সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন, পরিস্থিতির ওপর নজর

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চসহ ধারাবাহিক কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে বিএনপি। পাশাপাশি বিরোধী দলের এমন কর্মসূচির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা।   বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সংসদে ও রাজনৈতিক বক্তব্যে জবাব দিলেও তাঁরা বিরোধী দলের এসব কর্মসূচিকে এখনই বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছেন না। পাল্টা কোনো কর্মসূচির কথাও ভাবছেন না।   বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, সরকারে থেকে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।   জ্বালানি, বিদ্যুৎ–সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো মাঠের কর্মসূচি পালন করছে। লংমার্চসহ এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে তারা। বিপরীতে বিএনপির কোনো পাল্টা কর্মসূচি নেই। এ অবস্থায় বিরোধীদের তৎপরতাকে ক্ষমতাসীন দল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক মহলে উঠেছে।   বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটা অংশ হিসেবে দেখছি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার সবার আছে। আমরা এটাকে সেভাবেই দেখছি, এর বেশি কিছু না।’   তবে বিএনপির এই অবস্থানকে ভিন্নভাবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে কি সংসদে প্রতিক্রিয়া দেয়? আমরা মনে করি, সরকারি দলের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ক্যাপাসিটি নেই, বিএনপির আগের সেই নৈতিক অবস্থানও নেই।’   জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের সমাধান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১–দলীয় জোট ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করে। আজ জোটের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ। পর্যায়ক্রমে খুলনা ও সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর অভিমুখেও একই কর্মসূচি করার ঘোষণা রয়েছে জোটের।   এর আগে প্রথম দফা লংমার্চের বিভিন্ন পথসভা থেকে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা। একাধিক পথসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানি তেল নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চারদিকে নাই আর নাই শব্দ। ফেনীর মহিপালের পথসভায় সরকারকে আরও সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও চোখ রাঙানি সহ্য করব না। আমরা যেখানে বাধা পাব, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’   বিরোধীদের এসব বক্তব্য ও কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি এখন পর্যন্ত সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমিত থাকছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লংমার্চের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   জ্বালানিসংকটের সমাধানে লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’   সরকারি দলের অন্য নেতারাও বিরোধীদের লংমার্চের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে মূলত এই কর্মসূচির যৌক্তিকতা, জ্বালানিসংকটের বাস্তবতা এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়গুলো সামনে আসছে।   পাল্টা কর্মসূচির প্রয়োজন দেখছে না বিএনপি বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতারা বলছেন, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে এখনই এমন কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন না, যার জন্য দলকে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। বিরোধীদের কর্মসূচি নজরে রাখলেও রাজপথে একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তাঁরা অনুভব করছেন না।   দলটির নেতাদের মতে, কর্মসূচি পালন বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ফলে আপাতত সরকারি কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের মোকাবিলার কৌশলেই থাকছে বিএনপি।   বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক কর্মীদের অনেকে মনে করছেন, বিরোধীদের কর্মসূচিকে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন দল। দলটির নেতাদের একটি অংশেরও বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বদলেছে। প্রায় দুই দশক বিরোধী রাজনীতিতে থাকার সময় রাজপথের আন্দোলন ছিল দলের প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার। এখন সরকার পরিচালনাই প্রধান দায়িত্ব। তাই বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে একই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার তাগিদ নেই।   তবে দলের ভেতরেই কেউ কেউ মনে করেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি দিতে থাকলে সরকারের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা জনগণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে।   সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়েও আলোচনা বিরোধী দলগুলো যখন ধারাবাহিক কর্মসূচিতে মাঠে রয়েছে, তখন বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা অনেকটাই সীমিত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আলোচনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে দলীয় প্রস্তুতির বড় কোনো কর্মসূচি এখনো দৃশ্যমান নয়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ নিজেদের উদ্যোগে এলাকায় সক্রিয় আছেন। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠ গোছানোর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।   ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠন কতটা সক্রিয় রয়েছে, সেই প্রশ্নও বিএনপির সামনে আসছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশ ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি কতটা সক্রিয় হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী দলগুলো নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টিও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

৩১ মিনিট আগে
ডিবি-ডিজিএফআই পরিচয়ে যুবককে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশে উদ্ধার

মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসানো এক যুবক, দুই পাশে দুই ব্যক্তি। দুপুরবেলায় অজানা গন্তব্যে এগিয়ে যাচ্ছিল মোটরসাইকেলটি। কাছেই টহলে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে চোখাচোখি হয় ওই যুবকের। যুবকের মুখভঙ্গি ও শারীরিক ভাষা দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। মোটরসাইকেলটির গতিবিধি অনুসরণ করে কিছুক্ষণ পর ওই যুবকের চিৎকার শুনতে পান পুলিশ। পরে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় পাঁচজনকে।   পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদস্য পরিচয় দিয়ে আবদুস সামাদ (৩১) নামের ওই যুবককে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছিল।   গতকাল শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় নটর ডেম কলেজের পেছনে এ ঘটনা ঘটে।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ছিট আলোকদী এলাকার শামীম ইসলাম (৩৫), ময়মনসিংহ নগরের সুতিয়াখালী এলাকার আল-আমীন (২০), শেরপুরের নকলা উপজেলার চরভাবনা এলাকার ফারুক আহম্মেদ (৩৫), সুতিয়াখালী এলাকার পিয়াস মিয়া (২২) এবং নগরের বাগমারা এলাকার দিদারুল ইসলাম (৫৮)।   উদ্ধার হওয়া আবদুস সামাদের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পনঘাগড়া এলাকায়। তিনি চুরখাই বাজারে গো-খাদ্যের ব্যবসা করেন।   আবদুস সামাদ পুলিশের হেফাজতে বলেন, গতকাল বাড়ি থেকে এক আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে চুরখাই এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে তুলে নেন। তাঁরা নিজেদের ডিবি ও ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দেন। পরে তাঁকে জালালের মোড় এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়। তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘আসল পুলিশ না এলে কী হতো জানি না।’   কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কাদিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নটর ডেম কলেজের পেছনে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছে টহল দেওয়ার সময় তিনি একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে যেতে দেখেন। মাঝে বসানো যুবকের সঙ্গে চোখাচোখি হলে তাঁকে বিপদগ্রস্ত মনে হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি মোটরসাইকেলটির গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকেন। এর প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তিনি ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনতে পান।   এ ঘটনায় গতকাল রাতে আবদুস সামাদ বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। আজ শনিবার দুপুরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।   পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শামীম ইসলাম নিজেকে সেনাসদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালে দুই মাসের বার্ষিক ছুটিতে গিয়ে তিনি আর ইউনিটে ফেরেননি।   ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য ও একজন সিটি করপোরেশনের কম্পিউটার অপারেটর আছেন। তাঁরা আগে একই ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

৩৫ মিনিট আগে
বাবার ঋণ পরিশোধে ২৮ বছর পর পাওনাদারকে খুঁজছেন সন্তান

১৯৯৮ সালে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন পিরোজপুরের আবদুল খালেক শিকদার। সেই ঋণ শোধ করে যেতে পারেননি তিনি। মারা গেছেন ২০১১ সালে। ২৮ বছর পর বাবার ঋণ শোধ করতে পাওনাদারকে খুঁজছেন খালেক শিকদারের জ্যেষ্ঠ সন্তান কাঞ্চন শিকদার। তবে খোঁজ মিলছে না পাওনাদারের।   ‘বঙ্গভিটা’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এমন একটি পোস্ট করা হয় ১৪ সেপ্টেম্বর। পোস্টের সূত্র ধরে প্রথম আলো যোগাযোগ করে কাঞ্চন শিকদারের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে জানান, মৃত্যুর আগে ঋণের কথা তাঁকে বলে যান বাবা খালেক শিকদার। তবে সে সময় তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল না থাকায় ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নিতে পারেননি। এখন সেই ঋণ শোধ করতে চান তিনি।   কাঞ্চন শিকদারের বয়স এখন ৪৫ বছর। তিনি পিরোজপুর সদরে খামারে গরু লালন–পালন করেন। এলাকায় মাছের ব্যবসাও রয়েছে তাঁর। একসময় তাঁর বাবা পিরোজপুর থেকে কাঁচা–পাকা ফল এনে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের আড়তে বিক্রি করতেন। সেখানকার একজন আড়তদার ছিলেন রণজিত ঘোষ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘প্রদীপ ভান্ডার’।   নব্বইয়ের দশকে যখন খালেক শিকদার প্রথম ঢাকায় ব্যবসা করতে আসেন, তখনই রণজিত ঘোষের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সে সময়েই রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাদন নিয়েছিলেন তিনি। কথা ছিল ব্যবসা করে সেই টাকা শোধ করবেন। তবে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ব্যবসা করেও টাকা শোধ করতে পারেননি। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে গ্রামে ফিরে যান। ২০১১ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।   খালেক শিকদার যখন ব্যবসা করতেন, সে সময় পিরোজপুর থেকে লঞ্চে করে মালামাল কাঞ্চনই ঢাকায় আনতেন। সেই সূত্রে রণজিত ঘোষের সেই সময়কার বাসস্থান শাঁখারীবাজারে কয়েকবার গিয়েছেন তিনি।   ২৮ বছর আগের সেই স্মৃতিকে সম্বল করে পাওনাদারের খোঁজে মাস তিনেক আগে ঢাকায় এসেছিলেন কাঞ্চন শিকদার। তবে খোঁজ পাননি। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘৯৮ সালে যে বাসাবাড়ি দ্যাখছি, বর্তমানের লগে তো হ্যার কোনো মিল নাই। হ্যার বাসার এক পাশে মন্দির, এক পাশে মসজিদ ছেলো। মসজিদ–মন্দির ওই জায়গায় আছে কিন্তু হেই বাসা নাই। হেইখানে ওহন বড় বড় বাসাবাড়ি।’   কাঞ্চন শিকদারের কাছে সেই সময়কার একটি রসিদ রয়েছে। যেখানে ঠিকানা লেখা ‘আহসান উল্লাহ রোড, আল ফেসানী মার্কেট, লোতনাল, ওয়াইজঘাট, ঢাকা-১১০০’। রণজিত ঘোষের আড়তের খোঁজে গত বুধবার সরেজমিনে যাই পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে। তবে প্রদীপ ভান্ডার নামে কোনো আড়তের খোঁজ পাওয়া যায়নি।   ওই এলাকার বেশ পুরোনো একজন ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একসময় রণজিত ঘোষ সেখানে ব্যবসা করতেন। প্রায় ১০ বছর আগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে গেছেন। বর্তমানে তাঁরা কোথায় থাকেন, সেই খোঁজ তাঁর কাছে নেই।   সদরঘাট থেকে পাটুয়াটুলী হয়ে ইসলামপুরের দিকে এগিয়ে বুড়িগঙ্গার পাড়ে এসে যেখানে সড়ক শেষ হয়েছে, সেটিই ওয়াইজঘাট। বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ঢাকার পুরোনো বাণিজ্যিক এই এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বর্তমান ওয়াইজঘাট। ১৮৪০ সালে প্রকাশিত জেমস টেইলরের ‘আ স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা’ বইয়ে তৎকালীন ঢাকার বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বুড়িগঙ্গার ঘাটগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বর্ণনা পাওয়া যায়। নদীপথে পণ্য ও মানুষের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে ঘাটের আশপাশে দোকান, গুদাম ও ব্যবসাকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। নদীর দিকে যাওয়া সড়কগুলোর শেষ প্রান্তে এসব ঘাট ছিল পণ্য পরিবহন ও বেচাকেনার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। টেইলরের বর্ণনায় ঢাকার ব্যবসায়ীরা নদীর ঘাটমুখী সড়কগুলোতেও দোকান ও গুদাম স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এই ঘাটই ওয়াইজঘাট নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।   উনিশ শতকে ঢাকায় ওয়াইজ পদবির তিনজন পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন—একজন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ, একজন সিভিল সার্জন এবং অন্যজন নীলকর। ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের ‘ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নীলকর ওয়াইজের নামেই বুড়িগঙ্গার তীরের এই ঘাটের নামকরণ করা হয়।   ২৮ বছর আগে নেওয়া এই ঋণকে বাবার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত দায় হিসেবে দেখেন কাঞ্চন শিকদার। বিভিন্ন মাধ্যমে খুঁজে যাচ্ছেন পাওনাদারকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘একসময় আমরা অভাবগ্রস্ত ছিলাম। দেনা শোধ করতে পারি নাই। অহন আল্লায় সুযোগ দিছে। বাবার দায়ডা শোধ করবার চাই।’

৩৭ মিনিট আগে
হোয়াইট হাউসে সিএনএনসহ তিন গণমাধ্যমের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান তিনটি সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে কার্যক্রম চালাতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প এ–সংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।   ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় পড়া তিনটি সংবাদমাধ্যম হলো—সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাও।   হোয়াইট হাউসের এ নিষেধাজ্ঞাকে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের আঘাতের সর্বশেষ নজির বলে মনে করছেন অনেকেই।   এ তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে লেখা বা প্রতিবেদন করার সময় তাদের ক্রমাগত মিথ্যা ও মনগড়া লেখার সুযোগ থাকা উচিত নয়।’   ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘ভুয়া খবর প্রচার করা অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তালিকাও আসছে।’   ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প জানান, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নয়; বরং গত কয়েক বছরে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনগুলোর কারণে তিনি তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   হোয়াইট হাউসকে ‘জনগণের বাড়ি’ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘জনগণের বাড়িতে তাদের (ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে) ঢুকতে দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’   এ সময় ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভুয়া খবর প্রচার করা অন্যান্য সংবাদমাধ্যম কোনগুলো। তখন ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্ট আর নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।   ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, সেটা প্রায় নিশ্চিত। কেননা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ওই সংশোধনী নাগরিকদের মতপ্রকাশের এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অধিকার নিশ্চিত করেছে।   কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামেল জেফার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অসাংবিধানিক। কেননা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীন হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল একটি ‘পাবলিক ফোরাম’ হিসেবে বিবেচিত। তাই কোনো সাংবাদিকের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে সেখান থেকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।   ট্রাম্পের এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও গতকাল বিকেলে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউস থেকে দায়িত্ব পালন করে যেতে দেখা গেছে। এক বিবৃতিতে সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে তারা।   সংবাদমাধ্যটি বিবৃতিতে আরও জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহের অধিকার আমাদের আছে। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন, তা কার্যকর করা হলে সেটি হবে এ মৌলিক ও সংবিধানে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত।’   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে পলিটিকো বলেছে, তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবে এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতাধীন অধিকার জোরালোভাবে রক্ষায় লড়াই করবে।   সংবাদমাধ্যমটি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন এবং ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসনের বিষয়ে এখনকার মতো নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।   ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর এমএস নাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

৩৯ মিনিট আগে
সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক
ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ বিমান হামলার দাবি হুথিদের

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২৬টি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে। হুথি নেতাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।   গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে বিমান অভিযান শুরু করেছে সৌদি আরব। ইরানের মদতপুষ্ট এই ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকা এবং গোষ্ঠীটির বিভিন্ন সামরিক ও লজিস্টিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বিমান অভিযান অতিমাত্রায় বাড়িয়েছে সৌদি আরব। গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর— ৭ দিনে প্রায় ৩০০টি অভিযান সৌদি বিমান বাহিনী পরিচালনা করেছে বলেও উল্লেখ করেছেন হুথি নেতারা।   গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধাবর সৌদি বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে হুথি বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধ্বস্ত বিমানটির ভিডিও পোস্ট করেছে গোষ্ঠীটি। সেখানে দেখা গেছে, ভূপাতিত একটি সৌদি যুদ্ধবিমানের চারপাশে জড়ো হয়েছেন হুথি যোদ্ধারা এবং সবাই উচ্চকণ্ঠে একযোগে বলছেন, ‘আল্লাহু আকবার’।   আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে সৌদি আরবের। ইতোমধ্যে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি দখল করেছে হুথি যোদ্ধারা, যা সৌদির জন্য বড় দুঃসংবাদ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাব এল মান্দেব প্রণালি দিয়ে এত দিন নিজেদের অধিকাংশ জ্বালানি তেল রপ্তানি করে আসছিল সৌদি আরব।   হুথিরা যায়িদি শিয়াপন্থি মুসলিম এবং তাদের আদি বাসস্থান ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে। ২০১৫ সাল থেকে উত্তর ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণ করে আসা হুথি গোষ্ঠী পুরো ইয়েমেনের দখল চায়; আর এ পথে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা সৌদি আরব এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।   সূত্র : এএফপি

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

যে কোনো সময় আসতে পারে এক দফা দাবিজামায়াত আমির
এক দফার আন্দোলনের ইঙ্গিত দিলেন জামায়াত আমির

বিভিন্ন দাবি জাতির প্রয়োজনে যে কোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।   জামায়াত আমির বলেন, এর আগে চট্টগ্রামের লং মার্চ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে আমরা মাথা গরমের কিছু লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। আমরা অনুরোধ করব, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। বরং জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন।   তিনি বলেন, আজকে আট দফা, মনে রাখবেন—এটা ৯ দফা হতে পারে, ১০ দফা হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় এটা এক দফায় পরিণত হতে পারে। এক দফায় যখন পরিণত হবে, তখন কিন্তু পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে। সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিন। শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নিন। যদি দাবি মানতে ব্যর্থ হন, তাহলে পরিষ্কার বলে দিচ্ছি—কোনো চোখ রাঙানিতে কাজ হবে না। আমরা কোনো কিছুকে পরোয়া করব না।   শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। ১৮ কোটি মানুষ ১১ দলের সঙ্গে আছে। সেই দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরব।   গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এ লং মার্চ করছে ১১ দলীয় জোট।   জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।   সমাবেশ আরও বক্তব্য দেন- বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম এমপি; এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক; জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী; আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি জনাব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

ছবি: সংগৃহীত
হেটমায়ারের সেঞ্চুরির পরও হার, সিপিএল থেকে গায়ানার বিদায়

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) ফাইনালে ওঠার শেষ সুযোগটিও কাজে লাগাতে পারেনি গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পরও জ্যামাইকা কিংসম্যানের কাছে ৫ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে গায়ানা। হেটমায়ারের ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে ৪ উইকেটে ২০৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা।   তবে গায়ানার বোলাররা সেই লক্ষ্য ধরে রাখতে পারেননি। জ্যামাইকার ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ২ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় পায় দলটি।   গায়ানার হয়ে ব্যাট হাতে নামার সুযোগ পাননি মিরাজ। বল হাতে অবশ্য তার দিনটি ভালো কাটেনি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে এসে মাজ সাদাকাতের কাছে দুই ছক্কা ও একটি চার হজম করেন তিনি। ওভার থেকে আসে ১৮ রান। পরে তার ওভারেই সাইম আইয়ুব টানা দুটি ছক্কা হাঁকান। ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।   সিপিএলে গায়ানার হয়ে প্রথম তিন ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করেছিলেন মিরাজ। তবে শেষ দুই ম্যাচে আর কোনো উইকেটের দেখা পাননি তিনি।   গায়ানার ইনিংসে হেটমায়ার ছিলেন মূল আকর্ষণ। ৪৫ বলে ৪টি চার ও ৮টি ছক্কায় অপরাজিত ১০২ রান করেন তিনি। শাই হোপের ৩৩ বলে ৪০ এবং কুয়েন্টিন স্যাম্পসনের ১৭ বলে ২৯ রানের কার্যকর ইনিংসে গায়ানার সংগ্রহ দুইশ ছাড়ায়।   ২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে জ্যামাইকা। মাজ সাদাকাত ৪১, ম্যাকেঞ্জি ৩৪ এবং কেসি কার্টি ৫৬ রান করে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান। শেষদিকে রভম্যান পাওয়েলের ১৭ বলে ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ১৯.৪ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জ্যামাইকা।   ফলে হেটমায়ারের সেঞ্চুরি ও গায়ানার বড় সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত দলটির ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি।

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের পারমাণবিক পরিবারে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি

‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাশিয়ার ভাবমূর্তি’ শীর্ষক এক প্লেনারি সেশনে এই মাইলফলকের কথা তুলে ধরেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আন্দ্রে তিমোনভ।   দেশের প্রথম পারমাণবিক স্থাপনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পারমাণবিক পরিবারে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ।   বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিত 'ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ' (আইএফওয়াই-২০২৬)-এর 'মিডিয়া স্ট্রিম' কর্মসূচির অংশ হিসেবে 'আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাশিয়ার ভাবমূর্তি' শীর্ষক এক প্লেনারি সেশনে এই মাইলফলকের কথা তুলে ধরেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আন্দ্রে তিমোনভ।   আন্দ্রে তিমোনভ বলেন, 'রোসাটম বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক প্রযুক্তির অগ্রভাগে রয়েছে, যারা উৎপাদন চক্রের প্রতিটি স্তরে বিশ্বমানের সমাধান দিয়ে থাকে—আমাদের ব্যাপক আন্তর্জাতিক উপস্থিতির কারণেই এই অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এ বছর রোসাটম তাদের বাংলাদেশি অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম পাওয়ার ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে। এই গ্রীষ্মেই ইউনিটটির কমিশনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।'    তিনি বলেন, 'আমরা একটি নতুন পারমাণবিক শক্তির উত্থান দেখছি। এই প্রকল্পটি শুধু দেশের জ্বালানি চাহিদাই মেটাবে না, বরং এর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী গতিশীলতাও এনে দেবে। যাতে করে দেশটি অন্যান্য দেশের মতো কয়েক দশক সময় না লাগিয়ে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের যাত্রা সম্পন্ন করতে পারে।'    বাংলাদেশে নিজের সফরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, 'আমি অনেকবার বাংলাদেশ সফর করেছি এবং আমি এর সুন্দর প্রকৃতি ও চমৎকার মানুষের প্রতি পুরোপুরি মুগ্ধ। অবশ্যই, দেশটি বিকশিত হচ্ছে। অবশ্যই, দেশটির একটি অত্যন্ত জটিল ইতিহাস রয়েছে।'    তিমোনভ বলেন, 'মাত্র দশ বছর আগেও তাদের দেশে পারমাণবিক শক্তির কোনো কথাই ভাবা যেত না। আর আজ আমরা দেশটিকে একটি নতুন পারমাণবিক শক্তি হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছি।'    এ সময় তিনি পুরো বাংলাদেশ জুড়ে দৃশ্যমান একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়ের বর্ণনা দেন, আর তা হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর আবেগ।   তিনি বলেন, 'রাশিয়ায় এবং খোদ বাংলাদেশেও বিপুলসংখ্যক তরুণ পারমাণবিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে আগ্রহী হচ্ছেন।'    তিমোনভ বলেন, পারমাণবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন কয়েক দশকের পুরোনো। প্রথমবারের মতো এই প্রজাতন্ত্রে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ধারণাটি সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলেই উত্থাপিত হয়েছিল, যখন প্রজাতন্ত্রের তৎকালীন প্রধান লিওনিদ ইলিচ ব্রেজনেভের কাছে এই অনুরোধ নিয়ে গিয়েছিলেন। আর দেশটি এখন আসলে কী করছে? এটি কেবল তাদের জ্বালানি ঘাটতিই মেটাচ্ছে না—বরং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাহায্যে খুব দ্রুত এমন কিছু করার চেষ্টা করছে, যা করতে অন্যান্য দেশের ৬০ থেকে ৮০ বছর সময় লেগেছিল।'    তিমোনভ জোর দিয়ে বলেন, 'আমরা সেখানে গিয়েছিলাম, মনে হয়েছিল, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে—কিন্তু বাস্তবে, আমরা জাতীয় গর্বের একটি প্রতীক নির্মাণ করেছি। আমরা এমন একটি স্থাপনা নির্মাণ করেছি, যা নিয়ে পুরো দেশ গর্বিত।'    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইয়েকাতেরিনবার্গে ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত 'ফলো ইওর ড্রিম' স্লোগান নিয়ে 'ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ' (আইএফওয়াই-২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবে সারা বিশ্ব থেকে ১ লাখ ১৩ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে এবং ১৯১টি দেশ থেকে ১০ হাজার অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। বাংলাদেশ এতে প্রতিনিধিত্ব করেছে, যেখানে প্রায় ৯০ জন প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, রহস্যজনক আঘাত

হরমুজ প্রণালিতে ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।   সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাটি জানায়, ‘একটি জাহাজের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার (সিএসও) কাছ থেকে খবর পাওয়া গেছে যে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হেনেছে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।’   সংস্থাটি জানায়, জাহাজের নাবিকরা নিরাপদে আছেন। তবে হামলার ফলে পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
হোয়াইট হাউসে সিএনএনসহ তিন গণমাধ্যমের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান তিনটি সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে কার্যক্রম চালাতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প এ–সংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।   ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় পড়া তিনটি সংবাদমাধ্যম হলো—সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাও।   হোয়াইট হাউসের এ নিষেধাজ্ঞাকে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের আঘাতের সর্বশেষ নজির বলে মনে করছেন অনেকেই।   এ তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে লেখা বা প্রতিবেদন করার সময় তাদের ক্রমাগত মিথ্যা ও মনগড়া লেখার সুযোগ থাকা উচিত নয়।’   ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘ভুয়া খবর প্রচার করা অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তালিকাও আসছে।’   ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প জানান, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নয়; বরং গত কয়েক বছরে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনগুলোর কারণে তিনি তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   হোয়াইট হাউসকে ‘জনগণের বাড়ি’ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘জনগণের বাড়িতে তাদের (ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে) ঢুকতে দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’   এ সময় ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভুয়া খবর প্রচার করা অন্যান্য সংবাদমাধ্যম কোনগুলো। তখন ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্ট আর নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।   ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, সেটা প্রায় নিশ্চিত। কেননা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ওই সংশোধনী নাগরিকদের মতপ্রকাশের এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অধিকার নিশ্চিত করেছে।   কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামেল জেফার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অসাংবিধানিক। কেননা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীন হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল একটি ‘পাবলিক ফোরাম’ হিসেবে বিবেচিত। তাই কোনো সাংবাদিকের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে সেখান থেকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।   ট্রাম্পের এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও গতকাল বিকেলে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউস থেকে দায়িত্ব পালন করে যেতে দেখা গেছে। এক বিবৃতিতে সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে তারা।   সংবাদমাধ্যটি বিবৃতিতে আরও জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহের অধিকার আমাদের আছে। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন, তা কার্যকর করা হলে সেটি হবে এ মৌলিক ও সংবিধানে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত।’   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে পলিটিকো বলেছে, তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবে এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতাধীন অধিকার জোরালোভাবে রক্ষায় লড়াই করবে।   সংবাদমাধ্যমটি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন এবং ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসনের বিষয়ে এখনকার মতো নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।   ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর এমএস নাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ছবি: সংগৃহীত
হুথিদের দুই অবস্থান পুনর্দখলের দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর
আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

ইয়েমেনের তাইজ ও লাহজ প্রদেশের মধ্যবর্তী এলাকায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ফায়াদ আল-নুমান তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলুকে এ তথ্য জানিয়েছেন।   ফায়াদ আল-নুমানের ভাষ্য অনুযায়ী, আল-আঘবারা রণাঙ্গনে হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের পর আল-বাজলা পর্বত ও মাদখুলা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি বাহিনী। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি আনাদোলুকে এসব তথ্য জানান।   তিনি বলেন, সংঘর্ষের সময় সরকারি বাহিনীর অভিযানে হুথিদের জনবল ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি হুথিদের সহায়তায় আসা শক্তিবর্ধক বাহিনীর ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   ইয়েমেনি কর্মকর্তার দাবি, তাইজের পশ্চিমাঞ্চলের আল-ওয়াজিয়াহ জেলার আল-দারিফা এলাকার আল-হারথা গ্রামেও হুথিদের কয়েকটি অবস্থান ও সামরিক যানবাহন লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে।   গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আল-আঘবারা এলাকাটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাইজ ও লাহজ প্রদেশের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে এলাকাটি দুই অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক অবস্থানের মধ্যে যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।   তবে এ বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে।   বর্তমানে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চল হুথি ও সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সময় সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক লড়াই ও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তন ঘটছে।   আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত জুলাই থেকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে সরকারি বাহিনীর অভিযান জোরদার হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, রহস্যজনক আঘাত
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।   সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাটি জানায়, ‘একটি জাহাজের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার (সিএসও) কাছ থেকে খবর পাওয়া গেছে যে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হেনেছে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।’   সংস্থাটি জানায়, জাহাজের নাবিকরা নিরাপদে আছেন। তবে হামলার ফলে পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংগৃহীত ছবি
ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ বিমান হামলার দাবি হুথিদের
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২৬টি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে। হুথি নেতাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।   গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে বিমান অভিযান শুরু করেছে সৌদি আরব। ইরানের মদতপুষ্ট এই ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকা এবং গোষ্ঠীটির বিভিন্ন সামরিক ও লজিস্টিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বিমান অভিযান অতিমাত্রায় বাড়িয়েছে সৌদি আরব। গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর— ৭ দিনে প্রায় ৩০০টি অভিযান সৌদি বিমান বাহিনী পরিচালনা করেছে বলেও উল্লেখ করেছেন হুথি নেতারা।   গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধাবর সৌদি বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে হুথি বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধ্বস্ত বিমানটির ভিডিও পোস্ট করেছে গোষ্ঠীটি। সেখানে দেখা গেছে, ভূপাতিত একটি সৌদি যুদ্ধবিমানের চারপাশে জড়ো হয়েছেন হুথি যোদ্ধারা এবং সবাই উচ্চকণ্ঠে একযোগে বলছেন, ‘আল্লাহু আকবার’।   আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে সৌদি আরবের। ইতোমধ্যে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি দখল করেছে হুথি যোদ্ধারা, যা সৌদির জন্য বড় দুঃসংবাদ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাব এল মান্দেব প্রণালি দিয়ে এত দিন নিজেদের অধিকাংশ জ্বালানি তেল রপ্তানি করে আসছিল সৌদি আরব।   হুথিরা যায়িদি শিয়াপন্থি মুসলিম এবং তাদের আদি বাসস্থান ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে। ২০১৫ সাল থেকে উত্তর ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণ করে আসা হুথি গোষ্ঠী পুরো ইয়েমেনের দখল চায়; আর এ পথে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা সৌদি আরব এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।   সূত্র : এএফপি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব