সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ভারতের সামরিক শক্তিকে সম্মান করে পাকিস্তান, অস্ত্র প্রতিযোগিতা নয়: ডিজি, আইএসপিআর

ভারতের সঙ্গে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়ানোর কোনো আগ্রহ পাকিস্তানের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইসলামাবাদ ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে সম্মান করে এবং পাকিস্তান কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পরিকল্পনা করছে না।   আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রকে ভারতের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও প্রচলিত হামলা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ভারত প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে—এ বিষয়টি পাকিস্তান অবগত। তবে ইসলামাবাদ এটিকে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা হিসেবে দেখতে চায় না।   আহমেদ শরিফ চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানও অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যেতে আগ্রহী নয়। তবে দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তার দাবি, সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং প্রয়োজন হলে জবাব দেওয়ার মতো সক্ষমতা পাকিস্তানের রয়েছে।   সাক্ষাৎকারে ভারতের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গও উঠে আসে। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট ওডিশার চাঁদিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে অগ্নি-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ওই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রযুক্তিগত ও কার্যকরী বিভিন্ন মানদণ্ড যাচাই করা হয়েছে।   ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উন্নয়ন নিয়ে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্যে আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্রধারী হওয়ায় তাদের সামরিক সক্ষমতার পরিবর্তন আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার উন্নয়নও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের নিরাপত্তা সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।   এদিকে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের ওপরও জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্যের সারকথা হলো, পাকিস্তান প্রকাশ্যে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা এড়িয়ে চলার কথা বললেও নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার নীতিতে অটল রয়েছে।

৫৪ মিনিট আগে
মহাখালীতে বাসের অপেক্ষমাণ অবস্থান বন্ধ, ৭২ ঘণ্টায় পরিবর্তনের লক্ষ্য

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট ও সড়কে বাস দাঁড়িয়ে থাকার সমস্যা কমাতে নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ট্রিপের মাঝের দীর্ঘ বিরতিতে থাকা বাসগুলো মহাখালী থেকে সরিয়ে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে।   নতুন ব্যবস্থায় কোনো বাস তার পরবর্তী ট্রিপের সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট আগে মহাখালী বাস টার্মিনালে প্রবেশ করবে। সেখানে যাত্রী তোলার পর দ্রুত গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মহাখালী এলাকার সড়কে এই ব্যবস্থার দৃশ্যমান প্রভাব তৈরি করা।   সংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরের অস্থায়ী ডিপোতে আন্তঃজেলা বাস স্থানান্তর শুরু হয়েছে। মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা পর্যন্ত সেখানে মোট ৯১টি বাস অবস্থান করছিল।   দীর্ঘ বিরতির বাস যাচ্ছে পূর্বাচলে মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম বাবুল জানান, যেসব বাসের এক ট্রিপ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ট্রিপে ৩ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় থাকে, সেগুলোকে মহাখালী টার্মিনাল বা সড়কে অপেক্ষা না করিয়ে পূর্বাচল ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০টি বাস ডিপোতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০০টি বাস রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। অবকাঠামোগত বাকি কাজ শেষ হলে আরও ৫০ থেকে ৬০টি বাস রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তবে যেসব বাসের পরবর্তী ট্রিপের সময় খুব কাছাকাছি, সেগুলো নির্ধারিত সময়ের আগে টার্মিনালে প্রবেশের সুযোগ পাবে। সাধারণত ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা রয়েছে—এমন বাস প্রয়োজন অনুযায়ী টার্মিনালে রাখা হচ্ছে।   প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা বন্ধ নতুন ব্যবস্থাপনায় মহাখালী টার্মিনালের সামনের প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্টপেজ বা কাউন্টার থেকেই যাত্রী ওঠাতে হবে। টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর বাসগুলোকে গেট বন্ধ করে সরাসরি গন্তব্যের পথে যেতে হবে। নিয়ম অমান্য করে প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুললে সংশ্লিষ্ট বাস ও চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে মালিক সমিতি। এ ধরনের ঘটনায় ৩ থেকে ৪ দিনের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখার শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নিয়ম কার্যকরের পর মহাখালী এলাকায় বাসের এলোমেলো অবস্থান আগের তুলনায় কমেছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বের হয়ে সড়কে না থেমে যাত্রী তুলে গন্তব্যের উদ্দেশে চলে যাচ্ছে।   ট্রিপের বাইরে থাকা বাস থাকবে ডিপোতে দীর্ঘদিন ধরে মহাখালী এলাকায় দূরপাল্লার বাসের দীর্ঘ সময় অবস্থান যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিভিন্ন রুটের বাস সকালে ঢাকায় এসে রাতের ট্রিপ পর্যন্ত টার্মিনাল কিংবা আশপাশের সড়কে অপেক্ষা করত। এতে সড়কের জায়গা দখলের পাশাপাশি বিমানবন্দরমুখী সড়কেও যানজট তৈরি হতো। নতুন ব্যবস্থায় কয়েক ঘণ্টা পর যেসব বাসের পরবর্তী ট্রিপ রয়েছে, সেগুলো মহাখালীতে অপেক্ষা না করে পূর্বাচলের ডিপোতে থাকবে। নির্ধারিত সময়ের আগে বাসটি মহাখালীতে এসে যাত্রী তুলে আবার গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম জানান, পূর্বাচলের ডিপোর কিছু অবকাঠামোগত কাজ এখনো বাকি রয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে সেখানে রাখা বাস পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বাসকর্মীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। তিনি বলেন, এসব কাজ শেষ হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ বাসগুলো পূর্বাচলের ডিপোতে রাখা হবে। মহাখালীতে মূলত চলমান বাস থাকবে এবং সেখান থেকেই যাত্রী ওঠানো ও নামানোর ব্যবস্থা করা হবে।   ৭২ ঘণ্টায় পরিবর্তন চায় পুলিশ ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, মহাখালীর যানজট ও সড়ক দখলের সমস্যা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি জানান, উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুট থেকে সকালে ঢাকায় আসা অনেক বাস রাতের ট্রিপের অপেক্ষায় দিনের বড় একটি সময় মহাখালী এলাকায় অবস্থান করত। নির্দিষ্ট ডিপো না থাকায় এসব বাস সড়কেই দাঁড়িয়ে থাকত। এ কারণে যানজট বাড়ত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজউকের পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরে অস্থায়ী বাস ডিপো করা হয়েছে। এখন থেকে ট্রিপের মধ্যবর্তী সময়ে বাসগুলো মহাখালীর সড়কে না থেকে সেখানে অবস্থান করবে।   সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়াতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা মহাখালীর পর রাজধানীর ফুলবাড়িয়া ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও একই ধরনের ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল ও ডিপোর কার্যক্রম কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গড়ে ওঠা অননুমোদিত বা যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। টার্মিনালগুলো সংস্কারের পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এতে ই-টিকিটসহ বিভিন্ন যাত্রীসেবা এক জায়গা থেকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই মহাখালী থেকে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে ৯১টি বাস অবস্থান করছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও বাস স্থানান্তরের পাশাপাশি মহাখালীর সড়কে নতুন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

১ ঘন্টা আগে
সূর্যবংশীকে পুরো সিরিজে খেলানো হয়নি, কারণ জানালেন গম্ভীর

মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে ভারতীয় জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া বৈভব সূর্যবংশীকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পুরো টি-টোয়েন্টি সিরিজেই একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর জানিয়েছেন, দলের অভিজ্ঞ ও ধারাবাহিক পারফর্ম করা ক্রিকেটারদের অগ্রাধিকার দেওয়াই এর মূল কারণ।   ইংল্যান্ড সফরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর প্রত্যাশামতো শুরু করতে পারেননি সূর্যবংশী। তিন ম্যাচেই তার ইনিংস থেমেছে ১৩ থেকে ১৫ রানের মধ্যে। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে দুটি অর্ধশতক তুলে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন বাঁহাতি এই ওপেনার।   তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে ভারতের হয়ে অভিষেক শর্মার সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করেছেন সঞ্জু স্যামসন। সিরিজে দুটি ম্যাচে ফিফটি করে জায়গাটির দাবিও জোরালো করেছেন তিনি। ফলে সূর্যবংশীকে একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টির পর গম্ভীর বলেন, সূর্যবংশীকে আপাতত সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হবে। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো করা ক্রিকেটাররা স্বাভাবিকভাবেই দলে অগ্রাধিকার পাবেন।   গম্ভীর বলেন, সূর্যবংশীকে নিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার—তাকে সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তার প্রতিভা সম্পর্কে দলের ধারণা রয়েছে এবং সে কী করতে পারে, সেটিও তারা জানেন।   ভারতের কোচ আরও বলেন, যারা দীর্ঘ সময় ধরে অসাধারণ পারফর্ম করছে, তারা দলে থাকা অন্য ক্রিকেটারদের তুলনায় অগ্রাধিকার পাওয়ার অবস্থানে থাকবে। সুযোগ এলে সূর্যবংশীরও আরও বেশি সময় খেলার সম্ভাবনা তৈরি হবে।   গম্ভীরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ক্রিকেটে দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বয়স এখানে মূল বিষয় নয়; ১৫ বছর বয়সী কিংবা ৩০ বছর বয়সী—যে-ই হোক, সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।   এদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন বৈভব সূর্যবংশী। এসব ম্যাচে ১৮৯ স্ট্রাইকরেট ও ৩২.১৬ গড় নিয়ে তার সংগ্রহ ১৯৩ রান।

১ ঘন্টা আগে
বিতর্কের মধ্যেই প্রথম বিমানবাহী রণতরী পেল ইন্দোনেশিয়া

অবশেষে নিজেদের সামরিক বহরে প্রথম বিমানবাহী রণতরী যুক্ত করল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি ইন্দোনেশিয়া।   ইতালীয় সাবেক যুদ্ধজাহাজটি হস্তান্তরের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করছে দেশটির সরকার। তবে বিশাল অঙ্কের পরিচালন ব্যয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইতোমধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিক এবং সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।   শুক্রবার সকালে উত্তর জাকার্তার তানজুং প্রিয়োক বন্দরের একটি নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছায় স্বল্প দূরত্ব থেকে উড্ডয়ন এবং উলম্বভাবে অবতরণে সক্ষম ৪১ বছরের পুরোনো সাবেক ‌‘আইটিএস জিউসেপ্পে গ্যারিবালডি’ রণতরীটি।    সেখানে এক জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে যুদ্ধজাহাজটিকে স্বাগত জানানো হয়। আগামী সপ্তাহে ১৪ শতকের বিখ্যাত মাজাপাহিৎ আমলের সামরিক নেতার নামানুসারে এটিকে ‘কেআরআই গাজা মাদা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীতে কমিশন করা হবে।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব বাড়াতে গত মার্চ মাসে ইতালি তাদের ২০২৪ সালে অবসরে পাঠানো রণতরীটি ইন্দোনেশিয়াকে উপহার দিতে সম্মত হয়। একদিকে ইতালি ইন্দোনেশিয়ার কাছে সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি ত্বরান্বিত করতে চাইছে, অন্যদিকে পুরানো জাহাজটি উপহার দেওয়ায় সেটির ব্যয়বহুল ডিকমিশনিং বা স্ক্র্যাপ করার খরচ থেকেও বেঁচে গেছে রোম।   থাইল্যান্ডের ‘এইচটিএমএস চক্রি নারুয়েবেত’-এর পর দ্বিতীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরীর মালিক হলো ইন্দোনেশিয়া।   প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সামরিক আধুনিকায়নে ব্যাপক জোর দিলেও রণতরীটি ঘিরে বাজেট বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।   এর আগে ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রজেক্টের জন্য ৪৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করে। তবে পার্লামেন্টের কমিশন-১ এর সদস্য টিবি হাসানউদ্দিন সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই পুরোনো রণতরীটি আধুনিকায়ন ও ব্যবহারের উপযোগী করতেই খরচ হতে পারে অন্তত ১৬ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (প্রায় ৯০ কোটি ডলার)।   বিদ্যমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে একটি পুরোনো জাহাজ সচল রাখতে কেন কোটি কোটি ডলার ঢালা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।   অন্যান্য পরাশক্তি নৌবাহিনীর মতো দূরদূরান্তে যুদ্ধবিমান পাঠাতে এটি ব্যবহার করবে না ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়া এই জাহাজটিকে মূলত হাজার হাজার দ্বীপ জুড়ে হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং সামুদ্রিক অভিযানের একটি ভাসমান কমান্ড সেন্টার ও সহায়তা হাব হিসেবে দেখছে।   চলতি মাসের শুরুতে একটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রাবোও বলেন, জাহাজটি কর্তৃপক্ষকে বন ও পিটল্যান্ডের আগুন মোকাবেলায় সহায়তা করবে, যা নিয়মিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে বিপজ্জনক ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে।   সূত্র: গার্ডিয়ান। 

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে বেসরকারি খাতের ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।   এর অংশ হিসেবে বেসরকারি খাত থেকে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।   বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ইতোমধ্যে ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে মোট ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি করেছে। এসব প্রকল্পে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ১২ পয়সা।   বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত এই বিদ্যুতের দাম আগে চুক্তি করা একই ধরনের প্রকল্পগুলোর তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্ট কম।   নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ব্যাটারিসহ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহ দিতে সরকার একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজও ঘোষণা করেছে।   প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ব্যাটারিসহ ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফার হার এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা।   টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত এবং ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড।   এছাড়া বিপিডিবি নিজস্ব অর্থায়নে মোট ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পও হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।   কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুরের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম বলেন, তার প্রতিষ্ঠান ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের কাজ করছে।   তিনি বলেন, ‘তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পই ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হবে।’   বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্পটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নির্মাণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে স্থাপন করা হবে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র।   কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট করে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া বাগেরহাটের মোংলায় নির্মাণ করা হবে আরও একটি ১০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র। ঈশ্বরদীতে আরও একটি ৭০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।   অবশিষ্ট প্রকল্পগুলো মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, মৌলভীবাজার সদর, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে স্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ১০ মেগাওয়াট থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।   বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আইপিপিগুলোর সঙ্গে করা এসব চুক্তি সরকারের বৃহত্তর জ্বালানি মিশ্রণ কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রচলিত, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো।   তিনি বলেন, বিপিডিবি রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করেছে। এছাড়া অবকাঠামো বিনিয়োগ সহায়তা কোম্পানি (আইআইএফসি) ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটের গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।   বিপিডির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে বিপিডিবি। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।   বিপিডিবি দুই বছর আগে নিজস্ব অর্থায়নে নিজেদের ভবন ও জমিতে ১৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য দরপত্রও আহ্বান করেছিল।   কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাংলাদেশকে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করতে পারে।   নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকার দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বলেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা।   সরকারের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   এ ছাড়া বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ এবং অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।   হাসান মেহেদী বলেন, সরকার যদি সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করতে পারে, তাহলে এ খাতে সরকারের বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
মহাখালীতে বাসের অপেক্ষমাণ অবস্থান বন্ধ, ৭২ ঘণ্টায় পরিবর্তনের লক্ষ্য

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট ও সড়কে বাস দাঁড়িয়ে থাকার সমস্যা কমাতে নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ট্রিপের মাঝের দীর্ঘ বিরতিতে থাকা বাসগুলো মহাখালী থেকে সরিয়ে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে।   নতুন ব্যবস্থায় কোনো বাস তার পরবর্তী ট্রিপের সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট আগে মহাখালী বাস টার্মিনালে প্রবেশ করবে। সেখানে যাত্রী তোলার পর দ্রুত গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মহাখালী এলাকার সড়কে এই ব্যবস্থার দৃশ্যমান প্রভাব তৈরি করা।   সংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরের অস্থায়ী ডিপোতে আন্তঃজেলা বাস স্থানান্তর শুরু হয়েছে। মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা পর্যন্ত সেখানে মোট ৯১টি বাস অবস্থান করছিল।   দীর্ঘ বিরতির বাস যাচ্ছে পূর্বাচলে মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম বাবুল জানান, যেসব বাসের এক ট্রিপ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ট্রিপে ৩ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় থাকে, সেগুলোকে মহাখালী টার্মিনাল বা সড়কে অপেক্ষা না করিয়ে পূর্বাচল ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০টি বাস ডিপোতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০০টি বাস রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। অবকাঠামোগত বাকি কাজ শেষ হলে আরও ৫০ থেকে ৬০টি বাস রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তবে যেসব বাসের পরবর্তী ট্রিপের সময় খুব কাছাকাছি, সেগুলো নির্ধারিত সময়ের আগে টার্মিনালে প্রবেশের সুযোগ পাবে। সাধারণত ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা রয়েছে—এমন বাস প্রয়োজন অনুযায়ী টার্মিনালে রাখা হচ্ছে।   প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা বন্ধ নতুন ব্যবস্থাপনায় মহাখালী টার্মিনালের সামনের প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্টপেজ বা কাউন্টার থেকেই যাত্রী ওঠাতে হবে। টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর বাসগুলোকে গেট বন্ধ করে সরাসরি গন্তব্যের পথে যেতে হবে। নিয়ম অমান্য করে প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুললে সংশ্লিষ্ট বাস ও চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে মালিক সমিতি। এ ধরনের ঘটনায় ৩ থেকে ৪ দিনের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখার শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নিয়ম কার্যকরের পর মহাখালী এলাকায় বাসের এলোমেলো অবস্থান আগের তুলনায় কমেছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বের হয়ে সড়কে না থেমে যাত্রী তুলে গন্তব্যের উদ্দেশে চলে যাচ্ছে।   ট্রিপের বাইরে থাকা বাস থাকবে ডিপোতে দীর্ঘদিন ধরে মহাখালী এলাকায় দূরপাল্লার বাসের দীর্ঘ সময় অবস্থান যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিভিন্ন রুটের বাস সকালে ঢাকায় এসে রাতের ট্রিপ পর্যন্ত টার্মিনাল কিংবা আশপাশের সড়কে অপেক্ষা করত। এতে সড়কের জায়গা দখলের পাশাপাশি বিমানবন্দরমুখী সড়কেও যানজট তৈরি হতো। নতুন ব্যবস্থায় কয়েক ঘণ্টা পর যেসব বাসের পরবর্তী ট্রিপ রয়েছে, সেগুলো মহাখালীতে অপেক্ষা না করে পূর্বাচলের ডিপোতে থাকবে। নির্ধারিত সময়ের আগে বাসটি মহাখালীতে এসে যাত্রী তুলে আবার গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম জানান, পূর্বাচলের ডিপোর কিছু অবকাঠামোগত কাজ এখনো বাকি রয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে সেখানে রাখা বাস পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বাসকর্মীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। তিনি বলেন, এসব কাজ শেষ হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ বাসগুলো পূর্বাচলের ডিপোতে রাখা হবে। মহাখালীতে মূলত চলমান বাস থাকবে এবং সেখান থেকেই যাত্রী ওঠানো ও নামানোর ব্যবস্থা করা হবে।   ৭২ ঘণ্টায় পরিবর্তন চায় পুলিশ ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, মহাখালীর যানজট ও সড়ক দখলের সমস্যা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি জানান, উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুট থেকে সকালে ঢাকায় আসা অনেক বাস রাতের ট্রিপের অপেক্ষায় দিনের বড় একটি সময় মহাখালী এলাকায় অবস্থান করত। নির্দিষ্ট ডিপো না থাকায় এসব বাস সড়কেই দাঁড়িয়ে থাকত। এ কারণে যানজট বাড়ত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজউকের পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরে অস্থায়ী বাস ডিপো করা হয়েছে। এখন থেকে ট্রিপের মধ্যবর্তী সময়ে বাসগুলো মহাখালীর সড়কে না থেকে সেখানে অবস্থান করবে।   সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়াতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা মহাখালীর পর রাজধানীর ফুলবাড়িয়া ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও একই ধরনের ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল ও ডিপোর কার্যক্রম কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গড়ে ওঠা অননুমোদিত বা যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। টার্মিনালগুলো সংস্কারের পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এতে ই-টিকিটসহ বিভিন্ন যাত্রীসেবা এক জায়গা থেকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই মহাখালী থেকে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে ৯১টি বাস অবস্থান করছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও বাস স্থানান্তরের পাশাপাশি মহাখালীর সড়কে নতুন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

খাগড়াছড়িতে ২১ টন ডিএপি সার জব্দ, ডিলারকে জরিমানা

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সরকারি বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত ২১ মেট্রিক টন ডিএপি সার মজুতের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় সার ডিলার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২ নম্বর বোয়ালখালী ইউনিয়নে অবস্থিত বিসিআইসি সার ডিলার প্রতিষ্ঠান এসএস ট্রেডার্সে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।   উপজেলা প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারিয়া সুলতানা অভিযানে নেতৃত্ব দেন।   উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত মজুত করা ২১ মেট্রিক টন ডিএপি সারের সন্ধান পাওয়া যায়। বরাদ্দের অতিরিক্ত হওয়ায় সারগুলো অবৈধ ঘোষণা করে জব্দ করা হয়।   এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দের সার নির্ধারিত গুদামে না রেখে অন্যত্র সংরক্ষণ করার বিষয়টিও অভিযানে ধরা পড়ে। এ অপরাধে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) অনুযায়ী এসএস ট্রেডার্সের ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।   অভিযান শেষে উপজেলা প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানা বলেন, সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত ২১ টন ডিএপি সার জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   তিনি আরও জানান, নির্ধারিত গুদামের বাইরে সরকারি সার মজুত রাখার কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ১১২ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ বিশ্বব্যাংকের

উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে গতি আনতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি মূলধন সংগ্রহে নতুন রেকর্ড গড়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি রেকর্ড ১১২ বিলিয়ন (১১ হাজার ২০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ করেছে। ২০২২ অর্থবছরে সংগৃহীত ৩৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এ অর্থের পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি।   নিজস্ব অর্থায়ন ও সংগৃহীত মূলধন মিলিয়ে ২০২৬ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ মোট ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন নিশ্চিত করেছে।   একই সময়ে রেকর্ড পরিমাণ গ্যারান্টিও দিয়েছে সংস্থাটি। এ অর্থবছরে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে।   এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার গ্যারান্টি দেওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা চার বছর আগেই অর্জিত হয়েছে।   ২০২৪ সালে চালু হওয়া ‘বিশ্বব্যাংক গ্রুপ গ্যারান্টি প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সেবা সহজতর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০২২ সালের ১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে।   উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ প্রবৃদ্ধি আরও বেশি। ১২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেসরকারি মূলধন বেড়ে ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা চার গুণেরও বেশি।   অন্যদিকে, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি মূলধন বজায় ছিল।   আফ্রিকাতেও বেসরকারি মূলধন সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ অঞ্চলে মূলধন ১৫০ শতাংশ বেড়ে ৯ বিলিয়ন ডলার থেকে ২২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।   বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, কাজের গতি বাড়ানো, প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিশ্বব্যাংকের সরকারি ও বেসরকারি অংশকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার কারণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।   তিনি বলেন, ১১২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের এই অর্থ তখনই সার্থক হবে, যখন তা নতুন সুযোগ ও কর্মসংস্থান তৈরি করবে। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করে উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি মূলধন প্রবাহ নিশ্চিত করা।   বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবেন। বিপরীতে, এ সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে মাত্র ৪২ কোটির মতো। এসব দেশে প্রতি ১০টি কর্মসংস্থানের মধ্যে ৯টিই তৈরি করে বেসরকারি খাত।   এই কর্মসংস্থান ঘাটতি মোকাবিলায় অবকাঠামো ও জ্বালানি, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং মূল্য সংযোজনকারী উৎপাদন-এ পাঁচটি খাতকে সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক।   ২০২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট অর্থায়ন ও সংগৃহীত মূলধনের ৫৫ শতাংশই গেছে এসব কর্মসংস্থাননির্ভর খাতে।

ছবি: সংগৃহীত
বিতর্কের মধ্যেই প্রথম বিমানবাহী রণতরী পেল ইন্দোনেশিয়া

অবশেষে নিজেদের সামরিক বহরে প্রথম বিমানবাহী রণতরী যুক্ত করল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি ইন্দোনেশিয়া।   ইতালীয় সাবেক যুদ্ধজাহাজটি হস্তান্তরের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করছে দেশটির সরকার। তবে বিশাল অঙ্কের পরিচালন ব্যয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইতোমধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিক এবং সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।   শুক্রবার সকালে উত্তর জাকার্তার তানজুং প্রিয়োক বন্দরের একটি নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছায় স্বল্প দূরত্ব থেকে উড্ডয়ন এবং উলম্বভাবে অবতরণে সক্ষম ৪১ বছরের পুরোনো সাবেক ‌‘আইটিএস জিউসেপ্পে গ্যারিবালডি’ রণতরীটি।    সেখানে এক জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে যুদ্ধজাহাজটিকে স্বাগত জানানো হয়। আগামী সপ্তাহে ১৪ শতকের বিখ্যাত মাজাপাহিৎ আমলের সামরিক নেতার নামানুসারে এটিকে ‘কেআরআই গাজা মাদা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীতে কমিশন করা হবে।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব বাড়াতে গত মার্চ মাসে ইতালি তাদের ২০২৪ সালে অবসরে পাঠানো রণতরীটি ইন্দোনেশিয়াকে উপহার দিতে সম্মত হয়। একদিকে ইতালি ইন্দোনেশিয়ার কাছে সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি ত্বরান্বিত করতে চাইছে, অন্যদিকে পুরানো জাহাজটি উপহার দেওয়ায় সেটির ব্যয়বহুল ডিকমিশনিং বা স্ক্র্যাপ করার খরচ থেকেও বেঁচে গেছে রোম।   থাইল্যান্ডের ‘এইচটিএমএস চক্রি নারুয়েবেত’-এর পর দ্বিতীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরীর মালিক হলো ইন্দোনেশিয়া।   প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সামরিক আধুনিকায়নে ব্যাপক জোর দিলেও রণতরীটি ঘিরে বাজেট বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।   এর আগে ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রজেক্টের জন্য ৪৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করে। তবে পার্লামেন্টের কমিশন-১ এর সদস্য টিবি হাসানউদ্দিন সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই পুরোনো রণতরীটি আধুনিকায়ন ও ব্যবহারের উপযোগী করতেই খরচ হতে পারে অন্তত ১৬ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (প্রায় ৯০ কোটি ডলার)।   বিদ্যমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে একটি পুরোনো জাহাজ সচল রাখতে কেন কোটি কোটি ডলার ঢালা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।   অন্যান্য পরাশক্তি নৌবাহিনীর মতো দূরদূরান্তে যুদ্ধবিমান পাঠাতে এটি ব্যবহার করবে না ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়া এই জাহাজটিকে মূলত হাজার হাজার দ্বীপ জুড়ে হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং সামুদ্রিক অভিযানের একটি ভাসমান কমান্ড সেন্টার ও সহায়তা হাব হিসেবে দেখছে।   চলতি মাসের শুরুতে একটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রাবোও বলেন, জাহাজটি কর্তৃপক্ষকে বন ও পিটল্যান্ডের আগুন মোকাবেলায় সহায়তা করবে, যা নিয়মিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে বিপজ্জনক ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে।   সূত্র: গার্ডিয়ান। 

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সামরিক শক্তিকে সম্মান করে পাকিস্তান, অস্ত্র প্রতিযোগিতা নয়: ডিজি, আইএসপিআর
আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

ভারতের সঙ্গে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়ানোর কোনো আগ্রহ পাকিস্তানের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইসলামাবাদ ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে সম্মান করে এবং পাকিস্তান কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পরিকল্পনা করছে না।   আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রকে ভারতের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও প্রচলিত হামলা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ভারত প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে—এ বিষয়টি পাকিস্তান অবগত। তবে ইসলামাবাদ এটিকে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা হিসেবে দেখতে চায় না।   আহমেদ শরিফ চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানও অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যেতে আগ্রহী নয়। তবে দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তার দাবি, সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং প্রয়োজন হলে জবাব দেওয়ার মতো সক্ষমতা পাকিস্তানের রয়েছে।   সাক্ষাৎকারে ভারতের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গও উঠে আসে। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট ওডিশার চাঁদিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে অগ্নি-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ওই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রযুক্তিগত ও কার্যকরী বিভিন্ন মানদণ্ড যাচাই করা হয়েছে।   ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উন্নয়ন নিয়ে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্যে আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্রধারী হওয়ায় তাদের সামরিক সক্ষমতার পরিবর্তন আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার উন্নয়নও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের নিরাপত্তা সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।   এদিকে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের ওপরও জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্যের সারকথা হলো, পাকিস্তান প্রকাশ্যে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা এড়িয়ে চলার কথা বললেও নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার নীতিতে অটল রয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
বিতর্কের মধ্যেই প্রথম বিমানবাহী রণতরী পেল ইন্দোনেশিয়া
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

অবশেষে নিজেদের সামরিক বহরে প্রথম বিমানবাহী রণতরী যুক্ত করল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি ইন্দোনেশিয়া।   ইতালীয় সাবেক যুদ্ধজাহাজটি হস্তান্তরের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করছে দেশটির সরকার। তবে বিশাল অঙ্কের পরিচালন ব্যয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইতোমধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিক এবং সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।   শুক্রবার সকালে উত্তর জাকার্তার তানজুং প্রিয়োক বন্দরের একটি নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছায় স্বল্প দূরত্ব থেকে উড্ডয়ন এবং উলম্বভাবে অবতরণে সক্ষম ৪১ বছরের পুরোনো সাবেক ‌‘আইটিএস জিউসেপ্পে গ্যারিবালডি’ রণতরীটি।    সেখানে এক জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে যুদ্ধজাহাজটিকে স্বাগত জানানো হয়। আগামী সপ্তাহে ১৪ শতকের বিখ্যাত মাজাপাহিৎ আমলের সামরিক নেতার নামানুসারে এটিকে ‘কেআরআই গাজা মাদা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীতে কমিশন করা হবে।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব বাড়াতে গত মার্চ মাসে ইতালি তাদের ২০২৪ সালে অবসরে পাঠানো রণতরীটি ইন্দোনেশিয়াকে উপহার দিতে সম্মত হয়। একদিকে ইতালি ইন্দোনেশিয়ার কাছে সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি ত্বরান্বিত করতে চাইছে, অন্যদিকে পুরানো জাহাজটি উপহার দেওয়ায় সেটির ব্যয়বহুল ডিকমিশনিং বা স্ক্র্যাপ করার খরচ থেকেও বেঁচে গেছে রোম।   থাইল্যান্ডের ‘এইচটিএমএস চক্রি নারুয়েবেত’-এর পর দ্বিতীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরীর মালিক হলো ইন্দোনেশিয়া।   প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সামরিক আধুনিকায়নে ব্যাপক জোর দিলেও রণতরীটি ঘিরে বাজেট বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।   এর আগে ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রজেক্টের জন্য ৪৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করে। তবে পার্লামেন্টের কমিশন-১ এর সদস্য টিবি হাসানউদ্দিন সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই পুরোনো রণতরীটি আধুনিকায়ন ও ব্যবহারের উপযোগী করতেই খরচ হতে পারে অন্তত ১৬ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (প্রায় ৯০ কোটি ডলার)।   বিদ্যমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে একটি পুরোনো জাহাজ সচল রাখতে কেন কোটি কোটি ডলার ঢালা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।   অন্যান্য পরাশক্তি নৌবাহিনীর মতো দূরদূরান্তে যুদ্ধবিমান পাঠাতে এটি ব্যবহার করবে না ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়া এই জাহাজটিকে মূলত হাজার হাজার দ্বীপ জুড়ে হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং সামুদ্রিক অভিযানের একটি ভাসমান কমান্ড সেন্টার ও সহায়তা হাব হিসেবে দেখছে।   চলতি মাসের শুরুতে একটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রাবোও বলেন, জাহাজটি কর্তৃপক্ষকে বন ও পিটল্যান্ডের আগুন মোকাবেলায় সহায়তা করবে, যা নিয়মিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে বিপজ্জনক ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে।   সূত্র: গার্ডিয়ান। 

সংগৃহীত ছবি
হুতিদের দমনে চীনের সহায়তা চায় সৌদি আরব
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেহরানের সহায়তা চেয়েছে চীন। গত এক সপ্তাহে হুথিদের সামরিক তৎপরতা জোরদার হওয়ার পর সৌদি আরব চীনের দ্বারস্থ হয়। সংশ্লিষ্ট তিন ইরানি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।   সূত্রগুলোর দাবি, লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে হুতিদের দ্রুত অগ্রগতির পর চীনের কাছে সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। এতে সৌদির তেল রপ্তানি ও নৌযান চলাচল আরো ঝুঁকির মুখে পড়েছে।   এ বিষয়ে সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীন প্রকাশ্যে সংযম, সংলাপ এবং নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানালেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইরানকে আরো স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। বেইজিং চায়, হুতিদের ওপর ইরানের প্রভাব কাজে লাগিয়ে সংঘাত যাতে আরো ছড়িয়ে না পড়ে, বিশেষ করে চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোতে। তবে কিভাবে এ বার্তা দেওয়া হয়েছে বা বুধবার চীনে সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। সূত্রগুলোর ভাষ্য, তেহরানের পক্ষ থেকে এর জবাবে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করতে হলে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। চীনও ইরানকে অর্থনৈতিক চাপ দেওয়ার কোনো হুমকি দেয়নি বলে সূত্রগুলোর দাবি। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে আরো ছড়িয়ে পড়ুক—এটি চীন চায় না। দেশটির মতে, ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা কোনো পক্ষের স্বার্থেই নয়।   সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে চীন বলেছে, মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা করা উচিত নয়। পরিস্থিতি আরো জটিল করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বানও জানিয়েছে বেইজিং।   সূত্র: রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, নিরাপদে বের হলেন পাইলট
আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মার্কিন বিমান বাহিনীর এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার আগে ইজেকশন সিস্টেম ব্যবহার করে নিরাপদে বিমান থেকে বের হয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন পাইলট।   বৃহস্পতিবার মিশিগানের ট্রাভার্সি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিধ্বস্ত বিমানটি টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের একটি ইউনিটের এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন ছিল।   টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মিশিগানে তাদের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই পাইলট ইজেকশনের মাধ্যমে বের হয়ে যান।   বিমানটি যে এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কী কারণে যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী।   এয়ার ন্যাশনাল গার্ড হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর একটি রিজার্ভ উপাদান। দেশটির অভ্যন্তরীণ আকাশসীমার নিরাপত্তা রক্ষাসহ বিভিন্ন সামরিক ও জরুরি কার্যক্রমে এই বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।   এদিকে মিশিগান থেকে নির্বাচিত মার্কিন সিনেটর গ্রে পিটার্স জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।   দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষ হওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   সূত্র: এএফপি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব