যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে তেলের দাম। বুধবার (৬ মে) রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৬৯ ডলার বা ১.৫ শতাংশ কমে ১০৮.১৮ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগের দিনও এটির দাম ৪ শতাংশ কমেছিল। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.৬৭ ডলার বা ১.৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১০০.৬০ ডলারে। মঙ্গলবার ট্রাম্প হঠাৎ করে জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযান চালাচ্ছিল, তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এ নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো ধীরে ধীরে চলাচল শুরু করতে পারবে। ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সম্ভাব্য চুক্তি হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে। এই অবরোধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহে ব্রেন্ট তেলের দাম ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক মজুতও কমে এসেছে। উৎপাদন ঘাটতি পুষিয়ে নিতে শোধনাগারগুলো চাপের মুখে রয়েছে। বাজার সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে টানা তৃতীয় সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে। ১ মে মজুত কমেছে প্রায় ৮.১ মিলিয়ন ব্যারেল। একই সময়ে পেট্রোলের মজুত কমেছে ৬.১ মিলিয়ন ব্যারেল এবং অন্যান্য জ্বালানি তেলের মজুত কমেছে ৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেল।
ঢাকার গুলশানে ‘ঘুষ হিসেবে’ একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এবং রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে গেছে। বুধবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে আদালত অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকায় ২৮ জুন নতুন দিন রেখেছে বলে দুদকের কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম জানিয়েছেন। ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ‘ঘুষ’ হিসেবে ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুদক। মামলা হওয়ার পর জুলাই মাসে আসামি শাহ খসরুজ্জামান তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন। হাই কোর্ট খসরুজ্জামানের বিষয়ে তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। খসরুজ্জামানকে ছাড়াই বাকি দুই আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর গত ১৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির পদক্ষেপ চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২৬ ফেব্রুয়ারি শুনানি নিয়ে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে। এরপর আসামিদের আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশ করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৬৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরী গুলশানে ১ বিঘা ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক আয়তনের একটি প্লট (বর্তমান ১১এ ও ১১বি) বরাদ্দ পান। সরকারি লিজ চুক্তি অনুযায়ী, ৯৯ বছরের মধ্যে ওই প্লট হস্তান্তর বা ভাগ করে বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৯৭৩ সালে তিনি মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়াকে আমমোক্তার করে প্লটটি হস্তান্তর করেন। মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এরপর প্লটটি ভাগ করে স্ত্রী শামসুন নাহার এবং শ্যালিকা জেরিন বেগমের কাছে বিক্রি করেন। শামসুন নাহার পরে ৫০ লাখ টাকায় ওই প্লট বিক্রি করেন ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের দুই মেয়ে নাইমা ইসলাম ও কনিতা ইসলামের কাছে। তারা দুই বোন পরে ওই জমিতে ভবন নির্মাণের জন্য তাদের বাবা জহুরুল ইসলামকে ব্যক্তি হিসেবে আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দেন। জহুরুল ইসলাম রাজউকের মাধ্যমে প্লটটি দুই ভাগে বিভক্ত করে ছয় তলা ভবন নির্মাণ শুরু করেন। কাজ চলার মধ্যেই তিনি মারা যান। পরে দুই বোন তাদের ভাই মঞ্জুরুল ইসলামকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন; কিন্তু পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সেই আমমোক্তারনামা বাতিলও করেন। মঞ্জুরুল ইসলাম তখন আদালতে মামলা করেন। অন্যদিকে তার দুই বোনও তাদের স্বত্ত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে মামলা করেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় দুই বোন ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমতি না দেওয়ার জন্য রাজউকে আবেদন করেন। দুদক বলছে, রাজউকের তৎকালীন আইন উপদেষ্টারা তখন দুই দফায় ‘অসত্য তথ্য’ দিয়ে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে ‘অবৈধভাবে’ ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন দেন, যদিও ইস্টার্ন হাউজিং প্লটের মালিক না। লিজ দলিলের শর্ত অনুযায়ী ৯৯ বছরের মধ্যে ওই প্লট হস্তান্তর করার কথা নয়। আংশিক বিভাজন করে হস্তান্তরেরও সুযোগ সেখানে নেই। সেখানে শর্ত না মেনে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে’ আমমোক্তার নিযুক্ত করা হয়েছে ও প্লটটি বিক্রি, বিভাজন ও হস্তান্তর করা হয়েছে বলে দুদকের ভাষ্য। দুদক বলছে, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে আমমোক্তার নিয়োগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজউক দুই পক্ষকে ডাকলেও তারা হাজির হননি। ওই আমমোক্তারনামা অনুমোদনই হয়নি। মামলার অভিযোগে বলা হচ্ছে, ওই প্লট ভেঙে দুই টুকরো করে তাতে ভবন তুলে ৩৬টি ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়। অথচ Individual Person থেকে Legal Person হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের মালিকানা স্থানান্তর দুদকের ভাষায় ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ ছিল। দুদক বলছে, নিয়ম ভেঙে প্লটের বিভাজন এবং ৩৬টি ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন করিয়ে দেবার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তার খালা শেখ হাসিনা তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ইস্টার্ন হাউজিংকে ওই ব্যবস্থা করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ‘অবৈধ পারিতোষিক হিসাবে বিনে পয়সায়’ একটি ফ্ল্যাট নিয়েছেন। ‘অবৈধ সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ’ হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি চিঠির কথা বলছে দুদক, যেখানে ‘রিজওয়ানা সিদ্দিক টিউলিপ’কে বিনামূল্যে একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইস্টার্ন হাউজিং থেকে রাজউকে ফ্ল্যাট মালিকদের যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল, তার ৫ নম্বরে টিউলিপের নাম ছিল। দুদক বলছে, টিউলিপ যে ‘অবৈধ প্রভাব খাটিয়েছেন’ ওই তালিকা তার প্রমাণ। বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ৮ এপ্রিল ঢাকার মহানগর হাকিম জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ মামলাটি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। একইসঙ্গে অভিযোগ গঠনের জন্য ১৬ এপ্রিল দিন ঠিক করা হয়েছিল। বরাবরই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসা এই ব্রিটিশ এমপি বলে আসছেন, তার খালা শেখ হাসিনার প্রতি ‘প্রতিহিংসা’ থেকে তার বিরুদ্ধে এসব ‘মিথ্য ও বানোয়াট’ মামলা দেওয়া হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এক ডেভেলপারের কাছ থেকে লন্ডনে ৭ লাখ পাউন্ড দামের একটি ফ্ল্যাট ‘উপহার’ পাওয়ার খবর নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন টিউলিপ সিদ্দিক। এর আগে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির তিন মামলায় দুই বছর করে ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে টিউলিপের।
রাঙামাটিতে এনসিপি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তির তিন নেতা যোগ দিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনে। মঙ্গলবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সদরে নিউ মার্কেটের আশিকা কনফারেন্স হলে এই যোগদান অনুষ্ঠান হয়। গণসংহতি আন্দোলনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল চাকমা ও জাতীয় শ্রমিক শক্তির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কলিন্স চাকমার নেতৃত্বে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংহতি আন্দোলনে যোগ দেন ওই অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু। দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমী, মনির উদ্দীন পাপ্পু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শহীদ শিমুল, উবা থোয়াই মারমাসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেন, “পাহাড়ে যারা বসবাস করে, তাদের সংস্কৃতি, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাহাড়ের মানুষের আলাদা যে অস্তিত্ব আছে, সেই অস্তিত্বকে স্বীকার করতে হবে রাষ্ট্রকে। বাংলাদেশ একটি বহু জাতির রাষ্ট্র, এই হিসেবে নতুন করে রাষ্ট্রকে গঠন করতে হবে।” আবুল হাসান রুবেল বলেন, “আমরা পুরো বাংলাদেশকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যেখানে বাংলাদেশের সমস্ত নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে ধরে রাখা যায়। পাহাড়িরা একটা দাবি করলেই তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে যে গালি দেওয়া হয়, এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। পাহাড়িদের সমস্ত অধিকার দাও, কেন তারা বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য জায়গায় যেতে চাইবে?” তিনি বলেন, “কাউকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ হবে না। তাহলে বাংলাদেশটাকে সকলের হতে হবে। এই রাজনীতিটাকেই আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।”
ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির সুরে কথার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলকে মূল্য চুকাতে হতে পারে বলে শঙ্কায় আছে রিপাবলিকানরা। প্রকাশ্যে কেউ তেমন উচ্চবাচ্য না করলেও ব্যক্তিগত গ্রুপ চ্যাট এবং বিভিন্ন বৈঠকে কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও অস্বস্তি বাড়ছে বলে এক প্রতিবেনে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। প্রায় ১০০ জন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার গোষ্ঠী ‘মেইন স্ট্রিট ককাস’ এর মধ্যে এমনই এক আলাপচারিতায় ট্রাম্পের সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা সাম্প্রতিক এক হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। ওই পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, “আজ রাতেই পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।” বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন তিন হাউজ রিপাবলিকানের উদ্ধৃতি দিয়ে সিবিএস নিউজ তাদের প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে। আলাপচারিতায় একজন আইনপ্রণেতার প্রশ্ন ছিল, প্রশাসনের ব্যয়বহুল ইরান যুদ্ধকে যারা সমর্থন দিচ্ছেন, তাদের জন্য ট্রাম্পের এমন কথাবার্তা কীভাবে সহায়ক হতে পারে? ট্রাম্পের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে সহায়ক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এনবিসি নিউজকে জানান, “মানুষজন চরম ক্ষুব্ধ।” তাছাড়া অর্থনীতির অধপতন, বিশেষ করে জ্বালানি দাম বাড়ার বিষয়টি ভোটারদের ভাবাবেগে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উদ্বেগ রয়েছে। আরেক হাউজ রিপাবলিকানের বক্তব্য ছিল, মানুষ আর্থিক দিকটির কথা মাথায় রেখেই ভোট দেয়। গ্যাসের দাম যদি নেমে না আসে তাহলে ইরান যুদ্ধ মধ্যবর্তী নির্বাচনে একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেশ কিছু রিপাবলিকান কৌশলবিদ মনে করছেন, বর্তমানে দলের ভোটারদের কাছে তুলে ধরার মতো স্পষ্ট বার্তা কিংবা কৌশলের অভাব আছে। এটিও মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দিয়ে উদ্বেগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)। আগামী শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে আট হাজার শিক্ষার্থীর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিমন ও বৃষ্টির স্মরণে অনুষ্ঠানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। পাশাপাশি ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান পর্বে তাদের সম্মানে রেগালিয়াসহ দুটি খালি চেয়ার রাখা হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছে এবং পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণের জন্য একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক লিমন যুক্তরাষ্ট্রে ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। দুজনের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল। তবে ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে পুলিশ। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। লিমনের মরদেহ দেশে এনে জামালপুরে দাফন করা হয়েছে। অন্যদিকে, বৃষ্টির মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পরিচয়পত্রহীন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। নেই কোনো বৈধ পাসপোর্ট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র। বিদেশের মাটিতে কারাবন্দি অবস্থায় নিভে গেছে জীবনের প্রদীপ। দেশে ফেরার পথও ছিল অনিশ্চিত। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে মানবিক বিবেচনায় দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ গ্রিসের মাটিতেই শেষ ঠিকানা হতে যাচ্ছে প্রবাসী কামরান দেলোয়ার হোসেন খানের। দেশটির রাজধানী এথেন্সের উপকণ্ঠে করিদালোজ কারাগারে গত ১৪ মার্চ মারা যান কামরান। মৃত্যুর পর তার পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে জটিলতায় পড়ে এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাস। তার কাছে পাসপোর্ট কিংবা কোনো সরকারি নথিপত্র না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তবে গ্রিক নথিতে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে উল্লেখ থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় তার লাশের দায়িত্ব নেয় তারা। এসব তথ্য জানিয়ে শনিবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে দূতাবাস। এতে বলা হয়, কামরানের পরিচয় নিশ্চিত করতে অনুসন্ধানে নামেন তারা। অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পূর্বপুরুষদের বাড়ি বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলায়। তবে সেখানে এখন কোনো আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ‘অন্য একটি দেশে অবস্থানরত কামরানের এক ভাইয়ের’ খোঁজ মেলে। টেলিফোনে তিনি জানান, বাংলাদেশে তাদের আর কোনো স্বজন অবশিষ্ট নেই। এ কারণে লাশ বাংলাদেশে না পাঠিয়ে গ্রিসেই দাফন করার জন্য তিনি দূতাবাসের কাছে লিখিত অনাপত্তিপত্র দেন। বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত বাজেট সাধারণত বৈধ নথিপত্রধারী কর্মীদের লাশ দেশে পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। বিদেশে দাফন করার জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ থাকে না। এছাড়া পরিচয় নিশ্চিত না হলে সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো দায়বদ্ধতাও নেই। কিন্তু কামরানের বিষয়টি ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে গ্রহণ করে দূতাবাস। একজন কর্মীর শেষ বিদায় যেন ধর্মীয় বিধানে হয়, সেই অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব উদ্যোগে দাফনের সব ব্যয়ভার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে তারা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৃত কামরান একজন ‘আনডকুমেন্টেড’ কর্মী হওয়া সত্ত্বেও মানবিক কারণে সরকার ও দূতাবাস বিষয়টি দেখভাল করছে। এথেন্স থেকে দূরবর্তী থেসালোনিকি অঞ্চলের কুমুটিনি এলাকায় মুসলিম কবরস্থানে লাশ দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি একদিকে যেমন ব্যয়বহুল, অন্যদিকে স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটির অনুমোদনেরও প্রয়োজনীয়তা ছিল। সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসছে ৭ মে লাশ দাফন করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল এক অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে বর্ধিত সমুদ্রসীমা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সমুদ্রের আওতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে ইরান। মানচিত্রে লাল রেখা দিয়ে চিহ্নিত এই নতুন এলাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের দীর্ঘ অংশজুড়ে বিস্তৃত। ইরানের দাবি করা ওই বর্ধিত অঞ্চলের মধ্যে আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরা ও খোরফাক্কান বন্দরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত ওই দুটি বন্দর বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকেই আমিরাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে এই বন্দর দুটি ব্যবহার করে আসছে দেশটি। বিশেষ করে ফুজাইরা বন্দর আমিরাতের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির এই বন্দর আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খনি থেকে সরাসরি বন্দরে অপরিশোধিত তেল আনা হয়। এর ফলে যুদ্ধের সময়ও বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ সচল রাখতে সক্ষম হয়েছিল আমিরাত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি এই দুটি বন্দরে প্রবেশের পথ সত্যিই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে তা কার্যত এই আরব দেশটির ওপর পূর্ণাঙ্গ নৌ-অবরোধের শামিল হবে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের পাহারায় দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই পারাপার ঠিক কখন হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। অন্যদিকে, ইরান কোনও জাহাজ পারাপারের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান মায়েরস্ক বলেছে, সোমবার মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ ‘অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পাহারায় পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে। সূত্র: রয়টার্স।
বরাবরের মতো এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে টিকিট কেনা যাবে। ৫ জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলবে। রেলওয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৩ মে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবারের জন্য ৪টি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে ঈদ উপলক্ষে কেনা টিকিট ফেরত (রিফান্ড) নেয়া হবে না। কোরবানির পশু পরিবহনের লক্ষ্যে ২২ ও ২৩ মে ঢাকা-জামালপুর পরিচালিত হবে দুইটি ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টিকিট কালোবাজারি রোধ এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ কিছু নিয়ম কার্যকর থাকবে: অনলাইনে কেনাকাটা: অগ্রিম ও ফেরত যাত্রার সব টিকিট কেবল অনলাইনে রেলওয়ের পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। টিকিট সীমা: একজন যাত্রী একবারই টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন এবং সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট নিতে পারবেন। স্ট্যান্ডিং টিকিট: যাত্রার দিন স্ট্যান্ডিং বা আসনবিহীন টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এটি মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ পর্যন্ত দেওয়া হবে। রিফান্ড: ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনা টিকিট ফেরত বা টাকা রিফান্ড করা যাবে না। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এবং কালোবাজারি রুখতে এনআইডি যাচাইয়ের মাধ্যমে টিকিট ইস্যু করা হচ্ছে। যাত্রীদের সঠিক তথ্য দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদযাত্রা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে কোনো ফাইল ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় বনানীর ঢাকা শেরাটন হোটেল-এ বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)-এর এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, অতীতে তিনি যখন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক-এর সঙ্গে কাজ করেছেন, তখন কোনো ফাইল ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে থাকত না। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বর্তমানেও তিনি সচিবকে একই নির্দেশনা দিয়েছেন। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অতিরিক্ত মনিটরিং করি, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করি, তাহলে তারা কাজ করতে পারবে না। আবার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া যাবে না, যাতে এগুলো ‘হলি আর্টিজান’-এর মতো জঙ্গি কারখানায় পরিণত হয়। অবশ্যই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকারকে আপনাদের কথা শুনতে হবে, সমস্যাগুলো শুনতে হবে এবং সেগুলোর সমাধান করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই ক্রস-বর্ডার এডুকেশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমরা দেখেছি, ৮০-এর দশকে যখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশে এসে পড়াশোনা করত। আর আজ আমরা সেখানে গিয়ে পড়াশোনা করছি। তারা ব্রেন ড্রেইন করেনি, বরং রিভার্স ব্রেন ড্রেইন করেছে। আপনাদের মতো ডিস্টিংগুইশড একাডেমিশিয়ানরা দেশে ফিরে এসে কাজ করতে চাচ্ছেন; আমি অবশ্যই আপনাদের সম্মান জানাই। কারণ আমরা যারা বাইরে যাই, তারা যেন দেশে ফিরে আসতে পারি; সেই জায়গা তৈরি করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ১৯৯২ সালে যে ধারণা থেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আইন করা হয়েছিল; সেই ধারণার ফল আমরা আজ পাচ্ছি। এটাকে পরিবর্তন বা সংশোধনের চেষ্টা হয়েছে ২০১০ সালে, আবার ২০২৫ সালেও আমরা দেখেছি; প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কীভাবে সরকারি প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসা যায়, সেই চেষ্টা হয়েছে। আমি সরাসরি বলছি, ক্রস-বর্ডার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চারটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি জানি না শিক্ষা মন্ত্রণালয় কীভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আমাদের বসে কথা বলতে হবে, জানতে হবে, বুঝতে হবে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী। এই খাত থেকেই আমরা সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। আমরা দেখেছি, নর্থ সাউথসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ড. মিলন আরও বলেন, আমাদের ভিসা সমস্যাও রয়েছে, এ বিষয়ে অনেকেই আমাকে জানিয়েছেন। আমরা একটি কমিটি গঠন করবো এবং ১৯৯২ সালের আইন পর্যালোচনা করবো। আধুনিক সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে এগোনো যায়, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমি বলি, ভালো মডেলগুলো অনুসরণ করতে হবে। যারা ভালো করেছে, তাদের কাছ থেকে শিখতে হবে। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তার সঙ্গে শিগগিরই টেলিফোনে আলাপ করবেন বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার তিনি এই তথ্য জানান। ম্যাক্রোঁ বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে আমি শিগগিরই তার সঙ্গে কথা বলবো। সংঘাত নিরসনে ফ্রান্সের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই ফ্রান্স একটি ধারাবাহিক অবস্থান বজায় রেখেছে। আমরা সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ, কূটনৈতিক আলোচনায় প্রত্যাবর্তন এবং অঞ্চলের সব দেশের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানাই। হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, একমাত্র সম্ভাব্য বিকল্প হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সেখানে কোনও ধরনের টোল বা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা না রাখা। ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার বিরোধিতা করে ম্যাক্রোঁ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ট্যাঙ্কার, কনটেইনার জাহাজ বা তৃতীয় কোনও দেশের বিরুদ্ধে যেকোনও একতরফা উত্তেজনা তৈরি করা একটি বড় ভুল। এটি কেবল যুদ্ধকেই উসকে দেয় এবং পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যায়। সূত্র: এপি
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল এক অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে বর্ধিত সমুদ্রসীমা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সমুদ্রের আওতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে ইরান। মানচিত্রে লাল রেখা দিয়ে চিহ্নিত এই নতুন এলাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের দীর্ঘ অংশজুড়ে বিস্তৃত। ইরানের দাবি করা ওই বর্ধিত অঞ্চলের মধ্যে আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরা ও খোরফাক্কান বন্দরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত ওই দুটি বন্দর বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকেই আমিরাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে এই বন্দর দুটি ব্যবহার করে আসছে দেশটি। বিশেষ করে ফুজাইরা বন্দর আমিরাতের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির এই বন্দর আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খনি থেকে সরাসরি বন্দরে অপরিশোধিত তেল আনা হয়। এর ফলে যুদ্ধের সময়ও বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ সচল রাখতে সক্ষম হয়েছিল আমিরাত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি এই দুটি বন্দরে প্রবেশের পথ সত্যিই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে তা কার্যত এই আরব দেশটির ওপর পূর্ণাঙ্গ নৌ-অবরোধের শামিল হবে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের পাহারায় দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই পারাপার ঠিক কখন হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। অন্যদিকে, ইরান কোনও জাহাজ পারাপারের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান মায়েরস্ক বলেছে, সোমবার মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ ‘অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পাহারায় পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে। সূত্র: রয়টার্স।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় ইরান থেকে ছোঁড়া একাধিক ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। একই সময়ে ফুজিরাহ বন্দরের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। তেল শোধনাগারে হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি স্থাপনায় কোনো ‘পরিকল্পিত’ হামলা চালানো হয়নি। বরং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তিনি ওই অঞ্চলে ‘মার্কিন সামরিক দুঃসাহসিকতাকে’ দায়ী করেছেন। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যদি হরমুজ প্রণালীতে কোনো মার্কিন নৌ-জাহাজের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে’। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বেশ কয়েকটি ইরানি ছোট নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। পুরো অঞ্চল যখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, তখন কিছুটা নমনীয় সুর শোনা গেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ঘটনাগুলো এটাই প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই’। তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে এবং তাতে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, গতরাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক অবকাঠামোতে চালানো মিসাইল ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। গতকাল সোমবার একাধিক ইরানি মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আরব আমিরাত। এসব হামলায় দেশটির একটি তেল বন্দরও আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (০৫) মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শরীফ বলেন, এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সেটির প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত জরুরি এছাড়া পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের একটি অংশ পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের নিউজডে প্রোগ্রামে বলেন, উভয় পক্ষের উচিত উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়িয়ে চলা এবং কূটনীতির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা। পাকিস্তান এখনো তথ্য আদান-প্রদান করছে এবং আস্থা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে জারদারি বলেন, তবে গতকালের হামলার মতো ঘটনাগুলো শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।