২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আল-লুগাতুল আরাবিয়াতুল ইত্তিসালিয়্যাহ’ পাঠ্য বইয়ের পরিমার্জিত সংস্করণ বাজারজাত করা হয়েছে। নতুন সংস্করণ অনুযায়ী ২০২৭ সালের আলিম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের পরিমার্জিত পাঠ্যবই অনুসরণ করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। সম্প্রতি বোর্ডের প্রকাশনা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এফ এম শাকিরুল্লাহর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, পরিমার্জিত সংস্করণের বইটির একমাত্র পরিবেশক আল ফাতাহ পাবলিকেশন্স। বোর্ড জানিয়েছে, নতুন সংস্করণে পুরোনো বইয়ের অনেক অপ্রাসঙ্গিক তথ্য বাদ ও সংশোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট আকাঙ্ক্ষা, মূল্যবোধ ও জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যপুস্তকটির বিষয়বস্তু হালনাগাদ করা হয়েছে। পরিমার্জিত সংস্করণে পুরোনো বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়টি নবম অধ্যায়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া পুরোনো নবম অধ্যায়ের দ্বিতীয় পাঠ নতুন সংস্করণে চতুর্থ অধ্যায়ের দ্বিতীয় পাঠ হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন সংস্করণের চতুর্থ অধ্যায়ের প্রথম ও তৃতীয় পাঠ নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকের মূল বিষয়বস্তু ঠিক রেখে বিভিন্ন তথ্যগত ভুলও সংশোধন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পরিমার্জিত সংস্করণ অনুযায়ী ২০২৭ সালের আলিম পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন করা হবে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ওই পরীক্ষার প্রস্তুতি নতুন সংস্করণ অনুসারে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মাদরাসার অধ্যক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার (১৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও সহিদুল ইসলাম সরদার। শুনানিতে প্রসিকিউটর জহিরুল বলেন, এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। কিন্তু স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে আসামিদের খুঁজে পাননি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে ২০ জনের পূর্ণ প্রতিবেদন এলেও বাকিদের এখনও আসেনি। এছাড়া প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু না হওয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হাসানুল হক ইনু ও আরেক মামলায় গ্রেপ্তার আবদুর রাজ্জাককে আজ হাজির করা হয়নি। তাই পরবর্তী শুনানির জন্য আমরা সময় চাই। পরে দু’জনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুসহ নন এক্সিকিউটিভ রিপোর্ট বা এনইআর জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, আরও আসামিরা হলেন– তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী। এদিন সকালে ৯ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, জিয়াউল আহসান, শহীদুল হক, শাহরিয়ার কবির, আবদুল জলিল মণ্ডল, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু। এর আগে, ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতকদের নামে পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারদের হাজিরের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। একই দিন সকালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। এ মামলায় দুটি অভিযোগের মধ্যে প্রথমটিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ঢাকায় ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে আনা হয়েছে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত। এটি রাজনীতি বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরে বলে জানিয়েছেন ভারত সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে রোববার (১৬ আগস্ট) এ নিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, “প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আমাদের আদালত। এটি কোনো কূটনৈতিক অথবা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না। আর আদালতে যেটি প্রমাণিত হতে হবে যে বাংলাদেশে তিনি যে অপরাধ সংঘটিত করেছেন সেগুলো ভারতের আইন অনুযায়ীও অপরাধ কি না।” ভারত সরকারের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়েছিল, সেটি অনুযায়ী সব নথি যুক্ত করেই বাংলাদেশ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর দুই বছরের বেশি সময় ধরে তিনি সেখানেই আছেন। বর্তমানে দিল্লির একটি রেস্ট হাউজে রয়েছেন তিনি। এদিকে পতিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা মাঝে মধ্যে তার দলের ক্যাডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আর নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলেন। শেখ হাসিনার বর্তমান বয়স ৭৮। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে ৯ উইকেটের বিশাল জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, কোচ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। রোববার (১৬ আগস্ট) এক অভিনন্দন বার্তায় রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের এই গৌরবময় বিজয় দেশের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এএইচআর/এমএন
অর্থ পাচার ও ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ থাকা চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সহযোগী বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি এস এস পাওয়ার-১ কে সকল পণ্য পুরো বাকিতে আমদানির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শতভাগ মার্জিন সুবিধা দেওয়ায় এখন থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সকল পণ্য আমদানিতে রূপালী ব্যাংক পুরো অর্থায়ন করতে পারবে। কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এখন থেকে কাঁচামাল আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে কোনো প্রকার আগাম অর্থ দিতে হবে না। রোববার এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ওপর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ধারা প্রয়োগ হবে না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাত বাণিজ্যিক ব্যাংক পুনরুদ্ধার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরই নতুন ঋণ না পেয়ে ও একের পর এক মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে গ্রুপটির বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। এখন শুধু তাদের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের ব্যবসা টিকে আছে। ভোগ্যপণ্যর ব্যবসা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। অর্থ সংকটে অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খেলাপি হয়ে পড়ে এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডও। রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক হচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্থাপিত এসএস পাওয়ার-১ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গ্রাহককে শতভাগ মার্জিন সুবিধায় পণ্য আমদানি করার সুযোগ চেয়ে রূপালী ব্যাংক অনুমোদন চায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। তাতে সায় দিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক(৩) ধারা প্রয়োগ থেকে অব্যাহতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আইনে যা আছে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৩ (সংশোধিত ২০২৩) এর ২৭ কক(৩) ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে কোন ব্যাংক-কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনোরূপ ঋণ সুবিধা প্রদান করিবে না: “তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৫ এর দফ (গগ) এর বিধান অনুসারে পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপী ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণ গ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট যদি এটা প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে, তা হলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলানি হওয়ার কারণে ওই গ্রুপভুক্ত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে না। “এবং এরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তার জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।
দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারকে ‘ব্যর্থ’ দেখতে চায় না জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “আমরা সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না। কারণ জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে, শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” জ্বালানি সংকটের এ পরিস্থিতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাজধানীর মগবাজারে রোববার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সংবাদ সম্মেলনে’ দলের এই বক্তব্য তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই মা, যিনি সকালে চুলা জ্বালাতে পারেন না। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই শ্রমিক, যার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই উদ্যোক্তা, যিনি সময়মত পণ্য তৈরি বা রপ্তানি করতে পারেন না। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতি। “সংকট সমাধানে দীর্ঘ সময়ের কথা বলে জনগণকে শান্ত করা যাবে না। জরুরি ভিত্তিতে যে কোনো সরকার জনগণের দুর্ভোগ দূর করার জন্য অনেক পদক্ষেপ নিতে পারে।’ গোলাম পরওয়ার বলেন, “সরকার বিদ্যুতের অবৈধ লাইন বন্ধ করতে পারে, ভুতুড়ে বিল বন্ধ করতে পারে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্লান্টের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে, এগুলো বন্ধ করুন।” তিনি অভিযোগ করেন, “সিন্ডিকেট করে লুটপাটের মার্কেট করে রেখেছে সরকার। এগুলো বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকা বাঁচানো যায়, সেদিকে সরকারের নজর নেই। তাদের নজর বিরোধীদলের আন্দোলনের দিকে। গণভোটের গণরায় কার্যকর না করে তো উপায় নেই। সে জন্য জনগণের এই দুর্ভোগ ও নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢাকতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।” হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে সংসদে; এখন এগুলো খরচ করার দাবি তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, “ব্যর্থ সরকারগুলো সবসময় জনগণের দুর্ভোগের কথা লুকিয়ে নিজের গণবিচ্ছিন্নতা থেকে বাঁচতে নন ইস্যুকে সামনে এনে বিরোধীদলের উপর চাপিয়ে দিতে চায়।” প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে জ্বালানি সংকট সমাধানে পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনি বলেছেন পরিকল্পনা দিন। আমরা বলছি, পরিকল্পনা ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে আছে। আপনি বলেছেন, ভালো পরিকল্পনা হলে বাস্তবায়ন করবেন। আমরা বলছি, বিরোধী দলের ১০ দফা এবং সংসদীয় বিশেষ কমিটির ১২ দফাকে সামনে রেখে আজ থেকেই একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করুন।” বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিপিডিবি, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করার দাবি তোলেন গোলাম পরওয়ার। সংবাদ সম্মেলনের দিন থেকে ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সুপারিশ কোনটি বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটি হয়নি, কত গ্যাস বেড়েছে, কত সিস্টেম লস কমেছে, কত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে জনগণ সেই হিসাব দেখুক। এখন প্রশ্ন একটাই, বাস্তবায়ন শুরু হবে, নাকি আবার নতুন পরিকল্পনা ও নতুন কমিটির অপেক্ষায় থাকতে হবে? “আমরা ৯০ দিন পর হিসাব চাইব। সরকারকে বিব্রত করার জন্য নয়। দেশের মানুষের পক্ষে। আর দেশের স্বার্থে সরকার যদি কোনো কার্যকর, স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নেয়, দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমরা সহযোগিতা করব।” সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’ছুম, এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম, মুহাম্মদ শাহজাহান, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিনক্ষণ জানা গেছে। সৌদি আরবের হিজরি ক্যালেন্ডার ভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার প্রথম রমজান শুরু হতে পারে। আগামী ২৯ শাবান (শনিবার) সন্ধ্যায় রমজানের নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, এবার শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার শেষ হবে। ফলে এর পরদিন সোমবার থেকেই রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, এবারের রমজান মাসটি ২৯ দিনে শেষ হতে পারে। সেই অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৮ মার্চ সোমবার রমজানের শেষ দিন হবে এবং পরদিন ৯ মার্চ মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৪৪৮ হিজরি সনের প্রথম দিন নির্ধারণ নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কিছু দেশে ১৬ জুন মঙ্গলবার নতুন বছর শুরু হলেও, অন্যান্য দেশে ১৭ জুন বুধবার থেকে হিজরি সন গণনা করা হয়। সূত্র: জর্ডান নিউজ।
হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করার মন্তব্য ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। হরমুজ রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে দেবে’ বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে শাসিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার রাতে ট্রাম্প নিউ ইয়র্কের গার্ডেন সিটির নাসাউ কাউন্টি পুলিশ অ্যাকাডেমির এক সমাবেশে বলেছিলেন, ‘‘ইরান খুব খারাপ ভাবে পরাস্ত হতে চলেছে। কাজ শেষ হলে, খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’’ ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়ই ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি তাকে সতর্ক করে বললেন যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘রসিকতা’ করার উপযুক্ত জবাব পাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। হাতামি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ নিয়ে এ ধরনের রসিকতা করা বড় ভুল। কারণ এটি ইরান, এর রক্ষকরা আছে যারা আপনার পা ভেঙে দেবে।” ইরানের সেনাপ্রধান দাবি করেন যে, মার্কিন বাহিনীকে ‘কার্যত বিতাড়িত করা হয়েছে’। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশের সুযোগ এখন আর নেই। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরতে দেওয়া হবে না এবং ইরান কখনও তা হতে দেবে না বলেও সতর্ক করেন হাতামি। ইরান যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এই প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে পাল্টাপাল্টি দাবি করে আসছে। শুক্রবারই ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তার অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজকে সেখানে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। তবে হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি শনিবারই উড়িয়ে দেয় ইরান সরকার। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম কারিবাবাদি বলেন, ‘‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানেরই থাকবে।’’ এবার হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সেনাপ্রধান হাতামির কঠোর অবস্থানের বার্তা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সেনা হত্যা বা আটকের জন্য পুরস্কার কেবল হরমুজ নিয়ে হুঁশিয়ারিই নয়, মার্কিন সেনাদের হত্যা বা আটক করার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদেরকে কোনও ব্যক্তি হত্যা বা আটক করতে পারলে তাকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে বলে রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান হাতামি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে একথা জানান তিনি। হাতামি আরও জানান, কোনও ‘সাহসী ইরানি নারী’ এ কাজ করতে পারলে তিনি দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন।
বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুপারি ভারতে আমদানি করে হাজার হাজার কোটি রুপির শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার এক বড় সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের অ্যান্টি-স্মাগলিং (চোরাচালান প্রতিরোধ) গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থা ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই)। মাসব্যাপী গোয়েন্দা অভিযানে এ চক্রের অপকর্ম উন্মোচিত হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুসারে, ডিআরআই মাসব্যাপী গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুপারি বাংলাদেশি উৎপন্ন বলে মিথ্যা ঘোষণা করে সাফটা চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা নেওয়ার এক বড় সিন্ডিকেটকে ধ্বংস করেছে। তদন্তে এখন পর্যন্ত সরকারের কোষাগার থেকে আড়াই হাজার কোটি রুপির বেশি রাজস্ব ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতে সুপারি আমদানিতে সাধারণত ১০০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি দিতে হয়। তবে সাফটা চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ থেকে উৎপন্ন সুপারি আমদানিতে নির্ধারিত রুলস অব অরিজিন মেনে চললে পূর্ণ শুল্ক মওকুফ পাওয়া যায়। এ সুবিধা অপব্যবহার করে সিন্ডিকেটটি কাজ করছিল। ডিআরআই কর্মকর্তারা কলকাতা ও বিশাখাপত্তনমে আমদানিকারক, কাস্টমস ব্রোকার ও আইইসি ধারকদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক স্থানে একযোগে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় উৎপত্তির সুপারির প্রমাণসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ উদ্ধার হয়। এ ছাড়া অবৈধ আমদানির বিক্রয়লব্ধ অর্থ বলে সন্দেহ করা প্রায় ৭৫ লাখ রুপি নগদ এবং প্রায় ১৬০ টন সুপারির একটি চালান জব্দ করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, চক্রের মূল হোতারা ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ থেকে সুপারি এনে বাংলাদেশের একটি এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে (ইপিজেড) নিয়ে যেত। সেখানে শুধু কন্টেইনার ও ব্যাগ পরিবর্তন করে সেগুলোকে ‘বাংলাদেশি উৎপন্ন’ সুপারি হিসেবে দেখিয়ে ভারতে পাঠাত। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জাল সাফটা সার্টিফিকেট অব অরিজিন সংগ্রহ করে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিত। ভারতীয় আমদানিকারকদের কাছ থেকে মোটা কমিশন ও নগদ অর্থ আদায় করা হতো। অর্থ পাচারের জন্য হাওয়ালা চ্যানেল ও ডামি প্রতিষ্ঠানও ব্যবহার করা হতো। অধিকাংশ প্রতারণামূলক আমদানির কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের দায়িত্বে থাকা এক কাস্টমস ব্রোকার ফার্মের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরনের অবৈধ আমদানি দেশীয় সুপারি চাষিদের ক্ষতি করে, ন্যায্য মূল্য বিকৃত করে এবং বৈধ ব্যবসার জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করে। একই সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ে।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত। এটি রাজনীতি বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরে বলে জানিয়েছেন ভারত সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে রোববার (১৬ আগস্ট) এ নিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, “প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আমাদের আদালত। এটি কোনো কূটনৈতিক অথবা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না। আর আদালতে যেটি প্রমাণিত হতে হবে যে বাংলাদেশে তিনি যে অপরাধ সংঘটিত করেছেন সেগুলো ভারতের আইন অনুযায়ীও অপরাধ কি না।” ভারত সরকারের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়েছিল, সেটি অনুযায়ী সব নথি যুক্ত করেই বাংলাদেশ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর দুই বছরের বেশি সময় ধরে তিনি সেখানেই আছেন। বর্তমানে দিল্লির একটি রেস্ট হাউজে রয়েছেন তিনি। এদিকে পতিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা মাঝে মধ্যে তার দলের ক্যাডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আর নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলেন। শেখ হাসিনার বর্তমান বয়স ৭৮। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিনক্ষণ জানা গেছে। সৌদি আরবের হিজরি ক্যালেন্ডার ভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার প্রথম রমজান শুরু হতে পারে। আগামী ২৯ শাবান (শনিবার) সন্ধ্যায় রমজানের নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, এবার শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার শেষ হবে। ফলে এর পরদিন সোমবার থেকেই রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, এবারের রমজান মাসটি ২৯ দিনে শেষ হতে পারে। সেই অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৮ মার্চ সোমবার রমজানের শেষ দিন হবে এবং পরদিন ৯ মার্চ মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৪৪৮ হিজরি সনের প্রথম দিন নির্ধারণ নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কিছু দেশে ১৬ জুন মঙ্গলবার নতুন বছর শুরু হলেও, অন্যান্য দেশে ১৭ জুন বুধবার থেকে হিজরি সন গণনা করা হয়। সূত্র: জর্ডান নিউজ।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আলি আল তাহের পাহাড়ে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। রোববার লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। নাবাতিয়েহ আল ফাওকার উপকণ্ঠে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই উঁচু এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক সামরিক তৎপরতা দেখা গেছে। শনিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, নাবাতিয়েহ ও আনসার এলাকায় ‘হিজবুল্লাহর অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাদের ওপর ওই এলাকায় হামলার জবাবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। এদিকে গত দিনের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। হামলায় আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও হামলা ঘিরে অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। যুদ্ধবিরতির কোনো তোয়াক্কা না করেই হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করার মন্তব্য ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। হরমুজ রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে দেবে’ বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে শাসিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার রাতে ট্রাম্প নিউ ইয়র্কের গার্ডেন সিটির নাসাউ কাউন্টি পুলিশ অ্যাকাডেমির এক সমাবেশে বলেছিলেন, ‘‘ইরান খুব খারাপ ভাবে পরাস্ত হতে চলেছে। কাজ শেষ হলে, খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’’ ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়ই ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি তাকে সতর্ক করে বললেন যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘রসিকতা’ করার উপযুক্ত জবাব পাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। হাতামি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ নিয়ে এ ধরনের রসিকতা করা বড় ভুল। কারণ এটি ইরান, এর রক্ষকরা আছে যারা আপনার পা ভেঙে দেবে।” ইরানের সেনাপ্রধান দাবি করেন যে, মার্কিন বাহিনীকে ‘কার্যত বিতাড়িত করা হয়েছে’। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশের সুযোগ এখন আর নেই। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরতে দেওয়া হবে না এবং ইরান কখনও তা হতে দেবে না বলেও সতর্ক করেন হাতামি। ইরান যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এই প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে পাল্টাপাল্টি দাবি করে আসছে। শুক্রবারই ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তার অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজকে সেখানে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। তবে হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি শনিবারই উড়িয়ে দেয় ইরান সরকার। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম কারিবাবাদি বলেন, ‘‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানেরই থাকবে।’’ এবার হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সেনাপ্রধান হাতামির কঠোর অবস্থানের বার্তা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সেনা হত্যা বা আটকের জন্য পুরস্কার কেবল হরমুজ নিয়ে হুঁশিয়ারিই নয়, মার্কিন সেনাদের হত্যা বা আটক করার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদেরকে কোনও ব্যক্তি হত্যা বা আটক করতে পারলে তাকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে বলে রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান হাতামি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে একথা জানান তিনি। হাতামি আরও জানান, কোনও ‘সাহসী ইরানি নারী’ এ কাজ করতে পারলে তিনি দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।