সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন ও পাশে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আবরার। ছবি : কালবেলা কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে প্রাইভেটকারের চালকও রয়েছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমেদের ভগ্নিপতি মুফতি আব্দুল মমিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নোয়াখালী থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে তারা বুড়িচংয়ের কালাকচুয়া এলাকায় অবস্থিত ‘হোটেল মিয়ামি’তে রাতের খাবার খেতে থামেন। খাবার শেষে পুনরায় মহাসড়কে ওঠার মুহূর্তেই ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী ‘স্টারলাইট পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাস তাদের প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটির এক পাশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক জামাল হোসেন (৫২) নিহত হন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মুফতি আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম, দুই ছেলে আবরার ও এরশাদ এবং মেয়ে লাবিবা। স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ভয়ংকর দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে ১২ বছরের শিশু আবরার। সামান্য আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবরার জানায়, মিয়ামি হোটেলে খাবার শেষ করে তারা মাত্রই সড়কে উঠেছিল, ঠিক তখনই বাসটি তাদের গাড়িকে পিষে দেয়। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে শিশুটি এখন নিস্তব্ধ। ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মমিন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসের চালক পালিয়ে গেছে। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও প্রাইভেটকারটি জব্দ করেছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে যখন জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় সরকার থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে—দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় এক মাসের জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা সাধারণত প্রচলিত ১৫ দিনের রিজার্ভের তুলনায় বেশি। একই সঙ্গে তিনি ‘প্যানিক বাইং’ বা অযৌক্তিকভাবে তেল কেনার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে সক্রিয় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নিয়মিত বৈঠক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়ন—এসব উদ্যোগ জ্বালানি খাতকে সুসংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী স্পট মার্কেট থেকেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জ্বালানি সংগ্রহের উৎস বহুমুখীকরণ এবং সরবরাহ চেইন আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। জ্বালানি খাতে সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে যাতে দেশের অভ্যন্তরে তার প্রভাব কম পড়ে, সে লক্ষ্যেই রিজার্ভ আরও বড় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে হঠাৎ কোনো বৈশ্বিক সংকট দেখা দিলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনসচেতনতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় মজুত বা আতঙ্কজনিত ক্রয় থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে সহায়তা করবে। মানুষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পেলে বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং তথ্যের সঠিক প্রচারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বাস্তবসম্মত নীতি অনুসরণ করছে। জেট ফুয়েলের মতো খাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান সুদৃঢ় থাকে এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। জ্বালানি খাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকেও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভায় পাঁচটি অর্থনৈতিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়ার অনুমোদন রাজস্ব কাঠামোকে আরও সুসংহত করবে। কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সহজ হবে। এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করবে। এ ছাড়া বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। এতে করে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে। শিল্পখাতে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, যা জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সবশেষে বলা যায়, জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মজুত বৃদ্ধি, সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, বাজার স্থিতিশীলতা এবং নীতিগত সংস্কার—এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের ধারাবাহিক তৎপরতা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি খাতকে একটি স্থিতিশীল ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সহায়তা করবে। জনগণের আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রচেষ্টা আরও কার্যকর হবে এবং সম্মিলিত উদ্যোগেই জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। লেখক : এম রায়হানুল ইসলাম, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে জনসাধারণের জন্য ৬টি জাহাজ উন্মুক্ত করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। দেশের বিভিন্ন স্থানে নোঙর করা এসব জাহাজ পরিদর্শনে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এর অংশ হিসেবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছয়টি জাহাজ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। উন্মুক্ত রাখা জাহাজগুলো হলো- ‘বিসিজিএস কুতুবদিয়া’ (চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ ভিআইপি ঘাট), ‘বিসিজিএস শেটগাং’ (নারায়ণগঞ্জের কাশীপুর পন্টুন), ‘বিসিজিএস তাজউদ্দিন’ (চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট), ‘বিসিজিএস শ্যামল বাংলা’ (চট্টগ্রামের ইছা নগর), ‘বিসিজিএস কামরুজ্জামান’ (মোংলার দিগরাজ) এবং ‘বিসিজিএস তৌহিদ’ (খুলনার রূপসা)। দুপুর থেকে জাহাজগুলো পরিদর্শনে আশপাশের এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ভিড় করেন। এতে সাধারণ মানুষ কোস্ট গার্ডের জাহাজ, সরঞ্জাম ও কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পান। মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন বলেন, জাহাজে আগত দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও নাবিকরা। এর মাধ্যমে কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও জানান, জাহাজ পরিদর্শনের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা গভীর সমুদ্রে টহল, উপকূল ও নদী এলাকায় অভিযান, উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, জলদস্যুতা দমন এবং মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা পান।
ভিয়েতনাম ইতোমধ্যে এশিয়া কাপ খেলা নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের চেয়ে র্যাংকিংয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে। এমন দলের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে বাংলাদেশ ০-৩ গোলে হেরেছে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের স্প্যানিশ হেড কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা অবশ্য বলেছেন, খেলার বিচারে নাকি দুই দল কাছাকাছিই ছিল। বাংলাদেশ দলের কোচ ক্যাবরেরা বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি মনে করি আমরা তাদের খুব কাছাকাছিই ছিলাম। আমরা যা দেখেছি, মূল পার্থক্যটা সম্ভবত তাদের ও আমাদের ফিনিশিংয়ের মধ্যেই ছিল। তারা যেভাবে নিজেদের পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছে; অন্যদিকে আমাদেরও সুযোগ ছিল। আমাদেরও গোল করার সুযোগ ছিল, কিন্তু শেষ কাজটা আমরা করতে পারিনি, যা অন্তত আমাদের ম্যাচে একটি গোল এনে দিতে পারত। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই সব হয়েছে। হাই প্রেস, গোল কিক, ডিফেন্সিভ ব্লক এবং আমাদের বিল্ড-আপের ক্ষেত্রে আমরা সামনে এগোনোর এবং সুযোগ তৈরির পথ খুঁজে পেয়েছি।’ বাংলাদেশ প্রথমার্ধে ৩ গোলে পিছিয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য কোনো গোল হজম করেনি। তাই কোচ প্রথমার্ধের ব্যবচ্ছেদে না গিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সকেই হাইলাইটস করেছেন, ‘আমাদের পারফরম্যান্স খুবই ইতিবাচক ছিল, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে। কিন্তু আজকের এই পরীক্ষা থেকে আমরা নিশ্চিতভাবে যা শিখেছি তা হলো, এই মানের দলের বিপক্ষে আজকে আমরা যে ভুলগুলো করেছি, তার মাশুল সবসময় ম্যাচ হেরেই দিতে হবে। আমরা দুটি সেট পিস থেকে গোল হজম করেছি এবং এমনকি তৃতীয় গোলটিও এমন ছিল যা আমরা চাইলে এড়াতে পারতাম।’ ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। ওই ম্যাচের প্রস্তুতির জন্যই মূলত ভিয়েতনামে প্রীতি ম্যাচ খেলা। এই ম্যাচটি তাই অত্যন্ত শিক্ষণীয় ও কার্যকরী হিসেবে দেখছেন কোচ, ‘যাই হোক, সত্যি বলতে, আমি মনে করি এটি একটি খুব ইতিবাচক পরীক্ষা ছিল। এ ধরনের জাতীয় দলের তুলনায় আমরা এখন কোন অবস্থানে আছি, তা দেখার জন্য এটি দারুণ ছিল। এখন সময় এসেছে ইতিবাচক দিকগুলো গ্রহণ করার। ম্যাচে আমাদের অনেক ইতিবাচক দিকও ছিল, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার জন্য সেগুলোকে এখন সঠিক উপায়ে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে।’ এজেড/এফএইচএম
কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামী হোটেলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি প্রাইভেট কার কালাকচুয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা স্টার লাইন পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় গাড়িচালক জামাল হোসেন ও যাত্রী আবরারকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চালক জামালকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আবরার বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমেদের বোন ঝর্না বেগম (৪০), তার স্বামী মুফতি আব্দুল মমিন (৫০), মেয়ে লাবিবা (১৮) এবং ছেলে সাইফ (৭)। তারা নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার চাতারপাইয়া এলাকার বাসিন্দা। নিহত অপর ব্যক্তি গাড়িচালক জামাল হোসেন, তার বাড়ি বরিশালে। ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর বাসচালক পালিয়ে গেছে। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের আর বাকি আছে দুমাস। এই মহারণে অংশ নেওয়ার কথা ইরানি দলেরও। কিন্তু, গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া অসম যুদ্ধের কারণে এ পর্বে খেলা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। যেখানে ইরানিদের স্বাভাবিক জীবন যাপনই ব্যাহত হচ্ছে, বসতবাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসা-মসজিদ, খেলার মাঠসহ এমন কোনো স্থাপনা বাদ যাচ্ছে না, যেখানে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করছে না ওয়াশিংটন ও তেল আবিব; সেখানে বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়ার তাদের দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ত্রাতা হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিবেশী তুরস্ক। ইরান ফুটবল দলের ক্রীড়াবিদদের নিজ দেশে নিয়ে গেছে আঙ্কারা। নজরে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। ইরানের পুরুষ ফুটবল দল দক্ষিণ তুরস্কে নিবিড় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তারা ফিফা বিশ্বকাপের আগে আসন্ন দুটি প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্বকাপে এই দলটি বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্তালিয়ার পার্শ্ববর্তী অবকাশযাপন কেন্দ্র বেলেকে 'টিম মেল্লি' তাদের প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেছে। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে এই ম্যাচগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের মনোযোগ যেন বিক্ষিপ্ত না হয়, তাই সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়েছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছে। গত সপ্তাহে ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহেদি তাজ এ তথ্য জানান। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালীন ইরানের জাতীয় দল অনেকটা নিভৃতে থাকতেই পছন্দ করছে, কারণ সেখানে তারা তীব্র রাজনৈতিক ও সংবাদমাধ্যমের চুলচেরা বিশ্লেষণের সম্মুখীন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেলেকে খেলোয়াড় বা কোচদের কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দলের একজন মিডিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে, স্কোয়াড বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে তাদের আসন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলার সূচির ওপর মনোনিবেশ করছে। ইরান আন্তালিয়ায় দুটি ম্যাচ খেলবে—শুক্রবার (২৭ মার্চ) নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এবং মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কোস্টারিকার বিপক্ষে। প্রীতি ম্যাচগুলো শুরুতে জর্ডানে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ইরানের ওপর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেগুলো তুরস্কে সরিয়ে নেওয়া হয়। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় অনুশীলন সেশনের সময় খেলোয়াড়দের বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে। মাঝেমধ্যে স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের একে অপরের সঙ্গে গল্প ও হাসিঠাট্টা করতেও দেখা যায়। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি, যিনি সম্প্রতি গ্রিসের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের হয়ে খেলার সময় একজন ইসরাইলি প্রতিপক্ষের সঙ্গে জার্সি বদল করে বেশ আলোচনায় এসেছিলেন। স্ট্রাইকার সরদার আজমুনকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে একটি সাক্ষাতের ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৫৭টি গোল করা আজমুনকে সরকারের প্রতি 'অবিশ্বস্ততার' দায়ে জাতীয় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও একটি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। প্রায় ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাহাজটি বন্দরে ভিড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটিতে ১০ হাজার টন ডিজেল এবং ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইউনিপেকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজে এই চালান দেশে এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত ডিজেল পরিবহন ও শিল্প খাতে সরবরাহ করা হবে। অন্যদিকে জেট ফুয়েল দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিতরণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ বিলম্বের কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হলেও নতুন এই চালান পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে। চলতি মাসে মোট ১৭টি তেলবাহী জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে এর আগে আটটি জাহাজ পৌঁছেছে। সর্বশেষ এই জাহাজসহ মোট নয়টি চালান দেশে এসেছে, তবে বাকি জাহাজগুলোর আগমনের সময়সূচি এখনো নিশ্চিত নয়। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাহাজটি বন্দরে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, যা দেশে পরিশোধন করা হয় এবং বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।
ইসরায়েলের আরবি ভাষার মুখপাত্র অভিচায় আদরাই জাহরানি নদীর দক্ষিণে বসবাসকারী লেবাননের সব বাসিন্দার জন্য উচ্ছেদ হুমকি জারি করেছেন। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি মুখপাত্র বাসিন্দাদের "অবিলম্বে জাহরানি নদীর উত্তরের এলাকায় সরে যেতে" নির্দেশ দেন এবং বলেন, ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমের কারণে এ নির্দেশ না মানলে তাদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। তিনি "দক্ষিণে কোনো চলাচলের" বিরুদ্ধেও সতর্ক করে দেন, যা মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলে উল্লেখ করেন। সম্প্রতি সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল বারবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন অংশের বাসিন্দাদের উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছে, যেখানে তারা হিজবুল্লাহকে আক্রমণ করছে বলে দাবি করে—এতে দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ উদ্বাস্তু হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসন যখন ১৭তম দিনে গড়িয়েছে তখন তাদের লক্ষ্যবস্তুও পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আর তেহরানের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন নয়, বিশ্ব জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করাই প্রধান টার্গেট ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের। এই পথে পৃথিবীর মোট জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, কিন্তু আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপথটি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। অতি-গুরুত্বপূর্ণ পানিপথটি উন্মুক্ত করতে মিত্র দেশগুলোর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সবাই তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। এরপর পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সহায়তা চেয়েও হতাশ হন ট্রাম্প। এবার বিষয়টি নিয়ে মশকরা করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশল নিয়ে উপহাস করেছেন, যদিও ইসলামাবাদ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত করা এই সংঘাতের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মূল লক্ষ্য এখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার দিকে মোড় নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে, অথচ যুদ্ধের আগে এটি উন্মুক্তই ছিল। তিনি এক্সে লিখেছেন, 'যুদ্ধের লক্ষ্য এখন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার দিকে সরে গেছে বলে মনে হচ্ছে, যা যুদ্ধের আগে থেকেই উন্মুক্ত ছিল।' বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রী জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে ছেড়ে আসা একটি তুর্কি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) কৃষ্ণসাগরে ইস্তাম্বুলের বসফরাস প্রণালির কাছে একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে, যার ফলে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। পরিবহন মন্ত্রী আব্দুলকাদির উরালোলু সম্প্রচারমাধ্যম 'কানাল ২৪'-কে বলেন, রুশ বন্দর থেকে আসা বা যাওয়ার পথে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজগুলোর ওপর গত কয়েক মাসে যে কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, এটি তার মধ্যে একটি। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে ঘটে। তিনি জানান, জাহাজের ২৭ ক্রু সদস্যই নিরাপদ আছেন। কোস্টগার্ডকে 'আলতুরা' নামক ওই জাহাজের কাছে পাঠানো হয়েছে। জাহাজটি বসফরাস প্রণালি থেকে প্রায় ১৮ নটিক্যাল মাইল (৩৩ কিমি) দূরে অবস্থান করছিল। বসফরাস প্রণালি কৃষ্ণসাগরকে মারমারা ও ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী পণ্য পরিবহনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। উরালোলু বলেন, তুর্কি জলসীমার ঠিক বাইরে হওয়া এই হামলার লক্ষ্য ছিল সম্ভবত সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ওই জাহাজটির ইঞ্জিন রুম অকেজো করে দেওয়া, যা রাশিয়ার তেল বহন করছিল। শিপ-ট্র্যাকিং এবং রিফিনিটিভ এআইএস তথ্য অনুযায়ী, আলতুরা জাহাজটি রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে রওনা হয়েছিল এবং এটি প্রায় পূর্ণ বোঝাই ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেন জাহাজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। কৃষ্ণসাগরের অংশীদার হিসেবে রাশিয়া ও ইউক্রেন গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধে লিপ্ত, এ ছাড়া সেখানে আরও কয়েকটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে ইউক্রেনীয় ড্রোন কৃষ্ণসাগরে রুশ অভিমুখী ট্যাঙ্কারে আঘাত হানার পর শিপিং ইন্স্যুরেন্স রেট (বীমা খরচ) বেড়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনায় মস্কো প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছিল এবং ন্যাটো সদস্য তুরস্ক পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছিল। বৃহস্পতিবারের এই হামলার বিষয়ে মস্কো বা কিয়েভ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রিফিনিটিভের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজটির নিবন্ধিত মালিক চীনভিত্তিক 'সি গ্রেস শিপিং লিমিটেড' এবং এর ব্যবস্থাপক হলো তুরস্কভিত্তিক 'পেরগামন দেনিজিলিক'। বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে পেরগামনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। এর আগে সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভি জানিয়েছিল যে, জাহাজের ব্রিজে বিস্ফোরণ হয়েছে এবং ইঞ্জিন রুমে পানি ঢুকে পড়েছে, যার ফলে ক্রুরা সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। বলা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখার তিনিই ছিলেন প্রধান কারিগর। হরমুজ প্রণালির ধারে ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে এক হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি। যদিও ইরান এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, "হরমুজ প্রণালিতে বোমা হামলা মতো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং এই প্রণালি অবরুদ্ধ করে রাখার জন্য তাংরিসি সরাসরি দায়ী ছিলেন," তাকে 'উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে'। তাংরিসির পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নিহত হয়েছেন বলে কাটজ দাবি করেছেন। তবে ইরান এখনও এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত 'অবরুদ্ধ' করে রেখেছে ইরান। বাছাই করা কিছু দেশের জাহাজকে হরমুজ পার হওয়ার 'ছাড়পত্র' দিয়েছে তারা। এই প্রণালিকে 'অবরুদ্ধ' করে রাখার দায়িত্ব ছিল তাংরিসির ওপর। এবার তাকেও হত্যা করার দাবি করল ইসরায়েল। এ সপ্তাহে কোনও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার আগেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। তাংসিরি নিহতের খবর সত্য হলে তা ইরানের সামরিক নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হতে চলেছে, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের নৌবাহিনীর কার্যক্রমে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশলগত উপস্থিতিতে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। আলিরেজা তাংসিরি কে ছিলেন? ২০১৮ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি)- নৌ কমান্ডার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন আলিরেজা তাংসিরি। এর আগে ২০১০ সাল থেকে তিনি আইআরজিসি'র উপ কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপরই আইআরজিসি'র নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে ইরানের সামুদ্রিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। তাংসিরি গত ১০ মার্চ থেকে এক্স একাউন্টে সক্রিয় ছিলেন। তার পোস্টগুলোতে বেশ কয়েকবারই তাকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, "আগ্রাসনকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনও জাহাজের হরমুজ পার হওয়ার অধিকার নেই।" তাংসিরি ছিলেন এক স্পষ্টভাষী কমান্ডার। অতীতেও তিনি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানা বিবৃতি দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি একবার ইরানের তেল রপ্তানি বিঘ্নিত হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন। এই প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নজরদারি ড্রোন ইরান গুলি করে ভূপাতিত করার পর ২০১৯ সালে মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয় তাংসিরিসহ অন্যান্য আইআরজিসি কমান্ডারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তাংসিরির মৃত্যুতে কি খুলবে হরমুজ? তাংসিরির মৃত্যুতে হরমুজ প্রণালি খুলবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে হরমুজ খোলার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তাংসিরির মৃত্যুর খবর সত্য হলে বলা যায়, এতে ইরানের নৌ বাহিনীর কমান্ড কাঠামো ব্যাহত হতে পারে। তবে তা স্বল্প সময়ের জন্য। তাংসিরির অনুপস্থিতিতে হরমুজের দেখভাল কিভাবে হবে তা নিয়ে আপাতত সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু ইরানের সামরিক নেতৃত্বে আছে বহুস্তরীয় ব্যবস্থা। তার মানে হচ্ছে, কোনও একজন কমান্ডারকে হারানোর ফলে নেতৃত্বে ধাক্কা লাগলেও, সামগ্রিকভাবে গোটা কমান্ড কাঠামো কার্যকরভাবেই চলমান থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, একজন না থাকলে তার উত্তরসূরি এসে আগের নীতিই পরিচালনা করে। আর সেই নীতি বিদ্যমান পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আরও আগ্রাসীও হতে পারে। ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুললাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পরও শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি। এমনকি তার ডান হাত আলী লারিজানির মৃত্যুর পরও ইরান টিকে আছে। দুইজনেরই উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইরানের পাল্টা হামলাও চলছে। লারিজানির মৃত্যুর পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছিলেন, মৃত্যুতে ইরান যুদ্ধ থেকে পিছু হটবে না। ইরানের শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো আছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসন যখন ১৭তম দিনে গড়িয়েছে তখন তাদের লক্ষ্যবস্তুও পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আর তেহরানের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন নয়, বিশ্ব জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করাই প্রধান টার্গেট ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের। এই পথে পৃথিবীর মোট জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, কিন্তু আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপথটি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। অতি-গুরুত্বপূর্ণ পানিপথটি উন্মুক্ত করতে মিত্র দেশগুলোর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সবাই তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। এরপর পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সহায়তা চেয়েও হতাশ হন ট্রাম্প। এবার বিষয়টি নিয়ে মশকরা করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশল নিয়ে উপহাস করেছেন, যদিও ইসলামাবাদ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত করা এই সংঘাতের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মূল লক্ষ্য এখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার দিকে মোড় নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে, অথচ যুদ্ধের আগে এটি উন্মুক্তই ছিল। তিনি এক্সে লিখেছেন, 'যুদ্ধের লক্ষ্য এখন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার দিকে সরে গেছে বলে মনে হচ্ছে, যা যুদ্ধের আগে থেকেই উন্মুক্ত ছিল।' বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলো এখন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বিশেষ ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছে। প্রখ্যাত শিপিং নিউজ পোর্টাল ‘লয়েডস লিস্ট’ তাদের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ মার্চ থেকে প্রণালিটি অতিক্রম করা অন্তত ২৬টি জাহাজ আইআরজিসি-র প্রাক-অনুমোদিত রুট এবং কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে একটি অলিখিত ‘টোল বুথ শাসন’ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। যদিও সব জাহাজ সরাসরি অর্থ প্রদান করছে না, তবে অন্তত দুটি জাহাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ বিষয় হলো, এই লেনদেন মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ানে’ সম্পন্ন হয়েছে। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য কমানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরান ঘোষণা করেছিল যে, তাদের ‘শত্রু’ রাষ্ট্রগুলো বাদে সবার জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে। তবে বর্তমান এই টোল ব্যবস্থা এবং কঠোর নজরদারি মূলত এই জলপথের ওপর তেহরানের একক নিয়ন্ত্রণকেই জাহির করছে। জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার যখন অস্থিতিশীল, তখন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই কড়াকড়ি এবং ডলার বর্জন করে ইউয়ানে লেনদেনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সূত্র: সিএনএন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।