যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা ৪০ দিনের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ইরান ও লেবাননে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৩৬ জন পর্যন্ত পৌঁছেছে, যদিও আন্তর্জাতিক রেডক্রসের হিসাব অনুযায়ী তা প্রায় ১ হাজার ৯০০। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১২৯ শিশু রয়েছে। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলে। ইরাকে ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলে ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, পাশাপাশি ১১ জন সেনাও নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ১৩ জন সেনা নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ জন, কাতার ও কুয়েতে ৭ জন করে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিরিয়া ও পশ্চিম তীরে চারজন করে; বাহরাইন, ওমান ও সৌদি আরবে দুজন করে নিহতের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের একজন সেনা নিহত হয়েছেন। এদিকে গত ৩ এপ্রিলের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এই সংঘাতে বিভিন্ন দেশে থাকা অন্তত ৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘ ৪০ দিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। সম্প্রতি ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ কথা বলেন লাপিদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে এত বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় এর আগে ঘটেনি। জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ইসরায়রেল আলোচনার টেবিলেই ছিলনা। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত সব দায়িত্বই পালন করেছে। দেশটির জনগনও অনেক ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি তিনি নিজে যে লক্ষ্যগুলো ঠিক করেছিলেন, তার একটিও অর্জন করতে পারেননি। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর অহংকার, অবহেলা ও কৌশলগত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতির মুখে পড়েছে ইসরায়েল। যা কাটিয়ে উঠতে বহু বছর সময় লাগবে দেশটির। উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে দেশ দুটি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ প্রস্তাবে সায় দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, সাইবার ক্রাইম ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের শিক্ষা, সততা, দক্ষতা ও সচেতনতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। এসব দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের বহুমাত্রিক অপরাধ দমনে সক্ষম হতে হবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে রাজশাহীর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ৪১তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)-২০২৫ ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রশিক্ষণার্থী এসআইদের প্যারেড ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। আইজিপি বলেন, “আপনারা শুধু একটি চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন না, বরং একটি মহান সেবামূলক পেশায় আত্মনিয়োগ করছেন।” পুলিশ পেশার মূলমন্ত্র হলো সেবাই ধর্ম—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের বিপদে সহায়তা করা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার মূল্যবোধ ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান শক্তি। তাই সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও মানবিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থী এসআইদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দুই বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে ২০৯ জন সাব-ইন্সপেক্টরকে সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় প্রবেশনারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য বিদায় জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি আজিজুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন আপাতত বন্ধ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, মহাসচিব যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এই চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। মুখপাত্র আরও বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং যুদ্ধবিরতির শর্তসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে অঞ্চলে স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংঘাত প্রশমনে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করলে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।
ঢাকায় অবস্থানরত ১৩টি দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশন ভিসা, পারমিট এবং অন্যান্য কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহীদের জন্য যৌথ সতর্কতা জারি করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা আবেদনকারীদের প্রতারণা ও দালালচক্র থেকে সাবধান থাকার আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ভিসা বা পারমিটের জন্য আবেদন করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। জাল কাগজপত্র ব্যবহার, অবিশ্বস্ত বা লাইসেন্সবিহীন এজেন্টের সহায়তা নেওয়া এবং অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ প্রদান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই যৌথ বিবৃতিতে অংশ নেওয়া দেশগুলো হলো—অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। দূতাবাসগুলো আরও জানায়, প্রতারণার আশ্রয় নিলে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এবং গন্তব্য দেশের সীমান্তে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমনকি আবেদনকারীরা গুরুতর আইনি জটিলতায়ও পড়তে পারেন। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দূতাবাস বা মিশনগুলো কোনো এজেন্টের সঙ্গে যুক্ত নয়। তাই দ্রুত ভিসা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বা বিশেষ সুবিধার আশ্বাস দিয়ে যারা প্রভাব খাটানোর দাবি করে, তাদের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য ভিসা প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমেই সব ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা ৪০ দিনের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ইরান ও লেবাননে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৩৬ জন পর্যন্ত পৌঁছেছে, যদিও আন্তর্জাতিক রেডক্রসের হিসাব অনুযায়ী তা প্রায় ১ হাজার ৯০০। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১২৯ শিশু রয়েছে। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলে। ইরাকে ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলে ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, পাশাপাশি ১১ জন সেনাও নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ১৩ জন সেনা নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ জন, কাতার ও কুয়েতে ৭ জন করে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিরিয়া ও পশ্চিম তীরে চারজন করে; বাহরাইন, ওমান ও সৌদি আরবে দুজন করে নিহতের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের একজন সেনা নিহত হয়েছেন। এদিকে গত ৩ এপ্রিলের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এই সংঘাতে বিভিন্ন দেশে থাকা অন্তত ৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘ ৪০ দিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স
মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অভিবাসন বিশ্লেষক ও জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার পুনরায় চালু করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য। শ্রমবাজার কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় আবার চালু হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর আমন্ত্রণে মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। তারা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন, যেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি প্রধান আলোচ্যসূচি হিসেবে থাকবে। এর আগে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানায়, বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন বিভাগের জারি করা সরকারি আদেশের মাধ্যমে এই সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানান, প্রতিনিধি দলটি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে। এসব আলোচনায় শ্রমবাজার পুনরায় চালু, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দ্বিপক্ষীয় শ্রম সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা—বিশেষ করে অবৈধ অবস্থানে থাকা কর্মীদের বিষয়টি—অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জন্য মানবিক ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। এই স্থবিরতার পেছনে সিন্ডিকেট-সংক্রান্ত অভিযোগসহ নানা কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে দাতো আমিন নুরের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ উঠে, যারা অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় আদায় করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়া ১৪টি সোর্স দেশ থেকে সরাসরি এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শ্রমিক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে দেশটি বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ সম্পন্ন করেছে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে পুরোনো সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে নতুন এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তারা মনে করেন। তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, সঠিক নজরদারি না থাকলে বিদেশগামী কর্মীদের ব্যয় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা একজন শ্রমিকের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। সম্প্রতি ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ কথা বলেন লাপিদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে এত বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় এর আগে ঘটেনি। জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ইসরায়রেল আলোচনার টেবিলেই ছিলনা। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত সব দায়িত্বই পালন করেছে। দেশটির জনগনও অনেক ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি তিনি নিজে যে লক্ষ্যগুলো ঠিক করেছিলেন, তার একটিও অর্জন করতে পারেননি। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর অহংকার, অবহেলা ও কৌশলগত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতির মুখে পড়েছে ইসরায়েল। যা কাটিয়ে উঠতে বহু বছর সময় লাগবে দেশটির। উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে দেশ দুটি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ প্রস্তাবে সায় দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাতে দুই দেশ ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানান, এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। তবে জাহাজগুলোকে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমোদন নিতে হবে। এই ঘোষণার পরপরই বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নেমে আসে প্রতি ব্যারেল ৯৪ দশমিক ৪৩ ডলারে, যা আগের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম। একই সঙ্গে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমে আসার ফলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বাজারে এই পতন ঘটেছে। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি ইতিবাচক হলেও এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি। দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্বাভাবিক রাখতে আরও কূটনৈতিক অগ্রগতি প্রয়োজন হবে।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা ৪০ দিনের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ইরান ও লেবাননে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৩৬ জন পর্যন্ত পৌঁছেছে, যদিও আন্তর্জাতিক রেডক্রসের হিসাব অনুযায়ী তা প্রায় ১ হাজার ৯০০। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১২৯ শিশু রয়েছে। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলে। ইরাকে ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলে ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, পাশাপাশি ১১ জন সেনাও নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ১৩ জন সেনা নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ জন, কাতার ও কুয়েতে ৭ জন করে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিরিয়া ও পশ্চিম তীরে চারজন করে; বাহরাইন, ওমান ও সৌদি আরবে দুজন করে নিহতের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের একজন সেনা নিহত হয়েছেন। এদিকে গত ৩ এপ্রিলের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এই সংঘাতে বিভিন্ন দেশে থাকা অন্তত ৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘ ৪০ দিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। সম্প্রতি ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ কথা বলেন লাপিদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে এত বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় এর আগে ঘটেনি। জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ইসরায়রেল আলোচনার টেবিলেই ছিলনা। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত সব দায়িত্বই পালন করেছে। দেশটির জনগনও অনেক ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি তিনি নিজে যে লক্ষ্যগুলো ঠিক করেছিলেন, তার একটিও অর্জন করতে পারেননি। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর অহংকার, অবহেলা ও কৌশলগত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতির মুখে পড়েছে ইসরায়েল। যা কাটিয়ে উঠতে বহু বছর সময় লাগবে দেশটির। উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে দেশ দুটি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ প্রস্তাবে সায় দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন আপাতত বন্ধ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, মহাসচিব যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এই চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। মুখপাত্র আরও বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং যুদ্ধবিরতির শর্তসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে অঞ্চলে স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংঘাত প্রশমনে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করলে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন, যা একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি হিসেবে কার্যকর হবে। এই ঘোষণার পর বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। নিক্কেই ২২৫ সূচক ৪.৯ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৭ শতাংশ। এছাড়া হ্যাং সেং সূচকও ২.৮ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ১৩ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেল প্রতি ৯৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে—তবে শর্ত হিসেবে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিগুলো খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।