সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ট্রাম্পের, হামলার হুঁশিয়ারি

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ‘সম্পূর্ণ লঙ্ঘন’ করার অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানোর মাধ্যমে ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। একই সঙ্গে ইরান চুক্তি না মানলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। রোববার (১৯ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ট্রাম্প জানান, মার্কিন প্রতিনিধিরা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাতে পৌঁছাবে। তারা নতুন করে আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, আমরা একটি খুবই ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছি। তারা যদি এটি গ্রহণ না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেবে। এখন আর ‘ভদ্র আচরণ’ নয়! যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান নিজেদের জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছিল। তবে গত শুক্রবার এটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর পরদিনই আবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সব বন্দরে অবরোধ প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয় তারা। শনিবার অন্তত দুটি জাহাজ প্রণালির দিকে আগালে হামলার মুখে পড়ে। এরপর থেকে ওই জলপথে আর কোনো জাহাজ চলাচল দেখা যায়নি। ট্রাম্প বলেন, ইরান গতকাল হরমুজ প্রণালিতে গুলি চালিয়েছে। এটি আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। তবে হুমকি দিলেও পাকিস্তানে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদের পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ জানান, পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি এই দুই প্রধান বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে সম্ভাব্য নতুন বৈঠকের জন্য শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বৈঠকের সম্ভাব্য স্থানগুলোর আশেপাশে কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। এর আগে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেন, নতুন করে আলোচনা চালাতে হলে একটি মৌলিক কাঠামোতে সম্মত হতে হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার গালিবাফ বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে আমাদের মধ্যে এখনো বড় দূরত্ব রয়েছে। কিছু বিষয়ে আমরা অনড়, তাদেরও নিজস্ব সীমারেখা আছে। তবে এসব বিষয় এক বা দুটি মূল ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

৮ ঘন্টা আগে
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়বে যেসব ব্যয়

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান যুদ্ধের জের ধরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ সরকার জালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরপরই গণপরিবহন ও বাজারসহ সবখাতেই মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর আজই বেড়েছে এলপিজির দাম। পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং সেটি হলে বর্তমান ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি’ আরও বেড়ে জনদুর্ভোগের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ কবে শেষ হবে এবং তেল সরবরাহ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তার নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দাম বাড়ালেও তেলের সরবরাহ বাড়বে কিনা, তাও নিশ্চিত নয়। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি সরকারকে আপাতত অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় থেকে সামান্য স্বস্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও দেশের অর্থনীতিকে আরও কতটা চাপের মুখে পড়তে হবে তা এখনও অজানা। গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, জীবনযাত্রাকে সহনীয় করতে বিকল্প উদ্যোগগুলো না নিলে মূল্যস্ফীতি ১৩ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে, যা গত মাসেই ছিল ৯ শতাংশের কাছাকাছি। তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বৃদ্ধি হয়তো সরকারের নিরুপায় সিদ্ধান্ত। তবে শুল্কসহ মূল্য বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো সমন্বয় করতে হবে যাতে ভোক্তাকে ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি মূল্যে কিছু কিনতে না হয়।’ যদিও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তেলের দাম যেটুকু বাড়ানো হয়েছে তাতে মূল্যস্ফীতি বাড়তেও পারে, আবার নাও বাড়তে পারে। তার দাবি, তেলের দাম নগণ্যই বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, সরকার বাধ্য হয়ে তেলের দাম বাড়িয়েছে কিন্তু এটা করা হয়েছে দাম সমন্বয়ের জন্য। তেলের দাম ও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশের পেট্রল পাম্পগুলোতে তেল সংকট তীব্র হতে শুরু করে এবং এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ আসছে। ঢাকাসহ সারাদেশেই পেট্রল পাম্পগুলোতে তীব্র ভিড় দেখা যাচ্ছে দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে। যদিও সরকার বরাবরই বলে আসছিল যে তেলের কোনো সংকট নেই। এর মধ্যেই পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে উল্লেখ করে বাজারে অনেক জিনিসের দাম বেড়ে গেছে এবং গত কয়েক সপ্তাহ দেশে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দামও বাড়তির দিকে দেখা যাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার থেকেই জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনঃনির্ধারণ করেছে সরকার, ফলে বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অকটেনের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া, নতুন মূল্য অনুযায়ী পেট্রোল ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১১৫ টাকা ও কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হবে। সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দাম রোববার থেকে কার্যকর হবে। মূল্যবৃদ্ধির আগে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা ও পেট্রোলের মূল্য ১১৬ টাকা ছিল। শনিবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর আজ ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানো হয়েছে প্রতি কেজিতে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এ নিয়ে এক মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো এলপিজির দাম বাড়লো। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে বেড়েছিল ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। গবেষণা সংস্থা সিপিডির পক্ষ থেকে ডিজেলের দাম না বাড়ানোর সুপারিশ করে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা যায় কি-না দেখার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছিল। সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, এখন বিদ্যুতের দামও যদি বাড়ানো হয় তাহলে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। প্রসঙ্গত, মূল্যস্ফীতি দিয়ে কোন একটা নির্দিষ্ট সময় থেকে পরবর্তী আরেকটি সময়ে দাম কেমন বেড়েছে সেটি বোঝা যায়।অর্থাৎ আগের বছর বা মাস বা কোন নির্দিষ্ট সময়কালের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করে খাদ্য, কাপড়, পোশাক, বাড়ি, সেবা ইত্যাদি বিভিন্ন উপাদানের মূল্য বৃদ্ধির যে পার্থক্য সেটাই মূল্যস্ফীতি। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, সরকার এখন পরিস্থিতি সহনীয় রাখতে বিকল্প উদ্যোগ কার্যকর করতে না পারলে মূল্যস্ফীতি ১ বছরের মধ্যেই বা এই সময়কালে ১৩ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ আর মার্চ মাসে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাং। বাজার, ক্রয়ক্ষমতা ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার কারণে শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম এর মধ্যেই অনেকাংশে বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এমনকি দেশে উৎপাদিত ভোগ্যপণ্যসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আবার কাঁচামালের পাশাপাশি বিদেশ থেকে পণ্য আনা এবং দেশে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার জন্য পরিবহন খরচও বেড়েছে। ঢাকার কারওয়ানবাজার থেকে গত সপ্তাহে বাজার করেছেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলছেন তিনি সোনালি মুরগী কিনেছেন ৪২০ টাকা কেজি দরে, যা গত মাসেও ছিলো ৩০০টাকার মতো। এছাড়া কয়েক ধরনের চাল, ভোজ্য তেল ও বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও অনেকে বেড়েছে। তিনি বলেছেন, ‘কারওয়ানবাজার ছাড়া অন্য কোথায় তরকারি দাম জিজ্ঞেস করলেই তো ১০০ টাকা বা কাছাকাছি দাম চাইছে বিক্রেতারা।’  কৃষি খাতে ডিজেলের চাহিদা মোট ডিজেল আমদানির প্রায় ২০ শতাংশ। নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে মার্চ-এপ্রিল এই সময়টাতেই ডিজেলের চাহিদা চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের সবচেয়ে বড় আবাদ হয় এই বোরো মৌসুমে। কৃষকরা বলছেন, তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বোরো চাষে উৎপাদন খরচ বেশ বেড়ে যাবে, যার প্রভাব পড়বে বাজারে। এখন তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর স্থানীয় গণপরিবহনে ভাড়া বাড়ছে, এমনকি রাইড শেয়ারের বাইকের ভাড়াও বাড়তি নেওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আবার পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে বাজারে নিত্য পণ্যের দাম ছাড়াও কৃষি, শিল্প উৎপাদনসহ এই তেলের মূল্য বৃদ্ধি অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলেও আশঙ্কা করছেন ভোক্তা এবং অর্থনীতিবিদেরা। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, ‘উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়বে। সাম্প্রতিক মূল্যের বৃদ্ধির অজুহাত বাড়িয়ে সব কিছুর মূল্য বেড়ে যেতে পারে। যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে যতটা বৃদ্ধি যৌক্তিক তার চেয়ে বেশি বাড়বে। আবার দাম বৃদ্ধির কারণে জালানি সরবরাহ বৃদ্ধির সুযোগ নেই। সরবরাহের জন্য আমদানি করতে হবে এবং সেজন্য বাড়তি ডলার লাগবে।’  তিনি বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম যেটুকু বাড়ানো হয়েছে তাতে হয়তো সরকারের দেওয়া ভর্তুকির ওপর চাপ কিছুটা কমবে। তবে এটি দীর্ঘসময়ের জন্য হলে জিডিপি কমবে ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের আশংকা আছে। তিনি বলছেন, ‘কিন্তু আশঙ্কা হচ্ছে সরকার বাজারের ক্ষেত্রে গাছাড়া ভাব দেখাচ্ছে। যা মোটও ভালো লক্ষণ নয়। ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করতে হবে। পরিবহন, বাজার ও ভাড়ার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান জোরালো হতে হবে।’ অর্থমন্ত্রী ও বিদ্যুৎমন্ত্রী যা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সচিবালয়ে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছিল যে তেলের দামের প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে কতটা পড়বে। জবাবে তিনি বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতি বাড়তেও পারে, আবার নাও বাড়তে পারে। তেলের দাম একা মুদ্রাস্ফীতি বাড়ায়না। ফুডসহ সবকিছু বিবেচনা করলে এটা খুবই সামান্য। সারা দুনিয়াতে তেলের দাম বেড়েছে। আমরা জনগণের কথা মাথায় রেখে এতদিন বাড়াইনি। কিন্তু আমাদের তহবিলের ওপর এত প্রেশার আসছে সেজন্য এটুকু বাড়াতে হয়েছে।’ অন্যদিকে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন আমদানি করা তেলের দাম যা পড়েছে তার চেয়েও কম রেখে তারা দামের সমন্বয় করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটা করতে বাধ্য হয়েছি আমরা, কারণ এটা বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে কিনতে হয় এবং সেটা যাতে কিছু বেড়ে আমরা যেন সহনীয় লেভেলে (পর্যায়ে) থাকতে পারি, সেই ব্যবস্থা করেছি।’

৮ ঘন্টা আগে
দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর চাহিদা পূরণ সম্ভব: জ্বালানিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে এবং বর্তমান দৈনিক সরবরাহ (প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট) বজায় থাকলে অবশিষ্ট গ্যাস মজুত দিয়ে প্রায় ১২ বছর দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। রোববার (১৯ এপ্রিল) সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সরকারি দলীয় সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।  জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে আনুমানিক ২৯.৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। মন্ত্রী জানান, মোট মজুতের মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২.১১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট রয়েছে ৭.৬৩ টিসিএফ। তিনি আরো বলেন, দেশে নতুন গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধানে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পেট্রোবাংলার ড্রিলিং ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ধাপে ধাপে মোট ৫০টি ও ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৬টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কূপগুলোর কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে এগিয়ে চলছে। সিসমিক জরিপের ক্ষেত্রে, বাপেক্স ইতোমধ্যে ব্লক-৭ ও ৯-এ প্রায় ৩ হাজার ৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক ডাটা সংগ্রহ সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে এর প্রক্রিয়াকরণ চলছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রে ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সিসমিক জরিপ শুরু করতে যাচ্ছে। এছাড়াও, কয়েকটি এলাকায় ৩ডি সিসমিক জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোলার চর ফ্যাশনে ৬৬০ বর্গকিমি (বাপেক্স), জামালপুরে ৬৫০ বর্গকিমি (বাপেক্স), তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী এলাকায় ৬৩২ বর্গকিমি (বিজিএফসিএল) এবং লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা দক্ষিণ ও ফেঞ্চুগঞ্জ পশ্চিম এলাকায় ৮৮২ বর্গকিমি (এসজিএফএল)। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

৮ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট সিরিজের ট্রফি উন্মোচন

রাজশাহীতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেট সিরিজ। আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা নারী দলের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজকে সামনে রেখে রোববার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সিরিজের ঝকঝকে ট্রফিটি উন্মোচন করেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি এবং শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু। ট্রফি উন্মোচন শেষে দুই দলের অধিনায়কই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন এবং সিরিজের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজটা আমাদের প্রস্তুতির জন্য খুব ভালো হবে। এর আগে আমরা এমন সুযোগ পাইনি। এবার পাচ্ছি, এটা দলের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার বড় সুযোগ।'  রাজশাহীর ভেন্যু নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছি। তবে আগে অনেক ঘরোয়া ম্যাচ খেলেছি। উইকেট ভালো, ব্যাটিং-সহায়ক। আউটফিল্ড নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ভালো।’ এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুও বলেন, ‘আমি জানি, এই মাঠ এখনো আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে বর্তমানে উইকেট ও কন্ডিশন খুব ভালো। এটি নতুন ভেন্যু, তাই আমরা খুব বেশি কিছু প্রত্যাশা করছি না। দিনের শেষে আমাদের কাজ মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলা।’ ​উল্লেখ্য, আগামীকাল সকাল ৯টা ২০ মিনিটে রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ৫০ ওভারে ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

৮ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী
রেসিডেন্ট কার্ড সংকটে পর্তুগাল, বিপাকে বাংলাদেশি চালকরা

পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা ‘আইমা’-র প্রশাসনিক ধীরগতি এবং রেসিডেন্ট কার্ড নবায়ন সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় দেশটির অ্যাপ-ভিত্তিক গাড়ি সেবার প্রায় ৮ হাজার চালক কাজ হারিয়েছেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীরা।   জাতীয় অ্যাসোসিয়েশন অফ টিভিডিই ড্রাইভারস জানিয়েছে, গত ১৫ এপ্রিল সরকারের দেওয়া বিশেষ ‘এক্সটেনশন পিরিয়ড’ শেষ হওয়ার পর প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের সিস্টেম আপডেট করেছে। যদিও সরকার এক ডিক্রি-ল’র মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ নথির বৈধতা ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে, তবে উবারের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলো তা গ্রহণ করছে না।   উবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমপ্লায়েন্স নীতিমালার কারণে ফিজিক্যাল রেসিডেন্ট কার্ড ছাড়া চালকদের অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ‘বোল্ট’ কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন রিনিউয়াল রিসিট গ্রহণ করলেও তা সবসময় কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ চালকদের।   অভিবাসন সংস্থা ‘আইমা’-র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব পড়ায় হাজারো প্রবাসী কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন।   একজন বাংলাদেশি প্রবাসী চালক জানান, সরকার কাগজ বৈধ বললেও প্ল্যাটফর্মগুলো কার্ড ছাড়া কাজ করতে দিচ্ছে না, ফলে তাদের জীবিকা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এ সংকট দ্রুত সমাধান না হলে পর্তুগালের পরিবহন ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0

ছবি : সংগৃহীত
শত্রুপক্ষকে সহায়তা করলে বাতিল হবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা

ভিসানীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের সমর্থন করবে বা মার্কিন স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের জন্য ভিসা সীমিত বা বাতিল করা হবে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে (১৬ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন নীতির আওতায় ইতোমধ্যে ২৬ জন ব্যক্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব জোরদারে যে পরিকল্পনা নিয়েছেন—যা ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে পরিচিত—এই পদক্ষেপ সেই কৌশলেরই অংশ।   এই নীতির আওতায় তাদেরই টার্গেট করা হবে, যারা সচেতনভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুপক্ষকে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে— কৌশলগত সম্পদ বা প্রযুক্তি সংগ্রহে সহায়তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনো দেশের স্থিতিশীলতা দুর্বল করতে প্রভাব বিস্তার   যদিও বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাব কমানো এবং মাদক পাচার দমনে চাপ বাড়াতেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ইরান সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনপন্থী কিছু আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এই ভিসানীতি কেবল নিরাপত্তাজনিত কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর আগে ব্রাজিলের বিচারপতি আলেকসান্দ্রে দে মোরায়েস এবং কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর নামও বিতর্কিত ভিসা তালিকায় উঠে এসেছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্র এখন ভিসানীতিকে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ফুলেল সংবর্ধনা

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় পৌঁছাতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি হজযাত্রীরা। মক্কার মিসফালা এলাকায় হজযাত্রীরা পৌঁছালে তাদের ফুল ও খেজুর দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।   প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আয়োজিত এই অভ্যর্থনায় স্থানীয় কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হজ অফিসের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, এ বছর সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে হজযাত্রীদের আবাসনসহ প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় প্রায় ৪০০ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাচ্ছেন।

ছবি: সংগৃহীত
রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুর রাজ্জাক নির্বাচিত

আবাসন খাতের সংগঠন বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন (রিহ্যাব)-এর দ্বিবার্ষিক (২০২৬–২০২৮) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।   নির্বাচনে সভাপতি পদে ২৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান ড. মো. আলী আফজাল। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ২১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আবদুর রাজ্জাক।   শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভোট গণনা শেষে রাত ১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।   ঘোষিত ফলাফলে সহ-সভাপতি–১ পদে মোহাম্মদ আকতার বিশ্বাস, সহ-সভাপতি–২ আবু খালিদ মো. বরকতুল্লাহ এবং সহ-সভাপতি–৩ এ.এফ.এম. উবাইদুল্লাহ নির্বাচিত হন।   অর্থ বিষয়ক সহ-সভাপতি পদে ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান নির্বাচিত হয়েছেন।   ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক পদে মো. লাবিব বিল্লাহ সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এছাড়া আরও কয়েকজন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।   আবাসন খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে নীতি সহায়তা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং বাজার স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
গাজার মতো লেবাননেও ‘ইয়েলো লাইন’ ঘোষণা করল ইসরাইল

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও গাজার আদলে ‘ইয়েলো লাইন’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, এই সীমারেখা অতিক্রম করলে সরাসরি হামলা চালানো হবে।   সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই ‘ইয়েলো লাইন’-এর দক্ষিণ অংশ ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং উত্তর দিক থেকে আসা সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হবে।   ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সেনাদের দিকে অগ্রসর হওয়ায় ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সেনারা কিছু ‘সন্ত্রাসীকে’ শনাক্ত করে, যারা তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল এবং তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল।   এর আগে গাজায় যুদ্ধবিরতির পর একই ধরনের ‘ইয়েলো লাইন’ চালু করা হয়, যা কার্যত অঞ্চলটিকে দুই সামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকায় ভাগ করে দিয়েছে।   এদিকে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। একই সময়ে সীমান্তবর্তী কিছু কৌশলগত এলাকা দখলের অভিযোগও উঠেছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে।   অন্যদিকে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল-এর ওপর হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।   রাজনৈতিকভাবে যুদ্ধবিরতির পর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে লেবানন সরকার আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে হিজবুল্লাহ এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
আমির হাতামি। ছবি: সংগৃহীত
শত্রুর মোকাবিলায় এক চুলও ছাড় নয়: ইরানের সেনাপ্রধান
মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আমির হাতামি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা রক্ষায় আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি ঘোষণা করেন, ইরানের সেনাবাহিনী শত্রুর যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত।   আমির হাতামি জানান, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি শাখা শত্রুর যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেওয়ার জন্য সর্বদা সজাগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও উন্নত ও আধুনিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ইরানি সেনারা উৎসর্গের মানসিকতা এবং জিহাদি চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবিচল রয়েছে।   দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, প্রতিটি সেনার আঙুল এখন অস্ত্রের ট্রিগারে রয়েছে। শত্রুর মোকাবিলা এবং মাতৃভূমির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে তাদের মধ্যে কোনো দ্বিধা নেই। মূলত আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নিজেদের সামরিক শক্তি ও জাতীয় সংকল্পের জানান দিতেই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

গালিবাফ ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রশংসা করলেন
আবরার আল মামুন সাহাফ এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0

পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাগের গালিবাফ ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার অবস্থা নিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তেহরানের সামরিক সক্ষমতারও জানান দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনী ১৮০টি ড্রোন এবং একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান আঘাত করেছে।   "এফ-৩৫ আঘাত করা একক ঘটনা নয়; এটি কারিগরি ও নকশা সক্ষমতার বিভিন্ন দিক জুড়ে একটি অভিযান," বিচার বিভাগের সরকারি সংবাদ মাধ্যম মিজান নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত গালিবাফের বক্তব্যে এ কথা বলা হয়েছে।   "এফ-৩৫-এর কাছে যে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়েছিল, তা শত্রুকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে আমাদের কী সক্ষমতা রয়েছে এবং কোন দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।"   গত মাসে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইরানের ওপর যুদ্ধকালীন অভিযান চালানো একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান অঞ্চলটির একটি বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে।   সিএনএন, দুই অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন করেছে, ইরানি গোলার আঘাতে বিমানটি আক্রান্ত হওয়ায় জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়।

ছবি : সংগৃহীত
গাজার মতো লেবাননেও ‘ইয়েলো লাইন’ ঘোষণা করল ইসরাইল
আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও গাজার আদলে ‘ইয়েলো লাইন’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, এই সীমারেখা অতিক্রম করলে সরাসরি হামলা চালানো হবে।   সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই ‘ইয়েলো লাইন’-এর দক্ষিণ অংশ ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং উত্তর দিক থেকে আসা সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হবে।   ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সেনাদের দিকে অগ্রসর হওয়ায় ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সেনারা কিছু ‘সন্ত্রাসীকে’ শনাক্ত করে, যারা তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল এবং তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল।   এর আগে গাজায় যুদ্ধবিরতির পর একই ধরনের ‘ইয়েলো লাইন’ চালু করা হয়, যা কার্যত অঞ্চলটিকে দুই সামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকায় ভাগ করে দিয়েছে।   এদিকে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। একই সময়ে সীমান্তবর্তী কিছু কৌশলগত এলাকা দখলের অভিযোগও উঠেছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে।   অন্যদিকে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল-এর ওপর হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।   রাজনৈতিকভাবে যুদ্ধবিরতির পর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে লেবানন সরকার আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে হিজবুল্লাহ এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফা বৈঠক ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পরদিন গতকাল শনিবার আবার তা বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ায় তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সরাসরি বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অবশ্য এর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন কিছু প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তেহরান।   ইরান হরমুজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণার কিছুক্ষণ পর গতকাল প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টাকালে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে ইরানের নৌবাহিনী। জাহাজ দুটি ভারতের পতাকাবাহী। আগের দিন হরমুজ খুলে দেওয়ার পর থেকে গতকাল গুলির ঘটনার আগে ৩টি জাহাজসহ ১২টির বেশি ট্যাংকার প্রণালিটি পার হয়েছে। গতকাল কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানি নৌবাহিনীর কাছ থেকে একটি রেডিও বার্তা পেয়েছে। এতে জানানো হয়েছে, নৌপথটি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিজেদের সেনা দিবস উপলক্ষে গতকাল দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি বলেন, ইরানের নৌবাহিনী তাদের শত্রুদের ওপর নতুন তিক্ত পরাজয় চাপিয়ে দিতে প্রস্তুত। দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগে সমঝোতার রূপরেখা চূড়ান্ত করা জরুরি উল্লেখ করে গতকাল ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা বৈঠকের সময় চূড়ান্ত করতে পারছি না।’ উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আমি এখন আলোচনার চেয়ে আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কাই বেশি দেখছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের ‘জলদস্যুতায়’ হরমুজ বন্ধ ঘোষণা ইরানের ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড খতম আল-আম্বিয়া গতকাল এক বিবৃতিতে মার্কিন এ অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছে, ‘এ কারণেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এই কৌশলগত নৌপথটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’ ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরমুখী এবং ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা না দেবে, ততক্ষণ এ কড়াকড়ি বজায় থাকবে। গতকাল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘোষিত ‘ইরানি বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঢুকতে বা বের হতে যাওয়া জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ’ অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ক্যানবেরা এ অবরোধের অংশ হিসেবে আরব সাগরে টহল দিচ্ছে। এ অভিযান চলাকালে এখন পর্যন্ত ২৩টি জাহাজ মার্কিন নির্দেশ মেনে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইরান আমাদের জিম্মি করতে পারবে না ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করার পর গতকাল ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রণালির ভাগ্য নিয়ে লুকোচুরি খেলে তারা ওয়াশিংটনকে যেন জিম্মি করার চেষ্টা না করে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আপনারা জানেন, তারা আবারও প্রণালিটি বন্ধ করতে চেয়েছিল। এটা তারা বছরের পর বছর ধরে করে আসছে; কিন্তু তারা আমাদের জিম্মি করতে পারবে না।’ ট্রাম্প গতকাল বলেন, ‘দিনের শেষ দিকে ইরান সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যাবে। আমরা বেশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছি।’ সমঝোতার রূপরেখা চূড়ান্ত করতে চায় ইরান গতকাল তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের এক ফাঁকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার কাঠামো চূড়ান্ত করার দিকে মনোনিবেশ করছি। আমরা এমন কোনো আলোচনা বা বৈঠকে বসতে চাই না, যা ব্যর্থ হতে বাধ্য এবং যা নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির অজুহাত হতে পারে।’ আলোচনার বিষয়ে জানেন এমন দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ইসলামাবাদের লজিস্টিকস বা প্রস্তুতির কথা বিবেচনায় নিলে বলতে হয়, দু–এক দিনের মধ্যে এখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রায় ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ শেষে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা প্রায় ২১ ঘণ্টা সরাসরি বৈঠক করে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। এরপর ইরানের নৌবন্দরে অবরোধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ১৩ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হয়। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সত্ত্বেও পাকিস্তানসহ মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সরাসরি বৈঠকে ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তেহরানে তিন দিনের সফর শেষে গতকাল দেশে ফিরেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। আসিম মুনিরের তেহরান ত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, গত কয়েক দিনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তেহরানে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইরান বর্তমানে সেগুলো পর্যালোচনা করছে, কিন্তু এখনো কোনো চূড়ান্ত জবাব দেয়নি। তবে ইরান কোনো আপস করবে না উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। ...যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় এ নৌপথ শর্তসাপেক্ষ বা সীমিত আকারে খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। ...ভবিষ্যতে এই পথ খুলে দেওয়া হলে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ট্রানজিট সার্টিফিকেট দেবে ইরান। পাশাপাশি ওই সব জাহাজকে নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষার সেবা বাবদ নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। লেবাননে হামলা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গতকাল ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বাইত লিফ, কান্তারা ও তুলিন শহরে কামানের গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বুলডোজার দিয়ে লেবাননের ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘরবাড়ি ধ্বংস ও ভূমি সমান করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন ইসরায়েলের সেনারা। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী হামলার কথা নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যেসব এলাকায় এখনো ইসরায়েলের সেনারা অবস্থান করছেন, সেখানে লেবাননের যোদ্ধারা অগ্রসর হওয়ায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর এক হামলায় একজন ফরাসি সেনা নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হামলা জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করেন। ইরানপন্থী গোষ্ঠীটি তা অস্বীকার করেছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ফরাসি কন্টিনজেন্টের সদস্যদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি