সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
ইরানি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু

মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই অঞ্চলের মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছে।    সম্প্রতি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানের নিজস্ব শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকান ও ইসরায়েলি ঘনিষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।  এই হুমকির পর নিরাপত্তার খাতিরে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি (এইউবি) সোমবার ও মঙ্গলবার তাদের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ রিমোট বা অনলাইনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই পথে হেঁটেছে লেবানিজ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি। তারা তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আসা ব্যাপক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে তারাও আগামী দুই দিন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এই যুদ্ধের শুরু থেকেই অনলাইনে পাঠদান করছে।  কাতার নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার দিনই কাতারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিস্টেন্স লার্নিং বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এই তালিকায় রয়েছে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতার, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম এবং ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চলতি মাসের শুরুর দিকে একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।  আইআরজিসির এই সরাসরি হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার সংকটের মুখে পড়েছে। ইরানি হামলার সরাসরি হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে লেবানন, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এখন ঘরবন্দি অবস্থায় অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের ডামাডোলে হঠাৎ করে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গবেষণাগারের কাজ এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং শিক্ষাবিদগণ জানিয়েছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে শিক্ষাঙ্গনকে টেনে আনা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। অনেক শিক্ষার্থীই এখন নিরাপত্তার অভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাকাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।  দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে। সূত্র: সিএনএন

২৩ মিনিট আগে
কয়েলের আগুনে পুড়ে ৩ গরুর মৃত্যু, নিঃস্ব কৃষক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কয়েলের আগুনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুইটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছে ঋণ করে কেনা তিনটি গরু।    রবিবার ভোরে উপজেলার জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের কেছকিমুড়া মধ্যমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের কৃষক স্বপন মিয়া ছুট্টু ঋণ নিয়ে তিনটি গরু কিনে পালন করছিলেন। আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে লাভে বিক্রির আশায় গরুগুলোকে পরিচর্যা করছিলেন তিনি। আগুনে গোয়ালঘরে থাকা তিনটি গরু দগ্ধ হয়ে মারা যায়। পাশাপাশি পাশের রান্নাঘর ও বসতঘরের মালামালও পুড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন, ফলে আশপাশের অন্যান্য ঘরবাড়ি রক্ষা পায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক স্বপন মিয়া ছুট্টু বলেন, আমার শেষ সম্বল তিনটি গরু পুড়ে মারা গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন অফিসার বিপ্লব জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে আশপাশের ঘরবাড়ি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

২৫ মিনিট আগে
দুর্ঘটনা কমাতে চট্টগ্রামে চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ

সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় পেশাদার গাড়িচালক/শ্রমিকদের দক্ষতা ও শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।    রবিবার বিআরটিএ, চট্টগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় পেশাদার গাড়িচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নকালে রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে ২৪৯ জন পেশাদার গাড়িচালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ সদর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মমতাজ বেগম, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. মাসুদ আলম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি রইস উদ্দিন, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক (ইঞ্জি.) কেএম মাহবুব কবির, পরিবেশ অধিদফতর, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক শাহাজাদা মো. সামসুজ্জামান, বিআরটিএ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরী প্রমুখ। কর্মশালায় শব্দদূষণের ক্ষতিকর বিষয় ও করণীয়, নিরাপদ সড়কের গুরুত্ব, সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার, মোটরযান চলাচলের নিয়মাবলি, ট্রাফিক আইন, ট্রাফিক সাইন, সিগন্যাল, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর আওতায় বিভিন্ন অপরাধ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, মোটরযানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, চালকদের স্বাস্থ্যবিধি, শিষ্টাচার, নৈতিকতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া ও উন্নত মানসিকতা গঠন, যাত্রী সাধারণের সঙ্গে ভালো আচরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয় এবং প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে এ সংক্রান্ত লিফলেট, ব্রোশিয়ার বিতরণ করা হয়।

২৬ মিনিট আগে
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নারকোটিক্স কন্ট্রোল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (BANCSA) কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।   এতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নবম গ্রেড হতে তদূর্ধ্ব অফিসাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) রাজিব মিনা। সিনিয়র সহসভাপতি পদে মো. মানজুরুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ খোরশিদ আলম, সহসভাপতি পদে বিপ্লব কুমার মোদক, মুহাম্মদ খালেদুল করিম ও পলাশ পাল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. এমদাদুল ইসলাম মিঠুন জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু জাফর এবং মো. আসলাম হোসেন; কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জাকির হোসেন; বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ড. মো. আবু সাঈদ মিয়া (ঢাকা বিভাগ), মো. সিরাজুল মোস্তফা (চট্টগ্রাম বিভাগ), এস কে ইফতেখার মোহাম্মদ উমায়ের (খুলনা বিভাগ), মো. নজরুল ইসলাম (রাজশাহী বিভাগ), মো. নাজমুল ইসলাম (বরিশাল বিভাগ); দপ্তর সম্পাদক পদে মো. আব্দুল হালিম রাজ; প্রচার সম্পাদক পদে মো. বেলাল হোসেন; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে মো. মেহেদী হাসান; গবেষণা ও প্রকাশনা পদে মো. আহসানুল কবির বুলবুল; সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে সুমি খাতুন; আইনবিষয়ক সম্পাদক পদে মো. আশরাফুল আলম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এস এম রাজিবুর রহমান; মহিলাবিষয়ক পদে কাশফিয়া আলম; প্রশিক্ষণ, উচ্চ শিক্ষা ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে আদনান জোবায়ের এবং আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক পদে কাজী দিদারুল আলম নির্বাচিত হয়েছেন। অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাফরুল্ল্যাহ কাজল প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করেন।

২৯ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
প্রবাসী আয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড: মার্চের ২৮ দিনে ৩৩৩ কোটি ডলার

চলতি মার্চ মাসে প্রবাসী আয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। মার্চের প্রথম ২৮ দিনে দেশে এসেছে প্রায় ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ আয়।   বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা এতদিন ছিল রেকর্ড। তবে চলতি মার্চে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্থাপন হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮.৮০ শতাংশ বেশি।   এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের অবদান দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২৯, ২০২৬ 0

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন বেতন ও ভিসা নীতি: প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে

মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মীদের জন্য কর্মভিসা ও বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি পেশাজীবীদের ন্যূনতম বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হবে, যা কিছু ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এই নিয়ম আগামী জুন মাস থেকে কার্যকর হবে।   একই সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের স্পনসরশিপের মেয়াদেও নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করা হয়েছে, যা প্রবাসী পেশাজীবীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। বাড়ি বা গাড়ি কেনার মতো বড় বিনিয়োগ নিয়ে যারা মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন, তারা নতুন নীতির কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।   মালয়েশিয়া বর্তমানে প্রায় ২১ লাখ বিদেশি কর্মীর উপর নির্ভরশীল, যাদের গড় মাসিক বেতন প্রায় ১,৭০০ রিঙ্গিত। তবে বিশেষায়িত খাতে কর্মরত উচ্চ দক্ষ বিদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সরকার মনে করছে, কম দক্ষ বিদেশি শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় কর্মীদের সুযোগ বৃদ্ধি করাই এই নীতির মূল লক্ষ্য।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি বাস্তবায়ন হলে অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে ভুট্টার উত্থান, বদলে যাচ্ছে গাইবান্ধার চিত্র

উত্তরের নদীবিধৌত জেলা গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষ এখন কৃষি অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। জেলার চরভিত্তিক উর্বর পলিমাটি ও কৃষকদের পরিশ্রমে সোনালি ভুট্টা বদলে দিচ্ছে মানুষের জীবনমান।   জেলার সাতটি উপজেলাতেই ভুট্টা চাষ হলেও সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৬৫টি চরে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে। এই ফসল এখন হাজারো কৃষকের প্রধান জীবিকা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।   কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উর্বর মাটি, তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচ এবং উচ্চ ফলনের কারণে গত এক দশকে ভুট্টার আবাদ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য শিল্পে চাহিদা থাকায় বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।   গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় প্রায় ১৭ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন।   চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ভরা বিস্তীর্ণ ভুট্টাক্ষেতের মধ্যে কৃষকরা সেচ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত। অনেক জমিতে গাছে শীষ আসায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।   স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ হয় প্রায় ১৫–১৮ হাজার টাকা, আর উৎপাদন হয় ৩৫–৪০ মণ পর্যন্ত। ফলে খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ পাওয়া সম্ভব।   একজন কৃষক বলেন, ভুট্টা তাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। আরেকজন জানান, এই ফসল গবাদিপশুর খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, ফলে এর বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে।   তবে কৃষকদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, খরা ও ঝড়ের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। এছাড়া সংরক্ষণ ও বিপণনের সমস্যার কারণে অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।   কৃষকরা চরাঞ্চলে আধুনিক গুদাম ও সংরক্ষণাগার এবং স্থানীয় বাজার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।   সাদেকুল ইসলাম, গাইবান্ধার কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক, বলেন উন্নত বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে ভুট্টার উৎপাদন বাড়ছে এবং এটি একটি লাভজনক ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।   অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচে।” তিনি ভুট্টাকে জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে উল্লেখ করে কৃষকদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।   প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে সরকারের এটুআই কর্মসূচির আওতায় গাইবান্ধার ভুট্টা, মরিচ ও রসমঞ্জুরীকে জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ছবি: সংগৃহীত
ইউএই-তে ইরানি হামলার ছবি-ভিডিও ধারণে ৭০ বিদেশি গ্রেপ্তার, কঠোর আইনি পদক্ষেপ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে অন্তত ৭০ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পর্যটক, প্রবাসী এবং বিমানকর্মীরাও রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত খাবার, ঘুম ও চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।   ইউএই-এর আইন অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন ছবি বা ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ বা শেয়ার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি হামলার ছবি কারও কাছ থেকে গ্রহণ করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছিল, এমন ঘটনার সময় কোনো ধরনের ছবি বা ভিডিও ধারণ বা শেয়ার করা যাবে না। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে হামলার ছবি বা ভিডিও পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করছে।   মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, আটক অনেক ব্যক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে জানানো হয়নি এবং কূটনৈতিক সহায়তাও সীমিত। তারা এসব ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সাড়ে ৩ হাজার মেরিন সেনা

মধ্যপ্রাচ্যে সাড়ে তিন হাজার মেরিন সেনা নিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন রাখা হয়েছে। বলা হচ্ছে, নির্দেশ পাওয়া মাত্রই অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত এসব মেরিন সেনা।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড শনিবার (২৮ মার্চ) জানিয়েছে, ইউএসএস ত্রিপোলি উভচর আক্রমণকারী যুদ্ধজাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যে এসব সেনা আনা হয়। শুক্রবার তাদের ‘অপারেশন এরিয়াতে’ ইউএসএস ত্রিপোলী পৌঁছেছে। এছাড়া যুদ্ধ জাহাজটিতে করে এসেছে পরিবহন বিমান ও কৌশলগত আক্রমণকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান। এসব বিমান অতি স্বল্প সময়ে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সেনার সমাগম ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে মেরিনসহ দেশটির প্রায় ৫০ হাজার সেনা এ অঞ্চলটিতে অবস্থান করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র তাদের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের এক হাজার সেনাকেও মধ্যপ্রাচ্যে আনার পরিকল্পনা করেছিল।   এদিকে শোনা যাচ্ছে, এবার আকাশ ও নৌপথের পাশাপাশি দেশটিতে স্থল হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো প্রস্তুতি নেওয়া। যেন কমান্ডার ইন চিফ (প্রেসিডেন্ট) সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারেন। পরিকল্পনা করার অর্থ নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে স্থল হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।   প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা অনুমোদন করবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট রোববার (২৯ মার্চ) এসব তথ্য জানিয়েছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
কুয়েতে সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ১০ সেনা আহত
মারিয়া রহমান মার্চ ২৯, ২০২৬ 0

কুয়েতের একটি সেনাক্যাম্পে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। এতে সামরিক বাহিনীর ১০ সদস্য আহত হয়েছেন। আজ রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে ‘বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতের আকাশসীমায় মোট ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। কাতারেও হামলা অব্যাহত এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন কাতারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ‘সফলভাবে ধেয়ে আসা সমস্ত ড্রোন প্রতিহত এবং নিষ্ক্রিয় করেছে।’ সূত্র: আল জাজিরা।

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে হুথিরা : এরপর কী?
জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২৯, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের বহুমুখী সংঘাতে এবার আবির্ভাব ঘটেছে নতুন এক শক্তির। এ শক্তি ইয়েমেনের ইরান সমর্থনপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরা। গত শনিবার ইসরাইলের ওপর প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে তারা চলমান যুদ্ধে নিজেদের জড়িয়ে নেওয়ার সাড়ম্বর ‘ঘোষণা’ দিয়েছে।   দুবাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুথিরা তাদের মিত্রদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছিল। এতদিন তারা এ যুদ্ধে সরাসরি অংশ না নিলেও সতর্ক করে বলেছিল যে, তাদের আঙুল ‘ট্রিগারে’ রয়েছে।   অবশেষে শনিবার তারা সেই ট্রিগার চেপেছে। জানিয়েছে, তারা ইসরাইলি সামরিক অবকাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলও ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা নিশ্চিত করেছে এবং তা ঠেকাতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে।   চ্যাথাম হাউসের রিসার্চ ফেলো ফারিয়া আল-মুসলিমি বলেন, ‘এই গোষ্ঠীর যুদ্ধে প্রবেশ একটি গুরুতর এবং গভীর উদ্বেগের বিষয়।’   তিনি এএফপি’কে বলেন, হুথিদের এ অংশগ্রহণ ইতোমধ্যে অস্থির যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।   সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়াগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:   প্রত্যাশিত পদক্ষেপ   বিশ্লেষকরা দীর্ঘ দিন ধরেই ধারণা করছিলেন যে, হুথিরা শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে যোগ দেবে। ২০১৪ সাল থেকে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির একটি বিশাল অংশ দখলে রেখেছে।   আল-মুসলিমি মনে করেন, হুথিরা সম্ভবত এই যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল। কারণ তারা জানত এটি তাদের জন্য কোনোভাবেই ভালো হবে না। কিন্তু দীর্ঘদিনের সমর্থক ইরানের প্রতি শেষ পর্যন্ত তাদের দায়বদ্ধতা পালন করতেই হলো।   গাজা যুদ্ধের সময়ের মতোই প্রথম হামলার জন্য তারা আমেরিকান স্বার্থের বদলে ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ঝুঁকি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বাশা রিপোর্ট’ এক্স-এ জানিয়েছে, এটি তাদের দেশের সমর্থক এবং বিদেশের মিত্রদের কাছে একটি পরিষ্কার বার্তা। বার্তাটি হলো, তাদের প্রধান লক্ষ্য এখনো ফিলিস্তিন ইস্যু। একইসঙ্গে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ওপর হামলা করবে না।   বাশা রিপোর্টের মতে, হুথিদের পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে এই অঞ্চলের সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা চালানো। তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থাপনায় হামলা না করে এই পথটি বেছে নিতে পারে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি এড়ানো যাবে, আবার তাদের ওপর বড় ধরনের চাপও সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।   ঝুঁকিতে দ্বিতীয় প্রণালী   লোহিত সাগরের পাশের পাহাড়ি দুর্গ থেকে হুথিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। গাজা যুদ্ধের সময়ও তারা এটি প্রমাণ করেছিল। ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা জাহাজগুলোতে তারা হামলা চালিয়েছিল।   এর ফলে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যায়। এই সরু জলপথটি ভারত মহাসাগর থেকে সুয়েজ খালে প্রবেশের প্রধান পথ।   ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ। আরব উপদ্বীপের অপর প্রান্তে ইরান ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের প্রবাহের জন্য এই পথটি এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এই পথ বন্ধ হলে বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে ঘুরে যেতে হবে। বাব আল-মান্দেব প্রণালী হুমকির মুখে পড়লে ভঙ্গুর বিশ্ববাজার আরও বেশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরব সম্ভবত এটি মুখ বুজে সহ্য করবে না।   সৌদির অবস্থান কি বদলাবে?   হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজগুলো এখন লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে যাতায়াত করছে। কিন্তু এটিই এখন দেশটির তেল রপ্তানির শেষ নিরাপদ পথ।   যদি এই পথটিও বন্ধ হয়ে যায়, তবে রিয়াদ হয়তো তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরে আসবে। বর্তমানে সৌদি আরব প্রায় প্রতিদিনই ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করলেও কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে না।   নিরাপত্তা বিশ্লেষক হিশাম আল-গানাম এএফপি’কে বলেন, ‘যুদ্ধে সৌদির এই সতর্ক নিরপেক্ষতা ভেঙে পড়তে পারে।’ তিনি মনে করেন, রিয়াদ সীমিত আকারে হলেও পাল্টা হামলার কথা চিন্তা করতে পারে।   আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার   হুথিরা তাদের বিবৃতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার ইঙ্গিত দিয়েছে। আল-মুসলিমি লক্ষ্য করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি অবকাঠামো এবং পশ্চিমা ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোয় হুথিরা ভৌগোলিকভাবে ইরানের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।   তিনি সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের হামলা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এমনকি হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকিও রয়েছে। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সৌদির নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হুথিদের দীর্ঘ যুদ্ধ চলেছিল।   যদি ইয়েমেন আবারও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আগের যুদ্ধের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়ানো দেশটির সাধারণ মানুষের জন্য এটি হবে এক চরম মানবিক বিপর্যয়।

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সাড়ে ৩ হাজার মেরিন সেনা
মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৯, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যে সাড়ে তিন হাজার মেরিন সেনা নিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন রাখা হয়েছে। বলা হচ্ছে, নির্দেশ পাওয়া মাত্রই অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত এসব মেরিন সেনা।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড শনিবার (২৮ মার্চ) জানিয়েছে, ইউএসএস ত্রিপোলি উভচর আক্রমণকারী যুদ্ধজাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যে এসব সেনা আনা হয়। শুক্রবার তাদের ‘অপারেশন এরিয়াতে’ ইউএসএস ত্রিপোলী পৌঁছেছে। এছাড়া যুদ্ধ জাহাজটিতে করে এসেছে পরিবহন বিমান ও কৌশলগত আক্রমণকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান। এসব বিমান অতি স্বল্প সময়ে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সেনার সমাগম ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে মেরিনসহ দেশটির প্রায় ৫০ হাজার সেনা এ অঞ্চলটিতে অবস্থান করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র তাদের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের এক হাজার সেনাকেও মধ্যপ্রাচ্যে আনার পরিকল্পনা করেছিল।   এদিকে শোনা যাচ্ছে, এবার আকাশ ও নৌপথের পাশাপাশি দেশটিতে স্থল হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো প্রস্তুতি নেওয়া। যেন কমান্ডার ইন চিফ (প্রেসিডেন্ট) সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারেন। পরিকল্পনা করার অর্থ নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে স্থল হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।   প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা অনুমোদন করবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট রোববার (২৯ মার্চ) এসব তথ্য জানিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল
মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৯, ২০২৬ 0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক এক মাসের মাথায় সারা যুক্তরাষ্ট্রে রাস্তায় নামলেন বিক্ষোভকারীরা। শনিবারের এই মিছিল ও সমাবেশ ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফা কর্মসূচি।   ‘নো কিংস’ ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ৩০০-এরও বেশি অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বড় ভিড় হয়েছে। রোম, প্যারিস ও বার্লিনেও সমান্তরাল কর্মসূচি হয়েছে।   আয়োজকরা এবার বড় শহরের বাইরে রক্ষণশীল এলাকায়ও মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন। প্রগতিশীল অলাভজনক সংস্থা ইনডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ বলেছেন, ‘এই শনিবারের সংগঠনের মূল গল্প হলো কতজন বিক্ষোভ করছেন তা নয়, বরং কোথায় করছেন তা।’   সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটি হয়েছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায়। গত ডিসেম্বরে এই এলাকায় ট্রাম্পের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এ ৩ হাজারের বেশি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা ঢুকে বলপূর্বক বহিষ্কার অভিযান চালিয়েছিল। জানুয়ারিতে সেই অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনি নিকোল গুড নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং শনিবারের সমাবেশে তাদের স্মরণ করা হয়।   মিনেসোটার সমাবেশে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বক্তৃতা দিয়েছেন। রক কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও লোকসংগীতশিল্পী জোয়ান বায়েজ সংগীত পরিবেশন করেছেন। অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো পূর্বে ধারণ করা ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘আপনাদের সাহস ও প্রতিশ্রুতি আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। সরকারি গুন্ডাদের সশস্ত্র হামলার মুখেও আপনারা বীরত্ব দেখিয়েছেন।’   ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়াল ও ওয়াশিংটন মনুমেন্টের আশপাশে মিছিলকারীরা সাইনবোর্ড হাতে জমায়েত হয়েছেন। স্যান্ডার্স সমাবেশে বলেছেন, ‘আমরা এই দেশকে কর্তৃত্ববাদ বা ধনকুবেরদের শাসনে ডুবে যেতে দেব না। আমেরিকায় আমরা জনগণই শাসন করব।’   আগের দুটি ‘নো কিংস’ মিছিল হয়েছিল গেল বছর জুন ও অক্টোবরে, যেগুলোতে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এই বিক্ষোভ আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তার সুযোগে কংগ্রেসে আসন বাড়ানোর আশায় রয়েছেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি