বিগত সরকারের আমলে হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট ও অর্থপাচারের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সময়কালেরও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের ওপর দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গত কয়েকদিনে একটি রিপোর্ট দিয়েছে, যেখানে বর্তমান সরকারের সময়েও সর্বোচ্চ দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে। যদিও সেই পত্রিকা বা রিপোর্টটি এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই, তবুও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তাই ১৮ মাসের অস্থির সময়ে কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কীভাবে হয়েছে এবং কারা এর পেছনে জড়িত, তার সবকিছুই দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে খুঁজে বের করা উচিত। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের ভিত্তি হচ্ছে স্বচ্ছতা, তাই যেকোনো ধরনের অভিযোগেরই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের অতীত ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন শ্বেতপত্রের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তিনি জানান, বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার অভাবে এক ধরনের লুটেরা অর্থনীতি ও ক্রনি ক্যাপিটালিজম গড়ে উঠেছিল। সেই সময়কালে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং গত ১৫ বছরে সব মিলিয়ে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে লোন স্ক্যাম, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দখল এবং মেগা প্রজেক্টের নামে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়িয়ে বিপুল পরিমাণ জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ছিল আইনি মোড়কে দুর্নীতি বা লেজিসলেটিভ ম্যানিপুলেটেড করাপশন, যার মাধ্যমে কুইক রেন্টাল ও ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোকে ইনডেমনিটি দিয়ে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি আদম ব্যবসার মাধ্যমে ১৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ৭৩ শতাংশ বরাদ্দ রাজনৈতিক বিবেচনায় অপাত্রে দেওয়ার খতিয়ানও তিনি তুলে ধরেন। বিগত আমলের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গত ১৮ মাসের চরম অস্থির সময় পার করে সরকার ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মুদ্রা ব্যবস্থার পতন ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও একটি নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। যমুনার অভ্যন্তরে ও কিনারে মিলিয়ে যে বহুমুখী সংকট ছিল, সেই অস্থির সময়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই জুলাই সনদে সমঝোতার মাধ্যমে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে বর্তমান নেতৃত্ব সবসময় সময়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদাসল ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটকে ‘এ বাজেট অব নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পুরাতন ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে ফরাসি অর্থনীতিবিদ ফ্রেডরিক বাস্টিয়া কিংবা ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোনের জনকল্যাণমুখী দর্শনের আলোকে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। টেকনাফের সীমান্তের একজন অসহায় বিধবা মহিলাও যেন এই বাজেটের সুফল পান, সেই লক্ষ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কোনো ধরনের ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি। বাজেটের মূল দর্শন হিসেবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্মার্ট রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ এবং ড. গোহ-এর সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সফল মডেলের উদাহরণ দেন। নোবেলজয়ী জোসেফ স্টিগলিৎসের তত্ত্বের আলোকেই বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও মাল্টি-পোলার বিশ্বে বাংলাদেশকে নিজস্ব সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে বলে তিনি জানান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে মিল রেখে এই বাজেটে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারসহ পাঁচটি মূল ভিত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কূটনৈতিক ও কোনো সামরিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও দখলদার ইসরায়েলের কাছ থেকে যুদ্ধাস্ত্র কিনেছে সৌদি আরব ও কাতার। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ রোববার (২৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের কম্পিউটারাইজড হেলমেট নিয়েছে আরব অঞ্চলের এ দুটি দেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাজ পরিবারের ১১টি বিমানের মধ্যে তিনটিতে ইসরায়েলি কোম্পানি এলবিটের সি-মিউজিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা আছে। বিমানগুলো বাসিলে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০২০ থেকে ২০২২ সালে আনা হয়। ওই সময় এগুলো স্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে এফ-১৫কিউএ আবাবিল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি হয়। ওই যুদ্ধবিমানে অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহে ইসরায়েলি কোম্পানি ১৫০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের সাব-কন্টাক্ট পায়। যারমধ্যে ১৬০টি জেএইচএমসিএস হেলমেটও আছে। যেগুলোর একেকটির দাম দুই লাখ ডলার। এরসঙ্গে ইসরায়েল এএন/এভিএস-৯ নাইট ভিসন গ্লাসও সরবরাহ করেছিল। অপরদিকে ২০১০ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে হারেৎজ বলেছে, সৌদি আরব ওই সময় মার্কিন কোম্পানি বোয়িং থেকে এফ-১৫এসএ কেনার চুক্তি করে। কাতারকে ইসরায়েলি কোম্পানি যে মডেলের হেলমেট ও নাইট ভিশন গ্লাস দিয়েছিল সৌদি আরবও সেগুলো ওই সময় কিনেছিল। দেশটি ইসরায়েল থেকে সবমিলিয়ে ৪৫২টি অত্যাধুনিক হেলমেট এবং ৪৬২টি নাইট ভিশন গ্লাস নিয়েছিল। অনলাইনের ফুটেজে দেখা গেছে সৌদি ইসরায়েলের সরবরাহকৃত এসব যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করছে। সৌদি ও কাতার কারও সঙ্গে দখলদার ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। তবে তা সত্ত্বেও তারা ইসরায়েলি যুদ্ধাস্ত্র নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য নিয়েছে। সূত্র: হারেৎজ
আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচন আয়োজনে ব্যালট বাক্স, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার প্রস্তুত আছে। ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত হয়ে আছে। তবে নির্বাচন আয়োজনে বাজেট কিছুটা কমানো যায় কি না- সেটা নিয়েও ভাবছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। রোববার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত ইসির দীর্ঘ বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেনি ইসি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন নির্বাচন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-কানুন ও আচরণবিধির খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রণয়নের অপেক্ষায় থাকা আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করতে রাজনৈতিক দলসহ অংশিজনদের মতামত পাওয়ার ১৫ দিনের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়। স্থানীয় সরকারের পৃথক পাঁচ ধরনের নির্বাচনের জন্য খসড়া আচরণ বিধিমালা ইতোমধ্যে ইসির ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে। ৩০ জুনের মধ্যে এসব নিয়ে মতামত দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আলাদা চিঠিও পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় ভোটকেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা বাড়বে বলে জানানো হয়। বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে সবকিছুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মত দেওয়া হয়। এছাড়া ভোটগ্রহণের আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি হিসেবে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী সরঞ্জামসহ অন্যান্য পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ভোটগ্রহণের ব্যয় যথাসম্ভব কমানোর ওপর জোর দেন নির্বাচন কমিশনাররা। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে অক্টোবরকে লক্ষ্য ধরেই কাজ এগুচ্ছে ইসি। আর অক্টোবরে হলে এর ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আমরা মূলত অক্টোবর ধরেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বৈঠকের আলোচনার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, সব ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া বিষয়ে কমিশন অবহিত হয়েছে। ৪ হাজার ৫০০ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করতে হলে কোনটা আগে বা কোনটা পরে করব তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব জিনিসপত্র প্রস্তুত আছে কি না— সেটাও অবহিত করা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত নির্বাচনের চেয়ে কিছু ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের পরপর এই স্থানীয় নির্বাচন হওয়ায় আমাদের ব্যালট বাক্স প্রস্তুত। প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ হবে এসবের প্রস্তুতিও আছে। তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হলেও নতুন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাও কিছুটা বাড়তে পারে। আমরা এটা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা করেছি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেবো না। আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এবারের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো হবে নির্দলীয়, অর্থাৎ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার থাকছে না। তারপরও আমরা মনে করছি, যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে। কাজেই ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছাই হোক, নির্দলীয় নির্বাচনে তারাও ইনভলভ থাকবেই। এই কারণেই তাদের কাছে মতামত জানতে চেয়েও চিঠি দেওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ আচরণবিধির খসড়াগুলো চূড়ান্ত করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অংশীজনের মতামত পাওয়ার পর সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়। এই সময়ের মধ্যে আমরা করে ফেলতে পারব। আমরা আইন কানুন দেখেছি। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাংবাদিকসহ যেকেউ ওপর মতামত দিতে পারবেন এবং সবার গ্রহণযোগ্য মতামত নিয়েই খসড়া আচরণ বিধিমালায় সংযোজন-বিয়োজন আনা হবে বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার। বদলে যাচ্ছে ইসির ওয়েবসাইট ইসির বর্তমান ওয়েবসাইটটি বদলানো হচ্ছে। এটিকে আধুনিক করে নতুন সাইটে যাচ্ছে তারা। এজন্য ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ও সক্ষমতা যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সভা করবে ইসি। সোমবার দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। রোববার ইসির সহকারী প্রোগ্রামার (উপাত্ত ও প্রশাসন) এস এম সাদমান সাকিবের সই করা এক চিঠি থেকে বিষয়টি জানা যায়। এতে বলা হয়, পরীক্ষাধীন ওয়েবসাইটটির রিডিজাইন, হালনাগাদ ও ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে ওয়েবসাইটের ফাংশনাল, সিকিউরিটি ও লোড টেস্টিং সম্পন্ন করতে ২৯ জুন দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইসির সিস্টেম ম্যানেজারের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রতিনিধি এবং ওয়েবসাইট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান রাইজআপ ল্যাবসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ক্র্যাব) এবং সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস এর মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস এর নির্বাহী পরিচালক মিফতা নাঈম হুদা এবং ক্র্যাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামস আজাদ। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই অংশীদারত্বের আওতায় ক্র্যাব ও সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস যৌথভাবে সিএমএসএমই (কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ) খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বাজার উন্নয়নমূলক উদ্যোগের নতুন সুযোগ অনুসন্ধানে কাজ করবে।
ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে আবারও ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী। এর মধ্যে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে তিস্তার চরাঞ্চলের ফসলি জমি। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার সাত সেন্টিমিটার ওপর (৫২ দশমিক ২২) দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। এর মধ্যে ভুটান ও সিকিম পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির চাপে তিস্তা নদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দো-মহনী ও মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে বাংলাদেশে ধেয়ে আসায় উভয় দেশের তিস্তায় লাল সতর্কতা জারির খবর পাওয়া গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “আমরা সতর্কতার মধ্যে রয়েছি ও তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেইট খুলে রাখা হয়েছে। নদীর আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সমস্ত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখেছে প্রশাসন। তিস্তায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার; যা অতিক্রম করে ৫২ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান অমিতাভ চৌধুরী। এর আগে মঙ্গলবার বেলা ৩টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল; যা সন্ধ্যা নেমে যায়। লালমনিরহাট তিস্তা পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাউবো জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে সবশেষ ২৩ জুন প্রথমবারের মত তিস্তার পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপরে উঠেছিল, যা পরদিনই নেমে যায়। তবে রোববার দুপুর থেকে পুনরায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার পাঁচটি উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। নদী তীরবর্তী হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দূর্না গ্রামের রহিমুদ্দিন বলেন, হঠাৎ পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বসতবাড়িতে পানি ওঠায় গবাদিপশু ও শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। পানির চাপ বাড়ায় তিস্তার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী তীরবর্তী উঁচু রাস্তাগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পাউবো বাঁধ সংস্কারের টেকসই কাজ না করে বর্ষা এলে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থ অপচয় করে। ফলে প্রতি বছরই তাদের ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকিতে থাকতে হয়। বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পাউবো কর্মকর্তারা।
পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক রদবদল করেছে সরকার। অতিরিক্ত আইজিপি থেকে পুলিশ সুপার পর্যায়ের মোট ২১ জন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সিআইডির নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। রোববার (২৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মো. মুশফেকুর রহমানকে পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকায় অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে এনএসআই থেকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনকে সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ টেলিকম, ঢাকায় পদায়ন করা হয়েছে। আর র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে হাইওয়ে পুলিশ, ঢাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রলয় চিসিমকে পিটিসি নোয়াখালীতে ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। সিআইডির ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিমকে এপিবিএন-এর এফডিএমএন কার্যালয়ে ডিআইজি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ ওসমান গণিকে পিটিসি রংপুরে ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একইভাবে এসবির ডিআইজি একেএম মোশাররফ হোসেন মিয়াজীকে পিটিসি খুলনায় ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়। পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামানকে র্যাবে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) এ কে এম আক্তারুজ্জামানকে পুলিশ অধিদপ্তরে একই পদে বদলি করা হয়। ২য় এপিবিএন-এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কুতুব উদ্দিনকে পুলিশ অধিদপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আর আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আল মামুনকে ২য় এপিবিএন-এর ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সরকার মোহাম্মদ কায়সারকে পিএসটিএস বেতবুনিয়া, রাঙ্গামাটিতে কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খানকে বিপিএ, সারদা, রাজশাহীতে পদায়ন করা হয়। নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আব্দুল ওয়ারীশকে পিটিসি রংপুরে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীরকে পুলিশ অধিদপ্তরে পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহিদুর রহমানকে বিপিএ, সারদা রাজশাহীতে পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার সালমা সৈয়দ পলিকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার ঝিনাইদহের কমান্ড্যান্ট পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলামকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশ টেলিকম ঢাকার পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের উপস্থিতি এবার রেকর্ড গড়েছে। নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া তিনটি দলের মোট ২২ জন ফুটবলার ইতোমধ্যে একবার করে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন এবং এবার তারা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে লড়ছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে একই আসরে এত বেশি সংখ্যক বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় আগে কখনো অংশ নেননি। এর আগে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৯ জন সাবেক বিশ্বজয়ী ফুটবলার খেলেছিলেন। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ১৭ জন ফুটবলার এবারও দলে রয়েছেন। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পাশাপাশি ২০২২ সালের শিরোপাজয়ী দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিও আবারও শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আছেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমও নিজের দলকে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফরাসি দলের কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, এন’গোলো কাঁতে ও লুকাস হার্নান্দেজ দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। এদিকে জার্মানির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ারও তালিকায় রয়েছেন। তিনি ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানির শিরোপাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। চলতি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়রা হলেন: লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ, থিয়াগো আলমাদা, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, রদ্রিগো দে পল, এজেকুয়েল পালাসিওস, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নিকোলাস ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মলিনা, গঞ্জালো মন্তিয়েল, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, জেরোনিমো রুলি, কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, এন’গোলো কাঁতে, লুকাস হার্নান্দেজ এবং ম্যানুয়েল ন্যয়ার।
পূর্ব ফ্রান্সের টম্বলেইন শহরে স্কাইডাইভার বহনকারী একটি বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১১ জন নিহত হয়েছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) একটি শপিং সেন্টারের কাছে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, একটি প্যারাসুট প্রশিক্ষণ স্কুলের ব্যবহৃত বিমানটি ন্যান্সি-এসি বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। এতে পাঁচজন শিক্ষার্থী, পাঁচজন প্রশিক্ষক ছিলেন। বিমান বিধ্বস্তের পর পুলিশ জনসাধারণকে মুরথ-এ-মোসেল এলাকার বিমানঘাঁটি সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ফ্রান্সের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো জানিয়েছেন, তিনি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে মুরথ-এ-মোসেল অঞ্চলের প্রিফেক্ট (প্রশাসনিক প্রধান) ইভ সেগি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কোনো পথচারী বা সাধারণ মানুষ আহত হননি। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএম-কে সেগি বলেন, বিমানটি বিমানঘাঁটির সীমানায় একটি আবাসন এলাকার ঠিক পাশেই প্রায় খাড়াভাবে নিচে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত এতে আর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অর্ডার অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট নার্সেস'-এর মার্থ-এ-মোসেল শাখার সভাপতি থিয়েরি পেচি বিএফএম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহত স্কাইডাইভারদের অর্ধেকই ছিলেন নার্স। সূত্র: এএফপি
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ৪০ দিনব্যাপী সংঘাত চলাকালে দেশটি আরও উন্নত ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করেছে। রোববার (২৮ জুন) এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, বেশকিছু সমরাস্ত্রের গবেষণা ও উন্নয়নের কাজ আগে থেকেই চলছিল। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সেসব ড্রোন ব্যবহার করেছে। খবর প্রেস টিভির। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের মাঝেই এসব ড্রোন ব্যবহারে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলাম।’ তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকেও উন্নত করা হয়েছে। আকরামিনিয়া বলেন, ‘আমরা হাতে থাকা অস্ত্র ব্যবহার করলেও গবেষণা ও উন্নয়নের কাজকে অবহেলা করিনি।’ তিনি আরও জানান, ইরানের সেনাবাহিনী এখন দেশীয় উৎপাদন এবং বন্ধুসুলভ দেশ থেকে উন্নত প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে। সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে যে ড্রোনগুলো আমরা উন্মোচন করেছি, সেগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত, যেমন আরাশ-২। খুব শিগগিরই আমরা এসবের বিস্তারিত দেশবাসীকে জানাব।’ তিনি বলেন, এসব উন্নয়ন ইরানের ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, যাতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ৪০ দিন ধরে পাল্টা হামলা চালায়। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
পূর্ব ফ্রান্সের টম্বলেইন শহরে স্কাইডাইভার বহনকারী একটি বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১১ জন নিহত হয়েছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) একটি শপিং সেন্টারের কাছে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, একটি প্যারাসুট প্রশিক্ষণ স্কুলের ব্যবহৃত বিমানটি ন্যান্সি-এসি বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। এতে পাঁচজন শিক্ষার্থী, পাঁচজন প্রশিক্ষক ছিলেন। বিমান বিধ্বস্তের পর পুলিশ জনসাধারণকে মুরথ-এ-মোসেল এলাকার বিমানঘাঁটি সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ফ্রান্সের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো জানিয়েছেন, তিনি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে মুরথ-এ-মোসেল অঞ্চলের প্রিফেক্ট (প্রশাসনিক প্রধান) ইভ সেগি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কোনো পথচারী বা সাধারণ মানুষ আহত হননি। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএম-কে সেগি বলেন, বিমানটি বিমানঘাঁটির সীমানায় একটি আবাসন এলাকার ঠিক পাশেই প্রায় খাড়াভাবে নিচে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত এতে আর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অর্ডার অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট নার্সেস'-এর মার্থ-এ-মোসেল শাখার সভাপতি থিয়েরি পেচি বিএফএম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহত স্কাইডাইভারদের অর্ধেকই ছিলেন নার্স। সূত্র: এএফপি
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ৪০ দিনব্যাপী সংঘাত চলাকালে দেশটি আরও উন্নত ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করেছে। রোববার (২৮ জুন) এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, বেশকিছু সমরাস্ত্রের গবেষণা ও উন্নয়নের কাজ আগে থেকেই চলছিল। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সেসব ড্রোন ব্যবহার করেছে। খবর প্রেস টিভির। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের মাঝেই এসব ড্রোন ব্যবহারে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলাম।’ তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকেও উন্নত করা হয়েছে। আকরামিনিয়া বলেন, ‘আমরা হাতে থাকা অস্ত্র ব্যবহার করলেও গবেষণা ও উন্নয়নের কাজকে অবহেলা করিনি।’ তিনি আরও জানান, ইরানের সেনাবাহিনী এখন দেশীয় উৎপাদন এবং বন্ধুসুলভ দেশ থেকে উন্নত প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে। সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে যে ড্রোনগুলো আমরা উন্মোচন করেছি, সেগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত, যেমন আরাশ-২। খুব শিগগিরই আমরা এসবের বিস্তারিত দেশবাসীকে জানাব।’ তিনি বলেন, এসব উন্নয়ন ইরানের ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, যাতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ৪০ দিন ধরে পাল্টা হামলা চালায়। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ইসরায়েলের সঙ্গে লেবানন সরকারের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হিজবুল্লাহ-সমর্থিত আইনপ্রণেতা হাসান ফাদাল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, এই চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে লেবাননে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ১৪ দফা সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত বন্ধের পাশাপাশি হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, লেবাননের সেনাবাহিনী সংগঠনটির কাছ থেকে অস্ত্র জমা নেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে। চুক্তির পরপরই হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করে। সংগঠনটির দাবি, এই সমঝোতা বাস্তবে কার্যকর হবে না এবং এটি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ অউন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনায় চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এর একদিন আগে হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই চুক্তিকে তারা অবৈধ ও অকার্যকর হিসেবে বিবেচনা করেন। তার অভিযোগ, এ ধরনের সমঝোতা দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলের তোম্বলেইন শহরের কাছে একটি বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে স্থানীয় সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ, দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তোম্বলেইন বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটিতে প্যারাসুট জাম্পে অংশ নিতে যাওয়া একদল ব্যক্তি ছিলেন। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: এএফপি ও রয়টার্স।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।