সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
২৭ অক্টোবর টোকিওতে তারেক–তাকাইচির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গভীর করা এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য জানান। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সরকারি সফরের কর্মসূচি তুলে ধরেন সচিব।   জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণেই এ সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকা ও টোকিও থেকে আজ একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।   পররাষ্ট্র সচিব জানান, সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী।   সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তির খসড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।   পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই সফরের সময় বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।’   তিনি বলেন, বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য এ সফর সময়োপযোগী সুযোগ তৈরি করবে। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষরের ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।   সফরকালে এই চুক্তি বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বৃদ্ধি, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর বিশেষ আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে বলেও জানান তিনি।   এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ‘জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। তার খসড়া সফরসূচিতে ‘জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন’-এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।   পাশাপাশি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন (জেবিআইসি), জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) এবং সাকাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রধানদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।   পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, একটি পারমাণবিক কেন্দ্র এবং নাগোয়ায় টয়োটার উৎপাদন প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন জ্বালানি ও শিল্প স্থাপনা পরিদর্শন করতে পারেন।   দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।   উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ।

৩ ঘন্টা আগে
মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বার্তা: কাবার ভাইরাল ভিডিওটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশিদের নয়

পবিত্র মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সিঁথি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। গত ১৪ অক্টোবর এ দণ্ড কার্যকরের পর সামাজিকমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।   এতে দেখা যাচ্ছে পবিত্র কাবার হাজরে আসওয়াত বা কালো পাথরের কাছে এক ব্যক্তি এক নারীকে মাথায় ধাক্কা দিচ্ছেন। সামাজিকমাধ্যমে বলা হচ্ছে, এ দুজন হলেন সেই বাংলাদেশি যাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   তবে এই তথ্য বিভ্রান্তিকর জানিয়ে সৌদির দুই পবিত্র মসজিদ কর্তৃপক্ষের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) একটি পোস্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “ভিডিওটি যে তথ্য দিয়ে ছড়ানো হচ্ছে এটি মিথ্যা এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনো প্রমাণও নয় এটি।”   গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, নজরুল ইসলাম ও সিঁথি আক্তার নামে দুজনের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে মসজিদের ভেতর ‘অনৈতিক’ কাজ করার জন্য। তবে এর বেশি কোনো তথ্য আর তারা জানায়নি।   এমনকি কবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তারা কোন জায়গায় অপরাধ সংঘটিত করেছিলেন সেটিও জানানো হয়নি। যদিও এখন ওই দুই বাংলাদেশি সম্পর্কে তথ্য আসা শুরু হয়েছে।   জানা গেছে, নজরুল ইসলাম তিন বছরের বেশি সময় ধরে জেলে বন্দি ছিলেন। এ সময় সপ্তাহে একদিন তিনি ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে পরিবারকে কোনো তথ্য না জানিয়ে গত ১৪ অক্টোবর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।   সূত্র: খালিজ টাইমস

৪ ঘন্টা আগে
কম্বোডিয়ায় বন্দিদশা থেকে মুক্তি, দেশে ফিরছেন ৩০ বাংলাদেশি

কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে দেশে ফেরার পথে আটক হওয়া ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। এই ৩০ বাংলাদেশি কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার উদ্দেশে নমপেন বিমানবন্দরে গেলে তাদেরসহ ৩২ বাংলাদেশিকে আটক করে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে দুজন মুক্তি পেলেও বাকি ৩০ জন আটক ছিলেন।   দেশে ফেরা বাংলাদেশিরা হলেন- হারুন অর রশীদ, আব্দুল ওয়াদুদ, তারলিব হাসান তিতুল, সুমিত চন্দ্র দাস, রাকিব হোসেন, বাপ্পি দাস, লাবণ শেখ, আবদুর রহমান, বিল্লাল হোসেন, মো. মোস্তফা, নূর নবী, ইমন আলী, বারকাতুল্লাহ, রুবেল মিয়া, আলী আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম, শামসুল আলম, আবদুর রহমান, আবু জাহের সবুজ, শাওন, নাহিদ ঢালি, রাজু হোসেন, তৈয়ব আলী শেখ, সাইমন ভূইঁয়া, মো. রাশেদুল, আকাশ আহমেদ, শিমুল আলী, আশিকুর রহমান, আলামিন পিকে ও মোহাম্মদ কবির।   জানা যায়, আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে এসব বাংলাদেশিকে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার পর তাদের জোর করে সাইবার স্ক্যামিং বা অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হতো। সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়।   কম্বোডিয়া সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিনা জরিমানায় দেশে ফেরার সুযোগ দিলে ওই বাংলাদেশিরা নাম তালিকাভুক্ত করেন। সে অনুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বর তারা নমপেন বিমানবন্দরে যান। তবে ইমিগ্রেশন যাচাইয়ের সময় অবৈধভাবে অবস্থানসহ বিভিন্ন জটিলতায় তাদের আটক করা হয়। আটক বাংলাদেশিদের মুক্তি ও দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নিতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়।   বোর্ডের উপপরিচালক (আইআরপি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মুক্তি ও দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার দেশে ফেরেন তারা।

৪ ঘন্টা আগে
ফ্রান্সের পর এবার বড় শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র, নেপথ্যে দুই কারণ

প্যারিসের রাজপথে এখন চরম অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে। আয়ের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং লাগামহীন ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া ফ্রান্সের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক দশা ইউরোপজুড়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—ইউরোপের এই সংকটের ধাক্কা কি তবে এবার পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রেও লাগবে? পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঋণের চিত্রও ফ্রান্সের চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনীতি এই মুহূর্তে ফ্রান্সের মতো সরাসরি ধসের মুখে না থাকলেও দুটি বড় কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।   আকাশচুম্বী বাজেট ঘাটতি ও ঋণের পাহাড় ফ্রান্সের মতোই যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশাল অংকের ঋণ ও বাজেট ঘাটতির সমস্যায় জর্জরিত। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ এখন ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির বার্ষিক মোট উৎপাদনের প্রায় সমান। এর পাশাপাশি তাদের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ছাড়িয়ে গেছে ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট উৎপাদনের ৬ শতাংশের বেশি।    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিশাল ঋণের শুধু সুদ পরিশোধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতি বছর ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করতে হচ্ছে, যা তাদের মোট ফেডারেল বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ, সরকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে প্রতি সাত ডলার কর আদায় করছে, তার এক ডলারই চলে যাচ্ছে কেবল সুদের পেছনে।    ইউরোপের দেশগুলো এই সংকট মোকাবেলায় কর বৃদ্ধি বা সরকারি ব্যয় কমার মতো কঠোর ও অপ্রিয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু করলেও, মার্কিন রাজনীতিতে এই বিষয়ে তেমন কোনো গুরুতর উদ্যোগ বা সতর্কতা দেখা যাচ্ছে না।   যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও ঋণ সীমার ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থার পেছনে মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য এবং এআই খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বড় ভূমিকা পালন করছে। তবে এই সুরক্ষা কবচ সত্ত্বেও আগামী বছর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে লুকিয়ে আছে এক বিপজ্জনক এক্স ফ্যাক্টর। আগামী বছরই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আইনগত ঋণ সীমা বা ডেট সিলিং আবার পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এই সীমা বাড়াতে হলে নতুন কংগ্রেস এবং হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্টকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক দরকষাকষিতে যদি আইনপ্রণেতারা ঋণ বাড়াতে সম্মত না হন, তবে যুক্তরাষ্ট্র এক কৃত্রিম ও মারাত্মক অর্থনৈতিক খেলাপির মুখে পড়তে পারে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো ও ডলারের জোরে ফ্রান্সের মতো তাৎক্ষণিক বিপর্যয় এড়িয়ে চললেও, লাগামহীন ঋণ এবং আগামী বছরের রাজনৈতিক সংঘাতের এই দুই প্রধান কারণ দেশটির অর্থনীতিকে অদূর ভবিষ্যতে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।   সূত্র: সিএনএন

৪ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
অনলাইনে মুহূর্তেই শেষ ট্রেনের টিকিট, নতুন এজেন্সি নিয়োগের উদ্যোগ রেলওয়ের

অনলাইনে বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ট্রেনের টিকিট শেষ হয়ে যাওয়া, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা বটের মাধ্যমে টিকিট ব্লক করা এবং কালোবাজারির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টিকেটিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী নভেম্বর মাসে নতুন টিকেটিং এজেন্সি নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।   রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে টিকিট ব্যবস্থাপনার প্রশাসনিক কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সমন্বিত টিকেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও পরিচালনাগত অনিয়ম নিয়ে পরিচালিত আইটি অডিটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।   ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সমন্বিত টিকেটিং সিস্টেম (বিআরআইটিএস) নিয়ে পরিচালিত অডিটে দেখা যায়, সাধারণ যাত্রীদের জন্য টিকিট বিক্রি শুরুর আগেই অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করার সুযোগ রয়েছে।   অডিট প্রতিবেদনে টিকেটিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সহজের কর্মীদের পরিচালনায় প্রায় ১৬৯টি অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সম্ভাব্য যোগসাজশে টিকিট কালোবাজারির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব পর্যবেক্ষণকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।   এ ছাড়া অনলাইন টিকিট বিক্রির আয় ও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের মধ্যে অসংগতি এবং দীর্ঘ সময় টিকেটিং সিস্টেম অকার্যকর থাকার পরও সহজ লিমিটেডের কাছ থেকে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় না করার বিষয়টি অডিটে উঠে এসেছে।   গত ১৬ আগস্ট পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে আইটি অডিট দলের ২২টি অডিট মেমোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।   বট ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করার অভিযোগ বাংলাদেশ রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে ‘bookmyrailbd.com’ নামের একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে টিকিট ব্লক করার অভিযোগ উঠে এসেছে। রেলওয়ের নথি অনুযায়ী, অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিপুলসংখ্যক টিকিট ব্লক করে পরে অননুমোদিত মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা নির্ধারিত মূল্যে টিকিট পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় টিকেটিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। গত ১১ অক্টোবর স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রস্তাবের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।   যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ অডিট প্রতিবেদনে রেলওয়ের অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থায় যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিআরআইটিএসের মূল ডেটাবেইস আমাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সিঙ্গাপুর অঞ্চলের ভার্চুয়াল প্রাইভেট ক্লাউডে সংরক্ষিত রয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে সাইবার হামলার মাধ্যমে যাত্রীদের নাম, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, ভ্রমণের ইতিহাস এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য চুরির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে অডিটে আশঙ্কা করা হয়েছে। তবে ডেটাবেইস বিদেশে সংরক্ষিত থাকার অর্থ এই নয় যে যাত্রীদের তথ্য ইতোমধ্যে চুরি হয়েছে। অডিটে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।   টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে যাত্রীরা অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পরপরই শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির অভিযোগ করে আসছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে ঢাকা থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের টিকিট সংগ্রহে সমস্যার কথা জানিয়েছেন অনেকে। ঢাকা-পঞ্চগড় রুটের নিয়মিত যাত্রী নুরুদ্দীন তাসলিম জানান, ঈদের সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। গত পাঁচ বছরে হাতে গোনা কয়েকবার অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন তিনি। অনেক সময় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কালোবাজার থেকে টিকিট কিনতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তার মতে, শুধু উৎসবের সময় নয়, সাধারণ দিনগুলোতেও স্বল্প সময়ের নোটিশে ট্রেনের টিকিট পাওয়া কঠিন। এতে দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। এদিকে গত ৭ অক্টোবর চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নাট্যকার আশফাক নিপুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পূজার ছুটিতে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করেন। কিন্তু সকাল ৮টা ১ মিনিটের মধ্যেই দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে যায় বলে তার অভিযোগ। এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক টিকিট শেষ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি টিকিট কালোবাজারি ও সম্ভাব্য সিন্ডিকেটের কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানান।   নভেম্বরেই নতুন এজেন্সির জন্য দরপত্র বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা পোস্টকে জানান, টিকেটিং ব্যবস্থাপনার প্রশাসনিক বিষয়গুলো ইতোমধ্যে রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী মাসে টিকেটিং সিস্টেম পরিচালনার জন্য নতুন এজেন্সি নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু এজেন্সি পরিবর্তন করলেই টিকিট কালোবাজারি ও অনিয়ম বন্ধ হবে না। এজন্য টিকেটিং সফটওয়্যারের নিরাপত্তা জোরদার, অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং অনিয়মের অভিযোগের কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নতুন এজেন্সি নিয়োগের উদ্যোগে সাধারণ যাত্রীদের টিকিটপ্রাপ্তি কতটা সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের কালোবাজারি ও নিরাপত্তাঝুঁকি কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও রেলওয়ের তদারকির ওপর।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬

প্রতীকী ছবি (এআই দিয়ে নির্মিত)
ফ্রান্সের পর এবার বড় শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র, নেপথ্যে দুই কারণ

প্যারিসের রাজপথে এখন চরম অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে। আয়ের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং লাগামহীন ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া ফ্রান্সের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক দশা ইউরোপজুড়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—ইউরোপের এই সংকটের ধাক্কা কি তবে এবার পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রেও লাগবে? পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঋণের চিত্রও ফ্রান্সের চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনীতি এই মুহূর্তে ফ্রান্সের মতো সরাসরি ধসের মুখে না থাকলেও দুটি বড় কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।   আকাশচুম্বী বাজেট ঘাটতি ও ঋণের পাহাড় ফ্রান্সের মতোই যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশাল অংকের ঋণ ও বাজেট ঘাটতির সমস্যায় জর্জরিত। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ এখন ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির বার্ষিক মোট উৎপাদনের প্রায় সমান। এর পাশাপাশি তাদের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ছাড়িয়ে গেছে ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট উৎপাদনের ৬ শতাংশের বেশি।    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিশাল ঋণের শুধু সুদ পরিশোধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতি বছর ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করতে হচ্ছে, যা তাদের মোট ফেডারেল বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ, সরকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে প্রতি সাত ডলার কর আদায় করছে, তার এক ডলারই চলে যাচ্ছে কেবল সুদের পেছনে।    ইউরোপের দেশগুলো এই সংকট মোকাবেলায় কর বৃদ্ধি বা সরকারি ব্যয় কমার মতো কঠোর ও অপ্রিয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু করলেও, মার্কিন রাজনীতিতে এই বিষয়ে তেমন কোনো গুরুতর উদ্যোগ বা সতর্কতা দেখা যাচ্ছে না।   যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও ঋণ সীমার ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থার পেছনে মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য এবং এআই খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বড় ভূমিকা পালন করছে। তবে এই সুরক্ষা কবচ সত্ত্বেও আগামী বছর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে লুকিয়ে আছে এক বিপজ্জনক এক্স ফ্যাক্টর। আগামী বছরই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আইনগত ঋণ সীমা বা ডেট সিলিং আবার পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এই সীমা বাড়াতে হলে নতুন কংগ্রেস এবং হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্টকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক দরকষাকষিতে যদি আইনপ্রণেতারা ঋণ বাড়াতে সম্মত না হন, তবে যুক্তরাষ্ট্র এক কৃত্রিম ও মারাত্মক অর্থনৈতিক খেলাপির মুখে পড়তে পারে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো ও ডলারের জোরে ফ্রান্সের মতো তাৎক্ষণিক বিপর্যয় এড়িয়ে চললেও, লাগামহীন ঋণ এবং আগামী বছরের রাজনৈতিক সংঘাতের এই দুই প্রধান কারণ দেশটির অর্থনীতিকে অদূর ভবিষ্যতে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।   সূত্র: সিএনএন

নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে ফের হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র, কতটা সত্যি?

ইসরায়েলে অঘোষিত সফরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে এই বৈঠকের খবর এসেছে। তবে ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল কেউই বৈঠকটি নিয়ে বিবৃতি দেয়নি।   আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন দেওয়ার পর বৈঠকটি হয়। জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে বলে আভাস মিলছে। বিরোধীদেরও সরকার গঠনে সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ট্রাম্পের সমর্থন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন নেতানিয়াহু।   তবে আল-জাজিরাকে গবেষক সানাম ভাকিল বলেছেন, নির্বাচনে এর প্রভাব অতিরঞ্জিত করা উচিত নয়। নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও ইরান যুদ্ধের ফল নিয়ে ইসরায়েলিরা বিভক্ত। এই সমর্থন তার বিদ্যমান সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, কিন্তু অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন মেটাবে না।   কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগও মনে করেন, ট্রাম্পের সমর্থন ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এক-দুটি আসনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর প্রয়োজনীয় জোটগত সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি করে দিতে পারবে না।   বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, ট্রাম্পের সমর্থনে ইরান যুদ্ধ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের শুরুতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই হামলা পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিতে পারে পেন্টাগন।   গবেষক সানাম ভাকিলের মতে, দুই দেশের নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়া ভবিষ্যতে যৌথ সামরিক অভিযানের পথ খুলতে পারে। তবে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার অর্থ নতুন অভিযানে দুই নেতা একমত হয়েছেন—এমন নয়।   এদিকে, সোমবার টু-ওয়ে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে নেওয়ার জন্য আগে নেতানিয়াহুকে দায়ী করা ভ্যান্স বলেছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে তিনি জড়াচ্ছেন না; তার মনোযোগ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে।

ছবি: সংগৃহীত
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠন স্থগিতের বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন স্থগিত রাখার বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের জারি করা বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ সোমবার (১৯ অক্টোবর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের কমিটি গঠন নীতিমালা এখনো বহাল আছে। ওই নীতিমালা বহাল থাকা অবস্থায় কমিটি গঠন স্থগিতের নির্দেশ শিক্ষাবোর্ড দিতে পারে না। এর প্রেক্ষিতে রিট করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এই রিটা ফাইল করা হয়েছে।    গত ১৫ অক্টোবর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।   কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০২৬ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়।  

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটের সামরিক সমাধান সম্ভব নয়: কাতার

সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ, সফর এবং বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম বিন সুলতান আল হাশমি এ কথা জানান।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটের একটি টেকসই ও তাৎক্ষণিক সমাধান কেবল সংলাপের মাধ্যমেই সম্ভব, যা এর নিষ্পত্তির একমাত্র পথ। সাপ্তাহিক গণমাধ্যম ব্রিফিং চলাকালে মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক এমন একটি সমাধানে পৌঁছানোর জরুরি প্রয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে চলমান উত্তেজনার ব্যয়ভার থেকে অঞ্চল, বিশ্ব, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহকে রক্ষা করার বিষয়ট আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান হতে পারে না।   তিনি আরও বলেন, প্রচেষ্টা থেমে যায়নি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারকে অবশ্যই আশাবাদী থাকতে হবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ চলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গৃহীত সকল কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে। হরমুজ প্রণালিতে ইন্টারনেট কেবল লক্ষ্য করে হামলার হুমকির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই পরিচালক জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ইরানের জনগণসহ এই অঞ্চলের জনগণই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, কৌশলগত এই প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণ ঘটলে, জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়লে বা ইন্টারনেট কেবল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কার হয়।   তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সমুদ্রপথ থেকে বিশাল দূরত্বে অবস্থিত এবং উপসাগরের জলরাশি থেকে ইসরায়েল কোনো সুবিধা পায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক এই জলসীমার নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং একে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন। তিনি নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। এছাড়াও তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং সেখানে হামলা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সূত্র: গাল্ফ নিউজ।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বার্তা: কাবার ভাইরাল ভিডিওটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশিদের নয়
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬

পবিত্র মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সিঁথি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। গত ১৪ অক্টোবর এ দণ্ড কার্যকরের পর সামাজিকমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।   এতে দেখা যাচ্ছে পবিত্র কাবার হাজরে আসওয়াত বা কালো পাথরের কাছে এক ব্যক্তি এক নারীকে মাথায় ধাক্কা দিচ্ছেন। সামাজিকমাধ্যমে বলা হচ্ছে, এ দুজন হলেন সেই বাংলাদেশি যাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   তবে এই তথ্য বিভ্রান্তিকর জানিয়ে সৌদির দুই পবিত্র মসজিদ কর্তৃপক্ষের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) একটি পোস্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “ভিডিওটি যে তথ্য দিয়ে ছড়ানো হচ্ছে এটি মিথ্যা এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনো প্রমাণও নয় এটি।”   গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, নজরুল ইসলাম ও সিঁথি আক্তার নামে দুজনের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে মসজিদের ভেতর ‘অনৈতিক’ কাজ করার জন্য। তবে এর বেশি কোনো তথ্য আর তারা জানায়নি।   এমনকি কবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তারা কোন জায়গায় অপরাধ সংঘটিত করেছিলেন সেটিও জানানো হয়নি। যদিও এখন ওই দুই বাংলাদেশি সম্পর্কে তথ্য আসা শুরু হয়েছে।   জানা গেছে, নজরুল ইসলাম তিন বছরের বেশি সময় ধরে জেলে বন্দি ছিলেন। এ সময় সপ্তাহে একদিন তিনি ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে পরিবারকে কোনো তথ্য না জানিয়ে গত ১৪ অক্টোবর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।   সূত্র: খালিজ টাইমস

প্রতীকী ছবি (এআই দিয়ে নির্মিত)
ফ্রান্সের পর এবার বড় শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র, নেপথ্যে দুই কারণ
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬

প্যারিসের রাজপথে এখন চরম অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে। আয়ের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং লাগামহীন ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া ফ্রান্সের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক দশা ইউরোপজুড়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—ইউরোপের এই সংকটের ধাক্কা কি তবে এবার পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রেও লাগবে? পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঋণের চিত্রও ফ্রান্সের চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনীতি এই মুহূর্তে ফ্রান্সের মতো সরাসরি ধসের মুখে না থাকলেও দুটি বড় কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।   আকাশচুম্বী বাজেট ঘাটতি ও ঋণের পাহাড় ফ্রান্সের মতোই যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশাল অংকের ঋণ ও বাজেট ঘাটতির সমস্যায় জর্জরিত। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ এখন ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির বার্ষিক মোট উৎপাদনের প্রায় সমান। এর পাশাপাশি তাদের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ছাড়িয়ে গেছে ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট উৎপাদনের ৬ শতাংশের বেশি।    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিশাল ঋণের শুধু সুদ পরিশোধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতি বছর ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করতে হচ্ছে, যা তাদের মোট ফেডারেল বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ, সরকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে প্রতি সাত ডলার কর আদায় করছে, তার এক ডলারই চলে যাচ্ছে কেবল সুদের পেছনে।    ইউরোপের দেশগুলো এই সংকট মোকাবেলায় কর বৃদ্ধি বা সরকারি ব্যয় কমার মতো কঠোর ও অপ্রিয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু করলেও, মার্কিন রাজনীতিতে এই বিষয়ে তেমন কোনো গুরুতর উদ্যোগ বা সতর্কতা দেখা যাচ্ছে না।   যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও ঋণ সীমার ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থার পেছনে মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য এবং এআই খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বড় ভূমিকা পালন করছে। তবে এই সুরক্ষা কবচ সত্ত্বেও আগামী বছর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে লুকিয়ে আছে এক বিপজ্জনক এক্স ফ্যাক্টর। আগামী বছরই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আইনগত ঋণ সীমা বা ডেট সিলিং আবার পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এই সীমা বাড়াতে হলে নতুন কংগ্রেস এবং হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্টকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক দরকষাকষিতে যদি আইনপ্রণেতারা ঋণ বাড়াতে সম্মত না হন, তবে যুক্তরাষ্ট্র এক কৃত্রিম ও মারাত্মক অর্থনৈতিক খেলাপির মুখে পড়তে পারে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো ও ডলারের জোরে ফ্রান্সের মতো তাৎক্ষণিক বিপর্যয় এড়িয়ে চললেও, লাগামহীন ঋণ এবং আগামী বছরের রাজনৈতিক সংঘাতের এই দুই প্রধান কারণ দেশটির অর্থনীতিকে অদূর ভবিষ্যতে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।   সূত্র: সিএনএন

নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে ফের হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র, কতটা সত্যি?
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬

ইসরায়েলে অঘোষিত সফরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে এই বৈঠকের খবর এসেছে। তবে ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল কেউই বৈঠকটি নিয়ে বিবৃতি দেয়নি।   আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন দেওয়ার পর বৈঠকটি হয়। জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে বলে আভাস মিলছে। বিরোধীদেরও সরকার গঠনে সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ট্রাম্পের সমর্থন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন নেতানিয়াহু।   তবে আল-জাজিরাকে গবেষক সানাম ভাকিল বলেছেন, নির্বাচনে এর প্রভাব অতিরঞ্জিত করা উচিত নয়। নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও ইরান যুদ্ধের ফল নিয়ে ইসরায়েলিরা বিভক্ত। এই সমর্থন তার বিদ্যমান সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, কিন্তু অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন মেটাবে না।   কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগও মনে করেন, ট্রাম্পের সমর্থন ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এক-দুটি আসনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর প্রয়োজনীয় জোটগত সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি করে দিতে পারবে না।   বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, ট্রাম্পের সমর্থনে ইরান যুদ্ধ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের শুরুতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই হামলা পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিতে পারে পেন্টাগন।   গবেষক সানাম ভাকিলের মতে, দুই দেশের নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়া ভবিষ্যতে যৌথ সামরিক অভিযানের পথ খুলতে পারে। তবে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার অর্থ নতুন অভিযানে দুই নেতা একমত হয়েছেন—এমন নয়।   এদিকে, সোমবার টু-ওয়ে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে নেওয়ার জন্য আগে নেতানিয়াহুকে দায়ী করা ভ্যান্স বলেছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে তিনি জড়াচ্ছেন না; তার মনোযোগ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে।

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটের সামরিক সমাধান সম্ভব নয়: কাতার
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬

সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ, সফর এবং বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম বিন সুলতান আল হাশমি এ কথা জানান।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটের একটি টেকসই ও তাৎক্ষণিক সমাধান কেবল সংলাপের মাধ্যমেই সম্ভব, যা এর নিষ্পত্তির একমাত্র পথ। সাপ্তাহিক গণমাধ্যম ব্রিফিং চলাকালে মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক এমন একটি সমাধানে পৌঁছানোর জরুরি প্রয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে চলমান উত্তেজনার ব্যয়ভার থেকে অঞ্চল, বিশ্ব, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহকে রক্ষা করার বিষয়ট আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান হতে পারে না।   তিনি আরও বলেন, প্রচেষ্টা থেমে যায়নি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারকে অবশ্যই আশাবাদী থাকতে হবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ চলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গৃহীত সকল কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে। হরমুজ প্রণালিতে ইন্টারনেট কেবল লক্ষ্য করে হামলার হুমকির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই পরিচালক জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ইরানের জনগণসহ এই অঞ্চলের জনগণই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, কৌশলগত এই প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণ ঘটলে, জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়লে বা ইন্টারনেট কেবল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কার হয়।   তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সমুদ্রপথ থেকে বিশাল দূরত্বে অবস্থিত এবং উপসাগরের জলরাশি থেকে ইসরায়েল কোনো সুবিধা পায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক এই জলসীমার নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং একে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন। তিনি নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। এছাড়াও তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং সেখানে হামলা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সূত্র: গাল্ফ নিউজ।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

শিক্ষা
স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ