সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
আবেদ আলীর মতো প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্ত সোহাগও চাইলেন নামাজের সুযোগ

সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অনুসন্ধানে নাম উঠে আসা অভিযুক্তদের একজন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকির। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল২৪ এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে নামাজ পড়ার সুযোগ চাইতে দেখা গেছে।   এর আগে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তারের সময় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীও নামাজ পড়ার সুযোগ চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অনুসন্ধানের প্রতিবেদক তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফেসবুকে এক পোস্টে তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আবেদ আলীকে যখন ধরেছিলাম, তিনিও ইন্টারভিউয়ের মাঝপথে বলেছিলেন, ‘‘আমাকে নামাজ পড়ার সুযোগ দিন’’।   পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আবেদ আলীর বিখ্যাত উক্তি (যা ইনকাম করেছি সব আল্লাহর রাস্তায় খরচ করেছি)। যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকিরও ইন্টারভিউয়ের মাঝপথে নামাজ পড়ার সুযোগ চাইলেন। মানুষ যুগে যুগে ধর্মকে ব্যবহার করে এসেছে। উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২ জন নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর আগে ভোরেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। সকাল ৯টার পর প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিক্ষুব্ধরা।   এরপর প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে অনুসন্ধানে নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। সংস্থাটির অভিযানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।   গ্রেপ্তাররা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮) এবং দুই চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২)।   সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি। অনুসন্ধানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্নপত্রের সম্ভাব্য উৎস, সরবরাহের ধাপ এবং চক্রের সদস্যদের মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।   তিনি বলেন, গত বুধবার মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরও সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী আসাদুল ইসলামকে রাজধানীর উত্তরখান ও মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ। বৃহস্পতিবার এসআরবি-৪-এর একটি দল সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার মোহাম্মদপুর থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   প্রশ্নপত্র কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের চ্যাট পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান। এরপর নূর মোহাম্মদ প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে প্রশ্নপত্র ও উত্তর চক্রের অন্য সদস্য এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।   এসআরবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তবে প্রশ্নপত্রটি প্রথম কোথা থেকে এসেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।   এদিকে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আলোচনায় আসা সোহাগ ফকিরকে নিয়ে চ্যানেল২৪ এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে প্রথমে নিজের কার্যালয়ে দেখা করতে রাজি হননি। পরে ফার্মগেটের একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করেন। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা কথা হলেও তিনি প্রথমে মুখ খুলতে চাননি। একপর্যায়ে তথ্য-প্রমাণ দেখানোর পর সোহাগ নামাজ পড়তে দাঁড়ান।   পরে সোহাগ ফকির দাবি বলেন, আমার পরিচিতের ৩-৪ জনের পরীক্ষা ছিল। ওদের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ডাটা ইন্ট্রি অপারেটর রুবেল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলাম। তখন ওর মাধ্যমে প্রশ্নটা পেয়েছিলাম।   এর আগে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীকে বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় তার সঙ্গে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে আবেদ আলীর বিরুদ্ধে।  

২ ঘন্টা আগে
সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে হত্যা মামলা, প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে গণপিটুনিতে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেবহাটা সার্কেল, কালীগঞ্জ-দেবহাটা থানা ও এসআরবি-৬’র সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর দেবহাটায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের এক যুবক গণপিটুনির শিকার হন। পরে তার মৃত্যু হয়। শামীম উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে।   এ ঘটনায় শামীমের ভাই আব্দুল জলিল সানা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়। এতে পারুলিয়ার ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।   মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় পাঁচ ও ছয় নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এবার মামলার প্রধান আসামি আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হলো।

২ ঘন্টা আগে
হঠাৎ ঢাকায় আসছেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

সব ঠিক থাকলে আগামীকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) ভুটানের থিম্পু সফর করবেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে সব বিমান সেখানে সরাসরি যাতায়াত করে না। থিম্পু যাওয়ার পথে সৈয়দপুর, ঢাকা কিংবা ভারতের কোথাও ট্রানজিট করতে পারেন ইনফান্তিনো।   ফলে বিশ্ব ফুটবল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তার আগামীকাল বাংলাদেশে স্বল্প সময় অবস্থান করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাফুফে এখনো নিশ্চিত না হলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে।   জানা গেছে, বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেছেন। যদি ফিফা সভাপতি বাংলাদেশে ট্রানজিট নেন এবং তিনি যদি চান তাহলে যেন ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা খুব দ্রুত হয়।   ইনফান্তিনো যদি বিমানবন্দরে ভিআইপি জোনে ট্রানজিটে থাকেন, সেক্ষেত্রে বাফুফে সভাপতি ও সহসভাপতিরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।   এর আগে আগে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফিফা আসিয়ান কাপ চলাকালে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সবুজের ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আগামীকাল ঢাকায় পা রাখলে ফিফা সভাপতির সঙ্গে আবারও দেখা করবেন তাবিথ আউয়াল।

২ ঘন্টা আগে
উখিয়ায় রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নারী-শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীও রয়েছেন।   এ ঘটনায় আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে ভেতরে থাকা পর্যটকেরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কয়েকজন দরজা-জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ভবন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন।   ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রথম দফায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারও অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।   একই পরিবারের ছয়জন নিহত অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা রয়েছেন। নিহত হয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভীও।   নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- ইসরাত জাহান মালিহা, নাফিসতা মীম, ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান আহমেদসহ অন্যরা।   পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাফিজ তেহামী, নাবিলা, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। ফারিহা কবির ছিলেন নাফিজের বড় বোন এবং শিশু ফাইজান তার ভাগ্নে। তাদের পরিবারের ৯ সদস্য বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই রিসোর্টে। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।   আশিকুল ইসলামের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগুন লাগার পর আশিকুল ইসলাম রিসোর্টের দোতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। তবে তার স্ত্রী, স্ত্রীর বোনসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছেন। ওই স্বজন কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানান।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য জানান। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।   জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   আহতদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক ও তার স্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।   কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় পাঁচ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য একজন পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   উদ্ধারকাজে একাধিক বাহিনী অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।   ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করেন।   রিসোর্টটির ইনচার্জ মো. সুমন ইসলাম বলেন, আগুন লাগার পরপরই তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে বলে তারা ধারণা করছেন।   স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, ঘুম থেকে উঠে তিনি রিসোর্টটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভবনটি আগুনে পুড়ে যায়।   একই এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন লাগার পর কয়েকজন পর্যটককে জীবন বাঁচাতে লাফ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।   ইউনুস নামের এক স্থানীয় যুবক অভিযোগ করেন, রিসোর্টটিতে আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।   স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া বলেন, পর্যটন এলাকায় প্রায়ই ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে উখিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে।   তদন্ত কমিটি গঠন   জেলা প্রশাসন গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ এবং রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য দায় নির্ধারণ করা হবে।   কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে প্রায় ২৯ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে এর অবস্থান। আগুনে রিসোর্টটির পুরো স্থাপনা পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ
উখিয়ায় রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নারী-শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীও রয়েছেন।   এ ঘটনায় আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে ভেতরে থাকা পর্যটকেরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কয়েকজন দরজা-জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ভবন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন।   ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রথম দফায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারও অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।   একই পরিবারের ছয়জন নিহত অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা রয়েছেন। নিহত হয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভীও।   নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- ইসরাত জাহান মালিহা, নাফিসতা মীম, ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান আহমেদসহ অন্যরা।   পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাফিজ তেহামী, নাবিলা, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। ফারিহা কবির ছিলেন নাফিজের বড় বোন এবং শিশু ফাইজান তার ভাগ্নে। তাদের পরিবারের ৯ সদস্য বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই রিসোর্টে। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।   আশিকুল ইসলামের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগুন লাগার পর আশিকুল ইসলাম রিসোর্টের দোতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। তবে তার স্ত্রী, স্ত্রীর বোনসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছেন। ওই স্বজন কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানান।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য জানান। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।   জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   আহতদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক ও তার স্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।   কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় পাঁচ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য একজন পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   উদ্ধারকাজে একাধিক বাহিনী অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।   ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করেন।   রিসোর্টটির ইনচার্জ মো. সুমন ইসলাম বলেন, আগুন লাগার পরপরই তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে বলে তারা ধারণা করছেন।   স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, ঘুম থেকে উঠে তিনি রিসোর্টটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভবনটি আগুনে পুড়ে যায়।   একই এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন লাগার পর কয়েকজন পর্যটককে জীবন বাঁচাতে লাফ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।   ইউনুস নামের এক স্থানীয় যুবক অভিযোগ করেন, রিসোর্টটিতে আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।   স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া বলেন, পর্যটন এলাকায় প্রায়ই ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে উখিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে।   তদন্ত কমিটি গঠন   জেলা প্রশাসন গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ এবং রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য দায় নির্ধারণ করা হবে।   কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে প্রায় ২৯ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে এর অবস্থান। আগুনে রিসোর্টটির পুরো স্থাপনা পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৮, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
পিস্তল হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস, আরেক হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই একদল লোককে তাড়া শুরু করলেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।   পিস্তলের স্লাইড টেনে সেটিকে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকগুলোর দিকে তাক করে “অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া” বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাকে।   শনিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে এরকম একটা ভিডিও আপলোড করা হয়।   ভিডিওর ক্যাপশন লেখা, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’।   ঘটনাটি গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় শনিবার ঘটেছে বলে ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে।   ভিডিওতে ইশরাক ছাড়াও সাদা পোশাকের আরও একজনকে অস্ত্র হাতে কিছু লোককে তাড়া করতে দেখা যায়।   গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, "উনারা ৬ জনকে ধরে মাদকসেবী বলে জানালে আমরা গিয়ে নিয়ে আসি। তাদের কাছে কিছু পাউডার পাওয়া গেছে, সেগুলো কী, তা পরীক্ষায় জানা যাবে।”   তারা এ ধরনের 'অভিযান' চালানোর সময় পুলিশকে জানিয়েছিল কিনা জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি ওসি।   ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ওয়ারি বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা বলেন, “আমরা যতটুকু জেনেছি, ছয়-সাতজনকে ধরে তিনি থানায় দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় (অভিযানের বিষয়ে) পুলিশকে আগে থেকে জানাননি, আমরা পরে বিষয়টি জেনেছি।”   পিস্তল হাতে একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর এরকম অভিযানের ঘটনায় নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।   ইশরাকের ভিডিওর নিচে সাখাওয়াত হোসেন খান নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, “এভাবে ওপেন কেউ পিস্তল ব্যবহার করতে পারে!”   তার মন্তব্যের নিচে ৪৫টি মন্তব্য পড়েছে। বেশির ভাগ উত্তরে বলা হয়েছে, পিস্তলের লাইসেন্স থাকলে এভাবে ব্যবহার করতে পারে।   মো. হোসেইন আক্তার তানজিন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “গরীবের ফাটাকেষ্ট”।   মো. মাসুম নামে একজন লিখেছেন, “প্রথমে ভাবছিলাম কোনো ছবির শ্যুটিংয়ের দৃশ্য,পরে দেখি বাস্তব ঘটনা।”   মোহাম্মদ হোসেইন লিখেছেন, “দেশে পুলিশের অভাব পড়ছে?”   সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ইশরাকের ভিডিওতে পাঁচ হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন।   সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে আরেকটি পোস্টে আসে। সেখানে বলা হয়, “ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।   তিনি বলেছেন, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তাঁর শাস্তি আরও বড় হবে।”   পোস্টে আরও বলা হয়, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ ঢাকায় আসছেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

সব ঠিক থাকলে আগামীকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) ভুটানের থিম্পু সফর করবেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে সব বিমান সেখানে সরাসরি যাতায়াত করে না। থিম্পু যাওয়ার পথে সৈয়দপুর, ঢাকা কিংবা ভারতের কোথাও ট্রানজিট করতে পারেন ইনফান্তিনো।   ফলে বিশ্ব ফুটবল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তার আগামীকাল বাংলাদেশে স্বল্প সময় অবস্থান করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাফুফে এখনো নিশ্চিত না হলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে।   জানা গেছে, বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেছেন। যদি ফিফা সভাপতি বাংলাদেশে ট্রানজিট নেন এবং তিনি যদি চান তাহলে যেন ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা খুব দ্রুত হয়।   ইনফান্তিনো যদি বিমানবন্দরে ভিআইপি জোনে ট্রানজিটে থাকেন, সেক্ষেত্রে বাফুফে সভাপতি ও সহসভাপতিরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।   এর আগে আগে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফিফা আসিয়ান কাপ চলাকালে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সবুজের ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আগামীকাল ঢাকায় পা রাখলে ফিফা সভাপতির সঙ্গে আবারও দেখা করবেন তাবিথ আউয়াল।

ছবি: সংগৃহীত
তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে।   তিনি বলেন, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলেই প্রতিটি নাগরিকের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। আর তখনই সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ও অনুদান প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে যুবকদেরই এগিয়ে আসতে হবে।’   যুবসমাজের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য তরুণ রয়েছেন, যারা কেউ শিক্ষার্থী, কেউবা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত। নিজেদের পড়াশোনা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা মানুষের কল্যাণে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসছেন। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের এই উদ্যোগ ও অবদান দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা আজ এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন, তাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতায় যারা সাফল্য অর্জন করেন, তাদের অধিকাংশই তরুণ। একইভাবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও হয়তোবা প্রবীণরা তাদের মেধা, বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু সরাসরি মাঠে থেকে তরুণসমাজই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’   তিনি বলেন, দেশের যে কোনো বড় পরিবর্তন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে তরুণদের শক্তি, সাহস, মেধা ও উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই শক্তিকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।   নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো এখন শুধু আমাদের নয়, দেশের মানুষেরও। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’   তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রতিভাবান যুবকদের সহায়তায় সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্টার্টআপ ফান্ড বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশের মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এজন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের পরিমাণ প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মস্পৃহাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। তরুণদের শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভাবলে চলবে না, দেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে।   অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ যুব স্বেচ্ছাসেবক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধির হাতে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।   এছাড়া যুব সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে দেশের ৪৩২টি যুব সংগঠনকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। প্রতিটি সংগঠনকে দুই লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।   অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে তিনজন তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা নিজেদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।   এছাড়া তরুণ ও যুবকদের জন্য সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।   এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।   অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।’   সূত্র: বাসস

ছবি: সংগৃহীত
বছরের শেষ দুই প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে ও কোস্টারিকা

লিওনেল মেসির বিদায়ের পর নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। চলতি বছরের শেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ দুটিতে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আমেরিকার পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বী উরুগুয়ে এবং মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকা।   আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এরপর ১৭ নভেম্বর কর্দোবার মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে কোস্টারিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির দল।   মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর এই ম্যাচ দুটি আর্জেন্টিনার জন্য নতুন করে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক গত ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি টানেন। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে জয় পায়। বিদায়ী ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আরও দুটি গোলে অবদান রাখেন মেসি।   মেসিকে ছাড়াই বড় জয় আর্জেন্টিনার মেসির বিদায়ের আগে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল আর্জেন্টিনা। সেসব ম্যাচে দলের সঙ্গে ছিলেন না এই মহাতারকা। তবে তাঁকে ছাড়াও দারুণ পারফরম্যান্স দেখায় আলবিসেলেস্তেরা। কর্দোবায় বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারানোর পর রিভার প্লেটের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। টানা বড় জয়ে দলের শক্তিমত্তার প্রমাণ মিলেছে বলে মনে করছেন সমর্থকেরা।   স্কালোনির অধীনেই নতুন পথচলার অপেক্ষা আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তির মাধ্যমে পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের পর স্কালোনি জানিয়েছিলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি কোচ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন। ফলে নভেম্বরের ম্যাচ দুটি তাঁর দলকে নতুন পরিকল্পনায় এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হতে পারে।   নতুন নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা মেসির পাশাপাশি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও। তাঁর বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার নেতৃত্বে উঠে এসেছেন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তাঁর নেতৃত্বেই মাঠে নেমেছিল দলটি। এদিকে, ২০৩০ বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্‌যাপনকে ঘিরে বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচগুলো আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকায় বাছাইপর্বের নিয়মেও ব্যতিক্রম থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, মেসি ও ওতামেন্দিকে ছাড়া নতুন নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা কতটা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, নভেম্বরের দুটি প্রীতি ম্যাচে সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত ২০ জন
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৮, ২০২৬

ভারতের কলকাতার উত্তরাঞ্চলে দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও এক শিশু রয়েছে।   এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গিরিশ পার্ক থানা এলাকার চোরে বাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম টিভি৯ বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।   কলকাতা পুলিশ জানায়, বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রবেশপথে পদদলনের ঘটনা ঘটে।   আহতদের উদ্ধার করে এমসিএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়। দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   ঘটনার পর আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।   পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘চোরে বাগান পূজামণ্ডপে পদদলনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এই কঠিন সময়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের শক্তি ও সাহসের জন্য প্রার্থনা করছি।   এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পদদলনের সময় অনেকেই জ্ঞান হারান। তাদের অনেককে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।   আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ খুব সরু ছিল। ওই এলাকায় আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। আমার মেয়ে ও নাতনি হাসপাতালে ভর্তি।

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে সাগরে ভাসছে আইফোন, কুড়াতে ছুটছেন ইরানিরা: টেলিগ্রাফ
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬

পারস্য উপসাগরের ইরান উপকূলজুড়ে সাধারণত বানদারি সুর ভেসে আসে। যেখানে ভোরের আলো ফুটতেই ঢোল আর তালির ছন্দে কাঠের নৌকা নিয়ে জেলেরা সাগরে ভেসে পড়েন। তবে এই সপ্তাহে তারা একদমই অন্যরকম এক শিকারে বেরিয়েছেন।   শিপিং কন্টেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ গত ১৪ অক্টোবর ডুবে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালির পানিতে ভেসে ওঠে আইফোন, ফরাসি সুগন্ধি এবং হরেক রকমের মালামাল। সেগুলো তুলে আনতেই উদ্ধারকারী নৌকা ও স্কিফ নিয়ে প্রণালিজুড়ে ছড়িয়ে পড়েন শত শত জেলে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, আমরা সবাই মিলে হরমুজ প্রণালীর দিকে যাচ্ছি। শুনতে পেলাম একটা কন্টেইনার জাহাজ ডুবে গেছে, তাই আইফোন আর সেন্ট কুড়াতে যাচ্ছি।   জাহাজটির ফ্ল্যাগ রাষ্ট্র ছিল সিঙ্গাপুর। তারা জানিয়েছে, জাহাজে আগুন লাগার পর এটি ডুবে যায়। তবে এর ২১ জন ক্রু সদস্যের সবাইকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-র নৌবাহিনী দাবি করেছে, জাহাজটি একটি অননুমোদিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ রুটে চলে গিয়েছিল এবং এটি একটি সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে সৃষ্ট আগুনে ২৫শ'রও বেশি কন্টেইনার নিয়ে জাহাজটি তলিয়ে যায়।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান বহু জাহাজে হামলা চালালেও খুব কম জাহাজই ডুবেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’-এর পর ‘জিএফএস প্রাইড’ হলো এই যুদ্ধের তৃতীয় ডুবে যাওয়া জাহাজ।   প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, অর্ধেক ডুবে থাকা কন্টেইনারগুলোর মাঝখান দিয়ে ডজন ডজন নৌকা একে অপরকে এড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং জেলেরা উত্তাল তরঙ্গ থেকে বাক্সগুলো টেনে নৌকায় তুলছেন। একটি ক্লিপে দেখা যায়, একটি মাত্র ছোট্ট নৌকা তার পেছনে আস্ত একটি বিশালাকার শিপিং কন্টেইনার টেনে নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে আইআরজিসি-র নৌ হামলার মাত্রা গত কয়েকদিনে সবচেয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে এ এলাকা থেকে দূরে থাকার সতর্কতা জারির পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদেরকেও ভেসে থাকা কন্টেইনারগুলোর আশপাশে সাবধানে নৌকা চালাতে অনুরোধ করেছে।   শুক্রবার ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা যদি এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যায় তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে, আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে যৌথ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির উন্নতি ঘটবে। আর যদি আমেরিকা না যায়, তবে আমরা তাদের বিতাড়িত করব।   সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

ছবি: সংগৃহীত
‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের বিদ্রূপ, নির্বাচনী সমাবেশে বিতর্কিত মন্তব্য
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৭, ২০২৬

মুসলিম বিশ্বে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালটনে এক নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।   সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ব্যক্তির নাম সম্পর্কে নিশ্চিত না থাকলে তাকে ‘মোহাম্মদ’ বলে সম্বোধন করলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে নাম মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।   তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সন্দেহ থাকলে শুধু ‘মোহাম্মদ’ বললেই ৬৫ শতাংশ ক্ষেত্রে তা মিলে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে সম্বোধন করে আসছেন এবং কখনো ভুল করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।   ইসলাম ধর্মের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নামের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম পরিবারে ছেলেসন্তানদের নামের শুরুতে, মাঝে কিংবা শেষে ‘মোহাম্মদ’ যুক্ত করার প্রচলন রয়েছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিরা নীরব ছিলেন। এ সময় তাদের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচন সামনে রেখে জর্জিয়ায় রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে অংশ নেন ট্রাম্প।   ইরান প্রসঙ্গেও মন্তব্য ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এ প্রসঙ্গে উপস্থিত কয়েকজনকে ‘মোহাম্মদ’ বলে সম্বোধন করে তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী কি না, এমন প্রশ্ন করেন তিনি। তবে ২০২৪ সালে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাসুদ পেজেশকিয়ান।   সূত্র: রয়টার্সের

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬

পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসনের জবাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমর্থনে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) এই আহ্বানের কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে মস্কোর ওপর আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজটি স্থগিত করা হয়েছে।   হোয়াইট হাউসের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন শীতকাল এগিয়ে আসায় কিয়েভ মস্কোর অব্যাহত হামলার মুখে আরও অরক্ষিত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউক্রেন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও তিনি সরাসরি মার্কিন নেতাকে সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকেছেন।   জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমেরিকায় এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম অ্যাক্ট’-কে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। অথচ এই আইনটি কার্যকর করা হলে তা রাশিয়ার ওপর সত্যিকারের কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে পারত, যা যুদ্ধ অবসানে সহায়তা করত।   তিনি নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরায় কার্যকর করার আশাও প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই আইনটি অত্যন্ত সহায়ক হতে পারত এবং এখনও হতে পারে। তবে এর জন্য আইনটিকে কার্যকর হতে হবে, আর এর সমর্থনে প্রতিটি কণ্ঠস্বরই গুরুত্বপূর্ণ।   কিয়েভের দাবি, মস্কো জ্বালানি অবকাঠামোয় ‘ব্যাপক’ হামলা চালিয়েছে। জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, মস্কো ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় একটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্যবস্তু ছিল সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা ১৫টিরও বেশি স্থাপনা।   তিনি বলেন, রাশিয়ার হামলার ব্যাপকতা এবং অবিরাম গতি আমাদের জ্বালানি খাতের ওপর দুর্ভাগ্যজনকভাবে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রুশ বাহিনী গত রাতে চারটি ক্রুজ মিসাইল এবং ৩৩২টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সবকটি মিসাইল এবং ২৮৯টি ড্রোনকে প্রতিহত বা ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।   শীতের আগে রাশিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর এই তীব্র বোমাবর্ষণ যুদ্ধের একটি বার্ষিক বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ নাগরিকদের উষ্ণতা ও পানি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত করে ইউক্রেনের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মনোবল ভেঙে দেওয়া। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, রাশিয়া আগামী মাসগুলোতে আরও বড় হামলার জন্য ব্যালিস্টিক মিসাইল মজুদ করছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব