সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
না খেয়ে থাকতে হবে না কাতার প্রবাসীদের

কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী (লেখউইয়া) কমান্ডার শেখ খালিফা বিন হামাদ বিন খালিফা আল-থানি জানিয়েছেন, কাতারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটির বাসিন্দা, অবকাঠামো ও রাষ্ট্রের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ সর্বদা সতর্ক রয়েছে।   কাতার টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতির বিভিন্ন উন্নয়ন সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে নাগরিক, প্রবাসী ও দেশে বসবাসকারী সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি-এর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সঙ্গে কাজ করছে, যাতে জননিরাপত্তা ও জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।   মন্ত্রী জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কাতার দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রস্তুতি শক্তিশালী করেছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।   তিনি উল্লেখ করেন, “ওয়াতান এক্সারসাইজ” নামের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এই প্রস্তুতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মাধ্যমে সিভিল ডিফেন্স টিম ও সিভিল ডিফেন্স কাউন্সিলকে বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণ ও মহড়া দেওয়া হয়েছে।   এছাড়া ন্যাশনাল কমান্ড সেন্টার সার্বক্ষণিক (২৪ ঘণ্টা) চালু রয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বয় করতে সহায়তা করছে।   সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর থেকে অপারেশন রুমে ৫,০০০-এর বেশি রিপোর্ট এসেছে এবং দ্রুত সেগুলোর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া প্রায় ৬০০টি স্থান পরিষ্কার করা হয়েছে।   মন্ত্রী আরও আশ্বস্ত করেন যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খাত এখনো স্থিতিশীল এবং স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে।   জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাতার সরকার পর্যাপ্ত মজুদও প্রস্তুত রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে—   ১৮ মাসের খাদ্য মজুদ ৪ মাসের পানির সরবরাহ ৯ মাসের ওষুধের মজুদ   এর ফলে যেকোনো সম্ভাব্য সংকটেও কাতারে বসবাসরত নাগরিক ও প্রবাসীদের খাদ্য বা প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতিতে পড়তে হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

১ ঘন্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে এলাকা খালি করতে ইরানের আলটিমেটাম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে।   শনিবার (১৪ মার্চ) সংবাদমাধ্যমটির বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর, আবুধাবির খলিফা বন্দর এবং ফুজাইরাহ বন্দরের আশপাশের এলাকা থেকে লোকজনকে অবিলম্বে সরে যেতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বন্দরের বেসামরিক স্থাপনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। এ কারণে এলাকাগুলো এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এদিকে এদিকে ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১০৪ নৌসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান আমির হাতামি। তিনি বলেছেন, এই হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।   শনিবার (১৪ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে জানানো হয়, ইরানের নতুন যুদ্ধজাহাজগুলোর একটি আইআরআইএস দেনা সামরিক মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়। আমির হাতামি বলেন, দেনা ডেস্ট্রয়ারের ক্রুরা একটি শান্তিপূর্ণ মিশন শেষ করে দেশে ফিরছিলেন। তারা কোনো সরাসরি যুদ্ধে জড়িত না থাকা অবস্থায়ই হামলার লক্ষ্যবস্তু হন। তিনি বলেন, দেনার নাম এবং এর ক্রুদের আত্মত্যাগ ইরানের নৌবাহিনীর ইতিহাসে সাহস ও দায়িত্ববোধের প্রতীক হয়ে থাকবে। সেনাবাহিনী সামুদ্রিক সীমান্ত রক্ষায় আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করবে এবং নৌক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হবে।

২ ঘন্টা আগে
রোববার সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে।   শনিবার (১৪ মার্চ) মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং তাদের বড় সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস সঙ্গে যাবেন। প্রসঙ্গত, মির্জা আব্বাসকে গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এর পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। শনিবার সকালে তার মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যানের ফলাফল ভালো এসেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।   এর আগে মির্জা আব্বাস গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইফতারের সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তাকে রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যানের পর ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে শুক্রবার দুই দফায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং এরপর ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় মির্জা আব্বাসকে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন জাতীয় নেতারা এভারকেয়ার হাসপাতালে এসে তার খোঁজ নিয়েছেন।

২ ঘন্টা আগে
অটল ইরান, চাপে পড়েছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও দেশটির সরকার ভেঙে পড়েনি। বরং হরমুজ প্রণালিতে শক্ত অবস্থান নিয়ে ইরান এখন বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে।   দুই সপ্তাহের যুদ্ধের পর দেখা যাচ্ছে, ইরান তেলের সরবরাহ ব্যাহত করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরান দ্রুতই নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে দায়িত্ব দিয়েছে। নেতৃত্বে পরিবর্তন হলেও দেশটির সামরিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন তিনটি কৌশল অনুসরণ করছে— টিকে থাকা, পাল্টা আঘাত করা এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা।   এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়ছে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার খরচ বাড়তে পারে এবং রাজনৈতিক চাপও তৈরি হতে পারে।

৮ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী
না খেয়ে থাকতে হবে না কাতার প্রবাসীদের

কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী (লেখউইয়া) কমান্ডার শেখ খালিফা বিন হামাদ বিন খালিফা আল-থানি জানিয়েছেন, কাতারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটির বাসিন্দা, অবকাঠামো ও রাষ্ট্রের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ সর্বদা সতর্ক রয়েছে।   কাতার টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতির বিভিন্ন উন্নয়ন সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে নাগরিক, প্রবাসী ও দেশে বসবাসকারী সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি-এর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সঙ্গে কাজ করছে, যাতে জননিরাপত্তা ও জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।   মন্ত্রী জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কাতার দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রস্তুতি শক্তিশালী করেছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।   তিনি উল্লেখ করেন, “ওয়াতান এক্সারসাইজ” নামের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এই প্রস্তুতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মাধ্যমে সিভিল ডিফেন্স টিম ও সিভিল ডিফেন্স কাউন্সিলকে বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণ ও মহড়া দেওয়া হয়েছে।   এছাড়া ন্যাশনাল কমান্ড সেন্টার সার্বক্ষণিক (২৪ ঘণ্টা) চালু রয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বয় করতে সহায়তা করছে।   সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর থেকে অপারেশন রুমে ৫,০০০-এর বেশি রিপোর্ট এসেছে এবং দ্রুত সেগুলোর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া প্রায় ৬০০টি স্থান পরিষ্কার করা হয়েছে।   মন্ত্রী আরও আশ্বস্ত করেন যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খাত এখনো স্থিতিশীল এবং স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে।   জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাতার সরকার পর্যাপ্ত মজুদও প্রস্তুত রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে—   ১৮ মাসের খাদ্য মজুদ ৪ মাসের পানির সরবরাহ ৯ মাসের ওষুধের মজুদ   এর ফলে যেকোনো সম্ভাব্য সংকটেও কাতারে বসবাসরত নাগরিক ও প্রবাসীদের খাদ্য বা প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতিতে পড়তে হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৪, ২০২৬ 0

ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খারগ দ্বীপে অবস্থিত ‘প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।    ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই হামলা দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে দ্বীপটির তেল অবকাঠামোগুলোতেও সরাসরি হামলা চালানো হবে।   পেন্টাগন সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা মোকাবিলায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ‘মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ মোতায়েন করা হচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো ‘সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন’ করা হলেও ইরান এই ক্ষয়ক্ষতির দাবিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, খারগ দ্বীপের তেল সংশ্লিষ্ট কোনো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।   তবে এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো ধরনের বড় হামলা চালানো হলে তারা এই অঞ্চলের অন্যান্য তেল স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানবে। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই সংঘাত এখন চরম রূপ নিয়েছে, যা বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।   সূত্র: সিএনএন।

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের দাবি: ইরানের খারগ দ্বীপের সব সামরিক স্থাপনা ধ্বংস, তেলের অবকাঠামো অক্ষত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তবে দ্বীপের তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি।   বিবিসি জানিয়েছে, এই দ্বীপ থেকে ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয় এবং এটিকে দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ বলা হয়।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি মেরিন ইউনিট ও আরও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে। এই ইউনিট সমুদ্রপথে আক্রমণ চালাতে সক্ষম এবং প্রায় ৫ হাজার মেরিন ও নাবিক নিয়ে গঠিত।   বিবিসির কূটনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আরও বিস্তৃত সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছে।   ওদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে এবং তাই জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেশী দেশে হামলা নিয়ে ইরানকে যে বার্তা দিল হামাস

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এক বিবৃতিতে ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হামাসের এই অবস্থানকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।    হামাস তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম মেনে সম্ভাব্য সকল উপায়ে মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে। তবে এই পাল্টা জবাব যেন কোনোভাবেই পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্য ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।   বিবৃতিতে হামাস ইরানের নেতৃত্বকে 'ভাই' সম্বোধন করে বলেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করে বরং এই অঞ্চলের সকল দেশের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে আগ্রাসন মোকাবিলা করা। তারা এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং অভিন্ন শত্রু মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সংঘাত যেন ছড়িয়ে না পড়ে, হামাসের পক্ষ থেকে সেই কূটনৈতিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।   মূলত ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার ফলে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন অবস্থায় হামাস চাইছে ইরান যেন তাদের সামরিক শক্তিকে শুধুমাত্র সরাসরি শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে এবং এতে যেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কে কোনো ফাটল না ধরে। আঞ্চলিক শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব রক্ষার এই আহ্বানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সংঘাত এড়ানোর একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।   সূত্র: আল-জাজিরা।

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৭ পুলিশ

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াতে টহলরত একটি পুলিশের গাড়িতে বিস্ফোরণে সাতজন নিহত হয়েছেন।     কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাক্কি মারওয়াত এলাকায় টহলরত একটি পুলিশ গাড়ির কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও)-সহ সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।   জেলা পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) জানান, লাক্কি মারওয়াতে একটি পুলিশ গাড়ির কাছে বিস্ফোরণটি ঘটে। নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলাকালে গাড়িটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। শক্তিশালী বিস্ফোরণে গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হন।    বিস্ফোরণে নিহত পুলিশ সদস্যদের নাম প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন—এসএইচও সদর আজম, কনস্টেবল শাহ বাহরাম, কনস্টেবল শাহ খালিদ, কনস্টেবল হাজি মুহাম্মদ, কনস্টেবল গুলজাদা ও কনস্টেবল সাখি জাদা।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ হামলার তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণের ধরন এবং কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।   এদিকে, লাক্কি মারওয়াতে পুলিশ গাড়ির কাছে ‘সন্ত্রাসী হামলা’র তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।   একই সঙ্গে হামলায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যাবে না। দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেশী দেশে হামলা নিয়ে ইরানকে যে বার্তা দিল হামাস
মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৪, ২০২৬ 0

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এক বিবৃতিতে ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হামাসের এই অবস্থানকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।    হামাস তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম মেনে সম্ভাব্য সকল উপায়ে মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে। তবে এই পাল্টা জবাব যেন কোনোভাবেই পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্য ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।   বিবৃতিতে হামাস ইরানের নেতৃত্বকে 'ভাই' সম্বোধন করে বলেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করে বরং এই অঞ্চলের সকল দেশের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে আগ্রাসন মোকাবিলা করা। তারা এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং অভিন্ন শত্রু মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সংঘাত যেন ছড়িয়ে না পড়ে, হামাসের পক্ষ থেকে সেই কূটনৈতিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।   মূলত ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার ফলে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন অবস্থায় হামাস চাইছে ইরান যেন তাদের সামরিক শক্তিকে শুধুমাত্র সরাসরি শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে এবং এতে যেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কে কোনো ফাটল না ধরে। আঞ্চলিক শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব রক্ষার এই আহ্বানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সংঘাত এড়ানোর একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।   সূত্র: আল-জাজিরা।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: যুদ্ধবিরতি নয়, কৌশলগত চাপ
আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৪, ২০২৬ 0

ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা সবসময় জোর দিয়ে বলেন যে, দেশটি দীর্ঘমেয়াদি মুখোমুখি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং এই বার্তা দিয়েই তারা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য ধৈর্য ও প্রস্তুতির একটি চিত্র তুলে ধরতে চান।   গত দোসরা মার্চ, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি ঘোষণা করেন যে, ইরান একটি দীর্ঘ সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।   "ইরান, আমেরিকার মতো নয়, দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছে," আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছিলেন তিনি।   দেশটির কর্মকর্তারা আরও বলেছেন যে, "আগ্রাসনের" বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়া নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমায় সীমাবদ্ধ নয়, যা ইঙ্গিত করে যে সংঘাত কয়েক মাস বা তার চেয়েও দীর্ঘকাল চলতে পারে।   সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ গত ৮ই মার্চ বলেন, "আমরা অবশ্যই যুদ্ধবিরতি চাইছি না। আমাদের আক্রমণকারীকে শাস্তি দিতেই হবে"। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে একটি অস্তিত্বগত যুদ্ধে লিপ্ত।   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়েনিকও বলেছেন, ইরান "আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা" শত্রুর প্রত্যাশার চেয়ে বহু গুণ বেশি সময় ধরে বজায় রাখতে পারে।   তিনি আরও বলেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে তার অস্ত্র ব্যবহারের ধাপগুলো ভাগ করে চালাচ্ছে—অর্থাৎ সব সক্ষমতা একসঙ্গে নয়, বরং আরও উন্নত সক্ষমতার কিছু অংশ পরবর্তী পর্যায়ের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।   ইরানের কৌশল কী?   কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ইরান এমন একটি কৌশলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে ইরানি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে বা ধাপে ধাপে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করছে এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্বার্থের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে।   এ ধরনের হামলার কয়েকটি লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমত, এগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বাধ্য করে আগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্রিয় হতে। প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো এসব ব্যবস্থা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হলেও অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সীমিত সংখ্যক, এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিরোধই ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের তুলনায় বেশি ব্যয়সাপেক্ষ।   দ্বিতীয়ত, ধারাবাহিক হামলা দেশগুলোর প্রতিরোধকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ও সামরিক প্রস্তুতিকে চাপে ফেলতে পারে।   ওয়াশিংটন পোস্ট–এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী লড়াইয়ের প্রথম সপ্তাহেই দ্রুতগতিতে সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। অন্যান্য বিশ্লেষকরা বলেন, অতিরিক্ত অস্ত্র ব্যবহারের এই মাত্রা "সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতা" উন্মোচিত করছে।   ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের অস্ত্র সরবরাহ অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং সশস্ত্র বাহিনী "বর্তমান গতিতে অন্তত ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে"।   কয়েকজন কমান্ডার আরও বলেছেন, ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে দেশীয়ভাবে হয় এবং একাধিক উৎপাদন কেন্দ্র ও বড় মজুত থাকার কারণে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালাতে সক্ষম।   ইরান মনে হচ্ছে সময় ধরে হামলাগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে প্রতিপক্ষকে হঠাৎ, সিদ্ধান্তমূলক কোনো বৃহৎ আক্রমণের মুখে পড়ার বদলে একটানা প্রতিরক্ষা বজায় রাখতে হয়। এই কৌশলটি একটি বৃহত্তর সামরিক মতবাদের প্রতিফলন, যা ইরান কয়েক দশকের মধ্যে বৃহত্তর শক্তিধর দেশগুলোর সামরিক সুবিধা মোকাবিলায় গড়ে তুলেছে।   ১৯৮০–এর দশকের ইরান–ইরাক যুদ্ধের পর ইরান অসম যুদ্ধ কৌশলে ব্যাপক বিনিয়োগ করে।   এই পদ্ধতি এমন সরঞ্জাম ও কৌশলের ওপর গুরুত্ব দেয়, যা প্রচলিত যুদ্ধক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের ওপর নির্ভর না করেই শক্তিশালী বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম। লক্ষ্য সবসময় শক্তিশালী শত্রুকে সরাসরি পরাজিত করা নয়, বরং যেকোনো সামরিক সংঘাতকে ব্যয়বহুল, দীর্ঘস্থায়ী ও অনিশ্চিত করে তোলা।   অর্থনৈতিক পরিণতি কী?   দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ইরানের অভ্যন্তরে এবং বৈশ্বিকভাবে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।   এ অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি ভোক্তা পর্যায়ে এবং ব্যবসার জন্যও বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করছে।   বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, তবে যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর সরু এই জলপথে চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে গেছে।   সংঘাত শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আকাশসীমা বন্ধ থাকায় অঞ্চলের বাণিজ্য রুটগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ইরানের ভেতরের অর্থনীতিও চাপের মুখে। বহু বছরের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় দুর্বল হয়ে পড়া অর্থনীতি এখন সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রার অস্থিতিশীলতা এবং যুদ্ধের কারণে বাণিজ্য ও সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আরও চাপের সম্মুখীন।   বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা গুরুতর অর্থনৈতিক সংকোচন এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা দেশের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলবে।   যুদ্ধকালীন প্রতিরক্ষা ও সমাবেশে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে ইরানি কর্তৃপক্ষ জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছে, একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ সমর্থন বজায় রাখার চেষ্টা করছে।     রাজনৈতিক ঝুঁকি কী?   সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকিও তত বাড়বে।   ওই অঞ্চলের দেশগুলো, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো, বৃহত্তর যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কিছু দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইরান বলছে তারা এসব দেশে "আগ্রাসী সম্পদ ও ঘাঁটিকে" লক্ষ্যবস্তু করছে।   একইসঙ্গে, চলমান সংঘাত আঞ্চলিক জোটের বিন্যাস বদলে দিতে পারে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের প্রতিপক্ষে ঠেলে দিতে পারে।   ইরানের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া মানে সামরিক কৌশল, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।   এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চ্যালেঞ্জ হতে পারে ক্ষয়ক্ষতির এই লড়াই চালিয়ে যাওয়া। একদিকে সামরিক অভিযান বজায় রাখা; অন্যদিকে বৈশ্বিক আর্থিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা করা। সূত্র: বিবিসি

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ: রাশিয়ার লাভ, বাংলাদেশসহ মধ্যপ্রাচ্য-উপেক্ষা দেশগুলোর চাপ
আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৪, ২০২৬ 0

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে মার্কিন-ইসরায়েলি নেতৃত্বাধীন ইরান যুদ্ধ। যুদ্ধের সরাসরি ফলাফলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তবে কিছু দেশ লাভবানও হতে পারে।   রাশিয়া: ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রাশিয়া কিছু কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার মিসাইল সরবরাহ সীমিত হওয়ায়, তাতে রাশিয়ার লাভ। হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ার আর্থিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল। রাশিয়া চীন ও ভারতের মতো বড় বাজারে তেল রফতানি বাড়াতে পারছে। চীন: যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব সীমিত, তবে রফতানি নির্ভর শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দীর্ঘ সময় ধরে তেল মজুত থাকায় কিছুটা প্রস্তুত, তবে জাহাজ চলাচলে বাধা পড়ায় খরচ বাড়ছে। যুদ্ধের সুযোগে কূটনৈতিকভাবে কিছু সুযোগ গড়ে তুলতে পারে। বাংলাদেশসহ মধ্যপ্রাচ্য-নির্ভর দেশ: তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল দেশগুলোতে তেল ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি। বাংলাদেশে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, দিনে ১০ লিটার গাড়ির জন্য এবং ২ লিটার মোটরসাইকেলের জন্য সীমা। কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব, ইউরিয়ার সরবরাহে বিঘ্ন। অন্যান্য দেশ যেমন ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স, পাকিস্তানও জ্বালানি ও কর্মঘণ্টা সীমিত করতে বাধ্য।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের প্রভাব অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদে প্রতিফলিত হবে, যা কয়েক মাস থেকে ছয়-নয় মাস পরে দৃশ্যমান হতে পারে। সূত্র: বিবিসি

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের দাবি: ইরানের খারগ দ্বীপের সব সামরিক স্থাপনা ধ্বংস, তেলের অবকাঠামো অক্ষত
আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৪, ২০২৬ 0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তবে দ্বীপের তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি।   বিবিসি জানিয়েছে, এই দ্বীপ থেকে ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয় এবং এটিকে দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ বলা হয়।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি মেরিন ইউনিট ও আরও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে। এই ইউনিট সমুদ্রপথে আক্রমণ চালাতে সক্ষম এবং প্রায় ৫ হাজার মেরিন ও নাবিক নিয়ে গঠিত।   বিবিসির কূটনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আরও বিস্তৃত সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছে।   ওদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে এবং তাই জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি