স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের করা মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরীহ মানুষ যাতে ভোগান্তির শিকার না হন, সে জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সচিবালয়ে আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে যোগদানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সুবিধাবাদীরা কিছু মামলা দায়ের করেছে, যাদের সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তাদের মধ্যে অনেক ব্যবসায়ী এবং সমাজের সুপরিচিত ব্যক্তিত্বও রয়েছেন।’ কর্তৃপক্ষকে মামলাগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ তদন্তের পরে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি, যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হয়।’ আইনের শাসনের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ এবং নাগরিকদের হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী আজ সোমবার জয়নুল গ্যালারিতে শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। বিভাগীয় চেয়ারপার্সন ড. ভদ্রেশু রীটার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ ও শিল্পী কামরুল হাসানের কন্যা সুমনা হাসান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারজানা আহমেদ স্বাগত বক্তব্য দেন। ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী শানীলা শাবনাম ও ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাইয়ান কায়েস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন। এ সময় অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী সেরা শিল্পকর্মের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন— বিএফএ প্রথম বর্ষের এস এম মাহমুদুল হাসান (সৈয়দ আলী আজম স্মৃতি পুরস্কার), বিএফএ দ্বিতীয় বর্ষের দুর্জয় গোস্বামী (খাজা শফিক আহমেদ স্মৃতি পুরস্কার), বিএফএ তৃতীয় বর্ষের আবদুল্লাহ আল মানিক (সমরজিৎ রায় চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার), বিএফএ চতুর্থ বর্ষের অন্তর কুমার বিশ্বাস (কাইয়্যুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার)। শ্রেণি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন— আল আলিফ দিপু (এমএফএ ২য় পর্ব), রওশন জাহান (এমএফএ ১ম পর্ব), মোছা. মিথিলা ফারজানা (বিএফএ ৪র্থ বর্ষ), শানীলা শাবনাম (বিএফএ ৩য় বর্ষ), ইরিন জাহান অন্তরা (বিএফএ ২য় বর্ষ) ও দীপ্ত আচার্য্য (বিএফএ ১ম বর্ষ)। নিরীক্ষামূলক শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন এমএফএ ২য় পর্বের শিক্ষার্থী রাহাত ভূঁইয়া। বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন বিএফএ চতুর্থ বর্ষের সজীব জোয়ার্দার। কামরুল হাসান স্বর্ণপদক লাভ করেছেন বিএফএ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় কর্মকার। স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার পুরস্কার লাভ করেছেন এমএফএ ২য় পর্বের শিক্ষার্থী রাহাত ভূঁইয়া। পরে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, শিল্পকর্ম প্রদর্শনী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে।
ঢাকা ও ওয়াশিংটন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, আসন্ন বছরগুলোতে সকল খাতে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। উভয় পক্ষ দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং শান্তি ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির আলোকে প্রতিষ্ঠিত। আলোচনায় উভয়পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, অভিবাসন এবং জনগণের মধ্যে বিনিময়সহ দুদেশের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করেছে। মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুরের ঢাকা সফরের বিষয়ও আলোচনায় ওঠে আসে, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের সম্পৃক্ততার প্রতিফলন। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে চলমান মার্কিন মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য অব্যাহত রাজনৈতিক সহায়তা কামনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সাক্ষাৎকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং- এর পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, তবে সফরসূচি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়নি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অনেক অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারমূলক কাজ চলছে। যখন তিনি বিদেশ সফর শুরু করবেন তখন চীন সফরের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা জানান, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যে বিশাল ম্যান্ডেট পেয়েছেন, সেজন্য চীন সরকার সেটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গঠিত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানাতেই মূলত চীনের রাষ্ট্রদূত এই সাক্ষাৎ করতে আসেন। ‘বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই এই সুদৃঢ় সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে চীন বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী উন্নয়ন সহযোগী। বিগত বছরগুলোতে চীনের সাথে বাংলাদেশের যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, বর্তমান সরকার সেটিকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে চায়।’ ‘চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। এতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা না হলেও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কীভাবে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়া যায়, উভয় দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে কীভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও জোরদার করা যায়, এসব বিষয়ে সৌজন্যমূলক অঙ্গীকার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না? সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘চীন সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সেদেশে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে সফরের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমানে অনেকগুলো অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ কাজ (ডোমেস্টিক প্রায়োরিটি) রয়েছে। দেশের কাজ গুছিয়ে নিয়ে যখন তিনি বিদেশ সফর শুরু করবেন, তখন চীনের এই আমন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।’
জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়–এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক—কেউ পুলিশের বৈধ কাজে বাধা দিতে পারবে না। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে জনভোগান্তি না হয়। তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে। লাইসেন্সগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।
টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের আদলে দেশের কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করবে সরকার। তবে প্রাথমিকভাবে এটি সারাদেশে একযোগে চালু না হয়ে অঞ্চলভিত্তিক পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়–এ এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সরকারের লক্ষ্য দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা। তথ্যমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ড ইস্যুতে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছে। নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষকদের জন্য কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যত দ্রুত সম্ভব ফ্যামিলি কার্ডের মতোই কৃষক কার্ডের পাইলট প্রকল্প শুরু করা হবে। কবে নাগাদ বিতরণ শুরু হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রস্তুতির নানা বিষয় থাকায় নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মন্ত্রী আরও জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক উৎপাদনসংক্রান্ত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। কোনো লিকেজ বা মধ্যস্বত্বভোগী যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সেজন্য স্মার্ট কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একজন সিম ব্যবহারকারী যেমন সরাসরি ব্যাংকিং বা অন্যান্য সেবা পান, তেমনি এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের সঙ্গে রাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। ফলে কৃষক সরাসরি সুবিধা পাবেন এবং রাষ্ট্রও তাদের সমস্যা দ্রুত জানতে পারবে।
এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা ১০ দিনের ছুটি ভোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এজন্য কৌশলগতভাবে অতিরিক্ত একদিন ছুটি নিতে হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) উদযাপিত হতে পারে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে মোট পাঁচ দিন। সে হিসেবে ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত ঈদের ছুটি থাকবে। এর আগে ১৭ মার্চ রয়েছে শবে কদরের ছুটি। ফলে কেউ যদি ১৮ মার্চ (বুধবার) একদিনের ছুটি নিতে পারেন, তাহলে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি উপভোগ করা সম্ভব হবে। এদিকে ঈদুল ফিতরের পরপরই ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি। এরপর ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি। যদি কেউ ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার ও বুধবার) দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি গ্রহণ করেন, তাহলে ১৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিনের দীর্ঘ অবকাশ ভোগ করা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে সামান্য ছুটি ব্যবস্থাপনায় এবারের ঈদে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য তৈরি হতে পারে দীর্ঘ বিশ্রামের সুযোগ।
ফের পরিবর্তন হলো অমর একুশে বইমেলার তারিখ। ঘোষণা অনুযায়ী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে বইমেলা, যা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এ ছাড়া এবারের মেলায় কোনো প্যাভিলিয়ন থাকছে না বলে জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলা একাডেমি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এছাড়া প্যাভিলিয়নপ্রাপ্ত প্রকাশকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্যাভিলিয়ন ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে তিন শতাধিক প্রকাশনা সংস্থার প্ল্যাটফর্ম ‘প্রকাশক ঐক্য’ মেলায় অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি জানায়। তারা বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণাও দেয়। এ পরিস্থিতিতে রোববার রাতে জরুরি বৈঠকে বসেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একাডেমি কর্তৃপক্ষ ও প্রকাশকদের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে জানানো হয়, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস)-এর সহায়তায় প্যাভিলিয়নপ্রাপ্ত প্রকাশকরা নিজ নিজ প্যাভিলিয়ন সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি যারা স্টলের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের স্টল বিন্যাসের লটারি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে স্টল নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ড. মো. সেলিম রেজা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন। মেলা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার ‘বিডিআর বিদ্রোহের’ বর্ষপূর্তি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বইমেলা ২৬ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করবেন। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেলা একদিন পিছিয়ে সময় দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথমে ডিসেম্বর মাসে (২০২৫) বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনের পর ফেব্রুয়ারি মাসে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তবে বিভিন্ন দাবি-আপত্তির প্রেক্ষাপটে এবারও পরিবর্তন এলো বইমেলার সূচিতে।
বাংলাদেশের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘ইউএস অ্যাম্বাসি ঢাকা’য় দেওয়া এক পোস্টে এ শুভেচ্ছা জানান। পোস্টে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন। আমাদের দুই দেশকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে প্রথমে সীমিত লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানোর কথা ভাবছেন। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে পরে আরও বড় আকারের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। এ বৈঠককে সামরিক সংঘাত এড়ানোর শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আলোচনা ভেস্তে গেলে কী করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। খবরে বলা হয়, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদরদপ্তর, পারমাণবিক স্থাপনা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অবকাঠামো রয়েছে। প্রাথমিক হামলার মাধ্যমে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ছাড়তে চাপ দেওয়া হতে পারে। যদি তাতেও ইরান নতি স্বীকার না করে, তবে বছরের শেষ দিকে আরও বড় সামরিক অভিযান চালানোর বিকল্প খোলা রাখা হতে পারে। এর লক্ষ্য হতে পারে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ক্ষমতা দুর্বল করা—এমন ইঙ্গিতও প্রতিবেদনে রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বড় ধরনের হামলা হলে ইরান ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলার নির্দেশ দিতে পারে। গোয়েন্দা মহলে কিছু যোগাযোগ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যদিও নির্দিষ্ট কোনো হামলার পরিকল্পনা এখনো শনাক্ত হয়নি। ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠী আবার লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজে হামলা শুরু করতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। ইউরোপে হিজবুল্লাহর ঘুমন্ত সেল কিংবা অন্য জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয় হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালকের একটি প্রস্তাব নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানকে শুধু চিকিৎসা গবেষণার জন্য সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ নীতির কথাই বলছে। ইরানও তাদের পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির অধিকার ছাড়তে রাজি নয় বলে জানিয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইরানে বিশেষ অভিযান চালানোর কিছু পরিকল্পনা অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে। একাধিক বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পর এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি। অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৫০ কোটি ইউরোর একটি অস্ত্রচুক্তি করেছে। এর আওতায় আগামী কয়েক বছরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার হচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা আসন্ন বৈঠক ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
সিলেট নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ট্রান্সফরমার মেরামত, সংরক্ষণ, সঞ্চালন লাইন উন্নয়ন ও গাছের ডালপালা ছাঁটাইয়ের কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই আরেফিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা ৩৩ কেভি শ্রীরামপুর ও গোটাটিকর এবং ১১ কেভি শিববাড়ি, চান্দাই ও বিসিক ফিডারের আওতাধীন এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এছাড়াও নগরীর মোমিনখলা, বারখলা, গালিমপুর, শিববাড়ি, জৈনপুর, পৈত্যপাড়া, ফকিরপাড়া, তালুকদারপাড়া, সোনারগাঁও রয়েল সিটি, খোজারখোলা, পাঠানপাড়া, আলমপুর, গোটাটিকর, ষাটঘর, গঙ্গারামের চর, কুশিঘাট, পালপুর এবং আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঐসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে। গ্রাহকদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই আরেফিন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন বা আইইইপিএর অধীনে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট (মার্কিন পূর্বাঞ্চলীয় সময়) থেকে এই শুল্ক আর নেওয়া হবে না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ওই শুল্ক আরোপকে ‘এখতিয়ার বহির্ভূত’ বলে রায় দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ তাদের বার্তায় আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোকে জানিয়েছে, আইইইপিএর অধীনে আগে যে শুল্ক কোডগুলো চালু ছিল, সেগুলো নির্দিষ্ট সময় থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। তবে এর মধ্যেই ট্রাম্প আরেক আইনের অধীনে নতুন করে ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন। নতুন এই শুল্কও মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও কয়েকদিন শুল্ক নেওয়া কেন বন্ধ হয়নি, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এতদিন যারা এই শুল্ক পরিশোধ করেছেন, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইইইপিএর শুল্ক বন্ধ হলেও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ধারা ২৩২ এবং অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা নিয়ে ধারা ৩০১-এর অধীনে আরোপিত অন্য শুল্ক কার্যকর থাকবে। প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের আরও নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আদালতের রায়ের ফলে বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে আদালত সরাসরি অর্থ ফেরতের নির্দেশ না দেওয়ায়, ব্যবসায়ীদের হয়তো আবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। সে ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে প্রথমে সীমিত লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানোর কথা ভাবছেন। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে পরে আরও বড় আকারের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। এ বৈঠককে সামরিক সংঘাত এড়ানোর শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আলোচনা ভেস্তে গেলে কী করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। খবরে বলা হয়, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদরদপ্তর, পারমাণবিক স্থাপনা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অবকাঠামো রয়েছে। প্রাথমিক হামলার মাধ্যমে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ছাড়তে চাপ দেওয়া হতে পারে। যদি তাতেও ইরান নতি স্বীকার না করে, তবে বছরের শেষ দিকে আরও বড় সামরিক অভিযান চালানোর বিকল্প খোলা রাখা হতে পারে। এর লক্ষ্য হতে পারে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ক্ষমতা দুর্বল করা—এমন ইঙ্গিতও প্রতিবেদনে রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বড় ধরনের হামলা হলে ইরান ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলার নির্দেশ দিতে পারে। গোয়েন্দা মহলে কিছু যোগাযোগ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যদিও নির্দিষ্ট কোনো হামলার পরিকল্পনা এখনো শনাক্ত হয়নি। ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠী আবার লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজে হামলা শুরু করতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। ইউরোপে হিজবুল্লাহর ঘুমন্ত সেল কিংবা অন্য জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয় হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালকের একটি প্রস্তাব নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানকে শুধু চিকিৎসা গবেষণার জন্য সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ নীতির কথাই বলছে। ইরানও তাদের পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির অধিকার ছাড়তে রাজি নয় বলে জানিয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইরানে বিশেষ অভিযান চালানোর কিছু পরিকল্পনা অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে। একাধিক বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পর এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি। অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৫০ কোটি ইউরোর একটি অস্ত্রচুক্তি করেছে। এর আওতায় আগামী কয়েক বছরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার হচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা আসন্ন বৈঠক ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘ইউএস অ্যাম্বাসি ঢাকা’য় দেওয়া এক পোস্টে এ শুভেচ্ছা জানান। পোস্টে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন। আমাদের দুই দেশকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত।
মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট এল মেনচো, যার আসল নাম নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস। রোববার দেশটির বিশেষ বাহিনীর অভিযানে তিনি নিহত হয়েছেন। তিনি ছিলেন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল নামে পরিচিত শক্তিশালী অপরাধচক্রের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ কার্টেলটি মেক্সিকোর সবচেয়ে ক্ষমতাধর অপরাধ সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। জালিস্কো অঙ্গরাজ্যভিত্তিক এ কার্টেল চরম সহিংসতা ও সামরিক মানের অস্ত্র ব্যবহারের জন্য কুখ্যাত ছিল। তারা সেনাবাহিনীর ওপর সরাসরি হামলা চালিয়েছে, হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে এবং ড্রোন ব্যবহার করে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছে। ২০১৫ সালে তাকে ধরতে গেলে কার্টেল সদস্যরা রকেট লঞ্চার দিয়ে একটি সেনা হেলিকপ্টার গুলি করে নামিয়ে দেয়। ২০২০ সালে মেক্সিকো সিটিতে তৎকালীন পুলিশপ্রধানের ওপর গ্রেনেড ও শক্তিশালী রাইফেল দিয়ে হামলার ঘটনাতেও এ গোষ্ঠীর নাম উঠে আসে। মার্কিন মাদকদমন সংস্থা ডিইএ এই কার্টেলকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মাদকচক্র হিসেবে বিবেচনা করত। তাদের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে বিস্তৃত ছিল বলে জানানো হয়। কোকেন, মেথঅ্যামফেটামিন ও ফেন্টানিল পাচার থেকে তারা বিপুল অর্থ আয় করত। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক অস্ত্র, প্রশিক্ষিত সশস্ত্র সদস্য ও বিপুল অর্থের জোরে তারা মেক্সিকোর সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এল মেনচো নব্বইয়ের দশক থেকে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত হন। তরুণ বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে হেরোইন বিতরণের ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন এবং প্রায় তিন বছর কারাভোগ করেন। মুক্তির পর মেক্সিকোতে ফিরে এসে তিনি আবার অপরাধ জগতে সক্রিয় হন। ২০০৭ সালের দিকে এরিক ভ্যালেন্সিয়া সালাজারের সঙ্গে মিলে তিনি জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল গঠন করেন। শুরুতে তারা সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে আলাদা হয়ে যায় এবং দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এল মেনচো জনসমক্ষে খুব কম আসতেন। তার খুব কম ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে মাদক পাচার, অস্ত্র ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগ ছিল। তার নিহত হওয়ার পর মেক্সিকোর বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি স্থানে গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।