নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) সদ্যবিদায়ী ও নবাগত সিভিল সার্জনের বিদায় ও যোগদান অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে নার্সদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানের উপহার ও খাবারের খরচের জন্য নার্সদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে নেওয়ার উদ্যোগ করা হয়। এ পর্যন্ত নার্সদের কাছ থেকে ৭০ হাজার এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্যোগে সোমবার অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা ছিল। তবে চাঁদা সংগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিদায়ী সিভিল সার্জন মশিউর রহমান এবং নবাগত সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন। এ কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হাসান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ১২০ জন নার্স কর্মরত। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা ছিল। রোববার বিকেল পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। চাঁদা সংগ্রহের বিষয়ে হাসপাতালের নার্সদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে দিতে বলা হয়েছিল। তবে অনেকেই এ অর্থ দিতে আগ্রহী ছিলেন না। তাঁদের প্রশ্ন, সিভিল সার্জনের বিদায় বা যোগদান অনুষ্ঠান হাসপাতালের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ নয়; তাহলে এ আয়োজনের জন্য নার্সদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হবে কেন? এ বিষয়ে হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার শিখা রাণী মণ্ডল বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্যোগেই অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হাসপাতালের সেবায় যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জনপ্রতি এক হাজার টাকা চাওয়া হলেও সামর্থ্য অনুযায়ী যে কেউ দিতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কাউকে জোর করা হয়নি বলেও জানান তিনি। আরএমও নাজমুল হাসান বলেন, অনুষ্ঠানের উপহার ও খাবারের জন্যই চাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছিল। হাসপাতালের নিজস্ব কোনো ফান্ড না থাকায় চিকিৎসক ও নার্সরা নিজেদের উদ্যোগে আয়োজনটি করছিলেন। তবে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিদায়ী সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, তিনি কোনো বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করতে বলেননি। তাঁর মতে, বিদায় উপলক্ষে এভাবে চাঁদা তোলা অনৈতিক। তাই তিনি অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেবেন না বলে জানান। যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। অন্যদিকে নবাগত সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, নার্সদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তাঁর ভাষ্য, ঘরোয়া একটি অনুষ্ঠানের কথা হয়েছিল। কিন্তু চাঁদা আদায়ের বিষয়টি জানার পর তিনি বিব্রত হয়েছেন এবং এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য সমীচীন হবে না। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের শুরু থেকে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মশিউর রহমান। গত ২০ আগস্ট তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরে তাঁর স্থলে নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে এস এম সাখাওয়াত হোসেনকে পদায়ন করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হ্যান্ডকাফ পরানোর কারণ জানতে চেয়েছেন জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। রোববার ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে বক্তব্য দেওয়ার সময় পলক বলেন, তাকে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে আনা হয়েছে। এ ছাড়া দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছিল। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাথায় ভারী কোনো কিছু না দেওয়ার কথা থাকলেও তাকে এভাবে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পলকের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নামানোর পর ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেওয়ার সময়ও তাকে একই নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও হ্যান্ডকাফ পরানো ছিল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি নিরাপদ স্থান। সেখানে স্বল্প সময়ের জন্য প্রবেশের ক্ষেত্রেও কেন তাকে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং পেছনে হাত নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হচ্ছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ বক্তব্য দেন পলক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় ওইদিন নবম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর কাঠগড়ায় থাকা পলক ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ পান। তখন তিনি নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে ব্যবহৃত কম্পিউটারের উইন্ডোজ সফটওয়্যার নিয়েও আপত্তি জানান পলক। তিনি সফটওয়্যারটিকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে লাইসেন্স করা উইন্ডোজ ব্যবহারের অনুরোধ করেন। পলকের বক্তব্যের পর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রসিকিউশনের অবস্থান জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, আসামিকে যে নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে, সেটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশনের সরাসরি কিছু করার নেই। কম্পিউটারে ব্যবহৃত উইন্ডোজ সফটওয়্যার প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর বলেন, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন। প্রয়োজনে আইটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। পরে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশনা দেন, কম্পিউটারে যাতে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ব্রিকসের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে পাঁচটি নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। রোববার সকালে ‘ব্রিকস সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করা, গ্লোবাল সাউথের শক্তি বাড়ানো’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন শি। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি উন্নয়ন, নিরাপত্তা, জলবায়ু ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। শি জিনপিং বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে। সার্বভৌম সমতা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মতো মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগে সমর্থন এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়া সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। মানুষকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শি জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যগত ও অপ্রচলিত—দুই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য দ্রুত একটি বৈশ্বিক শাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শি। যে পাঁচ উদ্যোগের প্রস্তাব: এআই সহযোগিতা: ব্রিকস সদস্যদের জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপেন-সোর্স জোন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন শি। বৃহৎ ভাষা মডেল উন্নয়ন ও ব্যবহারে সহযোগিতা, এআই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজন এবং একটি উন্মুক্ত এআই পরিবেশ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল: ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা: একটি স্মার্ট পোর্টাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নীতিগত সমন্বয় বাড়ানো এবং উন্মুক্ত উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর চীনে ব্রিকস দেশগুলোর সেবা বাণিজ্য ফোরাম আয়োজনের কথাও জানান শি। ডিজিটাল শিল্প: ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি ডিজিটাল শিল্প ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এর মাধ্যমে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় ও শিল্প খাতগুলোর মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। দক্ষতা ও স্মার্ট উৎপাদন: ব্রিকস দেশগুলোকে স্মার্ট কারখানা গড়ে তুলতে সহায়তা এবং অভিন্ন মানদণ্ড ও নিয়মকাঠামো তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেন শি। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ জোট গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। শি জিনপিং আরও বলেন, চলতি বছর চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের সূচনা হয়েছে। তার ভাষায়, এই পরিকল্পনা কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে উন্মুক্ত সহযোগিতার সুযোগও এতে রাখা হয়েছে। সূত্র: সিএমজি
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় দরপতনের মুখে পড়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার। রোববারের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে। দিন শেষে ডিএসইএক্স ৯৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শতাংশের হিসাবে সূচকটির পতন হয়েছে প্রায় পৌনে দুই শতাংশ। গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে এটিই সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে ২ জুন ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে নেমেছিল। শেয়ারবাজারে ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে সূচকটি এ সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে উদ্বেগ ও আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তদন্ত নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউস এবং শেয়ার লেনদেনের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তদন্তের এই পরিস্থিতিতে অনেক বড় ও মাঝারি বিনিয়োগকারী নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কেউ কেউ হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ ধরে রাখছেন। এতে ভালো মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ারেও বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। রোববার ডিএসইতে মোট ৩৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬টির দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠানের এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। তবে সূচকের বড় পতনের দিনেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৫৭১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৭ কোটি টাকা বেশি। বাজারসংশ্লিষ্টরা লেনদেন বৃদ্ধিকে আপাতত ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনে বেশ কিছু শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ নিয়েছেন। ফলে বাজারে বিক্রির চাপের পাশাপাশি কিছুটা ক্রয়চাহিদাও তৈরি হয়েছে।
ব্রিকসের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে পাঁচটি নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। রোববার সকালে ‘ব্রিকস সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করা, গ্লোবাল সাউথের শক্তি বাড়ানো’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন শি। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি উন্নয়ন, নিরাপত্তা, জলবায়ু ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। শি জিনপিং বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে। সার্বভৌম সমতা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মতো মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগে সমর্থন এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়া সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। মানুষকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শি জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যগত ও অপ্রচলিত—দুই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য দ্রুত একটি বৈশ্বিক শাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শি। যে পাঁচ উদ্যোগের প্রস্তাব: এআই সহযোগিতা: ব্রিকস সদস্যদের জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপেন-সোর্স জোন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন শি। বৃহৎ ভাষা মডেল উন্নয়ন ও ব্যবহারে সহযোগিতা, এআই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজন এবং একটি উন্মুক্ত এআই পরিবেশ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল: ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা: একটি স্মার্ট পোর্টাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নীতিগত সমন্বয় বাড়ানো এবং উন্মুক্ত উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর চীনে ব্রিকস দেশগুলোর সেবা বাণিজ্য ফোরাম আয়োজনের কথাও জানান শি। ডিজিটাল শিল্প: ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি ডিজিটাল শিল্প ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এর মাধ্যমে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় ও শিল্প খাতগুলোর মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। দক্ষতা ও স্মার্ট উৎপাদন: ব্রিকস দেশগুলোকে স্মার্ট কারখানা গড়ে তুলতে সহায়তা এবং অভিন্ন মানদণ্ড ও নিয়মকাঠামো তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেন শি। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ জোট গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। শি জিনপিং আরও বলেন, চলতি বছর চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের সূচনা হয়েছে। তার ভাষায়, এই পরিকল্পনা কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে উন্মুক্ত সহযোগিতার সুযোগও এতে রাখা হয়েছে। সূত্র: সিএমজি
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সরাসরি সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরনগরী মোখা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরের কাছে কাধা এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষই ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। সরকারি বাহিনী হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালাচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিব শহরের পশ্চিমাঞ্চলেও হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। আল-মাশজাহ ও আল-জোর এলাকায় হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। মাস ক্যাম্পের আশপাশেও ব্যাপক গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। মারিব ইয়েমেন সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। সেখানে তেল ও গ্যাসকেন্দ্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অন্যতম প্রধান সরবরাহকেন্দ্র হওয়ায় শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। নতুন করে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৭৬ হাজার ইয়েমেনে সংঘাত আবার বাড়ায় মানবিক পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই দুই হাজারের বেশি মানুষ ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল থেকে পালিয়ে আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে থাকে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সৌদি সীমান্তেও হামলা ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবও বিমান হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে হুতি-সংশ্লিষ্ট সূত্র। হুতিদের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় সৌদি বাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাইজ ও মারিবের আশপাশেও এসব হামলা হয়েছে বলে তাদের দাবি। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল এলাকায় একটি হামলার ঘটনায় কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে অস্ত্রের গুদাম, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে হুতিদের ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় ইয়ানবু বন্দরে কয়েক দিনের চাহিদা পূরণের মতো তেল মজুত রয়েছে। পাইপলাইন দ্রুত চালু করা সম্ভব না হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান এই ঘাটতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। হরমুজ ঘিরেও বাড়ছে উত্তেজনা ইয়েমেনের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোববার হরমুজের কাছাকাছি কাসেম দ্বীপের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ইরানের। তবে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ওই বৈঠকে অংশ নেবে না। এদিকে আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের ব্যাপার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইয়েমেনে হুতি ও সরকারি বাহিনীর নতুন করে সরাসরি সংঘর্ষ, সৌদি ভূখণ্ডে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠছে।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় তদন্তের সক্ষমতা অর্জন আধুনিক পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অপরিহার্য। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। রবিবার রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্ত সংক্রান্ত ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ’র রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. শেহেলা পারভীন সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণ রোডম্যাপ এবং বাস্তবায়ন কৌশল উপস্থাপন করেন। এ সময় পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ’র অনুষদ সদস্য এবং রিসোর্স পার্সনরা উপস্থিত ছিলেন। আইজিপি বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্লাউড কম্পিউটিংসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি একদিকে যেমন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্যও তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। আলী হোসেন ফকির বলেন, অপরাধীরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবারভিত্তিক প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইনে হয়রানি, ডিজিটাল চাঁদাবাজি ইত্যাদি অপরাধ ঘটাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশিংয়ের ধরনে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এ কোর্সের মাধ্যমে আপনারা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবেন না, একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনেও সক্ষম হবেন। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্যান্য তদন্তকারীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আপনারা কার্যকরভাবে অন্যান্য তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দিলে আমাদের সাইবার মামলা তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ ও মডিউল হালনাগাদ করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে কাজী মো. ফজলুল করিম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের এপেক্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হিসেবে পুলিশ স্টাফ কলেজ নানামুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ প্রশিক্ষণ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং শাখার উদ্যোগে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ ১০ দিনের এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে। পর্যায়ক্রমে টিওটি কোর্সে অংশগ্রহণকারী ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তকারীগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, বিলের কিছু বিধান কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই আইনটি পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে তারা। রোববার সকালে রাজধানীতে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুসলিমদের হেবা বা দানসংক্রান্ত বিষয়ে নতুন আইনি জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। ইসলামি শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই বিলটি দ্রুত পাস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে হেফাজত। সংগঠনটির নেতারা বলেন, মুসলিমপ্রধান দেশে মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে আলেম-ওলামা, ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে তারা অস্বীকার করেন না; তবে ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হেফাজতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন এবং শরিয়তসম্মত সম্পত্তি বণ্টনব্যবস্থার প্রতি রাষ্ট্রের যথাযথ সম্মান দেখানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি। বিলটি সংশোধনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে তারা। সংগঠনটির ভাষ্য, মুসলিমদের প্রচলিত হেবা প্রথা ও উত্তরাধিকারীদের অধিকার সুরক্ষায় বিতর্কিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে বিলটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনের আমিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এ সাক্ষাৎ করবে। ওই দলে হেফাজতের নেতাদের পাশাপাশি ইসলামি ফিকাহ বিশেষজ্ঞদেরও রাখা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়। বিলে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তরের পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার রাখার সুযোগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চার স্বতন্ত্র পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির আগের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নতুন পর্ষদ গঠন করেছিল, ওই চারজন সেই পর্ষদের সদস্য ছিলেন। পদত্যাগ করা চার পরিচালক হলেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. শাহীন উল ইসলাম, এনআরবি ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. আব্দুল ওয়াদুদ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান (এফসিএ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ। ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা শাহরিয়ারকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে ব্যাংকটির নতুন পর্ষদ গঠন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে ওই পাঁচজনের মধ্যে খাজা শাহরিয়ারই শুধু স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগেই ওই স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পুরোনো মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে আনা হলে আগের স্বতন্ত্র পরিচালকদের পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চলতি বছরের ১৫ জুলাই পুরোনো মালিকপক্ষের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নতুন পর্ষদ গঠনের পর স্বতন্ত্র পরিচালকেরা বিভিন্ন বিষয়ে অস্বস্তির মধ্যে ছিলেন। গত ১৫ জুলাই আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের জন্য ১৩ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন পরিচালকদের মধ্যে পাঁচজন চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ভাই আব্দুস সামাদ লাবু। নতুন পর্ষদে যুক্ত হওয়া কয়েকজন পরিচালক আগের পর্ষদেও ছিলেন। নতুন পর্ষদে বদিউর রহমানকে চেয়ারম্যান এবং লিয়াকত আলী চৌধুরীকে ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। পরিচালক হিসেবে রয়েছেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, তাঁর ছেলে সেলিম রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি মাহবুব আহমেদ, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, নাজমুল আহসান খালেদ, মো. এনায়েত উল্লা, আহামেদুল হক, মোহাম্মদ ইমাদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসাইন ও মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। এনায়েত উল্লা সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পর চার স্বতন্ত্র পরিচালকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা কাঠামোয় আরও একটি পরিবর্তন এলো।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ব্রিকসের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে পাঁচটি নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। রোববার সকালে ‘ব্রিকস সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করা, গ্লোবাল সাউথের শক্তি বাড়ানো’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন শি। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি উন্নয়ন, নিরাপত্তা, জলবায়ু ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। শি জিনপিং বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে। সার্বভৌম সমতা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মতো মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগে সমর্থন এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়া সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। মানুষকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শি জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যগত ও অপ্রচলিত—দুই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য দ্রুত একটি বৈশ্বিক শাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শি। যে পাঁচ উদ্যোগের প্রস্তাব: এআই সহযোগিতা: ব্রিকস সদস্যদের জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপেন-সোর্স জোন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন শি। বৃহৎ ভাষা মডেল উন্নয়ন ও ব্যবহারে সহযোগিতা, এআই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজন এবং একটি উন্মুক্ত এআই পরিবেশ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল: ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা: একটি স্মার্ট পোর্টাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নীতিগত সমন্বয় বাড়ানো এবং উন্মুক্ত উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর চীনে ব্রিকস দেশগুলোর সেবা বাণিজ্য ফোরাম আয়োজনের কথাও জানান শি। ডিজিটাল শিল্প: ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি ডিজিটাল শিল্প ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এর মাধ্যমে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় ও শিল্প খাতগুলোর মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। দক্ষতা ও স্মার্ট উৎপাদন: ব্রিকস দেশগুলোকে স্মার্ট কারখানা গড়ে তুলতে সহায়তা এবং অভিন্ন মানদণ্ড ও নিয়মকাঠামো তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেন শি। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ জোট গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। শি জিনপিং আরও বলেন, চলতি বছর চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের সূচনা হয়েছে। তার ভাষায়, এই পরিকল্পনা কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে উন্মুক্ত সহযোগিতার সুযোগও এতে রাখা হয়েছে। সূত্র: সিএমজি
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সরাসরি সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরনগরী মোখা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরের কাছে কাধা এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষই ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। সরকারি বাহিনী হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালাচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিব শহরের পশ্চিমাঞ্চলেও হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। আল-মাশজাহ ও আল-জোর এলাকায় হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। মাস ক্যাম্পের আশপাশেও ব্যাপক গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। মারিব ইয়েমেন সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। সেখানে তেল ও গ্যাসকেন্দ্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অন্যতম প্রধান সরবরাহকেন্দ্র হওয়ায় শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। নতুন করে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৭৬ হাজার ইয়েমেনে সংঘাত আবার বাড়ায় মানবিক পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই দুই হাজারের বেশি মানুষ ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল থেকে পালিয়ে আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে থাকে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সৌদি সীমান্তেও হামলা ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবও বিমান হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে হুতি-সংশ্লিষ্ট সূত্র। হুতিদের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় সৌদি বাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাইজ ও মারিবের আশপাশেও এসব হামলা হয়েছে বলে তাদের দাবি। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল এলাকায় একটি হামলার ঘটনায় কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে অস্ত্রের গুদাম, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে হুতিদের ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় ইয়ানবু বন্দরে কয়েক দিনের চাহিদা পূরণের মতো তেল মজুত রয়েছে। পাইপলাইন দ্রুত চালু করা সম্ভব না হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান এই ঘাটতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। হরমুজ ঘিরেও বাড়ছে উত্তেজনা ইয়েমেনের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোববার হরমুজের কাছাকাছি কাসেম দ্বীপের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ইরানের। তবে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ওই বৈঠকে অংশ নেবে না। এদিকে আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের ব্যাপার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইয়েমেনে হুতি ও সরকারি বাহিনীর নতুন করে সরাসরি সংঘর্ষ, সৌদি ভূখণ্ডে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠছে।
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের একদল গবেষক বিশাল এক গভীর সমুদ্রের খনিজ ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন। দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত একটি এলাকায় ‘সিয়াংইয়াংহং ১০’ নামের গবেষণা জাহাজে করে এই অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ ১৮ দিনের এই অভিযানে গবেষকরা ডুবোযান ব্যবহার করে ৭০০ থেকে ১,৫০০ মিটার গভীরতায় এই নতুন খনিজ ক্ষেত্রটি আবিষ্কার করেন। উত্তপ্ত সামুদ্রিক জলউৎস বা হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট থেকে সংগৃহীত আকরিক নমুনার প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এখানকার মাটিতে স্বর্ণ ও রূপার পরিমাণ স্থলভাগের যেকোনো খনির চেয়ে অনেক বেশি। কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিক থেকে ১৫.৪ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ এবং ১,২৭১ গ্রাম পর্যন্ত রূপা পাওয়া গেছে। এই খনিজ ভান্ডারে তামা ও দস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর পাশাপাশি বিশাল পরিমাণে পলিমিটালিক সালফাইড রয়েছে, যা বিশ্বমানের সমুদ্রগর্ভস্থ খনির সমতুল্য। এছাড়া এই চরম পরিবেশের চারপাশে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর বিচরণও লক্ষ্য করা গেছে। তবে গভীর সমুদ্রের তীব্র চাপ ও জটিল পরিস্থিতির কারণে এই খনিজ সম্পদ এখনই উত্তোলন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। সূত্র: গ্লোবাল টাইমস।
ব্রিকসের নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ নামে ৪৫ পৃষ্ঠার একটি যৌথ ঘোষণাপত্র গ্রহণ করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও এবারের সম্মেলনের স্বাগতিক নরেন্দ্র মোদি ঘোষণাপত্রটি অনুমোদনের কথা জানান। ঘোষণাপত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে কাঠামোগত পরিবর্তন এনে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। ব্রিকসের সদস্য এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদে ব্রাজিল ও ভারতের আরও বড় ভূমিকার আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। যৌথ ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে একতরফাভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নাবিক ও বাণিজ্যিক নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে ঘোষণাপত্রে। ঘোষণাপত্র গ্রহণের পর নরেন্দ্র মোদি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বকে পুরোনো ধাঁচের প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। প্রতিনিধিত্ব, সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে সংস্কার এখন অপরিহার্য। মোদি আরও বলেন, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি এবং সেগুলো পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়নে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ ব্রিকসের দেশগুলোর যৌথ অঙ্গীকারকে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এখন এসব সিদ্ধান্তকে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তর করার দায়িত্ব তাদের। বহুপক্ষীয় বাণিজ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্যে রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ঘোষণাপত্রে। এতে বলা হয়েছে, ঢালাওভাবে শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত বাধা বাড়ানো এবং পরিবেশ সুরক্ষার অজুহাতে সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যব্যবস্থার প্রসার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ব্রিকস নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের বাণিজ্য-প্রতিবন্ধকতা বৈশ্বিক বাণিজ্য আরও কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে অনিশ্চয়তা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব প্রবণতা বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলেও ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।