যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তেহরানের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা তৃতীয় দেশের কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে মার্কিন নীতির পরিবর্তনের এটিই প্রথম বড় প্রভাব। উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম ভ্রমণ কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের নতুন নীতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করছে। ইরানের আধা সরকারি সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ওমান, জর্জিয়া, আজারবাইজান এবং ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, কর্তৃপক্ষ ইরাকের আরেকটি বিমানবন্দর নাজাফ এর দিকে ফ্লাইটগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বরের যেসব বৈশ্বিক কোম্পানি ইরানি এয়ারলাইন্সের সাথে ব্যবসা করবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, চীন, ইরাক, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সাথে নির্ধারিত ফ্লাইট ওঠানামার তালিকা দেখা গেছে। কিন্তু নিকটবর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোর যাদের সাথে ইরানের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ও ভ্রমণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের সাথে কোনো ফ্লাইটের তালিকা দেখা যায়নি। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশিত আকাশপথের অবরোধ কার্যকর করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। বুধবার দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হুমকি দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা কোনো আঞ্চলিক দেশের বিমানবন্দরগুলোকে ‘ব্যবহারের অযোগ্য’ করে দেওয়া হবে। গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ইরানের বিমান চলাচল খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ২৭টি ইরানি এয়ারলাইনসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসগুলো অস্ত্র ও কর্মী পরিবহনে এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দেশটিকে সহায়তা করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে তেহরান এই পদক্ষেপগুলোকে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর প্রচারণার অংশ হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। সূত্র: দ্য জেরুসালেম পোস্ট, গাল্ফ নিউজ।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুকে সুরক্ষার সহায়তা দিতে সৌদি আরবে সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ ঘোষণা দিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, ডিজেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি উভয়ের জন্যই ‘বিপর্যয়কর’ হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে টেলিভিশনে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ফরাসি ভূখণ্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়েও সতর্ক করেন। জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ম্যাক্রোঁ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, শীতকাল ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে ফ্রান্সের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্যারিস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প পথ ইয়ানবু বন্দর। এতে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিএফ১ ও ফ্রান্স ২ টিভি চ্যানেলকে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমরা এই স্থানটি সুরক্ষার জন্য সামরিক সম্পদ অর্থাৎ সেনা, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাতে যাচ্ছি; কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং এই স্থানটিকে রক্ষা করার জন্যই তা করা হচ্ছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার হুমকি সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইউরোপীয় সরকারগুলোকে সতর্ক করেছে। স্প্যানিশ পত্রিকা ‘এল মুন্দো’-র এমন একটি প্রতিবেদন নাকচ করে দেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, আমি এটি অস্বীকার করছি। সিআইএ ফরাসি সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া ক্রমাগত বৈরী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে চলেছে এবং লিপজিগে ব্যর্থ হামলার মতো ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে ফ্রান্সও। জার্মানি জানিয়েছিল, আগস্ট মাসে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য মস্কোকে দায়ী করা হয়েছিল। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি সম্পর্কে অবহিত করতে গত সপ্তাহে এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের ডেকেছিলেন ম্যাক্রোঁ। পরবর্তীতে তিনি জানান, ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ তিনি সরকারকে দিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, মস্কো ইউরোপকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে এবং ইউক্রেনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই মহাদেশের দৃঢ় সংকল্প ভেঙে দিতে চাইছে। রাশিয়া দাবি করেছে, হাইব্রিড হামলার বিষয়ে ইউরোপের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তা রাশিয়া-বিরোধী উন্মাদনার ফল। তবে এ সপ্তাহে রাশিয়ার বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে; কারণ জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রুশ-উজবেক ধাতু ব্যবসায়ী আলিশার উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি অন্য সদস্য দেশগুলোকে চমকে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের জেরে আজারবাইজান গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কারাবন্দী এক ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা প্রদর্শন করে। সূত্র: রয়টার্স।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ২৭তম তলায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত অবদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের আগে আরও দীর্ঘ প্রস্তুতিমূলক সময় চায় বাংলাদেশ। অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতিকে আরও সক্ষম ও অভিঘাতসহনশীল করে তোলা সম্ভব হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠকে এ কথা বলেন। ঢাকায় পাওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের এ অনুরোধ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিবেচনাধীন থাকায় এলডিসি গ্রুপের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণে যাচ্ছে এমন দেশগুলোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন এবং মসৃণ উত্তরণ কৌশল কার্যকর করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে সামনে রেখে তিনি এলডিসিগুলোর জন্য ছয়টি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কমে যাওয়ার প্রবণতা রোধ, সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো, বাজারে প্রবেশাধিকার উন্নত করা এবং অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় পূর্বানুমেয় জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা। অবৈধ আর্থিক প্রবাহ মোকাবিলা ও পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে আরও জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিতে সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ঋণের চাপ, ওডিএ কমে যাওয়া, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু সংকট আমাদের সক্ষমতার পরীক্ষা নিচ্ছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, এলডিসিগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনো ৭ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে। ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ‘থ্রি-আর’ কৌশল- রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন- টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে। এলডিসি গ্রুপের চেয়ার হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ায় নেপালকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি পরবর্তী চেয়ার হিসেবে গাম্বিয়াকে স্বাগত জানান হুমায়ুন কবির।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ২৭তম তলায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত অবদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চ ভাড়াও। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে লঞ্চ ভাড়া বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। নতুন ভাড়া বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একজন যাত্রীর লঞ্চ ভাড়া কম দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২২ পয়সা ও বেশি দূরত্বে ১৯ পয়সা বেড়েছে। যার অর্থ আগের তুলনায় কম দূরত্বের লঞ্চের ভাড়া ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বাড়ল। লঞ্চ ভাড়া ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে ২২ পয়সা বেড়ে ৩ টাকা ১৭ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ভাড়া ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে ১৯ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। জনপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে ৩ টাকা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে। এ ভাড়ার হার সকল নদী বন্দরের টার্মিনাল এবং নৌযানের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট, পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯’ এর বিধি ২৭ অনুযায়ী সরকার নৌযানে যাত্রী পরিবহনের জন্য জনপ্রতি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন যাত্রী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে।
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আরও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এর আগে জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম খাতুনের পারিবারিক জীবন ও মৃত্যুর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো আরও যাচাই করতে গাজী নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। যেভাবে মামলার সূত্রপাত গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলকে চার দিনের এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার আরেক আসামি ওবায়দুর রহমানকেও পরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার অভিযোগের সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাস ও সিএনজি অটোরিকশায় সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলার ঘটনাগুলো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি বলেন, যারা আগুন দিচ্ছে ও বোমা ছুড়ছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু। সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে। রাজপথ কারো ইজারা নেওয়া নয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতাকালে রিজভী এ মন্তব্য করেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্রদলের সমাবেশে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে। বাস ও সিএনজি অটোরিকশায় সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোকে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত অপরাধীরা স্বীকার করেছে যে, তারা প্রতিবেশি দেশ থেকে ফোনকলের মাধ্যমে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো, সেসব ঘটনার ছবি তোলা এবং প্রমাণের জন্য তা ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা ও অর্থ পেয়েছিল। রিজভী বলেন, এই পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদ প্রতিবেশি দেশের একটি ফোন নম্বর থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যা ষড়যন্ত্রের গভীরতা উন্মোচন করে। তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সর্বদা জাতীয় স্বার্থ ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়। সমাবেশে বক্তৃতাকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, গত ১৭ বছরে জনগণ ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসন প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একদিকে যেমন দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে, তেমনি রাজপথে ষড়যন্ত্রকারীদেরও সক্রিয়ভাবে মোকাবিলা করছে। বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সরকার যখন অর্থনীতি পুনর্গঠন ও একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, তখন ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি স্বার্থান্বেষী মহল অগ্নিসংযোগ ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ছাত্র সংগঠনটির বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মী অংশ নেন।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুকে সুরক্ষার সহায়তা দিতে সৌদি আরবে সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ ঘোষণা দিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, ডিজেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি উভয়ের জন্যই ‘বিপর্যয়কর’ হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে টেলিভিশনে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ফরাসি ভূখণ্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়েও সতর্ক করেন। জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ম্যাক্রোঁ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, শীতকাল ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে ফ্রান্সের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্যারিস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প পথ ইয়ানবু বন্দর। এতে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিএফ১ ও ফ্রান্স ২ টিভি চ্যানেলকে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমরা এই স্থানটি সুরক্ষার জন্য সামরিক সম্পদ অর্থাৎ সেনা, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাতে যাচ্ছি; কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং এই স্থানটিকে রক্ষা করার জন্যই তা করা হচ্ছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার হুমকি সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইউরোপীয় সরকারগুলোকে সতর্ক করেছে। স্প্যানিশ পত্রিকা ‘এল মুন্দো’-র এমন একটি প্রতিবেদন নাকচ করে দেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, আমি এটি অস্বীকার করছি। সিআইএ ফরাসি সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া ক্রমাগত বৈরী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে চলেছে এবং লিপজিগে ব্যর্থ হামলার মতো ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে ফ্রান্সও। জার্মানি জানিয়েছিল, আগস্ট মাসে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য মস্কোকে দায়ী করা হয়েছিল। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি সম্পর্কে অবহিত করতে গত সপ্তাহে এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের ডেকেছিলেন ম্যাক্রোঁ। পরবর্তীতে তিনি জানান, ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ তিনি সরকারকে দিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, মস্কো ইউরোপকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে এবং ইউক্রেনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই মহাদেশের দৃঢ় সংকল্প ভেঙে দিতে চাইছে। রাশিয়া দাবি করেছে, হাইব্রিড হামলার বিষয়ে ইউরোপের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তা রাশিয়া-বিরোধী উন্মাদনার ফল। তবে এ সপ্তাহে রাশিয়ার বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে; কারণ জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রুশ-উজবেক ধাতু ব্যবসায়ী আলিশার উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি অন্য সদস্য দেশগুলোকে চমকে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের জেরে আজারবাইজান গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কারাবন্দী এক ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা প্রদর্শন করে। সূত্র: রয়টার্স।
নাসির উদ্দিন
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তেহরানের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা তৃতীয় দেশের কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে মার্কিন নীতির পরিবর্তনের এটিই প্রথম বড় প্রভাব। উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম ভ্রমণ কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের নতুন নীতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করছে। ইরানের আধা সরকারি সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ওমান, জর্জিয়া, আজারবাইজান এবং ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, কর্তৃপক্ষ ইরাকের আরেকটি বিমানবন্দর নাজাফ এর দিকে ফ্লাইটগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বরের যেসব বৈশ্বিক কোম্পানি ইরানি এয়ারলাইন্সের সাথে ব্যবসা করবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, চীন, ইরাক, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সাথে নির্ধারিত ফ্লাইট ওঠানামার তালিকা দেখা গেছে। কিন্তু নিকটবর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোর যাদের সাথে ইরানের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ও ভ্রমণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের সাথে কোনো ফ্লাইটের তালিকা দেখা যায়নি। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশিত আকাশপথের অবরোধ কার্যকর করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। বুধবার দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হুমকি দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা কোনো আঞ্চলিক দেশের বিমানবন্দরগুলোকে ‘ব্যবহারের অযোগ্য’ করে দেওয়া হবে। গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ইরানের বিমান চলাচল খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ২৭টি ইরানি এয়ারলাইনসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসগুলো অস্ত্র ও কর্মী পরিবহনে এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দেশটিকে সহায়তা করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে তেহরান এই পদক্ষেপগুলোকে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর প্রচারণার অংশ হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। সূত্র: দ্য জেরুসালেম পোস্ট, গাল্ফ নিউজ।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুকে সুরক্ষার সহায়তা দিতে সৌদি আরবে সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ ঘোষণা দিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, ডিজেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি উভয়ের জন্যই ‘বিপর্যয়কর’ হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে টেলিভিশনে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ফরাসি ভূখণ্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়েও সতর্ক করেন। জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ম্যাক্রোঁ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, শীতকাল ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে ফ্রান্সের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্যারিস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প পথ ইয়ানবু বন্দর। এতে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিএফ১ ও ফ্রান্স ২ টিভি চ্যানেলকে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমরা এই স্থানটি সুরক্ষার জন্য সামরিক সম্পদ অর্থাৎ সেনা, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাতে যাচ্ছি; কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং এই স্থানটিকে রক্ষা করার জন্যই তা করা হচ্ছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার হুমকি সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইউরোপীয় সরকারগুলোকে সতর্ক করেছে। স্প্যানিশ পত্রিকা ‘এল মুন্দো’-র এমন একটি প্রতিবেদন নাকচ করে দেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, আমি এটি অস্বীকার করছি। সিআইএ ফরাসি সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া ক্রমাগত বৈরী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে চলেছে এবং লিপজিগে ব্যর্থ হামলার মতো ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে ফ্রান্সও। জার্মানি জানিয়েছিল, আগস্ট মাসে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য মস্কোকে দায়ী করা হয়েছিল। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি সম্পর্কে অবহিত করতে গত সপ্তাহে এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের ডেকেছিলেন ম্যাক্রোঁ। পরবর্তীতে তিনি জানান, ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ তিনি সরকারকে দিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, মস্কো ইউরোপকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে এবং ইউক্রেনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই মহাদেশের দৃঢ় সংকল্প ভেঙে দিতে চাইছে। রাশিয়া দাবি করেছে, হাইব্রিড হামলার বিষয়ে ইউরোপের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তা রাশিয়া-বিরোধী উন্মাদনার ফল। তবে এ সপ্তাহে রাশিয়ার বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে; কারণ জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রুশ-উজবেক ধাতু ব্যবসায়ী আলিশার উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি অন্য সদস্য দেশগুলোকে চমকে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের জেরে আজারবাইজান গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কারাবন্দী এক ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা প্রদর্শন করে। সূত্র: রয়টার্স।
পবিত্র মক্কা নগরীসহ সৌদি আরবের কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার জাতীয় আগাম সতর্কীকরণ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। সাধারণত সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়ে থাকে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, মক্কা নগরীর বাসিন্দাদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করতে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। একই সময়ে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু, তায়েফ, জেদ্দা ও তাবুক এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এসব সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কথা জানানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই নতুন এই সতর্কতা জারি হলো। গত সপ্তাহে সৌদি আরব দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো মক্কার দিকে একটি ড্রোন পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ভূপাতিত করার কথা জানালেও হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর আগে সৌদি রাজধানী রিয়াদকেও লক্ষ্য করে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষ একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এসব ঘটনার ফলে দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও স্থাপনায় নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অগ্রগতি এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলার কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব নৌপথ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স
ইরান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অস্থিরতা নিরসনে নতুন ভূ-রাজনৈতিক কৌশল সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলে (জিসিসি) অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি 'ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর' বা 'আইএমইইসি' প্রকল্পের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, বাণিজ্যিক নৌপথে ইরানের ধারাবাহিক বাধা সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জবাবে এই সংযোগ করিডোরই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমাধান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং সামুদ্রিক পথে তাদের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তেহরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কিংবা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ চেকপয়েন্টগুলো এড়িয়ে নিরাপদ উপায়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য বহনের জন্য আইএমইইসি করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাইপলাইন বা বিকল্প যে কোনো মাধ্যমের সাহায্যে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পের প্রশাসন এই বৃহৎ বহুমাত্রিক উদ্যোগে পূর্ণ অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার যৌথ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পের গোড়াপত্তন ঘটে। মূলত দক্ষিণ এশিয়া, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউরোপের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটিকে দুটি প্রধান রুটে ভাগ করা হয়েছে; পূর্ব রুটটি ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাথে যুক্ত করবে এবং উত্তর রুটটি উপসাগরকে সংযুক্ত করবে ইউরোপের সাথে। এই করিডোরে থাকবে সমন্বিত রেললাইন, নতুন শিপিং নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল যোগাযোগের ক্যাবল লাইন এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন হাইড্রোজেন পরিবহনের পাইপলাইন। এর ফলে ভারত ও ইউরোপের মধ্যবর্তী বাণিজ্য সময় অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবে এবং চীন ঘোষিত 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (বিআরআই)-এর একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে উঠবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে চরম সতর্কবার্তা দেন। তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে এক সময় অনেক দেরি হয়ে যাবে এবং একটি জাতি হিসেবে তাদের টিকে থাকার কোনো সুযোগই থাকবে না। একই সাথে ট্রাম্প গত বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করেন, ওই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।