যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এমন একটি সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে। তবে ইসরায়েলের অনেক নেতা এই সমঝোতার সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েল থাকত না। আর আমি না থাকলেও ইসরায়েল থাকত না, কারণ আমি যা করেছি, তা করতে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট প্রস্তুত ছিলেন না। নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে এখন লেবাননের বিষয়ে নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি আরও বলেন, লেবানন ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণ আমার ভালো লাগেনি। তাদের আরও দ্রুত কাজটি শেষ করা উচিত ছিল। বিষয়টি অনেক বেশি দীর্ঘায়িত হয়েছে। এমন হলে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সমঝোতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর আগে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের খুব বেশি আর্থিক মূল্য না থাকলেও, মনস্তাত্ত্বিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সেই মজুতকৃত ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উচিত। তার মতে, ইরানের পুরো পারমাণবিক স্থাপনাই ধ্বংস হয়ে গেছে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া একটি জটিল কাজ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, এ ধরনের কাজ করার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম শুধু চীনের কাছেই রয়েছে। তবে যেভাবেই হোক, এই কাজটি করা প্রয়োজন। সূত্র : বিবিসি
দীর্ঘ ৫৩ বছর পর এনবিএ শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতে উঠেছিল নিউইয়র্ক। তবে উদযাপনের মধ্যেই টাইমস স্কয়ার এলাকায় গুলির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দে শত শত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করে। এসময় উল্লসিত ভক্তরা বাস ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে, যার ফলে অর্ধশাতধিক লোককে গ্রেপ্তার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্ক নিক্সের শিরোপা উদযাপনের সময় টাইমস স্কয়ার এলাকায় পরপর কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারায় তাকে পুলিশের গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। উদযাপন চলাকালে আরও কয়েকজন আহত হন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত চারজন ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন। এদিকে আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, টাইমস স্কয়ারে এক ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে একটি লোডেড আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করছে পুলিশ। শিরোপা উদযাপন ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি বেসবল ব্যাট দিয়ে পুলিশ গাড়িতে হামলা চালায়, গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে এবং পাঁচটি স্কুলবাস ও পাঁচটি পুলিশ যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। অনেককে সড়কের বাতিস্তম্ভ ও ট্রাফিক সিগন্যালের ওপর উঠে আতশবাজি ফোটাতে দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলবাসগুলোর কিছু ব্যবহার করা হচ্ছিল ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ উপলক্ষে দর্শকদের পরিবহনের কাজে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কয়েকজন বাসের ছাদে উঠে পড়ে এবং চালকের আসনেও বসে পড়ে। এর মধ্যে একটি হলুদ স্কুলবাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা, অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের পর এই প্রথম এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিক্স। ১৯৯৯ সালের পর এবারই প্রথম তারা এনবিএ ফাইনালে উঠেছিল। এর আগে ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি। নিকসের শিরোপা উদযাপন উপলক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বিজয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র : এনডিটিভি ও বিবিসি
তুর্কি টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ, ‘ওয়ান লাভ’ সিরিয়ালের ইশিল চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া অভিনেত্রী এজে ইর্তেম আর নেই। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তুর্কি শোবিজ অঙ্গনে। জন্মদিন উদযাপনের কয়েক ঘণ্টা পরই বাসায় নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় এই অভিনেত্রীকে। মেয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার মা নুরিয়ে ইর্তেম। হঠাৎ এই মৃত্যু ঘিরে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক ও নানা প্রশ্ন। এজে ইর্তেমের মা নুরিয়ে ইর্তেম জানান, রোববার বিকেলে বাসার পাশে একটি ভেন্যুতে জন্মদিনের আয়োজনে অংশ নেন মা ও মেয়ে। সেখানে কেক কাটা হয়। রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে তারা বাসায় ফেরেন। পরদিন সকালে নাশতার জন্য মেয়েকে ডাকলে কোনো সাড়া পাননি। নুরিয়ে ইর্তেম বলেন, ‘আমি তার ঘরে ঢুকে দেখি মুখ থেকে অস্বাভাবিক ধরনের তরল বের হচ্ছিল। রাতে সে অনেক অ্যালকোহল পান করেছিল এবং শক্তিশালী অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধও সেবন করেছিল।’ এজে ইর্তেম আত্মহত্যা করেছেন কি না, তা নিয়েও রহস্য তৈরি হয়েছে। তবে এজে ইর্তেমের আইনজীবী বলছেন, প্রাথমিকভাবে তারা সন্দেহ করছেন, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন তিনি। আইনজীবী জানান, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আত্মহত্যার গুঞ্জবও নাকচ করে করেছেন আইনজীবী। ইজমির শহরে এজে ইর্তেমের শেষকৃত্য হবে। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হবে। ১৯৯১ সালের ১৪ জুন তুরস্কের সিভাস শহরে এজে ইর্তেমের জন্ম। তিনি ইয়াশার ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন। ২০১৪ সালে ‘কাচাক গেলিনলার’ সিরিয়াল নিয়ে অভিনয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ‘ও হায়াত বেনিম’, ‘শেরেফ মেসেলেসি’সহ বেশ কয়েকটি সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন। ‘ওয়ান লাভ’ সিরিয়ালে ইশিল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। দর্শকপ্রিয় এই তুর্কি ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি দেশের উদীয়মান পর্দা-তারকাদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
ভারতের গুজরাট প্রদেশের আহমেদাবাদ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে দেশের সিনেমা ‘ময়না’। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা রাজ রিপা। এটি পরিচালনা করেছেন মনজুরুল ইসলাম মেঘ। পরিচালক জানিয়েছেন, আগামী ১ থেকে ৪ অক্টোবর ভারতের গুজরাট প্রদেশে অনুষ্ঠিত হবে আহমেদাবাদ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। আয়োজক কর্তৃপক্ষ আমাদের সরাসরি উৎসবে অংশগ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে, আমরা সশরীরে উৎসবে অংশগ্রহণ করব। উৎসব আয়োজক কর্তৃপক্ষ ইমেইল বার্তায় অফিসিয়াল সিলেকশনের বিষয়টি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান সিনেমা কিং লিমিটেডকে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ‘ময়না’ সিনেমার পরিচালক মেঘ। আলিম উল্লাহ খোকনের গল্প ও প্রযোজনায় ময়না সিনেমার চিত্রনাট্য, সংলাপ রচনা করেছেন মনজুরুল ইসলাম মেঘ। এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে চিত্রনায়িকা হিসেবে অভিষেক হয়েছে নবাগত রাজ রিপার। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোমেনা চৌধুরী, নাদের চৌধুরী, সুব্রত, আমান রেজা, কায়েস আরজু, আরিফিন জিলানী, আফ্ফান মিতুল, জারা, সুচনা, খলিলুর রহমান কাদরী, সূচনা সিকদার, আনোয়ার, সীমান্ত, স্মৃতি রানী দেবী, তাহমিনা মোনা, মন্টু, সোহেল, সাব্বির ও শিশু শিল্পী জান্নাতুল ভোর। অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিশির সরদার, চিত্রনায়িকা জলি ও আপন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, চলতি বর্ষা মৌসুম শেষে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে সারা দেশে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বাজেটের প্রাপ্যতা অনুযায়ী এসব নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজন করা হবে। প্রাথমিক ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এ সময় তিনি জানান, নবগঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের মোট ১৩টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক পরিকল্পনা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় বড় অঙ্কের বাজেট প্রয়োজন হয়, যা চলতি জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের বিস্তারিত ব্যয় নির্ধারণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরু হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার কাজ শুরু করবে।
ইরানের সঙ্গে হতে যাওয়া সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। বিশেষ করে পারমাণবিক বিষয়ে একের পর এক ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে তেহরানের সদিচ্ছা কতটুকু রয়েছে, তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাটির মনে মারাত্মক সন্দেহ রয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই চুক্তিটি নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার চুক্তিটির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তিটি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টারা বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। সূত্র মতে, সেসব বৈঠকে ট্রাম্প এবং তার দল এমন কিছু গোপন গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করেছেন, যা থেকে জানা গেছে, ইরানি কর্মকর্তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় চুক্তিটি নিয়ে যেভাবে কথা বলছেন, তা মধ্যস্থতাকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে ‘অসংগতিপূর্ণ’। সিআইএ পরিচালক র্যাটক্লিফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই গোয়েন্দা তথ্যগুলো ওয়াশিংটনের চাওয়া অনুযায়ী ইরান শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহের সৃষ্টি করে। তবে প্রশাসনের ভেতরের এই মতভেদ নিয়ে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সব ধরনের মতামতই শোনেন, তবে সবাই এটা ভালো করেই বোঝেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক একমাত্র তিনিই। হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা চুক্তির পক্ষে সাফাই গেয়ে আরও বলেন, এই চুক্তিটি বর্তমান প্রশাসনের দীর্ঘদিনের সব কঠোর শর্তগুলো পূরণ করে। কারণ এটি নিশ্চিত হবে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না, তারা তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না এবং বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহকে আর কখনোই জিম্মি করার সুযোগ পাবে না। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে জার্মানি ও ইউরোপ অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি কঠিন রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। জার্মানি ও ইউরোপ বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং দেশটিকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে অত্যন্ত আগ্রহী।’ মঙ্গলবার জার্মান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হার্টম্যান ও এফএফও’র দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তারা সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে এই প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) মোশাররফ হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষই দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথা তুলে ধরে। আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও বিশেষভাবে স্থান পায়। হার্টম্যান বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সমর্থনের জন্য জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, এই ধরনের সফর জার্মানি এবং বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পথ উন্মুক্ত করবে। প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথেও সাক্ষাৎ করে। বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানি বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। জার্মান কর্মকর্তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়নমূলক উদ্যোগসমূহ পরিদর্শনের জন্য কাশিমপুরে ডিবিএল গ্রুপের টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা ঘুরে দেখেন।
নাটোরের লালপুরে দুই বিদেশি নাগরিককে হেনস্তা, অশ্লীল মন্তব্য ও অর্থ দাবির ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আকাশকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে লালপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার সিরোইল কলোনি এলাকার বাসিন্দা এবং মো. সেলিমের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে লালপুরের গ্রীন ভ্যালি পার্কে আয়োজিত একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা কয়েকজন ব্যক্তি পার্কে ঘুরতে আসা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত দুই বিদেশি নাগরিকের পথরোধ করেন। এ সময় তাদের উদ্দেশে অশোভন মন্তব্য করা হয় এবং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিদেশি নাগরিকদের কাছে অর্থ দাবি করা হয় এবং অর্থ না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে পার্ক কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরদিন ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ৯ মে গ্রীন ভ্যালি পার্কের ম্যানেজার এস এম ওয়াজেদুর রহমান বাদী হয়ে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছিল। মামলার প্রধান আসামি আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনকে দ্রুত একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চলমান যুদ্ধের কারণে উভয় পক্ষই বিপুলসংখ্যক মানুষ হারিয়েছে এবং এই সংঘাতের অবসান হওয়া প্রয়োজন। খবর আনাদোলু এজেন্সির। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার উচিত একটি চুক্তি করা। তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি যা পারি তাই করব’ যুদ্ধ বন্ধে সহায়তা করার জন্য। ট্রাম্পের দাবি, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ ধরনের ঘটনা আর দেখা যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু গত মাসেই দুই পক্ষ মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার সৈন্য নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যাদের অধিকাংশই তরুণ সেনাসদস্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, গত রোববার তিনি পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই আলোচনায়ও তিনি যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, সৈন্য হারাচ্ছে, এবং অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। এদিকে মঙ্গলবারই তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠককে ‘খুব ভালো’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ততই বাড়ছে।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
রাশিয়া ও ইউক্রেনকে দ্রুত একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চলমান যুদ্ধের কারণে উভয় পক্ষই বিপুলসংখ্যক মানুষ হারিয়েছে এবং এই সংঘাতের অবসান হওয়া প্রয়োজন। খবর আনাদোলু এজেন্সির। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার উচিত একটি চুক্তি করা। তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি যা পারি তাই করব’ যুদ্ধ বন্ধে সহায়তা করার জন্য। ট্রাম্পের দাবি, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ ধরনের ঘটনা আর দেখা যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু গত মাসেই দুই পক্ষ মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার সৈন্য নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যাদের অধিকাংশই তরুণ সেনাসদস্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, গত রোববার তিনি পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই আলোচনায়ও তিনি যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, সৈন্য হারাচ্ছে, এবং অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। এদিকে মঙ্গলবারই তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠককে ‘খুব ভালো’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ততই বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে অবশেষে অবসান ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধটির। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত থাকবে। এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ও শত্রুদের দমনের ক্ষমতা যেমন বড় ধাক্কা খেয়েছে, তেমনি মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতাও বিশ্বের সামনে প্রকাশ পেয়ে গেছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন যখন তার সীমিত অস্ত্রভাণ্ডার উজাড় করে দিচ্ছিল, তখন চীন অত্যন্ত গভীরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা পর্যবেক্ষণ করেছে। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একটি চরম ভুল হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করে শুরু হয়েছিল। তারা ভেবেছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল এবং এই যুদ্ধ হবে সংক্ষিপ্ত ও সহজেই বিজয়ী হওয়ার মতো। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং মার্কিন হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুল ধ্বংস হয়ে ১২০ জনেরও বেশি স্কুলছাত্রীসহ অন্তত ১৫০ জন বেসামরিক মানুষ মারা যান। ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভিডিও বার্তায় ইরানের সরকার পতনের যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই চরম আঘাতের পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, বরং খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের তরুণ ও আগ্রাসী কমান্ডারদের নেতৃত্বে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। ইরানের এই প্রতিরোধ ও পালটা কৌশল উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদনকারী আরব রাজতন্ত্রগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রতায় ফাটল ধরিয়েছে। এত দিন ধরে নিজেদের স্থিতিশীলতার দ্বীপ মনে করা এই দেশগুলোর ব্যবসায়িক মডেল এখন চরম হুমকির মুখে এবং এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বহু বছর লেগে যাবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তারা এখন আর কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা না রেখে তাদের মিত্রতা বহুমুখীকরণের কথা ভাবছেন এবং ইরানের সাথে কীভাবে সহাবস্থান করা যায়, সেই পথ খুঁজছেন। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই আকস্মিকভাবে এই যুদ্ধ শুরু করা হয়। যুদ্ধের ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল হরমুজ প্রণালি, যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কৃষিকাজের জন্য জরুরি সার ও সেমিকন্ডাক্টরের কাঁচামাল পরিবহন করা হয়। এই দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে এবং আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের মতো দরিদ্র দেশগুলো মারাত্মক খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হয়। এখন দুই পাতার ১৪ দফার এই সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে এই সমঝোতা কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি নয়, বরং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো জটিল বিষয়গুলো ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য তোলা রইল। এই চুক্তিতে পূর্ণ অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও ইসরাইলকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হয়েছে, যা নেতানিয়াহু সরকারকে চরম হতাশায় ফেলেছে। নেতানিয়াহু তার পুরো রাজনৈতিক জীবন যে শত্রুকে ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ইরানকে অক্ষত রেখে যুদ্ধ শেষ করায় তিনি এখন নিজ দেশে রাজনৈতিক বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন, যা আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে তার জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বর্তমানে অন্যতম প্রধান জটিলতা হিসেবে রয়ে গেছে লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক দখলদারিত্বের ঘোষণা। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল দখল করে রাখা এবং বৈরুতে সাম্প্রতিক ইসরাইলি বিমান হামলা মূলত এই শান্তি আলোচনা নস্যাৎ করার একটি চেষ্টা ছিল। কিন্তু তা ব্যর্থ করে আলোচনা আরও গতি পায়। ট্রাম্প ইতোমধ্যেই নেতানিয়াহুর ওপর তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ইসরাইল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আরও আগ্রাসন চালাবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারির যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বেসর্বা ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ করে দিয়েছে এবং বিশ্বমঞ্চে মার্কিন পরাশক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখার লড়াইকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে মোকাবিলার দায়িত্ব সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ ইসরায়েলকে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা হিজবুল্লাহ ইস্যুতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি বলেন, আমি ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছি হিজবুল্লাহর বিষয়টি সিরিয়াকে সামলাতে দিতে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় তারা এ কাজ আরও ভালোভাবে করতে পারবে। ট্রাম্প দাবি করেন, সিরিয়ার বর্তমান নেতৃত্ব হিজবুল্লাহর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে না এবং সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা রাখে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি কোনো সাধু নন, কিন্তু দেশকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করেছেন। হিজবুল্লাহর বিষয়ে তিনি খুবই দক্ষ এবং তাদের পছন্দও করেন না। হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার লক্ষ্যে ইসরায়েল বহু বছর ধরে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। তবে সংগঠনটির রকেট হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ করতে এখন পর্যন্ত সফল হয়নি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল অনেক দীর্ঘ সময় ধরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এতে অতিরিক্ত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করতে গিয়ে পুরো আবাসিক ভবন ধ্বংস করা উচিত নয়। ট্রাম্পের মতে, প্রতিবার কাউকে খুঁজতে গিয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ সেখানে অনেক মানুষ বসবাস করে এবং তারা সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নয়। সূত্র : সিএনএন
ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রুশ সেনাদের চীনা সামরিক সদস্যরা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। খবর আনাদোলু এজেন্সির। মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, এ দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং এটি অপবাদ ও মানহানিকর বক্তব্য। এর আগে লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস দাবি করেন, চীনা সামরিক সদস্যদের দ্বারা রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে পাওয়া প্রতিবেদনগুলো ইইউ যাচাই করেছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। এদিকে কালাস আরও জানান, বৈঠকে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বা নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার প্রতি চীনের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসলেও বেইজিং বারবার দাবি করে আসছে যে তারা সংঘাতের বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।