চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে রেহানা আক্তার লাকি (৪৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ পাড়ের রান্ধুনীমুড়া এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত রেহানা আক্তার লাকি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়া এলাকার মনিনাগ মজুমদার বাড়ির আব্দুল কাদের বিটু মজুমদারের স্ত্রী। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের মা। স্বজন ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, মেয়ের বাসা থেকে অটোরিকশায় করে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন রেহানা। পথে রান্ধুনীমুড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের সময় অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে কুমিল্লায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ও নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ইরান। এর অংশ হিসেবে এবার নারীদের অস্ত্র পরিচালনা ও শহরাঞ্চলে সরাসরি যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন খোলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাধারণ পোশাক ও সামরিক পোশাক পরা নারীরা অস্ত্র চালনার অনুশীলন করছেন। তাদের কালাশনিকভ রাইফেল, ড্রাগুনভ স্নাইপার রাইফেল, আরপিজি এবং কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা এয়ার ডিফেন্স লঞ্চার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শুধু অস্ত্র পরিচালনাই নয়, প্রশিক্ষণে মানচিত্রের সাহায্যে দিক নির্ণয়, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম এবং অগ্নিনির্বাপণ কৌশলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বোমা হামলার পর ইরানে ‘জান-ফাদা’ নামে একটি বেসামরিক সামরিক প্রতিরোধ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। বাসিজ মিলিশিয়া বাহিনীর অধীনে পরিচালিত এই উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। কর্মসূচিতে নিবন্ধন শুরুর মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নাম নিবন্ধন করেন বলে ইরানি সূত্রের দাবি। এতে দ্রুত প্রথম এক হাজার ইউনিটের সদস্যসংখ্যা পূর্ণ হয়ে যায়। চাহিদা বাড়তে থাকায় সরকার আরও এক হাজার ইউনিট গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। তেহরানের ইমাম হোসেন স্কয়ারে প্রথম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় এলাকাভিত্তিক উদ্ধারকারী ইউনিট গঠন করা হচ্ছে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকদের বড় একটি অংশ নারী। ইরানি কর্মকর্তারা এই উদ্যোগকে ১৯৮০ সালে ইরাকের আগ্রাসনের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ‘২০ মিলিয়নের বাহিনী’ গঠনের আহ্বানের আধুনিক রূপ হিসেবে দেখছেন। এদিকে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তাও দিচ্ছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর নতুন করে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে এর প্রভাব সবার ওপর পড়বে এবং মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হবে। সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমীর হাতামিও বলেছেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। ভবিষ্যতে নতুন হামলা হলে তার জবাব হবে ‘মর্মান্তিক ও চূর্ণবিচূর্ণকারী’। তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হলে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুরোপুরি খুলে দিতে প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটনের একতরফা কোনো দাবি মেনে নেওয়া হবে না এবং মূল দাবিগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞা জোরদার হওয়া এবং তেল রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়ার মধ্যে দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদের আকস্মিক পদত্যাগ পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩২ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় উড়োজাহাজটিতে ২৫ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু এক বিবৃতিতে জানান, বিমানটিতে থাকা সবাই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। দেশটির বিমান চলাচলবিষয়ক মন্ত্রী ফেস্টাস কিয়ামো জানান, বিমানটি এডো রাজ্য থেকে লাগোসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথে ওন্দো রাজ্যের ইগবোকোদা এলাকায় এটি বিধ্বস্ত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে বিমানটির সঙ্গে রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, এডো থেকে লাগোস যাওয়ার পথের মাঝামাঝি এলাকায় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। কিয়ামো আরও জানান, একটি নৌঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়। নাইজেরিয়ান বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এটিআর-৪২ মডেলের। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উদ্ধারকারীদের নৌকায় করে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। নদীর তীরে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও জড়ো হতে দেখা গেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, বিমানটি কয়েকটি গাছপালা অতিক্রম করে নিচে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে মানুষের দেহাংশ, পোশাক ও জুতা পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণকে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরে মন্তব্য করার অভিযোগে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কথোপকথনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ প্রশাসন এ ব্যবস্থা নেয়। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইন চুনারুঘাট থানায় এএসআই হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই তাকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে এক ব্যবসায়ীর করা মামলার তদন্তে যান এএসআই ইলিয়াস। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের সামনে ঘুষ নেওয়া নিয়ে তার একটি বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয় বলে জানা গেছে। পরে ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘুষ গ্রহণের সঙ্গে পুলিশের পোশাক পরার বিষয়টি যুক্ত করে মন্তব্য করতে শোনা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এরপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর ওই রাতেই এএসআই ইলিয়াসকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাফিউর রহমান বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে। পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যের ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছিল এবং তার বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট কী ছিল, সেসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে গাড়ির পাস নিয়ে তর্কের জেরে এক জেটি সরকারকে ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে বন্দরের এক চেকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. আতিকুর রহমান (৪৫) নামে ওই জেটি সরকার আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্দরে উত্তেজনা তৈরি হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আহত আতিকুর রহমান সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান মেসার্স টক ট্রেডের জেটি সরকার। ঘটনার পর তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন জানান, বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে আতিকুর রহমান বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে যান। সেখানে গাড়ির পাস সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বন্দরের নিম্নমান বহিঃসহকারী (জেআরওএ) বা চেকার জুয়েল দের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। মোশারফ হোসেনের অভিযোগ, একপর্যায়ে জুয়েল দে আতিকুর রহমানকে ঘুষি মারেন। এতে তার চোখের নিচে আঘাত লাগে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বন্দরের ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ কেফায়েত হামিম জানান, ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার মুহাম্মদ আনিস উদ্দিন আহাম্মেদও ঘটনাটি ঘটার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মীমাংসা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে গাড়ির পাস নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত কীভাবে এবং ঘটনার সময় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলার সময় সাময়িকভাবে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিদ্যুৎ বিভাগের এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দোকানপাট ও মার্কেট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা ছিল। বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত সময়সূচি কার্যকর থাকবে। ২৩ অক্টোবর থেকে আবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার আগের নিয়ম কার্যকর হবে। নতুন সময়সূচি বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ও ঢাকা দোকান মালিক সমিতিকেও সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানিকেও দেওয়া হয়েছে। কয়েক দফা পরিবর্তন হয়েছে সময়সূচি বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার কথা উল্লেখ করে গত ১২ আগস্ট দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধের সময় রাত ৯টা থেকে কমিয়ে রাত ৮টা করা হয়। তখন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান খোলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সময় মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আলোকিত বিলবোর্ড ও বিভিন্ন ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধের নির্দেশনা ছিল। এর আগে জুনে দোকানপাট রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আর চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে জ্বালানি সংকটের কারণে শপিংমল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখেও সাময়িকভাবে সময় বাড়ানো হয়েছিল। গত ১২ মে থেকে ঈদের আগ পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। পরে জুনে সময় রাত ৯টা এবং আগস্টে রাত ৮টায় নামিয়ে আনা হয়। শ্রম আইনে দোকান বন্ধের সময় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১১৪ ধারায় সাধারণভাবে রাত ৮টার পর দোকান খোলা না রাখার বিধান রয়েছে। তবে রাত ৮টার সময় কোনো ক্রেতা দোকানের ভেতরে থাকলে তাকে আরও ৩০ মিনিট কেনাকাটার সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২২ সালেও সরকার দোকানপাট বন্ধের এ সময়সূচি কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছিল।
নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩২ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় উড়োজাহাজটিতে ২৫ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু এক বিবৃতিতে জানান, বিমানটিতে থাকা সবাই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। দেশটির বিমান চলাচলবিষয়ক মন্ত্রী ফেস্টাস কিয়ামো জানান, বিমানটি এডো রাজ্য থেকে লাগোসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথে ওন্দো রাজ্যের ইগবোকোদা এলাকায় এটি বিধ্বস্ত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে বিমানটির সঙ্গে রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, এডো থেকে লাগোস যাওয়ার পথের মাঝামাঝি এলাকায় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। কিয়ামো আরও জানান, একটি নৌঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়। নাইজেরিয়ান বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এটিআর-৪২ মডেলের। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উদ্ধারকারীদের নৌকায় করে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। নদীর তীরে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও জড়ো হতে দেখা গেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, বিমানটি কয়েকটি গাছপালা অতিক্রম করে নিচে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে মানুষের দেহাংশ, পোশাক ও জুতা পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ও নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ইরান। এর অংশ হিসেবে এবার নারীদের অস্ত্র পরিচালনা ও শহরাঞ্চলে সরাসরি যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন খোলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাধারণ পোশাক ও সামরিক পোশাক পরা নারীরা অস্ত্র চালনার অনুশীলন করছেন। তাদের কালাশনিকভ রাইফেল, ড্রাগুনভ স্নাইপার রাইফেল, আরপিজি এবং কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা এয়ার ডিফেন্স লঞ্চার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শুধু অস্ত্র পরিচালনাই নয়, প্রশিক্ষণে মানচিত্রের সাহায্যে দিক নির্ণয়, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম এবং অগ্নিনির্বাপণ কৌশলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বোমা হামলার পর ইরানে ‘জান-ফাদা’ নামে একটি বেসামরিক সামরিক প্রতিরোধ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। বাসিজ মিলিশিয়া বাহিনীর অধীনে পরিচালিত এই উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। কর্মসূচিতে নিবন্ধন শুরুর মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নাম নিবন্ধন করেন বলে ইরানি সূত্রের দাবি। এতে দ্রুত প্রথম এক হাজার ইউনিটের সদস্যসংখ্যা পূর্ণ হয়ে যায়। চাহিদা বাড়তে থাকায় সরকার আরও এক হাজার ইউনিট গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। তেহরানের ইমাম হোসেন স্কয়ারে প্রথম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় এলাকাভিত্তিক উদ্ধারকারী ইউনিট গঠন করা হচ্ছে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকদের বড় একটি অংশ নারী। ইরানি কর্মকর্তারা এই উদ্যোগকে ১৯৮০ সালে ইরাকের আগ্রাসনের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ‘২০ মিলিয়নের বাহিনী’ গঠনের আহ্বানের আধুনিক রূপ হিসেবে দেখছেন। এদিকে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তাও দিচ্ছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর নতুন করে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে এর প্রভাব সবার ওপর পড়বে এবং মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হবে। সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমীর হাতামিও বলেছেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। ভবিষ্যতে নতুন হামলা হলে তার জবাব হবে ‘মর্মান্তিক ও চূর্ণবিচূর্ণকারী’। তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হলে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুরোপুরি খুলে দিতে প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটনের একতরফা কোনো দাবি মেনে নেওয়া হবে না এবং মূল দাবিগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞা জোরদার হওয়া এবং তেল রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়ার মধ্যে দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদের আকস্মিক পদত্যাগ পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মৎস্য জনবল নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওমান। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশি দক্ষ জনবল নিয়োগের বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) মৎস্য অধিদপ্তরে ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনকের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে ওমানের প্রতিনিধিদল মৎস্য অধিদপ্তর পরিদর্শন করে। বৈঠকে বাংলাদেশের মৎস্য খাতে বিদ্যমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, অবকাঠামো, শিক্ষা কার্যক্রম এবং দক্ষ জনবল তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়। এ সময় মৎস্য অধিদপ্তরের ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটগুলোর কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কারিকুলাম, অবকাঠামো ও জনবল নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন ব্লু ইকোনমি উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ড. মোহাম্মদ শরিফুল আজম। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অবকাঠামো এবং সেখানে পরিচালিত বিভিন্ন কোর্স ও প্রশিক্ষণ কারিকুলাম সম্পর্কেও ওমানের প্রতিনিধিদের বিস্তারিত জানানো হয়। বৈঠকে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে মৎস্য খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করছে। দেশের প্রশিক্ষিত মৎস্য জনবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত জেলে, ডেকহ্যান্ড, স্কিপার, মৎস্য প্রকৌশলী এবং অ্যাকুয়াকালচারে বিশেষায়িত ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের জন্য ওমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত জনবলকে ওমানে কাজের সুযোগ দেওয়া হলে উভয় দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। বৈঠকে ড. খালেদ কনক ওমানের প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট এবং চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ একাডেমি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। এসব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত মেরিন ক্যাডেট ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের দক্ষতা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ হবে বলে তিনি জানান। বৈঠক শেষে ওমানের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের মৎস্য খাতে কর্মরত ও প্রশিক্ষিত জনবলের দক্ষতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মৎস্য জনবল নেওয়ার বিষয়ে তারা আগ্রহ প্রকাশ করে।
নাসির উদ্দিন
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ও নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ইরান। এর অংশ হিসেবে এবার নারীদের অস্ত্র পরিচালনা ও শহরাঞ্চলে সরাসরি যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন খোলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাধারণ পোশাক ও সামরিক পোশাক পরা নারীরা অস্ত্র চালনার অনুশীলন করছেন। তাদের কালাশনিকভ রাইফেল, ড্রাগুনভ স্নাইপার রাইফেল, আরপিজি এবং কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা এয়ার ডিফেন্স লঞ্চার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শুধু অস্ত্র পরিচালনাই নয়, প্রশিক্ষণে মানচিত্রের সাহায্যে দিক নির্ণয়, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম এবং অগ্নিনির্বাপণ কৌশলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বোমা হামলার পর ইরানে ‘জান-ফাদা’ নামে একটি বেসামরিক সামরিক প্রতিরোধ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। বাসিজ মিলিশিয়া বাহিনীর অধীনে পরিচালিত এই উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। কর্মসূচিতে নিবন্ধন শুরুর মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নাম নিবন্ধন করেন বলে ইরানি সূত্রের দাবি। এতে দ্রুত প্রথম এক হাজার ইউনিটের সদস্যসংখ্যা পূর্ণ হয়ে যায়। চাহিদা বাড়তে থাকায় সরকার আরও এক হাজার ইউনিট গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। তেহরানের ইমাম হোসেন স্কয়ারে প্রথম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় এলাকাভিত্তিক উদ্ধারকারী ইউনিট গঠন করা হচ্ছে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকদের বড় একটি অংশ নারী। ইরানি কর্মকর্তারা এই উদ্যোগকে ১৯৮০ সালে ইরাকের আগ্রাসনের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ‘২০ মিলিয়নের বাহিনী’ গঠনের আহ্বানের আধুনিক রূপ হিসেবে দেখছেন। এদিকে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তাও দিচ্ছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর নতুন করে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে এর প্রভাব সবার ওপর পড়বে এবং মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হবে। সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমীর হাতামিও বলেছেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। ভবিষ্যতে নতুন হামলা হলে তার জবাব হবে ‘মর্মান্তিক ও চূর্ণবিচূর্ণকারী’। তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হলে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুরোপুরি খুলে দিতে প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটনের একতরফা কোনো দাবি মেনে নেওয়া হবে না এবং মূল দাবিগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞা জোরদার হওয়া এবং তেল রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়ার মধ্যে দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদের আকস্মিক পদত্যাগ পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩২ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় উড়োজাহাজটিতে ২৫ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু এক বিবৃতিতে জানান, বিমানটিতে থাকা সবাই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। দেশটির বিমান চলাচলবিষয়ক মন্ত্রী ফেস্টাস কিয়ামো জানান, বিমানটি এডো রাজ্য থেকে লাগোসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথে ওন্দো রাজ্যের ইগবোকোদা এলাকায় এটি বিধ্বস্ত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে বিমানটির সঙ্গে রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, এডো থেকে লাগোস যাওয়ার পথের মাঝামাঝি এলাকায় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। কিয়ামো আরও জানান, একটি নৌঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়। নাইজেরিয়ান বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এটিআর-৪২ মডেলের। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উদ্ধারকারীদের নৌকায় করে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। নদীর তীরে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও জড়ো হতে দেখা গেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, বিমানটি কয়েকটি গাছপালা অতিক্রম করে নিচে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে মানুষের দেহাংশ, পোশাক ও জুতা পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বসছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান নিয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের একটি কমিটি। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তাদের বৈঠকে বসার কথা আছে। বৈঠকে তুরস্কের কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রীও অংশ নেবেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকটি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের নেতা হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা দখলের লক্ষ্যেই এ অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং জোটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হবে। জোটের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির এ বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লু অংশ নেবেন। বৈঠকে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।
ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনকে কুঠার দিয়ে হামলার পর উড়োজাহাজটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি। তদন্তকারীদের কাছে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওমানের নাগরিক হামামি ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এর সহ-পাইলট ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ইয়েনেট জানিয়েছে, ইসরায়েলের দিকে যাওয়ার পথে জর্ডানের আকাশসীমায় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে কুঠার দিয়ে আঘাত করেন হামামি। ক্যাপ্টেনকে হত্যার পর স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল তার। এতে সন্দেহ এড়ানো এবং ইসরায়েলে অবতরণের প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বিমানটি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কোনো ভবন বা উড়োজাহাজে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিমানবন্দরে হামলা সম্ভব না হলে তেল আবিবের কোনো সুউচ্চ ভবন অথবা জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিমানটি বিধ্বস্ত করার বিকল্প পরিকল্পনাও ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে হামামির পরিকল্পনা সফল হয়নি। গুরুতর আহত অবস্থায়ও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার প্রতিরোধ করেন, জরুরি সংকেত পাঠান এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। পরে কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা হামামিকে নিয়ন্ত্রণে নেন। উড়োজাহাজে থাকা দুই অবসরপ্রাপ্ত পাইলটের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। আবুধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন মাচ্ছার গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জানান, হামলার কয়েক মিনিট আগে হামামি নামাজ পড়ার কথা বলেছিলেন। এরপর কুঠার দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাই দুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগেই হামামি হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তেল আবিবে কোন বিমান সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনা করে, তা খুঁজে দেখার পর তিনি ফ্লাই দুবাইকে বেছে নেন বলেও দাবি করা হয়েছে। আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও এক সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেন হামামি। ইতালির সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেলা সেরা-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেনকে আক্রমণের পর হামামি বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় পরিবর্তন আনেন। এতে বিমানটি এক মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর হামামির অতীত নিয়েও তদন্ত হচ্ছে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার নিজ দেশ ওমানে তাকে আগে উড়োজাহাজ চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল এবং তার উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ২৯ বছর বয়সী হামামি ওমানের নাগরিক। তার বাবা ওমানের এবং মা সিরিয়ার। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তিনি সেখানে বসবাস করেছিলেন। অনলাইনে আল-কায়েদার প্রতি সমর্থনসূচক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।