সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ব্রিকসের প্রতি শি জিনপিংয়ের আহ্বান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।   শনিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।   সম্মেলনে শি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেখানে চলমান যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুতর ক্ষতি ডেকে এনেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের পরিপন্থী।”   চীনের প্রেসিডেন্ট ব্রিকস দেশগুলোকে “ইতিহাসের সঠিক পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর” আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেইজিং অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে কাজ করবে।   তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে পারস্পরিক শিক্ষা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নে ব্রিকসকে নেতৃত্ব দিতে হবে।   শি ব্রিকস সহযোগিতা কাঠামোকে “উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম” হিসেবে উল্লেখ করেন।   “শীতল যুদ্ধের মানসিকতা ও ব্লকভিত্তিক সংঘাতের” বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও ব্রিকসকে অবস্থান নিতে হবে।   সব ধরনের সংরক্ষণবাদ প্রত্যাখ্যান করে শি জিনপিং ব্রিকসকে সাইবারস্পেস, মহাকাশ ও গভীর সমুদ্রসহ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বর জোরদারের কথা বলেন।   তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নে ব্রিকসকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে, জাতিসংঘের কর্তৃত্ব সমুন্নত রাখতে হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।   ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়। পরে এতে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যোগ দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রভাবাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জোটটি গড়ে তোলা হয়েছিল।   ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ তাদের দখলে।   সূত্র: আনাদোলু

২২ মিনিট আগে
চিনির পিঁপড়া দূর করার ঘরোয়া ৪ কার্যকর উপায়

চিনিতে পিঁপড়া একটি বিরক্তিকর সমস্যা। তবে কিছু সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়ের মাধ্যমে খুব সহজেই এর সমাধান করা সম্ভব। রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে রান্নাঘরের সাধারণ কিছু উপাদান ব্যবহার করেই চিনি থেকে পিঁপড়া দূর করা সম্ভব—   লবঙ্গের তীব্র গন্ধ পিঁপড়ারা লবঙ্গের তীব্র গন্ধ একদম সহ্য করতে পারে না। চিনির পাত্রে ৪-৫টি লবঙ্গ রেখে দিলে এর কড়া গন্ধের কারণে পিঁপড়া নিমেষেই পালিয়ে যায় এবং নতুন করে আর আসে না।   তেজপাতার ঝাঁজ তেজপাতার একটি নিজস্ব ঝাঁজালো সুবাস রয়েছে যা পিঁপড়াকে দূরে রাখে। চিনির কৌটার ভেতর একটি শুকনো তেজপাতা দুই টুকরো করে রেখে দিলে পিঁপড়ার উপদ্রব বন্ধ হয়।   দারচিনির টুকরো দারচিনির সুগন্ধ আমাদের কাছে প্রিয় হলেও পিঁপড়াদের জন্য এটি বেশ অস্বস্তিকর। চিনির পাত্রে ছোট এক টুকরো দারচিনি রেখে দিলে পিঁপড়া চিনির ধারে-কাছেও ঘেঁষবে না।   লেবুর খোসার টুকরো লেবুর খোসায় থাকা সাইট্রিক উপাদান পিঁপড়া তাড়াতে দারুণ কাজ করে। চিনির পাত্রে ছোট এক টুকরো লেবুর খোসা রেখে দিতে পারেন, তবে খোসা শুকিয়ে গেলে সেটি বদলে নতুন খোসা দিতে হবে।   সঠিক উপায়ে চিনি সংরক্ষণ বায়ুরোধী পাত্র: চিনি সবসময় এমন পাত্রে রাখা উচিত যেটির ঢাকনা খুব শক্ত এবং বাতাস ঢুকতে পারে না। কাচ বা ভালো মানের প্লাস্টিকের এয়ারটাইট জার ব্যবহার করলে পিঁপড়া ভেতরে ঢোকার কোনো সুযোগ পায় না।   পাত্রের চারপাশ পরিষ্কার রাখা: অনেক সময় চিনি নেওয়ার সময় পাত্রের গায়ে বা চারপাশে কিছু চিনি পড়ে থাকে, যা পিঁপড়াকে আকর্ষণ করে। তাই প্রতিবার চিনি ব্যবহারের পর পাত্রের গা এবং চারপাশ ভেজা কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে পরিষ্কার রাখতে হবে।   চিনিকে পিঁপড়ামুক্ত রাখতে বাজারের ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার না করে এই প্রাকৃতিক ও নিরাপদ পদ্ধতিগুলো বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সামান্য একটু সতর্কতা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলেই চিনিকে দীর্ঘদিন পিঁপড়া ও অন্যান্য পোকামাকড় থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

২৫ মিনিট আগে
ফেনীতে পুলিশের অভিযানে ২১ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

ফেনীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাত, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী ও মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্টভুক্ত) ২১ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।   অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ৫০ বোতল বিদেশি মদ, ১০ লিটার দেশি চোলাই মদ, ৩ বোতল বিয়ার ও ৫৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।   পুলিশ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনী মডেল থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সন্ত্রাসবিরোধী মামলার ঘটনায় জড়িত আসামি ফেনীর সোনাগাজীর ছাড়াইতকান্দি এলাকার আবদুল হকের ছেলে আশরাফুলড়া জামান সোহাগকে (২০) মহিপাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।   এছাড়া ডাকাত দলের সদস্য সোনাগাজীর চরচান্দিয়া এলাকার নুর খাতুনের ছেলে সাইফুল ইসলাম রিয়াজকে (২৮) ফেনী শহরের এস এস কে রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।   একাধিক মাদক মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ী ফেনীর ধর্মপুর এলাকার মো. বাবুলের ছেলে মো. সেলিমকে (২৪) ৫০ বোতল বিদেশি মদসহ ফেনীর ধর্মপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।   এছাড়া ফেনী শহরের মধ্যম চাড়িপুর (খাজুরিয়া) জজ কোর্ট কলোনি এলাকা থেকে ১০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদসহ রাবেয়া আক্তারের ছেলে মো. হৃদয় (২০) ও তার মা রাবেয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।   অভিযানকালে ৫৭ পিস ইয়াবাসহ শাহরিয়ার হোসেন (২২), নাজমুল ইসলাম (২১), শহিদুল ইসলাম সুমন (৩৪), ইসমাইল হোসেন ইমন (২৬) ও মো. রবেলকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও ৩ বোতল বিয়ারসহ আবু বক্কর (২৩) ও মো. ইকবাল হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।   ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ কালবেলাকে জানান, পরবর্তীতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদকসেবীসহ সর্বমোট ২১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।   ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম কালবেলাকে জানান, ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের দিকনির্দেশনায় জেলার মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফেনী মডেল থানাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, মাদক ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি, মাদকসেবী এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২৭ মিনিট আগে
ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচসহ আজ টিভিতে যত খেলা

ইউএস ওপেনের পুরুষ এককের ফাইনাল আজ মুখোমুখি আলেকসান্দার জভেরেভ ও বেন শেলটন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আজ ম্যানচেস্টার ডার্বি। এছাড়াও ভারতীয় পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দলের ম্যাচ আছে। ছেলেরা আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি আর মেয়েরা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপ ফাইনালে লড়বে।    ইউএস ওপেন: পুরুষ ফাইনাল জভেরেভ–শেলটন রাত ১২টা, স্টার স্পোর্টস ১ ও ২   ১ম টি–টুয়েন্টি ভারত–আফগানিস্তান রাত ৮টা, সনি স্পোর্টস ৫   নারী এশিয়া কাপ: ফাইনাল ভারত–শ্রীলঙ্কা রাত ৮–৩০ মি., টি স্পোর্টস   ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কভেন্ট্রি–ব্রাইটন সন্ধ্যা ৭টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১   ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড–ম্যানচেস্টার সিটি রাত ৯–৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১   লা লিগা সেল্তা–মালাগা সন্ধ্যা ৬টা, টি স্পোর্টস/ট্যাপম্যাড   লেভান্তে–বার্সেলোনা রাত ৮–১৫ মি., টি স্পোর্টস/ট্যাপম্যাড   সোসিয়েদাদ–আতলেতিকো রাত ১টা, টি স্পোর্টস/ট্যাপম্যাড

৩৬ মিনিট আগে
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ‍হুথি বিদ্রোহীরা। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
সৌদি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি জানিয়েছে ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা। সশস্ত্র সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন।    এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল।    ইয়াহিয়া সারি পোস্টে লেখেন, সৌদি আরবের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটি ছিল হামলার লক্ষ্য। সেখানে থাকা অস্ত্রের গুদাম এবং ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   সারি বলেন, এসব স্থাপনা হুথিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   তবে হামলাটি ঠিক কবে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।   এদিকে, এই সপ্তাহে ইরান-সমর্থিত হুথি ও সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েছে। এর মধ্যেই সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার এই দাবি সামনে এলো।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দিতে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী : আইনমন্ত্রী

বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দিতে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যশোর শহরের পিটিআই হলরুমে চাকরি মেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘হেবা আইনে স্পর্শ করার ক্ষমতা ইহজাগতিক কারও নাই।’ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে আনা সাম্প্রতিক সংশোধনী হেবা আইনের লঙ্ঘন—এমন অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।   আইনমন্ত্রী বলেন, বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। হেবা আইনসহ অন্য যেকোনো আইনের অধীনে দান, উইল বা অন্য কোনো উপায়ে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই সংশোধনী কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।   তিনি আরও বলেন, সংশোধনীর সংশ্লিষ্ট অংশটুকু না পড়েই কেউ কেউ এ নিয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন।   ‘ক্যারিয়ার হোক ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরে, অবদান হোক দেশের উন্নয়নে’ প্রতিপাদ্যে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির আয়োজনে দিনব্যাপী চাকরি মেলায় ৩৭টি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।   মেলায় ২২ হাজার আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ১১৫ জনকে চাকরি দেওয়া হয়। চাকরিপ্রাপ্তরা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রীর কাছ থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।   এ সময় যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেরিনা আক্তারসহ অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
আগামী পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনতে কাজ করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে সরকার ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।   তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন বলরুমে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)-এর ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহ সভাপতি আলা উদ্দিন আজাদ, সাবেক সভাপতিবৃন্দ, কার্যনির্বাহী কমিটির বর্তমান ও সাবেক সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত তিন দশকে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এটি শুধু একটি ব্যবসায়িক সংগঠন নয়, বরং সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। তবে এই সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, জ্ঞান ও বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।   খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং দেশের জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে। এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি মার্কিন ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতিফলন।   তিনি বলেন, সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।   বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যখন কোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যা আমাদের কাছে উত্থাপন করা হবে, আমার মন্ত্রণালয় ও সরকার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।   তিনি এ প্রসঙ্গে অ্যামচ্যামের একটি সদস্য প্রতিষ্ঠান ‘কর্টেভা বাংলাদেশ’-এর উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স সংক্রান্ত একটি জটিলতা সরকারের উদ্যোগে এক মাসের মধ্যেই সমাধান করা হয়েছে।   বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৌশলগত অবস্থান, তরুণ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে শুধু সুযোগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজন পূর্বাভাসযোগ্যতা, ব্যবসা পরিচালনার সহজ পরিবেশ, দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিগত কাঠামো।   তিনি বলেন, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধি, বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।   ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-মার্কিন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের আগামী অধ্যায় আরও সম্ভাবনাময় হতে পারে। আরও বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক দক্ষতা যুক্ত হবে এবং বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ, বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং অ্যামচ্যামের মতো সংগঠনগুলোর মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।   অ্যামচ্যামের ৩০ বছর পূর্তিকে ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আরও বাণিজ্য, আরও বিনিয়োগ, অধিক উদ্ভাবন, নতুন কর্মসংস্থান এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’   অনুষ্ঠানে তিনি অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠনটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।

ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আভাস

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে রংপুর, দিনাজপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।   পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রংপুর, দিনাজপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।   এদিকে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।   আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আজ সকাল ৬টায় রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।   অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে সূর্যাস্ত এবং আগামীকাল ভোর ৫টা ৪৪ মিনিটে সূর্যোদয় হবে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ট্রেস পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতিদের বড় অগ্রগতি, চাপে সৌদি আরব

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সে দেশের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী।   বৃহস্পতিবার হুতিরা বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়। তাদের দ্রুতগতির এ অভিযান শুক্রবারও অব্যাহত ছিল।   ওই দিন সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে বৃহস্পতিবার কয়েক দফা হামলার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   হুতিদের অব্যাহত অভিযান ও সৌদি আরবে হামলার ঘটনা ইয়েমেন সরকারের ওপর বড় ধরনের আঘাত এসেছে।   ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে প্রতিবেশী সৌদি আরব।   বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর হুতিদের এই সাফল্য পশ্চিম এশিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পরিবর্তনগুলোর একটি।   এ অভিযান সৌদি আরব ও দেশটির তেল রপ্তানির ওপর বিশেষভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   বছরের শুরুতে লোহিত সাগরে সৌদি পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করেছিল হুতিরা। এখন বাব আল-মান্দেব বন্দর ও নৌপথের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরের প্রবেশমুখে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর সৌদি আরব তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেবের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।   কিন্তু হুতিরা লোহিত সাগর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে?   ইয়েমেনে কী ঘটছে? ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই বছর হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা এবং বন্দরনগরী হুদাইদা দখল করে সরকারকে সরে যেতে বাধ্য করে।   ইরানের সমর্থন নিয়ে হুতিরা এরপর সৌদি আরব-সমর্থিত পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক জোটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। ওই জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের সদর দপ্তর এডেনে।   ইরানের প্রভাব বাড়তে থাকায় তা ঠেকানো এবং ইয়েমেন সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরব।   ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে লড়াই থামলেও এরপর থেকে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছে।   গত সপ্তাহে নতুন করে লড়াই শুরু হয়, যা কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘাতগুলোর একটি।   লোহিত সাগর উপকূল দখলের লক্ষ্য ধরে হুতিরা বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালায়। জবাবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ চালায়।   ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলার মধ্যে জুলাইয়ে সৌদি আরবের ওপর পূর্ণাঙ্গ নৌ অবরোধ ঘোষণা করে হুতিরা। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করে তারা।   সরু এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এটি সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরের সঙ্গে এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে। প্রতিদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এ পথ দিয়ে চলাচল করে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের ওপর হামলা শুরুর আগে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে হতো, ইরান সেটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বাব আল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।   সৌদির জন্য হুতিদের অগ্রগতির কী প্রভাব বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বাব আল-মান্দেব করিডরের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র করতে পারে। এতে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে।   সৌদি আরবের জন্য এর অর্থ হতে পারে তেল রপ্তানিতে আরও বড় ধাক্কা।   ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করার পর সৌদি আরব দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন আরও বেশি ব্যবহার করছে। আবকাইক তেলক্ষেত্র থেকে বিশাল আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে এই পাইপলাইন লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে গিয়ে শেষ হয়েছে। ফলে উপসাগর দিয়ে না পাঠিয়ে লোহিত সাগর হয়ে তেল রপ্তানি করা সম্ভব।   হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে যাতে বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায় সে জন্য ১৯৮০-এর দশকে পাইপলাইনটি তৈরি করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে হুতিদের ড্রোন হামলার সময় এটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।   ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব পাইপলাইনটির সক্ষমতা বাড়িয়ে পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার শুরু করেছে। এর ফলে আগে যেখানে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা যেত, এখন সেখানে দেশের ভেতর দিয়ে লোহিত সাগর উপকূলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো সম্ভব।   এর ফলে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বাব আল-মান্দেব দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন ২১ শতাংশ বেড়েছে।   এর পাল্টায় লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারকে নিশানা করেছে। এখন পুরো ইয়েমেন উপকূল এবং বাব আল-মান্দেব তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় সৌদি তেল রপ্তানিতে আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে।   ইরানের কী লাভ? বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে নতুন একটি বড় ফ্রন্ট খুলতে চাইছে হুতিরা। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থায় তেহরানের হাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত সুবিধা তুলে দিচ্ছে।   ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার দাবি করছে। তবে ওই পথে জাহাজ চলাচল অনেক কমে যাওয়ায় পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সেখানে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।   হুতিদের মাধ্যমে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ সেই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।   অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক আলম সালেহ বলেন, “এর অর্থ কার্যত ইরানের হাতে এখন হরমুজ প্রণালি এবং ‘হরমুজ প্রণালী প্লাস’—দুই পথেরই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।”   এতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপও বাড়ছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ওই সময়ের আগে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।   অধ্যাপক সালেহ বলেন, তেহরানকে চাপ দিতে হামলার পাশাপাশি কঠোর অর্থনৈতিক চাপের কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সময় ক্রমেই কমে আসছে।   তার মতে, “হুতিদের এই বিজয় শুধু ইরানের পক্ষে শক্তির ভারসাম্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দেয়নি, চীন ও রাশিয়ার মতো অন্য শক্তিগুলোকেও বার্তা দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রভাব কমছে।   “ইরান এখন বৈশ্বিক তেলের দাম ও জ্বালানি নিরাপত্তার কার্ড খেলেছে। তাই হুতিদের হাতে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া ইরানের জন্য বড় ধরনের সুবিধা।”   লোহিত সাগর নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হুতিরা? বিশ্লেষকদের মতে, বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পরাজয় অনেকটা হুতিদের হাতে সহজেই তুলে দেওয়া হয়েছে।   ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীতে আনুমানিক ৩ লাখ সদস্য রয়েছে। বিপরীতে হুতিদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার।   তবে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং সৌদি আরবের বাইরের চাপের কারণে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অবস্থান অত্যন্ত খণ্ডিত।   হুতিদের মতো দ্রুতগতির ও কৌশল বদলাতে সক্ষম একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যে সমন্বয় প্রয়োজন, তা তাদের নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি হুতিদের বিষয়ে বলেন, প্রায় এক দশক আগে সৌদি বাহিনী যে শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছিল, বর্তমান হুতি বাহিনী তার তুলনায় সম্ভবত আরও উন্নত একটি যুদ্ধশক্তি।   গত কয়েক বছরে ইরানের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পাওয়ায় হুতিরা বড় ধরনের অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তুলেছে, বলেন তিনি।   তবে কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ আল জাজিরাকে বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সাফল্য পেলেও শাসন পরিচালনায় হুতিরা ‘ভয়াবহ’ এবং বাব আল-মান্দেবে দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ ধরে রাখার সম্ভাবনা কম।   তার মতে, হুতিদের অগ্রযাত্রার কারণ তাদের অবমূল্যায়ন নয়; বরং সৌদি-সমর্থিত জোটের সক্ষমতাকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করা হয়েছিল।   অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সালেহ বলছেন, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য হুতিদের পুরো বাব আল-মান্দেব কিংবা পুরো লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজনও নেই।   তার মতে, “সামান্য ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করাই জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট।   “তারা যদি মনে করে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল খুব ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলেই হুতিদের উদ্দেশ্য অনেকটা সফল হবে।”   এখন প্রশ্ন, নিজেদের বিমান শক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরব হুতিদের অগ্রযাত্রা কার্যকরভাবে ঠেকাতে পারবে কি না।   গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনী মোখাসহ হুতিদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে তাতে হুতিদের অভিযান থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সই হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিও এখনই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।   কারণ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ুক—এমন ঝুঁকি নিতে চায় না দেশগুলো।   ওয়াশিংটনের সহায়তাও আপাতত অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে হুতিদের ওপর মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ব্রিকসের প্রতি শি জিনপিংয়ের আহ্বান
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।   শনিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।   সম্মেলনে শি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেখানে চলমান যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুতর ক্ষতি ডেকে এনেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের পরিপন্থী।”   চীনের প্রেসিডেন্ট ব্রিকস দেশগুলোকে “ইতিহাসের সঠিক পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর” আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেইজিং অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে কাজ করবে।   তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে পারস্পরিক শিক্ষা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নে ব্রিকসকে নেতৃত্ব দিতে হবে।   শি ব্রিকস সহযোগিতা কাঠামোকে “উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম” হিসেবে উল্লেখ করেন।   “শীতল যুদ্ধের মানসিকতা ও ব্লকভিত্তিক সংঘাতের” বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও ব্রিকসকে অবস্থান নিতে হবে।   সব ধরনের সংরক্ষণবাদ প্রত্যাখ্যান করে শি জিনপিং ব্রিকসকে সাইবারস্পেস, মহাকাশ ও গভীর সমুদ্রসহ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বর জোরদারের কথা বলেন।   তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নে ব্রিকসকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে, জাতিসংঘের কর্তৃত্ব সমুন্নত রাখতে হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।   ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়। পরে এতে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যোগ দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রভাবাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জোটটি গড়ে তোলা হয়েছিল।   ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ তাদের দখলে।   সূত্র: আনাদোলু

আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। ফাইল ছবি
হরমুজে জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

আন্তর্জাতিক জলপথ  হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।  এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথায় থেকে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে জানা যায়নি। খবর আল জাজিরার   যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় ইউকেএমটিও জানায়, ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ১১টায় হামলার বিষয়টি তাদের জানানো হয়।   তবে জাহাজটির ক্রুদের অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   ঘটনার তদন্ত চলার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলএবং কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে ইউকেএমটিও। 

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ‍হুথি বিদ্রোহীরা। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি জানিয়েছে ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা। সশস্ত্র সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন।    এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল।    ইয়াহিয়া সারি পোস্টে লেখেন, সৌদি আরবের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটি ছিল হামলার লক্ষ্য। সেখানে থাকা অস্ত্রের গুদাম এবং ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   সারি বলেন, এসব স্থাপনা হুথিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   তবে হামলাটি ঠিক কবে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।   এদিকে, এই সপ্তাহে ইরান-সমর্থিত হুথি ও সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েছে। এর মধ্যেই সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার এই দাবি সামনে এলো।

ছবি: সংগৃহীত
লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতিদের বড় অগ্রগতি, চাপে সৌদি আরব
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সে দেশের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী।   বৃহস্পতিবার হুতিরা বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়। তাদের দ্রুতগতির এ অভিযান শুক্রবারও অব্যাহত ছিল।   ওই দিন সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে বৃহস্পতিবার কয়েক দফা হামলার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   হুতিদের অব্যাহত অভিযান ও সৌদি আরবে হামলার ঘটনা ইয়েমেন সরকারের ওপর বড় ধরনের আঘাত এসেছে।   ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে প্রতিবেশী সৌদি আরব।   বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর হুতিদের এই সাফল্য পশ্চিম এশিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পরিবর্তনগুলোর একটি।   এ অভিযান সৌদি আরব ও দেশটির তেল রপ্তানির ওপর বিশেষভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   বছরের শুরুতে লোহিত সাগরে সৌদি পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করেছিল হুতিরা। এখন বাব আল-মান্দেব বন্দর ও নৌপথের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরের প্রবেশমুখে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর সৌদি আরব তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেবের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।   কিন্তু হুতিরা লোহিত সাগর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে?   ইয়েমেনে কী ঘটছে? ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই বছর হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা এবং বন্দরনগরী হুদাইদা দখল করে সরকারকে সরে যেতে বাধ্য করে।   ইরানের সমর্থন নিয়ে হুতিরা এরপর সৌদি আরব-সমর্থিত পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক জোটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। ওই জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের সদর দপ্তর এডেনে।   ইরানের প্রভাব বাড়তে থাকায় তা ঠেকানো এবং ইয়েমেন সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরব।   ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে লড়াই থামলেও এরপর থেকে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছে।   গত সপ্তাহে নতুন করে লড়াই শুরু হয়, যা কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘাতগুলোর একটি।   লোহিত সাগর উপকূল দখলের লক্ষ্য ধরে হুতিরা বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালায়। জবাবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ চালায়।   ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলার মধ্যে জুলাইয়ে সৌদি আরবের ওপর পূর্ণাঙ্গ নৌ অবরোধ ঘোষণা করে হুতিরা। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করে তারা।   সরু এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এটি সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরের সঙ্গে এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে। প্রতিদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এ পথ দিয়ে চলাচল করে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের ওপর হামলা শুরুর আগে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে হতো, ইরান সেটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বাব আল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।   সৌদির জন্য হুতিদের অগ্রগতির কী প্রভাব বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বাব আল-মান্দেব করিডরের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র করতে পারে। এতে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে।   সৌদি আরবের জন্য এর অর্থ হতে পারে তেল রপ্তানিতে আরও বড় ধাক্কা।   ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করার পর সৌদি আরব দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন আরও বেশি ব্যবহার করছে। আবকাইক তেলক্ষেত্র থেকে বিশাল আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে এই পাইপলাইন লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে গিয়ে শেষ হয়েছে। ফলে উপসাগর দিয়ে না পাঠিয়ে লোহিত সাগর হয়ে তেল রপ্তানি করা সম্ভব।   হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে যাতে বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায় সে জন্য ১৯৮০-এর দশকে পাইপলাইনটি তৈরি করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে হুতিদের ড্রোন হামলার সময় এটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।   ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব পাইপলাইনটির সক্ষমতা বাড়িয়ে পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার শুরু করেছে। এর ফলে আগে যেখানে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা যেত, এখন সেখানে দেশের ভেতর দিয়ে লোহিত সাগর উপকূলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো সম্ভব।   এর ফলে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বাব আল-মান্দেব দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন ২১ শতাংশ বেড়েছে।   এর পাল্টায় লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারকে নিশানা করেছে। এখন পুরো ইয়েমেন উপকূল এবং বাব আল-মান্দেব তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় সৌদি তেল রপ্তানিতে আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে।   ইরানের কী লাভ? বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে নতুন একটি বড় ফ্রন্ট খুলতে চাইছে হুতিরা। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থায় তেহরানের হাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত সুবিধা তুলে দিচ্ছে।   ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার দাবি করছে। তবে ওই পথে জাহাজ চলাচল অনেক কমে যাওয়ায় পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সেখানে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।   হুতিদের মাধ্যমে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ সেই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।   অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক আলম সালেহ বলেন, “এর অর্থ কার্যত ইরানের হাতে এখন হরমুজ প্রণালি এবং ‘হরমুজ প্রণালী প্লাস’—দুই পথেরই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।”   এতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপও বাড়ছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ওই সময়ের আগে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।   অধ্যাপক সালেহ বলেন, তেহরানকে চাপ দিতে হামলার পাশাপাশি কঠোর অর্থনৈতিক চাপের কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সময় ক্রমেই কমে আসছে।   তার মতে, “হুতিদের এই বিজয় শুধু ইরানের পক্ষে শক্তির ভারসাম্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দেয়নি, চীন ও রাশিয়ার মতো অন্য শক্তিগুলোকেও বার্তা দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রভাব কমছে।   “ইরান এখন বৈশ্বিক তেলের দাম ও জ্বালানি নিরাপত্তার কার্ড খেলেছে। তাই হুতিদের হাতে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া ইরানের জন্য বড় ধরনের সুবিধা।”   লোহিত সাগর নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হুতিরা? বিশ্লেষকদের মতে, বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পরাজয় অনেকটা হুতিদের হাতে সহজেই তুলে দেওয়া হয়েছে।   ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীতে আনুমানিক ৩ লাখ সদস্য রয়েছে। বিপরীতে হুতিদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার।   তবে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং সৌদি আরবের বাইরের চাপের কারণে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অবস্থান অত্যন্ত খণ্ডিত।   হুতিদের মতো দ্রুতগতির ও কৌশল বদলাতে সক্ষম একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যে সমন্বয় প্রয়োজন, তা তাদের নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি হুতিদের বিষয়ে বলেন, প্রায় এক দশক আগে সৌদি বাহিনী যে শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছিল, বর্তমান হুতি বাহিনী তার তুলনায় সম্ভবত আরও উন্নত একটি যুদ্ধশক্তি।   গত কয়েক বছরে ইরানের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পাওয়ায় হুতিরা বড় ধরনের অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তুলেছে, বলেন তিনি।   তবে কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ আল জাজিরাকে বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সাফল্য পেলেও শাসন পরিচালনায় হুতিরা ‘ভয়াবহ’ এবং বাব আল-মান্দেবে দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ ধরে রাখার সম্ভাবনা কম।   তার মতে, হুতিদের অগ্রযাত্রার কারণ তাদের অবমূল্যায়ন নয়; বরং সৌদি-সমর্থিত জোটের সক্ষমতাকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করা হয়েছিল।   অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সালেহ বলছেন, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য হুতিদের পুরো বাব আল-মান্দেব কিংবা পুরো লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজনও নেই।   তার মতে, “সামান্য ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করাই জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট।   “তারা যদি মনে করে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল খুব ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলেই হুতিদের উদ্দেশ্য অনেকটা সফল হবে।”   এখন প্রশ্ন, নিজেদের বিমান শক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরব হুতিদের অগ্রযাত্রা কার্যকরভাবে ঠেকাতে পারবে কি না।   গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনী মোখাসহ হুতিদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে তাতে হুতিদের অভিযান থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সই হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিও এখনই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।   কারণ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ুক—এমন ঝুঁকি নিতে চায় না দেশগুলো।   ওয়াশিংটনের সহায়তাও আপাতত অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে হুতিদের ওপর মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি