ইরাকভিত্তিক প্রতিরোধ গোষ্ঠী কাতাইব সাইয়্যেদ আল-শুহাদা যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানে হামলার জন্য কুয়েতের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে আমরা কুয়েত-ইরাক সীমান্ত ভেঙে ফেলব। খবর প্রেস টিভির। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, কুয়েতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা কিংবা সিরিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হলে তা আঞ্চলিক সীমান্ত লঙ্ঘনের শামিল হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা একইভাবে সীমান্ত ভেঙে দিয়ে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে। এখন থেকে চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পর এমন হুঁশিয়ারি দিল গোষ্ঠীটি। একই সঙ্গে ইরাক ও লেবাননের ভেতরে থাকা ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ওপরও তাদের আক্রমণ জোরদার করেছে তারা। এছাড়া ইরান ও তাদের সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ইরানের পাল্টা হামলায় কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
রাজধানীর ধানমন্ডি লেক ও রবীন্দ্র সরোবর এলাকাকে কোনোভাবেই বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে ধানমন্ডি লেক পরিদর্শনে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন। আবদুস সালাম বলেন, ধানমন্ডি লেক ও রবীন্দ্র সরোবরকে কোনোভাবেই বাণিজ্যিক এলাকা করা যাবে না। এটা কোনো বাণিজ্যিক এলাকা নয়। ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়ানো এবং নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো জায়গার খুব অভাব। আমরা ধানমন্ডি লেককে সংরক্ষণ করতে চাই। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চাই। যারা ইজারা নিয়েছেন, তাদেরও সহযোগিতা চাই। যারা এ এলাকায় বসবাস করেন, ওনাদেরও সহযোগিতা চাই। পরিদর্শনকালে রবীন্দ্র সরোবরের আশপাশে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক স্থাপনা দেখে উষ্মা প্রকাশ করেন প্রশাসক। তিনি বলেন, আমি এখানে এসে এবং লেকে এত রেস্টুরেন্ট দেখে শকড হয়ে গেছি। এ রকম পরিবেশ দেখব, সেটা কখনও ভাবিনি। প্রকৃতিকে ধারণ করাই আমাদের আসল কাজ। এখানে মানুষের জন্য আমরা রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য জিনিসগুলোর কিছুটা সুবিধা রাখতে চাই। এখন দেখে মনে হচ্ছে, পুরো জায়গা রেস্টুরেন্টের দখলে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, আমরা ভালো একটি পরিবেশ ধানমন্ডি লেকে ফিরিয়ে আনতে চাই। এটা নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা বসব। বর্তমানে যেসব ইজারাদার তাদের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন, জনস্বার্থে সেসব আবেদন আপাতত বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, লোকাল কমিউনিটির যারা আছে, তাদের যদি এই কাজে ইন্টারেস্ট না থাকে এবং ইনভলভ না হয়, তাহলে এখানের পরিবেশ ভালো রাখা যাবে না। এটা পুলিশ এবং সিটি করপোরেশন দিয়েও হবে না। আমি এ ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সহযোগিতা চাই। লেকে সকাল-বিকেলে অনেকে হাঁটেন। আমরা চাই, এই পরিবেশটা বজায় থাকুক। প্রয়োজন হলে আমরা আরও ভালো করে দেব। রবীন্দ্র সরোবরে কালচার অনুষ্ঠান হয়। আমরা চাই, সেটা করতে গিয়ে যাতে প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না হয়। সে বিষয়টা সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। সিটি করপোরেশনের অভিযান পরিচালনা করা হলে সাময়িক সময়ের জন্য সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও পরে আবারও আগের মতো হয়ে যায়। ধানমন্ডি লেকের ক্ষেত্রে কতটুকু টেকসই হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সবকিছু নির্ভর করে জনগণের ওপর। এই এলাকার জনগণ যদি চায়, তাহলে এটি ঠিক থাকবে। ওনাদের সহযোগিতাসহ, তাদের হাতেই লেককে ছেড়ে দিতে চাই এবং ওনারা এটি রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এ সময় ডিএসসিসি প্রশাসকের সঙ্গে স্থপতি ইকবাল হাবিবসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে জুলাই সনদ ও গণভোট ইস্যুকে কেন্দ্র করে ওয়াকআউট করেছে বিরোধীদল। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। অধিবেশন চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোট কোনো একক দলের ইস্যু নয়; বরং এটি জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়। নির্বাচনের আগে সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষই এ বিষয়ে একমত হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন না হওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি আরও বলেন, “এটি শুধু আমাদের না, পুরো দেশের মানুষের রায়ের অবমূল্যায়ন। বিরোধী দলে বসে আমরা এই অবহেলা মেনে নিতে পারি না।” এর প্রতিবাদ জানাতেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে ওয়াকআউট করেছিল বিরোধীদল। ফলে চলতি সংসদে বিরোধীদের ধারাবাহিক প্রতিবাদ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
রাজবাড়ীর পাংশা পৌর এলাকায় বাসস্ট্যান্ড থেকে এক নারীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদি হয়ে তিনজনকে আসামি করে পাংশা মডেল থানায় মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ দুপুরে ওই নারী পাংশা পৌর শহরের পারনারায়ণপুর এলাকায় পরিচিত একজনের সঙ্গে দেখা করতে যান। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি মাইক্রোবাসে আসা কয়েকজন তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। অভিযোগে বলা হয়, গাড়ির ভেতরে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের চেষ্টা করা হলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাইক্রোবাসের পেছনের সিটে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন হাসিবুর রহমান অন্তর, রাশেদুজ্জামান ওরফে রাশেদ এবং মো. বরকত মুন্সী। ঘটনার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভুক্তভোগীকে একটি অজ্ঞাত স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে একটি অটোরিকশায় করে তিনি কুষ্টিয়া সদর থানায় পৌঁছান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় তিনি পাংশা মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ জানায়, তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুল গণির নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে পাংশা বাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাশেদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে হাসিবুর রহমান অন্তর পাংশা পৌর শহরের কুল্টিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় তরুণদলের সভাপতি। অন্যদিকে রাশেদুজ্জামান উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের ধানুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বরকত মুন্সী নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি দুজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ প্রদেশে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াম এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর বরাত অনুযায়ী, বুধবার (১ এপ্রিল) ফুজাইরাহর আল রিফা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুজাইরাহর একটি কৃষিখামারের ওপর দিয়ে উড়ন্ত একটি ড্রোনকে শনাক্ত করে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। পরে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। তবে ড্রোনটি ধ্বংস করার সময় এর অংশবিশেষ নিচে পড়ে খামারে কর্মরত এক বাংলাদেশি শ্রমিকের ওপর আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত বাংলাদেশির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি গুজব বা অপপ্রচার থেকে বিরত থেকে শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের মক্কা প্রদেশ কর্তৃপক্ষ এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং তা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য ধারণ ও প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সম্প্রতি মক্কার সরকারি যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এই সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রম বা ড্রোন/ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, হামলার স্থান বা ধ্বংসাবশেষের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এ ধরনের তথ্য শত্রুপক্ষকে সহায়তা করতে পারে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের সচেতনতার জন্য নির্দেশিকাটি আরবি ছাড়াও বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ইন্দোনেশীয় ও ফিলিপিনো ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অজ্ঞতাবশত কেউ আইন ভঙ্গের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়েন। স্থানীয় আইন ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এতে পাইলট অল্প আঘাত পেয়েছেন। মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার লাস ভেগাসের উত্তরে নেলিস এয়ার ফোর্স বেসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এটি ইন্ডিয়ান স্প্রিংস এলাকার কাছে নেভাদা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জের ভেতরে পড়ে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করেন। পরে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
ওমানের ইবরি প্রদেশ-এ রায়হান রাজেব (২৭) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তার সন্ধানে স্থানীয় জনগণ ও প্রবাসীদের সহযোগিতা চেয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রয়্যাল ওমান পুলিশ (আরওপি)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ আল শাহোম এলাকায় তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। ওই দিন নিজ বাসস্থান থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ থাকার ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় তাকে দ্রুত খুঁজে বের করতে ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে ওমানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা জোরদার করেছে। নিখোঁজ রায়হান রাজেবের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুত জানাতে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য রয়্যাল ওমান পুলিশ-এর অপারেশন সেন্টারের ৯৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে অথবা নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে।
সামরিক শক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে পারছে না। এর মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে ইরানের কিছু কৌশলগত শক্তি, যা পুরো যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিচ্ছে। ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ইরান এই পথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে গেলেই তা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে। এ কারণে যুদ্ধ শুধু সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ইরান খুব কম সামরিক শক্তি ব্যবহার করেও বড় প্রভাব ফেলতে পারছে। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েই তারা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে দ্রুত বিজয়ের আশা করলেও এখন তারা কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণমাত্রার হামলা চালালে ইরান পাল্টা আঘাত করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। আরেকটি বড় কারণ হলো রাজনৈতিক ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থলযুদ্ধে জড়ায়, তাহলে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়বে। এতে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইরানের আরেকটি কৌশলগত শক্তি হলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ। এই দ্বীপ দখল করা বা ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, এতে যুদ্ধ শেষ হবে না। বরং ইরান আরও কঠোরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে। এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা ও মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। সূত্র : আল-জাজিরা
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ‘গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সম্প্রতি ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাটো জোটকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প এবং যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো যে মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান যুদ্ধ বা সংঘাত শেষ হওয়ার পর তিনি ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবেন কিনা; এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনার বাইরে’ চলে গেছে। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি কখনোই নেটোর দ্বারা প্রভাবিত হইনি। আমি বরাবরই জানতাম যে তারা কাগুজে বাঘ, আর পুতিনও বিষয়টি জানেন।’ এছাড়া, যুক্তরাজ্যের যুদ্ধজাহাজ বহরের অবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এমনকি, তোমাদের তো নৌবাহিনীও নেই। তোমরা খুব পুরোনো হয়ে গেছ। তোমাদের বিমানবাহী রণতরী ছিল, কিন্তু সেগুলোকে ব্যবহার করা যায়নি।’ এদিকে মঙ্গলবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মিত্র দেশগুলোর উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। তিনি লেখেন, ‘তোমাদের নিজেদের দায়িত্বে লড়াই করতে শিখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আর তোমাদের সহায়তায় থাকবে না।’ শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় মিত্রদেরও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো হরমুজ প্রণালীর আশপাশে জেট ফুয়েল পাচ্ছে না—এমন পরিস্থিতিতে তাদের আরও সাহসী হয়ে উঠতে হবে এবং ওই অঞ্চলে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের রাজধানী বেইরুত-এ ভারী বোমাবর্ষণ চলছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডারদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস ঘোষণা দিয়েছে, ট্রাম্প বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন, যা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এতে পাইলট অল্প আঘাত পেয়েছেন। মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার লাস ভেগাসের উত্তরে নেলিস এয়ার ফোর্স বেসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এটি ইন্ডিয়ান স্প্রিংস এলাকার কাছে নেভাদা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জের ভেতরে পড়ে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করেন। পরে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে নতুন করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেনি, তারা যেন নিজেদের জ্বালানির ব্যবস্থা নিজেরাই করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প পরামর্শ দেন, জ্বালানি সংকটে পড়া দেশগুলো চাইলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে পারে। পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রয়োজনে এসব দেশকে হরমুজ প্রণালিতে গিয়ে নিজেরাই তেল সংগ্রহ করতে হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় অন্য দেশগুলোর পাশে দাঁড়াবে না। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দেশগুলোকে নিজ দায়িত্বে এগোতে হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সামনে আসছে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ছে এবং ইরানের সক্ষমতা কমছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে বাড়ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকর্তা। সূত্র : শাফাক নিউজ
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে ট্রাম্প বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট। অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ভাষণটি দেবেন তিনি। মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে লেভেট লিখেছেন, কাল রাতে ইস্টার্ন টাইম, ইরান ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে আগামীকাল রাত ৯টায় (ইস্টার্ন টাইম) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে তাদের হামলা শেষ হবে। তিনি ওই সময় জানান, ইরানিদের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য চুক্তি হতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এরপর ইরানও পালটা হামলা শুরু করে। ট্রাম্প প্রথমে জানিয়েছিলেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করবেন। তবে এক মাস পেরিয়ে গেলেও; এখনো যুদ্ধ শেষ হয়নি। উলটো পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যা এখনো বন্ধই আছে। দেশটি শুধু তাদের মিত্র ও বন্ধু দেশকে সেখান দিয়ে জাহাজ পার করতে দিচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ঠিক করেছে হরমুজ খোলাকে। যা যুদ্ধের আগে খোলাই ছিল। সূত্র: সিএনএন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।