সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
আশুলিয়ায় এখনো বন্ধ শতাধিক কারখানা: এসপি মোমিনুল

সাভার-আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর এসপি মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেছেন, আমার আওতাধীন আট শতাধিক কারখানার মধ্যে শতাধিক কারখানা বন্ধ রয়েছে। নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও জিরাবো এলাকার কিছু কারখানা ছাড়া সাভারের অন্যান্য এলাকার অধিকাংশ কারখানায় কাজ চলছে। কিছু কারখানায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।   মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাভার-আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর এসপি মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এসব কথা বলেন।   এরপর বিকালে তিনি যুগান্তরকে বলেন, মঙ্গলবার বিকালে সাভারের হেমায়েতপুর ও তেঁতুলঝোড়া এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছিল। তবে শিল্প পুলিশের প্রচেষ্টায় দুই ঘণ্টার মধ্যে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।   এদিকে সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ দূর করা, গ্রেফতারকৃত নেতাদের মুক্তি এবং দ্রুত সম্মানজনক নতুন মজুরি কাঠামোর দাবিতে মঙ্গলবার বিকালে সাভার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে শ্রমজীবী ঐক্য পরিষদ। এতে ১২টি শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।   বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সুমাইয়া ইসলাম সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করার জন্য সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি নেতারা কারখানাগুলোতে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এবং উৎপাদনে মনোনিবেশ করতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করে শ্রমিক নেতারা বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত নাশকতায় সাধারণ শ্রমিকরা জড়িত নন। তাই অযথা নিরপরাধ শ্রমিকদের হয়রানি না করার জন্য প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

৩ ঘন্টা আগে
দৈনন্দিন কাজে এআইয়ের দক্ষতা যাচাইয়ে নতুন বেঞ্চমার্ক আনল ওপেনএআই

হোমওয়ার্ক থেকে শুরু করে প্রেজেন্টেশন তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি অনেকেই ব্যবহার করছেন। এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবার দাবি করেছে, কেনাকাটা কিংবা দৈনন্দিন বাজেট তৈরির মতো মানুষের প্রাত্যহিক কাজগুলো এআই আরও নিখুঁতভাবে করতে শিখছে। এসব কাজে এআইয়ের দক্ষতা যাচাই করতে ওপেনএআই গত সোমবার একটি অভ্যন্তরীণ টুল এবং নিজেদের এআই মডেলগুলোর মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ করেছে।   ওপেনএআইয়ের তথ্যমতে, বাসা বদলের পর সঠিক কিন্ডারগার্টেন খুঁজে বের করার কাজে তাদের জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেল ৯৩ দশমিক ১ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। এ ছাড়া বন্যার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে সাহায্য করতে এটি ৯৮ শতাংশ এবং ডায়াবেটিস রোগীর সঠিক খাবার রুটিন তৈরিতে ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে।   মেটা, অ্যানথ্রপিক ও গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার এই সময়ে ওপেনএআইয়ের এই মূল্যায়ন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর ওপেনএআই এআইয়ের দক্ষতা মাপতে ‘জিডিপিভ্যাল’ নামের একটি টুল প্রকাশ করেছিল, যার মাধ্যমে শিল্প, সরকার বা অর্থনৈতিক খাতের কাজে এআইয়ের পারদর্শিতা যাচাই করা হতো।   কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে এআইয়ের মূল্যায়ন বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারণ, মানুষের কাজের ধরন ও উত্তর ভিন্ন হয়। ওপেনএআই প্রায় ৪ হাজার ব্যবহারকারীর ওপর জরিপ চালিয়ে জেনেছে, তারা এআইয়ের কাছ থেকে কী ধরনের কাজ প্রত্যাশা করে।   জরিপ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা বাড়ি খোঁজা থেকে শুরু করে প্রিয়জনের যত্ন নেওয়ার মতো বিভিন্ন কাজে এআইয়ের সহায়তা চেয়েছেন। ওপেনএআই মূলত এআইয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করার ক্ষমতা, পুরোনো চ্যাটের তথ্য মনে রেখে উত্তর দেওয়ার পারদর্শিতা এবং ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাধান দেওয়ার দক্ষতা যাচাই করছে।   ওপেনএআই চায়, চ্যাটজিপিটি সাধারণ কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজেও একজন দক্ষ সহকারীর ভূমিকা পালন করুক, যাতে মানুষের জীবনের কাজগুলো আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়।

৩ ঘন্টা আগে
দাদার স্মরণে তহবিল সংগ্রহের ম্যারাথনে অংশ নিয়ে মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে ফিনিশ লাইনের মাত্র দুই মাইল দূরে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ম্যারাথন অ্যাথলেট র‍্যাচেল অ্যাপা।   সেন্ট্রাল পার্কের কাছ থেকে এই  ২৪ বছর বয়সী সাবেক কলেজ অ্যাথলেটকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।   সম্পূর্ণ সুস্থ ও চমৎকার শারীরিক গঠনের অধিকারী এই তরুণীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   গত রবিবার ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কে রেসের শেষ প্রান্তে এসে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান র‍্যাচেল।   দৌড়ানো অবস্থায় র‍্যাচেল যখন রাস্তায় পড়ে যান, তখন রেস দেখতে আসা মিশেলা নিকোলাস নামের এক হাসপাতাল সোশ্যাল ওয়ার্কার দ্রুত তার সাহায্যে এগিয়ে যান।   মিশেলা জানান, তিনি র‍্যাচেলের স্পন্ধন পাচ্ছিলেন না। এরপর সেখানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে দুজন চিকিৎসক দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং অ্যাম্বুল্যান্স আসার আগ পর্যন্ত পালাক্রমে র‍্যাচেলকে সিপিআর দিতে থাকেন।   কিছুক্ষণ পর ম্যারাথনের নিজস্ব মেডিকেল টিম ডিফিব্রিলেটর নিয়ে পৌঁছায় এবং দ্রুত মাউন্ট সিনাই মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা টানা ছয় ঘণ্টা লড়াই করার পর রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   র‍্যাচেলের বাবা স্টিভ অ্যাপা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, চিকিৎসকদের মতে র‍্যাচেলের মৃত্যুর কারণ ছিল ‘র‍্যাবডোমায়োলাইসিস’। এটি একটি বিরল ও মারাত্মক শারীরিক অবস্থা, যেখানে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে মাংসপেশি দ্রুত ভেঙে রক্তে ক্ষতিকর উপাদান ছড়িয়ে দেয়।   কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্টিভ অ্যাপা বলেন, ‘এটি ভাবাই যায় না। মাত্র ২৪ বছর বয়স, সম্পূর্ণ সুস্থ শরীর এবং নিখুঁত ফিটনেস ছিল ওর।’ পেনসিলভেনিয়ার বাসিন্দা র‍্যাচেল বাকনেল ইউনিভার্সিটির একজন সাবেক ডিভিশন-১ ফিল্ড হকি খেলোয়াড় ছিলেন।   এটি ছিল তার জীবনের প্রথম ম্যারাথন। ২০২২ সালে পার্কিনসন্স রোগে মারা যাওয়া তার প্রিয় দাদার স্মরণে তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি এই রেসে অংশ নিয়েছিলেন।   মৃত্যুর আগে রেসের ২৪ নম্বর মাইলে পৌঁছানোর পর তিনি তার বাবাকে শেষ টেক্সট মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, যেখানে লেখা ছিল— ‘ফাইনাল স্ট্রেচ’ (শেষ মুহূর্ত)। কিন্তু সেই ফিনিশ লাইন আর স্পর্শ করা হলো না র‍্যাচেলের। 

৩ ঘন্টা আগে
পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচতে নাগরিকদের নির্দেশনা দিল ইরান

পারমাণবিক হামলা হলে নাগরিকদের কী করণীয়, সে বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশিকা প্রচার করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। সম্ভাব্য পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয় দূষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং প্রাথমিকভাবে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়াসহ পাঁচটি মূল সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ওই নির্দেশনায়।   টেলিভিশনে প্রচারিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের সময় বা তার পরে কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, কীভাবে ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কেন ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও তড়িঘড়ি করে বাইরে যাওয়া উচিত নয়। নাগরিকদের জন্য দেওয়া ৫টি নির্দেশনা হলো—   ১. বিস্ফোরণের আলোর দিকে না তাকানো এবং আশ্রয় নেওয়া: পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় সৃষ্ট তীব্র আলোর দিকে সরাসরি তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। এ সময় নাগরিকদের অবিলম্বে কোনো শক্ত দেয়াল বা বাধার পেছনে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঢেউ বা ব্লাস্ট ওয়েভ পার না হওয়া পর্যন্ত উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।   ২. বিস্ফোরণের পরপরই সবচেয়ে কাছের ভবনে প্রবেশ করা: ব্লাস্ট ওয়েভ চলে যাওয়ার পর নাগরিকদের সবচেয়ে কাছের ভবনে প্রবেশ করতে হবে এবং জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে। ঘটনার পর ছবি তোলা বা দেখার জন্য বাইরে থাকা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি গাড়িকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে।   ৩. তেজস্ক্রিয় কণা দূর করতে ত্বক পরিষ্কার করা: যারা তেজস্ক্রিয় ধুলার সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের উন্মুক্ত ত্বক কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কন্ডিশনারযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। যদি গোসল করা সম্ভব না হয়, তবে পানি বা ভেজা কাপড় (ওয়েট ওয়াইপস) দিয়ে মুখ, হাত এবং অন্যান্য খোলা অংশ পরিষ্কার করতে হবে।   ৪. অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া: পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এই সময়ে শুধু বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ৫. স্থান ত্যাগের আগে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা: ২৪ ঘণ্টা পার হলেই চারপাশ নিরাপদ বলে ধরে না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার বিষয়ে তথ্য পেতে নাগরিকদের অবশ্যই সরকারি ঘোষণা ও জরুরি সম্প্রচার অনুসরণ করতে হবে। যদি ভবনের ভেতর আগুন লেগে যায় বা ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তবেই শুধু নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া উচিত।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যায়। এরপর থেমে থেমে উভয় পক্ষ হামলা পাল্টা-হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ গতকাল রাতেও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই পারমাণবিক সতর্কতা প্রচার করল তেহরান।  

৩ ঘন্টা আগে
ফাইল ছবি
জাতীয়
শিল্পের স্বার্থে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে এবং বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা।   তারা বলেছেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।   বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া উচিত। এ জন্য মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।   ফজলুল হক বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড পর্যালোচনার বিধান ছিল। ২০২১ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠনের সময় ৫ বছর ধরে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এ সময়সীমা ৫ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছর করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। শ্রমিকদের অনুকূলে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত মালিকপক্ষও তৎকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মেনে নিয়েছিল।   আগামী জানুয়ারিতে তিন বছরের এ সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি মিছিল বা আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সমাধান করতে হবে। এ জন্য মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।   শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফজলুল হক বলেন, শুধু বেতন বাড়ানোর দাবি করলেই হবে না, শিল্পের সেই বাড়তি ব্যয় বহনের সক্ষমতা রয়েছে কী না, সেটিও দেখতে হবে।   শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্টের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান নিয়মতান্ত্রিক পথেই হওয়া উচিত। সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দু’জন করে প্রতিনিধি এবং সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাই বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর সংশ্লিষ্ট সবার আস্থা রাখা প্রয়োজন।   কারখানা বন্ধের সংখ্যা সম্পর্কে ফজলুল হক বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে উত্তরা এলাকায় আট থেকে ১০ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের কিছু পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এ মুহূর্তে মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকাই সমীচীন।   এদিকে, রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর বর্তমান কমিটির নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই চলমান আন্দোলনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান করা প্রয়োজন।   ফজলে শামীম এহসান বলেন, মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠনের পর আন্দোলনের দাবি ও এর পেছনের কারণগুলো স্পষ্টভাবে জানা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।   শ্রমিক অসন্তোষের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬

পদ্মা সেতু হবে ওয়াই টাইপ (প্রতীকী ছবি)
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হবে ওয়াই-আকৃতিতে

পদ্মা নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি হবে ওয়াই-টাইপের সেতু। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় সেতুর মধ্যে সমন্বয় রেখে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া যমুনা নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।   মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতুও নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে সরকার।   তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আগে সমন্বিত পরিকল্পনা এবং ভৌত কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরির জন্য সভাটি হয়েছে। পদ্মা ব্যারাজের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ব্যারাজের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।   পদ্মা ব্যারাজ ও ওয়াই-টাইপ সেতুর মধ্যে কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে কি না, কিংবা একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। পরে সিদ্ধান্ত হয়, পদ্মা ব্যারাজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলবে। একই সঙ্গে ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতুও নির্মাণ করা হবে।   শেখ রবিউল আলম জানান, প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলমান রয়েছে। সমীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত নকশা (ডিটেইল ডিজাইন) তৈরি এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হবে। এরপর শুরু হবে ভৌত কাজ।   পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি অনেক দূর এগিয়েছে এবং এরই মধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। বিস্তারিত নকশা তৈরির পর্যায়ে কাছাকাছি এলাকায় পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসে। এ কারণে প্রকল্প দুটির মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।   এর আগে ২০২২ সালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রথম পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এরপর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের সঙ্গে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের সংযোগ স্থাপনে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের আলোচনা সামনে আসে। এই সেতু নির্মিত হলে ঢাকার সঙ্গে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার সড়ক যোগাযোগের দূরত্ব কমবে।   জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহযোগিতায় ১৯৯৯ সালে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া সেতুর প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হয়। ২০০৫ সালের মে মাসে এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে।   ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছে অর্থ চাওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।   দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মঙ্গলবারের সভায় পদ্মা ব্যারাজের পাশাপাশি ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানালেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।   এদিকে যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, বৃহত্তর রংপুরকে যুক্ত করতে এই সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।   সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেল, সড়ক ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগৃহীত ছবি
পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচতে নাগরিকদের নির্দেশনা দিল ইরান

পারমাণবিক হামলা হলে নাগরিকদের কী করণীয়, সে বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশিকা প্রচার করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। সম্ভাব্য পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয় দূষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং প্রাথমিকভাবে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়াসহ পাঁচটি মূল সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ওই নির্দেশনায়।   টেলিভিশনে প্রচারিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের সময় বা তার পরে কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, কীভাবে ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কেন ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও তড়িঘড়ি করে বাইরে যাওয়া উচিত নয়। নাগরিকদের জন্য দেওয়া ৫টি নির্দেশনা হলো—   ১. বিস্ফোরণের আলোর দিকে না তাকানো এবং আশ্রয় নেওয়া: পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় সৃষ্ট তীব্র আলোর দিকে সরাসরি তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। এ সময় নাগরিকদের অবিলম্বে কোনো শক্ত দেয়াল বা বাধার পেছনে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঢেউ বা ব্লাস্ট ওয়েভ পার না হওয়া পর্যন্ত উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।   ২. বিস্ফোরণের পরপরই সবচেয়ে কাছের ভবনে প্রবেশ করা: ব্লাস্ট ওয়েভ চলে যাওয়ার পর নাগরিকদের সবচেয়ে কাছের ভবনে প্রবেশ করতে হবে এবং জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে। ঘটনার পর ছবি তোলা বা দেখার জন্য বাইরে থাকা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি গাড়িকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে।   ৩. তেজস্ক্রিয় কণা দূর করতে ত্বক পরিষ্কার করা: যারা তেজস্ক্রিয় ধুলার সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের উন্মুক্ত ত্বক কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কন্ডিশনারযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। যদি গোসল করা সম্ভব না হয়, তবে পানি বা ভেজা কাপড় (ওয়েট ওয়াইপস) দিয়ে মুখ, হাত এবং অন্যান্য খোলা অংশ পরিষ্কার করতে হবে।   ৪. অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া: পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এই সময়ে শুধু বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ৫. স্থান ত্যাগের আগে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা: ২৪ ঘণ্টা পার হলেই চারপাশ নিরাপদ বলে ধরে না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার বিষয়ে তথ্য পেতে নাগরিকদের অবশ্যই সরকারি ঘোষণা ও জরুরি সম্প্রচার অনুসরণ করতে হবে। যদি ভবনের ভেতর আগুন লেগে যায় বা ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তবেই শুধু নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া উচিত।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যায়। এরপর থেমে থেমে উভয় পক্ষ হামলা পাল্টা-হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ গতকাল রাতেও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই পারমাণবিক সতর্কতা প্রচার করল তেহরান।  

সংগৃহীত ছবি
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

বাজারে গিয়ে মাছ-মাংসের দাম শুনে ফিরে আসতে হচ্ছে অনেককে। সন্তানের পছন্দের খাবার কেনার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্যে কুলাচ্ছে না। কোনো পরিবারের খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে মাছ-মাংস, আবার কারও সংসারে চাল, ডাল আর আলুই হয়ে উঠেছে প্রধান ভরসা। এমনকি কোনো কোনো পরিবারে সন্তানের জন্য দুধ কেনার টাকাও জুটছে না। সংসারের খরচ সামলাতে কেউ কমিয়েছেন খাবারের পরিমাণ, কেউ বাদ দিয়েছেন প্রয়োজনীয় পণ্য। তবু মাস শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না স্বল্প আয়ের মানুষ।   নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্তরাও। সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযুদ্ধে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন সংকট। একদিকে বাজারের বাড়তি খরচ, অন্যদিকে যাতায়াত, রান্না ও অন্যান্য ব্যয়। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি আয়। বরং কারও কারও কাজ ও উপার্জন কমেছে। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে বিলাসিতা তো দূরের কথা, মৌলিক প্রয়োজনেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে। কমছে খাবারের বৈচিত্র্য, সঞ্চয়ে পড়ছে টান, অপূর্ণ থাকছে সন্তানের আবদার।   রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা, বিক্রেতা ও নানা পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে এমন চিত্র। তাদের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট, দ্রব্যমূল্যের চাপ এখন আর শুধু বাজারের হিসাব নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, খাদ্যাভ্যাস ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সংকট।   ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রিফাতের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে তার ব্যবসায়ও। আগে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আয় হলেও এখন তা নেমে এসেছে প্রায় তিন হাজার টাকায়। আয় কমে যাওয়ায় সংসার ও ব্যবসার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।   রিফাত বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। আগে যে আয় হতো, এখন তা হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় জিনিসও কিছুটা ত্যাগ করতে হচ্ছে। কোনোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে আছি, আর কি।’   রাস্তার পাশের আরেক দোকানি মিজানের অবস্থা আরও করুণ। আগে সপ্তাহে এক-দুবার মাছ-মাংস খেতে পারলেও এখন সবজি কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। দৈনিক আয় ছয় থেকে সাতশ টাকা হলেও খরচ হচ্ছে সাত থেকে আটশ টাকা। ঘাটতি মেটাতে খাবারের খরচ কমানো ছাড়া উপায় নেই তার।   মিজান বলেন, ‘আমরা নিম্নমধ্যবিত্তরা বেশি কষ্টে আছি। অতি নিম্নবিত্তরা কারও কাছে হাত পাততে পারে, কিন্তু আমরা তো পারি না। সন্তানের আবদার পূরণ করা তো দূরের কথা, প্রয়োজনও ঠিকমতো মেটাতে পারছি না।’   বাজারের বাড়তি খরচে দিশাহারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মধ্যবিত্তরাও। এক দম্পতি জানান, বাজারে ঢুকলেই অন্তত দুই হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। কয়েক ধরনের সবজি কিনতেই চলে যায় পাঁচশ টাকা। মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বেতন হলে বাজারের খরচেই ব্যয় হয় অর্ধেকের বেশি। এরপর যাতায়াত ও অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় তো রয়েছেই।   একটি পোশাক কারখানায় মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কাজ করেন সাইফ। তার মতে, পণ্যের দাম বাড়ারও একটি সহনীয় সীমা রয়েছে। সেই সীমা পেরিয়ে গেলে মানুষের পক্ষে আগের জীবনযাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।   সাইফ বলেন, ‘আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার। আবেগের জায়গা থেকে সব সময় যেটা খেতে অভ্যস্ত, সেটাই খেতে চাই। কিন্তু সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত নিজেদের চাহিদার সঙ্গেও আপস করতে হচ্ছে। একেবারে খাওয়া বন্ধ করার সুযোগ নেই, তাই কমিয়ে-বাড়িয়ে খেতে হচ্ছে।’   আগে কম টাকায় বেশি পণ্য কেনা গেলেও এখন কেনাকাটায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। বাজারে এসে বেশি দাম দেখে অনেক সময় প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনেই ফিরতে হয়। আবার একান্ত প্রয়োজনের কারণে কোনো কোনো পণ্য বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।   খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, ক্রেতারা আগের মতো কেনাকাটা করছেন না। অনেকে প্রয়োজনের তালিকা ছোট করেছেন, কমিয়েছেন পণ্যের পরিমাণ। আহাদ আলী নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘ক্রেতা খুবই কম। সবাই হিসাব করে কেনাকাটা করছেন। আমরা পাইকারিতে আগে যে দামে পণ্য কিনতাম, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।’   তিনি বলেন, গত এক বছরে পাম তেল ও পোলাওয়ের চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে পাইকারিতে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে পাম তেল কিনতেন। এখন সেই দামে আর কিনতে পারছেন না। ফলে বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দরে। বিক্রির দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৮৫ থেকে ১৮৬ টাকায়।   মাছ বিক্রেতা শাকিলের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি বলেন, ‘তিন-চার বছর আগে ১৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে মোটামুটি ভালো পরিমাণে বাজার করা যেত। এখন শুধু সবজি কিনতেই পাঁচশ টাকা খরচ হয়ে যায়। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য হচ্ছে না।’   দিনমজুর আমীন আলীর জীবনেও সংকটের শেষ নেই। আগে একটি কাজ করে পাঁচ থেকে আটশ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারতেন। এখন কাজই পান কম, পেলেও অনেক সময় আয় হয় মাত্র চার-পাঁচশ টাকা। সেই টাকায় সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটানো এবং রান্নার জ্বালানির ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।   আমীন আলী বলেন, ‘আমাদের জীবন অনেক কষ্টে আছে। কাজ পাই না। যা আয় হয়, তাতে অনেক কষ্টেই চলছি।’ গরুর মাংসের কথা উঠতেই আক্ষেপ ঝরে তার কণ্ঠে। বলেন, ‘গরুর মাংস আমাদের জন্য না, এটা বড় লোকদের খাবার। আমার আয় যদি ছয়-সাতশ টাকা হয় আর গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা, তাহলে এক কেজি গরুর মাংস কিনলে চাল-তেল কিনব কিভাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে মাসে দুইবার মাছ-মাংস খেতে পারলেও এখন একবারও পারি না। আমাদের মতো মানুষের এখন দুই-বেলা চাল, ডাল কেনাই কঠিন।’ তার ভাষ্য, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য চাল, ডাল, তেল, আলু—এই চারটি জিনিসের দাম কমলেই আমরা খুশি। আমাদের আর কিছু লাগবে না।’   সংসারের টানাপোড়েনের সবচেয়ে নির্মম চিত্র উঠে আসে এক মধ্যবয়স্ক বাবার কথায়। পাঁচ বছর আগেও সীমিত আয়ে সংসার চালানো তুলনামূলক সহজ ছিল। এখন রান্নার জ্বালানি জোগাড় করতেও বাড়তি খরচ হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় কখনো কাঠের চুলা, কখনো কেরোসিন ব্যবহার করতে হয়।   তিনি বলেন, ‘আগে সীমিত আয়েও চলতে পারতাম। এখন মরা ছাড়া বাঁচার পথ নাই।’ সন্তানের খাবারের প্রসঙ্গ তুলতেই অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘সন্তানের দুধ কেনার টাকা নেই। সাবু জ্বাল দিয়ে খাওয়াতে হয়। বাচ্চা খেতে চায় না। সন্তানদের কিছুই দিতে পারিনি।’   সংসারের ব্যয় সামলাতে স্ত্রীকেও কাজে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন সেলাইয়ের কাজ করা মিলন। তিনি জানান, ‘বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে পারি না। সবকিছুর দাম অনেক বেড়েছে। বাধ্য হয়ে বউকেও বাইরে কাজে পাঠিয়েছি। কী করব, তিনটা সন্তান আছে, সংসার তো চালাতে হবে।’   সাধারণ মানুষের এমন দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাড়তি দ্রব্যমূল্যের চাপ সামাল দেওয়ার সামর্থ্য সচ্ছল মানুষের থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষের সেই সুযোগ নেই। ফলে তাদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে।   গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক গ্রাহক নিয়মিত গ্যাস না পেলেও বিল দিচ্ছেন। টাকা দিয়েও সেবা না পাওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।   এদিকে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, উৎপাদন পর্যায় থেকে পণ্য ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে কয়েক দফা হাতবদল ও পরিবহন খরচের কারণে দাম বাড়ে। চালের দাম জাত ও মানভেদে ভিন্ন। ডিমের দামও বর্তমানে ক্রেতাদের নাগালে রয়েছে। অন্যদিকে ভোজ্যতেলের দাম সরকার নির্ধারণ করছে। বাজারে চাল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও অধিদপ্তর নজর রাখছে।

সামরিক দিক থেকে প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চায় ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা নয়, হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ও শান্তি প্রস্তাব বিনিময়ের ক্ষেত্রে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইরান। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এর পাশাপাশি, নিজেদের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের সামরিক হামলা বা আগ্রাসন চালানো হলে তার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।   ইরানের আলোচক দলের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সর্বশেষ যে শান্তি প্রস্তাবগুলো বিনিময় হয়েছে, সেখানে কোনো পক্ষই নতুন কোনো বিষয়ে একমত হতে পারেনি। তবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে ইসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, কূটনীতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো কারণ বা সুযোগ নেই। অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনের সদিচ্ছা নিয়ে আশাবাদের সব দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।   শান্তি আলোচনার পাশাপাশি যেকোনো সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরানের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এই মুখপাত্র। তিনি জানান, ইরানের ওপর কোনো হামলা চালানো হলে তেহরান আত্মরক্ষার্থে তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে এবং শত্রুদের এমন যেকোনো পদক্ষেপের একটি ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।   তবে সামরিক দিক থেকে প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চায় ইরান। এ বিষয়ে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান তার আইনসংগত স্বার্থ ও ন্যায্য দাবিগুলো আদায় করার জন্য কূটনীতি ব্যবহারের কোনো সুযোগই হাতছাড়া করবে না। মূলত শত্রুদের যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে এবং ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য তেহরান একই সঙ্গে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক কৌশল অব্যাহত রাখবে।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচতে নাগরিকদের নির্দেশনা দিল ইরান
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬

পারমাণবিক হামলা হলে নাগরিকদের কী করণীয়, সে বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশিকা প্রচার করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। সম্ভাব্য পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয় দূষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং প্রাথমিকভাবে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়াসহ পাঁচটি মূল সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ওই নির্দেশনায়।   টেলিভিশনে প্রচারিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের সময় বা তার পরে কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, কীভাবে ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কেন ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও তড়িঘড়ি করে বাইরে যাওয়া উচিত নয়। নাগরিকদের জন্য দেওয়া ৫টি নির্দেশনা হলো—   ১. বিস্ফোরণের আলোর দিকে না তাকানো এবং আশ্রয় নেওয়া: পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় সৃষ্ট তীব্র আলোর দিকে সরাসরি তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। এ সময় নাগরিকদের অবিলম্বে কোনো শক্ত দেয়াল বা বাধার পেছনে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঢেউ বা ব্লাস্ট ওয়েভ পার না হওয়া পর্যন্ত উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।   ২. বিস্ফোরণের পরপরই সবচেয়ে কাছের ভবনে প্রবেশ করা: ব্লাস্ট ওয়েভ চলে যাওয়ার পর নাগরিকদের সবচেয়ে কাছের ভবনে প্রবেশ করতে হবে এবং জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে। ঘটনার পর ছবি তোলা বা দেখার জন্য বাইরে থাকা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি গাড়িকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে।   ৩. তেজস্ক্রিয় কণা দূর করতে ত্বক পরিষ্কার করা: যারা তেজস্ক্রিয় ধুলার সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের উন্মুক্ত ত্বক কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কন্ডিশনারযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। যদি গোসল করা সম্ভব না হয়, তবে পানি বা ভেজা কাপড় (ওয়েট ওয়াইপস) দিয়ে মুখ, হাত এবং অন্যান্য খোলা অংশ পরিষ্কার করতে হবে।   ৪. অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া: পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এই সময়ে শুধু বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ৫. স্থান ত্যাগের আগে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা: ২৪ ঘণ্টা পার হলেই চারপাশ নিরাপদ বলে ধরে না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার বিষয়ে তথ্য পেতে নাগরিকদের অবশ্যই সরকারি ঘোষণা ও জরুরি সম্প্রচার অনুসরণ করতে হবে। যদি ভবনের ভেতর আগুন লেগে যায় বা ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তবেই শুধু নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া উচিত।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যায়। এরপর থেমে থেমে উভয় পক্ষ হামলা পাল্টা-হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ গতকাল রাতেও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই পারমাণবিক সতর্কতা প্রচার করল তেহরান।  

ফাইল ছবি
একসঙ্গে সাত উড়োজাহাজে বোমার হুমকি, ইউরোপজুড়ে আতঙ্ক
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় সাতটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।    বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণের পর উড়োজাহাজগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি উড়োজাহাজকে নিরাপত্তার কারণে অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও উড়োজাহাজেই বিস্ফোরক বা বোমার সন্ধান পাওয়া যায়নি।   ঘটনাগুলোর মধ্যে ইতালির রাজধানী রোমে অবতরণের পর রায়ানএয়ারের দুটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে ডাবলিন থেকে আসা একটি উড়োজাহাজকে ইতালির বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে বিমানবন্দরে নিয়ে আসে।   পোল্যান্ডের ওয়ারশতে অবতরণ করা আরও দুটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজ লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। বোমার হুমকির পর সেটির গতিপথ পরিবর্তন করে ওয়ারশতে অবতরণ করানো হয়।   এছাড়া বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় অবতরণ করা দুটি উড়োজাহাজেও নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। একই ধরনের ঘটনার মুখে পড়ে স্পেনের মুরসিয়া বিমানবন্দর। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি উড়োজাহাজ সেখানে অবতরণের পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা তল্লাশি চালান।   স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই উড়োজাহাজে কোনও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।   মুরসিয়ায় অবতরণ করা উড়োজাহাজের এক যাত্রী জানিয়েছেন, বিমানটি অবতরণের পরপরই বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   এর আগে সোমবার লন্ডনের লুটন বিমানবন্দর থেকে বুলগেরিয়ার সোফিয়াগামী একটি উড়োজাহাজ বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর জরুরি অবতরণ করে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে।   ইউরোপের একাধিক দেশে একই সময়ে এ ধরনের হুমকির ঘটনায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব হুমকির উৎস বা এর পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। সূত্র: বিবিসি

সামরিক দিক থেকে প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চায় ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা নয়, হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ও শান্তি প্রস্তাব বিনিময়ের ক্ষেত্রে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইরান। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এর পাশাপাশি, নিজেদের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের সামরিক হামলা বা আগ্রাসন চালানো হলে তার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।   ইরানের আলোচক দলের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সর্বশেষ যে শান্তি প্রস্তাবগুলো বিনিময় হয়েছে, সেখানে কোনো পক্ষই নতুন কোনো বিষয়ে একমত হতে পারেনি। তবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে ইসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, কূটনীতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো কারণ বা সুযোগ নেই। অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনের সদিচ্ছা নিয়ে আশাবাদের সব দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।   শান্তি আলোচনার পাশাপাশি যেকোনো সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরানের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এই মুখপাত্র। তিনি জানান, ইরানের ওপর কোনো হামলা চালানো হলে তেহরান আত্মরক্ষার্থে তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে এবং শত্রুদের এমন যেকোনো পদক্ষেপের একটি ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।   তবে সামরিক দিক থেকে প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চায় ইরান। এ বিষয়ে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান তার আইনসংগত স্বার্থ ও ন্যায্য দাবিগুলো আদায় করার জন্য কূটনীতি ব্যবহারের কোনো সুযোগই হাতছাড়া করবে না। মূলত শত্রুদের যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে এবং ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য তেহরান একই সঙ্গে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক কৌশল অব্যাহত রাখবে।

ইয়েমেনের আল-জাওফ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের লড়াই
ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি জড়াচ্ছে ইরানের আইআরজিসি
মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কার্যক্রমে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ‘সরাসরি সম্পৃক্ত’ থাকার অভিযোগ করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। ইয়েমেন সরকারের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি দাবি করেছেন, হুতি বিদ্রোহীদের পরিচালনা করতে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে হুমকি তৈরিতে আইআরজিসি আগের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে।   ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবার বরাত দিয়ে রাশাদ আল-আলিমি জানান, আইআরজিসির বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ হুতিদের কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। তারা মূলত বিভিন্ন অভিযানের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা করছেন। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে হুমকি সৃষ্টির পেছনেও এসব বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন বলে তিনি দাবি করেন। আল-আলিমি বলেন, হুতিদের সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্ক এখন আর শুধু অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনা এবং জলপথে হুমকি তৈরিতে অংশ নিচ্ছে।   তবে মিত্র গোষ্ঠী হুতিদের সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে ইরান। হুতিরাও দাবি করে থাকে, তারা তেহরানের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবেই নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। অবশ্য তাদের এই দাবির পরও উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর আদর্শিক মিল থাকার বিষয়টি স্পষ্ট।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ

রাজনীতি
চাকরি
ব্যাবসা-বাণিজ্য
বিনোদন