সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বললেন মামদানি

আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সিটি সফরের কথা রয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। তবে তার এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।    মামদানি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী এবং তার আসল জায়গা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি)।   যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন একজন যুদ্ধাপরাধী যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত এবং তাকে দ্য হেগের আদালতে দাঁড় করানো উচিত।   নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেফতার করা হবে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র তার আইনি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সরাসরি তার প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হলেও, নেতানিয়াহুর মতো একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতার করার আইনি এখতিয়ার সিটির মেয়রের রয়েছে কি না, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।    তবে বিষয়টি তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না। এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিটির আইন বিভাগের সাথে তিনি নিবিড় ও সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি।   সূত্র: আল-জাজিরা।

১ ঘন্টা আগে
কুয়েতে মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইরানের

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একটি সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং ইরানের সেনাবাহিনী।    এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি। তেহরানের দাবি, সেখানে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সি-র‍্যাম (কাউন্টার-রকেট, আর্টিলারি অ্যান্ড মর্টার) আর্লি ওয়ার্নিং রাডার ব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।   জানা যায়, রাডার ব্যবস্থাটি ধ্বংস করার পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে বিমান ঘাঁটির প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন হ্যাঙ্গার এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলোতেও আঘাত হানা হয়। একই সঙ্গে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান, জর্ডান এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়।    তেহরান এই সামরিক পদক্ষেপকে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা দাবি করেছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চল এবং বন্দর আব্বাসের কাছে তাদের কমান্ড সেন্টারগুলোতে মার্কিন বাহিনীর চালানো তীব্র বিমান হামলার জবাবেই এই ‘অপারেশন সায়েকেহ’ বা ‘নসর-২’ পরিচালনা করা হয়েছে।   এই হামলার পর আইআরজিসি কুয়েতসহ পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে, যারা বর্তমানে মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি গড়তে সহায়তা করছে। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হামলা চালাতে কুয়েতের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে কুয়েতের সাধারণ জনগণের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে এই হামলার ফলে কুয়েতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সামরিক স্থাপনা ছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধন কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাদের দাবির সপক্ষে স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, সেখানে মার্কিন ড্রোন হ্যাঙ্গার ও রাডার অবকাঠামো ধ্বংসের প্রমাণ রয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।    অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ওই অঞ্চলে দায়িত্বরত বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।   সূত্র: প্রেস টিভি।

২ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ও অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রীতি সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।   শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতির আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ড. মো. সাইফুল্লাহ।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি দূতাবাসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর খালিদ সাঈদ আলে হাদাল।   বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যানের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামছুল আলম।   প্রীতি সম্মিলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর খালিদ সাঈদ আলে হাদাল বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সম্পর্কের অংশ হিসেবে সৌদি সরকার প্রতিবছর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ প্রদান করে থাকে।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষা অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা দেশে ফিরে ইসলামের সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।    তিনি বলেন, সৌদি আরব বিশ্বাস করে, মানুষ গঠনই প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   অনুষ্ঠানে বক্তারা সৌদি আরবে অধ্যয়নরত বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দেশের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে তাদের ভূমিকা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

২ ঘন্টা আগে
বিশ্বকাপের এক টিকিটের দাম ৩৪ লাখ টাকা

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স। বিশ্বকাপ ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের একটি টিকিটের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।   জানা গেছে- সবচেয়ে কম দামি টিকিট বাংলাদেশি মুদ্রা প্রায় ৯ লাখ টাকা। তবে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে এর চেয়ে বেশি দাম ছিল সর্বনিম্ন টিকিটের। সেই টিকিট বিক্রি হচ্ছিল প্রায় ১১৭ লাখ টাকা দামে।   সম্প্রতি একটি ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, ফাইনালের গড় টিকিটের দাম প্রায় ১৬ লাখ টাকা। আমেরিকার আগে কোনও ম্যাচে গড় টিকিটের দাম এত বেশি ছিল না। এই মুহূর্তে ফাইনালের সবচেয়ে দামী টিকিট বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়। ম্যাচের আগে দাম আরও বাড়লে অবাক হওয়ার কিছু নেই।    ফাইনাল ম্যাচের আগে আমেরিকার সবচেয়ে দামী ম্যাচ ছিল ২০২৪-এর সুপার বোলে সান ফ্রান্সিসকো ৪৯য়ার্স বনাম কানসাস সিটি চিফসের ম্যাচ। সেখানে টিকিটের গড় দাম ছিল ৯ লক্ষ টাকা।   আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির বয়স এখন ৩৯। আর স্পেন তারকা ইয়ামালের ১৯। বিশ্বকাপে দুই জনে জন্মদিন পালন করেছেন। ফাইনালের আগে স্বাভাবিক ভাবেই ইয়ামালকে নিয়ে প্রশ্ন করা হয় মেসিকে। উঠে আসে ২০০৭ সালের সেই ছবির কথাও। মেসি বলেছেন, ওই ছবিটা অসাধারণ। ইয়ামাল যখন শিশু ছিল, তখন ওর সঙ্গে আমার কয়েকটা ছবি রয়েছে। আমরা দু’জনেই এখন বিশ্বকাপ খেলছি। কী অবিশ্বাস্য না!   ইয়ামালের প্রশংসা করে মেসি বলেছেন, ও এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ওর জন্য আমার শুভকামনা থাকবে। ওর সাফল্য মানে তো বার্সেলোনারও সাফল্য। তবে ফাইনালে আমরা চেষ্টা করব, যাতে ইয়ামাল ওর সেরা খেলাটা খেলতে না পারে। শুধু ও নয়, স্পেনের গোটা দলটাই দুর্দান্ত। আমাদের হাতেই কিছু অস্ত্র আছে।   ইয়ামালকে নিয়ে মেসি বলেছেন, ইয়ামাল এখন বিশ্ব পর্যায়ের তারকা। অসাধারণ খেলোয়াড়। ওর বয়স সবে ১৯। গোটা ফুটবলজীবন পড়ে রয়েছে। ওর জন্য আমার শুভেচ্ছা সব সময় থাকবে। তবে এ বারই যাতে ও বিশ্বকাপ জিততে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করব।

২ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা। ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়
রোববার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং-২৬’

মার্কিন সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং ২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন রোববার (১৯ জুলাই)। দ্বিপক্ষীয় এ মহড়ায় দুই দেশের ১৬০ জনের বেশি সামরিক সদস্য অংশ নেবেন।   শনিবার (১৮) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন দূতাবাস।   এতে বলা হয়, মহড়াটির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।   এবারের মহড়ায় জঙ্গলাঞ্চলে অভিযান, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উভয় দেশের সামরিক সদস্যরা একে-অপরের দক্ষতা ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবেন।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘টাইগার লাইটনিং ২৬’ ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের থিয়েটার আর্মি ক্যাম্পেইন প্ল্যান ও নিরাপত্তা সহযোগিতা কর্মসূচির অংশ। এর লক্ষ্য, পেশাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, সামরিক কার্যক্রমের দক্ষতা ও প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা আরও জোরদার করা।   ‘টাইগার লাইটনিং’ ২০১৭ সালে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি দ্বিপক্ষীয় যৌথ সামরিক মহড়া। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এটি সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও, পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   মহড়াটি শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের অনুশীলনের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে। এর সমাপনী পর্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ফিল্ড ট্রেনিং এক্সারসাইজ অনুষ্ঠিত হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
রাজাকারদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বর্জনের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, একাত্তরে একটি গোষ্ঠী আমাদের মা-বোনদের পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য বুদ্ধিজীবীদের তুলে দিয়েছে হত্যার করার জন্য। সেই রাজাকারদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বর্জন করতে হবে। নয়তোবা এ বাংলাদেশ থাকবে না।   তিনি বলেন, রাজাকার ও পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই আজকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।   শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদীর গাংকুলকান্দী ভূইয়া বাজার মাঠ সংলগ্ন মাঠে নব দিগন্ত ক্লাব আয়োজিত মেধা বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।   নবদিগন্ত ক্লাবের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোস্তাক আহমেদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান, সহকারী কমিশনার ভূমি সজীব মিয়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, সদস্য গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন শাহীন মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম ফরহাদ।   অনুষ্ঠানে ৪০ জন শিক্ষার্থীদের মেধা বৃত্তির ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তোলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তুরস্ক, আতঙ্কে ঘরছাড়া মানুষ

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের মালাতিয়া প্রদেশে শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফএডি) এ তথ্য জানিয়েছে। এএফএডির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২০ মিনিটে মালাতিয়ার বাত্তালগাজি জেলায় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার গভীরে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। ভূমিকম্পের কম্পন পাশের এলাজিগ, আদিয়ামান, তুনজেলি ও সানলিউরফা প্রদেশেও অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এএফএডি। তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী মুরাত কুরুম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এনসোস্যালে এক বার্তায় বলেন, ‘বাত্তালগাজিতে ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আমরা সব ধরনের তথ্য ও প্রতিবেদন মূল্যায়ন করছি।’

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইরানের

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একটি সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং ইরানের সেনাবাহিনী।    এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি। তেহরানের দাবি, সেখানে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সি-র‍্যাম (কাউন্টার-রকেট, আর্টিলারি অ্যান্ড মর্টার) আর্লি ওয়ার্নিং রাডার ব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।   জানা যায়, রাডার ব্যবস্থাটি ধ্বংস করার পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে বিমান ঘাঁটির প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন হ্যাঙ্গার এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলোতেও আঘাত হানা হয়। একই সঙ্গে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান, জর্ডান এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়।    তেহরান এই সামরিক পদক্ষেপকে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা দাবি করেছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চল এবং বন্দর আব্বাসের কাছে তাদের কমান্ড সেন্টারগুলোতে মার্কিন বাহিনীর চালানো তীব্র বিমান হামলার জবাবেই এই ‘অপারেশন সায়েকেহ’ বা ‘নসর-২’ পরিচালনা করা হয়েছে।   এই হামলার পর আইআরজিসি কুয়েতসহ পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে, যারা বর্তমানে মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি গড়তে সহায়তা করছে। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হামলা চালাতে কুয়েতের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে কুয়েতের সাধারণ জনগণের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে এই হামলার ফলে কুয়েতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সামরিক স্থাপনা ছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধন কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাদের দাবির সপক্ষে স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, সেখানে মার্কিন ড্রোন হ্যাঙ্গার ও রাডার অবকাঠামো ধ্বংসের প্রমাণ রয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।    অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ওই অঞ্চলে দায়িত্বরত বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।   সূত্র: প্রেস টিভি।

মোজতবা খামেনি, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ। দেশটির বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির বলেছেন, কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানান তিনি। খবর ইরনার।   শনিবার (১৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গির বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যে রাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে বা আগ্রাসনের উদ্যোগ নেয়, তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের আর্থিক ও মানবিক ক্ষতির জন্যও তাদের দায় বহন করতে হবে।   তিনি জানান, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের বিচার বিভাগ, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রসিকিউটর, বিচার বিভাগের মানবাধিকার সদর দপ্তর, আইনজীবী কেন্দ্র এবং দেশি-বিদেশি আইনি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে, যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।   জাহাঙ্গির বলেন, যুদ্ধের সময় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বিভিন্ন প্রদেশের প্রসিকিউটররা বিচারিক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নথিভুক্ত করেছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।   তার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ-সংক্রান্ত ঘটনায় তিন হাজারের বেশি দেওয়ানি মামলা দায়ের হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্সিয়াল লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স অফিস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছেও এসব বিষয় তুলে ধরছে।   বিচার বিভাগের মানবাধিকার দপ্তর যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ভঙ্গের বিভিন্ন ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। রোম সংবিধি অনুযায়ী এসব অপরাধকে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যা; এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে বলে জানান জাহাঙ্গির।   তিনি বলেন, ইরানের সপ্তম জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার দ্বিতীয় বছরে বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে সাম্প্রতিক যুদ্ধের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। এ বিষয়ে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও সাম্প্রতিক এক বৈঠকে গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানান তিনি।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বললেন মামদানি
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬

আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সিটি সফরের কথা রয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। তবে তার এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।    মামদানি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী এবং তার আসল জায়গা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি)।   যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন একজন যুদ্ধাপরাধী যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত এবং তাকে দ্য হেগের আদালতে দাঁড় করানো উচিত।   নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেফতার করা হবে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র তার আইনি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সরাসরি তার প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হলেও, নেতানিয়াহুর মতো একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতার করার আইনি এখতিয়ার সিটির মেয়রের রয়েছে কি না, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।    তবে বিষয়টি তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না। এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিটির আইন বিভাগের সাথে তিনি নিবিড় ও সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি।   সূত্র: আল-জাজিরা।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইরানের
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একটি সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং ইরানের সেনাবাহিনী।    এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি। তেহরানের দাবি, সেখানে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সি-র‍্যাম (কাউন্টার-রকেট, আর্টিলারি অ্যান্ড মর্টার) আর্লি ওয়ার্নিং রাডার ব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।   জানা যায়, রাডার ব্যবস্থাটি ধ্বংস করার পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে বিমান ঘাঁটির প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন হ্যাঙ্গার এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলোতেও আঘাত হানা হয়। একই সঙ্গে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান, জর্ডান এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়।    তেহরান এই সামরিক পদক্ষেপকে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা দাবি করেছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চল এবং বন্দর আব্বাসের কাছে তাদের কমান্ড সেন্টারগুলোতে মার্কিন বাহিনীর চালানো তীব্র বিমান হামলার জবাবেই এই ‘অপারেশন সায়েকেহ’ বা ‘নসর-২’ পরিচালনা করা হয়েছে।   এই হামলার পর আইআরজিসি কুয়েতসহ পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে, যারা বর্তমানে মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি গড়তে সহায়তা করছে। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হামলা চালাতে কুয়েতের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে কুয়েতের সাধারণ জনগণের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে এই হামলার ফলে কুয়েতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সামরিক স্থাপনা ছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধন কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাদের দাবির সপক্ষে স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, সেখানে মার্কিন ড্রোন হ্যাঙ্গার ও রাডার অবকাঠামো ধ্বংসের প্রমাণ রয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।    অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ওই অঞ্চলে দায়িত্বরত বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।   সূত্র: প্রেস টিভি।

মোজতবা খামেনি, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ইরানের
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ। দেশটির বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির বলেছেন, কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানান তিনি। খবর ইরনার।   শনিবার (১৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গির বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যে রাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে বা আগ্রাসনের উদ্যোগ নেয়, তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের আর্থিক ও মানবিক ক্ষতির জন্যও তাদের দায় বহন করতে হবে।   তিনি জানান, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের বিচার বিভাগ, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রসিকিউটর, বিচার বিভাগের মানবাধিকার সদর দপ্তর, আইনজীবী কেন্দ্র এবং দেশি-বিদেশি আইনি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে, যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।   জাহাঙ্গির বলেন, যুদ্ধের সময় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বিভিন্ন প্রদেশের প্রসিকিউটররা বিচারিক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নথিভুক্ত করেছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।   তার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ-সংক্রান্ত ঘটনায় তিন হাজারের বেশি দেওয়ানি মামলা দায়ের হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্সিয়াল লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স অফিস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছেও এসব বিষয় তুলে ধরছে।   বিচার বিভাগের মানবাধিকার দপ্তর যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ভঙ্গের বিভিন্ন ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। রোম সংবিধি অনুযায়ী এসব অপরাধকে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যা; এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে বলে জানান জাহাঙ্গির।   তিনি বলেন, ইরানের সপ্তম জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার দ্বিতীয় বছরে বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে সাম্প্রতিক যুদ্ধের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। এ বিষয়ে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও সাম্প্রতিক এক বৈঠকে গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানান তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ‘অবৈধ ও মূল্যহীন’: মোজতবা খামেনি
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানের সঙ্গে করা চুক্তি লঙ্ঘন করায় দেশটির প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের আর কোনো মূল্য বা বৈধতা নেই।   শনিবার (১৮ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর আল জাজিরার।   বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বারবার চুক্তি ভঙ্গ করে প্রমাণ করেছে, তাদের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর মূল্যহীন ও অবৈধ।’   তবে বিবৃতিতে তিনি কোন নির্দিষ্ট চুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।   আইআরআইবি জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক চুক্তি লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে এ বক্তব্য দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা।   এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ। দেশটির বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির বলেছেন, কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানান তিনি।   জাহাঙ্গির বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যে রাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে বা আগ্রাসনের উদ্যোগ নেয়, তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের আর্থিক ও মানবিক ক্ষতির জন্যও তাদের দায় বহন করতে হবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি