ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে। এ পরিস্থিতিতে তিনি দেশবাসীকে বিমান হামলার সতর্ক সংকেতের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, “আজ রাত এবং নিকট ভবিষ্যতে বিমান হামলার সতর্কবার্তার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। রাশিয়া নতুন একটি ব্যাপক হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, রুশ বাহিনী ইউক্রেনজুড়ে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটছে। একই বক্তব্যে তিনি রাশিয়ার টিউমেন অঞ্চলে একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে “সফল অভিযান” হিসেবে উল্লেখ করেন। বেলারুশকে নিয়ে অভিযোগ ও সতর্কবার্তা জেলেনস্কি আরও দাবি করেন, বেলারুশ এই সংঘাতে রাশিয়াকে সহায়তা করছে। তার ভাষ্যমতে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে বেলারুশে এমন কিছু প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও রিপিটার স্থাপন করা হয়েছে, যা রুশ ড্রোন হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, “বেলারুশের হাতে এখনও সময় আছে এই সরঞ্জামগুলো সরিয়ে ফেলার।” এর আগে শুক্রবার তিনি বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকে সতর্ক করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় থাকা এসব ড্রোন-সহায়ক সরঞ্জাম অপসারণ না করা হলে ইউক্রেন নিজেই ব্যবস্থা নেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, ইউক্রেন সীমান্তঘেঁষা দুই অঞ্চলে এমন সরঞ্জাম রয়েছে যা হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি লুকাশেঙ্কোকে এগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিয়েছিল জাপান। দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে সেই ফর্মের ধারাবাহিকতাই দেখাল এশিয়ার এই পরাশক্তি। ৪-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়ে গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে উঠে এলো জাপান। অন্যদিকে এই হারে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিতে হলো তিউনিসিয়াকে। ম্যাচটা এমনিতেই স্পেশাল ছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ছিল ১০০০তম ম্যাচ। এই ম্যাচে দলটি করেছে ৪টি গোল, বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে কোনো এশিয়ান দল কখনো ৪টি গোল করতে পারেনি, জাপানই প্রথম দল যারা এ কীর্তি গড়ল। এই ইতিহাস গড়ার পথে শুরু থেকেই দুর্দমনীয় ফুটবল খেলেছে জাপান। তিন মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় ব্লু সামুরাইরা। বাঁ পাশ থেকে আক্রমণে উঠে কেইতো নাকামুরার পাস বক্সের জটলার মধ্যে খুঁজে নেয় দাইচি কামাদাকে। তার পা ছুঁয়ে বল চলে যায় তিউনিসিয়ার জালে। প্রথম গোল করার পরও থেমে থাকেনি জাপান। দ্বিতীয় গোলের জন্য একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায় তারা। নবম মিনিটের আক্রমণে ফল না এলেও দশম মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি হয়। কর্নার থেকে আসা বল তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক ডাহমেন বিপজ্জনক এলাকা থেকে সরিয়ে দিলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। এরপর তোমিয়াসুর জোরালো শট প্রায় গোললাইন পেরিয়েই গিয়েছিল, তবে দারুণ গোলকিপিংয়ে সেটা ঠেকিয়ে দেন ডাহমেন। ৩১ মিনিটে অবশেষে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় জাপান। তিউনিসিয়ার রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন আয়াসে উয়েদা। এই গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে জাপান। দুই গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল যোগ করে জাপান। হাইড্রেশন ব্রেকের একটু আগে মাঝমাঠ থেকে আসা রক্ষণচেরা পাসে বল পেয়ে যান জুনইয়া ইতো। ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে কোনো সমস্যা হয়নি তার। এতে তৃতীয় গোলের দেখা পায় জাপান। ৮৪ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন উয়েদা নিজেই। ডান পাশ থেকে কাইশু সানোর ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে দুই তিউনিসিয়ান ডিফেন্ডার আর গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। নিজের ম্যাচে দ্বিতীয় গোলের পাশাপাশি দলকে এনে দেন চতুর্থ গোল। ৪-০ গোলের দারুণ এক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জাপান। এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে উঠে গিয়ে শেষ বত্রিশের আশা বাঁচিয়ে রাখল দলটি। অন্যদিকে দুই ম্যাচে এক গোল আর দুই হার নিয়ে তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেল এখানেই। দ্বিতীয় ম্যাচ শেষ হতেই নিশ্চিত হয়ে যায়, কোনোভাবেই আর তৃতীয় স্থানেও উঠতে পারবে না দলটি।
বিশ্বরেকর্ড যেন এখন ব্রাজিল আর জার্মানির মধ্যে এক দমফাটা প্রতিযোগিতা। একবার এক দল এগিয়ে যাচ্ছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্য দল সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড দীর্ঘদিন ধরে ছিল ব্রাজিলের দখলে। তবে এবারের আসরে প্রথম ম্যাচেই কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭ গোল করে সেই রেকর্ড ভেঙে দেয় জার্মানি। ব্রাজিলের ২৩৮ গোল ছাড়িয়ে তারা পৌঁছে যায় ২৩৯ গোলে। ১৪ জুন হওয়া সেই ম্যাচের পর ছয় দিন পেরোতেই পাল্টে যায় চিত্র। ২০ জুন সকালে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামে ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে তারা আবারও রেকর্ড নিজেদের দখলে নেয়। তখন ব্রাজিলের মোট গোল দাঁড়ায় ২৪১। কিন্তু সেই আধিপত্য স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। মাত্র ২১ ঘণ্টা পরই জার্মানি আবার ব্রাজিলকে ধরে ফেলে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে আরও দুই গোল যোগ করে জার্মানি। ফলে তাদের মোট গোলসংখ্যাও দাঁড়ায় ২৪১। এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে আছে ব্রাজিল ও জার্মানি। দুই দলের গোলই ২৪১। এই লড়াইয়ে অনেক পিছিয়ে আছে অন্য দলগুলো। আর্জেন্টিনার গোল ১৫৫, ফ্রান্স ১৩৯, ইতালি ১২৮, স্পেন ও ইংল্যান্ড ১০৮ করে গোল করেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে রেকর্ড ভাঙা আর গড়ার এই প্রতিযোগিতা যে এখানেই থামছে না, সেটি স্পষ্ট। সামনে ম্যাচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা আরও বদলাতে পারে।
পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির কারণে টিকা কর্মসূচি এবং পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সংগ্রহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, সরকারের কাছে বিষয়টা স্পষ্ট। তাই এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি। রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে পুরাতন ১ নম্বর ভবনের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের শেষ দিকে নির্ধারিত টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত না হওয়ায় অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ কারণে চলতি বছরের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত হওয়া অধিকাংশ শিশুই ওই সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া। তবে মার্চে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা এবং এক মাসের মধ্যে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় সাফল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। হাম নিয়ে তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই। কারণ, কী কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা সরকারের কাছে স্পষ্ট। পূর্ববর্তী সরকারের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতির কারণেই ২০২৪ সালের টিকাদান কার্যক্রমের একটি পূর্ণাঙ্গ রাউন্ড মিস হয়েছে। ভ্যাকসিন সংগ্রহ হয়নি, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীও কেনা হয়নি। এসব ক্ষেত্রে গাফিলতি ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বাদ দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পদ্ধতিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিক অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। তিনি বলেন, ডিপিপিগুলো দ্রুত অনুমোদন পাবে এমন ধারণা থেকে ওপি পদ্ধতি বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক ডিপিপির প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি অনুমোদন ও প্রকল্প কার্যালয় গঠন করা সম্ভব হয়নি। ফলে পূর্বের অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলেও নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা চালু হয়নি। স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, এর ফলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সংকটে পড়েছে, যার বোঝা এখনো জাতিকে বহন করতে হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী বর্তমানে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তরে যাচ্ছেন। সেখানে প্রয়োজনীয় আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে দ্রুত ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়।
দেশের বন্ধ ও অলাভজনক কারখানা চালু করতে বিনিয়োগ করলে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত ‘রোড শো’ অনুষ্ঠানে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা চাই আপনারা আরও এগিয়ে যান, বিকশিত হোন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ কারখানায় বিনিয়োগ আকর্ষণে এ রোড শো’র আয়োজন করে শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে মোট ৪৪টি কারখানার বিস্তারিত তথ্যসহ (কারখানাগুলোর অবস্থান, বিদ্যমান অবকাঠামো, বিনিয়োগ সুবিধা, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা) বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা খোলামেলাভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে দেশি শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল, এসিআই লিমিটেড, ওয়ালটন, মেঘনা গ্রুপ, রানার গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, ট্রান্সকম গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ ও লাল তীর, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি কোম্পানির মধ্যে জাপানি মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কোং (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেড, সোজিৎস এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, জেট্রো বাংলাদেশ অফিসের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশ নেন। উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আগেও বলেছি, আমরা চাই আপনারা এগিয়ে যান এবং আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই। আপনারা নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন। কীভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সেই মতামতও দিয়েছেন। আমরা ইতোমধ্যে কিছু বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব হল প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সমস্যাগুলো কাটিয়ে তোলার পথ তৈরি করা। কিন্তু সরকারের পক্ষে তা একা সম্ভব নয়। বাস্তবতা হল, আমরা একবারে সব সমস্যার সমাধান করতে পারব না। তবে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে সমাধান করতে পারি। আমার অনুরোধ, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন, যাতে আমরা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে পারি এবং একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি।’ তিনি বলেন, শুধু বলতে চাই, আসুন আমরা পরিবর্তন আনার জন্য একসঙ্গে কাজ করি। সমস্যা আছে, চ্যালেঞ্জও আছে। কিন্তু আমরা এটাও উপলব্ধি করেছি যে, যদি আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে এসব সমস্যা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সহায়ক পরিবেশের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এখন থেকে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিজস্বভাবে নেবে এবং কোন দেশ কখন সফর করা হবে তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, সরকার এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বাস্তব প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, কোনো বাহ্যিক চাপের কারণে নয়। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কোন দেশে যাব, তা নির্ধারণ করব তখনই; যখন আমরা মনে করব সংশ্লিষ্ট দেশে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আমাদের যাওয়া প্রয়োজন।’ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো বড় দেশগুলোতে সফরের সিদ্ধান্তের প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যখন আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হবে, তখন আমরা যাব। যখন চীন যাওয়া দরকার হবে, আমরা সেখানে যাব। সময় ও পরিস্থিতি অনুকূল হলে এবং প্রয়োজন হলে আমরা ভারতেও যাবো, মধ্যপ্রাচ্যেও সফর হবে। সবকিছুই জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। আমরা কোথায় যাব, সেটা অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না। কারণ আমরা বৈধ সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। আমাদের কাউকে খুশি করার জন্য নাচতে হবে না।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক দেশ বা বাইরের কোনো বয়ানের দ্বারা প্রভাবিত নয়। কেউই আমাদের বলে দেবে না কখন বা কোথায় আমাদের যেতে হবে। আমরা কোনো নির্ভরশীল বা সরকারবিরোধী অবস্থান অনুসরণ করি না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আমি শুধু এটুকুই বলব—এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সব বড় অংশীদার দেশের সঙ্গে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—সব ক্ষেত্রেই আমরা ভারসাম্য রেখে এগোচ্ছি। এটি সম্ভব হয়েছে কারণ আমরা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। ফলে আমরা এখন শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলতে পারি, দর-কষাকষি করতে পারি। গত পনেরো বছরে কোনো সরকার তা পারেনি, কারণ জনগণের আস্থা ও বৈধতা তাদের ছিল না।’ হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি স্বাধীন বৈশ্বিক খেলোয়াড় হিসেবে কাজ করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে সফট পাওয়ার শক্তি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে আপনারা পরাধীনতার নীতি দেখেছেন। আমরা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাধীন অবস্থান থেকে কাজ করছি।’ মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফর পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে এবং তা সফল হবে। মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন ২৭ ও ২৮ জন, প্রয়োজন অনুযায়ী অংশগ্রহণ নির্ধারণ করেই এটা ঠিক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসন্ন মালয়েশিয়া সফরটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি মুসলিম দেশে প্রথম সফরগুলোর একটি এবং সেখানে আসিয়ান সদস্যপদ ও শ্রমবাজার প্রসঙ্গে আলোচনা হবে। অন্যদিকে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। বিদেশ সফরের ব্যয় নিয়ে তিনি বলেন, সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়, যাতে জনগণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়। এগুলো অপচয়মূলক সফর নয়, বরং মূল্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এখন সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার এটি, যেখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজার যেন দীর্ঘদিন ধরে এক অদৃশ্য সংকটের মধ্যে আটকে আছে। রাজনৈতিক সরকার বদলেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বে এসেছে নতুন মুখ, বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে নানা প্রণোদনা ও সংস্কার কর্মসূচি। কিন্তু তারপরও পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরছে না। সূচক স্থবির, লেনদেন কম, নতুন বিনিয়োগকারীর আগ্রহ নেই, আর পুরোনো বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ এখনো আস্থাহীন। একসময় ধারণা ছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের অনিয়ম, শেয়ারবাজার কারসাজি এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্যের কারণে বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তাই সরকার পরিবর্তন হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে সংকট আরও গভীর হয়েছে। এখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কেন শেয়ারবাজার চাঙ্গা হচ্ছে না? ১৬ বছরে হারিয়েছে ১৭ লাখ বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারের সংকট বোঝার সবচেয়ে বড় সূচক হলো বিনিয়োগকারীর সংখ্যা। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ লাখ। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ লাখে। অর্থাৎ গত ১৬ বছরে প্রায় ১৭ লাখ বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে গেছেন। একই সময়ে বাজার মূলধন, লেনদেন ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামার ফল নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি আস্থাহীনতার প্রতিফলন। আস্থার সংকটই সবচেয়ে বড় সমস্যা পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বাজারের সবচেয়ে বড় সংকট তারল্যের অভাব নয়, আস্থার অভাব। ২০১০ সালের ধসের পর একাধিকবার বাজার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে টাস্কফোর্স, তদন্ত কমিটি, নীতিগত সহায়তা এবং বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ মনে করেন, বাজার এখনো পুরোপুরি নিরাপদ হয়নি। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি আ ন ম আতাউল্লাহ নাঈমের ভাষায়, শেয়ার কেলেঙ্কারির বিচার না হওয়াই আস্থাহীনতার অন্যতম কারণ। বাজারে বারবার কারসাজির অভিযোগ উঠলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। নতুন কোম্পানি নেই, বাজারে নেই গভীরতা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো মানসম্মত নতুন কোম্পানির অভাব। গত দুই বছরে কার্যত কোনও উল্লেখযোগ্য নতুন কোম্পানি বাজারে আসেনি। ২০২৫ সালে একটি নতুন আইপিওও অনুমোদিত হয়নি। অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি পুঁজিবাজার তখনই শক্তিশালী হয় যখন সেখানে নিয়মিত নতুন ও বড় কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বড় শিল্পগোষ্ঠী, বহুজাতিক কোম্পানি কিংবা লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই এখনো বাজারের বাইরে। ফলে একই সীমিত সংখ্যক শেয়ারকে ঘিরেই লেনদেন আবর্তিত হচ্ছে। এতে বাজারে গভীরতা তৈরি হচ্ছে না এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও কারসাজির সুযোগ বাড়ছে। ৬২ কোম্পানির সতর্ক তালিকা বাজারে নতুন উদ্বেগ সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ৬২টি কোম্পানি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং ৩০টি কোম্পানি আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’-এর মুখে রয়েছে। এরও আগে ডিএসই ৪২টি কোম্পানিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তালিকায় কিছু নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়া ও কার্যক্রম চালু থাকা কোম্পানির নামও থাকায় বাজারে বিতর্ক তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে যখন একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকা প্রকাশিত হয়, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে। ফলে নতুন বিনিয়োগের পরিবর্তে অনেকেই বাজার থেকে দূরে সরে যান। ব্যাংকের বিকল্প হতে পারেনি পুঁজিবাজার বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিগুলোতে শিল্পায়নের বড় অংশের অর্থায়ন হয় পুঁজিবাজারের মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো শিল্প খাত মূলত ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ব্যাংকনির্ভরতা কমাতে হলে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উদ্যোক্তাদের বড় অংশ এখনো পুঁজিবাজারকে মূলধন সংগ্রহের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে দেখছেন না। নীতিমালার ঘনঘন পরিবর্তন, তালিকাভুক্তির জটিলতা এবং বাজারের অস্থিরতা তাদের নিরুৎসাহিত করছে। বাজেটের ঘোষণা কি যথেষ্ট? চলতি বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য একগুচ্ছ সংস্কার উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— সমন্বিত ডিজিটাল তথ্য প্ল্যাটফর্ম; টি+০ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা; বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ দ্রুত প্রত্যাবাসনের সুযোগ; বন্ড ও সুকুক বাজার সম্প্রসারণ; পৌর বন্ড চালু; দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো অর্থায়নে নতুন উপকরণ ব্যবহার। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু নীতিগত ঘোষণা দিয়ে আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। কারণ বাজারের সমস্যা এখন কেবল প্রযুক্তিগত নয়; এটি মূলত বিশ্বাসের সংকট। বিনিয়োগকারীরা দেখতে চান ঘোষণাগুলোর বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না এবং কারসাজিকারীরা সত্যিই শাস্তি পাচ্ছে কি না। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সামনে কঠিন পরীক্ষা সম্প্রতি বিএসইসির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান দায়িত্ব নেওয়ার পর রিয়েল-টাইম নজরদারি, কারসাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং দুর্বল কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর তদারকির ঘোষণা দিয়েছেন। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কমিশনের জন্য এটি বড় পরীক্ষা। কারণ অতীতেও অনেকবার সংস্কারের ঘোষণা এসেছে। কিন্তু বাস্তব ফলাফল খুব বেশি দেখা যায়নি। এবার বিনিয়োগকারীরা কথার চেয়ে কাজ দেখতে চান। কী করলে ঘুরে দাঁড়াবে বাজার? বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করতে কয়েকটি মৌলিক পদক্ষেপ জরুরি— শেয়ার কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান শাস্তি; বড় ও লাভজনক কোম্পানিকে বাজারে আনা; রাষ্ট্রায়ত্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠানের আইপিও; নীতিমালার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা; দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বৃদ্ধি; পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল; গুজব ও কারসাজি শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু। সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেয়ারবাজারের সংকট একদিনে তৈরি হয়নি, তাই একদিনে সমাধানও হবে না। সরকার পরিবর্তন, নতুন কমিশন কিংবা বাজেট ঘোষণার চেয়েও বড় বিষয় হলো—বিনিয়োগকারীরা বাজারকে কতটা বিশ্বাস করছেন। যতদিন পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারী মনে করবেন যে বাজারে কারসাজি করে পার পাওয়া যায়, দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত থেকে যাচ্ছে এবং নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা নেই, ততদিন পর্যন্ত শেয়ারবাজারে স্থায়ী গতি ফিরবে না। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার অপরিহার্য। তাই শেয়ারবাজারকে চাঙ্গা করা শুধু বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর সেই কারণেই পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।
দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে ২০২৫ সাল নাগাদ দেশে-বিদেশে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের আদেশ থাকলেও, এর ৮০ শতাংশ স্থাবর সম্পদে রিসিভার নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। ফলে মালিকানা কাগজে-কলমে অবরুদ্ধ থাকলেও অভিযুক্তরাই কৌশলে এসব সম্পদের সুবিধা ভোগ করছেন। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী গুলশান-২-এর ৭১ নম্বর সড়কে ‘ইস্টার্ন হারমোনি’ ভবনের একটি ফ্ল্যাটের মালিক ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ২০২৫ সালে আদালত এটি জব্দের আদেশ দিলেও সেখানে এখনও রিসিভার নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে সেগুনবাগিচায় শেখ রেহানার নামে থাকা একটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ থাকলেও এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তা বুঝে নিতে পারেনি দুদক। দুদকের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের মধ্যে দেশে রয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। তবে এই বিপুল সম্পদের সিংহভাগেরই রিসিভার নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার, এস আলম গ্রুপ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদসহ আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগীরা এখনও এসব সম্পদের সুফল পাচ্ছেন। দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশের পর অনুসন্ধানী কর্মকর্তা অনুমতি নিয়ে রিসিভার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেন। তবে মাঠপর্যায়ে সম্পদ বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে লোকবলের অভাব ও সময়সাপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়াকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন দুদকের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নথিপত্র সংগ্রহ ও বিভিন্ন দপ্তরে তদন্তের জন্য প্রচুর সময়ের প্রয়োজন হয়। লোকবল সংকটের কারণে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ দ্রুত করা যাচ্ছে না।’ তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম। তার মতে, দুদকের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার ঘাটতিই এই ব্যর্থতার প্রধান কারণ। তিনি বলেন, ‘সম্পদ থেকে অর্জিত আয় রিসিভারের কাছে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু দুদক আবেদন করে সেই নিয়ন্ত্রণ না নেওয়ায় মূল অভিযুক্তরাই সম্পদ ভোগ করছেন।’ অবশ্য ধীরগতির মধ্যেও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ কয়েকজন প্রভাবশালীর সম্পদে রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ জমা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও সম্পদ সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুদককে আরও সক্রিয় ও কৌশলী হতে হবে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুর্নীতির অভিযোগে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দের আদেশ দেয় আদালত। নিয়ম অনুযায়ী, এসব সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও আয় সংগ্রহের জন্য রিসিভার নিয়োগ করার কথা থাকলেও প্রশাসনিক ও আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হওয়ার কথা থাকলেও সম্পদগুলো বাস্তবে পূর্বতন মালিকদের হাতেই থেকে যাচ্ছে।
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ)’ পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আগামীকাল রোববার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে দুই দেশের ‘টেকনিক্যাল পর্যায়ের’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আজ শনিবার এ ঘোষণা দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। সমঝোতা স্মারক সই হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে এখনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পর তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হরমুজ প্রণালিতে আজ আবার নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা বলেছে, এটি ‘প্রথম পদক্ষেপ’ এবং আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে আজ যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, তিনি শিগগির সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে যেতে পারেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের ১৪ দফা চুক্তির ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে বলে তিনি আশাবাদী এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের কোনো প্রমাণ তিনি দেখেননি। একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তাদের একটি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করবে।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে। এ পরিস্থিতিতে তিনি দেশবাসীকে বিমান হামলার সতর্ক সংকেতের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, “আজ রাত এবং নিকট ভবিষ্যতে বিমান হামলার সতর্কবার্তার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। রাশিয়া নতুন একটি ব্যাপক হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, রুশ বাহিনী ইউক্রেনজুড়ে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটছে। একই বক্তব্যে তিনি রাশিয়ার টিউমেন অঞ্চলে একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে “সফল অভিযান” হিসেবে উল্লেখ করেন। বেলারুশকে নিয়ে অভিযোগ ও সতর্কবার্তা জেলেনস্কি আরও দাবি করেন, বেলারুশ এই সংঘাতে রাশিয়াকে সহায়তা করছে। তার ভাষ্যমতে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে বেলারুশে এমন কিছু প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও রিপিটার স্থাপন করা হয়েছে, যা রুশ ড্রোন হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, “বেলারুশের হাতে এখনও সময় আছে এই সরঞ্জামগুলো সরিয়ে ফেলার।” এর আগে শুক্রবার তিনি বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকে সতর্ক করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় থাকা এসব ড্রোন-সহায়ক সরঞ্জাম অপসারণ না করা হলে ইউক্রেন নিজেই ব্যবস্থা নেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, ইউক্রেন সীমান্তঘেঁষা দুই অঞ্চলে এমন সরঞ্জাম রয়েছে যা হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি লুকাশেঙ্কোকে এগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
বেইজিংয়ের সানলিতুন এলাকার একটি গয়না তৈরির স্টুডিওতে তরুণ-তরুণীরা নিজের হাতেই আংটিতে খোদাই করছেন। ফুটিয়ে তুলছেন চীনা রাশিচক্রের চিহ্ন, বিশেষ তারিখ কিংবা ভালোবাসার প্রতীক। শুধু গয়না নয়, মৃৎশিল্প, সুগন্ধি তৈরি, সিলমোহর খোদাইসহ নানা ধরনের হস্তশিল্পের কার্যক্রম এখন চীনের তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চীনের তরুণরা এখন পণ্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতাও চান। এ কারণে তৈরি হয়েছে নতুন এক প্রবণতা, যাকে বলা হচ্ছে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভোগ’। বাজার থেকে তৈরি পণ্য কেনার বদলে নিজের হাতে কিছু তৈরি করার মধ্যেই তারা খুঁজে পাচ্ছেন আনন্দ, সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিগত সংযোগের অনুভূতি। বেইজিংয়ের বাসিন্দা শি ইয়ু বললেন, ‘নিজের হাতে কিছু বানানোর মূল্য দোকান থেকে কেনা জিনিসের চেয়ে বেশি। এতে আবেগ ও আন্তরিকতার ছাপ থাকে।’ তিনি শুধু স্টুডিওতেই নয়, অনলাইনেও ডিআইওয়াই কিট কিনেও বন্ধু ও পরিবারের জন্য উপহার তৈরি করেন। চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির মোট মাথাপিছু ভোগব্যয়ের ৪৬.১ শতাংশই ছিল সেবাভিত্তিক খাতে। একই সময়ে অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভোগের বাজার ১৮ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যায়, যা আগের বছরের তুলনায় ২২.৬ শতাংশ বেশি। ২০২৬ সালে এ বাজার ২২ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি চীনের ভোগব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। মানুষ এখন কেবল পণ্য নয়, অভিজ্ঞতা ও আবেগকেও মূল্য দিচ্ছেন। সপ্তাহান্তে চীনের বিভিন্ন হস্তশিল্প স্টুডিও ভিড়ে পরিপূর্ণ থাকে। পরিবার, বন্ধু কিংবা যুগলরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটান নিজেদের হাতে কিছু তৈরি করতে। অনেকের কাছে এটি ব্যস্ত জীবন থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়ারও একটি উপায়। হস্তশিল্পের মাধ্যমে তরুণরা চীনের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গেও নতুন করে পরিচিত হচ্ছেন। ধূপ তৈরি, সিলমোহর খোদাই, কাগজ কাটা, বাঁশ বুনন কিংবা ল্যাকার শিল্পের মতো প্রাচীন শিল্পরূপ শেখার সুযোগও তৈরি হয়েছে বিভিন্ন স্টুডিওতে। চীনা ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি জাদুঘর ইতোমধ্যে ১৫টি স্থায়ী হস্তশিল্পভিত্তিক কর্মসূচি চালু করেছে। উৎসব ও বিশেষ দিবসগুলোতে এসব কার্যক্রমের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৌয়িনে ‘ডিআইওয়াই হস্তশিল্প’ হ্যাশট্যাগে ৩৫০ বিলিয়নেরও বেশি ভিউ হয়েছে। অনেকে এসব ভিডিও দেখে শুধু শখ পূরণই করছেন না, বরং ছোট ব্যবসাও শুরু করছেন। শিল্পখাতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনে ৬ হাজার ৯৫৫টি নতুন হস্তশিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশের বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভোগ এবং হস্তশিল্প খাতকে উৎসাহিত করতে চীন সরকার বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে এ খাত আরও বিস্তৃত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। সূত্র: সিএমজি
লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বারবার সমালোচনার পর এবার সুর নরম করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। মূলত নেতানিয়াহুর সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের স্পষ্ট প্রয়াস হিসেবেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে। শুক্রবার কাতারের উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উন্মোচন অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে খুব ভালোভাবে লড়াই করেছি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্ররা ‘আমাদের সঙ্গে লড়াই করেছে’। একই সঙ্গে তিনি নেতানিয়াহুকে ‘যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাকে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। আমরা সত্যিই ইসরায়েলের মিলে কঠোর লড়াই করেছি। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের মধ্যকার যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করতে এবং ৬০ দিনের আলোচনা শুরু করতে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করতে সম্মত হয়েছে, যা ইসরায়েলের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে দেশভাগ, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ইস্যুতে কংগ্রেস, বামপন্থী দল ও তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আড্ডায়’ পরিণত হতে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নরেন্দ্র মোদি। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আরএন রবি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশভাগের সময় কংগ্রেস বাংলাকে অবহেলায় ফেলে রেখেছিল। পরে কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেস ‘তোষণের রাজনীতি’ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মাটিতে বিদেশি বিচারধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে কংগ্রেস, পরে বামপন্থীরা, এরপর তৃণমূল—দশকের পর দশক পশ্চিমবঙ্গকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আড্ডা হয়ে উঠতে দিয়েছে।” তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। দেশভাগের বেদনা সত্ত্বেও বাংলা তার স্বকীয়তা ও পরিচয় অটুট রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মোদি বলেন, “আমরা শুধু একটি দিন উদযাপন করছি না, ইতিহাসকে স্মরণ করছি। যখন পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার চেষ্টা চলছিল, তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।” ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের কাজ আটকে রেখেছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময় পয়লা বৈশাখে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করা হলেও সরকার পরিবর্তনের পর ২০ জুন দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।