সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রাথমিক থেকেই শিক্ষার নিবিড় তদারকি জোরদার করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার মূল ভিত্তি শুরু হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। তাই প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই শিক্ষার মানোন্নয়নে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তদারকি জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার কাজের উৎসাহ ও গতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) হলরুমে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ব্যতীত শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব নয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং তিনি প্রতি শনিবার শিক্ষা বিষয়ক পর্যালোচনা সভা করেন; যেখানে সারা সপ্তাহের কাজের অগ্রগতি তাঁর নিকট উপস্থাপন করতে হয়।’ মন্ত্রী শিক্ষা খাতে গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন। মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও নিবেদিত হয়ে কাজ করলে শিক্ষার মান উন্নত হবে। আমরা কী করেছি এবং কীভাবে শিক্ষার মান আরও উন্নত করা যায়- সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, অতীতে অবকাঠামো উন্নয়নে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখন থেকে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গতানুগতিক কাজের বাইরে গিয়ে প্রকল্পগুলোর মিশন ও ভিশন কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি ও অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। কাউকে বঞ্চিত করা হবে না। আমি আশা করি এবার বাজেট বৃদ্ধি পাবে, যা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।’ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কর্মকর্তারা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে তাদের বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

২ ঘন্টা আগে
২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি ১৫ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্য নির্ধারণ সরকারের : তিতুমীর

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেছেন।  এতে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং দেশকে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলের দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী ভোগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলটি টেকসই ছিল না এবং বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সঞ্চিত বিপুল ঋণের বোঝা দেশের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।’ আজ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ সিপিডি ও দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন পর্যালোচনা : নবনির্বাচিত সরকারের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক মডেলে রূপান্তরের জন্য কাজ করছে বলে জানান তিতুমীর। তিনি বলেন, এ মডেল দেশীয় বিনিয়োগ এবং প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই)-উভয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই রূপান্তরের একটি প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা। উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বে সর্বনিম্ন স্তরের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ২০৩৫ সালের মধ্যে গড়ে ১৫ শতাংশ কর-জিডিপি অনুপাত অর্জনের সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কেবল গাণিতিক হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ধাপে ধাপে অগ্রগতির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে- প্রথমে ২ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির মধ্যবর্তী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথে এগোনো হবে। তিতুমীর বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কর সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বর্তমান রাজস্ব কাঠামোর বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানান। স্ট্যাটুটরি রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও)-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি এমন এক বাজারে পরিণত হয়েছে যেখানে প্রভাব কেনাবেচা হয়। ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ প্রথা কমিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সরকার পরিচয় ও প্রভাবভিত্তিক ‘গ্রিনফিল্ড’ প্রণোদনার পরিবর্তে কার্যসম্পাদনভিত্তিক (এক্স-পোস্ট) ভর্তুকি ব্যবস্থায় যেতে চায়। তৈরি পোশাক খাতে সফল এ মডেলে সম্ভাবনার ভিত্তিতে নয়, বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে। রাজস্ব আদায়ে শুধু বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)- এর ওপর নির্ভরশীলতার প্রবণতাকে বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ইউনিটে সমানভাবে রাজস্ব আহরণ জোরদার করতে হবে। বর্তমান দারিদ্র্য পরিস্থিতিতে প্রচলিত কৃচ্ছ্রসাধন নীতি কার্যকর সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বরং অপচয় রোধ এবং রাজস্ব নীতিকে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)- এর বাস্তবায়ন হারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা জরুরি। বিশেষভাবে জ্বালানি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি বোঝার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিপুল ব্যয় কমাতে সরকার তিনটি কৌশলগত পদ্ধতি গ্রহণ করছে। শেষে তিনি দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যে জনসাধারণের পণ্য ও সেবার অর্থায়ন যেন যথাযথ কর প্রদানের মাধ্যমে হয়, সে সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি করে সামগ্রিকভাবে সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

২ ঘন্টা আগে
ডিএসইতে সূচকের সামান্য পতন, লেনদেন ৫৮২ কোটি টাকা

 ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ ৩৯৪টি কোম্পানির ২৫ কোটি ৫৭ লাখ ৮২ হাজার ৯৩০টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮২ কোটি ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩৩ টাকা। ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২ দশমিক ০৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩২৩ দশমিক ০৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪৫ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) শূন্য দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬২ দশমিক ৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনকৃত কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২২৭টির, কমেছে ১১২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টি কোম্পানির শেয়ার। লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি হলো— ওরিয়ন ইনফিউশন, সিটি ব্যাংক পিএলসি, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, খান ব্রাদার্স পিপি, ব্র্যাক ব্যাংক, সী পার্ল বিচ রিসোর্ট, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, রবি আজিয়াটা, ঢাকা ব্যাংক ও গ্রামীণফোন। দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০টি কোম্পানি হলো— সী পার্ল বিচ রিসোর্ট, ইনটেক লিমিটেড, ওরিয়ন ইনফিউশন, দেশ গার্মেন্টস, পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, একমি পেস্টিসাইড, এফবিএফআইএফ, এমএল ডাইং, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ও শাইনপুকুর সিরামিক। অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষ ১০টি কোম্পানি হলো— জিএসপি ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, গ্রামীণফোন, বিআইএফসি, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১ (স্কিম-১), ফিনিক্স ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্স।

২ ঘন্টা আগে
চলতি কর বছরে ৪০ লক্ষাধিক করদাতার ই-রিটার্ন দাখিল

চলতি (২০২৫-২৬) কর বছরে বুধবার পর্যন্ত ৪০ লক্ষাধিক করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এছাড়া, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।  জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিশেষ আদেশে এ বছর ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি কর বছরে আগস্টে ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৪ জন, সেপ্টেম্বরে ৩ লাখ ১ হাজার ৩০২ জন, অক্টোবরে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬ জন, নভেম্বরে ১০ লাখ ৪০ হাজার ৪৭২ জন, ডিসেম্বরে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৮ জন, জানুয়ারি ২০২৬-এ ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩৬৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৮৭ জন এবং মার্চের প্রথম চার দিনে ৩৬ হাজার ৭০০ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। দাখিলকৃত ই-রিটার্নের মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৮ জন পুরুষ এবং ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৩ জন নারী করদাতা রয়েছেন। বেতন খাতে আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ ১০ হাজার ৭৫০ জন পুরুষ ও ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫৬৬ জন নারী করদাতা। বাড়ি ভাড়া খাতে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৪ জন পুরুষ এবং ৮৪ হাজার ৪৭৭ জন নারী। করযোগ্য সীমার নিচে আয় দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩০ জন পুরুষ ও ৭ লাখ ৬৫ হাজার ১৯৭ জন নারী। ৫ লাখ টাকার বেশি কিন্তু ১০ লাখ টাকার কম আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৪ জন পুরুষ ও ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৭ জন নারী। ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮৩ জন পুরুষ ও ৪৭ হাজার ৫৩২ জন নারী। ২০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকার মধ্যে আয় দেখিয়েছেন ৫৪ হাজার ২১২ জন পুরুষ ও ১১ হাজার ৪৫৫ জন নারী। ৪০ লাখ টাকার বেশি আয় দেখিয়েছেন ২৯ হাজার ৮০ জন পুরুষ ও ৫ হাজার ১১৭ জন নারী করদাতা। সম্পদের পরিমাণ সারচার্জ আরোপযোগ্য হওয়ায় ৩৯ হাজার ৩৬৩ জন পুরুষ ও ১১ হাজার ৬৫ জন নারী করদাতা সারচার্জ পরিশোধ করেছেন। এনবিআর জানায়, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও তারা পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা ereturn@etaxnbr.gov.bd-এ পাঠিয়ে আবেদন করলে ই-মেইলে ওটিপি ও রেজিস্ট্রেশন লিংক পেয়ে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। এছাড়া, ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরাও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। কোনো কাগজপত্র আপলোড ছাড়াই করদাতারা আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য এন্ট্রি করে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধ করে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারছেন। রিটার্নে ভুল হলে ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৬ হাজারের বেশি করদাতা সংশোধিত রিটার্ন জমা দিয়েছেন। ই-রিটার্ন সংক্রান্ত সহায়তার জন্য এনবিআর স্থাপিত কল সেন্টারের নম্বর ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১-এ যোগাযোগ করা যাচ্ছে। এছাড়া www.etaxnbr.gov.bd  ওয়েবসাইটের eTax Service অপশনের মাধ্যমে লিখিতভাবে সমস্যার সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। সারাদেশের কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্পডেস্ক থেকেও অফিস চলাকালীন সেবা দেওয়া হচ্ছে। জরিমানা এড়াতে এনবিআর ইতোমধ্যে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের এসএমএস পাঠিয়েছে। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য সকল করদাতাকে অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

২ ঘন্টা আগে
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ছবি : সংগৃহীত
অন্যান্য
বাবা-মা, স্ত্রী ও নিজের ব্যাংক হিসাব উন্মুক্ত করলেন আসিফ মাহমুদ

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার আলোচনা শুরু হওয়ার পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবও তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে নিজের আয় ও সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী জমা দিয়েছেন। এরপরও বিষয়টি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা হওয়ায় জনগণের সামনে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার ভাষ্য, এতে করে এ নিয়ে আর কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ থাকবে না। তিনি বলেন, প্রথমে শুধু নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশের কথা জানালেও পরে পরিবারের সবার হিসাবও উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট না থাকে। আসিফ মাহমুদ জানান, তার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টে মোট জমা রয়েছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। তবে শিক্ষক হিসেবে তার বাবা ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন, যার কিস্তি প্রতি মাসে বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়। বর্তমানে ওই ঋণের বকেয়া রয়েছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সে হিসেবে জমাকৃত অর্থ সমন্বয় করলে তার বাবা এখনও প্রায় ৮২ হাজার ৩৫ টাকা দেনায় আছেন। তিনি আরও জানান, তার মায়ের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা রয়েছে। তার স্ত্রীর একটি অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৬১৩ টাকা। নিজের হিসাব সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ বলেন, তার দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এর মধ্যে সোনালি ব্যাংকে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। অন্যটি তার সেলারি অ্যাকাউন্ট, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে বেতন, ভাতা ও যাতায়াত সংক্রান্ত লেনদেন সম্পন্ন হতো। তিনি জানান, ১৬ মাস দায়িত্ব পালনকালে তার গড় মাসিক বেতন ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। বর্তমানে সেলারি অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা। এই অ্যাকাউন্টে মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে তার দুটি অ্যাকাউন্টে বর্তমানে মোট জমা রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০৪, ২০২৬ 0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে লাফিয়ে বাড়ছে তেল-গ্যাসের দাম। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে লাফিয়ে বাড়ছে তেল-গ্যাসের দাম

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বেড়েছে তেলের দাম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহের চেয়েও দীর্ঘায়িত হতে পারে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৬ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংঘাতের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি ও সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে চলতি বছরে তেলের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছিল। ইরানের তেল উৎপাদন বিশ্ব চাহিদার ৫ শতাংশেরও কম হলেও বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশের বেশি পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেলবাজারের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় শিপিং কোম্পানি ওই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা বিকল্প রুট ব্যবহার শুরু করেছে। সোমবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের হামলা অব্যাহত রাখবে। তিনি ধারণা করেন, সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, এমনকি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধেও রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, ‘সময় যাই লাগুক, সমস্যা নেই। আমরা শুরুতে ৪-৫ সপ্তাহ ভেবেছিলাম, তবে প্রয়োজন হলে আরও দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর সক্ষমতা আমাদের আছে।’ প্রাইস-ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গ্যাস স্টেশনগুলোতে দাম বাড়তে শুরু করেছে। রোববার থেকে জাতীয় গড় দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের খুচরা মূল্য বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৭ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ফলে গত কয়েক বছর ধরে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য সামনে আরও কঠিন সময় আসতে পারে। জেপি মরগানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমি ডিমন সিএনবিসিকে বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদে এটি গ্যাসের দাম কিছুটা বাড়াবে। যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত না হয়, তবে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতি নাও হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় চললে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।’ মঙ্গলবার মার্কিন শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতে বড় পতন দেখা গেলেও দিনশেষে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়। তবে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনা ও ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। সোনার দাম ২ শতাংশ বা ১০০ ডলারের বেশি বেড়েছে। তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ কাতার জানিয়েছে, তাদের অপারেটিং স্থাপনায় হামলার কারণে এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। এ খবরের পর ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ ডলারের ওপরে ওঠে, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। গত শুক্রবার থেকে হিসাব করলে মোট বৃদ্ধি ১৫ শতাংশেরও বেশি। ইউরোপে গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার পর কিছুটা কমেছে, যদিও সোমবারও তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল। একই সঙ্গে চিনি, সার ও সয়াবিনের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরাক মঙ্গলবার জানিয়েছে, তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে লোডিং পয়েন্টে পৌঁছাতে না পারে, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে। ইরাকি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে দেশটি রুমাইলা তেলক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৭ লাখ ব্যারেল এবং পশ্চিম কুরনা-২ ক্ষেত্র থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছে। ইরান পাঁচটি জাহাজে হামলা চালানোর পর টানা চতুর্থ দিনের মতো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে, যা ইউরোপ ও এশিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করবে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করে।

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরানে নিহত ১০৯৭ বেসামরিক নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে এক হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।   সংস্থাটি জানায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সি শিশুর সংখ্যা ১৮১। এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে, বেসামরিক মানুষ আহত হওয়ার সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪০২–এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১০০ শিশু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে অন্তত ১০৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির মতে, এসব হামলা সামরিক ঘাঁটি, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। আরও কয়েক শত মানুষের মৃত্যুর খবর পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে বোমা আতঙ্কে প্রবাসীরা, স্বজনদের বাড়ছে উৎকণ্ঠা

মধ্যপ্রাচ্যের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতে গভীর আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। চলমান সংঘাত দুশ্চিন্তায় ফেলেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবারগুলোকেও। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন।   এছাড়াও টানা হামলা, আকাশসীমা বন্ধ এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে ইরানে থাকা বহু বাংলাদেশির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে স্বজনদের। এনিয়ে পরিবারে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, কথা বলতে পারছেন না।    দুবাইপ্রবাসী রনি হোসেন বলেন, ‘এখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও খবর দেখলেই ভয় লাগে। কখন যে আবার হামলা করে এর নিশ্চয়তা নেই। পরিবার থেকে বারবার ফোন আসে। আমরা বাইরে কাজ করি ঠিকই, কিন্তু মনে সব সময় একটা দুশ্চিন্তা থাকে।’   হবিগঞ্জের সুন্দর আলীর ছেলে লুৎফুর রহমান প্রায় ছয় বছর ধরে তেহরানে বসবাস করেন। সুন্দর আলী বলেন, আগে প্রতিদিন না হলেও একদিন পরপর কথা হতো। এখন এক সপ্তাহ ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। ফোন বন্ধ, ইন্টারনেটও পাওয়া যাচ্ছে না। খবর দেখলেই বুক কেঁপে ওঠে।   ফাতেহা বেগমের ছেলে রুমান মিয়া ইরানে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সর্বশেষ ভিডিও কলে কথা হয়েছে যুদ্ধ শুরুর আগের দিন। পরে এক ভয়েস মেসেজ দিয়ে জানিয়েছিল ইরানের একটি স্কুলে বোমা হামলা হয়েছে। এরপর থেকে কোন যোগাযোগ নেই। এনিয়ে তিনি উৎকন্ঠায় আছেন।   বিভিন্ন সূত্র মতে- ইরানে বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ হাজারের মতো বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন। তবে সরকারি নিবন্ধিত সংখ্যাটি এর চেয়ে কম।     উপসাগরীয় দেশগুলোতেও আতঙ্ক: সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আকাশসীমা আংশিক বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাতায়াতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।.   প্রবাসীরা জানিয়েছেন, সরাসরি যুদ্ধ না হলেও বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থানে চাপা ভীতি কাজ করছে। অনেকেই জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরতে চাইছেন, কিন্তু বিমান চলাচল সীমিত থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।   দুই বাংলাদেশি নিহত: সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে নিহত হন মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা এলাকার ছবর আলীর ছেলে সালেহ আহমেদ এবং  বাহরাইনে নিহত হয়েছেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ তারেক।    গত শনিবার আরব আমিরাতের আজমানে সন্ধ্যায় সালেহ আহমেদ ইফতার শেষে জরুরি খাদ্য-পানীয় সরবরাহের কাজে বের হন। তখন হঠাৎ আকাশে আগুনের মতো উজ্জ্বল একটি বস্তু দেখা যায়। মুহূর্তেই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। গুরুতর আহত অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে মৃত ঘোষণা করা হয়।   সোমবার রাতে বাহরাইনে মোহাম্মদ তারেক একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে ডিউটির সময় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজের ওপর পড়লে তিনি মারা যান।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ছয় মিলিয়নেরও বেশি বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রবাসীরা সতর্ক থাকেন এবং স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে চলেন।   বাংলাদেশ দূতাবাস সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।   এছাড়াও কুয়েতে ড্রোন হামলায় আহত চারজন বাংলাদেশি হলেন- নবীনগরের আমিনুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সাথিয়ার রাবিউল ইসলাম (পাবনা), বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান (নোয়াখালি) ও চাঁদিনার দুলাল মিয়া (কুমিল্লা)। তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। কুয়েত দূতাবাস নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, এবং দূত নিজেও হাসপাতালে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, বহু পরিবার দিনরাত ফোনের অপেক্ষায় আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা চলছে।   

ছবি : সংগৃহীত
বাড়ল যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড ও ভিসার প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি

মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং দীর্ঘদিনের জট কমানোর লক্ষ্যে এইচ-১বি ভিসা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিনকার্ড দ্রুততম সময়ে ইস্যুর জন্যে ফি বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (ইউএসসিআইএস)। ১ মার্চ কার্যকর হওয়া এই বর্ধিত ফি-সহ পাওয়া আবেদনগুলোই অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রসেসিংয়ের আওতায় আসবে। অন্যথায় এসব আবেদন সরাসরি ফেরত পাঠানো হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এই প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি বৃদ্ধিসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে, বর্ধিত হারে ফি আদায়ের অর্থ এই নয় যে, তা অনুমোদনের গ্যারান্টি পেল। এইচ-১বি ভিসা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিনকার্ড, এল-১ ভিসার ফি (আই-১৪০) ২৮০৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৯৬৫ ডলার করা হয়েছে।    পারিবারিক কোটায় গ্রিনকার্ডের আবেদনের ফি বাড়ানো হয়নি। ধর্মীয় ও সিজনাল (কৃষি) কর্মী এইচ- ২বি এবং আর-১ ক্যাটাগরির কর্মীদের জন্য ফি ১৬৮৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৭৮০ ডলার করা হয়েছে। ও-১, পি, কিউ, ই এবং টিএন (আই- ১২৯) ওয়ার্ক ভিসা প্রসেসিংয়ের ফি ২৮০৫ ডলার থেকে ২৯৬৫ ডলারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর ওয়ার্ক পারমিট ওপিটি এবং স্টেম ওপিটি অনুমোদনের প্রিমিয়াম ফি এখনো ১৭৮০ ডলার। এছাড়া এফজে এবং এম ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের স্ট্যাটাস পরিবর্তনের ফি বাড়িয়ে ২০৭৫ ডলার করা হয়েছে।   ইউএসসিআইএস তার ওয়েবসাইটে এক সতর্কবার্তায় বলেছে, ১ মার্চের পোস্টাল সিল সম্বলিত কোন আবেদনে যদি ভুল ফি (পুরোনো ফি)’র মানি অর্ডার কিংবা সার্টিফাইড চেক পাওয়া যায় তবে সেটি ফেরত দেওয়া হবে। এর ফলে আবেদন কারিগণের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হতে পারে এবং যারা দ্রুত কাজ শুরু করতে চাইছেন তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় পড়তে হতে পারে।    প্রসঙ্গত, আইন অনুযায়ী প্রতি দু’বছর অন্তর প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি পর্যালোচনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এই ফি আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই বাড়তি খরচ নিয়োগকর্তা ও অভিবাসী কর্মী-উভয় পক্ষের জন্যেই একটি বাড়তি চাপ হিসেবে দেখা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জট কমানোর প্রতিশ্রুতি পূরণ হলে এটি দীর্ঘমেয়াদে আবেদনকারিদের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন নিউইয়র্ক অঞ্চলে খ্যাতনামা অভিবাসন-অ্যাটর্নি অশোক কর্মকার।  

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ইরানের কৌশল বড় ভুল বলে আখ্যায়িত করছে তুরস্ক
মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৪, ২০২৬ 0

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। তুরস্ক এই কৌশলকে ‘অবিশ্বাস্য ভুল কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছে। খবর রয়টার্সের   মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, আরব দেশগুলোতে আক্রমণ চালানোর কারণে ইরান এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তুর্কি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি হার্বারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের এসব স্থানে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করা একেবারেই ভুল কৌশল। তেহরান এমন এক কৌশল নিচ্ছে—‘আমি যদি ডুবি, তবে পুরো অঞ্চলকেও সঙ্গে ডুবাব।’ ফিদান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের হামলার শিকার দেশগুলোতে যদি এই আক্রমণ অব্যাহত থাকে, তাহলে তারা নীরব থাকতে নাও পারে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি উদ্বেগজনক। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ইরানের নতুন নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানে একটি সুযোগের জানালা তৈরি করতে পারে। ফিদান বলেন, যে কোনো প্রয়োজনীয় সমঝোতা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার চেয়ে ভালো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব সংঘাত শেষ করতে ‘প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা’ প্রদর্শন করবে।

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সের পরমাণু রনতরী‘চার্লস দ্য গল’ ভূমধ্যসাগরে যাত্রা শুরু
মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৪, ২০২৬ 0

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতে এবার সরাসরি যুক্ত হলো ফ্রান্স। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্র সাইপ্রাসে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রতিবাদে ভূমধ্যসাগরে শক্তিশালী পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘চার্লস দ্য গল’ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ এ নির্দেশ দেন। তিনি জানান, গত ২ মার্চ সাইপ্রাসে ব্রিটেনের সামরিক ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে। সাইপ্রাস ইইউ’র সদস্য হওয়ায় জোটের নিরাপত্তা সনদ অনুযায়ী তাদের সুরক্ষা দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রণতরীটি বাল্টিক সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরাসরি এ সংঘাতে ফ্রান্সের অংশ নেওয়াকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছবি : সংগৃহীত
ইরানের পারমাণবিক বোমা আছে কি না, জানাল আইএইএ
মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৪, ২০২৬ 0

ইরানের পারমাণবিক বোমা আছে কি নেই, সে বিষয়ে কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। তিনি জানান, তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে বলে কোনো অকাট্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।   আলজাজিরার খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শকদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার না দেওয়াকে ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গ্রোসি বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমার প্রতিবেদনে আমি সবসময়ই স্পষ্ট থেকেছি। দেশটিতে পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো প্রমাণ না মিললেও, অস্ত্র তৈরির উপযোগী প্রচুর পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুত রাখা এবং আমাদের পরিদর্শকদের বাধা দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’ এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি সংক্রান্ত দাবিকে অস্বীকার করেছে ইরান। মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার পক্ষে নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকাই জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের বিরুদ্ধে তার ধর্মীয় অবস্থানকে শেষ পর্যন্ত অটল রাখেন। তিনি আরও বলেন, জেনেভায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময়ই ইরানের মানুষের হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ছিল। উইটকফের দাবি ভুল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার জন্য ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কয়েক দশক ধরে লেগে ছিল। ছবি: সংগৃহীত
খামেনিকে হত্যা: ইরানে রয়েছে ইসরাইলের গুপ্তচর, সঙ্গে সিআইএর আড়ি পাতার তথ্য
মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৪, ২০২৬ 0

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার জন্য ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কয়েক দশক ধরে লেগে ছিল। ছয় মাস ধরে এ জন্য তাদের প্রযুক্তিগত ও জনবল সহায়তা দেয় সিআইএসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ গোয়েন্দা এবং কর্মকর্তাদের মতে, ইরানি শাসনব্যবস্থাকে নির্মূল করার লক্ষ্যে শনিবার চূড়ান্ত ওই অভিযান চালিয়েছিল তারা।     ইসরাইলের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, তেহরানের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হওয়া ‘ইরানের শীর্ষস্থানীয় সাতজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ এবং খামেনির পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের প্রায় এক ডজন সদস্য এই হামলায় নিহত হন। মাত্র ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় একই সময়ে চালানো একাধিক হামলায় খামেনিসহ তাদের হত্যা করা হয়। এ ছাড়া এই হামলায় ইরানের আরও ৪০ জন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হন।    তেহরানের শাসকগোষ্ঠীর পতনের লক্ষ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যে বিমান হামলা শুরু করেছে, তার সূচনা করা হয়েছে ৮৬ বছর বয়সি দেশটির শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে এক বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।   কিছু বিশেষজ্ঞ ও প্রবীণ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সম্ভাব্য কৌশলগত একটি ভুল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে আরও প্রবল প্রতিপক্ষের উত্থান ঘটতে পারে।     গোয়েন্দা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ইসরাইলি বিশ্লেষক ও লেখক ইয়োসি মেলম্যান বলেন, সমস্যা হলো, ইসরাইল গুপ্তহত্যার প্রেমে মগ্ন এবং আমরা কখনোই শিখিনি যে এটি কোনো সমাধান নয়। আমরা হামাসের সব নেতাকে হত্যা করেছি। কিন্তু তারা এখনো টিকে আছে। হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। নেতাদের শূন্যস্থান সব সময়ই পূরণ হয়ে যায়।   বিদেশের মাটিতে গুপ্তহত্যা চালানোর ক্ষেত্রে ইসরাইলের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে এর আগে কখনোই তারা কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করেনি।      ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান আমোস ইয়াদলিন এই হামলাকে ‘কৌশলগত ও অভিযানগত এক বিশাল চমক’ বলেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সাধারণ ধারণা ছিল, জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সূচনা করা সেই আকস্মিক হামলার মতোই ইসরাইল হয়তো রাতের আঁধারে হামলা চালাবে।    হামলার সময় শনিবার সকাল বেছে নেওয়া হয়েছিল সিআই এজেন্টদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। সে সময় তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে নেতৃত্বস্থানীয় একজনের কার্যালয় চত্বরে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খামেনি ঠিক কখন ওই স্থানে থাকবেন এবং বৈঠকের সময় সম্পর্কে সিআইএ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের জানিয়েছিল।   ইসরাইলি গুপ্তচরেরাও অনেক বছর ধরে খামেনির ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছিল। তারা তার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড, পরিবারের সদস্য, সহযোগী, মিত্র এবং তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে অত্যন্ত নিখুঁত ও বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে নথি তৈরি করেছিল।   সিআইএর সাবেক একজন কর্মকর্তা বলেন, এটি একটি বিশাল জিগস পাজলের মতো। আপনি তথ্যের এই ছোট ছোট টুকরোগুলো এক জায়গায় মেলাবেন। যেখানে আপনার কাছে (নির্ভরযোগ্য তথ্য) থাকবে না, সেখানে আরও গভীরভাবে খুঁজবেন। এতে সবকিছুই থাকে: কীভাবে তারা খাবার সংগ্রহ করে, তাদের ফেলে দেওয়া আবর্জনার কী হয়।   সিআইএর সাবেক ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে তথ্য ও উপাত্তের এত বেশি স্তর রয়েছে যে কেউই কোনো না কোনো সূত্র রেখে যাওয়া ছাড়া থাকতে পারে না। আপনি যা-ই করেন না কেন, তার একটা ছাপ থেকে যায়।   ইরান নিয়ে কাজ করে আসা সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের বিশ্লেষক রুয়েল গেরেখ্ত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এই অভিযানে বিশাল প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে এসেছিল। তবে মূলত ইসরাইলই মাঠপর্যায়ে এমন এক গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল, যারা সরাসরি মানুষের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করতে এবং ইরানের অভ্যন্তরে গোপন অভিযান পরিচালনায় সক্ষম ছিল।    গেরেখ্ত আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃতদেহের ছবি দেখানো হয়েছে বলে ইসরাইলি গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে, তা বিশ্বাসযোগ্য।      ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কয়েক দশক ধরে ইরানের ওপর নজর রাখছে এবং সেখানে তথ্যদাতা, গুপ্তচর ও লজিস্টিকসের এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই নেটওয়ার্কের সহায়তায় তারা এর আগে ইরানে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দূরনিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান দিয়ে প্রত্যন্ত রাস্তায় চলন্ত গাড়িতে থাকা ইরানের এক শীর্ষস্থানীয় পরমাণুবিজ্ঞানীকে হত্যা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল কম্পিউটারগুলোতে ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেওয়া। এ ছাড়া পারমাণবিক নথির আর্কাইভ চুরির ঘটনাও রয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালে তেহরানের একটি সরকারি গেস্টহাউসে হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়ার কক্ষে বোমা রেখে তাকে গুপ্তহত্যা করা হয়।   গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি গুপ্তচরেরা ইরানের পারমাণবিক বিজ্ঞানী, গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের বাড়িঘর শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে চালানো আকস্মিক হামলার প্রথম ঢেউয়েই ডজনখানেক কর্মকর্তাকে হত্যা করে তারা।   ইসরাইলি বিশ্লেষক ও লেখক ইয়োসি মেলম্যান বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে মোসাদ তাদের কৌশলে এক বড় পরিবর্তন আনে। তারা ইরানের ভেতর থেকেই স্থানীয় চর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাদের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও উচ্চমানের প্রশিক্ষণ দেয়।    ২০২১ সাল থেকে মোসাদের নেতৃত্ব দিয়ে আসা ডেভিড বার্নিয়া গুপ্তচরদের নিয়ে একটি ‘ফরেইন লিজিয়ন (বিদেশি বাহিনী)’-এর জন্য বিশেষ বিভাগ তৈরি করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিশনে তাদের মোতায়েন করা হয়।   মেলম্যানের মতে, ইরানে এ ধরনের চর নিয়োগ করা অনেক সহজ ছিল। কারণ, সেখানকার অনেকেই ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধী।   ইসরাইল গত বছরই খামেনিকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প আঞ্চলিক সংঘাত বৃদ্ধির ঝুঁকি নিতে এবং কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার বিষয়ে মিত্রদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে তাতে তখন সায় দেননি। তবে মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর গত বছরের সেই সংক্ষিপ্ত সংঘাত শেষ হয়।    ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এর পর থেকে ইরান নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অত্যন্ত গভীর সহযোগিতা’ গড়ে উঠেছে।   গত সপ্তাহে ইরানের মাঠপর্যায়ে থাকা মোসাদের নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আড়ি পাতা থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় করা হয়েছিল।    সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা গেরেখ্ত বলেন, খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে তারা যদি বিভিন্ন পদ্ধতির আশ্রয় নিয়ে থাকে, তবে আমি মোটেই অবাক হব না। ইরানিরা বেশ অগোছালো স্বভাবের। তারা ফোন ব্যবহার করতে খুব ভালোবাসে। তাই হতে পারে সর্বোচ্চ নেতার কাছে অনেকগুলো বার্নার ফোন (অস্থায়ীভাবে ব্যবহারযোগ্য ফোন) ছিল। কিন্তু মূল বিষয় হলো, তিনি নিয়মিত কাদের ফোন করছিলেন, সেটি শনাক্ত করা।   শেষমেশ, সব তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে একেবারে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে সেই সংক্ষিপ্ত, অথচ প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক এক মিনিটের অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়।    মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে জেরুজালেম সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন অ্যাফেয়ার্সের গবেষক ওদেদ আইলাম বলেন, মাত্র ৬০ সেকেন্ড। অভিযানে ঠিক এই সময়টুকুই লেগেছে। তবে এর পেছনে রয়েছে বছরের পর বছরের প্রস্তুতি।    তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র আর কেবল ট্যাংক বা বিমান দিয়ে সংজ্ঞায়িত হয় না। এটি এখন তথ্য, অনুপ্রবেশ, আস্থা ও উপযুক্ত সময়ের ওপর নির্ভর করে। এক মিনিট পুরো একটি অঞ্চল বদলে দিতে পারে।   তবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা একটি ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা গেরেখ্ত।    তিনি বলেন, আমার মনে হয় কাজটি ঠিক হয়নি। নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি না—মানুষ হত্যায় আমার কোনো সমস্যা নেই, আমি অনেককেই হত্যা করেছি—কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ভুল ছিল। আমি জানি, আপনি যখন কারও নেতাকে সরিয়ে দেন, তখন আপনি মূলত সমস্যার সমাধান করেন না। বরং আপনি নতুন একটি সমস্যার জন্ম দেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি