বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জেলায় বাড়তে শুরু করেছে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলার পাহাড়ি ও দুর্গম উপজেলা-কে এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তত ১৭ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯ জন শনাক্ত হয়েছেন দীঘিনালায়। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় একজন, মাটিরাঙ্গায় তিনজন, রামগড়ে দুজন, মহালছড়িতে একজন এবং লক্ষ্মীছড়িতে একজন আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত জেলায় মোট ৪২ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু দীঘিনালাতেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন, যা মোট রোগীর অর্ধেকের বেশি। এ কারণে উপজেলাটিকে ম্যালেরিয়ার ‘হটস্পট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে জেলায় ৭৫ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৯। এছাড়া ২০২৩, ২০২২, ২০২১ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ৩৩, ৯, ৫ ও ১০ জন রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি, বনাঞ্চলঘেরা পরিবেশ এবং জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার দ্রুত হওয়ায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় সচেতনতার অভাব ও দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। , জেলা সার্ভেইলেন্স মেডিকেল অফিসার, বলেন—ম্যালেরিয়ার কিছু ধরন অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই জ্বর হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি মশার কামড় এড়াতে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। তিনি পাহাড়ি এলাকায় কর্মরত ব্যক্তিদের ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরারও পরামর্শ দেন। খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন জানান, বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণা, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তার মতে, দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। দেশ ছাড়ার আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাই কমিশন টাইগ্রেসদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ,-এর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী-এর কন্যা। ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ক্রিকেট বাংলাদেশ ও যুক্তরাজয়ের মানুষের মধ্যে একটি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করেছে। তিনি বাংলাদেশ নারী দলকে শুভকামনা জানিয়ে বলেন, “আমরা খুব আনন্দিত বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে স্বাগত জানাতে পেরে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।” তিনি আরও জানান, এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের গ্রুপে না থাকায় তিন দলকেই সমর্থন জানাতে তার কোনো দ্বিধা নেই। তার এ মন্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা করতালিতে সাড়া দেন। বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের সংগ্রামের গল্প দেশের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা। অনুষ্ঠানে অধিনায়ক ব্রিটিশ হাইকমিশনারের হাতে বাংলাদেশের জার্সি তুলে দেন। বিসিবির পক্ষ থেকে স্মারক প্রদান করেন পরিচালক সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ। পরে নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন সারাহ কুক ও জাইমা রহমান। জ্যোতি জানান, জাইমা রহমান ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং বিশ্বকাপের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যে দেশে খেলতে যাচ্ছি, সেই দেশের দূতাবাস থেকে এমন আয়োজন আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা।” বাংলাদেশ দলের পেসার-কে দলের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। তার মতে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশন পেস বোলিংয়ের জন্য সহায়ক হওয়ায় মারুফা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই জলপথে কোনো ধরনের টোল আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আমরা রয়েছি। আমাদের নৌ-অবরোধ শতভাগ কার্যকর। কেউ এই অবরোধ ভাঙতে পারেনি। এটি অনেকটা লোহার দেয়ালের মতো।” ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা হরমুজকে উন্মুক্ত রাখতে চাই। এখানে কোনো টোল গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ।” এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ২৪টি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এরপর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ অঞ্চল ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে। সূত্র: আলজাজিরা
সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার প্রায় সব বড় তেল শোধনাগার সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার (২০ মে) রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার মুখে পড়া শোধনাগারগুলোর মোট বার্ষিক সক্ষমতা ৮ কোটি ৩০ লাখ টনের বেশি, যা রাশিয়ার মোট তেল পরিশোধন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এসব শোধনাগার দেশটির মোট পেট্রোল উৎপাদনের ৩০ শতাংশের বেশি এবং ডিজেল উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ইতোমধ্যে এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পেট্রল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও সংরক্ষণাগার। এর ফলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়ার তেল উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির ফেডারেল বাজেটেও এর প্রভাব পড়ছে। কারণ রাশিয়ার মোট রাজস্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে তেল ও গ্যাস খাত থেকে। হামলার শিকার হওয়া প্রধান শোধনাগারগুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম রাশিয়ার কিরিশি, মস্কো অয়েল রিফাইনারি, ভলগা নদীর তীরে নিঝনি নোভগোরদ, রিয়াজান ও ইয়ারোস্লাভল এলাকার শোধনাগার। সূত্রগুলো জানায়, রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কিরিশি শোধনাগারটি গত ৫ মে থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ২ কোটি মেট্রিক টন। এছাড়া ১ কোটি ৭০ লাখ টন সক্ষমতার নিঝেগোরোদনেফতেওর্গসিনতেজ (নরসি) শোধনাগারেও ২০ মে হামলা চালানো হয়। হামলার পর সেটি আংশিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পেরেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
রাজধানীর পল্লবীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছরের শিশু রামিসার বাসায় গিয়ে পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় রামিসার বড় বোনের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের বাসায় পৌঁছান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ আরও অনেকে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী রামিসার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। দ্রুত বিচারের আশ্বাসও দেন তিনি। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। একইসঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের ভেতরে নতুন করে ‘এস আলম’ ও ‘সালমান এফ রহমান’ হওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে অতীতের লুটপাট ও রাজনৈতিক প্রভাবের সংস্কৃতি এখনো বন্ধ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় “বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট : কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার এবং জনপ্রত্যাশার বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি সংস্কারমুখী, বিনিয়োগবান্ধব ও কর্মসংস্থানভিত্তিক বাজেট প্রত্যাশা করে। তবে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় অর্থনৈতিক সংস্কারের গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নাহিদের ভাষ্য, গত ১৬ বছরে ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা ছিল, বর্তমান সরকারের সময় এই সংস্কৃতির অবসান হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, নতুন করে কে এস আলম হবে, কে সালমান এফ রহমান হবে—সেই প্রতিযোগিতাই শুরু হয়েছে।” দেশীয় ব্যবসায়ীদের আস্থা ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, শুধুমাত্র উপদেষ্টা কমিটিতে ব্যবসায়ীদের রাখলেই আস্থা তৈরি হয় না; বরং সৎ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলো সহজেই ঋণ পেলেও ক্ষুদ্র কৃষক বা সাধারণ ব্যবসায়ীরা সামান্য ঋণের ক্ষেত্রেও কঠোর চাপের মুখে পড়েন। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কোনো একক সরকারের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়; এজন্য সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ও সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর’ বিষয়ক চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এর ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে স্বাক্ষরের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার অষ্টম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাপানের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, সাতটি বৃহৎ বিড়াল প্রজাতির সুরক্ষায় গঠিত বৈশ্বিক জোট ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এর ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৩ সালের এপ্রিলে গঠিত এই জোটে বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, তুষার চিতাবাঘ, পুমা, জাগুয়ার ও চিতা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে জাতিসংঘের ২৪টি সদস্য রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এতে যুক্ত রয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের সুন্দরবন-এর অন্যতম প্রধান আবাসস্থল হওয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এই জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চুক্তির আওতায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণী বাণিজ্য প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের জন্য বৈশ্বিক চুক্তি’ বাস্তবায়নে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের খসড়া জাতীয় কর্মপরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, ২০১৮ সালে জাতিসংঘে গৃহীত এই বৈশ্বিক চুক্তিতে বাংলাদেশসহ ১৬৪টি দেশ যুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ২০২০ সালে বাংলাদেশকে এ চুক্তির ‘চ্যাম্পিয়ন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বৈঠকে আরও জানানো হয়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সাতটি মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জেলায় বাড়তে শুরু করেছে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলার পাহাড়ি ও দুর্গম উপজেলা-কে এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তত ১৭ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯ জন শনাক্ত হয়েছেন দীঘিনালায়। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় একজন, মাটিরাঙ্গায় তিনজন, রামগড়ে দুজন, মহালছড়িতে একজন এবং লক্ষ্মীছড়িতে একজন আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত জেলায় মোট ৪২ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু দীঘিনালাতেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন, যা মোট রোগীর অর্ধেকের বেশি। এ কারণে উপজেলাটিকে ম্যালেরিয়ার ‘হটস্পট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে জেলায় ৭৫ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৯। এছাড়া ২০২৩, ২০২২, ২০২১ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ৩৩, ৯, ৫ ও ১০ জন রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি, বনাঞ্চলঘেরা পরিবেশ এবং জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার দ্রুত হওয়ায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় সচেতনতার অভাব ও দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। , জেলা সার্ভেইলেন্স মেডিকেল অফিসার, বলেন—ম্যালেরিয়ার কিছু ধরন অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই জ্বর হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি মশার কামড় এড়াতে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। তিনি পাহাড়ি এলাকায় কর্মরত ব্যক্তিদের ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরারও পরামর্শ দেন। খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন জানান, বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণা, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তার মতে, দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যম জানিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, নিহতদের মধ্যে ১২ জন একটি মাত্র হামলায় মারা যান।মঙ্গলবারের ওই হামলায় দেইর কানুন আল-নাহর শহরের একটি বাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও তিন নারী ছিলেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা আগে বলেছিল যে তারা ইরান-সমর্থিত শিয়া ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হেজবুল্লাহ হামলা চালালে একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়। এটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন এক সপ্তাহেরও কম আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল যে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছে এবং আগামী মাসে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দোসরা মার্চ ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধে লেবানন জড়িয়ে পড়ে, যখন হেজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। তারা দাবি করে, এটি ছিল ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নিহত হওয়ার প্রতিশোধ। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পরও ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহ উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দিন-রাত ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ট্রাম্প দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই জলপথে কোনো ধরনের টোল আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আমরা রয়েছি। আমাদের নৌ-অবরোধ শতভাগ কার্যকর। কেউ এই অবরোধ ভাঙতে পারেনি। এটি অনেকটা লোহার দেয়ালের মতো।” ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা হরমুজকে উন্মুক্ত রাখতে চাই। এখানে কোনো টোল গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ।” এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ২৪টি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এরপর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ অঞ্চল ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে। সূত্র: আলজাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের পর এবার ক্যারিবিয়ান সাগরে নিজেদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিৎজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রণতরীটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড জানায়, ইউএসএস নিমিৎজের সঙ্গে রয়েছে ক্যারিয়ার এয়ার উইং-১৭, যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস গ্রিডলি এবং সরবরাহ জাহাজ ইউএসএনএস প্যাটাক্সেন্ট। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, কৌশলগত সক্ষমতা ও সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাইওয়ান প্রণালি থেকে আরব উপসাগর পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ইউএসএস নিমিৎজ। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবার সঙ্গে গত শতকের ষাটের দশক থেকেই বিরোধ চলে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের। বিভিন্ন সময়ে কিউবার সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালালেও তা সফল হয়নি। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। দুই মাস আগে দেশটির ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে কিউবায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিউবা রাশিয়া ও ইরান থেকে ৩০০ সামরিক ড্রোন কিনছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ড্রোন গুয়ান্তানামো উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটি এবং ফ্লোরিডা উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রতিবেদনের পর কিউবার গোয়েন্দা সংস্থা জি-২ এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কিউবার কয়েকজন মন্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা এবং কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতার নাম রয়েছে। এছাড়া কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি দেশটির বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন রণতরী মোতায়েন ওয়াশিংটন-হাভানা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আগামী ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিরসনে আলোচনা করতে বেইজিং সফর করেছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া ২০২৫ সালের আগস্টেও চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সে সময় তিনি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনে অংশ নেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে চীন ও রাশিয়া। বুধবার বেইজিংয়ে ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের যৌথ শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি ও মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে। যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ওয়াশিংটন নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যদিও মস্কো চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে একমত হলেও রাশিয়া ও চীন প্রত্যাশিত বড় অর্থনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। সূত্র: রয়টার্স
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার আইন মানতে ব্যর্থ হওয়ায় ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সকে জরিমানা করেছে দেশটির আদালত। অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিরাপত্তা সংস্থা ই-সেফটি ২০২৩ সালে টুইটারের কাছে জানতে চেয়েছিল, শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ক্ষতিকর কনটেন্ট ঠেকাতে তারা কী ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরে টুইটার এক্সে রূপান্তরিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় তথ্য পুরোপুরি দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালত সেই জরিমানা বহাল রেখে এক্সকে ৬ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেয়। আদালত বলেছে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতেই এই জরিমানা দেওয়া হয়েছে। ই-সেফটির প্রধান জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট ঠেকাতে কী করছে, তা জনগণের জানার অধিকার আছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।