জাতীয় ঐক্যের এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুরা শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে একত্রিত হয়। 'শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করি” এই বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (MoLE), চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন প্ল্যাটফর্ম (CLEP) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আরিফুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. আব্দুর রহমান তারফদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএলও বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব ম্যাক্স টুনন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে শিশুশ্রম পরিস্থিতির একটি সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করা হয়, যেখানে এ খাতে দেশের অর্জনের পাশাপাশি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে শিশুরা শিশু অধিকারবিষয়ক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে এবং দুইজন শিশু প্রতিনিধি তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা উপস্থিত সকলকে শিশুশ্রম নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। নিজ বক্তব্যে এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল হামিদ শিশুশ্রম নিরসনে খাতভিত্তিক (Sector-based) পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে সিএলইপি-এর যৌথ উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন। মাননীয় মন্ত্রী অংশগ্রহণকারীদের আশ্বস্ত করেন যে, শিশুশ্রম নিরসনে সরকার আরও পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, “সচেতনতার অভাবও শিশুশ্রমের অন্যতম কারণ। তাই আমাদের তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব, যা বাংলাদেশ থেকে শিশুশ্রম দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আরও ব্যক্ত করেন যে, অধিকতর কার্যকর প্রভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনায় সবসময় উন্মুক্ত। অন্যদিকে, বিশেষ অতিথি, আইএলও বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব ম্যাক্স টুনন শিশুশ্রম নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এরপর, “বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ ও সবার যৌথ দায়িত্ব” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় সরকার, নিয়োগকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং আইএলও-এর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় শিশুশ্রম নিরসনে বাস্তবসম্মত সমাধান এবং অংশীজনদের যৌথ দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে সকল অংশীজন অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যাতে বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু নিরাপদ শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা এবং নিজেদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিতভাবে লাভ করতে পারে।
বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকায় রাজিয়া বেগম (৩৭) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী বেলাল সরদারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যায় পৌরসভার নাগেরবাজার এলাকার সিরাজ উদ্দিন শাহিনের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন দম্পতি। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহের জেরে বেলাল সরদার বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে মারধর করতেন। রবিবার সন্ধ্যায় দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি রাজিয়াকে মারধরের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে। নিহতের ভাই রিপন জানান, বেলাল দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়া ও তাস খেলায় আসক্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি রাজিয়ার কাছে বাবার বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বারবার জুয়া না খেলার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে বিবাহিত এবং ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরিফিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, সাম্প্রতিক সামরিক হামলা মোকাবিলা করার পর ইরানের মধ্যে ‘নতুন ধরনের শক্তির অনুভূতি’ তৈরি হয়েছে। এমএস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন কেরি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন আলোচকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। খবর আল জাজিরার। তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যে সামরিক হামলা হয়েছে, তা মোকাবিলা করতে পারায় ইরানের মধ্যে নতুন এক ধরনের শক্তির অনুভূতি তৈরি হয়েছে।’ কেরি আরও বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ কৌশল খুব ভালোভাবে বোঝে এবং বিশ্বের যেকোনো দেশের মতোই দক্ষতার সঙ্গে তা ব্যবহার করতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহেও আমরা সেটিই দেখেছি। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা কেরি। তিনি ২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির প্রধান আলোচকও ছিলেন। বর্তমানে ওই চুক্তি প্রায় অকার্যকর।
কেবল সংরক্ষণের অভাবে রাঙামাটিতে প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকার আম। পাকা আম দ্রুত পচে যায়; কিন্তু রাঙামাটিতে দুর্গমতার কারণে সঠিক সময়ে পরিবহণ ও বাজারজাত সম্ভব হয় না। সংরক্ষণের জন্য জেলায় কোথাও নেই হিমাগার, গড়ে ওঠেনি কৃষিজাত খাদ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা। ফলে প্রতি বছর আমসহ রাঙামাটিতে উৎপাদিত বিপুল ফলমূল পচে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্রগুলোর তথ্যমতে, মৌসুমি ফল উৎপাদনে দেশের পার্বত্য অঞ্চলের পরিচিতি দীর্ঘদিনের। তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে কাঁঠাল, লিচু ও আনারসের পাশাপাশি এখন বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে আমের উৎপাদন। চলতি মৌসুমে রাঙামাটি জেলায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা ৪০ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে; কিন্তু অধিক ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের কপালে ভাঁজ। বিশেষ করে জেলার কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পরিবহণ ও বাজারজাতের সংকটে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না স্থানীয় বাগান মালিক ও কৃষকরা। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফলমূল সংরক্ষণের জন্য জেলায় কোথাও গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় হিমাগার ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা। ফলে প্রতি মৌসুমে জেলায় উৎপাদিত কয়েকশ কোটি টাকার আম নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় সঠিক সময়ে পরিবহণ করতে না পারায় বাগানেই বিপুল পরিমাণ আম পচে নষ্ট হয়ে যায়, যা স্থানীয় চাষিদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ। মৌসুমে ভালো ফলন হলেও সংরক্ষণের অভাবে বাগান মালিকরা ন্যায্য দাম পান না। অথচ অধিক ফলনে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত আম বিদেশেও রফতানি শুরু হয়েছে। ঢাকায় চলতি মৌসুমে পাহাড়ের ফলমূল নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে ফলের মেলা। রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হাজার টন। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ইতোমধ্যে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরের মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়েছিল ৩৮ হাজার ২৮৫ টন। ফলন বেশি হওয়ায় রাঙামাটিতে বিদেশি জাতের আম আবাদে ঝুঁকছেন স্থানীয়রা। কমছে দেশি জাতের আমের আবাদ। বর্তমানে রাঙামাটিতে রাংগুয়াই (মিয়ানমারের জাত), আম্রপালি (ভারতের জাত), বারি-৪, মিয়াজাকি বা সূর্যডিম, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ব্রুনাই কিং ও কাটিমনের মতো বিশ্বখ্যাত ও দামি বিদেশি জাতের আমের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে উঠছে। তবে দেশি জাতের মধ্যে হাড়িভাঙা আমের আবাদও যথেষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে সুস্বাদু আম্রপালি বাজারের শেষভাগে আসায় এর চাহিদা ও কদর সবচেয়ে বেশি বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা। জেলা সদরের বনরুপা সমতাঘাটে গিয়ে দেখা যায়, আমের দাম কম। উৎপাদন বেশি হলেও পরিবহণ সংকট ও সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারায় এ বছর আমের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে জানান বাগান মালিকরা। বর্তমানে স্থানীয় হাটে খুচরা দামে রাংগুয়াই আম ১০০ টাকায় ৪-৫ কেজি পাওয়া যাচ্ছে। আর আম্রপালি পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায় ২-৩ কেজি। পাইকারি দাম আরও অনেক কম। তবে ব্যানানা ও সূর্যডিম জাতের আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০-১৫০ টাকায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাঙামাটির অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) অরুণ চন্দ্র রায় জানান, পাহাড়ে সাধারণত আম চাষে কেমিক্যাল বা হরমোনের ব্যবহার খুবই সীমিত। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত আমগুলো নিরাপদ রাখতে কৃষি বিভাগ ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির সম্প্রসারণ করছে। পাইকারি আম ব্যবসায়ী মো. জালাল হোসেন বলেন, তিন বছর ধরে রাঙামাটি থেকে আম কিনে বাইরে নিয়ে বিক্রি করছেন। চলতি বছর ৩০ মণ আম কিনেছেন। এবার মৌসুমে রাঙামাটির বাজারে প্রচুর আম আসছে, তাই দামও কিছুটা কমে পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় কৃষকরা আমের ভালো দাম পেতেন। আর সরকার বাগানিদের বালাইনাশকে ভর্তুকি দিলে পরিচর্যা খরচ কমত। রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের সুমেত চাকমা বলেন, তিনি গত প্রায় এক দশক ধরে আম চাষ করছেন। তার প্রায় ৫০-৬০ একর জমিতে আমসহ মিশ্রফলের বাগান রয়েছে। এবারও ফলন খুব ভালো হয়েছে, তবে দাম নিয়ে হতাশ তিনি। আম বাজারে নেওয়ার ঝামেলা এড়াতে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বাগানেই বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, রাঙামাটির বেশিরভাগ আম বাগান কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক। ওই সব এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ থাকায় পরিবহণ ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি উৎপাদনেও বেশি খরচ হয়। তাই কৃষক অনেকেই বাগানসহ আম বেচে দেন। রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক কৃষিবিদ পবন কুমার চাকমা বলেন, রাঙামাটিতে আমসহ প্রচুর মৌসুমি ফলের উৎপাদন হয়; কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে এবং পরিবহণ সংকটের কারণে বিপুল ফলমূল পচে নষ্ট হয়ে যায়। কেবল আম নষ্ট হয় কয়েকশ কোটি টাকার। এতে কৃষকদের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাঙামাটির বর্তমান উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাঙামাটিতে এখন বিদেশি জাতের আম ব্যাপকহারে আবাদ হচ্ছে। অধিক ফলনে কৃষকরা এতে ঝুঁকছেন। এবার মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে; কিন্তু পরিবহণ ও বাজারজাতের সংকটে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। যদি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকত তাহলে তারা ভালো দাম পেতেন। জেলায় কোথাও হিমাগার বা কৃষিজাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা বা কৃষিজাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ গড়ে উঠলে পাহাড়ে উৎপাদিত ফলমূল থেকে কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের উন্নয়ন হতে পারত। তাই তিন পার্বত্য জেলায় উৎপাদিত ফলমূলসহ কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপনের জন্য আমরা সরকারের কাছে বারবার প্রস্তাবনা দিয়ে আসছি। কেবল সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর আমসহ কোটি কোটি টাকার ফলমূল নষ্ট হয়ে যায়।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতি) নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির প্রশাসন। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘কিওয়া’ প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুন (মঙ্গলবার) পর্যন্ত নিয়োগকর্তারা কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন অথবা তাদের সেবা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সুযোগ পাবেন। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘সৌদি গেজেটে’র প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। কিওয়া প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে যেসব কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট তিন মাসের বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ রয়েছে, তাদের নিয়োগকর্তার প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। অর্থাৎ কোনও কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট তিন মাসের বেশি সময় ধরে নবায়ন করা না হলে তাকে প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ দেওয়া হবে। তবে কর্মীকে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া যে সময় পর্যন্ত কাজ করানো হয়েছে, সেই সময় পর্যন্ত অর্জিত সব বকেয়া আর্থিক দায় ও ফি নিয়োগকর্তাকেই বহন করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাগজপত্র বৈধ করার আহ্বান জানিয়ে কিওয়া একটি ব্যতিক্রমী নিয়মের কথা উল্লেখ করেছে। এতে বলা হয়েছে নিয়মটি হলো, যদি কোনও কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, কিন্তু তার ইকামার (বাসস্থান অনুমতি) মেয়াদ এখনও কমপক্ষে ১৮০ দিন বৈধ থাকে, তবে ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন সম্ভব না হলেও তাকে প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে তাৎক্ষণিক অপসারণ করা হবে না। কিন্তু ইকামার অবশিষ্ট মেয়াদ যদি ১৮০ দিনের কম হয়, তবে পরবর্তী প্রশাসনিক জটিলতা ও জরিমানা এড়াতে নিয়োগকর্তাকে একসঙ্গে ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিট দুটিই নবায়ন করতে হবে। কিওয়া আরও জানিয়েছে, যেসব প্রবাসী কর্মী তিন মাসের বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ বা বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করছেন, তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। বকেয়া ওয়ার্ক পারমিট ফি দ্রুত পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পারমিট নবায়ন অথবা তাদের সেবা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানা এড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সৌদির নিয়োগকর্তাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। সূত্র: সৌদি গেজেট
বিশ্ব বাণিজ্যের মানচিত্রে যখন একের পর এক বন্দর যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতায় ধাক্কা খাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর দেখিয়েছে ভিন্ন এক গল্প। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার চাপকে অতিক্রম করে কনটেইনার হ্যান্ডলিং, কার্গো পরিবহন, জাহাজ পরিচালনা এবং রাজস্ব আয়ে একযোগে রেকর্ড গড়ে বন্দরটি প্রমাণ করেছে- দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন থাকলে সংকটও হতে পারে সাফল্যের সুযোগ। বিশ্বের অনেক আঞ্চলিক বন্দরে যেখানে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, সেখানে চট্টগ্রাম বন্দর শুধু প্রবৃদ্ধিই অর্জন করেনি; বরং ইতিহাসের সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং, সর্বোচ্চ জাহাজ পরিচালনা এবং সর্বোচ্চ রাজস্ব উদ্বৃত্তের রেকর্ড গড়ে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বছরে বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং লজিস্টিক সমন্বয়কে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের চাপ বাড়লেও কার্যকর পরিকল্পনা ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার কারণে সার্বিক কার্যক্রমে গতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ফলে জাহাজ ঘোরাঘুরি সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে যেখানে একাধিক দিন জাহাজের গড় অবস্থান সময় প্রায় শূন্যের কাছাকাছি ছিল, যা বন্দরের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অপারেশনাল সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পর উৎপাদনশীলতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড দায়িত্ব নেওয়ার পর কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে। একই সময়ে ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় উন্নয়নের ফলে ধারণ ক্ষমতাও আগের তুলনায় বেড়েছে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাল্ক কার্গোর পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এক বছরে বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ১৩ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা শিল্প ও আমদানি খাতে চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করছে। বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত সময়ে বন্দরের মোট আয় ছিল ৪ হাজার ৯৫২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। একই সময়ের পরবর্তী অর্থবছরে (২০২৫-২৬ জুলাই থেকে মে) আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বন্দরের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। একইসঙ্গে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রাজস্ব উদ্বৃত্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ে বন্দরটির রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। কর, ভ্যাট ও অন্যান্য সরকারি ব্যয় পরিশোধের পর নিট উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও এমন প্রবৃদ্ধি বন্দরের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নীতি-নির্ধারণের প্রতিফলন। গত পাঁচ বছরের আর্থিক পরিসংখ্যানেও ধারাবাহিক উন্নতির চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ওই বছর রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৪ সালে রাজস্ব উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ৯২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা, ২০২৩ সালে ২ হাজার ১৪৩ কোটি ১১ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ৬৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা রাজস্ব উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের ফলে গত দুই বছরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ছিল ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর বিপরীতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। বন্দর সূত্র আরও জানায়, গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর সরকারি কোষাগারে মোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। এরমধ্যে কর হিসেবে ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) হিসেবে ৩ হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) হিসেবে ৬০০ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এটি জাতীয় রাজস্ব আহরণেও বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতিফলন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০২৪ সালে ছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউস। এক বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪২ টিইইউস, প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। এটি বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং রেকর্ড। একই বছরে আমদানি-রপ্তানি কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৩৯ হাজার ৮৩ হাজার ১৪ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন বেশি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বিস্তৃতি নির্দেশ করে। জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ পরিচালনা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৫৭টি। অর্থাৎ এক বছরে ৪০৬টি জাহাজ বেশি পরিচালিত হয়েছে, প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ- তিনটি ক্ষেত্রেই এটি বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে অনলাইন ই-মুট পাস, অনলাইন বিল জেনারেশন এবং ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে কার্যক্রমে গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর একদিনেই সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৭৬১টি ই-মুট পাস ইস্যু করা হয়, যা ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার একটি নতুন রেকর্ড। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউএস কোস্ট গার্ডের পরিদর্শনে ইতিবাচক স্বীকৃতি পাওয়ায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৭০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ, আধুনিক হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংযোজন এবং লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগ বন্দরের ধারণক্ষমতা ও দ্রুত সেবা প্রদানের সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প এবং ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট হাবে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অংশীজনদের সহযোগিতার ফলে বন্দরের কার্যক্রমে এই রেকর্ড অর্জিত হয়েছে। টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমানো, বার্থ ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণ, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি বন্দরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। বন্দর, কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট, টার্মিনাল অপারেটর এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও সেবার মানে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষকরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাফল্যের গুরুত্ব বোঝার জন্য বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি বন্দর রেড সি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্নে কার্যক্রমে চাপের মুখে পড়ে। এশিয়ার বহু বন্দরে জাহাজজট ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। এমন বাস্তবতায় চট্টগ্রাম বন্দর জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমিয়ে, ইয়ার্ড সক্ষমতা বাড়িয়ে এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে উল্টো উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরে ৩৪ লাখের বেশি টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর এখন দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর কাতারে আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও বে-টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির কেন্দ্রই নয়, বরং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের একটি আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট হাবেও পরিণত হতে পারে।
কাতারের দাফনা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আটক হওয়া সবাই আরব দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই সংঘর্ষের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের আটক করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রকাশ্যে এ ধরনের সহিংস আচরণ দেশের আইন ও জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ব্যক্তি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে বসবাসকারী সব নাগরিক ও প্রবাসীদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নতুন সংগঠন ‘বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন ইউএই’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। ২০২৫-২৬ মেয়াদের কমার্শিয়ালি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (সিআইপি) সম্মানপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে সংগঠনটি গঠন করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে দুবাইয়ের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিআইপি ও এবিবিএ বাংলাদেশের বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুলফিকার ওসমান। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিআইপি মোহাম্মদ রুবেল হোসেনকে আহ্বায়ক এবং সিআইপি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা দুবাইয়ে একটি বাংলাদেশি স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল নির্মাণে যৌথভাবে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া প্রবাসী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে বৃহৎ বিনিয়োগ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে এটিএন বাংলার সাবেক সম্পাদক ও ‘দুনিয়ার গল্প’-এর সম্পাদক কেরামতউল্লাহ বিপ্লব, সিআইপি নজরুল ইসলাম, মাহবুবুল আলম, মঞ্জুরুল হক, শামসুজ্জামান, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন সিআইপিদের সংবর্ধনা আয়োজন, একটি স্মারক ম্যাগাজিন প্রকাশ এবং পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সিআইপি ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে ১০০ জন বিনিয়োগকারীর একটি তালিকা তৈরি করে বাংলাদেশ সরকারের কাছে যৌথ বিনিয়োগ প্রস্তাবনা পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রবাসী বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার লাঘব, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার এবং দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার প্রসারে একাধিক জনবান্ধব সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হলেও প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার অনুরোধ জানান। একইভাবে ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য তা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেন। তিনি কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহার করার বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের উন্নয়নেও প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রযোজ্য ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। তবে একই সঙ্গে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদার করা, শিক্ষার্থীদের বহু ভাষায় পারদর্শী করতে ল্যাংগুয়েজ ল্যাব স্থাপন এবং গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবকে অভিনন্দন জানান। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে পার্বত্য তিন জেলায় তাদের পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি পাহাড়ি ও সমতল উভয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তিদের বেতনভোগী আয়কেও করমুক্ত করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও আমদানি শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। দেশের চিংড়ি চাষের প্রসার ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে একিউফিড, ফিড এডিটিভস, প্রোবায়োটিক্স, ভিটামিন ও মিনারেলস আমদানিতে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এছাড়া তিনি স্থানীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান, ওষুধ ও স্থানীয় শিল্পে ব্যবহৃত মধু আমদানির ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং পিভিসি ও পেট রেজিন আমদানির প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। তিনি ফায়ার ডোর উৎপাদনের কাঁচামাল কোল্ড রোল্ড শিট আমদানির ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক এবং ফ্ল্যাট রোল্ড প্রোডাক্ট আমদানির ১০ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান । বৈদ্যুতিক তার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের রিফাইন কপার আমদানির ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার এবং ক্যাশনাট প্রসেসিং শিল্পের কাঁচামাল অপ্রক্রিয়াজাত বাদাম আমদানির কাস্টমস শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয়ভাবে এলইডি ল্যাম্প এবং প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বিল্ডিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানির রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বর্ধিত করার অনুরোধ জানান তিনি। ব্যবসায়ীবান্ধব ভ্যাট ব্যবস্থা প্রণয়নের লক্ষ্যে স্বর্ণ, ডায়মন্ড ও রৌপ্য অলংকারের ভ্যাটের হার পুনর্নির্ধারণ, বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায়ের ১০ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রচারণায় বহুল ব্যবহৃত ডাবল কেবিন পিকআপ এবং মাইক্রোবাস স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য বর্তমান সরকার একটি বিশাল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মত সরকার বাজেটে স্টার্টআপ ফান্ডিং এর জন্য ৫শ কোটি টাকার একটি বাজেট রেখেছে।’
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
চলতি বছর ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকে ইসরাইলের ওপর ইরানি সাইবার হামলার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। সোমবার (২৯ জুন) ইসরাইলের একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইসরাইলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের ডিরেক্টর জেনারেল ইয়োসি কারাদি জার্মান সংবাদপত্র ‘ডাই ওয়েল্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলি হামলার সময় দেশটির কর্তৃপক্ষ প্রায় ১,৬০০টি শত্রুভাবাপন্ন সাইবার আক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত করেছিল। তবে ২০২৬ সালের ঠিক একই মাসে এই হামলার সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়ে ৪,৮০০-তে গিয়ে ঠেকেছে। জার্মান ভাষায় প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে কারাদি বলেন, হামলাকারী কিছু গ্রুপ অত্যন্ত দক্ষ। ইসরাইল এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হলেও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিতে হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথাগত বা বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাইবার জগতে কোনো যুদ্ধবিরতি থাকে না। কারাদি জানান, এই সাইবার হামলাগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, কেন্দ্রীয় সংস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ। আক্রান্ত ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ল ফার্ম (আইনজীবী প্রতিষ্ঠান) এবং অ্যাকাউন্টিং ফার্মগুলো অন্যতম। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এখন পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর ওপর হওয়া সব বড় হামলা সফলভাবে নস্যাৎ করতে পেরেছেন। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল এবং সহজে হ্যাক করা সম্ভব, সেগুলোর কম্পিউটার সিস্টেমের ডেটা বা তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে বলে তিনি জানান। অবশ্য ক্ষতিগ্রস্ত নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম তিনি উল্লেখ করেননি। সাধারণত ইরান অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে হ্যাকিং বা সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে থাকে, তবে তারা নিজেরা প্রায়শই সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে বলে দাবি করে। সূত্র: রয়টার্স।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কথা বলা হলেও তা নাকব করে দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। তিনি জানান, এই সপ্তাহে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কারিগরি দলের’ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। ইরানের আধা সামরিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ মুহূর্ত কোনো আলোচনা অনুষ্ঠিত জবে না। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত ওয়ার্কিং গ্রুপগুলোর কাঠামোর আওতায় কারিগরি আলোচনার প্রথম পর্বটি তখনই অনুষ্ঠিত হবে, যখন প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ হবে। আলোচনা ও বৈঠকের তারিখ ও স্থান নিয়ে সমঝোতা হবে। এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে আল-জাজিরাসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আগামী মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রটি জানায়, সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করা কারিগরি দলগুলোর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দোহায় বৈঠক করার কথা রয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা উত্তেজনা প্রশমনের জন্য স্থাপিত যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলো সচল রয়েছে এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা।
প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে পাঁচ হাজার পাঁচশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। একই সঙ্গে আরও সাড়ে তিন হাজার পদের কাজ বাইরের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। খবর এএফপির। সোমবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। লাকি স্ট্রাইক ও ডানহিল ব্র্যান্ডের সিগারেট উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, পুনর্গঠন পরিকল্পনার আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে বছরে ৬০ কোটি পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৭৯ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পুনর্গঠন কার্যক্রমের প্রভাব পড়বে তাদের মোট ৪৭ হাজার কর্মীর প্রায় ২০ শতাংশের ওপর। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে চলতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯ হাজার কর্মীর ওপর প্রভাব ফেলবে এমন পুনর্গঠন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তামাক উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠান বছরের শেষ নাগাদ পাঁচ হাজার পাঁচশ কর্মী ছাঁটাই করবে। পাশাপাশি আরও সাড়ে তিন হাজার পদের কাজ বাইরের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর রূপান্তরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তাদেউ মারোকো বলেন, ভবিষ্যতের উপযোগী একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা আরও গতিশীল, ব্যয়-সচেতন ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো তৈরি করছেন। তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের প্রভাব অনেক সহকর্মীর ওপর পড়বে। তবে এই রূপান্তরের সময় তাদের প্রতি সর্বোচ্চ যত্ন ও সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতের জন্য প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নেওয়া যায়।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, এ সপ্তাহে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোন বৈঠক করার পরিকল্পনা নেই ইরানের। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কাতারের সঙ্গে পরামর্শ, বিশেষ করে অপর পক্ষের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিকভাবেই চলমান রয়েছে। তবে দোহায় দু পক্ষের যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।’ খবর আল জাজিরার। তিনি আরও বলেন, ‘যখন উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হবে এবং বৈঠকের তারিখ ও স্থান নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হবে তখনই পক্ষগুলোর মধ্যে প্রথম দফার কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’ এর আগে আল জাজিরাসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।