সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীকে হারিয়ে বিপিএলের ফাইনালে চট্টগ্রাম

দারুণ লড়াইয়ের ম্যাচে রাজশাহীকে পরাজিত করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনালে উঠেছে চট্টগ্রাম। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম দল। ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে রাজশাহী। নির্ধারিত ওভারে তারা সম্মানজনক সংগ্রহ গড়ে তুললেও চট্টগ্রামের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে বড় জুটি গড়ে উঠতে দেননি। মধ্য ওভারে রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ দিকে দ্রুত উইকেট পড়ায় প্রত্যাশিত রান তুলতে পারেনি দলটি। জবাবে লক্ষ্য তাড়ায় চট্টগ্রাম শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাটিং করে। ওপেনারদের দৃঢ় সূচনা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। মাঝের ওভারে কয়েকটি উইকেট পড়লেও রান তোলার গতি ধরে রাখে চট্টগ্রাম। শেষ দিকে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা। এই জয়ে চট্টগ্রাম দল নিশ্চিত করেছে বিপিএলের ফাইনাল। খেলোয়াড়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে, সমর্থকদের গ্যালারিতেও দেখা যায় ব্যাপক আনন্দ। ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একাধিক খেলোয়াড় দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন। অন্যদিকে, রাজশাহী দল পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ভালো লড়াই করলেও এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে না পারায় বিদায় নিতে হলো। দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা আগামী মৌসুমে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বিপিএলের ফাইনালে চট্টগ্রামের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নির্ধারিত হবে পরবর্তী ম্যাচের ফলাফলের মাধ্যমে। তবে ফাইনালে ওঠার মধ্য দিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করল চট্টগ্রাম।

৩২ মিনিট আগে
জামায়াত-এনসিপিসহ চার দলকে সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন

বিএনপির আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি)সহ চারটি রাজনৈতিক দলকে সতর্কবার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী আচরণবিধি ও রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি অভিযোগ করেছে—কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মাঠপর্যায়ে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। অভিযোগের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চায় এবং একই সঙ্গে সতর্কবার্তা জারি করে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই কমিশনের দায়িত্ব। তবে কোনো দল যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বা অন্য দলের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে কমিশন কঠোর অবস্থানে যাবে। সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে সভা-সমাবেশ, প্রচার কার্যক্রম ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে আরও সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে কমিশন আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছে। সতর্কবার্তাকে হালকাভাবে না নিয়ে দলগুলোর উচিত আচরণবিধি মেনে চলা। অন্যদিকে, বিএনপির নেতারা বলছেন, তাদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ইতিবাচক। তারা আশা প্রকাশ করেন, কমিশন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে সব দলের জন্য সমান মাঠ নিশ্চিত করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের সতর্ক অবস্থান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে অভিযোগের পুনরাবৃত্তি হলে কমিশন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

৩৪ মিনিট আগে
সরকারি ঋণের চাহিদা পূরণে পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিতে হবে : আমির খসরু

সরকারি ঋণের বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে সরকারি অর্থায়নের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী ও আস্থাভাজন করতে হবে। এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের বড় অংশের ঋণ ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বেসরকারি খাত ঋণ সংকটে পড়ছে। এতে শিল্প ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই চাপ কমাতে হলে সরকারকে পুঁজিবাজারমুখী হতে হবে এবং বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক উপকরণের ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমির খসরু বলেন, উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো সরকারি ঋণের একটি বড় অংশ সংগ্রহ করে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে। সেখানে ট্রেজারি বন্ড, সুকুক ও দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজ ব্যবহারের ফলে একদিকে সরকারের অর্থের জোগান নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশেও সেই পথ অনুসরণ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে সুশাসন নিশ্চিত করা, অনিয়ম ও কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। আস্থাহীন পুঁজিবাজারে সরকারি বন্ড ছাড়লেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যাবে না। ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকার যদি আরও বেশি ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আরও সংকুচিত হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে শুধু ঋণের উৎস পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তবে সঠিক নীতি ও সংস্কারের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে কাজে লাগানো গেলে সরকারি ঋণের চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। আলোচনা শেষে তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পুঁজিবাজার ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সরকারের উচিত স্বল্পমেয়াদি সমাধানের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করা এবং সেখানে পুঁজিবাজারকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা।

৩৭ মিনিট আগে
তারেক রহমানের নির্বাচনি আসন পরিচালনায় উপ-কমিটি গঠন

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি আসন পরিচালনার জন্য একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি জোরদার করতেই এই উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত উপ-কমিটিতে দলের অভিজ্ঞ ও তৃণমূলপর্যায়ে পরিচিত নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনি এলাকার সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও জনসংযোগ কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্বও এই উপ-কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। দলীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তারেক রহমান দলীয় কৌশল ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা সরাসরি দিয়ে আসছেন। নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তার আসনকে ঘিরে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উপ-কমিটি গঠনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই উপ-কমিটি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়েও সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় রাখবে। ভোটারদের সঙ্গে দলের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরা, দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলো সংগ্রহ করা এবং সেগুলো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়াও কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কাজের অংশ হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনি আসনভিত্তিক এমন উপ-কমিটি গঠন বিএনপির মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের আসনগুলোতে আলাদা করে নজর দেওয়ার মাধ্যমে দল নির্বাচনি লড়াইকে আরও সংগঠিত ও পরিকল্পিত করতে চাইছে। এদিকে, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উপ-কমিটি গঠনকে ঘিরে উৎসাহ দেখা গেছে। তারা আশা প্রকাশ করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকায় দলের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।

৩৯ মিনিট আগে
জাতীয়
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। আজাদ মজুমদার বলেন, সারা দেশে প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৯৪৬টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বরাদ্দের আওতায় প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কমপক্ষে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার বাইরে থাকা কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে সব জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অনেক এলাকায় তা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, কয়েকটি জেলায় প্রায় শতভাগ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর জেলা উল্লেখযোগ্য। গাজীপুরে মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের অধিকাংশে ইতিমধ্যে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতেও আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আজাদ মজুমদার বলেন, সারা দেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এসব কেন্দ্রে সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে জেনারেটরের মাধ্যমে হলেও ভোটের দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নিকার সভায় আলোচনা হয়েছে। ঢাকার আয়তন ও জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করা হবে, নাকি একাধিক অংশে পুনর্গঠন করা হবে—এ বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শফিকুল আলম চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সেখানে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে আরও জোরদার অভিযান চালানো হবে এবং আশপাশের এলাকায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার সরাচ্ছে ভারত

বাংলাদেশে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ভারত ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত তাদের কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এটি পুরোপুরি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ; বাংলাদেশে ভারতের কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে। সূত্র অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আশঙ্কা এবং কূটনৈতিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কূটনীতিক কর্মকর্তা ও জরুরি দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বাংলাদেশেই অবস্থান করে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। মূলত পরিবার সদস্যদের সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট বা তাৎক্ষণিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়। নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুযায়ী, কোনো দেশে কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবার ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা দেখা দিলে আগাম সতর্কতা হিসেবে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে, বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত প্রতিরোধমূলক ও সাময়িক ব্যবস্থা। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে কূটনীতিকদের পরিবার পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগ, বাণিজ্যিক সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষই আগের মতোই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
তারেক রহমানের নির্বাচনি আসন পরিচালনায় উপ-কমিটি গঠন

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি আসন পরিচালনার জন্য একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি জোরদার করতেই এই উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত উপ-কমিটিতে দলের অভিজ্ঞ ও তৃণমূলপর্যায়ে পরিচিত নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনি এলাকার সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও জনসংযোগ কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্বও এই উপ-কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। দলীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তারেক রহমান দলীয় কৌশল ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা সরাসরি দিয়ে আসছেন। নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তার আসনকে ঘিরে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উপ-কমিটি গঠনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই উপ-কমিটি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়েও সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় রাখবে। ভোটারদের সঙ্গে দলের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরা, দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলো সংগ্রহ করা এবং সেগুলো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়াও কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কাজের অংশ হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনি আসনভিত্তিক এমন উপ-কমিটি গঠন বিএনপির মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের আসনগুলোতে আলাদা করে নজর দেওয়ার মাধ্যমে দল নির্বাচনি লড়াইকে আরও সংগঠিত ও পরিকল্পিত করতে চাইছে। এদিকে, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উপ-কমিটি গঠনকে ঘিরে উৎসাহ দেখা গেছে। তারা আশা প্রকাশ করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকায় দলের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।


ছবি : সংগৃহীত
সরকারি ঋণের চাহিদা পূরণে পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিতে হবে : আমির খসরু

সরকারি ঋণের বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে সরকারি অর্থায়নের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী ও আস্থাভাজন করতে হবে। এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের বড় অংশের ঋণ ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বেসরকারি খাত ঋণ সংকটে পড়ছে। এতে শিল্প ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই চাপ কমাতে হলে সরকারকে পুঁজিবাজারমুখী হতে হবে এবং বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক উপকরণের ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমির খসরু বলেন, উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো সরকারি ঋণের একটি বড় অংশ সংগ্রহ করে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে। সেখানে ট্রেজারি বন্ড, সুকুক ও দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজ ব্যবহারের ফলে একদিকে সরকারের অর্থের জোগান নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশেও সেই পথ অনুসরণ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে সুশাসন নিশ্চিত করা, অনিয়ম ও কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। আস্থাহীন পুঁজিবাজারে সরকারি বন্ড ছাড়লেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যাবে না। ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকার যদি আরও বেশি ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আরও সংকুচিত হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে শুধু ঋণের উৎস পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তবে সঠিক নীতি ও সংস্কারের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে কাজে লাগানো গেলে সরকারি ঋণের চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। আলোচনা শেষে তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পুঁজিবাজার ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সরকারের উচিত স্বল্পমেয়াদি সমাধানের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করা এবং সেখানে পুঁজিবাজারকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা।

ছবি : সংগৃহীত
জামায়াত-এনসিপিসহ চার দলকে সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন

বিএনপির আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি)সহ চারটি রাজনৈতিক দলকে সতর্কবার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী আচরণবিধি ও রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি অভিযোগ করেছে—কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মাঠপর্যায়ে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। অভিযোগের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চায় এবং একই সঙ্গে সতর্কবার্তা জারি করে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই কমিশনের দায়িত্ব। তবে কোনো দল যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বা অন্য দলের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে কমিশন কঠোর অবস্থানে যাবে। সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে সভা-সমাবেশ, প্রচার কার্যক্রম ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে আরও সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে কমিশন আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছে। সতর্কবার্তাকে হালকাভাবে না নিয়ে দলগুলোর উচিত আচরণবিধি মেনে চলা। অন্যদিকে, বিএনপির নেতারা বলছেন, তাদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ইতিবাচক। তারা আশা প্রকাশ করেন, কমিশন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে সব দলের জন্য সমান মাঠ নিশ্চিত করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের সতর্ক অবস্থান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে অভিযোগের পুনরাবৃত্তি হলে কমিশন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহীকে হারিয়ে বিপিএলের ফাইনালে চট্টগ্রাম

দারুণ লড়াইয়ের ম্যাচে রাজশাহীকে পরাজিত করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনালে উঠেছে চট্টগ্রাম। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম দল। ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে রাজশাহী। নির্ধারিত ওভারে তারা সম্মানজনক সংগ্রহ গড়ে তুললেও চট্টগ্রামের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে বড় জুটি গড়ে উঠতে দেননি। মধ্য ওভারে রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ দিকে দ্রুত উইকেট পড়ায় প্রত্যাশিত রান তুলতে পারেনি দলটি। জবাবে লক্ষ্য তাড়ায় চট্টগ্রাম শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাটিং করে। ওপেনারদের দৃঢ় সূচনা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। মাঝের ওভারে কয়েকটি উইকেট পড়লেও রান তোলার গতি ধরে রাখে চট্টগ্রাম। শেষ দিকে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা। এই জয়ে চট্টগ্রাম দল নিশ্চিত করেছে বিপিএলের ফাইনাল। খেলোয়াড়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে, সমর্থকদের গ্যালারিতেও দেখা যায় ব্যাপক আনন্দ। ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একাধিক খেলোয়াড় দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন। অন্যদিকে, রাজশাহী দল পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ভালো লড়াই করলেও এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে না পারায় বিদায় নিতে হলো। দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা আগামী মৌসুমে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বিপিএলের ফাইনালে চট্টগ্রামের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নির্ধারিত হবে পরবর্তী ম্যাচের ফলাফলের মাধ্যমে। তবে ফাইনালে ওঠার মধ্য দিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করল চট্টগ্রাম।

ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসীদের বড় দুঃসংবাদ দিল সৌদি আরব

প্রবাসীদের জন্য শ্রমবাজার সংকুচিত করে মার্কেটিং ও সেলস (বিক্রয়) খাতে নিজস্ব নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি করছে সৌদি আরব। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় জানিয়েছে, এই দুই খাতে কর্মরত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন থেকে অন্তত ৬০ শতাংশ কর্মী হতে হবে সৌদি নাগরিক। ফলে সৌদি আরবে থাকা অন্য দেশের নাগরিকদের (প্রবাসী) জন্য এটি বড় দুঃসংবাদ। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠানে তিন বা তারও বেশি কর্মী কাজ করেন, তাদের মোট জনবলের ৬০ শতাংশ স্থানীয়দের দিয়ে পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে মার্কেটিং খাতে মার্কেটিং ম্যানেজার, বিজ্ঞাপন বিশেষজ্ঞ, গ্রাফিক ডিজাইনার ও জনসংযোগ পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে সেলস খাতে বিক্রয় ব্যবস্থাপক থেকে শুরু করে আইটি ও যোগাযোগ যন্ত্রাংশ বিক্রয় বিশেষজ্ঞের মতো পদগুলোতেও সৌদিনির্ভরতা বাড়ানো হচ্ছে। সরকারি এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার ঠিক তিন মাস পর থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হবে। মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে এসব পদে নিযুক্ত সৌদি কর্মীদের মাসিক ন্যূনতম বেতন হতে হবে ৫ হাজার ৫০০ রিয়াল। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো দেশটির বেসরকারি খাতের শ্রমবাজারকে স্থানীয়দের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা এবং যোগ্য সৌদি নাগরিকদের চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা। ফলে মার্কেটিং ও সেলস পেশায় নিয়োজিত কয়েক লাখ প্রবাসী কর্মী বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। সৌদি গ্যাজেটের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শ্রমবাজারের মানোন্নয়ন এবং মানসম্পন্ন কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘদিনের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন খাতে প্রবাসীদের বদলে নিজস্ব জনবল নিয়োগের এই ‘সৌদিকরণ’ প্রক্রিয়া এখন আরও জোরালো হলো। সূত্র: সৌদি গ্যাজেট

নিউজ ক্লিপস

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
নগরের ভেতরে বন কমাবে তাপমাত্রা, বাঁচবে বিদ্যুৎ খরচ
মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২০, ২০২৬ 0

নগরের ভেতরে বন বা ঘন সবুজ এলাকা গড়ে তোলা গেলে নগর তাপমাত্রা অনেকাংশে কমবে। তবে এর জন্য প্রকৃতি ও মানুষের চাহিদা দুটোই বুঝে পরিকল্পনা করতে হবে। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ে গবেষক ধনপাল গোবিন্দরাজুলু তার এক গবেষণায় বলেন, ভারতের দ্রুত নগরায়নের ফলে শহরগুলোতে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে চেন্নাইয়ের মতো শহরে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ খরচ হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রে। পরিকল্পিত নগর বন বাড়ানো গেলে এ বিদ্যুৎচাহিদা কমানো সম্ভব। চেন্নাই শহরে বর্তমানে প্রায় ২৬ বর্গমাইল এলাকায় গাছ ও সবুজ আছে। এর বড় অংশই একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তবে শহরের আশপাশে আরও প্রায় ৯ বর্গমাইল জমি রয়েছে, যা নগর বন গড়ে তোলার জন্য উপযোগী। কোয়েম্বাটোর ও তিরুচিরাপল্লির মতো অন্যান্য ভারতীয় শহরেও এমন সম্ভাবনা আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী, শহরে প্রতি নাগরিকের জন্য অন্তত ৯ বর্গমিটার সবুজ জায়গা থাকা উচিত। শহরের মোট এলাকার অন্তত ৩০ শতাংশ গাছপালা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ভারতের বেশিরভাগ শহর এই মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। তবে গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, শুধু শহর ঠান্ডা করার জন্য গাছ লাগালেই সমস্যার সমাধান হবে না। চেন্নাইয়ের মতো গরম ও পানির সংকটপূর্ণ শহরে কিছু ক্ষেত্রে গাছ উল্টো তাপ ধরে রাখতে পারে। এ ছাড়া সব গাছই বন্যপ্রাণীর জন্য উপযোগী নয়—বিশেষ করে বিদেশি প্রজাতির গাছ পাখি ও কীটপতঙ্গের উপকারে কম আসে। গবেষকরা আরও বলেন, অনেক সময় নগর এলাকায় থাকা খোলা জমি বা ঘাসভূমিকে অব্যবহৃত জমি ধরে নিয়ে সেখানে গাছ লাগানো হয়। অথচ এসব জমি দরিদ্র মানুষের পশুচারণ ও জ্বালানি সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এতে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর বন পরিকল্পনায় স্থানীয় প্রজাতির গাছ, বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথ এবং মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাস্তার ধারে বা খালের পাশে গাছ লাগিয়ে শহরের সবুজ এলাকাগুলোকে সংযুক্ত করা যেতে পারে। গবেষকরা মনে করেন, বৃক্ষরোপন বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ঠিকভাবে নগর পরিবেশ নকশা করতে হবে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সহনশীল, বাসযোগ্য ও সবুজ শহর নির্মাণ সম্ভব হবে।  তথ্যসূত্র : দ্য কনভারসেশন

ছবি: সংগৃহীত
গাজা শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেলেন পুতিন
মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২০, ২০২৬ 0

গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম তদারক করতে ঘোষণা করা ‘বোর্ড অব পিস’ বা ‘শান্তি পর্ষদে’ যুক্ত হতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ তথ্য জানান। পেসকভ বলেন, রাশিয়া এখন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। হ্যাঁ, সত্যিই কূটনৈতিক মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পুতিন এই ‘কাউন্সিল অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। আমরা এখন এই প্রস্তাবের সব দিক খতিয়ে দেখছি। পাশাপাশি সব বিষয় পরিষ্কার করতে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের আশাও করছি। এর আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউস ‘বোর্ড অব পিস’ বা ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এই বোর্ড গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে গাজার পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক সহায়তা সংগ্রহ, কৌশলগত তদারকি এবং শান্তি ও উন্নয়নের পথে অগ্রগতির জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। যুক্তরাষ্ট্র ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)ও গঠন করেছে, যা ট্রাম্পের গাজা সংঘাত অবসানের সমন্বিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া একটি প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ড এবং এনসিএজি-কে সহায়তার জন্য একটি গাজা নির্বাহী বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। এই গাজা বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য ট্রাম্প আরও কয়েকজন বিশ্বনেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যার মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানও রয়েছেন।

ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: অন্তত ৭ নিহত, আহত ২০-এর বেশি
মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২০, ২০২৬ 0

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) কাবুলের শার-ই-নাও এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এলাকাটি বিদেশিদের বসবাসের জন্য পরিচিত এবং কাবুলের তুলনামূলক নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মাতিন কানি জানান, প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণে একাধিক হতাহতের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে, কাবুলে একটি হাসপাতাল পরিচালনাকারী ইতালীয় এনজিও সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি’ এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার বিকেলে শার-ই-নাও এলাকায় হাসপাতালের কাছেই বিস্ফোরণটি ঘটে। ঘটনার পর অন্তত ২০ জন আহত ব্যক্তিকে কাবুলের ইমার্জেন্সি সার্জিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সাতজনের মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে তালেবান। এরপর কাবুলসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন এখনো আফগানিস্তানে সক্রিয় রয়েছে এবং মাঝেমধ্যেই হামলা চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত দুটি আত্মঘাতী হামলার ঘটনা

ছবি : সংগৃহীত
গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের হুমকি
শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২০, ২০২৬ 0

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছার খবর সামনে আসার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, এমন পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক নীতি ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে, এবং এর ওপর ভিত্তি করে যে কোনো চুক্তি বা উদ্যোগ নেওয়া উচিত আন্তর্জাতিক আইন ও সহযোগিতার মান বজায় রেখে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরনের হুমকি এবং একপক্ষীয় পদক্ষেপ মার্কিন-ব্রিটিশ সম্পর্ককে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তারা মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি যোগাযোগ রেখেছেন এবং এই ধরনের আগ্রাসী পরিকল্পনার সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করছেন। তারা আশা করছেন, কূটনৈতিক মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই হুমকি শুধু গ্রিনল্যান্ড নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে শক্তির ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ইউরোপীয় এবং উত্তর আমেরিকার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি