বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রী তার নিজ কার্যালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে এই বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি জানান, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদান ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতাসহ ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তা বাস্তবায়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এটি একেবারেই একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, এই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য নয়াদিল্লি অপেক্ষা করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকায় চীনা দূতাবাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। সাক্ষাতে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে মতবিনিময় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন উন্নয়নের স্বার্থে অব্যাহত কূটনৈতিক যোগাযোগ, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন তারা। এনসিপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, পূর্ব এশিয়া ডেস্কের প্রধান মাহবুব আলম, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ডেস্কের প্রধান নাভিদ নওরাজ শাহ এবং জয়েন্ট চিফ কো-অর্ডিনেটর মঞ্জিলা ঝুমা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১৯ আগস্ট) বলেছেন, তিনি এ বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রথম মেয়াদে পরমাণু শক্তিধর দেশটির নেতার সঙ্গে গড়ে তোলা সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে ‘ভালো সম্পর্ক রাখা’ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে এখন ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। তবে, কিমকে নিয়ে ট্রাম্পের হঠাৎ আগ্রহ এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত এশিয়ার মিত্রদের উদ্বিগ্ন করেছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতিতে একটি সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করছেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসে নতুন হেলিপ্যাড পরিদর্শনের সময় ট্রাম্পকে ২০২৬ সালের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি করব।’ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর মধ্যেও উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দেন ট্রাম্প। ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা ঠেকানোর কারণেই তিনি এ যুদ্ধ চালাচ্ছেন বলে দাবি করে আসছেন। কিমের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তার কাছে ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। কখনোই এমনটা হতে দেয়া উচিত ছিল না। আমি প্রেসিডেন্ট হলে তা হতে দিতাম না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু তার কাছে এগুলো আছে। তার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। আমি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দিতে পারি না। আর আমি কিম জং উনকে খুব ভালোভাবে চিনি এবং সে ভালোই থাকবে।’ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, নভেম্বরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের শেনঝেনে যাওয়ার সময় তিনি কিমের সঙ্গে বৈঠকের কথা ভাবছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে আনুমানিক ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আন গিউ-ব্যাক আইনপ্রণেতাদের বলেন, ‘আমরা সাধারণত এর সংখ্যা প্রায় ৮০ থেকে ১২০টি বলে ধারণা করি।’ তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিরোধিতা করে যাচ্ছে সিউল। ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্য থেকে ‘সরে গেছে’ কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আন বলেন, তিনি তা মনে করেন না। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দেশের নির্ভরতা কমাতে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। বুধবার রাতে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন ও এতে অবদান রাখতে তিনি ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন’।
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। মামলা গ্রহণ করার মতো উপাদান না থাকায় আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন বলে জানান রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন। মামলার আবেদনে আরও যাদের আসামি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপি নেতা ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, এনসিপির মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, এনসিপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেন, অ্যাক্টিভিস্ট কনক সরোয়ার, নুরনবী (অব. কর্ণেল), তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদ। মামলার আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিদের প্রত্যক্ষ মদদে বা উসকানিতে এবং সার্বিক সহযোগিতায় অন্যান্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৫ হাজার আসামি বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি ও দাহ্য পদার্থসহ মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধানমন্ডি ৩২-এ অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিজড়িত বাসভবনে দলবদ্ধভাবে আক্রমণ চালায়। ওইদিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তারা ভবনে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ঐতিহাসিক নিদর্শন, দলিল, মুক্তিযুদ্ধের দলিল, প্রামাণ্যচিত্র, বই, পুস্তকসহ মূল্যবান সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন ও লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং ভবনটি আগুন দেয়। দুটি বুলডোজার, এক্সক্যাভেটর, হ্যামার এবং ভারী যন্ত্র এনে রাতভর উক্ত বাড়িটি ভাঙা শুরু করে। পরদিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। আরও বলা হয়, মামলার কয়েকজন আসামি ইউটিউব ও ফেসবুকে সরাসরি লাইভে এসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ওই বাড়িতে থাকা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও কাগজপত্র লুটপাট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য উসকানি ও মদদ দেয়। কেউ কেউ অর্থসহায়তা প্রদান করেন। আসামিরা পূর্বঘোষণা দেয়ার পরও বাড়িটি রক্ষার জন্য সরকারের দায়িত্বে থাকা আসামিরা কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভোট দিয়েছেন। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ এলাকায় নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে ‘এআই ট্রান্সহিউম্যানিজম অ্যান্ড ইসলাম’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়। গত রোববার হলের টিভি রুমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। এতে একমাত্র অতিথি হিসেবে ইসলামী বক্তা ও অ্যাক্টিভিস্ট আসিফ আদনান উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তার বিরুদ্ধে অতীতে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল এবং এ কারণে তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। অমর একুশে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীরা মসজিদে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অনুমতি নিয়েছিল। পরে টিভি রুমে অনুষ্ঠান আয়োজনের খবর জানতে পেরে তিনি সেটি বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে হলের নোটিশে অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ছিলেন হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ফাহিম শাহরিয়ার। বক্তা আসিফ আদনানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতে তাকে বিভিন্ন ধরনের ‘ট্যাগ’ দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারণার বিপরীতে ভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরতেই তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে আসিফ আদনানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি। ফাহিম শাহরিয়ার আরও দাবি করেন, তিনি ছাত্রশিবিরের সদস্য নন। তবে হল সংসদ নির্বাচনে তিনি শিবিরের সমর্থন পেয়েছিলেন। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের বিজ্ঞান সম্পাদক ও অমর একুশে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, ফাহিম ছাত্রশিবিরের কোনো পর্যায়ের নেতা নন। অনুষ্ঠানটি হল সংসদের উদ্যোগেও হয়নি; এটি তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল। এদিকে অনুষ্ঠানটির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা দেয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠান এবং বক্তাকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। হল কর্তৃপক্ষের দাবি, বক্তা ও আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরই অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে দেশটির চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিশেল লি’র সঙ্গে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হকের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো এবং দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি। এ ছাড়া কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি এবং দক্ষ জনশক্তির অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আলোচনা দুই দেশের শ্রমবাজার সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
দীর্ঘ সাড়ে আট বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হচ্ছে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী রেলস্টেশন। ইতোমধ্যে স্টেশনমাস্টার পদায়ন করা হয়েছে এবং স্টেশনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আউটলাইনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। স্টেশনটি চালু হলে নিয়মিত লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি রাজশাহী-ঈশ্বরদী রুটে চলাচলকারী ‘ঈশ্বরদী কমিউটার’ ট্রেনও এখানে যাত্রাবিরতি করবে। এতে চারঘাট, বাঘা ও পুঠিয়া উপজেলার যাত্রীদের রেলসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৯২৯ সালে চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের বরকতপুর এলাকায় নন্দনগাছী রেলস্টেশনটি স্থাপন করা হয়। নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্টেশনটিতে স্টেশনমাস্টার, টিকিট মাস্টার, পোর্টারম্যান, পয়েন্টসম্যান ও গেটম্যানসহ ১২ জন জনবল ছিল। তবে ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে শুধু একজন পোর্টারম্যান সেখানে কর্মরত ছিলেন। কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও লোকাল ট্রেনগুলো স্টেশনটিতে যাত্রাবিরতি করত। তবে টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় স্টেশনটি কার্যত অকার্যকর অবস্থায় পড়ে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি পুনরায় চালু এবং সব ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয়রা আন্দোলন করে আসছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ স্টেশনটি চালুর দাবিতে ডিও লেটার দেন। রেলওয়ে সূত্র আরও জানায়, এতদিন নন্দনগাছী স্টেশনে মহানন্দা এক্সপ্রেস, রাজশাহী মেল, লোকাল সিক্স ডাউন এবং ফিফটিন আপ ও ডাউন ট্রেন থামত। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার ‘ঈশ্বরদী কমিউটার’ ট্রেনের যাত্রাবিরতিও যুক্ত হচ্ছে। এতে রাজশাহী, পাবনাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে। স্থানীয় বাসিন্দা জয়নুল ইসলাম বলেন, চারঘাট, বাঘা ও পুঠিয়া—তিন উপজেলার মানুষের জন্য নন্দনগাছী স্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়কপথে যাতায়াতে নানা ভোগান্তি থাকায় রেলপথ চালু হলে হাজারো মানুষ উপকৃত হবেন। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পিডব্লিউআই মো. বাকিতুল্লাহ বলেন, নন্দনগাছী স্টেশনে প্রয়োজনীয় কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব কাজ শেষ হবে এবং স্টেশনটির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হবে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল আওয়াল জানান, ইতোমধ্যে একজন স্টেশনমাস্টারকে পদায়ন করা হয়েছে এবং স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অন্যান্য লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি ‘ঈশ্বরদী কমিউটার’ ট্রেনও এখানে থামবে। স্টেশনটি চালু হলে যাত্রীসেবার পাশাপাশি ট্রেন ক্রসিংয়ের সুবিধাও পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে প্রাপ্য মর্যাদায় সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়া হবে বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করেছেন—এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) সফররত প্রতিনিধিদলের সম্মানে ভারতীয় হাইকমিশন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। দীনেশ ত্রিবেদী জানান, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি দিল্লি যান এবং সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। ভারতের হাইকমিশনার বলেন, নরেন্দ্র মোদি তাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে তার জন্য এমন একটি অভ্যর্থনার আয়োজন করা হবে, যা তার প্রাপ্য মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। সফরটি স্মরণীয় হবে এবং এর সুফল শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশ শুধু সীমান্তই ভাগ করে নেয় না, তাদের মধ্যে অভিন্ন স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও সমতার বিষয়ও রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তিনি একজন ‘জনগণের মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীই প্রথম তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রধানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন। এরপর ভারতের লোকসভার স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন। দুই দেশের সম্পর্কে কিছু মতপার্থক্য থাকার কথাও স্বীকার করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, সমস্যা থাকা স্বাভাবিক এবং প্রাণবন্ত গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। এসব বিষয় নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে ভারত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগ ভারত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাক্ষাতের মাধ্যমেই এসব উদ্বেগ কমানো সম্ভব। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। নতুন বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ দেশের তরুণরা অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে এগিয়ে এসেছে। দুই দেশের লক্ষ্য শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন। তরুণদের জন্য সেই সুযোগ তৈরি করতে বাংলাদেশ ও ভারতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতকে ভুলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং অতীতের মতপার্থক্যগুলো সমাধান করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। স্থবির না থেকে দুই দেশকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
পর্তুগালে জনসমক্ষে এমনভাবে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে, যাতে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এই বিধান বোরকা ও নিকাব পরা মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়ায় দেশটিতে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, জনসমক্ষে এমন কোনো পোশাক বা উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না, যার কারণে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়। আইন লঙ্ঘন করলে ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই বিধান থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, পেশাগত দায়িত্ব, শিল্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। আইনটির সমর্থকদের মতে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনের সময় ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার সুযোগ রাখতেই এই বিধান করা হয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তির নিজস্ব পোশাক নির্বাচনের অধিকারে হস্তক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে। স্পেনেও বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ: এদিকে স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জেও বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে। দেশটির ডানপন্থী দল ভক্স ও পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞা বারবার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা এবং কাউকে জোর করে বোরকা বা নিকাব পরতে বাধ্য করলে সর্বোচ্চ চার বছর কারাদণ্ডের বিধানের কথা বলা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুখঢাকা পোশাক নিয়ে এমন উদ্যোগের ফলে জননিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, দাবানল ও খরার মধ্যে চলতি বছর ফ্রান্সে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ৭ হাজার ৩০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তাসংস্থার এএফপির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে ফ্রান্স২৪। ফ্রান্সে জুনের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫২ দিন তাপপ্রবাহ ছিল। দেশটিতে ১৯৪৭ সালে তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরুর পর এটাই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহের ঘটনা। এ বছর ফ্রান্সে পরপর তিন দফা তীব্র তাপপ্রবাহ হয়েছে। জুনে ১৪ দিন, জুলাইয়ে ১৬ দিন এবং জুলাইয়ের শেষদিকে শুরু হওয়া আরেকটি তাপপ্রবাহ এখন পর্যন্ত ২২ দিন ধরে চলছে। ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ১৭ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ হাজার ৭৬৪ জন বেশি মারা যান। এরপর ২ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত আরও ১ হাজার ২৪৩ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকের তীব্র গরমে আরও ৩০০ জনের মৃত্যু শনাক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩০৭। অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রায় ৭৫ শতাংশই ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে ঘটেছে। তবে ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী সব বয়সের মানুষের মধ্যেই এর প্রভাব দেখা গেছে। তবে এসব মৃত্যু সরাসরি তাপপ্রবাহের কারণে হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ হিসাবটি সব ধরনের মৃত্যুকে অন্তর্ভুক্ত করে করা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য শরতে প্রকাশ করা হবে। তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যার দিক থেকেও ২০২৬ সাল ফ্রান্সে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ২০২২ সালে মোট ৩৩ দিন তাপপ্রবাহ হয়েছিল। আর ২০০৩ সালের ভয়াবহ গরমে তাপপ্রবাহ ছিল ২২ দিন। ২০০৩ সালের তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে ওই বছরের আগস্টের তাপপ্রবাহকে এখনো তীব্রতা ও স্থায়িত্ব মিলিয়ে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এদিকে ২০২৬ সালের ২৪ ও ২৫ জুন ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে গড় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এটি দেশটির সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড, যা ২০০৩ সালের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ফ্রান্সের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপও চলতি বছরের গ্রীষ্মের শুরুতে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ সময় পার করেছে। বারবার তাপপ্রবাহের কারণে বিভিন্ন দেশে খরা ও ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে। সূত্র: ফ্রান্স২৪
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালটির কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার তাদের মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকাভুক্ত করা হয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তারা এমন কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়েকে এসডিএন তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইমপোজিং স্যাংশনস অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট’ শিরোনামে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। সেই আদেশের আওতায়ই আইসিসির এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। এর আগে আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান এবং আট বিচারকসহ আদালটির ১০ কর্মকর্তাকে একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আকানে ও সেয়ের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনো সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক বা বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবে না। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর থেকেই আদালটির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চাপ আরও জোরালো হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অভিযোগ, আকানে ও সেয়ে এমন কার্যক্রমের সঙ্গে ‘সরাসরি’ সম্পৃক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে এমন একটি দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—যে দেশ আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার করেনি। রুবিও বলেন, আইসিসির মাধ্যমে জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য তৈরি হওয়া হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পুরো সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জবাবদিহিহীন এই আদালতে অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ বন্ধ করতে আরও দেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে শামিল হবে বলে ওয়াশিংটন আশা করছে। এর আগে গত মাসে আইসিসির বিরুদ্ধে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আদালটি মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। গত মাসে ক্যাম্প ডেভিডে দেওয়া এক বক্তব্যে রুবিও বলেন, যেসব দেশ আইসিসির সদস্য নয়, তাদের নাগরিকদের ওপরও আদালত এখতিয়ার দাবি করায় প্রতিষ্ঠানটি ‘নিজেকেই অবৈধ’ করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়। এদিকে, ট্রাম্প বলেন, রুবিও ‘বিবি ও আরও কয়েকজনকে রক্ষা করার’ চেষ্টা করছেন। ‘বিবি’ বলতে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বোঝান। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির কর্মকর্তা এরিকা গুয়েভারা রোসাস এই পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ওপর নিন্দনীয় হামলা’ বলে অভিহিত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গুয়েভারা রোসাস বলেন, আইসিসিকে ভয় দেখানো এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্রমবর্ধমান প্রচারণার’ অংশ হিসেবেই এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।
ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রী পাঠিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি এসব সামগ্রীর চালানবাহী ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে। গোয়েন্দা নথি এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত কাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জিম ল্যামসন এনবিসিকে এ সম্পর্কে বলেন, “এ তথ্য থেকে আমরা দু’টি ব্যাপার জানতে পেরেছি— (১) মস্কো এবং তেহরান নিজেদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করছে এবং (২) মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের জেরে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে; অর্থাৎ ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ করে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানগুলো সফল হয়েছে।” ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যেসব জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো সব রুশ জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এমজি-ফ্লোটের তৈরি। ২০২৪ সাল থেকে এ কোম্পানি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নামে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তেহরান এবং মস্কোর মধ্যে। এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, আগামী ২০ বছর পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া ও ইরান। এই চুক্তির অনেক আগে থেকেই অবশ্য রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে ইরান। বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে নিয়মিত নিজেদের তৈরি লাদেন বা সুইসাইড ড্রোন শাহেদ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ইরান। রাশিয়া আবার নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাদ্যমে শাহেদ ড্রোনের মান ও বিধ্বংসী ক্ষমতার উন্নয়নও করেছে। ইরানকে অস্ত্র সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনে যোগাযোগ করেছিল এনবিসি। তবে ক্রেমলিনের কর্মকর্তরা এই তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।