সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব, ইরানের কঠোর সতর্কবার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দেওয়ার পর পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। খবর সিএনএনের। বুধবার (২২ জুলাই) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন বাহিনী যদি ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে ইরান পুরো অঞ্চলের অবকাঠামো ও সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ জড়িত জ্বালানি স্থাপনাও থাকবে। তিনি আরও বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বুঝে যাওয়া উচিত যে, ইরান যেখানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, সেখানেই হামলা চালাতে সক্ষম। তাই ট্রাম্প যদি এমন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন, তবে সেটি শেষ পর্যন্ত তার জন্য আবারও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে। একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে তেহরান। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইরান তার দৃঢ় অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসবে না।

২ ঘন্টা আগে
ইংলিশ ক্লাব ছাড়লেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে টটেনহ্যাম হটস্পার ছাড়ছেন আর্জেন্টাইন তারকা ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। সেই সঙ্গে ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘ ৫ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটছে। বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক ও দলবদল বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানোর এক এক্সক্লুসিভ রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ক্লাব এবং খেলোয়াড়—উভয় পক্ষই এই গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আলাদা হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন ২৮ বছর বয়সী এই তারকা। নিয়মিত উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও শিরোপার জন্য লড়াই করা সম্ভব এমন একটি ক্লাবে যেতে চান এই তারকা সেন্টার-ব্যাক। ইতালিয়ান জায়ান্টরা বর্তমানে রোমেরোকে দলে ভেড়াতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে। চুক্তিটি বেশ ব্যয়বহুল হলেও ইন্টারের প্রতিনিধিরা খুব শীঘ্রই তার এজেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনাও রোমেরোকে তাদের রক্ষণভাগের মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে বর্তমান স্কোয়াড থেকে কোনো ডিফেন্ডার দলত্যাগ করলেই কেবল তারা এই রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে নামবে বলে জানা গেছে। ​​​​​

২ ঘন্টা আগে
এমপি পদ ছাড়তে গাজী নজরুলকে চূড়ান্ত আলটিমেটাম জামায়াতের

দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য (এমপি) পদ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি পদত্যাগ না করলে তার এমপি পদ বাতিলের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজী নজরুল এখন আর জামায়াতের কেউ নন। ফলে তিনি জামায়াতের এমপি নন। তাই এই বিষয়ে যেসব আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে সবই নেওয়া হবে। জানা গেছে, সম্প্রতি গাজী নজরুলকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে জামায়াত। তদন্তে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর বুধবার জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুসারে গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। নির্বাহী পরিষদের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, গাজী নজরুলকে স্বেচ্ছায় এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত দলকে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। একই সঙ্গে পদত্যাগ করবেন না- এমন অবস্থানও তিনি স্পষ্ট করেননি। জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য বলেন, সংসদীয় দলের কোনো সদস্যই গাজী নজরুলের পক্ষে অবস্থান নেননি। বরং সবাই চেয়েছেন তাকে বহিষ্কার করা হোক। তা না হলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দলকে বারবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো। তিনি আরও বলেন, গাজী নজরুল যদি পদত্যাগ না করে আইনি লড়াই চালিয়ে যান, তাহলে হয়তো তিনি কিছু মাস বা এমনকি প্রায় এক বছর পর্যন্ত এমপি পদে বহাল থাকতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে তিনি জামায়াতের অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংসদে বসতে পারবেন না। গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে থাকা ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন তিনি। ওই তরুণীও জানান, গত ১৭ জুন গাজী নজরুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। একই দাবি করেন তরুণীর বাবা এবং গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও। যদিও বিয়ের কাজী বদরুল আলম মো. বাকী বিল্লাহ জানিয়েছেন, ১৭ জুন নয়, বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে ১৯ জুলাই। এ তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়। যদিও বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আগে বিয়ে সম্পন্ন করে পরে তা নিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে। তবে বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন না করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই ঘটনার মধ্যেই গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার এবং তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় জামায়াতে ইসলামী।

৩ ঘন্টা আগে
১৮ বছরেই থেমে গেল ‘গডজিলা’খ্যাত অভিনেত্রীর জীবন

অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা আমেরিকান অভিনেত্রী কেলি হটল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে ঘটে যাওয়া একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তার জীবনপ্রদীপ নিভে গেল। পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   মেরিল্যান্ডের ফ্রেডরিক কাউন্টি শেরিফ অফিস থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরের দিকে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। গাড়িটিতে চালকসহ তিনজন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে কেলি হটল ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।    গাড়িটি যিনি চালাচ্ছিলেন, তিনি ১৯ বছর বয়সি এক তরুণ। দুর্ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত গতিই এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে।    জানা যায়, কেলি হটল একজন বধির ছিলেন। তার পরিবারে বধিরতার ইতিহাস চার প্রজন্ম ধরে বিস্তৃত। তার বাবা জশুয়া হটলও একজন বধির।    এই অভিনেত্রী মূলত বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পান ২০২১ সালের জনপ্রিয় থ্রিলার সিনেমা ‘গডজিলা ভার্সেস কং’-এ ‘জিয়া’ চরিত্রে অভিনয় করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় কিস্তি ‘গডজিলা এক্স কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’-এও তিনি একই চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন। সিনেমাগুলোতে তার অভিনয় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।    চলতি বছরের মার্চ মাসে ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সাফল্য নিয়ে কেলি বলেছিলেন, ‘আমার সহপাঠীরা বিষয়টাকে দারুণভাবে উপভোগ করে। তারা তাদের একজন বন্ধুকে বড় পর্দায় কিং কংয়ের পাশে অভিনয় করতে দেখে সত্যি আনন্দিত।’    শোকে স্তব্ধ পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেলি হটলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাবা জশুয়া হটল একটি ভিডিও বার্তায় আমেরিকান সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ-এর মাধ্যমে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, তিনি মেরিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমি এমন একটি ফ্লাইটে উঠছি, যা আমি কখনোই জীবনে নিতে চাইনি।’    কেলি অস্টিনের ‘টেক্সাস স্কুল ফর দ্য ডেফ’-এর দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। তার অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে তার স্কুল কর্তৃপক্ষ।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্কুলটি লিখেছে, ‘কেলিকে হারানোর এই অপূরণীয় ক্ষতিতে আমরা গভীর শোকাহত। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহপাঠীদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। সবাই যেন এই কঠিন শোক সহ্য করতে পারেন।’ 

৪ ঘন্টা আগে
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়
এমপি পদ ছাড়তে গাজী নজরুলকে চূড়ান্ত আলটিমেটাম জামায়াতের

দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য (এমপি) পদ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি পদত্যাগ না করলে তার এমপি পদ বাতিলের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজী নজরুল এখন আর জামায়াতের কেউ নন। ফলে তিনি জামায়াতের এমপি নন। তাই এই বিষয়ে যেসব আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে সবই নেওয়া হবে। জানা গেছে, সম্প্রতি গাজী নজরুলকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে জামায়াত। তদন্তে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর বুধবার জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুসারে গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। নির্বাহী পরিষদের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, গাজী নজরুলকে স্বেচ্ছায় এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত দলকে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। একই সঙ্গে পদত্যাগ করবেন না- এমন অবস্থানও তিনি স্পষ্ট করেননি। জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য বলেন, সংসদীয় দলের কোনো সদস্যই গাজী নজরুলের পক্ষে অবস্থান নেননি। বরং সবাই চেয়েছেন তাকে বহিষ্কার করা হোক। তা না হলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দলকে বারবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো। তিনি আরও বলেন, গাজী নজরুল যদি পদত্যাগ না করে আইনি লড়াই চালিয়ে যান, তাহলে হয়তো তিনি কিছু মাস বা এমনকি প্রায় এক বছর পর্যন্ত এমপি পদে বহাল থাকতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে তিনি জামায়াতের অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংসদে বসতে পারবেন না। গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে থাকা ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন তিনি। ওই তরুণীও জানান, গত ১৭ জুন গাজী নজরুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। একই দাবি করেন তরুণীর বাবা এবং গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও। যদিও বিয়ের কাজী বদরুল আলম মো. বাকী বিল্লাহ জানিয়েছেন, ১৭ জুন নয়, বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে ১৯ জুলাই। এ তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়। যদিও বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আগে বিয়ে সম্পন্ন করে পরে তা নিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে। তবে বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন না করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই ঘটনার মধ্যেই গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার এবং তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় জামায়াতে ইসলামী।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬

বাংলাদেশি (বাঁয়ে) ও উগান্ডার পাসপোর্ট (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
ভিসা সুবিধায় উগান্ডার চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই ‘উগান্ডা’ শব্দটি নানা ট্রল ও ব্যঙ্গাত্মক উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রে উগান্ডা এখন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে।   সর্বশেষ হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স অনুযায়ী, উগান্ডার নাগরিকরা বাংলাদেশিদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন।   লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত ২০২৬ সালের জুলাই পাসপোর্ট সূচকে দেখা গেছে, উগান্ডার পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ৬৫টি দেশে ভিসামুক্ত বা ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় প্রবেশ করতে পারেন। অন্যদিকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য সেই সুযোগ রয়েছে মাত্র ৩৫টি দেশে।   সর্বশেষ সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ৯৭তম স্থানে। জানুয়ারি ২০২৬ সালের তুলনায় বাংলাদেশ দুই ধাপ পিছিয়েছে। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়াও। বিপরীতে আফ্রিকার দেশ উগান্ডার অবস্থান তালিকার ৭২তম স্থানে।   হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি সম্ভাব্য ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ সূচক প্রকাশ করে। কোনো দেশের নাগরিক আগাম ভিসা ছাড়াই বা ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় কতটি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন, সেটিই এই সূচকের মূল ভিত্তি।   সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকরা বর্তমানে ৩৫টি দেশে ভিসামুক্ত, ভিসা অন-অ্যারাইভাল বা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) সুবিধা পান। জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়েও এ সংখ্যা ছিল ৩৭টি।   আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০২৫ সালের শুরুতে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ৩৯টি দেশে এবং ২০২৪ সালের শুরুতে ৪২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই বা সহজ ভিসা সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারতেন। অর্থাৎ মাত্র আড়াই বছরে বাংলাদেশের জন্য সহজে ভ্রমণ গন্তব্যের সংখ্যা ৪২ থেকে কমে ৩৫-এ নেমে এসেছে।   বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ১৭টি দেশে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত সুবিধা পান। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে বাহামাস, বার্বাডোজ, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, ফিজি, ভানুয়াতু, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, কুক আইল্যান্ডস, মন্টসেরাট, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, রুয়ান্ডা, জাম্বিয়া, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস।   তবে সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনসের ক্ষেত্রে বাস্তবে বাংলাদেশিদের জন্য আগে থেকেই প্রি-এন্ট্রি ভিসা অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দেশটির সরকারি ইমিগ্রেশন বিধিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের আগেই অনুমোদন নিয়ে সেখানে ভ্রমণ করতে হয়।   এ ছাড়া ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, কম্বোডিয়া, তিমুর-লেস্তে, বুরুন্ডি, কোমোরোস, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, সিয়েরা লিওন, নিউই, সামোয়া ও টুভ্যালুতে বাংলাদেশিরা ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান। শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, সেশেলস ও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে যেতে হলে আগে অনলাইনে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) নিতে হয়।   এবারের সূচকে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। দুই দেশের নাগরিকরাই ৩৫টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধা পান। তবে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। অধিকাংশ গন্তব্যে তাদের নাগরিকরা ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান।   গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থানে ধারাবাহিক ওঠানামা রয়েছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৮তম। ২০২১ সালে তা নেমে যায় ১০৮তমে। ২০২২ সালে অবস্থান হয় ১০৩তম এবং ২০২৩ সালে ১০১তম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ আবার ৯৭তম স্থানে উঠে এলেও ২০২৫ সালে নেমে যায় ১০০তমে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অবস্থান উন্নীত হয়ে ৯৫তম হলেও জুলাইয়ের হালনাগাদে আবার ৯৭তম স্থানে নেমে এসেছে।   এবারের সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশযোগ্য গন্তব্য ১৮৮টি।   তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন, যার পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করা যায়।   চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন।   পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ১৮৫টি গন্তব্য।   ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। সপ্তম স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া। অষ্টম স্থানে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়া। নবম স্থানে লিচেনস্টেইন ও লিথুনিয়া এবং দশম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।   দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। দেশটি ৫২তম অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান।   এরপর রয়েছে ভারত, যার অবস্থান ৮১তম এবং ভিসামুক্ত গন্তব্য ৫৫টি। ভুটান রয়েছে ৮৮তম স্থানে, মিয়ানমার ৯১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৯৪তম অবস্থানে।   বাংলাদেশ রয়েছে ৯৭তম স্থানে, যেখানে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধার দেশ ৩৫টি। বাংলাদেশের ঠিক পরেই ৯৮তম অবস্থানে রয়েছে নেপাল। দেশটির নাগরিকরা ৩৪টি দেশে সহজে ভ্রমণ করতে পারেন।   অন্যদিকে পাকিস্তান রয়েছে ১০১তম অবস্থানে এবং তাদের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্য ২৯টি। সিরিয়া ১০৩তম, ইরাক ১০২তম এবং আফগানিস্তান ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানের নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন, যা সূচকের সর্বনিম্ন।

ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, ফের বন্যার শঙ্কা

চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দুটি নদীর তিনটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব, উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।   এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।   বুধবার (২২ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুশিয়ারা নদীর সুনামগঞ্জের মারকুলী স্টেশনে পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর ছাতক স্টেশনের পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৭৫টিতে পানি বাড়ছে, ৪৬টিতে কমছে ও ছয়টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। এখন সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।   এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই দিনে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এছাড়া হরিদাসপুরে ৫৮ মিলিমিটার ও জাফলংয়ে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় থাকায় বৃষ্টির এ প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।   পূর্বাভাসে বলা হয়, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী এক দিন বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।   অন্যদিকে যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে।   এছাড়া আত্রাই নদের পানি বাড়ার কারণে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নওগাঁর নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কায় বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।   তবে নেত্রকোনায় সোমেশ্বরী নদীর পানি কমতে থাকায় আগামী তিন দিনে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।   আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।   শুক্রবার ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। পরবর্তী পাঁচদিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।   সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় ও বাংলাদেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।   উল্লেখ্য, বুধবার নোয়াখালীর হাতিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন সিলেটে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ছবি : সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলার চাইল পাকিস্তান

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা সুবিধা চেয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মেয়াদে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে।   বুধবার (২২ জুলাই) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের এই অনুরোধ এমন সময় এসেছে, যখন দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান সহায়তা কর্মসূচির অধীনে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় ইসলামাবাদের কূটনৈতিক অবস্থানও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে দেশটি।   অনুমোদন মিললে এই তহবিল পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে, রুপির ওপর চাপ কমাতে এবং বহুপাক্ষিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসে সহায়ক হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তান।   তবে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।   পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে সহজ প্রবেশাধিকার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহযোগিতা চেয়েছেন আওরঙ্গজেব। পাশাপাশি দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।   বর্তমানে পাকিস্তান ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করছে দেশটি।   ২০২৩ সালে সার্বভৌম ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পাকিস্তান প্রথমে ৩ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ স্ট্যান্ডবাই ঋণ পায়। পরে আরও ৭ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি’ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদিত হয়।   তবুও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনো মূলত আইএমএফের অর্থছাড়, দ্বিপক্ষীয় সহায়তা এবং চীন ও সৌদি আরবের মতো অংশীদারদের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।   দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।   উল্লেখ্য, মুদ্রা স্থিতিশীলতা সহায়তা সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’-এর মাধ্যমে দেওয়া বিশেষ আর্থিক ব্যবস্থা। এর আওতায় ডলার সহায়তা, মুদ্রা বিনিময় চুক্তি বা গ্যারান্টির মাধ্যমে কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করা হয়।   রয়টার্স জানিয়েছে, এ ধরনের সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী ডলার সোয়াপ লাইনের বাইরে একটি পৃথক ব্যবস্থা। ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনাকে দেওয়া সহায়তার আগে সর্বশেষ বড় ধরনের এমন প্যাকেজ ২০০২ সালে উরুগুয়েকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে ১৯৪০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
হরমুজে জাহাজে হামলা হলেই ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কোনো জাহাজকে ইরান লক্ষ্যবস্তু করলে প্রতিবারই ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর সিএনএনের।   বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এখন থেকে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র বোমা মেরে ধ্বংস করবে। এর মধ্যে তেহরানের রাজধানীর ভেতরে বা আশপাশে থাকা স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   এর আগেও ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ইরান আলোচনায় না এলে দেশটির সব সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে।   ইরান ইতোমধ্যেই অভিযোগ করেছে, তাদের সেতু, রেল সংযোগ, পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র, বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে; যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী তা অস্বীকার করেছে।   তবে বেসামরিক অবকাঠামোতে ইচ্ছাকৃত হামলার হুমকি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলার চাইল পাকিস্তান
মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা সুবিধা চেয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মেয়াদে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে।   বুধবার (২২ জুলাই) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের এই অনুরোধ এমন সময় এসেছে, যখন দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান সহায়তা কর্মসূচির অধীনে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় ইসলামাবাদের কূটনৈতিক অবস্থানও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে দেশটি।   অনুমোদন মিললে এই তহবিল পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে, রুপির ওপর চাপ কমাতে এবং বহুপাক্ষিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসে সহায়ক হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তান।   তবে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।   পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে সহজ প্রবেশাধিকার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহযোগিতা চেয়েছেন আওরঙ্গজেব। পাশাপাশি দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।   বর্তমানে পাকিস্তান ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করছে দেশটি।   ২০২৩ সালে সার্বভৌম ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পাকিস্তান প্রথমে ৩ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ স্ট্যান্ডবাই ঋণ পায়। পরে আরও ৭ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি’ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদিত হয়।   তবুও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনো মূলত আইএমএফের অর্থছাড়, দ্বিপক্ষীয় সহায়তা এবং চীন ও সৌদি আরবের মতো অংশীদারদের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।   দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।   উল্লেখ্য, মুদ্রা স্থিতিশীলতা সহায়তা সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’-এর মাধ্যমে দেওয়া বিশেষ আর্থিক ব্যবস্থা। এর আওতায় ডলার সহায়তা, মুদ্রা বিনিময় চুক্তি বা গ্যারান্টির মাধ্যমে কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করা হয়।   রয়টার্স জানিয়েছে, এ ধরনের সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী ডলার সোয়াপ লাইনের বাইরে একটি পৃথক ব্যবস্থা। ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনাকে দেওয়া সহায়তার আগে সর্বশেষ বড় ধরনের এমন প্যাকেজ ২০০২ সালে উরুগুয়েকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে ১৯৪০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা রয়েছে।

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া ফোর্স। ছবি : সংগৃহীত
পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে শক্ত জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, দেশটির পারমাণবিক বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের আরও বিস্তার হিসেবে বিবেচিত হবে। খবর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার।   বুধবার (২২ জুলাই) ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই অপারেশনাল সদর দপ্তর জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, আগ্রাসী ও সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনী যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরান সেটিকে যুদ্ধের নতুন পর্যায় হিসেবে দেখবে।   এতে আরও বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র এবং সমর্থকদের সব ধরনের স্বার্থ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।   এই সতর্কবার্তা এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে লেবাননের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাবে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে নামতে ট্রাম্পের সিগনাল পাওয়ার অপেক্ষায় ইসরায়েল
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২২, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে ইসরায়েল। পাশাপাশি সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক পরিকল্পনাও প্রস্তুত করছে দেশটি। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আপাতত তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না।   তিনটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, জুলাইয়ের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার সংঘাত শুরু হলেও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত এতে সরাসরি অংশ নেয়নি। ওয়াশিংটনও তেল আবিবকে অভিযানে যোগ দেওয়ার কোনো অনুরোধ করেনি।   তবে একটি সূত্র বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ভবিষ্যতে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করেন এবং ইসরায়েলকে অংশ নিতে বলেন, তাহলে তারা প্রস্তুত থাকবে।   সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সোমবার রাতে নিরাপত্তা বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেখানে ইসরায়েল কীভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, সেই সম্ভাব্য কয়েকটি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে অভিযানে অংশ নেওয়া, ইরানের হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানা অথবা বড় ধরনের হুমকি ঠেকাতে আগাম হামলা চালানো।   রোববার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান ইয়াল জামিরও বলেন, বাহিনী যেকোনো সময় আবার অভিযানে ফিরতে পুরোপুরি প্রস্তুত। ইসরায়েলের ক্ষতি করতে চাইলে যে কারও বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে।   তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিই ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে অনুকূল। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরকে দুর্বল করছে, একই সঙ্গে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। ফলে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর প্রয়োজন আপাতত দেখছে না তেল আবিব।   ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোৎরিচও মঙ্গলবার বলেন, বর্তমানে এই যুদ্ধে যোগ দেওয়ার কোনো আগ্রহ ইসরায়েলের নেই। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ইরানের শাসনব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং সেটিই ইসরায়েলের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।   তিনি বলেন, ইরানের উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট দেশটির সরকারের জন্য বড় দুর্বলতা হয়ে উঠেছে। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপই ইরানের শাসনব্যবস্থাকে সবচেয়ে বেশি দুর্বল করতে পারে।   একটি সূত্রের দাবি, ইরানের বিভিন্ন সেতুতে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার ফলে দেশটির পরিবহন ও বাণিজ্য ব্যবস্থা বড় ধাক্কা খেয়েছে। এতে ইরানের অর্থনীতি আরও দুর্বল হবে বলে মনে করছে ইসরায়েল।   তবে ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়ায় ইসরায়েলও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন ঝুঁকি আগের তুলনায় বেড়েছে। যদিও আঞ্চলিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার দিকেও নজর রাখছে তেল আবিব।   আরেক কর্মকর্তা জানান, শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল যদি যুদ্ধে অংশ নেয়, তাহলে তাদের প্রধান লক্ষ্য হবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো। তবে এমন হামলা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এমন পদক্ষেপে আগ্রহ দেখায়নি।   এদিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। যদিও এখনো সেই বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ হয়নি। তবে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

ছবি: সংগৃহীত
১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধে ফ্রান্সে আইন পাস
মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২২, ২০২৬

১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট। এর ফলে ইউরোপে এ ধরনের আইন পাস করা প্রথম দেশ হলো ফ্রান্স।   নতুন আইনের আওতায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু ফেসবুক, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।   বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিল ফ্রান্স। সরকার মনে করছে, কম বয়সীদের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কমাতে কঠোর আইন প্রয়োজন। মঙ্গলবার ফ্রান্সের পার্লামেন্টের দুই কক্ষ—সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি—নতুন আইনটি অনুমোদন করে।   আইনটি কার্যকর হলে ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন করে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। শুধু নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বন্ধ করাই নয়, বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সীদের যেসব অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলোও বন্ধ করতে হবে। এ কাজের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হবে। নতুন আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।   এজন্য ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে, ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।   ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জুনিয়রমন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ সিনেটে বলেন, এই আইনের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতা নির্ধারণে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফ্রান্স। এর আগে বিশ্বের প্রথম এ ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু করে অস্ট্রেলিয়া। সেখানে গত ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   সেই পথেই এবার হাঁটছে ফ্রান্স।  ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ চান, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই নতুন আইন পুরোপুরি কার্যকর হোক। শিশু-কিশোরদের মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি কমাতে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।  গত এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশে ম্যাখোঁ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অনেক শিশু-কিশোর এমন একটি পরিবেশে বেড়ে উঠছে, যেখানে তাদের মনোযোগ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম কেড়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন ডিজিটাল পরিবেশ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। ম্যাখোঁ আরো বলেন, শিশু-কিশোরদের ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। তাদের বই পড়া, শেখা এবং ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এজন্যই ১৫ বছর বয়সের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের সবার জন্য একই নিয়মে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য বয়সসীমা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এরপরও সরকার যদি নতুন আইন কার্যকর করে, তাহলে তা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনও শিশু ও কিশোরদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। ফ্রান্সের নতুন আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে বিষয়েও কমিশন পর্যালোচনা করবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি