বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়ার সিল্কিবান্ধা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ১৫ জন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডান পাশের একটি বৈদ্যুতিক পিলারে লাগে। সেখানে কাজের সন্ধানে অনেক শ্রমিক অপেক্ষা করছিলেন। বাসটি শ্রমিকদের চাপা দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ আরো জানায়, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
মরুর শহর দুবাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পাহাড়সম সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের নামে অন্তত ৫৩টি ফ্ল্যাট, বাড়ি, ভিলা, হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট ও অফিস স্পেস থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য দিয়ে বলেছেন, বুর্জ খলিফা, মারশা দুবাই, ওয়াদি আল সাফা ও কৃত্রিম দ্বীপ পাম জুমেরায় তারা গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল সম্পদের সাম্রাজ্য। আর এসব করেছেন অর্থ পাচারের মাধ্যমে। দুবাইয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাম্রাজ্য২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল গোল্ডেন ভিসার সুবিধায় দুবাইয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান কমিটির প্রথম টিম লিডার করা হয় ও সংস্থাটির উপপরিচালক রামপ্রসাদ মন্ডলকে।পরে তাকে গোপালগঞ্জে বদলি করা হয়। তিনি জানান, দুবাইয়ে পাচারকারীদের তথ্য সংগ্রহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি চালাচালি হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড্ ডিফেন্স স্টাডিজ (সি৪এডিএস) এবং অর্গানাইজড্ ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টকে (ওসিসিআরপি) চিঠি দিয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির বিভিন্ন সম্পত্তি কেনার তথ্য ফাঁস করেছিল ওসিসিআরপি। এরপর দুদক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন হাই কোর্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) বেয়াইন অর্থাৎ মেয়ে নাফিসা কামালের শাশুড়ি বিলকিস ইকবালের নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট পাওয়া গেছে। মারশা দুবাই এলাকায় থাকা ফ্ল্যাটটির নম্বর ২২০২-০, যা কিনতে ব্যবহৃত পাসপোর্ট নম্বর বি১২০১০৬০। তবে ২০১৭ সালে নাফিসা কামালের শাশুড়ি বিলকিস মারা যান। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিফজুল বারী মোহাম্মদ ইকবাল ওরফে এইচ বি এম ইকবালের নামে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় দুটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ২৪১০-০ ও ২০০১-০) সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে তার একটি কমার্শিয়াল স্পেস (নম্বর ৯১০-০) ও একটি অফিস স্পেসও (নম্বর ১২০১-০) রয়েছে। এ ছাড়া পাম জুমেরায় তার নামে একটি বাড়ি (নম্বর পিজেএফআরসি০৪৭) রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব সম্পদ কিনতে তিনি তিনটি ভিন্ন পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন, নম্বর যথাক্রমে ০৩৩৯৮৪২, এজি৫১২৩৪১৪ ও ই০৬৯২৭৯২। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর এইচ বি এম ইকবাল, তার স্ত্রী এবং একসময়ের চিত্রনায়িকা আঞ্জুমান আরা শিল্পী ও তাদের তিন সন্তানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ)। আওয়ামী লীগ নেতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সাবেক এমপি সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের নামে মারশা দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট (নম্বর ২৩০৯-০) এবং পাম জুমেরার আল শাহলায় আরেকটি ফ্ল্যাট (নম্বর ৭০৩-০) পাওয়া গেছে। এসবে তার ছেলে কামরুজ্জামানেরও মালিকানা রয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানান, সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান (সুখন) একসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর তাঁকে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়, এরপর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে দুবাইয়ে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বুর্জ খলিফায় দুটি এবং নাদ আল শিবায় ২৭টি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া পলো রেসিডেন্সে তার নামে বাড়ি রয়েছে (নম্বর এ২, ২বি/আর ২৯৩, ১বি/আর ২৯৩), মেরিনা ভিসতা টাওয়ারে দুটি ফ্ল্যাট (নম্বর ১০৬ ও ৩০২), সানরাইজ বে টাওয়ার-১-এ চারটি ফ্ল্যাট এবং পাম জুমেরায় রয়্যাল বে-তে একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট (নম্বর ৮০৫)। এসব কিনতে তিনি যে দুটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন তার নম্বর ডিসি৬০০৪০৭৬ ও বিটি০০১৫৮০৭, যাতে বাংলাদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ৭ সারসন রোড, পোস্ট অফিস বক্স-৪০০০, চট্টগ্রাম। তার ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নামেও পাম জুমেরায় একটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ৪৪০৭-০) সন্ধান মিলেছে। এ ছাড়া জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ নেতা ইফজাল আহমেদ চৌধুরীর নামে বুর্জ খলিফায় একটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ১৩০৩-০) তথ্য পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি বাছির উদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার কাছ থেকে দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়ার পর হাই কোর্টের নির্দেশে তারা তদন্ত শুরু করেন। তবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে। অন্যদের নাম-ঠিকানা নিশ্চিত করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির মোহাম্মদ ফয়সলের নামে বুর্জ খলিফায় একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট (নম্বর ১২এ০৪) পাওয়া গেছে। দুবাইয়ে তার একটি ঠিকানাও পাওয়া গেছে-১১৭ আল হাশেমি বিল্ডিং অ্যাপার্টমেন্ট, ২০১ ফিরোজ আল মরার। এটি কিনতে ব্যবহৃত তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর বিএফ০৮৯৪৮৫১। আমিরাত আইডি প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দুবাইপ্রবাসী মনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে সমাজমাধ্যমে কথা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশিদের মধ্যে যাঁরা সম্পদ কিনেছেন, তাদের আইডি প্রস্তুতের সময় নামপরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গোপন রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান বুলবুল বলেন, ‘কেউ যদি দুবাইয়ে বৈধ আয় করে সে আয় দিয়ে সেখানে সম্পদ কেনেন, তাহলে আইনগত কোনো সমস্যা হবে না।’ তবে দুবাই সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি থাকলে তবেই পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তথ্যানুসন্ধানে দুবাইয়ে ফ্ল্যাট বা বাড়ি থাকার তথ্য মিলেছে আরও কয়েকজনের নামে। এদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৯ সালে বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী শ্রেণিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত জুরানচন্দ্র ভৌমিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ও মেয়ে শেহতাজ মোনাসি খান, তিতাস গ্যাসের গাজীপুর বিক্রয় অঞ্চলের সাবেক ব্যবস্থাপক সাব্বের আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী রুমানা রিশাত জামান এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক, ভাষাবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কালাম মনজুর মোরশেদের মেয়ে মনজুলা মোরশেদ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা কঠিন, দুবাই তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ থেকে যেসব প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচার হয়, তার সিংহভাগই হয় আমদানি-রপ্তানি চালান জালিয়াতির মাধ্যমে। তা ছাড়া নামে-বেনামে কাগুজে প্রতিষ্ঠানের বহুস্তরিক প্রতারণামূলক ঋণ ও বিনিয়োগ জালিয়াতির মাধ্যমে বিশাল অর্থ পাচারের পাশাপাশি প্রথাগত হুন্ডি তো রয়েছেই। এসব প্রক্রিয়ায় চলমান আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে যেসব গন্তব্য সাম্প্রতিককালে বিকশিত হয়েছে তার অন্যতম হাব হয়ে দাঁড়িয়েছে দুবাই। মনে রাখতে হবে, এরূপ অন্য সব গন্তব্যের মতো বাংলাদেশের পাচারকৃত অর্থ এখন সেসব গন্তব্য দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে; যা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় মাত্র এক শতাংশ, তা-ও গড়ে সাত বছর থেকে ১৫-২০ বছরের জটিল প্রক্রিয়ার বিষয়। যদিও কিছু বিরল ব্যতিক্রমও রয়েছে।’ সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায় যারা মূলহোতা তাদের তালিকা টাস্কফোর্স তৈরি করবে। তার ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করব। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের হিলডাউন সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘মাদক প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়াবার কারণে যুবসমাজ মাদকাসক্তির দিকে যাচ্ছে, এটা আমরা লক্ষ্য করছি। মাদকের প্রসার রোধ করা বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার। কক্সবাজার জেলায় সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ে মাদক প্রতিরোধে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের সমন্বিত সিদ্ধান্তগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত রুটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। সমতলের পাশাপাশি জলপথেও নেভি-কোস্টগার্ডের টহল জোরদার থাকবে। মাদক চোরাচালানে বাহক বা ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করছে তাদেরকেও চিহ্নিত করা হবে। সভায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সন্ধ্যায় দুই দিনের সরকারি সফরে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান সালাহউদ্দিন আহমদ। সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে তিনি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। পরে কউকের ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন করবেন। এরপর কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। দুপুরে তিনি হিল ডাউন সার্কিট হাউসে মতবিনিময় শেষে সন্ধ্যায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার জেল হোক, ফাঁসি হোক—সেটা আমি সমর্থন করি না।’ বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলা শাখার সভাপতি আমিনুল ইসলাম তারেকের কবর জিয়ারত করতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘শেখ হাসিনা-বঙ্গবন্ধু এক না, শেখ হাসিনা-মুক্তিযুদ্ধ এক না, শেখ হাসিনা-বাংলাদেশ এক না। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, সেটা থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ায়নি এবং পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই দলটির অধঃপতন ঘটেছে বলে তাঁর মন্তব্য। তারেক রহমান সম্পর্কে যা বললেন: তারেক রহমান প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর খারাপ কাজগুলো অনুসরণ করা উচিত নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে সরাসরি বিরোধিতা করা তাঁর কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জাতীয় সংকটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংকটেরও মুখোমুখি, বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব রয়েছে। কিশোরগঞ্জ সফর: বৃহস্পতিবার দুপুরে কাদের সিদ্দিকী কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় পৌঁছান। পরে জোহরের নামাজের পর তিনি শোলাকিয়া এলাকার বাগে জান্নাত গোরস্থানে গিয়ে আমিনুল ইসলাম তারেকের কবর জিয়ারত করেন। সেখান থেকে তিনি খরমপট্টি এলাকায় তারেকের বাসায় যান এবং তাঁর স্ত্রী আরিফা ইসলাম লাকীসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায় যারা মূলহোতা তাদের তালিকা টাস্কফোর্স তৈরি করবে। তার ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করব। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের হিলডাউন সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘মাদক প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়াবার কারণে যুবসমাজ মাদকাসক্তির দিকে যাচ্ছে, এটা আমরা লক্ষ্য করছি। মাদকের প্রসার রোধ করা বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার। কক্সবাজার জেলায় সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ে মাদক প্রতিরোধে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের সমন্বিত সিদ্ধান্তগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত রুটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। সমতলের পাশাপাশি জলপথেও নেভি-কোস্টগার্ডের টহল জোরদার থাকবে। মাদক চোরাচালানে বাহক বা ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করছে তাদেরকেও চিহ্নিত করা হবে। সভায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সন্ধ্যায় দুই দিনের সরকারি সফরে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান সালাহউদ্দিন আহমদ। সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে তিনি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। পরে কউকের ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন করবেন। এরপর কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। দুপুরে তিনি হিল ডাউন সার্কিট হাউসে মতবিনিময় শেষে সন্ধ্যায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে আগামী ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হচ্ছে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। পর্যায়ক্রমে চার বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করে প্রকৃত দরিদ্রদের সুবিধা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে সরকার। সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মন্ত্রী জানান, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম চালু হবে। গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থা: সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বা গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। ফলে কোনো পরিবার দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত হলে, কিংবা পুনরায় দারিদ্র্যে নেমে এলে তা নিবন্ধনে প্রতিফলিত হবে। তিনি বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হন, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়: মন্ত্রী আরও বলেন, ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নারীর হাতে সহায়তা পৌঁছানোর পরিকল্পনা: সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে অর্থ শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটির শিল্প, সেলাই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বেশি ব্যবহৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক ফল: সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশের কম ছিল। পুরোপুরি অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ: সরকার জানিয়েছে, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য কোনো পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করা যায়। তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা: কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে: প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন। উপজেলা পর্যায়ে: ইউএনওর নেতৃত্বে কমিটি কাজ করবে। জেলা পর্যায়ে: জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি থাকবে। বিভাগীয় পর্যায়ে: বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। জাতীয় পর্যায়ে: অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি থাকবে। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত কর্মসূচির অগ্রগতি তদারকি করবেন। একাধিক ভাতা নেওয়া ঠেকাতে সমন্বিত যাচাই: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, একই ব্যক্তি যেন একাধিক ভাতা বা সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন। পাশাপাশি অর্থ বিভাগ, আইএমইডি এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন মূল্যায়ন করা হবে, যাতে কর্মসূচিটি দারিদ্র্য কমাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে তা পরিমাপ করা যায়।
ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীর ৭৯টি প্লটের মধ্যে ৫১টিই বর্তমানে ফাঁকা পড়ে আছে। এসব প্লটে কোনো শিল্পকারখানা বা উৎপাদন কার্যক্রম নেই। ফাঁকা থাকা প্লটগুলোর মধ্যে ২৫টি প্লট ফরচুন গ্রুপের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা মোট প্লটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ফরচুন গ্রুপের নামে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেনি। পাশাপাশি জমির কিস্তি ও লে-আউট দাখিল বাবদ প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। বিসিক কর্মকর্তারা জানান, বকেয়া আদায়ে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন তারা। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীর আয়তন ১১ দশমিক ৮ একর। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণে এ শিল্পনগরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেখানে মাত্র ১১টি শিল্প ইউনিট উৎপাদনে রয়েছে, যা ২৮টি প্লট ব্যবহার করছে। বাকি ২৬টি প্লটও অব্যবহৃত। উদ্যোক্তারা গ্রহণ না করায় পাঁচটি প্লটের বরাদ্দ ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। শিল্পনগরীতে বর্তমানে মাত্র ১৫৪ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক মো. আল আমিন বলেন, ফরচুন গ্রুপের বকেয়া আদায়ে অফিসে গিয়ে ও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং প্লট বরাদ্দ বাতিলের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিল্পনগরীর সঙ্গে নদীপথের সরাসরি সংযোগ না থাকায় ভারী শিল্পের উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এছাড়া পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়া এবং স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিকের অভাবও বিনিয়োগে বাধা তৈরি করছে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মোমিন উদ্দিন বলেন, ফরচুন গ্রুপ একাই ২৫টি প্লট নিয়ে কোনো কার্যক্রম শুরু না করায় সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে আছে। বকেয়া কিস্তির টাকা পরিশোধে তাদের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফরচুন গ্রুপের বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। প্রতিষ্ঠানটির সিইও পরিচয়ে একজন কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানের পিএস পরিচয়ে আরেক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে পরে যোগাযোগের আশ্বাস দিলেও আর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিসবন। বুধবার (৫ আগস্ট) দূতাবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিস সামিয়া ইসরাত রনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দূতালয় প্রধান এসএম গোলাম সরোয়ার। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় অংশ নেন পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনে প্রবাস থেকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা এবং পর্তুগালের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। সভায় বক্তারা ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বর্তমান সরকার ও দূতাবাসের কাছে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ঢাকা-লিসবন সরাসরি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালু এবং ঢাকায় পর্তুগাল দূতাবাস স্থাপনের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়। চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সামিয়া ইসরাত রনি তার বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি আরও বলেন, দেশ গঠনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রবাসীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে দূতাবাসের পক্ষ থেকে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ‘৩৬ জুলাই অ্যালায়েন্স, ইউকে’-এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে এক বৃহৎ বিপ্লব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ৩৬ জুলাই অ্যালায়েন্স, ইউকের কনভেনর আব্দুল লতিফ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গ্লোবাল ভয়েস অব জাস্টিসের সভাপতি ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের প্রধান মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা। এছাড়া বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ, ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, ব্যারিস্টার নুরুল গাফফার, ড. শামসুল আলম গোলাপ, মুফতি সালেহ আহমদ ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নুর বক্স। স্বাগত বক্তব্য দেন সিরাজুল ইসলাম শাহীন। অ্যালায়েন্সের যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার এবং সদস্য সচিব শাহরিয়ার আলম শিপারের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা। প্রধান অতিথি ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই বলেন, ‘জাতির কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেব জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা বাস্তবায়ন না হলে তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন।’ প্রধান বক্তা ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে।’ সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার আলোকে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তারা গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইনের শাসন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ রুদ্ধ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে মাওলানা মিজানুর রহমান পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে মেসেজ কালচারাল গ্রুপ ও ওয়াননেস কালচারাল গ্রুপ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে। লন্ডন প্রবাসী বিভিন্ন বয়স ও পেশার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক উপস্থিতি আলতাব আলী পার্কে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনে এক বিশেষ আবহ তৈরি করে।
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি ভারত-ইসরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি গুরুত্ব পায়। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে তাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানায়, ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন মোদি ও নেতানিয়াহু। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই নেতা ভবিষ্যতেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে দুই দিনের সফরে ইসরায়েল গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরে ২০১৭ সালে মোদির ঐতিহাসিক ইসরায়েল সফর এবং ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফরের প্রসঙ্গও উঠে আসে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল বলে জানায় এনডিটিভি। ফোনালাপে উদীয়মান প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতার অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধিকে ভিত্তি করে ভারত-ইসরায়েল কৌশলগত সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান। এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভারত-ইসরায়েলের যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধির যৌথ লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিল। সূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রে এক হৃদয়ছোঁয়া ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে দুটি পরিবার। প্রায় দুই দশক আগে যে কিশোরের দান করা লিভারে নতুন জীবন পেয়েছিলেন ব্রুকলিন ডোস্টন, এবার তিনি বিয়ে করতে যাচ্ছেন সেই কিশোরের ছোট ভাই নোহা ডোটোনকে। ঘটনার শুরু ২০০৩ সালে। তখন কেন্টাকির বাসিন্দা ব্রুকলিন ছিলেন শিশু। তার লিভারে জটিল রোগ ধরা পড়ে এবং চিকিৎসকরা জানান, দ্রুত লিভার প্রতিস্থাপন না করলে তার বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম। এ সময় ব্রুকলিনের মা মরিয়া হয়ে ডোনার খুঁজতে থাকেন। ঠিক তখনই ওহিওতে ঘটে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। ১০ বছর বয়সী মাইকেল ডোটোন গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। শোকের মধ্যেও তার বাবা-মা মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মাইকেলের অঙ্গ দান করতে সম্মত হন। পরবর্তীতে মাইকেলের লিভার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ব্রুকলিন নতুন জীবন ফিরে পান। এই ঘটনার পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছরের পর বছর সেই যোগাযোগ বজায় থাকে। একসময় মাইকেলের ছোট ভাই নোহা ডোটোন ও ব্রুকলিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নোহা এ প্রসঙ্গে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি, ২০ বছর আগে আমার বড় ভাই যে শিশুটির জীবন বাঁচিয়েছিল, সেই মেয়েটিই একদিন আমার স্ত্রী হবে।’ মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা থেকে শুরু হওয়া এই গল্প এখন পরিণতি পাচ্ছে ভালোবাসা ও জীবনের নতুন অধ্যায়ে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ইয়েমেনের হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। হুথি বিদ্রোহীদের পৃথক হামলায় দেশটির সরকারি বাহিনীর অন্তত ৩০ সৈন্য নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধ-শতাধিক। বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিভিন্ন সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছে। হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় ‘শত শত’ মানুষ হতাহত হয়েছে। ইয়েমেনি সেনাবাহিনী এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। একে হুথিদের বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে অভিহিত করেছে। ইয়েমেনি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হুথিরা মারিবের উত্তরে অবস্থিত আল-জাওফ প্রদেশ থেকে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এ হামলায় হাদরামাউতের আল-থিনিয়া ও আল-আবর এবং মারিবের আল-রুক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। চার বছরের তুলনামূলক শান্তি অবস্থা বজায় থাকার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান-সমর্থিত হুথি এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। হুথিরা সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণাও দিয়েছে এবং ইয়েমেনের উত্তর প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করলে দেশটিতে গৃহ যুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হলেও তারা হুথিদের সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের মূল্য সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্সের। হরমুজ প্রণালি আবারও চালু হওয়ার আশা জোরালো হওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবেই স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার জিএমটি সময় সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,২৭১.৩৩ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে দিনের শুরুতে এটি ১৮ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর আগের দিন বুধবার স্বর্ণের দাম ফেব্রুয়ারির পর এক দিনে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। সেদিন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৪,২৬৭.২৪ ডলারে উঠেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৩৩০.২০ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।