ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নাকচ করছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সাধারণত এ বিষয়ে এমন কিছু বলি না, তবে উত্তর হলো—হ্যাঁ। এর কোনো কারণ নেই। কী অযৌক্তিক প্রশ্ন!’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত। আর এখন আমি তাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব? কী অযৌক্তিক প্রশ্ন!’ ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এলো। এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেও দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেননি। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রতিদিন রাতে প্রায় ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে চীন এখনো নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। সোমবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে ইরান যাতে আবার রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই সীমিত হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে সোমবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটি ঘটনার খবর তারা পেয়েছে। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: শাফাক নিউজ
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর সীমিত হামলার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ নিয়ে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা আবারও সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। এসব ব্যবস্থা ধ্বংস করতেই নিয়মিত ছোট পরিসরে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যেন তেলবাহী জাহাজ, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ও সামরিক বিমানকে হুমকি দিতে না পারে। এ জন্য ইরানের সামরিক স্থাপনায় মাঝে মাঝে হামলা চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করছেন বলে জানা গেছে। তবে সর্বশেষ উত্তেজনা তৈরির আগে ট্রাম্প এতে অনুমোদন দেননি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের সামনে সব ধরনের বিকল্পই খোলা রয়েছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়ার একটি কারণ হলো, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান আবারও ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ব্যবস্থা মেরামত ও পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে একটি ঘটনায় জাহাজ চলাচলকে নিরাপত্তা দিতে থাকা একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে ইরান একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানটির জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র এটিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রমাণ হিসেবে দেখছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল তুলনামূলক নিরাপদ রাখতে নিয়মিত সীমিত হামলা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে সেন্টকম মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ও হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছে। এর আগে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক ছিল। তবে রোববার জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ওয়াশিংটনের হিসাব বদলাতে পারে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। এর আগে লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন বাহিনীর অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের নৌবাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। ইরানের হামলার জবাবে ট্রাম্পও কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সোমবার তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব।’ সূত্র: শাফাক নিউজ, অ্যাক্সিওস
সমুদ্রে আটকে থাকা ইরানের তেলের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বর্তমানে সমুদ্রে প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল আটকে আছে। সোমবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, চীন থেকে ইরান তেলের অর্থ পেলেও সমুদ্রে আটকে থাকা এই তেলের মজুত একসময় শেষ হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো এই অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। বেসেন্ট বলেন, চীনের সহযোগিতা না পেলেও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ ধরে রাখার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনের ইরানি তেল কেনার পরিমাণও কমেছে। রয়টার্সের হিসাবে, আগস্টে চীন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ লাখ ৩৪ হাজার ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। বছরের শুরুর দিকে এই পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে গত ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ইরানের আর্থিক ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বেসেন্ট বলেন, ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। তাঁর দাবি, অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়ায় ইরান সামরিক হামলার মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। অর্থাৎ, সামরিক হামলার পাশাপাশি ইরানের তেল বিক্রি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করেও তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে ওয়াশিংটন। সূত্র: শাফাক নিউজ, সিএনবিসি ও রয়টার্স
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী ইউসুফ হাসান আলিফ (২৭)। মৃত্যুর আগমুহূর্তে সহকর্মীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বাঁচার আকুতি জানিয়ে তিনি লিখেছিলেন, আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে। কিন্তু শেষপর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। নিহত ইউসুফের মামাতো ভাই বার্সেলোনা প্রবাসী শফিকুল ইসলাম রাসেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে মাদ্রিদের আরগানসোয়েলা জেলার মেট্রো পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে ক্যানারিয়াস সড়কের একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিহত আলিফ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে। পেশায় তিনি একজন ফুড ডেলিভারি রাইডার ছিলেন। গত জুন মাসে ভাগ্য ফেরাতে তিনি স্পেনে পাড়ি জমান। দেশটির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মাত্র দুই দিন আগে তিনি কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) পেয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ফুড ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত সাইকেল আনতে ইউসুফ গ্যারেজে যান। সেই সময় হঠাৎ একটি ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরিত হয়ে গ্যারেজে আগুন ধরে যায়। এতে ইউসুফসহ তাঁর দুই সহকর্মী দগ্ধ হন। খবর পেয়ে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে গ্যারেজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস অপসারণ করেন এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাইসাইকেলগুলো বাইরে সরিয়ে নেন। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকরা ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। দগ্ধ অপর দুই সহকর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইউসুফের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে কালীগঞ্জের উত্তরগাঁও এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়েছে।
ঢাকার মাদানী এভিনিউর ইউনাইটেড সিটিতে অবস্থিত ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সফলভাবে বাংলাদেশের প্রথম রোবোটিক সার্জারি সম্পন্ন করে দেশের চিকিৎসা খাতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করেছে। এআই নির্ভর রোবোটিক সার্জিকাল প্রযুক্তির সংযোজনের ফলে বড় কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই আরও নিয়ন্ত্রিত অস্ত্রোপচার, কম রক্তক্ষরণ, অস্ত্রোপচার পরবর্তী কম ব্যথা এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন পিত্তথলিতে পাথরে আক্রান্ত ৩৪ বছর বয়সী একজন পুরুষ রোগীর ওপর সফল রোবোটিক কোলেসিস্টেকটমি করেন। অন্যদিকে অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান (শেলী) জরায়ু থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আক্রান্ত ৪৫ বছর বয়সী নারীর ওপর সফল রোবোটিক হিস্টেরেকটমি সম্পন্ন করেন। অত্যাধুনিক Medbot Toumai Endoscopic Surgical Robot-এর সহায়তায় এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল টিমের সহযোগিতায় এই দুটি সার্জারি সম্পন্ন করা হয়। সার্জারির সময় রোবোটিক সিস্টেমের মাধ্যমে চিকিৎসকরা 3D-তে শরীরের ভেতরে স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন এবং রোবোটিক আর্ম ৩৬০-ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরিয়ে খুব সংকীর্ণ ও জটিল স্থানেও নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারেন। ফলে আক্রান্তস্থলে আরও সহজে পৌঁছানো, আশপাশের টিস্যুর ক্ষতি কমানো এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন বলেন, ‘রোবোটিক সার্জারি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যেখানে প্রযুক্তির সমন্বয়ে চিকিৎসকরা আরও নিখুঁতভাবে অস্ত্রোপচার করতে পারেন। রোবোটিক আর্ম ৩৬০-ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে পারে, যা মানুষের হাতের স্বাভাবিক নড়াচড়ার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে শরীরের খুব সংকীর্ণ ও জটিল জায়গাতেও আরও নিখুঁতভাবে কাজ করা সম্ভব হয়। এতে রক্তনালি ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নিরাপদ রাখা, কম কাটাছেঁড়ায় চিকিৎসা করা, রক্তক্ষরণ কমানো এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।’ অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান (শেলী) বলেন, ‘রোবোটিক সার্জারির এই কার্যক্রম খুব শিগগিরই কার্ডিয়াক সার্জারি, নিউরোসার্জারি, ইউরোলজি, জেনারেল সার্জারি, গাইনোকোলজি ও থোরাসিক সার্জারিতে আরও বিস্তৃত করা হবে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো, যেসব উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশে যেতে হয়, তাদের দেশের মাটিতেই বিশ্বমানের চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। এর ফলে রোগীরা দেশেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন এবং বিদেশে চিকিৎসার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পরিমাণও কমবে।’ রোবোটিক সার্জারির সংযোজন ইউনাইটেড হেলথকেয়ার-এর আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। দেশের মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি হসপিটালটি জরুরি ও ক্রিটিকাল কেয়ার, উন্নত রোগ নির্ণয় এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসার মান ও সেবার অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করার পাশাপাশি দেশের মানুষের ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা চাহিদা পূরণে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশ-নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেও হাসপাতালটি কাজ করে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশেই আরও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান ও সক্ষমতা আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ ঘোষণা দেন। ফেসবুক পোস্টে মেসি লেখেন, ‘ফাইনালের পর বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি…’ তিনি আরও লিখেন,এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা নিতে গিয়ে অনেক কষ্ট হয়েছে এবং এখনো হৃদয়ে ব্যথা দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এটাই সঠিক সময়। আমি শপথ করে বলছি, আমি সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছর নয়, তারও আগে যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তখনও। এই জার্সির জন্য, আপনাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য এবং ফুটবলের মাধ্যমে যেন আপনারা আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য গর্ববোধ করেন—সেই জন্য আমি সবসময় লড়াই করেছি এবং নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি। আর বেশি সময় বাকি নেই, একে একে অধ্যায়গুলো শেষ হয়ে আসছে। আর এই অধ্যায়টি শেষ করতে গিয়ে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি জাতীয় দলে থাকা ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময় ভালোবেসে যাব। আমি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, এখন আর দেওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই। পাশাপাশি, পেছনে আরও অনেক প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যারা জাতীয় দলে থাকার যোগ্য। গত ২০ বছর ধরে আপনাদের কাছ থেকে পাওয়া সব ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। দলের ভেতর থেকে আপনাদের সমর্থনের আওয়াজ অনেক মিস করব। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে সবসময় দলকে সমর্থন ও উৎসাহ দিয়ে যাব—ভালো সময়ে যেমন, খারাপ সময়ে তার চেয়েও বেশি। সবসময় পাশে থাকার জন্য আমার পরিবারকে ধন্যবাদ। এই সুন্দর কিন্তু কঠিন যাত্রায় আমাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্যও ধন্যবাদ। যেসব কোচ, সতীর্থ ও কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। তাদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি ও মুহূর্ত আমি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি, যেগুলো কখনো ভুলব না। আমি এই শান্তি ও গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি যে, সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আপনাদের এমন কিছু স্বপ্নের মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি, যা আমরা কল্পনা করেছিলাম। আপনাদের সঙ্গে এসব মুহূর্ত বেঁচে থাকাটা ছিল অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা। আমি আপনাদের ভালোবাসি! আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। ভামোস আর্জেন্টিনা!’ পোস্টটির শেষে আর্জেন্টাইন এই তারকা আরও লিখেছেন, ‘এই কথাগুলো আমি ২১ জুলাই, ফাইনালের দুই দিন পর লিখেছিলাম। আজ আমার বাবাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত যে, এটাই আমার সঠিক সিদ্ধান্ত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও মন্ত্রী পদমর্যাদার মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি চলমান প্রকল্পগুলোর ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার পাশাপাশি বাস্তবায়নে থাকা সমস্যাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এডিপিভুক্ত প্রকল্পগুলোর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাইজেশনের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে হবে। কোনো প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকলেও কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কারণে ব্যয় বাড়ানো যাবে না বলে স্পষ্ট করেন। সভা শুরুর আগে ‘সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা ২০২৬’, ‘ওঅ্যান্ডএম ম্যানুয়্যাল’-এর প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড এবং ‘সরকারি কর্মচারীদের পরিসংখ্যান ২০২৫’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন, যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আব্দুস সালাম, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা অনলাইনের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন।
প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে গ্রিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামের ৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের এই প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তিটি দেশটির অন্যতম বৃহত্তম চুক্তি। এর আওতায় দেশটির প্রযুক্তি ব্যবহার করে এথেন্সের জন্য একটি বহু স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ইসরায়েল ও গ্রিসের কৌশলগত স্বার্থ অভিন্ন এবং তারা একই ধরনের আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমন এক সময়ে এই চুক্তি হলো যখন আধিপত্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণকারী পক্ষগুলো এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার এবং স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গাজা যুদ্ধ এবং হিজবুল্লাহ ও ইরানের সাথে সংঘাতের ঘটনায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও দেশটির অস্ত্র রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন দেশের সরকার ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকেছে কারণ তাদের অস্ত্রগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত এবং ক্রেতারা সরাসরি বা ‘রিয়েল-টাইমে’ দেখতে পান। এসব গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে। গত এক দশকে ইসরায়েল ও গ্রিসের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। তবে সোমবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সমুদ্রসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী ও ন্যাটো-সহযোগী দেশ তুরস্কের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে গ্রিস। এর আগের চুক্তিগুলোর মধ্যে ছিল দক্ষিণ গ্রিসে একটি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট’-এর সাথে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। এছাড়া ইসরায়েলি রকেট লঞ্চার, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল এবং ড্রোন বিক্রির পরিকল্পনাও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। গ্রিস বলছে, পুরোনো প্রতিরক্ষা নীতিগুলো এখন সম্পূর্ণ অবাস্তব। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, নতুন স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে ড্রোনসহ নানাবিধ হুমকির বিরুদ্ধে মোকাবিলার জন্য তারা প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে। এই প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ‘ডেভিডস স্লিং’ ও ‘স্পাইডার’-এর মতো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি নতুন জাতীয় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। মূল চুক্তির পাশাপাশি রাফায়েল কোম্পানির ‘ড্রোন ডোম’ ব্যবস্থা বিক্রির জন্য ৩ কোটি ডলার (২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো) মূল্যের আরেকটি সম্পূরক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিকোস ডেনডিয়াস বলেন, আধুনিক সংঘাতের ধরন সামরিক প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রচলিত সমীকরণকে বদলে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, চালকবিহীন ব্যবস্থা (ড্রোন), সাইবার হুমকি, যুদ্ধের মিশ্র বা হাইব্রিড ধরন এবং বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের পারস্পরিক সংযোগের ফলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রতিরক্ষা কৌশলগুলো এখন সম্পূর্ণ অবাস্তব হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের অস্ত্র শিল্পের মোট বিক্রির অর্ধেকেরও বেশি আসে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মার্চ মাসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে ইসরায়েল প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তার মতে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নেতানিয়াহুর এই ‘হুমকির’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ফিদান বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও সেখানে সংঘটিত গণহত্যার পর নেতানিয়াহু ‘মানবতার শত্রুতে’ পরিণত হয়েছেন। তার নীতির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেতানিয়াহুর নীতির কারণে শুধু ফিলিস্তিনিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না; এর প্রভাব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। ফিদানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বেসামরিক হতাহত এবং মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে আসছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ফিলিস্তিনিদের ওপর গুরুতর অপরাধের অভিযোগ তুলে আসছেন। ফিদানের সর্বশেষ মন্তব্যে সেই অবস্থান আরও কঠোরভাবে উঠে এসেছে। তিনি মূলত নেতানিয়াহুর নীতিকে শুধু আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয় হিসেবে না দেখে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে গ্রিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামের ৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের এই প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তিটি দেশটির অন্যতম বৃহত্তম চুক্তি। এর আওতায় দেশটির প্রযুক্তি ব্যবহার করে এথেন্সের জন্য একটি বহু স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ইসরায়েল ও গ্রিসের কৌশলগত স্বার্থ অভিন্ন এবং তারা একই ধরনের আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমন এক সময়ে এই চুক্তি হলো যখন আধিপত্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণকারী পক্ষগুলো এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার এবং স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গাজা যুদ্ধ এবং হিজবুল্লাহ ও ইরানের সাথে সংঘাতের ঘটনায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও দেশটির অস্ত্র রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন দেশের সরকার ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকেছে কারণ তাদের অস্ত্রগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত এবং ক্রেতারা সরাসরি বা ‘রিয়েল-টাইমে’ দেখতে পান। এসব গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে। গত এক দশকে ইসরায়েল ও গ্রিসের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। তবে সোমবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সমুদ্রসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী ও ন্যাটো-সহযোগী দেশ তুরস্কের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে গ্রিস। এর আগের চুক্তিগুলোর মধ্যে ছিল দক্ষিণ গ্রিসে একটি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট’-এর সাথে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। এছাড়া ইসরায়েলি রকেট লঞ্চার, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল এবং ড্রোন বিক্রির পরিকল্পনাও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। গ্রিস বলছে, পুরোনো প্রতিরক্ষা নীতিগুলো এখন সম্পূর্ণ অবাস্তব। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, নতুন স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে ড্রোনসহ নানাবিধ হুমকির বিরুদ্ধে মোকাবিলার জন্য তারা প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে। এই প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ‘ডেভিডস স্লিং’ ও ‘স্পাইডার’-এর মতো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি নতুন জাতীয় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। মূল চুক্তির পাশাপাশি রাফায়েল কোম্পানির ‘ড্রোন ডোম’ ব্যবস্থা বিক্রির জন্য ৩ কোটি ডলার (২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো) মূল্যের আরেকটি সম্পূরক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিকোস ডেনডিয়াস বলেন, আধুনিক সংঘাতের ধরন সামরিক প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রচলিত সমীকরণকে বদলে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, চালকবিহীন ব্যবস্থা (ড্রোন), সাইবার হুমকি, যুদ্ধের মিশ্র বা হাইব্রিড ধরন এবং বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের পারস্পরিক সংযোগের ফলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রতিরক্ষা কৌশলগুলো এখন সম্পূর্ণ অবাস্তব হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের অস্ত্র শিল্পের মোট বিক্রির অর্ধেকেরও বেশি আসে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মার্চ মাসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে ইসরায়েল প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
ভোটেকোশী নদীতে ভেসে আসা বন্যার্তদের মরদেহ শনাক্তকরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম জটিলতা। পোখরা বিজ্ঞান স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত ১০০৩ নম্বর মরদেহটির দাবিদার হিসেবে একযোগে উপস্থিত হয়েছেন দুই পরিবার। এতে কোনটা কার স্বজন, তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে ডিএনএ পরীক্ষার শরণাপন্ন হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পোখরায় নিয়ে আসা মরদেহগুলোর মধ্যে অন্তত দুটি এমন ঘটনা রয়েছে, যেখানে একটি লাশের বিপরীতে একাধিক পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনের দাবি করছেন। নিহত ব্যক্তি গোপাল দাহাল না দামোদর বাসিয়াল, তা নির্ধারণে উভয় পরিবারের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মরদেহটি মর্গের হিমঘরে সংরক্ষণে রাখবে কর্তৃপক্ষ। কাস্কি জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র পরিদর্শক দীপক রিজাল জানান, বিপর্যয়ের মুহূর্তে তাড়াহুড়ো বা বিভ্রান্তির কারণে এক স্বজন অন্য কারও মরদেহ ভুল করে নিয়ে যেতে পারেন। সে কারণেই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেই এর সুরাহা করা হচ্ছে। একই ধরনের জটিলতার কারণে পুলিশ এ পর্যন্ত পাঁচটি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। গোর্খা, তানাহু, ধাদিং ও পূর্ব নওয়ালপরাসী অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা ১০২টি লাশ পোখরায় আনা হয়েছিল। রবিবার পর্যন্ত তার মধ্যে মাত্র ১৬টি পরিবার সনাক্ত করে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া গেছে। গোপাল দাহালের বোন মানজি থারু ও স্বজনেরা বার্দিয়া থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই হাসপাতালে এসেছেন। অন্যদিকে রূপন্দেহীর দামোদর বাসিয়ালের ভাই রাধে শ্যাম শর্মা বাসিয়ালও সেই একই মরদেহের চেহারার সাথে নিজের নিখোঁজ ভাইয়ের তিল, ঠোঁট ও মুখের গঠন হুবহু মিলে যাওয়ার দাবি করছেন। উভয় পক্ষই লাশটি তাদের বলে নিশ্চিত করলেও ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছেন। এদিকে মর্গে অতিরিক্ত মৃতদেহের চাপে ঠাঁই নেই অবস্থা তৈরি হয়েছে। পোখরা একাডেমির ৭২টি ফ্রিজিং চেম্বার থাকলেও এই মুহূর্তে সেখানে ৭৭টি মরদেহ রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমাগারের ভেতর অস্থায়ী একটি কনটেইনার বসিয়ে সেখানে ২৫টি মরদেহ স্থানান্তর করতে হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জেলা কর্মকর্তা কুমার সিং গুরুং জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী চিতওয়ানের মতো এখানে পচন ধরার ভয় নেই, কারণ পোখরায় দীর্ঘ মেয়াদে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এখনই নামপরিচয়হীন মরদেহ দাফনের কোনো তাড়া নেই। অন্তত আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করে স্বজনেরা না আসলে ‘অশনাক্ত ও দাবিহীন মরদেহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা ২০২৬’ অনুযায়ী এগুলো ট্যাগ নম্বর ও ভূ-অবস্থান নির্দিষ্ট করে সংরক্ষিত স্থানে দাফন করা হবে, যেন আগামী ১২ বছরের মধ্যে কোনো দাবিদার পাওয়া গেলে ডিএনএ মিলিয়ে মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তর করা সম্ভব হয়। সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর দেশটির ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে টানেলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে ৯৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বুধবার হিমালয় থেকে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের ভয়াবহ স্রোত নেমে এসে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এতে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালে এখনো ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন। উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রকাশ করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে টানেলের প্রবেশমুখে জমে থাকা কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা চলছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত বলেন, বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ টানেলের ভেতরে জমে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। রেসকিউ দলের সদস্য আশিস গুরুং জানান, টানেলের ভেতরের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে কাদার গভীরতা কোথাও বুক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। রোববার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রুস্বানার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল তার দল। টানেলের ভেতরে কাদার গভীরতা পরিমাপ করতে পর্বতারোহীরা কাঠের তক্তা ব্যবহার করেন। পরে সেগুলো দিয়েই অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়। নিরাপত্তার জন্য দড়ির ব্যবস্থাও করা হয়। গুরুং বলেন, তারা টানেলের প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে যেতে পেরেছিলেন। এরপর আরও ভেতরে মরদেহের মতো কিছু দেখা যাচ্ছিল। তবে জলবিদ্যুৎ কোম্পানি উদ্ধারকারী দলকে দেওয়া নকশায় জানিয়েছে, টানেলের ভেতরে এমন কিছু নিরাপদ এলাকা রয়েছে যেখানে আটকে পড়া ব্যক্তিরা আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন। গুরুং বলেন, তাদের জন্য ভেতরে একটি নিরাপদ জায়গা রয়েছে। তাদের কেউ কেউ হয়তো এখনো জীবিত আছেন। আমি আশা করছি, তারা বেঁচে আছেন। শুক্রবার থেকে খারাপ আবহাওয়া ও নতুন বন্যার আশঙ্কায় কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তে দুর্যোগের কারণে তৈরি একটি হ্রদ উপচে পড়ায় নতুন করে নদীগুলোতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সোমবার আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় উদ্ধারকাজ আবার গতি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন রাসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই বন্যাকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম ভূখণ্ড ও অব্যাহত ঝুঁকির মধ্যেও মানুষের জীবন বাঁচাতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। শাহ জানান, উদ্ধার অভিযানে প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর পাশাপাশি বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরাও কাজ করছেন। অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে আগে জানিয়েছিল নেপাল। তবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে মানুষ উদ্ধারে প্রতিবেশী ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিচ্ছে দেশটি। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, বেইজিং ২ হাজার একশর বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে অন্তত ২২ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করা হয়েছে। সম্মুখসারির উদ্ধারকারীদের কাছে বিমান থেকে সরঞ্জাম ও ত্রাণসামগ্রীও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে চীনা সেনারা জীবন শনাক্তকারী বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। রেড ক্রসের হিসাবে, এই দুর্যোগে নেপালে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। দুর্যোগটির সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা চলছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা থেকেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছে। তিব্বত মালভূমিতে এ ধরনের ‘ক্রায়োস্ফিয়ার দুর্যোগ’ নতুন ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি হয়ে উঠছে বলেও উল্লেখ করেছে তারা। তবে ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় তথ্য ভাগাভাগি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্সকে নেপালের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুতে সহযোগিতা জোরদার নিয়ে বৈঠকের পর হিমবাহের ঝুঁকি ও পানির স্তর সম্পর্কে চীন খুব বেশি তথ্য দেয়নি। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের তথ্যের ঘাটতি ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিতে বাধা তৈরি করতে পারে। এদিকে বন্যায় ভেসে যাওয়া মরদেহগুলোর অনেকগুলো এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হিমালয়ের বিভিন্ন এলাকায় সেগুলো অগভীর কবরে দাফন করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।