গ্রেফতারের দেড় বছর পর জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা দবিরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে একই দিন তার জামিন মঞ্জুর করেন ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আদালত। দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার গণমাধ্যমকে সাবেক এই সংসদ সদস্যের কারামুক্তির খবর নিশ্চিত করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলায় দবিরুল গ্রেফতার হন। একই মামলায় তার ছেলে এবং ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজনও গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি এখনো দিনাজপুর কারাগারেই আছেন। দবিরুলের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কারাগারে চিকিৎসার অভাবে দবিরুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার হাঁটাচলা করার শক্তিটুকুও নেই। এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি এই কারাগারেই অসুস্থ হয়ে মারা যান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের (এমপি) গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে হবে। সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন ১৭ ফেব্রুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন হলেও পুরোনো সংসদের মেয়াদ শেষে নতুন সংসদের অধিবেশন বসে। বিগত তিনটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেটি দেখা গেছে। দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি শপথ নিলেও প্রথম অধিবেশন বসেছিল ৩০ জানুয়ারি। কারণ, একাদশ সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি। এবার সংসদ না থাকায় অধিবেশন শুরু করতে বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। সংসদ সচিবালয় সূত্র বলেছে, প্রথম অধিবেশন বসা নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ২৫ কিংবা ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার সিদ্ধান্ত হয়। জানতে চাইলে আজ বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অধিবেশন বসার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’ ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিবেশন বসা নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো শুনিনি। তবে শপথ গ্রহণের এক মাসের মধ্যে সংসদ অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই টানা হার মানে আফগানিস্তান। এরপরই গ্রুপ পর্ব থেকে প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের বিদায়। তবে পরের দুই ম্যাচেই টানা জয় তুলে নিয়েছে আফগানিস্তান। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচেও আজ কানাডাকে ৮২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে আফগানিস্তান। ব্যাট হাতে ইবরাহিম জাদরানের হার না মানা ৯৫ রানের ইনিংসের পর মোহাম্মদ নবীর ঘূর্ণি জাদুতে চড়ে হেসেখেলে জিতেছে আফগানরা। ফলে শেষ দুই ম্যাচে টানা জয় নিয়েই এবারের বিশ্বকাপ শেষ হল আফগানিস্তানের। চেন্নাইয়ের চিপকের মা চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় কানাডা। দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং ইবরাহিম জাদরানের ব্যাটে ভর করে ভালো শুরু পায় আফগানিস্তান। শুরু থেকেই চালিয়ে খেলেছেন দুজন। ওপেনিং জুটিতে এসেছে ৪৭ রান। ২০ বলে ৩০ রান করে বিদায় নেন গুরবাজ। একই ওভারে বিদায় নেন তিনে নামা গুলবাদিন নাইবও। ২ বলে ১ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান তোলে আফগানিস্তান। এরপর ক্রিজে জুটি বাঁধেন টিকে থাকা ওপেনার ইবরাহিম জাদরান এবং চারে নামা সেদিকউল্লাহ আতাল। সময়ের সাথে সাথে ক্রিজে জমে যান দুজন। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে রান বের করেছেন। দলের বোর্ডে রান তুলেছেন, নিজেরাও ছুটেছেন ফিফটির দিকে। ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন ইবরাহিম। কাছাকাছি গিয়ে থেমেছেন আতাল। ৩২ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে দলের ১৪৪ রানের মাথাতে বিদায় নেন আতাল। ইবরাহিমের উইলোবাজি চলছিলই। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে কানাডার বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানাচ্ছিলেন ইবরাহিম। আপন গতিতে ছুটেছেন সেঞ্চুরির দিকে। শেষ দিকে নেমে ৭ বলে ১৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ৪ বলে ৪ রান করে টিকে ছিলেন ডারউইশ রাসুলি। কানাডার বোলারদের কচুকাটা করে ২০০ ছুঁয়ে থেমেছে আফগানিস্তান। ইবরাহিম সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও সেঞ্চুরিটা ছুঁতে পারেননি। ৫৬ বলে ৯৫ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে টিকে ছিলেন ইবরাহিম। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় আফগানিস্তান। কানাডার হয়ে ৩ উইকেট নেন জাসকারান সিং। ১ উইকেট তুলেছেন ডিলন হেয়লিগার। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই আফগান বোলারদের বোলিং তোপে চাপে ছিল কানাডা। ওপেনিং জুটি থেমেছে ২৫ রানে। ওপেনার দিলপ্রিত বাজওয়া ৭ বলে ১৩ রান করে বিদায় নেন, তাকে ফিরিয়েছেন মুজিব উর রহমান। পরের ওভারে ডাক মেরে ফিরেছেন নাভনীত ঢালিওয়াল। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটায় রানের খাতা খুলতে পারলেন না তিনি। পাওয়ারপ্লের মধ্যে ১৪ বলে ১৭ রান করা যুবরাজ সামরাকেও হারিয়ে ফেলে কানাডা। ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৪ রান তুলেছে কানাডিয়ানরা। পাওয়ারপ্লের পরেও নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট হারিয়েছে কানাডা। সুবিধা করতে পারেননি তেমন কেউই। মাঝে লড়াই চালিয়েছেন হার্শ ঠাকের। ২৪ বলে ৩০ রান করেছেন তিনি। শেষ দিকে ২৬ বলে ২৮ রান করেছেন সাদ বিন জাফর। একের পর এক উইকেটের পতনে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় কানাডা। শেষ পর্যন্ত থেমেছে ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৮ রান তুলে। আফগানিস্তান পেয়েছে ৮২ রানের বড় জয়। এবারের বিশ্বকাপে আফগানদের দ্বিতীয় জয়। যদিও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে আগেই। আফগানদের হয়ে মাত্র ৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেছেন মোহাম্মদ নবী। ২ উইকেট তোলেন রশিদ খান। ১টি করে উইকেট নেন মুজিব উর রহমান এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
.অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে রাজধানীর হেয়ার রোডের যে সরকারি বাসাতে থেকেছেন আসিফ নজরুল, নতুন সরকার দায়িত্বগ্রহণ করায় সেটি ছাড়ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে বাসা ছাড়ার কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, বাসাটির প্রতি তারা মায়া জন্মে গেছে। আসিফ নজরুল লেখেন, আমরা যখন হেয়ার রোডের এই বাসায় উঠি সবার মন খারাপ হয়ে যায়। বেশি বড় জায়গা, বেশি বড় বাড়ি, এত বড় যে আপন ভাবা যায় না ঠিক। সরকারি বাসায় ওঠার কারণে সন্তানদের মন খারাপ হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ফুলার রোডের বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল তারা। তবে এখন হেয়ার রোডের বাসা ছাড়ার সময় এই জায়গার প্রতি মায়া তৈরি হয়েছে বলে লিখেছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে বলেন, দু-একদিনের মধ্যে আমরা চলে যাবে এই বাসা থেকে। আমার মায়া রোগ আছে। এখন দেখি এই বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে। বিশেষ করে ঝোপঝাড়, রোদ ছায়া, চিলের ডানা আর বিশাল আকাশটার জন্য। সবশেষে তিনি লেখেন, বিদায় হেয়ার রোড। অন্তর্বর্তী সরকারে আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা এবং পরে ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন আসিফ নজরুল। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হলে তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের (এমপি) গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে হবে। সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন ১৭ ফেব্রুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন হলেও পুরোনো সংসদের মেয়াদ শেষে নতুন সংসদের অধিবেশন বসে। বিগত তিনটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেটি দেখা গেছে। দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি শপথ নিলেও প্রথম অধিবেশন বসেছিল ৩০ জানুয়ারি। কারণ, একাদশ সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি। এবার সংসদ না থাকায় অধিবেশন শুরু করতে বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। সংসদ সচিবালয় সূত্র বলেছে, প্রথম অধিবেশন বসা নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ২৫ কিংবা ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার সিদ্ধান্ত হয়। জানতে চাইলে আজ বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অধিবেশন বসার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’ ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিবেশন বসা নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো শুনিনি। তবে শপথ গ্রহণের এক মাসের মধ্যে সংসদ অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ককে আরও গভীর ও অর্থবহ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন-এ আয়োজিত ‘শ্রীরামকৃষ্ণের বিশ্বজনীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস-এর ১৯১তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে মঠ ও মিশনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে চারদিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বক্তব্যে প্রণয় ভার্মা বলেন, শ্রীরামকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক সাধনা দক্ষিণেশ্বরে সম্পন্ন হলেও তাঁর দর্শন কোনো নির্দিষ্ট গ্রাম, মন্দির বা দেশের সীমানায় আবদ্ধ ছিল না। তাঁর শিক্ষা ভৌগোলিক ও ধর্মীয় গণ্ডি অতিক্রম করে বিশ্বজনীনতায় পৌঁছেছে। ‘যত মত তত পথ’—ধর্মের সার্বজনীনতা বিষয়ে তাঁর এই বিশ্বাস সে সময়ের ধর্মীয় ভাবনায় নতুন আলোকবর্তিকা জ্বালিয়েছিল এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আজকের বিশ্ব যখন বিভাজন ও মেরুকরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষা আমাদের মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। তাঁর দর্শন সরলতা, আন্তরিকতা ও গভীর আধ্যাত্মিকতার পথে আহ্বান জানায়। সত্যিকারের ধর্ম যে গ্রহণ, সমন্বয় ও অন্তর্ভুক্তির শিক্ষা দেয়—বিচ্ছেদ বা বর্জনের নয়—তা তিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন। প্রকৃত ধর্ম হলো পরের সেবা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতি; ঘৃণা বা বিভেদ নয়। শ্রীরামকৃষ্ণের এই পবিত্র জন্মবার্ষিকীতে তাঁর সার্বজনীন আদর্শ ধারণ করে শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। একইসঙ্গে তিনি ভারত–বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে আরও গভীরতর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সবার জন্য শান্তি, ঐক্য ও ঈশ্বরীয় চেতনার কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী মহারাজ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. নুরুজ্জামান এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল-এর মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শিঞ্জিনী সরকারসহ অন্যান্য অতিথিরা।
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে। সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এছাড়া কমিটিতে পদাধিকারবলে থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এবং পরিকল্পনা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। এর আগে বিএনপি ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ জানিয়েছেন, এ সুবিধা প্রথম পর্যায়ে হতদরিদ্র পরিবারকে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য কয়েকটি জেলা ও উপজেলা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র পরিবারের নারীদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার মতে, পরিবার পরিচালনায় নারীদের হাতে নগদ অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দু-এক দিনের মধ্যেই নির্ধারণ করা হবে প্রথম ধাপে কতসংখ্যক মানুষ এ সুবিধার আওতায় আসবেন। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উঠবেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর যমুনায় ওঠার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে, যা তার ব্যক্তিগত পছন্দ ও কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পিত। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রধানমন্ত্রীর যমুনায় ওঠার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রক্রৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, ‘যখন প্রধানমন্ত্রী ভবনে উঠবেন, তখন তার ডিজাইন অনুযায়ী কিছু সংস্কার কাজ করার প্রয়োজন হবে। প্রধান উপদেষ্টা থাকার সময় কিছু সংস্কার করা হয়েছিল, তবে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে আরও কিছু কাজ সম্পন্ন করতে হবে।’ নিরাপত্তা ও পরিবেশের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, যমুনা ভবনকে শুধু প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান হিসেবে নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৈঠক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের জন্যও ব্যবহার করা হবে। তাই নিরাপত্তার দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। রমনা বিভাগের পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর যমুনায় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।
কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে জার্মানির সাবেক ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানকে বহনকারী গাড়ির বহর। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়া কুতুপালং এলাকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওজিল কিংবা প্রতিনিধি দলের কেউ আহত হননি। তবে বহরে থাকা একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে একটি অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর চালক আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আহত চালকের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়ার শাহপুরী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, মেসুত ওজিল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানের গাড়ির বহরটি ভিআইপি প্রোটোকল ভেঙে হঠাৎ একটি মোটরচালিত অটোরিকশা ঢুকে পড়ে। এতে গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় আহত অটোরিকশার চালক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেলযোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন চলছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, রেল খাতের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। বাংলাদেশ-ভারত রেলযোগাযোগ পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ, যাত্রী-সুবিধা এবং কারিগরি বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক স্থানে রেললাইন নির্মাণ শেষ হলেও ইঞ্জিন ও বগির অভাবে ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের ভেতরেই ইঞ্জিন ও বগি তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ ও সমন্বিত করে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে যাত্রার সময় কমানো, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং ঈদকেন্দ্রিক টিকিট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার প্রেক্ষিতে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক এনসিপি নেতা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেন, মন্ত্রী যাকে সমঝোতা বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরিবহনমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব বলেন জারা। স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে টাকা দিতে হয়। একেই যদি সমঝোতা বলা হয়, তাহলে একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয় সেটা নিয়ে হয়ত বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে।’ এদিকে জারা তার স্ট্যাটাসে লিখেন, সড়কের চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। ওনার এই বক্তব্য নিয়ে আমার কিছু মন্তব্য ও প্রশ্ন রয়েছে। মন্ত্রী যেটিকে ‘সমঝোতা’ বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পদ্ধতি। কোনো চালক যখন নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে যান, তখন তাকে নির্দিষ্ট সংস্থাকে টাকা দিতেই হয়। একে সমঝোতার মোড়ক দেওয়া মানে হলো একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া। এই অবৈধ লেনদেনের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে। বাসভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সড়কের এই অলিখিত চাঁদা। পণ্যবাহী ট্রাক থেকে এভাবে টাকা আদায়ের ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই অর্থ পরিশোধ করেন সাধারণ যাত্রী ও ভোক্তাই। সাবেক এই এনসিপি নেত্রী আরও বলেন, মন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ‘যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে।’ তাহলে কি আমরা ধরে নেব, এই অর্থ আদায় প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ক্যাডারদের পৃষ্ঠপোষকতার একটি মাধ্যম? যদি তা না হয়, তাহলে এর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তিনি স্ট্যাটাসে বলেন, রাস্তায় টাকা তোলা বন্ধ করুন। যদি মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলে অর্থের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে আদায় করা হোক। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি-র সাথে যুক্ত করে এই অর্থ সংগ্রহ করা যেতে পারে। জারা স্ট্যাটাসে লিখেন, সড়কে যে কোটি কোটি টাকা তোলা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত করুন। প্রকাশ করুন এই অর্থ আসলে কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে? সাধারণ চালক-শ্রমিকের জন্য, নাকি কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির পকেটে? এই অর্থ শেষ পর্যন্ত আসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। এটি চালক বা মালিকের ব্যক্তিগত অর্থ নয়। এটি যাত্রী ও ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যায়। সরকারের দায়িত্ব সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। আপনারা অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আমাদের হতাশ করবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ধীরে ধীরে ইরানের কাছাকাছি তাদের বিমান ও নৌ শক্তি বাড়াচ্ছে, এমন সময়ে যখন তেহরান কর্মকর্তারা দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর খবর অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০টির বেশি মার্কিন যোদ্ধা বিমান, যার মধ্যে F-35, F-22 এবং F-16 অন্তর্ভুক্ত, পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছেছে। এটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন যে, জেনেভায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পারমাণবিক আলোচনায় ওয়াশিংটন ও তেহরান অগ্রগতি করেছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এখনো অনেক বিস্তারিত বিষয় আলোচনা করা বাকি; যা নির্দেশ করে যে এখনো অবিলম্বে সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, মঙ্গলবারের আলোচনা মাসকাটে এই মাসের প্রথম রাউন্ডের চেয়ে বেশি গঠনমূলক ছিল এবং দাবি করেছেন যে দুই পক্ষই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির নেতৃত্বমূলক নীতিমালাতে একমত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলাকালীন ট্রাম্প প্রশাসন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছে সম্ভাব্য অভিযান চালানোর জন্য ভারী সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে, ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা এবং জানুয়ারির প্রতিবাদের সময়ের সহিংস দমনমূলক কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতা ইতোমধ্যেই জানুয়ারির শেষে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী আরব সাগরে পাঠিয়েছেন। পরে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে, বিবিসি রিপোর্ট করেছে যে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেসে ১২টি F-15 যোদ্ধা বিমান, একটি MQ-9 Reaper ড্রোন, এবং বেশ কিছু A-10C Thunderbolt II গ্রাউন্ড অ্যাটাক বিমান পৌঁছেছে। স্যাটেলাইট চিত্র দেখিয়েছে যে USS Delbert D Black গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মেদিটেরানিয়ান থেকে রেড সাগরে যাওয়ার জন্য সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে চলেছে, এবং গালফ অঞ্চলে একটি MQ-4C Triton নজরদারি ড্রোন কাজ করছে। এছাড়াও অঞ্চলটিতে E-11A কমিউনিকেশনস বিমান, P-8 Poseidon, E-3G Sentry নজরদারি এবং কিছু গোয়েন্দা বিমান উপস্থিত ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরীও অঞ্চলটিতে পাঠিয়েছে। ইরানও জানিয়েছে যে তারা সামরিক মহড়ার কারণে Strait of Hormuz-এর একটি অংশ কয়েক ঘন্টার জন্য বন্ধ করবে। পূর্বেও তেহরান হুমকি দিয়েছিল পুরো স্ট্রেইট বন্ধ করার, কিন্তু তা কখনো কার্যকর করেনি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান প্রতিটি পারমাণবিক চুক্তির জন্য খসড়া প্রণয়ন ও বিনিময় করতে একমত হয়েছে, তারপর তৃতীয় রাউন্ডের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে পরবর্তী ধাপ আরও কঠিন ও বিস্তারিত হবে। আলোচনায় সফলতা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির পথ খুলতে পারে, যা ইরানের তেলের শিল্প এবং বিস্তৃত অর্থনীতিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচির বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করবে। সূত্র: এনডিটিভি
পবিত্র রমজান মাসে পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে সাপ্তাহিক জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ১০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজান শুরু হওয়ার পর এ ঘোষণা দিয়েছে দখলদার ইসরাইল। খবর আরব নিউজের। তবে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কেবল ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সি পুরুষ, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি নারী এবং সর্বোচ্চ ১২ বছর বয়সি শিশুরা (প্রথম শ্রেণির আত্মীয়ের সঙ্গে) প্রবেশ করতে পারবে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেসামরিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা 'সিওজিএটি' এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রমজান মাসজুড়ে জুমার নামাজের জন্য প্রতিদিন আলাদা অনুমতিপত্র সংগ্রহের শর্তে ১০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে টেম্পল মাউন্টে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫৫ বছর থেকে, নারীদের ক্ষেত্রে ৫০ বছর থেকে এবং ১২ বছর পর্যন্ত শিশুদের প্রথম শ্রেণির আত্মীয়ের সঙ্গে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো গণহত্যামূলক হামলায় প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি আগের সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত একাধিক স্বাধীন গবেষণায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত ৭৫ হাজারের বেশি প্রাণহানির প্রমাণ মিলেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। একাধিক গবেষণা নিবন্ধের ধারাবাহিক প্রকাশনায় উঠে এসেছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নথি আসলে মৃত্যুর সংখ্যাকে বাড়িয়ে দেখায়নি। বরং সেটি ছিল একটি সংযত নিম্নসীমা। গবেষণাগুলো ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানির পরিসর বোঝার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত গাজা মর্টালিটি সার্ভের (জিএমএস) এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭৫ হাজার ২০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এটি যুদ্ধের আগে থাকা গাজার ২২ লাখ মানুষের প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যে ৪৯ হাজার ৯০টি সহিংস মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল, তার তুলনায় এই সংখ্যা ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৭১ হাজার ৬৬২ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ৪৮৮ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল বরাবরই এই সংখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তবে জানুয়ারিতে দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধের সময় গাজায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। গবেষকেরা বলেন, নিহত ব্যক্তিদের ৫৬ দশমিক ২ শতাংশই নারী, শিশু ও বয়স্ক। জিএমএস জরিপে ২ হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে ৯ হাজার ৭২৯ জনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি মৃত্যুর সংখ্যা নির্ধারণে একটি কঠোর ও প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি দিয়েছে। গবেষণার প্রধান লেখক রয়্যাল হলোওয়ে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক মিশেল স্প্যাগাট বলেন, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন নির্ভরযোগ্য। তবে মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করার যে অবকাঠামো দরকার, যুদ্ধের কারণে তা ভেঙে পড়ায় সংখ্যাটি স্বভাবতই কমে গেছে। উল্লেখ্য, এই গবেষণা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত আগের এক গবেষণার চেয়ে উন্নত। ওই গবেষণায় পরিসংখ্যানভিত্তিক ‘ক্যাপচার-রিক্যাপচার’ মডেল ব্যবহার করে যুদ্ধের প্রথম ৯ মাসে ৬৪ হাজার ২৬০ জনের মৃত্যুর হিসাব দেওয়া হয়েছিল। আগের গবেষণাটি সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে কম গণনার বিষয়টি দেখিয়েছিল। নতুন এই গবেষণা গাণিতিক অনুমান থেকে সরে এসে সরাসরি পরিবারের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বাস্তব যাচাই করেছে। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়েছে। ৭৫ হাজারের বেশি সহিংস মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা জোরপূর্বক খালি করতে বাধ্য করা হয়। উত্তর গাজা ও রাফাহ প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ওই বছরের আগস্টে উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়, যা আহত মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে আরও কমিয়ে দেয়। গবেষকেরা বলছেন, এই গবেষণাগুলো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সুরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও গাজার স্বাস্থ্য অবকাঠামো বারবার হামলার শিকার হচ্ছে-এই অবস্থা চলতে থাকলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি হলে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়া থেকে অবশিষ্ট সেনাদের প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই কর্মকর্তা বলেন, সিরিয়ার সরকার নিজেদের সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছে। তাই সেখানে ব্যাপক পরিমাণে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই। ইসলামিক স্টেটের (আইএসআইএস) প্রভাব মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে আমেরিকান সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের আমলে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালে আইএস দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে তথাকথিত খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। আইএসকে দমন করতে ২০১৪ সালে সিরিয়ায় প্রায় ২ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, আইএস এখনো বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। গোষ্ঠীটিকে নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের যে কোনো হুমকির জবাব দিতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, আইএসের উত্থানের সময় সিরীয় সরকারকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠিয়েছিল। তবে বর্তমানে সিরিয়ায় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আইএসের হুমকিও আগের মতো শক্তিশালী নয়। সেই বিবেচনায় সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি সেনাদল ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঘাঁটি সিরিয়ার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সাথে দেখা করতে যান আল-শারা, যা দেশটির ইতিহাসে কোনো সিরিয়ান নেতার প্রথম এ ধরণের সফর ছিল। বাশার আল আসাদের পতদের পর সিরিয়ার সরকারি সেনাবাহিনী মাঝে মাঝেই স্থানীয় সামরিক গোষ্ঠীগুলির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে, কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছায় যা কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসকে সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।