ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা ও নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার বলেছেন, গত জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে বতর্মান অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এতদিন দাবি করে আসছিল, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাদের প্রার্থী এডমুন্দো গঞ্জালেজ উরুতিয়া বিজয়ী হয়েছেন। যদিও ওই নির্বাচনে মাদুরোকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। পানামা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা ‘ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আলোচনায়’ সহায়তা করে। তিনি বলেন, ‘এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বাধীন, স্বচ্ছ ও সার্বভৌম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা।’ গত জানুয়ারিতে কারাকাসে অভিযান চালিয়ে তৎকালীন নেতা মাদুরোকে আটক করার অনুমোদন দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এরপর থেকেই ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত পরিকল্পনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে আসছেন মাচাদো। গত শনিবার তিনি জানান, ভবিষ্যতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন। তবে সেই নির্বাচনের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি। পানামায় ভেনেজুয়েলীয় প্রবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি প্রার্থী হব।’ মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকে দেশটি পরিচালনা করছেন মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তখন নতুন নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এখনো ভোটের কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। বর্তমানে নির্বাসিত মাচাদোকে ভেনেজুয়েলা সরকার পলাতক হিসেবে বিবেচনা করে এবং তিনি দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। গত ডিসেম্বরে নরওয়ের অসলোতে প্রকাশ্যে দেখা যায় মাচাদোকে। সেখানে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন। চলতি বছরজুড়ে বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। মাচাদো জানান, তিনি আবারও ভেনেজুয়েলায় ফিরতে চান। তবে কবে ফিরবেন, বিবৃতিতে তা উল্লেখ করেননি।
ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রোমানিয়া ভূখ-ে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে মস্কো। এটিকে রাশিয়ার ‘গুরুতর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন উসকানি’ বলে অভিহিত করেছে রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ‘এই ঘটনা রাশিয়ান ফেডারেশনের পক্ষ থেকে গুরুতর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন উত্তেজনা বৃদ্ধির শামিল।’ বুখারেস্ট থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। এতে আরও বলা হয়, বুখারেস্ট ন্যাটোর মহাসচিবকে বিষয়টি অবহিত করেছে। একই সঙ্গে রোমানিয়ায় অ্যান্টি-ড্রোন সক্ষমতা দ্রুত হস্তান্তরে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি কাগজ উৎপাদন কারখানায় রাসায়নিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন। বৃহস্পতিবার এক কর্মকর্তা তথ্য জানান। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের লংভিউ শহরে অবস্থিত ওই কারখানায় মঙ্গলবার বিপুল পরিমাণ ক্ষারীয় ও বিষাক্ত রাসায়নিক ভর্তি ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়ে ধসে পড়ে। এই ভয়াহ দুর্ঘটনার পরপরই ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। লংভিউ ফায়ার বিভাগের প্রধান ব্র্যাড হ্যানিগ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নয়জনের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে করোনারের দপ্তরের সঙ্গে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’ বুধবার আগে দু’জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। নতুন ছয়জনের মরদেহ উদ্ধারের পর মোট মৃতের সংখ্যা আটে পৌঁছাল। নিখোঁজ থাকা বকী তিনজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাপানের নিপ্পন পেপার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং কোম্পানির কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভোরের শিফট পরিবর্তনের সময় ৯ লাখ গ্যালন (৩৪ লাখ লিটার) ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংক হঠাৎ ফেটে যায়। জানা যায়, সেটিতে ‘হোয়াইট লিকার’ নামক বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ ছিল। হোয়াইট লিকার হল সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও সোডিয়াম সালফাইড মিশ্রিত একটি তীব্র ক্ষারীয় দ্রবণ। কাঠের গুঁড়ো গলিয়ে কাগজ তৈরির ম- প্রস্তুতে এটি ব্যবহার করা হয়। হ্যানিগ বলেন, উদ্ধারকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও ভুক্তভোগীদের খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার বাতাস ও পানীয় জলে কোনো ধরনের দূষণ পাওয়া যায়নি। লংভিউ সিটির জনকল্যাণ বিভাগের পরিচালক ক্রিস কলিন্স সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘লংভিউয়ের পানি নিরাপদ।’ মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্রুকস স্ট্যানফিল্ড জানান, পর্যবেক্ষণে হাইড্রোজেন সালফাইড বা উদ্বেগজনক অন্য কোনো বায়ু দূষণকারী পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়েনি। নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং নিজেদের ওয়েবসাইটে জানায়, তারা প্রতিবছর ৮শ’ কোটি একক-ব্যবহারযোগ্য কন্টেইনার উৎপাদন করে। উত্তর আমেরিকা, এশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের পণ্য সরবরাহ করা হয় বরেও উল্লেখ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। বৃহস্পতিবার কাতারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে শীর্ষ পর্যায়ের একদল ইরানি কর্মকর্তা দোহা সফর করেন। গত ৮ই এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও আঞ্চলিক দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। উপসাগরীয় দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা জানায়, ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে অঞ্চলের চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, উত্তেজনা কমানো এবং স্থিতিশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বিষয়েও কথা হয়েছে। কাতারের আমির জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করতে এবং উত্তেজনা এড়াতে সব পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান ও সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী হিসেবে কাতারের উদ্যোগেরও ‘প্রশংসা’ করেছেন ট্রাম্প। এর আগে, তেহরানের প্রধান আলোচক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি ইরানি প্রতিনিধিদল সোমবার দোহা সফরে যায়। সেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তি এবং জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের বিষয়ে বৈঠক করেন। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ছিল ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রথম আঞ্চলিক সফর। সাম্প্রতিক ওই যুদ্ধে তেহরান কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই সফরের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে আলোচনায় কাতারের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামো। নতুন এই পে স্কেলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন নিম্ন আয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনেও আসছে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। গত ২১ মে সচিবালয়ে নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত করতে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন পে স্কেলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনা এবং কম বেতনে কর্মরতদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। নতুন কাঠামোর আওতায় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগসহ সরকারি চাকরির সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে যেসব পেনশনার ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, নতুন পে স্কেল চালু হলে তারাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন। সরকার আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর করতে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এই পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে নিম্ন আয়ের সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক স্বস্তি বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।
অপেক্ষার পালা শেষ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার ২৬ জনের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে মাঠে নামবে। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি আর্জেন্টিনার স্বপ্নের কেন্দ্রে আছেন। অধিনায়ক হিসেবে তিনি আরও একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় লিখতে চাইবেন। ইতোমধ্যে তার ঝুলিতে আছে ২০২২ বিশ্বকাপ শিরোপা, দুটি কোপা আমেরিকা ট্রফি এবং জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য রেকর্ড। মেসির পাশে দিবু মার্টিনেজ, রদ্রিগো দে পল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজরা মিলে আর্জেন্টিনাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। স্কালোনির চূড়ান্ত তালিকায় কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাম নেই। এর মধ্যে সবচেয়ে অবাক করা বাদ পড়াটি ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোর। তিনি অভিজ্ঞ তারকাদের ভিড়ে আক্রমণভাগে জায়গা করে নিতে পারেননি। কাতার ২০২২-এর বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য আকুনিয়াও বাদ পড়েছেন। তবে স্কালোনি কাতারের বিশ্বকাপজয়ী দলের মূল কাঠামো ধরে রেখেছেন। এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ এবং জুলিয়ানো সিমিওনের মতো উদীয়মান ও প্রমাণিত খেলোয়াড়দের মিশেলে দল সাজিয়েছেন তিনি। চূড়ান্ত দল: গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), হেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্সেই), হুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)। ডিফেন্ডার: লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্সেই), নিকোলাস তালিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), গনজালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট), লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম হটস্পার), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্সেই), নাহুয়েল মলিনা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)। মিডফিল্ডার: লেয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়র্স), রদ্রিগো দে পল (ইন্টার মায়ামি), ভ্যালেন্তিন বার্কো (রেসিং স্ট্রাসবুর্গ), জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেটিস), এক্সেকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুজেন), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি)। ফরোয়ার্ড: হুলিয়ান আলভারেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), নিকো গনজালেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), থিয়াগো আলমাদা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), জুলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), নিকো পাজ (কোমো), হুয়ান ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস), লাউতারো মার্টিনেজ (ইন্টার মিলান)।
অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন একটি সহায়তা কর্মসূচির (ঋণ কর্মসূচি) অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তা সামলে নিতে ধুঁকতে থাকার মধ্যে ঢাকার পক্ষ থেকে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার আইএমএফের কাছে ঠিক কী ধরনের সহায়তা চেয়েছে, সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের অতীতের ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা কেমন এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী অভিঘাত তৈরি করেছে, তার ওপর আলোকপাত করা হলো। বাংলাদেশের চাওয়া কী বাংলাদেশে আইএমএফের মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনার গত মঙ্গলবার জানান, বাংলাদেশ সরকার আইএমএফের নতুন একটি সহায়তা কর্মসূচির অনুরোধ জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে ক্রজনার বলেন, আইএমএফের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের সংস্কারের সূচি ও নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছেন। ক্রজনার বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলে নেওয়ার সক্ষমতা জোরদার করা এবং শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে আইএমএফ। নতুন এ সহায়তা (ঋণ সহায়তা) প্যাকেজের আকার বা শর্তগুলো সম্পর্কে কোনো পক্ষই এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। অবশ্য গত মার্চে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট জ্বালানিসংকট কাটাতে তারা বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ২০০ কোটি ডলারের ঋণ খুঁজছে। ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কতটা জ্বালানিসংকট: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। বাদ যায়নি জ্বালানি স্থাপনাও। এ যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসংকট দেখা দেয়। বিশ্ববাজারে দ্রুত বাড়তে থাকে জ্বালানি তেলের দাম। গত ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে স্থায়ী শান্তিচুক্তি এখনো অধরা রয়ে গেছে। এর ওপর বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের শুরুর দিকে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। এসব জ্বালানির বড় অংশের গন্তব্য ছিল এশিয়ার দেশগুলো। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তেহরানের হাতে। এ প্রণালি ঘিরে দীর্ঘদিনের অবরোধ জ্বালানি সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। যুদ্ধের আগে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৬ ডলারের আশপাশে। পরে সেটা বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদার ৯৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার কারণে জ্বালানির প্রয়োজনও অনেকাংশে বেড়ে যায়। এ আমদানির বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। জ্বালানি সাশ্রয়ে এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বেশির ভাগ সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। তৈরি পোশাক খাত: বাংলাদেশে ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ নেই। প্রভাব পড়েছে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের ওপরও। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি এ খাত থেকে আসে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের কারখানাগুলো চীন থেকে বেশির ভাগ কাঁচামাল আনে। সচরাচর এসব পণ্য লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্য হয়ে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় আমদানির খরচ বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ডেনিমের পরিচালক সাঈদ আহমেদ চৌধুরী ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, আগামী মৌসুমে ক্রয়াদেশ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চে কিছু বিমান পরিবহন সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করেছিল। এর ফলে বিশ্বখ্যাত পোশাকের ব্র্যান্ড জারা-এর মালিক প্রতিষ্ঠান ইনডিটেক্স এবং আরও বেশ কিছু বড় ব্র্যান্ডের পোশাকের চালান বাংলাদেশ ও ভারতের বিমানবন্দরে আটকা পড়ে। কাঁচামালের বাড়তি দাম: পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশের অন্যান্য শিল্পও ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্লাস্টিক পণ্যের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের কারণে প্লাস্টিকের প্রধানতম কাঁচামাল রেজিনের দাম বেড়েছে। ইংরেজি ভাষার দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে প্রতি টন রেজিনের দাম ছিল ৯০০ থেকে ৯৫০ ডলার। এখন তা দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে সরকারকে অনেক ঋণ নিতে হয়েছে। আইএমএফের মতে, এর ফলে বিদেশি ঋণের চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। লন্ডনভিত্তিক মার্কেট ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান আইএসআই-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারে। আগের প্রান্তিকেও তা ছিল ১১ হাজার ২২০ কোটি ডলার। ২০২৪ সালেও বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বাংলাদেশকে বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে ‘কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তখন ঋণের পরিমাণ ছিল মোট জাতীয় আয়ের প্রায় ২২ শতাংশ। তবে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় এই পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস কী? বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের ৫৭০ কোটি ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচির মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চার বছর চলার কথা ছিল। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে একটি ভার্চ্যুয়ালি বৈঠকে অংশ নেন আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্ক। গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই পক্ষ দ্রুত নতুন একটি কর্মসূচি চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক গত সপ্তাহে বাংলাদেশকে ৩৫ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ার ধকল সামলানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। যুদ্ধের কারণে ঋণসংকট কি আরও গুরুতর হচ্ছে? ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবীয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্য ইউরোপের অনেক দেশ ব্যাপকভাবে বৈদেশিক ঋণের চাপে ধুঁকছিল। করোনা মহামারি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ, খাদ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং বৈশ্বিক সুদহার বৃদ্ধির কারণে এ সংকটে পড়েছিল দেশগুলো। উদাহরণ হিসেবে শ্রীলঙ্কার কথা বলা যায়। ঋণসংকট ও দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনার জেরে ২০২২ সালে দেশটির অর্থনীতি ধসে পড়ে। ২০২৩ সালে আইএমএফের কাছ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা পায় শ্রীলঙ্কা। চীন, ভারত আর জাপানের মতো পাওনাদার দেশগুলোর সঙ্গেও ঋণ পুনর্গঠন নিয়ে চুক্তি করে দেশটি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল মোট জাতীয় আয়ের প্রায় ৫৯ শতাংশ। গত এপ্রিলে আইএমএফ সতর্ক করে দিয়ে জানায়, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেওয়া ঋণ বেড়ে বিশ্ব জিডিপির প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছায় এবং ২০২৯ সালের মধ্যে তা ১০০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ঋণের এমন ভয়াবহ বোঝা আর দেখা যায়নি।
জাপান ভারত থেকে আম আমদানি স্থগিত করেছে। এর কারণ চলতি বছরের শুরুতে জাপানের কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা ভারতের আম প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলোতে পোকা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রীষ্মকালীন আমের মৌসুমে রফতানি ব্যাহত হয়েছে। আলফনসো, কেসর, ল্যাংড়া ও বাঙ্গানাপল্লীর মতো ভারতের উন্নতমানের আমগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০ বছর পর প্রথম নিষেধাজ্ঞা প্রায় ২০ বছর পর এটাই জাপানের প্রথম এমন নিষেধাজ্ঞা। এর আগে ফলের মাছি নিয়ে উদ্বেগের কারণে জাপান ভারতীয় আম নিষিদ্ধ করেছিল। ২০০৬ সালে ভারত চিকিৎসা প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার পর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। এখন জাপান আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ভারত থেকে পাঠানো আম তাদের কঠোর উদ্ভিদ স্বাস্থ্য মান পূরণ করছে কি না। জাপান ফলের মাছির মতো আক্রমণাত্মক পোকার ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ তথা ‘শূন্য সহনশীলতা নীতি’ অনুসরণ করে। এই পোকাগুলোকে তাদের দেশের কৃষির জন্য বড় হুমকি মনে করা হয়। জাপানি পরিদর্শকরা কী পেয়েছেন প্রতি আম রফতানি মৌসুমের আগে জাপান কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তাদের ভারতে পাঠায় ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট বা ভিএইচটি আম প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে। রফতানির আগে এসব কেন্দ্রে আমকে জীবাণুমুক্ত করা হয়। ভিএইচটি হলো একটি রাসায়নিকবিহীন প্রক্রিয়া। এতে আমকে নিয়ন্ত্রিত গরম ও আর্দ্র বাতাসে রাখা হয় যাতে পোকা ও ফলের মাছির লার্ভা মরে যায়। দুই দেশের চুক্তি অনুসারে এই চিকিৎসা বাধ্যতামূলক। চলতি বছর মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশের রহমানপুরের ভিএইচটি কেন্দ্রে পরিদর্শন হয়। খবর অনুসারে, জাপানি কর্মকর্তারা সেখানে ফিউমিগেশন ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি পেয়েছেন। ভারতীয় ও জাপানি কর্তৃপক্ষ কোনো বিস্তারিত ত্রুটির কথা এখনও প্রকাশ্যে জানায়নি। পরিদর্শনের পর জাপানের ইয়োকোহামা প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২৫ মার্চ ২০২৬-এর পর যেসব সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, সেসব আম আর গ্রহণ করা হবে না। রফতানিকারকদের জন্য বড় ধাক্কা জাপান ভারতের সবচেয়ে বড় আমের বাজার নয়। তবে রফতানিকারকরা বলছেন, সেখানে ভারতীয় আম অনেক বেশি দামে বিক্রি হয় বলে এই স্থগিতাদেশ বড় ধাক্কা। ভারত প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন করে, যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বেশিরভাগ আম দেশের ভেতরেই খাওয়া হয়। কিন্তু জাপানের মতো উন্নত বাজারে রফতানি করলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি লাভ করেন। রফতানিকারকরা এখন আশঙ্কা করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ভারতের কৃষি মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে আস্থা কমিয়ে দিতে পারে এবং অন্য দেশগুলোও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারে। চাষিদের ওপর নতুন চাপ এই সময়ে নিষেধাজ্ঞা আসায় মহারাষ্ট্রের আলফানসো অঞ্চলের চাষিদের সমস্যা আরও বেড়েছে। রাজ্যের চাষিরা এ বছর তীব্র গরম ও অনিয়মিত আবহাওয়ার (এল নিনো) কারণে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সরকারি জরিপ অনুসারে কোনো কোনো এলাকায় উৎপাদন ৮৫-৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। উৎপাদন ইতিমধ্যেই অনেক কমে গেছে। এর ওপর জাপানের নিষেধাজ্ঞা আমের বাণিজ্য মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আয় কমিয়ে দেবে বলে রফতানিকারকরা জানিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালির কাছে গোলাগুলির আওয়াজ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম। এসময় অনুমতি ছাড়া চলাচলের অভিযোগে চারটি জাহাজের দিকে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে ইরানি বাহিনী। এছাড়া উপকূলীয় বুশেহর প্রদেশে একটি শত্রু বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি টেলিগ্রামে জানায়, চারটি জাহাজ যথাযথ সমন্বয় ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। তবে জাহাজগুলোর পরিচয়, কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল কিংবা পরে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে একই সময়ে ইরানের বুশেহর প্রদেশে একটি শত্রু বিমান ধ্বংসের খবর দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, জাম কাউন্টির গভর্নর মাসউদ তানগেস্তানি জানিয়েছেন, আজ রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি একটি শত্রু বিমান ধ্বংসের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, গত এক ঘণ্টার মধ্যে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই বিমানটিকে প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে। তবে বিমানটি কোন দেশের ছিল, সেটি মানববিহীন ড্রোন নাকি যুদ্ধবিমান, এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সূত্র : আল জাজিরা
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীরা একটি ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) একমত হয়েছেন।তবে এতে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন এমন তথ্য উঠে এসেছে। মধ্যস্থতার সঙ্গে যুক্ত দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানিয়েছে। তবে ইরানও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক মেনে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি। এই সমঝোতা স্মারক সই হলে তা হবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য। তবে ট্রাম্পের পরমাণু শর্ত মেনে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে সামনে আরও দীর্ঘ আলোচনার দরকার হবে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি সবাইকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি চুক্তি মাত্র। চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো আমরা আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করব। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত চুক্তির প্রায় সব শর্তেই দু’পক্ষ একমত হয়েছিল। তবে উভয় পক্ষেরই নিজ নিজ শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানিরা পরে ফিরে এসে জানায় যে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে এবং তারা চুক্তি সই করতে প্রস্তুত। তবে ইরান নিজে থেকে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে মার্কিন আলোচকেরা চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত ট্রাম্পকে জানালেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এতে সই করেননি। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন যে, তিনি এটি নিয়ে ভাবতে আরও কয়েক দিন সময় চান। এর আগে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টারা বেশ কয়েকবার ভেবেছিলেন যে তারা চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছেন, কিন্তু বারবারই আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। কী আছে এই সমঝোতা স্মারকে? মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৬০ দিনের এই এমওইউতে স্পষ্ট বলা থাকবে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে 'কোনো বাধা থাকবে না। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এর মানে হলো প্রণালি পার হতে কোনো টোল বা ফি লাগবে না এবং কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না। এ ছাড়া ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালি থেকে সব মাইন অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নৌ-অবরোধও তুলে নেওয়া হবে। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার হারের ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে এই অবরোধ উঠবে বলে জানান এক মার্কিন কর্মকর্তা। এ ছাড়া ইরানকে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করবে। কর্মকর্তারা জানান, এই এমওইউতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। ৬০ দিনের এই সময়সীমার মধ্যে সবার আগে আলোচনা হবে—কীভাবে ইরানের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা স্থানান্তর করা যায় এবং তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হবে। এমওইউতে ইরানে পণ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর একটি মেকানিজম বা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা থাকবে। এ ছাড়া লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টিও এই স্মারকে থাকবে। এই ইস্যুটি নিয়ে ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এর আগে অন্তত একবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল। তবে এসব আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার মুহূর্তেও গত কয়েক ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুবার ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সামনে এখন তাদের অর্থনীতিকে শৃঙ্খলমুক্ত করার সুযোগ এসেছে। তিনি বলেন, 'তাদের (ইরান) ব্যবস্থার ভেতরেও এমন মানুষ আছেন, যারা বোঝেন যে এটি ভিন্ন পথে হাঁটার একটি দারুণ সুযোগ। ৬০ দিনের এই আলোচনাতেই আমরা বুঝতে পারব যে আসলেই তারা এমনটা চায় কি না।' মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা ইরানকে তহবিল দেওয়ার বিষয়ে কোনো 'গোপন চুক্তি' থাকবে না। এক কর্মকর্তা বলেন, 'ইরানিরা যত বেশি ছাড় দিতে রাজি হবে, তারা তত বেশি সুবিধা পাবে।' দুই মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, আলোচনা চলাকালে পারমাণবিক বিষয়ে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে ইরানিরা মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা বলেন, 'আমরা যতক্ষণ না এক ঘরে বসে আলোচনা করছি, ততক্ষণ কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আর এ জন্যই আমরা এই এমওইউ করতে চাই। এর মাধ্যমে দুই পক্ষই সরাসরি এক ঘরে বসে আলোচনা করার সুযোগ পাবে। এমওইউতে আঞ্চলিক শান্তির বিষয়েও কথাও বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এই সুযোগে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি বা ছায়াগোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়েও আলোচনা করতে চায়। তারা বলেন, আলোচনার সময় যদি এটা স্পষ্ট হয় যে ইরান পারমাণবিক বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারছে না, তবে ট্রাম্পের হাতে অর্থনৈতিক ও সামরিক—সব ধরনের বিকল্পই খোলা থাকবে। তেহরান এখনো এই এমওইউ মেনে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে ট্রাম্পও বুধবার জানিয়েছেন, চুক্তি সই করার ক্ষেত্রে তার কোনো তাড়া নেই।
রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ সামরিক সহায়তা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিবিসিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। রাশিয়াকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রদানে রাজি করানোর এই কাজটি করতে সফল ভূমিকা রেখেছেন তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ। সূত্রটি জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়ার বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে তালেবানের আগেই আলোচনা হয়েছিল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফরের সময় রাশিয়ার করা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিতে কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রয়েছে, নাকি ড্রোনের মতো হামলার সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত আছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বিবিসিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই পক্ষ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের পাশাপাশি স্থল সামরিক সরঞ্জাম এবং তালেবান সরকারের সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজধানী মস্কোতে রাশিয়া এবং তালেবান সরকারের মধ্যে এই নথিতে স্বাক্ষর করা হয় বলে জানা গেছে। এসময় রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগু এবং তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ উপস্থিতি ছিলেন। আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকে তালেবান সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রতিনিধিদল নিয়মিত দেশটিতে সফর করেছে। কাবুলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তিটি প্রতিরক্ষা খাতে তালেবান সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার বোঝাপড়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিল। গত মঙ্গলবার আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে মস্কো সফর করেন। ওই সময় তালেবান সরকারের একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছিল, জনাব মুজাহিদের এই রাশিয়া সফর আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং সফরের প্রস্তুতির জন্য একটি প্রতিনিধিদলও আগেই মস্কো গিয়েছিল। মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা সের্গেই শোইগুর সাথে এক বৈঠকে বলেন, রাশিয়া এই অঞ্চল এবং বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। রাশিয়ান ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগ এবং সম্পর্ক আমাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বের। আমরা আশা করি এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত, শক্তিশালী এবং ব্যাপক হবে। আফগানিস্তান থেকে ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর এবং তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর যেসব দেশ কাবুলে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করেনি, রাশিয়া তাদের মধ্যে অন্যতম। ২০২২ সালে তালেবান সরকারের সাথে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চুক্তিও স্বাক্ষর করেছিল রাশিয়া, যার অধীনে তারা আফগানিস্তানে তেল, গ্যাস ও গম সরবরাহ করে। রাশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলো বারবার আফগানিস্তানে জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে জনাব মুজাহিদ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ের প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা বিদ্রোহী নেটওয়ার্কগুলোকে দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। তালেবান সরকারের কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা আফগানিস্তানের মাটিতে কাউকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কাজ করার সুযোগ দেবে না। তবে মনে হচ্ছে যে, এই আশ্বাসেও তাদের (প্রতিবেশী দেশগুলোর) দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। গত বছরের শেষের দিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবান সরকারের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখাকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তান পুরোপুরি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কাবুলের বর্তমান নেতৃত্বের সাথে সম্পর্ক না রেখে কোনো দেশই আফগানিস্তানের বিষয়ে প্রকৃত প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগুও কিছুদিন আগে বলেছিলেন যে, তার দেশ তালেবান সরকারের সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোকেও কাবুলের সাথে সহযোগিতা বাড়াতে উৎসাহিত করছেন তিনি। পাকিস্তানের সঙ্গে কদিন আগেই সংঘাতে জড়িয়েছিল আফগানিস্তান। ওই সময় আকাশ প্রতিরক্ষা খাতে আফগানিস্তানের দুর্বলতার বিষয়টি বড় ভাবে সামনে আসে। তখন থেকেই তালেবান সরকার আকাশ প্রতিরক্ষাসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জামের বিষয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রথম তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব কোনো আঞ্চলিক দেশের সাথে সামরিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করলেন। সূত্র: বিবিসি
জাপান ভারত থেকে আম আমদানি স্থগিত করেছে। এর কারণ চলতি বছরের শুরুতে জাপানের কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা ভারতের আম প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলোতে পোকা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রীষ্মকালীন আমের মৌসুমে রফতানি ব্যাহত হয়েছে। আলফনসো, কেসর, ল্যাংড়া ও বাঙ্গানাপল্লীর মতো ভারতের উন্নতমানের আমগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০ বছর পর প্রথম নিষেধাজ্ঞা প্রায় ২০ বছর পর এটাই জাপানের প্রথম এমন নিষেধাজ্ঞা। এর আগে ফলের মাছি নিয়ে উদ্বেগের কারণে জাপান ভারতীয় আম নিষিদ্ধ করেছিল। ২০০৬ সালে ভারত চিকিৎসা প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার পর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। এখন জাপান আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ভারত থেকে পাঠানো আম তাদের কঠোর উদ্ভিদ স্বাস্থ্য মান পূরণ করছে কি না। জাপান ফলের মাছির মতো আক্রমণাত্মক পোকার ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ তথা ‘শূন্য সহনশীলতা নীতি’ অনুসরণ করে। এই পোকাগুলোকে তাদের দেশের কৃষির জন্য বড় হুমকি মনে করা হয়। জাপানি পরিদর্শকরা কী পেয়েছেন প্রতি আম রফতানি মৌসুমের আগে জাপান কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তাদের ভারতে পাঠায় ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট বা ভিএইচটি আম প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে। রফতানির আগে এসব কেন্দ্রে আমকে জীবাণুমুক্ত করা হয়। ভিএইচটি হলো একটি রাসায়নিকবিহীন প্রক্রিয়া। এতে আমকে নিয়ন্ত্রিত গরম ও আর্দ্র বাতাসে রাখা হয় যাতে পোকা ও ফলের মাছির লার্ভা মরে যায়। দুই দেশের চুক্তি অনুসারে এই চিকিৎসা বাধ্যতামূলক। চলতি বছর মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশের রহমানপুরের ভিএইচটি কেন্দ্রে পরিদর্শন হয়। খবর অনুসারে, জাপানি কর্মকর্তারা সেখানে ফিউমিগেশন ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি পেয়েছেন। ভারতীয় ও জাপানি কর্তৃপক্ষ কোনো বিস্তারিত ত্রুটির কথা এখনও প্রকাশ্যে জানায়নি। পরিদর্শনের পর জাপানের ইয়োকোহামা প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২৫ মার্চ ২০২৬-এর পর যেসব সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, সেসব আম আর গ্রহণ করা হবে না। রফতানিকারকদের জন্য বড় ধাক্কা জাপান ভারতের সবচেয়ে বড় আমের বাজার নয়। তবে রফতানিকারকরা বলছেন, সেখানে ভারতীয় আম অনেক বেশি দামে বিক্রি হয় বলে এই স্থগিতাদেশ বড় ধাক্কা। ভারত প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন করে, যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বেশিরভাগ আম দেশের ভেতরেই খাওয়া হয়। কিন্তু জাপানের মতো উন্নত বাজারে রফতানি করলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি লাভ করেন। রফতানিকারকরা এখন আশঙ্কা করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ভারতের কৃষি মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে আস্থা কমিয়ে দিতে পারে এবং অন্য দেশগুলোও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারে। চাষিদের ওপর নতুন চাপ এই সময়ে নিষেধাজ্ঞা আসায় মহারাষ্ট্রের আলফানসো অঞ্চলের চাষিদের সমস্যা আরও বেড়েছে। রাজ্যের চাষিরা এ বছর তীব্র গরম ও অনিয়মিত আবহাওয়ার (এল নিনো) কারণে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সরকারি জরিপ অনুসারে কোনো কোনো এলাকায় উৎপাদন ৮৫-৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। উৎপাদন ইতিমধ্যেই অনেক কমে গেছে। এর ওপর জাপানের নিষেধাজ্ঞা আমের বাণিজ্য মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আয় কমিয়ে দেবে বলে রফতানিকারকরা জানিয়েছেন।
কংগ্রেস হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কর্নাটক রাজ্যের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। এর ফলে সিদ্দারামাইয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডিকে শিবকুমারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হলো। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের শীর্ষ পদ নিয়ে সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। নতুন সরকারে জাতিগত ভারসাম্য বজায় রাখতে শিবকুমারের সঙ্গে দুই থেকে তিনজন উপমুখ্যমন্ত্রীও থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। পদত্যাগের পর সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দারামাইয়া বলেন, আমি আগেও বহুবার বলেছি, হাইকমান্ড যখন আমাকে পদত্যাগ করতে বলবে, আমি তা করবো। দুই দিন আগে হাইকমান্ড আমাকে সরে দাঁড়াতে বলেছে। তাই আমি পদত্যাগ করেছি। ২০০৬ সালে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া সিদ্দারামাইয়া দলটির কর্নাটকের অন্যতম প্রভাবশালী ওবিসি নেতা হিসেবে পরিচিত। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাজ্যে কংগ্রেসের দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের সমাপ্তি ঘটলো। দলীয় বিরোধের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি, আমাদের এক পরিবার হিসেবে থাকতে হবে। আমার মেয়াদকালে সমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা সহকর্মীদের জানান সিদ্দারামাইয়া। বৈঠকে উপস্থিত শিবকুমারকে তাকে আলিঙ্গন করতে এবং আশীর্বাদ নিতে পা ছুঁতে দেখা যায়। এতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনের আগে সিদ্দারামাইয়া রাজ্যের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের সচিবের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাজ্যপাল বর্তমানে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন এবং দিনের শেষ নাগাদ তার ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।