সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
১৭ বছর পর ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালু করছে ভেনেজুয়েলা

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালু করতে সম্মত হয়েছে ভেনেজুয়েলা। একই সঙ্গে দুই দেশ কারিগরি সহযোগিতাও চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।   ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।   সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ইসরাইল দেশটিতে উদ্ধারকর্মী ও মানবিক সহায়তা পাঠায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে।   ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেলিক্স প্লাসেনসিয়া জানান, ভূমিকম্পের পর শুরু হওয়া জরুরি সহায়তা ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে দুই দেশ কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি কনস্যুলার সেবা চালুর জন্য একটি সমন্বয় ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে।   ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৬ হাজার ইহুদি বসবাস করেন। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট শাভেজ ও তার উত্তরসূরি নিকোলাস মাদুরো দীর্ঘদিন ইসরাইলের নীতির বিরোধিতা করে আসছিলেন এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

২৭ মিনিট আগে
কোলেস্টেরলের ওষুধ স্ট্যাটিন নিয়ে নতুন গবেষণায় যা জানা গেল

যাদের বয়স ৭৫ বছরের বেশি, আগে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়নি, তারা স্ট্যাটিন বন্ধ করলেও তিন বছরে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে না—এমন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। তবে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল দেখে নিজের সিদ্ধান্তে স্ট্যাটিন বন্ধ করা উচিত নয়। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল গবেষণাটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।    গত ১১ আগস্ট গবেষণাটি দ্য ল্যানসেট হেলদি লংজেভিটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এরপর এটি নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল অনলাইন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।    তথ্য অনুসারে, ফ্রান্সের বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের গবেষকেরা গড়ে ৮০ বছর বয়সী ১ হাজার ১৬০ জনকে নিয়ে গবেষণাটি করেন। অংশগ্রহণকারীদের কারও আগে হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস ছিল না। তাদের একদল স্ট্যাটিন চালিয়ে যান, অন্যদল ওষুধটি বন্ধ করেন।   তিন বছর পর দেখা যায়, স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ৭ দশমিক ২ শতাংশ মারা গেছেন। স্ট্যাটিন চালিয়ে যাওয়া দলের মৃত্যুর হার ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে মৃত্যুর হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।   তবে স্ট্যাটিন বন্ধ করা ব্যক্তিদের মধ্যে বড় ধরনের হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যা কিছুটা বেশি দেখা গেছে। এ দলের ৫ শতাংশের এমন সমস্যা হয়। ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।   হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রেও কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ২ দশমিক ১ শতাংশের হার্ট অ্যাটাক হয়। অন্যদিকে, ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ১৪ জনের নন-ফ্যাটাল স্ট্রোক হয়, যেখানে ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ১২ জনের এমন স্ট্রোক হয়।   তবে গবেষকেরা জানান, এসব পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়। অর্থাৎ এই গবেষণার ফল থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে স্ট্যাটিন বন্ধ করলে হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, স্ট্যাটিন বন্ধ করার পর রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তিন মাসের মধ্যে স্ট্যাটিন বন্ধ করা ব্যক্তিদের গড় এলডিএল ১১৫ থেকে বেড়ে ১৭১ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারে পৌঁছায়। যারা ওষুধ চালিয়ে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।   স্ট্যাটিন মূলত রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক এই ওষুধ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখের বয়স ৭৫ বছরের বেশি।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এর ফল সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অন্য কোনো হৃদ্‌রোগ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই গবেষণার ফল প্রযোজ্য নয়।   শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজির অধ্যাপক রবার্ট স্টোরি বলেন, গবেষণার ফল দেখে ৭৫ বছরের বেশি বয়সী অধিকাংশ স্ট্যাটিন ব্যবহারকারীর ওষুধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।   ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা ব্রায়ান উইলিয়ামসও সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা স্ট্যাটিনের উপকারিতা শেষ হয়ে গেছে—এমন প্রমাণ নয়। বরং কারও স্ট্যাটিন বন্ধ বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া উচিত।

২৯ মিনিট আগে
আফগান গোয়েন্দা সংস্থার হাতে জাতিসংঘের দুই কর্মী আটক

আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের (ইউএনএএমএ) দুই কর্মী আটক হয়েছেন। আটকের পর দুই দিন ধরে তাদের সঙ্গে জাতিসংঘের কোনো যোগাযোগ বা সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত রোববার পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে আফগান গোয়েন্দা সংস্থা ‘জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স’-এর কর্মকর্তারা জাতিসংঘের দুই আফগান পুরুষ কর্মীকে আটক করেন।   তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা জাতিসংঘকে জানানো হয়নি। আফগান সরকারও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।   জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, আটক দুই কর্মীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও জাতিসংঘকে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, জাতিসংঘের কর্মকর্তা ও কর্মীদের বিশেষ মর্যাদা এবং আইনি সুরক্ষার বিষয়গুলো মেনে চলতে আফগান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।   তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পঞ্চম বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে এই আটকের ঘটনা ঘটল। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মাধ্যমে তালেবান আবার দেশটির ক্ষমতায় আসে।   স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।   চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউএনএএমএ আফগান কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর গ্রেফতার ও আটকের বিষয়গুলো স্পষ্ট করার এবং এসব কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।   তালেবান প্রায় পাঁচ বছর ধরে কঠোর ইসলামি আইনের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে আফগানিস্তান শাসন করছে। দেশটিতে নারী অধিকার নিয়েও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। আফগান নারীদের জাতিসংঘের বিভিন্ন স্থাপনায় প্রবেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যার আওতায় জাতিসংঘের নারী কর্মীরাও পড়েন।   এর আগে গত জুনে হেরাত প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছে প্রায় ২০ জন ত্রাণকর্মীকে আফগানিস্তানের নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ আটক করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে দাড়ি যথেষ্ট লম্বা না রাখার অভিযোগ আনা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।   এ ছাড়া জুনের শুরুতে সরকারি পোশাকবিধি না মানার অভিযোগে কয়েক ডজন নারীকে আটক করেছিল তালেবানের নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়েরের (এমএসএফ) একজন হাসপাতালকর্মীও ছিলেন।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এসব বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমন করা হলে অন্তত দুজন নিহত হন।   এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় আফগানিস্তানের মানবিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি ইরান ও পাকিস্তান থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাখ লাখ আফগান নাগরিকের দেশে ফিরে আসাও দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩৩ মিনিট আগে
গোমূত্র কিনছে যোগী সরকার, সমালোচনায় বিরোধীরা

  ভারতের উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকার বুলন্দশহরে কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।   পাশাপাশি গোমূত্র সংগ্রহ করে নারীরা অতিরিক্ত আয়ের একটি সুযোগ পাবেন এবং যেসব গাভী আর দুধ উৎপাদন করে না, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণেও এটি সহায়তা করবে। এমনটাই বলছে রাজ্য সরকার।   সংগৃহীত গোমূত্র কৃষিকাজে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের কথা রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এটি রাসায়নিক উপাদানভিত্তিক কৃষি-প্রস্তুতির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে একটি আনুষ্ঠানিক নীতি প্রণয়ন করা হবে এবং পুরো রাজ্যে প্রকল্পটি চালু করা হবে।   তবে বিরোধী সমাজবাদী পার্টি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারকে কটাক্ষ করেছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে বিজেপি একটি কেলেঙ্কারি সাজাচ্ছে।   বুলন্দশহরের ১৫টি গ্রামে এই পাইলট প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।   ভবিষ্যতে প্রতি লিটার গোমূত্রের সংগ্রহমূল্য ২০ রুপি পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গোমূত্র সংরক্ষণের জন্য গ্রামগুলোতে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাংকও স্থাপন করা হয়েছে।   রাজ্য সরকার বলছে, এই ব্যবস্থায় গ্রামীণ নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। গ্রামগুলোতে গোমূত্র সংগ্রহে সহায়তাকারী নারীদের প্রতি লিটারে ২ রুপি কমিশন দেয়া হচ্ছে। এর ফলে তাদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের একটি নতুন উৎস তৈরি হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩০০ নারীর সহযোগিতায় এই উদ্যোগ শুরু হয় এবং তাদের সবাইকে প্রকল্পটির শেয়ারহোল্ডার করা হয়েছে।

৩৮ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ
দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং, দুর্ভোগে গ্রামের মানুষ

কাটেনি গ্যাসের সংকট। সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে গ্যাস সংকটের বড় ধরনের প্রভাব। গ্যাসের ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন কমেছে। জুনেই পাইকারি পর্যায়ে গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। তবু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কারিগরি ত্রুটি।   বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর আগের দিন ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত আওয়ামী লীগ সরকার দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানি নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছে। এসব কেন্দ্র বসে থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ (কেন্দ্র ভাড়া) দিতে হচ্ছে। বিপুল বকেয়ার দায় রেখে গেছে। এখনো পিডিবির কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছর সরকারের ভর্তুকি বাড়ছে। কিন্তু মানুষের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর গরম বাড়লেই দেখা দেয় লোডশেডিং। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহায় মানুষ। তবে বৃষ্টি নামলে বিদ্যুৎ চাহিদা কমে, মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়।   বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানিস্বল্পতা প্রকট। গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ব্যয়বহুল জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে না। ফলে বেড়ে গেছে লোডশেডিং।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির দুই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুফল পেতে দুই মাস সময় লাগে। তাই বাড়তি আয় এখনো পিডিবির হিসাবে আসেনি। তবে দাম বাড়ানোর পর পিডিবির বকেয়া নতুন করে আর বাড়বে না। পুরোনো বকেয়া ধাপে ধাপে শোধ করা হবে।   বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট। সোমবার সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। ওই সময় অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বসিয়ে রাখতে হয়েছিল। দিনের অধিকাংশ সময় এমনটাই করতে হচ্ছে। গ্যাস থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার মেগাওয়াটের কম। গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে খরচ আরও বেড়ে যাবে, তাই চালানো হচ্ছে কম। রাতের বেলায় টানা কয়েক ঘণ্টা তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি চালালেও বেশির ভাগ সময় গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াটের কম চলছে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র।   পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাই মূল ভরসার জায়গা এখন কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যে তিনটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমেছে। একটি ইউনিটে রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করায় ২ আগস্ট থেকে উৎপাদন অর্ধেকে নামে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের। গত রোববার রাত থেকে আবার এটি চালু করে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছে। যদিও কেন্দ্রটির পাওনা ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিল না পেলে আগামী মাস থেকে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। পটুয়াখালীর আরেকটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লার স্বল্পতা দেখা দিয়েছে, কমেছে উৎপাদন। ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। ঝড়-বৃষ্টিতে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন ধরে রাখতে পারেনি কেন্দ্রটি।   গ্যাসের স্বল্পতা আছে, কয়লা থেকেও উৎপাদন কমে গেছে। কিন্তু তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সারা দিন চালানো ব্যয়বহুল। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং সহনীয় রাখতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। মধ্যরাতের পর উৎপাদন কমানো হচ্ছে এবং লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।   আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে, ১২ আগস্টের মধ্যে কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।   পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের স্বল্পতা আছে, কয়লা থেকেও উৎপাদন কমে গেছে। কিন্তু তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সারা দিন চালানো ব্যয়বহুল। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং সহনীয় রাখতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। মধ্যরাতের পর উৎপাদন কমানো হচ্ছে এবং লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।   ঢাকার দুই বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ডেসকো ও ডিপিডিসি সূত্র বলছে, তাদের বিদ্যুৎ চাহিদায় ঘাটতি নেই। আর ঢাকার বাইরের বাকি চারটি বিতরণ সংস্থার সূত্র বলছে, চাহিদার তুলনায় খুব কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে আরইবি, যারা সারা দেশের গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।   পিডিবি ও আরইবি মিলে ফেনী জেলার বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৪০ মেগাওয়াট। গড়ে প্রতিদিন ঘাটতি ৩০ মেগাওয়াট। ফেনীর স্টারলাইন ফুড প্রোডাক্ট প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক মো. মাইন উদ্দিন বলেন, কারখানার উৎপাদনে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ শতাংশ সময় লোডশেডিং হচ্ছে।   ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) মোহাম্মদ বাইজিদ হোসেন শাহ বলেন, ফেনীতে পল্লী বিদ্যুতের ১৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে।   দিনে তো বিদ্যুৎ থাকেই না, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি শুরু করে। রাতে একটু ঘুমানোর সুযোগও হচ্ছে না।   নেত্রকোনার বাসিন্দা খালিদ বলেন, ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।   নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন বলেন, ১৫৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ৫৯ মেগাওয়াট। তাই ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।   হবিগঞ্জের কোথাও কোথাও প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। চা–পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ জরুরি। চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা–বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক দেবাশীষ রায় বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে প্রক্রিয়াজাত পাতা নষ্ট হয়। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে বাগানগুলোকে।   কেরানীগঞ্জে ধারাবাহিক লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গোলামবাজারের বাসিন্দা হাসান কবির টুটুল বলেন, দিনে তো বিদ্যুৎ থাকেই না, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি শুরু করে। রাতে একটু ঘুমানোর সুযোগও হচ্ছে না।   ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ (সদর দপ্তর) মহাব্যবস্থাপক গোলাম কাউসার তালুকদার বলেন, কেরানীগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২৪০ মেগাওয়াট। প্রতিদিন প্রায় ৮০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।   দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত পুলিশ টহলের ব্যবস্থা চেয়ে থানায় লিখিত আবেদন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   ডোমার থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বরাদ্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গরমের সময়ে গ্রাহকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি জনমনে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ।   এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।   নীলফামারী জেলা সদরের বাসিন্দা নিলা বলেন, ‘কয়েক দিন ধরি যে গরম পইচ্ছে, তাতে কাজ কাম করা কঠিন হইছে। তার ওপর যোগ হইছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। একবার গেইলে আইসার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই।’   ডোমার উপজেলা নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওশাদ আলী বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না গ্রাহক।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র, উঠছে নানা প্রশ্ন

এবার বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরি করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যা উচ্চশিক্ষায় বৈষম্যকে উসকে দেবে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।   এ সিদ্ধান্তের ফলে ইংরেজি পাঠ্যক্রমের বাজার লাভবান হবে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।   আবার ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র হলে মাদ্রাসা বা কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কেন নয়, সেই প্রশ্নও উঠেছে।   গত ২ অগাস্ট ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সূচি প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।   সেদিন সাধারণ ভর্তি কমিটির সভার সিদ্ধান্তের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।”   আলাদা প্রশ্নপত্র করার সিদ্ধান্ত হলেও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের আবেদনের যোগ্যতা কী হবে কিংবা তাদের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো নীতিমালা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা।   জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আবদুল করিম বলেন, “এখন পর্যন্ত শুধু আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো মিটিং হয়নি; কোনো নীতিমালাও হয়নি; আস্তে আস্তে সব হবে।”   এখন পর্যন্ত কোনো নীতিমালা না হওয়ার কথা বলেছেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য অধ্যাপক উপমা কবির।   বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটা আমাদের জানিয়েছে। বুধবার হয়ত আমাদের মিটিং হতে পারে। সেখানে হয়ত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।”   নীতিমালা তৈরির আগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে প্রশ্ন উঠতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রশ্ন তো অবশ্যই উঠবে। তবে সেটার উত্তর নিশ্চয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে থাকবে।”   কোনো নীতিমালা ছাড়া নতুন এ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, “আমরা (বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন) সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। এটার নীতিমালা প্রণয়ন করবে ভর্তি কমিটি। আর, আমাদের বর্তমান যে নীতিমালা আছে, এটাও সেভাবে হবে।"   দুটি প্রশ্নকে কীভাবে সমমান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, " এটা ভর্তি পরীক্ষা কমিটি ঠিক করবে। তারা বৈষম্য যেন হয়, সেভাবে প্রশ্ন তৈরি করবেন নিশ্চয়। আর এ সিদ্ধান্ত বৈষম্য দূর করার জন্যই নেওয়া হয়েছে, বৈষম্য তৈরি করার জন্য নয়।”   একটা পরীক্ষা দুটি আলাদা প্রশ্নে হলে বৈষম্য সৃষ্টি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি এখানে কোনো বৈষম্য হবে বলে মনে করি না।"   এক্ষেত্রে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কেন আলাদা ভর্তি পরীক্ষা হবে না জানতে চাইলে এ অধ্যাপক বলেন, "এটা তো মিটিংয়ে আলোচনায় আসেনি। যদি সামনে আলোচনায় আসে, তখন সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।"   সিদ্ধান্ত নিতে নিয়মের ব্যত্যয়! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিষয়ে নতুন নিয়ম প্রণয়নের প্রধান ফোরাম হচ্ছে একাডেমিক কাউন্সিল। কিন্তু একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভর্তি কমিটির সাধারণ সভায় ২ আগস্ট এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেটাকে নিয়মের ব্যত্যয় হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যরা।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক উপ-উপাচার্য বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হলে সেটা প্রথমে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা হবে। সেখান থেকে সেটা পাস হলে তারপর ভর্তি কমিটির সভায় সেটার পদ্ধতি নিয়ে আলাপ করবে। একাডেমিক কমিটির সুপারিশ ছাড়া এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র বডি হচ্ছে একাডেমিক কাউন্সিল। সেখানে আলোচনা ছাড়া কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সাধারণ ভর্তি কমিটি, যারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা ভালো বলতে পারবে।”   এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য আবদুস সালাম বলেন, “গত ডিনস কমিটির মিটিংয়ে এ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ আসে। পরে একাডেমিক কমিটি থেকে তা চূড়ান্ত হয়ে আসে।”   ডিনস কমিটি নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ মোতাবেক কোনো কমিটির কথা বলা নেই। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যারা ডিনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কেউ নির্বাচিত নন। এ অবস্থায় তারা সুপারিশ করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।   এ বিষয়ে অধ্যাপক আবদুস সালামের ব্যাখ্যা হলো, “ডিনস কমিটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছে। আমরা সে অনুযায়ী নিয়েছি।"   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া, পরীক্ষা ও শিক্ষার মান কেমন হবে— তা নিয়ন্ত্রণ, দেখভাল এবং এ বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ দেওয়ার জন্যই একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হয়।   অধ্যাদেশের ৩য় খণ্ডের ২ নম্বর ধারায় সাধারণ ভর্তি কমিটির কাজের বিষয়ে বলা হয়েছে, ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করার একটা কমিটি, যা মূলত একাডেমিক কাউন্সিল দ্বারা গঠিত।   এক্ষেত্রে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা ছাড়া এরকম নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য আবদুস সালাম বলেন, "এটা একাডেমিক কাউন্সিলে যাবে। সেখান থেকে পাস হয়ে আসবে।"   এক্ষেত্রে একাডেমিক কমিটিতে যাওয়ার আগে যে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া হয়েছে সেটা নিয়মের ব্যত্যয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "নিয়মের ব্যত্যয় হওয়ার আগে কিছু কিছু বিষয়, যেটা সময় ও অন্যান্য বিবেচনা করেও করা যেতে পারে, যা পরে একাডেমিক কাউন্সিলে সম্পূরক অনুমোদন নেওয়া যায়।"   যা বলছেন বিজ্ঞরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ১০ শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছে।   তাদের ভাষ্য, ভর্তি পরীক্ষায় নতুন করে কোনো নিয়ম সংযোজন বা বিয়োজন করতে হলে দুই থেকে তিন বছর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়; তারপর সেই নিয়ম বা নীতি যুক্ত করা যায়। নয়ত নতুন নিয়ম নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম তালুকদার বলেন, "এবার ভর্তি পরীক্ষায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের বিষয়ে আমাদের একাডেমিক কমিটিতে আলোচনা হয়েছিল। সেখানে আমরা আলাদা না করে ন্যাশনাল ও ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যক্রমকে সমন্বয় করে পরীক্ষা নিতে বলেছি। তা না করলে বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে।   “একটা পরীক্ষা আলাদা প্রশ্নে নেওয়া হলে সেখানে সমান প্রতিযোগিতা ও প্রশ্নের মানকে সমমান করা সম্ভব হয় না। এটা আমাদের বিভাগের সর্বসম্মত সুপারিশ ছিল। তবে এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা একাডেমিক কাউন্সিল।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “একটি পরীক্ষা দুটি আলাদা প্রশ্নে নেওয়া হলে কেউ কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন। কারণ, একটা পরীক্ষার দুটি প্রশ্নপত্রে সবসময় বৈষম্যের আশঙ্কা থেকে যায়।”   এই অধ্যাপকের পরামর্শ হলো, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী যা যা শেখে, তার ভিত্তি করে একটা ব্যাসিক প্রশ্নপত্র করতে পারে। সেটা হলে কেউ বঞ্চিত হবে না।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, “আমরা নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এখন পলিসির উপরেই নির্ভর করবে এ পরীক্ষা বৈষম্য সৃষ্টি করবে, নাকি সাম্য প্রতিষ্ঠা করবে।”   নতুন এ সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করেন আবদুল্লাহ জামান, যিনি ইংরেজি মাধ্যমের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ।   সম্প্রতি এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, “আমি নিজেই দুটি আন্তর্জাতিক (ইংরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় পরিচালনা করি। বাস্তবতা হলো, ইংরেজি মাধ্যমের জন্য যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা সুবিধা সৃষ্টি করে, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে সেটি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হতে পারে। আরও বেশি অভিভাবক ইংরেজি মাধ্যমের দিকে ঝুঁকবেন, শিক্ষার্থী বাড়বে, বাজার সম্প্রসারণ হবে।   “কিন্তু দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বড় বলে মনে করি। যে নীতি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হলেও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, সেই নীতিকে সমর্থন করা নৈতিকভাবে সঠিক নয়।”   তার মতে, এটি উচ্চশিক্ষায় একক একাডেমিক মানদণ্ড ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: পৃথক প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষার জন্য কী বার্তা দেবে’ শিরোনামের এ নিবন্ধে তিনি লেখেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা কোনো নির্দিষ্ট বোর্ডের পাঠ্যবই পরীক্ষা করে না। এটি প্রার্থীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ধারণাগত দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা এবং উচ্চশিক্ষার উপযোগিতা যাচাই করে।   “সুতরাং প্রশ্ন হওয়া উচিত—‘কোন বোর্ডে পড়েছ?’ নয়; বরং ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছ কি না?’ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের মানদণ্ড এক হয়, তবে মূল্যায়নের মানদণ্ডও এক হওয়া উচিত।”   আবদুল্লাহ জামান মনে করেন, “আজ যদি ইংরেজি মাধ্যমের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র হয়, আগামীকাল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডও একই দাবি করবে। তাদের যুক্তিও হবে,‘আমাদের পাঠ্যক্রম আলাদা।’ এরপর কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একই দাবি তুলবে।”   যা বলছেন শিক্ষার্থী-অভিভাকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অবশ্যই সবাইকে সুযোগ দেয়া উচিত। তবে আলাদা প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সেটা নিশ্চিত করবে না।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসির শিক্ষার্থী তন্ময় আহমদ বলেন, “ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের প্রান্তিক ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় এখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। কিন্তু কাউকে এক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বৈষম্য। “উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সব পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এক। ইংরেজি মাধ্যমের এমন কোনো শিক্ষার্থী নেই, যারা বাংলা মিডিয়ামের প্রশ্ন উত্তর দিতে পারবে না। এক্ষেত্রে তাদের যেহেতু ভাষাগত সমস্যা আছে, সেক্ষত্রে ইংরেজি ভাষায় প্রশ্নপত্র হতে পারে।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ রাফী বলেন, "এক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে পাঁচ হাজার, আরেকটায় দেড় লাখ। এখানে কীভাবে সমান প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে? বরং এটা হলে দেখা যাবে ইংরেজি মাধ্যম থেকে ভর্তি হবে এক হাজার; আর বাংলা মাধ্যম থেকে ৫০০। তাহলে বৈষম্য আরও উসকে দেওয়া হবে।"   উত্তরার এক এইচএসসি শিক্ষার্থীর মা সৈয়দা রেজাউন্নাহার শিফন বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের পাঠ্যক্রম থেকে লেখাপড়া করা শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ পাওয়া উচিত।   “তবে বর্তমানে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার, তাতে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের বৈষম্যের শিকার হবেন বলে আমি মনে করি।”

ছবি: সংগৃহীত
বরিশালে আদালতের সামনে বোমা বিস্ফোরণ

বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম‍্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনজীবী ও বিচারকদের মধ‍্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।   বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদালতের ১০ তলা ভবনের সামনে প্রধান ফটকের ঠিক ভেতরে বিকট শব্দে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।    আদালত প্রাঙ্গণে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে।    সিএমএম আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, পুলিশ কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দিয়ে বিস্ফোরণকারীদের শনাক্তে সহায়তা করছি।   বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন ইসলাম বলেন, বোম ডিসপোজাল ইউনিটের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। বিস্ফোরিত বোমার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
কয়েক ঘণ্টা পরই বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব দেশ থেকে

বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে গোটা বিশ্ব। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হতে চলেছে।   এর ফলে দুই মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত সম্পূর্ণ ঢাকা পড়বে সূর্যের আলো।   ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হবে। ১৯৯৯ সালের পর এমনটি আর দেখা যায়নি। এবার স্পেনের বেশির ভাগ অংশসহ প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ মানুষ এবার পূর্ণগ্রাসের নিখুঁত পথ বা ‘পাথ অব টোটালিটি’র আওতায় থাকবেন।   আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।   প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সূর্যগ্রহণের আংশিক রূপটি পশ্চিম ইউরোপ, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছোট অংশেও দেখা যাবে। বিশ্বব্যাপী আংশিকভাবে হলেও এই সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবেন প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ।   বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদের আকার প্রায় সমান দেখানোর ফলে এ রকম পূর্ণগ্রাস গ্রহণ হয়ে থাকে।   প্রতি বছর পৃথিবীতে দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ (আংশিক, বলয়গ্রাস, পূর্ণগ্রাস বা হাইব্রিড) দেখা যায়। পূর্ণ সূর্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশ বিরল। শতাব্দীতে গড়ে ৬৬ বার বা দেড় বছরে একবার এটি ঘটে।   পূর্ণ সূর্যগ্রহণে স্পেন, আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ড, রাশিয়া ও পর্তুগালের কিছু অংশে সূর্য সম্পূর্ণভাবে ঢাকা পড়বে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্ব স্পেনের লিওন, ভায়াদোলিদ, জারাগোজা, তেরুয়েল এবং ভ্যালেন্সিয়ার মতো শহরগুলো পূর্ণগ্রাসের সরাসরি পথেই রয়েছে।   স্পেনে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৭ মিনিটে এই পূর্ণগ্রাস শুরু হবে এবং স্থানভেদে এটি প্রায় ১১০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে। মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো বড় শহরগুলো যদিও এই বলয়ের ঠিক বাইরে আছে। তবে সেখান থেকেও সূর্যকে প্রায় ৯৯ শতাংশ ঢাকা পড়তে দেখা যাবে।

ছবি : সংগৃহীত
কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ২৫৪

কলম্বিয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মঙ্গলবারও (১১ আগস্ট) ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।   মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত শহর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ২৫৪ জনের মধ্যে কফি উৎপাদন অঞ্চলের পেরেইরা শহরেই ১০১ জন মারা গেছেন। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালি শহরে নিহত হয়েছেন ৯৫ জন।   উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। এ সময় তারা সবাইকে নীরব থাকার অনুরোধ করছেন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা কারও বেঁচে থাকার শব্দ শোনা যায়।   চলতি শতকে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে দেশটির কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, বাড়িঘর, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভবন ধসে পড়েছে, আবার কিছু ভবন হেলে পড়েছে বা বড় ধরনের ফাটল ধরেছে।   ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী চোকো অঞ্চলের বনাঞ্চলে বসবাসকারী অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখনো বিদ্যুৎ ও মৌলিক সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। এতে সেখানে উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।   নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার শপথ নেওয়ার কয়েক দিন পরই এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং ঘরবাড়ি হারানো মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   ন্যাশনাল কফি ফেডারেশন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। সংস্থাটির প্রধান জার্মান বাহামোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, কৃষি খামার ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে।   এদিকে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা ক্রেন, খননযন্ত্র ও নিজেদের হাত ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে তারা ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছেন এবং বালতি হাতে হাতে এগিয়ে দিয়ে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করছেন। উদ্ধারকর্মীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে থাকতে পারেন।    সূত্র: রয়টার্স

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান চায় কিয়েভ, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাব
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬

ইউক্রেন রাশিয়ার সঙ্গে সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ লক্ষ্যে কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   মঙ্গলবার জেলেনস্কি এ প্রস্তাব জমা দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর আগে ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশই জানিয়েছিল, মার্কিন আলোচকেরা শিগগিরই তাদের দেশ সফর করবেন।   রাতের ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা মার্কিন পক্ষকে আমাদের প্রস্তাবগুলো জানিয়েছি।’   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে পারে। এতে রাশিয়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে এর অবসানের জন্য প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হবে।   আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রস্তাব সম্পর্কে জেলেনস্কি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।   ২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধের আলোচনা মূলত থমকে গেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে। মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সর্বশেষ জানুয়ারিতে মস্কো সফর করেছেন এবং এখনো কিয়েভ সফর করেননি।   বছরের পর বছর ধরে চলা লড়াইয়ে ইউক্রেন বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া বলছে, তারাও এ যুদ্ধের সমাপ্তি চায়। তবে এজন্য ইউক্রেনকে মস্কোর দাবি করা চারটি অঞ্চল পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে এবং সংঘাতের ‘মূল কারণগুলোর’ সমাধান করতে হবে।   নিজের ভাষণে জেলেনস্কি রাশিয়াকে আগামী মাসের সংসদীয় নির্বাচনকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আরেকটি বড় আকারের সামরিক সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যও অভিযুক্ত করেছেন।   তিনি বলেন, ‘তারা শরতে সংসদীয় নির্বাচনের ঠিক পরেই সৈন্য সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে তারা এমন একটি ধারণা তৈরি করতে চায় যে রুশরা দৃশ্যত যুদ্ধকে সমর্থন করছে।’   তবে মস্কোর কর্মকর্তারা এর আগেই সেনা সমাবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা অস্বীকার করেছেন।   এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া চার বছর আটক থাকার পর সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা রবার্ট গিলম্যানকে মুক্তি দিয়েছে।   তিনি বলেন, পুতিন মানবিক কারণে ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছেন। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন কোনো বন্দিকে মুক্তি দেয়নি।   সূত্র : আল জাজিরা 

ছবি : সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের পর জাহাজে হুথিদের প্রাণঘাতী হামলা, নিহত ৬
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬

লোহিত সাগরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা। এতে অন্তত ছয়জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো হুথিদের জাহাজে হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।   ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল মাখা বন্দরের দক্ষিণে জাহাজটিতে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন লেগে যায়। এ ঘটনায় তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয়সহ চার নাবিক নিহত হন।   পরে ইয়েমেনের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, দ্বিতীয় একটি প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজটি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।   হুথিরা জানিয়েছে, তারা সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে কোনো জাহাজের ওপর গোষ্ঠীটির এটিই প্রথম প্রাণঘাতী হামলা।   গত মাসে হুথিরা সৌদি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা শুরু করে। এই অঞ্চলে সংঘাত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এ সময়ে একটি যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়েছে। যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।   হুথিদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরে সৌদি ট্যাংকার ও তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।   ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথি এবং সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি গত মাসে ভেঙে যাওয়ার পর সর্বশেষ এই হামলা হয়েছে।   হুথিরা উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। রাজধানী সানা হুথিদের দখলে থাকায় সরকার দক্ষিণে অবস্থিত এডেন থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।   বিবিসি ভেরিফাই কর্তৃক যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে ইয়েমেনের উপকূলের কাছে লোহিত সাগরের মোহনায় অবস্থিত বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে একটি ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজ দেখা গেছে।   এক বিবৃতিতে ইয়েমেন সরকার বলেছে, জাহাজটি খাদ্য বহন করছিল। বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই হামলা হুথিদের আগ্রাসনের মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।   এর আগে এক বিবৃতিতে সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানায়, জাহাজটিকে সহায়তা করতে গিয়ে ইয়েমেনি নৌবাহিনী হামলার শিকার হয়েছে। এতে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।   কাছ থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জাহাজটির নাম ‘তিহামাহ’। জাহাজ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ওয়ার্নার পয়েন্টের কাছে লোহিত সাগরে রয়েছে।   ভ্যানগার্ড জাহাজটিকে তানজানিয়ার পতাকাবাহী হিসেবে শনাক্ত করেছে। অন্যদিকে, শিপিং ওয়েবসাইট মেরিনট্র্যাফিক বলছে, এটি একটি মিশরীয় অপারেটরের মালিকানাধীন।   সূত্র : বিবিসি

ছবি : সংগৃহীত
ইরানি জাহাজের ইঞ্জিন অচল করল যুক্তরাষ্ট্র
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধ ভেঙে ইরানের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করায় একটি কার্গো জাহাজের ইঞ্জিন অচল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। খবর শাফাক নিউজ এজেন্সির।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি ভিলা নোভা’ নামের জাহাজটি ওমান উপসাগর পেরিয়ে ইরানের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে কয়েকবার সতর্ক করলেও তারা তা উপেক্ষা করে।   পরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার থেকে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে জাহাজটির স্টিয়ারিং ব্যবস্থা অচল হয়ে যায় এবং সেটি থেমে যেতে বাধ্য হয়।   সেন্টকম বলেছে, ১৪ জুলাই ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর এ পর্যন্ত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এ ছাড়া তিনটি জাহাজ অচল এবং দুটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে।   এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় ৪২টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে। একই সময়ে প্রণালিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) তৎপরতাও অব্যাহত ছিল।

ছবি : সংগৃহীত
কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ২৫৪
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬

কলম্বিয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মঙ্গলবারও (১১ আগস্ট) ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।   মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত শহর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ২৫৪ জনের মধ্যে কফি উৎপাদন অঞ্চলের পেরেইরা শহরেই ১০১ জন মারা গেছেন। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালি শহরে নিহত হয়েছেন ৯৫ জন।   উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। এ সময় তারা সবাইকে নীরব থাকার অনুরোধ করছেন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা কারও বেঁচে থাকার শব্দ শোনা যায়।   চলতি শতকে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে দেশটির কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, বাড়িঘর, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভবন ধসে পড়েছে, আবার কিছু ভবন হেলে পড়েছে বা বড় ধরনের ফাটল ধরেছে।   ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী চোকো অঞ্চলের বনাঞ্চলে বসবাসকারী অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখনো বিদ্যুৎ ও মৌলিক সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। এতে সেখানে উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।   নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার শপথ নেওয়ার কয়েক দিন পরই এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং ঘরবাড়ি হারানো মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   ন্যাশনাল কফি ফেডারেশন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। সংস্থাটির প্রধান জার্মান বাহামোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, কৃষি খামার ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে।   এদিকে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা ক্রেন, খননযন্ত্র ও নিজেদের হাত ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে তারা ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছেন এবং বালতি হাতে হাতে এগিয়ে দিয়ে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করছেন। উদ্ধারকর্মীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে থাকতে পারেন।    সূত্র: রয়টার্স

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি