সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব সম্প্রসারণে ইউএনএফপিএর সহায়তা চাইল সরকার

নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা জোরদার এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে ডিএনএ ল্যাবরেটরির কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) থেকে কারিগরি ও জ্ঞানগত সহায়তা চাওয়া হয়েছে।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে ইউএনএফপিএর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রেন কামকংয়ের সৌজন্য সাক্ষাতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।   বৈঠকে মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ডিএনএ ল্যাবরেটরির কার্যক্রম সম্পর্কে ইউএনএফপিএ প্রতিনিধিকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ল্যাবের সেবা পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   এ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে ইউএনএফপিএর কারিগরি ও জ্ঞানগত সহযোগিতা চান মন্ত্রী। জবাবে সংস্থাটির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।   সাক্ষাতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, পারিবারিক সহিংসতা, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, শিশু অধিকার, শিশুশ্রম এবং অনলাইন প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।   মন্ত্রী ইউএনএফপিএকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে স্বাধীনতার পর থেকে সংস্থাটির সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। ভবিষ্যতেও কারিগরি ও উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   এ সময় বাল্যবিবাহসহ সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   ইউএনএফপিএর প্রতিনিধি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারী অধিকার সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় ধর্মীয় নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আরও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।   বৈঠকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। কর্মসূচি রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও তৃণমূল পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ও হস্তশিল্প পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং তাঁদের আধুনিক বিপণন বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়।

১ ঘন্টা আগে
আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী গাড়িতে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৭

ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানার চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জনের মধ্যে বলা হয়েছে।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   নিহতদের মধ্যে জয়নব বেগম (৫৫) নামে এক নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। বিস্ফোরণের সময় ছিটকে আসা একটি সিলিন্ডার তাঁর মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।   ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর সিলিন্ডারবাহী গাড়ির ভেতর থেকে আরও কয়েকজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা সাতজনে উন্নীত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একের পর এক বিস্ফোরণের সঙ্গে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, গাড়িটিতে এলপিজি সিলিন্ডার ছিল। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ঘটনার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলছে।

১ ঘন্টা আগে
আশুলিয়ায় কাভার্ডভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল কাঁচামাল ব্যবসায়ীর

আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নজরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত ও দগ্ধ হয়েছেন।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়া থানার জামগড়া এলাকার মারবাড়ি-শিমুলতলা সংলগ্ন একটি কারখানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত নজরুল ইসলাম মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার আবুডাঙ্গা গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে জামগড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সেখানে পেঁয়াজ, রসুন ও আদাসহ বিভিন্ন কাঁচামালের খুচরা ব্যবসা করতেন।   দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন কাভার্ডভ্যানের চালক খুলনার নূর আলম (৪০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কাঁচামাল বিক্রেতা মোখলেস মিয়া (৪৫) এবং তাঁর ছেলে সুজন মিয়া (১৮)।   নিহতের ছেলে মো. সামিউল জানান, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে বাসার জানালা দিয়ে ধোঁয়া দেখতে পান তিনি। বাইরে মানুষের চিৎকার ও ছোটাছুটি শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে খুঁজতে থাকেন। পরে স্থানীয় এক হোটেল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জানতে পারেন, আহত অবস্থায় তাঁর বাবাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।   স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর পাশের কারখানায় আগুন ধরে যায়। এ সময় কারখানা থেকে ছিটকে আসা একটি ভারী বস্তু নজরুল ইসলামের মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।   স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাছের নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টার দিকে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।   ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে নজরুল ইসলাম মারা যান। আহত অপর তিনজনের চিকিৎসা চলছে।   ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, রাজশাহী স্টেশন ঘেরাও; চার আরএনবি সদস্য বরখাস্ত

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতির কারণে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রাও বাতিল করা হয়েছে।   আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, স্টেশনে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব আলী সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টির প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।   আইয়ুবের সহপাঠীদের দাবি, মারধরের পর তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন রেলপথে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাঁরা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে গিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিলের কথা জানানো হয়।   এ ঘটনায় রাজশাহী রেলওয়ের চিফ কমান্ড্যান্টের দপ্তরাদেশে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দীন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদত হোসেন। দপ্তরাদেশে তাঁদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, শিক্ষার্থীর চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।   এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মীদের বক্তব্যও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
সোমবার থেকে ডিজেল-কেরোসিন-পেট্রল-অকটেনের দাম বাড়ছে

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—চার ধরনের জ্বালানির দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।   রোববার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে নতুন দামের বিষয়টি জানানো হয়েছে।   নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে।   অর্থাৎ এক দিনেই চার ধরনের জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ল।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় আন্তর্জাতিক বাজারের পুরো মূল্যবৃদ্ধি দেশের বাজারে সমন্বয় করা হয়নি।   এ কারণে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর আগে গত ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। একই সময়ে কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা, পেট্রল ১৯ টাকা এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয়। পরে জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত ছিল।   প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে প্রতি লিটার ডিজেলে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে প্রতিদিন প্রায় ১০৯ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। শুধু ডিজেল বিক্রিতেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   নতুন করে লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।   জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হলে পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কৃষি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, রাজশাহী স্টেশন ঘেরাও; চার আরএনবি সদস্য বরখাস্ত

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতির কারণে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রাও বাতিল করা হয়েছে।   আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, স্টেশনে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব আলী সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টির প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।   আইয়ুবের সহপাঠীদের দাবি, মারধরের পর তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন রেলপথে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাঁরা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে গিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিলের কথা জানানো হয়।   এ ঘটনায় রাজশাহী রেলওয়ের চিফ কমান্ড্যান্টের দপ্তরাদেশে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দীন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদত হোসেন। দপ্তরাদেশে তাঁদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, শিক্ষার্থীর চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।   এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মীদের বক্তব্যও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

ছবি: সংগৃহীত
আশুলিয়ায় কাভার্ডভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল কাঁচামাল ব্যবসায়ীর

আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নজরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত ও দগ্ধ হয়েছেন।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়া থানার জামগড়া এলাকার মারবাড়ি-শিমুলতলা সংলগ্ন একটি কারখানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত নজরুল ইসলাম মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার আবুডাঙ্গা গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে জামগড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সেখানে পেঁয়াজ, রসুন ও আদাসহ বিভিন্ন কাঁচামালের খুচরা ব্যবসা করতেন।   দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন কাভার্ডভ্যানের চালক খুলনার নূর আলম (৪০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কাঁচামাল বিক্রেতা মোখলেস মিয়া (৪৫) এবং তাঁর ছেলে সুজন মিয়া (১৮)।   নিহতের ছেলে মো. সামিউল জানান, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে বাসার জানালা দিয়ে ধোঁয়া দেখতে পান তিনি। বাইরে মানুষের চিৎকার ও ছোটাছুটি শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে খুঁজতে থাকেন। পরে স্থানীয় এক হোটেল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জানতে পারেন, আহত অবস্থায় তাঁর বাবাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।   স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর পাশের কারখানায় আগুন ধরে যায়। এ সময় কারখানা থেকে ছিটকে আসা একটি ভারী বস্তু নজরুল ইসলামের মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।   স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাছের নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টার দিকে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।   ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে নজরুল ইসলাম মারা যান। আহত অপর তিনজনের চিকিৎসা চলছে।   ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী গাড়িতে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৭

ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানার চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জনের মধ্যে বলা হয়েছে।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   নিহতদের মধ্যে জয়নব বেগম (৫৫) নামে এক নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। বিস্ফোরণের সময় ছিটকে আসা একটি সিলিন্ডার তাঁর মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।   ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর সিলিন্ডারবাহী গাড়ির ভেতর থেকে আরও কয়েকজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা সাতজনে উন্নীত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একের পর এক বিস্ফোরণের সঙ্গে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, গাড়িটিতে এলপিজি সিলিন্ডার ছিল। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ঘটনার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলছে।

ছবি: সংগৃহীত
বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব সম্প্রসারণে ইউএনএফপিএর সহায়তা চাইল সরকার

নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা জোরদার এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে ডিএনএ ল্যাবরেটরির কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) থেকে কারিগরি ও জ্ঞানগত সহায়তা চাওয়া হয়েছে।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে ইউএনএফপিএর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রেন কামকংয়ের সৌজন্য সাক্ষাতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।   বৈঠকে মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ডিএনএ ল্যাবরেটরির কার্যক্রম সম্পর্কে ইউএনএফপিএ প্রতিনিধিকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ল্যাবের সেবা পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   এ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে ইউএনএফপিএর কারিগরি ও জ্ঞানগত সহযোগিতা চান মন্ত্রী। জবাবে সংস্থাটির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।   সাক্ষাতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, পারিবারিক সহিংসতা, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, শিশু অধিকার, শিশুশ্রম এবং অনলাইন প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।   মন্ত্রী ইউএনএফপিএকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে স্বাধীনতার পর থেকে সংস্থাটির সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। ভবিষ্যতেও কারিগরি ও উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   এ সময় বাল্যবিবাহসহ সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   ইউএনএফপিএর প্রতিনিধি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারী অধিকার সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় ধর্মীয় নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আরও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।   বৈঠকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। কর্মসূচি রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও তৃণমূল পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ও হস্তশিল্প পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং তাঁদের আধুনিক বিপণন বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ক্যাম্প ডেভিড থেকে দ্রুত ফিরলেন ট্রাম্প
আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুথিদের লড়াই ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ক্যাম্প ডেভিড সফর সংক্ষিপ্ত করে হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেন নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি ওয়াশিংটনে ফিরেছেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানায়নি।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্প ডেভিড থেকে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার খবর আসে। তার সেখানে সপ্তাহান্ত কাটিয়ে রোববার ফেরার কথা ছিল। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও নতুন সতর্কতা জারি করে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল এবং সেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এই সতর্কতার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার রিয়াদের দিকে হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয়েছে।   রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা যাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। তবে তাদের করা সব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ও নতুন করে আলোচনায় ফেরার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকেও কয়েকটি শর্ত সামনে এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই জানান, কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এসব শর্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তারা ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।   রেজাই প্রকাশ্যে যে তিনটি প্রধান শর্তের কথা জানিয়েছেন, সেগুলো হলো—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় করা এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। একই সঙ্গে তিনি জানান, আলোচনায় ফেরার জন্য ইরানের পক্ষ থেকে মোট সাতটি শর্ত জানানো হয়েছে।   ইরানের শর্ত সামনে আসার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

ছবি: সংগৃহীত
মিসরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সিআইএ প্রধানের বৈঠক
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই মিসরের রাজধানী কায়রোতে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ।   মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কায়রোতে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মিসরের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশাদ উপস্থিত ছিলেন।    প্রেসিডেন্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় ইরান, গাজা স্ট্রিপ ও সুদান পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে চলমান হামলা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার হুমকির বিষয়টি প্রাধান্য পায়।    বৈঠকে মিসরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংকট সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ আঞ্চলিক সংকট সমাধানের জন্য শান্তিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ পথ খুঁজতে মিসরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।    সূত্র: আল-আরাবিয়া

ছবি: সংগৃহীত
শর্ত পূরণ না হলে খুলবে না হরমুজ প্রণালি: ইরান
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত জুনে হওয়া চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং তেহরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। খবর আনাদোলু এজেন্সির।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান তার শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে।   গালিবাফ বলেন, ‘প্রতিপক্ষ ভালোভাবেই জানে, প্রতারণা ও একতরফা চাপ প্রয়োগের পথ বন্ধ। ইরানি জনগণের বৈধ অধিকার স্বীকৃত না হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আগের আলোচনার অবস্থায় ফেরার বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’   মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান।   এরপর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দেয় তেহরান। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।   পরবর্তী সময়ে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। এতে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল।   তবে কৌশলগত এই জলপথে নৌ চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি ভেঙে পড়ে। এর পর থেকেই হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ছবি: সংগৃহীত
স্বাধীন ইসলামিক দেশ না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে : থাই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

থাইল্যান্ডের মুসলিম অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলের আলাদা স্বাধীন ইসলামিক দেশ না গড়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)’। দুদিন আগে বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন দলটির প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকামাতুল্লাহ সেরি।   “যতদিন আমাদের লক্ষ্য অর্জিত না হচ্ছে, আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। সময় শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত লড়াই চলবে।”— বলেন নিকামাতুল্লাহ।   ১৯৬০ সাল থেকে থাইল্যান্ডের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে ইসলামিক দেশ গঠনের জন্য লড়ে যাচ্ছে বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনালের যোদ্ধারা। মাঝে এটি থেমে গেলেও ২০০৪ সাল থেকে তারা নতুন করে আবারও লড়াই শুরু করেন।   তাদের থামাতে ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনালের সঙ্গে আলোচনা করছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা থমকে গেছে। বিশেষ করে গত জুলাইয়ে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা বাতিল করে ব্যাংকক সরকার। ওই সময় মুসলিম অঞ্চলটিতে পাঁচ থাই নাগরিক নিহত হন। এতে করে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়।   মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালামপুরের একটি হোটেলে বসে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে নিকামাতুল্লাহ আরও বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য একই রয়ে গেছে। সেটি হলো স্বাধীনতার দাবি।”   থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে আগে মালয়-মুসলিম পাতানি সুলতানাতের শাসন ছিল। তবে ১৯০০ সালের শুরুর দিকে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ড এ অঞ্চলটি অধিগ্রহণ করে। ওই সময় থাইল্যান্ডের নাম ছিল সিয়াম।   ২০০৪ সাল থেকে এই স্বাধীনতা সংগ্রামে ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যারমধ্যে স্থানীয় যোদ্ধা, দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক মানুষ রয়েছেন।   সম্প্রতি সেখানে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে নিকামাতুল্লাহ এর পেছনে তার দলের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেননি আবার প্রত্যাখ্যানও করেননি।   শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা হবে নিকামাতুল্লাহ বলেছেন, তারা দক্ষিণাঞ্চলে আলাদা স্বাধীন দেশ করে সেখানকার রাজনৈতিক ক্ষমতা চান। এরপর সেখানে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা হবে। যা শুধুমাত্র মুসলিমদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। এরপর ১০ বছর পর গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।   নিকামাতুল্লাহ বলেন, “আমরা রাজনৈতিক ক্ষমতা চাই। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে (মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী চারটি প্রদেশ) সরকার চালাতে দেওয়া উচিত। এটি শরিয়াহ পুলিশ ও আদালত দিয়ে চলবে। তবে শুধুমাত্র মুসলিমদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে।” সূত্র: এএফপি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব