সরকারি দল বিএনপি সবকিছু শেষ করে দেওয়ার অপকৌশল নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা আজ মুখের ওপরই বলেছি, আপনারা (সরকারি দল) ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন। আপনাদের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। উনারা সবকিছু শেষ করে দেওয়ার অপকৌশল নিয়েছেন। সেই অপকৌশলের ফাঁদে আমরা পা দিতে চাইনি বলেই তো ওয়াকআউট করেছি। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ গত ১২ মার্চ থেকে কাজ শুরু করেছে। বিধি মোতাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে; এটাই নিয়ম। উত্থাপনের ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে এগুলো নিষ্পত্তি করতে হবে। ওই দিনই সংসদ থেকে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সরকারি দলের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সদস্যরা ছিলেন। আলাপ-আলোচনা ও বিভিন্ন সেশন হয়েছে। কিন্তু পরে হঠাৎ দেখা গেল একটি রিপোর্ট তৈরি হয়ে গেছে। আমরা বিরোধী দলের সদস্যদের জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কি সবাই মিলে এই রিপোর্টটি চূড়ান্ত করেছেন? তারা জানালেন, এ ধরনের কোনো চূড়ান্তকরণ বৈঠকই হয়নি। পরে যোগাযোগ করে দেখা গেল, শুধু সরকারি দলের সদস্যরা মিলেই রিপোর্টটি চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। অথচ উচিত ছিল সবাই মিলে এটি সম্পন্ন করা অথবা এমন একটি ছোট দলকে দায়িত্ব দেওয়া যেখানে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের প্রতিনিধি থাকবে। তার কিছুই করা হয়নি। পরবর্তীতে আমাদের আপত্তির মুখে কিছু বিষয় সংযোজন করা হলেও এটি কোনো সঠিক বা সুস্থ ধারা ছিল না। মূলত সেখান থেকেই সমস্যার শুরু। তিনি বলেন, আমরা দেখলাম যে বিলের রিপোর্টের একটি জায়গায় ক, খ, গ ইত্যাদি ভাগ করা হয়েছে। এটি দেখে পরবর্তী কার্যউপদেষ্টা কমিটির মিটিংয়ে আমরা বললাম যে, সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশই উত্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ কমিটির কাজ হলো এগুলোর ওপর কাজ করে তা পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা। তাদের এখান থেকে কোনো কিছু বাদ দেওয়া বা রাখার অধিকার নেই; এটি সংসদের সম্পত্তি। আমাদের দাবি ছিল ১৩৩টি অধ্যাদেশের সব কটি নিয়েই আলোচনা হতে হবে। কার্যউপদেষ্টা কমিটির দীর্ঘ বৈঠকে এ নিয়ে আইনি দিক ও নানা সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে মন্ত্রীরা কথা বলেছেন। শেষ পর্যন্ত আমাদের যুক্তির সাথে একমত হয়ে স্পিকার বলেছিলেন, প্রতিটি অধ্যাদেশই আলোচনার জন্য আসবে। এর জন্য শুক্রবার ছুটির দিনে সংসদ বসা এবং রাত ১২টা পর্যন্ত আলোচনা করে নিষ্পত্তি করার বিষয়েও আমরা রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু আজকে কী হলো? আমরা দেখলাম জাতির নিরাপত্তা ও প্রত্যেকটি নাগরিকের জীবনের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে সেগুলোকে ল্যাপস (তামাদি) হওয়ার তালিকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারা আজকে এগুলো উত্থাপনই করবে না। সর্বশেষ বিলের আগে ছিল ‘জুলাই জাদুঘর বিল’। এই বিলে সবার ঐকমত্য ছিল যে, অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে অধ্যাদেশ জারি করেছে, সেটিকে অপরিবর্তিত রেখেই পাস করা হবে এবং সংসদে সেভাবেই উত্থাপনও করা হলো। কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল সরকারি দলের একজন সদস্য হাত তুললেন। সাধারণত বিল উত্থাপনের সময় সরকারি দল একমত থাকে এবং আপত্তি থাকলে বিরোধী দল হাত তোলে। কিন্তু এখানে সরকারি দলের একজন সদস্য হাত তোলার পর স্পিকার তাকে কথা বলার সুযোগ দিলেন এবং তিনি তিনটি সংশোধনী নিয়ে আসলেন। এই তিনটি সংশোধনীর ব্যাপারে আমাদের নীতিগত আপত্তি আছে। তবে তার চেয়ে বড় আপত্তির জায়গা হলো, আমরা জানলামই না যে তিনি কী সংশোধনী এনেছেন; তা জানার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। তারা হয়তো বলবেন মেমোতে দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, হঠাৎ করে এটিকে একটি দলীয় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বলা হলো, মন্ত্রণালয় যেহেতু এটি তদারকি করবে, তাই মন্ত্রী না থাকলে এটি চলবে কীভাবে? পরে তারা খোলামেলাভাবেই বলে ফেললেন যে, এখানে সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এটি পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এমনকি আমাদের বোঝানোর জন্য এটাও বলা হলো যে, আজকে আপনারা বিরোধী দলে আছেন, আগামীতে সরকারি দলে আসলে আপনারাও এই সুবিধা পাবেন। আমরা বললাম, লজ্জা (শেইম)। আমরা এখানে কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য আসিনি; এসেছি জনগণের অধিকার রক্ষা করতে। সেরকম সুবিধা আমরা চাইও না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পিকার আমাদের কোনো আপত্তিই শুনলেন না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমাদের কমপক্ষে একদিন আগে সমস্ত নথিপত্র (ডকুমেন্ট) সরবরাহ করার কথা, কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। আমরা অধিবেশনে বসার মাত্র এক ঘণ্টা আগে এক বস্তা কাগজ আমাদের সামনে আনা হলো। এখন আমরা যা দেখলাম না, শুনলাম না কিংবা যা নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পেলাম না, সে বিষয়ে রায় দেব কীভাবে? তারপরও যেহেতু সরকারি ও বিরোধী দল মিলে বিশেষ কমিটি হয়েছিল এবং তারা যেসব বিষয়ে একমত হয়েছিলেন, আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সরকারি দল সেই আস্থাও ভঙ্গ করেছে। তারা যুক্তি দেখালেন যে, মন্ত্রী ছাড়া বাকি সকল সদস্যই বেসরকারি। কিন্তু যদি তারা বেসরকারিই হয়ে থাকেন, তবে সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে আপনি এটি গ্রহণ করলেন কেন? আপনি গ্রহণ করার মাধ্যমে তো এটি আর বেসরকারি থাকল না। আপনার ‘মেমো’ হিসেবে আসার পর এটিকে আর বেসরকারি বলার সুযোগ নেই। আমরা যখন তাকে এ বিষয়ে ধরলাম, তিনি বক্তব্যে দাঁড়িয়ে বললেন যে, তিনি নিজেও এটি জানতেন না। জামায়াত আমির বলেন, এই পার্লামেন্টে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও যদি না জানেন যে কী হচ্ছে, তবে কলকাঠি কোথা থেকে নাড়ানো হচ্ছে? এভাবে একটি গণতান্ত্রিক সংসদ চলতে পারে না। আমরা স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে জানতে চেয়ে আপত্তি জানালে তিনি আমাদের কেবল সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্পিকার সংসদের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। তার কাছে আমরা স্পষ্ট জানতে চাই, দুদক বিল, পুলিশ সংস্কার কমিশন বিল, গুম কমিশন বিল ও পিএসসি বিল আসবে কি না? এগুলোর সাথে প্রতিটি নাগরিকের ভাগ্য জড়িত। এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেই অতীতে ফ্যাসিজম কায়েম করা হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। গণভোট অধ্যাদেশও আছে। সরকার এগুলো আনবে না; তারা আনবে শুধু সেগুলোই, যেগুলোতে ফ্যাসিজম বহাল থাকবে এবং যা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারাই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এবং ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে বলেছিলেন যে, কোনো স্তরেই তাঁরা অনির্বাচিত কোনো প্রতিনিধি দেখতে চান না। কিন্তু তাঁরা নিজেদের কথা নিজেরা রাখেননি, জাতির সাথে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেননি। এই আচরণ সম্পূর্ণ স্ববিরোধী। সরকার সংসদে আস্থাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই পার্লামেন্ট আমরা মেনে নিয়েছি, তবে এই সংসদ ও নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা আছে। সেই নির্বাচনের পক্ষে অন্তত দুজন ‘রাজসাক্ষী’ পাওয়া গেছে। নির্বাচন প্রকৌশল (ইঞ্জিনিয়ারিং) নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য এবং বর্তমান সরকারি দলের একজন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী কথা বলেছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আন্দোলন ছাত্ররা করেছে, আমরাও ছিলাম; তবে ‘ক্যাপ্টেন’-এর হাতে ট্রফি প্রফেসর ড. ইউনুস লন্ডনে গিয়ে তুলে দিয়ে এসেছেন। লজ্জা (শেইম)! জামায়াত আমির প্রশ্ন তোলেন, ট্রফি যদি ওখানেই দেওয়া হয়ে থাকে, তবে কিসের নির্বাচন? তার মানে নির্বাচনের ভাগ্য আগে থেকেই পর্দার আড়ালে ঠিক করে জাতিকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে, যার প্রমাণ আপনারা গতকাল দেখেছেন। দেশবাসীকে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কথা দিচ্ছি, জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে আমরা কোনোভাবেই চুল পরিমাণ ছাড় দেব না। আমাদের অবস্থান অক্ষুণ্ণ থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের এই লড়াই জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াই। জনগণের গণরায় ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলেই সব সমস্যার সমাধানের পথ খুলে যাবে বলে আমরা মনে করি। সংসদে আমরা সুবিচার পাইনি; ইনশাআল্লাহ, জনগণকে সাথে নিয়েই আমরা সেই দাবি আদায় করে ছাড়ব। তিনি বলেন, অতীতেও এই ধরনের সংসদে কিছু কিছু বিলকে গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। পরে তারা নিজেরাই সেগুলো গ্রহণে বাধ্য হয়েছেন। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করার মানে হচ্ছে গণতন্ত্র ও জনগণকে অপমান করা। সব দাবি আদায় হবে এবং সেই দাবি আদায় করতে গিয়ে যত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, আমরা প্রস্তুত। দেশের জন্য, জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই অব্যাহত থাকবে। সরকারি দলের হুইপ বলেছেন যে ১৬টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়নি, সেগুলো পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে আনা হবে, আপনারা এটি বিশ্বাস করেন কি না? জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা সেখানে মুখের ওপরই বলেছি যে আপনারা ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন, তাই আপনাদের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। আপনারা এখন আনেননি, পরবর্তী পর্যায়ে আনবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি না। আরেক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটকে তাঁরা অস্বীকার করছেন। গণভোটকে অস্বীকার না করলে অধ্যাদেশ ল্যাপস (তামাদি) হয় কীভাবে? গণভোটের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্যই তো সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। তাঁরা প্রথম দিনই তো সেটি লঙ্ঘন করেছেন। প্রথম দিনই জাতিকে অপমান করেছেন, অগ্রাহ্য করেছেন। এখন তারা কীভাবে এসব কথা বলেন? সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াত ও বিরোধী জোটের শীর্ষস্থানীয় সংসদ সদস্যরা।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।’ লেবাননে নিযুক্ত হতে যাওয়া ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা শিবানীর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী এসব হামলা বন্ধ হওয়া উচিত। এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনা এগোনো সম্ভব নয়।’ ইরানি নেতাদের এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। কারণ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান দীর্ঘ ৪০ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধের পর শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতারা।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় যুবদলের এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম মাসুদুর রহমান মাসুদ। তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মাসুদুর রহমান মাসুদকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, ঝুট ব্যবসা নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই একজন ব্যবসায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাসুদুর রহমান মাসুদ পেশিশক্তি ব্যবহার করে ওই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জেরে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনায় এক শিশুসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ হন এবং অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগেই কেন্দ্রীয় কমিটি মাসুদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ফতুল্লার চাঁদনী হাউজিং এলাকার একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ১২ বছর বয়সি মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন ও রাকিব গুলিবিদ্ধ হন। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) এক শিক্ষক নেত্রীর বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তি হলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের (সাদা দল) সদস্য সচিব এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুন। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেলোশিপ ট্রাস্ট ফাতেমা খাতুনের পিএইচডি স্কলারশিপ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি তার পিএইচডি সনদপ্রাপ্তির তারিখ, ডিফেন্স সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেননি। এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে একাধিকবার (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ও ২৭ জানুয়ারি ২০২৬) লিখিতভাবে পত্র প্রদান করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে ৫ সদস্যের একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. মো. কামরুজ্জামানকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানকে। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এ.টি.এম. সাইফুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের হিসাব পরিচালক। উল্লেখ্য, তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে লিখিত প্রতিবেদন উপাচার্যের নিকট জমা দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কিউআর কোডভিত্তিক 'ফুয়েল পাস' অ্যাপের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। এর ফলে এখন থেকে অ্যাপের মাধ্যমে নির্ধারিত বরাদ্দের তথ্য যাচাই করে তেল নিতে হবে চালকদের। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে শুধু মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। স্টেশন দুটি হলো তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদগেটের সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে ম্যানুয়াল বা সনাতন পদ্ধতিতে তেল বিতরণের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করেন, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে বিতরণ প্রক্রিয়ায় রিয়েল-টাইম মনিটরিং বা তাৎক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত হবে। সিস্টেমটি যেভাবে কাজ করবে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই সিস্টেমের সঙ্গে বিআরটিএ-এর কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সংযোগ থাকবে। ফলে গাড়ির সঠিক তথ্য যাচাই করা সহজ হবে। যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা চাইলে ওয়েবসাইট থেকে রেজিস্ট্রেশন করে কিউআর কোডটি প্রিন্ট করে সঙ্গে রাখতে পারবেন। তেল নেয়ার সময় পাম্পে কোডটি স্ক্যান করলেই চালকের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ দেখা যাবে। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সুবিধা স্বচ্ছতা: ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে তেলের বরাদ্দ এন্ট্রি দিতে পারবেন। তদারকি: কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সারা দেশের জ্বালানি মজুত ও বিতরণের চিত্র সরাসরি দেখা যাবে। অপচয় রোধ: অনিয়ম ও তেলের অপচয় কমবে এবং সংকটকালীন সময়ে ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আশা করছে, এই পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য 'ফুয়েল পাস' অ্যাপটি উন্মুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সরকার। ফুয়েল পাস কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া গ্রাহককে প্রথমে fuelpass.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কর্তৃক রেজিস্ট্রিশনকৃত গাড়ি ও মালিকের তথ্য প্রদান করতে হবে। বিআরটিএ থেকে যাচাই-বাছাইয়ের পর ফোনে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) আসবে এবং সেটি সাবমিট করে যাচাইয়ের পর অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে হবে। ফুয়েল পাস কার্ডের জন্য একজন গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), গাড়ির ব্লু-বুক, ড্রাইভিং লাইসেন্স, সচল ফোন নম্বর এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি প্রয়োজন হতে পারে। জানা গেছে, শিগগিরই রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল পাস চালু হবে। শুরুর দিকে মোটরসাইকেল চালকরা এই পাস কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে কে কতটা তেল উত্তোলন করলেন, সেটির হিসাব পাওয়া যাবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পূর্ণ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া প্রবাসীদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও সরকার করবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত প্রবাসী শাহ আলমের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ইতিমধ্যে পাঁচজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং একজনের দাফন পরিবারের সম্মতিতে মধ্যপ্রাচ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিপদে পড়া প্রবাসীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে আজ সকালে আমিরাতে নিহত শাহ আলমের মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল ভোরে আমিরাতের ফুজাইরাহ প্রদেশের দিব্বা এলাকায় মর্মান্তিক এই ঘটনার শিকার হন তিনি। ইরান থেকে ধেয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে প্রতিহত করা হলে এর ভারী ধ্বংসাবশেষ নিচে থাকা শাহ আলমের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। আজ বিমানবন্দরে মরদেহ হস্তান্তরের সময় সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে দাফনকাজের জন্য ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে না পেরে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ আবারও শারজা বন্দরের দিকে ফিরে যাচ্ছে। বিএসসি সূত্র জানায়, প্রায় ৪০ দিন অপেক্ষার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা চলার পর প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে ফেরত আনা হচ্ছে। জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন নাবিক নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন সচল রাখার কারণে পানির ব্যবহার সীমিত করে দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স প্রদান করা হচ্ছে। বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগর এ প্রবেশ করে। পরে কাতার থেকে পণ্য নিয়ে জেবেল আলী বন্দর পৌঁছায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে জাহাজটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
খুলনা মহানগরীতে ট্যাংকলরি থেকে অকটেন চুরির সময় পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রশাসন জানায়, পদ্মা ডিপো এলাকায় একটি ট্যাংকলরি থেকে ড্রামে করে অকটেন চুরি করার সময় অভিযানে থাকা সদস্যরা তাদের ধরে ফেলে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চালক ও কয়েকজন হেল্পার। তারা সংঘবদ্ধভাবে তেল চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা খানুন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ অনুযায়ী তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট জানান, অভিযানে আটক ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলেই তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। জব্দ করা তেল সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ করে দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় প্রতিদিন ১৫টি জাহাজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারবে। ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া ইরানের একটি কূটনৈতিক সূত্র এ দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম তাসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে ইরানের অনুমোদন ও নির্দিষ্ট প্রটোকলের ওপর নির্ভরশীল। এই নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় আর ফেরা হবে না। ইরান জানিয়েছে, তাদের অবরুদ্ধ অর্থনৈতিক সম্পদ দ্রুত মুক্ত করা এই যুদ্ধবিরতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে পারে। এছাড়া যুদ্ধের সমাপ্তি অবশ্যই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হতে হবে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি তাদের শর্ত অনুযায়ী জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস না হয়, তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পুনরায় এবং আরও জোরালোভাবে সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত। এছাড়া এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সেনা মোতায়েন বাড়াতে পারবে না বলেও জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে পূর্বের চুক্তি মেনে চলার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা। উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে উভয় পক্ষকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে সরাসরি আলোচনা হতে পারে।
মোস্তফা মাহমুদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে না পেরে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ আবারও শারজা বন্দরের দিকে ফিরে যাচ্ছে। বিএসসি সূত্র জানায়, প্রায় ৪০ দিন অপেক্ষার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা চলার পর প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে ফেরত আনা হচ্ছে। জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন নাবিক নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন সচল রাখার কারণে পানির ব্যবহার সীমিত করে দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স প্রদান করা হচ্ছে। বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগর এ প্রবেশ করে। পরে কাতার থেকে পণ্য নিয়ে জেবেল আলী বন্দর পৌঁছায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে জাহাজটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
মাত্র ৪০ দিনের সংঘাতে ইরান ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতির মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইরানের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকার সমান। ইরানের রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান জানিয়েছেন, এ সময়ের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ আবাসিক ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু আবাসন খাতই নয়— হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষা খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। অন্তত ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া রেডক্রিসেন্টের ২০টির বেশি স্থাপনাও ধ্বংস হয়েছে। অবকাঠামোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সংরক্ষণাগার, বিমানবন্দর এবং বেসামরিক বিমানেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে সামরিক খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং প্রায় ২৯টি উৎক্ষেপণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত ইরানের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং সামাজিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-আরাবিয়া, ওয়াশিংটন পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নজরদারি ড্রোন এমকিউ–৪সি শুক্রবার (১০ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালির আকাশে নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে এটি উড়ন্ত অবস্থায় জরুরি সতর্কবার্তা পাঠায়। ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি শেষ করে ইতালির নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেলায় ফেরার পথে ছিল। ওই সময় এটি 'কোড ৭৭০০'—সাধারণ জরুরি অবস্থার সংকেত—পাঠায় এবং ধীরে ধীরে উচ্চতা হারাতে শুরু করে। এ সময় ড্রোনটি ইরানের দিকেও সামান্য অগ্রসর হয়েছিল বলে জানা গেছে। চালকবিহীন এই বিমান নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্রুতগতিতে উচ্চতা হারাচ্ছিল বলে শনাক্ত করা হয়। এরপর থেকেই এর অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র দুই দিন পর এই ঘটনা ঘটল। ওই চুক্তিতে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এমকিউ–৪সি ট্রাইটন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল নজরদারি ড্রোনগুলোর একটি, যার মূল্য ২০ কোটি ডলারেরও বেশি। এটি দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তৃত সমুদ্র এলাকায় কৌশলগত নজরদারি চালাতে সক্ষম এবং প্রায়ই পি-৮এ পসিডন টহল বিমানের সহায়ক 'আকাশচর চোখ' হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে উপসাগরীয় অঞ্চলে এসব ড্রোন মোতায়েন রয়েছে।
ইরানে বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ৪০ দিনের সামরিক অভিযানের বিস্তারিত চিত্র প্রকাশ করতে শুরু করেছে তেলআবিব। একই সঙ্গে ইসরাইলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক হিসাবও তুলে ধরেছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইল ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ে ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু করে। তাদের দাবি, অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি কমানো এবং দেশটির অভ্যন্তরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করা। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ইরান ইসরাইলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখে। একই সময়ে ইসরাইলি বিমান বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে পরে তা বন্ধ করে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে ইরান ইসরাইলের দিকে প্রায় ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ছিল ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেডযুক্ত, যা বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলায় ইসরাইলে ২০ জন বেসামরিক নাগরিক ও বিদেশি নিহত হন। এছাড়া পশ্চিম তীরে আরও চার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আহত হয়েছেন ৭ হাজারের বেশি মানুষ। মোট নিহত ২৪ জনের সবাই বেসামরিক নাগরিক। নিহতদের অধিকাংশই হামলার সময় বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন না। এর মধ্যে ক্লাস্টার বোমায় ১০ জন এবং প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রে ১৪ জন নিহত হন। হামলার কারণে অন্তত ৫ হাজার ৫০০ জন ইসরাইলি তাদের বাড়িঘর হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরান প্রায় ৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। দ্বিতীয় দিনে প্রায় ৬০টি এবং তৃতীয় দিনে প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এরপর যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। মোট অন্তত ১৬টি প্রচলিত ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে, যাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পাশাপাশি ক্লাস্টার বোমাযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রায় ৫০টি হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে শতাধিক স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।