যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয়ে থানায় গিয়ে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। সন্দেহজনক আচরণে পুলিশ তার পরিচয় যাচাই করে ভুয়া প্রমাণ পেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী থানায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার সৈয়দ জিয়া পির মোহাম্মদ আলী যশোরের কোতোয়ালি থানার বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি এক মধ্যবয়সী নারীকে সঙ্গে নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামানের কক্ষে হাজির হন। তিনি নিজেকে যশোর জেলার সহকারী জজ পরিচয় দিয়ে পুলিশি পাহারায় রাতযাপনের জন্য একটি রেস্ট হাউসের কক্ষ এবং যশোরগামী ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা চান। তার কথাবার্তা ও আচরণে অসঙ্গতি দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় যাচাই করা হলে জানা যায়, তিনি কোনো বিচারক নন। ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তিনি থানায় এসেছিলেন। ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা নারী পরিস্থিতি বুঝে সরে যান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি আগে ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তিনি চাকরি হারান। ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান বলেন, ভুয়া বিচারক পরিচয়ে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে গণমাধ্যম। ইসরায়েলে হওয়া বুধবার (১ এপ্রিল) সকালের এ হামলায় ২০টি পৃথক স্থানে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যনেল টুয়েলভের প্রতিবেদনের বরাতে আলজাজিরা জানায়, ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্থানে বিকট শব্দে শক্তিশালী বিস্ফোরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ইরানের এই হামলার পরপরই ইসরায়েলের গুশদান, শ্যারন ও সামারিয়া অঞ্চলে বিমান হামলার সাইরেন ও সতর্কসংকেত বাজানো হয়। এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরান ও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানসহ বিভিন্ন জায়গায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আলজাজিরার খবর জানায়, ইসফাহানের পাহাড়ি এলাকায় ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা বর্ষণ করা হয়েছে, যার ফলে এক মাসের এই যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ ও আগুনের আভা দেখা গেছে সেখানকার আকাশে। তেহরানে দফায় দফায় হামলার কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রাজধানী-সংলগ্ন কারাজ শহরের বড় ওষুধ কারখানা তৌফিক দারু লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এতে ক্যানসার ও এমএস রোগের ওষুধ তৈরির কাঁচামাল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন তেল কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের (অপারেশন অনুবিভাগ) যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। বুধবার (১ এপ্রিল) এ তথ্য জানান তিনি। মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি তেল কেনার প্রস্তাব পাচ্ছি। কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার প্রস্তাব পেয়েছি। এর পুরোটাই ইএন৫৯০-১০ পিপিএম সালফার মানমাত্রার ডিজেল। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এ তেল কেনা হবে। তিনি বলেন, প্রতি ব্যারেল ডিজেল ৭৬ ডলারে কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সস্তায় পেলে কিনতে অসুবিধা নেই। সচিব বলেন, শুধু প্রস্তাব পেলেই হবে না। প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করে সরবরাহ নিশ্চিতের বিষয় আছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ এলাকায় গুলি করে নামানো একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে পড়ে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মানববিহীন আকাশযান (ড্রোন) শনাক্ত করে সেটি সফলভাবে ভূপাতিত করে। পরে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ ফুজাইরাহর আল-রিফা এলাকায় একটি খামারে পড়ে। এ সময় সেখানে থাকা এক বাংলাদেশি শ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর জরুরি সেবা দল ও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় কাজ শুরু করেছে এবং পুরো পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ প্রদেশে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াম এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর বরাত অনুযায়ী, বুধবার (১ এপ্রিল) ফুজাইরাহর আল রিফা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুজাইরাহর একটি কৃষিখামারের ওপর দিয়ে উড়ন্ত একটি ড্রোনকে শনাক্ত করে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। পরে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। তবে ড্রোনটি ধ্বংস করার সময় এর অংশবিশেষ নিচে পড়ে খামারে কর্মরত এক বাংলাদেশি শ্রমিকের ওপর আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত বাংলাদেশির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি গুজব বা অপপ্রচার থেকে বিরত থেকে শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের মক্কা প্রদেশ কর্তৃপক্ষ এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং তা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য ধারণ ও প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সম্প্রতি মক্কার সরকারি যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এই সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রম বা ড্রোন/ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, হামলার স্থান বা ধ্বংসাবশেষের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এ ধরনের তথ্য শত্রুপক্ষকে সহায়তা করতে পারে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের সচেতনতার জন্য নির্দেশিকাটি আরবি ছাড়াও বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ইন্দোনেশীয় ও ফিলিপিনো ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অজ্ঞতাবশত কেউ আইন ভঙ্গের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়েন। স্থানীয় আইন ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এতে পাইলট অল্প আঘাত পেয়েছেন। মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার লাস ভেগাসের উত্তরে নেলিস এয়ার ফোর্স বেসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এটি ইন্ডিয়ান স্প্রিংস এলাকার কাছে নেভাদা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জের ভেতরে পড়ে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করেন। পরে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
ওমানের ইবরি প্রদেশ-এ রায়হান রাজেব (২৭) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তার সন্ধানে স্থানীয় জনগণ ও প্রবাসীদের সহযোগিতা চেয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রয়্যাল ওমান পুলিশ (আরওপি)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ আল শাহোম এলাকায় তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। ওই দিন নিজ বাসস্থান থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ থাকার ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় তাকে দ্রুত খুঁজে বের করতে ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে ওমানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা জোরদার করেছে। নিখোঁজ রায়হান রাজেবের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুত জানাতে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য রয়্যাল ওমান পুলিশ-এর অপারেশন সেন্টারের ৯৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে অথবা নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে।
সামরিক শক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে পারছে না। এর মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে ইরানের কিছু কৌশলগত শক্তি, যা পুরো যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিচ্ছে। ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ইরান এই পথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে গেলেই তা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে। এ কারণে যুদ্ধ শুধু সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ইরান খুব কম সামরিক শক্তি ব্যবহার করেও বড় প্রভাব ফেলতে পারছে। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েই তারা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে দ্রুত বিজয়ের আশা করলেও এখন তারা কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণমাত্রার হামলা চালালে ইরান পাল্টা আঘাত করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। আরেকটি বড় কারণ হলো রাজনৈতিক ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থলযুদ্ধে জড়ায়, তাহলে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়বে। এতে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইরানের আরেকটি কৌশলগত শক্তি হলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ। এই দ্বীপ দখল করা বা ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, এতে যুদ্ধ শেষ হবে না। বরং ইরান আরও কঠোরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে। এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা ও মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। সূত্র : আল-জাজিরা
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এতে পাইলট অল্প আঘাত পেয়েছেন। মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার লাস ভেগাসের উত্তরে নেলিস এয়ার ফোর্স বেসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এটি ইন্ডিয়ান স্প্রিংস এলাকার কাছে নেভাদা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জের ভেতরে পড়ে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করেন। পরে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে নতুন করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেনি, তারা যেন নিজেদের জ্বালানির ব্যবস্থা নিজেরাই করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প পরামর্শ দেন, জ্বালানি সংকটে পড়া দেশগুলো চাইলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে পারে। পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রয়োজনে এসব দেশকে হরমুজ প্রণালিতে গিয়ে নিজেরাই তেল সংগ্রহ করতে হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় অন্য দেশগুলোর পাশে দাঁড়াবে না। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দেশগুলোকে নিজ দায়িত্বে এগোতে হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সামনে আসছে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ছে এবং ইরানের সক্ষমতা কমছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে বাড়ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকর্তা। সূত্র : শাফাক নিউজ
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে ট্রাম্প বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট। অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ভাষণটি দেবেন তিনি। মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে লেভেট লিখেছেন, কাল রাতে ইস্টার্ন টাইম, ইরান ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে আগামীকাল রাত ৯টায় (ইস্টার্ন টাইম) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে তাদের হামলা শেষ হবে। তিনি ওই সময় জানান, ইরানিদের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য চুক্তি হতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এরপর ইরানও পালটা হামলা শুরু করে। ট্রাম্প প্রথমে জানিয়েছিলেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করবেন। তবে এক মাস পেরিয়ে গেলেও; এখনো যুদ্ধ শেষ হয়নি। উলটো পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যা এখনো বন্ধই আছে। দেশটি শুধু তাদের মিত্র ও বন্ধু দেশকে সেখান দিয়ে জাহাজ পার করতে দিচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ঠিক করেছে হরমুজ খোলাকে। যা যুদ্ধের আগে খোলাই ছিল। সূত্র: সিএনএন
বিশ্বজুড়ে আকাশপথের যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোর ওপর নেমে এসেছে এক অভূতপূর্ব দুর্যোগ। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও বিমান চলাচলের জ্বালানি বা ‘জেট ফুয়েলে’র দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক এভিয়েশন শিল্প এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলো। একই সঙ্গে আকাশচুম্বী বিমান ভাড়া এবং আনুষঙ্গিক ফি বৃদ্ধির ফলে সাধারণ যাত্রীদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে আকাশপথের ভ্রমণ। বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে এভিয়েশন খাতের জন্য একটি ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ বা চরম সংকটকাল হিসেবে অভিহিত করছেন। জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম ও সরবরাহ সংকট দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে জেট ফুয়েলের দাম ৭৪২ ডলার থেকে বেড়ে ১,৭১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেল ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু পথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও এভিয়েশন অ্যানালিস্ট অ্যালেক্স ম্যাকিরাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সতর্ক করে বলেছেন, প্রধান ইউরোপীয় বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে জেট ফুয়েলের মারাত্মক সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, অনেক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিমান সংস্থাগুলোকে ‘জ্বালানি নেই’ (No Fuel Available) এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে। এই সংকট কেবল ইউরোপে সীমাবদ্ধ নেই; এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোও এখন বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক দীর্ঘ পাল্লার ফ্লাইটকে গন্তব্যে পৌঁছানোর পথে অন্য কোনো দেশে যাত্রাবিরতি বা ‘ফুয়েল স্টপ’ নিতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ— উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক ও পরিসংখ্যান এভিয়েশন অ্যানালিটিক্স কোম্পানি ‘সিরিয়াম’-এর তথ্যমতে, গত সোমবার নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে প্রতি ২০টির একটি বাতিল করা হয়েছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বাতিলের এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। গত সোমবার বিশ্বজুড়ে নির্ধারিত ১ লাখ ৪ হাজার ৬১৮টি ফ্লাইটের মধ্যে ৭ শতাংশ বা ৭,০৪৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গত বছর একই দিনে বাতিলের হার ছিল ৪.৭ শতাংশ। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে উত্তর আমেরিকায়। সেখানে গত সোমবার ১৪.৬ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা গত বছর ছিল মাত্র ৪.৪ শতাংশ। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রথম বড় মার্কিন সংস্থা হিসেবে তাদের মোট সক্ষমতার ৫ শতাংশ ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও একই চিত্র এয়ার নিউজিল্যান্ড মে মাসের শুরু পর্যন্ত ১,১০০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এসএএস (স্ক্যান্ডিনেভিয়ান গ্রুপ) এপ্রিলে অন্তত ১,০০০টি ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স জ্বালানির দাম প্রতি ব্যারেল ১৬০-২০০ ডলারে পৌঁছালে মাসে ১০ থেকে ২০ শতাংশ ফ্লাইট কমানোর কথা জানিয়েছে। বিমান ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি জ্বালানির বাড়তি খরচ সমন্বয় করতে গিয়ে এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের পকেট কাটতে শুরু করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স-এর প্রধান নির্বাহী স্কট কার্বি ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, লোকসান এড়াতে বিমান ভাড়া অন্তত ২০ শতাংশ বাড়াতে হবে। অনেক রুটে গড় বিমান ভাড়া ইতোমধ্যে ৪৬৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানি খরচ সামলাতে না পেরে গত সোমবার বিশ্বজুড়ে নির্ধারিত ফ্লাইটের ৭ শতাংশ বা প্রায় ৭,০৪৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উত্তর আমেরিকায় এই বাতিলের হার গত বছরের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে। এয়ার নিউজিল্যান্ড ও এসএএস (SAS)-এর মতো বড় সংস্থাগুলো হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে। অনেক ক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছাতে মাঝপথে বাড়তি ‘ফুয়েল স্টপ’ নিতে হচ্ছে, যা ভ্রমণের সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে জ্বালানি কর বা ‘ফুয়েল সারচার্জ’ এর পাশাপাশি অন্যান্য আনুষঙ্গিক ফি-ও বাড়ানো হচ্ছে। জেটব্লু (JetBlue) তাদের ব্যাগেজ ফি বা মালামাল বহনের খরচ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। একে তারা ‘পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। থ্রিনফটি ট্রাভেলার (Thrifty Traveler)-এর নির্বাহী সম্পাদক কাইল পটার বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো সাধারণত একসাথে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তাই অদূর ভবিষ্যতে অন্যান্য সংস্থাও ব্যাগেজ ফি বা অন্যান্য অতিরিক্ত সেবার চার্জ বাড়িয়ে দেবে। মজার বিষয় হলো, টিকিটের দামের ওপর সরকারি শুল্ক থাকলেও এসব ফি’র ওপর শুল্ক দিতে হয় না, ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য এটি লাভের পথ প্রশস্ত করে। ‘ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট’ ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ইউরোনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অলিম্পিক এয়ারওয়েজের সাবেক প্রধান রিগাস ডোগানিস মনে করেন, এয়ারলাইন্সগুলো এখন অস্তিত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে চাহিদা ধরে রাখতে ভাড়া কমানোর চাপ, অন্যদিকে উচ্চ জ্বালানি খরচের কারণে ভাড়া বাড়ানোর বাধ্যবাধকতা— সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী সংস্থা ‘কোরিয়ান এয়ার’ ১ এপ্রিল থেকে ‘জরুরি ব্যবস্থাপনা’ বা ‘এমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট’ কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান উ কি-হং এক অভ্যন্তরীণ নোটিশে জানান, এটি কেবল সাময়িক খরচ কমানোর চেষ্টা নয়, বরং কোম্পানির মূল ভিত্তি মজবুত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার অংশ। ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণাম এখন বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে প্রধান শেয়ার বাজারগুলোর সূচকও প্রায় ১০ শতাংশ পড়ে গেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর তথ্যমতে, যুক্তরাজ্য তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় ব্রিটেনের দিকে আসা কোনো তেলের জাহাজ বর্তমানে সাগরে দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই সংকট পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। নিজ ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে তিনি যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ যারা হরমুজ প্রণালীর কারণে জ্বালানি পাচ্ছে না, তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এক, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তেল কিনুন, আমাদের প্রচুর আছে। দুই, একটু সাহস সঞ্চয় করে প্রণালীতে গিয়ে তা দখল (TAKE IT) করুন।’ তার এই বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রমোদতরীতেও বাড়তি চাপের আঁচ জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব কেবল আকাশে সীমাবদ্ধ নেই, তা সমুদ্রেও ছড়িয়েছে। স্টারড্রিম ক্রুজ জানিয়েছে, ২০ মার্চ থেকে যারা নতুন বুকিং দিচ্ছেন, তাদের প্রতি রাতের জন্য জনপ্রতি ১৫ ডলার বাড়তি সারচার্জ দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, জ্বালানির দাম কমলে এই বাড়তি খরচ কমিয়ে আনা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিত্তবানদের ওপর নির্ভরতা ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে টিকিট বিক্রির হার রেকর্ড উচ্চতায় ছিল। এর কারণ হিসেবে কাইল পটার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিত্তবান ভ্রমণপিপাসুদের সংখ্যা এবং সামর্থ্য আগের চেয়ে অনেক বেশি। এয়ারলাইন্সগুলো এখন তাদের ওপরই ভরসা করছে, কারণ উচ্চ ফি বা বাড়তি ভাড়া তাদের ভ্রমণে খুব একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তবে, সাধারণ ও মধ্যবিত্ত যাত্রীদের জন্য আকাশপথের ভ্রমণ এখন বিলাসবহুল স্বপ্নে পরিণত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৭৫ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। যদি এমনটি হয়, তবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরেই থাকতে পারে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম এবং লুফথানসা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও পঙ্গু করে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছে, সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাত এখন এক গভীর খাদের কিনারায়। একদিকে জ্বালানির তীব্র সংকট ও আকাশচুম্বী দাম, অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা— সব মিলিয়ে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। যতক্ষণ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামছে না এবং তেলের সরবরাহ পথগুলো পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে না, ততক্ষণ বিমান যাত্রীদের এই চড়া মূল্য দিয়ে এবং ফ্লাইটের অনিশ্চয়তা নিয়েই পথ চলতে হবে। তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, ইউরোনিউজ, এনবিসি নিউজ, সিরিয়াম, রয়টার্স এবং ব্লুমবার্গ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।