সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
ইরানের সমুদ্রসীমায় তৈরি হচ্ছে দুর্ভেদ্য আকাশ প্রতিরক্ষা বলয়

পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে ইরান। সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া আইআরজিসি নৌবাহিনীর স্মার্ট কন্ট্রোল মহড়া থেকে পাওয়া তথ্য ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইরানের যুদ্ধজাহাজগুলো এখন আর কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই বরং এগুলো এখন একেকটি ভ্রাম্যমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।    এই মহড়ায় ইরানের অত্যাধুনিক শহীদ সায়্যাদ শিরাজি যুদ্ধজাহাজ থেকে প্রথমবারের মতো 'সায়্যাদ ৩-জি' ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।    সুলাইমানি ক্লাসের তৃতীয় যুদ্ধজাহাজ হিসেবে পরিচিত এই 'সায়্যাদ শিরাজি' বর্তমানে বিশাল আকারের ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেমের (লম্বালম্বিভাবে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা) ছয়টি সাইলো বহন করছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে যুদ্ধজাহাজটিকে এখন আর লক্ষ্যবস্তুর দিকে মুখ করে ক্ষেপণাস্ত্র তাক করতে হয় না বরং এটি যেকোনো দিক থেকে আসা আক্রমণকে মুহূর্তের মধ্যে রুখে দিতে সক্ষম।    সায়্যাদ ৩-এফ ক্ষেপণাস্ত্রের নৌ-সংস্করণ হিসেবে পরিচিত এই ৩-জি ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে শত্রুঘাঁটির যুদ্ধবিমান, উচ্চ-উচ্চতার ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন সক্ষমতা ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় জলসীমায় একটি বিশাল এয়ার ডিফেন্স বাবল (আকাশ প্রতিরক্ষা সুরক্ষা বলয়) তৈরি করেছে। উল্লম্ব উৎক্ষেপণ প্রযুক্তির কারণে এই জাহাজগুলো এখন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যা মূলত বড় আকারের সমন্বিত হামলা মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর। এর ফলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের যুদ্ধজাহাজগুলোকে কার্যত একেকটি ভাসমান দুর্গে পরিণত করেছে।   সূত্র: তেহরান টাইমস 

৫ মিনিট আগে
রমজানে ওমরাহ পালনে নতুন নির্দেশনা

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নতুন ব্যাপকভিত্তিক নির্দেশিকা জারি করেছে সৌদি আরব। ১৪৪৭ হিজরি সালের রমজানে ভিড় সামলাতে এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে ইবাদত পালনের পরিবেশ বজায় রাখতে এই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।    বিশেষ করে রমজানের শেষ দশ দিনে যখন লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, তখন গ্র্যান্ড মসজিদের চারপাশের কেন্দ্রীয় এলাকায় প্রচণ্ড ভিড় এড়াতে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনা ও নির্ধারিত পথ অনুসরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।   মক্কার এই বিশাল জনস্রোত সামলাতে এবার ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। মসজিদের প্রবেশপথে থাকা ডিজিটাল নির্দেশকগুলো মুসল্লিদের নামাজের স্থানের প্রাপ্যতা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য দেবে, যেখানে সবুজ সংকেত থাকলে প্রবেশ করা যাবে এবং লাল সংকেত দেখলে বুঝতে হবে নির্দিষ্ট স্থানটি পূর্ণ হয়ে গেছে।    যানজট নিরসনে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে ওমরাহ যাত্রীদের জন্য পাবলিক বাস, ট্যাক্সি এবং হারামাইন হাই-স্পিড রেলওয়ে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শহরের উপকণ্ঠে বিশেষ পার্কিং ও শাটল সার্ভিসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   নিরাপত্তার স্বার্থে পথচারী চলাচল এলাকায় মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল বা যেকোনো অননুমোদিত যানবাহন প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রবেশপথ, করিডর এবং জরুরি বহির্গমন পথে ভিড় না করতে এবং নামাজ শেষে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে অন্যদের সুযোগ করে দিতে বলা হয়েছে। বয়স্ক এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা নামাজের জায়গা, অগ্রাধিকারভিত্তিক পথ এবং ইলেকট্রিক কার্ট সুবিধা। ভিড় এড়াতে ছোট শিশুদের সঙ্গে না আনারও পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ওমরাহ পালনকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পানি পান করা, বিশ্রাম নেওয়া এবং তীব্র রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকতে এবং আবাসনস্থলে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের অতিরিক্ত ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।    নিরাপত্তার খাতিরে ব্যক্তিগত সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ডিজিটাল পারমিট গ্রহণ এবং নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে পালনের কথা বলা হয়েছে। গ্র্যান্ড মসজিদ এলাকায় ধূমপান, ভিক্ষাবৃত্তি, অননুমোদিত কেনাবেচা এবং চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং যেকোনো সন্দেহজনক আচরণ নজরে এলে তাৎক্ষণিক রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।   সূত্র: গালফ নিউজ

৮ মিনিট আগে
সৌদি আরবের গুহায় চিতা মমির সন্ধান, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলীয় আরার শহরের কাছে মরুভূমির গুহায় প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত সাতটি চিতার মমির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওয়াইল্ডলাইফ-এর বিজ্ঞানীরা ২০২২ এবং ২০২৩ সালে বন্যপ্রাণী জরিপ চালানোর সময় এই অভাবনীয় আবিষ্কারটি করেন।    চিতাগুলোর কঙ্কাল এবং নরম কোষগুলো অত্যন্ত শুষ্ক পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবেই মমি হয়ে অক্ষত অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি এই মমিগুলোর ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু তথ্য পেয়েছেন, যা আরব উপদ্বীপে চিতা পুনর্বাসনের প্রচেষ্টায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।   গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরবে কেবল এশীয় চিতারই বিচরণ ছিল বলে আগে যে ধারণা করা হতো, তা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। উদ্ধার হওয়া মমির ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গেছে, আরবের মরুভূমিতে একসময় উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকান চিতারও অবাধ বিচরণ ছিল।    ‘কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ জার্নালে প্রকাশিত এই তথ্য প্রমাণ করে যে, আরব উপদ্বীপ একসময় চিতার বিভিন্ন প্রজাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সেতু হিসেবে কাজ করত। এটি কেবল তাদের যাতায়াতের পথ ছিল না, বরং হাজার হাজার বছর ধরে তারা এখানে বংশবৃদ্ধি করে টিকে ছিল।   গবেষক দলের প্রধান আহমেদ আল বৌগ জানিয়েছেন, চিতা সাধারণত গুহা ব্যবহার করে না, তাই তাদের এই আচরণ বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। গবেষকরা ধারণা করছেন, অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া এই চিতাগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে মমি হতে সাহায্য করেছে। এই গুহাগুলো থেকে ৫৪টি বিড়ালজাতীয় প্রাণীর কঙ্কালও উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে পুরোনোটি প্রায় ৪ হাজার বছরের প্রাচীন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কিছু মমি মাত্র একশ বছরের পুরোনো, যার অর্থ হলো মানুষ আগে যা ভাবত তারচেয়েও অনেক বেশি সময় পর্যন্ত চিতা এই অঞ্চলে টিকে ছিল।   এই আবিষ্কারটি চিতা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গবেষক আদ্রিয়ান টরডিফ মনে করেন, এই ডিএনএ তথ্যের ফলে এখন জানা সম্ভব হয়েছে যে ঠিক কোন প্রজাতির চিতা এই অঞ্চলের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত। ফলে অন্য কোনো দূরবর্তী পরিবেশ থেকে চিতা না এনে ঐতিহাসিকভাবে এই মাটিতে বাস করা প্রজাতির কাছাকাছি চিতা দিয়েই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। বর্তমানে সৌদি আরবের বিশাল সংরক্ষিত এলাকাগুলো চিতার আদি শত্রু এবং মানুষের উৎপাত থেকে মুক্ত থাকায় এই পুনর্বাসন পরিকল্পনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। চিতা ফিরে এলে মরুভূমির বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য আবার পূর্ণতা পাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।   সূত্র: সিএনএন

১০ মিনিট আগে
বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি ভয়াবহ

বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন তিনি। এ ঘটনায় তার সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, ১২টা ১ মিনিটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমারই প্রথম ফুল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির কিছু লোক সেখানে রীতিমতো হামলা চালায়। আমাকে এক পাশে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। বিএনপি যদি তার নেতা-কর্মীদের লোকাল লেভেলে এখনই কন্ট্রোল না করে, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপির উপজেলা শাখার প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি সেখানে ছিলেন না। এলাকায় গুন্ডা হিসেবে পরিচিত একজনের নেতৃত্বে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলে হামলা চালায়। হামলার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রুমিন ফারহানা আরও বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতেছি। তাদের মধ্যে পরাজয় মেনে নেওয়ার কষ্ট আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, পুলিশ চেষ্টা করেছে। কিন্তু সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা যখন ভয়াবহভাবে তাণ্ডব চালায়, পাঁচ থেকে ১০ জন পুলিশ সেটা কন্ট্রোল করতে পারে না।

১৩ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
বাবার পথেই এগিয়ে চলেছেন তারেক রহমান

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাদামাটা, সৎ ও পরিমিত জীবনযাপন সর্বমহলে প্রশংসিত এবং অনুকরণীয় ছিল। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং ব্যক্তিগত সততা ও নিষ্ঠার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তার এই সাদামাটা জীবনযাপন, দেশপ্রেম এবং সততা তাকে জনগণের কাছে ‘ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক’ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। বাবার পথেই এখন হাঁটছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে তিনি একাধিক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালীন বিলাসবহুল জীবন থেকে দূরে থাকতেন, যা তাকে ‘মাটির মানুষ’ হিসাবে পরিচিতি দিয়েছিল। তার প্রতিদিনের চলাফেরা, খাবার ও পোশাকে পরিমিতিবোধ এবং নিয়মানুবর্তিতা ছিল লক্ষণীয়, যা ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে বড় উদাহরণ হয়ে আজও রাজনীতিতে আলোচনা হচ্ছে। তিনি সরাসরি মানুষের সমস্যা শুনতেন এবং তাদের সঙ্গে মিশে যেতেন, যা জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করত।   বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যেও বাবার প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে। তার সাদাসিধে চলাফেরা ইতোমধ্যে জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তারেক রহমান বলেন, আব্বু সাদাসিধে জীবন কাটাতে ভালোবাসতেন। আমরাও কোনোদিন কোনো দামি জামা-কাপড়, জুতা ব্যবহার করিনি।   এছাড়া, ১৯৮১ সালে দৈনিক বাংলায় এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জিয়াউর রহমান আনুষ্ঠানিক ও সরকারি উপলক্ষ্যেই ভালো পোশাক পরতেন, কিন্তু বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন খুবই সহজ-সরল মানুষ, এমনকি ছেঁড়া কাপড় রিপু করিয়েও পরতেন।   এখন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমান সাধারণ পোশাক পরেই সচিবালয়ে অফিস করতে দেখা গেছে। তিনি সরকারী গাড়ি, চালক ও জ্বালানি ব্যবহার না করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলাচল করেন। তার সিদ্ধান্তে প্রটোকল কমানো, মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে আয়োজন করা, এবং শনিবার অফিস করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।   তিনি সড়কে পুলিশের সারিবদ্ধ অবস্থান এবং প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ঐতিহ্যও বাতিল করেছেন। তার এসব উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে এবং জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   শপথ গ্রহণের পর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে সকালে প্রবেশ করার পর সেখানে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে। তিনি নিজে নামাজ আদায় করেছেন এবং তার অফিসের সবাই নামাজ পড়েছেন, যা সচিবালয়ে সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে।   বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত স্থানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তারেক রহমান, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন যাত্রার সূচনা। এই শপথের পর তিনি ভিভিআইপি প্রটোকল না নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে চলাচল শুরু করেছেন। এর ফলে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এটি একটি সংস্কৃতি পরিবর্তনের বার্তা।   এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণ এবং তার কৃচ্ছ সাধনের আহ্বান ছিল অতুলনীয়। জনসাধারণের প্রতি তার এই দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাতীয় সমস্যাগুলির প্রতি মনোযোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা নিয়ে ব্রিফিং। ছবি: সংগৃহীত
রমজানেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি দেবে সরকার

নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম মুয়াজ্জিনদের সম্মানি ভাতা দেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। তবে এই সম্মানি কত টাকা তা এখনও নির্ধারণ করেনি সরকার। ঈদের আগেই কয়েকটি এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু করবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেইটে তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব কথা জানান। এ সময় স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পাশে রেখে মাহদী জানান, নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুদের সম্মানি ভাতা প্রদান করা। ক্ষমতায় এসে সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার ঈদুল ফিতরের আগেই প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে তা চালু হবে। কত টাকা সম্মানি ভাতা প্রদান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তা চূড়ান্ত করা হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, আজ ছিল তারেক রহমানের তৃতীয় কর্মদিবস। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশকিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজ তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন তারেক রহমান। অফিসে প্রবেশের আগে তিনি ব্রিফ করেছেন। অনেক পুরাতন কর্মজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পলিসি কার্যক্রম নিয়েও আজ আলোচনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা দিয়ে হয়রানি না করা যাবে না- এটিএম আজহারুল ইসলাম

রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে আজ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এ মাহফিলে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে রোজার শিক্ষা, তাকওয়া অর্জনের গুরুত্ব এবং সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের মাস। এই মাসের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ সময় তিনি তারাগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামুলক আলোচনা করেন।  এর আগে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম পরিচিতি সভা ও মতবিনিময় করেন।  এসময় তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কাছে জনগণ সর্বপ্রথম সম্মানজনক আচরণ ও সৌজন্যপূর্ণ ব্যবহার প্রত্যাশা করে। সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানি বা অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার না হন—সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান করেন। উপজেলা পরিষদ হলরুমে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এমপি আজহারুল ইসলাম বলেন, জনসেবার মান কেবল কাজের গতি দিয়ে নির্ধারিত হয় না; কর্মকর্তাদের আচরণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একজন নাগরিক যদি সম্মান পান, তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা হয় এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তিনি ভাষা দিবস নিয়ে বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি হলো বাঙ্গালি জাতির উপর হওয়া এক বড় অন্যায়ের প্রতিবাদ। নিজের ভাষাকে রক্ষা করা, মানে নিজের অস্তিত্বকে রক্ষা করা। এ সময় তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি না করার জন্য থানা পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি আরও বলেন, আমার দলেরও কেউ অন্যায় করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যায়কারীকে আমরা ছেড়ে দেব না। মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে আমাদের সবাইকে। মাদক জীবন ধ্বংস করে, মাদক দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করে। তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করলে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জনগণের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সড়ক উন্নয়ন, কৃষি সহায়তা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও নাগরিক সেবা সহজীকরণে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের সার্বিক বিষয় আইনশৃঙখলার গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। এসময় সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


ছবি: সংগৃহীত
‘সাকিব–মাশরাফি হত্যা করতে পারে, আমি বিশ্বাস করি না’

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ‘আই ডোন্ট থিংক, সাকিব–মাশরাফি হত্যা করতে পারে, এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমি সোজাসোজি বলে দিচ্ছি, এটা আমি বিশ্বাস করি না।   তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তারা অন্যকোনো কিছুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না। এখানে তো অন্য কেইসগুলো আছে, সেটা আমি বলতে পারব না। আমাকে যদি আপনি নির্দিষ্ট করে হত্যা বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন, সাকিব–মাশরাফি হত্যা করতে পারে, এটা আমি বিশ্বাস করি না।’ সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল এসব কথা বলেন।

গ্যাসের চুলা। ছবি : সংগৃহীত
রোববার ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য কয়েক এলাকায় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এতে বলা হয়, জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ৬ ঘণ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৃষ্টির দিন। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকাসহ ৭ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন ঢাকাসহ দেশের ৭ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।   শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে আবহাওয়া অফিসের দেওয়া আগামী পাঁচ দিনের বিশেষ পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টা আকাশ আংশিক মেঘলা ও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকলেও সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হবে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে বৃষ্টির আসল বিস্তৃতি ঘটবে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি)। যখন ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেও বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। অর্থাৎ মঙ্গলবার দেশের প্রায় সবকটি প্রধান বিভাগেই বৃষ্টির ছোঁয়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবারের (২৫ ফেব্রুয়ারি) আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টির প্রভাবে বুধবার থেকে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা পুনরায় কিছুটা কমতে শুরু করবে। আবহাওয়া অফিস জানায়, বর্তমানে বিষুবীয় ভারত মহাসাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই লঘুচাপের প্রভাবেই উত্তরীয় বায়ুর সঙ্গে জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে বজ্রবাহী মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
ভারতে গোয়েন্দা নজরদারিতে বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদীর সঙ্গে ঠিক কী হয়েছিল?

সম্প্রতি পর্তুগালের ভিসা আবেদন করতে ভারতের দিল্লিতে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান। মাসখানেক আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর কারণে আলোচনায় আসা এই নেতাকে সেখানে কেউ একজন চিনে ফেলেন এবং একটা ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এরপরেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।   মাহদী হাসানের দাবি, দিল্লিতে অবস্থানকালে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তার ওপর নজরদারি চালান এবং পরে বিমানবন্দরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন তথ্য। এদিকে মাসখানেক আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বসে মাহদী হাসান ওসি আবুল কালামকে হুমকি দিচ্ছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তারা বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছেন এবং এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে জানুয়ারিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে তিনি মুক্তি পান। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্তুগালের ভিসা নিতে মাহদী হাসান দিল্লিতে যান। বাংলাদেশের নাগরিকদের পর্তুগালের ভিসার আবেদন করতে দিল্লিতে যেতে হয়, এজন্য প্রয়োজন ভারতীয় ভিসা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিনি বৈধ ভারতীয় ভিসা নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সকালে দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসে একটি বেসরকারি ভিসা প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে তাকে দেখা যায়। তার সঙ্গে এক নারীও ছিলেন। তারা পর্তুগালের ভিসার আবেদন করতে সেখানে যান বলে জানা গেছে। পরে নিউ দিল্লি রেলস্টেশনের কাছাকাছি পাহাড়গঞ্জ এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন। সেখানেই কেউ তার ভিডিও ধারণ করেন বলে সূত্র জানায়। এরপর বেলা ১১টার দিকে তার ফোনে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল আসতে শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তখনই তিনি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। একই সময়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার ওপর নজরদারি শুরু করে। পরে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র থেকে বের হয়ে মাহদী হাসান পুরান দিল্লির জামা মসজিদ এলাকায় যান। দুপুরে বাংলাদেশ থেকে কেউ তাকে জানান, তিনি শনাক্ত হয়েছেন। এরপর দিল্লির কয়েকটি স্থানে আশ্রয়ের চেষ্টা করলেও কেউ তাকে থাকতে রাজি হয়নি বলে সূত্র জানায়। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভারতবিরোধী বক্তব্য এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার প্রকাশ্য দাবি করার অভিযোগের কারণে তাকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। যদিও তাদের বক্তব্য, মাহদী বাংলাদেশে কোনো অপরাধ করে থাকলে তা সে দেশের বিষয়। আরেকটি সূত্র জানায়, তার ভারতীয় ভিসা রাতেই বাতিল করা হয়। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে বুধবার সকালে ইন্ডিগোর ফ্লাইটে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে দিল্লি বিমানবন্দরে যান মাহদী হাসান। চেক-ইন সম্পন্ন করে নিরাপত্তা তল্লাশির লাইনে দাঁড়ানোর পর তাকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে। প্রায় আধঘণ্টা বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বুধবার বিকেলে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাকে বৈষম্যবিরোধী নেতা হিসেবে আটক করা হয়েছিল। প্রচণ্ড হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি জীবনঝুঁকিতে ছিলাম। ক্রিপ্টোকারেন্সিসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্য ‘গুজব’। বাংলাদেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন মাহদী হাসান। তার ভাষ্য, আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পরে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়। ভারতের বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নিউজ ক্লিপস

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সমুদ্রসীমায় তৈরি হচ্ছে দুর্ভেদ্য আকাশ প্রতিরক্ষা বলয়
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0

পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে ইরান। সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া আইআরজিসি নৌবাহিনীর স্মার্ট কন্ট্রোল মহড়া থেকে পাওয়া তথ্য ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইরানের যুদ্ধজাহাজগুলো এখন আর কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই বরং এগুলো এখন একেকটি ভ্রাম্যমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।    এই মহড়ায় ইরানের অত্যাধুনিক শহীদ সায়্যাদ শিরাজি যুদ্ধজাহাজ থেকে প্রথমবারের মতো 'সায়্যাদ ৩-জি' ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।    সুলাইমানি ক্লাসের তৃতীয় যুদ্ধজাহাজ হিসেবে পরিচিত এই 'সায়্যাদ শিরাজি' বর্তমানে বিশাল আকারের ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেমের (লম্বালম্বিভাবে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা) ছয়টি সাইলো বহন করছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে যুদ্ধজাহাজটিকে এখন আর লক্ষ্যবস্তুর দিকে মুখ করে ক্ষেপণাস্ত্র তাক করতে হয় না বরং এটি যেকোনো দিক থেকে আসা আক্রমণকে মুহূর্তের মধ্যে রুখে দিতে সক্ষম।    সায়্যাদ ৩-এফ ক্ষেপণাস্ত্রের নৌ-সংস্করণ হিসেবে পরিচিত এই ৩-জি ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে শত্রুঘাঁটির যুদ্ধবিমান, উচ্চ-উচ্চতার ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন সক্ষমতা ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় জলসীমায় একটি বিশাল এয়ার ডিফেন্স বাবল (আকাশ প্রতিরক্ষা সুরক্ষা বলয়) তৈরি করেছে। উল্লম্ব উৎক্ষেপণ প্রযুক্তির কারণে এই জাহাজগুলো এখন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যা মূলত বড় আকারের সমন্বিত হামলা মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর। এর ফলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের যুদ্ধজাহাজগুলোকে কার্যত একেকটি ভাসমান দুর্গে পরিণত করেছে।   সূত্র: তেহরান টাইমস 

ছবি: সংগৃহীত
কুয়ালালামপুরে ইফতার ও মাতৃভাষা দিবসের সভা অনুষ্ঠিত
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি প্রফেশনালদের সংগঠন মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশনের (এমবিএফএ) উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস সেক্রেটারি তারিকুল ইসলামসহ প্রবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।   পবিত্র রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশে আয়োজিত এ মাহফিলে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় অনুপ্রাণিত করে। এই দুই তাৎপর্যকে একসূত্রে গেঁথে আয়োজনটি প্রবাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মাৎ শাহানারা মনিকা।    তিনি বলেন, প্রবাসে থেকেও জাতীয় চেতনা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সমানভাবে ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কেবল বাংলাদেশের গর্ব নয়, এটি বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। তিনি এমবিএফএ’র এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।   বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিনিস্টার (লেবার) মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি রমজানের শিক্ষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগের আহ্বান জানান।   এমবিএফএ’র মেম্বার প্রকৌশলী প্রণয় কুমার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে একুশের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল দোয়া ও মোনাজাত পর্ব। মোনাজাত পরিচালনা করেন এমবিএফএ’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল বাশার। তিনি দেশ, জাতি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।   পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এমবিএফএ’র হেড অব মেম্বারশিপ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ কায়সার অপু।    সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, এমবিএফএ সবসময় প্রবাসীদের কল্যাণ, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এমন গঠনমূলক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।   দোয়া শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে প্রবাসীরা একসঙ্গে ইফতার করেন। সব মিলিয়ে রমজানের পবিত্রতা ও ভাষা দিবসের চেতনাকে একত্রিত করে এমবিএফএ’র এই আয়োজন প্রবাসে এক স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের হুমকির মুখেও মাথা নত করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চলাকালে বিশ্বশক্তির চাপের কাছে ইরান মাথা নত করবে না বলে হুঙ্কার দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এই হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।   পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে... কিন্তু তারা আমাদের জন্য যত সমস্যাই সৃষ্টি করুক না কেন, আমরা মাথা নত করব না।   ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছেন। তার এমন হুমকির মাঝে ইরানের প্রেসিডেন্ট পালটা ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।   এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া প্রস্তাব কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত হবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর ওই সতর্কবার্তা এসেছে।   বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি ১০ দিনের মধ্যে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে ‌‌‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে। পরে তিনি সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ দিন করেন।   শুক্রবার এক সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, তিনি কি ইরানে সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছেন? জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি এতটুকুই বলতে পারি—বিষয়টি বিবেচনা করছি।’   সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুক্রবার বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে। ট্রাম্পের নির্দেশে জাহাজটিকে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর বহরে থাকা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করে।   জেনেভায় আলোচনার পর তেহরান বলেছে, সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া জমা দিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, এটিই হবে পরবর্তী ধাপ।   তিনি বলেন, আমি মনে করি, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই এটি প্রস্তুত হবে এবং আমার ঊর্ধ্বতনদের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।    আরাঘচি বলেন, মার্কিন আলোচকরা তেহরানকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করতে বলেননি। তবে আরাঘচির এই মন্তব্য কিছু মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, আমরা কোনো স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দিইনি এবং যুক্তরাষ্ট্রও শূন্য সমৃদ্ধকরণের কথা বলেনি।   শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমএস নাউয়ে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা এখন যে বিষয়ে কথা বলছি, তা হলো—ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, যার মধ্যে সমৃদ্ধকরণও রয়েছে, কীভাবে নিশ্চিত করা যায় যে এটি শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং চিরকাল শান্তিপূর্ণই থাকবে।   সূত্র: রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় বৈকাল হ্রদে বাস ডুবে ৮ চীনা পর্যটকের মৃত্যু
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0

রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় বৈকাল হ্রদে বরফ ভেঙে একটি বাস ডুবে আট চীনা পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক শাখা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে। ইরকুত্স্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ টেলিগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, হিমায়িত হ্রদ পার হওয়ার সময় একজন চীনা পর্যটক বাস থেকে বের হয়ে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে সাতজন চীনা পর্যটক এবং চালক রয়েছেন। চীনের কনস্যুলেট জেনারেলকে ইতোমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে।   রাশিয়ার জরুরি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় তিন মিটার চওড়া বরফের ফাটলে বাসটি পড়ে যায় এবং পরে হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায়। পরে উদ্ধারকারীরা পানির নিচে ক্যামেরা ব্যবহার করে তল্লাশি চালিয়ে সাতজনের লাশ উদ্ধার করেছেন।   আঞ্চলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, পর্যটকবাহী বাস ডুবে যাওয়ার পর ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।   উল্লেখ্য, বিশ্বের গভীরতম স্বাদুপানির হ্রদ হিসেবে পরিচিত লেক বৈকাল সাইবেরিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। এটি মঙ্গোলিয়ার ঠিক উত্তরে অবস্থিত এবং বিশেষ করে চীনা পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। শীতকালে হ্রদটির বিশাল জলরাশি বরফে ঢেকে যায়। তখন বরফের স্তরে স্ফটিকের মতো স্তম্ভ তৈরি হয় এবং নিচে আটকে থাকা ঢেউয়ের কারণে ভাঙনের বিশেষ ধরনের শব্দ শোনা যায়, যা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়।   বরফ জমে গেলে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু বরফ-সড়ক চালু করে, যা নিয়মিত তদারকি করা হয় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট ধরনের যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত পথের বাইরে গাড়ি চালানো আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ। মস্কো এবং বেইজিংয়ের মধ্যে পারস্পরিক ভিসামুক্ত ব্যবস্থা চালু করার পর সাম্প্রতিক বছরে বৈকাল হ্রদে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি