সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্টকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন, প্রশ্নের মুখে নানা দাবি

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ দীর্ঘদিন ধরে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছে এবং তাকে ঘিরে একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনাও বিবেচনায় ছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে একটি জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনের আড়ালে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।   এতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল আহমেদিনেজাদকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করেছিল এবং তার বিদেশ সফর ও যোগাযোগের বিষয়ে একাধিক গোপন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।   প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বর্তমানে আহমেদিনেজাদের কর্মকাণ্ড তদন্ত করছে এবং তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   তবে এসব দাবির বিষয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কিংবা আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি। একইভাবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণও প্রকাশ করা হয়নি।   উল্লেখ্য, মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং সে সময় তিনি ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।   সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট

২ ঘন্টা আগে
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদকে গৃহবন্দির দাবি, মোসাদ-যোগ তদন্তে আইআরজিসি

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তদন্ত করছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এ তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।   সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চারজন ইরানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, আইআরজিসির গোয়েন্দারা তদন্তে কিছু প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন, যার ভিত্তিতে আহমেদিনেজাদকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের শুরুতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে আয়োজিত একটি জলবায়ু সম্মেলনের আড়ালে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র আলী আকবর জাভানফেকরকে একাধিকবার গোপনে অর্থ দেওয়া হয়েছে বলেও তদন্তে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।   অন্যদিকে, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মোসাদের কর্মকর্তারা এবং আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র আলী আকবর জাভানফেকর বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।   সূত্র: নিউইয়র্ক  টাইমস 

২ ঘন্টা আগে
গার্ল গাইডসে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক, তদন্ত ও সংস্কারের দাবি

বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।   প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত গার্ল গাইডসের ফি এবং সরকারি অনুদান ব্যবহারে নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের তদন্তে আর্থিক অসঙ্গতি, অনিয়মিত নিয়োগ, ভ্যাট না কাটা, ভুয়া ভাউচার এবং পরিকল্পনাবহির্ভূত ব্যয়ের মতো বিষয় উঠে এসেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এতে আরও অভিযোগ করা হয়, সংগঠনের নির্বাচন, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গঠনতন্ত্র যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং দীর্ঘদিন ধরে একই নেতৃত্ব ক্ষমতায় রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও সরকারি বরাদ্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাঠপর্যায়ে গার্ল গাইডিং কার্যক্রম প্রত্যাশিতভাবে পরিচালিত না হলেও বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। সংগঠনের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সদস্যও এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রীর বহরের নিরাপত্তা গাড়ির সামনে ইটের টুকরা, তদন্তে পুলিশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল সফরের সময় মাদারীপুরে তার নিরাপত্তা বহরের একটি গাড়ির সামনে ইটের টুকরা পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের সাধুরব্রিজ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের সামনে ও পেছনে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক গাড়ি চলছিল। সড়কের দুই পাশে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে বাসের ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন। এ সময় বাসটির পেছনে থাকা একটি নিরাপত্তা গাড়ির সামনে একটি ইটের টুকরা এসে পড়ে।   ঘটনাটি পরিকল্পিত নাশকতা নাকি চলন্ত কোনো যানবাহনের চাকা থেকে ছিটকে আসা ইটের টুকরা—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।   মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বহরের একটি গাড়ির সামনে ইটের টুকরা পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি কীভাবে সেখানে এসেছে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।   উল্লেখ্য, সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় তিনি একই পথে ঢাকার উদ্দেশে ফিরে যান।

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্টকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন, প্রশ্নের মুখে নানা দাবি

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ দীর্ঘদিন ধরে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছে এবং তাকে ঘিরে একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনাও বিবেচনায় ছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে একটি জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনের আড়ালে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।   এতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল আহমেদিনেজাদকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করেছিল এবং তার বিদেশ সফর ও যোগাযোগের বিষয়ে একাধিক গোপন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।   প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বর্তমানে আহমেদিনেজাদের কর্মকাণ্ড তদন্ত করছে এবং তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   তবে এসব দাবির বিষয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কিংবা আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি। একইভাবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণও প্রকাশ করা হয়নি।   উল্লেখ্য, মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং সে সময় তিনি ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।   সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৪, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রীর বহরের নিরাপত্তা গাড়ির সামনে ইটের টুকরা, তদন্তে পুলিশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল সফরের সময় মাদারীপুরে তার নিরাপত্তা বহরের একটি গাড়ির সামনে ইটের টুকরা পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের সাধুরব্রিজ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের সামনে ও পেছনে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক গাড়ি চলছিল। সড়কের দুই পাশে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে বাসের ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন। এ সময় বাসটির পেছনে থাকা একটি নিরাপত্তা গাড়ির সামনে একটি ইটের টুকরা এসে পড়ে।   ঘটনাটি পরিকল্পিত নাশকতা নাকি চলন্ত কোনো যানবাহনের চাকা থেকে ছিটকে আসা ইটের টুকরা—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।   মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বহরের একটি গাড়ির সামনে ইটের টুকরা পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি কীভাবে সেখানে এসেছে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।   উল্লেখ্য, সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় তিনি একই পথে ঢাকার উদ্দেশে ফিরে যান।

ছবি: সংগৃহীত
গার্ল গাইডসে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক, তদন্ত ও সংস্কারের দাবি

বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।   প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত গার্ল গাইডসের ফি এবং সরকারি অনুদান ব্যবহারে নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের তদন্তে আর্থিক অসঙ্গতি, অনিয়মিত নিয়োগ, ভ্যাট না কাটা, ভুয়া ভাউচার এবং পরিকল্পনাবহির্ভূত ব্যয়ের মতো বিষয় উঠে এসেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এতে আরও অভিযোগ করা হয়, সংগঠনের নির্বাচন, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গঠনতন্ত্র যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং দীর্ঘদিন ধরে একই নেতৃত্ব ক্ষমতায় রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও সরকারি বরাদ্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাঠপর্যায়ে গার্ল গাইডিং কার্যক্রম প্রত্যাশিতভাবে পরিচালিত না হলেও বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। সংগঠনের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সদস্যও এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের ‘বিশেষ’ অভিযানে আড়াই মাসে গ্রেপ্তার ৩৩ হাজার, বেশিরভাগই মাদক মামলায়

গত আড়াই মাস ধরে চালানো ‘বিশেষ’ অভিযানে ৩২ হাজার ৯০৮ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।   সোমবার পুলিশ সদরদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই হিসাব দিয়ে বলা হয়েছে, এর মধ্যে মাদক সংক্রান্ত মামলাতেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি।   আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গত ১ মে থেকে দেশে ‘বিশেষ’ অভিযান শুরু করে পুলিশ। এর বাইরে পুলিশের নিয়মিত অভিযান-গ্রেপ্তারও চলছে।   পুলিশ বলছে, ‘বিশেষ’ অভিযানের বাইরে বিভিন্ন মামলা এবং আলাদা অভিযানে আড়াই মাসে আরো ৮৩ হাজার ৮১৭ জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন মামলায় এজাহারভূক্ত আসামি।   সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিশেষ’ অভিযানে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩টি গুলি ও কার্তুজ, ৮৮ ম্যাগাজিন, ৪৩টি ককটেল, দুই কেজি গান পাউডার, ৫০৩টি দেশিয় অস্ত্র, ১৮টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ১৭টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজার ৩০০টি ‘চকলেট বাজি’ উদ্ধার করা হয়েছে।   আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পিস্তল ৭৬টি, শুটারগান ৩০টি, এলজি ৩৩টি, রিভলবার ১৮টি, বন্দুক ৫০টি, পাইপগান ১৫টি, শটগান চারটি, রাইফেল দুটি, এসএমজি দুটি, এয়ারগান ১২টি ও পেনগান একটি।   অভিযানে ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ২৭৬ ইয়াবা, ৮ হাজার ২৮৪ পুরিয়া হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশি মদ, ৫ হাজার ৩৩৬ পুরিয়া গাঁজা এবং মাদক জাতীয় অন্যান্য দ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে।   মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা হয়েছে এবং ২০ হাজার ৪৩৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদকে গৃহবন্দির দাবি, মোসাদ-যোগ তদন্তে আইআরজিসি

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তদন্ত করছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এ তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।   সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চারজন ইরানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, আইআরজিসির গোয়েন্দারা তদন্তে কিছু প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন, যার ভিত্তিতে আহমেদিনেজাদকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের শুরুতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে আয়োজিত একটি জলবায়ু সম্মেলনের আড়ালে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র আলী আকবর জাভানফেকরকে একাধিকবার গোপনে অর্থ দেওয়া হয়েছে বলেও তদন্তে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।   অন্যদিকে, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মোসাদের কর্মকর্তারা এবং আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র আলী আকবর জাভানফেকর বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।   সূত্র: নিউইয়র্ক  টাইমস 

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্টকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন, প্রশ্নের মুখে নানা দাবি
আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৪, ২০২৬

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ দীর্ঘদিন ধরে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছে এবং তাকে ঘিরে একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনাও বিবেচনায় ছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে একটি জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনের আড়ালে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।   এতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল আহমেদিনেজাদকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করেছিল এবং তার বিদেশ সফর ও যোগাযোগের বিষয়ে একাধিক গোপন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।   প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বর্তমানে আহমেদিনেজাদের কর্মকাণ্ড তদন্ত করছে এবং তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   তবে এসব দাবির বিষয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কিংবা আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি। একইভাবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণও প্রকাশ করা হয়নি।   উল্লেখ্য, মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং সে সময় তিনি ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।   সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদকে গৃহবন্দির দাবি, মোসাদ-যোগ তদন্তে আইআরজিসি
আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৪, ২০২৬

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তদন্ত করছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এ তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।   সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চারজন ইরানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, আইআরজিসির গোয়েন্দারা তদন্তে কিছু প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন, যার ভিত্তিতে আহমেদিনেজাদকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের শুরুতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে আয়োজিত একটি জলবায়ু সম্মেলনের আড়ালে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র আলী আকবর জাভানফেকরকে একাধিকবার গোপনে অর্থ দেওয়া হয়েছে বলেও তদন্তে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।   অন্যদিকে, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মোসাদের কর্মকর্তারা এবং আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র আলী আকবর জাভানফেকর বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।   সূত্র: নিউইয়র্ক  টাইমস 

ছবি: সংগৃহীত
রাইডশেয়ার চালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নেপালে নতুন করে তরুণদের বিক্ষোভ
আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক রাইডশেয়ার চালকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের আচরণের প্রতিবাদে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যা সরকারের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে কাঠমান্ডুর একটি সড়কে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ২৫ বছর বয়সী চালক গণেশ নেপালি। এ সময় পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তারা তার মোটরসাইকেলের চাকায় তালা লাগিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন তার মৃত্যু হয়।   এই ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। রোববার শত শত মানুষ সিংহদরবার সচিবালয়ের সামনে জড়ো হয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি কঠোর আচরণ বন্ধ, অবৈধ আটক বন্ধ এবং উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।   বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে বালেন্দ্র (বালেন) শাহ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নগর ব্যবস্থাপনায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং নদীতীরবর্তী বস্তি উচ্ছেদের মতো উদ্যোগের কারণে তিনি আলোচনায় এলেও এসব পদক্ষেপের মানবিক দিক নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।   আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্মকাণ্ড তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছে। তাদের মতে, পৌর পুলিশের দায়িত্ব মূলত নগর ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ উঠছে।   নেপালের সংবিধান স্থানীয় সরকারকে পৌর পুলিশ গঠনের সুযোগ দিলেও সংশ্লিষ্ট আইনে তাদের ক্ষমতা সীমিত রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, জননিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব মূলত জাতীয় পুলিশ বাহিনীর।   বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দিনমজুর, হকার ও নিম্নআয়ের মানুষের বিরুদ্ধে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান এবং প্রশাসনের কঠোর আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনা সেই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে এবং তরুণদের বড় একটি অংশকে আবারও রাজপথে নামিয়েছে।

বকখালী থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ ট্রলারটি। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ট্রলার থেকে উদ্ধার ৯ জেলের মরদেহ
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের ভারত উপকূলে নিখোঁজ মাছ ধরার ট্রলার থেকে ৯ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৬ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।   সোমবার (১৩ জুলাই) ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়াল এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বকখালী ও সুন্দরবন উপকূলবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে ১৫ জন জেলেসহ নিখোঁজ হয় ট্রলারটি। টানা আট দিন নিখোঁজ থাকার পর গট রোববার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালী উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের এক চরের কাছে ট্রলারটির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।   স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অবস্থান জানার পর বন অধিদপ্তর ও ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ট্রলারটি উদ্ধার করে সীতারামপুরে নিয়ে আসে। রাতভর তল্লাশি করে ট্রলারের ভেতর থেকে ৯ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়।   আশঙ্কা করা হচ্ছে ট্রলারটির ভেতরে ও আশপাশে আরও মরদেহ আটকে থাকতে পারে। বাকি জেলেদের দেহ উদ্ধারে দিনভর তল্লাশি চলবে বলেও জানানো হয়।   এখনো নিখোঁজ ৬ জেলের পরিবার দিন কাটাচ্ছে উৎকণ্ঠায়। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শঙ্করপুর উপকূলের জেলেপল্লিতেও।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি