বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার বড় চুক্তির পরও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ১০টি এয়ারক্রাফট বিক্রির নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এ চুক্তির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা (১ ডলার = ১২২.৭৩ টাকা হিসেবে)। এর আগে এয়ারবাসও বিমানের কাছে উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তখন সে প্রস্তাব গ্রহণ না করে বোয়িং থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ আবারও ১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে এয়ারবাস। নতুন প্রস্তাবে এয়ারবাস ছয়টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং চারটি এ৩২১-নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ সরবরাহের কথা জানিয়েছে। এ৩৫০-৯০০ মডেলে ২৮০টি আসন এবং এ৩২১-নিও মডেলে ২১৫টি আসন রয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এয়ারবাসের একটি প্রতিনিধি দল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে এবং বিমানের টেকনো-ফিন্যান্স কমিটিতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। বৈঠকে মিক্সড ফ্লিট পরিচালনার সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়। এর আগে ২০২৪ সালে এয়ারবাস ১৪টি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল, যার মধ্যে ১০টি কেনার প্রাথমিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এয়ারবাসের প্রস্তাব বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আর্থিক সুবিধা এবং পরিচালনাগত বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় ধরনের উড়োজাহাজ থাকলে রুটভেদে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ফ্লিট ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা বাড়ানো সম্ভব। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩৪–৩৫ অর্থবছর নাগাদ বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
২০২৫ সালের ৩ মার্চ। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা। ইরাকের দুর্গম পশ্চিম মরুভূমিতে এক বেদুইন শিবিরের বাসিন্দারা একটি ট্রাক যেতে দেখেন। এটি ছিল স্থানীয় এক মেষপালকের গাড়ি। গাড়িটি কাছেই আল-নুখাইব শহরের দিকে যাচ্ছিল। তবে কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাকটি ফিরে আসতে দেখেন তারা। তবে সেটি আর অক্ষত ছিল না। যেন অসংখ্য গুলিতে ট্রাকটি ঝাঁঝড়া হয়ে গেছে। ট্রাকটির কোনো অংশ আগুনও জ্বলছিল। শিবিরের তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটি হেলিকপ্টার ট্রাকটিকে ধাওয়া করছিল এবং সেখান থেকে অনবরত গুলি ছোড়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে ট্রাকটি মরুভূমিতে থেমে যায়। ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন ২৯ বছর বয়সি আওয়াদ আল-শাম্মারি। তিনি বাজার করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আওয়াদের চাচাতো ভাই আমির আল-শাম্মারি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, আওয়াদ ঘটনাবশত এমন এক গোপন ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছিলেন, যা ইরাকের মরুভূমিতে গোপন অবস্থায় ছিল। তাদের ধারণা, এই ঘাঁটির সন্ধান পাওয়ার কারণেই হয়ত আওয়াদের প্রাণ গেছে। আওয়াদের এই সন্ধানের মধ্যে দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, ইরাকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গোপনে ইসরায়েলি দুটি ঘাঁটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। উল্লেখ্য, ইসরায়েলকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে মনে করে ইরাক। আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আওয়াদ এক সময় ইরাকের আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তিনি কিছু সৈন্য, হেলিকপ্টার এবং তাঁবু দেখতে পেয়েছেন। ইরাকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য ইসরায়েল সেখানে এই ঘাঁটি পরিচালনা করছিল। ইরাকে ইসরায়েলি ঘাঁটির উপস্থিতির খবর এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশ করেছিল। তবে ইরাকের কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, পশ্চিম মরুভূমিতে আরও একটি দ্বিতীয় গোপন ঘাঁটি ছিল, যা আগে প্রকাশিত হয়নি। আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, আওয়াদ যে ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছিলেন, সেটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগেই স্থাপন করা হয়েছিল এবং ২০২৫ সালের জুনে তেহরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, ভবিষ্যৎ সংঘাতের কথা মাথায় রেখে ইসরায়েল ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই অস্থায়ী এই ঘাঁটি তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছিল এবং দূরবর্তী এলাকাগুলো চিহ্নিত করছিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে এসব ঘাঁটি ও আওয়াদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বারবার জানতে চাইলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি। আওয়াদের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শীরা নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি। একইভাবে, ইসরায়েলি ঘাঁটি নিয়ে কথা বলা অধিকাংশ কর্মকর্তাও পরিচয় গোপন রাখতে চান। তাদের দেওয়া তথ্য থেকে বোঝা যায়, অন্তত একটি ঘাঁটির বিষয়ে, অর্থাৎ যেটি আওয়াদ আবিষ্কার করেছিলেন, সেটির বিষয়ে ওয়াশিংটন ২০২৫ সালের জুন বা তারও আগে থেকেই জানত। এর অর্থ হতে পারে, ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে এটা জানায়নি যে তাদের ভূখণ্ডে একটি শত্রু শক্তি (ইসরায়েলি বাহিনী) সক্রিয় রয়েছে। ইরাকি আইনপ্রণেতা ওয়াদ আল-কাদু বলেন, 'এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব, সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী এবং জনগণের মর্যাদার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।' আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেন, ইরাকে গোপনে কার্যক্রম চালানো নিরাপদ হবে— এমন সিদ্ধান্ত নিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরাকের নিরাপত্তা সহযোগিতাকেই বিবেচনায় নিয়েছিল। দুই ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত বছরের যুদ্ধ এবং বর্তমান সংঘাত উভয় সময়েই ওয়াশিংটন ইরাককে তাদের রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছিল, যাতে মার্কিন বিমান নিরাপদে চলাচল করতে পারে। এর ফলে শত্রু তৎপরতা শনাক্ত করতে বাগদাদকে আরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয়। এই ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় ইরাকের জন্যও অস্বস্তিকর কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। যেমন— একজন মেষপালক বিষয়টি প্রকাশ না করা পর্যন্ত কি সত্যিই ইরাকি বাহিনী বিদেশি উপস্থিতি সম্পর্কে জানত না? নাকি তারা জানার পরেও চুপ ছিল? যে সম্ভাবনাই সত্য হোক না কেন, এ থেকে স্পষ্ট হয় যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যে আটকে থাকা ইরাক এখনো নিজের ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ওয়াদ আল-কাদু বলেন, 'আমাদের নিরাপত্তা নেতাদের অবস্থান লজ্জাজনক।' ইরাকি সামরিক বাহিনীর পশ্চিম ইউফ্রেটিস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আল-হামদানি বলেন, মেষপালকের আবিষ্কারের এক মাস আগেই সেনাবাহিনী মরুভূমিতে ইসরায়েলি উপস্থিতির সন্দেহ করেছিল। তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে নীরব রয়েছে।' ইসরায়েলি ঘাঁটির বিষয়টি স্বীকার করা ইরাক সরকারের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ, ইরাকের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং দেশটির জনগণ ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবেই দেখে। ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, 'ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে ইরাকের কাছে কোনো তথ্য নেই।' দুই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, আওয়াদ যে ঘাঁটিটি উন্মোচন করেছিলেন, সেটি ইসরায়েল বিমান সহায়তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং চিকিৎসা সেবার জন্য ব্যবহার করত। ঘাঁটিটি স্থাপন করা হয়েছিল যাতে ইসরায়েলি বিমানকে ইরানে পৌঁছাতে কম দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। এটি মূলত অস্থায়ী উপস্থিতি হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল, বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধের মতো সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য। কর্মকর্তাদের মতে, সেই যুদ্ধে ঘাঁটিটি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়। গত বছরের যুদ্ধের পর দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সফল করা সম্ভব হয়েছে 'বিমান বাহিনী ও স্থল কমান্ডো বাহিনীর সমন্বয় এবং কৌশলগত বিভ্রান্তিমূলক তৎপরতার' মাধ্যমে। পেন্টাগনের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরাকে ইসরায়েলি কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। জানতে চাইলেও এটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানায়। তবে অঞ্চলটিতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক মার্কিন সামরিক কমান্ডার, পেন্টাগন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিবেচনায় পশ্চিম ইরাকে ইসরায়েলি উপস্থিতির বিষয়ে সেন্ট্রাল কমান্ড কিছুই জানত না — এমনটা কল্পনাও করা যায় না।
অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি এবং লাগামহীন খেলাপি ঋণের কারণে দেশের ব্যাংক খাতে তীব্র মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে। একের পর এক ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মূলধন ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা পুরো খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ২০টি ব্যাংক বড় ধরনের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এর আগে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ২৩টি ব্যাংকে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। যদিও সাম্প্রতিক প্রান্তিকে ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা কমেছে, অর্থনীতিবিদদের মতে এটি প্রকৃত উন্নতি নয়, বরং নীতিগত সহায়তার কারণে কাগজে-কলমে সাময়িক পরিবর্তন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ সূচক ক্যাপিটাল টু রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও (সিআরএআর) ডিসেম্বর শেষে নেমে এসেছে ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশ থাকা বাধ্যতামূলক। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ লাগামহীন খেলাপি ঋণ। ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০.৬০ শতাংশ। চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি জনতা ব্যাংকের ২২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। ইসলামী ধারার সাতটি ব্যাংকের সম্মিলিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি, ৬৪ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। এছাড়া বেসরকারি সাতটি ব্যাংকের ঘাটতি ৩৩ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত দুই ব্যাংক—বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক—এও বড় ধরনের মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ অনুমোদন, দুর্বল পরিচালনা ব্যবস্থা এবং খেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুনঃতফসিল নীতির মাধ্যমে কিছু ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়েছে, ফলে প্রভিশন সংরক্ষণের চাপ কমায় কাগজে-কলমে মূলধন ঘাটতি কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এবং ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা না ফিরলে এই সংকট আরও গভীর হবে, যা বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আসন্ন জুনে বাংলাদেশ সফরে আসবে অস্ট্রেলিয়া। এই সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ অজিরা। আগেই সিরিজের সূচি ঘোষণা করলেও এবার ম্যাচের সময়সূচি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সমান তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে দুই দল। ওয়ানডে সিরিজের সব ম্যাচ হবে ঢাকার শের ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ হবে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। আগামী ৬ জুন বাংলাদেশে পৌঁছাবে অস্ট্রেলিয়া দল। পরদিন মিরপুরে অনুশীলন করবে তারা। বাংলাদেশ দলও এই সময়ে মিরপুরে অনুশীলন ক্যাম্প করবে। ৯ জুন সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে দুই দলের মাঠের লড়াই। দ্বিতীয় ওয়ানডে ১১ জুন। সিরিজের শেষ ম্যাচটি মাঠে গড়াবে ১৪ জুন। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে সকাল ১১টায়। ওয়ানডে সিরিজ শেষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে চট্টগ্রামে যাবে দুই দল। প্রথম টি-টোয়েন্টি ১৭ জুন, দ্বিতীয়টি ১৯ জুন এবং শেষ ম্যাচ ২১ জুন। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে দুপুর ২টায়।
অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি এবং লাগামহীন খেলাপি ঋণের কারণে দেশের ব্যাংক খাতে তীব্র মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে। একের পর এক ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মূলধন ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা পুরো খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ২০টি ব্যাংক বড় ধরনের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এর আগে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ২৩টি ব্যাংকে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। যদিও সাম্প্রতিক প্রান্তিকে ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা কমেছে, অর্থনীতিবিদদের মতে এটি প্রকৃত উন্নতি নয়, বরং নীতিগত সহায়তার কারণে কাগজে-কলমে সাময়িক পরিবর্তন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ সূচক ক্যাপিটাল টু রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও (সিআরএআর) ডিসেম্বর শেষে নেমে এসেছে ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশ থাকা বাধ্যতামূলক। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ লাগামহীন খেলাপি ঋণ। ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০.৬০ শতাংশ। চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি জনতা ব্যাংকের ২২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। ইসলামী ধারার সাতটি ব্যাংকের সম্মিলিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি, ৬৪ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। এছাড়া বেসরকারি সাতটি ব্যাংকের ঘাটতি ৩৩ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত দুই ব্যাংক—বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক—এও বড় ধরনের মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ অনুমোদন, দুর্বল পরিচালনা ব্যবস্থা এবং খেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুনঃতফসিল নীতির মাধ্যমে কিছু ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়েছে, ফলে প্রভিশন সংরক্ষণের চাপ কমায় কাগজে-কলমে মূলধন ঘাটতি কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এবং ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা না ফিরলে এই সংকট আরও গভীর হবে, যা বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যে এ ঘটনায় নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আবুধাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার আল-ধাফরা এলাকায় অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার ভেতরে ড্রোন হামলায় জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি এবং তেজস্ক্রিয়ার মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আমিরাতের পারমাণবিক কেন্দ্র পরিচালনা সংস্থা জানিয়েছে, আরব উপদ্বীপের প্রথম নির্মিত এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এই হামলার কারণে ব্যাহত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে সংস্থাটি জানিয়েছে, সব ইউনিট স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এই ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেনি। অন্যদিকে, আরব আমিরাতও প্রকাশ্যে কোনও দেশকে দায়ী করেনি। পরে এক বিবৃতিতে আমিরাতের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘সফলভাবে’ দুটি ড্রোন ঠেকিয়েছে। তবে তৃতীয় একটি ড্রোন বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে জেনারেটরে আঘাত হেনেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড্রোনগুলো ‘পশ্চিম সীমান্ত’ থেকে উড়ে এসেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। হামলা কোথা থেকে হয়েছে তা নিশ্চিত করে জানতে তদন্ত চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরুর পর থেকে এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের কাছ থেকে বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে আরব আমিরাত। রোববার আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, এ ঘটনার ফলে একটি চুল্লিকে সাময়িকভাবে জরুরি ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ড্রোন হামলার ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক স্থাপনার জন্য হুমকি হয়, এমন কোনও সামরিক তৎপরতা গ্রহণযোগ্য নয়।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (১৭ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে গত ১৬ মার্চ তিনি সিআইডি প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২৫ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিকে, প্রায় দুই মাস ধরে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ ইউনিট ডিএমপির কমিশনার পদটি শূন্য ছিল। সাবেক কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর পদত্যাগের পর অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরোয়ার ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তার অবসরের পর অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মোসলেহ উদ্দিন আহমদের গ্রামের বাড়ি খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায়। তিনি ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। সিআইডিতে যোগদানের আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর ডিআইজি (হেডকোয়ার্টার) পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি হন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে (সিএমপি) দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি কুষ্টিয়া, ভোলা ও শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জাতিসংঘের অধীনে আফ্রিকান ইউনিয়ন–ইউনাইটেড নেশনস হাইব্রিড অপারেশন ইন দারফুরে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডিএমপির নতুন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। এ আলোচনায় র্যাবের এডিজি ফারুক আহমেদের নামও শোনা যায়। এর পাশাপাশি সম্প্রতি মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও নির্বাচিত করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ইরান গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে পারে। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তাদের দ্রুত এগোতে হবে, না হলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আনোয়ার গারগাশ একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার জন্য কাকে দায়ী করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি আমিরাত সরকার। এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো পশ্চিম সীমান্ত দিক থেকে প্রবেশ করেছিল। সূত্র : আল-জাজিরার।
বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার বড় চুক্তির পরও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ১০টি এয়ারক্রাফট বিক্রির নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এ চুক্তির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা (১ ডলার = ১২২.৭৩ টাকা হিসেবে)। এর আগে এয়ারবাসও বিমানের কাছে উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তখন সে প্রস্তাব গ্রহণ না করে বোয়িং থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ আবারও ১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে এয়ারবাস। নতুন প্রস্তাবে এয়ারবাস ছয়টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং চারটি এ৩২১-নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ সরবরাহের কথা জানিয়েছে। এ৩৫০-৯০০ মডেলে ২৮০টি আসন এবং এ৩২১-নিও মডেলে ২১৫টি আসন রয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এয়ারবাসের একটি প্রতিনিধি দল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে এবং বিমানের টেকনো-ফিন্যান্স কমিটিতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। বৈঠকে মিক্সড ফ্লিট পরিচালনার সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়। এর আগে ২০২৪ সালে এয়ারবাস ১৪টি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল, যার মধ্যে ১০টি কেনার প্রাথমিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এয়ারবাসের প্রস্তাব বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আর্থিক সুবিধা এবং পরিচালনাগত বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় ধরনের উড়োজাহাজ থাকলে রুটভেদে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ফ্লিট ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা বাড়ানো সম্ভব। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩৪–৩৫ অর্থবছর নাগাদ বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
২০২৫ সালের ৩ মার্চ। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা। ইরাকের দুর্গম পশ্চিম মরুভূমিতে এক বেদুইন শিবিরের বাসিন্দারা একটি ট্রাক যেতে দেখেন। এটি ছিল স্থানীয় এক মেষপালকের গাড়ি। গাড়িটি কাছেই আল-নুখাইব শহরের দিকে যাচ্ছিল। তবে কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাকটি ফিরে আসতে দেখেন তারা। তবে সেটি আর অক্ষত ছিল না। যেন অসংখ্য গুলিতে ট্রাকটি ঝাঁঝড়া হয়ে গেছে। ট্রাকটির কোনো অংশ আগুনও জ্বলছিল। শিবিরের তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটি হেলিকপ্টার ট্রাকটিকে ধাওয়া করছিল এবং সেখান থেকে অনবরত গুলি ছোড়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে ট্রাকটি মরুভূমিতে থেমে যায়। ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন ২৯ বছর বয়সি আওয়াদ আল-শাম্মারি। তিনি বাজার করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আওয়াদের চাচাতো ভাই আমির আল-শাম্মারি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, আওয়াদ ঘটনাবশত এমন এক গোপন ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছিলেন, যা ইরাকের মরুভূমিতে গোপন অবস্থায় ছিল। তাদের ধারণা, এই ঘাঁটির সন্ধান পাওয়ার কারণেই হয়ত আওয়াদের প্রাণ গেছে। আওয়াদের এই সন্ধানের মধ্যে দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, ইরাকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গোপনে ইসরায়েলি দুটি ঘাঁটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। উল্লেখ্য, ইসরায়েলকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে মনে করে ইরাক। আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আওয়াদ এক সময় ইরাকের আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তিনি কিছু সৈন্য, হেলিকপ্টার এবং তাঁবু দেখতে পেয়েছেন। ইরাকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য ইসরায়েল সেখানে এই ঘাঁটি পরিচালনা করছিল। ইরাকে ইসরায়েলি ঘাঁটির উপস্থিতির খবর এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশ করেছিল। তবে ইরাকের কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, পশ্চিম মরুভূমিতে আরও একটি দ্বিতীয় গোপন ঘাঁটি ছিল, যা আগে প্রকাশিত হয়নি। আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, আওয়াদ যে ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছিলেন, সেটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগেই স্থাপন করা হয়েছিল এবং ২০২৫ সালের জুনে তেহরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, ভবিষ্যৎ সংঘাতের কথা মাথায় রেখে ইসরায়েল ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই অস্থায়ী এই ঘাঁটি তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছিল এবং দূরবর্তী এলাকাগুলো চিহ্নিত করছিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে এসব ঘাঁটি ও আওয়াদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বারবার জানতে চাইলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি। আওয়াদের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শীরা নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি। একইভাবে, ইসরায়েলি ঘাঁটি নিয়ে কথা বলা অধিকাংশ কর্মকর্তাও পরিচয় গোপন রাখতে চান। তাদের দেওয়া তথ্য থেকে বোঝা যায়, অন্তত একটি ঘাঁটির বিষয়ে, অর্থাৎ যেটি আওয়াদ আবিষ্কার করেছিলেন, সেটির বিষয়ে ওয়াশিংটন ২০২৫ সালের জুন বা তারও আগে থেকেই জানত। এর অর্থ হতে পারে, ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে এটা জানায়নি যে তাদের ভূখণ্ডে একটি শত্রু শক্তি (ইসরায়েলি বাহিনী) সক্রিয় রয়েছে। ইরাকি আইনপ্রণেতা ওয়াদ আল-কাদু বলেন, 'এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব, সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী এবং জনগণের মর্যাদার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।' আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেন, ইরাকে গোপনে কার্যক্রম চালানো নিরাপদ হবে— এমন সিদ্ধান্ত নিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরাকের নিরাপত্তা সহযোগিতাকেই বিবেচনায় নিয়েছিল। দুই ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত বছরের যুদ্ধ এবং বর্তমান সংঘাত উভয় সময়েই ওয়াশিংটন ইরাককে তাদের রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছিল, যাতে মার্কিন বিমান নিরাপদে চলাচল করতে পারে। এর ফলে শত্রু তৎপরতা শনাক্ত করতে বাগদাদকে আরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয়। এই ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় ইরাকের জন্যও অস্বস্তিকর কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। যেমন— একজন মেষপালক বিষয়টি প্রকাশ না করা পর্যন্ত কি সত্যিই ইরাকি বাহিনী বিদেশি উপস্থিতি সম্পর্কে জানত না? নাকি তারা জানার পরেও চুপ ছিল? যে সম্ভাবনাই সত্য হোক না কেন, এ থেকে স্পষ্ট হয় যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যে আটকে থাকা ইরাক এখনো নিজের ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ওয়াদ আল-কাদু বলেন, 'আমাদের নিরাপত্তা নেতাদের অবস্থান লজ্জাজনক।' ইরাকি সামরিক বাহিনীর পশ্চিম ইউফ্রেটিস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আল-হামদানি বলেন, মেষপালকের আবিষ্কারের এক মাস আগেই সেনাবাহিনী মরুভূমিতে ইসরায়েলি উপস্থিতির সন্দেহ করেছিল। তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে নীরব রয়েছে।' ইসরায়েলি ঘাঁটির বিষয়টি স্বীকার করা ইরাক সরকারের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ, ইরাকের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং দেশটির জনগণ ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবেই দেখে। ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, 'ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে ইরাকের কাছে কোনো তথ্য নেই।' দুই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, আওয়াদ যে ঘাঁটিটি উন্মোচন করেছিলেন, সেটি ইসরায়েল বিমান সহায়তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং চিকিৎসা সেবার জন্য ব্যবহার করত। ঘাঁটিটি স্থাপন করা হয়েছিল যাতে ইসরায়েলি বিমানকে ইরানে পৌঁছাতে কম দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। এটি মূলত অস্থায়ী উপস্থিতি হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল, বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধের মতো সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য। কর্মকর্তাদের মতে, সেই যুদ্ধে ঘাঁটিটি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়। গত বছরের যুদ্ধের পর দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সফল করা সম্ভব হয়েছে 'বিমান বাহিনী ও স্থল কমান্ডো বাহিনীর সমন্বয় এবং কৌশলগত বিভ্রান্তিমূলক তৎপরতার' মাধ্যমে। পেন্টাগনের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরাকে ইসরায়েলি কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। জানতে চাইলেও এটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানায়। তবে অঞ্চলটিতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক মার্কিন সামরিক কমান্ডার, পেন্টাগন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিবেচনায় পশ্চিম ইরাকে ইসরায়েলি উপস্থিতির বিষয়ে সেন্ট্রাল কমান্ড কিছুই জানত না — এমনটা কল্পনাও করা যায় না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ইরান গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে পারে। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তাদের দ্রুত এগোতে হবে, না হলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আনোয়ার গারগাশ একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার জন্য কাকে দায়ী করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি আমিরাত সরকার। এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো পশ্চিম সীমান্ত দিক থেকে প্রবেশ করেছিল। সূত্র : আল-জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক চাপ ও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভিন্নধর্মী এক বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ৪,৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো ‘আবারকুহ সাইপ্রেস’ বা ‘জোরোস্ট্রিয়ান সার্ভ’ গাছের একটি ছবি শেয়ার করে ইরানি সভ্যতার প্রাচীন ও গভীর শিকড়ের কথা তুলে ধরেন। খবর তাসনিম নিউজ এজেন্সি’র। শনিবার (১৭) প্রকাশিত ওই বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান লেখেন, হাজার বছরের পুরোনো এই বৃক্ষ ইরানের সভ্যতার দৃঢ়তা ও ধারাবাহিকতার প্রতীক। এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন জীবিত উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত এই ঐতিহাসিক ‘আবারকুহ সাইপ্রেস’ এমন এক অঞ্চলে অবস্থান করছে, যা প্রাচীনকাল থেকেই ইরান নামে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেই এই প্রতীকী বার্তার মাধ্যমে তিনি ইরানের দীর্ঘ ইতিহাস ও অস্তিত্বকে সামনে এনেছেন। তাদের মতে, এর মাধ্যমে ইরানের অবস্থান ও টিকে থাকার সক্ষমতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ‘সার্ভ-ই আবারকুহ’ নামে পরিচিত এই পারস্য সাইপ্রেস গাছটি ইরানের আবারকুহ অঞ্চলে অবস্থিত। উদ্ভিদবিদদের ধারণা, এর বয়স প্রায় ৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ বছর। এটিকে শুধু এশিয়ার নয়, বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন জীবন্ত বৃক্ষ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। প্রায় ২৫ মিটার উচ্চতার এই গাছটির কাণ্ডের পরিধি প্রায় ১১.৫ মিটার। হাজার বছরের পরিবর্তন ও সময়ের সাক্ষী হয়েও এটি আজও সবুজ ও জীবন্ত, যা অনেকের কাছে পারস্য সভ্যতার স্থায়িত্ব, শক্তি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর ‘পাকিস্তান ভূগোলে থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে’— এমন মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বলেছে, এ ধরনের বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়াকে আরেকটি ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। রোববার এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, যা দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও ভূগোলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশটিকে লক্ষ্য করে যেকোনও আগ্রাসী পদক্ষেপ কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এর আগে শনিবার নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভারতীয় সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালানো বন্ধ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা বিশ্বের মানচিত্রে থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে— সে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। ওই বক্তব্যের পরদিনই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। আইএসপিআর বলেছে, উগ্র জাতীয়তাবাদী ও যুদ্ধংদেহী মানসিকতা অতীতেও দক্ষিণ এশিয়াকে একাধিকবার যুদ্ধ ও সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আট দশক পরও ভারতীয় নেতৃত্ব ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি বলেও মন্তব্য করা হয় বিবৃতিতে। পাকিস্তান আরও বলেছে, কোনও পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ হুমকি দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও বিপজ্জনক মানসিকতার পরিচয়। এমন কোনও পদক্ষেপের পাল্টা জবাবও হবে সমানভাবে কঠোর এবং এর পরিণতি গোটা অঞ্চলের জন্যই ভয়াবহ হতে পারে। একই সঙ্গে ভারতকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, আন্তঃসীমান্ত হত্যাকাণ্ড এবং বৈশ্বিক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।