সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে নেমে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় পরিত্যক্ত টয়লেটের কূপে পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।   শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার জলই গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   মৃতরা হলেন জলই গ্রামের বাবুল হাদিমা (৩৫), তার ছেলে নেইমার ম্রং (১২), একই এলাকার গ্যাব্রিয়েল নকরেক (৪৫) এবং প্রতিবেশী রতন নকরেক (২৫)। তারা সবাই আদিবাসী জনগোষ্ঠী।   ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিত্যক্ত ওই কূপে একটি ছাগলের বাচ্চা পড়ে যায়। সেটি উদ্ধার করতে প্রথমে কূপে নামে ১২ বছর বয়সী শিশু নেইমার। সে দীর্ঘক্ষণ উঠে না আসায় তাকে বাঁচাতে বাবা বাবুল হাদিমা কূপে নামেন।   পরবর্তীতে তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পর্যায়ক্রমে এলাকার জামাতা গ্যাব্রিয়েল এবং প্রতিবেশী রতনও কূপে নামেন। চারজনের কেউই ফিরে না আসায় স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কূপ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।   মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার লাবু তরফদার বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ৮ ফুট গভীর ওই কূপে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়েছিল। ফলে অক্সিজেনের অভাবে দম আটকে তাদের মৃত্যু হয়েছে।’   ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’

১ মিনিট আগে
সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোন শাক কেন রাখবেন?

বাঙালির খাবারের পাত থেকে শাক যেন হারিয়ে যাওয়ার নয়। ভাতের সঙ্গে এক মুঠো শাক শুধু স্বাদই বাড়ায় না, শরীরের জন্যও বয়ে আনে নানা উপকার। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির রান্নাঘরে থাকা বিভিন্ন শাক এখনো স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।   লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, কচুশাক কিংবা পালংশাক—প্রতিটি শাকের রয়েছে আলাদা পুষ্টিগুণ। কারও মধ্যে রয়েছে রক্ত বাড়ানোর উপাদান, কেউ আবার হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। জেনে নেওয়া যাক কোন শাকে কী উপকার।   পুঁই শাক: হজমে সহায়ক পুঁই শাকে রয়েছে প্রচুর পানি ও আঁশ। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড ও প্রোটিন রয়েছে। শাকভাজা, চচ্চড়ি বা সবজির সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়।   হেলেঞ্চা শাক: শরীর পরিষ্কারে উপকারী   হেলেঞ্চা শাক রক্তের দূষিত পদার্থ দূর করতে এবং যকৃতের সুস্থতায় সহায়ক বলে পরিচিত। এটি বদহজম, বুকজ্বালা, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা সমস্যায় উপকারী হতে পারে। ভাজি বা বড়া করে খাওয়া যায় এই শাক।   সরিষা শাক: রোগ প্রতিরোধে সহায়ক সরিষা শাকে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা সালফার শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে এবং যকৃত ভালো রাখতে সহায়তা করে।   কচু শাক: রক্ত ও চোখের জন্য ভালো   কচুশাকে রয়েছে প্রচুর আয়রন, ভিটামিন এ ও ক্যালশিয়াম। এটি রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে উপকারী। নারকেল, ছোলা বা মাছের মাথা দিয়ে রান্না করা যায় এই শাক।   কলমি শাক: সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক কলমি শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালশিয়ামসহ নানা পুষ্টি উপাদান। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, হজমে সাহায্য করতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।   লাল শাক: আয়রনের ভাণ্ডার   লাল শাকে প্রচুর আয়রন, ফলেট, ক্যালশিয়াম এবং ভিটামিন এ ও সি রয়েছে। রক্তস্বল্পতা দূর করতে এটি উপকারী। ভাজি বা ডালের সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়।   মেথি শাক: ডায়াবেটিসে উপকারী মেথি শাকে রয়েছে আঁশ, আয়রন, ক্যালশিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে অনেকের কাছে জনপ্রিয়। অল্প তেলে রান্না করে খাওয়া ভালো।   পালং শাক: শরীরের শক্তি বাড়ায় পালং শাকে রয়েছে আয়রন, ফলেট, ভিটামিন এ ও সি। বিশেষ করে রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন মানুষের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।   ঢেঁকি শাক: হৃদযন্ত্র ও চোখের যত্নে   ঢেঁকি শাকে রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন এ ও সি। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।   মুলা শাক: রোগ প্রতিরোধে সহায়ক মুলা শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, আঁশ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।   কুমড়ো শাক: ত্বক ও চোখের জন্য ভালো কুমড়ো শাকে থাকা ভিটামিন এ ও সি চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে এবং ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত শক্ত রাখে।   লাউ শাক: হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক   লাউ শাকে রয়েছে ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে এটি হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী হতে পারে।   পাট শাক: হজমে সাহায্য করে পাট শাকে রয়েছে প্রচুর আঁশ, ভিটামিন সি ও আয়রন। এটি হজমশক্তি বাড়াতে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।   শাক শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, বরং শরীরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। তবে যেকোনো খাবারের মতোই পরিমাণ বুঝে এবং পরিষ্কারভাবে রান্না করে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। নিয়মিত খাবারের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাক রাখলে শরীর পেতে পারে নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি।  

৩ মিনিট আগে
শেয়ারবাজারে আম্বানির মেগা ধামাকা

ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন জিও প্ল্যাটফর্মস শেয়ারবাজারে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।   শুক্রবার (১৯ জুন) রিলায়েন্সের বার্ষিক সাধারণ সভায় আম্বানি জানান, পরিচালনা পর্ষদ এই প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) খসড়া অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে বাজার থেকে প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে কোম্পানিটির, যা ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আইপিও হতে যাচ্ছে।   ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা ৫০ কোটিরও বেশি গ্রাহকের ‘জিও’ বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম টেলিকম অপারেটর। মেটা ও স্পেসএক্সের মতো বৈশ্বিক জায়ান্টদের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে থাকা এই কোম্পানিটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১৮ হাজার কোটি ডলার। টেলিকমের বাইরে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল অবকাঠামোতেও বড় বিনিয়োগ করছে তারা।   ২০০৬ সালের পর রিলায়েন্স গ্রুপের এটিই প্রথম বড় কোনো কোম্পানির তালিকাভুক্তি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মন্দার পর জিও এবং ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) এই মেগা আইপিও দুটি সফল হলে দেশটির শেয়ারবাজারে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে।   মুকেশ আম্বানি বলেন, জিওর এই তালিকাভুক্তি থেকে বিশ্ব দেখবে, ভারত বৈশ্বিক মানের প্রযুক্তি কোম্পানি গড়ে তুলতে পারে।

৪ মিনিট আগে
সিলেটে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ৯ জন গ্রে ফ তা র

সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ কম্বল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাসসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।     আটককৃতরা হলেন গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার টেক কায়োরা এলাকার সামছুল হকের ছেলে মো. মহিন উদ্দিন, ১৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিন সালনা মিয়া বাড়ীর মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. রাকিব আহমদ, ১৯নং ওয়ার্ডের সালনা পূর্ব বাজার (মন্ত্রীর বাড়ী) এলাকার মো. মুজিবুরের ছেলে মো. অনিক (২৬), টেক কায়োরা এলাকার মো. জাহেদ হোসেনের ছেলে মো. রিপন হোসেন (২৫), টেক কায়োরা পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মো. চাঁন মিয়ার ছেলে মো. দুলাল হোসেন (৪৩) ও মো. ওয়াসিম (৩২), ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও টাঙ্গাবর এলাকার করিম শেখের ছেলে ড্রাইভার মো. লিটন শেখ (৪২), টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার সারাংপুর (ম্যাজিষ্ট্রেট আঃ হামিদের বাড়ীর পাশে) মো. লিয়াকত আলীর ছেলে হেলপার মো. আওয়াল মিয়া (২২), ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার কাটাখালি মল্লিকবাড়ী এলাকার মৃত আব্দুস ছালাম মল্লিমের ছেলে হেলপার আহমেদ মল্লিক (২১)।     পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে শাহপরাণ (রহ.) থানার আওতাধীন সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বটেশ্বর জালালাবাদ বোর্ড স্কুল সংলগ্ন এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় বাসের ভেতর থেকে বিভিন্ন প্রিন্টের ১৫২ পিস ভারতীয় কম্বল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত কম্বলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসময় সময় অবৈধ পণ্য পরিবহনের অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে কম্বল বহনকারী বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।     সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন,‘উক্ত ঘটনার বিষয়ে শাহপরাণ (রহঃ) থানার মামলা নং-২০ , তাং-১৯/০৬/২০২৬খ্রি. ধারা- স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট, ১৯৭৪ এর ২৫বি (১) (বি)/ ২৫ডি রুজু হয়। আসামীদের‘কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

৯ মিনিট আগে
রোববার মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, এরপর চীন সফর
জাতীয়
রোববার মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, এরপর চীন সফর

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। রোববার (২১ জুন) দুই দেশ মিলিয়ে মোট ছয় দিনের সফরে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। সফরের প্রথমাংশে মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। আগামী ২৩ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী চীনে অবস্থান করবেন। দুই দেশে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার সফর থেকে বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে বড় কোনো সুখবর আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সফর সংশ্লিষ্টরা।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হতে পারে। রোববারই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হবে, যার মধ্যে অন্যতম আলোচনার বিষয় হিসেবে থাকবে হালাল পণ্য রপ্তানি।   মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, “বৈঠকে মূল আলোচনায় থাকবে শ্রমবাজার। নানা কারণে আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারটি স্থবির হয়ে আছে। এই বৈঠক থেকে শ্রমবাজার সচল করার বিষয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।” এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। সে সময় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক এবং তিনটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল।   দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে পুনরায় চালুর বিষয়ে বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন প্রবাসীরা। প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও মালয়েশিয়া বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক কাজী সালাহউদ্দিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখো বাংলাদেশির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।” প্রবাসীদের বিশ্বাস—শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, সিন্ডিকেটমুক্ত কর্মী নিয়োগ, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতা এবং প্রবাসীবান্ধব নীতিমালার মাধ্যমে সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।   মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো একটি স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থা। কুয়ালালামপুরে কর্মরত প্রবাসী জাহিদ বলেন, “দুই দেশের সরকার যদি সরাসরি ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করে, তাহলে সাধারণ শ্রমিকরা কম খরচে মালয়েশিয়ায় আসার সুযোগ পাবেন।” আরেক প্রবাসী জাকারিয়া যোগ করেন, “কলিং ভিসা চালু হলেও যদি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হবে না। তাই জবাবদিহিমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।”   বর্তমানে মালয়েশিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত অবস্থায় রয়েছেন। কেউ নিয়োগকর্তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কর্মসংস্থানের সংকটে বৈধ অবস্থান হারিয়েছেন। কুয়ালালামপুরে বসবাসরত এক শ্রমিক বলেন, “বৈধ হওয়ার সুযোগ পেলে আমরা আরও বেশি আয় করতে পারবো এবং দেশে বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবো। সফরে এ বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হলে হাজারো পরিবার উপকৃত হবে।” প্রবাসীদের আশা, দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে নতুন কোনো বৈধকরণ কর্মসূচি চালু হলে তা অনিয়মিত কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে।   মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তারা উচ্চ শিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষার্থী বিনিময় এবং স্কলারশিপ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। ইসলামিক ইউনিভার্সিটির গবেষক আলমগীর চৌধুরী আকাশ বলেন, “মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র। আমরা চাই দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হোক।”   অন্যদিকে, ব্যবসায়ী মহল আশা করছে, সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতি আসবে। হালাল শিল্প, প্রযুক্তি, কৃষি ও উৎপাদন খাতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।   মালয়েশিয়া সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। এই সফরকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক আগামীতে কোনদিকে এগোবে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা জানা যাবে আসন্ন এই সফরে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২০, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষাকে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটিকে উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।   শুক্রবার (১৯ জুন) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মূলত শিক্ষিত তরুণ সমাজের ওপর নির্ভর করছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে।   তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ জনসংখ্যা সংকটের মুখোমুখি হলেও বাংলাদেশ তার বৃহৎ জনসংখ্যাকে উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে। সঠিক শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ বৈশ্বিক পরিসরে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।   অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম রাশিদুল আলম শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষার শপথ পাঠ করান।   এ সময় উপ-উপাচার্যবৃন্দ, কোষাধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানজুড়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়ে স্বাগত জানানো হয়।

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথে দূরত্ব কমবে প্রায় ৮০ কিলোমিটার, সময় সাশ্রয় হবে ২ ঘণ্টা

ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে দীর্ঘদিনের আলোচিত ঢাকা–কুমিল্লা কর্ড লাইন প্রকল্প আবারও আলোচনায় এসেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই প্রধান শহরের মধ্যে রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার কমে যাবে।   ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রকল্পটির অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে ৫–৬ ঘণ্টার যাত্রা সময় কমে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নেমে আসবে।   বর্তমানে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথ প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যেখানে ট্রেনগুলো কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব ও নরসিংদী হয়ে ঘুরপথে চলাচল করে। অন্যদিকে সড়কপথের দূরত্ব প্রায় ২৪৮ কিলোমিটার হওয়ায় আধুনিক মহাসড়কের কারণে অনেক সময় ট্রেনের তুলনায় সড়কপথে যাত্রা দ্রুত হয়ে যায়।   নতুন কর্ড লাইন প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জের শ্যামপুর থেকে কুমিল্লার লালমাই পর্যন্ত একটি সম্ভাব্য রুট প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে।   সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথকে আরও সরাসরি ও দ্রুতগামী করার পাশাপাশি এটি দেশের লজিস্টিকস ব্যবস্থাকেও আধুনিক করবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে পণ্য পরিবহন সহজ হবে।   রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই কর্ড লাইন ব্যবহার করে পণ্যবাহী ট্রেনগুলো সরাসরি ধীরাশ্রম আইসিডির সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে, যা দেশের আমদানি–রপ্তানি ব্যবস্থায় গতি আনবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করবে।   বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (উন্নয়ন) মামুনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু যাত্রী পরিবহনই নয়, দেশের বৃহৎ বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হবে।   সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, আগামী বছরের জুনের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করা হবে।

ছবি: সংগৃহীত
দেশের ৯ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   শনিবার (২০ জুন) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।   এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।   অন্যদিকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য দেওয়া স্বল্পমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।   আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।   আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। গতকাল রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।   এ ছাড়া আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি।

ছবি : সংগৃহীত
ড. ইউনূস আমাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেননি: মাহফুজ আলম

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে কখনো ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেননি বলে দাবি করেছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তার ভাষায়, ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি সাধারণত নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়, অথচ ড. ইউনূস তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন।   সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।   তিনি বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে নিয়ে দুটি কথা বলেছিলেন, কিন্তু কোথাও “মাস্টারমাইন্ড” শব্দটি ব্যবহার করেননি। মাস্টারমাইন্ড একটি বাজে শব্দ। আপনি বলবেন “হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড”? মাস্টারমাইন্ড সবসময়ই নেতিবাচক অর্থ বহন করে।’   মাহফুজ আলম দাবি করেন, তাকে নিয়ে ড. ইউনূস এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমের দেওয়া বক্তব্যেও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ছিল না।   তার ভাষায়, ‘স্যার খুবই স্পষ্টভাবে “ব্রেইনস বিহাইন্ড” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। পশ্চিমা রাজনৈতিক আলোচনা বা বিতর্কে এ ধরনের শব্দগুচ্ছ স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হয়।’   তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ফ্রেম করা হয়েছে।’   কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, ‘আমরা কি কখনো বলি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান একটি ষড়যন্ত্র ছিল? এ কথা আইয়ুব খান বলেছেন, ইয়াহিয়ার শাসনামল বলেছে, পাকিস্তানের সামরিক জান্তা বলেছে। আজকে একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।’   প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের ফাঁকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ লিডারস স্টেজ’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।   নিউইয়র্কে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের বন্ধু বিল ক্লিনটনের সঙ্গে আলাপকালে সফরসঙ্গী কয়েকজনকে পরিচয় করিয়ে দেন ড. ইউনূস। সে সময় কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মাহফুজ আলমকে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় গতি: সুইজারল্যান্ডে ট্রাম্পের বিশেষ দূত উইটকফ
আক্তারুজ্জামান জুন ২০, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে শান্তি আলোচনার প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে সুইজারল্যান্ডে। এ আলোচনায় অংশ নিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দেশটিতে সফর করছেন।   প্রথমে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাঁর সফর স্থগিত করা হয়। ফলে আলোচনার নেতৃত্বে থাকছেন উইটকফ।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, উইটকফ ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে প্রথম দফার আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে গেছেন। এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এদিকে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার খবর আলোচনার পরিবেশ কিছুটা সহজ করেছে। এর আগে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পাল্টা সহিংসতার কারণে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ইরানের পক্ষ থেকে সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ রাখা।   বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় প্রাথমিক বাধা কিছুটা দূর হয়েছে।   এর আগে লেবাননে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় আলোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।   পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে চাপ দিয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল বিকেল থেকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহায়তায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও কিছু এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত বুধবার একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়, যার ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক চুক্তির আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটেনে মুখোমুখি ট্রেন দুর্ঘটনা: চালক নিহত, আহত অন্তত ৮৯
আক্তারুজ্জামান জুন ২০, ২০২৬

যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড শহরের কাছে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে এক চালক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৮৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ।   শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইস্ট ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন, ২২ জন গুরুতর আহত এবং ৫৬ জন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।   রেল ট্র্যাকিং সূত্রে জানা গেছে, ট্রেন দুটি দক্ষিণ লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বিকেল প্রায় ৫টা ১৫ মিনিটে বেডফোর্ডের উপকণ্ঠে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।   দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ছবি : সংগৃহীত
শেষ মুহূর্তে থমকে গেল আলোচনা: যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত শান্তি আলোচনা আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফরের পরিকল্পনা হঠাৎ বাদ দেওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।   গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ আলোচনার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা কখনোই সহজ বা আগে থেকে অনুমান করার মতো ছিল না।’ তবে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ামাত্রই জেডি ভ্যান্স ও মার্কিন প্রতিনিধিদল রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক নামের একটি পার্বত্য অবকাশকেন্দ্রে এ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। এখন আলোচনা যে হচ্ছে না, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা নিশ্চিত করলেও এর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি।   এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অবশ্য গত বুধবার ১৪ দফার একটি প্রাথমিক চুক্তির (সমঝোতা স্মারক) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানোর পর ইরান জানিয়েছিল, তারা কারিগরি আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত।   তবে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের বৃহস্পতিবারের ঘোষণার (সফর স্থগিত) আগেই ইরান শর্ত দিয়েছিল যে আলোচনার আগে অন্তর্বর্তী চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডের ওই অবকাশ কেন্দ্রে যাবে কি না, সে বিষয়েও আগে থেকে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তির একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, উভয় দেশের প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে চুক্তিতে সই করায় এমন কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাজার–ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।   ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত এই শান্তি আলোচনা থেকে বাদ পড়া ইসরায়েল নিজেদের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। লেবাননে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের এ অবস্থানের কারণেও চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের ভেতরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্যও এ চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই এ যুদ্ধ পছন্দ করছিলেন না। তাই কংগ্রেস সদস্যদের আশঙ্কা, যুদ্ধ থামানোর জন্য ট্রাম্প ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়ে ফেলেছেন।   নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তিনি শুধু ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ মাধ্যমে এ যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন। কিন্তু ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্টো দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি সমমূল্যের আটকে থাকা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি বলেছেন, ট্রাম্প ‘হতাশা’ থেকে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আগামী দিনের আলোচনা খুব একটা সহজ হবে না। অথচ এ পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করাই ছিল যুদ্ধ শুরু করার পেছনে ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অজুহাত।   এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘আমেরিকান পক্ষ যদি অতিরিক্ত কোনো দাবি করে, তবে আমরা তা মেনে নেব না।’   চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দুই দেশের প্রতিনিধিদল ৬০ দিন সময় পাবে। তবে দুই পক্ষ সম্মত হলে এ সময়সীমা বাড়ানো যাবে। এ ছাড়া ইরানের জন্য তিন হাজার কোটি ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল এবং অন্যান্য আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি নিয়েও চেষ্টা চালাবে।   এদিকে যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ও এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ দেশটির আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, যুদ্ধের খরচ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিল মেটাতে তাদের আরও আট হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন।   প্রায় চার মাস আগে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তখন ট্রাম্প বলেছিলেন যে তাঁর লক্ষ্য ইরানের পরমাণু সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা, যেন তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। এ ছাড়া তিনি প্রতিবেশীদের ওপর তেহরানের হামলা চালানোর ক্ষমতা বন্ধ করতে, এ অঞ্চলে ইসরায়েলবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের সমর্থন দেওয়া ঠেকাতে এবং ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে চেয়েছিলেন।   তবে ট্রাম্প যখন এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তখন এর কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি। চুক্তিতে ইরান শুধু কয়েক দশক ধরে চলে আসা তাদের পুরোনো দাবিরই পুনরাবৃত্তি করেছে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক প্রেসিডেন্ট ইরানের এই দাবিকে সব সময়ই সন্দেহ করে এসেছেন।   চুক্তি অনুযায়ী, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজস্ব গবেষণাগারেই ধ্বংস করতে এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের নিয়মিত পরিদর্শনের সুযোগ দিতে রাজি হয়েছে। তবে ইউরেনিয়ামের এ মজুত দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার যে দাবি ট্রাম্প করেছিলেন, ইরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।   অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এ আলোচনা থেকে এখনো ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি শক্তিশালী চুক্তি বেরিয়ে আসতে পারে। ২০১৫ সালে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের মধ্যে যে পরমাণু চুক্তি হয়েছিল এবং ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে যা বাতিল করেছিলেন, নতুন চুক্তিটিকে তার চেয়েও উন্নত করাই মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য।   কিন্তু সমালোচকদের মতে, ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কারণ, তারা একটি পরাশক্তির আক্রমণ প্রতিহত করেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞা থেকে বড় ধরনের ছাড় আদায় করতে পেরেছে।   ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের অপর পাড়ে থাকা প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখবে। যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় এখন তারা চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে নতুন একধরনের সেবা মাশুল (সার্ভিস ফি) আদায়ের পরিকল্পনা করছে। তবে আগামী ৬০ দিনের আলোচনার সময়ে এ মাশুল নেওয়া হবে না।   ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার চালু হওয়ার পর তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর চলাচল শুরু হয়েছে। ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আজ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো।   লেবাননে হামলা চালিয়ে যেতে অনড় ইসরায়েল লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইতিমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ আজ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।   এ হামলার পর ট্রাম্প তাঁর মিত্র ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে কত দূর বাধ্য করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অথচ ট্রাম্প নিজে এ যুদ্ধ (ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ সংঘাত) বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধের ‘স্থায়ী অবসান’–এর কথা বলা হলেও ইসরায়েল জানিয়েছে যে সেখান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। উল্টো তারা একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে তাদের দখলকৃত অঞ্চলের পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্প এখন প্রকাশ্যেই সমালোচনা শুরু করেছেন। ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্কে সবচেয়ে বড় ফাটল তৈরি হয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬

ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   শুক্রবার (১৯ জুন) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল একই দিনে বিকাল ৪টা থেকে।   যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক কূটনীতিক সংবাদমাধ্যমকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও ইরানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল লেবাননে সংঘাত কমিয়ে আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।   তবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শুরু হওয়ার পরপরই দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ১২টি বিমান হামলা ও ধারাবাহিক গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।   এক গালফ কূটনীতিক এএফপিকে জানান, দুই পক্ষ শত্রুতা বন্ধে সম্মত হয়েছে, তবে এটি কঠোরভাবে মেনে চলা না হলে পরিস্থিতি আবারও অবনতি হতে পারে। একই সময়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে বলে তারা ধারণা করছে।   হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ইসরাইল যদি চুক্তি মানে, তবে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে। অন্যদিকে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ হামলা না করলে আমাদের জন্য এটি যুদ্ধের সময় নয়।   তবে বাস্তবে হামলা অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ লেবাননের মানুষ যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।   লেবাননের টাইর শহর থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হেইডি পেট বলেন, এটিকে সত্যিকারের যুদ্ধবিরতি বলা কঠিন। প্রতিবারই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলে নতুন করে হামলা শুরু হয়।   এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, লেবানন-ইসরাইল আলোচনা আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, যে কোনো আলোচনার ভিত্তি হতে হবে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি।   জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানিয়ে উভয় পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ ও সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   সূত্র: আলজাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি