সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে আবারও বিশৃঙ্খলা ফিরে এসেছে

রাজধানী ঢাকা-তে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সহিংস ঘটনার ঘটনায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে সংগঠিত অপরাধচক্র—এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষক ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টরা।   একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কিছুটা দুর্বলতা দেখা দেয়। সেই সুযোগেই দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা ও জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ অপরাধীরা আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ে ধারাবাহিক সহিংসতা, গ্যাং দ্বন্দ্ব ও চাঁদাবাজির ঘটনা।   🔫 প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা গত প্রায় ২১ মাসে অন্তত ২৩টি ঘটনায় পেশাদার অপরাধীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যেই সংঘটিত হয়েছে, যা নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ ঘটনায়, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০২৪ সালের আগস্টে জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ অপরাধী খন্দকার নোয়ীম আহমেদ টিটনকে গত ২৮ এপ্রিল নিউ মার্কেট এলাকায় প্রতিপক্ষ গুলি করে হত্যা করে। এসব ঘটনার বেশিরভাগই আধিপত্য বিস্তার ও ‘ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ’কে কেন্দ্র করে ঘটছে বলে জানা গেছে।   চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিস্তার অপরাধচক্রগুলো এখন শুধু হত্যাকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে চাঁদাবাজি, হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।   বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় বাস্তবায়ন তদন্তে উঠে এসেছে, অনেক হামলা ও পরিকল্পনা দেশের বাইরে থাকা পলাতক গ্যাং লিডারদের মাধ্যমে সমন্বিত হচ্ছে। তারা ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়ে স্থানীয় অপরাধীদের দিয়ে এসব অপরাধ ঘটাচ্ছে। এদিকে স্থানীয়ভাবে এসব গ্যাংয়ে যুক্ত হচ্ছে বেকার ও ঝুঁকিপূর্ণ তরুণরা, যারা দ্রুত আয়ের আশায় অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়ছে।   পুলিশের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অপরাধীদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং শিগগিরই বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এমন অভিযান দীর্ঘমেয়াদে পুরোপুরি সফল হয়নি। আরও বলা হয়েছে, জামিনে মুক্ত অপরাধীদের পর্যবেক্ষণে ঘাটতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতা এই চক্রকে আবারও শক্তিশালী হতে সুযোগ দিয়েছে।    

১৫ মিনিট আগে
হরমুজ প্রণালীতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করল ইরান

ট্রাম্পের এ পরিকল্পনাকে ‘হস্তক্ষেপ’ উল্লেখ করে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, “হরমুজ প্রণালির নতুন সামুদ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হস্তক্ষেপকে চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে বিবেচনা করা হবে।” আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ। বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস ও জ্বালানি পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। ফলে প্রণালি, আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে শতাধিক জাহাজ।   গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজে আটকে পড়া এই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নৌবাহিনীর প্রহরার মাধ্যমে প্রণালি থেকে বের হতে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রকল্পের নাম ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ দিয়েছেন তিনি।   ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “বিশ্বের অনেক দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজে আটকা পড়েছে। এসব দেশের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয় এবং তারা আমাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যে আমাদের নৌবাহিনী যেন আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রণালি থেকে বের হতে সহযোগিতা করে।”   “আমরা তাদের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যেন নিশ্চিন্তে তাদের গন্তব্য রওনা হতে পারে— তা নিশ্চিত করতে এবং সেসব জাহাজের নিরপেক্ষ-নিরপরাধ ক্রুদের মুক্ত করতে হরমুজ প্রণালিতে শিগগিরই প্রজেক্ট ফ্রিডম প্রকল্প শুরু হচ্ছে।”   যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল, অর্থাৎ বাংলাদেশ স্থানীয় সময় সোমবার রাত থেকে হরমুজে ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু হচ্ছে বলে ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।   ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এই পোস্ট করার কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা দিয়ে এ পোস্ট দেন এব্রাহিম আজিজি। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি অনলাইন  

৩৪ মিনিট আগে
নিশ্চিন্তে থাকুন, আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব : মমতা

ভোটের ফলাফলের পালে হাওয়া বইছে বিজেপির। সেভাবে কামড় বসাতে পারেনি তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওবার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, নিশ্চিন্তে থাকুন, আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব, কেউ ভয় পাবেন না। খবর দ্য ওয়ালের।    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই বার্তা দিচ্ছেন, তখন বিজেপি এগিয়ে ১৯৪টি আসনে এগিয়ে। তৃণমূল ৯১টি আসনে এগিয়ে। এই ব্যবধান নিয়ে মমতা জানান, এটা বিজেপির প্ল্যান। প্রথম দু-তিন রাউন্ড ওদেরগুলো আগে দেখাবে, আমাদেরগুলো পরে দেখাবে। অনেক জায়গায় দু-তিন রাউন্ড কাউন্টিং করার পরে ১০০টি জায়গায় কাউন্টিং বন্ধ করে রয়েছে দিয়েছে। কল্যাণীতে ধরা পড়েছে সাতটি মেশিন, যেখানে কোনও মিল নেই। এটা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে জোর করে করানো হচ্ছে। চারিদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের উপরে অত্যাচার করছে। অফিস ভাঙছে, জোর করে দখল করছে। এসআইআর-এর নাম যে আসন জিততে পারে, সেটা দখল করেছে। এখনও আমরা যে আসনে এগিয়ে আছি, সেটা বলছে না। মিথ্যা খবর খাওয়াচ্ছে।   কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে মমতা বলেন, আমি সমস্ত পার্টির কর্মী, কাউন্টিং এজেন্টদের বলব, মন খারাপ করার কোনও কারণ নেই। আমি বলেছি, সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন-চার রাউন্ড কাউন্ট হয়েছে। ১৪-১৮ রাউন্ড কাউন্ট হবে। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ। আপনার কেউ ভয় পাবেন না। নিশ্চিতে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়ব।

৪৯ মিনিট আগে
পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে বিজেপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপির সরকার গঠন করতে পারে। এই বিধানসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, বিজেপির এগিয়ে থাকা আসনসংখ্যা ১৮২। অন্যদিকে, রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের এগিয়ে থাকা আসনসংখ্যা ১০৯।    ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য কোনো দলের প্রয়োজন ১৪৮ আসনে জয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যে দাবি করেছেন, এই রাজ্যে তার দল বিজেপিই সরকার গঠন করবে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ৭৭টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল পেয়েছিল ২১৪টি আসন।    সোমবার সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়েছে। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। তাই আজ ২৯৩ আসনে ভোট গণনা চলছে। কলকাতাসহ ২৩ জেলায় স্থাপিত ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই ভোট গণনা শুরু হয়।    প্রথমে গণনা করা হচ্ছে পোস্টাল ব্যালটের ভোট। এরপর গণনা করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নেওয়া ভোট। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, এএনআই, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
চট্টগ্রামে পোশাকশ্রমিককে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে এক নারী পোশাকশ্রমিককে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২ মে) দিবাগত রাতে ২ নম্বর মাইলের মাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত উজ্জ্বল চন্দ্র মিত্রকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, গত ১ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই হত্যার ঘটনা ঘটে।   পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত পপি তালুকদার (২২) চট্টগ্রাম ইপিজেডের ইয়ং ওয়ান গার্মেন্টসে কাজ করতেন। তার স্বামী উজ্জ্বল চন্দ্র মিত্র আগে চাকরি করলেও বর্তমানে বেকার ছিলেন। তিনি মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নেশার টাকা নিয়ে প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন তিনি।   এজাহারে বলা হয়, গত ১ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় নেশার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল চন্দ্র মিত্র স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় এক চিকিৎসককে বাসায় আনা হলে তিনি পরীক্ষা করে বলেন, পপির হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে। এরপরও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে অভিযুক্ত স্বামী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্বামীর বোন ও আত্মীয়রা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পপিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   এ ঘটনায় শনিবার বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত পপি তালুকদারের বাবা। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত স্বামীকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৩, ২০২৬ 0

ছবি: সংগৃহীত
পোড়া মবিল থেকে বিকল্প জ্বালানি, কুষ্টিয়ার উদ্ভাবক মনিরুলের নতুন উদ্যোগ

জ্বালানি সংকটে যখন কৃষকরা সেচ কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, ঠিক সেই সময় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম। পোড়া মবিল ব্যবহার করে তিনি ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি তৈরির দাবি করেছেন, যা ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে সেচ কাজে ব্যবহারও শুরু হয়েছে।   মনিরুল ইসলাম জানান, ২০০৭ সাল থেকে তিনি ডিজেলচালিত ইঞ্জিন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। শিক্ষকতা ছেড়ে পুরোপুরি গবেষণায় মনোনিবেশ করে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর সম্প্রতি এই পদ্ধতির ব্যবহারিক সফলতা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।   তার উদ্ভাবিত জ্বালানির নাম ‘মেথড অব অলটারনেটিভ ডিজেল’ (ম্যাড)। তিনি বলেন, পোড়া মবিলের সঙ্গে একটি বিশেষ বুস্টার মিশিয়ে এই জ্বালানি তৈরি করা হয়। মাত্র ১০০ মিলিগ্রাম বুস্টার ব্যবহার করেই কার্যকর বিকল্প জ্বালানি তৈরি সম্ভব হচ্ছে।   স্থানীয় কৃষকরা জানান, ডিজেলের সংকটে সেচ দিতে না পারায় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল। মনিরুলের পরামর্শে তারা এই বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার শুরু করেন। কৃষক সোলাইমান শেখ বলেন, “পাঁচ লিটার পোড়া মবিলের সঙ্গে অল্প পরিমাণ বুস্টার মিশিয়ে প্রায় সাত লিটার ডিজেলের সমপরিমাণ কাজ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সেচ চালানো সম্ভব হচ্ছে।”   আরেক কৃষক জয়নাল আলী জানান, ধান, পাট ও কলা চাষে সেচের জন্য এখন আর ডিজেলের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে না। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে খরচ কমছে এবং কাজও চলছে স্বাভাবিকভাবে।   তবে বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ইন্সট্রাক্টর জাহিদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে এটি কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই সরকারি যাচাই-বাছাই ছাড়া ব্যাপকভাবে ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন তিনি।   দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন জানান, মাঠপর্যায়ে এই জ্বালানির ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিষয়টি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।   উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ডিজেল সংকটের সময়ে এমন উদ্যোগ সম্ভাবনাময়। তবে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে মনিরুল ইসলামের এই উদ্ভাবন কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি: সংগৃহীত
ধেয়ে আসছে ভয়াবহ বন্যা, ৭ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। এরফলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।   সোমবার (৪ মে) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ।   পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা জেলার জারিয়াজঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটারি; হবিগঞ্জ জেলার হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটারি ও চাঁদপুর-বাগানে ৬১ মিলিমিটারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।   সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় উত্তর পূর্বাঞ্চলের হাওর বেসিনের তিনটি জেলার সাতটি নদীর ৮টি স্টেশন প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।   পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদী ১১ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ সেমি ওপরে (জগন্নাথপুর), নেত্রকোনা জেলার ধনু-বাউলাই নদী ৯ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ৮ সেন্টিমিটার ওপরে (জারিয়াজঞ্জাইল), সোমেশ্বরী নদী ১৪ সেমি হ্রাস পেয়ে ৫০ সেন্টিমিটার উপরে (কলমাকান্দা), ভুগাই-কংশ নদী ২২ সেমি হ্রাস পেয়ে ৬৭ সেন্টিমিটার উপরে (জারিয়াজঞ্জাইল), মগরা নদী ৫ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯ সেন্টিমিটার ওপরে (নেত্রকোনা), মগরা নদী ০ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে (আটপারা) প্রবাহিত।   এদিকে হবিগঞ্জ জেলার কালনি নদী ১৫ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ১০ সেন্টিমিটার ওপরে (আজমিরিগঞ্জ), সুতাং নদী ২৩ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ সেন্টিমিটার ওপরে (সুতাং রেলব্রিজ), সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে নদীগুলোর পানির সমতল ঘণ্টায় ০ থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়ছে।   এদিকে ভারতের বিশেষ বুলেটিন থেকে জানা গেছে, মেঘালয় ও আসামে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদেরও ভোট গেছে বিজেপির ঘরে

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম মানেই তৃণমূলের ভোটব্যাংক। এবার এই ধারণায় চিড় ধরেছে। দেশটির গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের বড় একটি অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।   পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু ভোট ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান শক্তি। বিশেষ করে ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দলটি এই ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভর করেই ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থেকেছে। অন্যদিকে বিজেপি ঐতিহাসিকভাবে এই রাজ্যে দুর্বল অবস্থানে থাকলেও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ধীরে ধীরে তাদের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। এবারের নির্বাচনে সেই প্রভাব সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।   ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থী নির্বাচন, এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাব-সব মিলিয়ে ভোটের এই ধারা পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কিছু এলাকায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষও প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১১ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহে ১১ হাজার ৩০০ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ১৪ হাজার ৮৫৫ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।   গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ৬ হাজার ২৪৪ জন আবাসন বা রেসিডেন্সি আইন ভঙ্গের দায়ে আটক হয়েছেন। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার ৫৪৩ জন এবং শ্রম আইন অমান্যের কারণে ১ হাজার ৫১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   এদিকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৩৩০ জনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ প্রবাসীদের আশ্রয় দেওয়া, কাজের সুযোগ তৈরি করা কিংবা যাতায়াতে সহায়তা করার অভিযোগে ১৪ জন দালালকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   বর্তমানে মোট ২৯ হাজার ৯১৩ জন আইন লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৬০১ জনকে ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ৪ হাজার ৩৩৭ জনকে টিকিট নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।   সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে আটক প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদেরও ভোট গেছে বিজেপির ঘরে
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬ 0

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম মানেই তৃণমূলের ভোটব্যাংক। এবার এই ধারণায় চিড় ধরেছে। দেশটির গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের বড় একটি অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।   পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু ভোট ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান শক্তি। বিশেষ করে ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দলটি এই ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভর করেই ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থেকেছে। অন্যদিকে বিজেপি ঐতিহাসিকভাবে এই রাজ্যে দুর্বল অবস্থানে থাকলেও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ধীরে ধীরে তাদের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। এবারের নির্বাচনে সেই প্রভাব সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।   ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থী নির্বাচন, এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাব-সব মিলিয়ে ভোটের এই ধারা পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কিছু এলাকায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষও প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের লড়াই: তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে কতটা প্রস্তুত বিজেপি?
আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে দেশজুড়ে বাড়ছে আগ্রহ। কয়েক ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সোমবার (৪ মে) শুরু হবে গণনা। তবে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে বিশ্লেষক মহলে।   রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির জন্য পশ্চিমবঙ্গ জয় শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং মর্যাদার লড়াই। দলটি সর্বশক্তি দিয়ে এই রাজ্যে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। কিছু বুথফেরত জরিপে বিজেপির সম্ভাব্য জয়ের আভাস দেওয়া হলেও অতীতে এমন পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছে—২০২১ সালে যেমন টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস।   বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে বিজেপি এখনো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে আসামে তাদের অবস্থান তুলনামূলক স্থিতিশীল। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে পশ্চিমবঙ্গই এখন প্রধান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।   ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং স্থানীয় নেতাদের প্রভাব নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতার পরিবর্তনের দাবি জোরালো হওয়ার কথা। কিন্তু রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দুর্বলতার কারণে সেই জায়গাটি ফাঁকা পড়ে আছে।   বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের প্রভাব কমে যাওয়ায় এই শূন্যতায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। তবে সমালোচকদের মতে, বিজেপির উত্থান পুরোপুরি বিকল্প হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক শূন্যতার ফল।   নির্বাচন ঘিরে বিজেপির প্রচারণা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দলটি ধর্মীয় বিভাজন ও পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়েছে, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।   বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। সেখানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সামাজিক সূচকে কিছু উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়।   সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনের বিকল্প হিসেবে বিজেপি কতটা গ্রহণযোগ্য? নাকি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আরও শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক বিকল্পের প্রয়োজন রয়েছে?   এখন সব নজর ভোটের ফলাফলের দিকে। জনগণ কোন পথ বেছে নেয়—তা নির্ধারণ করবে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের দুই মাস : লাভ হলো কার?
আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0

ইরান যুদ্ধ শুরু করার সময় দ্রুত ও নিশ্চিত জয়ের কথা বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু দুই মাস পর এসে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধ থেমে থাকলেও এর স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। বরং এই সংঘাত এখন বৈশ্বিক অস্থিরতা তৈরি করেছে, যেখানে প্রকৃতপক্ষে কেউই বিজয়ী নয়।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ইরান ও লেবাননের জনগণ। ইরানে হাজারো হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে এবং অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের দমন-পীড়নও বেড়েছে। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।   এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও। ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে। আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় কাতার, কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণও এই যুদ্ধের চাপ অনুভব করছে। জ্বালানির দাম বেড়েছে, ফলে দৈনন্দিন খরচ বাড়ছে এবং মূল্যস্ফীতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে।   বিশ্ব অর্থনীতিও বড় ধাক্কা খেয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা জানিয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   অন্যদিকে, কিছু পক্ষ আংশিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। যেমন চীন তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে, আর উচ্চ তেলের দামের কারণে তেল কোম্পানিগুলো বড় মুনাফা করছে। রাশিয়াও জ্বালানি রপ্তানি থেকে অতিরিক্ত আয় করছে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত এবং অস্ত্র শিল্পও কিছুটা লাভবান হচ্ছে।   তবে রাজনৈতিকভাবে এখনো অনিশ্চয়তায় আছেন ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। যুদ্ধের লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি, আর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাদের ওপর চাপ বাড়ছে।    তথ্যসূত্র : সিএনএন

ছবি : সংগৃহীত
ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শিশু শিক্ষার্থী নিহত বেড়ে ২৪
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0

ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।  এতে দেশটির মিনাব সিটিতে ২৪ স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজগানে একটি প্রাক-প্রাথমিক মহিলা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রথমে পাঁচ শিশু নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, হামলায় বিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে আর অন্তত ৬০জন আহত হয়েছে।   এদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিচ্ছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রতিশোধমূলক ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটির মিসাইলগুলো আঘাত হেনেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। এতে আরব আমিরাতে একজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।   সূত্র: আলজাজিরা।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি