স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বিশ্বকাপের ফাইনালের জন্য আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শুরুর একাদশ ঘোষণা করেছেন। এই একাদশে কোনো চমক নেই। কারণ কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালেও তিনি ঠিক এই একই দল মাঠে নামিয়েছিলেন। পেদ্রিকে ছাপিয়ে ফাবিয়ান রুইজ মিডফিল্ডার হিসেবেই খেলবেন। পেদ্রো পোরো রাইটব্যাক হিসেবে শুরুর একাদশে। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় যথারীতি আছেন দানি ওলমো। স্পেনের শুরুর একাদশ গোলরক্ষক: উনাই সিমন, ডিফেন্ডার: পেদ্রো পোরো, পাউ কুবার্সি, আইমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া, মিডফিল্ডার: রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, দানি ওলমো, অ্যালেক্স বায়েনা; ফরোয়ার্ড: লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল।
স্পেন–আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে মাঠে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই এই ম্যাচটিকে ‘ন্যাশনাল স্পেশাল সিকিউরিটি ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্পেন–আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দেখতে মাঠে আসা সব দর্শকের শরীর ও ব্যাগ আলাদাভাবে তল্লাশি করছে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। এ কারণে ম্যাচ শুরুর আগে ৮২ হাজার ৫০০ টিকিটধারীর সবাই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের একজন এজেন্ট ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামে আসা সমর্থকদের বিমানবন্দরের মতো কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ম্যাচ শুরুর পাঁচ ঘণ্টা আগেই আকাশপথে হেলিকপ্টার টহলসহ হাজার হাজার সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় আজ সকাল ৮টা থেকেই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মী ও সাংবাদিকেরা বিশাল লাইন ধরেছেন। সকাল নয়টায় গেট খোলার সময় সেই সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। স্টাফদের মাত্র একটি প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে অ্যাক্রেডিটেশন পাস স্ক্যান করার জন্য মাত্র দুজন কাজ করছেন। এরপর তাদের ছয়টি এয়ারপোর্ট স্ক্যানারে পার হয়ে ব্যক্তিগত শরীর তল্লাশির জন্য আরেকটি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। ম্যাচ শুরুর ঠিক এক ঘণ্টা আগে নিজের অফিশিয়াল হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ চড়ে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন তিনি।
বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টে যুক্ত করা হচ্ছে জুলাই শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি। রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, পাসপোর্টের ভেতরের পাতার জলছাপ পরিবর্তন করে সেখানে যুক্ত করা হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি। নতুন এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পাসপোর্টের পৃষ্ঠাগুলোতে দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের নানা অনুষঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ই-পাসপোর্টের ৩২ ও ৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি। আবু সাঈদ, মুগ্ধ কিংবা ওয়াসিমদের মতো তরুণদের আত্মত্যাগের সেই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এবার ঠাঁই পাচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিকদের আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে। অনুমোদিত নতুন নকশা অনুযায়ী, পাসপোর্টের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্টের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে কান্তজিউ মন্দির, লালবাগ দুর্গ, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা। এ ছাড়া প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। জাতীয় ফুল শাপলা, পাখি দোয়েল, মাছ ইলিশ ও ফল কাঁঠালের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম সংগ্রাম। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের মতোই ইসরাইল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য এটি বৈধ থাকার বিষয়টি বহাল থাকছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা যাবে না। যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছেন, তাদের উচিত জনগণের সামনে সেই রূপরেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মতভেদ থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদমূলক বক্তব্য কেবল স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথই প্রশস্ত করবে। আমরা আর কখনো চাই না গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষকে রক্ত দিতে হোক। তাই সংসদীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে বিচারকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা সমীচীন হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসন ও আইনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংসদ আইন প্রণয়ন করবে, আর প্রশাসন তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। তবে প্রকৃত অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে বিচার বিভাগের হাত ধরেই। এ মুহূর্তে বিচার বিভাগকে নিয়ে আমরা কঠোর সমালোচনা করতে চাই না। কারণ বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে তখনই তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যৌক্তিক হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসাবে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর পক্ষে জনগণ আছে কিনা-সে বিষয়ে কেবল একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নে গণভোট হওয়া উচিত ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কিছু কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু অধ্যাদেশ দেখা গেছে যেখানে সুনির্দিষ্ট কাজ ছাড়া শুধু কিছু ব্যক্তির কর্মসংস্থানের জন্য কমিশন করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং দেশীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আগামী সংসদ অধিবেশনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ আনতে যাচ্ছে, যেখানে গুমের বিভিন্ন স্তর, সাজা এবং বিচারিক এখতিয়ার সুনির্দিষ্ট করা থাকবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের আইনকেও যুগোপযোগী করা হবে। তবে মানবাধিকার আইনের ক্ষেত্রে দেশের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও জাতীয় সংহতির বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনা করা হবে, যাতে এলজিবিটিকিউ-এর মতো সমাজ-স্বীকৃত নয় এমন বিষয় দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়। বক্তব্যের শুরুতে মব জাস্টিসের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মব কোনো দিন জাস্টিস হতে পারে না। এটি একটি অপকালচার। আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় এই মব কালচারের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক ও চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশগামী যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। চেন্নাইয়ের পর বেঙ্গালুরু, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কুফু (চীন), মদিনাসহ একাধিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এয়ারলাইন্সটি। রোববার (১৯ জুলাই) কক্সবাজারের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ে ফ্লাইট চালুর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের ভোগান্তি কমানো। আগে অনেক যাত্রীকে ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে চেন্নাই যেতে হতো। সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে সেই দুর্ভোগ কমেছে। একই কারণে আগামীতে বেঙ্গালুরুতেও ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানান ইউএস-বাংলার এমডি। তিনি বলেন, শিশুদের চিকিৎসা, হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বেঙ্গালুরু যান। তাদের যাতায়াত সহজ করতেই এই রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মালদ্বীপে ফ্লাইট চালুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেই আমরা এই রুট চালুর সিদ্ধান্ত নেই। আগে উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক শ্রমিক দুই থেকে তিন বছরেও দেশে ফিরতে পারতেন না। ইউএস-বাংলা তুলনামূলক কম ভাড়ায় ফ্লাইট চালু করার পর তারা প্রায় প্রতি বছর দেশে আসার সুযোগ পাচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্তমানে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর ও কুয়ালালামপুরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। আগামী বছর এসব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও ব্রুনাইয়ে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। পূর্ব এশিয়ার বাজার নিয়েও আগ্রহের কথা জানান ইউএস-বাংলার এমডি। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় উড়োজাহাজ চুক্তি হলে আগামী বছরই দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে ফ্লাইট চালুর আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে প্রবাসীদের দীর্ঘ ট্রানজিটের ভোগান্তি কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান আবদুল্লাহ আল মামুন। বর্তমানে কাতার, ওমান, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা ও রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। আগামী বছর কুফু (চীন) এবং সৌদি আরবের মদিনায় ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য রয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, নতুন রুট চালুর ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি ও চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশগামী মানুষের প্রয়োজনকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে ইউএস-বাংলা। এসময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে আরও এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত ১২ দিনের ব্যবধানে টেকনাফ উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হলো। ধারাবাহিকভাবে মরদেহ ভেসে আসার ঘটনায় সমুদ্রপথে মানবপাচার কিংবা মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন বিজিবি বিওপির সামনে নাফ নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সনজীব জানান, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহটির চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। মৃত ব্যক্তির পরনে গাঢ় নীল রঙের হাফ প্যান্ট ও হালকা সবুজ রঙের জার্সি ছিল। মুখে হালকা দাড়ি-গোঁফ রয়েছে এবং বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে পারে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। টেকনাফ নৌ পুলিশের এসআই সুমন চন্দ্র নাথ বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি নাকি রোহিঙ্গা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে সম্প্রতি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, মালয়েশিয়াগামী দুটি নৌকা বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করা দুটি নৌকায় মোট পাঁচ শতাধিক যাত্রী ছিলেন, যাদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কিছু বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিলেন। এর আগে ৮ জুলাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্ট মার্টিন ও রাজারছড়া সৈকত থেকে তিন অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ১০ জুলাই শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন সৈকত থেকে একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক ট্রলারডুবির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগে বলা সম্ভব নয়। স্থানীয়দের মতে, কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কারণে নাফ নদী ও উপকূলীয় এলাকায় আরও মরদেহ ভেসে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে ফ্ল্যাট থেকে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ৮টি ঘড়ির বক্স (এর মধ্যে রোলেক্সের ৪টি), ৩ সেট মুক্তার (পার্ল) গয়না, ৪টি ঝাড়বাতি, একটি বেড, একটি সোফা এবং প্রায় ১০০টি কামিজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়ির ক্রয় রসিদ অনুযায়ী দাম ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বলে জানা গেছে। রোববার (১৯ জুলাই) দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম এই অভিযান পরিচালনা করে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতের আদেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও ইনভেন্টরির কার্যক্রম শুরু হয়। ইনভেন্টরির কাজ এখনও শেষ হয়নি, আগামীকালও চলবে। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক। গত ২ জুলাই দুদক উপ-পরিচালক মশিউর রহমানের সই করা চিঠির সূত্রে জানা যায়, আদালতের আদেশে আজ সাইফুজ্জামানের গুলশানের ২টি ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রণে নেবে দুদক। ওই চিঠিতে বলা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামীয় সম্পদ ঢাকার গুলশানস্থ রোড নং-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নং-১১, ফ্ল্যাট নং-এ-৭, আয়তন ৩৭৪৭ বর্গফুট এবং (২) ঢাকার গুলশানস্থ রোড নং-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নং-১১, ফ্ল্যাট নং-বি-৭, আয়তন-৩৮৩২ বর্গফুট বিশিষ্ট ফ্ল্যাট ২টির সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার হিসেবে দুদক পরিচালককে (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ এবং মালামালের ইনভেন্টরি করার সময় দায়িত্ব পালনের জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি সাইফুজ্জামান চৌধুরীর (জাবেদ) নামে যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। আর ১৩ জানুয়ারি সাইফুজ্জামানের আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগ অবরুদ্ধেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরপরই সেখানে জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। খুজেস্তানের গভর্নর সাইয়্যেদ মোহাম্মদ রেজা মওলাইজাদেহ জানিয়েছেন, উদ্ধার ও জরুরি কার্যক্রম পরিচালনাকারী বাহিনীকে পূর্ণ প্রস্তুত থাকার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছেন। খবর মিড ইস্ট আই-এর। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নে সরকারি দলগুলো কাজ করছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ইসরায়েলে আরও কয়েক ডজন জ্বালানি সরবরাহকারী রিফুয়েলিং বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েকজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে নতুন কয়েকটি সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর হোয়াইট হাউস ইরানে হামলার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির আশপাশে যে হামলা চলছে, নতুন পরিকল্পনায় তার চেয়েও বিস্তৃত অভিযান চালানোর কথা রয়েছে।
সৌদি আরবকে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিয়ে একটি পারমাণবিক চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সই না মেলায় চুক্তিটি এখন আটকে আছে। ২০১৫ সালের অক্টোবরেই এই চুক্তির আলোচনা শেষ হয়েছিল, কিন্তু ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প এতে সই করতে দেরি করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া, মার্কিন কংগ্রেসে দুই দলের বিরোধিতার মুখে পড়ার ভয়ও রয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হলো পারমাণবিক বোমা তৈরির মূল উপায়। সাধারণত কোনো দেশ বেসামরিক কাজের জন্য ইউরেনিয়াম নিজে তৈরি না করে অন্য দেশ থেকে আমদানি করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে কঠোর নিয়ম না থাকলে এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ পেয়ে যেতে পারে। এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও বলেছিলেন, ইরান পরমাণু বোমা বানালে সৌদি আরবও তা বানাবে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চুক্তিতে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা (আইএইএ)-র কঠোর তদারকির নিয়মটি রাখা হয়নি। এর ফলে সংস্থাটি চাইলেই সৌদির সন্দেহভাজন পরমাণু কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে পারবে না। পুরো বিষয়টি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে। ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন প্রযুক্তির লোভ ত্যাগ করে কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চুক্তি করেছিল, যা পারমাণবিক সুরক্ষার আদর্শ নিয়ম বা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে পরিচিত। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সৌদির মাটিতে এই প্রযুক্তি দেওয়া বিপজ্জনক, কারণ তারা যেকোনো সময় এই কেন্দ্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে। অন্যদিকে, চুক্তির পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের যুক্তি হলো, এর মাধ্যমে আমেরিকার পরমাণু ব্যবসার বড় লাভ হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি না করলে সৌদি আরব হয়তো রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে আরও সহজে এই প্রযুক্তি পেয়ে যাবে। তবে বিরোধীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে নিয়ম শিথিল করে চুক্তি করে, তবে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র ছড়ানো রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। সূত্র: সিএনএন।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্ডানে মার্কিন সেনাসদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। শনিবার (১৯ জুলাই) মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউজনেশনের সাংবাদিক হান্না ব্র্যান্ডটের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমরা কখনোই এমন কিছু দেখতে চাই না। তারা আমাদের দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। প্রয়োজনে তারা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করতেন। তবে তারা কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দিতেন না। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বীর যোদ্ধাদের প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকুক। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে। শুক্রবার জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার পর শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওই হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-কে শাস্তি দেওয়া। সেন্টকম জানিয়েছে, নিহত দুই সেনাসদস্য ছাড়াও আরও একজন মার্কিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। এর ফলে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের পক্ষ থেকে অবিস্মরণীয় শিক্ষা দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি অভিযোগ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে সম্প্রচারিত এক লিখিত বার্তায় খামেনি বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা বারবার ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্র আবারও প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। বার্তায় তিনি বলেন, মহাশয়তান (যুক্তরাষ্ট্র) চুক্তি ভঙ্গ করে দেখিয়ে দিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন। আধিপত্যবাদ, জবরদস্তি ও আগ্রাসনই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। খামেনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ আরও উসকে দিতে চায় এবং আরও বড় ক্ষতি ও অপমান ডেকে আনতে চায়, তাহলে তাদের জেনে রাখা উচিত ইরানের জনগণ এবং প্রতিরোধ অক্ষ তাদের এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মাঝে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা (এইওআই) এক বিবৃতিতে পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলার এই তথ্য জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অত্যন্ত বর্বর ও আগ্রাসী এক পদক্ষেপের মাধ্যমে রোববার নির্মাণাধীন দারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে মার্কিন বাহিনী। দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা বলেছে, খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত নির্মাণাধীন দারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই বিষয়ে জানতে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। সংস্থাটি বলছে, স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৩টা ৩৯ মিনিটের দিকে ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এইওআই। ইরানে ২০২২ সালে ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির সামরিক-বেসামরিক স্থাপনার লক্ষ্য করে গত এক সপ্তাহ ধরে টানা হামলা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন হামলার জবাবে কয়েকটি আঞ্চলিক দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহার করা সব স্থাপনা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীও। যুদ্ধের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মাঝে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে তেহরানের বাধা দেওয়ার অভিযোগে দেশটিতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সূূত্র: এএফপি
সৌদি আরবকে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিয়ে একটি পারমাণবিক চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সই না মেলায় চুক্তিটি এখন আটকে আছে। ২০১৫ সালের অক্টোবরেই এই চুক্তির আলোচনা শেষ হয়েছিল, কিন্তু ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প এতে সই করতে দেরি করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া, মার্কিন কংগ্রেসে দুই দলের বিরোধিতার মুখে পড়ার ভয়ও রয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হলো পারমাণবিক বোমা তৈরির মূল উপায়। সাধারণত কোনো দেশ বেসামরিক কাজের জন্য ইউরেনিয়াম নিজে তৈরি না করে অন্য দেশ থেকে আমদানি করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে কঠোর নিয়ম না থাকলে এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ পেয়ে যেতে পারে। এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও বলেছিলেন, ইরান পরমাণু বোমা বানালে সৌদি আরবও তা বানাবে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চুক্তিতে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা (আইএইএ)-র কঠোর তদারকির নিয়মটি রাখা হয়নি। এর ফলে সংস্থাটি চাইলেই সৌদির সন্দেহভাজন পরমাণু কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে পারবে না। পুরো বিষয়টি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে। ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন প্রযুক্তির লোভ ত্যাগ করে কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চুক্তি করেছিল, যা পারমাণবিক সুরক্ষার আদর্শ নিয়ম বা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে পরিচিত। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সৌদির মাটিতে এই প্রযুক্তি দেওয়া বিপজ্জনক, কারণ তারা যেকোনো সময় এই কেন্দ্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে। অন্যদিকে, চুক্তির পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের যুক্তি হলো, এর মাধ্যমে আমেরিকার পরমাণু ব্যবসার বড় লাভ হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি না করলে সৌদি আরব হয়তো রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে আরও সহজে এই প্রযুক্তি পেয়ে যাবে। তবে বিরোধীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে নিয়ম শিথিল করে চুক্তি করে, তবে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র ছড়ানো রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। সূত্র: সিএনএন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, যে দেশ একসময় নিজেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরেছিল, তাদের সর্বশেষ অর্জন এখন বেসামরিক সেতু ও অবকাঠামো ধ্বংসের দৃশ্য প্রকাশ করা। যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মতো আচরণ করছে। খবর ইরনার। রোববার (১৯ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘায়ি দাবি করেন, গত ১৬ জুলাই চাবাহার বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও নৌচলাচল তদারকির একটি বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গর্বের সঙ্গে ওই টাওয়ার ধ্বংসের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সুযোগ পেলে মিনাবের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লামের্দে বেসামরিক মানুষ হত্যার দৃশ্যও একইভাবে প্রচার করা হতো। বাঘায়ি আরও বলেন, সর্বশেষ হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জাস্কের বুনজি গ্রামের বিদ্যুৎ স্থাপনা ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ পাম্প লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানির সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, যে রাষ্ট্র একসময় আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা, উদার মূল্যবোধ ও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্বের দাবি করত, তাদের এখনকার গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ছবি প্রকাশ করা। বাঘায়ি বলেন, প্রতিটি সেতু, টাওয়ার ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের সঙ্গে শুধু কংক্রিট বা ইস্পাতই ভেঙে পড়ছে না; বিশ্বের সামনে ভেঙে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার এবং পশ্চিমা বিশ্বের সভ্যতার দাবিও। তিনি প্রশ্ন তোলেন, চাবাহার, মিনাব, লামের্দ ও জাস্কে যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছে, তার সঙ্গে সেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রকৃত পার্থক্য কোথায়, যেগুলোকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র অতীতে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।