দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের দুজন এবং খুলনা বিভাগের একজন রয়েছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫৫ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবর মাসেই মারা গেছেন ১৭৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুলেটিনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৫৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ জনে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এ বিভাগে নতুন করে ৭২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭৫ জন, খুলনায় ১৬১ জন, বরিশালে ১৪৩ জন, রাজশাহীতে ১০৪ জন, ময়মনসিংহে ৮৮ জন এবং রংপুরে ৪৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে সিলেট বিভাগে নতুন করে কোনো ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হননি।
মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় মোটরযান চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্সধারীদের জন্যও দিয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা ও বিন্যাসে পরিবর্তন এনে সংশোধিত বিধিমালা জারি করেছে সরকার। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিআরটিএর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, শিক্ষানবিশ লাইসেন্সধারীরা কেবল বৈধ প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রশিক্ষণের সময় মোটরযান চালাতে পারবেন। এ সময় গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে লাল রঙের বড় ‘L’ চিহ্ন রাখতে হবে। মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ চালক রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হলে সামনে ও পেছনে দৃশ্যমান স্থানে লাল রঙের বড় ‘L’ চিহ্ন লিখে অথবা বোর্ড ঝুলিয়ে রাখতে হয়। ‘L’ হলো Learner শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। এই চিহ্ন দেখে অন্য চালকরা বুঝতে পারবেন, গাড়িটি একজন নতুন চালক চালাচ্ছেন। ফলে তারা সতর্ক হয়ে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পারবেন। এদিকে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগত জটিলতা দূর করতে সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করেছে সরকার। সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ নম্বর বিধির মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট-সংক্রান্ত বিধানে সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রচলিত বিন্যাসের পাশাপাশি এক লাইনে লেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বিআরটিএকে। প্রয়োজনে নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষরের আকার এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের উচ্চতা নির্ধারণ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া নম্বরপ্লেটের উল্লম্ব অংশে ফাঁকা জায়গা, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং দ্বিতীয় লাইনে সংখ্যাগুলোর মধ্যবর্তী হাইফেনের দৈর্ঘ্যও নির্ধারণ করতে পারবে। একই লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নম্বরপ্লেটে বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে নম্বরপ্লেটের দৃশ্যমানতা ও যানবাহন শনাক্তকরণ সহজ হতে পারে। প্রজ্ঞাপনে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির সংশ্লিষ্ট উপবিধিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেলের সামনের অংশের নকশা ও কাঠামো এক রকম নয়। কোনো কোনো মোটরসাইকেলে প্রচলিত আকারের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা কঠিন। এ কারণে মোটরসাইকেলের গঠন অনুযায়ী নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সড়কে যানবাহন শনাক্তকরণ, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেও সামনের নম্বরপ্লেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ায় যানবাহন পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহন পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট শনাক্ত করাও সহজ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেটের অক্ষর, সংখ্যা ও বিন্যাস নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা জরুরি। সংশোধিত বিধিমালার ফলে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা ও বিন্যাস নির্ধারণে বিআরটিএর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার বিধিগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে কোন ধরনের মোটরসাইকেলে কী আকারের নম্বরপ্লেট বসবে এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে, তা কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে। সড়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বাসসকে বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরার আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
রাজধানীর বাড্ডার নতুন বাজার এলাকায় বৈশাখী পরিবহণের একটি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কোকাকোলা গেটের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে এ আগুন লাগে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোকাকোলা গেটের বিপরীত পাশে বাসটি দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ সেটিতে আগুন ধরে যায়। তবে ঘটনার সময় বাসে কোনো যাত্রী ছিলেন না। তবে বাসটিতে কী কারণে আগুন লেগেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’ আগামীকাল ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদবাক্য প্রণিধানযোগ্য—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই সারাবেলা ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল। তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটাই। তা হলো, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সংঘটিত ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের এই ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ইরান। দেশটির দাবি, এই চার দেশের জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ ব্যবহার করতে পারছে। বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ, পণ্য ও রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানের এক আইনপ্রণেতা এসব তথ্য জানান। খবর আল জাজিরার। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সহসভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (আইএসএনএ) বলেন, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এসব জাহাজের চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পরপরই কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে গত জুলাইয়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে আবারও নৌ-অবরোধ কার্যকর করে ওয়াশিংটন। আমির হায়াত মোকাদ্দামের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ এই সুবিধার বিনিময়ে ভারত থেকে ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাচ্ছে ইরান। অন্যদিকে, কাতার আগে থেকেই তেহরানের প্রতি কূটনৈতিক সমর্থন জানিয়ে আসছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করছে। তিনি জানান, ভারত ও চীনের জাহাজ চলাচলের জন্য ট্রানজিট ফি আদায় করবে ইরান। তবে কাতারের জাহাজকে এ ধরনের কোনো ফি দিতে হবে না। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে টোল নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি এই আইনপ্রণেতা। ইরানের এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও মানবাধিকার অধ্যয়ন বিভাগের গবেষক এবং ইরান বিশেষজ্ঞ রুজবেহ পারসি। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ইরানের আইনপ্রণেতা যেসব যুক্তিই তুলে ধরুন না কেন, মূল বিবেচ্য বিষয় হলো এই ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে। রুজবেহ পারসি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরানের জন্য পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনা নতুন কোনো কৌশল নয়। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, অবরোধের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও সেবার আদান-প্রদানের পথ তৈরি করা। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমির ধারণা, বিনা বাধায় জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ইরান ট্রানজিট ফি আদায় করছে। বিকল্প হিসেবে পণ্যের মোট মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশও নেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং লিবিয়ায় অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুশতাইয়ের মতে, ইরানের এই কৌশল বেশ চতুর। কারণ, পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে দেশটির আয়ের বড় একটি উৎস তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কিনে থাকে দেশটি। ফলে চীনের সঙ্গে এই বিশেষ সুবিধার সম্পর্ক তেহরানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’ আগামীকাল ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদবাক্য প্রণিধানযোগ্য—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই সারাবেলা ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল। তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটাই। তা হলো, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সংঘটিত ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের এই ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন চলতি বছরের ডিসেম্বরে। আর সেই মাসকে টার্গেট করে দেশে তার দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সুপরিকল্পিত ছক কষছে। তারই ধারাবাহিকতা দেখা গেল রাজধানীতে পোশাক শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে ‘আপাতত’ সেই ছক ভেস্তে গেছে। পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে পুরো খাতকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে পুরো পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার এক ভয়ংকর চক্রান্তের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত ৩ নভেম্বর কালশী-পূরবী মোড়ে ‘শিহা ডিজাইন বাংলাদেশ লিমিটেড’ কারখানার সামনে ডিএমপি কনস্টেবল সালমানের ওপর নৃশংস হামলা ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার ১৯ আসামির তথ্যের ভিত্তিতে এই ষড়যন্ত্রের রূপরেখা বেরিয়ে আসে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দাবি, এই তাণ্ডব কোনো সাধারণ শ্রমিক অসন্তোষ ছিল না; এর নেপথ্যে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মান্নান কচি, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা এবং সাবেক দুই অতিরিক্ত আইজিপিসহ একটি প্রভাবশালী চক্রের প্রত্যক্ষ ইন্ধন, অর্থায়ন ও অভ্যন্তরীণ আঁতাত ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ এবং আসামিদের ব্যবহৃত ১৬টি অ্যানক্রিপ্টেড হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জার গ্রুপের অডিও বার্তা ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্যাডার ভাড়া এনে এবং গুজবের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ ও নাশকতা চালিয়ে গার্মেন্ট শিল্পকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করেছিল। ডিবির তদন্তে দেখা যায়, কালশীর ‘শিহা ডিজাইন বাংলাদেশ লিমিটেড’ কারখানাটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচির মালিকানায় ছিল। পরে তিনি কাগজে-কলমে সরে দাঁড়ালেও কারখানাটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পাঁচ সদস্যের একটি সিন্ডিকেটের হাতে। এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন সাবেক দুই অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুল ইসলাম ও আবু হাসান মুহম্মদ তারিক। এছাড়া রয়েছেন আতিকুল ইসলামের শ্যালক নুরুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও মুশতাক আহমেদ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা কচি, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা, তার ভাগিনা আলিফ মোল্লা, সাবেক দুই অতিরিক্ত আইজিপি, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচার সম্পাদক আক্তার রনি এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলরসহ বেশ কয়েকজন এই আন্দোলনে অর্থায়ন এবং নেপথ্যে ইন্ধন জুগিয়েছেন। শ্রমিকদের ঢাল বানিয়ে পুরো তৈরি পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার সুপরিকল্পিত ছক ছিল এটি। ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই সহিংসতার নেপথ্যে থাকা শীর্ষ পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের মোবাইল ফোন জব্দ করে অন্তত ১৬টি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে। ‘চেতনা মুক্তিযুদ্ধ’, ‘শেখ হাসিনা রিজার্ভ ফোর্স’, ‘ঢাকা জেলা গেরিলা ৭১’, ‘হাসু আপার বাংলা’, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ গেরিলা’-র মতো নানা নামে খোলা এসব গ্রুপে ছদ্মবেশে নাশকতার পরিকল্পনা আদান-প্রদান করা হতো। আলামত নিশ্চিহ্ন করতে বেশকিছু বার্তা ডিলিট করা হলেও ডিবির ফরেনসিক টিম অডিও ও ছবি উদ্ধার করেছে। তদন্তে জানা যায়, মিছিলে অংশ নেওয়া ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালে তা দেখে সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লার ভাগিনা আলিফ মোল্লা ও জুয়েল মোল্লা অর্থ পাঠাতেন। ১ নভেম্বর পল্লবীতে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়ে সেই ভিডিও ধারণ করে শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠান কক্সবাজারের যুবলীগ নেতা মুয়াজ্জেম শাহরিয়ার নেওয়াজ। তদন্তসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, পোশাক খাতের স্বাভাবিক দাবি-দাওয়াকে পুঁজি করতে পঞ্চগড়, কক্সবাজার ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ক্যাডার এনে ঢাকায় জড়ো করা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, পঞ্চগড় কলেজ ছাত্রলীগের নেতা নাহিদ হাসানও মাঠে সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা আকতার রনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন যে, গাজীপুরে দুজন পোশাক শ্রমিকের লাশ পাওয়া গেছে। এই ভুয়া খবর ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে দিয়ে হাজার হাজার সাধারণ শ্রমিককে উত্তেজিত করে রাস্তায় নামানো হয়। গত ৩ নভেম্বর কালশী মোড়ে ডিএমপি কনস্টেবল সালমানকে ঘিরে ধরে বেধড়ক ও নৃশংস মারধর করা হয়। বিভিন্ন স্থানের ৪-৫টি ভিন্ন অ্যাঙ্গেলের সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে এই হামলায় সরাসরি জড়িত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। তারা হলেন আশিক জুলহাস, আরাফাত ইসলাম জিসান, মো. রশিদ আলী, সোহেল রানা, মিলন বাবু, আনারুল ইসলাম, মো. রানা ও মনছুর আলী। এর আগে ১ নভেম্বর গ্রেফতার হওয়া আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জানতে চাইলে ডিবির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা আলিফ মোল্লা ও জুয়েল মোল্লার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তাদের হোয়াটসঅ্যাপ ঘেঁটে অর্থ লেনদেনের নেটওয়ার্ক পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত নাশকতাকারীরা মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভয়েস মেসেজভিত্তিক অ্যাপস ব্যবহার করত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আসা অডিও বার্তায় দেখা যায়, নাশকতাকারীদের দূর থেকে টেলিফোনে নির্দেশ দিয়ে নির্দিষ্ট পয়েন্টে জড়ো করা হতো। একটি অডিও বার্তায় গ্রেফতার হওয়া নাহিদকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা সবাই ১২ নম্বর ইলিয়াস মোল্লার মার্কেটের সামনে আসেন... এখানে পুলিশ একদিকে চলে গেছে, আমাদের সুযোগ নিতে হবে... আজকের দিনটা করতে পারলে আমাদের নাম হবে।’
দেশের পাঁচ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ মার্কেটে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন হতাহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নিহত ও আহতের সংখ্যা আলাদাভাবে জানা যায়নি। শুক্রবার হুথি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ টিভি এ তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আল-মাসিরাহ জানায়, হতাহতের এই সংখ্যা প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। মার্কেটটিতে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজ শেষ না হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলার সময়ও ঘটনাস্থলের আকাশে যুদ্ধবিমান চক্কর দিচ্ছিল। এদিকে, ইয়েমেনের রাজধানী সানার হামদান এলাকায়ও ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-মাসিরাহ। ওই এলাকায় দুটি কূপ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। একই সময়ে সা’দা প্রদেশের মাজ জেলাতেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের সীমান্তসংলগ্ন সা’দা প্রদেশের অন্যান্য জেলায় কামানের গোলা ও রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথি বিদ্রোহীরা। অন্যদিকে, শুক্রবার পবিত্র মক্কা অঞ্চলে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার তথ্য জানিয়েছেন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি। সূত্র: আল-জাজিরা।
নাসির উদ্দিন
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ইরান। দেশটির দাবি, এই চার দেশের জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ ব্যবহার করতে পারছে। বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ, পণ্য ও রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানের এক আইনপ্রণেতা এসব তথ্য জানান। খবর আল জাজিরার। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সহসভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (আইএসএনএ) বলেন, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এসব জাহাজের চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পরপরই কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে গত জুলাইয়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে আবারও নৌ-অবরোধ কার্যকর করে ওয়াশিংটন। আমির হায়াত মোকাদ্দামের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ এই সুবিধার বিনিময়ে ভারত থেকে ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাচ্ছে ইরান। অন্যদিকে, কাতার আগে থেকেই তেহরানের প্রতি কূটনৈতিক সমর্থন জানিয়ে আসছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করছে। তিনি জানান, ভারত ও চীনের জাহাজ চলাচলের জন্য ট্রানজিট ফি আদায় করবে ইরান। তবে কাতারের জাহাজকে এ ধরনের কোনো ফি দিতে হবে না। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে টোল নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি এই আইনপ্রণেতা। ইরানের এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও মানবাধিকার অধ্যয়ন বিভাগের গবেষক এবং ইরান বিশেষজ্ঞ রুজবেহ পারসি। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ইরানের আইনপ্রণেতা যেসব যুক্তিই তুলে ধরুন না কেন, মূল বিবেচ্য বিষয় হলো এই ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে। রুজবেহ পারসি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরানের জন্য পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনা নতুন কোনো কৌশল নয়। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, অবরোধের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও সেবার আদান-প্রদানের পথ তৈরি করা। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমির ধারণা, বিনা বাধায় জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ইরান ট্রানজিট ফি আদায় করছে। বিকল্প হিসেবে পণ্যের মোট মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশও নেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং লিবিয়ায় অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুশতাইয়ের মতে, ইরানের এই কৌশল বেশ চতুর। কারণ, পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে দেশটির আয়ের বড় একটি উৎস তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কিনে থাকে দেশটি। ফলে চীনের সঙ্গে এই বিশেষ সুবিধার সম্পর্ক তেহরানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটার কারণে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং ইবেরিয়ার মূল কোম্পানি আইএজি (IAG)-এর নিট মুনাফা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার তাদের নিট মুনাফা কমেছে ১২ শতাংশের বেশি। আইএজি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তাদের কর-পরবর্তী মুনাফা কমে ১.২৩ বিলিয়ন ইউরোতে (প্রায় ১.৩৭ বিলিয়ন ডলারে) নেমে এসেছে। যা আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ছিল ১.৪০ বিলিয়ন ইউরো। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল্যস্তর ভালো থাকা সত্ত্বেও সক্ষমতা হ্রাস, আকস্মিক বিভিন্ন বিঘ্নিত ঘটনার প্রভাব এবং বিশেষ করে জেট জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সেই সুফল ম্লান হয়ে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, এই প্রান্তিকে তাদের সামগ্রিক জ্বালানি খরচ বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। এছাড়া গ্রুপটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে ফ্লাইট বাতিল, ইঞ্জিন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিমানের অপ্রাপ্যতা এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থার বিঘ্নের মতো একাধিক সংকটের কারণে তাদের সার্বিক ফ্লাইট পরিচালনা সক্ষমতা সংকুচিত হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ মার্কেটে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন হতাহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নিহত ও আহতের সংখ্যা আলাদাভাবে জানা যায়নি। শুক্রবার হুথি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ টিভি এ তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আল-মাসিরাহ জানায়, হতাহতের এই সংখ্যা প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। মার্কেটটিতে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজ শেষ না হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলার সময়ও ঘটনাস্থলের আকাশে যুদ্ধবিমান চক্কর দিচ্ছিল। এদিকে, ইয়েমেনের রাজধানী সানার হামদান এলাকায়ও ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-মাসিরাহ। ওই এলাকায় দুটি কূপ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। একই সময়ে সা’দা প্রদেশের মাজ জেলাতেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের সীমান্তসংলগ্ন সা’দা প্রদেশের অন্যান্য জেলায় কামানের গোলা ও রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথি বিদ্রোহীরা। অন্যদিকে, শুক্রবার পবিত্র মক্কা অঞ্চলে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার তথ্য জানিয়েছেন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি। সূত্র: আল-জাজিরা।
ফিলিস্তিনের গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দিতে অস্বীকৃতির কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইসরায়েলের রা’আম পার্টির প্রধান মনসুর আব্বাস। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্য তাঁকে, তাঁর পরিবার ও দলের সদস্যদের নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে দুই পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলের অধিকাংশ ইহুদি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করলেও ব্যতিক্রম রা’আম পার্টি ও জয়েন্ট আরব লিস্ট। এই অবস্থানের কারণে গাদি আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য ‘চেঞ্জ’ জোটে দল দুটির অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আইসেনকোটের শর্ত, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ইসরায়েলে সরকার গঠনের আলোচনা চলছে। এর অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ নেসেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বৃহস্পতিবার রা’আম পার্টির প্রধান মনসুর আব্বাসের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে আব্বাস জানান, তাঁর দল গাদি আইসেনকোটকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিচ্ছে। এ সময় প্রেসিডেন্ট হেরজগ জানতে চান, তিনি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করেন কি না। জবাবে আব্বাস রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে তাঁর দলের দীর্ঘদিনের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের বারবার এমন আনুগত্যের পরীক্ষায় ফেলাটা অসম্ভব।’ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রতিও সমর্থন জানান আব্বাস। তিনি বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধানে তাঁর লক্ষ্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং হামাসসহ সব সামরিক ও সশস্ত্র সংগঠনকে নিরস্ত্রীকরণ করা। বৈঠকে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের মহাপরিচালক ইয়াল শভিকি জানতে চান, হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিতে তিনি কেন অনীহা দেখাচ্ছেন। জবাবে আব্বাস বলেন, ‘আমার কাছে একটি স্পষ্ট উত্তর আছে, কিন্তু আমাকে একটি সেতু হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিন, যাতে আমি অন্য পক্ষকেও প্রভাবিত করতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি সেতু। সেই সেতুটি আমরা ধ্বংস না করি। আমাদের সন্ত্রাসী সমর্থক বা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবেন না।’ হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন বললে নিজের ও পরিবারের পাশাপাশি দলের সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন আব্বাস। তাঁর ভাষায়, ‘এ বিষয়টি আমাদের জীবন-মরণের প্রশ্ন। আমাকে নিজের, আমার পরিবারের এবং দলের সদস্যদের রক্ষা করার সুযোগ দিন।’ নির্বাচনে মনসুর আব্বাসের রা’আম পার্টি আটটি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়েন্ট আরব লিস্ট পেয়েছে ১১টি আসন। আরব ভোটারদের অংশগ্রহণের ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দল দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। জয়েন্ট আরব লিস্ট ইতোমধ্যে আইসেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য সুপারিশ করার কথা জানিয়েছে। দলটি সরকারে সরাসরি যোগ দেওয়ার আগ্রহ না দেখালেও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সক্ষম এমন সরকারকে শর্তসাপেক্ষ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে, রা’আম পার্টি আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন সরকারে অংশ নিতে আগ্রহী। দলটির প্রার্থী তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন জায়নবাদী মতাদর্শের সাবেক আইনপ্রণেতা ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ইয়োয়াভ সেগালোভিৎজ। ঐতিহাসিকভাবে ইসলামপন্থী রা’আম পার্টি ২০২১-২০২২ সালে গঠিত ইসরায়েলের তথাকথিত ‘পরিবর্তন সরকার’-এর অংশ ছিল। ওই সরকার সে সময় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।