সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়য়।   প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত বিস্তৃত বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য সুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।   প্রেস উইং জানায়, সভায় বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। বিশেষ করে বিআরটি’র নকশা, স্টেশন ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, পরিচালন কাঠামো এবং সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে তারা নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।   সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক মো. শামসুল হক, মোসলেহ উদ্দীন হাসান, মো. হাদিউজ্জামান ও রাকিব আহসান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মঈনুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৩ ঘন্টা আগে
‘শিবিরের অপপ্রচার ও গুম-নাটকের’ বিরুদ্ধে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

অপপ্রচার ও গুম-অপহরণ নিয়ে নাটক সাজানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল।   রোববার (১৪ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠালতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরবর্তীতে মিছিলটি সমগ্র ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।   সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘গুম, অপহরণ কিংবা নারী নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এসব ঘটনার নাটক সাজিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, অপপ্রচার ও গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থাকব।’   তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে তাঁরা যেকোনো ধরনের সহিংসতা, নারী নির্যাতন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’   শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। আমরা এ ধরনের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এসব বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।   বিক্ষোভ মিছিলে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম-আহবায়ক সুমন সরদার, মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, শাহরিয়ার হোসাইন, মাহমুদুল হাসান, রফিকুল ইসলাম, রবিউল আউয়াল ,ইয়াকুব শেখ অনিক, শাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ, ইয়াসির আরাফাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩ ঘন্টা আগে
পরীক্ষামূলক উৎপাদনের আগেই রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে ‘ত্রুটি শনাক্ত’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং (fuel loading) এর পর পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যেতে জটিলতা বা ত্রুটি শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন চেষ্টার শুরুতেই প্লান্ট শাটডাউন করতে বাধ্য হয় তারা। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ (IAEA) এর প্রতিনিধিসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল রূপপুরে অবস্থান করছিল।   এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতে প্রথম ইউনিটের সিস্টেমে প্রেশার (চাপ) দেয়ার পর আমরা একটি সামান্য ত্রুটি পেয়েছি। এটি কোনো বড় সমস্যা নয় এবং আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই এটি ঠিক হয়ে যাবে।”     পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষা চলাকালীন প্রকৌশলীরা প্রথম ইউনিটের তিনটি ভিন্ন স্থানে সামান্য ত্রুটি শনাক্ত করেছেন। ঐ কর্মকর্তা জানান, ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে পরবর্তী পরীক্ষা স্থগিত করার এবং কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার আগে সমস্যাগুলো সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছে।     শুরুতেই কি ধরণের সমস্যা হয়েছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং পরীক্ষার সময় প্রায় তিনটি ছোট ছিদ্র (minor holes) তৈরি হয়েছে। জানান, বিষয়টি সামান্য হলেও আমরা ক্ষতির পরিধি ও গুরুত্ব নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এর আগেও এরকম একটি ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।   এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের টিমে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ছোটো-খাটো কারিগরি সমস্যা বা নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘাটতি থাকলে নিউক্লিয়ার প্লান্ট শাটডাউন করতে হয়। তিনি বলেন, জ্বালানি লোডিং পরীক্ষা বা পরীক্ষামূলক উৎপাদনের চেষ্টার সময় সম্ভবত এ ধরণের কোনো বিষয় শনাক্ত করতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এটিকে বড় সমস্যা মনে করছেন না তিনি।    রূপপুর সফরে থাকা আইএই-এর সদস্যরা বলেন, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্র পরিদর্শকের ভূমিকা পালন করবে সংস্খাটি। তবে রেগুলিটরি ক্ষমতা দেশটির নিজেদের হাতেই থাকে। এক্ষেত্রে আইএইএ কেবলমাত্র সহযোগিতা করে থাকে। এর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন যৌথ উদ্যোগে “নিউক্লিয়ার এনার্জি: স্ট্রাটেজি রিয়েলিটিজ অ্যান্ড বাংলাদেশ পাথ ফরোয়ার্ড”শীর্ষক দুই দিনব্যাপী উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।    আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের প্রকল্প বাস্তবায়ন, আইইএ-এর পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) বিশেষজ্ঞরাও এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।   ব্যবসায়ী নেতা, সাংবাদিক, সংসদ সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ঐ আলোচনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, অন্যান্য জ্বালানি-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচ দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলকভাবে কম হবে।   মন্ত্রী জানান, সরকার আরও দুটি নতুন ইউনিট বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। তবে সেটি নির্ভর করছে প্রথম প্রকল্পের ছূড়ান্ত সমাপ্তির ওপর।    কর্মকর্তারা জানান, রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প এবং সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও যেন কেন্দ্রটি টিকে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সরকার এর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।   নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান বলেন, একটি ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম; তাঁর অনুমান অনুযায়ী এমন ঘটনা দশ লাখে মাত্র একবার ঘটতে পারে। তারপরও নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। যার প্রথম ইউনিটে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি-লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে পুরোদমে। আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।    এছাড়া একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানিভরনের কাজ শুরু হবে। অনুরূপ হিসাবেই ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। 

৩ ঘন্টা আগে
ইরানি ক্যাফেগুলো যেভাবে হলো মুম্বাইয়ের প্রাণ

  মুম্বাইয়ের পুরনো ধাঁচের বেশিরভাগ ইরানি ক্যাফেগুলোর অবস্থান রাস্তার ঠিক মোড়ে বা কোণায়। যেন তারা চারদিক থেকে ধেয়ে আসা শহরটির মুখোমুখি হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এটি কেবল একটি ভৌগোলিক অবস্থান নয়, বরং একটি চমৎকার রূপকও বটে। কারণ যে মানুষগুলো এই ক্যাফেগুলো তৈরি করেছিলেন, তারা একদিন নিজেদের মাতৃভূমি ইরানেও এভাবেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। আজ ভারতই তাদের ঘর, আর মুম্বাইয়ের আইল্যান্ড সিটি তাদের চেনা আঙিনা।   অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীতে পারস্যের কাজার রাজবংশের (১৭৮৯-১৯২৫) শাসনামলে তীব্র দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র্য ও ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে জরাথ্রুস্টবাদী ইরানিদের একটি দল মুম্বাইতে পাড়ি জমায়। অষ্টম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে ভারতে আসা পার্সিদের সাথে তাদের পারস্যের মূল ও ধর্মীয় মিল থাকলেও, এই ইরানিরা ছিল মুম্বাইয়ের একেবারেই ভিন্ন এবং সাম্প্রতিক এক অভিবাসী জনগোষ্ঠী।     আজ মুম্বাইয়ের আইল্যান্ড সিটির মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা তাদের এই আইকনিক ক্যাফেগুলোর পেছনের ইতিহাস অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক।     বাস্তুশাস্ত্র ও সস্তা জমির সমীকরণ   মুম্বাইয়ের আকাশচুম্বী আবাসন ব্যবসার রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই ইরানি ক্যাফেগুলো ত্রিকোণাকার প্লট বা রাস্তার মোড়ে গড়ে উঠেছে। মুম্বাইয়ের রন্ধনশিল্প নৃবিজ্ঞানী ও প্রত্নতাত্ত্বিক কুরুশ দালালের মতে, ঐতিহ্যবাহী বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী এই ধরণের জমির পার্সেল বা কোণাগুলোকে একসময় অপয়া বা অশুভ মনে করা হতো। ফলে প্রচলিত প্লটের চেয়ে এগুলোর দাম ছিল অনেক কম।   কুরুশ দালাল বলেন, খারাপ বাস্তুর কারণে হিন্দুরা ওই প্লটগুলো নিতে চাইতো না। ফলে যুক্তি অনুযায়ী যে জায়গাগুলোর দাম সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোই ইরানিরা নামমাত্র মূল্যে কিনে নেয়। মূলত বাস্তুশাস্ত্র নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার ও বিশ্বাসই অবলীলায় জন্ম দিয়েছিল মুম্বাইয়ের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী খাদ্য সংস্কৃতির।   সীমিত পুঁজি নিয়ে আসা নতুন ইরানি অভিবাসীদের জন্য পানির দরে পাওয়া এই কোণাগুলোই নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এই মোড়ের দোকানগুলোই একেকটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়।   সংস্কৃতি ও চেনা স্বাদের মেলবন্ধন   রাস্তার মোড়ে অবস্থিত হলেও দুটি ইরানি ক্যাফে দেখতে কখনোই একরকম নয়, তবে কিছু চিরচেনা সাদৃশ্য এদের এক সুতোয় বেঁধেছে। লাল-সাদা চারকোনা চেকের টেবিলক্লথ, সাদা-কালো লবণ ও গোলমরিচের দানি, দেওয়ালে টাঙানো জরাথ্রুস্টবাদের প্রতীক ফারভাহার এবং পুরনো বাসনকোসন। এছাড়া ক্যাফেগুলোতে রয়েছে ফেলে আসা স্বদেশের স্মৃতি, যেমন ইয়াজদ অগ্নি মন্দিরের ছবি কিংবা ২৬০ খ্রিস্টাব্দের এডেসার যুদ্ধের পর রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানকে বন্দী করার ঐতিহাসিক দৃশ্য সংবলিত নকশ-ই রোস্তমের ফ্রেম। মুম্বাইয়ের আর কোনও রেস্তোরাঁয় এত সংস্কৃতির ছোঁয়া পাওয়া যায় না।   এখানকার খাবারও অনন্য; যা পুরোপুরি পার্সিয়ান নয়, আবার পুরোপুরি মুম্বাইয়ের চেনা স্বাদও নয়, বরং দুইয়ের মাঝামাঝি। ব্রুন-মাস্কা, আকুরি, মিষ্টি ও দুধেল ইরানি চা, খীমা পাও, মাওয়া কেক, ক্যারামেল কাস্টার্ড এবং বেরি পোলাওয়ের মতো খাবারগুলো পারস্যের প্রভাবে তৈরি হলেও, স্থানীয় উপাদান এবং মুম্বাইয়ের কর্মজীবী মানুষের রুচির সাথে মিলিয়ে এর স্বাদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মারাঠি কবি দিলীপ চিত্রে এই ক্যাফেগুলোর একাকীত্ব ও শান্ত মানবিক আবহ নিয়ে ‘অ্যাট মিডনাইট ইন দ্য বেকারি অ্যাট দ্য কর্নার’ নামে একটি বিখ্যাত কবিতাও লিখেছেন।   হারিয়ে যাচ্ছে চেনা ঐতিহ্য   ১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকে কেবল মুম্বাইয়ের আইল্যান্ড সিটিতেই ৩৫০টিরও বেশি ইরানি ক্যাফে ছিল। কিন্তু আজ পুরো মুম্বাই ও তার শহরতলি মিলিয়ে মাত্র ৩৫টির মতো ক্যাফে টিকে আছে। এই বিলুপ্তি অবশ্য অনেক আগেই অনুমান করা হয়েছিল। ২০০৫ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐতিহাসিক জের মহল ভবনে অবস্থিত ক্যায়ানি অ্যান্ড কোং-এর দ্বিতীয় প্রজন্মের মালিক আফলাতুন শোকরিয়ে বলেছিলেন, আমাদের সন্তানরা উচ্চশিক্ষিত এবং তারা এই ব্যবসা চালিয়ে নিতে আগ্রহী নয়। ২০১৫ সালে তার মৃত্যুর পর আজ সেই কথাটিই নির্মম সত্যে পরিণত হয়েছে।   আজকের আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং কৃত্রিম আতিথেয়তার যুগেও স্যাসানিয়ান বোলাঞ্জেরি, ক্যাফে মিলিটারি, ক্যাফে এক্সেলসিয়র কিংবা ব্রিটানিয়া অ্যান্ড কোং-এর মতো টিকে থাকা ক্যাফেগুলো মানুষকে এক টুকরো চেনা অতীত ও মানবিকতার ছোঁয়া দেয়। কাঠের চেয়ার, মার্বেল টপ টেবিল আর দেয়ালের চটা ওঠা রঙের মাঝে ক্যাফেগুলোর সাইনবোর্ডে লেখা থাকে স্পষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা, যেমন কেবল নগদ টাকা নেওয়া হয়, বেশি সময় বসা নিষেধ, উচ্চস্বরে কথা বলা নিষেধ। প্রখ্যাত কবি নিসিম এজেকিয়েল এই বোর্ডগুলো দেখেই লিখেছিলেন তার বিখ্যাত কবিতা ‘ইরানি রেস্টুরেন্ট ইনস্ট্রাকশনস’।   তবে সব ক্যাফে অপরিবর্তিত থাকেনি। সময়ের সাথে সাথে ক্যাফে লিওপোল্ড এবং ক্যাফে মোনদেগার-এর মতো জায়গাগুলো বার-ক্যাফেতে রূপান্তরিত হয়েছে। আবার ভারত ও যুক্তরাজ্যে সোডাবোটলওপেনারওয়ালা বা ডিশুমের মতো চেইন রেস্টুরেন্টগুলো ১৯৬০-এর দশকের ইরানি ক্যাফের আবহ আধুনিক প্রজন্মের কাছে নতুন ব্র্যান্ডিংয়ে ফিরিয়ে এনেছে।   চলতি বছরের ১ জানুয়ারি যখন মুম্বাইয়ের কিংবদন্তি বি মারওয়ান অ্যান্ড কোং চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়, তখন প্রবেশদ্বারে কেবল একটি হাতে লেখা নোট ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল- আমরা বন্ধ। আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। গত বছর বন্ধ হয়ে গেছে জিমি বয়। কোনও ঢাকঢোল না পিটিয়ে নিরবেই বিদায় নিচ্ছে পুরনো মুম্বাইয়ের এই স্মৃতিগুলো। কবি ইমতিয়াজ ধারকার তার কবিতায় হারিয়ে যাওয়া নাজ ক্যাফের স্মৃতিচারণ করে যে হাহাকার প্রকাশ করেছিলেন, তা যেন আজ প্রতিটি ইরানি ক্যাফের ভাগ্যলিপি। তবে শেষ ট্র্যাজেডি এটাই যে, বাস্তুশাস্ত্রে একদা যে কোণগুলোকে অপয়া বলে অবহেলা করা হয়েছিল, আজ তাই মুম্বাইয়ের নস্টালজিয়া ও সবচেয়ে ভালোবাসার সাংস্কৃতিক স্থান হয়ে টিকে আছে।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

৩ ঘন্টা আগে
বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয়
বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়য়।   প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত বিস্তৃত বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য সুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।   প্রেস উইং জানায়, সভায় বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। বিশেষ করে বিআরটি’র নকশা, স্টেশন ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, পরিচালন কাঠামো এবং সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে তারা নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।   সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক মো. শামসুল হক, মোসলেহ উদ্দীন হাসান, মো. হাদিউজ্জামান ও রাকিব আহসান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মঈনুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত
গুম-নির্যাতন মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য আজ

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আজ পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তাজনিত কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ সাক্ষীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।   রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।   প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এদিন মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত ৩ জুন ওই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল তা স্থগিত করে আজকের দিন নির্ধারণ করেন।   মামলাটিতে ইতোমধ্যে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান-সহ চারজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হয়।   বর্তমানে মামলার ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন।   তারা হলেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।   অন্যদিকে পলাতক রয়েছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশিদ এবং র‍্যাবের সাবেক পরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম।

ছবি: সংগৃহীত
সিঙ্গাপুর-কানাডা নয়, আমরা গড়তে চাই উন্নত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডার আদলে গড়ে তোলার কথা তিনি ভাবেন না। তার লক্ষ্য, দেশের বাস্তবতা ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আরও উন্নত একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা।   তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই শুনতাম—বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলবো, কানাডা বানিয়ে ফেলবো। আমি বাংলাদেশকে অন্য কিছু বানাতে চাই না। বাংলাদেশকে আমি আরও ভালো, অর্থাৎ বেটার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।   শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   তিনি বলেন, ‘এই কাজ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’   কক্সবাজারকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল শহর হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে প্রবেশের সময় একটি বড় সাইনবোর্ডে দেখেছি—“বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত”। এই পরিচয়কে আরও মর্যাদাপূর্ণ করতে হবে। কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’   তিনি বলেন, ‘এমন একটি শহর গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে যানবাহন নিয়ম মেনে চলবে, সঠিকভাবে পার্কিং করবে এবং মানুষ নিরাপদে হাঁটাচলা করতে পারবে।’   গত ১৭ বছরে কক্সবাজারের প্রত্যাশিত উন্নয়ন না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ফেরার পর গত সাড়ে চার মাসে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। অনেক ক্ষেত্রেই মনে হয়েছে, যেসব কাজের কথা এখন বলা হচ্ছে, সেগুলো অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়নি।’   তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনেক কাজ জমে আছে। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে হলে অনেকগুলো কাজ একসঙ্গে করতে হবে।’   এ সময় কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা এবং সেখানে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।   অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল, বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী হাসিনা আহমদ উপস্থিত ছিলেন।   পরে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখেন। রাত সোয়া ১২টার দিকে তিনি বিমানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আপত্তিতে নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বাংলাদেশ

ভারতের আপত্তির কারণে বাংলাদেশে নেপালের অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানির পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশে সরবরাহ করবে নেপাল।   নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের বরাতে জানা গেছে, সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রফতানির অনুমোদন স্থগিত করেছে।   এর ফলে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও নেপাল–ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে।   গত বছরের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানির বিষয়ে নীতিগত সম্মতি হয়েছিল। সেই অনুযায়ী নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যবসা নিগম লিমিটেডের মাধ্যমে অতিরিক্ত সরবরাহের অনুরোধ জানায়।   তবে পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভারত–বাংলাদেশ ১ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার সঞ্চালন লাইন অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম নয়।   বর্তমানে বিদ্যমান ব্যবস্থার আওতায় নেপাল থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এটি প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।   নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট রফতানির বিষয়টি অনুমোদনের জন্য এখনো নেপাল–ভারত যৌথ বৈঠক ও নতুন চুক্তি প্রয়োজন, যার সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি।   এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানির বিষয়ে তিন দেশের মধ্যে নীতিগত সমঝোতা হয় এবং পরবর্তীতে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

ছবি: সংগৃহীত
২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তির দাবি শাহবাজের, সময়সূচি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির রূপরেখায় সম্মতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানিয়েছেন, চুক্তির খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর (ই-সাইনিং) আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।   শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। ইসলামাবাদ এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।   তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, আগামী রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ইসলামাবাদ স্মারক’ স্বাক্ষরিত হচ্ছে না।   তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা থাকলেও নির্দিষ্ট সময় নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্যে চুক্তির সময় ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য ইসরাইল সফর নিয়ে আলোচনা
আক্তারুজ্জামান জুন ১৪, ২০২৬

সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি শিগগিরই ইসরাইল সফর করতে পারেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সফরটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে তার প্রথম তেল আবিব সফর।   ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি ইসরাইলে পৌঁছাতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো সোমালিল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   সম্প্রতি ইসরাইল স্বঘোষিত রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দুই পক্ষের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সম্ভাব্য এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সোমালিল্যান্ডের কূটনীতিক ইসমাইল শিরওয়াক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে তেল আবিবে প্রদর্শিত সোমালিল্যান্ড ও ইসরাইলের পতাকার ছবি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য সফরের ইঙ্গিত দেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশমুখে অবস্থিত সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কৌশলগত অবস্থানের কারণে অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যেই ইসরাইল সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, লোহিত সাগর অঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং হুথি গোষ্ঠীর কার্যক্রমও ইসরাইলের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হুথিরা এর আগে ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল।   তবে সম্ভাব্য সফর নিয়ে এখন পর্যন্ত সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় কিংবা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফলে সফরটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ছবি: সংগৃহীত
২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তির দাবি শাহবাজের, সময়সূচি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান তেহরানের
আক্তারুজ্জামান জুন ১৪, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির রূপরেখায় সম্মতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানিয়েছেন, চুক্তির খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর (ই-সাইনিং) আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।   শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। ইসলামাবাদ এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।   তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, আগামী রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ইসলামাবাদ স্মারক’ স্বাক্ষরিত হচ্ছে না।   তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা থাকলেও নির্দিষ্ট সময় নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্যে চুক্তির সময় ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
“ইরানের অশুভ সাম্রাজ্য মোকাবিলায় ট্রাম্পের প্রশংসা” ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের
আক্তারুজ্জামান জুন ১৪, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হারজগ বলেন, “ইরানের অশুভ প্রভাব মোকাবিলায় আপনার নেতৃত্ব এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি আপনার অবিচল অঙ্গীকারের জন্য ইসরায়েলের জনগণ আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।”   তিনি আরও বলেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকান স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের প্রতিচ্ছবি।   হারজগ তার বার্তায় উল্লেখ করেন, “আমাদের প্রিয় জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে আপনার নিরলস প্রচেষ্টা আমরা কখনও ভুলবো না।”   ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবেন।

ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা খাতে ব্যয় কমছে, দারিদ্র্যে নতুন রেকর্ড পাকিস্তানের
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬

পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২৮.৯ শতাংশে পৌঁছেছে।  একই সময়ে শিক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির মাত্র ০.৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৩ অর্থবছরে এই হার ছিল ১.৫ শতাংশ।    পাকিস্তান ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬–এ এই তথ্য জানানো হয়েছে।   খবর জিও নিউজের।  সার্ভে অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২১.৯ শতাংশ, যা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে বহু মানুষ আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এটিকে সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় সামাজিক অবনতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য ২৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৬.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শহরে এই হার ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭.৪ শতাংশ হয়েছে। প্রদেশভিত্তিক হিসাবেও সব এলাকায় দারিদ্র্য বেড়েছে। বেলুচিস্তানে দারিদ্র্য সবচেয়ে বেশি, ৪৭ শতাংশ। খাইবার পাখতুনখোয়ায় ৩৫.৩ শতাংশ, সিন্ধে ৩২.৬ শতাংশ এবং পাঞ্জাবে ২৩.৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। সার্ভেতে আরও বলা হয়েছে, দেশে আয় বৈষম্যও বেড়েছে।  একটি পৃথক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাহ্যিক সংকট বা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে এবং লাখ লাখ মানুষ আবার দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। শিক্ষা খাতে ব্যয় কমে ২০২৫ অর্থবছরে ৯৬২ বিলিয়ন রুপি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম। বিশেষ করে পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় শিক্ষা বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। অবকাঠামোর দুর্বল চিত্রও উঠে এসেছে। দেশের মাত্র ৫৯ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সুবিধা রয়েছে। বেলুচিস্তানে এটি মাত্র ২১ শতাংশ, আর সেখানে টয়লেট সুবিধা প্রায় নেই বললেই চলে (০.৩ শতাংশ)। সার্ভেতে বলা হয়েছে, বর্তমানে পাকিস্তানের সাক্ষরতার হার ৬৩ শতাংশ, নারীদের ক্ষেত্রে ৫৪ শতাংশ। এখনও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, শিক্ষা খাতে টেকসই সংস্কার এবং আরও বিনিয়োগ না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি