সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
রাজপরিবার থেকে রাজনীতিতে, এবার মন্ত্রী হলেন সাচিং প্রু জেরী

  বান্দরবানের বোমাং সার্কেলের রাজপরিবারের সন্তান সাচিং প্রু জেরী। রাজনীতিতে এসে ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হলেন এই রাজনীতিক।   শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।   সাচিং প্রু জেরী অং শৈ প্রু চৌধুরীর ছেলে। তার বাবা ছিলেন বান্দরবানের বোমাং সার্কেলের ১৫তম রাজা এবং রাজনীতিবিদ। পাকিস্তান আমল ও স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সাচিং প্রু জেরীর মামি মা ম্যা চিংও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩০ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।   সাচিং প্রু জেরী বোমাং সার্কেলের রাজপুত্র। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য বান্দরবান আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বান্দরবান আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।   রাজনৈতিক জীবনে তিনি বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।   হলফনামায় সম্পদের চিত্র   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দেওয়া হলফনামা ও আয়কর সনদ অনুযায়ী, সাচিং প্রু জেরীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি এবং পেশা ব্যবসা। ২০২৫-২৬ করবর্ষে তার নিজস্ব বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যার মূল উৎস ব্যবসা। তার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। তার মোট প্রদর্শিত নিট সম্পদের পরিমাণ ৩৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। আয়কর হিসেবে তিনি ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন।   হলফনামায় সাচিং প্রু জেরী জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে বা অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। তার বা তার পরিবারের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ বা খেলাপি ঋণও নেই।   অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা নগদ অর্থ দেখিয়েছেন সাচিং প্রু। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং নির্ভরশীলদের নামে ১৩ লাখ ৩ হাজার টাকা নগদ অর্থ। স্ত্রীর নামে একটি প্রাডো, একটি ট্রাক ও একটি ভলভো গাড়ি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ১৫ লাখ টাকা। নির্ভরশীলদের নামে রয়েছে ৩ লাখ টাকা মূল্যের দুটি মোটরসাইকেল। এছাড়া সাচিং প্রু ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্র রয়েছে।   স্থাবর সম্পদের হিসাবে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার রামপুরা মৌজায় তার ১০ একর কৃষিজমি রয়েছে। এর অর্জনকালীন মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া বান্দরবান সদর, আলেক্ষ্যং ও সুয়ালক মৌজায় তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে অকৃষি জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। নিজের নামে এসব স্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য ১৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।   নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য নিজের ব্যবসা থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন সাচিং প্রু জেরী। এর পাশাপাশি স্ত্রী মমচিংয়ের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ধার নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার ছেলে উ উইন প্রু স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান হিসেবে তাকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।   চার নতুন পূর্ণমন্ত্রী   সাচিং প্রু জেরীর সঙ্গে শুক্রবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরও তিনজন। তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।   রশিদুজ্জামান মিল্লাট এতদিন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। পদোন্নতি পেয়ে তিনি পূর্ণমন্ত্রী হলেন। তিনি বিএনপির কোষাধ্যক্ষও।   এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।   শপথ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।   দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পার্বত্য বান্দরবানে পারিবারিক পরিচিতি এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে অভিজ্ঞতার পর এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে সরকারের দায়িত্বে যুক্ত হলেন সাচিং প্রু জেরী। তার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে বোমাং রাজপরিবারের এই রাজনীতিকের রাজনৈতিক জীবনে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়।

৫৩ মিনিট আগে
নতুন রাষ্ট্রপতির শপথের পর চেয়ার ছাড়লেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।   এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রায় এক মাস তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।   বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদের দায়িত্বের অবসান ঘটে। ওই দিন দুপুরে বঙ্গভবনে শেষ কর্মদিবসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ত্যাগ করেন। বিদায়ের আগে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।

১ ঘন্টা আগে
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় পৃথক আইন প্রণয়নের দাবি বাংলাদেশ সনাতন পার্টির

বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পৃথক সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।   শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানানো হয়।   ‘বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পদ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের করণীয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সনাতন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি।   সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। বক্তব্যে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তার দাবি, বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছে দাবি জানানো হলেও সেগুলোর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।   তিনি আরও বলেন, সব ধর্ম ও মতের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।   সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের চাকরি থেকে অপসারণ বা চাকরিচ্যুতি, সরকারি প্রশাসনে নিয়োগ ও দায়িত্ব পালনে বৈষম্য এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।   তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকলে তা দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।   মতবিনিময় সভায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শয়ান বালা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পৃথক ও কার্যকর সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান।   এ ছাড়া সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত ও বিচার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও শ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দখল ও হয়রানি বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তুলে ধরেন তিনি।   সভায় বক্তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

১ ঘন্টা আগে
পুলিশের হাত কামড়ে হাতকড়াসহ পালালেন আসামি, ১০ ঘণ্টা পর ফের আটক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৫০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারি মো. রাজু মিয়াকে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বড় ভাই আক্তার হোসেনকেও আটক করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের কোবাগা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল কোবাগা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ৫০টি ইয়াবাসহ রাজু মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে তদন্তকেন্দ্রে নেওয়ার পথে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।   একপর্যায়ে রাজু পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাসির উদ্দিনের হাতে কামড় দিয়ে হাতকড়াসহ দৌড়ে পালিয়ে যান।   এরপর তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে পুলিশ। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোবাগা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রাজুকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় তার বড় ভাই আক্তার হোসেনকেও আটক করা হয়। তারা দুজনই জামপুর ইউনিয়নের কোবাগা গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে।   পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শুক্রবার রাজু ও তার ভাই আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের নারায়ণগঞ্জের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।   সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার দুই ভাইকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথ পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।   শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্বাক্ষরটি সত্যায়িত করেন।   এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার থাকলেও ভোট দিয়েছেন ৩৪৩ জন।   বঙ্গভবনে ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শপথ: রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের পর বঙ্গভবনে নতুন করে চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীও শপথ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পাঠ করান।   মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের বিএনপির সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।   অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুয়ায়ুন কবির এবং গাইবান্ধার সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন।   এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রিসভাতেও নতুন সদস্য যুক্ত হলেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২১, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
তাড়াহুড়ো নয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর হতে হবে দ্বিপক্ষীয়: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলনের ফাঁকে নয়, দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।   বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের কার্যালয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।   হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রথম সফরটি দ্বিপক্ষীয় হওয়া উচিত। আমাদের একে অপরকে নিজেদের দেশে আমন্ত্রণ জানানো উচিত।’   বাংলাদেশ ও ভারত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো সফরের আগে এর স্পষ্ট ফলাফল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পারস্পরিক সম্মান ও যোগাযোগের ভিত্তিতে এ সফর হওয়া উচিত।   তিনি বলেন, দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। এসব বিষয়ে তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। সময় উপযুক্ত মনে হলে বাংলাদেশ ভারত সফরে যেতে প্রস্তুত।   উপদেষ্টা বলেন, দুই দেশকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হলে আগে বেশ কিছু বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।   তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশ নিয়ে তুলনামূলক ইতিবাচক বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে ৫ আগস্টের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে, এ বিষয়টিও ভারত উপলব্ধি করছে।   হুমায়ুন কবির বলেন, ভারত যদি সত্যিই সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে চায়, তাহলে তাদের বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতা বুঝতে হবে। সেই বাস্তবতাকে স্বীকার করেই দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।   এর আগে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু সমস্যা থাকলেও আলোচনা ও যোগাযোগের মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।   ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ভারত সফরে সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ত্রিবেদী।   এদিকে ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ ভারতকে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।   তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে যোগাযোগ করছেন।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
কর্ণফুলী দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদী দখলদারদের পক্ষে আইনজীবীদের অবস্থানের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ১০টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন। একই সঙ্গে নদীর তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং কর্ণফুলী নদীকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনগুলোর নেতারা।   শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টায় নগরের ফিরিঙ্গীবাজার ব্রিজঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।   মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কর্ণফুলী নদী দখলদার জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় ও চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে হাইকোর্টে অবস্থান নিয়ে জনস্বার্থে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। দখলদারদের পক্ষে এমন অবস্থান নদী দখল ও দূষণকে উৎসাহিত করছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।   বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ মাছবাজারসহ মোট ২ হাজার ১৮১টি অবৈধ স্থাপনার মধ্যে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ নোটিশে ১৪ নম্বর দখলদার ছাড়া অন্য স্থাপনাগুলো উচ্ছেদে আইনগত কোনো বাধা নেই। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।   তিন দফা দাবি: মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— কর্ণফুলী নদীর তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ; নদীর তীরকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা; সংরক্ষিত এলাকায় দেশীয় প্রজাতির ফলজ ও ঔষধি গাছের বাগান সৃষ্টি।   এ সময় দখলদারদের পক্ষে আইনজীবীদের অবস্থান অব্যাহত থাকলে নৌ ধর্মঘটসহ প্রতীকী ‘কর্ণফুলী ভরাট’ কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।   মানববন্ধনে বক্তারা কর্ণফুলী নদী দখলসংক্রান্ত বিভিন্ন রিট মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, আগের কয়েকটি মামলায় দখলদারদের পক্ষে আইনি লড়াই হলেও আদালতের আদেশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়টি বহাল রয়েছে। বর্তমানে একই ধরনের মামলায় কয়েকজন আইনজীবীর অবস্থান নিয়েও তারা প্রশ্ন তোলেন।   কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদ, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, কর্ণফুলী নদী হস্তচালিত বড় সাম্পান সমিতি, বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন, রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক উৎসসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।   মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন, চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আলীউর রহমান, বেলার চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভিন রুবাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।   সভাপতির বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান কর্ণফুলী নদী দখলের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতার ছায়ায় থেকে নদী দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের সুযোগ দেওয়া হলে কর্ণফুলী রক্ষা করা সম্ভব নয়।

ছবি: সংগৃহীত
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় পৃথক আইন প্রণয়নের দাবি বাংলাদেশ সনাতন পার্টির

বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পৃথক সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।   শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানানো হয়।   ‘বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পদ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের করণীয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সনাতন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি।   সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। বক্তব্যে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তার দাবি, বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছে দাবি জানানো হলেও সেগুলোর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।   তিনি আরও বলেন, সব ধর্ম ও মতের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।   সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের চাকরি থেকে অপসারণ বা চাকরিচ্যুতি, সরকারি প্রশাসনে নিয়োগ ও দায়িত্ব পালনে বৈষম্য এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।   তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকলে তা দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।   মতবিনিময় সভায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শয়ান বালা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পৃথক ও কার্যকর সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান।   এ ছাড়া সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত ও বিচার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও শ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দখল ও হয়রানি বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তুলে ধরেন তিনি।   সভায় বক্তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান অবরোধের মধ্যে ৬৭টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ বদলেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুরুর পর ৬৭টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। বৃহস্পতিবার রাতে ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে।    বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ১৪ জুলাই ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় শুরু করার পর এসব জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়।   এ ছাড়া মার্কিন বাহিনী তিনটি জাহাজের চলাচল বন্ধ করেছে এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়ে নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কি না তা যাচাই করেছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় অর্থনৈতিক চাপের ঘোষণা দেন। তেহরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।   মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই জলপথ দিয়ে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা বলেন।   তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনও আগের তুলনায় কম রয়েছে। বেশিরভাগ জাহাজ মালিক এখনো এই জলপথ এড়িয়ে চলছেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ আগস্ট হরমুজ প্রণালি দিয়ে ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল নয়টি। গত ১০ দিনের গড় ছিল ১১টি জাহাজ।   সূত্র: শাফাক নিউজ

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২১, ২০২৬

ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) একটি সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি দেখতে যাওয়ার পথে তাদের গাড়ি ঘিরে ধরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে দলটি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপির সহপ্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে একটি দল জয়পুরের বাগরুর এলাকার একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনে যাচ্ছিল। পথে একদল লোক তাদের গাড়ি ঘিরে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। তাদের ‘শহুরে নকশাল’, ‘জাতীয়তাবিরোধী’ ও ‘পাকিস্তানি’ বলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।   হামলায় সিজেপির কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ সময় গাড়ি ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয় এবং এক নারী কর্মীকেও মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে নেতাকর্মীরা শেষ পর্যন্ত স্কুলটিতে না গিয়ে ফিরে যান।   সিজেপি এ ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ী করেছে। দলটির সহপ্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেন, গ্রামের একটি গোয়ালঘরে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলটি পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় গ্রামবাসীর অনুরোধেই তারা স্কুলটির পরিস্থিতি দেখতে সেখানে যাচ্ছিলেন।   রাঙ্কার অভিযোগ, সফরের বিষয়টি পুলিশকে আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের পৌঁছানোর আগেই বিজেপির লোকজন সেখানে অবস্থান নেয় এবং সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর হামলা চালায়। তার দাবি, হামলায় একজন সদস্যের হাত ভেঙে গেছে এবং তার নিজের শার্টও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।   তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা ও বিধায়ক স্বামী বালমুখন্দ্রচার্য্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সিজেপির সফরের বিরোধিতা করেছিলেন স্থানীয় গ্রামবাসীরাই। তাদের মতে, সিজেপির কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।   ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।   সূত্র: এনডিটিভি

ছবি: সংগৃহীত
আলাস্কায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে দুই পাইলটসহ মোট আটজন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২১ আগস্ট) এবং স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টি জানায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।   জানা গেছে, সেসনা ৪৪১ ফ্লাইটটি আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ শহর থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কেপ নিউনহামের দিকে যাচ্ছিল। গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।   যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (NTSB) আলাস্কা অঞ্চলের প্রধান ক্লিন্ট জনসন জানান, সিকিউরিটি অ্যাভিয়েশনের পরিচালিত বিমানটিতে দুজন পাইলট ও ছয়জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় তারা বেঁচে আছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   তিনি আরও জানান, কেপ নিউনহাম বিমানবন্দরের কাছে বিমানটি মাটিতে বিধ্বস্ত হয়। ওই স্থাপনাটি মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এয়ারস্ট্রিপ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সেখান থেকে দূরপাল্লার রাডার সাইটে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   এখন পর্যন্ত বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেপ নিউনহাম এলাকায় সাধারণ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের পরিবর্তে মূলত সামরিক ও বিশেষ চার্টার্ড বিমান অবতরণের অনুমতি রয়েছে।   সূত্র: সিএনএন

ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতাল থেকে আবারও কারাগারে ইমরান খান
মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আবারও রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ড তাকে কারাগারে রাখা নিরাপদ বলে মত দেওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। শুক্রবার (২১ আগস্ট) পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশি পাহারায় কারাগারের ১ নম্বর গেট দিয়ে তাকে হাসপাতালে আনা হয়, যেখানে ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানান, ইমরান খানকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার প্রয়োজন নেই এবং তিনি নিরাপদে কারাগারেই থাকতে পারবেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাকে পুনরায় আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে নিজ সেলে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে ইমরান খানের স্বাস্থ্য, বিশেষ করে তার দৃষ্টিশক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল তার পরিবার ও দল। সেই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল।

ট্রাম্পের কঠোর অর্থনৈতিক চাপে কি নতি স্বীকার করবে ইরান?
মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬

ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের তেল রাজস্ব ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের পথ বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতিকে এমন পর্যায়ে নিতে চাইছে ওয়াশিংটন, যাতে ইরান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়। তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে চীনের ওপর।   প্রায় ছয় মাসের যুদ্ধের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করেছেন ট্রাম্প। তিনি এটিকে ‘যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুধু ইরান নয়, দেশটির অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করা ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।   ওয়াশিংটনের নতুন কৌশলের লক্ষ্য হলো ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে যতটা সম্ভব বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। তেহরানের তেল বিক্রির আয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শিপিং নেটওয়ার্ক এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর বিভিন্ন বাণিজ্যিক পথ বন্ধ করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।   তেল রপ্তানিতে বড় ধাক্কা   ইরানের বৈদেশিক আয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস তেল। তাই দেশটির তেল রফতানি বন্ধ করাই ট্রাম্পের পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।   ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের কারণে দেশটির তেলবাহী ট্যাংকারে পণ্য বোঝাই ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে কমে গেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের তুলনায় ইরানের তেল চালান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ, ট্যাংকার, জাহাজ নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।   এর পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে অর্থ লেনদেনে জড়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ বাড়ানো হচ্ছে। নগদ অর্থ স্থানান্তর, বিনিময় কেন্দ্র, ভুয়া বা বেনামি কোম্পানি এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর বিভিন্ন বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের এই নীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যর্থ নীতির’ ধারাবাহিকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর দাবি, অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হলে তা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্যই নতুন পরাজয় ডেকে আনবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন তিনি।   কেন চীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ   ট্রাম্পের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে চীনকে ঘিরে। ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় অবশিষ্ট ক্রেতা চীন। ফলে তেহরানের তেল বিক্রির পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে চীনা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপরও চাপ দিতে হবে ওয়াশিংটনকে।   এখানেই ট্রাম্পের জন্য তৈরি হচ্ছে বড় কূটনৈতিক ঝুঁকি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চীনের বড় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বেইজিংয়ের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত তৈরি হতে পারে। তবে চীনের মতো বড় ক্রেতার মাধ্যমে ইরানের তেল বিক্রি অব্যাহত থাকলে ট্রাম্পের ‘নজিরবিহীন বিচ্ছিন্নতা’ তৈরির পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকবে।   এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে তেহরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ সংকুচিত হয়েছে।   অর্থনৈতিক সংকটে ইরান   দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যেই গভীর সংকটে রয়েছে।   আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আশঙ্কা, চলতি বছর ইরানের অর্থনীতি ৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে। এটি প্রায় চার দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকোচন হতে পারে।   একই সময়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দরও রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে ক্রমেই বেশি চাপের মুখে পড়ছেন।   তেলের ওপর নতুন করে অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। অবরোধের বাইরে ইরানের কাছে এখনও প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে। এর বড় অংশ চীনে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, এই তেল থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার আয় হতে পারে।   তবে দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল হারে তেল রপ্তানি হলে এই মজুত থেকে প্রায় চার মাসের রপ্তানি আয় পাওয়া সম্ভব।   কেপলারের অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হোমায়ুন ফালাকশাহি ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে আকস্মিক পতনের বদলে ‘ধীর মৃত্যুর’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।   অর্থনৈতিক চাপেই কি ভেঙে পড়বে তেহরান?   এখানেই ট্রাম্পের কৌশলের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। দশকের পর দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে টিকে থাকতে ইরান বিকল্প ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শিপিং কোম্পানি, মধ্যস্থতাকারী ও বাণিজ্যপথের একটি জটিল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে বড় আঘাত করলেও তেহরান কত দ্রুত নতি স্বীকার করবে, তা নিশ্চিত নয়।   ইউরেশিয়া গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু মনে করেন, ইরানের নেতৃত্ব আরও দীর্ঘ সময় অর্থনৈতিক দুর্ভোগ সহ্য করতে প্রস্তুত। তাঁর মতে, তেহরান বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা এবং মাসের পর মাস যুদ্ধ সহ্য করেছে।   ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গবেষণা বিভাগের ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানিয়েল সিট্রিনোভিচও মনে করেন, কেবল অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান ভেঙে পড়বে— এমন ধারণা ভুল হতে পারে। তাঁর মতে, কঠোর অর্থনৈতিক চাপও তেহরানের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে মৌলিক পরিবর্তন নাও আনতে পারে।   এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও ইরানে এমন কোনো ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায়নি, যা সরাসরি দেশটির শাসনব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি তৈরি করেছে।   এবার লড়াইটা সহনশীলতার   ট্রাম্পের পরিকল্পনা সফল হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করতে পারে কোন পক্ষ বেশি সময় ধরে চাপ সহ্য করতে পারে তার ওপর।   ইরানের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু তেহরান হয়তো হিসাব করছে, অর্থনৈতিক দুর্ভোগ, তেলের উচ্চমূল্য, যুদ্ধের রাজনৈতিক ব্যয় এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের চাপ ট্রাম্পের জন্যও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম ইতোমধ্যে প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের বেশি। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে যদি তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর।   অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তেলের দাম বাড়লে ট্রাম্পকে সামরিক সংঘাত আরও বাড়ানো অথবা দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা— এই দুইয়ের মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।   তাই ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অভিযান কেবল নিষেধাজ্ঞার লড়াই নয়; এটি হয়ে উঠেছে দীর্ঘস্থায়ী সহনশীলতার প্রতিযোগিতা।   প্রশ্ন এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কতটা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারবে, তা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে— এই চাপের মধ্যে কোন পক্ষ আগে পিছু হটবে, ওয়াশিংটন নাকি তেহরান?

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি