চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও পারকিসহ জেলার সব সমুদ্র সৈকতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পর্যটন উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে গঠিত ‘চট্টগ্রাম বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি’র সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে জনমুখী ও দর্শনার্থী বান্ধব করতে হলে প্রথমে সেখানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দায়িত্ব পালনের জন্য ১০ জন আনসার সদস্য নিয়োগ করা যেতে পারে। ইতোমধ্যে একাধিকবার ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সমুদ্র সৈকত এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং তিনি নিজেও এসব অভিযানের তদারকি করেছেন। তিনি বলেন, সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পিতভাবে দোকান স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। সেখানে প্রস্তাবিত ২৮০টি দোকান এমনভাবে নকশা করতে হবে, যাতে সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক দৃশ্য আড়াল না হয় এবং পর্যটকদের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীরা যাতে ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, সমুদ্র সৈকত ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, সিডিএ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পতেঙ্গা সৈকতকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পতেঙ্গা সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, আধুনিক বিনোদন সুবিধা এবং মানসম্মত অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, এডিসি মো. কামরুজ্জামান, জেলা পরিষদের সিইও চৌধুরী রওশন ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাখাওয়াত জামিল সৈকত, সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মাজহারুল ইসলামসহ সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, টুরিস্ট পুলিশ, ক্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।
পরিসংখ্যানের বিচারে এগিয়ে থেকেই আগামীকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামবে নিউজিল্যান্ড। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ মঞ্চে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। তিনবারই জিতেছে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের কাছে কখনও হারেনি কিউইরা। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই দেখা হয় ভারত ও নিউজিল্যান্ডের। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ড্যানিয়েল ভেট্টোরির অলরাউন্ড নৈপুন্যে ভারতকে ১০ রানে হারায় নিউজিল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৩৫ বলে ৭৬ রানের সূচনার পরও ৯ উইকেটে ১৮০ রানের বেশি করতে পারেনি ভারত। ৫ বলে ১৫ রান করার পর স্পিনার ভেট্টোরি ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন। ২০০৯ সালের বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মত দেখা হয় ভারত ও নিউজিল্যান্ডের। নাগপুরের সুপার টেনের ম্যাচে তিন স্পিনার মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি ও ন্যাথান ম্যাককালামের বোলিং নৈপুন্যে ভারতকে ৪৭ রানে হারায় কিউইরা। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৬ রান করে নিউজিল্যান্ড। ৫ উইকেটে ১২৭ রানে আটকে যায় কিউইরা। জবাব দিতে নেমে নিউজিল্যান্ডের তিন স্পিনারের ঘূর্ণিতে পড়ে ১৮.১ ওভারে ৭৯ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। স্যান্টনার ১১ রানে ৪টি, সোধি ১৮ রানে ৩টি ও ম্যাককালাম ১৫ রানে ২ উইকেট নেন। ২০২১ বিশ্বকাপেও তৃতীয়ারের মত দেখা হয় ভারত ও নিউজিল্যান্ডের। দুবাইয়ে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১১০ রান করে ভারত। ১১১ রানের টার্গেট সহজেই স্পর্শ করে ফেলে নিউজিল্যান্ড। ৩৩ বল বাকী রেখে ৮ উইকেটে জয় পায় কিউইরা। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের রেকর্ড না থাকলেও টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে ভারতই। ৩০বারের দেখায় ভারত ১৬টিতে জিতেছে। নিউজিল্যান্ডের জয় ১১টিতে। ৩টি ম্যাচ টাই হয়। টাই হওয়া ম্যাচের মধ্যে ২টিতে সুপার ওভারে জয় পায় ভারত। অন্যটি বৃষ্টি আইনে রান সমান হওয়ায় টাই হয়।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, অমর একুশে বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার স্থান নয়, এটি আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা। আজ শনিবার অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মও উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে তারা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রকাশক, লেখক ও পাঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বেশ কয়েকটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। এর মধ্যে রয়েছে সোনিয়া হোসেন রচিত ‘টিনএজদের বলছি’ এবং সৈয়দ দিদার বখত রচিত ‘দাদুর মুখে ভাষা আন্দোলন’ সহ আরও কয়েকটি নতুন প্রকাশনা। সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, একটি অন্ধকার সময়ের অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার সাংস্কৃতিক বিকাশ, সৃজনশীলতা এবং মুক্তচিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনাকে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বইমেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশনা শিল্পের প্রসার এবং নতুন লেখকদের সৃষ্টিশীল উদ্যোগকে স্বাগত জানান। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকসহ দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বইমেলার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রী বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
চার্টার্ড বিমানে ভারত ছাড়বেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে সময়মত ভারত ছাড়তে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল। তবে খুব শিগগিরই দেশের উদ্দেশ্যে ভারত ছাড়বে এই তিন দল। এক প্রতিবেদনে ক্রিকেটীয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, আগামী শনিবার সন্ধ্যায় মুম্বাই থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে ইংল্যান্ড। সরাসরি লন্ডন যাবে ইংলিশরা। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ভারত ছাড়ার দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। তবে রোববার চার্টার্ড বিমানে কলকাতা ছাড়ার সম্ভাবনা আছে এই দু’দলের। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাথে জোহানেসবার্গ যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে অ্যান্টিগা যাবে ক্যারিবীয়রা। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের একটি অংশ রোববার নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ভারত ছাড়বে। আগামী ১৫ মার্চ থেকে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে প্রোটিয়ারা। সুপার এইট থেকে বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয় দু’বারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।’ তিনি বলেছেন, ধনী-দরিদ্র সবমিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কমবেশি ৪ কোটি। এসব পরিবারগুলোর মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হয়, আমার বিশ্বাস— এসব পরিবারগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ পরিবারকে পরের বছর আর যাকাত নাও দিতে হতে পারে। লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। শনিবার (৭ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম শিশু এবং ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইফতার পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান নিজ উদ্যোগেই যাকাত দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ সরকারের ‘যাকাত বোর্ডের’ মাধ্যমেও যাকাত পরিশোধ করে থাকেন। বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে এই যাকাতের পরিমাণ ২০-২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে থাকে। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলেছেন। তবে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে যাকাত বণ্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির যাকাত আদায় হয়ে গেলেও যাকাতের অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি একটি বড় প্রশ্ন।’ তিনি বলেন, ‘যতদূর জানি, যাকাত দাতাদেরকে ইসলামী বিধান এমনভাবে যাকাত বণ্টনে উৎসাহিত করে, যাতে একজন যাকাত গ্রহীতা প্রথম বছর যাকাত গ্রহণের পর পরের বছর আর যাকাত গ্রহণ করতে না হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে যাকাত বণ্টন করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এমন বাস্তবতায় সরকার যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর এবং লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’ আলেম-ওলামা মাশায়েখ এবং এতিমদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার আমাদেরকে একটু দেরি করেই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিটির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন এবং কৃচ্ছ্রতা সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে আজ এবং গতকালের (শুক্রবার) ইফতার মাহফিলসহ মোট দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি।’ বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল। আজকের এই ইফতার মাহফিলের অংশগ্রহণকারী ‘ইয়াতিম সন্তানেরাই’ আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেহমান। পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে ‘এতিমের হক’ আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি ইসলামের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতিমের প্রতি ‘হক আদায়ের’ গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমদের ব্যাপারে রাষ্ট্র এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই ইফতার মাহফিলের অবশ্যই প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। এই ইফতার মাহফিল এতিমদের প্রতি বিত্তবানদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়-দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিজন বিত্তবান যদি অসহায় এতিমদের প্রতি পবিত্র কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট থাকেন, তাহলে আমি বিশ্বাস করি পিতৃহারা এতিম সন্তানেরা একবুক বেদনা নিয়েও রাষ্ট্র এবং সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা খুঁজে পাবে।’ পবিত্র রমজান ত্যাগ এবং সংযমের মাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘অপ্রিয় হলেও সত্য— রমজান আসলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। রমজান মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। পবিত্র রমজান মাসেও যারা অসাধুপন্থা অবলম্বন করছেন, আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান, অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।’ এতিম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা এজেডএম জাহিদ হোসেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক প্রমুখ অংশ নেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। শনিবার (৭ মার্চ) এক জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্রের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, তেহরান পুরো নৌপথ বন্ধ করার বদলে নির্দিষ্ট কিছু দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচল সীমিত করার নীতি নিচ্ছে। বিশ্বের তেলের একটি বড় অংশ এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। তবে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘কোনো দেশ থেকে সরাসরি হামলা না হলে ভবিষ্যতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো আর লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।’ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শুক্রবার (৬ মার্চ) দেশটির অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে যে হামলা হয়েছে, সেজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশও করেন। যুদ্ধের শুরুতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) কয়েকটি দেশ ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এর মধ্যে ছিল সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান। এসব দেশে বা তাদের সীমান্তের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকার কারণেই হামলা চালানো হয়েছিল।
ইরানে কঠোর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৭ মার্চ) রাতে এ হামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ তথ্য জানান ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরান মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে। আর তাদের দিকে হামলা চালাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরামহীনভাবে হামলা চালিয়ে যাওয়ায় এই প্রতিশ্রুতি এসেছে।’ এর আগে বিগত দিনগুলোতে হওয়া হামলার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ‘দেশটির অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব শুক্রবার (৬ মার্চ) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে সেসব দেশে আর কোনো আক্রমণ চালানো হবে না।’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়। সাময়িকভাবে বরখাস্ত ব্যক্তিরা হলেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। অফিস আদেশে বলা হয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৫৪ অনুসারে থানায় প্রাপ্ত আমলযোগ্য অপরাধের প্রাথমিক তথ্যে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের নাম উল্লেখ থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী শৃঙ্খলা বিধির ১৫ (খ) ধারা অনুযায়ী আপনাকে গত ৫ মার্চ থেকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। তবে বরখাস্তকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক তারা জীবন ধারণ ভাতা প্রাপ্ত হবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। এদিকে শিক্ষক আসমা সাদিয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের প্রফেসর ড. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) গোলাম মওলাকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ওবায়দুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. রশিদুজ্জামান এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. গাজী আরিফুজ্জামান খান। এদিকে শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা ১১টায় শিক্ষিকার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং পরিবার। উল্লেখ্য, বুধবার (৪ মার্চ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক ড. আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। পরদিন আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছে আরব আমিরাত। দেশটির জ্যোর্তিবিদরা জানিয়েছেন, আগামী ২০ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। শনিবার (০৭ মার্চ) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শারজাহ অ্যাকাডেমি ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, হিজরি ১৪৪৭ সনের রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। ফলে ২০ মার্চ শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হবে। এ দিনই সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, ১৮ মার্চ রমজানের ২৯তম দিন। এ দিন স্বাভাবিতভাবে নতুন চাঁদ দেখা সম্ভব হবে না। কারণ পশ্চিম আকাশে সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ অস্ত যাবে। ফলে ওই সন্ধ্যায়ও রমজান চলবে এবং ১৯ মার্চ রমজানের ৩০তম দিন পূর্ণ হবে। বিস্তারিত আসছে...
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যুদ্ধের মাঝে ইরানের পাশে রাশিয়া, গোয়েন্দা তথ্য সহায়তার অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পর ইরানের পাশে রাশিয়া দাঁড়াচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মস্কো তেহরানকে এমন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে সহায়তা করতে পারে। বার্তা সংস্থা এপি (AP) এবং ওয়াশিংটন পোস্ট গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে রাশিয়ার এই সহায়তার পরিধি কতটা বিস্তৃত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও ইরানকে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেনি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার বলেন, এ ধরনের সহায়তা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে কোনো পার্থক্য তৈরি করছে না। তার ভাষায়, “আমরা তাদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছি।” এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যুদ্ধ পরিকল্পনায় বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্ক নতুন নয়। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের মতো গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির মিত্র তুলনামূলক কম। সেই সীমিত মিত্রদের অন্যতম রাশিয়া। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ব্যাপকভাবে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা সেই যুদ্ধে ইরানের সহায়তার প্রতিদান হিসেবেই মস্কো তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই নতুন মাত্রার সামরিক সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটকে আরও জটিল ও বিস্তৃত করে তুলতে পারে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান রিয়াদে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। সাম্প্রতিক ইরানি হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে Saudi Gazette। বৈঠকে দুই পক্ষ সৌদি আরবের ওপর ইরানি হামলার বিষয়টি যৌথ কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর মধ্যে পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন তারা। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, ইরান পরিস্থিতিতে বিচক্ষণতা ও সংযম দেখাবে এবং এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যা অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বৈঠকে সৌদি আরবের জেনারেল স্টাফ প্রধান ফায়ায আল-রুয়াইলি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর গোয়েন্দা বিষয়ক উপদেষ্টা হিশাম বিন সাইফ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালায়, যা এখনো চলমান রয়েছে। এসব হামলায় ইরানে এক হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সৈন্য নিহত হয়েছেন। চলমান এ সংঘাতে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো থেকে আক্রমণ আসা বন্ধ হয়, তাহলে ইরানও হামলা বন্ধ করবে। আজ শনিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “গত কয়েক দিনে যেসব প্রতিবেশী দেশে ইরান হামলা করেছে— তাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। কারণ ইরানের জনগণ কখনও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের কাছে মাথা নত করবে না এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থে কখনও আপস করবে না।” “শত্রুরা চায় ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করুক; কিন্তু তা কখনও ঘটবে না, বরং এই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শত্রুরা কবরে যাবে।” “তবে ইরানের অস্থায়ী নিরাপত্তা পরিষদ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে যদি ইরানে হামলা বন্ধ হয়, তাহলে ইরানও পাল্টা হামলা বন্ধ করবে।” ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে বলেও জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের সঙ্গে ইরানের সরাসরি যুদ্ধ বাঁধেনি। মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের কোথায় কোথায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে, সেসব ঘাঁটির সেনাসংখ্যা, অস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো বিভিন্ন গোয়েন্দা চ্যানেলে তেহরানকে জানাচ্ছে মস্কো।; গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি নিহত হওয়ার তিন সদস্যবিশিস্ট ‘অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠিত হয়েছে ইরানে। সেই পরিষদের প্রধান হিসেবে আছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। অপর দু’জন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই এবং ইরানের প্রভাবশালী সংস্থা গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য। সূত্র : রয়টার্স, এএফপি
প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে 'প্রথমে হামলা না হলে' ইরানও তাদের ওপর হামলা করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রেসিডেন্টের একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়েছে, যেখানে এই বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। মি. পেজেশকিয়ান বলেছেন, "যে প্রতিবেশী দেশগুলো আক্রমণের শিকার হয়েছে তাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি"। ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার’ জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "প্রতিবেশী দেশগুলোতে আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই"। "এখন থেকে, প্রথমে হামলা না করা পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশগুলোতে আক্রমণ না করার” নির্দেশনা সশস্ত্র বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মি. পেজেকশিয়ান। ইসরায়েল বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করা "সম্মান ও স্বাধীনতার পথ নয়" উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, "ইরানে আক্রমণ করার জন্য যারা এই মুহূর্তটিকে কাজে লাগাতে চাইছেন তাদের সাম্রাজ্যবাদের পুতুল হওয়া উচিত হবে না"।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।