রাজনৈতিক প্রভাব এবং লুটপাট করে ব্যাংকিং খাতকে প্রায় শূন্য করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শুধু ব্যাংকিং খাত থেকে লুট হয়েছে ১৭ বিলিয়ন ডলার। এটা আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৬৬ শতাংশ। আমরা জানি, প্রতিবছরই কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় যখনই এডিপির বাজেট দেওয়া হয়, সেটা বাস্তবায়নে হিমশিম খেতে হয়। ওই পরিমাণ অর্থ শুধু ব্যাংকিং খাত থেকে লুটপাট হয়েছে। এস আলম গ্রুপ সম্পর্কে আপনারা সবাই জানেন, আশা করি পৃথিবীর সবাই জানে। আজকে হয়তো আবার এস আলম গ্রুপ থেকে ফোন পেতে পারি। এস আলম গ্রুপ লুট করেছে ১ লাখ ৯০০ হাজার কোটি টাকা। এই ১ লাখ ৯০০ হাজার কোটি টাকা মোট এডিপিতে সরকার আগামী বাজেটে যে পরিমাণ খরচ করতে চায়, ঠিক সেই পরিমাণটা। সম্প্রতি এক উচ্চ পর্যায়ের সেমিনারে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য জানান। সেমিনারে তিনি বাংলাদেশের খাদে পড়া অর্থনীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এস আলমের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছেন। সেমিনারটিতে বাংলাদেশের রাজস্ব খাত সংস্কার এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারের সঙ্গে বাজেটের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার শিক্ষক ড. খান জহিরুল ইসলাম বলেন, এবার চিন্তা করে দেখুন আমাদের টাকা কোথায় যাচ্ছে? কেন আমরা বাজেট বাস্তবায়ন করতে হিমশিম খাই। দুঃখজনক বিষয়। আবারও বলছি, এর আগের দিনও বলেছিলাম বর্তমান সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ করে আবার এই ব্যাংক লুটেরাদের ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং পৃথিবীর যেকোনো দেশের জন্য একটা বিশাল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেকোনো অর্থনীতির জন্য। কিন্তু আপনারা জানেন ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়ে যায় ৮১ মিলিয়ন ডলার। যেটা সারা পৃথিবীতে আলোড়ন তৈরি করেছিল। আমরা আশা করেছিলাম বর্তমান সরকার বাংলাদেশ ব্যাংককে আবার সচল করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের সমালোচনা করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমার ধারণা শুধু বাংলাদেশে না, সারা পৃথিবীতে রেকর্ড করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন এমএ পাস একাউন্ট্যান্টকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দিয়ে। যেটা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব রেকর্ড। তাঁর কেন্দ্রীয় ব্যাংকিংয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এটা কেন করা হলো? প্রশ্ন হলো কেন এই নিয়োগ দেওয়া হলো? সব প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেভাবে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে একইভাবে এই নিয়োগও হয়েছে। সুদানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সালাম হাসান যুক্তরাষ্ট্রের একটা বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশের গভর্নর। অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি করা। সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের একাউন্ট্যান্ট হিসেবেও কোনো কাজ নেই। খান জহিরুল ইসলাম বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপি, যেটা আমরা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বলি, সেটার আকার ধরা হয়েছে আনুমানিক ৩ লাখ কোটি টাকা। এই ৩ লাখ কোটি টাকার মধ্যে সরকার অর্থায়ন করার পরিকল্পনা করছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা সরকার ঋণ করে অর্থায়নের পরিকল্পনা করছে। অর্থ পাচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনারা সবাই জানেন ২০০৯ থেকে ২০২৩ এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। আর বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ১২.৪ বিলিয়ন ডলার। যেটা একটা বাজেটের বিশাল অংশ। ব্যাংকিং খাত নিয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, শুধু বাংলাদেশ না, পৃথিবীর যেকোনো দেশের ব্যাংকিং খাত অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। কারণ ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, মুদ্রাস্ফীতি, আর্থিক নীতি— সবকিছুই ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের দেশের ব্যাংকিং খাত ধ্বংসপ্রাপ্ত। আমাদের দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যাগুলো সবারই হয়তো জানা। ভয়াবহ ঋণ খেলাপি নিয়ে কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, আমাদের আগামী বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার সচিব মহোদয় বলেছেন, ৯ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। একটা বাজেটের প্রায় ৭৫ শতাংশ আমাদের খেলাপি ঋণ আছে। আমি যেটা বোঝানোর চেষ্টা করছি, এই খেলাপি ঋণ যদি না থাকত তাহলে আমাদের বাজেট বাস্তবায়নে কী প্রভাব ফেলতে পারতো এবং এটাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া যেত। সিপিডির গবেষক বলেছেন যে, আসলে বাস্তবায়ন করা যায় না। কারণ আমাদের তো সেই পরিমাণ টাকা নেই। টাকা নেই কেন? কারণ আমাদের টাকা পাচার হচ্ছে, চুরি হচ্ছে, খেলাপি হচ্ছে। এগুলোই কার্যকর জায়গা। বাজেটের ৭৫ শতাংশ যদি খেলাপি ঋণ থাকে, আমি আশা করি সেই জায়গায় কাজ করার সুযোগ আছে। এনসিপির সংসদ সদস্যরা এই জায়গায় কথা বলবেন। এই টাকাগুলো তো ছিল, সেটা নাই হয়ে গেছে আমাদের অর্থনীতি থেকে পাচার এবং দুর্নীতির জন্য। এরপর রাজনৈতিক প্রভাব এবং লুটপাট করে ব্যাংকিং খাতকে প্রায় শূন্য করে দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে ১৭ বিলিয়ন ডলার শুধু ব্যাংকিং খাত থেকে লুট হয়েছে। যেটা আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৬৬ শতাংশ। আমরা জানি প্রতিবছরই কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় যখনই এডিপির বাজেট দেওয়া হয়, সেটা বাস্তবায়নে হিমশিম খেতে হয়। অথচ ৬৬ শতাংশ অফ দ্য এডিপি প্রোগ্রাম— এটা শুধু ব্যাংকিং খাত। ওই পরিমাণ অর্থ শুধু ব্যাংকিং খাত থেকে লুটপাট হয়েছে। এস আলমের দুর্নীতি নিয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, এস আলম গ্রুপ লুট করেছে ১ লাখ ৯০০ হাজার কোটি টাকা। এই ১ লাখ ৯০০ হাজার কোটি টাকা মোট এডিপিতে সরকার আগামী বাজেটে যে পরিমাণ খরচ করতে চায়, ঠিক সেই পরিমাণটা। আমাদের টাকা কোথায় যাচ্ছে, কেন আমরা বাজেট বাস্তবায়ন করতে হিমশিম খাই। আবারও বলছি, বর্তমান সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ করে আবার এই ব্যাংক লুটেরাদের ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই সংসদ সদস্যদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা যদি সংস্কার নিয়ে সংসদে কথা বলেন, বাজেট আলোচনায় ব্যাংকিং খাতের লুটপাট এবং বর্তমান সরকার আবারও এই লুটেরা এস আলমকে নিয়ে আসার জন্য সুযোগ করে দিচ্ছেন এটা নিয়ে কথা বলবেন। আপনারা যেটা বলে গেলেন যে ভোটে হয়তো এটা পাশ হয়ে যাবে। তারপরও আমরা দেখতে চাই আপনারা এটা নিয়ে জোরালো অবস্থান নিচ্ছেন। ব্যাংকিং খাতের দ্বিতীয় দুর্বলতা হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং। কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং পৃথিবীর যেকোনো দেশের অর্থনীতির জন্য একটা বিশাল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু আপনারা জানেন ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়ে যায় ৮১ মিলিয়ন ডলার, যেটা সারা পৃথিবীতে আলোড়ন তৈরি করেছিল। ৮১ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হয়ে গেছে এবং আমরা জানি এর সঙ্গে রথি-মহারথি সবাই জড়িত ছিল। তাহলে আমাদের ব্যাংকিং খাতে করণীয় কি? আমাদের আসলে আলফা জেনারেশন, জেডের পরে যে আলফা জেনারেশন, করণীয় আমরা সবাই জানি। আমার ধারণা বাংলাদেশের এরা এত সচেতন, তারা জানে করণীয় কি। সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। এই দুর্নীতি কীভাবে কমানো যাবে সেই বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা আমরা দেখতে চাই এনসিপির সংসদ সদস্যসহ সব নেতাদের কাছ থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংককে পুরোপুরি স্বাধীন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। যেটা জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে ছিল। তো সেই সংস্কার তো প্রত্যাখ্যান করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ যেটা, সেখানে ঢেলে সাজাতে হবে। এটা হচ্ছে ব্যাংকিং খাতে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত হলেও শেষ পর্যন্ত বোর্ডে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজশাহী বিভাগের কাউন্সিলর মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। মীর সীমান্তের বাবা মীর শাহে আলম ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী। মীর শাহে আলম নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও লিমিটেড কম্পানির শেয়ারসহ সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর ছেলে সীমান্ত। বর্তমানে একাধিক ফিলিং স্টেশন, অটো রাইস মিল, পুষ্টি চালের কার্নেল ফ্যাক্টরি, আয়োডিন ফ্যাক্টরি, পুষ্টি মিশ্রণ ফ্যাক্টরি, মিনি কোল্ড স্টোরেজ, কৃষি খামার, প্রাণী খামার, ফ্লাওয়ার মিলসহ আরো কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাসরি তদারকি করছেন সীমান্ত। এ ব্যাপারে সীমান্ত বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় পরিসরের দায়িত্বের জায়গা। অন্যদিকে পারিবারিক ব্যবসাগুলোর পূর্ণ দায়িত্ব বর্তমানে আমার ওপর রয়েছে। সবকিছু একসঙ্গে সমন্বয় করে ক্রিকেট বোর্ডে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া আমার জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়বে। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় বোর্ডে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সীমান্ত, ‘একজন ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ী হিসেবে ক্রিকেটসহ সব খেলার উন্নয়ন ও বিকাশে সবসময় পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করে যাব।’ সীমান্ত আরও জানিয়েছেন, বোর্ডে আসতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত শিগগিরই বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালকে লিখিতভাবে জানাবেন। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তরুণ সংগঠক হিসেবে সীমান্তের বিসিবিতে আসা নিয়ে রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততা বিবেচনায় তাঁর এ সিদ্ধান্তকে অনেকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।
বাংলাদেশে ঈদুল আজহার আগে আলোচনায় আসা একটি মহিষ, যেটি ভাইরাল হয়েছিল 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' নামে, সেটি এখন সরকারি হেফাজতে। মহিষটিকে ঈদে কোরবানি দেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। এ বছর ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বাজারে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় অ্যালবিনো প্রজাতির এই মহিষটি। সামাজিক মাধ্যমসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও মহিষটিকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখা গেছে। সম্প্রতি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহিষটিকে খামার থেকে নিজের বাড়িতেও নিয়ে যান প্রাণীটির মালিক। কিন্তু ঈদের একদিন আগেই জানা গেল যে, মহিষটিকে কোরবানি না করে বরং সংরক্ষণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আর এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিজেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বুধবার মহিষটিকে তার মালিকের বাসা থেকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার কথা জানায় পুলিশ। এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের এই মহিষটিকে নিজেই কিনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলছেন, বিরল প্রজাতির এই মহিষটিকে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তিনি বলেন, "ডোনাল্ড ট্রাম্প নামে ভাইরাল হওয়া মহিষটি বিরল প্রজাতির। কোরবানির ঈদে আগে এটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, কোরবানির সময় বিশৃঙ্খলা হতে পারে- এই চিন্তা থেকে মহিষটি আমি কিনে নিয়েছি। এটি এখন খামারে আছে, পরবর্তীতে চিড়িয়াখানায় রাখা হতে পারে।"
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানীসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে পরিবহনসংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, কোনো অবস্থাতেই যাত্রীদের কাছ থেকে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। একই সঙ্গে সড়কে অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এড়িয়ে সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয় জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদ উদ্যাপন শেষে ফিরতি পথে যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম। তিনি সব ধরনের যানবাহনের চালক, চালকের সহকারী, পরিবহন কোম্পানির মালিক এবং মালিক সমিতির কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে যান চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন, অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া যাত্রাপথে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও নারী যাত্রীদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের চার যুবককে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের সহযোগী যুব সংগঠনের দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ওই চার যুবকের পরিবার চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও সম্প্রতি (পাঁচ দিন আগে) উপজেলা জামায়াত কর্তৃক অব্যাহতি দেওয়া পাটগ্রাম উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইউনুস আলী এবং পৌর যুব বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মাহিন ইসলাম উচ্চ বেতনে গার্মেন্টসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি সাড়ে নয় লাখ টাকা নিয়ে এই কাজ করেছেন। পরিবারগুলোর দাবি, ঢাকা উত্তরার আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮) এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠালে সেখানে নিরাপদ ও বৈধভাবে কাজের সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়। পরে চার যুবকের পরিবারের কাছ থেকে ভিসা, টিকিট ও চাকরির ব্যবস্থা করার কথা বলে টাকা নেন তাঁরা। পরবর্তীতে চলতি মাসের চার তারিখে পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের টেপুরগাড়ী এলাকার কৃষক দেলদার রহমানের ছেলে নাজমুল হক সৌরভ (২১), একই এলাকার কৃষক রাবিউল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান (২১), একই ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকার কৃষক আফজাল হোসেনের ছেলে আল আমিন (২০) এবং একই এলাকার কৃষক আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে (২২) বাড়ি থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সাত মে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় বাহরাইন বিমানবন্দরে ১২ ঘণ্টার ট্রানজিট করা হয়। পরদিন আট মে সকালে তাঁরা মস্কোর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মস্কো পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে স্বাভাবিকভাবে কথা হয় যুবকদের। পরে রুশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাঁদের একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট, ভিসা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। তখন তাঁরা জানতে পারেন, চাকরির পরিবর্তে তাঁদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই তাঁদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অভিভাবকেরা জানান, পণ্য সরবরাহকারীর (ডেলিভারি ম্যান) মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ছেলেরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজেদের জীবনঝুঁকির কথা জানিয়েছে। পরে বিভিন্ন সময়ে ক্ষুদে বার্তায় পরিবারের কাছে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানায় তাঁরা। পরিবারগুলোর দাবি, এ বিষয়ে ইউনুস ও মাহিনকে জানালে তাঁরা প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যুবকেরা ভালো আছে এবং পরে ভিডিও কলে কথা বলবে। কিন্তু এরপর আর যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারগুলো আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ১৪ মে ভুক্তভোগী পরিবারের কয়েকজন সদস্য ঢাকার আর এস ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির কার্যালয়ে যান। সেখানে এজেন্সির লোকজন কয়েকদিনের মধ্যে যুবকদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে কার্যালয়ে গিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। গত ২১ মে ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সামনে পাটগ্রামের পরিবারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩০টি পরিবার মানববন্ধন করে। এ সময় তাঁরা তাঁদের সন্তানদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। নাজমুল হক সৌরভের বাবা দেলদার হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে ইউনুস সাড়ে নয় লাখ টাকা নিয়ে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। এখন শুনছি সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা দিন-রাত দুশ্চিন্তায় আছি।’ মেহেদী হাসানের বাবা রাবিউল ইসলাম বলেন, ‘রাশিয়ায় ভালো চাকরির কথা বলে ইউনুস আমার ছেলেকে পাঠিয়েছে। এখন ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। সে নিখোঁজ।’ এ ঘটনায় পাটগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামী অভিযুক্ত ইউনুস ও মাহিনকে গত ২০ মে উপজেলা ও পৌর যুব বিভাগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। গত মঙ্গলবার (২৬ মে) ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পাটগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে পৌর জামায়াতের আমীর সোহেল রানাকেও দায়ী করা হয়। অব্যাহতি পাওয়া উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইউনুস আলী বলেন, ‘তাঁরা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে। এজেন্সির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। দুই দেশের দূতাবাসেও যোগাযোগ করা হয়েছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে আনার চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, পরিবারগুলোর কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছি, সব মাহিনকে দিয়েছি। মাহিন এজেন্সিকে দিয়েছে। অন্যদিকে মাহিন ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরিবারগুলোর সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় নেই। ইউনুসের সঙ্গে এজেন্সির পরিচয় থাকলেও পুরো কাজ সে নিজেই করেছে। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পাটগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ শোয়াইব আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কোনো দায় নেই। এটি ব্যক্তিগত বিষয়। সংগঠন ঘটনা জানার পর তাঁদের দুজনকে অব্যাহতি দিয়েছে। পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং নামাজ শেষে কোরবানির কার্যক্রম শুরু করেন মুসল্লিরা। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আরিফ চৌধুরী। এছাড়া সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে আরেকটি জামাতে ইমামতি করেন পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি। একইভাবে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে মোট অন্তত ৩০টি স্থানে জামাতের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপনের প্রথা চালু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় তার অনুসারীরা প্রতিবছরের মতো এবারও আগাম ঈদ উদযাপন করেছেন। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, তারা চাঁদ দেখার ভিত্তিতে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। ঈদের নামাজ শেষে বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাইও শুরু হয়েছে। সুদীপ্ত রায় জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত হলেও শেষ পর্যন্ত বোর্ডে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজশাহী বিভাগের কাউন্সিলর মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। মীর সীমান্তের বাবা মীর শাহে আলম ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী। মীর শাহে আলম নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও লিমিটেড কম্পানির শেয়ারসহ সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর ছেলে সীমান্ত। বর্তমানে একাধিক ফিলিং স্টেশন, অটো রাইস মিল, পুষ্টি চালের কার্নেল ফ্যাক্টরি, আয়োডিন ফ্যাক্টরি, পুষ্টি মিশ্রণ ফ্যাক্টরি, মিনি কোল্ড স্টোরেজ, কৃষি খামার, প্রাণী খামার, ফ্লাওয়ার মিলসহ আরো কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাসরি তদারকি করছেন সীমান্ত। এ ব্যাপারে সীমান্ত বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় পরিসরের দায়িত্বের জায়গা। অন্যদিকে পারিবারিক ব্যবসাগুলোর পূর্ণ দায়িত্ব বর্তমানে আমার ওপর রয়েছে। সবকিছু একসঙ্গে সমন্বয় করে ক্রিকেট বোর্ডে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া আমার জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়বে। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় বোর্ডে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সীমান্ত, ‘একজন ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ী হিসেবে ক্রিকেটসহ সব খেলার উন্নয়ন ও বিকাশে সবসময় পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করে যাব।’ সীমান্ত আরও জানিয়েছেন, বোর্ডে আসতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত শিগগিরই বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালকে লিখিতভাবে জানাবেন। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তরুণ সংগঠক হিসেবে সীমান্তের বিসিবিতে আসা নিয়ে রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততা বিবেচনায় তাঁর এ সিদ্ধান্তকে অনেকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।
নেদারল্যান্ডসের কোচ রোনাল্ড কোমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য তাঁর ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন। দলের মূল আকর্ষণ ও নেদারল্যান্ডসের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেমফিস ডিপাই উরুর আঘাত কাটিয়ে দলে ফিরেছেন। প্রায় দুই মাস মাঠের বাইরে থাকার পর গত ২৪ মে আতলেতিকো মিনেইরোর বিপক্ষে করিন্থিয়ান্সের ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তিনি মাঠে নামেন। উত্তর আমেরিকার টিকিট পাওয়া 'অরেঞ্জ' শিবিরে তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতভাবেই বড় স্বস্তি। ৩২ বছর বয়সী ডিপাইয়ের সঙ্গে আক্রমণভাগে থাকছেন কোডি গাকপো এবং ডনিয়েল মালেনের মতো তারকারা। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে অ্যাস্টন ভিলা থেকে ইতালিয়ান ক্লাব রোমাতে যোগ দেওয়ার পর সিরি-এ লিগে ১৮ ম্যাচে ১৪টি গোল করে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন মালেন। বিশ্বকাপে ডাচ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন দীর্ঘদেহী সেন্ট্রাল-ব্যাক ভার্জিল ভ্যান ডাইক। অন্যদিকে বার্সেলোনা মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংও দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কোমানের এই স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হলো ভ্যান ডাইকের লিভারপুল সতীর্থ জেরেমি ফ্রিম্পংয়ের বাদ পড়া। তিনবারের ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডস ১৪ জুন ডালাস স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ খেলবে জাপানের সঙ্গে। ২০ জুন হিউস্টন স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ সুইডেন। তিউনিসিয়ার সঙ্গে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচ খেলবে ২৫ জুন। নেদারল্যান্ডস স্কোয়াড গোলরক্ষক: মার্ক ফ্লেকেন, রবিন রুফস ও বার্ট ভারব্রুগেন ডিফেন্ডার: নাথান আকে, ডেঞ্জেল ডামফ্রিস, জোরেল হাটো, জুরিয়েন টিম্বার, জান পল ভ্যান হেকে, মিকি ভ্যান ডি ভেন এবং অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক মিডফিল্ডার: ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, মার্টেন ডি রুন, রায়ান গ্রাভেনবার্চ, তেউন কুপমেইনার্স, তিজানি রেইন্ডার্স, গুস তিল, কুইন্টেন টিম্বার ও ম্যাটস উইফার ফরোয়ার্ড: ব্রায়ান ব্রোবি, মেমফিস ডিপাই, কোডি গাকপো, জাস্টিন ক্লুইভার্ট, নোয়া ল্যাং, ডনিয়েল মালেন, ক্রিসেনসিও সামারভিল ও ওয়াউট ওয়েঘর্স্ট
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বুধবার বিকেলে উত্তরা দিয়াবাড়ি হাট পরিদর্শনে আসবেন— এমন খবর পাওয়ার পর হাট এলাকায় হঠাৎ করেই জোরদার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়। তবে দুপুর পর্যন্ত উত্তরা সেন্টার মেট্রো স্টেশনের নিচে হাটের বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা পড়ে ছিল। প্রতিমন্ত্রী ও প্রশাসক যাওয়ার আগে সেখানে পরিচ্ছন্নতার কাজে নামেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বেলা তিনটায় প্রতিমন্ত্রী ও প্রশাসকের হাট পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। এ উপলক্ষে বেলা একটা ২০ মিনিটের দিকে সিটি করপোরেশনের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জরুরি বার্তা দিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য জানানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর, সোয়া দুইটার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হাটে এসে কাজ শুরু করেন। বেলা আড়াইটার দিকে একটি পে-লোডার আনা হয়। এরপর দ্রুতগতিতে সড়কে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ, ময়লা পরিষ্কার এবং হাটের বিভিন্ন অংশ পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলতে থাকে। সরেজমিনে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা শওকত ওসমান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন উপপ্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মফিজুর রহমান ভূঁইয়া। তাঁদের তত্ত্বাবধানে কর্মীরা হাটের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। বেলা আড়াইটার দিকে দেখা যায়, পে-লোডার দিয়ে সড়কের জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ঝাড়ু ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে হাটের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করছেন। কর্মকর্তারাও মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারক করছেন। হাটের ব্যবসায়ীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাটের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য জমে থাকলেও আজ হঠাৎ করেই ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, উচ্চপর্যায়ের এই পরিদর্শনকে সামনে রেখেই তড়িঘড়ি করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় বিশ্বের বড় বড় এয়ারলাইনস বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট স্থগিত বা কমিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী অনেক ফ্লাইট এখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই, বাগদাদ, এরবিল, তেল আবিব, বৈরুত, দোহা, রিয়াদ ও আবুধাবিগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত করেছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। গ্রিসের এজিয়ান এয়ারলাইনস আগস্টের শেষ পর্যন্ত দুবাইয়ের ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই সঙ্গে ইরাকের বাগদাদ ও এরবিল রুটেও জুলাই পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। তুরস্কের পেগাসাস এয়ারলাইনস ইরাক, ইরান, কুয়েত, বাহরাইন, রিয়াদ ও আবুধাবিগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। জার্মানির লুফথানসা গ্রুপও বাগদাদ, তেহরান, বৈরুত, দুবাই ও রিয়াদসহ কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধের সময়সীমা বাড়িয়েছে। এছাড়া এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম, জাপান এয়ারলাইনস, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও এয়ার কানাডাও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট বাতিল বা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সামরিক উত্তেজনা ও আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
গাজায় এবার ঈদুল আজহা এসেছে ভিন্ন এক বাস্তবতায়। যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের কারণে উৎসবের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। নতুন পোশাক, কুরবানির পশু কিংবা ঈদের মিষ্টান্ন সবকিছুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সেখানে কুরবানির পশুর দাম প্রায় ১০ থেকে ১৫ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে কুরবানির পশু কিনতে সামর্থ্য হারিয়েছেন গাজার অধিকাংশ বাসিন্দারা। গাজার বাসিন্দারা বলছেন, বাজারে গেলেও কিছু কেনার সামর্থ্য নেই তাদের। অনেক পরিবার এবার শিশুদের জন্য সামান্য খাবারও জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞে মানুষের জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার অধিকাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশিরভাগ মানুষ এখন ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। সীমান্ত দিয়ে পর্যাপ্ত পণ্য প্রবেশ না করায় বাজারে নিত্যপণ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি আরও বেড়েছে। ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কুরবানি। তবে গাজায় এবার পশুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে যে ভেড়া বা ছাগল ১ হাজার শেকেলে পাওয়া যেত, এখন তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ থেকে ১৫ হাজার শেকেল পর্যন্ত। ফলে অধিকাংশ পরিবারের পক্ষেই কুরবানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে খামার ধ্বংস, পশুখাদ্যের সংকট ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পশুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে পুরো গাজায় যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের মাত্র এক-চতুর্থাংশ পশু অবশিষ্ট আছে। শুধু কুরবানিই নয়, ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরিও কঠিন হয়ে পড়েছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে অনেক পরিবার ঘরে ঈদের পিঠা বা বিস্কুট তৈরি করতে পারছে না। তবুও কিছু পরিবার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছে। বাসিন্দারা বলছেন, এখন তাদের জীবনে আনন্দের চেয়ে ভয়, অনিশ্চয়তা ও কষ্টই বেশি। যুদ্ধের ক্ষত নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই গাজাবাসী পালন করছে এবারের ঈদুল আজহা। তথ্যসূত্র : এএফপি
প্রাণঘাতী ভাইরাস ইবোলা ভাইরাস রোগ–এর নতুন ধরন মোকাবিলায় টিকা তৈরির দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির বিজ্ঞানীরা ইবোলা বুন্দিবুগিও প্রজাতি লক্ষ্য করে এই নতুন টিকা তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাসের এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় বলা হয়, রুশ বিজ্ঞানীদের তৈরি এই টিকা নতুন ধরনের ইবোলা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকোর বরাতে জানানো হয়, গবেষকরা দাবি করেছেন যে এই টিকা বিশেষভাবে বুন্দিবুগিও ধরন প্রতিরোধে কার্যকর। সম্প্রতি মধ্য আফ্রিকার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও উগান্ডাতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কঙ্গোতে এক মাসে প্রায় ২২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা ভাইরাস শরীরের তরল যেমন রক্ত, লালা ও ঘামের মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ, ব্যবহৃত সামগ্রী এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার এই টিকা কার্যকর কি না তা নিশ্চিত করতে হলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, গবেষণা প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর আগে ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল।
ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য সামরিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। জার্মান সংবাদমাধ্যম স্পিগেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বা সংকট পরিস্থিতিতে ন্যাটো জোটকে দেওয়া যুদ্ধবিমান, কৌশলগত বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে। এই পরিকল্পনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ন্যাটো জোট অভ্যন্তরীণ চাপ ও অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ আশঙ্কা করছে, ওয়াশিংটন ভবিষ্যতে জোট থেকে সরে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাসেলসে ন্যাটো সদর দপ্তরে গত সপ্তাহে এক বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের এক দূত সদস্য দেশগুলোর কর্মকর্তাদের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আগের তুলনায় অর্ধেক কৌশলগত বোমারু বিমান সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিমান সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমানো হবে। নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও কম সংখ্যক ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ দেওয়া হবে এবং সাবমেরিন আর সরবরাহ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউরোপকে নিজস্ব নজরদারি ড্রোনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র ড্রোন সরবরাহও কমিয়ে দিতে চায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে আসছেন, তিনি মনে করেন তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছে না। জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে ইউরোপের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ন্যাটো কর্মকর্তারা বলছেন, এতদিন জোটের সামরিক পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ছিল। তবে ইউরোপ ও কানাডা এখন প্রতিরক্ষা খাতে বেশি বিনিয়োগ করছে, ফলে ভবিষ্যতে জোটের দায়িত্ব নতুনভাবে ভাগ করা হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।