সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে শুরুর একাদশে অনিশ্চিত সালাহ

হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার পথে থাকা মোহামেদ সালাহকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরুর একাদশে খেলাবেন কিনা, নিশ্চিত নন হোসাম হাসান। তারকা এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ মিশরের কোচ।   ডালাসে শুক্রবার শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে মিশর। ১৯৩৪ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপের পর, এই প্রথম বিশ্ব মঞ্চে কোনো নকআউট ম্যাচ খেলবে আফ্রিকার দলটি।   গত শনিবার ইরানের বিপক্ষে মিশরের ১-১ ড্র হওয়া শেষ গ্রুপ ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগে সালাহর। ৫৭তম মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তখন থেকেই নকআউট পর্বে তাকে পাওয়া নিয়ে দানা বাঁধতে শুরু করে শঙ্কা।   গত বুধবার মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অফিশিয়াল ফেইসবুক পেইজে পোস্ট করা কিছু ছবিতে সালাহকে হাসিমুখে অনুশীলন মাঠে দেখা যায়। ছবিগুলোর ক্যাপশনে তারা লিখেছিল, ‘দা কিং ইজ ব্যাক।’   অনুশীলনে ফিরলেও, পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট বোধহয় এখনও হননি সালাহ। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাকে শুরু থেকে খেলানো নিয়ে সংশয়ে আছেন কোচ হাসান।   তিনি বলেন, ‘সালাহ খুবই উদ্যমী খেলোয়াড় এবং দলে নিজের অবদান রাখার জন্য মুখিয়ে আছে। সে পুরোপুরি ফিট এবং আগামীকাল খেলার জন্য প্রস্তুত- এমনটা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি কোনো ঝুঁকি নেব না। আমরাও আশা করছি (শুক্রবার) সে খেলবে, তবে নিশ্চিত নই, সে শুরুর একাদশে থাকবে কিনা।’   চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একটি গোল করেছেন সালাহ। গ্রুপ পর্বে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে মিশরের ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন তিনি।   বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে কখনও জিততে পারেনি মিশর। ইতিহাসের গড়ার হাতছানি যে ম্যাচে, সেখানে দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে নিয়েই রয়েছে অনিশ্চয়তা।   ডালাসে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১২টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

২ মিনিট আগে
বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল সাগর, নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরল মাছ ধরার ট্রলার

বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল হয়ে ওঠা সাগরে টিকতে না পেরে শত শত ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনসহ উপকূলের মৎস্য বন্দরগুলোতে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। মাছ আহরণে দীর্ঘ ৫৮ দিনের অবরোধ শেষে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ায় কবলে পড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ফিরে আসতে হয়েছে জেলেদের।   সুন্দরবনের দুবলার ভেদাখালী খালে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা এলাকার একটি ফিশিং ট্রলারের মাঝি নজরুল ইসলাম শুক্রবার বিকালে মোবাইল ফোনে জানান, সাগরে গত দুইদিন ধরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। প্রবল বেগে ঝড়ো বাতাসে বড় বড় ঢেউয়ের কারণে সাগর উত্তাল হওয়ায় ফিশিং ট্রলাররের বহর সাগরে টিকতে না পেরে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উপকূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেক ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনের দুবলা, মেহেরআলী, আলোরকোল, ভেদাখালী, কচিখালীসহ বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।   শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, বঙ্গোপসাগরে এখন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে কয়েকশ ফিশিং ট্রলার বাগেরহাটের প্রধান মৎস্য বন্দর কেবি ঘাট, শরণখোলা, রায়েন্দা, মহিপুর, খেপুপাড়া, নিদ্রাসখিনা, পাথরঘাটা উপকূলসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার থেকে আশ্রয় নিয়ে আছে। মাছ আহরণে দীর্ঘ ৫৮দিনের অবরোধ শেষে এসব ফিশিং ট্ররার বহর সাগরে মাছ ধরতে গিয়েই দুর্যোগের কবলে পড়েছে।   বাগেরহাটের মৎস্য বন্দর রাজৈর মৎস্য ঘাটের আড়তদার কবির হোসেন জানান, সাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় এখানে অর্ধশত ফিশিং ট্রলার দুই দিন ধরে এই মৎস্য ঘাটে নিরাপদে নোঙর করে আছে।  বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ছে। উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে ফিশিং ট্রলার উপকূলের দিকে ছুটে আসছে।

৪ মিনিট আগে
হরমুজে ফি আরোপ ‘অনিবার্য’, সব দেশের জন্য সমান নীতি চায় ইউরোপ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান ও ওমান সম্ভাব্য ফি আরোপ করতে পারে—এমন পরিস্থিতিকে ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ এখন কার্যত অনিবার্য বলে বিবেচনা করছে। তবে তাদের জোরালো দাবি, এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা চালু হলে তা যেন সব দেশের জাহাজের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য না থাকে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালিতে কোনো না কোনো ধরনের সেবাভিত্তিক ফি চালুর সম্ভাবনাকে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন বাস্তবতা হিসেবে দেখছে।   তবে সম্ভাব্য এই ফি কী ধরনের হবে, কত অর্থ নির্ধারণ করা হবে কিংবা কোন প্রক্রিয়ায় তা আদায় করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ তেহরান ও মাসকাটকে জানিয়েছে, নতুন কোনো ফি ব্যবস্থা চালু করা হলে তা অবশ্যই বৈষম্যহীন হতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের জাহাজকে আলাদা সুবিধা দেওয়া বা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা যাবে না।   একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ এবং নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জোট গঠনের পক্ষেও কাজ করছে ইউরোপীয় দেশগুলো। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়টি অনেকাংশে ইরানকে ঘিরে চলমান শান্তি আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশ এখনো মনে করে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর বাধ্যতামূলক ফি আরোপের আইনি অধিকার ইরান ও ওমানের নেই। তাদের আশঙ্কা, এমন নজির তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও একই ধরনের দাবি উত্থাপিত হতে পারে।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি। সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিশ্বের অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ নৌপথে নতুন কোনো নীতিমালা বা বিধিনিষেধ কার্যকর হলে তার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণভাবে পড়তে পারে।

৭ মিনিট আগে
গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমছে, অব্যাহত নদীভাঙন

গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়াসহ সব প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবকটি নদীর পানিই এখন বিপৎসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমলেও জেলাটিতে নদীভাঙনের তীব্রতা কমেনি।   শুক্রবার (৩ জুলাই) গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিকেল ৩টার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১ সেন্টিমিটার (সেমি) হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১১৬ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।     ঘাঘট নদের পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১৬৬ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি ১০ সেমি হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৬৯ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, করতোয়া নদীর পানি ১২ সেমি পেয়ে বিপৎসীমার ২০৮ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান বন্যার মৌসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।   এদিকে চলতি মৌসুমে গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি ও কমার মধ্যে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়তই নতুন করে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি।   গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, চলমান পানি বৃদ্ধি শুরু থেকে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

৯ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য
হামের টিকা ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণে ৩৯ লাখ শিশুর ব্যবধান কেন?

দেশে হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রোগটির প্রতিষেধক বা টিকা পেয়েছে যেই শিশুরা, সেই একই বয়সিদের খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল। অথচ কাগজ-কলমে দুই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশু সংখ্যায় ব্যবধান ৩৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৩ জন!   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কর্মসূচির তুলনায় হাম-রুবেলা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় চার মিলিয়ন কম হলেও সরকারি হিসাবে কী করে টিকার কাভারেজ ১০৩ শতাংশ হলো? তাহলে কি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার ক্ষেত্রে বড়সড় কোনো গলদ আছে?   আবার শিশুদের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগ উপাদান ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর লক্ষ্য ও পূরণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা। এর মধ্যে হাম কিংবা উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে বাস্তবে কোনো উল্লেখযোগ্য সফলতাও আসে নাই।   দুই কর্মসূচিরই শিশুর বয়স ৬ থেকে ৫৯ মাস জানিয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) এক কর্মকর্তা বলেন, “ইপিআইয়ের টার্গেট শিশু হয়েছে আন্ডারএস্টিমেড, আর পুষ্টি প্রতিষ্ঠানেরটা (ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচি) হয়েছে ওভার।   হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে মোট এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ হাজার শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্য ঠিক করা হয়। মাস দুয়েক আগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।   হামের শুক্রবারের বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এক কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ জন শিশুকে প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ।   এর মধ্যে গত ২৮ জুন সারাদেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হয়েছে, যা দুর্গম অঞ্চলে চলেছে আরো চারদিন ধরে।   এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ভিটামিন এ খাওয়ানো হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের (আইপিএনএইচ) পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বৃহস্পতিবার বলেন, “আমাদের টার্গেট ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর। তবে এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।   এ ক্যাম্পেইনের আগে গত ২৫ জুন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, “জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।   আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত রোববার ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করে বলেন, “সারাদেশের বাচ্চাদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু করেছি; যার মধ্যে ছয় মাস থেকে ১১ মাস বয়সি ৩৫ লাখ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। দুটি মিলে ২ কোটি ৫৫ লাখের বেশি শিশুদের এই ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। আর হামের বুলেটিনের পরিসংখ্যান অনুসারে, টিকা নিয়েছে এক কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ জন শিশু।   গলদ কোথায়? ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে ঠিক করা হয়েছিল, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, “আমরা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে শিশুদের তথ্য চেয়েছিলাম, তাদের থেকে পাওয়া তথ্য একসঙ্গে করে আমরা ক্যাপসুল খাওয়ানোর শিশুদের সংখ্যা নির্ধারণ করেছি।   হামের টিকাদানের চেয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানোতে শিশুদের সংখ্যার তারতম্য নিয়ে তিনি বলেন, “সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কেন্দ্র কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে জানা নাই। আমরা আমাদের পদ্ধতিতে শিশুদের তালিকা করেছি।   হামের টিকাদান কর্মসূচি এবং ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন কর্মকর্তা-বিশেষজ্ঞ বলেন, মাইক্রোপ্ল্যান করে টিকাদানের যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়, এবার সেটি ঠিক করার মতো ‘পর্যাপ্ত সময় মেলেনি’। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মাইক্রোপ্ল্যানের জন্য সাধারণত দুই থেকে তিন মাস সময়ের দরকার পড়ে। এবার টিকার ক্যাম্পেইন মে মাসের শুরুতে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে তরিঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ফলে মে মাসের ক্যাম্পেইন শুরু হয় এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ।   একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “ইপিআই জুন মাসের আগে টিকা ক্যাম্পেইনের পক্ষে ছিল না। কিন্তু সরকারি চাপ এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় টিকা দেওয়া শুরু হয়।   হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সমালোচনার মধ্যে সরকার জরুরি ভিত্তিতে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বা পাঁচ বছর বয়সি টিকা দেওয়া শুরু করে। এরপর ১২ এপ্রিল শুরু হয় চার সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একই বয়সি শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার, যা শেষ হয় ২০ মে।   ইপিআই সম্পর্কে ওয়াকিবহাল—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবার পরিস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ের পরিকল্পনা বা ‘মাইক্রোপ্ল্যানের’ জন্য সেভাবে সময় পাওয়া যায়নি। তাই ২০২২ সালের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে টিকার জন্য টার্গেট শিশুর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।   তার ভাষ্য, জরুরি ক্যাম্পেইনের জন্য ২ কোটি ১০ লাখের মতো টিকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।   “সেই হিসাবে ক্যাম্পেইনে আরো শিশু টিকা পাওয়া কথা।”   রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান ২৭ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “টিকাদানের ক্ষেত্রে গ্যাভি মূলত পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুসরণ করে। আর সর্বশেষ পরিসংখ্যানে আমাদের শিশুদের সংখ্যা কিছুটা কম দেখানো হয়েছে। এই একটি কারণে টিকাদান এবং ক্যাপসুল খাওয়ানোর টার্গেট শিশু সংখ্যার বড় ব্যবধান দেখা দিতে পারে।   “দ্বিতীয়ত, ইপিআইয়ের টিকাদানের ক্ষেত্রে এবার খুব ভালোভাবে মাইক্রোপ্ল্যান হয়নি, সেটি আরেকটি কারণ হতে পারে।   সব শিশুর হামের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, “এটি ছাড়া হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।   টিকার ‘কাভারেজ’ নিয়ে প্রশ্ন সরকারি হিসাবে লক্ষ্যের তুলনায় ১০৩ শতাংশ টিকাদানের তথ্য দেওয়া হলেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণেই যে গলদ আছে তা ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচিতে স্পষ্ট। দেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুর ‘প্রকৃত সংখ্যা’ কত তা জানার সুযোগ নেই। তবে ‘প্রকৃত সংখ্যার’ চাইতে ‘কম সংখ্যক’ শিশুকে টিকা দেওয়ায় এখনো হাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি না বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ।   সরকারি হিসাবেই শুক্রবার পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে ৭২৪ জনের প্রাণ গেছে। প্রতিদিনই এ পরিসংখ্যানে নতুন নতুন নাম যোগ হচ্ছে।   সরকারি টিকার ‘কাভারেজ’র তথ্য নিয়ে সন্দিহান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন।   তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারি যে টার্গেট শিশু—তারা কাভারেজের অংশ হয়েছে। সেখানে দেশের সব শিশু অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে।   “সর্বশেষ ক্যাম্পেইনের আগে পর্যাপ্ত সময় পায়নি, তাই হয়তো মাইক্রোপ্ল্যানে অনেক শিশু বাদ পড়েছে। কিন্তু মহামারী মোকাবিলায় সবাইকে টিকা দেওয়া জরুরি।   টিকার ‘কাভারেজ’ নিয়ে সংশয় রয়েছে আরেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদেরও।   তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটি এলাকায় টিকার কাভারেজ যদি ৯৫ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে সেই এলাকায় হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।   সরকারের ১০০ শতাংশের বেশি ‘কাভারেজের’ দাবির বিষয়ে অধ্যাপক বেনজির বলেন, “টিকার কাভারেজ সরকার যা বলছে তা হয়তো সঠিক নয়।   “কারণ শতভাগ টিকা কাভারেজ হলে এত সময় পর অবশ্যই হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতো, যেটি হয়নি। এটি থেকে বোঝা যায়, টিকার কাভারেজে সমস্যা আছে।   তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের দাবি, টিকার ‘কাভারেজ’ খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।   তিনি গত ১৮ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “বর্তমানে হামের সংক্রমণ, নিশ্চিত হাম রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা আগের চেয়ে কমে গেছে। আর হাম একবারে কমে যাবে না। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আশা করি, জুন মাসের শেষে একেবারে কমে যাবে।   স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী রোববার বলেন, “এত বড় সংখ্যা ব্যবধানের একটি বিষয় হতে পারে যে, আমাদের দেশের কিছু জায়গায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আওতায় আগেই হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, “টিকা কাভারেজে সংখ্যার ভুল হওয়ার কথা নয়। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা আমাদের টার্গেট শিশু সংখ্যা নির্ধারণে সাহায্য করে। তবে বিষয়টা নিয়ে আমরা আরেক বার মিলিয়ে দেখব।   তবে জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী মনে করেন, এবার আসলে লক্ষ্যমাত্রায় গলদ হয়েছে।   টিকার কাভারেজ সরকারিভাবে যা দেখানো হচ্ছে, সেটি ঠিক নয়। ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর সংখ্যাই সঠিক। হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ টিকার কাভারেজ প্রয়োজন, তা থেকে আমরা দূরে আছি। এ জন্য হামের সংক্রমণ কমছে না। দ্রুত শিশুদের টিকা দিতে হবে।   সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শুক্রবার বলেন, “দুটারই টার্গেট শিশুর সংখ্যা সঠিক। তবে টিকার গ্রহণের ভীতি থেকে অনেক বাচ্চা টিকা নেয়নি, সে কারণে টিকা ক্যাম্পেইনে শিশুর সংখ্যা কম হয়েছে। আর ক্যাপসুলের ক্ষেত্রে সেটা বেশি হয়েছে।   তবে আমাদের টিকার ক্যাম্পেইন শেষ হলেও বাদ পরা শিশুদের এখনো টিকা দেওয়া হচ্ছে৷ আশা করি, বাদ পড়া বড় সংখ্য শিশুরাও টিকার আওতায় আসবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৩, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
দেশে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটছে: মির্জা ফখরুল

এখন নতুন করে আরেকটি শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ উদারপন্থি রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এ দেশের মানুষ ধর্মভিরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। এখানে মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষই রয়েছে।    শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।   এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই মাসে আমরা আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়েছি কিন্তু এখন আমাদের সামনে আরেকটি শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এমন একটি রাজনৈতিক দল যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেনি। তারা মানুষকে ভুল বুঝিয়ে, ধর্মপ্রাণ মহিলাদের ভুল বুঝিয়ে ভোট ব্যাংকে হাত দিয়েছে। এই ভোটব্যাংক ঠিক করার দায়িত্ব দলের নেতাকর্মীদের।   তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন করার চেষ্টা করছে। মিথ্যাচার করে বলছে আমরা জুলাই সনদ মানি না, এটা সত্য নয়।   নেতাকর্মীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, চিরস্থায়ী নয় কিন্তু দল থাকবে, সংগঠন থাকবে। দীর্ঘ ১৮ বছর আপনারা মাথা নত করেননি। এ সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।   এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলি, স্থায়ী কমিটির সদস্য নুর করিমসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমছে, অব্যাহত নদীভাঙন

গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়াসহ সব প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবকটি নদীর পানিই এখন বিপৎসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমলেও জেলাটিতে নদীভাঙনের তীব্রতা কমেনি।   শুক্রবার (৩ জুলাই) গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিকেল ৩টার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১ সেন্টিমিটার (সেমি) হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১১৬ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।     ঘাঘট নদের পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১৬৬ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি ১০ সেমি হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৬৯ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, করতোয়া নদীর পানি ১২ সেমি পেয়ে বিপৎসীমার ২০৮ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান বন্যার মৌসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।   এদিকে চলতি মৌসুমে গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি ও কমার মধ্যে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়তই নতুন করে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি।   গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, চলমান পানি বৃদ্ধি শুরু থেকে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা উদ্বেগের: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং

কোনো দেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা ‘উদ্বেগের বিষয়’ মন্তব্য করে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য গ্রেস মেং বলেছেন, এ ধরনের প্রবণতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ‘দুর্বল’ করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতি এবং প্রবাসী বাঙালিদের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।   বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে গ্রেস মেং বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি আইন ভঙ্গ করে থাকেন, তবে অবশ্যই তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উদ্বেগের বিষয় এবং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।   গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিৎ বলে মত দেন তিনি।   কুইন্সে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা থেকে নির্বাচিত চীনা বংশদ্ভূত গ্রেস মেং মার্কিন কংগ্রেসে নিউ ইয়র্ক থেকে যাওয়া প্রথম এশিয়ান। বাংলাদেশ ককাসের (মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের একটি অনানুষ্ঠানিক দল, যা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করে) সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির এই কংগ্রেস সদস্য।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে অভিবাসীদের উদ্দেশে আপনার কোনো বার্তা আছে?   গ্রেস মেং: যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই অভিবাসীদের দেশ এবং অভিবাসীরা এ দেশের সাফল্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা আমেরিকার উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখেছেন, যার সুফল আজ আমরা সবাই ভোগ করছি। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   অন্যান্য সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত অভিবাসী সম্প্রদায়ের মত বাংলাদেশি আমেরিকানরাও যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। অভিবাসীর সন্তান হিসেবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা ও আমেরিকার ইতিহাস একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা যখন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছি, তখন অভিবাসীরা আমেরিকাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রে পরিণত করতে যে অবদান রেখেছেন, সেটিও যথাযথভাবে উদযাপন করা উচিত।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: অভিবাসীদের কঠোর পরিশ্রমে যুক্তরাষ্ট্র আজ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে অভিবাসীবিরোধী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে অভিবাসীদের সুরক্ষার জন্য কী করণীয়?   গ্রেস মেং: অভিবাসীদের ভয়ের মধ্যে জীবনযাপন করতে বাধ্য করা মানবিক ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। আইসের (মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিভিন্ন অভিযানের কারণে অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই আমার নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাই, যারা আইসের অভিযানের ভুক্তভোগী। আমি এবং আমার দল পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে রক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছি। গুরুতর অপরাধীদের পরিবর্তে কঠোর পরিশ্রমী ও আইন মেনে চলা মানুষদের আটক করা কোনভাবেই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।   আমি মনে করি, বর্তমান কাঠামোয় আইসের কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এ কারণে আমি আইসের অতিরিক্ত অর্থায়নের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছি এবং সংস্থাটির জবাবদিহিতা নিশ্চিতে একটি আইনের প্রস্তাব করেছি। এর মাধ্যমে আইস কর্মকর্তাদের ব্যাজ নম্বর দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করা হবে, সংস্থাটিকে বিচার বিভাগের প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে, ২৬ ফেডারেল প্লাজার মত স্থানে রুটিন চেকিংয়ের সময় ব্যাপক আটক এড়াতে অভিবাসীদের ভার্চুয়াল চেক-ইনের সুযোগ দেওয়া হবে।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে নথিপত্রহীন অবস্থায় বসবাসরত অনেকেই কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। তাদের জন্য গ্রিনকার্ডের ব্যবস্থা করতে কংগ্রেসের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি?   গ্রেস মেং: যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি ব্যাপক অভিবাসন সংস্কার অপরিহার্য। কংগ্রেসের সদস্য হওয়ার পর থেকেই আমি এ ধরনের সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছি।   এই সংস্কারের মধ্যে থাকবে অভিবাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বৈধ আবেদনগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা কমান, মানবিক উপায়ে আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন নিষ্পত্তি, লাখ লাখ অভিবাসীর জন্য বৈধভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে একদিন তারা গর্বিত মার্কিন নাগরিক হতে পারেন।   দুঃখজনকভাবে কার্যকর সমাধান খোঁজার পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যরা এ সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমি অভিবাসন সংস্কারের পক্ষে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব এবং এ বিষয়ে দ্বিদলীয় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে যাব।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: কংগ্রেশনাল বাংলাদেশ ককাস দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়। এটিকে আবার কার্যকরের বিষয়ে কোনো আগ্রহ আছে কি?   গ্রেস মেং: কংগ্রেশনাল বাংলাদেশ ককাস একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জোরদার করা এবং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের স্বার্থ রক্ষা করা। এই ককাসের সদস্য হতে পেরে আমি গর্বিত। আশা করি, ভবিষ্যতে ককাসের আরও সভা, আলোচনা ও কার্যক্রম হবে।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বাংলাদেশি আমেরিকান সম্প্রদায় সম্পর্কে রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের মূল্যায়ন কি?   গ্রেস মেং: কংগ্রেসে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই আমি বাংলাদেশি আমেরিকান সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছি। তাদের স্বার্থ রক্ষায় আমি সবসময় সক্রিয় থেকেছি, গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে সমর্থন দিয়েছি। বিভিন্ন উদ্বেগের সমাধানে কাজ করেছি এবং ফেডারেল প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে সহায়তা করেছি।   প্রতি বছর আমি অসংখ্য বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির অনুষ্ঠান, সামাজিক উদ্যোগ এবং স্থানীয় নেতাদের আয়োজনে অংশগ্রহণ করি। এমন একটি প্রাণবন্ত ও কর্মঠ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। ওয়াশিংটন ডিসিতে তাদের কণ্ঠস্বর হতে পেরে আমি গর্বিত। ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বাংলাদেশি আমেরিকানদের পক্ষে আপনি কোন বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন?   গ্রেস মেং: বাংলাদেশি আমেরিকান সম্প্রদায়ের স্বার্থে আমি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে রয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে ফেডারেল ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সরকারি স্বীকৃতির জন্য আইন প্রস্তাব। এ ছাড়া ইসলামোফোবিয়াসহ সব ধরনের ঘৃণাজনিত অপরাধ মোকাবিলার জন্য আইন প্রণয়নে আমি কাজ করেছি।   হালাল খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়ানো, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং মসজিদ, অলাভজনক সংস্থা ও ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোকে সুরক্ষিত রাখার জন্যও উদ্যোগ নিয়েছি। আমি এশিয়ান আমেরিকান, নেটিভ হাওয়াইয়ান ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডার সম্প্রদায়ের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রথম জাতীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিল পাসে ভূমিকা রেখেছি। পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও সে অবস্থান বজায় রাখব।   বর্তমানে আমি ‘কংগ্রেশনাল এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান ককাস এর চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছি এবং দেশজুড়ে এশিয়ান-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম:  রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?   গ্রেস মেং:  আমি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে কথা বলে আসছি এবং ক্ষমতায় কে রয়েছে তার ভিত্তিতে আমার অবস্থান পরিবর্তিত হবে না। মানবাধিকার কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়; এটি একটি সার্বজনীন মূল্যবোধ। যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে অন্যদের জন্য উদাহরণ স্থাপন করে।   যে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাক। সেই লক্ষ্যেই দেশে ও বিদেশে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার পক্ষে আমার সমর্থন অব্যাহত থাকবে।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম:  বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?   গ্রেস মেং:  চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অনেকের কাছে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং পর্যবেক্ষকদের মতে তা তুলনামূলকভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল। যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। কোনো ব্যক্তি যদি আইন ভঙ্গ করে থাকেন, তবে অবশ্যই তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উদ্বেগের বিষয় এবং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান হওয়া উচিৎ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম:  যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কী?   গ্রেস মেং:  নিশ্চয়ই। ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে পারে, তাহলে আমরা নির্বাহী বিভাগের ওপর কংগ্রেসের সাংবিধানিক তদারকি আরো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করব। আমরা আইসসহ বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেব। একইসঙ্গে অভিবাসন সংস্কার, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং আমার প্রস্তাবিত আইস সংস্কার বিলের মত গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে। আমাদের লক্ষ্য হবে এমন একটি অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা একইসঙ্গে মানবিক, কার্যকর এবং ন্যায়ভিত্তিক।

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপে হতাশার পর জার্মান কোচ বিদায়, আলোচনায় নতুন নাম

বিশ্বকাপের ব্যর্থতায় জার্মান দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জুলিয়ান নাগেলসমান। রাউন্ড অব ৩২ থেকে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার পরই এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার পরিবর্তে নতুন কোচ হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লপকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)।   রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচে ৪-৩ ব্যবধানে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। এই ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে টানা তিন বিশ্বকাপে হতাশার ধারাবাহিকতা বজায় রাখল দলটি। ২০১৮ ও ২০২২ আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার থেমে যেতে হলো প্রথম নকআউট পর্বেই।   এক বিবৃতিতে ডিএফবির সভাপতি বের্ন্ড নয়েনডর্ফ বলেন, ‘২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে জুলিয়ান নাগেলসমানের কাজের জন্য জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি সবসময়ই উচ্চমানের নিষ্ঠা ও অসাধারণ উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিচয় দিয়েছেন।’   একই বিবৃতিতে জানানো হয়, জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লপকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ডিএফবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্লপ এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   ২০২৩ সালে হান্সি ফ্লিকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে জার্মান দলের দায়িত্ব নেন নাগেলসমান। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ জাতীয় দলের প্রধান কোচ। তার অধীনে জার্মানি ইউরো ২০২৪-এর কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালেও বিশ্বকাপের মঞ্চে বেশিদূর এগোতে পারেনি।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ফি আরোপ ‘অনিবার্য’, সব দেশের জন্য সমান নীতি চায় ইউরোপ
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৩, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান ও ওমান সম্ভাব্য ফি আরোপ করতে পারে—এমন পরিস্থিতিকে ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ এখন কার্যত অনিবার্য বলে বিবেচনা করছে। তবে তাদের জোরালো দাবি, এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা চালু হলে তা যেন সব দেশের জাহাজের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য না থাকে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালিতে কোনো না কোনো ধরনের সেবাভিত্তিক ফি চালুর সম্ভাবনাকে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন বাস্তবতা হিসেবে দেখছে।   তবে সম্ভাব্য এই ফি কী ধরনের হবে, কত অর্থ নির্ধারণ করা হবে কিংবা কোন প্রক্রিয়ায় তা আদায় করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ তেহরান ও মাসকাটকে জানিয়েছে, নতুন কোনো ফি ব্যবস্থা চালু করা হলে তা অবশ্যই বৈষম্যহীন হতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের জাহাজকে আলাদা সুবিধা দেওয়া বা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা যাবে না।   একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ এবং নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জোট গঠনের পক্ষেও কাজ করছে ইউরোপীয় দেশগুলো। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়টি অনেকাংশে ইরানকে ঘিরে চলমান শান্তি আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশ এখনো মনে করে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর বাধ্যতামূলক ফি আরোপের আইনি অধিকার ইরান ও ওমানের নেই। তাদের আশঙ্কা, এমন নজির তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও একই ধরনের দাবি উত্থাপিত হতে পারে।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি। সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিশ্বের অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ নৌপথে নতুন কোনো নীতিমালা বা বিধিনিষেধ কার্যকর হলে তার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণভাবে পড়তে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
সুদানের এল-ওবেইদে মানবিক বিপর্যয়, জাতিসংঘের ‘রেড অ্যালার্ট’
মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৩, ২০২৬

সুদানের এল-ওবেইদ শহরে চলমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, শহরটিতে আধাসামরিক বাহিনীর বড় ধরণের হামলা আসন্ন।   শুক্রবার জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের জরুরি বৈঠকে তুর্ক বিশ্বনেতাদের এল-ওবেইদে সম্ভাব্য নৃশংসতা ঠেকাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, ‘এল-ওবেইদের পরিস্থিতি স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন। সুদানে আরেকটি মানবাধিকার বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে। এবার সেটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর কর্দোফান রাজ্যের রাজধানীতে।’   তিনি বলেন, ‘১৮ মাস ধরে বেসামরিক মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। সুদানের সশস্ত্র বাহিনী এবং র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) শহরের আশপাশের এলাকা দখলের লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় তারা একের পর এক ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছে।’   তুর্ক বলেন, ‘এটি কোনো মহড়া নয়। এটি এমন একটি রেড অ্যালার্ট, যা বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের টেবিলে পৌঁছানো প্রয়োজন।’   তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহে তাদের ফোনে এল-ওবেইদ এবং কর্দোফানের অন্যান্য এলাকায় নৃশংস অপরাধ কীভাবে ঠেকানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলা উচিত।’   ব্রিটেনের অনুরোধে কয়েকটি দেশের পক্ষে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ মানবাধিকার সংস্থা এল-ওবেইদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিরল এ জরুরি সভার আয়োজন করে।   ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।   তেলের মজুত এবং আরএসএফের সবচেয়ে শক্তিশালী আধাসামরিক মিত্রদের অবস্থানের কারণে কর্দোফান অঞ্চল এখনও সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।   উত্তর কর্দোফান রাজ্যের রাজধানী এল-ওবেইদ পশ্চিমাঞ্চলের দারফুরে আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং পূর্বাঞ্চলের সেনানিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের মধ্যে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ পথের ওপর অবস্থিত।   প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এ শহরে গৃহযুদ্ধে বাস্তুচ্যুত প্রায় এক লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শহরটি আরএসএফের সবচেয়ে তীব্র হামলার মুখে পড়েছে।   গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ অবরোধ ভাঙতে সক্ষম হলেও পরে শহর এবং শহর থেকে বের হওয়ার প্রধান মহাসড়কে ড্রোন হামলা চালিয়ে আরএসএফ আবারও অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে। সেনাবাহিনী তা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে।   সাম্প্রতিক হামলায় প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকা অন্ধকারে ডুবে গেছে এবং পানির পাম্পগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে।   এ জরুরি বৈঠকে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় দেশগুলো ৪৭ সদস্যের মানবাধিকার পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপনের পরিকল্পনা করছে।   সূত্র : এএফপি

ছবি: সংগৃহীত
নাইজেরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র
মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৩, ২০২৬

সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চলতি বছরে নাইজেরিয়ায় মোতায়েন করা অধিকাংশ সেনা প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও বৃহত্তর নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে দেশটি।   যুক্তরাষ্ট্র ‘লেক চাদ বেসিন’ এলাকায় যৌথ সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী অভিযানের জন্য আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় ২০০ সামরিক সদস্য সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। এই অঞ্চলে আইএসডব্লিউএপি ও বোকো হারামের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র দলগুলো ক্রমাগত সামরিক অভিযানের মুখেও নিয়মিতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।   স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার(২ জুলাই) ‘আফ্রিকান চিফস অফ ডিফেন্স কনফারেন্স’-এর পরবর্তী এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে ইউরোপ ও আফ্রিকায় নিয়োজিত মার্কিন বিমান বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ড্যাগভিন আর. এম. অ্যান্ডারসন সেনা প্রত্যাহারের কথা জানান।   অ্যান্ডারসন জানান,  যৌথ সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী অভিযান সফল হওয়ায় মিশনে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের অধিকাংশই নাইজেরিয়া ত্যাগ করেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গোয়েন্দা সহযোগিতার মাধ্যমে নাইজেরিয়ার সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে সহায়তা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   তিনি বলেন, শুধুমাত্র ওই অভিযানের জন্য সেখানে পাঠানো আমাদের বাহিনীর বড় অংশকেই আমরা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। তবে নাইজেরিয়ার অনুরোধ অনুযায়ী আমরা অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছি, যাতে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং এসব কঠিন কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বোঝাপড়া অব্যাহত রাখা যায়।   অ্যান্ডারসন আরও বলেন, নাইজেরিয়ার লেক চাদ বেসিনে পরিচালিত ওই অভিযানটি কেবল ওই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্যই সহায়ক ছিল না, বরং এটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশকে সহায়তা করেছে। এর ফলে আইএস-এর নেটওয়ার্ক ব্যাহত হয়েছে।   মার্কিন এই জেনারেল নাইজেরিয়াকে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীসহ একটি সক্ষম নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, উভয় দেশের মধ্যকার সহযোগিতার ফলে আইএস সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আমি মনে করি, নাইজেরিয়ার সঙ্গে আমাদের সাম্প্রতিক অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   অ্যান্ডারসনের মতে, নাইজেরিয়ার সামরিক অভিযানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় বিশ্বব্যাপী আইএস নেটওয়ার্কের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব হয়েছিল। ভবিষ্যতের কথা ভাবলে এটি একটি চমৎকার উদাহরণ।   এছাড়া তিনি সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ পাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে আরও জোরদার গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের আহ্বান জানান।   মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০০৯ সাল থেকে নাইজেরিয়া তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

সংগৃহীত ছবি
বিরোধ তুঙ্গে, সৌদি আরব থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র
মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ০৩, ২০২৬

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটনের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তে রিয়াদ ক্ষুব্ধ হওয়ায় সৌদি আরব থেকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র—বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।   মধ্যপ্রাচ্যের একটি গোয়েন্দা সূত্র টাইমস অব ইসরাইলকে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক বেশি শীতল হয়ে পড়েছে। বুধবার প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনেও একই ধরনের তথ্য জানানো হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনা এবং ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। এ অভিযানে সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল। তবে সৌদি সরকার অনুমতি না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হয় ওয়াশিংটন।   সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি আরবের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে হোয়াইট হাউস রিয়াদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ স্থগিত রাখার হুমকি দেয়। সৌদি আরব এসব ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করছিল।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।   গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন গেলেও সৌদি আরব সফর করেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদ বিষয়টিকে কূটনৈতিক অবজ্ঞা হিসেবে দেখেছে।   এর এক সপ্তাহ আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। ওই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতি সৌদি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ছিল এটি।   যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, ইরানের সরকার উৎখাতের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এতে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।   তবে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু করলে সৌদি নেতৃত্বের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরও মার্কিন নীতিনির্ধারণে তাদের প্রভাব সীমিত। যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম দিকে অনীহা থাকলেও সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। কারণ, ইরানের পাল্টা হামলার বড় চাপ তাদেরই মোকাবিলা করতে হচ্ছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে কয়েকটি হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা করে। এরপর যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয় রিয়াদ।   বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধারাবাহিক হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সৌদি আরব। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। রিয়াদ চেয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যেন আমিরাতকে হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উদ্যোগে যোগ দিতে চাপ দেয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত এক বছরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, ইরান ইস্যু তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত এপ্রিলে আমিরাত সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক জোট থেকে সরে যায়।   যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়ারও অনুরোধ জানায়। তবে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে রাজি হননি।   পরে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। যদিও সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনায় ওই সমঝোতা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সহযোগীদের বলেছেন, প্রয়োজনে এই সময়সীমা পরিবর্তন করা যেতে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমঝোতা আলোচনায় ইসরাইলের কোনো ভূমিকা ছিল না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এ প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তবে সমঝোতার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের জন্য যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ রয়েছে।   এদিকে ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই সমঝোতার বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, এতে যুদ্ধের মূল লক্ষ্য—ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি—কোনোটিই অর্জিত হয়নি।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি