কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’-এর উদ্বোধন করা হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ১০টি ভিন্ন ধরনের সেবা সরাসরি পাবেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির পরিমাণ হ্রাস এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষিখাত নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কৃষক কার্ড ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। তিনি বলেন, কার্ডের মাধ্যমে ১০টি সেবা, যথা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বিমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য প্রাপ্তিসহ ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ প্রদান, ইত্যাদি কৃষকগণের নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এ কার্ড দেওয়া হবে। এছাড়াও কৃষির উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনাগুলো হলো- ১. কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ, সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য ইতিমধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি প্রদান করে ট্রাক্টর, হারভেস্টার, রিপারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২. পতিত জমি আবাদের আওতায় আনা এবং জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশের উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হয়। ফলে জমির অপচয় কমে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে পতিত জমি চিহ্নিত করে সেগুলো আবাদের আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যেমন খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে পতিত জমি কৃষির আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, সিলেট অঞ্চলে পতিত জমিসহ চরাঞ্চলের পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনার জন্য বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ৩. কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এক সময় ধান নির্ভর কৃষি ব্যবস্থা এখন ধীরে ধীরে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা, ফুল চাষ খাতে সম্প্রসারণ করার জন্য সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ৪. কৃষকদের জন্য প্রণোদনা ও সহায়তা কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বীজ, সার, কৃষিযন্ত্র ক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি প্রদান করা হবে। তাছাড়া, কৃষকদের জন্য স্বল্প সুদের কৃষিঋণ এবং ফসল বীমা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্যও বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের কল্যাণে প্রতি অর্থবছর কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ‘কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা’ খাতে অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে ৭ শত কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। উক্ত বরাদ্দ হতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ বাবদ ৪ শত ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। এতে ২৫ লাখ ২২ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন। ৫. কৃষিপণ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষিপণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে, উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ৬. কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে সরকার ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান যেমন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মাধ্যমে অধিক ফলনশীল, রোগ প্রতিরোধী এবং স্বল্পমেয়াদি নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবনে জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরিবর্তিত পরিবেশেও কৃষি উৎপাদন বজায় থাকে। ৭. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। লবণাক্ততা, খরা ও বন্যা সহনশীল ফসল চাষ, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং টেকসই কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে পরিবেশবান্ধব করা; কম সেচ, কম রাসায়নিক সার ও কম কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন; প্রি-পেইড মিটার স্থাপন এবং সেচের Alternate Wetting and Drying (AWD) পদ্ধতি প্রয়োগ করে খরাপ্রবণ অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা; মোবাইল অ্যাপ যেমন: ‘খামারি অ্যাপ’ ব্যবহার করে স্থানভিত্তিক উপযুক্ত ফসল চাষ করে সেচ, সারসহ অন্যান্য উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহার; প্রিসিশন এগ্রিকালচার ইত্যাদির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামী ৩ মে থেকে সারাদেশে সরকারিভাবে ধান ও ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হচ্ছে। এটি চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারাদেশে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে এই ধান, চাল ও গম সংগ্রহ করা হবে। আজ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার এ বছর সারা দেশে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করবে। মন্ত্রী বলেন, ধানের কেজি ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা, আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং গম ৩৬ টাকা মূল্যে সরকারিভাবে সংগ্রহের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, চাল সংগ্রহ করার বিষয়ে আমাদের চাহিদার বিপরীতে কী পরিমাণ মজুত রাখব, কী পরিমাণ নিরাপত্তা মজুত এবং কী পরিমাণ আমদানি করব— এই বিষয়গুলো নিয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সভায়। মন্ত্রী বলেন, দেশে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ২৪ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টন। সরকারের কাছে বর্তমানে মজুত আছে ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জিটুজি পদ্ধতিতে সরকার গম আমদানি করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে একটি সমঝোতা রয়েছে বাংলাদেশের। সেখান থেকে পুরোপুরি আমদানি সম্ভব না হলে বিকল্প যেকোনো উন্মুক্ত পদ্ধতিতে গম আমদানি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে চালের উৎপাদনে ঘাটতি নেই। আমদানি প্রয়োজন হবে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংগ্রহকৃত অবশিষ্ট চাল মজুত করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চালে আমাদের জাতীয় চাহিদা ৪ কোটি ২৪ লাখ মেট্রিক টন। চালের ক্ষেত্রে আমাদের ঘাটতি নেই। উৎপাদনও ভালো হয়েছে এ বছর। আমাদের যে আবহাওয়া রিপোর্ট, সেই অনুসারে এ পর্যন্ত দুর্যোগের কোনো আশঙ্কা নেই, ইনশাআল্লাহ। সেই হিসেবে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চাইতেও বেশি উৎপাদন করতে পারবো বলে আশা করছি।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা। এবার তারই পুরস্কার দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এক লাফে ৩২ ধাপ এগিয়ে পৌঁছে গেছেন ৬৪তম স্থানে। সোমবার তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সমতা ফিরে বাংলাদেশ। সেখানে নাহিদ রানা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন দলের কয়েকজন। নাহিদ রানার পাশাপাশি আরও বেশ ক’জন দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় র্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতি হয়েছে। রান তাড়ায় সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তার এই ইনিংসের ফলে আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে ১৪ ধাপ এগিয়ে এখন তিনি ৪০তম স্থানে উঠে এসেছেন। একই ম্যাচে অপরাজিত ৩০ রান করা তাওহীদ হৃদয় ৫ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ২৬তম স্থানে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে সিরিজে না খেললেও ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল। ওয়ানডের বোলারদের র্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। স্পিনার রিশাদ হোসেন ১০ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৫৮তম স্থানে উঠেছেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩২ রানে ৫ উইকেট লাভ করা নাহিদ রানা ৩২ ধাপ এগিয়ে পৌঁছে গেছেন ৬৪তম স্থানে। এছাড়া দুই ম্যাচেই জোড়া উইকেট নিয়ে বোলারদের তালিকায় ৩৯তম স্থানে উঠেছে এসেছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। ২০২৪ সালের পর এটিই ছিল ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ২৪ বছর বয়সী এই পেসারের প্রথম ম্যাচ।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ওই অঞ্চলের পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এসব রুটে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছিল। আজ (বুধবার) বিমান সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বর্তমানে দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, মাসকাট, দোহা, রিয়াদ ও জেদ্দা রুটে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো চলাচল করছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা-দোহা রুটে আগামীকাল (২৩ এপ্রিল) থেকে আবারও ফ্লাইট চলাচল শুরু হচ্ছে। ঢাকা থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ফ্লাইটটি ছেড়ে যাবে এবং একই দিন স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় দোহা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফ্লাইটটি রওনা হবে। ইউএস-বাংলা ঢাকা থেকে মাসকাটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে মাসকাট থেকে ফেরার পথে ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় অবতরণ করে। দুবাই রুটে প্রতিদিন চট্টগ্রাম হয়ে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আবুধাবি রুটে বৃহস্পতিবার বাদে সপ্তাহে ছয় দিন এবং শারজাহ রুটে সপ্তাহে চার দিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি। সৌদি আরবের রিয়াদ রুটে সপ্তাহে পাঁচ দিন (শুক্র, শনি, রবি, মঙ্গল ও বুধবার) এবং জেদ্দায় সপ্তাহে তিন দিন (রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার) ফ্লাইট চলাচল করছে। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ রুটে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে রিয়াদ ও জেদ্দা রুটে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০। ইউএস-বাংলার বহরে বর্তমানে তিনটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ এবং নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০-সহ মোট ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, অদূর ভবিষ্যতে মদিনা ও দাম্মামে ফ্লাইট শুরুর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নেটওয়ার্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিমান সংস্থাটির। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থা ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মতো ইউএস-বাংলার ফ্লাইট সূচীতেও সাময়িক ব্যাঘাত ঘটে।
কুয়েতে আক্তার হোসেন নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোববার (১৯ এপ্রিল) দেশটির মাহবুল্লাহ এলাকায় নিজ কোম্পানির আবাসিক কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, এর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কুয়েত পুলিশ। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হোসেনের দেশের বাড়ি চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর বাবার নাম সামসুল হক সওদাগর। তিনি কুয়েতের আল ফয়সালিয়া কোম্পানির অধীনে জাবের আল আহমেদ হাসপাতাল প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। নিহতের সহকর্মী জিয়াউল হক জানান, কর্মস্থলে তার দায়িত্ব পালন বা বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো দৃশ্যমান সমস্যা ছিল না। ফলে সহকর্মীদের ধারণা, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো কারণ থেকেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এদিকে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কুয়েতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ওমানে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় নতুন বিধিমালা জারি করা হয়েছে। ‘১/২০২৬’ নম্বর সিদ্ধান্তের আওতায় জেনারেল ফেডারেশন অব ওমান ওয়ার্কার্স (জিএফওডব্লিউ) কর্মক্ষেত্রে আঘাতের শ্রেণিবিভাগ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে সরাসরি দুর্ঘটনা কিংবা কাজের কারণে সৃষ্ট যেকোনো আঘাতকে ‘কর্মক্ষেত্রের আঘাত’ (Work Injury) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে—তা ওমানের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই ঘটুক না কেন। বিধিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বাসা থেকে কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কর্মক্ষেত্রের আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এর জন্য যাতায়াত অবশ্যই স্বাভাবিক ও সরাসরি পথে হতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বিরতি বা পথ পরিবর্তন করা যাবে না এবং দুর্ঘটনাটি দৈনন্দিন যাতায়াতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ঘটতে হবে। এই শর্ত পূরণ হলে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা সম্পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রে শ্রমিকরা সুবিধা পাবেন। এছাড়া অতিরিক্ত কাজের চাপ, শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কারণে সৃষ্ট অসুস্থতা বা আঘাতকেও এই নতুন নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান শ্রম আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত সময় কাজ করানো, বিশ্রামের সুযোগ না দেওয়া বা অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েও নতুন নির্দেশনায় আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিমাকৃত কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো স্বীকৃত চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করলে, নোটিশ পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করা যাবে। এই আপিলগুলো ‘মেডিকেল গ্রিভেন্স কমিটি’র কাছে পাঠানো হবে এবং অভিযোগ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে কমিটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে হবে। এই রায় বাধ্যতামূলক হিসেবে গণ্য হবে এবং তা নিয়োগকর্তা ও কর্মী—উভয় পক্ষকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
পরিবারের সুখের চাকা সচল রাখতে ২০১৯ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা টিটু মিয়া। জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে দীর্ঘ সাত বছর প্রিয়জনদের মুখ দেখা হয়নি তার। কফিলের জটিলতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেননি তিনি। প্রবাসের কঠোর পরিশ্রমে একমাত্র মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করেছেন, ছেলের জন্য কিনে দিয়েছেন শখের মোটরসাইকেল, পূরণ করেছেন পরিবারের অসংখ্য চাহিদা। কিন্তু নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নেওয়ার সময় যেন আর হয়ে ওঠেনি এই প্রবাসী যোদ্ধার। গত ১৫ এপ্রিল সৌদি আরবের আল খারিজের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন টিটু মিয়া। জীবনের সবটুকু দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটালেও, শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমাতে হলো তাকে। গাইবান্ধার মান্দুয়া গ্রামে এখন বিরাজ করছে গভীর শোক ও শূন্যতা। আমাদের সমাজে টিটু মিয়াদের মতো হাজারো প্রবাসী রয়েছেন, যারা নীরবে ত্যাগ স্বীকার করে যান—কিন্তু তাদের এই আত্মত্যাগ অনেক সময়ই থেকে যায় অগোচরে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোয় বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একইসঙ্গে তিনি উভয় পক্ষকে আলোচনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। খবর এএফপির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ লেখেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা করছি, উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। সেই সঙ্গে ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফা আলোচনার মাধ্যমে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শান্তি চুক্তি’তে পৌঁছাতে সক্ষম হবে, যা এই সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখছে তেহরান। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে এবং শান্তি আলোচনার সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, ইরান এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কোনো অনুরোধ করেনি। তাসনিমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বুঝতে পেরেছে যে যুদ্ধের মাধ্যমে আর কোনো লাভ হচ্ছে না, তাই পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসতে চাইছে। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধবিরতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা নতুন করে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সরাসরি যুদ্ধ থেকে সরে গেলেও তার মিত্র ইসরায়েল সংঘর্ষ চালিয়ে যেতে পারে। চতুর্থত, নৌ অবরোধ চালু থাকলে সংঘাত পুরোপুরি শেষ হবে না, বরং পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণই থাকবে বলে মনে করছে ইরান। তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যুদ্ধের ছায়া বজায় রাখতে চায়, যাতে দেশটির অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি চাপের মধ্যে থাকে। তবে ইরানও সতর্ক অবস্থানে আছে বলে জানানো হয়েছে। তারা বলছে, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত জলপথ নিয়ে পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে তার জবাব দেওয়া হবে।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা মাহমুদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোয় বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একইসঙ্গে তিনি উভয় পক্ষকে আলোচনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। খবর এএফপির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ লেখেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা করছি, উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। সেই সঙ্গে ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফা আলোচনার মাধ্যমে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শান্তি চুক্তি’তে পৌঁছাতে সক্ষম হবে, যা এই সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে সার উৎপাদন কমে গেছে। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দেশটির সার উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। এই কমার প্রধান কারণ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে সমস্যা। ইউরিয়া সার উৎপাদনের জন্য গ্যাস খুবই জরুরি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বে অনেক জ্বালানি ও সার তৈরির কাঁচামাল পরিবহন করা হয়। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্চ মাসে উৎপাদন ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। যদিও এর আগে কয়েক মাস ধরে উৎপাদন বাড়ছিল। তবে সরকার বলছে, দেশে এখনো পর্যাপ্ত সার মজুত আছে এবং অন্য দেশ থেকে আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ভারতে কৃষিখাতে বিপুল মানুষ কাজ করে। তাই সার উৎপাদন কমে গেলে ফসল উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের আগে সার চাহিদা বেশি থাকে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের সহায়তায় সরকার ইতোমধ্যে সার ভর্তুকি ১১ শতাংশ বাড়িয়েছে। এদিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সার সরবরাহে সমস্যা হলে তা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ইরানের জাতিসংঘ প্রতিনিধি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলে পরবর্তী দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সিএনএন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ’র বরাতে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলেই ইসলামাবাদে পরবর্তী দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’ এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ (ব্লকেড) বজায় রাখবে। ট্রাম্প জানান, তেহরানকে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি প্রস্তাব দেওয়ার জন্য আরও সময় দিতে যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিত হামলা স্থগিত রাখছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে ইরানের স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ‘কোনো গুরুত্ব বহন করে না’। যে পক্ষ হেরে যাচ্ছে, তারা শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। অবরোধ চালিয়ে যাওয়া আর বোমা হামলার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটির জবাব সামরিকভাবেই দিতে হবে।
আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছে আরব লীগ কাউন্সিল। মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত এক মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি। এতে কাতারসহ বিভিন্ন আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন। কাতারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখি। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত। বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, জর্ডান ও ইরাকসহ একাধিক আরব দেশের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যার জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে। আরব লীগ এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, এসব হামলায় বেসামরিক এলাকা, তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রস্তাবে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে দায় নিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে আরব দেশগুলোর প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করা হয় এবং বলা হয়, একটি দেশের ওপর হামলা মানে পুরো আরব বিশ্বের ওপর হামলা। আরব লীগ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নেয় এবং ইরানকে অবিলম্বে হামলা বন্ধে বাধ্য করে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করার ইরানের হুমকিরও নিন্দা জানানো হয়েছে। আরব লীগ সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তথ্যসূত্র : দোহা নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।