চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় একটি প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে গেছে। এ ঘটনায় গাড়িটির চালক আহত হয়েছেন। তবে প্রাইভেটকারে থাকা এক দম্পতি ও তাঁদের চার-পাঁচ মাস বয়সী শিশু অক্ষত রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের বেঙ্গুরা স্টেশনের দক্ষিণে খিতাপচর মল্লার ঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় একটি প্রাইভেটকার রেললাইনে উঠে পড়ে। এ সময় ট্রেনের ধাক্কায় গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক আহত হন। জানা গেছে, চালক ছাড়াও গাড়িটিতে এক দম্পতি ও তাঁদের চার-পাঁচ মাস বয়সী একটি শিশু ছিল। তাঁরা খিতাপচর মাজার জিয়ারত শেষে শ্রীপুর বুড়া মসজিদে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় চালক আহত হলেও দম্পতি ও শিশুটি অক্ষত রয়েছেন। বোয়ালখালী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মতিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। চালক আহত হলেও গাড়ির অন্য যাত্রীরা সুস্থ রয়েছেন। তাঁরা চট্টগ্রাম নগরী থেকে খিতাপচর মাজার জিয়ারতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। গোমদণ্ডী স্টেশন মাস্টার কাঞ্চন ভট্টাচার্য বলেন, বেঙ্গুরা খিতাপচর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোমদণ্ডী স্টেশন ত্যাগ করে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই বলে জানিয়েছে তেহরান। তবে অন্য কোনো দেশকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে দেশটি। সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এসব কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ইসমাইল বাঘাই বলেন, নির্দিষ্ট কিছু দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করা হলে এবং দেশটির নাগরিকদের হুমকির মুখে ফেলা হলে তেহরান নীরব থাকতে পারে না। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় কয়েকটি আরব দেশে ইরানের হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতিগত অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ভূমিকা ছিল। তাঁর অভিযোগ, কিছু দেশ সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নিয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আস্থা ও সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দুটি পথ রয়েছে। তবে তেহরানের প্রধান প্রত্যাশা হলো, এসব দেশের ভূখণ্ড যেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার করা না হয়। নতুন হামলার আশঙ্কায় বাড়ছে উত্তেজনা এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানও কঠোর পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির ওপর আবারও হামলা হলে জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা মেনে চলা হবে না। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালিত হলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্র: আলজাজিরা
গত তিন দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৯৯০ সালে এ অঞ্চলের প্রায় অর্ধেক মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করলেও ২০২৬ সালে সেই হার নেমে এসেছে ২ শতাংশে। তবে আয়ের দারিদ্র্য কমলেও শিক্ষা, স্যানিটেশন ও মৌলিক সেবার ঘাটতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পভার্টি, প্রস্পারিটি অ্যান্ড প্ল্যানেট রিপোর্ট ২০২৬-এ উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য দূরীকরণে কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে থমকে আছে চরম দারিদ্র্য হ্রাসের গতি বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে আনুমানিক ৮১ কোটি ১০ লাখ মানুষ দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করছেন। ২০২১ সালের ক্রয়ক্ষমতা সমতা অনুযায়ী নির্ধারিত এ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছেন বিশ্বের প্রতি ১০ জনে প্রায় একজন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের পর বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। অথচ ২০০০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে দারিদ্র্য কমার যে গতি ছিল, তা অব্যাহত থাকলে আরও ২৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। তিন দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় বড় পরিবর্তন বিশ্বের সামগ্রিক চিত্রের বিপরীতে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৯০ সালে এ অঞ্চলে চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ছিল ৫০ কোটি ৩০ লাখ। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখে। একই সময়ে বিশ্বের মোট চরম দরিদ্র মানুষের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অংশ ২২ শতাংশ থেকে কমে ৪ শতাংশে নেমেছে। তবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান বিশ্বব্যাংকের অনুমানভিত্তিক। কিন্তু উচ্চতর দারিদ্র্যসীমা বিবেচনায় নিলে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত দৈনিক ৮ ডলার ৩০ সেন্টের নিচে আয় করেন দক্ষিণ এশিয়ার ৭১ শতাংশ মানুষ। সংখ্যার হিসাবে এ অঞ্চলে এমন মানুষের সংখ্যা ১২১ কোটি ৯০ লাখ। এ ছাড়া দৈনিক ৪ ডলার ২০ সেন্টের কম আয় করেন প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, বিপুলসংখ্যক মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এলেও এখনো অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি। আয় বা কর্মসংস্থানে সামান্য ধাক্কা এলেও তাঁদের আবার দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য আলাদা বিশ্লেষণ সীমিত হলেও ২০২৪ সালের কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি মানুষ দৈনিক ৪ ডলার ২০ সেন্টের কম আয় করেন। এ শ্রেণির বিশ্বের মোট দরিদ্র মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের অংশ প্রায় ২ শতাংশ। অন্যদিকে, দৈনিক ৮ ডলার ৩০ সেন্টের কম আয় করেন দেশের প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ। এ শ্রেণির বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার মধ্যে বাংলাদেশের অংশ ৩ দশমিক ২ শতাংশ। প্রতিবেদনে ‘সমৃদ্ধি ঘাটতি’ নামে একটি সূচকও ব্যবহার করা হয়েছে। দৈনিক ২৮ ডলারের আয়মানদণ্ডে পৌঁছাতে মানুষের আয় গড়ে কত গুণ বাড়তে হবে, তা এই সূচকের মাধ্যমে বোঝানো হয়। বিশ্বব্যাপী এ ঘাটক ১৯৯০ সালের ১০ দশমিক ৫ থেকে কমে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৫-এ নেমেছে। তবে বৈশ্বিক সমৃদ্ধি ঘাটতিতে বাংলাদেশের অংশ ১৯৯০ সালের ২ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। শিক্ষার ঘাটতি দারিদ্র্য কমানোর পথে বাধা বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে শিক্ষা ও দারিদ্র্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের বৈশ্বিক হিসাবে, আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি এমন মানুষের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশ। মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করা মানুষের মধ্যে এ হার ৬ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের দারিদ্র্য কমার প্রায় পুরো অগ্রগতিই হয়েছে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ অবদান ভারতের। প্রতিবেদনের একটি সিমুলেশন অনুযায়ী, দরিদ্র শ্রমিকদের শিক্ষার স্তর যদি দরিদ্র নন এমন শ্রমিকদের গড় স্তরে উন্নীত করা যায়, তাহলে বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্য প্রায় অর্ধেক কমানো সম্ভব। এ ছাড়া বহুমাত্রিক দারিদ্র্য নিরূপণে শুধু আয় নয়, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সেবাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ১০৩টি অর্থনীতির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছেন। অথচ শুধু আয়ের ভিত্তিতে হিসাব করলে এ হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকায় এই দুই হিসাবের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। ২০২৩ সালের কাছাকাছি সময়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে চরম আয়দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। শিক্ষা ও স্যানিটেশনের ঘাটতি এ ব্যবধানের অন্যতম প্রধান কারণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া দারিদ্র্যের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলের ৮৮ শতাংশ মানুষ জীবদ্দশায় অন্তত একবার ক্ষতিকর জলবায়ুজনিত ঘটনার মুখোমুখি হতে পারেন। বিশ্বের সব অঞ্চলের মধ্যে এ হার সর্বোচ্চ। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতি পাঁচজনের চারজন তাপজনিত ঝুঁকিতে রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রতি ১০ জনে একজনের বেশি বন্যার ঝুঁকিতে আছেন। পানিসংকটও এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সমস্যা। তবে ইতিবাচক দিক হলো, জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা এবং একই সঙ্গে সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় অক্ষম মানুষের অনুপাত ২০১০ সালের পর কমে ২০ শতাংশের নিচে নেমেছে। বিশ্বব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর অর্থ এই নয় যে জলবায়ুজনিত বিপদ কমেছে; বরং মানুষের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা কিছুটা বেড়েছে। এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের হার ২০০৪-০৬ সালের ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩-২৫ সালে ১০ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি কমেছে। তারপরও বৃষ্টিনির্ভর কৃষি, ক্ষুদ্র কৃষকের আয় এবং খাদ্যনিরাপত্তা খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। কর্মসংস্থান থাকলেও আয় কম, কাজের মানও উদ্বেগজনক বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষেরা যে কাজ করেন না, বিষয়টি এমন নয়। দরিদ্র পরিবারের কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের কর্মসংস্থানের হার দরিদ্র নয় এমন পরিবারের তুলনায় মাত্র ৬ শতাংশ পয়েন্ট কম। তবে দরিদ্র শ্রমিকেরা সপ্তাহে গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা কম কাজ করেন। তাঁদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে তিন গুণ বেশি। চরম দরিদ্র শ্রমিকদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষিকাজে নিয়োজিত। ২০০৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৩৮টি অর্থনীতির মধ্যে ৮৮টিতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কমেছে। প্রতিবেদনের মতে, দারিদ্র্যের মূল সমস্যা শুধু বেকারত্ব নয়; বরং কাজের সুযোগ, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ, উৎপাদনশীলতা ও মজুরির মানও গুরুত্বপূর্ণ। নারীর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়ায় উল্লেখযোগ্য বাধা রয়েছে। শিশুযত্নের সুযোগের অভাব, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহনের সীমাবদ্ধতা এবং নারীর ভূমিকা নিয়ে সামাজিক ধারণা তাঁদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করছে। দারিদ্র্য কমাতে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দারিদ্র্য কমানোর সম্ভাব্য কিছু পথও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দরিদ্র পরিবারে কর্মসংস্থানের হার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা গেলে চরম দারিদ্র্য প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমানো সম্ভব। একইভাবে, কৃষির বাইরে অন্যান্য খাতের মজুরিভিত্তিক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়লে চরম দারিদ্র্য এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন কর্মসংস্থান দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি থাকা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মহীন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সামগ্রিকভাবে, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতির পাশাপাশি শিক্ষা, মৌলিক সেবা, মানসম্মত কর্মসংস্থান ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শুধু আয় বাড়ানো নয়, মানুষের জীবনযাত্রার সামগ্রিক মান উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) মাঠে নির্মিত বাণিজ্য মেলার প্রধান অস্থায়ী ফটক ভেঙে কর্মসূচি শেষ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে ফটক ভাঙার কাজ শেষ করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফিরে যান। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মাঠে প্রবেশ করে মেলার বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ে আসা দুটি ট্র্যাক্টর ব্যবহার করে স্থাপনাগুলো ভাঙা হয়। এক পর্যায়ে মেলার প্রধান অস্থায়ী ফটকটিও ভেঙে ফেলেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ নিজেদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠে বাণিজ্য মেলা বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন করা যাবে না। মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি গবেষণার জন্য মাঠটি ব্যবহার উপযোগী করতে হবে এবং সেখানে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এর আগে গত ২৭ অক্টোবর মাঠে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। এ সময় পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও দুটি গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান তারা। পরদিন ২৮ অক্টোবর বাণিজ্য মেলার প্রধান প্রবেশ গেটসহ বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া মাঠ উদ্ধারের দাবিতে কয়েক দফায় সড়ক অবরোধ করেন তারা। সর্বশেষ গত ১ নভেম্বর চীন মৈত্রী সিগন্যাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
শ্রমিক আন্দোলনে আজও উত্তপ্ত গাজীপুরের দুই মহাসড়ক। ইতোমধ্যে ছুটি দেওয়া হয়েছে দেড় শতাধিক কারখানা। এসব কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে তাদের একাধিকবার সংঘর্ষ ও ধাওয়া পালটা ধাওয়ার দেওয়া ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। আহত হয়েছে সাংবাদিকসহ বিজিবি সদস্য। সোমবার সকাল থেকে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্র এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। বেলা ১১ টার দিকে শ্রমিকদের ছাত্র ভঙ্গ করতে বিজিবি ও পুলিশ ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ইটের আঘাতে বিজিবি সদস্য আহত হয়। অপরদিকে দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় পুলিশের একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। ওই সময় সময় টিভির রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা করে ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এসএ টিভির ক্যামেরা পারসন পায়ে আঘাত পান। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, আজও শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন৷ শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশের সঙ্গে শিল্প পুলিশ কাজ করছেন।
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) মাঠে নির্মিত বাণিজ্য মেলার প্রধান অস্থায়ী ফটক ভেঙে কর্মসূচি শেষ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে ফটক ভাঙার কাজ শেষ করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফিরে যান। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মাঠে প্রবেশ করে মেলার বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ে আসা দুটি ট্র্যাক্টর ব্যবহার করে স্থাপনাগুলো ভাঙা হয়। এক পর্যায়ে মেলার প্রধান অস্থায়ী ফটকটিও ভেঙে ফেলেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ নিজেদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠে বাণিজ্য মেলা বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন করা যাবে না। মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি গবেষণার জন্য মাঠটি ব্যবহার উপযোগী করতে হবে এবং সেখানে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এর আগে গত ২৭ অক্টোবর মাঠে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। এ সময় পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও দুটি গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান তারা। পরদিন ২৮ অক্টোবর বাণিজ্য মেলার প্রধান প্রবেশ গেটসহ বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া মাঠ উদ্ধারের দাবিতে কয়েক দফায় সড়ক অবরোধ করেন তারা। সর্বশেষ গত ১ নভেম্বর চীন মৈত্রী সিগন্যাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই বলে জানিয়েছে তেহরান। তবে অন্য কোনো দেশকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে দেশটি। সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এসব কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ইসমাইল বাঘাই বলেন, নির্দিষ্ট কিছু দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করা হলে এবং দেশটির নাগরিকদের হুমকির মুখে ফেলা হলে তেহরান নীরব থাকতে পারে না। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় কয়েকটি আরব দেশে ইরানের হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতিগত অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ভূমিকা ছিল। তাঁর অভিযোগ, কিছু দেশ সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নিয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আস্থা ও সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দুটি পথ রয়েছে। তবে তেহরানের প্রধান প্রত্যাশা হলো, এসব দেশের ভূখণ্ড যেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার করা না হয়। নতুন হামলার আশঙ্কায় বাড়ছে উত্তেজনা এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানও কঠোর পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির ওপর আবারও হামলা হলে জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা মেনে চলা হবে না। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালিত হলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্র: আলজাজিরা
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় একটি প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে গেছে। এ ঘটনায় গাড়িটির চালক আহত হয়েছেন। তবে প্রাইভেটকারে থাকা এক দম্পতি ও তাঁদের চার-পাঁচ মাস বয়সী শিশু অক্ষত রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের বেঙ্গুরা স্টেশনের দক্ষিণে খিতাপচর মল্লার ঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় একটি প্রাইভেটকার রেললাইনে উঠে পড়ে। এ সময় ট্রেনের ধাক্কায় গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক আহত হন। জানা গেছে, চালক ছাড়াও গাড়িটিতে এক দম্পতি ও তাঁদের চার-পাঁচ মাস বয়সী একটি শিশু ছিল। তাঁরা খিতাপচর মাজার জিয়ারত শেষে শ্রীপুর বুড়া মসজিদে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় চালক আহত হলেও দম্পতি ও শিশুটি অক্ষত রয়েছেন। বোয়ালখালী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মতিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। চালক আহত হলেও গাড়ির অন্য যাত্রীরা সুস্থ রয়েছেন। তাঁরা চট্টগ্রাম নগরী থেকে খিতাপচর মাজার জিয়ারতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। গোমদণ্ডী স্টেশন মাস্টার কাঞ্চন ভট্টাচার্য বলেন, বেঙ্গুরা খিতাপচর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোমদণ্ডী স্টেশন ত্যাগ করে।
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, ঘণ্টায় ২৩ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে গভীর নিম্নচাপটি রবিবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসুতে’ পরিণত হয়েছে। তখন ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ছিল দক্ষিণ-পশ্চিম ও পাশের পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে। ‘মুরাসু’ আরও শক্তি বাড়িয়ে সোমবার সকাল নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে জানিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির পথ হতে পারে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী স্থান। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে, যা দমকা হাওয়ায় ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এদিন দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
নাসির উদ্দিন
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
গত তিন দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৯৯০ সালে এ অঞ্চলের প্রায় অর্ধেক মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করলেও ২০২৬ সালে সেই হার নেমে এসেছে ২ শতাংশে। তবে আয়ের দারিদ্র্য কমলেও শিক্ষা, স্যানিটেশন ও মৌলিক সেবার ঘাটতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পভার্টি, প্রস্পারিটি অ্যান্ড প্ল্যানেট রিপোর্ট ২০২৬-এ উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য দূরীকরণে কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে থমকে আছে চরম দারিদ্র্য হ্রাসের গতি বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে আনুমানিক ৮১ কোটি ১০ লাখ মানুষ দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করছেন। ২০২১ সালের ক্রয়ক্ষমতা সমতা অনুযায়ী নির্ধারিত এ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছেন বিশ্বের প্রতি ১০ জনে প্রায় একজন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের পর বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। অথচ ২০০০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে দারিদ্র্য কমার যে গতি ছিল, তা অব্যাহত থাকলে আরও ২৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। তিন দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় বড় পরিবর্তন বিশ্বের সামগ্রিক চিত্রের বিপরীতে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৯০ সালে এ অঞ্চলে চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ছিল ৫০ কোটি ৩০ লাখ। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখে। একই সময়ে বিশ্বের মোট চরম দরিদ্র মানুষের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অংশ ২২ শতাংশ থেকে কমে ৪ শতাংশে নেমেছে। তবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান বিশ্বব্যাংকের অনুমানভিত্তিক। কিন্তু উচ্চতর দারিদ্র্যসীমা বিবেচনায় নিলে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত দৈনিক ৮ ডলার ৩০ সেন্টের নিচে আয় করেন দক্ষিণ এশিয়ার ৭১ শতাংশ মানুষ। সংখ্যার হিসাবে এ অঞ্চলে এমন মানুষের সংখ্যা ১২১ কোটি ৯০ লাখ। এ ছাড়া দৈনিক ৪ ডলার ২০ সেন্টের কম আয় করেন প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, বিপুলসংখ্যক মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এলেও এখনো অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি। আয় বা কর্মসংস্থানে সামান্য ধাক্কা এলেও তাঁদের আবার দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য আলাদা বিশ্লেষণ সীমিত হলেও ২০২৪ সালের কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি মানুষ দৈনিক ৪ ডলার ২০ সেন্টের কম আয় করেন। এ শ্রেণির বিশ্বের মোট দরিদ্র মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের অংশ প্রায় ২ শতাংশ। অন্যদিকে, দৈনিক ৮ ডলার ৩০ সেন্টের কম আয় করেন দেশের প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ। এ শ্রেণির বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার মধ্যে বাংলাদেশের অংশ ৩ দশমিক ২ শতাংশ। প্রতিবেদনে ‘সমৃদ্ধি ঘাটতি’ নামে একটি সূচকও ব্যবহার করা হয়েছে। দৈনিক ২৮ ডলারের আয়মানদণ্ডে পৌঁছাতে মানুষের আয় গড়ে কত গুণ বাড়তে হবে, তা এই সূচকের মাধ্যমে বোঝানো হয়। বিশ্বব্যাপী এ ঘাটক ১৯৯০ সালের ১০ দশমিক ৫ থেকে কমে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৫-এ নেমেছে। তবে বৈশ্বিক সমৃদ্ধি ঘাটতিতে বাংলাদেশের অংশ ১৯৯০ সালের ২ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। শিক্ষার ঘাটতি দারিদ্র্য কমানোর পথে বাধা বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে শিক্ষা ও দারিদ্র্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের বৈশ্বিক হিসাবে, আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি এমন মানুষের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশ। মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করা মানুষের মধ্যে এ হার ৬ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের দারিদ্র্য কমার প্রায় পুরো অগ্রগতিই হয়েছে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ অবদান ভারতের। প্রতিবেদনের একটি সিমুলেশন অনুযায়ী, দরিদ্র শ্রমিকদের শিক্ষার স্তর যদি দরিদ্র নন এমন শ্রমিকদের গড় স্তরে উন্নীত করা যায়, তাহলে বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্য প্রায় অর্ধেক কমানো সম্ভব। এ ছাড়া বহুমাত্রিক দারিদ্র্য নিরূপণে শুধু আয় নয়, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সেবাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ১০৩টি অর্থনীতির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছেন। অথচ শুধু আয়ের ভিত্তিতে হিসাব করলে এ হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকায় এই দুই হিসাবের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। ২০২৩ সালের কাছাকাছি সময়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে চরম আয়দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। শিক্ষা ও স্যানিটেশনের ঘাটতি এ ব্যবধানের অন্যতম প্রধান কারণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া দারিদ্র্যের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলের ৮৮ শতাংশ মানুষ জীবদ্দশায় অন্তত একবার ক্ষতিকর জলবায়ুজনিত ঘটনার মুখোমুখি হতে পারেন। বিশ্বের সব অঞ্চলের মধ্যে এ হার সর্বোচ্চ। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতি পাঁচজনের চারজন তাপজনিত ঝুঁকিতে রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রতি ১০ জনে একজনের বেশি বন্যার ঝুঁকিতে আছেন। পানিসংকটও এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সমস্যা। তবে ইতিবাচক দিক হলো, জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা এবং একই সঙ্গে সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় অক্ষম মানুষের অনুপাত ২০১০ সালের পর কমে ২০ শতাংশের নিচে নেমেছে। বিশ্বব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর অর্থ এই নয় যে জলবায়ুজনিত বিপদ কমেছে; বরং মানুষের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা কিছুটা বেড়েছে। এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের হার ২০০৪-০৬ সালের ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩-২৫ সালে ১০ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি কমেছে। তারপরও বৃষ্টিনির্ভর কৃষি, ক্ষুদ্র কৃষকের আয় এবং খাদ্যনিরাপত্তা খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। কর্মসংস্থান থাকলেও আয় কম, কাজের মানও উদ্বেগজনক বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষেরা যে কাজ করেন না, বিষয়টি এমন নয়। দরিদ্র পরিবারের কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের কর্মসংস্থানের হার দরিদ্র নয় এমন পরিবারের তুলনায় মাত্র ৬ শতাংশ পয়েন্ট কম। তবে দরিদ্র শ্রমিকেরা সপ্তাহে গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা কম কাজ করেন। তাঁদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে তিন গুণ বেশি। চরম দরিদ্র শ্রমিকদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষিকাজে নিয়োজিত। ২০০৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৩৮টি অর্থনীতির মধ্যে ৮৮টিতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কমেছে। প্রতিবেদনের মতে, দারিদ্র্যের মূল সমস্যা শুধু বেকারত্ব নয়; বরং কাজের সুযোগ, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ, উৎপাদনশীলতা ও মজুরির মানও গুরুত্বপূর্ণ। নারীর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়ায় উল্লেখযোগ্য বাধা রয়েছে। শিশুযত্নের সুযোগের অভাব, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহনের সীমাবদ্ধতা এবং নারীর ভূমিকা নিয়ে সামাজিক ধারণা তাঁদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করছে। দারিদ্র্য কমাতে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দারিদ্র্য কমানোর সম্ভাব্য কিছু পথও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দরিদ্র পরিবারে কর্মসংস্থানের হার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা গেলে চরম দারিদ্র্য প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমানো সম্ভব। একইভাবে, কৃষির বাইরে অন্যান্য খাতের মজুরিভিত্তিক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়লে চরম দারিদ্র্য এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন কর্মসংস্থান দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি থাকা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মহীন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সামগ্রিকভাবে, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতির পাশাপাশি শিক্ষা, মৌলিক সেবা, মানসম্মত কর্মসংস্থান ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শুধু আয় বাড়ানো নয়, মানুষের জীবনযাত্রার সামগ্রিক মান উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে সামরিক হামলা চালানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। এ সময় ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। কথোপকথনের একপর্যায়ে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর আহ্বান জানান। তবে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য আরও সময় দেওয়ার পক্ষে মত দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই নেতার এই ফোনালাপের বিষয়ে ইসরায়েলি সূত্র একে ‘কঠোর’ আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়েছে। রোববার দিনের শেষ দিকে ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আলোচনাটিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জানান, তাঁদের কথোপকথনে ইরান প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। হামলা ও কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সামরিক পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক সমঝোতা—দুই ধরনের পথই রয়েছে। একদিকে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে একটি চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প সম্প্রতি এক জনসভায় ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে মন্তব্য করেন। তবে একই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়টিও উড়িয়ে দেননি তিনি। এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা এবং ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের চাপ—দুইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সূত্র: অ্যাক্সিওস
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আবারও জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ নভেম্বর) অজ্ঞাত একটি বস্তু একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হেনেছে। একই দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় নৌপথটিতে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজের ক্যাপ্টেন বিপৎসংকেত (মেডে) পাঠিয়ে জানান, আরেকটি জাহাজ অজ্ঞাতপরিচয় বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, রোববার আইআরজিসির নৌবাহিনী দাবি করেছে, অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার সাগরে পেতে রাখা মাইনে আঘাত হানে। এতে জাহাজ দুটি বিস্ফোরিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার কাতারের একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে হামলার খবর প্রকাশ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কাতার নিউজ এজেন্সি। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় জলসীমা দিয়ে চলাচলের সময় অজ্ঞাতপরিচয় বস্তু দিয়ে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। হামলার শিকার জাহাজটির নাম ‘আল-মায়েদা’। এটি কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মালিকানাধীন একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহণকারী জাহাজ। কাতারের সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় জাহাজটিতে থাকা কোনো নাবিক আহত হননি। পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির বরাত দিয়ে জানানো হয়, জাহাজটি নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচলের উপযোগী।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায় আবাসিক এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৯ জন নিহত হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পাম বিচ কাউন্টিতে লিয়ারজেট-৬০ মডেলের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানায়, পামবিচ কাউন্টির ক্রিসহ্যাভেন এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্ট থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামার নর্থ এলিউথেরা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। তবে বোকারাটন থেকে উড্ডয়নের প্রাথমিক খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রায় আট হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ ডান দিকে বাঁক নিয়ে দ্রুত মাটির দিকে নেমে আসে বিমানটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মাটিতে পড়ার আগে একটি গাছে ধাক্কা মেরে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ফেলে এটি। এতে সড়কে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিমানের জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। দুর্ঘটনার সময় বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২৫ মাইল বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতির সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন পরিবহন সচিব শন ডাফি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।