সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও অপূর্ণ বহু প্রত্যাশা: জামায়াত আমির

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।   মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের আহ্বান জানানো হয়।    জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তদানীন্তন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রত্যাশা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসনমুক্ত একটি দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছরে প্রাপ্তি হিসাব করলে দেখা যায়, দেশের মানুষের বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার জুলাই গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি লাভ করেছে মানুষ। দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা এমন পরিস্থিতিতে কেউ আর নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। দেশের মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে, কথা বলতে পারবে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য থাকবে না। নাগরিকরা জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা ভোগ করবে। দেশ ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।    তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। অবিলম্বে সরকারকে জুলাই জাতীয় সনদ দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।    বিবৃতিতে একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেন জামায়াত আমির। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।

৩৩ মিনিট আগে
ঈদের ছুটিতে জ্বালানি সংকট: রাজধানীর পাম্পগুলোতে অকটেন উধাও

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটিতে ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে নগরীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে অকটেন সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।   মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, মহাখালী ও গাবতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বেশিরভাগ পাম্পে ‘অকটেন নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।   পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপো থেকে তেল সরবরাহের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। ফলে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও জ্বালানি পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।   রাইড শেয়ারিং চালক রায়হান কবির বলেন, “এক পাম্পে তেল না পেয়ে অন্য পাম্পে যাওয়ার পথে গাড়ির অবশিষ্ট তেলও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে, পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”   অন্যদিকে পাম্প মালিকদের দাবি, স্বাভাবিকের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ঈদের ছুটিতে ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় পেমেন্ট জটিলতাও তৈরি হয়েছে।   উত্তরা আজমপুর এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের কর্মী জানান, “প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৮ হাজার লিটার তেল বরাদ্দ থাকার কথা, সেখানে অনেক সময় ৪ হাজার লিটারও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অল্প সময়েই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “ডিপো থেকে সরবরাহের বার্তা না আসা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

৩৬ মিনিট আগে
ইরান-সংঘাতের প্রভাব: জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল ফিলিপাইন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা -এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকা দেশগুলোর একটি হলো ফিলিপাইন।   দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়। সংঘাত শুরুর পর গত তিন সপ্তাহে কয়েক দফায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। বর্তমানে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।   মঙ্গলবার জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জ্বালানি সরবরাহে ‘আসন্ন সংকটের’ আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ঘোষণা সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আইনি ভিত্তি তৈরি করবে, যাতে জ্বালানি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখা যায়।   সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি মজুত বাড়াতে সরাসরি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয়ের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।   দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান ব্যবহারের হারে ফিলিপাইনের হাতে মাত্র ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের জারি করা এই আদেশ প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী এর মেয়াদ বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা। 

৩৯ মিনিট আগে
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। আতিকুর রহমান রুমন জানান, ‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ সংক্রান্ত এই বিশেষ সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে এপ্রিলের শেষ নাগাদ ঢাকা শহরে যানজট অনেকটা নিরসন সম্ভব হবে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, ট্রাফিক সিগন্যালগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে অটোমেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার ১২০টি সিগন্যাল অটোমেশন করা হবে। ঢাকা শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক এবং শহরের ভেতরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়াও ঢাকা শহর থেকে যত্রতত্র বাস কাউন্টার অপসারণ করা হবে। অতিদ্রুত ঢাকা মহানগরের ভেতরে থাকা পাঁচটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে শহরের বাইরে স্থাপন করা হবে। এই পাঁচটি বাস টার্মিনাল ‘সিটি সার্ভিসের’ জন্য চালু করা হবে। রাস্তার দু’পাশের সড়ক দখলমুক্ত করা হবে। রাস্তার মাঝে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে। ঢাকা শহরের ভেতরে রেল ক্রসিংয়ে ম্যানুয়াল ব্যবস্থার পাশাপাশি অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু করা হবে। সিটি বাসকে জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আনা হবে। তিনি আরো জানান, ঢাকার অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি শহরের হাসপাতাল এলাকায় ফুটওভার ব্রিজে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লিফট স্থাপন করা হবে। আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে অধিকাংশ প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করবেন বলেও জানান আতিকুর রহমান রুমন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, শ্রমিক নেতা শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
ঈদের ছুটিতে জ্বালানি সংকট: রাজধানীর পাম্পগুলোতে অকটেন উধাও

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটিতে ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে নগরীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে অকটেন সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।   মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, মহাখালী ও গাবতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বেশিরভাগ পাম্পে ‘অকটেন নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।   পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপো থেকে তেল সরবরাহের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। ফলে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও জ্বালানি পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।   রাইড শেয়ারিং চালক রায়হান কবির বলেন, “এক পাম্পে তেল না পেয়ে অন্য পাম্পে যাওয়ার পথে গাড়ির অবশিষ্ট তেলও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে, পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”   অন্যদিকে পাম্প মালিকদের দাবি, স্বাভাবিকের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ঈদের ছুটিতে ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় পেমেন্ট জটিলতাও তৈরি হয়েছে।   উত্তরা আজমপুর এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের কর্মী জানান, “প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৮ হাজার লিটার তেল বরাদ্দ থাকার কথা, সেখানে অনেক সময় ৪ হাজার লিটারও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অল্প সময়েই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “ডিপো থেকে সরবরাহের বার্তা না আসা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২৪, ২০২৬ 0

ট্রাম্পের 'আলোচনা' ঘোষণায় ইসরাইলে হতাশা: পরাশক্তির ছায়ায় নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা চলবে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবির পর ইসরাইলে হতাশা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে একের পর এক হামলার হুমকি এবং কোনো আলোচনা হওয়ার বিষয়ে ইরানের সরাসরি অস্বীকৃতি সত্ত্বেও ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন। পুরো যুদ্ধজুড়ে ইসরাইলি নেতারা নিজেদের ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সম্মুখভাগে উপস্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রায়ই গর্ব করে বলেছেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে যোগ দিতে রাজি করিয়েছেন, যাকে তিনি বারবার ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর সোমবার এক ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস করেন যে অর্জিত 'বিশাল সাফল্যগুলোকে' কাজে লাগিয়ে একটি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো অর্জন করা সম্ভব, যা তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষা করবে। নেতানিয়াহু আরও যোগ করেন, এর পাশাপাশি তারা ইরান এবং লেবানন উভয় স্থানেই হামলা অব্যাহত রেখেছেন। তারা পদ্ধতিগতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করছেন এবং হিজবুল্লাহর ওপর জোরালো আঘাত হেনে চলেছেন।   অস্বস্তিকর বাস্তবতা এসব দাবি সত্ত্বেও ইসরাইলের অনেক মানুষ স্পষ্টভাবে সচেতন যে, যুদ্ধের শুরুতে তাদের কাছে বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যে এটি ইরানি সরকারকে উৎখাত করবে এবং দেশটির পক্ষ থেকে আসা হুমকির অবসান ঘটাবে। কিন্তু ইসলামি প্রজাতন্ত্র এখনও টিকে আছে এবং গত কয়েক দিনে ইসরাইলে প্রাণঘাতী ইরানি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমতাবস্থায় আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টি অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর। সাবেক ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিনকাস বলেছেন, নেতানিয়াহুর আপত্তি সত্ত্বেও ট্রাম্প যদি আলোচনার জন্য চাপ দিয়ে থাকেন, তবে এটি একটি সংকেত হতে পারে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুঝতে পেরেছেন বিজয় কতটা দ্রুত ও জোরালো হবে এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন কতটা কার্যকর—সে বিষয়ে নেতানিয়াহু তাকে ধোঁকা দিয়ে থাকতে পারেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ওরি গোল্ডবার্গ বলেন, আলোচনার বিষয়ে আগে থেকে ইসরাইলের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে বলে মনে হয় না। এটি মূলত নেতানিয়াহুর সেই প্রচেষ্টার একটি কঠোর প্রত্যাখ্যান, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তেল আবিব থেকে তিনি বলেন, এটি কি নেতানিয়াহুর পরাজয়? অবশ্যই হ্যাঁ! ট্রাম্প মূলত ইসরাইলকে ত্যাগ করছেন। আপাতত তারা লেবানন ধ্বংস করতে পারবে এবং গাজাকে অভুক্ত রাখতে পারবে, কিন্তু তারা এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ কথা বলতে চাইবে—সেই ধারণা এখন শেষ। কেউ তাদের সঙ্গে কথা বলতে চায় না।   পরাশক্তির নির্ভরতা ও ভারসাম্যহীনতা নেতানিয়াহু এবং ইসরাইলের কট্টরপন্থীরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমর্থনের ওপর অনেক ভরসা করেছিলেন। ২০২৪ সালে ট্রাম্পের বিজয়কে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী উদযাপন করেছিলেন এবং একে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের অভাবনীয় আচরণ এবং দুই দেশের শক্তির বিশাল ভারসাম্যহীনতার কারণে বিভিন্ন সময় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র গাজায় ইসরাইলের ওপর যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দিয়েছিল এবং ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ওপর হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। ইসরাইলি রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ভূমিকার কারণে কিছু বিশ্লেষক পরামর্শ দিয়েছেন যে, বর্তমান আলোচনায় ইসরাইল কোণঠাসা হয়ে পড়লেও এটি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অর্জিত সাফল্যকে অস্বীকার করে না।   বার্লিন থেকে ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোড ফ্ল্যাফেনবার্গ বলেন, তিনি মনে করেন না যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইসরাইল জড়িত থাকবে এমন কোনো প্রত্যাশা ছিল। ইসরাইল এখন আর এমন দেশ নয় যারা কূটনীতি করে। তবে তিনি সন্দিহান যে নেতানিয়াহু আসলে কখনো শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে সিরিয়াস ছিলেন কিনা। যদি থাকতেন, তবে তিনি ইরান সরকারের ভেতরে থাকা সেইসব ব্যক্তিদের হত্যা বা তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেন না যারা এটি ঘটাতে পারত। তিনি আরও বলেন, পরিবর্তে যদি ধরে নেওয়া হয় যে এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করা, তবে নেতানিয়াহু তা করেছেন। আর তিনি এটি এমনভাবে করেছেন যা নিশ্চিত করবে যে ইরান যাতে ভবিষ্যতে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও অপূর্ণ বহু প্রত্যাশা: জামায়াত আমির

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।   মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের আহ্বান জানানো হয়।    জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তদানীন্তন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রত্যাশা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসনমুক্ত একটি দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছরে প্রাপ্তি হিসাব করলে দেখা যায়, দেশের মানুষের বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার জুলাই গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি লাভ করেছে মানুষ। দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা এমন পরিস্থিতিতে কেউ আর নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। দেশের মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে, কথা বলতে পারবে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য থাকবে না। নাগরিকরা জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা ভোগ করবে। দেশ ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।    তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। অবিলম্বে সরকারকে জুলাই জাতীয় সনদ দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।    বিবৃতিতে একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেন জামায়াত আমির। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।

বিমানবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট নিয়োগের সময়সীমা বৃদ্ধি

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট নিয়োগে আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ২৫ মার্চের পরিবর্তে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ইঞ্জিনিয়ারিং, এটিসি, এডিডব্লিউসি, লিগ্যাল, মিটিওরলজি এবং শিক্ষা (পদার্থ বিজ্ঞান) শাখায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।   শাখা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্র, তড়িৎ, কম্পিউটার, অ্যারোনটিক্যাল বা সমজাতীয় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে। এডিডব্লিউসি ও মিটিওরলজি শাখায় বিএসসিতে পদার্থ বা গণিতসহ সিজিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে পদার্থ ও গণিতে এ গ্রেডসহ জিপিএ ৪.৫০ থাকা আবশ্যক। লিগ্যাল শাখায় যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্সে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে। শিক্ষা (পদার্থ বিজ্ঞান) শাখায় পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে সিজিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে।   শারীরিক যোগ্যতা পুরুষদের জন্য কমপক্ষে ৬৪ ইঞ্চি এবং মহিলাদের জন্য ৬২ ইঞ্চি উচ্চতা প্রয়োজন। পুরুষদের বুকের মাপ ৩২ ইঞ্চি এবং মহিলাদের ২৮ ইঞ্চি হতে হবে। উভয় ক্ষেত্রে প্রসারণ ২ ইঞ্চি গ্রহণযোগ্য। ওজন বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। শাখাভেদে দৃষ্টিশক্তি ৬/১২ থেকে ৬/৩৬ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য।   বয়সসীমা স্বল্পমেয়াদি কমিশনের জন্য ২০ থেকে ৩০ বছর এবং বিশেষ স্বল্পমেয়াদি কমিশনের জন্য ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়স হতে হবে। বয়সের ক্ষেত্রে কোনো অ্যাফিডেভিট বা হলফনামা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক ও অবিবাহিত বা বিবাহিত হতে হবে।   সুযোগ-সুবিধা প্রশিক্ষণকালীন অফিসার ক্যাডেটরা মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতন পাবেন। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে পদবি অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত বেতন ও ভাতাদি প্রাপ্ত হবেন। মেধাবী অফিসারদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ এবং সপরিবার যাতায়াত ও সুচিকিৎসার বিশেষ সুবিধা রয়েছে।   নির্বাচনপদ্ধতি প্রার্থীদের প্রথমে প্রাথমিক লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষায় আইকিউ, ইংরেজি, গণিত ও পদার্থ বা সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসবে। এরপর প্রাথমিক ডাক্তারি পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং সর্বশেষ আন্তবাহিনী নির্বাচন পর্ষদের পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হবে।   আবেদনের নিয়ম আগ্রহী প্রার্থীদের বিমানবাহিনীর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা ১১ জানুয়ারি থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।   পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী তথ্য ও নির্বাচনী কেন্দ্র, পুরোনো বিমানবন্দর, তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫-এ।

ইতিহাস গড়ার পথে সুনীল নারাইন

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে আর মাত্র আট উইকেট পেলেই দুর্দান্ত এক মাইলফলক স্পর্শ করবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ক্রিকেটার সুনীল নারাইন। আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি বোলার হিসেবে ২০০ উইকেটের মালিক হয়ে যাবেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের এই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। এক যুগ আগে গায়ানা থেকে আসা সেই উষ্কখুষ্ক চুলের 'মিস্ট্রি স্পিনার' যখন প্রথম কেকেআরের বেগুনি-সোনালি জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন, কে জানত তিনিই হয়ে উঠবেন কলকাতার ঘরের ছেলে। টানা ১৫ মৌসুম একই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। আইপিএলের এই যুগে, যেখানে দল বদলানো প্রায় নিয়ম, সেখানে কেকেআরের সঙ্গে নারাইনের এ সম্পর্ক একটু আলাদা। অভিষেক মৌসুমেই ২৪ উইকেট নিয়ে কেকেআরকে এনে দিয়েছিলেন প্রথম শিরোপা।   অবিচল নারাইন এরপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। গৌতম গম্ভীর থেকে শুরু করে দীনেশ কার্তিক, এউইন মরগান, শ্রেয়াশ আইয়ার হয়ে এখন আজিঙ্কা রাহানে—অধিনায়ক বদলেছে বারবার। কিন্তু নারাইন আছেন অবিচল। ১৮৯টি ম্যাচ খেলেছেন কলকাতার হয়ে, যেখানে ক্লাবের অন্য কোনো খেলোয়াড় ১৫০-এর গণ্ডিও পেরোতে পারেননি। এরই মধ্যে বল হাতে নিয়েছেন ১৯২টি উইকেট, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন একবার, সাতবার চার উইকেট। শুধু কি বল হাতে? ব্যাট হাতেও তিনি বোলারদের রাতের ঘুম হারাম করেছেন বহুবার। ১২২ ইনিংসে করেছেন ১৭৮০ রান। রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও সাতটি ফিফটি। অপেক্ষমাণ মাইলফলক এই মৌসুমে বল হাতে আর মাত্র আটটি উইকেট পেলেই প্রথম বিদেশি বোলার হিসেবে আইপিএলে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করবেন নারাইন। আইপিএলের ইতিহাসে এর আগে মাত্র একজনই এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন—ভারতের স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল (২২১ উইকেট)। ভুবনেশ্বর কুমারও ১৯৮ উইকেট নিয়ে এই তালিকার খুব কাছে। কিন্তু কোনো বিদেশি বোলার যা করতে পারেননি, নারাইন এবার হয়তো সেটাই করে দেখাবেন। একসময় আইপিএলে বিদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন ডোয়াইন ব্রাভো। ১৮৩ উইকেট পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অলরাউন্ডার এবার থাকছেন কলকাতায়, তবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, পরামর্শক হয়ে।   ২৯ মার্চ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ আইপিএল অভিযান শুরু করবে কেকেআর।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-সংঘাতের প্রভাব: জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল ফিলিপাইন
আক্তারুজ্জামান মার্চ ২৪, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা -এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকা দেশগুলোর একটি হলো ফিলিপাইন।   দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়। সংঘাত শুরুর পর গত তিন সপ্তাহে কয়েক দফায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। বর্তমানে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।   মঙ্গলবার জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জ্বালানি সরবরাহে ‘আসন্ন সংকটের’ আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ঘোষণা সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আইনি ভিত্তি তৈরি করবে, যাতে জ্বালানি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখা যায়।   সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি মজুত বাড়াতে সরাসরি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয়ের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।   দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান ব্যবহারের হারে ফিলিপাইনের হাতে মাত্র ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের জারি করা এই আদেশ প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী এর মেয়াদ বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা। 

ইরান হামলার দায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দিলেন ট্রাম্প
আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২৪, ২০২৬ 0

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের দায়ভার নিজের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার 'মেম্ফিস সেফ টাস্ক ফোর্স' গোলটেবিল বৈঠকে তিনি জানান, হেগসেথই তার প্রশাসনের প্রথম শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন যিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার পক্ষে ছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ওয়াশিংটনে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করেছে, কারণ প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা রয়েছে।   হেগসেথকে সামনে আনলেন ট্রাম্প 'মেম্ফিস সেফ টাস্ক ফোর্স'-এর একটি গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, হেগসেথই তার প্রশাসনের প্রথম শীর্ষ কর্মকর্তা যিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে সওয়াল হয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেন, 'পিট, আমার মনে হয় আপনিই প্রথম সোচ্চার হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন—চলুন এটা করি, কারণ আপনি তাদের পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেতে দিতে পারেন না।' অভিযান অনুমোদনের আগের মুহূর্তগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন যে, তিনি বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, 'আমি পিটকে ফোন করেছিলাম। আমি জেনারেল কেইনকে ফোন করেছিলাম। আমি আমাদের অনেক দক্ষ মানুষকে ফোন করেছিলাম।' মূলত ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকির মোকাবিলা করার বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।   প্রশাসনের ভেতরে দ্বিধাবিভক্তি ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন ইরান ও তার মিত্রদের জড়িয়ে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এই অভিযানকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা এবং নৌ-শক্তি ধ্বংস করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পর্দার আড়ালের খবর অনুযায়ী, হামলা চালানো হবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিধাবিভক্ত ছিল। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স—যিনি দীর্ঘকাল ধরে বিদেশের মাটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে আসছেন—এই অভিযানের ব্যাপারে খুব একটা উৎসাহী ছিলেন না। যদিও তিনি প্রকাশ্যে এর বিরোধিতাও করেননি।   অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, যেমন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডক, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে কিছু উপদেষ্টা এই বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

জেট ফুয়েলের দামে রেকর্ড বৃদ্ধি: লিটারপ্রতি ৮০ শতাংশ বাড়ল
আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২৪, ২০২৬ 0

বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। এক ধাক্কায় প্রায় ৮০ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। জানা গেছে, তেলের দাম বাড়াতে মঙ্গলবার জুমে জরুরি সভা করে সংস্থাটি। এতে পদ্মা অয়েল, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনসহ বিইআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   অভ্যন্তরীণ রুটে দাম বৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে এক লাফে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ লিটারপ্রতি দাম বাড়ানো হয়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা বা ৮০ শতাংশ।   আন্তর্জাতিক রুটে দাম বৃদ্ধি এছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। দর বৃদ্ধির হার প্রায় ৭৯ শতাংশ।

ট্রাম্পের 'আলোচনা' ঘোষণায় ইসরাইলে হতাশা: পরাশক্তির ছায়ায় নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২৪, ২০২৬ 0

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা চলবে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবির পর ইসরাইলে হতাশা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে একের পর এক হামলার হুমকি এবং কোনো আলোচনা হওয়ার বিষয়ে ইরানের সরাসরি অস্বীকৃতি সত্ত্বেও ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন। পুরো যুদ্ধজুড়ে ইসরাইলি নেতারা নিজেদের ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সম্মুখভাগে উপস্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রায়ই গর্ব করে বলেছেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে যোগ দিতে রাজি করিয়েছেন, যাকে তিনি বারবার ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর সোমবার এক ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস করেন যে অর্জিত 'বিশাল সাফল্যগুলোকে' কাজে লাগিয়ে একটি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো অর্জন করা সম্ভব, যা তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষা করবে। নেতানিয়াহু আরও যোগ করেন, এর পাশাপাশি তারা ইরান এবং লেবানন উভয় স্থানেই হামলা অব্যাহত রেখেছেন। তারা পদ্ধতিগতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করছেন এবং হিজবুল্লাহর ওপর জোরালো আঘাত হেনে চলেছেন।   অস্বস্তিকর বাস্তবতা এসব দাবি সত্ত্বেও ইসরাইলের অনেক মানুষ স্পষ্টভাবে সচেতন যে, যুদ্ধের শুরুতে তাদের কাছে বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যে এটি ইরানি সরকারকে উৎখাত করবে এবং দেশটির পক্ষ থেকে আসা হুমকির অবসান ঘটাবে। কিন্তু ইসলামি প্রজাতন্ত্র এখনও টিকে আছে এবং গত কয়েক দিনে ইসরাইলে প্রাণঘাতী ইরানি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমতাবস্থায় আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টি অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর। সাবেক ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিনকাস বলেছেন, নেতানিয়াহুর আপত্তি সত্ত্বেও ট্রাম্প যদি আলোচনার জন্য চাপ দিয়ে থাকেন, তবে এটি একটি সংকেত হতে পারে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুঝতে পেরেছেন বিজয় কতটা দ্রুত ও জোরালো হবে এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন কতটা কার্যকর—সে বিষয়ে নেতানিয়াহু তাকে ধোঁকা দিয়ে থাকতে পারেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ওরি গোল্ডবার্গ বলেন, আলোচনার বিষয়ে আগে থেকে ইসরাইলের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে বলে মনে হয় না। এটি মূলত নেতানিয়াহুর সেই প্রচেষ্টার একটি কঠোর প্রত্যাখ্যান, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তেল আবিব থেকে তিনি বলেন, এটি কি নেতানিয়াহুর পরাজয়? অবশ্যই হ্যাঁ! ট্রাম্প মূলত ইসরাইলকে ত্যাগ করছেন। আপাতত তারা লেবানন ধ্বংস করতে পারবে এবং গাজাকে অভুক্ত রাখতে পারবে, কিন্তু তারা এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ কথা বলতে চাইবে—সেই ধারণা এখন শেষ। কেউ তাদের সঙ্গে কথা বলতে চায় না।   পরাশক্তির নির্ভরতা ও ভারসাম্যহীনতা নেতানিয়াহু এবং ইসরাইলের কট্টরপন্থীরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমর্থনের ওপর অনেক ভরসা করেছিলেন। ২০২৪ সালে ট্রাম্পের বিজয়কে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী উদযাপন করেছিলেন এবং একে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের অভাবনীয় আচরণ এবং দুই দেশের শক্তির বিশাল ভারসাম্যহীনতার কারণে বিভিন্ন সময় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র গাজায় ইসরাইলের ওপর যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দিয়েছিল এবং ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ওপর হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। ইসরাইলি রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ভূমিকার কারণে কিছু বিশ্লেষক পরামর্শ দিয়েছেন যে, বর্তমান আলোচনায় ইসরাইল কোণঠাসা হয়ে পড়লেও এটি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অর্জিত সাফল্যকে অস্বীকার করে না।   বার্লিন থেকে ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোড ফ্ল্যাফেনবার্গ বলেন, তিনি মনে করেন না যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইসরাইল জড়িত থাকবে এমন কোনো প্রত্যাশা ছিল। ইসরাইল এখন আর এমন দেশ নয় যারা কূটনীতি করে। তবে তিনি সন্দিহান যে নেতানিয়াহু আসলে কখনো শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে সিরিয়াস ছিলেন কিনা। যদি থাকতেন, তবে তিনি ইরান সরকারের ভেতরে থাকা সেইসব ব্যক্তিদের হত্যা বা তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেন না যারা এটি ঘটাতে পারত। তিনি আরও বলেন, পরিবর্তে যদি ধরে নেওয়া হয় যে এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করা, তবে নেতানিয়াহু তা করেছেন। আর তিনি এটি এমনভাবে করেছেন যা নিশ্চিত করবে যে ইরান যাতে ভবিষ্যতে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি