রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল আলোচিত ‘মিজানের ভাতের হোটেল’ আবারও উচ্ছেদ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মঙ্গলবার দুপুরে ফুটপাতে চুলা জ্বালিয়ে রান্নার প্রস্তুতি চলার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে রান্না করা খাবারসহ মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ফুটপাতে স্তূপ করে রাখা কাঠের আসবাবপত্র ভেঙে জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে আগারগাঁও এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএনসিসির অঞ্চল-৪-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী। আগারগাঁও থেকে শুরু হয়ে শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সিটি করপোরেশনের সূত্রে জানা যায়, আগের উচ্ছেদের পর এবার মিজানের কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করা ছিল না। গ্রাহকদের বসার জন্য চেয়ার-টেবিলও আগে থেকেই সরানো ছিল। তবে পথচারীদের চলাচলের ফুটপাতে উন্মুক্ত চুলা বসিয়ে রান্নাবান্না চলছিল এবং রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পুরোনো আসবাবপত্র জড়ো করে রাখা হয়েছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে খাবার ও তৈজসপত্র সরিয়ে নেওয়া হলে অবশিষ্ট কাঠ ও অন্যান্য জঞ্জাল অপসারণ করে পথচারীদের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করা হয়। অভিযানের বিষয়ে জানতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি; খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাদের তরফ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ১৬ আগস্ট আগারগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় প্রথম দফায় মিজানের দোকানসহ সড়কের দুই পাশের সব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ডিএনসিসি। তারও আগে, ১০ আগস্ট অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও ফুটপাতে দোকান চালু করার ঘোষণা দেন এবং জোর দিয়ে বলেন, ‘তালতলার ফুটপাতে যদি কোনো একটি দোকানও থাকে, তবে তা তারই থাকবে।’ উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্র ১০০ টাকায় গরুর মাংস ও ভাত বিক্রির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন তিনি, পান ‘ভাইরাল মিজান’ খেতাব। সকালবেলা ফুটপাতেই মাংস ও ভাত রান্না করে স্বল্প মূল্যে পরিবেশন করায় দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের বহু মানুষের ভিড় জমত তাঁর এই ভ্রাম্যমাণ ভাতের হোটেলে।
ঠিক যেন আগের ম্যাচের পুনরাবৃত্তি, আবারও দ্বিতীয় মিনিটে গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। পরে তিনি জালের দেখা পেলেন আরও একবার, মাঝে দলের আরেকটি গোলেও রাখলেন অবদান। ১৯ বছর বয়সী তারকার আলো ঝলমলে রাতে ক্রোয়েশিয়াকে রীতিমতো উড়িয়েই দিল স্পেন। সেভিয়ায় আজ মঙ্গলবার রাতে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ক্রোয়েশিয়াকে। ইয়ামাল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে নেওয়ার পর, সমতা টানেন দিওন বেলিয়ো। একটু পরই স্বাগতিকদের আবার লিড এনে দেন মার্ক পুবিল। বিরতির পর নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। বদলি নেমে শেষ দিকে দলের চতুর্থ গোলটি করেন নিকো উইলিয়ামস।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭৭ বোতল অবৈধ বিদেশি মদসহ এক রুশ নাগরিককে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের EK-584 ফ্লাইটে ঢাকায় আসার পর ওই যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে এসব মদ উদ্ধার করা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দাদের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে (২৩:৫০) তার ব্যাগেজে তল্লাশি চালানো হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তল্লাশির সময় যাত্রীর লাগেজ থেকে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি মদের মোট ৭৭ বোতল পাওয়া যায়। পরে এসব মদ জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে আটক করা হয়। আটক রুশ নাগরিকের নাম মিখাইলভ রোমান (Mikhailov Roman)। তার পাসপোর্ট নম্বর 66N3620866। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৯০ সালের ৭ ডিসেম্বর। কাস্টমস সূত্র জানায়, জব্দ করা মদের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অবৈধভাবে মদ বহন ও আমদানির অভিযোগে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন এবং দেশের প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কাস্টমস গোয়েন্দারা জানান, বিমানবন্দরে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বা অনুমোদন ছাড়া বিদেশি মদসহ বিভিন্ন পণ্য আনা ঠেকাতে নিয়মিতভাবে নজরদারি ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহজনক যাত্রীদের ব্যাগেজে তল্লাশির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জব্দ করা মদের প্রকৃতি, পরিমাণ ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়নাধীন উপপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে। বাস্তবায়নে ধীরগতি, অনিয়ম কিংবা গুরুতর কোনো সমস্যা পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁও বিজ্ঞান একাডেমিতে হিট প্রকল্পের মিড-টার্ম রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, কোন প্রকল্প কোন পর্যায়ে রয়েছে, কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং বিলম্বের কারণ কী—এসব বিষয় নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলা প্রকল্পগুলোকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যেসব প্রকল্প পিছিয়ে রয়েছে কিংবা যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, সেসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, হিট প্রকল্পের লক্ষ্য কেবল নির্ধারিত কার্যক্রম সম্পন্ন করা নয়; এর মূল উদ্দেশ্য দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তব, দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আনা। শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর সংযোগ স্থাপন, শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল রূপান্তর—এসব উদ্যোগ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির প্রায় দুই বছর বিভিন্ন কারণে ব্যয় হয়ে গেছে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অবশিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়াতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন হলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতির ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে প্রকল্পের সময় বাড়ানোর বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আনা, স্মার্ট ক্লাসরুম ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ ও একাডেমিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সফট ও হার্ড স্কিল উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, শিক্ষাজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করার জন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি হবে। শিক্ষক উন্নয়নের বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হিট প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার শিক্ষককে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নবীন ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উন্নয়নের এসব কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি স্থায়ী উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রে হিট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১৮০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল যেন দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গবেষণা পরিচালনা নয়, গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশে একটি ন্যাশনাল রিসার্চ রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের গবেষণা কার্যক্রমের একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান প্রদান ও গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের প্র্যাকটিস ম্যানেজার ড. শেরেজাদ লতিফ মোনামী বলেন, হিট প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ১০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে হিট প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বব্যাংক আশা করে। গবেষণা ও উদ্ভাবন, ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনসহ হিট প্রকল্পের আওতায় নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে হিট প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, অর্জন, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান। এ সময় বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও হিট প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার টি এম আসাদুজ্জামানসহ ইউজিসি, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল, হিট প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যে অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মে জড়িত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বৈধ অভিবাসনের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা ও সাংবাদিকদের নিয়ে শিগগিরই একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে। তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসন ও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস সিলগালা করা হয়েছে। আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর সরকারের লক্ষ্য নিয়েও তিনি আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। একই সঙ্গে নৈতিক অভিবাসন, বৈধ পথে কর্মী পাঠানো উৎসাহিত করা এবং উচ্চ ব্যয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে বৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করবে ইইউ। বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ট্রেনিং ফাউন্ডেশন আনয়ন এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনেও ইইউর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ সময় শ্রম আইন সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। ট্রেড ইউনিয়ন বা দল গঠনের স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে সাধারণ শ্রম আইনের সামঞ্জস্য, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানান, রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই ও নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনে একাধিক পরিদর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি ইতালির সঙ্গে চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইইউকে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়ার আহ্বান জানান। বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেইজ (RAISE)’ প্রকল্পের কার্যক্রমও সচল রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বৈরতান্ত্রিকতা রোধে কোনো ব্যক্তির দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে সরকার সমর্থন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত রবিবার ও আজ দুই দিনব্যাপী গণমাধ্যমের সম্পাদক, টিভি চ্যানেল ও অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে কমিটি। সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তর প্রস্তাব পাওয়া গেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার বিষয়ে অনেকে মত দিয়েছেন, এটি অগণতান্ত্রিক এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। কিন্তু আমাদের দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন যেন কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকেন। স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঠেকাতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমরা আমাদের সেই অবস্থান থেকে এখনো সরিনি। তবে সংসদে বিরোধী দল বা অন্য কারও পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংবিধানের অন্যান্য সংশোধনীর প্রস্তাব সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা এবং সংবিধানের প্রস্তাবনা (প্রিয়াম্বল) ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও রূপরেখা কী হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রস্তাব প্রয়োজন যা পরবর্তীতে পার্লামেন্ট বিবেচনা করবে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে বলা আছে বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র (ইউনিটারি গভর্মেন্ট)। এখানে অঙ্গরাজ্যের কোনো সিস্টেম নেই। তাই দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা, সে বিষয়ে কেউ কেউ মতামত দিয়েছেন। তবে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দ্বিকক্ষ পার্লামেন্টের বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় আমরা সেভাবেই এগোতে চাই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পার্লামেন্টই নেবে। সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও ‘জুলাই সনদে’ তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গে বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত। আমরা আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে বিরোধী দলকে আহ্বান জানাই, তারা যেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আলোচনায় আসেন। জুলাই সনদের কোনো বিষয়ে তাদের ভিন্নমত থাকলে সমঝোতার ভিত্তিতে তা আলোচনা করা যেতে পারে, তবে তার জন্য তো তাদের আলোচনায় আসতে হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবন, বারিধারায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এই আহ্বান জানান পর্যটনমন্ত্রী। এ সময় পর্যটনমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে যুক্তরাজ্য আমাদের পাশে থাকবে বলে আশা করছি। যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানাই-বাংলাদেশে আসুন এবং আমাদের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগ করুন। আমরা যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই এবং একটি অনুকূল, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পর্যটন খাতের বিকাশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য আরও বিস্তৃত সুযোগ সৃষ্টি করছি। পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এভিয়েশন খাত সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমাদের এয়ার কার্গো খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমি ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহযোগিতা কামনা করছি। ২০১৭ সালের জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কার্গো ও ডাককে ‘High Risk Cargo and Mail’ (HRCM) হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ মোকাবিলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অনুষ্ঠানে ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধি বৃন্দ, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়নাধীন উপপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে। বাস্তবায়নে ধীরগতি, অনিয়ম কিংবা গুরুতর কোনো সমস্যা পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁও বিজ্ঞান একাডেমিতে হিট প্রকল্পের মিড-টার্ম রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, কোন প্রকল্প কোন পর্যায়ে রয়েছে, কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং বিলম্বের কারণ কী—এসব বিষয় নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলা প্রকল্পগুলোকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যেসব প্রকল্প পিছিয়ে রয়েছে কিংবা যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, সেসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, হিট প্রকল্পের লক্ষ্য কেবল নির্ধারিত কার্যক্রম সম্পন্ন করা নয়; এর মূল উদ্দেশ্য দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তব, দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আনা। শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর সংযোগ স্থাপন, শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল রূপান্তর—এসব উদ্যোগ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির প্রায় দুই বছর বিভিন্ন কারণে ব্যয় হয়ে গেছে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অবশিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়াতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন হলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতির ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে প্রকল্পের সময় বাড়ানোর বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আনা, স্মার্ট ক্লাসরুম ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ ও একাডেমিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সফট ও হার্ড স্কিল উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, শিক্ষাজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করার জন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি হবে। শিক্ষক উন্নয়নের বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হিট প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার শিক্ষককে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নবীন ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উন্নয়নের এসব কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি স্থায়ী উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রে হিট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১৮০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল যেন দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গবেষণা পরিচালনা নয়, গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশে একটি ন্যাশনাল রিসার্চ রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের গবেষণা কার্যক্রমের একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান প্রদান ও গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের প্র্যাকটিস ম্যানেজার ড. শেরেজাদ লতিফ মোনামী বলেন, হিট প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ১০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে হিট প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বব্যাংক আশা করে। গবেষণা ও উদ্ভাবন, ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনসহ হিট প্রকল্পের আওতায় নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে হিট প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, অর্জন, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান। এ সময় বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও হিট প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার টি এম আসাদুজ্জামানসহ ইউজিসি, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল, হিট প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঠিক যেন আগের ম্যাচের পুনরাবৃত্তি, আবারও দ্বিতীয় মিনিটে গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। পরে তিনি জালের দেখা পেলেন আরও একবার, মাঝে দলের আরেকটি গোলেও রাখলেন অবদান। ১৯ বছর বয়সী তারকার আলো ঝলমলে রাতে ক্রোয়েশিয়াকে রীতিমতো উড়িয়েই দিল স্পেন। সেভিয়ায় আজ মঙ্গলবার রাতে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ক্রোয়েশিয়াকে। ইয়ামাল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে নেওয়ার পর, সমতা টানেন দিওন বেলিয়ো। একটু পরই স্বাগতিকদের আবার লিড এনে দেন মার্ক পুবিল। বিরতির পর নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। বদলি নেমে শেষ দিকে দলের চতুর্থ গোলটি করেন নিকো উইলিয়ামস।
নাসির উদ্দিন
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
প্রতি রাতে ঘরের আলো নিভিয়ে দিলেও জানালার পর্দা গলে ঘরের ভেতরে এসে পড়ে বাইরের গলিপথ বা পার্কিং লটের কৃত্রিম আলোর তীব্র ঝলকানি। যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড শহরের মতো আধুনিক নগরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ আজ ভুলেই গেছেন সত্যি সত্যি অন্ধকারে ঘুমানোর অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে। রাস্তার বাতি, বারান্দার আলো কিংবা পার্কিং লটের তীব্র আলো প্রতিনিয়ত চারপাশকে এমনভাবে আলোকিত করে রাখছে যে, অন্ধকার রাতের স্বাভাবিক অনুভূতিটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। সম্প্রতি আমেরিকার সাউথ-ইস্ট ওরেগনের ইন্টারন্যাশনাল ডার্ক স্কাই প্লেস নেটওয়ার্কের অন্তর্ভূক্ত একটি আবাসন অঞ্চলে যাওয়া এক লেখকের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই চরম বাস্তবতার ছবি। প্রায় আড়াই মিলিয়ন একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত দূষণমুক্ত এই অন্ধকার চত্বরে গিয়ে যেন কয়েক দশক পর মানুষ আবার সত্যিকারের রাতের আকাশের দেখা পাচ্ছে। সেখানে সূর্যাস্তের মাত্র আধা ঘণ্টা পর শুকনো হ্রদের অববাহিকায় খোলা আকাশের নিচে লাল আলো জালিয়ে মানুষ যখন রাতের সৌন্দর্য দেখতে সমবেত হয়, তখন একে একে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে শুক্র গ্রহ, ভেগা নক্ষত্র থেকে শুরু করে মহাকাশে ঘুরতে থাকা একের পর এক কৃত্রিম উপগ্রহ। রাতের আঁধার যত গভীর হয়, আকাশে একে একে ফুটে ওঠে আর্সা মেজর, আর্সা মাইনর, সিগনাস ও ক্যাসিওপিয়ার মতো নক্ষত্রমণ্ডল। আর যখন ছায়াপথের বা মিল্কিওয়ের উজ্জ্বল আলোর রেখা ভেসে ওঠে, তখন পরম নীরবতায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে মানুষ তার নিজের অস্তিত্বের ক্ষুদ্রতা উপলব্ধি করে। কিন্তু এই অপরূপ দৃশ্য আজ ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর বিশ্বের রাতের আকাশ প্রায় ১০ শতাংশ হারে বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই এখন আলো-দূষিত আকাশের নিচে বসবাস করছেন। জাতিসংঘ যদিও পরিচ্ছন্ন বাতাস ও নিরাপদ পানিকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে সুস্থ জীবনের জন্য মানুষের অন্ধকার পাওয়ার অধিকার (রাইট টু ডার্কনেস) রক্ষা করাও এখন সমান জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্ধকার রক্ষা করার এই আহ্বানের অর্থ এই নয় যে শহরের সব রাস্তার আলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিটি গ্যারেজের সামনে এত তীব্র সাদা ফ্ল্যাডলাইটের কি সত্যিই কোনো প্রয়োজন আছে? নিরাপত্তার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু আলো ব্যবহার করা গেলে আর শুধুমাত্র রাতের আকাশ দেখার জন্য শত শত মাইল গাড়ি চালিয়ে নির্জন প্রান্তরে যেতে হতো না। অন্ধকারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন আলোর উত্তাপ, দিক এবং পরিমাণের সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনি প্রয়োগ। অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক আলো ব্যবহারের জায়গায় পরিমিত আলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে মানুষ আবার অন্ধকারের গুরুত্ব অনুধাবন করতে শিখবে। কিছু শহর ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফ্ল্যাগস্টাফ শহর ১৯৫৮ সালেই সর্বপ্রথম বহিরঙ্গণ আলোকসজ্জার ওপর নিয়ম আরোপ করেছিল এবং ২০০১ সালে এটি বিশ্বের প্রথম স্বীকৃত 'ডার্ক স্কাই সিটি' হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সেখানে আলোর পরিমাণ, ধরন এবং তা কোন দিকে প্রতিফলিত হবে তা নির্দিষ্ট নিয়মে সুনিয়ন্ত্রিত। ফ্ল্যাগস্টাফের ধারাবাহিকতায় এখন বিশ্বের বহু শহর ও অঞ্চল নতুন করে ভাবছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য বর্তমানে ডার্ক স্কাইস প্রটেকশন অ্যাক্ট প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করছে, যা কার্যকর হলে কখনো না ঘুমানো বিখ্যাত নিউ ইয়র্ক শহরের বহিরঙ্গণ আলোকসজ্জাতেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ যুক্ত হবে। আলো দূষণ কমানোর জন্য কেবল স্থানভিত্তিক নতুন জোন আইন প্রণয়ন কিংবা গাড়ির হেডলাইটের উজ্জ্বলতা নির্ধারণের মতো সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মই যথেষ্ট হতে পারে। রাতের অন্ধকারের গুরুত্ব কেবল নক্ষত্র দেখার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; অন্ধকার নিজেই প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাসস্থান। কৃত্রিম আলোর অতিপ্রয়োগের ফলে চাঁদের আলো দেখে পথ চলা প্রাণী ও পতঙ্গ চরম বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। ডিম ফুটে বের হওয়া ক্ষুদ্র সামুদ্রিক কচ্ছপ সাগরের দিকে না গিয়ে পার্কিং লটের আলোর দিকে ছুটছে, কিংবা আলোর চারপাশে অনবরত ঘুরতে ঘুরতে প্রদীপপোকার জীবন শেষ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, জোনাকি ও ব্যাঙের মতো প্রাণীর প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্ধকারের প্রয়োজন হলেও তারা সেই পরিবেশ পাচ্ছে না, আবার বড় বড় শহরের তীব্র আলোর কারণে পথ হারিয়ে ফেলছে পরিযায়ী পাখির দল। দিনের আলো ফোটার পরও আলো দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব প্রকৃতির মাঝে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম আলো উদ্ভিদ ও পরাগায়নকারীদের মধ্যকার স্বাভাবিক সম্পর্ক ভেঙে দিচ্ছে, গাছের অসময়ে ফুল ফোটার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং পৃথিবীর সকল জীবকুলের দৈনন্দিন অভ্যন্তরীণ শারীরিক ঘড়ি বা সার্কেডিয়ান রিদম মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। মানুষের ক্ষেত্রেও এই প্রভাব বেশ প্রকট। ঘরের ভেতরের আলো হোক কিংবা জানালার বাইরে থেকে আসা কৃত্রিম আলো, গবেষণায় দেখা গেছে যে সুস্থ থাকা, শারীরিক নিরাময় এবং পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামের জন্য মানুষের পর্যাপ্ত অন্ধকার পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজন। সাধারণত রাস্তার বাতি, বাণিজ্যিক ভবন, পার্কিং লট এবং রাতভর জ্বালিয়ে রাখা খেলার মাঠ থেকে অধিকাংশ আলো দূষণ ছড়ায়। কিন্তু ইদানীং শুধু মাটি থেকেই নয়, আলো দূষণের বড় এক হুমকি তৈরি হচ্ছে সরাসরি মহাকাশ বা আকাশ থেকেও। এমনকি সংরক্ষিত ডার্ক স্কাই অঞ্চলে দাঁড়িয়ে যখন খোলা চোখে ছায়াপথ দেখা যায়, তখনও কৃত্রিম উপগ্রহের অবিরাম যাতায়াত রাতের আকাশের প্রাকৃতির রূপ নষ্ট করে দেয়। লক্ষ্যভিত্তিক বা সুরক্ষিত আলোর ব্যবহার মাটির আলো দূষণ কিছুটা কমাতে পারলেও মহাকাশে ঘুরতে থাকা স্পেসএক্সের ১১ হাজারের বেশি স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইটের উজ্জ্বলতা কমাতে কোনো কাজে আসছে না। তদুপরি, কিছু প্রতিষ্ঠান মহাকাশে স্যাটেলাইটের সাহায্যে কৃত্রিম সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীর প্রায় তিন মাইল এলাকা আলোকিত করার মতো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, মহাকাশে পাঠানো এসব বস্তু বা কৃত্রিম উপগ্রহের কারণে পৃথিবীতে জীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়লেও সেগুলোর কোনো পরিবেশগত প্রভাব পর্যালোচনা করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ইতিহাসের শুরু থেকেই নক্ষত্রভরা আকাশ মানুষের ইতিহাস ও সভ্যতার ধারক হয়ে আছে। তারার আলো মানুষকে পথ দেখিয়েছে, মানচিত্র, ক্যালেন্ডার এবং দিকনির্ণয়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। অথচ আধুনিক নগরায়নের যুগে রাতের আকাশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, আর রাতের অন্ধকার দেখার সুযোগটি একটি বিশেষ বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই’ জয়ী হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের যোগাযোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জিততে যাচ্ছি। আমার যতদূর মনে হয়, এটা যে কোনোভাবেই ঘটবে। এটা বেশ দ্রুতই হয়ে যাবে।’ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে জ্বালানির দামও দ্রুত কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রয়টার্স জানিয়েছে, সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে সোমবার মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আলোচনার বিষয়ে জানেন এমন এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার সংশোধিত একটি সংস্করণকে কেন্দ্র করে পরবর্তী আলোচনা হতে পারে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। সাত মাসের এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সময়ে তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এর আগে এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দফা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে দুই চুক্তিই দ্রুত ভেস্তে যায়। এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এখনো নিউইয়র্কে রয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, তিনি আশা করছেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে দেওয়া শর্তগুলোর জবাব দেবে। আরাকচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে ইরান সেই সমাধানের প্রস্তাব ইতোমধ্যে দিয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন। তবে এসব আলোচনায় কী বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। সূত্র : রয়টার্স
দক্ষিণ আফ্রিকায় দেশব্যাপী গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’। অনিবন্ধিত বিদেশি নাগরিকদের ইস্যুর পাশাপাশি সাম্প্রতিক নারী হত্যা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও অপরাধের প্রতিবাদে আগামী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘মেনস মার্চ’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরকে অনিবন্ধিত বিদেশিদের দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার ‘ডেডলাইন’ ঘোষণা করেছিল মার্চ অ্যান্ড মার্চ। তবে এই ডেডলাইনের কোনো আইনগত ক্ষমতা নেই। বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কার বা অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা জেনোফোবিয়া, অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার মাধ্যমে পরিচিত হতে পারে না। তিনি দেশবাসীকে বর্ণবৈষম্যহীনতা, সমতা, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার সাংবিধানিক মূল্যবোধ মেনে চলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারীর ওপর সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেন তিনি। অন্যদিকে মার্চ অ্যান্ড মার্চ জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে পুরুষদের বিশেষভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, নারীদের হত্যা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে পুরুষদের নীরব না থেকে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। গৌতেং ও কোয়াজুলু-নাটালসহ কয়েকটি এলাকায় মিছিলের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে তারা। ডারবানসহ কয়েকটি এলাকায় বিদেশি নাগরিক ও শরণার্থীদের মধ্যে কর্মসূচিকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর ডারবান রিফিউজি রিসেপশন সেন্টারের সামনে বিদেশি শরণার্থী ও মার্চ অ্যান্ড মার্চের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরও স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং বিক্ষোভকারীদের অবশ্যই আইনের মধ্যে থেকে কর্মসূচি পালন করতে হবে। মার্চ অ্যান্ড মার্চও কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখার কথা জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের সম্ভাব্য বিক্ষোভস্থল ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলা, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কিয়াউকতাও’র একটি মার্কেটে বোমাবর্ষণ করেছে মিয়ানমারের বিমানবাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৯ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন। গত কাল ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার ঘটেছে এ হামলা। যে এলাকায় অভিযান চালিয়েছে বিমান বাহিনী, সেটি মিয়ানমারের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সেনাবিরোধী রাজনৈতিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা। সোমবার এক বিবৃতিতে আরাকান আর্মি জানিয়েছে, সোমবার বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধ বিমান কিয়াউকতাও’র সেই মার্কেটের ওপর দু’টি বোমা ফেলে, এতে মোট নিহত হন ৪৯ জন এবং আহত হন আরও ৫৮ জন। আহতদের মধ্যে অন্তত ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আরাকান আর্মির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহত ও আহতদের মধ্যে সবাই বেসামরিক। তাদের কেউ সেই মার্কেটের অস্থায়ী দোকানব্যবসায়ী, কেউ স্থায়ী ব্যবসায়ী এবং কেউ বা সাধারণ পথচারী। রাখাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াই হুন অং’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও নিহত ও আহতের যে সংখ্যা নিজদের আরাকান আর্মি দিয়েছে—তার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, কিয়াউকতাও’র এই মার্কেটটি ছিল একটি পাইকারি মার্কেট এবং সবসময় এই মার্কেটে ভিড় থাকে। রাখাইন রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে সাধারন ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এই মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে হামলার একাধিক ছবি ও ভিডিও ফুটেজ পোস্ট করা হয়েছে। সেসব ছবি-ভিডিওতে দেখা গেছে— কিউকতাও শহরের সেই মার্কেট এবং আশপাশের কয়েকটি ভবন, গাড়ি-বাসে আগুন জ্বলছে। বিমান বাহিনীর বোমায় বাজার সংলগ্ন একটি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, রাখাইনভিত্তিক আরাকান আর্মি মিয়ানমারের অন্যতম বৃহৎ ও শক্তিশালী সেনাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী। বহু বছর ধরে এই গোষ্ঠীটি রাখাইনের স্বায়ত্তশাসন অর্জনের লক্ষ্যে লড়াই করছে। ২০২১ সালে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে হটিয়ে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল করার পর সাধারণ জনতার সেনাবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে সাংগঠনিক বিস্তার ও শক্তিবৃদ্ধিতে মনোযোগ দেয় আরাকান আর্মি। তারপর ২০২৩ সালে রাখাইনের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ নিতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সর্বাত্মক সংঘাতে নামে, যা এখনও চলছে। রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টিই বর্তমানে আরাকান আর্মির দখলে আছে। কিউকতাও এই ১৪ শহরের মধ্যে একটি। সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।