটি ম্যাচে ভালো ফল পাওয়ায় দলটির পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তারপরও সাফের শিরোপা জয়ের দৌড়ে নিজেদের এগিয়ে রাখছেন না লঙ্কান কোচ।   আল মুতাইরির মতে, এবারের আসরে প্রথম ফেভারিট বাংলাদেশ। স্বাগতিক হিসেবে নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধার পাশাপাশি দলটির সামর্থ্যও রয়েছে। এরপর ভারতকে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ভারতের মূল দল অংশ না নিলেও অতীতে বয়সভিত্তিক দল নিয়ে সাফল্য পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন এই কোচ।   শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মজার ছলে আল মুতাইরি জানান, তাঁদের দল মূলত ভালো ফুটবল খেলতে এসেছে। বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হলে সেটি দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   তবে সাফ টুর্নামেন্টের বাইরে শ্রীলঙ্কার ফুটবল নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। চার বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নেওয়া এই কোচের প্রধান লক্ষ্য আগামী এশিয়ান কাপে শ্রীলঙ্কাকে খেলার যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করা। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করছেন বলে জানান তিনি।   উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সাফ পুরুষ চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী দিনেই মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। একই দিনে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান। আগামী রোববার নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা, তাদের প্রতিপক্ষও ভুটান।

১৩ মিনিট আগে
তরুণ ফরোয়ার্ড জেজে গ্যাব্রিয়েলকে দলে নিতে আগ্রহী রিয়াল মাদ্রিদ

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতিভাবান তরুণ ফরোয়ার্ড জেজে গ্যাব্রিয়েলকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। ১৬ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে পাওয়ার দৌড়ে বার্সেলোনা ও পিএসজির মতো ক্লাব থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।   বর্তমানে গ্যাব্রিয়েল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নিবন্ধিত খেলোয়াড় হলেও গত সেপ্টেম্বরে ক্লাব ছাড়ার পর আর সেখানে ফেরেননি। প্রাক্‌-মৌসুমে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া ব্রাইটনের বিপক্ষে কারাবাও কাপের ম্যাচে ইউনাইটেডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল তাঁর সামনে।   তবে সিনিয়র দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ার আশায় নতুন ক্লাব খুঁজছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। বর্তমানে স্পেনে অবস্থান করে একাই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ইউরোপের বেশ কয়েকটি শীর্ষ ক্লাব আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্ট থাকায় ইংল্যান্ডের বাইরে কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্যাব্রিয়েলের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি হতে পারে। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়লে ক্লাবটি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবে। তবে প্রিমিয়ার লিগের বাইরের কোনো দলে যোগ দিলে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক তুলনামূলক কম হতে পারে।   অল্প বয়সেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন গ্যাব্রিয়েল। ইউরোপীয় যুব লিগে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। গত মৌসুমে মাত্র ১৪ বছর বয়সে প্রিমিয়ার লিগের অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।   ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ড্যারেন ফ্লেচারও তাঁর প্রতিভার প্রশংসা করেছিলেন। গ্যাব্রিয়েলকে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, তাঁর সামনে সম্ভাবনার বিশাল এক জগৎ অপেক্ষা করছে।   অন্যদিকে, ব্রাইটনের কাছে কারাবাও কাপে হারের পর তরুণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ ও মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন ইউনাইটেড কোচ মাইকেল ক্যারিক। তাঁর মতে, তরুণ ফুটবলারদের কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং তাঁদের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ তৈরি হচ্ছে কি না, সেদিকে ক্লাবের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

১৫ মিনিট আগে
সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহে হামলা, আহত ৮ সাংবাদিক

ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন অন্তত আটজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। এ সময় তাঁদের কয়েকজনকে মারধরের পাশাপাশি পেশাগত কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়েছে।   বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পৃথক এসব হামলার ঘটনা ঘটে।   আহতদের মধ্যে রয়েছেন নিউজ ২৪ টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদা ও আলোকচিত্রী ইমদাদুল, স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি আহমদ সোহান সিরাজী, একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন এবং একই টেলিভিশনের আলোকচিত্রী উজ্জ্বল হোসেনসহ আরও তিনজন।   হামলার শিকার সাংবাদিক নাজমুল হুদা জানান, সকালে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের পদ্মার মোড় এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন দেন। তিনি ঘটনাটির সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারী তাঁর ও তাঁর আলোকচিত্রীর ওপর হামলা চালান। তাঁদের মারধরের পাশাপাশি ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়।   স্টার নিউজের সাংবাদিক আহমদ সোহান সিরাজী জানান, হেমায়েতপুর এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের দুই সাংবাদিক ও একজন আলোকচিত্রীর ওপর চড়াও হন। পরে তাঁদের মারধর করা হয়।   এদিকে একই সময়ে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আরও অন্তত তিনজন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়ে আহত হন।   শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, দুপুরের পর থেকে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সকালে বিভিন্ন স্থানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

১৭ মিনিট আগে
মানি চেঞ্জারদের জন্য নতুন সুবিধা, বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে ব্যাংকে

নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ ও পরিবহনের ঝুঁকি কমাতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের জন্য বিশেষ ব্যাংক হিসাব খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোতে কাস্টডিয়াল হিসাব খুলে বৈদেশিক মুদ্রার নোট জমা ও সংরক্ষণ করতে পারবেন তাঁরা।   বুধবার (৪ নভেম্বর) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   সার্কুলারে বলা হয়েছে, কাস্টডিয়াল হিসাব কেবল বৈদেশিক মুদ্রার নোট জমা, উত্তোলন এবং নিরাপদে সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এসব হিসাবে জমা অর্থের বিপরীতে কোনো ধরনের সুদ দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে মুদ্রা জমা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেনের পরিমাণ ও ধরন যথাযথভাবে নথিভুক্ত রাখতে হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা পরিবহনের ক্ষেত্রে মানি চেঞ্জারদের বৈধ ক্যাশ-ইন-ট্রানজিট (সিআইটি) বিমা থাকতে হবে। এ ছাড়া অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ পরিবহনের সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত সিআইটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অথবা নিরাপত্তা প্রহরীসহ উপযুক্ত নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে।   দিনের শেষ সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা জমা দেওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করতে এডি ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ কাউন্টার ও অস্থায়ী ভল্টের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   নির্দেশনা অনুযায়ী, মানি চেঞ্জাররা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে চেক অথবা উত্তোলন স্লিপ ব্যবহার করে এসব হিসাব থেকে অর্থ তুলতে পারবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই জমা স্থিতির চেয়ে বেশি অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। এসব হিসাবে ওভারড্রাফট বা ঋণসুবিধাও দেওয়া যাবে না।   এ ছাড়া কাস্টডিয়াল হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর, রেমিট্যান্স পাঠানো কিংবা তৃতীয় পক্ষের অনুকূলে কোনো ধরনের লেনদেন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হিসাবের সব কার্যক্রম বৈদেশিক মুদ্রার নোটের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের হাতে থাকা নগদ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকে নিরাপদে রাখার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ বহন ও সংরক্ষণের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা প্রতিপালন আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার উদ্যোগ

পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ড। আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কার্যকর করার বিষয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের প্রতিনিধিরা।   বুধবার (৪ নভেম্বর) বোর্ডের প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার।   তিনি বলেন, পরবর্তী বৈঠক আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রতিনিধিরা নিজেদের দাবি-দাওয়া লিখিতভাবে জমা দেবেন। ডিসেম্বরের মধ্যেই মজুরি কাঠামো কার্যকর করা হবে এবং জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন দেওয়ার বিষয়ে শ্রমিক-মালিক দুই পক্ষই একমত।   উৎপাদন সচল রাখতে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাবুল আখতার বলেন, মজুরি নির্ধারণে সরকার কাজ করছে।   বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী বলেন, আগের মতো এবার কালক্ষেপণ করা হবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিম্নতম মজুরির সুপারিশ করা হবে।   মালিকপক্ষের প্রতিনিধি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই বাড়তি বেতন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এ বিষয়ে কোনো দ্বিধা নেই বলেও জানান তিনি।   উল্লেখ্য, পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্যে গত ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে তৌফিকের ওপর ভাড়াটে লোক দিয়ে হামলার অভিযোগ বন্ধুর

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সময় দুপক্ষের সংঘর্ষের ভেতর পড়ে গার্মেন্টসকর্মী মো. তৌফিক হোসেন কীভাবে নিহত হয়েছেন, সেটি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমে দাবি করা হচ্ছে, তিনি বিক্ষোভকারীদের ভিডিও ধারণ করায় শ্রমিকদের হাতে মারধরের শিকার হন। কিন্তু ওই সময় ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা তার এক বন্ধু কালবেলা অনলাইনের সঙ্গে কথা বলার সময় দাবি করেছেন, ‘একটি গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকের মারধরের কারণে তৌফিক মারা গেছেন।’   গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার উত্তরার শিনশিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌফিকের মৃত্যু হয়। আগের দিন সোমবার আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তৌফিক। এ সময় হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আন্দোলনরত শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   গার্মেন্টের ভাড়া করা লোকের মারধরে তৌফিকের মৃত্যু হয়েছে দাবি করা বন্ধুর নাম মো. সাব্বির হোসেন। তিনি নিহতের সহকর্মীও। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে কালবেলা অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘তৌফিকের কাছে স্মার্টফোনই ছিল না। তার সঙ্গে একটি বাটন ফোন ছিল। ভিডিও করবে কীভাবে?’   ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাব্বির বলেন, ‘আমরা তখন লাঞ্চ করতে বাসায় আসি। খাওয়া-দাওয়া করে অফিসের দিকে যাওয়ার সময় একটি গার্মেন্টসের সামনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখি দুপক্ষ হামলা করতেছে। এখানে ওই গার্মেন্টসের মালিক কিছু লোক রেখেছিল যারা বিক্ষোভকারীদের দৌড়াচ্ছিল। তো আমরা যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারী ও ওই গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকেরা সামনাসামনি হামলা করলে আমরা দুইজন মাঝে পড়ে যাই।’   সাব্বির যে গার্মেন্টসের নাম বলেছেন, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করছে কালবেলা। ভুল উচ্চারণের কারণে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গার্মেন্টসটির সঠিক নাম জানা সম্ভব হয়নি।   সাব্বির বলেন, ‘গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকজন বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিলে তারা দৌড়ে অন্যদিকে চলে যায়। আমিও দৌড়ে রাস্তার অন্যপাশে চলে যাই। তখন পিছন দিকে তাকিয়ে দেখি তৌফিক নিচে পড়ে আছে। তাকে মারধর করেছে ভাড়া করা লোকেরা।’   তৌফিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত কালবেলা একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলেছে। গাজীপুরের কয়েক স্থানীয় বাসিন্দা বলেছেন, আন্দোলনের সময় গার্মেন্টস রক্ষা করতে অনেক মালিক নিজেদের লোক এনেছিল। তারা গার্মেন্টস পাহারা দিচ্ছিল। তৌফিক তাদের মারধরের শিকার হয়ে মারা যেতে পারেন বলে ধারণা।   নিহত তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। তিনি ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে।   স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর পড়ালেখা ছেড়ে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে আসেন তৌফিক। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে লায়লা গার্মেন্টসে চাকরি নেন। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত কয়েক দিন ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছিল। ওই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তৌফিক।

ছবি: সংগৃহীত
ভোলায় পাচারের সময় ২৯০ বস্তা সরকারি সার আটক, গোডাউন সিলগালা

ভোলার সদর উপজেলা থেকে নদীপথে অন্যত্র নেওয়ার সময় ২৯০ বস্তা সরকারি সার আটক করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। পরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারগুলো উদ্ধার করে একটি গোডাউনে সংরক্ষণ করে সেটি সিলগালা করে দেয়। এ ঘটনায় সরকারি ভর্তুকির সার বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাকারমাথা এলাকার দারোগার খাল থেকে সারগুলো আটক করা হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে প্রশাসনের উদ্যোগে সেগুলো একটি স্থানীয় গোডাউনে রাখা হয়।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে একটি নসিমনে করে সার এনে দারোগার খালে আগে থেকে নোঙর করা একটি ট্রলারে তোলা হচ্ছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে কৃষকেরা সারগুলো আটক করেন।   আটক করা সারের মধ্যে ১৮০ বস্তা ডিএপি এবং ১১০ বস্তা টিএসপি রয়েছে।   ট্রলারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, ভোলার একজন স্থানীয় সার ডিলারের কাছ থেকে সারগুলো কিনে চরাঞ্চলের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ভর্তুকির সার নির্ধারিত দামে বিক্রি না করে বেশি মুনাফার আশায় অন্যত্র পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।   বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দীন ফরাজি অভিযোগ করেন, ভোলায় পর্যাপ্ত সার থাকা সত্ত্বেও সাধারণ কৃষকেরা সরকারি ভর্তুকির সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁর দাবি, কৃষকদের চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ফলে তাঁদের অতিরিক্ত দামে ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনতে হচ্ছে।   তিনি এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে বলেন, আটক ২৯০ বস্তা সার তাঁর যোগসাজশ ছাড়া সেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সার বিতরণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।   অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মো. কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সারগুলো ভোলা সদর উপজেলা ও বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। চরাঞ্চলে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য কৃষকেরা সারগুলো কিনেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, কোনো কৃষক বা ডিলার অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে সার উত্তোলন করেছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস বলেন, আটক সারগুলোর বৈধ কাগজপত্র তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সেগুলো উদ্ধার করে একটি স্থানীয় গোডাউনে রেখে সিলগালা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ছবি: সংগৃহীত
নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার বলেও জানান তিনি।   বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১ বাস্তবায়নে কাজ করছে।   এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি মানবাধিকার ও মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। মানব পাচার, আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।   অনুষ্ঠানে আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আরো প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা চান।   আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেছেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে দক্ষ জনবল, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা দিতে আইওএম আগ্রহী।   অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান, উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহে হামলা, আহত ৮ সাংবাদিক

ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন অন্তত আটজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। এ সময় তাঁদের কয়েকজনকে মারধরের পাশাপাশি পেশাগত কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়েছে।   বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পৃথক এসব হামলার ঘটনা ঘটে।   আহতদের মধ্যে রয়েছেন নিউজ ২৪ টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদা ও আলোকচিত্রী ইমদাদুল, স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি আহমদ সোহান সিরাজী, একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন এবং একই টেলিভিশনের আলোকচিত্রী উজ্জ্বল হোসেনসহ আরও তিনজন।   হামলার শিকার সাংবাদিক নাজমুল হুদা জানান, সকালে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের পদ্মার মোড় এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন দেন। তিনি ঘটনাটির সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারী তাঁর ও তাঁর আলোকচিত্রীর ওপর হামলা চালান। তাঁদের মারধরের পাশাপাশি ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়।   স্টার নিউজের সাংবাদিক আহমদ সোহান সিরাজী জানান, হেমায়েতপুর এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের দুই সাংবাদিক ও একজন আলোকচিত্রীর ওপর চড়াও হন। পরে তাঁদের মারধর করা হয়।   এদিকে একই সময়ে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আরও অন্তত তিনজন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়ে আহত হন।   শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, দুপুরের পর থেকে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সকালে বিভিন্ন স্থানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
রয়টার্স ছবি
সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে বারবার বিঘ্ন: দুর্বল অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন
মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৪, ২০২৬

থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে ট্যাক্সিওয়েতে আটকে পড়েছে এমিরেটসের এয়ারবাস এ-৩৮০। পাঁচ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে একই বিমানবন্দরে দ্বিতীয়বারের মতো স্থানীয় সময় সোমবার রাতে আটকে পড়ল উড়োজাহাজটি।     বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২ নভেম্বর রাত ৯টা ১১ মিনিটে দুবাইগামী এমিরেটসের ইকে৩৭৩ ফ্লাইটটি ট্যাক্সিওয়ে ই২১-তে চলাচল করতে গিয়ে আটকে যায়। পরে একটি টোয়িং গাড়ির সাহায্যে রাত ১০টা ১৮ মিনিটে উড়োজাহাজটিকে সরানো হয়। এর চার মিনিট পর সেটি উড্ডয়ন করে।     পরিদর্শনে ট্যাক্সিওয়ের পৃষ্ঠ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।     কর্তৃপক্ষের ধারণা, দীর্ঘদিনের ভারি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে মাটির নিচে পানি জমে পেভমেন্ট দুর্বল হয়ে পড়েছিল। উড়োজাহাজের ভারে সেটি দেবে যায়। উড্ডয়নের সময় এয়ারবাস এ৩৮০-এর ওজন সর্বোচ্চ ৫৭৫ টন পর্যন্ত হতে পারে।     মেরামতের জন্য মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত বিমানবন্দরের ০২আর/২০এল নম্বরের মাঝের রানওয়ে বন্ধ রাখা হয়।     তবে অন্য দুটি রানওয়ে দিয়ে উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হওয়ায় ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এর আগে গত ২৮ অক্টোবর একই এলাকার কাছে চায়না এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজের চাকা ক্ষতিগ্রস্ত পেভমেন্টে দেবে গিয়ে আটকে পড়ে।

ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে নির্বাচনি পরাজয়ের পর মহাকাশ নিয়ে মন্তব্য ইলন মাস্কের
মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পছন্দের প্রার্থীর নির্বাচনি পরাজয়ের পর মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ক। নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও জয় নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মাস্কের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, এই মুহূর্তে মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের বিষয়টি তার কাছে বেশ আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।   পোস্টে রসিকতা করে তিনি আরও লেখেন, নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য তার মহাকাশের লেজারগুলো এবার কাজ করেনি।   পছন্দের প্রার্থীর পেছনে ২১ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়   টেক্সাসের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছিলেন ইলন মাস্ক। নির্বাচনি প্রচারণায় তার সমর্থনে অন্তত ২১ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়।   তবে এত অর্থ ব্যয় করেও প্যাক্সটনকে জয়ী করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি।   কেন প্যাক্সটন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনি প্রচারণার সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির অভিযোগও আলোচনায় আসে।   মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনে আগ্রহ মাস্কের   মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে মাস্কের আগ্রহ নতুন নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে মহাকাশভিত্তিক কম্পিউটিং অবকাঠামো নিয়ে প্রযুক্তি খাতে আলোচনা বাড়ছে।   পৃথিবীর বাইরে সৌরশক্তি ব্যবহার করে ডেটা সেন্টার পরিচালনার সম্ভাবনাও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।   তবে টেক্সাসের নির্বাচনি ফলের পর মাস্কের দেওয়া মন্তব্যটি ছিল অনেকটাই রসাত্মক। পছন্দের প্রার্থীর পরাজয়কে কেন্দ্র করে তার এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।   সূত্র: আলজাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন আবদুল এল-সাইয়েদ
মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও চিকিৎসক আবদুল এল-সাইয়েদ। দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে এ অর্জন করেন এল-সাইয়েদ।   বুধবার (৪ নভেম্বর) ডেট্রয়েটে মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির কার্যালয়ে সমর্থকদের সামনে নিজের বিজয় ঘোষণা করেন তিনি।   বিজয় ভাষণে এল-সাইয়েদ বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার দীর্ঘ সময়ে মিশিগানের বড় শহর থেকে শুরু করে ছোট জনপদের মানুষের কাছ থেকেও ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন। কঠিন পরিস্থিতিতেও ভোটারদের আস্থা তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ হওয়া উচিত, যেখানে ধর্ম, পরিচয় কিংবা বিশ্বাসের কারণে কেউ নিজেকে অবাঞ্ছিত মনে করবেন না। সব মানুষের জন্যই দেশটি সমানভাবে উন্মুক্ত থাকা প্রয়োজন।   মুসলিম পরিচয় নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় বিতর্ক   নির্বাচনি প্রচারণার পুরো সময়জুড়ে আবদুল এল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তার রাজনৈতিক বিরোধীরা তাকে নিয়ে ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করেন। এমনকি ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন।   তবে এসব আক্রমণের জবাবে এল-সাইয়েদ বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে জনগণের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে প্রতিপক্ষ বিভাজনের রাজনীতিতে নেমেছে।   এর আগে মিশিগানের সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক এল-সাইয়েদ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনেও চমক দেখান। দলীয় নেতৃত্বের পছন্দের প্রার্থী হেইলি স্টিভেন্সকে হারিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত করেন তিনি।   স্বাস্থ্যসেবা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান   নির্বাচনি প্রচারণায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নেন আবদুল এল-সাইয়েদ। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচি চালুর পক্ষে প্রচার চালান তিনি।   পাশাপাশি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধেরও দাবি জানান এই ডেমোক্র্যাট নেতা।   তার নির্বাচনি প্রচারণা ঠেকাতে ইসরায়েলপন্থি লবি সংগঠন এআইপ্যাকের সুপার পিএসি ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট প্রাথমিক নির্বাচনে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় করে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি রাজনীতিতে এ ব্যয়কে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বিজয় ভাষণে এল-সাইয়েদ বলেন, জনগণের করের অর্থ দেশের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হওয়া উচিত। যুদ্ধ কিংবা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জনগণের অর্থ ব্যয়ের বিরোধিতা করেন তিনি।   কে এই আবদুল এল-সাইয়েদ?   আবদুল এল-সাইয়েদ একজন চিকিৎসক ও প্রগতিশীল রাজনীতিক। তিনি মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার তার রাজনৈতিক প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স সাবেক কংগ্রেস সদস্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রচারণার শেষ দিকে শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থানে পরিবর্তন আনেন তিনি।   উল্লেখ্য, মিশিগানের এ সিনেট আসনটি ২০১৫ সাল থেকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের দখলে ছিল। তার অবসরের কারণে আসনটি শূন্য হয়। নির্বাচনে এল-সাইয়েদের জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস
মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরা নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।   নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর আসনে ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন কাওয়াস। ভোট গণনার ৯০ শতাংশ শেষে নিউইয়র্ক টাইমস তার বিজয় ঘোষণা করে।   কাওয়াসের নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত গণপরিবহন, সাশ্রয়ী আবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে প্রচার চালান। তার প্রতি সমর্থন জানান নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালাইব।   রাজনীতিতে আসার আগে ১৫ বছরের বেশি সময় শ্রমিক, অভিবাসী ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন কাওয়াস। নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধের উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন তিনি।   ব্রুকলিনে ফিলিস্তিনি অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াস অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার পক্ষে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর সঙ্গে নিউইয়র্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।   ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সরব কাওয়াস ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেছিলেন। ওই কর্মসূচিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ

রাজনীতি
চাকরি
ব্যাবসা-বাণিজ্য
বিনোদন