রাজধানীর কাফরুল থানাধীন যুবদল নেতাসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এই ঘটনায় অস্ত্রধারী একজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আহতরা হলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান ও বিএনপি কর্মী মো. ইউসুফ। শুক্রবার (২৪ জুন) রাত সাড়ে ১১ টায় কাফরুলের মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। কাফরুল থানার ডিউটি অফিসার ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে প্রাথমিকভাবে এর থেকে বেশি তথ্য জানাতে পারেননি তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১১টায় এলাকায় হাফিজুর ভাইসহ আমরা ৭-৮ জন আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ ৩ জন অস্ত্রধারী লোক আমাদের লক্ষ করে গুলি করে। হাফিজ ভাইয়ের ২ টি গুলি লাগে, আর আমাদের ইউসুফের বুকে একটি গুলি লেগেছে। গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে স্থানীয়রা ধরে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বড় এক ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান দল। পিঠের নিচের অংশে চোট পাওয়ায় এই সিরিজ তো বটেই, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকেও গেছেন টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান আবদুল্লাহ ফাজাল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন সেশনে এই চোট পান ফাজাল। সেখানেই শুক্রবার শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট। ফাজালের বদলি খেলোয়াড়ের প্রয়োজন হলে যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে পিসিবি। ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের টেস্ট অভিষেক হয় গত মে মাসে, বাংলাদেশের বিপক্ষে। অভিষেকে দুই ইনিংসেই ফিফটি (৬০ ও ৬৬) করে ম্যাচে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য কোনো ইনিংসেই তিনি দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিলেক্ট একাদশের বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রস্তুতি ম্যাচে দুই ইনিংসেই অপরাজিত ৫০ ও ৪৮ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। প্রথম টেস্টে তার একাদশে থাকা তাই একরকম নিশ্চিতই ছিল। ফাজালের অনুপস্থিতিতে মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান মুহাম্মাদ আওয়াইস জাফারের অভিষেকের পথ প্রশস্ত হলো। ফিটনেসজনিত সমস্যার কারণে দলে না থাকা সাউদ শাকিলের জায়গায় নেওয়া হয় জাফরকে। আজান আওয়াইস ও ফাজাল ওপেনিংয়ে থাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবশেষ টেস্টে খেলতে না পারা ইমাম-উল-হাক এখন, ওপেনার হিসেবে তার জায়গা ফিরে পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিসিবির বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি যে, অনুশীলনের সময় কীভাবে চোট পেয়েছেন ফাজাল। বলা হয়েছে, “এমআরআই স্ক্যান এবং মূল্যায়নের পর দলের মেডিকেল প্যানেল নিশ্চিত করেছে যে, আবদুল্লাহর পুনর্বাসনের প্রয়োজন। পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমের আশা, তাড়াতাড়ি সেরে উঠবেন ফাজাল। “আমি আবদুল্লাহর জন্য শুভকামনা জানাই এবং আশা করি, সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। তার প্রতিভা আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে। প্রথম সিরিজের পর সে খুব আত্মবিশ্বাসী ছিল এবং তার মনোবলও ছিল তুঙ্গে। চোটটি ফাজালের ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে তার নিজের জন্যও বড় ধাক্কা। বিশেষ করে বড় দলগুলোর বিপক্ষে দেশের বাইরের দুটি সিরিজে জাতীয় দলে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করার সুযোগ তার ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজে দুটি টেস্টের পর, অগাস্টে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড সফর করবে পাকিস্তান দল।
আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাসের মাথায় পদত্যাগ করেছেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন সাহাবুদ্দিন। তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। তবে নির্বাচিত সরকারের প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায় পদত্যাগ করলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ছিলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। মো. সাহাবুদ্দিনসহ ১৮ জন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছে, তাদের মধ্যে সাতজন বিদায় নিয়েছে পদত্যাগ করে। সবশেষ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অভ্যুত্থানের পক্ষের কয়েকটি সংগঠন তার পদত্যাগের দাবিতে তুমুল আন্দোলন শুরু করেছিল। তখন বিএনপি সাংবিধানিক সংকট তৈরির আশঙ্কা তুলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিরোধিতা করেছিল। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার আর সে পথে হাঁটেনি। মো. সাহাবুদ্দিনও পদত্যাগ করেননি। দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ারে থাকা সাহাবুদ্দিন নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।” অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে কোণঠাসা করে রাখা, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় ‘অপমানবোধ’ করার কথাও পরে বলেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল বলেও দাবি করেন মো. সাহাবুদ্দিন। যে কারণে পদত্যাগ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন–এমন গুঞ্জনের মধ্যে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সে সুযোগ তার আছে, তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো ‘পদক্ষেপ নেই’। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাতে হয়। এক্ষেত্রে স্পিকার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে স্বাস্থ্যগত কারণে বা যে কোনো কারণে, তার সে অপশন আছে। আমরা তো জানি না। শুক্রবার বিকালে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান। পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বলে দিছি, বুঝে নেন। বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেন তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন বলে জানান হাফিজ উদ্দিন। পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, “আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামে রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমন অবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছি। নব্বইয়ের পর বিএনপির আমলেই পদত্যাগ স্বাধীনতার পর থেকে ২২ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৮ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। এই পদে কয়েকজন একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। সবশেষ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন অষ্টাদশ ব্যক্তি। স্বাধীনতার পর অন্তত পাঁচজন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনা থাকলেও নব্বইয়ের পর বিএনপির শাসনামলে দল মনোনীত রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ঘটনা প্রথম ঘটে। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি হন এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী)। ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সাড়ে সাত মাসের মাথায় বঙ্গভবন ছাড়তে হল তাকে। বিএনপির সঙ্গে দলের অনাস্থার মুখে ২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তার পদত্যাগের দুই যুগ পরে এবারও বিএনপির আমলে আরেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করলেন। তবে এবারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ মনোনীত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। পতন ঘটে আওয়ামী সরকারের। সেই সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে মেয়াদপূর্তির দেড় বছরের বেশি সময় আগেই বঙ্গভবন ছাড়তে হল। আগে যারা পদত্যাগ করেছিলেন স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ২২ জন রাষ্ট্রপতি দেখেছে দেশ। মেয়াদ পূর্ণ করেছেন অনেকে, দ্বিতীয় মেয়াদেও ছিলেন কেউ। বিজয়ের বছর দুয়েক পর রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে কেউ বিশেষ দূত হয়েছিলেন, আবার সামরিক শাসনামলে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন কেউ। প্রধান সামরিক শাসক যত দিন চাইবেন ততদিন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, এমনও ছিলেন কেউ। নব্বইয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর দুই জন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। বদরুদ্দোজা চৌধুরী চৌধুরী ও মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রসঙ্গে সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, “বিএনপি সরকারের আমলে বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ঘটনা প্রথম ২০০২ সালে। এটার একটা প্রেক্ষাপট ছিল বিএনপির সঙ্গে মতপার্থক্য। আর এবার ২০২৬ সালের পদত্যাগের প্রেক্ষাপট ভিন্ন; কারণ এবার বিএনপির মতপার্থক্যের কারণে নয়, আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি হওয়ায়, এমন হল।” ভিন্ন দলের হওয়ায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনা এবারই প্রথম বলে তুলে ধরেন তিনি। সামরিক শাসনামলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রেক্ষাপট এই দুটির সঙ্গে মেলানো যাবে, বলেন সাবেক এই আমলা। জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। এইচএম এরশাদের আমলে ১৯৮২ সালে পদত্যাগ করেছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। সাবেক সচিব আউয়াল মজুমদার বলেন, “সামরিক শাসন আমলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনাগুলো, এগুলোর সাথে মিলবে না, এসব বিবেচনার নয়। বিশেষ করে সায়েম সাহেব, সাত্তার সাহেবকেও পদত্যাগ করতে হয়।” পরবর্তীতে বিচারপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ আহ্সানউদ্দিন চৌধুরীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটে একই আমলে, ১৯৮৩ সালে। আহ্সান সাহেবকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে, এটা ছিল আরও বিচিত্র, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির ছিল না। আহ্সানউদ্দিন চৌধুরীর অ্যাপয়েন্টমেন্টে লেখা ছিল, প্রধান সামরিক প্রশাসক যতদিন সন্তুষ্ট থাকবেন উনি ততদিন রাষ্টপতি থাকবেন। এটা বিষ্ময়কর,” বলেন সাবেক সচিব। স্বাধীনতা পরবর্তী প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি একই দিনে তিনজন শপথ নিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতি হিসেবে এবং আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি হিসেবে। আবু সাঈদ চৌধুরী তৃতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনিও পদত্যাগ করেছিলেন, পরে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বিশেষ দূত হিসেবে বিদেশে দায়িত্বও পালন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি ছিলেন যারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত): ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ আবু সাইদ চৌধুরী: ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ মোহাম্মদ উল্লাহ: ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ থেকে ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫ খন্দকার মোশতাক আহমেদ: ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম: ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ থেকে ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ জিয়াউর রহমান: ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে ৩০ মে ১৯৮১ আবদুস সাত্তার (ভারপ্রাপ্ত): ৩০ মে ১৯৮১ থেকে ২০ নভেম্বর ১৯৮১ আবদুস সাত্তার: ২০ নভেম্বর ১৯৮১ থেকে ২৪ মার্চ ১৯৮২ আবুল ফজল মোহাম্মদ আহ্সানউদ্দিন চৌধুরী: ২৭ মার্চ ১৯৮২ থেকে ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ: ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ শাহাবুদ্দিন আহমদ (অস্থায়ী): ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ থেকে ৯ অক্টোবর ১৯৯১ আবদুর রহমান বিশ্বাস: ৯ অক্টোবর ১৯৯১ থেকে ৯ অক্টোবর ১৯৯৬ শাহাবুদ্দিন আহমদ: ৯ অক্টোবর ১৯৯৬ থেকে ১৪ নভেম্বর ২০০১ একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী: ১৪ নভেম্বর ২০০১ থেকে ২১ জুন ২০০২ মো. জমির উদ্দিন সরকার (দায়িত্বপ্রাপ্ত): ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ জিল্লুর রহমান: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ থেকে ২০ মার্চ ২০১৩ মো. আবদুল হামিদ (ভারপ্রাপ্ত ও অস্থায়ী): ১৪ মার্চ ২০১৩ থেকে ২৪ এপ্রিল ২০১৩ মো. আবদুল হামিদ: ২৪ এপ্রিল ২০১৩ থেকে ২৪ এপ্রিল ২০২৩ মো. সাহাবুদ্দিন: ২৪ এপ্রিল ২০২৩ থেকে ২৪ জুলাই ২০২৬ পরবর্তী রাষ্টপতি নির্বাচন কীভাবে? রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আর ৪৮(১) অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। ফলে পছন্দের তালিকায় নাম থাকলেই কাউকে সরাসরি রাষ্ট্রপতি নিয়োগের সুযোগ নেই। তাকে প্রার্থী হতে হবে এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলটির সিদ্ধান্তই নির্ধারক হবে। সংসদ বিষয়ক গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হবে স্পিকারের কাছে এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত বা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হবেন স্পিকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদে পরোক্ষ ভোটে। সংসদ সদস্যরাই এই নির্বাচনে ভোট দেন। রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ভোটের ব্যবস্থা করবে। সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই সংসদের কক্ষে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। শূন্য হওয়াা ও নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী শূন্য পদে ৯০ দিনের মধ্যে আমাদের নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুয়ায়ী রাষ্ট্রপতির নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার থাকেন এ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার।” শুধু ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। আর বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও সমমনারা বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে। সেসময় সংসদে ভোটের আয়োজন করা হয়। সবশেষ ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়, বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে এর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন সরে দাঁড়ানোর পর কে হচ্ছেন বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা, দেশের রাজনীতিতে সেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কারো কারো নাম আলোচনায় এলেও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেছেন, এটি এখনো ধারণাগত জায়গায় আছে। তারা বলছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার ব্যাপারে দলে আলোচনা হবে; এরপর নির্বাচন হবে। সব মিলিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করাটা কোনো কোনো নেতা ‘অনেক সময়ের ব্যাপার’ মনে করছেন। আবার কোনো কোনো নেতা আভাস দিয়েছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে পারে সংবিধানের সংশোধনের পর, যেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ভারসাম্য আনার মতো প্রস্তাব রয়েছে। ২০২৩ সালে ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলেও বঙ্গভবনে থেকে যান সাহাবুদ্দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অভ্যুত্থানের পক্ষের কয়েকটি সংগঠনের তুমুল আন্দোলন করলেও তিনি পদত্যাগ করেননি। রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা হলে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে, এমন যুক্তিতে বিরোধিতা করেছিল বিএনপি। ফলে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও আর সে পথে হাঁটেনি। শেখ হাসিনার সবশেষ সরকার, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের শপথ হয় সাহাবুদ্দিনের হাতেই। এর মধ্যে বুধবার গুঞ্জন ওঠে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। এর দুই দিন পর শুক্রবার ‘শারীরিক ও মানসিক’ সক্ষমতা না থাকার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। তার পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনিই রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব সামলাবেন। সংবিধান অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন করতে হবে। এটি সর্বোচ্চ সময়সীমা; তার আগে যেকোনো সময় নির্বাচন হতে পারে। তবে শিগগিরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না দলের একাধিক নেতা। তাদের মতে, বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিষয়টি না তোলা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে যেদিনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হোক, যেদিনই নাম ঘোষণা হোক, সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, সেই আলোচনা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরেই শুরু হয়। সাহাবুদ্দিনের সরে দাঁড়ানোয় সেই আলোচনা আরো জোরালো হল। ২৩তম রাষ্ট্রপতির আলোচনায় কারা আছেন, সেই ধারণা দিতে গিয়ে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মোটা দাগে ছয়জনের নাম বলেছেন। এ তালিকায় আছেন— স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান ও ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী। অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আছে। এর মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায় থাকার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের একজন নেতা। এদের বাইরে যাদের নাম আছে, তাদের কথা এসেছে দলের স্থায়ী কমিটির অন্তত তিনজন সদস্যের মুখ থেকে। অবশ্য দলের কোনো কোনো নেতা বলেছেন, পত্রপত্রিকায় অনেকের নাম আলোচনায় এলেও সবই ধারণাপ্রসূত; এখনো কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। এ বিষয়ে দলের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী তো স্পিকার ইতোমধ্যে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন। এরপর পার্টির সিদ্ধান্ত হবে, নির্বাচন হবে; অনেক সময়ের ব্যাপার আছে।” সরকার কাউকে চিন্তা করছে কিনা, এমন প্রশ্ন করা হয় বিএনপির মহাসচিবকে। জবাবে তিনি বলেন, “এটা তো আমি বলতে পারি না, আমি কোনো নাম জানি না।” একই প্রশ্নে একই ধরনের জবাব আসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছ থেকেও, যিনি দলটির স্থায়ী কমিটিতেও আছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এটা সত্যিকারার্থে জানা নেই। সবকিছু দেখছি, মিডিয়াতে যা আসছে।” বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই।” সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়েছে ১৫ জুলাই। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের এক অধিবেশন সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের বেশি বিরতি দেওয়া যাবে না। সে হিসেবে সেপ্টেম্বরে পরবর্তী অধিবেশন বসবে। ক্ষমতাসীন দল সেপ্টেম্বরে অষ্টাদশ সংশোধনী সংসদে তুলতে পারে আভাস দিয়ে বিএনপির ওই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে যে কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে, সেই কমিটির মাধ্যমে সংশোধনীর কার্যক্রম সামনে আসবে। সেই সংশোধনীতে জুলাই সনদের অনেক বিষয় যুক্ত হবে। তার ভাষ্য, সেই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার বিষয়ে কিছু প্রস্তাব আছে। “বিএনপির তরফেও একই ধরনের প্রস্তাব আছে। ফলে ওই সংশোধনীর আগে সম্ভবত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে না।” বুধবার বিকালে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হয়। সেই পোস্টে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও তুলে ধরেন। তবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “যে সচিবের নাম এসেছে, তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।” সরকারের সঙ্গে যুক্ত, আবার দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পরিষদেও আছেন, এমন একজন নেতা বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের নাম আছে রাষ্ট্রপতির আলোচনায়। রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে ধারণা নেই দাবি করে একজন মন্ত্রী বলেছেন, “বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ দুজন মন্ত্রীর কেবল জানার সুযোগ আছে। এর বাইরে বিষয়টি এখনো আসেনি।” এর আগে বিএনপির সংসদীয় দলের অনাস্থার মুখে ২০০২ সালের ২১ জুন পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তখনকার স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার ওই দিন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে কার্যভার নিয়েছিলেন। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। ফলে কোনো দল উত্তরসূরি হিসেবে কারও নাম ঠিক করলেই তিনি রাষ্ট্রপতি হয়ে যাবেন না। তাকে প্রার্থী হতে হবে এবং আইন অনুযায়ী নির্বাচিত হতে হবে। সংবিধানের ১১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে এই নির্বাচন পরিচালনা করেন। নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করবে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ঘোষণা করবে নির্বাচনের তফসিল। বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোট নেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হয় প্রকাশ্যে, গোপনে নয়। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি ভোট থাকে।
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন সরে দাঁড়ানোর পর কে হচ্ছেন বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা, দেশের রাজনীতিতে সেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কারো কারো নাম আলোচনায় এলেও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেছেন, এটি এখনো ধারণাগত জায়গায় আছে। তারা বলছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার ব্যাপারে দলে আলোচনা হবে; এরপর নির্বাচন হবে। সব মিলিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করাটা কোনো কোনো নেতা ‘অনেক সময়ের ব্যাপার’ মনে করছেন। আবার কোনো কোনো নেতা আভাস দিয়েছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে পারে সংবিধানের সংশোধনের পর, যেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ভারসাম্য আনার মতো প্রস্তাব রয়েছে। ২০২৩ সালে ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলেও বঙ্গভবনে থেকে যান সাহাবুদ্দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অভ্যুত্থানের পক্ষের কয়েকটি সংগঠনের তুমুল আন্দোলন করলেও তিনি পদত্যাগ করেননি। রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা হলে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে, এমন যুক্তিতে বিরোধিতা করেছিল বিএনপি। ফলে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও আর সে পথে হাঁটেনি। শেখ হাসিনার সবশেষ সরকার, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের শপথ হয় সাহাবুদ্দিনের হাতেই। এর মধ্যে বুধবার গুঞ্জন ওঠে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। এর দুই দিন পর শুক্রবার ‘শারীরিক ও মানসিক’ সক্ষমতা না থাকার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। তার পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনিই রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব সামলাবেন। সংবিধান অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন করতে হবে। এটি সর্বোচ্চ সময়সীমা; তার আগে যেকোনো সময় নির্বাচন হতে পারে। তবে শিগগিরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না দলের একাধিক নেতা। তাদের মতে, বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিষয়টি না তোলা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে যেদিনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হোক, যেদিনই নাম ঘোষণা হোক, সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, সেই আলোচনা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরেই শুরু হয়। সাহাবুদ্দিনের সরে দাঁড়ানোয় সেই আলোচনা আরো জোরালো হল। ২৩তম রাষ্ট্রপতির আলোচনায় কারা আছেন, সেই ধারণা দিতে গিয়ে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মোটা দাগে ছয়জনের নাম বলেছেন। এ তালিকায় আছেন— স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান ও ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী। অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আছে। এর মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায় থাকার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের একজন নেতা। এদের বাইরে যাদের নাম আছে, তাদের কথা এসেছে দলের স্থায়ী কমিটির অন্তত তিনজন সদস্যের মুখ থেকে। অবশ্য দলের কোনো কোনো নেতা বলেছেন, পত্রপত্রিকায় অনেকের নাম আলোচনায় এলেও সবই ধারণাপ্রসূত; এখনো কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। এ বিষয়ে দলের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী তো স্পিকার ইতোমধ্যে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন। এরপর পার্টির সিদ্ধান্ত হবে, নির্বাচন হবে; অনেক সময়ের ব্যাপার আছে।” সরকার কাউকে চিন্তা করছে কিনা, এমন প্রশ্ন করা হয় বিএনপির মহাসচিবকে। জবাবে তিনি বলেন, “এটা তো আমি বলতে পারি না, আমি কোনো নাম জানি না।” একই প্রশ্নে একই ধরনের জবাব আসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছ থেকেও, যিনি দলটির স্থায়ী কমিটিতেও আছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এটা সত্যিকারার্থে জানা নেই। সবকিছু দেখছি, মিডিয়াতে যা আসছে।” বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই।” সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়েছে ১৫ জুলাই। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের এক অধিবেশন সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের বেশি বিরতি দেওয়া যাবে না। সে হিসেবে সেপ্টেম্বরে পরবর্তী অধিবেশন বসবে। ক্ষমতাসীন দল সেপ্টেম্বরে অষ্টাদশ সংশোধনী সংসদে তুলতে পারে আভাস দিয়ে বিএনপির ওই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে যে কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে, সেই কমিটির মাধ্যমে সংশোধনীর কার্যক্রম সামনে আসবে। সেই সংশোধনীতে জুলাই সনদের অনেক বিষয় যুক্ত হবে। তার ভাষ্য, সেই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার বিষয়ে কিছু প্রস্তাব আছে। “বিএনপির তরফেও একই ধরনের প্রস্তাব আছে। ফলে ওই সংশোধনীর আগে সম্ভবত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে না।” বুধবার বিকালে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হয়। সেই পোস্টে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও তুলে ধরেন। তবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “যে সচিবের নাম এসেছে, তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।” সরকারের সঙ্গে যুক্ত, আবার দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পরিষদেও আছেন, এমন একজন নেতা বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের নাম আছে রাষ্ট্রপতির আলোচনায়। রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে ধারণা নেই দাবি করে একজন মন্ত্রী বলেছেন, “বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ দুজন মন্ত্রীর কেবল জানার সুযোগ আছে। এর বাইরে বিষয়টি এখনো আসেনি।” এর আগে বিএনপির সংসদীয় দলের অনাস্থার মুখে ২০০২ সালের ২১ জুন পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তখনকার স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার ওই দিন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে কার্যভার নিয়েছিলেন। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। ফলে কোনো দল উত্তরসূরি হিসেবে কারও নাম ঠিক করলেই তিনি রাষ্ট্রপতি হয়ে যাবেন না। তাকে প্রার্থী হতে হবে এবং আইন অনুযায়ী নির্বাচিত হতে হবে। সংবিধানের ১১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে এই নির্বাচন পরিচালনা করেন। নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করবে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ঘোষণা করবে নির্বাচনের তফসিল। বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোট নেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হয় প্রকাশ্যে, গোপনে নয়। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি ভোট থাকে।
জরুরি উন্নয়ন কাজের জন্য টানা ৯ ঘণ্টা গাজীপুরের বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না শনিবার (২৫ জুলাই)। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কাশিমপুর জোনাল অফিস। এতে বলা হয়, গাজীপুরের নরসিংহপুর রোডের সুরাবাড়ী উপকেন্দ্র থেকে দত্ত মার্কেট, ছায়াতল মার্কেট, সুরাবাড়ী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, রাইচমিল হয়ে মিছারবাগ বটতলা পর্যন্ত ১১কেভি ফিডারটি অনেক বড় এবং লোড বেশি হওয়ায় ফিডারটি ছোট করতে এবং লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে আরও দুটি ফিডার নির্মাণ করা হবে। ফলে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ৯ ঘণ্টা গাজীপুরের বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। এলাকাগুলো হলো, কাশিমপুর, সুরাবাড়ি, বাগবাড়ী, শরপাইতলী, ছায়াতল মার্কেট, দত্ত মার্কেট, রাইচমিলের আশপাশের এলাকা, মিছারবাগ বটতলার আশপাশের এলাকা, মাদ্রাসা বাজারের আশপাশের এলাকা, শাকিল সিনথিয়া রোড, মনটেক্স এর আশপাশের এলাকা, লালদিঘি, কবরস্থান এলাকা, বারেন্ডা (আংশিক), রফিকুল ইসলাম স্কুলের আশপাশের এলাকা, খানকা শরিফের আশপাশের এলাকা, রওশন মার্কেট এলাকা, হাকের নাল ও নয়াপাড়ার আংশিক এলাকা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হবে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছে কাশিমপুর জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর কাফরুল থানাধীন যুবদল নেতাসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এই ঘটনায় অস্ত্রধারী একজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আহতরা হলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান ও বিএনপি কর্মী মো. ইউসুফ। শুক্রবার (২৪ জুন) রাত সাড়ে ১১ টায় কাফরুলের মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। কাফরুল থানার ডিউটি অফিসার ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে প্রাথমিকভাবে এর থেকে বেশি তথ্য জানাতে পারেননি তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১১টায় এলাকায় হাফিজুর ভাইসহ আমরা ৭-৮ জন আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ ৩ জন অস্ত্রধারী লোক আমাদের লক্ষ করে গুলি করে। হাফিজ ভাইয়ের ২ টি গুলি লাগে, আর আমাদের ইউসুফের বুকে একটি গুলি লেগেছে। গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে স্থানীয়রা ধরে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাসের মাথায় পদত্যাগ করেছেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন সাহাবুদ্দিন। তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। তবে নির্বাচিত সরকারের প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায় পদত্যাগ করলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ছিলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। মো. সাহাবুদ্দিনসহ ১৮ জন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছে, তাদের মধ্যে সাতজন বিদায় নিয়েছে পদত্যাগ করে। সবশেষ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অভ্যুত্থানের পক্ষের কয়েকটি সংগঠন তার পদত্যাগের দাবিতে তুমুল আন্দোলন শুরু করেছিল। তখন বিএনপি সাংবিধানিক সংকট তৈরির আশঙ্কা তুলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিরোধিতা করেছিল। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার আর সে পথে হাঁটেনি। মো. সাহাবুদ্দিনও পদত্যাগ করেননি। দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ারে থাকা সাহাবুদ্দিন নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।” অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে কোণঠাসা করে রাখা, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় ‘অপমানবোধ’ করার কথাও পরে বলেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল বলেও দাবি করেন মো. সাহাবুদ্দিন। যে কারণে পদত্যাগ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন–এমন গুঞ্জনের মধ্যে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সে সুযোগ তার আছে, তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো ‘পদক্ষেপ নেই’। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাতে হয়। এক্ষেত্রে স্পিকার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে স্বাস্থ্যগত কারণে বা যে কোনো কারণে, তার সে অপশন আছে। আমরা তো জানি না। শুক্রবার বিকালে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান। পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বলে দিছি, বুঝে নেন। বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেন তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন বলে জানান হাফিজ উদ্দিন। পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, “আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামে রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমন অবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছি। নব্বইয়ের পর বিএনপির আমলেই পদত্যাগ স্বাধীনতার পর থেকে ২২ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৮ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। এই পদে কয়েকজন একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। সবশেষ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন অষ্টাদশ ব্যক্তি। স্বাধীনতার পর অন্তত পাঁচজন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনা থাকলেও নব্বইয়ের পর বিএনপির শাসনামলে দল মনোনীত রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ঘটনা প্রথম ঘটে। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি হন এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী)। ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সাড়ে সাত মাসের মাথায় বঙ্গভবন ছাড়তে হল তাকে। বিএনপির সঙ্গে দলের অনাস্থার মুখে ২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তার পদত্যাগের দুই যুগ পরে এবারও বিএনপির আমলে আরেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করলেন। তবে এবারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ মনোনীত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। পতন ঘটে আওয়ামী সরকারের। সেই সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে মেয়াদপূর্তির দেড় বছরের বেশি সময় আগেই বঙ্গভবন ছাড়তে হল। আগে যারা পদত্যাগ করেছিলেন স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ২২ জন রাষ্ট্রপতি দেখেছে দেশ। মেয়াদ পূর্ণ করেছেন অনেকে, দ্বিতীয় মেয়াদেও ছিলেন কেউ। বিজয়ের বছর দুয়েক পর রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে কেউ বিশেষ দূত হয়েছিলেন, আবার সামরিক শাসনামলে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন কেউ। প্রধান সামরিক শাসক যত দিন চাইবেন ততদিন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, এমনও ছিলেন কেউ। নব্বইয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর দুই জন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। বদরুদ্দোজা চৌধুরী চৌধুরী ও মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রসঙ্গে সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, “বিএনপি সরকারের আমলে বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ঘটনা প্রথম ২০০২ সালে। এটার একটা প্রেক্ষাপট ছিল বিএনপির সঙ্গে মতপার্থক্য। আর এবার ২০২৬ সালের পদত্যাগের প্রেক্ষাপট ভিন্ন; কারণ এবার বিএনপির মতপার্থক্যের কারণে নয়, আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি হওয়ায়, এমন হল।” ভিন্ন দলের হওয়ায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনা এবারই প্রথম বলে তুলে ধরেন তিনি। সামরিক শাসনামলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রেক্ষাপট এই দুটির সঙ্গে মেলানো যাবে, বলেন সাবেক এই আমলা। জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। এইচএম এরশাদের আমলে ১৯৮২ সালে পদত্যাগ করেছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। সাবেক সচিব আউয়াল মজুমদার বলেন, “সামরিক শাসন আমলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনাগুলো, এগুলোর সাথে মিলবে না, এসব বিবেচনার নয়। বিশেষ করে সায়েম সাহেব, সাত্তার সাহেবকেও পদত্যাগ করতে হয়।” পরবর্তীতে বিচারপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ আহ্সানউদ্দিন চৌধুরীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটে একই আমলে, ১৯৮৩ সালে। আহ্সান সাহেবকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে, এটা ছিল আরও বিচিত্র, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির ছিল না। আহ্সানউদ্দিন চৌধুরীর অ্যাপয়েন্টমেন্টে লেখা ছিল, প্রধান সামরিক প্রশাসক যতদিন সন্তুষ্ট থাকবেন উনি ততদিন রাষ্টপতি থাকবেন। এটা বিষ্ময়কর,” বলেন সাবেক সচিব। স্বাধীনতা পরবর্তী প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি একই দিনে তিনজন শপথ নিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতি হিসেবে এবং আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি হিসেবে। আবু সাঈদ চৌধুরী তৃতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনিও পদত্যাগ করেছিলেন, পরে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বিশেষ দূত হিসেবে বিদেশে দায়িত্বও পালন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি ছিলেন যারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত): ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ আবু সাইদ চৌধুরী: ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ মোহাম্মদ উল্লাহ: ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ থেকে ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫ খন্দকার মোশতাক আহমেদ: ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম: ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ থেকে ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ জিয়াউর রহমান: ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে ৩০ মে ১৯৮১ আবদুস সাত্তার (ভারপ্রাপ্ত): ৩০ মে ১৯৮১ থেকে ২০ নভেম্বর ১৯৮১ আবদুস সাত্তার: ২০ নভেম্বর ১৯৮১ থেকে ২৪ মার্চ ১৯৮২ আবুল ফজল মোহাম্মদ আহ্সানউদ্দিন চৌধুরী: ২৭ মার্চ ১৯৮২ থেকে ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ: ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ শাহাবুদ্দিন আহমদ (অস্থায়ী): ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ থেকে ৯ অক্টোবর ১৯৯১ আবদুর রহমান বিশ্বাস: ৯ অক্টোবর ১৯৯১ থেকে ৯ অক্টোবর ১৯৯৬ শাহাবুদ্দিন আহমদ: ৯ অক্টোবর ১৯৯৬ থেকে ১৪ নভেম্বর ২০০১ একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী: ১৪ নভেম্বর ২০০১ থেকে ২১ জুন ২০০২ মো. জমির উদ্দিন সরকার (দায়িত্বপ্রাপ্ত): ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ জিল্লুর রহমান: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ থেকে ২০ মার্চ ২০১৩ মো. আবদুল হামিদ (ভারপ্রাপ্ত ও অস্থায়ী): ১৪ মার্চ ২০১৩ থেকে ২৪ এপ্রিল ২০১৩ মো. আবদুল হামিদ: ২৪ এপ্রিল ২০১৩ থেকে ২৪ এপ্রিল ২০২৩ মো. সাহাবুদ্দিন: ২৪ এপ্রিল ২০২৩ থেকে ২৪ জুলাই ২০২৬ পরবর্তী রাষ্টপতি নির্বাচন কীভাবে? রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আর ৪৮(১) অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। ফলে পছন্দের তালিকায় নাম থাকলেই কাউকে সরাসরি রাষ্ট্রপতি নিয়োগের সুযোগ নেই। তাকে প্রার্থী হতে হবে এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলটির সিদ্ধান্তই নির্ধারক হবে। সংসদ বিষয়ক গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হবে স্পিকারের কাছে এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত বা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হবেন স্পিকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদে পরোক্ষ ভোটে। সংসদ সদস্যরাই এই নির্বাচনে ভোট দেন। রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ভোটের ব্যবস্থা করবে। সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই সংসদের কক্ষে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। শূন্য হওয়াা ও নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী শূন্য পদে ৯০ দিনের মধ্যে আমাদের নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুয়ায়ী রাষ্ট্রপতির নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার থাকেন এ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার।” শুধু ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। আর বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও সমমনারা বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে। সেসময় সংসদে ভোটের আয়োজন করা হয়। সবশেষ ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়, বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে এর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ভারতের হিমাচলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রদেশটির লাহৌল-স্পিতি জেলায় ভূমিধসে একটি যাত্রীবাহী টাটা সুমো গাড়ি পাথর ও মাটির নিচে চাপা পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার লাহৌল-স্পিতির উদয়পুর-কিলার সড়কের কাহু-দু নালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়িটি কুল্লু থেকে পাঙ্গির উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে হঠাৎ পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে এবং বড় বড় পাথর গাড়ির ওপর আছড়ে পড়লে সেটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে গাড়িচালক বীর সিংও রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে টিন্ডি থানা পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজন আহত যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। এর আগে পৃথক একটি ভূমিধসের কারণে বৃহস্পতিবার উদয়পুর-কিলার সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে গাড়ির যাত্রীরা টিন্ডিতে অবস্থান করতে বাধ্য হন। শুক্রবার সড়ক চালু হওয়ার পর তারা আবার যাত্রা শুরু করলে পথেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রশাসন উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
চীনের উদ্যোগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে স্থগিত হয়ে যাওয়া সমঝোতা চুক্তি ও আলোচনাকে পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে পাকিস্তান। দেশটির তিনটি সূত্র আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ আলোচনা চলছে। সূত্রগুলোর দাবি, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তান সফররত ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে ইসলামাবাদে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি ছিল তার দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। পাকিস্তান সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোমেনি সফরে পাকিস্তানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে তিনটি সূত্রই সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর পথে এখনো বড় ধরনের বাধা রয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জটিল অবস্থায় পড়েছে। চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। অথচ সৌদি আরব পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং গত বছর দুই দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান ইতোমধ্যে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় অবস্থান নিলে রিয়াদের অসন্তোষের ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান চীনের অর্থনৈতিক সহায়তার ওপরও ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলো সচল রাখতে কূটনৈতিক সমাধানে বেইজিংয়েরও বড় স্বার্থ রয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত সপ্তাহে চীন সফরের সময় দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন। পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, চীন অসন্তুষ্ট, কারণ ইরানের হামলা ও হরমুজ প্রণালির কার্যত অচলাবস্থা তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত করছে। তিনি আরও বলেন, লোহিত সাগরে অস্থিরতা বাড়লে চীনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা কোনো মন্তব্য করেনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানসহ অন্যান্য পক্ষের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে। বেইজিং ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটির প্রধান তেল ক্রেতা। একই সঙ্গে বিভিন্ন দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি, চিপ সরঞ্জাম ও স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের নিরাপত্তা সক্ষমতায়ও চীনের সহায়তা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকেই চীন বিশেষ দূতের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিল। স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করে এবং সংঘাত আবারও শুরু হয়। এদিকে হুতিরা বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে। এতে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরেও জ্বালানি সরবরাহে নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ হওয়াই এখন নতুন আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত। পাকিস্তান এই বার্তাই ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে পাঁচজন ইরানি বিচারকের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে তথ্য দমন ও সরকারি দমন-পীড়নে সহায়তার অভিযোগে একটি সাইবার গ্রুপের শীর্ষ ব্যক্তিকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের। শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিল জানায়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে আশিয়ানে সাইবার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নিমা সালেহিকে। ইইউর দাবি, তার নেতৃত্বাধীন গ্রুপটি ইরানের সাইবার পুলিশ এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া পাঁচ বিচারকের নাম প্রকাশ করেনি ইইউ। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ইরানি বিচারকদের বিরুদ্ধে আজ নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, তেহরান যখন অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন আরও জোরদার করছে, তখন দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ইইউ তার পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে মোট ২৬৯ জন ব্যক্তি এবং ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ভারতের নিট-ইউজি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল ও অনিয়মের দায়ে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করানো বা বরখাস্তের দাবিতে মোদী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির হুঁশিয়ারি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ২০ জুলাইয়ের আন্দোলনের চেয়েও বড় পরিসরে দেশব্যাপী কর্মসূচি দেওয়া হবে। শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে সিজেপির নেতারা এ ঘোষণা দেন। সরকারের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। অন্যদিকে সিজেপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠক শেষে সিজেপি জানায়, তারা সরকারের কাছে লিখিতভাবে তিনটি প্রধান দাবি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কারের লক্ষ্যে পাঁচ দফা এজেন্ডা তুলে ধরেছে। প্রধান দাবিগুলো হলো—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে অপসারণ, প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করে ভবিষ্যতে নতুন মামলা না করার নিশ্চয়তা। সিজেপির দাবি, সরকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে কেন্দ্র। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠক শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আন্দোলনকারী সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবি পূরণ না হলে শিক্ষা সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচ দফা এজেন্ডা নিয়ে আর কোনো আলোচনা এগোবে না। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে।
সৌদি আরবের রাজ পরিবারের সদস্য ও যুবরাজ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুলআজিজ বিন জালাই আল সৌদকে গত বছর লন্ডনের একটি বিলাশবহুল ফ্লাট থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মাত্র ২৯ বছর বয়সী এ যুবরাজের মৃত্যু ওই সময় অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। অবশেষে দীর্ঘ তদন্তের পর জানা গেছে মদ্যপান ও নেশাদ্রব্য সেবনের কারণে হার্ট অ্যাটাকে এই যুবরাজের মৃত্যু হয়েছে। তাকে ফ্লাটের বাথরুম থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ জানিয়েছে, করনার অফিস যুবরাজের মৃত্যুর কারণটি নিশ্চিত করেছে। ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের ম্যারিয়ট হোটেল কেনসিংটোন থেকে আব্দুল্লাহ বিন ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হোটেলের এক ক্লিনার তার ৬০০ পাউন্ডের স্যুইট রুমে গিয়ে দেখেন রুমটি লক করা। এরপর হোটেলের কর্মীরা দ্রুত সময়ে ইমার্জেন্সি সার্ভিসকে খবর দেন। কিন্তু এর মধ্যেই অনেক দেরি হয়ে যায়। প্যারামেডিকরা এসে যুবরাজকে আর বাঁচাতে পারেননি। করনার অফিস যুবরাজের মৃত্যুকে একটি দুর্ঘটনাজনক মৃত্যু হিসেবে অভিহিত করেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে এ যুবরাজ মদপান করেছিলেন। এরপর তার হার্টঅ্যাটাক হয়। এরসঙ্গে তিনি অন্য আরও নেশাদ্রব্য সেবন করেন। এতে তার শরীরে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম টক্সিকোলজি পাওয়া যায়। পরীক্ষায় আরও দেখা গেছে তার শরীরে কোনো রোগ ছিল না। কিন্তু অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে তার হার্ট বন্ধ হয়ে যায় এবং এতে তার মৃত্যু হয়। সূত্র: স্কাই নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।