চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং চলমান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরীর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গঠিত শক্তিশালী কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা একযোগে কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও চান চট্টগ্রামের মানুষ যেন জলাবদ্ধতার কষ্ট থেকে মুক্তি পায়। একেবারে শতভাগ সমাধানের নিশ্চয়তা না দিলেও আমরা দৃঢ়ভাবে কাজ করছি। তিনি জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে বিভিন্ন খাল ও নদীর সংযোগস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। খালের মুখগুলোতে ড্রেজিং ও পরিষ্কার কার্যক্রম যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে ‘অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান, জোয়ার ভাটার প্রভাব এবং অতিবৃষ্টির কারণে বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এজন্য বিভিন্ন স্থানে আধুনিক স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে পানির চাপ অনুযায়ী গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে ও বন্ধ হবে। এছাড়া খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং ময়লা আবর্জনা রোধে নেটিং ব্যবস্থাও চালু করা হবে। নগরবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খালে ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে এবং সিটি কর্পোরেশন তা সংগ্রহ করবে। সাংবাদিকদেরও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরবাসী জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের স্বস্তি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টির রেকর্ড ৩৩০ মিলিমিটার পর্যন্ত রয়েছে। এত ভারী বৃষ্টিপাত হলে সাময়িক জলজট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ চলছে। প্রয়োজনে নিচু এলাকাগুলোতে রাস্তা উঁচু করা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নও করা হবে বলে জানান তিনি। সভায় আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, ওয়াসা, পুলিশসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার শীর্ষ কমকর্তাবৃন্দ।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির কাছে এখন পর্যন্ত ৭৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। শনিবার সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, গত মাসে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপের পর থেকে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি জাহাজ অকার্যকরও করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। সেন্টকম আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আঞ্চলিক জলসীমার ওপর দিয়ে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা যায়। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে চাওয়া সব জাহাজকে নিরাপদ ও সহজ চলাচল নিশ্চিত করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, বর্তমানে সব নাবিকই নিরাপদ যাত্রার জন্য তাদের বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এদিকে ইরান আবারও স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেবে না। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় উভয় পক্ষ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং মার্কিন সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ম্যাচের আগের সব আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে। সৌদিতে যোগ দেওয়ার পর অবশেষে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারবেন কি না, সেটাই ছিল বড় প্রশ্ন। তবে ফাইনালে সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে জাপানের গাম্বা ওসাকা।শনিবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর ফাইনালে আল নাসরকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে গাম্বা ওসাকা। ২০০৮ সালে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা গাম্বা এই ট্রফি জিতে ইতিহাসও গড়েছে। তারাই প্রথম জাপানি ক্লাব হিসেবে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু শিরোপা জিতল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ২৯তম মিনিটে। আক্রমণের শুরুটা হয়েছিল রোনালদোর ভুল থেকে। পরে ডেনিজ হুমেত বক্সের ভেতরে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় জাল খুঁজে নেন। গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় আল নাসর।তবে গাম্বার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখান। রোনালদো পুরো ম্যাচেই অনেকটা নিষ্প্রভ ছিলেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটি সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন তিনি। এ ছাড়া সাদিও মানে ও জোয়াও ফেলিক্সও চেষ্টা করেছিলেন। ফেলিক্সের একটি শট পোস্টে লাগে, আরেকটি শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেয় গাম্বার ডিফেন্ডাররা। শেষ পর্যন্ত আল নাসরের সব আক্রমণ ঠেকিয়ে ১-০ গোলের জয় ধরে রাখে গাম্বা ওসাকা। আর রোনালদোর সৌদি অধ্যায়ে আরো একবার শিরোপা হাতছাড়া হলো।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আগামী বাজেটেই ঘোষণা আসতে পারে। আগামী জুনে উপস্থাপন হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে একবারে পুরো কাঠামো কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ রাখা হতে পারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। তবে পুরো সুবিধা একসঙ্গে নয়, পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন আংশিকভাবে বৃদ্ধি করা হবে। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সমন্বয় করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে নতুন বেতন কাঠামোর সব সুবিধা কার্যকর করা। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রায় ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী সরাসরি আর্থিক সুবিধার আওতায় আসবেন। ২০১৫ সালে সর্বশেষ পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ ১১ বছর পর এই নতুন কাঠামো আসতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডে বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে সর্বনিম্ন গ্রেডেও বেতন বৃদ্ধি পাবে এবং উচ্চ গ্রেডে তা আরও বেশি হবে। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পরই আসল বেতন কাঠামো নির্ধারিত হবে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাং এলাকার একটি অভিজাত বিনোদন কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ৮ বাংলাদেশিসহ ১৫২ জন বিদেশিকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি নাগরিকদের দিয়ে গোপনে দেহব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, জনসাধারণের অভিযোগ এবং দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে বিশেষ এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোট ২৪৩ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তাদের মধ্যে ১৯৪ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা। আটক হওয়া বিদেশিদের মধ্যে ১২৯ জন চীনের নাগরিক। এছাড়া বাংলাদেশি ৮ জন, ভিয়েতনামের ৫ জন, মিয়ানমারের ৫ জন, তাইওয়ানের ২ জন এবং ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও ভানুয়াতুর একজন করে নাগরিক রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযুক্ত বিনোদন কেন্দ্রটিতে শুধুমাত্র ভিভিআইপি গ্রাহকদের প্রবেশের অনুমতি ছিল। সেখানে একেকটি বিশেষ কক্ষের ভাড়া ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ রিঙ্গিত পর্যন্ত নেওয়া হতো এবং গ্রাহকরা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়ের জন্য কক্ষ বুক করতে পারতেন। অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবে অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সরকার। আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর ভিসা বাতিল করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে চলমান এক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে মোট ৯ হাজার ৫৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১১ হাজার ২২৬ জন প্রবাসীকে নিজ দেশে ডিপোর্ট করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪ হাজার ৮৬৫ জন আবাসন বা ইকামা আইন লঙ্ঘনকারী, ৩ হাজার ৩১৯ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী এবং ১ হাজার ৩৯২ জন শ্রম আইন ভঙ্গকারী প্রবাসী রয়েছেন। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার সময় আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে অবৈধ প্রবাসীদের আশ্রয়, কাজ বা যাতায়াতে সহায়তা করার অভিযোগে আরও ১২ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, আগামী আট বছরের মধ্যে দেশের কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরকারি ভাতার বাইরে থাকবে না। শনিবার বিকেলে নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে প্রতিবন্ধীদের তালিকাভুক্ত করে ভাতার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হবে। যেসব পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তাদের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, “সবাইকে ভাতা দেওয়া হবে। তবে এ জন্য কাউকে কোনো টাকা দিতে হবে না। কেউ টাকা দাবি করলে আমাদের জানাবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। দেশে হাম রোগ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন ওষুধ আমদানি করা হয়েছে এবং নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। এ সময় অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “একটি দালালচক্র লেবার পেইনের ভয় দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় সিজারের মাধ্যমে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে।” এ সমস্যা মোকাবিলায় দ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে বেলাবো উপজেলার বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৬৬ জন উপকারভোগীর মধ্যে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসরাত জাহান কেয়া। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মনজুর এলাহী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আগামী বাজেটেই ঘোষণা আসতে পারে। আগামী জুনে উপস্থাপন হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে একবারে পুরো কাঠামো কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ রাখা হতে পারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। তবে পুরো সুবিধা একসঙ্গে নয়, পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন আংশিকভাবে বৃদ্ধি করা হবে। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সমন্বয় করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে নতুন বেতন কাঠামোর সব সুবিধা কার্যকর করা। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রায় ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী সরাসরি আর্থিক সুবিধার আওতায় আসবেন। ২০১৫ সালে সর্বশেষ পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ ১১ বছর পর এই নতুন কাঠামো আসতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডে বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে সর্বনিম্ন গ্রেডেও বেতন বৃদ্ধি পাবে এবং উচ্চ গ্রেডে তা আরও বেশি হবে। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পরই আসল বেতন কাঠামো নির্ধারিত হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির কাছে এখন পর্যন্ত ৭৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। শনিবার সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, গত মাসে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপের পর থেকে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি জাহাজ অকার্যকরও করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। সেন্টকম আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আঞ্চলিক জলসীমার ওপর দিয়ে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা যায়। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে চাওয়া সব জাহাজকে নিরাপদ ও সহজ চলাচল নিশ্চিত করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, বর্তমানে সব নাবিকই নিরাপদ যাত্রার জন্য তাদের বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এদিকে ইরান আবারও স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেবে না। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় উভয় পক্ষ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং মার্কিন সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির কাছে এখন পর্যন্ত ৭৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। শনিবার সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, গত মাসে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপের পর থেকে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি জাহাজ অকার্যকরও করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। সেন্টকম আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আঞ্চলিক জলসীমার ওপর দিয়ে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা যায়। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে চাওয়া সব জাহাজকে নিরাপদ ও সহজ চলাচল নিশ্চিত করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, বর্তমানে সব নাবিকই নিরাপদ যাত্রার জন্য তাদের বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এদিকে ইরান আবারও স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেবে না। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় উভয় পক্ষ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং মার্কিন সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতের বন্দি সঞ্জয় কুমার-এর ছেলে বন্দি ভাগীরথ-কে এক কিশোরীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট তার গ্রেপ্তার স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিলে পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী বন্দি ভাগীরথের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শিশু যৌন অপরাধ সুরক্ষা আইনসহ ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে এক্সে দেওয়া পোস্টে বন্দি সঞ্জয় কুমার বলেন, আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি সম্মান রেখেই তার ছেলে তদন্তের মুখোমুখি হতে তেলেঙ্গানা পুলিশের কাছে হাজির হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান। আমার ছেলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, সে কোনো অন্যায় করেনি। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির সুরাহা হওয়া উচিত।” সঞ্জয় কুমার জানান, আদালতের কার্যক্রম চলমান থাকলেও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখে তিনি বলেন, “ন্যায়বিচার পেতে সময় লাগতে পারে, কিন্তু তা কখনো অপূর্ণ থাকে না।” সূত্র: এনডিটিভি
দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাতে আরও এক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর ফলে গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লেবানন যুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিহত কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করে জানায়, তার নাম ক্যাপ্টেন মাওজ ইসরায়েল রেকানাতি (২৪)। তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইতামার বসতির বাসিন্দা ছিলেন এবং গোলানি ব্রিগেডের ১২তম ব্যাটালিয়নের প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃত্যুর পর তাকে লেফটেন্যান্ট থেকে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে হিজবুল্লাহ একাধিক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনা, ট্যাংক, বুলডোজার ও সামরিক যানবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সুর, বিনতে জবেইল ও নাবাতিয়েহ জেলার বিভিন্ন গ্রামে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৯৬৯ জন নিহত এবং ৯ হাজার ১১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবারই হিজবুল্লাহ সম্ভাব্য কোনো শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে লেবাননের কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ছাড় দিচ্ছে। হিজবুল্লাহর মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা দেশটির দখলদারিত্ব ও লেবাননের ভূখণ্ড ও সম্পদের ওপর তাদের ‘আকাঙ্ক্ষাকে’ বৈধতা দেবে। তারা শান্তি চুক্তির পরিবর্তে পুরোপুরি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, সব ধরনের হামলা বন্ধ, বন্দি মুক্তি এবং শর্তহীন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৫ মে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফা আলোচনায় লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষ শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে চতুর্থ দফা আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিনের একটি বড় পতাকা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ফরাসি পুলিশ অন্তত ৬ জনকে আটক করেছে। শুক্রবার (১৫ মে) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে পরিবেশবাদী ও সামাজিক আন্দোলন সংগঠন “Extinction Rebellion France”-এর সদস্যরা আইফেল টাওয়ারের প্রথম তলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে প্রবেশ করেন এবং সেখানে একটি বড় ফিলিস্তিনি পতাকা ঝুলিয়ে দেন। ঘটনার সময় টাওয়ার এলাকায় পর্যটক চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের আটক করে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে বলে ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। পুলিশ জানায়, অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অ্যাক্টিভিস্টরা এটিকে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাত ও মানবিক পরিস্থিতির প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি পালন করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিশ্বখ্যাত স্থাপনার নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।