লর্ডস টেস্ট শুরুর আগে কেন উইলিয়ামসন বলেছিলেন, এই মাঠে এটিই তার শেষ টেস্ট। কিন্তু তার ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট হয়ে যাবে এটি, কে ভাবতে পেরেছিল! উইলিয়ামসন নিজেও আসলে তখনও জানতেন না। পরের কয়েক দিনের বদলে গেছে তার ভাবনা। গত সপ্তাহে লর্ডসের ব্যালকনিতে বসে উইলিয়ামসন ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে শুরু করেন, ১১০তম টেস্টই হবে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে তার শেষ ম্যাচ। পরের কয়েক দিনে মা-বাবা ও সঙ্গিনীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি, তাতে তার ভাবনা আরও পোক্ত হয়। এরপর দলের ঘনিষ্ঠ সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করেন, এর মধ্যে ছিলেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। পরে প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার এবং টিম ম্যানেজার মাইক স্যান্ডলকে জানিয়ে দেন, তার সময় শেষ। তার ছোট্ট কথা, সরে দাঁড়ানোর জন্য এটাই সঠিক সময় বলে মনে হচ্ছে। নিউ জিল্যান্ড দলে তার বেশির ভাগ সতীর্থ খবরটি জানতে পারেন শুক্রবার সকালে, ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের একটু আগে। টিম হোটেলে স্বভাবসুলভ আয়েশি ভঙ্গিতে কোনো কারণ ছাড়াই ‘কফি ও আড্ডার’ জন্য সবাইকে ডাকেন তিনি। সেখানেই জানান যে, দেশের হয়ে শেষ ম্যাচটি তিনি খেলে ফেলেছেন। তার সিদ্ধান্ত, শেষ করে সিদ্ধান্তের সময়টা চমকে দিয়েছে নিউ জিল্যান্ড দলসহ ক্রিকেট বিশ্বের অনেকেই। ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটি মোটে শেষ হয়েছে। সামনের মৌসুমে আছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ। কিন্তু উইলিয়ামসন নিজের ভাবনায় পরিষ্কার, দলে পুরোপুরি নিবেদিত না হয়ে শুধু রেকর্ডে কয়েকটি ম্যাচ যোগ করার কোনো আগ্রহ তার নেই এবং তিনি নিশ্চিত বুঝতে পেরেছেন যে, তার সময় শেষ হয়ে এসেছে। এখন যখন ড্রেসিংরুমের দিকে তাকাই এবং এখানকার প্রতিভাবান ছেলেদের দেখি, আর এই দল যে পথে এগোতে চাইছে বলে মনে হয়, আমার মনে হয়েছে, সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় এটিই। এটি নিয়ে আমি বেশ ভালো অনুভব করছি। অনেক কিছু নিয়ে ভাবলেই ব্যাপারটা মজার মনে হয়, কিন্তু সব ভালো কিছুরই শেষ আছে, আর এখন তো মৌসুমও বদলাচ্ছে। দুই বছর আগে বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই নিউ জিল্যান্ডের হয়ে বেছে বেছে খেলছেন তিনি। এটা আমার মাথায় ছিল না। তবে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে থাকলে প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিতে এবং পুরোপুরিভাবে নিজেকে সঁপে দিতে হয়, কারণ এটাই করে এসেছি সবসময় এবং দলের বাকি সবার কাছ থেকেও এটাই আশা করি, আর তারাও নিঃসন্দেহে খুব ভালোভাবে তা করে থাকে। আর হ্যাঁ, কিছুটা আত্মোপলব্ধিও ছিল। ম্যাচটি যথেষ্ট আকর্ষণীয় ছিল, কিন্তু ড্রেসিংরুমের ব্যালকনিতে বসে এটা নিয়ে কিছুটা ভাবছিলাম, এবং পরের দিনগুলোতে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় নিচ্ছিলাম… নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দলের সঙ্গে কাটানো সময়ের জন্য কৃতজ্ঞ থাকার এই অনুভূতিটুকু আমার খুব ভালো লাগে, এবং সেই সঙ্গে দলের মধ্যে যে রোমাঞ্চ ও সম্ভাবনা দেখতে পচ্ছি, সেটাও ভালো লাগে। সিরিজের মাঝপথে বিদায়ের প্রশ্নটি যৌক্তিক হলেও উইলিয়ামসসের ভাবনাকে সম্মান করছেন কোচ রব ওয়াল্টার। একাদশে কেন উইলিয়ামসনের নাম না থাকলে দল আরও শক্তিশালী হয় না, কারণ সে একজন কিংবদন্তি। সবাই জিজ্ঞেস করছে, ‘সিরিজের মাঝখানে কেন?’ কিন্তু তার কারণগুলো শুনলে পুরোপুরি বুঝতে পারবেন।’ সে এমনই মানুষ এবং দলের প্রতি তার সম্মানকেই প্রকাশ করে এটি। সে শুধু সিরিজ শেষ করার জন্য খেলা চালিয়ে যাচ্ছে না, বরং এমন একজনকে সুযোগটি দিচ্ছে, যে তার জায়গা নেবে এবং এই দলের জন্য আরও দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা পালন করবে। ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড ও অর্জন লেখা হয়ে আছে উইলিয়ামসনের নামের পাশে। তবে তিনি স্মরণীয় হতে চান অন্যভাবে। ওহ গড , আমি এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না (কীভাবে স্মরণীয় থাকতে চান)। এমন একজন হিসেবে, যে দলকে গভীরভাবে ভালোবাসত, সবসময় আরও ভালো কিছু করতে চাইত এবং একজন ক্রিকেটার হিসেবে নিজের কাজের প্রতি গভীরভাবে নিবেদিত ছিল। আমি এই সবকিছুর জন্য সত্যিই, সত্যিই কৃতজ্ঞ। তার এই অবসর শুধুই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও খেলা চালিয়ে যানে কি না, নিশ্চিত নন এখনও। যখন পরিস্থিতি আসবে, তখন সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব। খেলার ব্যাপারে আমার তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে দেখা যাক।
বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে গুরুত্বপূর্ণ এক খেলোয়াড়কে হারানোর শঙ্কা ভর করেছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। দেশটির সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের খবর অনুযায়ী, প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। বাংলাদেশ সময় গত রোববার সকালে যুক্তরাষ্ট্রে হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে পেশিতে টান অনুভব করেন তাগলিয়াফিকো। পরের প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে বেঞ্চেও ছিলেন না তিনি। বৃহস্পতিবার পরীক্ষায় তার পেশিতে চোট ধরা পড়ে। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে ওই দিনই কোচিং স্টাফ ও চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করেন এবং ফিজিওথেরাপি সেশনে অংশ নেন ৩৩ বছর বয়সী লেফট-ব্যাক। আর্জেন্টিনা দলের কোচিং স্টাফ আশা করছে, আগামী ২২ জুন দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাগলিয়াফিকোকে পাওয়া যাবে। যদিও সবকিছু নির্ভর করছে তার সেরে ওঠার ওপর। চোট থাকা সত্ত্বেও তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়নি, কারণ দলের মূল ও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন তিনি। বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার সকালে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। টিওয়াইসি স্পোর্টস লিখেছে, এই ম্যাচে তাগলিয়াফিকোর জায়গায় ফাকুন্দো মেদিনার খেলার জোরাল সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে কানাডা। অধিনায়ক আলফুঁস ডেভিসকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে পাচ্ছে না তারা। গত মাসে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে পিএসজির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান ডেভিস। ক্যারিয়ার জুড়েই বারবার চোটের আঘাতে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাও আছে। কানাডার সবশেষ ২১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে কেবল দুটিতে খেলতে পেরেছেন এই ডিফেন্ডার। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১টায় টরন্টো স্টেডিয়ামে বসনিয়ার মুখোমুখি হবে কানাডা। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোচ জেসি মার্শ নিশ্চিত করেন, এই ম্যাচে পাওয়া যাবে না ডেভিসকে। বুধবার এমআরআই রিপোর্টে তাকে নিয়ে আশাব্যঞ্জক লক্ষণ দেখা গেছে বলেও জানান তিনি। আগামীকাল (শুক্রবার) সে খেলতে পারবে না, কিন্তু সে বরাবরের মতোই পেশির চোট থেকে সেরে ওঠার খুব ভালো সামর্থ্য দেখাচ্ছে। আমরা আশাবাদী যে, আগামী দিনগুলো ও সপ্তাহগুলোয় (তার পুনর্বাসনের) সবকিছু দ্রুত এগিয়ে নিতে পারব এবং তাকে শিগগিরই এখানে অবদান রাখার সুযোগ দিতে পারব। ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ সময় আগামী ১৯ জুন কাতার ও ২৫ জুন শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা।
দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শেষ দুটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো; কিন্তু পারফরম্যান্সে আলো ছড়াতে পারেননি তিনি। নষ্ট করেছেন অনেক সুযোগ। ফলে মূল পর্বে তিনি কতটা কার্যকর হতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাদের উদ্দেশ্যেই যেন ‘বিশ্বকাপে দেখিয়ে দেওয়ার’ পাল্টা হুমকি ছুঁড়লেন পর্তুগিজ মহাতারকা। চিলির বিপক্ষে গত শনিবার প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে বিরতির পর রোনালদোকে আর মাঠে নামাননি পর্তুগাল কোচ। পরের ম্যাচে গত বুধবার নাইজেরিয়ার বিপক্ষেও একই স্কোরলাইনে জয় পায় পর্তুগাল এবং ওই ম্যাচে এক ঘণ্টার একটু বেশি সময় খেলে তিনটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন অধিনায়ক, যা তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। এমনকি তার ওই পারফরম্যান্সের পর আবারও সমালোচকদের অনেকে বলতে শুরু করে, রোনালদোকে ছাড়াই এই পর্তুগাল দল বেশি ভালো। তার ফিটনসে নিয়েও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। দেশে ওই দুই প্রীতি ম্যাচ খেলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে শুক্রবার বিকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রোনালদো বলেন, “শারীরিকভাবে? আমি ভালো আছি… আমার খেলা আপনারা দেখেননি।” দলের প্রস্ততি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন পর্তুগাল অধিনায়ক। একই সঙ্গে মূল লড়াইয়ে নিজের মতো করেই দুর্দান্ত কিছুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাখলেন তিনি। “(অনুশীলন) ভালো হয়েছে, তবে ক্লান্তিকর ছিল, কারণ আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। ম্যাচগুলোয় আমরাই আধিপত্য করেছি। তবে আসল বিষয় হলো, আগামী ১৭ জুন যখন (আমাদের) ম্যাচ শুরু হবে, প্রথম ম্যাচে এবং চাপ সত্যিকার অর্থে বাড়তে থাকব… সেই সময় আমরা সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নদের দেখব। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলের মালিক রোনালদো, ২২৭ ম্যাচে ১৪৩ গোল করেছেন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য ট্রফি জিতেছেন তিনি, জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার আগে আল নাস্রের হয়ে পেয়েছেন সৌদি প্রো লিগে প্রথম শিরোপার স্বাদ। এত এত সাফল্যের ভীড়ে তার ক্যারিয়ারে রয়ে গেছে বড় এত অপূর্ণতাও। কখনও জিততে পারেননি বিশ্বকাপ। পর্তুগালও কখনও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়নি। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায়, ৪১ বছর বয়সে এসে নিজের ও দেশের আরাধ্য স্বপ্নপূরণের শেষ চেষ্টায় নামতে যাচ্ছেন রোনালদো। পর্তুগাল কি এবার পারবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে- এমন প্রশ্নে রোনালদো বললেন, “(টুর্নামেন্টের) শেষেই আমরা তা জানতে পারব। “আমরা সেই লক্ষ্যে মুখিয়ে আছি; আমরা জানি বিশ্বকাপ সবসময়ই একটা স্পেশাল টুর্নামেন্ট, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতো। তাই আমরা অনেক আশা নিয়ে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। আগামী বুধবার ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে পর্তুগালের। ‘কে’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম সেবা বিঘ্নিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর এমন সমস্যা দেখা দেয়। তবে প্রায় ৪০ মিনিট পর থেকে পরিসেবাগুলো স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর আগে ফেসবুকে প্রবেশ করতে গেলে একটি এরর (error) মেসেজ দেখা যায়। যেখানে লেখা দেখায়, ‘Sorry, something went wrong’। এতে বিভ্রান্তিতে পড়েন ব্যবহারকারীরা। এ বিষয়ে মেটা থেকে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে রিয়েল-টাইম আউটেজ মনিটরিং ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টরের মতে, ১২ জুন সন্ধ্যার ৭টা ৩০ থেকে ফেসবুক ডাউন হওয়ার রিপোর্ট করতে শুরু করেন ব্যবহারকারীরা। আনাস নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘হঠাৎ ফেসবুকে ঢুকতে না পেরে ভয় পেয়ে যাই। ভেবেছিলাম আমার অ্যাকাউন্টেই সমস্যা। পরে দেখি অন্যরাও একই সমস্যায় পড়েছেন।’ কাইয়ুম নামের আরেক গ্রাহক বলেন, ‘আমি ফেসবুকে পোস্ট করতে গিয়ে দেখি, পোস্ট হচ্ছে না। এরপর মেসেঞ্জারে ঢুকতে গেলে সেটি লগ-আউট হয়ে যায়। হোয়াটসঅ্যাপেও দেখি একই ধরনের সমস্যা। প্রায় ৪০ মিনিট পর এগুলো স্বাভাবিক হয়।’ মেহেদী নামের আরেকজন বলেন, ফেসবুক ফিরেছে, তবে গতি একটু ধীর। পেজ লোডিং হতে সময় নিচ্ছে।
বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক বার্তায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, ১০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির নবনিযুক্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব এনার্জি কাইল হাউসভিট। বৈঠকে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আধুনিক জ্বালানি প্রযুক্তির আদান-প্রদান বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করতে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে একটি বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছে। সফরকালে দেশটির সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কারিগরি ও নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। শুক্রবার মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘এডুকেশন এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার দেশের সকল নাগরিকের জন্য আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নারী শিক্ষার বিকল্প নেই। অভিভাবকদের সচেতনতা ও ইতিবাচক মনোভাব নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পসমূহ পরিদর্শন করেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভা শেষে তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানিসহ অন্যান্য অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্য আফ্রিকার দেশ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুই আইনজীবী ও এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ খবর জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানোর তালিকায় থাকা ইরানি নাগরিকদের মধ্যে দুই নারী আছেন, যারা ইরানে ফেরত গেলে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে পারেন বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী এমিলি ট্রস্টল। এই দুই নারীর একজন খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন এবং অন্যজন গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন কর্মী বলে জানান তিনি। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের (সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক) সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রদপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্য আফ্রিকার এই দেশটির একটি চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তথাকথিত তৃতীয় দেশে বিতাড়িত ব্যক্তিদের গ্রহণ করার কথা রয়েছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের। আইনজীবী ট্রস্টল জানান, দুই ইরানি নারী ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আটক হন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। পরে মার্কিন অভিবাসন বিষয়ক বিচারকের কাছ থেকে তারা ‘উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল’ নামক আইনি সুরক্ষা পান। এই সুরক্ষার আওতায় কোনও অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো হলে যদি সেখানে তার নিপীড়নের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ৫০ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে তাকে সেখানে পাঠানো থেকে বিরত থাকা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে চুক্তির আওতায় প্রথম যে ফ্লাইটটি সেদেশে যাবে, তাতে প্রায় ২০ জন অভিবাসী থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে ইরানের নাগরিক ছাড়াও সিরিয়া ও আফগানিস্তানের নাগরিক থাকবে। দুই আইনজীবী জানিয়েছেন, ফ্লাইটটি আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ছেড়ে যেতে পারে। এক তুর্কি নাগরিকও এই ফ্লাইটে থাকতে পারেন বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন। তুরস্কের ওই নাগরিকও রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে দেশ ছেড়েছিলেন এবং তিনিও যুক্তরাষ্ট্রে ‘উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল’ আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তার আইনজীবী একথা জানিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এমন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দিতে তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে, যাদেরকে আইনগত কারণে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। এর আগে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের প্রতিবেশী দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের চুক্তি করেছে। বর্তমানে দেশটিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশের সঙ্গে চুক্তিকে বৈধ বলে দাবি করছে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা বলছে, এসব চুক্তির বিস্তারিত তথ্যে স্বচ্ছতা নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে বেশিরভাগ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিজ দেশেই ফেরত পাঠানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, যাদেরকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হবে, তাদেরকে রাজধানী বাঙ্গুইয়ের কিছু অ্যাপার্টমেন্টে রাখা হবে। তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় শেষ পর্যন্ত শত শত অভিবাসীকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হতে পারে। ইরানি নাগরিকদের দেশটিতে পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার খবর এর আগে বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছিল দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকা। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, সব নির্বাসিত ব্যক্তিই পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো শান্তি চুক্তি হলেও যতদিন না যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে শেষ হচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমা গণমাধ্যমে যা প্রচার করা হচ্ছে তার বিপরীতে-ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ত্যাগের কোনো প্রতিশ্রুতি দেবে না। সমঝোতা স্মারকে শুধুমাত্র যুদ্ধের অবসানের পর হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।’ এতে আরও যোগ করা হয়েছে, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মূল উদ্দেশ্য হলো সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটানো। সূত্র: আল-জাজিরা
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানিসহ অন্যান্য অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্য আফ্রিকার দেশ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুই আইনজীবী ও এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ খবর জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানোর তালিকায় থাকা ইরানি নাগরিকদের মধ্যে দুই নারী আছেন, যারা ইরানে ফেরত গেলে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে পারেন বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী এমিলি ট্রস্টল। এই দুই নারীর একজন খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন এবং অন্যজন গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন কর্মী বলে জানান তিনি। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের (সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক) সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রদপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্য আফ্রিকার এই দেশটির একটি চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তথাকথিত তৃতীয় দেশে বিতাড়িত ব্যক্তিদের গ্রহণ করার কথা রয়েছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের। আইনজীবী ট্রস্টল জানান, দুই ইরানি নারী ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আটক হন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। পরে মার্কিন অভিবাসন বিষয়ক বিচারকের কাছ থেকে তারা ‘উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল’ নামক আইনি সুরক্ষা পান। এই সুরক্ষার আওতায় কোনও অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো হলে যদি সেখানে তার নিপীড়নের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ৫০ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে তাকে সেখানে পাঠানো থেকে বিরত থাকা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে চুক্তির আওতায় প্রথম যে ফ্লাইটটি সেদেশে যাবে, তাতে প্রায় ২০ জন অভিবাসী থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে ইরানের নাগরিক ছাড়াও সিরিয়া ও আফগানিস্তানের নাগরিক থাকবে। দুই আইনজীবী জানিয়েছেন, ফ্লাইটটি আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ছেড়ে যেতে পারে। এক তুর্কি নাগরিকও এই ফ্লাইটে থাকতে পারেন বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন। তুরস্কের ওই নাগরিকও রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে দেশ ছেড়েছিলেন এবং তিনিও যুক্তরাষ্ট্রে ‘উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল’ আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তার আইনজীবী একথা জানিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এমন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দিতে তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে, যাদেরকে আইনগত কারণে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। এর আগে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের প্রতিবেশী দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের চুক্তি করেছে। বর্তমানে দেশটিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশের সঙ্গে চুক্তিকে বৈধ বলে দাবি করছে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা বলছে, এসব চুক্তির বিস্তারিত তথ্যে স্বচ্ছতা নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে বেশিরভাগ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিজ দেশেই ফেরত পাঠানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, যাদেরকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হবে, তাদেরকে রাজধানী বাঙ্গুইয়ের কিছু অ্যাপার্টমেন্টে রাখা হবে। তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় শেষ পর্যন্ত শত শত অভিবাসীকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হতে পারে। ইরানি নাগরিকদের দেশটিতে পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার খবর এর আগে বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছিল দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকা। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, সব নির্বাসিত ব্যক্তিই পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো শান্তি চুক্তি হলেও যতদিন না যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে শেষ হচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমা গণমাধ্যমে যা প্রচার করা হচ্ছে তার বিপরীতে-ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ত্যাগের কোনো প্রতিশ্রুতি দেবে না। সমঝোতা স্মারকে শুধুমাত্র যুদ্ধের অবসানের পর হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।’ এতে আরও যোগ করা হয়েছে, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মূল উদ্দেশ্য হলো সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটানো। সূত্র: আল-জাজিরা
শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের পেট্রোল পাম্প থেকে সরাসরি পেট্রোল ও ডিজেল কেনার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে নির্ধারিত পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে। শুক্রবার (১২ জুন) এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী ৯০ দিনের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতে খুচরা পাম্পে ডিজেলের দাম তুলনামূলক কম হলেও বাল্ক ক্রয়ের ক্ষেত্রে দাম অনেক বেশি। এই মূল্য ব্যবধানের কারণে শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরা খুচরা পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ বাড়িয়ে দেয়, ফলে বাজারে চাপ তৈরি হয়। সরকারি তথ্যমতে, খুচরা পাম্পে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ৯৫.২০ রুপি হলেও বাল্ক বিক্রয়ে তা ১৩৪.৫০ রুপি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেবল যানবাহনের ট্যাংক এবং সরকার অনুমোদিত পাত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা যাবে। একজন গ্রাহক দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ লিটার জ্বালানি নিতে পারবেন। এ ছাড়া মজুতদারি, কালোবাজারি, অবৈধ জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এবং খুচরা বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। সূত্র: এনডিটিভি
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় সামরিক ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শুক্রবার এই রায় ঘোষণা করা হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির পক্ষে পরিবেশ তৈরি করতে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। আদালতের রায়ের বিষয়ে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করলেও রায়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। মামলার তদন্তে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোন থেকে প্রচারণামূলক লিফলেট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনার পর দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং সীমান্ত পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। তবে ইউন সুক ইয়ল শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, সাবেক প্রেসিডেন্ট কখনও এ ধরনের কোনো ড্রোন অভিযানের নির্দেশ দেননি বা অনুমোদনও দেননি। তাদের মতে, সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সামরিক বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ইউনকে আরেক মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সেই মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। সাংবিধানিক আদালতে অভিশংসন বহাল থাকার পর তিনি প্রেসিডেন্ট পদ হারান। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে উদারপন্থি নেতা লি জে-মিয়ং দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম আলোচিত বিচারিক রায়। তবে ইউন সুক ইয়লের পক্ষে আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিকে চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত এক সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।