আলাদা সংস্করণে আলাদা অধিনায়কের নীতি অনুসরণ করে বিসিবি জাতীয় ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাসকে। প্রথম দফায় এক বছরের জন্য দায়িত্ব পাওয়া মিরাজের ওয়ানডে অধিনায়কত্বের মেয়াদ ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর লিটনের নেতৃত্বের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। আজ বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দুজনের নেতৃত্বের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম। এই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল লিটন দাসকে। তবে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজের বাদ পড়া এবং উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। তবু এই সংস্করণে লিটনের প্রতি আস্থা রেখে তার নেতৃত্বের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এই সময় পর্যন্ত লিটনের ডেপুটি হিসেবে কাজ করবেন সাইফ হাসান। ২০২৭ পর্যন্ত ওয়ানডে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন মিরাজ। আর টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে লিটনের মেয়াদ বেড়েছে ২০২৮ পর্যন্ত। গত মাসে মিরাজের নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত ওয়ানডে দলের দায়িত্বে থাকবেন মিরাজ।
চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির ঘরেই রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও তাপপ্রবাহের দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে তীব্র গরমের মধ্যেই আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও পটুয়াখালী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও অব্যাহত থাকতে পারে। তবে রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) একই সময় পর্যন্ত রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এদিন দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। তবে এই দুই দিনে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) একই সময় পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তাপমাত্রা সামান্য কমলেও বৃহস্পতিবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১–২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে দেশের সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া ফেনীতে ১৮ মিলিমিটার, নীলফামারীর রাজারহাটে ৫ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে শনিবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী বর্ধিত পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে ক্রমান্বয়ে তাপমাত্রা আবারও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য মুসলিমদের বৃহৎ বার্ষিক সম্মেলনের ওপর জারি করা সরকারি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন দেশটির একটি প্রশাসনিক আদালত। এর ফলে গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ল্য বুরজে এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। আয়োজক সংগঠন ‘মুসলমান দ্য ফ্রঁস’ এক বিবৃতিতে আদালতের এ সিদ্ধান্তকে মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, পূর্বে জারি করা নিষেধাজ্ঞাটি ছিল অযৌক্তিক, অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আইনগতভাবে টেকসই নয়। আদালতের জরুরি বিচারক তার রায়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার একটি মৌলিক স্বাধীনতা, যা সুরক্ষিত রাখা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে সীমিত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে, তবে তা হতে হবে একান্তই শেষ অবলম্বন হিসেবে। সংগঠনটির ভাষ্য, প্যারিস পুলিশ প্রশাসন অনুষ্ঠান শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তার পক্ষে পর্যাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। রায়কে আইনি সাফল্য হিসেবে স্বাগত জানালেও নিষেধাজ্ঞা জারির সময় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আয়োজকরা। তাদের মতে, কয়েক সপ্তাহের প্রস্তুতি, উল্লেখযোগ্য আর্থিক বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ—সংগঠন, প্রদর্শক, বাণিজ্যিক অংশীদার ও হাজারো অংশগ্রহণকারীর জন্য এ সিদ্ধান্ত বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো কার্যকর সংলাপ বা বিকল্প প্রস্তাব ছাড়া অনুষ্ঠান শুরুর অল্প সময় আগে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনটি আরো জানায়, এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা তাদের অধিকার নিয়ে আপস না করার অবস্থান তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং এর লক্ষ্য পারস্পরিক সংলাপ, সংহতি ও সামাজিক সম্পৃক্ততা জোরদার করা। উল্লেখ্য, ফ্রান্সে মুসলিমদের এ বার্ষিক সম্মেলনটি দেশটির অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক সমাবেশ হিসেবে পরিচিত। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ দর্শনার্থীরা অংশ নেন।
ইরানকে একটি চু্ক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ফের ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। ইরান যদি এই সময়সীমার মধ্যে একটি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয় বা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয় তাহলে দেশটিতে আরও তীব্র হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, স্মরণ করুন যখন আমি ইরানকে একটি চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে- তাদের ওপর নরক নেমে আসার আগে ৪৮ ঘণ্টা আছে। ঈশ্বরের গৌরব হোক! ৬ এপ্রিল, সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় রাত ৮টায় এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছেন। একবার কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন তো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোমা মেরে ইরানকে ‘প্রস্তরযুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন। ইরানে পরপর যুক্তরাষ্ট্রে দুটি সামরিক বিমান ধ্বংস হওয়া ও এক জীবিত ক্রুর দেশটিতে নিখোঁজ হওয়া নিয়ে চাপে পড়েছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধ ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রবেশ করলেও শান্তি আলোচনার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না আর জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনসমর্থন হ্রাস পাওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের নেতৃবৃন্দ অনমনীয় মনোভাব দেখিয়ে আসছেন। এরমধ্যেই শনিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য নীতিগতভাবে দরজা খোলা রাখলেও ট্রাম্পের দাবির কাছে নতি স্বীকার করার বিষয়ে তেহরানের ইচ্ছার কোনো ইঙ্গিত দেননি। সামাজিক মাধ্যম এক্স এ তিনি বলেন, তাদের প্রচেষ্টার জন্য আমরা পাকিস্তানের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা আমরা কখনো অস্বীকার করিনি। আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অবৈধ যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী অবসানের শর্তাবলী নিয়েই শুধু আমরা ভাবিত। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে আর এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে।
ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন চাঁদপুরের কচুয়ার প্রবাসী শ্রমিক কাউসার হোসেন (৪০)। জীবিকার তাগিদে বিদেশে গিয়ে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের লড়াই করলেও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার সেই স্বপ্ন থেমে গেছে চিরতরে। বর্তমানে অর্থাভাবে তার মরদেহ এখনও ওমানেই পড়ে আছে। প্রিয়জনের শেষ দেখা ও দেশে দাফনের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে শোকাহত পরিবার। নিহত কাউসার হোসেন চাঁদপুর জেলার কচুয়া পৌরসভার নূর মিয়া সওদাগর বাড়ির আমির হোসেনের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে তিনি কাজের সন্ধানে ওমানে যান। সেখানে রুস্তাক শহরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৯ মার্চ কাজ শেষে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কাউসারের মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। টিনের ছোট ঘরে বসবাস করা পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিহতের স্ত্রী জান্নাত আক্তার জানান, পরিবারের সুখের জন্যই তার স্বামী বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এখন তিন মেয়েকে নিয়ে তিনি দিশেহারা। সন্তানরা শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখতে চায়। যেকোনোভাবে মরদেহ দেশে এনে দাফন করতে চান তারা। এদিকে কাউসারের বাবা-মা জানান, ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। সেই ঋণ এখনো পরিশোধ হয়নি। এমন অবস্থায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বজনরা। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থান সংকটে এমন উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের ভর্তি নিতে পারছে না রাজধানীর দুই হাসপাতাল। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালে গত কয়েকদিনে হামের লক্ষণ নিয়ে আসা শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে রোগীদের স্বজনরা বলছেন, অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে ভর্তি করাতে না পেরে তারা পেরেশান। এ কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অন্যত্র যাওয়ার পরামর্শ দিলেও তারা সরছেন না। সিট না থাকলেও মেঝেতে থাকার শর্তেও হাসপাতালে থাকছেন তারা। আজিমপুর মাতৃসদনে মূলত প্রসূতিদের সেবা দেওয়া হলেও অনেকটা বাধ্য হয়ে হাম আক্রান্ত রোগী রাখতে হচ্ছে। ছয়জন শিশুর জন্য আলাদা একটি ওয়ার্ড করা হয়েছে। এর বাইরে কোনো রোগী নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে মিরপুর রোডের বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের সবগুলো বিভাগই শিশু চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত চিকিৎসা সেবার মধ্যে বেশির ভাগ হামের রোগীকে ভর্তি করা হলে অন্য শিশুরা বড় ধরনের শঙ্কায় পড়বেন। এই হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৫৪টি সিট নিয়ে আলাদা একটি ওয়ার্ড করলেও সেখানে ভর্তি আছে ৬৪ জন রোগী। এর বাইরে আর কোনো রোগী নিচ্ছেন না তারা। এমনকি গত দুই দিনে প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী আশপাশের হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়ার কথাও বলেছে কর্তৃপক্ষ। আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালে দেড় বছর বয়সি মেয়ে ফাতিমা ইসলাম আদিবাকে নিয়ে গত রোববার ভর্তি হয়েছেন তার মা মনি আক্তার। মনি আক্তার বলেন, মিরপুর থেকে এখানে আসছি। অন্য হাসপাতালে যাওয়ার সিট পাই নাই। পরে একজন কইলো- এখানে পাব। এখানে এসেও দেখি খারাপ অবস্থা। অনেক কাকুতি মিনতি করে ভর্তি হয়েছি। পাঁচ দিন পরে এখন শরীর কিছুটা ভালো। জ্বর আসে, আবার ওষুধ দিলে ভালো হয়ে যায়। শরীয়তপুর থেকে ১৪ মাসের ছোট ছেলে মো. হাসানকে নিয়ে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালে এসেছেন সালমা আক্তার। তিনি বলেন, আমার বড় ছেলেরে এই হাসপাতালে চিকিৎসা করাইছি। হাসানের বাবা বিদেশে থাকে, ছেলেটার জ্বর ঠান্ডা অনেক বেশি হওয়ার পরে চার দিন অপেক্ষা করেছি। শরীরে হামের অবস্থা দেখে সরাসরি এখানে আসছি। আমি তো এই হাসপাতাল ছাড়া আর কিছু চিনি না। তাই ডাক্তারদের অনেক অনুরোধের পর ভর্তি করেছে। এখন ছেলেটা সুস্থ হচ্ছে। এ হাসপাতালের পরিচালক রাশিদুল আলম বলেন, আমাদের এখানকার চিকিৎসাতো মূলত প্রসূতিদের এবং নবজাতকদের সেবা দেওয়া। তারপরও শিশু বিভাগ থাকার কারণে শিশু চিকিৎসাও দেওয়া হয়। অনেকে এখানে আসেন, বলতে গেলে বাধ্য হয়েই আমরা ছয়টা সিট দিয়ে একটা ওয়ার্ড চালু করেছি। এর বাইরে আর কোনো রোগী নিচি না। শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ঢাকার শিশু হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত চারজন মারা গেছেন। রোগীর প্রচণ্ড চাপ থাকলেও এখানে ভর্তি নিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আউটডোর সেবা দিলেও ভর্তির জন্য পরামর্শ দিচ্ছে ঢাকার অন্য হাসপাতালে যাওয়ার। গাজীপুরের একজন পোশাক কারখানার কর্মীর স্ত্রী মঞ্জিলা আক্তার চার দিন আগে ৮ মাসের বাচ্চা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ঢাকার শিশু হাসপাতালে। তিনি বলেন, সরকারী হাসপাতাল ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। এখানে নিয়ে আসছি, প্রথমে ডাক্তাররা বলছে, সিট নাই। পরে অকেক্ষণ বসে থেকে হাতে পায়ে ধরে এখানে ভর্তি হয়েছি। এখন ছেলেটার শরীর কিছুটা ভালো। একই কথা বলেন গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে আসা এক মাদ্রাসা শিক্ষকের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার। তিনি বলেন, আজকে ১২ দিন হইলো ভর্তি হইছি, ৭ মাসের মেয়েটার শরীর অনেক খারাপ হয়ে গেছিল। প্রথম দিকে আইসাও ভর্তি হইতে কষ্ট হইছে। এখন কিছুটা ভালো। হাসপাতালের পরিচালক মো. মাহবুবুল হক বলেন, এখানে নিচতলায় ২ নম্বর ওয়ার্ড পুরোটা হামের জন্য দিয়েছি। সেখানে ৫৪টি সিট আছে। শনিবার বিকাল পর্যন্ত ৬৪ রোগী ভর্তি আছে। আর কোনো রোগী নিচ্ছি না, ভর্তি নেওয়ার সুযোগও নাই। এ পর্যন্ত শিশু হাসপাতালে ১৭২ শিশুর হামের চিকিৎসা হয়েছে। ভর্তি না হতে পেরে আর্তনাদ হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসককে দেখাতে পেরেছেন তারা। চিকিৎসক ভর্তির পরামর্শ দিলেও ভর্তি হতে না পেরে শিশুদের মায়েদের অনেককে আর্তনাদ করতে দেখা গেছে শিশু হাসপাতালে। সেখানে ৯ মাসের শিশুকে নিয়ে আসা টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের বাসিন্দা রিকশাচালক সুমন মিয়া বলেন, টাঙ্গাইল সদর হাসপাতাল থেকে বলছে এখানে আসতে। এখানে ডাক্তার দেখে বললো ঢাকা মেডিকেল, সোহরাওয়ার্দী বা অন্য কোনো জায়গায় যেতে। কই যামু, ৯ মাসের মেয়েটার অবস্থা ভালো না স্যার। একটু বলে দেখেন ভর্তি করে কি না। এক বছরের ছেলেকে নিয়ে কাঁদতে দেখা যায় মানিকগঞ্জ থেকে শামীম ইসলামের স্ত্রী আসমা আক্তারকে। তিনি বলেন, এখান থেকে তো না করে দিছে, এখন কই যামু। কামালের বাপতো সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গেছে ওইখানে সিট আছে কি না দেখতে। আমরা গরীব মানুষ, আর কই যামু। এক শিশু থেকে অন্যরা আক্রান্ত হচ্ছে দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ বাড়ার পেছনে এক শিশুর মাধ্যমে অন্য শিশুর আক্রান্ত হওয়ার কথা বলেছেন আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক সুমনা খন্দকার শিমু। তিনি বলেন, অভিভাবকদের সচেতনতার ওপরও নির্ভর করে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে এখন জ্বরে আক্রান্ত কোনো শিশু স্কুলে নেওয়া উচিৎ না। এ ক্ষেত্রে যারা টিকা নিয়েছে তারাও আক্রান্ত হতে পারে। কারণ আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর। শিশু হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, হাম প্রতিরোধে প্রথমে দরকার সচেতনতা বাড়ানো। প্রাদুর্ভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাক-প্রাথমিক স্কুল বন্ধ করে দেওয়া দরকার ছিল।
চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির ঘরেই রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও তাপপ্রবাহের দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে তীব্র গরমের মধ্যেই আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও পটুয়াখালী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও অব্যাহত থাকতে পারে। তবে রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) একই সময় পর্যন্ত রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এদিন দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। তবে এই দুই দিনে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) একই সময় পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তাপমাত্রা সামান্য কমলেও বৃহস্পতিবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১–২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে দেশের সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া ফেনীতে ১৮ মিলিমিটার, নীলফামারীর রাজারহাটে ৫ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে শনিবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী বর্ধিত পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে ক্রমান্বয়ে তাপমাত্রা আবারও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালে মার্কিন ভোটের ফলাফল জয়ী ঘোষণার পর বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব প্রকাশ করেছে। তবে ভিন্ন ভিন্ন আইএসইউবিশেষ করে সামনের দিকে, অর্থনীতি ও আবারও উস্ফীতি—নিয়ে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত প্রকাশকারীদের মধ্যে অসন্তুষ্টি সমান বলে বলে শব্দ জরিপে উঠে আসে। ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট ইউগভ (YouGov)-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালকে ভোট দেওয়া ৩৮ শতাংশ ভোটার এবং এখন তার উপর আস্থা রাখতে পারছেন না। এই তার প্রতি প্রতি সদস্য কমরিস এর ভোটারদের হার প্রায় দুগুণ। জরিপে গেছে, ভোটারদের ‘সম্পূর্ণ নিশ্চিত সমর্থনের হার দেখা’ ৭৪ শতাংশ থেকে ৬২ শতাংশে অংশগ্রহণ করে। একই সঙ্গে প্রায় ৫ শতাংশ ভোটার রাজ্য করেছেন যে ভোটকে দেওয়া তাদের কথা ছিল। বিশ্লেষকদের শব্দ, অনুশোচনার হার আরও বেশি হতে পারে। কোন বিষয়বস্তু অসন্তোষ বেশি? দেশের বাইরের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের প্রধান বিষয়গুলো: তার দাম নিয়ন্ত্রণে বতাতা: ৪৫% স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ: ৩৯% অর্থনীতি: ৩০% বাইরের: ২৮% বৈদেশিক বহিরাগত: ২৫% বিশেষ করে যুদ্ধ সংগ্রাম ও এক ধরনের প্রকাশক যুদ্ধের প্রকাশের বড় প্রভাব প্রকাশ করেছে বলে ঘোষণা করা হচ্ছে। পছন্দ ব্যাঙ্কেও ফাল: শক্তির সবচেয়ে ভালো নেতা সমর্থক হিসেবে পরিচিত ‘শ্রমজীবী ওয়াশেঙ্গ ভোটার’দের মধ্যেও সমর্থন সমর্থন করেছে। আগে যেখানে এই কাউন্সিলর ৬৩ শতাংশ বাকি ছিল, এখন তা আবারও ৪৯ শতাংশ। মনে, তরুণ ও হিস্পানিক নারদের মধ্যেও অনুশোচনা হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতের প্রভাব? জরিপ মতামত, যদি আবার হয় তবে ৮৪ শতাংশ ভোটের ভোটার, ভোট দিতে রাজি। তবে কমলা হ্যারিস-এর ক্ষেত্রে এই ৯১ শতাংশ— যা হারের হারের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিশ্লেষকদের বক্তব্য, প্রশ্নের মূল সমর্থনের মধ্যে এই ধরনের ‘নরম সমর্থন’ বা দ্বিধা পরবর্তী বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী অংশের প্রতিফল দেখা যেতে পারে। ‘অশোনুচনা’ শব্দটি ব্যবহার করতে নাও, জরির তথ্য উপস্থাপন—ট্রাম্পের কথার কথার একটি বড় অংশ এখন তার গঠন ও গঠনের বিষয়ে সন্দিহান। এই প্রবণতা রাজনীতিতে থাকলে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে।
ইরানকে একটি চু্ক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ফের ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। ইরান যদি এই সময়সীমার মধ্যে একটি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয় বা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয় তাহলে দেশটিতে আরও তীব্র হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, স্মরণ করুন যখন আমি ইরানকে একটি চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে- তাদের ওপর নরক নেমে আসার আগে ৪৮ ঘণ্টা আছে। ঈশ্বরের গৌরব হোক! ৬ এপ্রিল, সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় রাত ৮টায় এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছেন। একবার কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন তো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোমা মেরে ইরানকে ‘প্রস্তরযুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন। ইরানে পরপর যুক্তরাষ্ট্রে দুটি সামরিক বিমান ধ্বংস হওয়া ও এক জীবিত ক্রুর দেশটিতে নিখোঁজ হওয়া নিয়ে চাপে পড়েছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধ ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রবেশ করলেও শান্তি আলোচনার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না আর জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনসমর্থন হ্রাস পাওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের নেতৃবৃন্দ অনমনীয় মনোভাব দেখিয়ে আসছেন। এরমধ্যেই শনিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য নীতিগতভাবে দরজা খোলা রাখলেও ট্রাম্পের দাবির কাছে নতি স্বীকার করার বিষয়ে তেহরানের ইচ্ছার কোনো ইঙ্গিত দেননি। সামাজিক মাধ্যম এক্স এ তিনি বলেন, তাদের প্রচেষ্টার জন্য আমরা পাকিস্তানের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা আমরা কখনো অস্বীকার করিনি। আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অবৈধ যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী অবসানের শর্তাবলী নিয়েই শুধু আমরা ভাবিত। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে আর এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইরানকে একটি চু্ক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ফের ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। ইরান যদি এই সময়সীমার মধ্যে একটি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয় বা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয় তাহলে দেশটিতে আরও তীব্র হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, স্মরণ করুন যখন আমি ইরানকে একটি চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে- তাদের ওপর নরক নেমে আসার আগে ৪৮ ঘণ্টা আছে। ঈশ্বরের গৌরব হোক! ৬ এপ্রিল, সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় রাত ৮টায় এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছেন। একবার কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন তো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোমা মেরে ইরানকে ‘প্রস্তরযুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন। ইরানে পরপর যুক্তরাষ্ট্রে দুটি সামরিক বিমান ধ্বংস হওয়া ও এক জীবিত ক্রুর দেশটিতে নিখোঁজ হওয়া নিয়ে চাপে পড়েছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধ ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রবেশ করলেও শান্তি আলোচনার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না আর জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনসমর্থন হ্রাস পাওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের নেতৃবৃন্দ অনমনীয় মনোভাব দেখিয়ে আসছেন। এরমধ্যেই শনিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য নীতিগতভাবে দরজা খোলা রাখলেও ট্রাম্পের দাবির কাছে নতি স্বীকার করার বিষয়ে তেহরানের ইচ্ছার কোনো ইঙ্গিত দেননি। সামাজিক মাধ্যম এক্স এ তিনি বলেন, তাদের প্রচেষ্টার জন্য আমরা পাকিস্তানের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা আমরা কখনো অস্বীকার করিনি। আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অবৈধ যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী অবসানের শর্তাবলী নিয়েই শুধু আমরা ভাবিত। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে আর এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালে মার্কিন ভোটের ফলাফল জয়ী ঘোষণার পর বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব প্রকাশ করেছে। তবে ভিন্ন ভিন্ন আইএসইউবিশেষ করে সামনের দিকে, অর্থনীতি ও আবারও উস্ফীতি—নিয়ে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত প্রকাশকারীদের মধ্যে অসন্তুষ্টি সমান বলে বলে শব্দ জরিপে উঠে আসে। ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট ইউগভ (YouGov)-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালকে ভোট দেওয়া ৩৮ শতাংশ ভোটার এবং এখন তার উপর আস্থা রাখতে পারছেন না। এই তার প্রতি প্রতি সদস্য কমরিস এর ভোটারদের হার প্রায় দুগুণ। জরিপে গেছে, ভোটারদের ‘সম্পূর্ণ নিশ্চিত সমর্থনের হার দেখা’ ৭৪ শতাংশ থেকে ৬২ শতাংশে অংশগ্রহণ করে। একই সঙ্গে প্রায় ৫ শতাংশ ভোটার রাজ্য করেছেন যে ভোটকে দেওয়া তাদের কথা ছিল। বিশ্লেষকদের শব্দ, অনুশোচনার হার আরও বেশি হতে পারে। কোন বিষয়বস্তু অসন্তোষ বেশি? দেশের বাইরের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের প্রধান বিষয়গুলো: তার দাম নিয়ন্ত্রণে বতাতা: ৪৫% স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ: ৩৯% অর্থনীতি: ৩০% বাইরের: ২৮% বৈদেশিক বহিরাগত: ২৫% বিশেষ করে যুদ্ধ সংগ্রাম ও এক ধরনের প্রকাশক যুদ্ধের প্রকাশের বড় প্রভাব প্রকাশ করেছে বলে ঘোষণা করা হচ্ছে। পছন্দ ব্যাঙ্কেও ফাল: শক্তির সবচেয়ে ভালো নেতা সমর্থক হিসেবে পরিচিত ‘শ্রমজীবী ওয়াশেঙ্গ ভোটার’দের মধ্যেও সমর্থন সমর্থন করেছে। আগে যেখানে এই কাউন্সিলর ৬৩ শতাংশ বাকি ছিল, এখন তা আবারও ৪৯ শতাংশ। মনে, তরুণ ও হিস্পানিক নারদের মধ্যেও অনুশোচনা হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতের প্রভাব? জরিপ মতামত, যদি আবার হয় তবে ৮৪ শতাংশ ভোটের ভোটার, ভোট দিতে রাজি। তবে কমলা হ্যারিস-এর ক্ষেত্রে এই ৯১ শতাংশ— যা হারের হারের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিশ্লেষকদের বক্তব্য, প্রশ্নের মূল সমর্থনের মধ্যে এই ধরনের ‘নরম সমর্থন’ বা দ্বিধা পরবর্তী বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী অংশের প্রতিফল দেখা যেতে পারে। ‘অশোনুচনা’ শব্দটি ব্যবহার করতে নাও, জরির তথ্য উপস্থাপন—ট্রাম্পের কথার কথার একটি বড় অংশ এখন তার গঠন ও গঠনের বিষয়ে সন্দিহান। এই প্রবণতা রাজনীতিতে থাকলে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত সাতটি সামরিক উড়োজাহাজ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ শুক্রবার পৃথক ঘটনায় একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। খবরে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ভুলবশত দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিতে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। তবে ওই তিন বিমানের ছয়জন ক্রুই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর ১২ মার্চ ইরাকের আকাশে একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। একই সময় আরেকটি উড়োজাহাজ নিরাপদে পাশের একটি দেশে অবতরণ করে। গত ২৭ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়। এছাড়া একই হামলায় একটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতি দেখাচ্ছে—প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে মার্কিন বাহিনী উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। তথ্যসূত্র : সিএনএন
‘ট্রু প্রমিস-৪’ অভিযানের ৯৫তম ধাপে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার (৪ এপ্রিল) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির দাবি, এই অভিযানে কুয়েতের হিমারস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, বাহরাইনের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট একটি জাহাজেও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন লেগে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, জাহাজটির নাম ‘এমএসসি ইশিকা’ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য মতে, জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ছিল এবং বাহরাইন থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে, ইরান তাদের বিরোধী দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে বাধা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ব্যবহৃত এ নৌপথে চলাচলকারী সব জাহাজের ওপর টোল আরোপের কথাও ভাবছে তারা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।