সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
মূল্যস্ফীতির চাপেই নীতি সুদহার কমানোর বড় সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই নীতি সুদহার কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রধান নীতি সুদহার রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে যা কার্যকর হবে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে রেপোর সুদ ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিলো। আর আন্তঃব্যাংক ধারের ক্ষেত্রে সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট সাড়ে ১১ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা রাখতে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার সাড়ে ৭ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।     বাংলাদেশ ব্যাংক এমন এক সময়ে নীতিসুদহার কমানোর ঘোষণা দিল যখন বেশিরভাগ জিনিসের দর চড়া। সর্বশেষ গত জুন মাসের গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে উঠেছে। আগের মাস শেষে যা ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ ছিলো। গত এপ্রিলে ছিলো ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছর শেষে সরকার গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। গত অর্থবছরও একই রকম লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য বৈশ্বিকভাবেই নীতি সুদহার বেশি রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।     বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ফেব্রুয়ারিতে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মো. মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর নিয়োগ দেয়। তিনি যোগদান করেই নীতি সুদহার কমাতে মুদ্রানীতি কমিটির একটি বৈঠক ডাকেন। তবে বৈঠক হওয়ার আগেই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার কারণে সেই বৈঠক স্থগিত হয়। গত ৩০ জুন চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে সুদহার না কমানোর যুক্তি হিসেবে বলা হয়– উচ্চ মূল্যস্ফীতির গতি ধারা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আপাতত সুদহার না কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক মাস না যেতেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।        আহসান মনসুর গভর্নর থাকতে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন– মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহার কমানো হবে না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সময়ে তিনি গভর্নর থাকলে সুদহার বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করতেন।     সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আজ প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মুদ্রানীতি কমিটি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথ গতিধারাসহ আন্তর্জাতিক লেনদেন ভারসাম্য সংক্রান্ত বিষয়ে বিশদ আলোচনা করে নীতি সুদহার কমানোর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।     কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে মুদ্রানীতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যানন ড. ফিরদৌসি নাহার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।       বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কমিয়ে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ ধরেছে। আগের মুদ্রানীতিতে গত জুন পর্যন্ত সাড়ে ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। তবে মে পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কম সুদ ঋণ দিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

২ ঘন্টা আগে
স্বচ্ছতার অনন্য নজির: গাবতলীতে খাল খননের উদ্বৃত্ত টাকা কোষাগারে ফেরত

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় চারটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন উদ্বৃত্ত এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। এতে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক বিরল ও ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।     বৃহস্পতিবার বিকালে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।     গাবতলী উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার নেপালতলী, নশিপুর, সোনারায় ও দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬শ মিটার দীর্ঘ চারটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়- চার কোটি ৩১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।     গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।     গত ২০ এপ্রিল বাগবাড়ি-নশিপুর চৌকিরদহ খালের পুনঃখননের কাজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে অন্য তিনটি খালের কাজও শুরু এবং ২৯ জুন পুনঃখননের কাজ শেষ হয়। প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দখলমুক্তকরণ, সরকারি নকশা অনুযায়ী খনন, দুই পাড় বাঁধাই, নিচু জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ স্থাপন, চলাচলের সুবিধার্থে কালভার্ট নির্মাণ এবং খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।     স্থানীয় জনগণ আশা করেন, খালগুলো পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। এছাড়া কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থা উন্নত এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে আসবে।     গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহণ ব্যয় ও অন্যান্য বৈধ বিল পরিশোধ করে প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে দুই কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। ফলে এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা অব্যয়িত থাকে। পরে সরকারি বিধি অনুসারে সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।     পিআইও মফিদুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিন হাজার ৬শ মিটার খাল নয় ফুট গভীর এবং ৩০ থেকে ৩৫ ফুট প্রস্থে পুনঃখনন করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কয়েক দফা পাড় মেরামতের প্রয়োজন হলেও নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কাজ শেষ করা হয়েছে। খালের দুই পাশেও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে।     বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন প্রকল্প পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।     গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। সব বৈধ ব্যয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।     তিনি আরও জানান, খালের কয়েকটি স্থানে প্রস্থ প্রাক্কলনের তুলনায় কম হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয়ও কম হয়েছে। ফলে এক কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়। সেই অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।  

২ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার যৌথ অঙ্গীকার

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সের্জিও গর। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারি আরো সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।     বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার পদ্মা গেস্ট হাউসে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।     পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত গরের প্রথম সফরকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অভিন্ন স্বার্থ ও ঘনিষ্ঠ জনসম্পর্কের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিকে আরো সুদৃঢ় করতে ঢাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।     মন্ত্রণালয় আরো জানায়, উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছে। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয় এবং রোহিঙ্গা সংকট উঠে এসেছে।

২ ঘন্টা আগে
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে যে বার্তা দিলেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দ্রুত প্রশমিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।     এর আগে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের ভাই প্রিন্স খালিদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিয়ে সৌদি আরবের অবস্থান তুলে ধরেন এবং উত্তেজনা কমানোর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।     জানা গেছে, ওই বৈঠকে তিনি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি বার্তা ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেন।     বার্তায় চলমান সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সৌদি আরবের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু মানুষের প্রাণহানিই বাড়বে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সৌদি প্রচেষ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।     সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশকের বৈরিতার পর ইরানের সঙ্গে সহাবস্থানের একটি সীমিত প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল সৌদি আরব। সেই প্রেক্ষাপটেই ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে সংঘাত নিরসন এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রিন্স খালিদ।     বৈঠকে তিনি সংঘাতের অবসানে সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথও মার্কিন প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করেন।

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর তাগিদ, বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, বেসরকারিকরণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং এসব কারখানা চালু করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্পকারখানাগুলো দ্রুত চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে কার্যক্রমে গতি আনা এবং এসব শিল্পকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া বৈঠকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।   বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬

প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
আগস্টের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা

ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগস্ট মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ দাম ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।   এর আগে জুলাই মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।   এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম কমানো হয়েছে। আগস্ট মাসের জন্য প্রতি লিটার তেলের দাম ১০০ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। যা আজ রাত থেকে কার্যকর হবে।   এর আগে জুলাই মাসের জন্য প্রতি লিটার তেলের দাম ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ছবি: সংগৃহীত
এনআইডি সংশোধন ও হারানো কার্ডে নতুন ফি নির্ধারণ ইসির

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সেবার ফি পুনর্নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির উপসচিব মো. শাহ আলমের স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠির মাধ্যমে এ নতুন ফি তালিকার কথা জানানো হয়েছে।   মাঠ পর্যায়ে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, এনআইডি’র দৃশ্যমান তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রথমবার আবেদন করলে ভ্যাটসহ লাগবে ২৩০ টাকা। একই তথ্য দ্বিতীয়বার সংশোধনের আবেদনের ক্ষেত্রে গুণতে হবে ভ্যাটসহ ৩৪৫ টাকা এবং পরবর্তী যে কোনোবার আবেদনের জন্য ভ্যাটসহ ৪৬০ টাকা ফি দিতে হবে।    অন্যদিকে এনআইডি’র অভ্যন্তরীণ তথ্য-উপাত্ত সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রথমবার আবেদনে ভ্যাটসহ ১১৫ টাকা, দ্বিতীয়বার আবেদনে ভ্যাটসহ ২৩০ টাকা এবং পরবর্তী যেকোনো আবেদনের জন্য ভ্যাটসহ ৩৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র পুনরায় উত্তোলনের জন্য সাধারণ ও জরুরি দুই ধরনের আবেদন ফি নির্ধারণ করেছে কমিশন। সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে প্রথমবার কার্ড তুলতে ১০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৩০০ টাকা এবং পরবর্তী যেকোনো আবেদনে ৫০০ টাকা ফি লাগবে। আর জরুরি ভিত্তিতে প্রথমবার উত্তোলনে ৩০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৫০০ টাকা এবং পরবর্তী যেকোনো আবেদনের ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা দিতে হবে। উল্লিখিত হারানো কার্ড উত্তোলনের সব ফি’র সঙ্গেই ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য হবে। দলীয় ও ভোটার সংক্রান্ত সেবার ক্ষেত্রেও নতুন ফি ধার্য করা হয়েছে। নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০০ টাকা। এ ছাড়া নির্বাচনী দলিল দস্তাবেজ পরিদর্শন ও কপি সংগ্রহের জন্য ১০০ টাকা এবং ভোটার তালিকার সার্টিফাইড কপি পেতে দিতে হবে ১০০ টাকা। কেবল ভোটার তালিকা দেখার সুযোগ নিতে চাইলে ফি লাগবে ৫০ টাকা। তবে ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি নিতে চাইলে প্রতিটি ইউনিয়ন, সিটি করপোরেশন কিংবা পৌর ওয়ার্ডের জন্য ৫০০ টাকা করে গুণতে হবে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার চাহিদার ভিত্তিতে এনআইডি’র তথ্য-উপাত্ত যাচাই ও সরবরাহের সেবা ফি’র ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। সরকারি সংস্থা বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের জন্য এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ লাখ টাকা এবং বার্ষিক সাব-ইউজার বা নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ টাকা, যেখানে প্রতিটি তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রতিবার ২ টাকা করে দিতে হবে।  অপরদিকে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ লাখ টাকা রাখার পাশাপাশি সাব-ইউজার সংখ্যা অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রথম ৭০টি সাব-ইউজারের প্রতিটির জন্য ৪ হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতিটি সাব-ইউজারের জন্য ২ হাজার টাকা ফি লাগবে। বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবার তথ্য যাচাইয়ের জন্য ৫ টাকা করে ফি দিতে হবে।

হত্যার শিকার সোহাগ মুন্সী। ফাইল ছবি
৬০ লাখ টাকা নিয়েও মেলেনি মুক্তি, বাকি ২৭ লাখ না পেয়ে হত্যা

ইতালিতে পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দি করে মানবপাচারকারীরা। পরে তাদের দাবি অনুযায়ী ৬০ লাখ টাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি মাদারীপুরের রাজৈরের যুবক সোহাগ মুন্সীর। আরও ২৭ লাখ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় গুলি করে হত্যার পর গুম করা হয় তার লাশ।   বুধবার (২৯ জুলাই) খবর পেয়ে আহাজারিতে ভেঙে পড়েন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।    বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গেলে পরিবার ও স্বজনরা জানান, বাংলাদেশে রং মিস্ত্রীর কাজ করতেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে সোহাগ মুন্সী। ইতালি গিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আসায় স্থানীয় মানবপাচারকারী দালাল ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের খপ্পরে পড়েন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী তাদের হাতে ২২ লাখ টাকা তুলে দিয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাড়ি ছাড়েন সোহাগ। প্রথমে তাকে সৌদি আরব ও পরে লিবিয়ার ত্রিপলি নিয়ে বন্দি করে চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে কয়েক ধাপে আরও ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালাল চক্র।    একপর্যায়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আরও দুই লাখ টাকা নিলেও সোহাগকে ফেরত না পাঠিয়ে গত ২৩ জুলাই দাবি করা হয় আরও ২৭ লাখ টাকা। ২৪ জুলাই সকাল ৮ টার মধ্যে দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় সোহাগকে গুলি করে হত্যা করে মানবপাচারকারী মাফিয়ারা। পরে বুধবার (২৯ জুলাই) তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আহাজারিতে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।     শুধু সোহাগ মুন্সীই নয়, এখনো লিবিয়ায় ওই মানবপাচারকারী মাফিয়াদের হাতে জিম্মি রয়েছে আরও ১১ যুবক। মানবপাচারকারী দালাল ও মাফিয়াদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ নিহত সোহাগের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।   মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন বলেন, এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বাকি আসামিদের ধরতে চলছে অভিযান। তবে মূল হোতারা অধিকাংশই দেশের বাইরে থাকায় ধরা সম্ভব হচ্ছে না। আর যারা দেশে আছে তারা প্রতিমুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করছে, যে কারণে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। 

কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি। ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েতের আলি আল-সালেমে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালিয়ে দুটি ড্রোন হ্যাঙ্গার, একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং কয়েকটি সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। খবর আইআরএনএর।   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ৫৬তম ধাপের অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় দুটি ড্রোন হ্যাঙ্গার, বিমান জ্বালানির একটি ট্যাংক এবং কয়েকটি সামরিক হেলিকপ্টার আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়েছে।   আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, মুসলিম বিশ্বের সম্পদ ও সম্পদের ওপর লুটপাট বন্ধ না হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।   এ ছাড়া কুয়েতের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় আইআরজিসি বলেছে, আগ্রাসনের জবাব হিসেবে তাদের সামরিক অভিযান চলতে থাকবে।   তবে আইআরজিসির এ দাবির বিষয়ে কুয়েত বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র : আইআরএনএ

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম কমলো
আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩০, ২০২৬

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগস্ট মাসের জন্য প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের নতুন দাম ১০০ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কমিশনের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। নতুন মূল্য আজ রাত থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।   এর আগে জুলাই মাসের জন্য ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০৯ টাকা ১০ পয়সা প্রতি লিটার, যা তার আগের মাসে ছিল ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে জুলাইয়ের তুলনায় প্রতি লিটারে ৮ টাকা ৭১ পয়সা এবং আগের উচ্চমূল্যের তুলনায় ১৩ টাকা ১৫ পয়সা কমলো।   বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের মূল্য কমানোয় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় করেই বিইআরসি এ ধরনের মূল্য সমন্বয় করে থাকে।

ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ার কুনেইত্রা সীমান্তে ইসরায়েলি কামানের গোলাবর্ষণ
মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬

ইসরায়েলি বাহিনী বৃহস্পতিবার সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় কুনেইত্রা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা এ তথ্য জানিয়েছে।   সানার প্রতিবেদনে বলা হয়, তাল আল আহমার আল শারকি এলাকার কাছে ৩টি আর্টিলারি শেল আঘাত হানে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   স্থানীয় সময় বেলা ১১টা পর্যন্ত গোলাবর্ষণের লক্ষ্য বা কারণ সম্পর্কে সিরিয়া সরকার কিংবা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।   গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, তল্লাশি, গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন স্থানে সামরিক চৌকি স্থাপনের ঘটনা বেড়েছে।   বিশেষ করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সে সময় ইসরায়েল ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নকরণ চুক্তি কার্যকারিতা হারিয়েছে বলে ঘোষণা দিয়ে সিরিয়ার বাফার জোনের নিয়ন্ত্রণ নেয়।   এদিকে, সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ বারবার ওই এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং ইসরায়েলের একতরফা সামরিক পদক্ষেপকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

হামলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে নিহত ১৪
মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাজধানী কিয়েভের একজন এবং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে দুই শিশুসহ কয়েকজন রয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। খবর আল জাজিরার।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একদিন আগেই সতর্ক করেছিলেন, রাশিয়া শিগগিরই একটি বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। এর পরদিনই বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালানো হয়।   স্থানীয় সময় রাত ১টার পর রাজধানী কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, কিয়েভে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।   এছাড়া, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে দুই শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। পোলতাভা অঞ্চলেও একজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।   জেলেনস্কির জন্মশহর ক্রিভি রিহে রুশ ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে পাঁচ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শহরের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান ওলেক্সান্দর ভিলকুল জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চল থেকে ছোড়া হয়েছিল এবং এটি একটি বড় পরিবারের বাড়িতে আঘাত হানে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এদিকে, পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ শহরেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।   হামলার প্রভাব ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছালে প্রতিবেশী পোল্যান্ড নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। সূত্র: আল জাজিরা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম
মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা (ইল্ড) বৃদ্ধির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। একই সঙ্গে বাজারের নজর রয়েছে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত মন্তব্যের দিকে। চলতি সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের পর বিনিয়োগকারীরা ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৫ ডলার ৫৯ সেন্টে। এর আগের দিন স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। অন্যদিকে আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৩ ডলার ৭০ সেন্টে লেনদেন হয়।   বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি নোটের মুনাফা বেড়ে যাওয়ায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধারণের সুযোগ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে।   এএনজেডের বিশ্লেষক সোনি কুমারী বলেন, বাজার যদি মনে করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা সুদের হার আরও বাড়াবে, তাহলে ট্রেজারি ইল্ডও বাড়বে। আর সেটিই বর্তমানে স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।   বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে। একই সঙ্গে ফেড প্রধান কেভিন ওয়ার্শ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এতে ভবিষ্যতে ফেড কী ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের পরিবেশে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় এর চাহিদা কমে যায়।   সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখন বাজারে ৬৭ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৮১ শতাংশ।   বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। এটি ফেডের মূল্যস্ফীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।   এদিকে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার তারা ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এতে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অতিরিক্ত দেশগুলোকে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে।   টিডি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষকদের মতে, গ্রীষ্মজুড়ে তেলের দাম আরও বাড়ার চাপ থাকায় স্বর্ণের দাম ধীরে ধীরে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯০০ ডলারের দিকে নেমে যেতে পারে।   অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৭ ডলার ৪৯ সেন্ট, প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৯৫ ডলার ৩৮ সেন্ট হয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৫৫ ডলার ৬৭ সেন্টে পৌঁছেছে। সূত্র: রয়টার্স

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি