‘কালো জাদু’ করে বেশ ‘সুনাম’ অর্জন করেছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপেও নাকি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনকে ‘বোতলবন্দি’ করে ফেলেছিলেন। ঘানার সেই স্বঘোষিত ‘তান্ত্রিক’ এবার এমন এক দাবি করলেন, যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার রোনালদোভক্তের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে বাধ্য। নানা কোয়াকু বনসাম, ঘানার ওই বিখ্যাত ওঝা বলছেন, ‘এবারের বিশ্বকাপ রোনালদোর।’ অধরা মাধুরী ছুঁয়ে ফেলতে আর অপেক্ষা করতে হবে না বিশ্ব ফুটবলে সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকাকে। নানা কোয়াকু বনসাম, প্রথম শিরোনামে আসেন ২০১৪ সালে। সেবার পর্তুগাল পড়েছিল ঘানার গ্রুপে। সেসময় ওই স্বঘোষিত ওঝা দাবি করেন, তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উপর ‘কালো জাদু’ করেছেন। বিশ্বকাপে বেশ কঠিন সময় কাটাতে হবে রোনালদোকে। ঘটনাচক্রে সেই বিশ্বকাপ মোটেই ভালো যায়নি সিআর সেভেনের। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা সত্ত্বেও নিজের দেশকে গ্রুপের গণ্ডি পেরিয়ে নকআউটে তুলতে পারেননি ক্রিস্টিয়ানো। নিজে মোটে একটি গোল পান। হাঁটুর চোটও ভোগায় তাকে। সেসময় ঘানার ওই ওঝা বেশ পরিচিত হয়ে যান। কোয়াকু বনসাম নামের অর্থ ‘বুধবারের শয়তান’। তার দাবি, ঘানার প্রত্যন্ত এক গ্রামের ‘কোফি অ্যান্ড কোফি’ আশ্রম থেকে তিনি অলৌকিক শক্তি লাভ করেছেন। সেই শক্তির জোরেই নাকি তিনি ঝাড়ফুঁক করে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ক্ষতি করতে পারেন। নিজেই জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে তার ঝাড়ফুঁকের ফলেই নাকি হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ১২ বছর বাদে সেই কোয়াকু ফের শিরোনামে। চলতি বিশ্বকাপে ঘানার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনকে নাকি তিনি মন্ত্রবলে বেঁধে ফেলেছিলেন। তবে এবার রোনালদোকে নিয়ে তার ভবিষ্যদ্বাণী পর্তুগাল সমর্থকদের জন্য রীতিমতো আশাব্যাঞ্জক। কোয়াকু বলছেন, ‘এই বিশ্বকাপ রোনালদোর। আমি দেখে নিয়েছি ট্রফিটা ওর হাতেই উঠছে।’ ঘানার ওই ওঝার দাবি, ‘আধ্যাত্মিক জগতে ইতিমধ্যেই পর্তুগাল বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে। আর আমি সেটা দেখেও ফেলেছি। রোনালদোর অপেক্ষা এবার শেষ হতে চলেছে।’ কোয়াকুর এই ভবিষ্যদ্বাণী যদি রোনালদো ভক্তরা শোনেন, তাহলে হয়তো বলবেন, আপনার মুখে ফুলচন্দন পড়ুক। আসলে এ বছর এমনিতেই পর্তুগালকে অনেকে রেখেছে ফেভারিট তালিকায়। তার উপর রোনালদো নিজের শেষ বিশ্বকাপে অধরা মাধুরীর সন্ধান পেতে মরিয়া। এতএব, কোয়াকুর ভবিষ্যদ্বাণী পর্তুগালপ্রেমীদের আরও বেশি আশাবাদী করে তুলবে, সেটাই স্বাভাবিক।
ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রকে সামনে রেখে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মহাকাশ, সাইবার যুদ্ধ এবং ইলেকট্রনিক স্পেকট্রাম সক্ষমতা জোরদারে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়েল গ্রসম্যান দ্য জেরুজালেম পোস্টকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নতুন বাস্তবতায় শুধু অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নয়, আগামী দিনের সংঘাতের জন্যও বাহিনীকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি তথ্য বিপ্লব চলছে। আইডিএফের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সক্ষমতা আমাদের সর্বত্র নিয়ে যেতে হবে। শুধু আগের যুদ্ধের জন্য নয়, আসন্ন যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই আমাদের সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে সংগঠিত হতে হবে। গ্রসম্যান বলেন, ইসরায়েল এখন উপলব্ধি করছে যে শক্তিশালী মহাকাশ কৌশল ছাড়া ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। কারণ, আধুনিক যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে ডেটা এবং নজরদারি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আইডিএফ চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদি সামরিক পরিকল্পনায় মহাকাশকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। গ্রসম্যান বলেন, আইডিএফ প্রধান স্পষ্ট বলেছেন, আমরা মহাকাশকে উপেক্ষা করতে পারি না। এরপর থেকেই মহাকাশ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগে আমাদের বিপুল শক্তি ও সম্পদ বরাদ্দ করা হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ বছর আগে ইসরায়েল মহাকাশ কর্মসূচি শুরু করলেও বর্তমানে দেশটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুনে পরিচালিত ১২ দিনের অভিযানে ইরানের ১২ হাজারের বেশি ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ চলাকালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজারেরও বেশি। গ্রসম্যান জানান, ইসরায়েলের সীমান্ত থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে বিমানবাহিনীর অভিযান পরিচালনার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে নতুন স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা। তার মতে, ভবিষ্যতে আরও বেশি ডেটা স্থানান্তর এবং মহাকাশভিত্তিক নতুন সক্ষমতা তৈরির জন্য একাধিক পেলোডসহ নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে হবে এবং সেই সক্ষমতা ইসরায়েল অর্জন করছে। রাশিয়া, চীন ও ইরানের মহাকাশে স্যাটেলাইট ধ্বংস কিংবা কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহাকাশ থেকেও হুমকি রয়েছে। আমরা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বৃহত্তর প্রতিরক্ষা কাঠামোর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো আলাদা স্পেস কমান্ড গঠনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসরায়েলের পুরো মহাকাশ ইকোসিস্টেমকে একই কাঠামোর আওতায় আনা। তার ব্যাখ্যায়, এতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, নজরদারি, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, স্যাটেলাইট প্রতিরক্ষা, স্যাটেলাইট আক্রমণ এবং নতুন প্রকৌশল সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আইডিএফ তাদের সিফোরআই ও সাইবার প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর পুনর্গঠন করে। এর আওতায় গঠন করা হয় নতুন এআই-কেন্দ্রিক ব্রিগেড স্ফেইরা এবং সম্প্রসারিত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট। এই ব্রিগেড ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, এআই এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনা করছে। আইডিএফের দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া প্রায় ১ হাজার ১০০টি ড্রোনের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ নিষ্ক্রিয় করে ৫১১৪তম স্পেকট্রাম ওয়ারফেয়ার ব্যাটালিয়ন। সূত্রমতে, ইরান ও লেবাননে পরিচালিত স্পেকট্রাম-সম্পর্কিত অভিযান ছিল যুদ্ধের সবচেয়ে কম আলোচিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি। গ্রসম্যান বলেন, ২৮শে ফেব্রুয়ারির আগের মাসগুলোতে, গ্রসম্যানের কমিউনিকেশনস কমান্ডের ক্ষেত্রে আইডিএফ প্রায় যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির কাছাকাছি ছিল। অনেক দিক থেকেই, যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে প্রায় আট মাস সময় কেটে যায়, অপারেশন রোয়ারিং লায়ন ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে জুন ২০২৫-এর যুদ্ধের একটি সম্প্রসারণ বা দ্বিতীয় পর্ব। অপারেশন রাইজিং লায়ন থেকে আমরা ইরানের সাথে যুদ্ধ করার বিষয়ে অনেক কিছু শিখেছি। আমরা সামরিক শক্তি ব্যবহারের একটি নতুন কৌশল শিখেছি, যা যুদ্ধ এবং তথ্যের কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের উপর আলোকপাত করে। বিষয়টি তিনি ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, এর ফলে আমরা যুদ্ধ-সম্পর্কিত কয়েক ডজন নতুন সমাধান অর্জন করতে পেরেছিলাম। তবে তিনি কিছু গোপনীয় শিক্ষা গোপন রাখেন। আইডিএফের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের যুদ্ধের সময় বিমান বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পে ২,৬০০টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বিমান বাহিনী যখন এত বিপুল সংখ্যক লক্ষ্যবস্তুর সন্ধান করত, তখন তারা গ্রসম্যানের ব্রিগেডের সরবরাহ করা একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করত। গ্রসম্যান বলেন, আমরা আইডিএফ-এর তথ্য কারখানা নির্মাণ ও পরিচালনা করছি। কমিউনিকেশনস কমান্ডের আগে থেকেই একটি ডেটা সেন্টার এবং ডেটাবেস ছিল। এখন বিমান বাহিনী, সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ এবং স্থল বাহিনীর নিজস্ব ডেটাবেস রয়েছে যা নিয়মকানুনের অধীনে পরিচালিত হয় এবং তারা ডিজিটাল আর্কিটেকচার ব্যবহার করছে, যা আইডিএফ-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং তথ্যের আরও ভালো ব্যবহারে সহায়তা করবে। অপারেশন রাইজিং লায়ন এবং রোয়ারিং লায়ন চলাকালীন, গ্রসম্যানের ব্রিগেড (যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে) দীর্ঘ দূরত্বে বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ ও স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছিল, যার ফলে ইসরায়েল দূরবর্তী দেশগুলোর তৃতীয় বৃত্তটিকে ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী দেশগুলোর প্রথম বৃত্তের সমান করে ফেলে। এই অবকাঠামোর ফলে সীমান্তবর্তী দেশ এবং হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কার্যত কোনো পার্থক্য থাকছে না। তিনি বলেন, এতে কোনো জাদু নেই। যোগাযোগ স্থাপন, ছবি তোলা, হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে তথ্য প্রেরণ এবং হাজার হাজার কিলোমিটারের ফুটেজ রেকর্ড করার জন্য স্যাটেলাইটের প্রয়োজন হয়। গ্রসম্যান উল্লেখ করেন, এর জন্য পদার্থবিদ্যা, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার প্রয়োজন, যাতে বিমান বাহিনীর কমান্ডার মাহা ইরানে এমনভাবে কাজ করতে পারেন যেন এটি একটি প্রথম সারির দেশ। আমরা নিশ্চিত করি যে আইডিএফের সমস্ত শাখা যখন এবং যেখানে চায়, পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইরানও পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এবং ক্রমাগত নিজস্ব পরিবর্তন আনছে। গ্রসম্যান জানান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুধু ২০২৬ সালের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নয়; বরং ২০৩৫ সালের সম্ভাব্য যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে করা হচ্ছে। কমিউনিকেশনস কমান্ডের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার প্রযুক্তি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বিশ্বকে মৌলিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও বেসামরিক পর্যায়ে ইসরায়েলকে এআই ও ডেটা সেন্টার উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ার সমালোচনা রয়েছে, আইডিএফের দাবি, সামরিক প্রেক্ষাপটে তাদের আলাদা সক্ষমত আছ্যাঃ। নতুন এআই ব্রিগেড ডেটা সেন্টার, সফটওয়্যার, অপারেশনাল মডেল, ডেটা সায়েন্স এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত চাহিদা মূল্যায়নের কাজ করছে। এই ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরিচয় গোপন রাখা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বি। বেসামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা বলেন, যেখানে যৌথভাবে কাজ করা সম্ভব, সেখানে তারা একসঙ্গে কাজ করেন; আর প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা দায়িত্বও পালন করেন। গ্রসম্যানের মতে, সাইবার প্রতিরক্ষা শুধু নিজের নেটওয়ার্ক রক্ষা নয়; বরং শত্রুর ডিজিটাল অবকাঠামোতেই হুমকি মোকাবিলা করা বেশি কার্যকর। যোগাযোগ কমান্ড নিজের নেটওয়ার্কের বাইরেও কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণ করে আগাম প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তার মতে, আইডিএফের বিশেষ প্রযুক্তিগত অবকাঠামো রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকারদের হাত থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। গাজায় মানবিক সহায়তা বিতরণে ব্যর্থতার প্রসঙ্গে আইডিএফের যোগাযোগ কমান্ড জানায়, তথ্য যতই নির্ভুল হোক, বাস্তব পরিস্থিতিতে সবসময় তা একইভাবে কার্যকর হয় না। তাদের মতে, হামাস যদি সহায়তা দখল করতে চায়, তাহলে অ্যালগরিদম দিয়ে সেই বাস্তবতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কারণ খাদ্য সহায়তাসহ সব বিষয়ে সরকার যে নীতি নির্ধারণ করে, আইডিএফ সেটিই অনুসরণ করে। আইডিএফ জানায়, সব সেন্সর থেকে সংগৃহীত তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটা প্ল্যাটফর্মে পাঠানো হয়। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে এফপিভি ড্রোন এবং ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র মোকাবিলায় নতুন কৌশল তৈরি করা হচ্ছে। তবে সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে, এফপিভি ড্রোনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান তাদের হাতে নেই এবং এটি তৈরি করতে আরও কয়েক মাস বা কয়েক বছর লাগতে পারে। গ্রসম্যান বলেন, শত্রুর হুমকির ধরন ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এআইভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংগৃহীত তথ্যই বহু সেনার জীবন রক্ষা করেছে। আইডিএফের বহু প্রযুক্তি ইউনিটকে ধাপে ধাপে বেয়ারশেবা অঞ্চলের নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ২০২০-এর দশকজুড়ে আইডিএফের বিভিন্ন ইউনিট এবং ইসরায়েল ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছে। খুব শিগগিরই আরও বড় পরিসরে এই স্থানান্তর সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মালদ্বীপে মাত্র চার মাস আগে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা বাংলাদেশি মেজবাহ উদ্দিনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মেজবাহ উদ্দিনের বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মাহাদিয়া গ্রামে। তিনি মোজিবুল হকের (সুরুজ মিয়া) ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানী মালের সিট্রন বাই লেমনগ্রাস কোম্পানির স্টাফ কোয়ার্টার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কবির আহমেদ জানান, স্টাফ কোয়ার্টারের একটি কক্ষে চারজন একসঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার সময় দুইজন কর্মস্থলে এবং দুইজন ছুটিতে ছিলেন। রাতের খাবার খেতে বের হওয়ার পর ফিরে এসে এক সহকর্মী মেজবাহ উদ্দিনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করা হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মামা মো. জহিরুল ইসলাম (সুমন) জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জীবিকার সন্ধানে মেজবাহ উদ্দিন মালদ্বীপে আসেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন বলে পরিবারের ধারণা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন এবং মালদ্বীপ পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বর্তমানে মরদেহ রাজধানী মালের একটি মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। নিহতের পরিবার মালদ্বীপে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে। এ বিষয়ে মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশির এই মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। বিষয়টি সম্পর্কে হাইকমিশন অবগত রয়েছে এবং ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানতে মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর একমুখী হামলায় ব্যবহৃত অন্তত চারটি ড্রোন ব্যবহার করেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ড্রোনগুলোর একটি বড় এবং অত্যন্ত মূল্যবান একটি পণ্যবাহী জাহাজের ওপরের ডেকে সরাসরি আঘাত হানে। এতে জাহাজটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেটি যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, আমরা বাকি তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছি। স্পষ্টতই এটি আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন। তবে ট্রাম্প কোন নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন বা ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা স্থগিত করার পরপরই ট্রাম্প এই বিবৃতি দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। সূত্র : আল জাজিরা
মালদ্বীপে মাত্র চার মাস আগে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা বাংলাদেশি মেজবাহ উদ্দিনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মেজবাহ উদ্দিনের বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মাহাদিয়া গ্রামে। তিনি মোজিবুল হকের (সুরুজ মিয়া) ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানী মালের সিট্রন বাই লেমনগ্রাস কোম্পানির স্টাফ কোয়ার্টার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কবির আহমেদ জানান, স্টাফ কোয়ার্টারের একটি কক্ষে চারজন একসঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার সময় দুইজন কর্মস্থলে এবং দুইজন ছুটিতে ছিলেন। রাতের খাবার খেতে বের হওয়ার পর ফিরে এসে এক সহকর্মী মেজবাহ উদ্দিনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করা হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মামা মো. জহিরুল ইসলাম (সুমন) জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জীবিকার সন্ধানে মেজবাহ উদ্দিন মালদ্বীপে আসেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন বলে পরিবারের ধারণা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন এবং মালদ্বীপ পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বর্তমানে মরদেহ রাজধানী মালের একটি মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। নিহতের পরিবার মালদ্বীপে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে। এ বিষয়ে মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশির এই মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। বিষয়টি সম্পর্কে হাইকমিশন অবগত রয়েছে এবং ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানতে মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় দ্রুত ড্রোন ও ড্রোন-বিধ্বংসী ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এর অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাঁচ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ গড়ে তুলবে দেশটি। সম্মুখসারির যুদ্ধক্ষেত্রের সামরিক ইউনিটগুলোতেও দেশীয়ভাবে তৈরি শতশহস্র মানববিহীন ড্রোন মোতায়েন করা হবে। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও মেরিন বাহিনীর জন্য ১ লাখ ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংখ্যা কমিয়ে প্রায় ৬০ হাজারে নামিয়ে আনে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ড্রোন ২০২৬ সালেই চালু করা হবে। মন্ত্রণালয় জানায়, এসব ড্রোন সব বাহিনীকেই দেওয়া হবে, যাতে প্রতিটি সেনার জন্য ড্রোন একটি নিয়মিত হাতিয়ারে পরিণত হয়। সেনা, নৌ, বিমান ও মেরিন বাহিনীর পাঁচ লাখ সেনাসদস্যকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসাবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক বলেন, “ড্রোন আর সীমিতসংখ্যক ইউনিটের ব্যবহারের জন্য রাখা উচিত না, বরং এটি হবে সর্বজনীন যুদ্ধাস্ত্র।” তিনি আরও বলেন, ড্রোনকে ‘দ্বিতীয় ব্যক্তিগত অস্ত্র’ হিসেবে সেনাদের ব্যবহার করা উচিত। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ড্রোন তৈরিতে চীনা যন্ত্রাংশের পরিবর্তে শতভাগ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত উপাদান ব্যবহার করবে সিউল। দক্ষিণ কোরিয়ার এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন দুই কোরিয়াই ড্রোন সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক বলেন, ইউক্রেইন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে ড্রোন এখন লড়াইয়ের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। স্বল্প খরচে আনেক বেশি ড্রোনের ব্যবহার যুদ্ধের প্রকৃতিই বদলে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়াও নিজেদের মনুষ্যবিহীন হাতিয়ার তৈরির সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য হুমকি বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পরিকল্পনায় লেজার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্রের মতো ড্রোন-রোধী ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়টিও রয়েছে। তাছাড়া, অভিযান পরিচালনার কাঠামোও এমনভাবে বদলানো হবে, যাতে প্রতিটি বাহিনী কেন্দ্রীয় কমান্ডের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালানো এবং হামলা পরিচালনা করতে পারে। এক ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনী শিগগিরই ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার-ব্যবহার্য ড্রোন সংগ্রহ করবে। একইসঙ্গে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ড্রোন-সোয়ার্ম ব্যবস্থা এবং লয়টারিং মিউনিশনও অর্জন করবে। সূত্র: রয়টার্স।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালির অদূরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাতনামা উৎস থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫২ ডলার বা ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ২৬ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫৮ ডলার বা ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ৯২ ডলারে ওঠে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তখন উভয় সূচকই ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরাকে ঘিরে মধ্যপ্রচ্য সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এ কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।
ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়াইরা। সেখানে একটি বিলাসবহুল হোটেল ধসে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডায়ামান্তে২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় বিলাসবহুল এডুয়ার্ড’স হোটেলে অবস্থান করছিলেন গুয়েরেরোস দে লারা ও ডেলফাইনেস দে লা গুয়াইরা দলের খেলোয়াড়দের স্বজন এবং সাবেক বেসবল খেলোয়াড় গোর্কিস হার্নান্দেজ ও এলিয়েজার আলফোনজোর পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। তবে সাবেক জেনরি মেহিয়া ওই সময় হোটেলে থাকলেও তিনি জীবিত উদ্ধার হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধসে পড়া হোটেলের বাইরে খেলোয়াড়রা উদ্বিগ্ন হয়ে তাদের স্বজনদের খোঁজ করছেন। নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর আশঙ্কাও করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রকে সামনে রেখে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মহাকাশ, সাইবার যুদ্ধ এবং ইলেকট্রনিক স্পেকট্রাম সক্ষমতা জোরদারে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়েল গ্রসম্যান দ্য জেরুজালেম পোস্টকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নতুন বাস্তবতায় শুধু অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নয়, আগামী দিনের সংঘাতের জন্যও বাহিনীকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি তথ্য বিপ্লব চলছে। আইডিএফের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সক্ষমতা আমাদের সর্বত্র নিয়ে যেতে হবে। শুধু আগের যুদ্ধের জন্য নয়, আসন্ন যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই আমাদের সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে সংগঠিত হতে হবে। গ্রসম্যান বলেন, ইসরায়েল এখন উপলব্ধি করছে যে শক্তিশালী মহাকাশ কৌশল ছাড়া ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। কারণ, আধুনিক যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে ডেটা এবং নজরদারি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আইডিএফ চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদি সামরিক পরিকল্পনায় মহাকাশকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। গ্রসম্যান বলেন, আইডিএফ প্রধান স্পষ্ট বলেছেন, আমরা মহাকাশকে উপেক্ষা করতে পারি না। এরপর থেকেই মহাকাশ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগে আমাদের বিপুল শক্তি ও সম্পদ বরাদ্দ করা হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ বছর আগে ইসরায়েল মহাকাশ কর্মসূচি শুরু করলেও বর্তমানে দেশটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুনে পরিচালিত ১২ দিনের অভিযানে ইরানের ১২ হাজারের বেশি ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ চলাকালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজারেরও বেশি। গ্রসম্যান জানান, ইসরায়েলের সীমান্ত থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে বিমানবাহিনীর অভিযান পরিচালনার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে নতুন স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা। তার মতে, ভবিষ্যতে আরও বেশি ডেটা স্থানান্তর এবং মহাকাশভিত্তিক নতুন সক্ষমতা তৈরির জন্য একাধিক পেলোডসহ নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে হবে এবং সেই সক্ষমতা ইসরায়েল অর্জন করছে। রাশিয়া, চীন ও ইরানের মহাকাশে স্যাটেলাইট ধ্বংস কিংবা কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহাকাশ থেকেও হুমকি রয়েছে। আমরা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বৃহত্তর প্রতিরক্ষা কাঠামোর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো আলাদা স্পেস কমান্ড গঠনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসরায়েলের পুরো মহাকাশ ইকোসিস্টেমকে একই কাঠামোর আওতায় আনা। তার ব্যাখ্যায়, এতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, নজরদারি, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, স্যাটেলাইট প্রতিরক্ষা, স্যাটেলাইট আক্রমণ এবং নতুন প্রকৌশল সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আইডিএফ তাদের সিফোরআই ও সাইবার প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর পুনর্গঠন করে। এর আওতায় গঠন করা হয় নতুন এআই-কেন্দ্রিক ব্রিগেড স্ফেইরা এবং সম্প্রসারিত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট। এই ব্রিগেড ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, এআই এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনা করছে। আইডিএফের দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া প্রায় ১ হাজার ১০০টি ড্রোনের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ নিষ্ক্রিয় করে ৫১১৪তম স্পেকট্রাম ওয়ারফেয়ার ব্যাটালিয়ন। সূত্রমতে, ইরান ও লেবাননে পরিচালিত স্পেকট্রাম-সম্পর্কিত অভিযান ছিল যুদ্ধের সবচেয়ে কম আলোচিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি। গ্রসম্যান বলেন, ২৮শে ফেব্রুয়ারির আগের মাসগুলোতে, গ্রসম্যানের কমিউনিকেশনস কমান্ডের ক্ষেত্রে আইডিএফ প্রায় যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির কাছাকাছি ছিল। অনেক দিক থেকেই, যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে প্রায় আট মাস সময় কেটে যায়, অপারেশন রোয়ারিং লায়ন ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে জুন ২০২৫-এর যুদ্ধের একটি সম্প্রসারণ বা দ্বিতীয় পর্ব। অপারেশন রাইজিং লায়ন থেকে আমরা ইরানের সাথে যুদ্ধ করার বিষয়ে অনেক কিছু শিখেছি। আমরা সামরিক শক্তি ব্যবহারের একটি নতুন কৌশল শিখেছি, যা যুদ্ধ এবং তথ্যের কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের উপর আলোকপাত করে। বিষয়টি তিনি ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, এর ফলে আমরা যুদ্ধ-সম্পর্কিত কয়েক ডজন নতুন সমাধান অর্জন করতে পেরেছিলাম। তবে তিনি কিছু গোপনীয় শিক্ষা গোপন রাখেন। আইডিএফের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের যুদ্ধের সময় বিমান বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পে ২,৬০০টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বিমান বাহিনী যখন এত বিপুল সংখ্যক লক্ষ্যবস্তুর সন্ধান করত, তখন তারা গ্রসম্যানের ব্রিগেডের সরবরাহ করা একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করত। গ্রসম্যান বলেন, আমরা আইডিএফ-এর তথ্য কারখানা নির্মাণ ও পরিচালনা করছি। কমিউনিকেশনস কমান্ডের আগে থেকেই একটি ডেটা সেন্টার এবং ডেটাবেস ছিল। এখন বিমান বাহিনী, সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ এবং স্থল বাহিনীর নিজস্ব ডেটাবেস রয়েছে যা নিয়মকানুনের অধীনে পরিচালিত হয় এবং তারা ডিজিটাল আর্কিটেকচার ব্যবহার করছে, যা আইডিএফ-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং তথ্যের আরও ভালো ব্যবহারে সহায়তা করবে। অপারেশন রাইজিং লায়ন এবং রোয়ারিং লায়ন চলাকালীন, গ্রসম্যানের ব্রিগেড (যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে) দীর্ঘ দূরত্বে বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ ও স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছিল, যার ফলে ইসরায়েল দূরবর্তী দেশগুলোর তৃতীয় বৃত্তটিকে ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী দেশগুলোর প্রথম বৃত্তের সমান করে ফেলে। এই অবকাঠামোর ফলে সীমান্তবর্তী দেশ এবং হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কার্যত কোনো পার্থক্য থাকছে না। তিনি বলেন, এতে কোনো জাদু নেই। যোগাযোগ স্থাপন, ছবি তোলা, হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে তথ্য প্রেরণ এবং হাজার হাজার কিলোমিটারের ফুটেজ রেকর্ড করার জন্য স্যাটেলাইটের প্রয়োজন হয়। গ্রসম্যান উল্লেখ করেন, এর জন্য পদার্থবিদ্যা, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার প্রয়োজন, যাতে বিমান বাহিনীর কমান্ডার মাহা ইরানে এমনভাবে কাজ করতে পারেন যেন এটি একটি প্রথম সারির দেশ। আমরা নিশ্চিত করি যে আইডিএফের সমস্ত শাখা যখন এবং যেখানে চায়, পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইরানও পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এবং ক্রমাগত নিজস্ব পরিবর্তন আনছে। গ্রসম্যান জানান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুধু ২০২৬ সালের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নয়; বরং ২০৩৫ সালের সম্ভাব্য যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে করা হচ্ছে। কমিউনিকেশনস কমান্ডের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার প্রযুক্তি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বিশ্বকে মৌলিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও বেসামরিক পর্যায়ে ইসরায়েলকে এআই ও ডেটা সেন্টার উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ার সমালোচনা রয়েছে, আইডিএফের দাবি, সামরিক প্রেক্ষাপটে তাদের আলাদা সক্ষমত আছ্যাঃ। নতুন এআই ব্রিগেড ডেটা সেন্টার, সফটওয়্যার, অপারেশনাল মডেল, ডেটা সায়েন্স এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত চাহিদা মূল্যায়নের কাজ করছে। এই ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরিচয় গোপন রাখা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বি। বেসামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা বলেন, যেখানে যৌথভাবে কাজ করা সম্ভব, সেখানে তারা একসঙ্গে কাজ করেন; আর প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা দায়িত্বও পালন করেন। গ্রসম্যানের মতে, সাইবার প্রতিরক্ষা শুধু নিজের নেটওয়ার্ক রক্ষা নয়; বরং শত্রুর ডিজিটাল অবকাঠামোতেই হুমকি মোকাবিলা করা বেশি কার্যকর। যোগাযোগ কমান্ড নিজের নেটওয়ার্কের বাইরেও কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণ করে আগাম প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তার মতে, আইডিএফের বিশেষ প্রযুক্তিগত অবকাঠামো রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকারদের হাত থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। গাজায় মানবিক সহায়তা বিতরণে ব্যর্থতার প্রসঙ্গে আইডিএফের যোগাযোগ কমান্ড জানায়, তথ্য যতই নির্ভুল হোক, বাস্তব পরিস্থিতিতে সবসময় তা একইভাবে কার্যকর হয় না। তাদের মতে, হামাস যদি সহায়তা দখল করতে চায়, তাহলে অ্যালগরিদম দিয়ে সেই বাস্তবতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কারণ খাদ্য সহায়তাসহ সব বিষয়ে সরকার যে নীতি নির্ধারণ করে, আইডিএফ সেটিই অনুসরণ করে। আইডিএফ জানায়, সব সেন্সর থেকে সংগৃহীত তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটা প্ল্যাটফর্মে পাঠানো হয়। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে এফপিভি ড্রোন এবং ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র মোকাবিলায় নতুন কৌশল তৈরি করা হচ্ছে। তবে সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে, এফপিভি ড্রোনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান তাদের হাতে নেই এবং এটি তৈরি করতে আরও কয়েক মাস বা কয়েক বছর লাগতে পারে। গ্রসম্যান বলেন, শত্রুর হুমকির ধরন ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এআইভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংগৃহীত তথ্যই বহু সেনার জীবন রক্ষা করেছে। আইডিএফের বহু প্রযুক্তি ইউনিটকে ধাপে ধাপে বেয়ারশেবা অঞ্চলের নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ২০২০-এর দশকজুড়ে আইডিএফের বিভিন্ন ইউনিট এবং ইসরায়েল ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছে। খুব শিগগিরই আরও বড় পরিসরে এই স্থানান্তর সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রকে সামনে রেখে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মহাকাশ, সাইবার যুদ্ধ এবং ইলেকট্রনিক স্পেকট্রাম সক্ষমতা জোরদারে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়েল গ্রসম্যান দ্য জেরুজালেম পোস্টকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নতুন বাস্তবতায় শুধু অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নয়, আগামী দিনের সংঘাতের জন্যও বাহিনীকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি তথ্য বিপ্লব চলছে। আইডিএফের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সক্ষমতা আমাদের সর্বত্র নিয়ে যেতে হবে। শুধু আগের যুদ্ধের জন্য নয়, আসন্ন যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই আমাদের সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে সংগঠিত হতে হবে। গ্রসম্যান বলেন, ইসরায়েল এখন উপলব্ধি করছে যে শক্তিশালী মহাকাশ কৌশল ছাড়া ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। কারণ, আধুনিক যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে ডেটা এবং নজরদারি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আইডিএফ চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদি সামরিক পরিকল্পনায় মহাকাশকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। গ্রসম্যান বলেন, আইডিএফ প্রধান স্পষ্ট বলেছেন, আমরা মহাকাশকে উপেক্ষা করতে পারি না। এরপর থেকেই মহাকাশ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগে আমাদের বিপুল শক্তি ও সম্পদ বরাদ্দ করা হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ বছর আগে ইসরায়েল মহাকাশ কর্মসূচি শুরু করলেও বর্তমানে দেশটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুনে পরিচালিত ১২ দিনের অভিযানে ইরানের ১২ হাজারের বেশি ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ চলাকালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজারেরও বেশি। গ্রসম্যান জানান, ইসরায়েলের সীমান্ত থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে বিমানবাহিনীর অভিযান পরিচালনার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে নতুন স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা। তার মতে, ভবিষ্যতে আরও বেশি ডেটা স্থানান্তর এবং মহাকাশভিত্তিক নতুন সক্ষমতা তৈরির জন্য একাধিক পেলোডসহ নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে হবে এবং সেই সক্ষমতা ইসরায়েল অর্জন করছে। রাশিয়া, চীন ও ইরানের মহাকাশে স্যাটেলাইট ধ্বংস কিংবা কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহাকাশ থেকেও হুমকি রয়েছে। আমরা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বৃহত্তর প্রতিরক্ষা কাঠামোর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো আলাদা স্পেস কমান্ড গঠনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসরায়েলের পুরো মহাকাশ ইকোসিস্টেমকে একই কাঠামোর আওতায় আনা। তার ব্যাখ্যায়, এতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, নজরদারি, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, স্যাটেলাইট প্রতিরক্ষা, স্যাটেলাইট আক্রমণ এবং নতুন প্রকৌশল সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আইডিএফ তাদের সিফোরআই ও সাইবার প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর পুনর্গঠন করে। এর আওতায় গঠন করা হয় নতুন এআই-কেন্দ্রিক ব্রিগেড স্ফেইরা এবং সম্প্রসারিত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট। এই ব্রিগেড ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, এআই এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনা করছে। আইডিএফের দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া প্রায় ১ হাজার ১০০টি ড্রোনের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ নিষ্ক্রিয় করে ৫১১৪তম স্পেকট্রাম ওয়ারফেয়ার ব্যাটালিয়ন। সূত্রমতে, ইরান ও লেবাননে পরিচালিত স্পেকট্রাম-সম্পর্কিত অভিযান ছিল যুদ্ধের সবচেয়ে কম আলোচিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি। গ্রসম্যান বলেন, ২৮শে ফেব্রুয়ারির আগের মাসগুলোতে, গ্রসম্যানের কমিউনিকেশনস কমান্ডের ক্ষেত্রে আইডিএফ প্রায় যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির কাছাকাছি ছিল। অনেক দিক থেকেই, যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে প্রায় আট মাস সময় কেটে যায়, অপারেশন রোয়ারিং লায়ন ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে জুন ২০২৫-এর যুদ্ধের একটি সম্প্রসারণ বা দ্বিতীয় পর্ব। অপারেশন রাইজিং লায়ন থেকে আমরা ইরানের সাথে যুদ্ধ করার বিষয়ে অনেক কিছু শিখেছি। আমরা সামরিক শক্তি ব্যবহারের একটি নতুন কৌশল শিখেছি, যা যুদ্ধ এবং তথ্যের কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের উপর আলোকপাত করে। বিষয়টি তিনি ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, এর ফলে আমরা যুদ্ধ-সম্পর্কিত কয়েক ডজন নতুন সমাধান অর্জন করতে পেরেছিলাম। তবে তিনি কিছু গোপনীয় শিক্ষা গোপন রাখেন। আইডিএফের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের যুদ্ধের সময় বিমান বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পে ২,৬০০টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বিমান বাহিনী যখন এত বিপুল সংখ্যক লক্ষ্যবস্তুর সন্ধান করত, তখন তারা গ্রসম্যানের ব্রিগেডের সরবরাহ করা একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করত। গ্রসম্যান বলেন, আমরা আইডিএফ-এর তথ্য কারখানা নির্মাণ ও পরিচালনা করছি। কমিউনিকেশনস কমান্ডের আগে থেকেই একটি ডেটা সেন্টার এবং ডেটাবেস ছিল। এখন বিমান বাহিনী, সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ এবং স্থল বাহিনীর নিজস্ব ডেটাবেস রয়েছে যা নিয়মকানুনের অধীনে পরিচালিত হয় এবং তারা ডিজিটাল আর্কিটেকচার ব্যবহার করছে, যা আইডিএফ-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং তথ্যের আরও ভালো ব্যবহারে সহায়তা করবে। অপারেশন রাইজিং লায়ন এবং রোয়ারিং লায়ন চলাকালীন, গ্রসম্যানের ব্রিগেড (যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে) দীর্ঘ দূরত্বে বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ ও স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছিল, যার ফলে ইসরায়েল দূরবর্তী দেশগুলোর তৃতীয় বৃত্তটিকে ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী দেশগুলোর প্রথম বৃত্তের সমান করে ফেলে। এই অবকাঠামোর ফলে সীমান্তবর্তী দেশ এবং হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কার্যত কোনো পার্থক্য থাকছে না। তিনি বলেন, এতে কোনো জাদু নেই। যোগাযোগ স্থাপন, ছবি তোলা, হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে তথ্য প্রেরণ এবং হাজার হাজার কিলোমিটারের ফুটেজ রেকর্ড করার জন্য স্যাটেলাইটের প্রয়োজন হয়। গ্রসম্যান উল্লেখ করেন, এর জন্য পদার্থবিদ্যা, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার প্রয়োজন, যাতে বিমান বাহিনীর কমান্ডার মাহা ইরানে এমনভাবে কাজ করতে পারেন যেন এটি একটি প্রথম সারির দেশ। আমরা নিশ্চিত করি যে আইডিএফের সমস্ত শাখা যখন এবং যেখানে চায়, পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইরানও পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এবং ক্রমাগত নিজস্ব পরিবর্তন আনছে। গ্রসম্যান জানান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুধু ২০২৬ সালের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নয়; বরং ২০৩৫ সালের সম্ভাব্য যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে করা হচ্ছে। কমিউনিকেশনস কমান্ডের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার প্রযুক্তি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বিশ্বকে মৌলিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও বেসামরিক পর্যায়ে ইসরায়েলকে এআই ও ডেটা সেন্টার উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ার সমালোচনা রয়েছে, আইডিএফের দাবি, সামরিক প্রেক্ষাপটে তাদের আলাদা সক্ষমত আছ্যাঃ। নতুন এআই ব্রিগেড ডেটা সেন্টার, সফটওয়্যার, অপারেশনাল মডেল, ডেটা সায়েন্স এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত চাহিদা মূল্যায়নের কাজ করছে। এই ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরিচয় গোপন রাখা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বি। বেসামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা বলেন, যেখানে যৌথভাবে কাজ করা সম্ভব, সেখানে তারা একসঙ্গে কাজ করেন; আর প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা দায়িত্বও পালন করেন। গ্রসম্যানের মতে, সাইবার প্রতিরক্ষা শুধু নিজের নেটওয়ার্ক রক্ষা নয়; বরং শত্রুর ডিজিটাল অবকাঠামোতেই হুমকি মোকাবিলা করা বেশি কার্যকর। যোগাযোগ কমান্ড নিজের নেটওয়ার্কের বাইরেও কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণ করে আগাম প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তার মতে, আইডিএফের বিশেষ প্রযুক্তিগত অবকাঠামো রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকারদের হাত থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। গাজায় মানবিক সহায়তা বিতরণে ব্যর্থতার প্রসঙ্গে আইডিএফের যোগাযোগ কমান্ড জানায়, তথ্য যতই নির্ভুল হোক, বাস্তব পরিস্থিতিতে সবসময় তা একইভাবে কার্যকর হয় না। তাদের মতে, হামাস যদি সহায়তা দখল করতে চায়, তাহলে অ্যালগরিদম দিয়ে সেই বাস্তবতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কারণ খাদ্য সহায়তাসহ সব বিষয়ে সরকার যে নীতি নির্ধারণ করে, আইডিএফ সেটিই অনুসরণ করে। আইডিএফ জানায়, সব সেন্সর থেকে সংগৃহীত তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটা প্ল্যাটফর্মে পাঠানো হয়। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে এফপিভি ড্রোন এবং ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র মোকাবিলায় নতুন কৌশল তৈরি করা হচ্ছে। তবে সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে, এফপিভি ড্রোনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান তাদের হাতে নেই এবং এটি তৈরি করতে আরও কয়েক মাস বা কয়েক বছর লাগতে পারে। গ্রসম্যান বলেন, শত্রুর হুমকির ধরন ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এআইভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংগৃহীত তথ্যই বহু সেনার জীবন রক্ষা করেছে। আইডিএফের বহু প্রযুক্তি ইউনিটকে ধাপে ধাপে বেয়ারশেবা অঞ্চলের নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ২০২০-এর দশকজুড়ে আইডিএফের বিভিন্ন ইউনিট এবং ইসরায়েল ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছে। খুব শিগগিরই আরও বড় পরিসরে এই স্থানান্তর সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর একমুখী হামলায় ব্যবহৃত অন্তত চারটি ড্রোন ব্যবহার করেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ড্রোনগুলোর একটি বড় এবং অত্যন্ত মূল্যবান একটি পণ্যবাহী জাহাজের ওপরের ডেকে সরাসরি আঘাত হানে। এতে জাহাজটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেটি যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, আমরা বাকি তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছি। স্পষ্টতই এটি আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন। তবে ট্রাম্প কোন নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন বা ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা স্থগিত করার পরপরই ট্রাম্প এই বিবৃতি দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। সূত্র : আল জাজিরা
ক্যালিফোর্নিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং জাপানে সম্প্রতি বেশ কিছু ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জুন মাসের শুরুতে ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ের কাছে ভূমিকম্পে ৩৭ জন মারা যান। এসকল বিপদের সময় লাখ লাখ মানুষের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। এতে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ কয়েক সেকেন্ড সময় পান। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, জাপান, তুরস্ক, রোমানিয়া, চীন, ইতালি ও তাইওয়ানের মতো কয়েকটি দেশে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। কিন্তু ভেনেজুয়েলায় এমন কোনো জাতীয় ব্যবস্থা নেই। বুধবার রাতে সেখানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটি গত এক শতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তবে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টের কারণে সেখানকার কিছু মানুষ ভূমিকম্পের কাঁপুনি শুরুর কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট আগে সতর্কতা পেয়েছিলেন। গুগলের এই ব্যবস্থাটি মানুষের মোবাইল ফোনের সেন্সর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কাজ করে। বার্কলে সিসমোলজি ল্যাবের পরিচালক রিচার্ড অ্যালেন জানান, ২০২০ সালে চালুর পর থেকে এই সিস্টেমটি ব্যাপকভাবে বড় হয়েছে। তখন ২৫ কোটি মানুষ অ্যালার্ট পেত, আর এখন ২৫০ কোটির বেশি মানুষ এটি পাচ্ছে। প্রতি মাসে গড়ে ৬০টি ভূমিকম্পের সতর্কতা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ফোনে পাঠানো হয়। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী লেখক পেরিক্লিস সানচেজ বলেন, তিনি ভূমিকম্প তার বাড়িতে পৌঁছানোর কয়েক মিনিট আগে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যালার্ট পেয়েছিলেন। এতে তিনি দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পান। সানচেজ জানান, বাইরে আসার পর তারা কাঁপুনি অনুভব করেন এবং তাদের বাড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি। কলম্বিয়ার বোগোটায় বসবাসকারী ভেনেজুয়েলার প্রবাসী ৩৬ বছর বয়সী ডায়োজেনেস লোপেজ তার ফোনে সতর্কতা পান। তিনি ম্যাপে দেখেন যে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল তার নিজ শহরের কাছে। পরে তার বোন মেসেজ দিয়ে জানান যে তাদের পরিবার নিরাপদে আছে। লোপেজ বলেন, চিলি বা জাপানের মতো ভেনেজুয়েলার মানুষের ভূমিকম্পের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস নেই। কীভাবে কাজ করে এই সতর্কতা ব্যবস্থা: ভূমিকম্পে কয়েক ধরনের তরঙ্গ বা ঢেউ তৈরি হয়। ‘পি-ওয়েভ’ (P-wave) সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায় এবং ছোট কম্পন সৃষ্টি করে। ‘এস-ওয়েভ’ (S-wave) একটু ধীর হলেও বড় ধরনের বিপজ্জনক কম্পন তৈরি করে। ‘এল-ওয়েভ’ (L-wave) সবার শেষে আসে এবং এটি সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক। মোবাইলের সেন্সর প্রথম ‘পি-ওয়েভ’ শনাক্ত করলে গুগলের সেন্টারে সংকেত পাঠায়। এরপর গুগলের সেন্টার আশপাশের অন্যান্য ফোনের তথ্য যাচাই করে দ্রুত অন্য ব্যবহারকারীদের কাছে অ্যালার্ট পাঠিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে ইউএসজিএস ‘শেকঅ্যালার্ট’ নামে একটি ব্যবস্থা পরিচালনা করে। ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও ওয়াশিংটনে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে এটি কাজ করে। এর বিজ্ঞানী রবার্ট ডি গ্রুট বলেন, বুধবারের ভূমিকম্পে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষকে সতর্ক করা হয়েছিল। বিপদ সম্পর্কে জানার একাধিক উপায় থাকা সবসময় ভালো বলে তিনি জানান। ১৯৯১ সালে মেক্সিকোতে প্রথম সাধারণ মানুষের জন্য আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু হয়। এখন মেক্সিকো সিটিতে ভূমিকম্প মোকাবিলার মহড়াও দেওয়া হয়। অন্যদিকে জাপান ২০১১ সালে ৯.০ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর তাদের সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ওই দুর্যোগে ২২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছিল। জাপানের এই সমুদ্রতলদেশীয় আধুনিক ব্যবস্থা (S-Net) ভূমিকম্পের সতর্কতা ২০ সেকেন্ড এবং সুনামির সতর্কতা ২০ মিনিট আগে দিতে পারে। যারা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছে থাকেন, তারা সতর্ক হওয়ার সময় সবচেয়ে কম পান। অনেক সময় ভারী কাঁপুনি শুরুর আগে তারা অ্যালার্ট পান না। আর যারা দূরে থাকেন, তারা প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কয়েক সেকেন্ড সময় বেশি পান।
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের কিস্তওয়ারে থানার ভেতর ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক মারধর করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় একজন কর্নেল, একজন মেজর ও একজন নায়েব সুবেদারসহ ৪০ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশকে মারার পাশাপাশি থানায়ও ভাঙচুর চালিয়েছেন সেনা সদস্যরা। পুলিশ তাদের মামলায় আসামি হিসেবে ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা এবং নায়েব সুবেদার শঙ্কর ঘুর্খেসহ অজ্ঞাত আরও ৪০ জন সেনাকে অভিযুক্ত করেছে। তারা বলেছে, ওই সেনা সদস্যরা থানায় ঢুকে সরকারি কর্মকর্তাদেরও মারধর করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং সরকারি সম্পদ বিনষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। সেনাবাহিনী বলেছে, তারা এ ব্যাপারে পুলিশকে সহায়তা করবে। এদিকে সেনাবাহিনীর হামলার শিকার হওয়ার মধ্যে রয়েছেন পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট বিজয় কুমার বাঘাত, স্টেশন হাউজ অফিসার অমৃত কাটোচ। মামলায় বলা হয়েছে, স্টেশন হাউজ অফিসার অমৃত কাটোচ সেখানকার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ওই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করছিলেন বিভাগীয় কমিশনার। তখন সেনা সদস্যরা থানায় হামলা চালায়। থানায় হামলার কথা জেনে অমৃত কাটোচ দ্রুত সেখানে যান। গিয়ে দেখেন পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট বিজয় কুমার বাঘাতকে মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বে মারধর করা হচ্ছে। সেনাসদস্যরা তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন। কী নিয়ে হামলা? সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মিরের কিস্তওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন অফিসার সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি জব্দ করেন। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ক্ষুব্ধ হয়। সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন অফিসার তখন থানার ভেতর ছিলেন। সেনা সদস্যরা দেওয়াল টপকে থানায় ঢুকে তাকেও মারধর করেন। এছাড়া তার গাড়ি ভাঙচুর করেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠি, লোহার রড এবং অস্ত্র নিয়ে থানায় ঢুকেছিলেন উল্লেখ করে পুলিশ বলেছে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা। এরজন্য লাঠি ও লোহার রড নিয়ে এসেছিলেন তারা। সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।