মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিকল্প পথ হিসেবে পানামা খালের ব্যবহার বেড়েছে, আর সেই সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন খরচও। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী একটি জাহাজ দীর্ঘ অপেক্ষা এড়াতে প্রায় ৪০ লাখ ডলার অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছে। সাধারণত পানামা খাল দিয়ে যেতে জাহাজগুলোকে প্রায় পাঁচ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হতো। ফলে এশিয়ার অনেক দেশ এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের বদলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল-গ্যাস আমদানি করে পানামা খাল ব্যবহার করছে। পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাল দিয়ে প্রতিদিন জাহাজ চলাচল মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও চাহিদা বেড়েছে। জানুয়ারিতে দৈনিক ৩৪টি জাহাজ চলাচল করলেও মার্চে তা বেড়ে ৩৭টিতে পৌঁছেছে। কোনো কোনো দিনে ৪০টির বেশি জাহাজও চলাচল করেছে। খাল ব্যবহারের জন্য সাধারণত আগে থেকেই সময় বুকিং করতে হয়। তবে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত পার হতে চাইলে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে সুযোগ নেওয়া যায়। সাম্প্রতিক নিলামে একটি এলএনজি জাহাজ ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত দর দিয়েছে। এছাড়া কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ ৩০ লাখ ডলারের বেশি দর দিয়েছে। আগে যেখানে গড় নিলাম মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, সেখানে এখন তা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ এই পানামা খাল দিয়ে হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলকে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে সংযুক্ত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে কাজ করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে পানামা খাল দিয়ে ৬ হাজার ২৮৮টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব পেয়েও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাসনিম জারা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, বাংলাদেশে অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা নারী হলেও তাঁদের প্রকৃত রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। তাঁর মতে, সংরক্ষিত আসন থাকলে তা যেন জনগণের ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়। তিনি আরও জানান, তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। মাত্র ১৯ দিনের প্রচারণায়, পোস্টার বা মিছিল ছাড়াই এবং নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা মেনে তিনি ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। তবে ওই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তিনি ফলাফল মেনে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তাসনিম জারা বলেন, “আমি যদি কখনো সংসদে যাই, তা হবে আপনাদের ভোটের মাধ্যমেই।” সংসদের বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তিনি জনগণের সেবা ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দুপুরের খাবারের বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা, ফেসবুকে ডা. জাহেদ উর রহমানের স্ট্যাটাস প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খাবার বরাদ্দ ও মেন্যু নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। স্ট্যাটাসে তিনি জানান, নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় লাঞ্চে সাধারণ ও ঘরোয়া ধাঁচের খাবার পরিবেশন করা হয়। মেন্যুতে ছিল ভাত, ছোট চিংড়ি দিয়ে লাউ, ঢেঁড়শ ভাজি, ডিম সেদ্ধ, ডাল এবং দই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাস্তা মিলিয়ে মোট বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা, যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম—আগে এই ব্যয় এর চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি ছিল বলে তিনি দাবি করেন। ডা. জাহেদের এই স্ট্যাটাসে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় সাশ্রয়ী নীতির বিষয়টি উঠে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে আরও টিকিট বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তবে একই সঙ্গে নতুন ও বেশি দামের টিকিট শ্রেণি চালু করায় সমর্থকদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের সব ১০৪টি ম্যাচের জন্য নতুন করে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আগের মতোই প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির টিকিট পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে নতুন একটি ‘ফ্রন্ট’ ক্যাটাগরি, যেখানে দর্শকদের জন্য মাঠের আরও কাছাকাছি আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এই বিশেষ সুবিধার সঙ্গে দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। নতুন এই টিকিট শ্রেণি চালুর পরই শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেক সমর্থকের অভিযোগ, প্রথম ধাপে টিকিট বিক্রির সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ভালো আসন সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল, যাতে পরে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করা যায়। ফলে আগেই টিকিট কেনা দর্শকরা প্রত্যাশার তুলনায় কম সুবিধাজনক আসন পেয়েছেন বলে দাবি করছেন। গত ডিসেম্বরে প্রথম দফায় টিকিট বিক্রির সময় মূল্য ছিল তুলনামূলক কম। গ্রুপ পর্বের তৃতীয় শ্রেণির টিকিটের দাম ছিল প্রায় ১৪০ মার্কিন ডলার, আর ফাইনালের জন্য সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার। তবে এপ্রিলের নতুন বিক্রয় পর্বে কিছু টিকিটের দাম বেড়ে প্রায় ১০ হাজার ৯৯০ ডলারে পৌঁছেছে, যা সমর্থকদের বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন ক্যাটাগরি চালুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে ‘অন্যায্য’ এবং ‘বাণিজ্যিক কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও ফিফা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এদিকে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও প্রত্যাশা অনুযায়ী টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচে দর্শক আগ্রহ তুলনামূলক কম বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরের টিকিট ব্যবস্থাপনা, মূল্য নির্ধারণ এবং দর্শকসেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সমর্থকদের দাবি, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত না হলে এই অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
কুয়েতে আক্তার হোসেন নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোববার (১৯ এপ্রিল) দেশটির মাহবুল্লাহ এলাকায় নিজ কোম্পানির আবাসিক কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, এর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কুয়েত পুলিশ। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হোসেনের দেশের বাড়ি চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর বাবার নাম সামসুল হক সওদাগর। তিনি কুয়েতের আল ফয়সালিয়া কোম্পানির অধীনে জাবের আল আহমেদ হাসপাতাল প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। নিহতের সহকর্মী জিয়াউল হক জানান, কর্মস্থলে তার দায়িত্ব পালন বা বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো দৃশ্যমান সমস্যা ছিল না। ফলে সহকর্মীদের ধারণা, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো কারণ থেকেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এদিকে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কুয়েতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ওমানে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় নতুন বিধিমালা জারি করা হয়েছে। ‘১/২০২৬’ নম্বর সিদ্ধান্তের আওতায় জেনারেল ফেডারেশন অব ওমান ওয়ার্কার্স (জিএফওডব্লিউ) কর্মক্ষেত্রে আঘাতের শ্রেণিবিভাগ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে সরাসরি দুর্ঘটনা কিংবা কাজের কারণে সৃষ্ট যেকোনো আঘাতকে ‘কর্মক্ষেত্রের আঘাত’ (Work Injury) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে—তা ওমানের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই ঘটুক না কেন। বিধিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বাসা থেকে কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কর্মক্ষেত্রের আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এর জন্য যাতায়াত অবশ্যই স্বাভাবিক ও সরাসরি পথে হতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বিরতি বা পথ পরিবর্তন করা যাবে না এবং দুর্ঘটনাটি দৈনন্দিন যাতায়াতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ঘটতে হবে। এই শর্ত পূরণ হলে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা সম্পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রে শ্রমিকরা সুবিধা পাবেন। এছাড়া অতিরিক্ত কাজের চাপ, শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কারণে সৃষ্ট অসুস্থতা বা আঘাতকেও এই নতুন নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান শ্রম আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত সময় কাজ করানো, বিশ্রামের সুযোগ না দেওয়া বা অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েও নতুন নির্দেশনায় আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিমাকৃত কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো স্বীকৃত চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করলে, নোটিশ পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করা যাবে। এই আপিলগুলো ‘মেডিকেল গ্রিভেন্স কমিটি’র কাছে পাঠানো হবে এবং অভিযোগ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে কমিটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে হবে। এই রায় বাধ্যতামূলক হিসেবে গণ্য হবে এবং তা নিয়োগকর্তা ও কর্মী—উভয় পক্ষকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
পরিবারের সুখের চাকা সচল রাখতে ২০১৯ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা টিটু মিয়া। জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে দীর্ঘ সাত বছর প্রিয়জনদের মুখ দেখা হয়নি তার। কফিলের জটিলতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেননি তিনি। প্রবাসের কঠোর পরিশ্রমে একমাত্র মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করেছেন, ছেলের জন্য কিনে দিয়েছেন শখের মোটরসাইকেল, পূরণ করেছেন পরিবারের অসংখ্য চাহিদা। কিন্তু নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নেওয়ার সময় যেন আর হয়ে ওঠেনি এই প্রবাসী যোদ্ধার। গত ১৫ এপ্রিল সৌদি আরবের আল খারিজের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন টিটু মিয়া। জীবনের সবটুকু দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটালেও, শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমাতে হলো তাকে। গাইবান্ধার মান্দুয়া গ্রামে এখন বিরাজ করছে গভীর শোক ও শূন্যতা। আমাদের সমাজে টিটু মিয়াদের মতো হাজারো প্রবাসী রয়েছেন, যারা নীরবে ত্যাগ স্বীকার করে যান—কিন্তু তাদের এই আত্মত্যাগ অনেক সময়ই থেকে যায় অগোচরে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোয় বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একইসঙ্গে তিনি উভয় পক্ষকে আলোচনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। খবর এএফপির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ লেখেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা করছি, উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। সেই সঙ্গে ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফা আলোচনার মাধ্যমে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শান্তি চুক্তি’তে পৌঁছাতে সক্ষম হবে, যা এই সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখছে তেহরান। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে এবং শান্তি আলোচনার সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, ইরান এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কোনো অনুরোধ করেনি। তাসনিমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বুঝতে পেরেছে যে যুদ্ধের মাধ্যমে আর কোনো লাভ হচ্ছে না, তাই পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসতে চাইছে। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধবিরতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা নতুন করে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সরাসরি যুদ্ধ থেকে সরে গেলেও তার মিত্র ইসরায়েল সংঘর্ষ চালিয়ে যেতে পারে। চতুর্থত, নৌ অবরোধ চালু থাকলে সংঘাত পুরোপুরি শেষ হবে না, বরং পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণই থাকবে বলে মনে করছে ইরান। তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যুদ্ধের ছায়া বজায় রাখতে চায়, যাতে দেশটির অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি চাপের মধ্যে থাকে। তবে ইরানও সতর্ক অবস্থানে আছে বলে জানানো হয়েছে। তারা বলছে, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত জলপথ নিয়ে পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে তার জবাব দেওয়া হবে।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা মাহমুদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোয় বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একইসঙ্গে তিনি উভয় পক্ষকে আলোচনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। খবর এএফপির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ লেখেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা করছি, উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। সেই সঙ্গে ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফা আলোচনার মাধ্যমে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শান্তি চুক্তি’তে পৌঁছাতে সক্ষম হবে, যা এই সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে সার উৎপাদন কমে গেছে। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দেশটির সার উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। এই কমার প্রধান কারণ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে সমস্যা। ইউরিয়া সার উৎপাদনের জন্য গ্যাস খুবই জরুরি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বে অনেক জ্বালানি ও সার তৈরির কাঁচামাল পরিবহন করা হয়। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্চ মাসে উৎপাদন ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। যদিও এর আগে কয়েক মাস ধরে উৎপাদন বাড়ছিল। তবে সরকার বলছে, দেশে এখনো পর্যাপ্ত সার মজুত আছে এবং অন্য দেশ থেকে আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ভারতে কৃষিখাতে বিপুল মানুষ কাজ করে। তাই সার উৎপাদন কমে গেলে ফসল উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের আগে সার চাহিদা বেশি থাকে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের সহায়তায় সরকার ইতোমধ্যে সার ভর্তুকি ১১ শতাংশ বাড়িয়েছে। এদিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সার সরবরাহে সমস্যা হলে তা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ইরানের জাতিসংঘ প্রতিনিধি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলে পরবর্তী দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সিএনএন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ’র বরাতে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলেই ইসলামাবাদে পরবর্তী দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’ এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ (ব্লকেড) বজায় রাখবে। ট্রাম্প জানান, তেহরানকে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি প্রস্তাব দেওয়ার জন্য আরও সময় দিতে যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিত হামলা স্থগিত রাখছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে ইরানের স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ‘কোনো গুরুত্ব বহন করে না’। যে পক্ষ হেরে যাচ্ছে, তারা শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। অবরোধ চালিয়ে যাওয়া আর বোমা হামলার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটির জবাব সামরিকভাবেই দিতে হবে।
আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছে আরব লীগ কাউন্সিল। মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত এক মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি। এতে কাতারসহ বিভিন্ন আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন। কাতারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখি। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত। বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, জর্ডান ও ইরাকসহ একাধিক আরব দেশের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যার জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে। আরব লীগ এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, এসব হামলায় বেসামরিক এলাকা, তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রস্তাবে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে দায় নিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে আরব দেশগুলোর প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করা হয় এবং বলা হয়, একটি দেশের ওপর হামলা মানে পুরো আরব বিশ্বের ওপর হামলা। আরব লীগ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নেয় এবং ইরানকে অবিলম্বে হামলা বন্ধে বাধ্য করে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করার ইরানের হুমকিরও নিন্দা জানানো হয়েছে। আরব লীগ সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তথ্যসূত্র : দোহা নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।