বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সরকারি নজরদারি নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি যাতে কার্যকর হতে না পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কৌশলগত মজুত (স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর সরবরাহ শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ এবং টিসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সোমবার (১১ মে) ঢাকার আগারগাঁওয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যেই টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে নিয়মিতভাবে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে এবং বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, গত রমজানে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ উপকারভোগীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। একইভাবে গত বছরের ঈদুল আজহায় যেখানে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল, এবার তা বৃদ্ধি করে প্রায় ১৪ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। মন্ত্রী বলেন, দেশের যে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি, উৎসব বা বাজারে অস্বাভাবিক চাপের সময় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু করবে। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বদা প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এক কোটি উপকারভোগীর মধ্যে প্রায় ৫৯ লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বর্তমানে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে ৮০ লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ২০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। টিসিবির ডিলার নিয়োগেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, টিসিবির কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ প্রশ্নহীন, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে। বাজারে কারসাজি প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে, যাতে সরকার বাস্তবসম্মত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের আমদানি মূলধননির্ভর হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু বড় ব্যবসায়ী এ খাতে সক্রিয় থাকেন। তবে সরকার এমন একটি অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে আরও বেশি উদ্যোক্তা এই খাতে অংশ নিতে পারেন এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই সরকার জনগণের পক্ষে বাজার ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের লক্ষ্য—বাজার হবে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল এবং কারসাজিমুক্ত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ক্রেতাদের কাছে নায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
পার্বত্য তিন জেলায় নতুন করে জেলা পরিষদ ও শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এ বিষয়ে পার্বত্য মন্ত্রনালয়ে কাজ চলমান আছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, একই সাথে এখানকার কৃষকদের জন্য হিমাগার স্থাপনাসহ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও পর্যায়ক্রমে করা হবে। আজ সোমবার দুপুরে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় উন্নয়ন করা হবে। একই সাথে এখানকার চাঁদাবাজির বিষয়টা হোম মিনিস্ট্রি দেখছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার শাহাদাত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি রিজিওনের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ওবায়দুল হক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, মং সার্কেল চীফ সাচিংপ্রু চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এনআফছার সহ বিভিন্ন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (১১ মে) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয়। এর ফলে জনমনে প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে বিরূপ ধারণাসহ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে সরকারি স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া বিদ্যালয় ভবনের ছাদ নিয়মিত পরিষ্কার করা ও বিদ্যালয়ের কার্নিশে জন্ম নেওয়া আগাছা পরিষ্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননের নয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে সেখানে বিমান ও গোলাবর্ষণ অভিযান চালানো হবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিখাই আদরাই জানান, যেসব এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আল-রিহান, জারজৌহ, কাফর রুম্মানে, আল-নেমিরিয়েহ, আরাবসালিম, জেমজিম, মাশঘারা, কালাইয়া ও হারুফ। লেবাননের গণমাধ্যম জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ অঞ্চলের ইউহমোর আল-শাকিফ, তুল ও শৌকিন এলাকায় অন্তত নয়টি হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া আবা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আরও বেশ কয়েকটি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সারবিন ও ইয়াতের এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরায়েলের ৮ হাজার ৫০০টির বেশি হামলায় ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৬৯৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের ‘বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ জবাবে ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, আল-তাইবেহ এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয় এবং এতে সরাসরি আঘাত হানে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবানন সীমান্তবর্তী মানারা এলাকায় ড্রোন বিস্ফোরণে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছে। গত ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিহত ইসরায়েলি সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।
ইতালির ভেনিসে ঘটে যাওয়া এক যৌন সহিংসতার ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। মেস্ত্রে এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে ১৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কিশোরী নিজ ঘরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি রোববার (১০ মে) প্রকাশ পায় এবং কারাবিনিয়েরি পুলিশ ইতিমধ্যে এই পৈশাচিক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কিশোরী অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ার করে অন্যান্য পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। সুযোগ পেয়ে ওই অ্যাপার্টমেন্টের একজন পুরুষ রুমমেট কিশোরীটিকে ধর্ষণ করেন। এই ঘটনাটি সামনে আসার পর ইতালির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং মনফালকোনের সাবেক মেয়র আনা সিসিন্ট একে ‘অগ্রহণযোগ্য জঘন্য ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এবং ভেনিস লীগের নেতা অ্যালেক্স বাজারো সরাসরি অভিযোগ করেছেন , অতিরিক্ত মানুষ গাদাগাদি করে থাকা এবং ‘সাবলেট’ বা ‘রুম শেয়ারিং’ এর আড়ালে চলা কালোবাজারিই এই অপরাধের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ বলেছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ধনকুবের রাজনীতিক থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্যারোলে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার ব্যাংককের ক্লং প্রেম কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দীর্ঘদিন হাসপাতালে থেকে কারাদণ্ড এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন থাকসিন। তবে আদালত পরে সেই সময়কে কারাদণ্ডের অংশ হিসেবে গণ্য না করে তাকে পুনরায় সাজা ভোগের নির্দেশ দেয়। আট মাস পর অবশেষে তিনি মুক্তি পেলেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় সাদা শার্ট পরা ৭৬ বছর বয়সী থাকসিনকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখানে তার কন্যা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাও উপস্থিত ছিলেন। মুক্তির খবর পেয়ে শত শত সমর্থক কারাগারের সামনে জড়ো হন। অনেকের গায়ে ছিল ফু থাই পার্টির প্রতীকী লাল শার্ট। থাকসিন বেরিয়ে আসতেই তারা ‘আমরা থাকসিনকে ভালোবাসি’ স্লোগান দেন। সাংবাদিকেরা তার অনুভূতি জানতে চাইলে থাকসিন বলেন, আমি স্বস্তি বোধ করছি। তিনি আরও বলেন, আমি যেন শীতনিদ্রায় ছিলাম, এখন আর কিছু মনে করতে পারছি না। থাকসিন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘদিন বিদেশে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে দেশে ফিরে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত মামলায় দেওয়া আট বছরের সাজা ভোগ শুরু করেন থাকসিন। পরে থাইল্যান্ডের রাজা তার সাজা কমিয়ে এক বছর করেন। কারাগারে নেওয়ার পরপরই শারীরিক অসুস্থতার অভিযোগে তাকে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ভিআইপি কেবিনে ছিলেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাসপাতালে অবস্থান দীর্ঘায়িত করা হয়েছিল। এরপর আদালত তাকে সেই সময়ের সাজা পুনরায় কারাগারে ভোগের নির্দেশ দেয়।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা এবার উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে শিক্ষকরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা আগামীকাল সোমবার (১১ মে) থেকে একাডেমিক কার্যক্রম কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছেন। রবিবার (১০ মে) বিকালে ‘সাধারণ শিক্ষক সমাজ’–এর ব্যানারে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুপুরে প্রক্টর রাহাত হোসাইন, সিন্ডিকেটে শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তানভীর কায়সার পদত্যাগ করেন। প্রক্টর রাহাত হোসাইন পদত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করে বিকালে বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে উপাচার্য যে তালবাহানা করছেন, তাতে এই পরিবেশে তার সঙ্গে কাজ করা অসম্ভব। তাই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম বলেন, ‘প্রক্টর ও সিন্ডিকেটের ৯ শিক্ষক, যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন, সেখান থেকে সবাই পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সবকিছুতে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।’ শিক্ষকদের এই কর্মসূচির পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যত আবার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে সেশনজটের শঙ্কা বেড়েছে। শিক্ষকরা জানান, শিক্ষকদের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি–সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তখন পাঁচ দিন একাডেমিক কার্যক্রম চালাবেন বলে সমঝোতা হয়েছিল। সেই বৈঠকে পদোন্নতি দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে চলমান সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষকদের। এরপর শিক্ষকরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে শুধু পাঠদানে ফিরেছিলেন। শিক্ষকরা আরও জানান, তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ৯ মে ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতির বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান হবে। কিন্তু শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন। এ ছাড়া অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামতকে অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষকরা রবিবার সভা করে শাটডাউনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকরা প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে যায়। এ সম্পর্কে উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘শনিবারের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচ জন প্রতিনিধিসহ সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। কিন্তু এরই মধ্যে শিক্ষকরা আবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। আমরা বিধি অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে সর্বোচ্চ আন্তরিক।’ দুই শিক্ষকের প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমার কাছে এখনও পদত্যাগের কোনও চিঠি আসেনি। তারা অব্যাহতি নেবেন, তা আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন।’ পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে সেই পদোন্নতি কার্যক্রম আটকে দিয়ে ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে পদোন্নতি দিতে পরামর্শ দেয়। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন নীতিমালায় যুক্ত হলেও বরিশালসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তা করেনি। তাই আগে ২০২১ সালের নিয়োগ সংবিধি সিন্ডিকেট পাস করে ইউজিসির অনুমোদনের পর পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন উপাচার্য।
দেশের আকাশে তৈরি হচ্ছে নতুন বৃষ্টি বলয়। আর সেটির প্রভাবে টানা ৯ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। সংস্থাটির আশঙ্কা, বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তীব্র বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিলেট বিভাগ এলাকায়। গতকাল শনিবার (৯ মে) রাতে বিডব্লিউওটি জানায়, আগামী ১২ বা ১৩ মে দেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে এ বৃষ্টি বলয় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এরপর ১২ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত এটি সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টি টানা না হয়ে বিরতি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টি বলয়টি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে। একই সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে তীব্র বজ্রপাতের প্রবল আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগ, ঢাকা বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হতে পারে। যদিও এসব অঞ্চলে বড় পরিসরে বা দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অন্য দিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষ করে খুলনা বিভাগ ও বরিশাল বিভাগ-এ এ বৃষ্টি বলয়ের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকতে পারে। সেখানে আবহাওয়া প্রায় স্বাভাবিক থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বিচ্ছিন্নভাবে দু-একদিন হালকা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে, তবে তা বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত তখনই শেষ হবে, যখন দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে ফেলা হবে এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হবে। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। কারণ ইরানের কাছে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। সেখানে এমন সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রও আছে, যেগুলো ধ্বংস করতে হবে।’ ইউরেনিয়াম কীভাবে সরানো হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেখানে গিয়ে সেটি সরিয়ে ফেলতে হবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই ধরনের অবস্থান পোষণ করেন। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তাকে বলেছেন, ‘আমি সেখানে ঢুকতে চাই।’ তবে এ বিষয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে নেতানিয়াহুর মন্তব্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ইতোমধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে ‘সামরিকভাবে পরাজিত করা হয়েছে’ এবং প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কেউ সেখানে গেলে আমরা তা জানতে পারব এবং তাদের ধ্বংস করে দেব।’
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত তখনই শেষ হবে, যখন দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে ফেলা হবে এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হবে। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। কারণ ইরানের কাছে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। সেখানে এমন সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রও আছে, যেগুলো ধ্বংস করতে হবে।’ ইউরেনিয়াম কীভাবে সরানো হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেখানে গিয়ে সেটি সরিয়ে ফেলতে হবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই ধরনের অবস্থান পোষণ করেন। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তাকে বলেছেন, ‘আমি সেখানে ঢুকতে চাই।’ তবে এ বিষয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে নেতানিয়াহুর মন্তব্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ইতোমধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে ‘সামরিকভাবে পরাজিত করা হয়েছে’ এবং প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কেউ সেখানে গেলে আমরা তা জানতে পারব এবং তাদের ধ্বংস করে দেব।’
নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানে আগুন লেগেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিমানে থাকা ২৭৭ জন যাত্রী ও ১১ জন ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র জ্ঞানেন্দ্র ভুল জানান, ইস্তাম্বুল থেকে আসা ফ্লাইটটির ডান পাশের ল্যান্ডিং গিয়ারে স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হওয়ার পর আগুন ধরে যায়। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে আগুনও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জ্ঞানেন্দ্র ভুল বলেন, বিমানের সবাই নিরাপদে আছেন। উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এখন দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার কারণে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। পরে তা পুনরায় চালু করা হয়। হিমালয়ঘেরা নেপালে দুর্গম ভূখণ্ড ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গ ও সংকীর্ণ রানওয়ের কারণে দেশটিতে বিমান পরিচালনা অভিজ্ঞ পাইলটদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক বিমান দুর্ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেপালের সব এয়ারলাইন্সকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এরপর দেশটির কর্তৃপক্ষ নতুন রাডার ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ধনকুবের রাজনীতিক থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্যারোলে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার ব্যাংককের ক্লং প্রেম কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দীর্ঘদিন হাসপাতালে থেকে কারাদণ্ড এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন থাকসিন। তবে আদালত পরে সেই সময়কে কারাদণ্ডের অংশ হিসেবে গণ্য না করে তাকে পুনরায় সাজা ভোগের নির্দেশ দেয়। আট মাস পর অবশেষে তিনি মুক্তি পেলেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় সাদা শার্ট পরা ৭৬ বছর বয়সী থাকসিনকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখানে তার কন্যা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাও উপস্থিত ছিলেন। মুক্তির খবর পেয়ে শত শত সমর্থক কারাগারের সামনে জড়ো হন। অনেকের গায়ে ছিল ফু থাই পার্টির প্রতীকী লাল শার্ট। থাকসিন বেরিয়ে আসতেই তারা ‘আমরা থাকসিনকে ভালোবাসি’ স্লোগান দেন। সাংবাদিকেরা তার অনুভূতি জানতে চাইলে থাকসিন বলেন, আমি স্বস্তি বোধ করছি। তিনি আরও বলেন, আমি যেন শীতনিদ্রায় ছিলাম, এখন আর কিছু মনে করতে পারছি না। থাকসিন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘদিন বিদেশে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে দেশে ফিরে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত মামলায় দেওয়া আট বছরের সাজা ভোগ শুরু করেন থাকসিন। পরে থাইল্যান্ডের রাজা তার সাজা কমিয়ে এক বছর করেন। কারাগারে নেওয়ার পরপরই শারীরিক অসুস্থতার অভিযোগে তাকে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ভিআইপি কেবিনে ছিলেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাসপাতালে অবস্থান দীর্ঘায়িত করা হয়েছিল। এরপর আদালত তাকে সেই সময়ের সাজা পুনরায় কারাগারে ভোগের নির্দেশ দেয়।
জাপানের এক সময়ের স্থিতিশীল হেয়ার সেলুন শিল্প বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক ২৩৫টি সেলুন দেউলিয়া হওয়ার আবেদন জানিয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে ২১৫ জন হেয়ার স্টাইলিস্টের দেউলিয়া হওয়ার যে রেকর্ড ছিল, এটি তাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ব্যবসায়িক এই ধসের প্রভাব পড়েছে সেলুনগুলোর গড় আয়ুষ্কালের ওপর। ২০২৪ সালে একটি সেলুনের গড় আয়ু যেখানে ছিল ১৪.১ বছর, ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ বছরে। বর্তমানে সচল থাকা সেলুনগুলোর মধ্যে প্রায় ৪৯ শতাংশেরই বয়স ১০ বছরের কম। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বর্তমান পরিস্থিতি কোভিড-১৯ মহামারিকালীন সময়ের চেয়েও ভয়াবহ। মহামারির সময় সরকারি ভর্তুকি এবং সুদমুক্ত ঋণের কারণে এই খাতটি টিকে ছিল, যার ফলে ২০২১ সালে দেউলিয়া হওয়ার সংখ্যা সর্বনিম্ন ৬৮-তে নেমে এসেছিল। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার মিল পাওয়া গেলেও অবশ্য এবারের কারণগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৮ সালের মন্দার সময় মানুষ খরচ কমাতে শুরু করলে ‘কিউবি হাউস’-এর মতো ডিসকাউন্ট হেয়ার কাটিং ব্র্যান্ডগুলো বাজারে আসে। এতে উচ্চমূল্যের প্রতিষ্ঠিত সেলুনগুলো চাপে পড়ে যায় এবং দেউলিয়া হওয়ার সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষ আবারও সস্তা বিকল্প খুঁজছে। তবে সেলুন মালিকদের জন্য এবারের চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে চুলের প্রসাধনী—সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা মূল্য কমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর্থিক সংকটের পাশাপাশি যোগ হয়েছে তীব্র কর্মী সংকট। দক্ষ স্টাইলিস্টরা এখন ছোট বা মাঝারি সেলুনের চেয়ে বড় চেইন শপ বা নামিদামি ব্র্যান্ডগুলোতে কাজ করতে বেশি আগ্রহী। ছোট সেলুনগুলো সাধারণত বিউটি স্কুল থেকে সদ্য পাস করা শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেয়, কিন্তু তাদের বেশিরভাগই নিজেদের নতুন সেলুন খোলার স্বপ্ন নিয়ে দ্রুত কাজ ছেড়ে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এই সংকটের মূল কারণ হলো বাজারের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সেলুনের উপস্থিতি। ফলে এই প্রতিযোগিতার ভিড়ে টিকে থাকা সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। সূত্র: জাপান টুডে
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।