সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
কলকাতা যাওয়ার আগে বাংলাদেশিদের যে নির্দেশনা মানতে হবে

চিকিৎসা ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে কলকাতাগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশ ছাড়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত এবং আবাসস্থলের নিরাপত্তা যাচাই করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত মাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন বৃহস্পতিবার  (৩ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কলকাতায় গত ১৯ আগস্ট অগ্নিকাণ্ডপরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতির বিবেচনায় চিকিৎসা বা অন্য কারণে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা ভ্রমণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার লক্ষ্যে নিম্নলিখিত নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। কলকাতায় আগমনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করে এবং হোটেলটির বর্তমান কার্যক্রম, কক্ষের প্রাপ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হয়ে ভ্রমণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।   চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগত রোগীর সফরসঙ্গীদের (attendents) কলকাতায় আসার পূর্বেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোটেলের কক্ষের প্রাপ্যতা, বুকিংয়ের বৈধতা, হোটেল থেকে হাসপাতালের দূরত্ব এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে কলকাতায় আগমনের পূর্বেই নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কলকাতায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য দুর্ঘটনাপ্রবণ আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁসমূহ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বিধি ও অন্যান্য নিয়ম-কানুন মেনে উক্ত হোটেলগুলো পুনরায় চালু হতে মাসাধিক সময় লাগতে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কলকাতায় আবাসনের সমস্যায় না পড়ার জন্য অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

৯ মিনিট আগে
তেল-চিনির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। সে কারণে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিনির ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, পরিশোধনাগারগুলোয় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এতে উৎপাদনে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘বাংলাদেশের চামড়া খাতের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও সংস্কার’ শীর্ষক নীতি সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বাজারে চিনির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বড় পরিশোধনাগারগুলোর কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত চিনি আছে। গ্যাস সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদনে সাময়িক প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের দাম একেক সময়ে একেক কারণে বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহব্যবস্থার ব্যাঘাত, ফলন বিপর্যয়, বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকট কিংবা পরিবহন সমস্যার প্রভাব পণ্যের দামে পড়ে। বাজার তদারকি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যসহায়তা ও ভর্তুকি মূল্যে চাল সরবরাহ করে। অন্যদিকে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্য বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আসে। বাজারে পর্যাপ্ত মজুত আছে কি না, এলসি খোলা হচ্ছে কি না বা সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক আছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। আগামী পবিত্র রমজানে প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরে স্বল্প মূল্যে পণ্য বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি খোলাবাজারে নির্ধারিত দামে চাল বিক্রি অব্যাহত থাকবে। পে স্কেল বাস্তবায়ন ও বাজার প্রভাব নতুন পে স্কেলের কারণে বাজারে দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ের মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত। তা ছাড়া এটা একবারে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। বেসরকারি খাতে নিয়মিত বেতন সমন্বয় করা হলেও সরকারি খাতে তা এত দিন বকেয়া ছিল। ফলে পে স্কেলের কারণে বাজারে নতুন করে বৈষম্য বা নেতিবাচক প্রভাব পড়ার যৌক্তিক কারণ নেই। সুগন্ধি চাল রপ্তানি ও মূল্যবৃদ্ধি সুগন্ধি চাল রপ্তানির কারণে বাজারে দাম বাড়ছে কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, মাত্র দুই হাজার টনের মতো চাল রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানির জন্য অনুমোদিত চালের বড় অংশ বাকি আছে। রপ্তানির জন্য অনুমোদিত চালের যে অংশ বাকি আছে, তা রপ্তানির পরিমাণও কমানো হচ্ছে। ফলে দেশীয় বাজারে সুগন্ধি চালের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ নেই।

১৪ মিনিট আগে
নাম ডাকলেন স্পিকার, আসনে নেই এমপি—সংসদে হাসি

জাতীয় সংসদে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রশ্ন ছিল সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামের (গাজী নজরুল ইসলাম)। তবে প্রশ্ন উত্থাপনের সময় তিনি সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে নির্ধারিত প্রশ্নটি উত্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে গাজী নজরুল ইসলামের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর ছিল ৪০৮। প্রশ্নটি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছিল। লিখিত প্রশ্নে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে চান, বর্তমানে দেশে শ্রম আদালতের সংখ্যা কত, সেগুলো কোথায় কোথায় অবস্থিত এবং এসব আদালতে কতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাও জানতে চান তিনি। নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তারকা চিহ্নিত প্রশ্নটি উত্থাপনের আহ্বান জানান। মাইক্রোফোনে গাজী নজরুল ইসলামের নাম ডাকার পর স্পিকার ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে দেখতে পান, তিনি নিজ আসনে উপস্থিত নেই। এ সময় হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে স্পিকার বলে ওঠেন, ‘জি এম তো নাই।’ স্পিকারের তাৎক্ষণিক এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে হাসির সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের অনেককেই এ সময় হেসে উঠতে দেখা যায়।

২১ মিনিট আগে
বাবার শান্তি কমিটিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে আসিফ আকবরের ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটিতে থাকার কারণে আসিফ আকবরের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরকে নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। এবার বাবার সে সময়ের ভূমিকা নিয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। আসিফ জানান, তার বাবা কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি  জীবনের শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ১৯৭১ সালে তার বাবা শান্তি কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানান আসিফ। তবে তার দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার বাবা অনেক মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করেছিলেন। আসিফ বলেন, ‘আমার বাবা মুসলিম লীগের কুমিল্লা জেলার প্রভাবশালী সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের আদর্শেই বিশ্বাসী ছিলেন। মুসলিম লীগার হওয়ার কারণে শান্তি কমিটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে শান্তি কমিটিতে থাকার উসিলায় তিনি অনেকের জানমাল, বাড়িঘর ও এলাকা রক্ষা করেছেন।’ এ সময় বাবার একটি ঘটনার কথাও জানান আসিফ। তার দাবি, তার বাবা ফাঁসির হাত থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচিয়েছিলেন। এসব ঘটনা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে লেখা আছে বলেও জানান তিনি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার বাবার সম্পর্ক কেমন ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, বিষয়টি সরাসরি এভাবে বলা ঠিক হবে না। তার দাবি, মুসলিম লীগের একজন নেতা হিসেবে বাবার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন। আসিফ বলেন, ‘যেহেতু তিনি অনেকের জীবন ও জানমাল রক্ষা করেছেন, তাই তাকে সরাসরি স্বাধীনতার বিপক্ষ বলা যায় না। মুসলিম লীগের একজন সদস্য হিসেবে তার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন।’ ছয় দফা নিয়েও বাবার অবস্থানের কথা জানান আসিফ। তার দাবি, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর তার বাবা মুসলিম লীগের একজন প্রতিনিধি হিসেবে চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে সেই চিঠি এখন আর পরিবারের কাছে নেই বলে জানান আসিফ। তার ভাষ্য, ১৯৭১ সালের সময়কার অনেক কাগজপত্র তখন সংরক্ষণ করা হয়নি। তবে তার বড় ভাইয়েরা এ ঘটনার বিষয়ে জানেন বলে জানান তিনি। স্বাধীনতার পর তার বাবার কাস্টডিতে যাওয়ার ঘটনাটিও তুলে ধরেন আসিফ। তিনি জানান, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী তার বাবাকে ফোন করে নিরাপত্তার জন্য কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আসিফের দাবি, নতুন অনেক যুবক মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়ায় তার বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা ছিল। তাই সেই পরামর্শ অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর তার বাবা নিজেই কাস্টডিতে চলে যান। এরপর তার বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয় বলে জানান আসিফ। এর মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ আরও জানান, ১৯৭৪ সালে তার বাবা আইনি লড়াই করে এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেন এবং কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। তিনি বলেন, তার বাবা সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে মুক্তি পাননি। বরং আদালতে আইনি লড়াই করে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েই তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন। দালাল আইনের অধীনেও কোনো রকম গ্রেফতার বা তার বাবার কোনো সাজা হয়নি বলেও দাবি করেন আসিফ। ১৯৭১ সালে বাবার ভূমিকা নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যে এসব কথা বলেন আসিফ আকবর। তার বক্তব্যে বাবার মুসলিম লীগ ও শান্তি কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি যেমন এসেছে, তেমনি তার দাবি অনুযায়ী, ওই সময় অনেক মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বাবার ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।

৫৬ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী
কুয়েতে মিসাইল-ড্রোন হামলা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।   বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বসবাসরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।   এ ছাড়া কুয়েতের আইন মেনে চলার পাশাপাশি দেশটির সরকারের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি-সংক্রান্ত কোনো ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড না করার জন্যও প্রবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে।   জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য— হটলাইন: +৯৬৫ ৬৯৯২০০১৩ হটলাইন: +৯৬৫ ৬৬৫১৬৪০৪ হটলাইন: +৯৬৫ ৫০৮৯৫১৬১ ই-মেইল: mailto:mission.kuwait@mofa.gov.bd

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

নেপালের ভোটেকোশি নদীতে গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। এতে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারমধ্যে আছে হাইড্রোপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও। আর এ কারণে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।   গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।   এতে বলা হয়েছে, বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়লে হাইড্রোপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ে। এ সময় নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও নেপালের বাড়তি বিদ্যুৎ থাকে। যা রপ্তানি করা হয়।   বাংলাদেশ সদ্যই ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপালের বিদ্যুৎ আনছিল। তবে এখন এ বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।   কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পর অনেক হাইড্রোপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।   শুষ্ক মৌসুমেও নেপাল গড়ে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে আসছিল। কিন্তু এখন এটি ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।   নেপালে শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। এ কারণে দেশটিকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হতো। তবে হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে দেশটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারকের ভূমিকায় আসছিল।   বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন ছিল ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলমি হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্ট এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলি হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্টের। এ দুটি কেন্দ্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে গত সপ্তাহ থেকে তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রেখেছে।   প্রতিষ্ঠান দুটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ভারতের গ্রিড দিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করেছিল।   নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেছেন, “বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা দুটি কেন্দ্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে আমরা ভারতকে বিকল্প হিসেবে অন্য প্রজেক্ট থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর সুযোগ দিতে অনুরোধ করেছি।” সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

সংগৃহীত ছবি
নেপালের বন্যার্তদের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা বাংলাদেশের

নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ত্রাণ, পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা) সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ।   বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীর কাছে বাংলাদেশের এ সহায়তার বার্তা পৌঁছে দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ সাক্ষাতে তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর কাছে পাঠানো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি চিঠিও রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেন।   চিঠিতে নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করা হয়।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া ১০ লাখ ডলারের এ অর্থ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে। বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য চলমান ত্রাণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।   এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নেপাল দূতাবাসে খোলা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন হুমায়ুন কবির। সেখানে তিনি ভয়াবহ দুর্যোগে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেন।   এ ছাড়া গত ২৭ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেও একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত
মালিকানা ফেরার বিতর্কিত ধারা বাদ, সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল উত্থাপন

দুর্বল ব্যাংকগুলোর সাবেক মালিকদের পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার বিতর্কিত ধারা বাতিল করে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিল উপস্থাপন করেন।  পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন বিলটি পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।   এই সংশোধনীর মাধ্যমে গত এপ্রিলে পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’-এর ১৮(ক) ধারাটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে।   বিলে বলা হয়েছে, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ধারা ১৮ (ক) বিলুপ্ত হবে। এই ধারায় বলা হয়, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যাঁরা শেয়ারধারক ছিলেন, তারা চাইলে পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এই সুযোগ দিতে পারবে।   সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করেছিল। সেখানে ১৮ (ক) ধারাটি ছিল না। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাদেশটি সংশোধন করে অনুমোদন করেছিল। সেখানে এই ধারা যুক্ত করা হয়েছিল।   পুরোনো ও বিতর্কিত পরিচালকদের ফেরার সুযোগ রাখার কারণে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। পরে সরকার ধারাটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী আইনে সংশোধনী আনতে বিলটি আনা হয়েছে।   বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ–সংবলিত বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর উক্ত ধারার পূর্ণ শর্ত পরিপালন করে ইতিমধ্যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বিলুপ্ত করা সমীচীন।   সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলা এখনো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয় : ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলা এখনও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয় এবং এ জন্য তাদের আরও কিছু সময় প্রয়োজন। এমনটি মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মনোভাব ব্যক্ত করেন।   বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন কেন কারাকাসকে নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে চাপ দিচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না তারা এখনও প্রস্তুত। জানেনই তো, বিষয়টি একেবারেই নতুন।’   তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের একটি স্বৈরশাসন থেকে বের করে এনেছি এবং সরকারের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস খুব, খুব ভালো কাজ করছেন এবং তিনি খুবই সম্মানিত মানুষ।’   নির্বাচনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ডেলসি এটা চান, কিন্তু তারা এখনও প্রস্তুত নয়’। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা এখনও এর জন্য প্রস্তুত হতে পারবে না। তবে শিগগিরই আমরা এটি (নির্বাচন আয়োজন) করার অপেক্ষায় আছি।’   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

নেপালের ভোটেকোশি নদীতে গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। এতে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারমধ্যে আছে হাইড্রোপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও। আর এ কারণে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।   গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।   এতে বলা হয়েছে, বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়লে হাইড্রোপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ে। এ সময় নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও নেপালের বাড়তি বিদ্যুৎ থাকে। যা রপ্তানি করা হয়।   বাংলাদেশ সদ্যই ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপালের বিদ্যুৎ আনছিল। তবে এখন এ বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।   কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পর অনেক হাইড্রোপাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।   শুষ্ক মৌসুমেও নেপাল গড়ে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে আসছিল। কিন্তু এখন এটি ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।   নেপালে শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। এ কারণে দেশটিকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হতো। তবে হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে দেশটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারকের ভূমিকায় আসছিল।   বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন ছিল ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলমি হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্ট এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলি হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্টের। এ দুটি কেন্দ্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে গত সপ্তাহ থেকে তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রেখেছে।   প্রতিষ্ঠান দুটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ভারতের গ্রিড দিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করেছিল।   নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেছেন, “বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা দুটি কেন্দ্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে আমরা ভারতকে বিকল্প হিসেবে অন্য প্রজেক্ট থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর সুযোগ দিতে অনুরোধ করেছি।” সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে এক সপ্তাহে ৯% বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং এর বিপরীতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইরানের হামলায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।   এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।   বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গতকাল বুধবার সকালের বাণিজ্যে তেলের দাম বাড়লেও দিনশেষে কিছুটা কমেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি হয় ৯৩.৯৩ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ডাব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম হয় ৮৯.৪৪ ডলার। এক সপ্তাহে উভয় তেলের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি।   ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন, জর্দান, কুয়েত ও ইরাকে থাকা মার্কিন সম্পদ বা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরান কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি ‘একেবারেই মাথা ঘামান না’।   চলতি সপ্তাহের শুরুতে শুরু হওয়া সর্বশেষ হামলাগুলো প্রায় এক মাসের মধ্যে প্রথম। এসব হামলা সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টাকে আরো জটিল করে তুলেছে এবং তেল সরবরাহে আরো বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, গত সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক দিনে সর্বোচ্চ পরিমাণ।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার বিষয়ে তথ্য জানিয়েছে।   কমান্ড বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্প্রতি হামলার চেষ্টা করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরো সীমিত হয়ে পড়বে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের পাঁচ ভাগের প্রায় এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে ইরান কার্যত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে।   আইআরজিসির আরো দাবি, তারা জর্দানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইনের এক মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।   জর্দানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঢুকে পড়েছিল। তবে এর মধ্যে ১০টি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতও জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী ড্রোন হামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।   এদিকে গত ২৮ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ ২৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময় ডিজেল, হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুদ কমেছে দুই লাখ ৬৫ হাজার ব্যারেল। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য উদ্ধৃত করে এ কথা জানিয়েছে।

ফাইল ছবি
গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি প্রাণহানি, নিহত ৯ শতাধিক
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও চলতি বছরে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এমনটি জানানো হয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩০১ জন শিশু রয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় সম্মতি দেওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধে রাজি হয় হামাস ও ইসরায়েল। ওই পরিকল্পনায় ‘বিমান ও গোলাবর্ষণসহ সব ধরনের সামরিক অভিযান’ স্থগিত করার কথা বলা হয়েছিল।   তবে এরপরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিবিসি ভেরিফাই ডজন খানেক ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে, যাতে দেখা গেছে ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংসযজ্ঞ। এর মধ্যে ছিল গাজার সৈকত তীরবর্তী একটি ক্যাফেসহ বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া তাঁবু এবং একটি জানাজার মিছিলও।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রাণহানি ছিল সবচেয়ে বেশি। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতিমাসেই ১০০ জনের বেশি নিহত হওয়ার তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব মৃত্যুর জন্য সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে দায়ী করেছে। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক এবং কতজন যোদ্ধা, তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।    জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য মনে করে এবং বিশেষজ্ঞরা বিবিসি ভেরিফাই-কে বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন বিশ্লেষণ এই তথ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।   তবে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা বিবিসি ভেরিফাই-কে জানিয়েছে ,তালিকায় থাকা সবাই আইডিএফ-এর অভিযানের কারণে নিহত হয়েছে এমন ধরে নেওয়ার ‘কোনও ভিত্তি নেই’।   ইসরায়েলের দাবি, হুমকি দূর করতে ও নিজেদের সেনা এবং ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে। সূত্র: বিবিসি

ছবি: সংগৃহীত
ককরোচদের’ দাবি মেনে সব এফআইআর খারিজ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ‘তেলাপোকাদের’ দাবি মেনে নিয়েছে। যন্তর-মন্তর আন্দোলনের সময় গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখী পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে এবং তারপর ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যত এফআইআর দায়ের হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সব খারিজ করে দিয়েছেন।      কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরোধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) খুশি করেছে। ফলে তারাও ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ মিছিল করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এর ফলে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় সরকার এক বড়সড় বিড়ম্বনা এড়াতে পারল। ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বসছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন।   নয়াদিল্লিতে যন্তর-মন্তর আন্দোলনের সময় সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, তাতে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে সব এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি ছিল অন্যতম। জেন-জি প্রজন্মের দাবি মেনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। সিজেপি নেতাদের অন্য দুটি দাবির একটি ছিল আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্য পুলিশের করা এফআইআর প্রত্যাহার।    অন্যটি ছিল নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর দেশজুড়ে যেসব পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিলেন, তাদের পরিবারকে এককালীন অর্থ সাহায্য করা। এই দুই দাবি মানতে টালবাহানা করায় সিজেপি নেতৃত্ব ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির ইন্ডিয়া গেট থেকে মিছিল করে পুলিশ সদর দফতরে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেন।    বিক্ষোভ মিছিলে জেন-জি অটল থাকায় এবং তাদের বিরত করতে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপে অস্বীকার করায় কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপে বাধ্য হয় বলে মনে করা হচ্ছে।     সিজেপির বিক্ষোভ সমাবেশ রুখতে শাসকগোষ্ঠীর অনুগত কেউ কেউ সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে এ ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ দেশের ভাবমূর্তির পক্ষে ক্ষতিকর। অতএব তা বন্ধে সর্বোচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ করুন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই দাবি খারিজ করে দেন।       এর পরেই গতকাল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর এজলাসে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে যেন সব এফআইআর খারিজ করে দেওয়া হয়।    একই সঙ্গে সলিসিটর জেনারেল এ কথাও বলেন, যেসব পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দরুন আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সে জন্য সরকার ৯০ দিন সময় চেয়েছে।     সিজেপি নেতাদের দাবি ছিল, আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবার পিছু ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। সিজেপির সঙ্গে আলোচনার সময় দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং সেই দাবি নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছিলেন।  কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি মেনে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পরেই সিজেপি নেতারা তাদের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ মিছিল প্রত্যাহার করে নেন। সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস এক বিবৃতিতে সে কথা বলেন।    কেন্দ্রীয় সরকারের আরজি মেনে সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ সিজেপি নেতৃত্ব নিজেদের জয় বলে মেনে নিচ্ছেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম, মহারাষ্ট্রসহ অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২০-২৫ জুলাইয়ের আন্দোলনের জন্য দায়ের করা এফআইআর বাতিল তো হলোই, ওই অপরাধে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নতুর করেও কোনো এফআইআর দায়ের করা যাবে না। দায়ের করা সব মামলা খারিজ বলে ধরে নেওয়া হবে। ফলে ১৩০টিরও বেশি এফআইআর গতকাল খারিজ হয়ে গেল।    সিজেপি নেতাদের মতো দিল্লি পুলিশও অবশ্য মনে করছে, এই সিদ্ধান্তে তারাও জয়ী। কারণ, তারা তাদের মনোভাবে অটল থাকতে পেরেছে। যন্তর মন্তরে ছাত্রসমাজের আন্দোলন ও ২০ জুলাই সংসদমুখী অভিযানকে কেন্দ্র করে ঘটা হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ দিল্লি পুলিশ মোট ২ হাজার ৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাদের বিরুদ্ধে অতীত অপরাধের অভিযোগ আছে। সেই সব অভিযোগ গুরুতর।    দিল্লি পুলিশ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ‘ফেশিয়াল রেকগনিশন’ করে এই সিদ্ধান্তে এসেছে। এই ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে দিল্লি পুলিশ রাজি হচ্ছিল না।    তাদের দাবি, চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতে নানা ধরনের গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপের পর তাদের বিরুদ্ধে অতীত অপরাধের অভিযোগে নতুন করে মামলা করা যাবে।   

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি