মক্কায় ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। শুক্রবার তিন দেশের নেতারা এই চুক্তিতে সই করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন এই প্রতিরক্ষা জোটের ঘোষণা এল। খবর আলজাজিরার। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও সেটিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ বা অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চায় না। তবে কোনো ধরনের চাপ বা জবরদস্তির কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না। অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ১৪ জুলাই অবরোধ পুনরায় শুরুর পর তারা ৫১টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এ ছাড়া দুটি জাহাজের চলাচল বন্ধ করা হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে চুক্তি হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে একটি সমঝোতার জন্য ইরানের আলোচকরা দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত সমঝোতায় ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণাধীন জলসীমা দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিয়ম নির্ধারণ করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো বাধা ছাড়াই জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত ১৩০-১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ৩৩টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আগের সপ্তাহের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০টি। জাহাজ চলাচলের সম্ভাব্য খরচ নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশের সমপরিমাণ ফি চেয়েছে। ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করছে। জাহাজ চলাচল ও বীমা খাতের সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষকে অর্থ পরিশোধ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং বীমা সংক্রান্ত নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই ৫১টি বাণিজ্যিক জাহাজের রুট পরিবর্তন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর শাফাক নিউজের। সেন্টকম জানায়, ১৪ জুলাই ইরানকে ঘিরে সমুদ্রপথে নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আবার কার্যকর হওয়ার পর এসব জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন বাহিনী দুটি জাহাজের চলাচল বন্ধ করেছে এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়েছে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্রপথে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা। এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে। ওই কর্মকর্তা জানান, বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করে চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেবে। তবে ইরান চুক্তির শর্তগুলো পূরণ করছে কি না, তার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি নির্ভর করবে। এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে একটি সমঝোতা ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ওমানের উপকূলের কাছ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, প্রণালিটির দুই উপকূলীয় দেশের একটি হিসেবে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে তাদেরও ভূমিকা থাকা উচিত।
ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার জানায়, ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শত শত কোটি ডলার সরাতে সহায়তার অভিযোগে মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান, ভুয়া কোম্পানি, ব্যাংক ও কয়েকজন আর্থিক মধ্যস্থতাকারীর বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরান তেল বিক্রির অর্থ আন্তর্জাতিকভাবে স্থানান্তর এবং আগের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব অর্থের উৎস গোপন করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে ওয়াশিংটন। নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, ইরানের এমন আর্থিক উৎসগুলো বন্ধ করা, যেগুলো দিয়ে দেশটি আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে অর্থায়ন করে বলে ওয়াশিংটন মনে করে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যারা সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, বিশ্বজুড়ে ইরানের অর্থ ও সম্পদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। এর অংশ হিসেবে ইরানি অর্থ ব্যবসায়ী বাবাক জাঞ্জানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ওই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, মালিকানার তথ্য গোপন এবং ইরান ও বিদেশের মধ্যে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের যুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ এবং মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের একক যুদ্ধ ছিল না; জনগণের গণরায় উপেক্ষা ও গণতন্ত্রকে পদদলিত করার ফলেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস-এর ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যথাযথভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়নি। অসংখ্য সাধারণ মানুষ, তরুণ ও সৈনিকের আত্মত্যাগ এবং বীরত্বের ঘটনা এখনও ইতিহাসে পূর্ণাঙ্গভাবে স্থান পায়নি। তিনি সেসব ঘটনা সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে কেবল কয়েকটি ভাষণের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে হাজারো তরুণ, সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং সামরিক সদস্যরা জীবন উৎসর্গ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ ছয় দফার ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে রায় দিলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেই গণরায়কে সম্মান জানায়নি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। পরবর্তীতে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন শুরু হলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের বাঙালি সদস্যরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে বাঙালি সামরিক সদস্যরা যদি বিদ্রোহ না করতেন, তাহলে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ভিন্ন হতে পারত। সীমিত সংখ্যক সৈনিকের নেতৃত্বে হাজার হাজার ছাত্র-যুবক মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং পরে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা প্রায় এক লাখে পৌঁছে যায়। রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, তার স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছিল এবং তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকেও সেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো ব্যক্তিগত কৃতিত্ব অর্জনের জন্য যুদ্ধ করেননি; দেশের অস্তিত্ব, মানুষের জীবন ও মা-বোনের সম্মান রক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা যেন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলে। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশে নিরাপদ, সহজ, স্বল্পব্যয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। শুক্রবার (৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী গণি বেকারি পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ব্যয় কমানো এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গভর্নর ৭ ও ৮ আগস্ট চট্টগ্রাম সফর করছেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের বিভিন্ন দাপ্তরিক সভায় অংশ নেবেন এবং নগরীতে বাংলা কিউআর প্রচারণা কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। সফরের প্রথম দিনে গভর্নর গণি বেকারি থেকে ঐতিহ্যবাহী বেলা বিস্কুট কিনে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করেন। তিনি বলেন, গণি বেকারির মতো স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দেশের ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি জনগণের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার ইতিবাচক প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, দেশের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর গ্রহণের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলে ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনের পথ আরও সুগম হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বাংলা কিউআর সারা দেশে একটি আন্তঃপরিচালনযোগ্য (ইন্টারঅপারেবল), নিরাপদ ও ব্যবহারবান্ধব ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকরা একই কিউআর কোড ব্যবহার করে সহজে লেনদেন করতে পারবেন।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে চুক্তি হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে একটি সমঝোতার জন্য ইরানের আলোচকরা দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত সমঝোতায় ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণাধীন জলসীমা দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিয়ম নির্ধারণ করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো বাধা ছাড়াই জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত ১৩০-১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ৩৩টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আগের সপ্তাহের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০টি। জাহাজ চলাচলের সম্ভাব্য খরচ নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশের সমপরিমাণ ফি চেয়েছে। ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করছে। জাহাজ চলাচল ও বীমা খাতের সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষকে অর্থ পরিশোধ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং বীমা সংক্রান্ত নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিও প্রকাশ করেছে আলোচিত রিয়েলিটি শো ‘দ্য ট্রেইটরস’-এর দ্বিতীয় সিজনের ট্রেলার। প্রথম মৌসুমের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও সঞ্চালকের ভূমিকায় ফিরেছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক করণ জোহর। নতুন ট্রেলারে রহস্য, ছদ্মবেশ, সন্দেহ এবং প্রতিযোগীদের পারস্পরিক অবিশ্বাসের আবহকে আরও তীব্রভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিযোগীদের মানসিক টানাপোড়েন, কৌশল এবং প্রতারণার দিকগুলো বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন করণ জোহর। এবারের সিজনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন টেলিভিশন তারকা শ্বেতা তিওয়ারি। তার পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন মুনাওয়ার ফারুকী, মল্লিকা শেরাওয়াত এবং রিয়া চক্রবর্তী। ট্রেলারে তাদের তীক্ষ্ণ মন্তব্য, সন্দেহপ্রবণ আচরণ এবং মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দর্শকদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। একটি বিলাসবহুল প্রাসাদকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই শোতে প্রতিযোগীদের মূল লক্ষ্য একে অপরকে বিভ্রান্ত করা, গোপন পরিচয় লুকিয়ে রাখা এবং কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে টিকে থাকা। বিশ্বাস ও ছলনার এই খেলাই শোটির মূল আকর্ষণ। প্রথম সিজনের জনপ্রিয়তার পর দ্বিতীয় মৌসুমে চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাইম ভিডিওতে খুব শিগগিরই ‘দ্য ট্রেইটরস ২’-এর সম্প্রচার শুরু হবে।
হোয়াইট হাউসের পূর্বপাশে প্রস্তাবিত ৪০ কোটি ডলারের ‘হোয়াইট হাউস বলরুম’ নির্মাণ প্রকল্পে সাময়িক বাধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ইউ.এস. কোর্ট অব অ্যাপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট এ-সংক্রান্ত পিটিশনের রায় ঘোষণা করেন। আদালত রায়ে বলেন, হোয়াইট হাউস কোনো প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যের অংশ। তাই সেখানে বড় ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের, এককভাবে নির্বাহী বিভাগের নয়। ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি বিশাল বলরুম নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প শুরুর আগে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এই প্রকল্পের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন নামের একটি ঐতিহ্য সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা আদালতে পিটিশন দায়ের করে। তিন বিচারপতির বেঞ্চের দুই বিচারপতি প্রকল্প স্থগিতের পক্ষে মত দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, “প্রত্যেক প্রেসিডেন্টের মনে রাখা উচিত যে তারা হোয়াইট হাউসে সাময়িকভাবে অবস্থান করেন; ভবনটির মালিক তারা নন।” তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। নিয়ম অনুযায়ী, আপিল করার জন্য তাদের হাতে রয়েছে ১৪ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না হলে আপিল আদালতের এই রায়ই কার্যকর থাকবে। রায়ের পর বাদীপক্ষের সংগঠন ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন-এর প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ট লেগস সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে মতামত দেওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে এবং আদালতের এই সিদ্ধান্ত সেই নাগরিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল একটি নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, কংগ্রেসের ক্ষমতা এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী কর্তৃত্বের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে।
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মক্কায় ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। শুক্রবার তিন দেশের নেতারা এই চুক্তিতে সই করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন এই প্রতিরক্ষা জোটের ঘোষণা এল। খবর আলজাজিরার। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও সেটিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ বা অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চায় না। তবে কোনো ধরনের চাপ বা জবরদস্তির কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না। অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ১৪ জুলাই অবরোধ পুনরায় শুরুর পর তারা ৫১টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এ ছাড়া দুটি জাহাজের চলাচল বন্ধ করা হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে চুক্তি হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে একটি সমঝোতার জন্য ইরানের আলোচকরা দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত সমঝোতায় ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণাধীন জলসীমা দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিয়ম নির্ধারণ করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো বাধা ছাড়াই জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত ১৩০-১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ৩৩টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আগের সপ্তাহের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০টি। জাহাজ চলাচলের সম্ভাব্য খরচ নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশের সমপরিমাণ ফি চেয়েছে। ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করছে। জাহাজ চলাচল ও বীমা খাতের সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষকে অর্থ পরিশোধ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং বীমা সংক্রান্ত নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই ৫১টি বাণিজ্যিক জাহাজের রুট পরিবর্তন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর শাফাক নিউজের। সেন্টকম জানায়, ১৪ জুলাই ইরানকে ঘিরে সমুদ্রপথে নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আবার কার্যকর হওয়ার পর এসব জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন বাহিনী দুটি জাহাজের চলাচল বন্ধ করেছে এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়েছে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্রপথে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা। এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে। ওই কর্মকর্তা জানান, বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করে চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেবে। তবে ইরান চুক্তির শর্তগুলো পূরণ করছে কি না, তার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি নির্ভর করবে। এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে একটি সমঝোতা ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ওমানের উপকূলের কাছ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, প্রণালিটির দুই উপকূলীয় দেশের একটি হিসেবে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে তাদেরও ভূমিকা থাকা উচিত।
ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার জানায়, ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শত শত কোটি ডলার সরাতে সহায়তার অভিযোগে মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান, ভুয়া কোম্পানি, ব্যাংক ও কয়েকজন আর্থিক মধ্যস্থতাকারীর বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরান তেল বিক্রির অর্থ আন্তর্জাতিকভাবে স্থানান্তর এবং আগের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব অর্থের উৎস গোপন করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে ওয়াশিংটন। নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, ইরানের এমন আর্থিক উৎসগুলো বন্ধ করা, যেগুলো দিয়ে দেশটি আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে অর্থায়ন করে বলে ওয়াশিংটন মনে করে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যারা সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, বিশ্বজুড়ে ইরানের অর্থ ও সম্পদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। এর অংশ হিসেবে ইরানি অর্থ ব্যবসায়ী বাবাক জাঞ্জানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ওই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, মালিকানার তথ্য গোপন এবং ইরান ও বিদেশের মধ্যে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।