মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় সুদের হার বাড়িয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই)। বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিনির্ধারণী সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম সুদের হার বাড়াল ব্যাংকটি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটল যুক্তরাজ্যও। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ধারাবাহিকভাবে সুদের হার বাড়ানোর সূচনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অবসান না হলে ভবিষ্যতে আরও এক দফা সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাদের নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগামী বছর ১ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এর আগে উভয় বছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ১ দশমিক ১ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। ব্যাংকটির পূর্বাভাস, আগামী বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এদিকে ২০২৭ সালের শুরু থেকে দেশটির লাখো মানুষের জ্বালানি বিল আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: ডন নিউজ
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনায় ইউরোপের প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীন কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং পৃথক পৃথক আলোচনার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকে একজন একক প্রতিনিধি নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ওই প্রতিনিধির হাতে আলোচনার জন্য সুস্পষ্ট ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়ারও প্রস্তাব করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব কথা বলেন মেলোনি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে মেলোনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও পক্ষের উদ্যোগে একাধিক আলোচনার কাঠামো তৈরি হচ্ছে। এতে ইউরোপের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে এবং মনে হচ্ছে, কোনো সুসংগঠিত পরিকল্পনা ছাড়াই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো শান্তি আলোচনায় ইউরোপ কার্যত গুরুত্ব হারাতে পারে। তিনি বলেন, আলোচনার ধরন বা কাঠামোর চেয়ে চূড়ান্ত ফলাফল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই ফলাফলে কার্যকর প্রভাব রাখতে হলে ইউরোপকে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট অবস্থান থেকে কথা বলতে হবে। এ জন্য কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং তাঁর আলোচনার ক্ষমতা কতটুকু হবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করা প্রয়োজন। মেলোনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি নিজে কিংবা ইতালির জন্য আলোচনার টেবিলে কোনো বিশেষ আসন চাইছেন না। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়া কোনো প্রতিনিধি সদস্যদেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার নিয়ে আলোচনা করলে তা মেনে নেবে না রোম। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ইস্যুতে বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেছে। কোথাও কয়েকটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠক করছেন, কোথাও ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। আবার ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোর মধ্যে পৃথক আলোচনা চলছে। মেলোনির মতে, এসব উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় ইউরোপের কূটনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এমন পক্ষগুলোর স্বার্থ রক্ষা করছে, যারা যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে চায়। মানুষের জীবন এবং ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত থাকায় এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম তিন দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। এর আগে বুধবার ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রাসেলসে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ন্যাটো ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়েও ন্যাটোর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার পৃথক আলোচনা হয়েছে। মেলোনি চান, আগামী সপ্তাহে ডাবলিনে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় কাউন্সিলের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় আসুক। এরপর যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ডিসেম্বরের সম্মেলনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় আর্থিক ও সামরিক সহায়তাকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনায় জোটটির আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইউরোপের অবস্থান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মেলোনির সাম্প্রতিক চিঠি সেই উদ্বেগকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইন বা পানিতে পেতে রাখা বোমার আঘাতে আরও দুটি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরেছে বলে জানিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। এর মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় ওই পানিপথে অন্তত ৫টি ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেল। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, সামুদ্রিক সতর্কতা উপেক্ষা করে এবং সমন্বয় ছাড়াই নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করার কারণেই এই দুই তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অনুমোদনহীন পথ ব্যবহার করে পার হওয়ার চেষ্টা করায় মোট পাঁচটি ট্যাংকারে আগুন লাগার কথা জানিয়েছে নৌবাহিনী। এদিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এই তথ্য জানান। এর আগে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আঘাত হানার আগে ধ্বংস করার দাবি করেছিল জোট, যদিও হুতিরা এ দাবি অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর হাজার হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এবং ডজনের বেশি জাহাজে প্রস্তুত রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই তারা ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করবে। গত মাসেও পত্রিকাটি জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এই হামলা হবে সংক্ষিপ্ত তবে তীব্র। সে সময় মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে সোলার বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বিভিন্ন বড় রিফাইনারিতে ড্রোন হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এশিয়া প্যাসিফিক, আসিয়ান এবং সেন্ট্রাল এশিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন মিটিংয়ে জ্বালানি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট উত্তরণে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে ব্যাটারি ও প্যানেল বসিয়ে খুব সহজেই ঘরে ঘরে সোলার সিস্টেম চালু করা সম্ভব। মন্ত্রী বলেন, গত ৮ মাসে জ্বালানি আমদানিতে সরকারকে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে, যা জনগণেরই করের টাকা। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রা ও সরকারি রাজস্ব সাশ্রয় হবে, যা দেশের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে সোলার স্থাপন করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আর্থিক লাভেরও সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি ‘বেশি বেশি সোলার লাগান, কম-কম বিদেশের ওপর নির্ভর করুন’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী সোলার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, মাদকের কবলে পড়ে তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। মাদক যুবসমাজকে গ্রাস করলে জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এর বিস্তার রোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির এবং রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলার ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা), আরএমপির বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারত থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না। তিনি তো শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসবেন না যে, পাসপোর্ট দিয়ে ফিরিয়ে আনতে হবে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ সময় চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই আঞ্চলিক করিডোরে যুক্ত হতে ঢাকার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে এর আগে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, লিউ হাইশিংয়ের এই সফরের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর ও গতিশীল হবে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) মন্ত্রী লিউ হাইশিং তিন দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার ঢাকা ছাড়েন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান তিনি। ফেসবুক স্ট্যাটাসে সামান্তা বলেন, কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। আপনারা জানেন আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত- কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে। তিনি আরও বলেন, গত ১১ মাস যাবত আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক-বিতর্ক বা আলাপ-আলোচনা করেছি। যেহেতু সংগঠনে নানান চড়াই উৎরাই থাকে, সেখানে দল যদি ভুল পথে যায় সেই পথ থেকে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করা আমার রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল। সেই কর্তব্য পালন করতে এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলাম। কারণ দলের গৃহীত নীতিসমূহকে স্বীকৃত ফোরামগুলোতে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে চ্যালেঞ্জ করা ব্যতীত দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ভিন্ন কোনো গণতান্ত্রিক পন্থা ছিল না। আজ প্রায় এক বছরের এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করলাম কারণ এনসিপির পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব বলে মনে করি না। সামান্তা বলেন, পদত্যাগ করার জন্য আমি হয়তো আরও উপযোগী সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারতাম, যখন দলের কোনো একটি সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার পদত্যাগকে মূল্যায়ন করা সহজ হতো। কিন্তু আমি মনে করি এই অপেক্ষা অর্থহীন। এনসিপি কখনো কখনো নানা ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিতেই পারে (এমনকি জামায়াতের সাথে জোট ত্যাগ করার মতো সিদ্ধান্ত) কিন্তু তবুও পুরোনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে বলে আমি মনে করি না। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, পুরনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনোই রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা আনার জন্য সহায়ক হবে না বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন বিমান সংস্থার ১৯টি উড়োজাহাজ বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত দুটি বিমান বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলার হুমকি ভুয়া ছিল। একযোগে একাধিক বিমানে হামলার হুমকি আসায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুমকি পাওয়া ১৯টি বিমানের মধ্যে দুটি বিমানকে বিকল্প গন্তব্যে অবতরণ করানো হয়। অন্য বিমানগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়। এ ছাড়া হুমকির কারণে অন্তত দুটি বিমান উড্ডয়ন করেনি। পরে সেগুলোতে পুলিশের পক্ষ থেকে তল্লাশি চালানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত হুমকি পাওয়া কোনো বিমানে বোমার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইদি আলেক্সান্ডার জানিয়েছেন, ইউরোপের বিভিন্ন বিমানে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ইউরোপের অল্পসংখ্যক বিমান এসব হুমকির কারণে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ভুয়া হুমকি মোকাবিলায় প্রচলিত নিরাপত্তা নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের হুমকির কারণে ইউরোপের বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এদিকে বিমান সংস্থাগুলো যেকোনো ধরনের বোমা হামলার হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সূত্র: বিবিসি
ইব্রাহিমের একমাত্র গোলে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ শুরু করল বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বিশ্বনাথের কয়েকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং ভুটানের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি দল। শুরুর দিকে দুই উইং ব্যবহার করে আক্রমণ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি এবং দূরপাল্লার শটেও গোলের চেষ্টা করতে দেখা যায় স্বাগতিকদের। প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়েও এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৬৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা, যেখানে ভুটানের দখলে ছিল ৩৬ শতাংশ। এই সময়ে বাংলাদেশের নেওয়া ১২টি শটের বিপরীতে ভুটান শট নেয় ৪টি। তবে লক্ষ্যে শটের সংখ্যা দুই দলেরই ছিল সমান—দুটি করে। বিরতির পরও আক্রমণের গতি ধরে রাখে বাংলাদেশ। অবশেষে ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ইব্রাহিমের গোলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায় দল। গোলের শুরুটা হয় বক্সে করা একটি ক্রস থেকে। সেই বলে হেড নেন শমিত সোম। তাঁর হেডে বল ওপরের দিকে উঠে গেলে গোলমুখের সামনে সুযোগ পেয়ে যান ইব্রাহিম। দারুণভাবে পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন এই বদলি ফরোয়ার্ড।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেও জালের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। অন্যদিকে ভুটানও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বিরতিতে দুই দলই মাঠ ছেড়েছে গোলশূন্য সমতায়। ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে নামা। ইনজুরির কারণে আসিয়ান কাপে স্কোয়াডে থাকতে না পারলেও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে অনুশীলনে তাকে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলিয়েছেন কোচ। ভুটানের বিপক্ষে শুরুর একাদশেও তাকে সেই পজিশনে দেখা যায়। প্রথমার্ধে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। অধিকাংশ সময়ই ভুটানের অর্ধে খেলা হলেও আক্রমণগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত গোল আদায় করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ডান প্রান্ত দিয়ে রাকিব বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন। তার একটি ক্রসে বিশ্বনাথ মাথা ছোঁয়ালেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এ ছাড়া বিশ্বনাথের নেওয়া কয়েকটি শটও লক্ষ্যে থাকেনি। নতুন পজিশনে বিশ্বনাথের খেলায় কিছুটা অনভিজ্ঞতাও চোখে পড়েছে। বল দখলে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ প্রথমার্ধে কার্যকর ও পরিকল্পিত আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ম্যাচের আগে নির্ধারিত একাদশে তপু বর্মণকে রাখা হলেও শেষ মুহূর্তে ব্যথা পাওয়ায় তার পরিবর্তে মাঠে নামেন কাজেম শাহ। অন্যদিকে ভুটান ম্যাচের অধিকাংশ সময় রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেছে। তবে ৩০ মিনিটের পর কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে দলটি। অধিনায়ক চ্যানচো গ্যালেস্টাইন দ্রুতগতিতে কয়েকবার বাংলাদেশের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন। তার একটি দূরপাল্লার শট দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের অপেক্ষা ঘোচানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে ফিরতে হবে স্বাগতিকদের।
নাসির উদ্দিন
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় সুদের হার বাড়িয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই)। বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিনির্ধারণী সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম সুদের হার বাড়াল ব্যাংকটি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটল যুক্তরাজ্যও। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ধারাবাহিকভাবে সুদের হার বাড়ানোর সূচনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অবসান না হলে ভবিষ্যতে আরও এক দফা সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাদের নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগামী বছর ১ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এর আগে উভয় বছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ১ দশমিক ১ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। ব্যাংকটির পূর্বাভাস, আগামী বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এদিকে ২০২৭ সালের শুরু থেকে দেশটির লাখো মানুষের জ্বালানি বিল আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: ডন নিউজ
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনায় ইউরোপের প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীন কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং পৃথক পৃথক আলোচনার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকে একজন একক প্রতিনিধি নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ওই প্রতিনিধির হাতে আলোচনার জন্য সুস্পষ্ট ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়ারও প্রস্তাব করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব কথা বলেন মেলোনি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে মেলোনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও পক্ষের উদ্যোগে একাধিক আলোচনার কাঠামো তৈরি হচ্ছে। এতে ইউরোপের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে এবং মনে হচ্ছে, কোনো সুসংগঠিত পরিকল্পনা ছাড়াই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো শান্তি আলোচনায় ইউরোপ কার্যত গুরুত্ব হারাতে পারে। তিনি বলেন, আলোচনার ধরন বা কাঠামোর চেয়ে চূড়ান্ত ফলাফল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই ফলাফলে কার্যকর প্রভাব রাখতে হলে ইউরোপকে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট অবস্থান থেকে কথা বলতে হবে। এ জন্য কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং তাঁর আলোচনার ক্ষমতা কতটুকু হবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করা প্রয়োজন। মেলোনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি নিজে কিংবা ইতালির জন্য আলোচনার টেবিলে কোনো বিশেষ আসন চাইছেন না। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়া কোনো প্রতিনিধি সদস্যদেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার নিয়ে আলোচনা করলে তা মেনে নেবে না রোম। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ইস্যুতে বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেছে। কোথাও কয়েকটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠক করছেন, কোথাও ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। আবার ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোর মধ্যে পৃথক আলোচনা চলছে। মেলোনির মতে, এসব উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় ইউরোপের কূটনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এমন পক্ষগুলোর স্বার্থ রক্ষা করছে, যারা যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে চায়। মানুষের জীবন এবং ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত থাকায় এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম তিন দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। এর আগে বুধবার ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রাসেলসে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ন্যাটো ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়েও ন্যাটোর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার পৃথক আলোচনা হয়েছে। মেলোনি চান, আগামী সপ্তাহে ডাবলিনে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় কাউন্সিলের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় আসুক। এরপর যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ডিসেম্বরের সম্মেলনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় আর্থিক ও সামরিক সহায়তাকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনায় জোটটির আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইউরোপের অবস্থান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মেলোনির সাম্প্রতিক চিঠি সেই উদ্বেগকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইন বা পানিতে পেতে রাখা বোমার আঘাতে আরও দুটি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরেছে বলে জানিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। এর মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় ওই পানিপথে অন্তত ৫টি ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেল। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, সামুদ্রিক সতর্কতা উপেক্ষা করে এবং সমন্বয় ছাড়াই নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করার কারণেই এই দুই তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অনুমোদনহীন পথ ব্যবহার করে পার হওয়ার চেষ্টা করায় মোট পাঁচটি ট্যাংকারে আগুন লাগার কথা জানিয়েছে নৌবাহিনী। এদিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এই তথ্য জানান। এর আগে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আঘাত হানার আগে ধ্বংস করার দাবি করেছিল জোট, যদিও হুতিরা এ দাবি অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর হাজার হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এবং ডজনের বেশি জাহাজে প্রস্তুত রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই তারা ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করবে। গত মাসেও পত্রিকাটি জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এই হামলা হবে সংক্ষিপ্ত তবে তীব্র। সে সময় মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন বিমান সংস্থার ১৯টি উড়োজাহাজ বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত দুটি বিমান বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলার হুমকি ভুয়া ছিল। একযোগে একাধিক বিমানে হামলার হুমকি আসায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুমকি পাওয়া ১৯টি বিমানের মধ্যে দুটি বিমানকে বিকল্প গন্তব্যে অবতরণ করানো হয়। অন্য বিমানগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়। এ ছাড়া হুমকির কারণে অন্তত দুটি বিমান উড্ডয়ন করেনি। পরে সেগুলোতে পুলিশের পক্ষ থেকে তল্লাশি চালানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত হুমকি পাওয়া কোনো বিমানে বোমার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইদি আলেক্সান্ডার জানিয়েছেন, ইউরোপের বিভিন্ন বিমানে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ইউরোপের অল্পসংখ্যক বিমান এসব হুমকির কারণে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ভুয়া হুমকি মোকাবিলায় প্রচলিত নিরাপত্তা নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের হুমকির কারণে ইউরোপের বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এদিকে বিমান সংস্থাগুলো যেকোনো ধরনের বোমা হামলার হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সূত্র: বিবিসি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।