যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বদলে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি করতে চায়। এ কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি আর বাড়ানো হবে না। বরং বড় ধরনের একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে চায় ওয়াশিংটন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও একই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু সীমিত কোনো চুক্তি নয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়েও বিস্তৃত সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে তিনি স্বীকার করেন, দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস অনেক বেশি, তাই চুক্তিতে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর আগে ১২ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই যদি নতুন চুক্তি না হয়, তাহলে আবারও সংঘাত বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দিগপাইত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কৃষিবিদ জিয়াউল হক জিয়া কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নও উঠেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি জানান, এর আগে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জিয়াউল হক জিয়া। জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় গত ১৫ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হয়ে জামালপুর জেলা কারাগারে ছিলেন তিনি। কারা সূত্রে জানা গেছে, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন জিয়াউল হক জিয়া। মঙ্গলবার দুপুরে খাবার গ্রহণের পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য Mymensingh Medical College Hospital-এ স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জেল সুপার মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “দুপুরের খাবারের পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরবর্তীতে ময়মনসিংহে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।” এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ না এলেও, তার মৃত্যু ঘিরে স্থানীয় মহলে আলোচনা চলছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন এক বিতর্কের মুখে পড়েছে ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এই আসরের সময় অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযান বন্ধ রাখার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ জানাতে ফিফার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার ভেতরের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট সংস্থার (আইসিই) অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হতে পারে। আর দুই মাসেরও কম সময় পর শুরু হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ, যা যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ব্যাপক বহিষ্কার কার্যক্রম নিয়ে ইতোমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সমর্থকরা নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। হোয়াইট হাউস অবশ্য এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা বিশ্বকাপ আয়োজনকে দেশের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই টুর্নামেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি করবে এবং কর্মসংস্থান বাড়াবে। একই সঙ্গে এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রশাসন। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বিশ্বকাপের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আইসিইসহ বিভিন্ন সংস্থা মাঠে সক্রিয় থাকবে। এতে করে সমালোচকদের আশঙ্কা, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক উৎসবের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপেও অভিবাসন সংস্থার উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল, যদিও সরকার সেগুলো অস্বীকার করেছে। ফিফার ভেতরে আলোচনায় থাকা প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তা একদিকে যেমন সমর্থকদের উদ্বেগ কমাতে পারে, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবেও তা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি এলাকায় নজরদারি চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক সামরিক ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে। বিধ্বস্ত ড্রোনটি ছিল MQ-4C Triton মডেলের, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম উন্নত সামুদ্রিক নজরদারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে টানা নজরদারি চালাতে সক্ষম হওয়ায় এটিকে প্রায়ই ‘ডানাযুক্ত উপগ্রহ’ বলা হয়। ড্রোনটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৪ কোটি মার্কিন ডলার। এই ড্রোনটি তৈরি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Northrop Grumman। এটি ইতালির সিসিলিতে অবস্থিত Naval Air Station Sigonella ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ বিপদ সংকেত, তারপর নিখোঁজ মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত প্রায় তিন ঘণ্টার নজরদারি শেষে ঘাঁটিতে ফেরার পথে ড্রোনটি হঠাৎ বিপদ সংকেত পাঠাতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটির সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রাথমিক বিশ্লেষণে জানা গেছে, ড্রোনটি প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছিল। সেখান থেকে এটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে এবং পরে আর কোনো অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হামলা নাকি প্রযুক্তিগত ত্রুটি? ড্রোনটি শত্রুপক্ষের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সময়ে ঘটনা ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মাত্র দুই দিন পর। ফলে ঘটনাটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বেসরকারি কর্মসংস্থান সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী তিনটি সংগঠন সরকারকে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য প্রস্তাবিত একটি সর্বজনীন ডিজিটাল নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত এই উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয়। এই তিনটি সংগঠন হলো—অ্যাসোসিয়েশন অব এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিজ মালয়েশিয়া, মালয়েশিয়ান ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিজ এবং ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হিউম্যান রিসোর্সেস। সংগঠনগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ পরামর্শ ছাড়া প্রস্তাবিত প্ল্যাটফর্মকে সমর্থন না করতে। সংগঠনগুলো ১৯৮১ সালের প্রাইভেট এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিজ আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি নিয়োগ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের আশঙ্কা, নতুন ব্যবস্থায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্টদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে, যা ব্যয়ের দিক থেকেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাদের মতে, এজেন্সিগুলোর ভূমিকা বাতিল করা হলে অনেক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট দেখা দিতে পারে, কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ। সংগঠনগুলো জানিয়েছে, তারা ধীরে ধীরে একটি নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থা (এথিক্যাল রিক্রুটমেন্ট মোড) বাস্তবায়নের পক্ষে, যা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লাগতে পারে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, যথাযথ পরামর্শ ছাড়া দ্রুত এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া দুঃখজনক। তারা আরও উল্লেখ করেছে, মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় স্তর কমানোর প্রয়োজন থাকলেও, বর্তমান কার্যকর আইনব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শই তারা জোরালোভাবে দিচ্ছে। এছাড়া, সংগঠনগুলো জানিয়েছে, তারা গত ৮ এপ্রিল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
মঙ্গলবার ভোরে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম) ৪৫ জন বিদেশিকে আটক করেছে। ইমিগ্রেশন সারাওয়াক শাখার এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন আহমাদ তারমিজি কেমেরি। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতো লোকমান এফেন্দি রামলি, অপারেশন বিভাগের পরিচালক হাজি বাসরি ওসমান এবং এনফোর্সমেন্ট প্রধান ইউসদি মরশিদি। তারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে অভিযান তদারকি করেন। অভিযানটি কুচিং শহরের আশপাশে দুটি পৃথক নির্মাণস্থলে পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি আটক এড়াতে আধা-নির্মিত ভবনের কাঠামো বেয়ে ওঠা এবং টিনের বেড়া ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে। তবে দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে এলাকা ঘিরে ফেলায় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাদের পালানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ করেন। এই অভিযানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়, যাতে তারা সরাসরি অভিযান পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এর মাধ্যমে বিভাগের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে। অভিযানে মোট ৪৫ জন বিদেশিকে আটক করা হয়, যার মধ্যে ৩৯ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। তাদের বয়স ২১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, পাসের অপব্যবহার এবং অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানসহ বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন। আটক সকলকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিবাসন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপে যখন অভিবাসন নীতি দিন দিন কঠোর হচ্ছে, তখন ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। দেশটি প্রায় ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের অনুমোদনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের আইনি মর্যাদা দেওয়া হবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের এক বছরের জন্য নবায়নযোগ্য বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। পরে তা স্থায়ী বসবাসে রূপ নিতে পারে। আবেদন করতে হলে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে থাকার প্রমাণ এবং অপরাধমুক্ত রেকর্ড থাকতে হবে। আবেদন গ্রহণ চলবে ১৬ এপ্রিল থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত। বৈধতা পেলে এসব অভিবাসী কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পাবেন। সরকার বলছে, এসব অভিবাসী ইতোমধ্যেই স্পেনের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জনসংখ্যার বার্ধক্য ও শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় তাদের বৈধতা দেওয়া প্রয়োজন। তবে বিরোধী দল এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এতে অবৈধ অভিবাসন আরও বাড়তে পারে। যদিও ক্যাথলিক চার্চসহ কিছু মহল এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে বলেছে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে বিশ্বে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে। এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে ২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আগের চেয়ে কম হতে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দেশটির প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ তাদের না হলেও এর প্রভাব যুক্তরাজ্যকে বহন করতে হচ্ছে। আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের অলিভিয়ের গৌরিনচাস বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় সংকট দেখা দেবে। তিনি আরও বলেন, যদি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের বেশি থাকে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় মন্দার মুখে পড়তে পারে। আইএমএফ জানায়, উন্নয়নশীল দেশগুলো এবং যারা জ্বালানি আমদানি করে, তারা এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ভারতের ছত্রিশগড় রাজ্যের একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে শক্তি জেলার সিংহিতারাই গ্রামে অবস্থিত বেদান্ত লিমিটেডের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি বয়লার টিউবে বিস্ফোরণ হলে ঘটনাস্থলেই চারজন শ্রমিক মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ আশঙ্কা করছে, বিস্ফোরণের সময় বয়লার কক্ষে আরও কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন, ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করে ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বেদান্ত লিমিটেড দাবি করেছে, বয়লার ইউনিটটি সরাসরি তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তাদের মতে, ইউনিটটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি জিই পাওয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা ও আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মোস্তফা মাহমুদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে বলেছে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে বিশ্বে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে। এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে ২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আগের চেয়ে কম হতে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দেশটির প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ তাদের না হলেও এর প্রভাব যুক্তরাজ্যকে বহন করতে হচ্ছে। আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের অলিভিয়ের গৌরিনচাস বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় সংকট দেখা দেবে। তিনি আরও বলেন, যদি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের বেশি থাকে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় মন্দার মুখে পড়তে পারে। আইএমএফ জানায়, উন্নয়নশীল দেশগুলো এবং যারা জ্বালানি আমদানি করে, তারা এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইউরোপে যখন অভিবাসন নীতি দিন দিন কঠোর হচ্ছে, তখন ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। দেশটি প্রায় ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের অনুমোদনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের আইনি মর্যাদা দেওয়া হবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের এক বছরের জন্য নবায়নযোগ্য বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। পরে তা স্থায়ী বসবাসে রূপ নিতে পারে। আবেদন করতে হলে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে থাকার প্রমাণ এবং অপরাধমুক্ত রেকর্ড থাকতে হবে। আবেদন গ্রহণ চলবে ১৬ এপ্রিল থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত। বৈধতা পেলে এসব অভিবাসী কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পাবেন। সরকার বলছে, এসব অভিবাসী ইতোমধ্যেই স্পেনের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জনসংখ্যার বার্ধক্য ও শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় তাদের বৈধতা দেওয়া প্রয়োজন। তবে বিরোধী দল এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এতে অবৈধ অভিবাসন আরও বাড়তে পারে। যদিও ক্যাথলিক চার্চসহ কিছু মহল এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।
সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২১৭টি হামলায় ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৮১০ জন চিকিৎসাকর্মী। এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে, চলমান সংঘাতে সুদান এখন বড় ধরনের মানবিক সংকটে রয়েছে। প্রায় ৩৪ মিলিয়ন মানুষের সহায়তা প্রয়োজন, যার মধ্যে ২১ মিলিয়ন মানুষের জরুরি চিকিৎসা দরকার। দেশটিতে অপুষ্টি ও রোগের প্রকোপও বেড়েছে। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, হামসহ বিভিন্ন রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ডব্লিউএইচও আরও জানায়, সুদানের প্রায় ৩৭ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না। সংস্থাটির প্রধান তেদ্রোস আধানোম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, যুদ্ধের কারণে মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে দারফুর অঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। সেখানে সাম্প্রতিক এক হাসপাতালে হামলায় অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র : শাফাক নিউজ
ভারতের ছত্রিশগড় রাজ্যের একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে শক্তি জেলার সিংহিতারাই গ্রামে অবস্থিত বেদান্ত লিমিটেডের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি বয়লার টিউবে বিস্ফোরণ হলে ঘটনাস্থলেই চারজন শ্রমিক মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ আশঙ্কা করছে, বিস্ফোরণের সময় বয়লার কক্ষে আরও কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন, ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করে ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বেদান্ত লিমিটেড দাবি করেছে, বয়লার ইউনিটটি সরাসরি তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তাদের মতে, ইউনিটটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি জিই পাওয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা ও আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।