সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
কোহলির বেঙ্গালুরু কিনতে পারেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মালিক

গুঞ্জনটা বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। বিক্রি হতে চলেছে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়তো সত্যি হতে চলেছে। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা বিরাট কোহলির দল বেঙ্গালুরু কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন, যাদের মধ্যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সফলতম ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-মালিক আভরাম গ্লেজারও আছেন। শুধু বেঙ্গালুরুই নয়, আইপিএলের আরেক ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়্যালসও কিনতে চান গ্লেজার। এ জন্য তিনি ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও (১২ হাজার ২১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা) বেশি বিড করতে চান।   ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিটি দলের জন্য প্রস্তাবিত মূল্য লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস ও গুজরাট টাইটানসের সম্মিলিত মূল্যের কাছাকাছি বা তারও বেশি হতে পারে। ২০২১ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এই দুই দলকে মোট ১২ হাজার ৭১৫ কোটি রুপিতে (১৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকা) বিক্রি করেছিল। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বর্তমানে আইপিএল ও ডব্লিউপিএলের চ্যাম্পিয়ন। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে বেঙ্গালুরুর ব্র্যান্ড ভ্যালুই সবচেয়ে বেশি (৩ হাজার ২৭৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা)। রেকর্ড পাঁচবার করে আইপিএল জেতা মুম্বাই ইন্ডিয়ানস (২ হাজার ৯৫০ কোটি ১২ লাখ টাকা) ও চেন্নাই সুপার কিংসকে (২ হাজার ৮৬৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা) টেক্কা দিয়েছে তারা। এরপরও চ্যাম্পিয়ন ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকপক্ষ। এমন সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ বেঙ্গালুরু ট্র্যাজেডি। গত ৪ জুন বেঙ্গালুরু শহরে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রথম আইপিএল শিরোপা জয়ের উৎসবে পদদলিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু ও অর্ধশতাধিক আহতের ঘটনায় কর্ণাটক রাজ্য সরকার মালিকপক্ষকে দায়ী করেছে। এতে তাদের আইনি জটিলতায় পড়তে হয়েছে। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠাতার পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মালিকানা ছিল ভারতের বৃহত্তম অ্যালকোহল কোম্পানি ইউনাইটেড স্পিরিটসের চেয়ারম্যান ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়ার হাতে। ২০১৫ সালে মালিকানায় হাতবদল হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির বর্তমান মালিক যুক্তরাজ্যের অ্যালকোহল কোম্পানি ডিয়াজিও। ইউনাইটেড স্পিরিটস ডিয়াজিওরই একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

৪ ঘন্টা আগে
জামায়াতে ইসলামী একটি প্রতারক দল : সালাহউদ্দিন আহমদ

জামায়াতে ইসলামী একটি প্রতারক দল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া শহীদ আব্দুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই দল (জামায়াত) দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাদের মুখে আবার নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের বয়ান শুনতে হচ্ছে। যারা এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারা সঠিক ইতিহাস বলবে না। যা বলে বিকৃত ইতিহাসই। এখন আবার একজন মুক্তিযোদ্ধা ভাড়ায় এনে প্রমাণ করতে চায় তাদেরও একজন মুক্তিযোদ্ধা আছে। এটি একটি প্রতারক দল। জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে।’ গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক সংস্কার এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি এ দেশের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। যখনই গণতন্ত্র, সংবিধান ও দেশের সার্বভৌমত্ব মুখ থুবড়ে পড়েছে, বিএনপি তা রক্ষা করেছে। সুতরাং দেশ রক্ষার স্বার্থে বিএনপির ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।   দলের নেতাকর্মীদের অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১২ তারিখের পরদিন ১৩ তারিখ থেকে যারা অন্যায় করেছে, অপরাধ করেছে, মানুষকে হয়রানি করেছে তাদের বিচার শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ।  চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ, তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান সাঈদ ইব্রাহীম আহমদ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ চৌধুরী রাজু, জেলা ওলামাদলের সভাপতি আলী হাসান চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, বিএনপি নেতা সাজ্জাদুল কবির চৌধুরী প্রমুখ। 

৪ ঘন্টা আগে
সব প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে : ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীকে সরকারি গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে (পরিপত্র-১৮) এই নির্দেশনা জারি করা হয়। ইসি জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনে বিজয়ী এবং পরাজিত উভয় ধরনের সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে। এমনকি যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন অথবা নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের ব্যয় করেননি, তাদেরও নির্ধারিত ফরমে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। সংস্থাটি আরো জানায়, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে। প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নিকট ফরম-২২ এ এফিডেভিটসহ এই হিসাব জমা দিতে হবে। রিটার্নিং অফিসারের পাশাপাশি এই রিটার্ন ও এফিডেভিটের অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠাতে হবে। বিধি অনুযায়ী প্রার্থীদের ফরম-২২ক, ২২খ বা ২২গ এর নমুনায় হলফনামা দাখিল করতে হবে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো প্রার্থী যদি নির্ধারিত সময়ে ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হন বা আদেশ লঙ্ঘন করেন, তবে তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবেন। এ ক্ষেত্রে দোষী ব্যক্তিকে ন্যূনতম ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। জনসাধারণের তথ্যের জন্য জানানো হয়েছে, সংরক্ষিত এই ব্যয়ের রিটার্ন ও দলিলপত্র রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। যে কেউ ফি প্রদান সাপেক্ষে এই নথিগুলো পরিদর্শন বা অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রতিটি দলিল পরিদর্শনের জন্য ১০০ টাকা এবং অনুলিপি বা উদ্ধৃতাংশের জন্য প্রতি পৃষ্ঠা ১০০ টাকা হারে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসি আরো জানিয়েছে, কোনো প্রার্থী বিধান লঙ্ঘন করলে রিটার্নিং অফিসারকে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না।

৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার কি ব্যাংক খোলা?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। বিশেষ ছুটি ঘোষণা করে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক খোলা থাকবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ছুটি ঘোষণা করে জানিয়েছে, এই দুই দিনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটিতে থাকবেন। তা ছাড়া ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় আরো দুই দিন যোগ হয়ে টানা চার দিন বন্ধ থাকছে ব্যাংকগুলো। এর আগে ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে।    এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে।

৫ ঘন্টা আগে
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়
১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই : ইসি সচিব

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ভোটের জন্য এখন ৬০ ঘণ্টারও কম সময় বাকি উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোট নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। যদি এখন বলি শঙ্কা আছে, তবে মনে হবে— আমার আস্থার অভাব আছে। কাজেই শঙ্কার কোনো কারণ নেই।’ আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সচিব এসব কথা বলেন। তিনি আরো জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম বন্ধ হবে। এতে বড় ধরনের মিছিল, মিটিং, শোডাউন অন্তর্ভুক্ত। ইসি সচিব আশা প্রকাশ করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার বন্ধ থাকবে। সিনিয়র সচিব বলেন, ‘আমাদের কাছে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি সেল এখানে নিয়মিত নজর রাখে এবং অন্যান্য সরকারি এজেন্সির সঙ্গে তথ্য শেয়ার করা হয়। আমাদের লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করা, যেখানে কেউ কষ্ট ভোগ করবে না।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আখতার আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত মারাত্মক কোনো ঘটনা বা খবর আমাদের কাছে আসেনি। তবে দু’টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দু’জনের প্রাণহানি হয়েছে। এগুলো নিন্দনীয়। তফসিল ঘোষণার পর হাদি এবং শেরপুরে ঝিনাইগাতিতে দু’টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, নির্বাচন উপলক্ষে মিছিল ও মিটিং চলাকালীন বক্তব্য পাল্টা-প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। তবে সবকিছু শালীনতার মধ্যে চলছে এবং কোনো মারাত্মক ত্রুটি রিপোর্ট করা হয়নি। ইসি সচিব আরো বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা নজরদারী কার্যকরভাবে চলছে। চারটি বা ছয়টি সিল এক জায়গা থেকে উদ্ধারও করা হয়েছে। এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ব্রিজ অব কন্ডাক্ট পাওয়া যায়নি।’ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ দেখতে মাঠ পর্যায়ে ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড জুডিকেশন কমিটি, রিটার্নিং অফিসার, এক্সিকিউটিভ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগের তথ্য প্রাপ্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়। তিনি আরো বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করলে আমি নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ হয়ে পড়ব। তাই আমরা সমস্ত অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করছি।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জাপানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে এলডিপির ভূমিধস জয় : প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন

জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস নির্বাচনে ঐতিহাসিক ও ভূমিধস বিজয় অর্জন করায় দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কাছে পাঠানো এক বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর ঐতিহাসিক ও ভূমিধস বিজয়ের জন্য আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আজ সন্ধ্যায় বার্তাটি প্রকাশ করে। বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই সুস্পষ্ট রায় জাপানের জনগণের পক্ষ থেকে আপনার নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি আরো বলেন, আপনার অব্যাহত নেতৃত্বে জাপান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি এবং গঠনমূলক সম্পৃক্ততা আরো এগিয়ে নেবে— এ বিষয়ে আমি আশাবাদী। বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়— এ কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মানসম্মত অবকাঠামো ও সংযোগ খাতে সহযোগিতাসহ বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ধারাবাহিক সহায়তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ, যা আমাদের জনগণ ও অর্থনীতিতে স্থায়ী অবদান রেখেছে। তিনি আরো বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে আমাদের অংশীদারত্ব আরো জোরদার করতে, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গভীর করতে এবং অভিন্ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আপনার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ সরকার। বার্তার শেষাংশে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মহামান্য, আপনার সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য এবং জাপানের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণের জন্য আমার শুভ কামনা গ্রহণ করুন।

ছবি : সংগৃহীত
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো কম্প্রোমাইজ করবে না বিএনপি: তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো কম্প্রোমাইজ করবে না বিএনপি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করতে পারলে আমাদের সর্বপ্রথম কাজ হবে আইনশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই— যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন। মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে চাকরি ও ব্যবসা করবে এবং রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে।’ আজ সোমবার রাজধানীর মতিঝিলের পীরজঙ্গি মাজার রোডে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে দুর্নীতি থেকে দেশকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন, ভবিষ্যতেও সেভাবেই দুর্নীতি দমনে কাজ করবে বিএনপি। এই ব্যাপারে আইন নিজের গতিতে চলবে, কারো সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।’ একটি দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনা করতে হলে দেশের মানুষের জন্য তাদের পরিকল্পনা নেই, কিন্তু বড় বড় কথা আছে। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনেকেই বড় বড় কথা বলতে পারেন, হাততালি পাওয়ার জন্য অনেকেই সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু দেশ চালানো এত সহজ কোনো কাজ নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশ চালাতে হলে দেশের মানুষের জন্য পরিকল্পনা দরকার, কোথায় তাদের পরিকল্পনা? শুধু বড় বড় কথা আছে। দেশ চালানোর জন্য দরকার কর্মসূচি, কোথায় তাদের কর্মসূচি? দেশ চালানোর জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। তাদেরই বন্ধু-বান্ধব গত এক দেড় বছর যাবৎ দেখেছি সরকারের অংশ ছিল, তাহলে আজকে এই দুর্গতি কেন?’ তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আজ প্রমাণিত— যদি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কেউ পরিবর্তন করতে পারে, দেশে যদি দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়, তাহলে কে পারবে? পারবে ধানের শীষ।’ দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নারীদের উন্নয়নযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের খেটে খাওয়া পরিবারের গৃহিণীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে সরকার প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, যাতে পরিবারগুলো ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।’ কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। অতীতে বিএনপি সরকারের সময় কৃষকদের জন্য সুদ মওকুফ ও কৃষি জমির খাজনা মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।’ দেশের তরুণ যুবক সমাজের সদস্য যারা— ছেলে হোক মেয়ে হোক, কীভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, আইসিটিসহ ভোকেশনাল বিভিন্ন টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন গঠনের মাধ্যমে করব। দল-মত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সেই পরিকল্পনা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। তারেক রহমান বলেন, উন্নয়নের নামে যে লুটপাট হয়েছে, তা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। জনগণের করের টাকা ব্যবহার করে বড় বড় প্রকল্প করা হলেও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক চাহিদা উপেক্ষিত থেকেছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের নামে লুটপাট নয়, জনগণের বাস্তব প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে। ঢাকা-৮ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আপনাদের সঠিক মানুষ বেছে নিতে হবে। যে মানুষটি এই এলাকার, তাকেই বাছাই করতে হবে। কারণ, এলাকার সমস্যা সমাধানে বাইরের কেউ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। মনে রাখবেন, বাইরের মানুষ কখনো ঘরের মানুষকে চিনতে পারে না।’ জনসভায় ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যে মানুষটির বেড়ে ওঠা এই এলাকায়, তিনি হচ্ছেন মির্জা আব্বাস। আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা তাকে দেখে রাখুন। তার পাশে থাকুন। এরপর থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মির্জা আব্বাস বিপদে আপদে আপনাদের পাশে থাকবে।’ বক্তব্যের শেষে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আমি আমার পরিকল্পনার কথা আপনাদের বললাম, এবার আপমারা বলুন— ১২ তারিখে আপনাদের পরিকল্পনা কী? উত্তরে উপস্থিত জনতা একসঙ্গে উচ্চস্বরে বলে ওঠেন— ১২ তারিখ সারাদিন, ধানের শীষ ভোট দিন; ১২ তারিখ সারাদিন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দিন।


ছবি : সংগৃহীত
ঢাকায় হালকা শীতের সকাল, আকাশ পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকবে

রাজধানীতে হালকা শীতের আমেজে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিন শুরু হয়েছে। সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোরের দিকে শীতের অনুভূতি থাকলেও আকাশ ছিল পরিষ্কার। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৯ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৭.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৩৫ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। অন্যদিকে, সারাদেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট প্রকাশ

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো সাতটি সরকারি কলেজকে একটি সমন্বিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে আনতে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে প্রণীত এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজসহ সাতটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন থেকে এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশটি জারি করেছেন। সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই এটি কার্যকর করা হয়েছে। জানা গেছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা মহানগরের সাতটি প্রধান সরকারি কলেজকে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো — ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ। অধ্যাদেশে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সংযুক্ত কলেজগুলোর নিজস্ব নাম, ঐতিহ্য, বর্তমান অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা ও বিদ্যমান সব সুযোগ-সুবিধা আগের মতোই বজায় থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে না তোলা পর্যন্ত সাময়িকভাবে ভাড়া করা ভবন বা উপযুক্ত স্থানে এর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা ও একাডেমিক লক্ষ্য ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান দায়িত্ব ও ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে— শিক্ষাদান ও পাঠ্যক্রম, সনদ প্রদান, উচ্চতর গবেষণা, প্রশিক্ষণ, শিল্প-একাডেমি সংযোগ। অধ্যাদেশ অনুযায়ী নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদে থাকবেন আচার্য, যিনি পদাধিকারবলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি একাডেমিক ডিগ্রি ও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার। এছাড়া অন্যান্য পদে রয়েছেন রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, প্রভোস্ট, গ্রন্থাগারিক এবং বিভিন্ন স্কুল ও সেন্টারের প্রধানরা প্রশাসনিক কাজের দেখাশোনা করবেন। সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী নীতিনির্ধারণী কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ‘সিন্ডিকেট’ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী সংস্থা, যা উপাচার্যের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। এছাড়া শিক্ষার বিষয়গুলো তদারকি করতে থাকবে ‘একাডেমিক কাউন্সিল’। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একটি আধুনিক ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এবং নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থাও অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, উন্মুক্ত ও বৈষম্যহীন পরিবেশে এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থী এবং বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আর্থিক কার্যক্রমের তদারকি করবে। কমিশন প্রয়োজনে তদন্ত ও আকস্মিক পরিদর্শন করতে পারবে এবং কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে। এর আগে, গত বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সরকারকে রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে পৃথক করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে নতুন একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সুপারিশ করে। সে অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে গত বছরের ১২ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও প্রত্যাহার করা হয় ৷

ছবি : সংগৃহীত
ইরাকে অগ্নিকাণ্ডে ১০ হাজারের বেশি ভবন বন্ধ

ইরাকে ২০২৫ সালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৪ শতাংশ কমেছে, দেশটির সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী। কঠোর আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়ানোকে এই সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নি নিরাপত্তার মান না মানায় গত বছর ১০ হাজারের বেশি ভবন বন্ধ করা হয়েছিল। এতে ঝুঁকি কমেছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি মানুষকে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করতে প্রচার চালানো হয়েছে এবং বাড়িতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি সেবার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের সব প্রদেশে নতুন সিভিল ডিফেন্স কেন্দ্র চালু হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডে পৌঁছাতে এখন মাত্র ৪–৭ মিনিট সময় লাগে। আধুনিক যানবাহনের সংযোজনের কারণে উদ্ধার তৎপরতাও দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ড পুরোপুরি কমেনি। গত কয়েক বছরে হাজার হাজার অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের মৃত্যু ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। কুর্দিস্তান অঞ্চল বাদ দিয়ে গত তিন বছরে ৫৫ হাজারের বেশি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর আইন ও শাস্তির ব্যবস্থা প্রয়োজন।

শান্তিতে নোবেলজয়ী ইরানের মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি | ছবি : সংগৃহীত
শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদির সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড

ইরানে শান্তিতে নোবেলজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদিকে সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তার আইনজীবী মোস্তফা নিলি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর এএফপির। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরাধ করার উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া ও এতে যোগসাজশের অভিযোগে নার্গিস মোহাম্মাদিকে ৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২ বছরের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তার ওপর। এছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগে নার্গিস মোহাম্মাদিকে দেড় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে ইরানে মৃত্যুদণ্ড ও নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক পোশাক নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানের কারণে গত ২৫ বছর ধরে বারবার বিচার ও কারাবরণের মুখে পড়েছেন নার্গিস মোহাম্মাদি। গত এক দশকের অধিকাংশ সময় তিনি কারাগারেই কাটিয়েছেন। মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে নার্গিস মোহাম্মাদিকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

নিউজ ক্লিপস

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ইরাকে অগ্নিকাণ্ডে ১০ হাজারের বেশি ভবন বন্ধ
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0

ইরাকে ২০২৫ সালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৪ শতাংশ কমেছে, দেশটির সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী। কঠোর আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়ানোকে এই সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নি নিরাপত্তার মান না মানায় গত বছর ১০ হাজারের বেশি ভবন বন্ধ করা হয়েছিল। এতে ঝুঁকি কমেছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি মানুষকে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করতে প্রচার চালানো হয়েছে এবং বাড়িতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি সেবার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের সব প্রদেশে নতুন সিভিল ডিফেন্স কেন্দ্র চালু হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডে পৌঁছাতে এখন মাত্র ৪–৭ মিনিট সময় লাগে। আধুনিক যানবাহনের সংযোজনের কারণে উদ্ধার তৎপরতাও দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ড পুরোপুরি কমেনি। গত কয়েক বছরে হাজার হাজার অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের মৃত্যু ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। কুর্দিস্তান অঞ্চল বাদ দিয়ে গত তিন বছরে ৫৫ হাজারের বেশি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর আইন ও শাস্তির ব্যবস্থা প্রয়োজন।

ছবি : সংগৃহীত
পর্তুগালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিক নেতা সেগুরোর ভূমিধস বিজয়
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0

পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা (রান‑অফ) ভোটে কট্টর ডানপন্থী আন্দ্রে ভেনচুরাকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন সমাজতান্ত্রিক নেতা আন্তোনিও হোসে সেগুরো। বুথফেরত জরিপ ও আংশিক ফলাফল অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কয়েক দিনের টানা ঝড়‑বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ভোটাররা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। গত ১৮ জানুয়ারি প্রথম দফার মতো এবারের নির্বাচনে উপস্থিতির হারও সন্তোষজনক ছিল। যদিও বন্যার কারণে দক্ষিণ ও মধ্য পর্তুগালের তিনটি নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণ এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশে মাত্র ০.৩ শতাংশ ভোটার প্রভাবিত হওয়ায় তা সামগ্রিক ফলাফলে কোনো বড় পরিবর্তন আনবে না বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ৬৩ বছর বয়সী সেগুরো পেয়েছেন ৬৪ শতাংশ, আর কট্টরপন্থী ভেনচুরা পেয়েছেন ৩৬ শতাংশ ভোট। যদিও ভেনচুরা পরাজিত হয়েছেন, তার দল ‘চেগা’ পর্তুগালের রাজনৈতিক মঞ্চে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে। দুটি পৃথক বুথফেরত জরিপে আগেই সেগুরোর জয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল; সেগুরো ৬৭‑৭৩ শতাংশের মধ্যে ভোট পেতে পারেন বলে বলা হয়েছিল, আর ভেনচুরার অংশ হতে পারে ২৭‑৩৩ শতাংশ ভোট। গত বছরের নির্বাচনে উদার ডানপন্থী ক্ষমতাসীন জোটের কাছে পরাজিত হলেও সমাজতান্ত্রিকরা তখনভাবেই পার্লামেন্টে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে এসেছিল, যার প্রেক্ষাপটেই এবার সেগুরো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

ছবি : সংগৃহীত
চলতি বছরের শেষে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন সি চিন পিং: ট্রাম্প
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0

বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এ বছরের শেষ নাগাদ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে হোয়াইট হাউসে তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। গত বুধবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হ্যাঁ, তিনি বছরের শেষ নাগাদ হোয়াইট হাউসে আসছেন। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি দেশের হিসেবে আমাদের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত চমৎকার। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের চীন সফরের কয়েক মাস পরেই সি চিন পিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই নেতার মধ্যে গত বুধবার দীর্ঘ ফোনালাপ হয়, যেখানে বাণিজ্য সংঘাত ছাড়াও তাইওয়ান ইস্যু, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, আমাদের মধ্যে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। আমরা দুজনেই বুঝি, এই সুসম্পর্ক বজায় রাখা কতটা জরুরি। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, আলাপে সি চিন পিং তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তিনি দ্বিপাক্ষীয় বাণিজ্য সমস্যাগুলো বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করছেন, বিশেষ করে ইস্পাত ও অটোমোবাইল খাতে, যা বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উত্তেজনা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে, তবে বেইজিং আপাতত এতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
জাপানের সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেলেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির এলডিপি
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0

জাপানের সাধারণ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বড় জয় লাভ করেছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনও ঘোষিত হয়নি, তবে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে এলডিপি ৩১৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। এটি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩ আসনের চেয়ে অনেক বেশি। এর ফলে পার্লামেন্টে এলডিপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নিজ দলের জয়ের আভাস পাওয়ার পর সাংবাদিকদের তাকাইচি বলেন, আমরা ক্রমাগত একটি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আর্থিক নীতির ওপর জোর দিয়েছি। আর্থিক নীতির স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। তাকাইচি ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও, গত সাত দশকের অধিকাংশ সময় জাপানের ক্ষমতায় থাকা এলডিপি সাম্প্রতিক সময়ে তহবিল জালিয়াতি ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারির কারণে চাপে ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাস পর তিনি আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন। রক্ষণশীল নেত্রী হিসেবে তাকাইচি করছাড় ও ভর্তুকি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিছু ভোটারের সমর্থন অর্জন করেছেন, যদিও সমালোচকরা মনে করছেন, এগুলো বাস্তবায়িত হলে জাপানের ধীরগতির অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। গত ৩৬ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম জাপানে শীতকালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। টোকিওসহ বিভিন্ন শহরে রেকর্ড তুষারপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হলেও ভোটারদের উৎসাহ কমেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার কারণে তাকাইচি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। আগের নির্বাচনের তুলনায় অগ্রিম ভোট কম পড়লেও—প্রায় ৪৬ লাখ ভোটার এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত অগ্রিম ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এলডিপিকে তাদের অবস্থান শক্ত করার মূল কারণ। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তাকাইচি জাপানের ‘শান্তিবাদী সংবিধান’ সংশোধনের পথে এগোতে পারবেন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জাপানি সেনাবাহিনীর ওপর থাকা সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার সুযোগ দেবে। তবে তাঁর জাতীয়তাবাদী অবস্থান তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই নির্বাচনে জাপানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবসায়ী সংগঠন ‘কেইডানরেন’ও ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকেও তাকাইচিকে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাকাইচির জয় এলডিপিকে বিরোধী দলগুলোকে কোণঠাসা করার ক্ষমতা দেবে এবং তিনি যে কোনো আইন পাস করাতে সক্ষম হবেন, তা অর্থনীতি হোক বা প্রতিরক্ষা ব্যয়। বেইজিং এ নির্বাচনী ফলাফলকে ভালো চোখে দেখছে না, কারণ তাকাইচি জাপানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা নীতিকে আরও শক্তিশালী করার পথে অগ্রসর হচ্ছেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি