সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
পাকিস্তানের আকাশে ঐতিহাসিক মুহূর্ত: যুদ্ধবিমানের কড়া পাহারায় নামলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার পর এটিই প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যার ঠিক একদিন আগেই পাকিস্তান ও কাতার ঘোষণা করেছে যে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চ-পর্যায়ের প্রথম দফার বৈঠক থেকে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।   ইরানি প্রেসিডেন্টের বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করার সাথে সাথেই পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ এসকর্ট স্কোয়াড্রন সেটিকে স্বাগত জানায়। এরপর জেএফ-১৭ থান্ডার এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে গঠিত ছয়টি ফাইটার জেটের একটি ফর্মেশন রাষ্ট্রপতির বিমানটিকে নিরাপদে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং তাকে সম্মান জানিয়ে আকাশেই একটি আনুষ্ঠানিক স্যালুট প্রদর্শন করে।    আকাশপথের এই বিশেষ স্কোয়াড্রনের দলনেতা এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশের জনগণের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা বার্তা পৌঁছে দেন।   পাকিস্তান বিমান বাহিনী কর্তৃক আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী বিমান এসকর্ট অন্য দেশ থেকে আসা রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের আতিথেয়তা ও গভীর শ্রদ্ধাবোধেরই প্রতিফলন ঘটায়। একই সাথে এই আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনায় জেএফ-১৭ থান্ডার এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের অংশগ্রহণ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর আধুনিক কর্মক্ষমতা, পেশাদারিত্ব এবং সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছে।   সূত্র: জিও নিউজ।

৩ ঘন্টা আগে
জলবায়ুর চরম রূপ: বাংলাদেশে বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় থাকছে ‘বিপজ্জনক’ গরম ও আর্দ্রতা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা বিরাজ করছে। গত পাঁচ দশকে এ ধরনের দিনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   বিশ্বের যেসব দেশে মানুষ সবচেয়ে বেশি সময় ঝুঁকিপূর্ণ তাপ ও আর্দ্রতার মধ্যে বসবাস করছে, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম। বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট সেন্ট্রালের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে বিশ্বজুড়ে বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রার দিন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকে বিশ্বে বছরে গড়ে ১০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা দেখা গেলেও ২০১৬ থেকে ২০২৫ সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ দিনে।   ১৯৭০ সালের পর থেকে বিশ্বে রেকর্ড হওয়া এমন দিনের প্রায় ৬৪ শতাংশের পেছনে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশে পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক। ২০১৬-২০২৫ সময়ে দেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে এ সংখ্যা ছিল ১৭৫ দিন।   অর্থাৎ এখন বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় দেশের মানুষ এমন তাপ-আর্দ্রতার মুখে থাকছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে অতিরিক্ত ৩০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা যুক্ত হচ্ছে। ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ দিন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রার অংশ ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে।   দেশের বড় শহরগুলোতে এর প্রভাব আরো স্পষ্ট।   রাজধানী ঢাকায় বছরে গড়ে ২১০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা অনুভূত হয়। এর মধ্যে ২৫ দিন সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামে বছরে গড়ে ২১১ দিন এমন তাপমাত্রা দেখা যায়, যার মধ্যে ৩৬ দিন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যুক্ত হয়েছে। খুলনায় এ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—বছরে গড়ে ২২৪ দিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উচ্চ তাপমাত্রাই নয়, বাতাসের আর্দ্রতাও মানবদেহের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। আর্দ্রতা বেড়ে গেলে ঘামের মাধ্যমে শরীরের স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে পানিশূন্যতা, তাপজনিত অবসাদ, হিট স্ট্রোক, হৃদরোগ ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, বাইরে কাজ করা শ্রমিক এবং আগে থেকেই অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।   কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. শিমুল মজুমদার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতা শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ফেলছে। শিশুদের মধ্যে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমাসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ বাড়ছে। আগের বছরের তুলনায় অ্যাজমা ও সংশ্লিষ্ট শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।   চিকিৎসকেরা বলছেন, তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু তাপজনিত অসুস্থতায় সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘস্থায়ী গরমের সময় বেশি পানি পান করতে গিয়ে অনেকেই অনিরাপদ পানির উৎসের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। এতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।   গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাশেদুল হাসান বলেন, বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। গরমের সময় মানুষ বেশি পানি পান করলেও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও জন্ডিসের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।   বিশ্বব্যাপী চরম তাপমাত্রা ইতিমধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী আবহাওয়া-সংক্রান্ত দুর্যোগগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে বিশ্বে চরম তাপমাত্রাজনিত কারণে আড়াই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সতর্কবার্তা, বাড়তে থাকা আর্দ্রতা তাপপ্রবাহকে আরো বিপজ্জনক করে তুলছে এবং অনেক অঞ্চলে পরিস্থিতিকে মানবদেহের সহনক্ষমতার সীমার কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এই ঝুঁকি মোকাবিলায় তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা জোরদার, শ্রমিক সুরক্ষা বাড়ানো, নগর এলাকায় শীতলীকরণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু-সহনশীল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এখন জরুরি।

৩ ঘন্টা আগে
অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদে ১০ শতাংশ কর, নতুন বিধান অর্থবিলে

দেশের বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবের সদস্যদের করের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে এ-সংক্রান্ত একটি নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।   নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নিবন্ধিত ক্লাবগুলোর সদস্যপদ গ্রহণ, নবায়ন, হস্তান্তর বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পরিশোধিত অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপ করা হবে। সংশ্লিষ্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই কর সংগ্রহ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দেবে।   অর্থবিল অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো ক্লাবের সদস্যপদ অর্জনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেন, তাহলে সেই অর্থের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। একই নিয়ম সদস্যপদ নবায়ন বা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।   তবে ক্লাব সদস্যদের নিয়মিত মাসিক, ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক চাঁদার ওপর এই কর প্রযোজ্য হবে না বলে অর্থবিলে উল্লেখ করা হয়েছে।   রাজধানীর বিভিন্ন পরিচিত ক্লাবসহ দেশের অন্যান্য অভিজাত ক্লাব এই বিধানের আওতায় আসবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে করের আওতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের নতুন একটি উৎস তৈরি হবে।   ক্লাব-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সদস্যপদ স্থানান্তর বা নবায়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর আরোপ ক্লাবগুলোর আর্থিক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও করজাল সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   রাজস্ব কর্মকর্তাদের ধারণা, দেশের বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবে সদস্যপদ সংক্রান্ত লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হওয়ায় নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে।

৩ ঘন্টা আগে
গাজীপুরে পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ, কর্মহীন ১,৮০০ শ্রমিক

আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় অবস্থিত ‘ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক-কর্মচারী একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।   গাজীপুর শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন থেকে কারখানাটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট এবং অন্যান্য আইনগত পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে মালিকপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।   শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধের বিষয়ে সমঝোতা হয়।   সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের অবশিষ্ট ১৫ দিনের এবং মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া বেতন দেওয়া হবে। পাশাপাশি চাকরি হারানো শ্রমিকদের জন্য নোটিশ-পে, সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটির অর্থ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং অন্যান্য প্রাপ্য পরিশোধ করা হবে। আগামী ২৭ জুলাই এসব অর্থ এককালীন পরিশোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।   তবে শ্রমিক নেতাদের একটি অংশ এই চুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব ধরনের ক্ষতিপূরণ ও সুবিধা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে অনেক শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।   হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক শ্রমিকের পরিবার সম্পূর্ণভাবে তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।   শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব পাওনা বুঝিয়ে দিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

৩ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ
অভিযুক্ত বিচারকদের সম্পদ প্রকাশে সুপ্রিম কোর্টের আপত্তি

গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়া আদালতের অপারগতা ন্যায়বিচার ও আদালতের মৌলিক নীতি ও চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। দুর্নীতি-অনিয়মের জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের চূড়ান্ত রক্ষক এবং আশ্রয়স্থল হিসেবে এ ধরনের স্ববিরোধী অবস্থান একদিকে যেমন বিব্রতকর ও আত্মঘাতী, অন্যদিকে দুর্নীতির সহায়ক   ড. ইফতেখারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি   এ ধরনের চিঠির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আছে। ওটা সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন। যতক্ষণ না রায়টা আপিল বিভাগ অকার্যকর করবে, সবাই তা মানতে বাধ্য। এ ধরনের তথ্য সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ দিতে বাধ্য। না দিলে যে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে। চ্যালেঞ্জ করলে সুপ্রিম কোর্টের নতুন চিঠিও অবৈধ হবে   মো. বদিউজ্জামান তপাদার সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল   বিচার বিভাগে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব অভিযোগের কোনো শেষ পরিণতি দেখা যায় না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের অভাবে একসময় বাতাসে ভেসে বেড়ানো এসব অভিযোগ বাতাসেই মিলিয়ে যায়। তবে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অর্ধশত বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে অন্তত ১৫ জন বিচারকের সম্পদের বিবরণী চেয়ে গত বছর এপ্রিলে আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠায় দুদক।   আইন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বিচারকদের বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। যথারীতি এ সম্পদ বিবরণীর তথ্য প্রেরণে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ চাওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। তবে গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক সিদ্ধান্তে অভিযুক্ত বিচারকদের সম্পদের হিসাব বিবরণী দুদকে পাঠাতে সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেনি বলে জানিয়ে দিয়েছে। ফলে অভিযুক্ত বিচারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত এক ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার অনুসন্ধান ও তদন্ত দুদক করতে পারে। সেই কাজে দুদক যে কোনো কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাইতে পারে। দুদক আইন ২০২৪ এর ১৯ (১) ও ১৯ (২) ধারা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহে বাধ্যবাধকতার বিষয় উল্লেখ আছে।   এর আগে ২০১৭ সালের ২ মার্চ আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে কাগজপত্র চেয়ে চিঠি দেয় দুদক। পরে সুপ্রিম কোর্টের চিঠি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং হাইকোর্ট বিষয়টি নিয়ে রায় দেন।   হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের চিঠি প্রশাসনিক যোগাযোগ মাত্র; এটিকে আনুষ্ঠানিক মতামত হিসেবে গণ্য করা যাবে না। রায়ে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে তদন্ত পরিচালনা করতে হবে এবং কাউকে অযথা হয়রানি করা যাবে না।   এরপর ওই রায়ের আলোকে বিভিন্ন সাবেক বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান ও মামলা করে। এ অবস্থায় আবারও বিচারকদের সম্পদ তথ্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   এ ব্যাপারে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনসম্মতভাবে দুদক তথ্য চাইলে তা দেওয়া উচিত। গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়া অপারগতা ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম বলেন, যে কোনো সংস্থার কাছ থেকেই দুদক তথ্য চাইতে পারে এবং তা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তথ্য না দিলে তদন্ত নিজস্বভাবে এগিয়ে নিতে পারে দুদক।   সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বদিউজ্জামান তপাদার বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী প্রশাসনিক আদেশে তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা অমান্য করা হলে চ্যালেঞ্জের সুযোগ আছে এবং আইনগতভাবে তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।   দুদকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিচারকের ব্যক্তিগত নথি ও সম্পদের বিবরণী চেয়ে চিঠি পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিয়ে এখনো সমাধান হয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে তেলের দাম

উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা আরও কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর তেলের দাম কমেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি লেনদেন হচ্ছে।   বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ কমে ৭৬.৭১ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৬ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ কমে ৭২.৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমেছে। এর ফলে তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং দাম টানা নিম্নমুখী রয়েছে। মিৎসুবিশি ইউএফজে রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের সিনিয়র ইকোনমিস্ট তোমোমিচি আকুতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা প্রশমনের আশা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় তেল সরবরাহ শুরু হওয়ার কারণে অপরিশোধিত তেলের বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা। পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা যদি আরও ইতিবাচকভাবে এগোয়, তবে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা দেখাচ্ছে, উপসাগরে আটকে থাকা তিনটি সুপারট্যাঙ্কার মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। জাতিসংঘ শিপিং এজেন্সির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর সেখানে আটকে থাকা ১১ হাজার নাবিকসহ শত শত জাহাজ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার (ইভাকুয়েশন প্ল্যান) কাজ চলছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিদিন সীমিত সংখ্যার জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে।

ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

ইউক্রেনের সঙ্গে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু করতে রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, কিয়েভের সদিচ্ছা এবং বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে যেকোনো সময় সংলাপে বসতে রাজি মস্কো।   মঙ্গলবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পুতিন বলেন, ইস্তাম্বুলে পূর্বে হওয়া চুক্তি, আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত রূপরেখা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান বাস্তবতাকে ভিত্তি করে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।   রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, পূর্বে চলমান আলোচনা প্রক্রিয়া ইউক্রেনের সিদ্ধান্তেই স্থগিত হয়েছিল। তবে রাশিয়া এখনো আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে এবং কূটনৈতিক সমাধানকে গুরুত্ব দিচ্ছে।   পুতিন আরও অভিযোগ করেন, ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন হামলা চালিয়ে আলোচনার আগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।   উল্লেখ্য, গত বছর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফায় শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনার ফল হিসেবে যুদ্ধবন্দী বিনিময় এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তুত হয়েছিল।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলতি বছরের শুরুতে আবুধাবি ও জেনেভায়ও কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত এবং অন্যান্য কূটনৈতিক জটিলতার কারণে শান্তি প্রক্রিয়া গতি হারায়।   রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসানে আন্তর্জাতিক মহল দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশ একমত হয়েছে।   মঙ্গলবার মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।   তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কম খরচে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।   মন্ত্রী আরও জানান, আগামী জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।   আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অতীতের মতো কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে না। শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে দুই দেশই একমত হয়েছে।   উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ায় প্রথম সরকারি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ ও ২২ জুন অনুষ্ঠিত ওই সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান।   সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুই দেশের চলমান আলোচনার ইতিবাচক ফলাফল বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে কংগ্রেসের পদক্ষেপ অর্থহীন, বললেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান চেয়ে কংগ্রেসে গৃহীত প্রতীকী প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রস্তাবকে ‘ভুল সময়ে নেওয়া অর্থহীন পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেন তিনি।   বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর, এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প মঙ্গলবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এই সমালোচনা করেন।    ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘আমি যখন ইরানকে প্রায় পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছি, ঠিক তখনই মার্কিন সিনেট ভুল সময়ে একটি অর্থহীন ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, এই সিনেটররা আমার কাজ আরও কঠিন করে তুলেছেন। কিন্তু আমি যে কোনোভাবেই কাজটি সম্পন্ন করব। কারণ আমি সব সময়ই তা করতে পারি।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন
আক্তারুজ্জামান জুন ২৪, ২০২৬

ইউক্রেনের সঙ্গে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু করতে রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, কিয়েভের সদিচ্ছা এবং বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে যেকোনো সময় সংলাপে বসতে রাজি মস্কো।   মঙ্গলবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পুতিন বলেন, ইস্তাম্বুলে পূর্বে হওয়া চুক্তি, আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত রূপরেখা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান বাস্তবতাকে ভিত্তি করে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।   রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, পূর্বে চলমান আলোচনা প্রক্রিয়া ইউক্রেনের সিদ্ধান্তেই স্থগিত হয়েছিল। তবে রাশিয়া এখনো আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে এবং কূটনৈতিক সমাধানকে গুরুত্ব দিচ্ছে।   পুতিন আরও অভিযোগ করেন, ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন হামলা চালিয়ে আলোচনার আগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।   উল্লেখ্য, গত বছর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফায় শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনার ফল হিসেবে যুদ্ধবন্দী বিনিময় এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তুত হয়েছিল।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলতি বছরের শুরুতে আবুধাবি ও জেনেভায়ও কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত এবং অন্যান্য কূটনৈতিক জটিলতার কারণে শান্তি প্রক্রিয়া গতি হারায়।   রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসানে আন্তর্জাতিক মহল দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে কংগ্রেসের পদক্ষেপ অর্থহীন, বললেন ট্রাম্প
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান চেয়ে কংগ্রেসে গৃহীত প্রতীকী প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রস্তাবকে ‘ভুল সময়ে নেওয়া অর্থহীন পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেন তিনি।   বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর, এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প মঙ্গলবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এই সমালোচনা করেন।    ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘আমি যখন ইরানকে প্রায় পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছি, ঠিক তখনই মার্কিন সিনেট ভুল সময়ে একটি অর্থহীন ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, এই সিনেটররা আমার কাজ আরও কঠিন করে তুলেছেন। কিন্তু আমি যে কোনোভাবেই কাজটি সম্পন্ন করব। কারণ আমি সব সময়ই তা করতে পারি।

ছবি: সংগৃহীত
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বাড়াচ্ছেন কিম জং-উন
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন বলেছেন, দেশের পারমাণবিক শক্তি দ্রুত বাড়ানো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হুমকি মোকাবিলায় এই নীতি প্রয়োজন। তিনি জানান, উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার “অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে” বাড়াবে। দেশটি যুদ্ধজাহাজেও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। কিম জং-উন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক জোটের কারণে দেশটি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই প্রতিরক্ষা শক্তি আরও বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া এখন এমন একটি বড় ও ছড়িয়ে থাকা পারমাণবিক ব্যবস্থা তৈরি করছে, যাতে একবার হামলা হলেও পুরো ক্ষমতা ধ্বংস করা না যায়। তারা বলছেন, দেশটি রেল, সড়ক, সাবমেরিন এবং ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাম্প্রতিক ইরান সংকট উত্তর কোরিয়াকে আরও সতর্ক করেছে। তাদের ধারণা, পারমাণবিক অস্ত্র না থাকলে কোনো দেশ বড় ধরনের হামলার ঝুঁকিতে পড়ে। উত্তর কোরিয়া দাবি করছে, তাদের অস্ত্রভাণ্ডার তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এটি আরও বাড়ানো হবে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই: পেজেশকিয়ান
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনোভাবেই আলোচনা বা সমঝোতা করা হবে না। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিই দেশটিকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করছে। তার ভাষায়, যদি ইরান প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি না করত, তাহলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজা উপত্যকার মতো পরিস্থিতি তৈরি করত। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল ভিত্তি, তাই এ বিষয়ে কোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হবে না। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর মানবাধিকার নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, তাদের দাবি ও বাস্তবতার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এই সফরে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার কথা বলেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি