সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
দক্ষিণী সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে মধুমিতা সরকারের

বিনোদন জগতের সিনেমার পর্দায় এখন রীতিমতো উড়ছেন কলকাতার লাস্যময়ী অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। সম্প্রতি এমডি ইকবাল পরিচালিত ‘গুলশানের চামেলী’ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে মধুমিতা সরকারকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এর পরই দেশের শোবিজ অঙ্গনে আলোচনায় উঠে আসেন কলকাতার এই অভিনেত্রী।   টালিউড ও ছোটপর্দা মাতিয়ে তিনি এবার দুই বাংলা তো বটেই, এমনকি দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতেও নিজের ডানা মেলছেন। আর তার মধ্যেই এদিন প্রকাশ্যে এলো মধুমিতা সরকারের নতুন তেলেগু ছবির ঝলক। ভারতীয় গণমাধ্যম আজকালের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।   সম্প্রতি ‘গুলশানের চামেলী’ দিয়ে ঢালিউডে পা রেখেছেন মধুমিতা। জীবনের প্রথম বাংলাদেশি এই প্রজেক্টের শুটিংয়ের জন্য তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। আর এর মধ্যেই এলো আরও এক দুর্দান্ত খবর—খুব শিগগির তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে অভিষেক হতে যাচ্ছে এই অভিনেত্রীর!   প্রকাশ্যে এসেছে মধুমিতার নতুন তেলেগু সিনেমা ‘মায়া লেডি’-র টিজার। ছবিতে তার বিপরীতে রয়েছেন ‘বাহুবলী’ খ্যাত তারকা রাকেশ ভারে। প্রশঙ্কর পরিচালিত এ সিনেমাটি মূলত রোমান্টিক-সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার, যেখানে টানটান উত্তেজনা ও অ্যাকশনের পাশাপাশি থাকছে ভরপুর রোমান্স। জানা গেছে, চলতি বছরের বর্ষাতেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে আলোচিত এই সিনেমা।   ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ কিংবা ‘কুসুম দোলা’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে একের পর এক চমক দেখিয়েছেন মধুমিতা। এবার ঢাকাই সিনেমা আর দক্ষিণী অ্যাকশন থ্রিলারে একযোগে বাজিমাত করতে প্রস্তুত তিনি। সব মিলিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের চোখ এখন এই লাস্যময়ী সুন্দরীর নতুন যাত্রার দিকে!

২ ঘন্টা আগে
প্রীতি জিনতার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, মুখ খুললেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার

দুই হাজার সালের শুরুর দিকে বলিউড অভিনেত্রী ও ক্রিকেটারদের মধ্যে গোপনে প্রেমের খবর প্রায়ই বিনোদন দুনিয়ায় ভেসে বেড়াত। তেমনই এক বহুল আলোচিত গুঞ্জন ছিল অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার ব্রেট লি এবং বলিউড তারকা প্রীতি জিনতাকে নিয়ে।   প্রতিবার আইপিএল মৌসুম শুরু হলেই বলিউড ও ক্রিকেটের এই দুই তারকাকে জড়িয়ে প্রেমের জল্পনা নতুন মাত্রা পেত। অনেক শোরগোল পড়লেও মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন অসি তারকা। এতদিন নীরব থাকলেও অবশেষে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন ব্রেট লি। এক সাক্ষাৎকারে সব গুঞ্জনে পানি ঢেলে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রাক্তন এই তারকা।   সম্প্রতি বম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেট লি স্পষ্ট জানান, তিনি কখনোই কোনো বলিউড অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রেম করেননি। প্রীতি জিনতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারা ওই সময় যেমন ভালো বন্ধু ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন। তৎকালীন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব দলের মালিক প্রীতিকে একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমতি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি জানান, তার প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সত্য জানা ছিল বলেই এসব খবরে তিনি কখনো কান দেননি এবং কোনো কিছুকেই নিজের মানসিক শান্তিতে প্রভাব ফেলতে দেননি। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস   ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের দিকে ব্রেট লি যখন পাঞ্জাব দলে খেলতেন, তখন প্রীতির সঙ্গে তাকে একাধিকবার দেখা যায়। মুম্বাইয়ের একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গ দেখা যাওয়ার পর তাদের গোপনে প্রেম করার গুঞ্জন তুঙ্গে ওঠে। অবশ্য সে সময় প্রীতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, প্রতি বছর ব্রেট লির সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন এখন বেশ পুরোনো খবর। তারা শুধুই ভালো বন্ধু।   ব্রেট লি ব্যক্তিগত জীবনে পরবর্তীকালে লানা অ্যান্ডারসনকে বিয়ে করে দুই সন্তানের জনক হন। অন্যদিকে, প্রীতি জিনতা জিন গুডএনাফকে বিয়ে করে সুখে সংসার করছেন।   প্রীতি জিনতাকে দীর্ঘদিন পর্দায় না দেখা গেলেও শিগগির তিনি বড় পর্দায় ফিরছেন। বেশ কিছু বছর বিরতির পর রাজকুমার সন্তোষীর নতুন সিনেমা ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’-এর মাধ্যমে তার সিনেপর্দায় প্রত্যাবর্তন ঘটছে। এই ছবিতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন সানি দেওল ও শাবানা আজমি। এ ছাড়া কুণাল খেমুর পরিচালনায় ‘ভাইব’ নামের আরেকটি নতুন চলচ্চিত্রেও প্রীতিকে দেখা যাবে।   সব মিলিয়ে প্রেমের পুরোনো অতীত আর ভিত্তিহীন গুঞ্জন পেছনে ফেলে নিজের কাজ ও পরিবার নিয়েই আপাতত ব্যস্ত এই বলিউড অভিনেত্রী।

২ ঘন্টা আগে
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা প্যাক্সসন গতকাল সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেডারেল অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ার হুমকি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভীষণ বৈরী সময় পার করার পর তিনি এ ঘোষণা দিলেন।   রোড আইল্যান্ডের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক খোলাচিঠিতে প্যাক্সসন লিখেছেন, তিনি আসলে এক বছর আগেই পদত্যাগের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও কার্যক্রম হুমকির মুখে ফেলা ফেডারেল অর্থায়ন স্থগিতের সংকট মোকাবিলা করার জন্য তিনি আরও এক বছর দায়িত্বে থাকেন।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় ছিল তাঁর প্রশাসনের প্রথম দিককার নিশানাগুলোর একটি। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিরোধিতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া ছাত্রবিক্ষোভকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি বৈচিত্র্যনীতি ও আরও বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।   ওই বিক্ষোভে কয়েকটি ইহুদি সংগঠনও শামিল হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের সমালোচনাকে ভুলভাবে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে চিহ্নিত করছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকেও চরমপন্থার সমর্থন হিসেবে উপস্থাপন করছে।   ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ৫১ কোটি ডলার ফেডারেল অনুদান আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্যাক্সসন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে সে অর্থায়ন পুনর্বহাল হয়। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়কে ইহুদি শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাসহ পুরো ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়ন করাতে এবং তা উন্নত করার জন্য সুপারিশ উপস্থাপন করতে সম্মত হতে হয়।   তবে একই বছরের অক্টোবরে প্যাক্সসন ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। প্রস্তাবটি ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৯টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা, শুধু জন্মগত জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে লৈঙ্গিক পরিচয়কে সংজ্ঞায়িত করা এবং শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়ায় জাতি বা লিঙ্গকে বিবেচনার বাইরে রাখা হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ফেডারেল অর্থায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।   প্যাক্সসন সে সময় বলেছিলেন, ওই প্রস্তাব মেনে নিলে শিক্ষার স্বাধীনতা সীমিত হবে এবং ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন হবে।   গতকাল প্রকাশিত বিদায়ী চিঠিতে প্যাক্সসন লিখেছেন, ‘যদিও ফেডারেল নীতিগুলো এখনো দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে, তবু ব্রাউন অগ্রণী গবেষণার জন্য যে বড় অঙ্কের অনুদান পাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের পথ তৈরি করবে।’   দায়িত্ব পালনকালে প্যাক্সসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কঠিন ও মর্মান্তিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে।   গত ডিসেম্বরে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এতে দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং ৯ জন আহত হন। পরে হামলাকারী ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একজন অধ্যাপককে হত্যা করেন। ওই হামলাকারী নিজেও নিজেকে গুলি করেন এবং মারা যান।   এরপর ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সতর্কতা এবং ক্যাম্পাসের নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে তদন্ত ও পর্যালোচনা শুরু করে।

২ ঘন্টা আগে
মান নিয়ে আপত্তি, ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

ভারত থেকে আমদানিকৃত চালের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা ফেরত পাঠানোর ঘটনায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় ১১,৫০০ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চালের একটি সম্পূর্ণ চালান মানসম্মত না হওয়ায় গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   নিয়ম অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর চালের এই চালানটি প্রাথমিক পরীক্ষায় খাওয়ার উপযোগী বলে ছাড়পত্র পেলেও, পরবর্তীতে বিস্তারিত পরীক্ষায় দেখা যায় যে চালের মান নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। ফলে চালানের মাত্র ৩,৫০০ মেট্রিক টন খালাস করার পর বাকি অংশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং পুরো চালানটিই ভারতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।    আন্তর্জাতিক একটি টেন্ডারের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানির স্টক থেকে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে এই চালগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। বাণিজ্য খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগত জটিলতা বা সিদ্ধান্তহীনতার কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: দ্য হিন্দু।

২ ঘন্টা আগে
রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতীয়
জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই সফল জুলাই আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশে জুলাই আগস্ট মাসে যে আন্দোলন হয়েছিল তা সম্পূর্ণভাবে ছিল জনগণের আন্দোলন। জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে। জনগণ যখন সম্পূর্ণভাবে এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে, তখনই আন্দোলন সফল হয়েছে।’   তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান থেকে পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছি এই জুলাই আন্দোলনের সফলতার ক্রেডিট এই দেশের সর্বস্তরের জনগণের। এর কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি একক কোনো রাজনৈতিক দলের এটি কোনো ক্রেডিট নয়। বিগত ১৭ বছর এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মী, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী আরো অনেকগুলো রাজনৈতিক দল সবাই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিল। মাঠ ছেড়ে আমরা কখনো চলে যায়নি। আমরা কখনোই জনগণকে একা ফেলে মাঠ ছেড়ে চলে যায়নি।’   মঙ্গলবার বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ-এ (কেআইবি) গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক কথা হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রামের কথা হয়েছে, তর্ক-বিতর্ক হয়েছে এখন সময় হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন করার। এখন সময় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। এখন সময় হচ্ছে ধৈর্য সহকারে ঠান্ডা মাথায় যারা ষড়যন্ত্র করতে চায় তাদের ষড়যন্ত্রের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার। জনগণকে সতর্ক করা এবং ঠিক একইভাবে আমরা যেই পরিকল্পনা জনগণের সামনে দিয়েছি, আমরা জনগণের জন্য যা করতে চাইছি, দেশকে পুনর্গঠনের জন্য আমরা যা করতে চাইছি-সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা। জনগণের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করা।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৪, ২০২৬

ফাইল ছবি
সারাদেশে আরও পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

আগামী পাঁচ দিন সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগে মাঝারির পাশাপাশি ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই পাঁচ দিন পর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।   মঙ্গলবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।    আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।   আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।   আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।   আগামী শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।   আগামী শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসীবাহী নৌকায় আগুন, ১৫৭ জনকে উদ্ধার

ইংলিশ চ্যানেলে যুক্তরাজ্যগামী অভিবাসীবাহী একটি নৌকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্ধার অভিযানে নৌকাটিতে থাকা ১৫৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।   ফরাসি চ্যানেল ও উত্তর সাগর সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে চ্যানেল অতিক্রমের সময় নৌকাটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। পরে উদ্ধারকারীরা যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে বুলোন-সুর-মের বন্দরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি সোমবার রাতে ফ্রান্স থেকে যাত্রা শুরু করে। অভিবাসীরা ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।   ফরাসি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতেই নৌকাটিতে থাকা পাঁচজনের জরুরি উদ্ধারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তবে বাকি যাত্রীরা সে সময় ফরাসি টহল নৌকাগুলোর সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান।   এক বিবৃতিতে বলা হয়, যাত্রীরা যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন এবং চরম বিপদ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ফরাসি জরুরি পরিষেবার সহায়তা গ্রহণ করেননি।   কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, চ্যানেল পারাপারে ব্যবহৃত ছোট নৌকাগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে উদ্ধারকারীরা শুরুতে সীমিত পর্যবেক্ষণে ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ইঞ্জিনে আগুন লাগার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।   উদ্ধার অভিযানে ফরাসি ও ব্রিটিশ উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে অংশ নেয়। আরএনএলআই ইস্টবোর্ন লাইফবোট এবং ইউকে বর্ডার ফোর্সের বিএসসি কন্টেন্ডার ও বিএসসি কারেজিয়াস নামের জাহাজও অভিযানে অংশ নেয়।   ফরাসি নৌযানগুলো ১০৩ জনকে এবং ব্রিটিশ উদ্ধারকারী নৌযানগুলো ৫৪ জনকে উদ্ধার করে।   বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া সবাইকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বুলোন-সুর-মেরে নেওয়া হচ্ছে।   ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।

সংগৃহীত ছবি
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আমদানি শুল্কনীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। সুপ্রিম কোর্ট গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী আমদানি কর বাতিল করার পর তা ভিন্ন অজুহাতে পুনরুজ্জীবিত করার অভিযোগে সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই যৌথ মামলা দায়ের করা হয়।    মূলত জোরপূর্বক শ্রম বা বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানিতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে ট্রাম্প প্রশাসন গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বের ৫৯টি দেশের ওপর দুই অঙ্কের শুল্ক আরোপ করে। সুপ্রিম কোর্টে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্প যে সাময়িক শুল্কনীতি চালু করেছিলেন, সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুহূর্তেই নতুন এই শুল্ক কার্যকর করা হয়।   এই মামলা প্রসঙ্গে নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টে পরাজিত হওয়ার পর প্রশাসন নতুন করে শুল্কের বোঝা চাপিয়ে আবারও আমাদের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অবৈধভাবে কর বাড়ানোর চেষ্টা করছে।    ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে বেআইনি ও অযৌক্তিক অভিহিত করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নিউইয়র্ক, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়, কেনটাকি, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড, মেইন, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওরেগন, পেনসিলভেনিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ভার্মন্ট, ওয়াশিংটন এবং উইসকনসিন রাজ্য।   মার্কিন উৎপাদন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের মুক্ত বাণিজ্য ও নিম্ন শুল্কনীতি বাতিল করেন। ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতিকে ‌‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রায় প্রতিটি দেশের আমদানির ওপর তিনি দুই অঙ্কের শুল্ক বসান। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে আইইইপিএ আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের অধিকার দেয় না। আদালতের এই আদেশের ফলে আমদানিকারকদের আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। পরবর্তীতে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী সাময়িক ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করলেও গত ২৪ জুলাই মধ্যরাতে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।   পরবর্তীতে মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ ধারার অধীনে অপেক্ষাকৃত শক্ত আইনি কাঠামোর শুল্কনীতি বেছে নেয়। এই ধারাটি প্রেসিডেন্টকে অন্যায্য বাণিজ্যনীতিতে অভিযুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা প্রদান করে। এর আগে প্রথম মেয়াদে চীনে বড় অঙ্কের শুল্ক বসাতে ট্রাম্প এই ধারাটি ব্যবহার করেছিলেন যা আদালতেও টিকে যায়। নতুন এই ‘সেকশন ৩০১’ ব্যবহারের অধীনে ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা মোট আমদানির ৯৯ শতাংশ দেশকে প্রভাবিত করে।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন অন্যায্য আইন ও চর্চা দূর করতে নিজের আইনি কর্তৃত্ব ব্যবহার করছে দেশ। কোনো বিদেশি রাষ্ট্র যদি বাধ্যতামূলক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তবে তা মার্কিন অর্থনীতি ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি নিরসন করা জরুরি। সেকশন ৩০১ ভিত্তিক শুল্ক প্রথম মেয়াদ থেকেই একটি আইনিভাবে টেকসই অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত এবং এখনো তাই রয়েছে।   অঙ্গরাজ্যগুলোর এই মামলা ছাড়াও গত জুলাই মাসে ‘কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ একই শুল্কের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। উভয় মামলাতেই অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকার প্রতিটি নির্দিষ্ট অর্থনীতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি কিংবা ‘সেকশন ৩০১’ আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে এই শুল্ক কীভাবে উক্ত অন্যায্য চর্চা বন্ধ করবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।    নিউইয়র্ক ল স্কুলের আন্তর্জাতিক আইনকেন্দ্রের সহ-পরিচালক ও আইনের অধ্যাপক ব্যারি অ্যাপলটন জানান, প্রশাসন ভিন্ন ভিন্ন ধারায় একই ধরনের শুল্ক তিনবার চাপানোর চেষ্টা করায় মামলা জটিল রূপ নিয়েছে এবং হুবহু একই কথা বারবার বলায় আদালতে এর পক্ষে সাফাই গাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেকশন ৩০১’ অতীতেও ব্যবহৃত হয়েছে এবং কংগ্রেস এটি তদন্ত, আলোচনা ও সরকারি রেকর্ড রাখার সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে তৈরি করেছে। ফলে আদালতে লড়াইটি সরকারের ক্ষমতার বিষয়ে না হয়ে, তারা কংগ্রেসের নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে ছিল কি না সেটির ওপরই নির্ভর করবে। সূত্র: এপি

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দুটি সার্ভিস লেন খুলছে আগামী সপ্তাহে

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার অংশের দুটি সার্ভিস লেন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম।   তিনি জানান, সার্ভিস লেন চালু হওয়ার পর নিচের বিদ্যমান সড়ক বন্ধ করে সেখানে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ভায়াডাক্ট নির্মাণকাজ শুরু হবে। আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর পর্যন্ত একপাশের সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে এবং অপর পাশের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ২০২৮ সালের জুনে চালুর লক্ষ্য: ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি কাওলা থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো ও বাইপাইল হয়ে সাভারের শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দ্রুতগতির সড়ক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   প্রকল্প পরিচালক বলেন, ২০২৮ সালের জুনে পুরো এক্সপ্রেসওয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগোচ্ছে।   ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৯,৫০০ কোটি টাকা: সম্প্রতি একনেক সভায় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকল্প ব্যয় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ৯ হাজার ৪৯২ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা, যা প্রায় ৫৪ দশমিক ০৮ শতাংশ বেশি।   শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ ডলারের মূল্যবৃদ্ধি। এর ফলে নির্মাণ ব্যয়ের পাশাপাশি ভ্যাট, ট্যাক্স ও কাস্টমস ডিউটির পরিমাণও বেড়েছে।   ব্যয় বৃদ্ধির খাতসমূহ:  ডলারের মূল্যবৃদ্ধি: ৩,৭৩৬.৬১ কোটি টাকা ভ্যাট ও ট্যাক্স বৃদ্ধি: ১,০৩০.৩৬ কোটি টাকা কাস্টমস ডিউটি: ৩৯০.৭৩ কোটি টাকা নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি: ৮১০.২৮ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণ: ৭৪৭.৫৫ কোটি টাকা পরামর্শক সেবা: ২৫৭.৯ কোটি টাকা নতুন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ   দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তিনটি নতুন অঙ্গ:    বাইপাইল তিনস্তরবিশিষ্ট ইন্টারসেকশন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের প্রবেশ ও প্রস্থান র‌্যাম্প নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-১ (পাতাল মেট্রোরেল) এর সঙ্গে সংযোগ   এ ছাড়া তুরাগ নদীর শ্রেণি পরিবর্তনের কারণে তিনটি সেতুর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স পরিবর্তন এবং কাওলা রেলক্রসিংয়ের ক্লিয়ারেন্স পরিবর্তনের ফলে অতিরিক্ত ১,৭৭০.৮৪ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে।   অগ্রগতি ৭১.৫ শতাংশ: প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ৭১.৫০ শতাংশ এবং ভৌত নির্মাণ অগ্রগতি প্রায় ৬৫ শতাংশ।   এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সাভার, আশুলিয়া, নবীনগর ও ইপিজেড এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।   বিশেষজ্ঞের মতামত: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে একই সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে হলে দুই প্রকল্পের কাজ সমন্বিতভাবে শেষ করা জরুরি। তাহলেই উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গমুখী যানবাহন ঢাকার ভেতরে প্রবেশ না করে বিকল্প উড়ালপথ ব্যবহার করতে পারবে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ
মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা প্যাক্সসন গতকাল সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেডারেল অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ার হুমকি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভীষণ বৈরী সময় পার করার পর তিনি এ ঘোষণা দিলেন।   রোড আইল্যান্ডের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক খোলাচিঠিতে প্যাক্সসন লিখেছেন, তিনি আসলে এক বছর আগেই পদত্যাগের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও কার্যক্রম হুমকির মুখে ফেলা ফেডারেল অর্থায়ন স্থগিতের সংকট মোকাবিলা করার জন্য তিনি আরও এক বছর দায়িত্বে থাকেন।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় ছিল তাঁর প্রশাসনের প্রথম দিককার নিশানাগুলোর একটি। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিরোধিতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া ছাত্রবিক্ষোভকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি বৈচিত্র্যনীতি ও আরও বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।   ওই বিক্ষোভে কয়েকটি ইহুদি সংগঠনও শামিল হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের সমালোচনাকে ভুলভাবে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে চিহ্নিত করছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকেও চরমপন্থার সমর্থন হিসেবে উপস্থাপন করছে।   ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ৫১ কোটি ডলার ফেডারেল অনুদান আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্যাক্সসন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে সে অর্থায়ন পুনর্বহাল হয়। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়কে ইহুদি শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাসহ পুরো ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়ন করাতে এবং তা উন্নত করার জন্য সুপারিশ উপস্থাপন করতে সম্মত হতে হয়।   তবে একই বছরের অক্টোবরে প্যাক্সসন ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। প্রস্তাবটি ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৯টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা, শুধু জন্মগত জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে লৈঙ্গিক পরিচয়কে সংজ্ঞায়িত করা এবং শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়ায় জাতি বা লিঙ্গকে বিবেচনার বাইরে রাখা হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ফেডারেল অর্থায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।   প্যাক্সসন সে সময় বলেছিলেন, ওই প্রস্তাব মেনে নিলে শিক্ষার স্বাধীনতা সীমিত হবে এবং ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন হবে।   গতকাল প্রকাশিত বিদায়ী চিঠিতে প্যাক্সসন লিখেছেন, ‘যদিও ফেডারেল নীতিগুলো এখনো দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে, তবু ব্রাউন অগ্রণী গবেষণার জন্য যে বড় অঙ্কের অনুদান পাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের পথ তৈরি করবে।’   দায়িত্ব পালনকালে প্যাক্সসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কঠিন ও মর্মান্তিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে।   গত ডিসেম্বরে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এতে দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং ৯ জন আহত হন। পরে হামলাকারী ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একজন অধ্যাপককে হত্যা করেন। ওই হামলাকারী নিজেও নিজেকে গুলি করেন এবং মারা যান।   এরপর ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সতর্কতা এবং ক্যাম্পাসের নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে তদন্ত ও পর্যালোচনা শুরু করে।

ছবি: সংগৃহীত
মান নিয়ে আপত্তি, ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ
মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৪, ২০২৬

ভারত থেকে আমদানিকৃত চালের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা ফেরত পাঠানোর ঘটনায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় ১১,৫০০ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চালের একটি সম্পূর্ণ চালান মানসম্মত না হওয়ায় গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   নিয়ম অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর চালের এই চালানটি প্রাথমিক পরীক্ষায় খাওয়ার উপযোগী বলে ছাড়পত্র পেলেও, পরবর্তীতে বিস্তারিত পরীক্ষায় দেখা যায় যে চালের মান নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। ফলে চালানের মাত্র ৩,৫০০ মেট্রিক টন খালাস করার পর বাকি অংশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং পুরো চালানটিই ভারতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।    আন্তর্জাতিক একটি টেন্ডারের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানির স্টক থেকে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে এই চালগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। বাণিজ্য খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগত জটিলতা বা সিদ্ধান্তহীনতার কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: দ্য হিন্দু।

সংগৃহীত ছবি
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা
মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৪, ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আমদানি শুল্কনীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। সুপ্রিম কোর্ট গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী আমদানি কর বাতিল করার পর তা ভিন্ন অজুহাতে পুনরুজ্জীবিত করার অভিযোগে সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই যৌথ মামলা দায়ের করা হয়।    মূলত জোরপূর্বক শ্রম বা বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানিতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে ট্রাম্প প্রশাসন গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বের ৫৯টি দেশের ওপর দুই অঙ্কের শুল্ক আরোপ করে। সুপ্রিম কোর্টে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্প যে সাময়িক শুল্কনীতি চালু করেছিলেন, সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুহূর্তেই নতুন এই শুল্ক কার্যকর করা হয়।   এই মামলা প্রসঙ্গে নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টে পরাজিত হওয়ার পর প্রশাসন নতুন করে শুল্কের বোঝা চাপিয়ে আবারও আমাদের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অবৈধভাবে কর বাড়ানোর চেষ্টা করছে।    ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে বেআইনি ও অযৌক্তিক অভিহিত করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নিউইয়র্ক, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়, কেনটাকি, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড, মেইন, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওরেগন, পেনসিলভেনিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ভার্মন্ট, ওয়াশিংটন এবং উইসকনসিন রাজ্য।   মার্কিন উৎপাদন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের মুক্ত বাণিজ্য ও নিম্ন শুল্কনীতি বাতিল করেন। ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতিকে ‌‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রায় প্রতিটি দেশের আমদানির ওপর তিনি দুই অঙ্কের শুল্ক বসান। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে আইইইপিএ আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের অধিকার দেয় না। আদালতের এই আদেশের ফলে আমদানিকারকদের আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। পরবর্তীতে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী সাময়িক ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করলেও গত ২৪ জুলাই মধ্যরাতে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।   পরবর্তীতে মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ ধারার অধীনে অপেক্ষাকৃত শক্ত আইনি কাঠামোর শুল্কনীতি বেছে নেয়। এই ধারাটি প্রেসিডেন্টকে অন্যায্য বাণিজ্যনীতিতে অভিযুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা প্রদান করে। এর আগে প্রথম মেয়াদে চীনে বড় অঙ্কের শুল্ক বসাতে ট্রাম্প এই ধারাটি ব্যবহার করেছিলেন যা আদালতেও টিকে যায়। নতুন এই ‘সেকশন ৩০১’ ব্যবহারের অধীনে ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা মোট আমদানির ৯৯ শতাংশ দেশকে প্রভাবিত করে।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন অন্যায্য আইন ও চর্চা দূর করতে নিজের আইনি কর্তৃত্ব ব্যবহার করছে দেশ। কোনো বিদেশি রাষ্ট্র যদি বাধ্যতামূলক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তবে তা মার্কিন অর্থনীতি ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি নিরসন করা জরুরি। সেকশন ৩০১ ভিত্তিক শুল্ক প্রথম মেয়াদ থেকেই একটি আইনিভাবে টেকসই অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত এবং এখনো তাই রয়েছে।   অঙ্গরাজ্যগুলোর এই মামলা ছাড়াও গত জুলাই মাসে ‘কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ একই শুল্কের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। উভয় মামলাতেই অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকার প্রতিটি নির্দিষ্ট অর্থনীতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি কিংবা ‘সেকশন ৩০১’ আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে এই শুল্ক কীভাবে উক্ত অন্যায্য চর্চা বন্ধ করবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।    নিউইয়র্ক ল স্কুলের আন্তর্জাতিক আইনকেন্দ্রের সহ-পরিচালক ও আইনের অধ্যাপক ব্যারি অ্যাপলটন জানান, প্রশাসন ভিন্ন ভিন্ন ধারায় একই ধরনের শুল্ক তিনবার চাপানোর চেষ্টা করায় মামলা জটিল রূপ নিয়েছে এবং হুবহু একই কথা বারবার বলায় আদালতে এর পক্ষে সাফাই গাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেকশন ৩০১’ অতীতেও ব্যবহৃত হয়েছে এবং কংগ্রেস এটি তদন্ত, আলোচনা ও সরকারি রেকর্ড রাখার সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে তৈরি করেছে। ফলে আদালতে লড়াইটি সরকারের ক্ষমতার বিষয়ে না হয়ে, তারা কংগ্রেসের নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে ছিল কি না সেটির ওপরই নির্ভর করবে। সূত্র: এপি

ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসীবাহী নৌকায় আগুন, ১৫৭ জনকে উদ্ধার
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬

ইংলিশ চ্যানেলে যুক্তরাজ্যগামী অভিবাসীবাহী একটি নৌকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্ধার অভিযানে নৌকাটিতে থাকা ১৫৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।   ফরাসি চ্যানেল ও উত্তর সাগর সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে চ্যানেল অতিক্রমের সময় নৌকাটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। পরে উদ্ধারকারীরা যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে বুলোন-সুর-মের বন্দরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি সোমবার রাতে ফ্রান্স থেকে যাত্রা শুরু করে। অভিবাসীরা ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।   ফরাসি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতেই নৌকাটিতে থাকা পাঁচজনের জরুরি উদ্ধারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তবে বাকি যাত্রীরা সে সময় ফরাসি টহল নৌকাগুলোর সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান।   এক বিবৃতিতে বলা হয়, যাত্রীরা যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন এবং চরম বিপদ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ফরাসি জরুরি পরিষেবার সহায়তা গ্রহণ করেননি।   কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, চ্যানেল পারাপারে ব্যবহৃত ছোট নৌকাগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে উদ্ধারকারীরা শুরুতে সীমিত পর্যবেক্ষণে ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ইঞ্জিনে আগুন লাগার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।   উদ্ধার অভিযানে ফরাসি ও ব্রিটিশ উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে অংশ নেয়। আরএনএলআই ইস্টবোর্ন লাইফবোট এবং ইউকে বর্ডার ফোর্সের বিএসসি কন্টেন্ডার ও বিএসসি কারেজিয়াস নামের জাহাজও অভিযানে অংশ নেয়।   ফরাসি নৌযানগুলো ১০৩ জনকে এবং ব্রিটিশ উদ্ধারকারী নৌযানগুলো ৫৪ জনকে উদ্ধার করে।   বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া সবাইকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বুলোন-সুর-মেরে নেওয়া হচ্ছে।   ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি