ইসরায়েলি হামলায় গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুলেটিনে বলা হয়, নিহতদের একজন আগের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুলেটিন অনুসারে, একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় রাফাহর আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত কিশোরটি ঘটনাস্থলেই মারা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। মধ্য গাজায় মৃত্যুর সড়ক নামে পরিচিত সালাহ আল-দিন সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ফিলিস্তিনি নারীকে লক্ষ্য করেও ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এই পথে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদিকে সমুদ্রপথেও উত্তেজনা বাড়ছে বলে জানা গেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে। গাজার উপকূলের কাছে ফিলিস্তিনি জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে ইসরায়েলি নৌযান থেকে। এতে তিনজন জেলে আহত হন। যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার কাছে বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবুতে বসবাসকারী লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে রোববার রাতেও। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে হামাদ এলাকার কাতার ক্যাম্পে অন্তত চার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এই এলাকাটি হলুদ রেখা থেকে বেশ দূরে হলেও সেখানে ব্যাপকভাবে ইসরায়েলি গুলি চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক যান থেকেও গুলি ছোড়া হয় এবং এতে মানুষ আহত হন। গাজায় বিপন্ন মানবিকতা প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজা উপত্যকায় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছেই। গাজায় মানুষের হতাশা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সেখানে মানুষের মানবিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার ভেতরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৭০ শতাংশের বেশি এলাকার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ৩৪৪ দিনের মধ্যে ৩০৮ দিনই গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অর্থাৎ মাত্র ৩৬ দিন গাজায় কোনো সহিংস হামলা, মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এর পরও যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ ও ২৯ অক্টোবর ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুটি দিন। সেসময় ইসরায়েলি হামলায় মোট ১৫৪ জন নিহত হন।
১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো মিছিল বা কর্মসূচি পালন করে না—বিএনপির এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে রাজধানীর নেভিগলিতে দাঁড়িয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, সংস্কার ও বিচারের প্রধান তিনটি দাবি সরকার মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না। বিএনপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে এবং গতকালও দুটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তো বলছি আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার। ১১ দলীয় জোট শুরু থেকেই এই অবস্থান নিয়ে কথা বলে আসছে।’ আন্দোলনের মূল ইস্যুগুলো তুলে ধরে এনসিপির এই মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাইয়ের ঘটনার বিচারসহ নির্দিষ্ট তিনটি দাবিতে আমরা রাজপথে আছি। কিন্তু সরকার এই দাবিগুলো মানছে না। সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না।’ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছেন, তাদের তোলা দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হবে। আর দলটি নিষিদ্ধ হলে তাদের নেতাকর্মীরাও ঢাকা শহরে নাশকতা বা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর কোনো সুযোগ পাবে না।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরীফের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সচিবালয় ভবনের ৩৪তম তলায় দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের দিনই অর্থাৎ ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে অধিবেশনের পর্বটি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভাষণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে নির্ধারিত ১৮ জন বক্তার মধ্যে তারেক রহমান বক্তব্য রাখবেন ১১তম বক্তা হিসেবে। ভাষণের আগে বৃহস্পতিবার সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বগত সংকট মোকাবেলাবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে পাঁচ মিনিটের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুরে মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক আরেকটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে তিনি উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণীর সমাপনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবারের অন্যান্য কূটনৈতিক সূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১টা ১০ মিনিটে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর ২টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টা পর্যন্ত ‘ইউএন বাইল্যাটেরাল বুথে’ থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেবেন সরকারপ্রধান। প্রেস উইং আরো জানায়, সাধারণ অধিবেশনে ভাষণদান শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন অথবা নিজের আবাসন হোটেল ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে’ ফিরবেন। রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি। পরদিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটি আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশ বৈঠকে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকাল ১১টায় কুয়েতের স্থায়ী মিশনে দেশটির ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি। দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি, বৈশ্বিক প্রবণতা ও ঝুঁকি নিয়ে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। মধ্যাহ্নভোজ শেষে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে তার। জাতিসংঘ সফর সমাপ্ত করে ওই দিনই (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় (দুবাই সময়) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। পরবর্তীতে ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ২টায় দুবাই থেকে ঢাকার পথে রওনা হয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ফ্লাইটটির হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে ঝুঁকি ও ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য ইরানকে সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে সামরিক সংঘাত এড়িয়ে তেহরানের সঙ্গে দ্রুত একটি কার্যকর কূটনৈতিক সমঝোতা বা চুক্তির মাধ্যমে সংকট নিরসনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগ্রহী বলেও জানিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ট্রাম্প মূলত সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে আলোচনার পথেই সমাধান খুঁজছেন বলে উল্লেখ করেন জেডি ভ্যান্স। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। ভ্যান্সের ভাষ্যমতে, ওয়াশিংটনের অন্যান্য প্রশাসন যেসব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলত, ট্রাম্পের প্রশাসন বরাবরই তাদের সঙ্গেও সরাসরি আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে নমনীয়তা ও আগ্রহ দেখিয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিলেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্প এখনো সম্পূর্ণ বাতিল হয়নি বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কর্তৃত্বও প্রেসিডেন্টের রয়েছে। তবে ট্রাম্প সংঘাতের বদলে দ্রুত একটি টেকসই চুক্তি চান। জেডি ভ্যান্স আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের কারণে মার্কিন অর্থনীতির ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরোপুরি অবগত। আর তাই আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে—অর্থাৎ প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যেই—তিনি এই জটিলতার একটি ইতিবাচক সমাধান টানতে চান। তবে নির্ধারিত এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো বেশ কঠিন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন ভ্যান্স। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তেহরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি চূড়ান্ত করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩০৫ জন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩ জনে। বুলেটিনে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে। দুই বিভাগেই দুজন করে মারা গেছেন। কোন বিভাগে কত রোগী গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৩০৫ রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৮৮ জন, চট্টগ্রামে ২৯১ জন, সিলেটে ১৩১ জন, বরিশালে ১৪৫ জন, খুলনায় ৯০ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ জন, রাজশাহীতে ৩১ জন এবং রংপুরে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৮৮ জন। সন্দেহজনক রোগী ১ লাখ ৮১ হাজারের বেশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জনে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় ২০ হাজার ৬৪৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা অব্যাহত থাকায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এ সংক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর মহাখালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর। কর্মসূচি থেকে জ্বালানির দাম কমানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে রেলগেট এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখান থেকে মিছিল বের হয়ে নাবিস্কো এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি দাবি করেন, ছয় মাসের মধ্যে সরকার তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। তার অভিযোগ, জ্বালানি সংকটের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিতে পড়ছে। জুবায়ের আরও দাবি করেন, এর আগে জ্বালানি সংকটের সময় বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের উদ্যোগের পর কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সংকট কেটে যায়। এ ঘটনায় তিনি কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তোলেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। তার ভাষ্য, জ্বালানি সংকটের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কৃষিখাতে সমস্যা এবং গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জুবায়ের বলেন, গভীর রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সরকারের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দাম বাড়ানোর অভিযোগও করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ও অরাজকতার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন রেজাউল করিম। বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে এনে ডিসেম্বরের মধ্যে বিচার কার্যকরের দাবি জানান। রেজাউল করিম আরও বলেন, তেল, গ্যাস, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যথায় সরকারকে পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ‘তেল দে, গ্যাস দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা এবং ইয়াসিন আরাফাত। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, জামাল উদ্দিন, মুহিবুল্লাহ ও নাসির উদ্দীনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ ও মিছিল থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানানো হয়।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য দ্বিতীয় ধাপে অনলাইন আবেদনগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে এ আবেদন শুরু হবে, যা চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টায়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৭ সেপ্টেম্বরের স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারবে ১. যেসব শিক্ষার্থী আগে আবেদন করেনি অথবা আবেদন করেও কোনো কলেজে সিলেকশন পায়নি। ২. যেসব শিক্ষার্থী চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছে, কিন্তু কোনো কারণে নিশ্চায়ন করতে পারেনি কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। ৩. যেসব শিক্ষার্থী চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছে, কিন্তু ভুল কোটা নির্ধারণের কারণে কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। আবেদন যেভাবে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্ধারিত ভর্তি ওয়েবসাইট এ দেওয়া পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কলেজে বিদ্যমান আসন সংখ্যা দেখে সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করতে হবে। আবেদন ও ভর্তির সময়সূচি দ্বিতীয় ধাপে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর (রোববার) থেকে। আবেদন করা যাবে ২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) রাত ৮টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টায়। নির্বাচন নিশ্চায়ন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের পর থেকে ৩ অক্টোবর (শনিবার) রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচন নিশ্চায়ন করা যাবে। কোনো শিক্ষার্থী এ সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে তার নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হবে। মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ ও ভর্তি পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ৪ অক্টোবর (রোববার) রাত ৮টায়। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি কার্যক্রম চলবে ৫ অক্টোবর (সোমবার) থেকে ৭ অক্টোবর (বুধবার) পর্যন্ত। আবেদন ফি দিতে হবে না যাদের বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে আবেদন করেও যারা কোনো কলেজে সিলেকশন পায়নি, দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের অনলাইন আবেদন ফি ২২০ টাকা দিতে হবে না। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের ভর্তি ওয়েবসাইটে লগইন করে কলেজ সিলেকশন বা এডিট সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সময় কোটার যোগ্যতা বুঝে সঠিকভাবে কোটা নির্ধারণ করে আবেদন করতে বলা হয়েছে। ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন ফি জমা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধ করা হয়েছে।
টানা সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে এই মুহূর্তে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের মুদ্রা সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমেছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতার নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ০.০৬ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মূল্য আরও ০.৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে চলা টাকার মূল্যমানের ধারায় পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ডলারের দর ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। ধারাবাহিকভাবে বেড়ে তা ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় উঠেছিল। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেই প্রবণতা ঘুরতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ার পাশাপাশি টাকার শক্তিশালী হওয়া দেশের বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।’ তিনি বলেন, ‘রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ায় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহও বাড়ছে। একই সঙ্গে রিজার্ভ বাড়ায় আমদানি ও অন্যান্য বৈদেশিক পরিশোধের দায় মেটাতে দেশের সক্ষমতা বাড়ছে।’ তার মতে, এতে বিদেশি ও আমদানিকারকদের কাছে দেশের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হবে’। বিনিময় হার আরও স্থিতিশীল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের আস্থাও বাড়বে। আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘টাকা শক্তিশালী হওয়ায় জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য আমদানি উপকরণের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমবে। এতে ব্যবসায়ীদের আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যয়ের চাপও কমতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম অস্থির থাকলেও আমদানির ক্ষেত্রে ডলারে পরিশোধ করা অর্থের বিপরীতে তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় করতে হলে মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমতে পারে।’ বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা বাড়ায় আমদানিকারকদের বৈধ ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও পরিশোধ করাও সহজ হবে। আগের মতো ডলারের সংকটে বৈদেশিক পরিশোধে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা এড়ানো সম্ভব হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার একটি স্থিতিশীল উৎস হিসেবে কাজ করছে এবং লেনদেনের ভারসাম্যকে শক্তিশালী করছে।’ তবে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানো, আমদানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে নিবিড় নজরদারির ফলে দেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থানে উন্নতি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি পরিশোধ এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এর ফলে বাড়তি ডলারের সরবরাহ যাতে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় এবং বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণ হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’ একই সঙ্গে অর্থপাচার, বাণিজ্যভিত্তিক আর্থিক অনিয়ম এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অপব্যবহার ঠেকাতেও লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্যাংক ও অনুমোদিত ডিলার শাখাগুলোর নিয়মিত তদারকিও অব্যাহত রয়েছে। রেমিট্যান্স সম্পর্কে আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং দেশের বৈদেশিক অবস্থানও শক্তিশালী হচ্ছে।’ আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত আমদানির প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অনিয়ম বন্ধে আমদানি-সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’ আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। এতে আগের বৈদেশিক মুদ্রার চাপের সময়ে কমে যাওয়া রিজার্ভ পুনর্গঠনেও সহায়তা হয়েছে।’ তার মতে, ‘রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য ইতিবাচক। একই সঙ্গে আমদানি ও অন্যান্য বৈদেশিক পরিশোধের দায় মেটাতে দেশের সক্ষমতাও বাড়িয়েছে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৭.৭০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ বেড়েছে ১৩.৮ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬.৪৪ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যা ছিল ২৪.৮৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই বছরে রিজার্ভ বেড়েছে ৪৬.৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ একই সময়ে ৫৮.৮ শতাংশ বেড়ে ৩১.৫৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতির জন্য টাকার সাম্প্রতিক শক্তিশালী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তুলনামূলক শক্তিশালী টাকা থাকলে জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির মতো আমদানি পণ্যের স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমে। একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রায় নেওয়া দায় পরিশোধের ক্ষেত্রেও টাকার হিসাবে ব্যয়ের চাপ কমে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি ও রিজার্ভ বৃদ্ধির সঙ্গে টাকার সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতাও বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দামে ওঠানামা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সমন্বিত নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, প্রেটোল ১৬০ টাকা ও অকটেন ১৬৫ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে পারে আমাদের প্রতিবেশী দেশেগুলোতে এসব জ্বালানির দাম কত? আন্তর্জাতিক তেল সূচক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বার্তা সংস্থাগুলোর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তারিখের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোতে লিটারপ্রতি জ্বালানি তেলের বর্তমান খুচরা বাজারদর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। ভারত (রাজ্যভেদে) পেট্রোল: ১০২.১২ - ১১৬.১৫ ভারতীয় রুপি (প্রায় ১৩১ - ১৪৯ টাকা) অকটেন (প্রিমিয়াম): ১১৫.৫০ - ১২০.০০ ভারতীয় রুপি (প্রায় ১৪৮ - ১৫৪ টাকা) ডিজেল: ৯৫.২০ - ১০৪.২৩ ভারতীয় রুপি (প্রায় ১২২ - ১৩৪ টাকা) (ভারতে রাজ্যভিত্তিক ভ্যাট ও শুল্কের ভিন্নতার কারণে মেট্রো শহরগুলোতে মূল্যের তারতম্য রয়েছে) পাকিস্তান পেট্রোল (সুপার/প্রিমিয়াম ইউরো ৫): ৩৯০.০০ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১৭৩ টাকা) অকটেন: ৩৯৫ - ৪০০ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১৭৫ - ১৭৭ টাকা) ডিজেল (হালকা): ৩০৪ পাকিস্তানি রুপি ( প্রায় ১৩৪.৬৭ টাকা ) ডিজেল (হাইস্পিড): ৪২৪.০৪ পাকিস্তানি রুপি ( প্রায় ১৮৮ টাকা) শ্রীলঙ্কা: পেট্রোল (৯২ অকটেন): ৩৯৯ শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ১৪৮.২৪ টাকা) অকটেন (৯৫ অকটেন): ৪৭৫ শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ১৭৬.৪৭ টাকা) ডিজেল: ৩৮২ - ৪৭৮ (সুপার ৪ স্টার) শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ১৪২ - ১৭৮ টাকা) নেপাল পেট্রোল: ১৯৭ নেপালি রুপি থেকে ২০০ নেপালি রুপি (প্রায় ১৫৮ টাকা) অকটেন: ২৯৫.০০ নেপালি রুপি (প্রায় ২৩৬ টাকা) ডিজেল: ১৯৭ - ২০০ নেপালি রুপি (প্রায় ১৫৮ - ১৬০ টাকা) মিয়ানমার: পেট্রোল (মান ভেদে) : ৩৭১০ - ৩৮১৫ কিয়াত (প্রায় ২১৮ - ২২৪ টাকা) অকটেন (৯৫ অকটেন): ৪০৯২ কিয়াত (প্রায় ২৪১ টাকা) ডিজেল: ৪৩৩১ কিয়াত (প্রায় ২৫৫ টাকা) ভুটান পেট্রোল ও অকটেন: ৯৯: ১০৬ গুলট্রাম (প্রায় ১২৭ - ১৩৫ টাকা) ডিজেল: ১০৪.৩৮ - ১০৮.৬২ গুলট্রাম (প্রায় ১৩৪ থেকে ১৪০ টাকা) ভুটানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো ফুয়েল স্টেশনে ‘পেট্রোল’ ও ‘অকটেন’ নামে আলাদা দুটি পাম্প থাকে না। সেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূলত গ্যাসোলিন (পেট্রোল) ও ডিজেল- এই দুই ভাগে জ্বালানি বিক্রি হয়। তার মধ্যে পেট্রোল ও অকটেন হলো গ্যাসোলিন।আন্তর্জাতিক সূচক ও ভুটানের ফুয়েল স্টেশনগুলোতে যাকে অকটেন-৯৫ বা মোটর স্প্রিট (এমএস) বলা হয়, সেটিই মূলত সে দেশের প্রধান পেট্রোল। সূত্র: গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইস, এনডিটিভি
নাসির উদ্দিন
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
হিমালয়ের বিরোধপূর্ণ একটি অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের নতুন সীমান্ত চুক্তিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় পাকিস্তান-চীন সীমান্তকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে দিল্লি। তাদের দাবি, অঞ্চলটি ভারতের ভূখণ্ডের অংশ। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে দুর্গম পার্বত্য ওই এলাকায় সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় পাকিস্তান ও চীন। দুই দেশ ‘পাকিস্তান-চীন বাউন্ডারি জয়েন্ট কমিশন’ গঠনের বিষয়ে চুক্তি করেছে। পাকিস্তান এটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হবে। তবে ভারত এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারতীয় ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করা এলাকায় পাকিস্তান-চীন কোনো সীমান্তের আইনগত ভিত্তি তারা স্বীকার করে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। তথাকথিত যৌথ কমিশনকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। চুক্তিটি মূলত পাকিস্তান-চীন সীমান্তের শাকসগাম উপত্যকাসহ পার্বত্য এলাকার সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের শাকসগাম উপত্যকা ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান চীনের কাছে হস্তান্তর করে। তবে ভারত এটিকে লাদাখের অংশ হিসেবে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে। ভারতের দাবি, অঞ্চলটি ছিল সাবেক দেশীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরের অংশ। পাকিস্তান অবৈধভাবে অঞ্চলটি দখল করার পর চীনের কাছে হস্তান্তর করে। তাই ১৯৬৩ সালের চুক্তিকে ভারত কখনো স্বীকৃতি দেয়নি এবং এটিকে অবৈধ ও অকার্যকর বলে মনে করে। এ কারণেই নতুন ঘোষণাটি ভারতের কাছে বিশেষভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তানের অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত অধিকার পাকিস্তানের নেই। অন্যদিকে পাকিস্তানের অবস্থান হলো, জম্মু ও কাশ্মীর এখনও একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। তাই চীনের সঙ্গে ১৯৬৩ সালের সীমান্ত চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার ভারতের নেই। ইসলামাবাদ চুক্তিটিকে বৈধ বলে মনে করে। দিল্লির শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জ্যাকব বিবিসিকে বলেন, নতুন উদ্যোগটি পুরোপুরি নতুন কোনো ব্যবস্থা নয়; বরং পুরোনো একটি ব্যবস্থাকে আবার সক্রিয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান চুক্তিতেই একটি যৌথ সীমান্ত কমিশনের বিধান ছিল। এখন মূল বিষয় হলো, এটি কোন সময়ে কার্যকর করা হচ্ছে। জ্যাকবের মতে, এর সময় নির্ধারণের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে চীনের বিভিন্ন সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণের বৃহত্তর উদ্যোগ এবং পাকিস্তানের অন্যান্য সীমান্তে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার সময় চীন-পাকিস্তান সীমান্তে যোগাযোগ ও চলাচলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা অন্যতম। তবে এই উন্নয়নে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে বলেও মনে করেন জ্যাকব। বিশেষ করে ১৯৬৩ সালের চুক্তির একটি ধারার সঙ্গে বর্তমান উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় কাশ্মীর বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর যে দেশ ওই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তার সঙ্গে চুক্তিটি পুনরায় আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক তথ্য ও গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও ভারতের জন্য বিষয়টি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মনে করেন জ্যাকব। তার মতে, চীনের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও তথ্যপরিসরে তুলনামূলক প্রভাব বেশি থাকায় দেশটি বিশ্বজুড়ে নিজেদের মানচিত্র ও অবস্থান তুলে ধরতে পারছে। অন্যদিকে ভারতের প্রতিক্রিয়া অনেক সময় অন্যান্য দেশের রাজধানীগুলো উপেক্ষা করতে পারে। তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বাস্তব দিক থেকে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে এরই মধ্যে বিস্তৃত অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) এবং কারাকোরাম মহাসড়ক অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বর্তমানে আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমি এবং হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো হুসেইন হাক্কানি বিবিসিকে বলেন, নতুন কমিশনটি একই সঙ্গে বাস্তবধর্মী ও রাজনৈতিক। তিনি বলেন, এটি দুটিরই সমন্বয়। সীমান্ত ও সীমানা নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানো, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সিপিইসির সঙ্গে যুক্ত কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখার জন্য এটি একটি ব্যবস্থা। তবে এর মাধ্যমে ভারতকেও একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন হাক্কানি। তার মতে, কাশ্মীর ইস্যুতে বেইজিং এখনো পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গিকেই গুরুত্ব দেয়। হাক্কানি বলেন, চীন কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান কখনও মেনে নেয়নি। গিলগিট-বালতিস্তানকেও চীন পাকিস্তানের দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখে, ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। তার মতে, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের পর পাকিস্তানের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। ২০১৯ সালে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মতো পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৬৩ সাল থেকে চীনের সঙ্গে বাস্তবে যা হয়ে আসছে, সেটিকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পাকিস্তানের আপত্তি নেই। বেইজিংয়ের জন্যও এই উদ্যোগ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ভারতের প্রতি নিজেদের অবস্থান জানানোর বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন হাক্কানি। তিনি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করা চীনের জন্য কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক; দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং ভারতের সামনে চীন-পাকিস্তান দুই দিক থেকে সম্ভাব্য চাপের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘোষণার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। হাক্কানি বলেন, চীন সাধারণত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর আগেই পরিকল্পনা করে। ফলে যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্তও কিছু সময় আগেই নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তার মতে, সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের পর এই তথ্য প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়ে আশ্বস্ত করা এবং ভারতকে জানানো হয়েছে যে বহুপক্ষীয় যোগাযোগের অর্থ দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন নয়। তবে প্রতিটি বিষয়কে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন জ্যাকব। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) ওপর এর কোনো তাৎক্ষণিক বা দৃশ্যমান প্রভাব নেই। এ থেকে বোঝা যায়, গত সপ্তাহের ঘোষণার তাৎপর্য তাৎক্ষণিকভাবে হিমালয়ের বিরোধপূর্ণ সীমান্তের চিত্র বদলে দেওয়ার চেয়ে ভারত যে ব্যবস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে, সেগুলোকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মধ্যেই বেশি নিহিত। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট ও ধারাবাহিক উল্লেখ করে জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের অবৈধ দখল বলে ভারত যে ভূখণ্ডকে বিবেচনা করে, সেটিকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর এর কোনো প্রভাব নেই। তবে হাক্কানির মতে, এই বিরোধ কেবল সীমান্তের আইনগত বিষয় নয়। তিনি বলেন, সীমান্ত ও সীমানা নিয়ে ভারত ও চীনের মূল মতবিরোধ ভূ-রাজনৈতিক, মানচিত্রগত নয়। তাই সীমান্ত নিয়ে আলোচনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর সমাধানেরও একটি সীমা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চীনের দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠতা দিল্লির কাছে সেই বার্তাই অব্যাহতভাবে পৌঁছে দেবে। সূত্র : বিবিসি
আন্তর্জাতিক বাজারে দামে ওঠানামা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সমন্বিত নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, প্রেটোল ১৬০ টাকা ও অকটেন ১৬৫ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে পারে আমাদের প্রতিবেশী দেশেগুলোতে এসব জ্বালানির দাম কত? আন্তর্জাতিক তেল সূচক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বার্তা সংস্থাগুলোর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তারিখের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোতে লিটারপ্রতি জ্বালানি তেলের বর্তমান খুচরা বাজারদর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। ভারত (রাজ্যভেদে) পেট্রোল: ১০২.১২ - ১১৬.১৫ ভারতীয় রুপি (প্রায় ১৩১ - ১৪৯ টাকা) অকটেন (প্রিমিয়াম): ১১৫.৫০ - ১২০.০০ ভারতীয় রুপি (প্রায় ১৪৮ - ১৫৪ টাকা) ডিজেল: ৯৫.২০ - ১০৪.২৩ ভারতীয় রুপি (প্রায় ১২২ - ১৩৪ টাকা) (ভারতে রাজ্যভিত্তিক ভ্যাট ও শুল্কের ভিন্নতার কারণে মেট্রো শহরগুলোতে মূল্যের তারতম্য রয়েছে) পাকিস্তান পেট্রোল (সুপার/প্রিমিয়াম ইউরো ৫): ৩৯০.০০ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১৭৩ টাকা) অকটেন: ৩৯৫ - ৪০০ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১৭৫ - ১৭৭ টাকা) ডিজেল (হালকা): ৩০৪ পাকিস্তানি রুপি ( প্রায় ১৩৪.৬৭ টাকা ) ডিজেল (হাইস্পিড): ৪২৪.০৪ পাকিস্তানি রুপি ( প্রায় ১৮৮ টাকা) শ্রীলঙ্কা: পেট্রোল (৯২ অকটেন): ৩৯৯ শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ১৪৮.২৪ টাকা) অকটেন (৯৫ অকটেন): ৪৭৫ শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ১৭৬.৪৭ টাকা) ডিজেল: ৩৮২ - ৪৭৮ (সুপার ৪ স্টার) শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ১৪২ - ১৭৮ টাকা) নেপাল পেট্রোল: ১৯৭ নেপালি রুপি থেকে ২০০ নেপালি রুপি (প্রায় ১৫৮ টাকা) অকটেন: ২৯৫.০০ নেপালি রুপি (প্রায় ২৩৬ টাকা) ডিজেল: ১৯৭ - ২০০ নেপালি রুপি (প্রায় ১৫৮ - ১৬০ টাকা) মিয়ানমার: পেট্রোল (মান ভেদে) : ৩৭১০ - ৩৮১৫ কিয়াত (প্রায় ২১৮ - ২২৪ টাকা) অকটেন (৯৫ অকটেন): ৪০৯২ কিয়াত (প্রায় ২৪১ টাকা) ডিজেল: ৪৩৩১ কিয়াত (প্রায় ২৫৫ টাকা) ভুটান পেট্রোল ও অকটেন: ৯৯: ১০৬ গুলট্রাম (প্রায় ১২৭ - ১৩৫ টাকা) ডিজেল: ১০৪.৩৮ - ১০৮.৬২ গুলট্রাম (প্রায় ১৩৪ থেকে ১৪০ টাকা) ভুটানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো ফুয়েল স্টেশনে ‘পেট্রোল’ ও ‘অকটেন’ নামে আলাদা দুটি পাম্প থাকে না। সেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূলত গ্যাসোলিন (পেট্রোল) ও ডিজেল- এই দুই ভাগে জ্বালানি বিক্রি হয়। তার মধ্যে পেট্রোল ও অকটেন হলো গ্যাসোলিন।আন্তর্জাতিক সূচক ও ভুটানের ফুয়েল স্টেশনগুলোতে যাকে অকটেন-৯৫ বা মোটর স্প্রিট (এমএস) বলা হয়, সেটিই মূলত সে দেশের প্রধান পেট্রোল। সূত্র: গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইস, এনডিটিভি
গাজার দক্ষিণাঞ্চলের আল মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক শিশুসহ অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গাজাজুড়ে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল মাওয়াসিতে নিহত শিশুটির নাম ইসমাইল আল বারদাওয়িল। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সূত্র তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই দিনে জাবালিয়া ও দেইর আল বালাহ এলাকায়ও ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আরও দুজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ ছাড়া মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থীশিবির এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশুও রয়েছে বলে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে। উত্তর গাজার জাবালিয়া আল বালাদ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাফাহর উত্তরে শাকুশ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ ও ট্যাংক থেকে ব্যাপক গুলি চালিয়েছে। খান ইউনিসের হামাদ সিটি এলাকায় গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নারী। একই এলাকায় একটি গোলার আঘাতে আরও দুজন আহত হন। এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও হামলা ও গুলিবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন ঘটনায় আল মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু ও বেসামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ও আহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে বলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়ে ২৮ জন ‘সন্ত্রাসী’ ও আত্মঘাতী হামলাকারীকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তান। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় এ দাবি জানায়। তবে আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষ বলেছে, হামলায় একই পরিবারের তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, আফগানিস্তানের দুটি প্রদেশে এসব হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি ও আস্তানাকে লক্ষ্য করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে আফগান তালেবানের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত অভিযোগ করেন, কুনার প্রদেশের একটি বাড়িতে পাকিস্তানি বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দুটি স্থানে বোমাবর্ষণে একটি দোকান ও একটি খালি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান। সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে এ ধরনের হামলার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। এ হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সীমান্তে প্রায় তিন মাস ধরে চলা তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হামলার পেছনে সীমান্ত উত্তেজনা পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটিতে অবস্থানকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের ভেতরে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করছে। তবে তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদকে তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করছে। সাম্প্রতিক হামলার আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোহাটে একটি পুলিশ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা হয়। শুক্রবারের ওই হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৭ জন আহত হন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আফগানিস্তানে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সীমান্তপারের এসব হামলার যোগসূত্র রয়েছে। এর এক দিন পর আফগান সীমান্তসংলগ্ন হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে সংঘর্ষে ছয় পাকিস্তানি সেনা ও আটজন বিদ্রোহী নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এসব ঘটনার পরই আফগান ভূখণ্ডে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হলো। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়। এরপর বিমান হামলা, ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের ঘটনায় উভয় পক্ষেই উল্লেখযোগ্য প্রাণহানির খবর এসেছে। নতুন হামলার ঘটনায় সীমান্ত পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।