সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা তুরস্কে, নিহত ৪

তুরস্কের অন্যতম বড় শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুর্যোগকে ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া বন্যায় চারজনের প্রাণহানির তথ্যও দিয়েছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলে গত ৪৮ ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু। অতিবৃষ্টির পরই সৃষ্টি হয় ভয়াবহ এই দুর্যোগের।   তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা সিফসি বন্যা নিয়ে বলেছেন, আমরা জনগণকে সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে একইসঙ্গে আমরা ১৯৪২ সালের পর সবচেয়ে বড় বন্যার মোকাবিলা করছি।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ইস্তাম্বুলের সারিয়ার জেলার একটি ব্রিজের নিচে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিসহ চারজনের মৃত্যর খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে একজ বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছেন। সারিয়াতে আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   ইস্তাম্বুল জনসংখ্যার দিক দিয়ে তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর, যেখানে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বসবাস করে। বন্যার পানিতে শহরটির আবাসিক ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু

১ ঘন্টা আগে
পূজামণ্ডপে নারী ও শিশুদের সহায়তায় এসআরবির হেল্প ডেস্ক স্থাপন

শারদীয় দুর্গাপূজায় মণ্ডপে আগত নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপ এলাকায় জরুরি সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন পূজামণ্ডপ ও ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে এসব বলেন তিনি।   আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এসআরবি-১০ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এরই মধ্যে পূজা ঘিরে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশনসহ সর্বমোট প্রায় এক হাজার ৮৪১টি পূজামণ্ডপ এবং এর আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা টিম মোতায়েন করা হয়েছে।’   তিনি জানান, সার্বক্ষণিকভাবে এসআরবি-১০-এর মোট ১৫টি পিকআপ টহল, ২৮টি মোটরসাইকেল টহল এবং সাদা পোশাকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া এসআরবির প্রশিক্ষিত কমান্ডো, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ড্রোন টিম এলাকাভিত্তিক সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, বিশেষ করে পূজামণ্ডপের আশপাশে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। যে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে এবং পূজামণ্ডপসংলগ্ন স্থানে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের দিন নৌ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।   ডিআইজি আসাদুজ্জামান বলেন, এসআরবি-১০-এর গোয়েন্দা শাখা স্থানীয় পূজা কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করছে এবং সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন যে কোনো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এসআরবি-১০-এর সাইবার মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে।   তিনি উল্লেখ করেন, এবারের দুর্গাপূজায় এসআরবি-১০ কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং মানবিক সহায়তা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। পূজামণ্ডপে আগত নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপ এলাকায় জরুরি সেবা দিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসআরবির সদস্যরা নিয়মিতভাবে মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন, দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন ও যে কোনো প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছেন।

১ ঘন্টা আগে
সীতাকুণ্ডে গুলিতে যুবক নিহত, আহত আরও ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তারেক হোসেন বাপ্পি (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাফসির আলম শাওন (২২) নামে আরেক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার বাড়বকুণ্ডের অলিনগরে সাদ্দামের অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।   নিহত তারেক হোসেন বাপ্পি সীতাকুণ্ডের মধ্যম মাহদাবাদ এলাকার কুরবান আলীর বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত আলী আহমদ এবং মায়ের নাম জমিলা খাতুন। আহত তাফসির আলম শাওন একই থানার বাড়বকুণ্ডের অলিনগর এলাকার ইউসুফের নতুন বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবার নাম ইউসুফ।    স্বজনদের বরাতে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক বলেন, উপজেলার অলিনগরে সাদ্দামের অফিসের সামনে এলাকার কয়েকজন দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালালে দুজনেই গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারেক হোসেন বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত তাফসির আলম শাওনকে হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের তিন বিভাগে বৃষ্টির আভাস

দেশের তিন বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে দুই বিভাগে। তবে দেশের বাকি এলাকাগুলোতে আকাশ সাময়িকভাবে মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসটি দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম।   আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।   এ ছাড়া শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী দুই দিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।   এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীতে। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুরে ৩৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
মক্কায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: জানানো হয়নি বাংলাদেশকে, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক’ কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আগে থেকে জানত না বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে ঢাকা।    এরপর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।    ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।   সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য নিশ্চিত করে।   জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।   মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাদের গ্রেফতার করেছিল।    প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ বা বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধান অনুযায়ী আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিচারক এ শাস্তির আদেশ দেন বলে জানানো হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত হয়। এরপর রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ জারি করা হয়।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকরের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।   সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় বাংলাদেশের দুজন ব্যক্তি দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন।    প্রসঙ্গত, কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের পক্ষভুক্ত দেশ বাংলাদেশ ও সৌদি আরব। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেফতার হলে বন্দির অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তার দেশের কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানাতে হয়। একই সঙ্গে বন্দিকে কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ দিতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে ওই দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে খুব দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়। আটক দুই বাংলাদেশির পক্ষে কেউ বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কেন, সেটিও রহস্যজনক।   ওই দুই বাংলাদেশির সৌদি আরবে অবস্থানের ধরন ও মেয়াদ, বিচারপ্রক্রিয়ায় তারা কোনো আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কিনা, কিংবা আপিলের সুযোগ নিয়েছিলেন কিনা, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৬, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখতে হবে, এমন আলোচনা উঠে—এটি জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক। সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য। অতীতে অনেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছেন।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সবাই সমান অধিকারের অধিকারী। সংবিধানে সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, আচার-অনুষ্ঠান পালন ও উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার অধিকার দেওয়া হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। তারপরও কেন পূজার সময় নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে কথা বলতে হয়, তা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক।’   তিনি জানান, পৃথিবীর সব দেশেই কোনো না কোনো ধর্মের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে সব দেশেই কমবেশি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন। নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার স্বীকৃত। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবেও প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকা উচিত।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অতীতে আপনাদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা অনেকেই লুটেছেন। আমরা সেই প্রসঙ্গে যাব না। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আপনারা নিজেরাই বিচার করবেন, কোন সময়ে আপনাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই।’   তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস, রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে। এগুলো মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি। তাই প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর উচিত অন্য ধর্মের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরগুলোতেও দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব মানুষ স্বাধীনভাবে ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে।   বনানী পূজামণ্ডপের আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি, উপাদান ও নকশায় মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। তিনি আয়োজকদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।   ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপের দায়িত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: আইজিপি একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সারা দেশে ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।   আইজিপি বলেন, দায়িত্ব পালনের পরও একটি পক্ষ থেকে পূজার আয়োজন নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, যা দুঃখজনক। যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে সুযোগ নিতে চায়, তারা এমন চেষ্টা করতেই পারে। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

ছবি: সংগৃহীত
নির্মাণাধীন অফিসার্স ক্লাব ভবন থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাবের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভবনের সিঁড়ির পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   অফিসার্স ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করেন মোশাররফ হোসেন। পরে মেয়েকে সামনের সুইমিংপুলে রেখে তিনি পাশের নির্মাণাধীন ভবনে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।   মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বনানীর একটি বাড়িতে বসবাস করতেন।   পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তার বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফেরার পর মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন করা হবে।   এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে ছোট মেয়েকে নিয়ে অফিসার্স ক্লাবের সুইমিংপুলে যান মোশাররফ হোসেন। তার দৃষ্টিশক্তিতে কিছুটা সমস্যা ছিল। তিনি নির্মাণাধীন ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচতলার ফাঁকা অংশে পড়ে যান। সেখানে তার মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে।   ডিসি শেখ জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত করতে না চাওয়ায় মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ছবি: সংগৃহীত
পাথরঘাটায় চাঁদাবাজদের ঠাঁই নেই, কঠোর বার্তা চিফ হুইপের

বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, চাঁদাবাজি করে যারা খাবেন, তাদের কোনো জায়গা নেই পাথরঘাটায়। বিএনপি আপনাদের ‘ফ’ উপহার দিয়েছে, আর আওয়ামী লীগও ‘ফ’ উপহার দিয়েছে। তার মানে—বিএনপির ‘ফ্ল্যাগ’, আর আওয়ামী লীগের ‘ফাঁসি’।    শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।   পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনগণের উদ্দেশে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আপনারা ভালো কাজের ও সততার মূল্যায়ন দিতে জানেন না। আমি রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, বিএফডিসি, পৌরসভা, পল্লী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন করেছি। তারপরও আমার দুঃখ তো থাকতেই পারে। এরপরও আমি এলাকায় আসছি, আপনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি।   তিনি বলেন, আপনারা বলুন তো, আমার নির্বাচনী এলাকায় এমন কোনো উন্নয়ন খাত আছে, যেখানে আমার ছোঁয়া নেই? সব ক্ষেত্রেই আমি উন্নয়ন করেছি। আমি কোনো অসৎ কাজ করেছি বলে আমার মনে হয় না। আমি সৎ জীবন যাপন করেছি। কারও কোনো ক্ষতি করেছি কিনা... আমার মনে পরে না। তারপরও আপনারা আমার সততার মূল্যায়ন দিতে পারেননি।   এলাকার সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, আমার এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাং থাকবে না।   উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং দমন করতে না পারলে তারা এ এলাকায় থাকতে পারবেন না।

ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৫ দিনেই চাকরি হারালেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কেটি জাকারিয়া

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে পাঁচ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন ও রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জাকারিয়াকে পদে থাকা নিয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।   শুক্রবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জাকারিয়াকে তিনি বলেছেন, “সত্যি বলতে, আমি আপনার জায়গায় থাকলে বিষয়টি নিয়ে আবার ভাবতাম।”   ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে ফিরে জাকারিয়ার সঙ্গে তিনি কথা বলবেন এবং সিদ্ধান্ত তার ওপর ছেড়ে দেবেন। তবে এই দায়িত্বের জন্য জাকারিয়ার আদৌ উপযুক্ত কি না, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন।   “আমি তাকে বলেছি, ‘কেটি, আপনার কি এই দায়িত্বের প্রয়োজন আছে? আমার মনে হয় না আপনার এটা প্রয়োজন’।   এর আগে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, জাকারিয়া প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে যাচ্ছেন।   পরে রয়টার্সকে আরেক কর্মকর্তা বলেন, তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফক্স নিউজও জানিয়েছিল, তিনি পদটি ছেড়ে দিচ্ছেন।   গত সোমবার দায়িত্ব শুরু করেন জাকারিয়া। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।   কিন্তু ওই সংবাদ সম্মেলনের পর তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর পর থেকেই তার অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।   জাকারিয়া এর আগে রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে টেলিভিশনে কাজ করেছেন। পাশাপাশি যোগাযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন তিনি।   গত ৯ অক্টোবর তাকে প্রেস সেক্রেটারি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।   ট্রাম্প সে সময় জাকারিয়াকে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর তার আইনজীবী হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাওয়া জাকারিয়া আইনজীবীদের পেশাগত যোগ্যতা নির্ধারণী বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।   পরে ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া স্বীকার করেন, ওই পরীক্ষায় তিনি পাস করেননি।   মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়াকে বেশ স্নায়ুচাপে ভুগতে দেখা যায়। তিনি মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন।   পরে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বললে তা নিয়ে সমালোচনা হয়।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম সংবাদ সম্মেলনের পর ট্রাম্প নিজে জাকারিয়ার পারফরম্যান্সকে তার কয়েকজন উপদেষ্টার মত অতটা খারাপ মনে করেননি। তবে পরের সাক্ষাৎকারগুলো, বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে শন হ্যানিটির সঙ্গে ফক্স নিউজে তার কথোপকথন, এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা দেখে ট্রাম্পের মন বদলে দেয়।   ট্রাম্পের মন্তব্য সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি সিএনএনকে বলেন, চলতি সপ্তাহে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাকারিয়া হয়ত বড় পরিসরে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।   তবে প্রেসিডেন্ট জাকারিয়ার প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন বজায় রেখেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে।   ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদমাধ্যম জাকারিয়ার সঙ্গে ‘অন্যায়’ আচরণ করেছে। তবে একই সঙ্গে স্বীকার করেন, প্রেসিডেন্টের হয়ে কথা বলার দায়িত্বের জন্য হয়ত জাকারিয়া উপযুক্ত নয়।   রয়টার্স লিখেছে,জাকারিয়ার পাঁচ দিনের দায়িত্বকাল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক অ্যান্টনি স্কারামুচির মেয়াদকালের চেয়েও সংক্ষিপ্ত।   ২০১৭ সালে স্কারামুচি ওই পদে ১০ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা তুরস্কে, নিহত ৪
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬

তুরস্কের অন্যতম বড় শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুর্যোগকে ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া বন্যায় চারজনের প্রাণহানির তথ্যও দিয়েছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলে গত ৪৮ ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু। অতিবৃষ্টির পরই সৃষ্টি হয় ভয়াবহ এই দুর্যোগের।   তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা সিফসি বন্যা নিয়ে বলেছেন, আমরা জনগণকে সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে একইসঙ্গে আমরা ১৯৪২ সালের পর সবচেয়ে বড় বন্যার মোকাবিলা করছি।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ইস্তাম্বুলের সারিয়ার জেলার একটি ব্রিজের নিচে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিসহ চারজনের মৃত্যর খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে একজ বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছেন। সারিয়াতে আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   ইস্তাম্বুল জনসংখ্যার দিক দিয়ে তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর, যেখানে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বসবাস করে। বন্যার পানিতে শহরটির আবাসিক ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু

ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৫ দিনেই চাকরি হারালেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কেটি জাকারিয়া
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে পাঁচ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন ও রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জাকারিয়াকে পদে থাকা নিয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।   শুক্রবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জাকারিয়াকে তিনি বলেছেন, “সত্যি বলতে, আমি আপনার জায়গায় থাকলে বিষয়টি নিয়ে আবার ভাবতাম।”   ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে ফিরে জাকারিয়ার সঙ্গে তিনি কথা বলবেন এবং সিদ্ধান্ত তার ওপর ছেড়ে দেবেন। তবে এই দায়িত্বের জন্য জাকারিয়ার আদৌ উপযুক্ত কি না, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন।   “আমি তাকে বলেছি, ‘কেটি, আপনার কি এই দায়িত্বের প্রয়োজন আছে? আমার মনে হয় না আপনার এটা প্রয়োজন’।   এর আগে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, জাকারিয়া প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে যাচ্ছেন।   পরে রয়টার্সকে আরেক কর্মকর্তা বলেন, তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফক্স নিউজও জানিয়েছিল, তিনি পদটি ছেড়ে দিচ্ছেন।   গত সোমবার দায়িত্ব শুরু করেন জাকারিয়া। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।   কিন্তু ওই সংবাদ সম্মেলনের পর তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর পর থেকেই তার অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।   জাকারিয়া এর আগে রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে টেলিভিশনে কাজ করেছেন। পাশাপাশি যোগাযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন তিনি।   গত ৯ অক্টোবর তাকে প্রেস সেক্রেটারি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।   ট্রাম্প সে সময় জাকারিয়াকে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর তার আইনজীবী হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাওয়া জাকারিয়া আইনজীবীদের পেশাগত যোগ্যতা নির্ধারণী বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।   পরে ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া স্বীকার করেন, ওই পরীক্ষায় তিনি পাস করেননি।   মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়াকে বেশ স্নায়ুচাপে ভুগতে দেখা যায়। তিনি মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন।   পরে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বললে তা নিয়ে সমালোচনা হয়।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম সংবাদ সম্মেলনের পর ট্রাম্প নিজে জাকারিয়ার পারফরম্যান্সকে তার কয়েকজন উপদেষ্টার মত অতটা খারাপ মনে করেননি। তবে পরের সাক্ষাৎকারগুলো, বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে শন হ্যানিটির সঙ্গে ফক্স নিউজে তার কথোপকথন, এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা দেখে ট্রাম্পের মন বদলে দেয়।   ট্রাম্পের মন্তব্য সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি সিএনএনকে বলেন, চলতি সপ্তাহে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাকারিয়া হয়ত বড় পরিসরে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।   তবে প্রেসিডেন্ট জাকারিয়ার প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন বজায় রেখেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে।   ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদমাধ্যম জাকারিয়ার সঙ্গে ‘অন্যায়’ আচরণ করেছে। তবে একই সঙ্গে স্বীকার করেন, প্রেসিডেন্টের হয়ে কথা বলার দায়িত্বের জন্য হয়ত জাকারিয়া উপযুক্ত নয়।   রয়টার্স লিখেছে,জাকারিয়ার পাঁচ দিনের দায়িত্বকাল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক অ্যান্টনি স্কারামুচির মেয়াদকালের চেয়েও সংক্ষিপ্ত।   ২০১৭ সালে স্কারামুচি ওই পদে ১০ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত
এবার বিক্ষোভে নামছে থালাপতি বিজয়ের দল
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৬, ২০২৬

ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) ভারতের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র জাতীয় পর্যায়ের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাচ্ছে।    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আয়োজিত বিরোধী জোটের কার্যক্রমে দলটির এই যুক্ত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ‘বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি’ (ভিসিকে) নেতা থল থিরুমাভালাভান সংবাদমাধ্যমকে জানান, সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে ইন্ডিয়া জোটের রাজ্য শাখায় যুক্ত হয়েছে টিভিকে। এরই ধারাবাহিকতায় চেন্নাইয়ে জোটের আয়োজিত বিক্ষোভেও অংশ নেয় দলটি। ভবিষ্যতে জাতীয় স্তরের কর্মসূচিতেও তাদের দেখা যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।   মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে বিরোধীদের একাংশ। তাদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার কারণে বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে। সেই সাথে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণও দাবি করেছে তারা।   ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে টিভিকের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত ৩ অক্টোবর কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে এবং এমডিএমকের মতো দলগুলোর সাথে রাজ্য পর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নেয় টিভিকে। সেখানে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি টিভিকে-কে জোটে স্বাগত জানানো হয়। এরপর চেন্নাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, যা দুই দলের রাজনৈতিক সমঝোতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে অভিনেতা বিজয়ের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করা টিভিকে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি শক্ত বিকল্প হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ইন্ডিয়া জোটের সাথে এই সম্পৃক্ততা দলটির রাজনৈতিক পরিধি আরও বাড়িয়ে দিলেও, জাতীয় রাজনীতিতে এই জোটের সাথে টিভিকের চূড়ান্ত ভূমিকা ঠিক কতদূর বিস্তৃত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।   সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ছবি: সংগৃহীত
বিজেপি কেন ‘সরকার বদলের পাঁয়তারা’ দেখছে, কেন আলোচনায় বাংলাদেশ?
মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৬, ২০২৬

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, তাতে হঠাৎ করেই ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ।   দিল্লিতে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন এবং এর ধরনকে ২০২৪ সালের অগাস্টে ঘটে যাওয়া ‘বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের’ পাঁয়তারা বলে আখ্যায়িত করছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।   এ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা।   বুধবার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ভারতে চলমান আন্দোলনকে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত বলে মন্তব্য করেন আইসা নেতা।   মূলত এর পর থেকেই বিজেপি নেতারা দিল্লির আন্দোলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে আনছেন।   ইতোমধ্যে বিজেপি নেতারা নেহার এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন।   উত্তরপ্রদেশের লখনউতে শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জ্ঞানেশবিরোধী বিক্ষোভকে বিরোধীদের নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা বলে বর্ণনা করেছেন।   দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে বিরোধী দল কংগ্রেস ও তাদের মিত্রদের তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।   রাজনাথের দাবি, বিরোধীরা তরুণদের উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে ‘বাংলাদেশের আদলে’ নৈরাজ্য ও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।   তিনি বলেন, “কেউ প্রকাশ্যে বাংলাদেশকে অনুসরণের কথা বলছেন। কেউ সরকার বদলের চেষ্টার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন। উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা অরাজকতা তৈরি করে সরকার বদল করতে চায়। ঠিক যেমন বাংলাদেশে হয়েছে।”   এর আগে বৃহস্পতিবার বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করেন।   বার্তা সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, “একটি সাক্ষাৎকারে নেহা বোরা বলেছেন যে তিনি বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত এবং বাংলাদেশে যা ঘটেছে ভারতেও তা হওয়া উচিত। এগুলো কেবল নেহা বোরার বক্তব্য নয়, এটি মূলত রাহুল গান্ধীর মনোভাবেরই প্রতিফলন।   “তারা ভারতে বাংলাদেশের মতো জেন-জি আন্দোলন তৈরি করতে চায় এবং তাদের আসল উদ্দেশ্য সরকার পরিবর্তন করা। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ নয়; এটি একটি নৈরাজ্যবাদী পদযাত্রা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা।”   ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত ২ অক্টোবর থেকে দিল্লিতে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।   দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ও তাদের জোট ‘ইনডিয়া’ এ আন্দোলনে তাদের সমর্থন দিয়েছে।   এ আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতারা হঠাৎ কেন ঢালাওভাবে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, নেহা বোরার বক্তব্য ছাড়াও এর পেছনে আরও কারণ আছে কিনা তা নিয়ে শুক্রবার একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে।   সেখানে বলা হয়, এমন এক সময় ভারতের রাজনৈতিক আলোচনা ও বিশ্লেষণে ‘সরকার পরিবর্তন’ শব্দটি মূল প্রতিপাদ্য হয়ে উঠেছে, যখন ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে হাজার হাজার মানুষ দিল্লির রাজপথে নেমে আন্দোলন করছেন।   সিজেপি ও বামপন্থি ছাত্র সংগঠন এবং সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করছে; অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেস ‘ভোট চুরির’ অভিযোগে নিজস্ব রাজনৈতিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।   এই তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই কংগ্রেসের ওপর এক তুমুল রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করছে এবং ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে অগণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।   বিজেপি সতর্ক করে বলেছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেভাবে শেখ হাসিনা সরকারকে ‘উৎখাত’ করা হয়েছিল, ভারতেও ঠিক একই মডেলের পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।   ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, নেহা বোরার বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রশংসার পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণের একটি মন্তব্যও বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণ।   বৃহস্পতিবার সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গণতন্ত্রে সরকার পরিবর্তনের দাবি জানানো কোনও অপরাধ নয়। ভারতে শাসন পরিবর্তন অবশ্যই হবে। আমরা সবাই শাসন পরিবর্তন চাই। এতে কি কোনো সমস্যা আছে?”   ইন্ডিয়া টুডের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, প্রকাশ্যে ‘সরকার পরিবর্তনের’ যৌক্তিকতা সমর্থনের পরই মূলত বিজেপির প্রতিক্রিয়া তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির ভারতের সেনাবাহিনী ও পুলিশকে উদ্দেশ করে দেওয়া এক সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে বিজেপি।   বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র ও সংসদ সদস্য সম্বিত পাত্র বলেছেন, “তার (ধ্রুব রাঠি) চেয়ে বড় দেশবিরোধী আর কেউ হতে পারে না।”   অন্যদিকে রাজনাথ সিংয়ের শুক্রবারের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে ‘জজ্ঞু গোয়েন্দা’ ও ‘শার্লক হোমস’ হিসেবে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার পর নির্বাচনে যেভাবে সরকার পরিবর্তন হয়েছিল, বিরোধী দলও তেমনি গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।”   পবন খেরা স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতে গণতন্ত্রে সরকার কীভাবে পরিবর্তিত হয়? অবশ্যই নির্বাচনের মাধ্যমে। যখনই কোনো বিরোধী দল রাজপথে নামে, সেখানে একটি আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং সরকার পরিবর্তিত হয়। নির্বাচন ছাড়া বিরোধীদের আর কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে?”   ইন্ডিয়া টুডের মতে, দিল্লিতে প্রতিবাদকারীদের ওপর পুলিশি নিপীড়ন, এসআইআর বিতর্কের মধ্যে এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ চরম রূপ নিয়েছে। এমনকি বিজেপির জাতীয় শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এতে ‘বিদেশি শক্তির হাত’ থাকার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।   বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস ও সিজেপি ‘বিদেশি শক্তির’ নির্দেশে কাজ করছে।   ঠিক কী বলেছিলেন প্রশান্ত ভূষণ দিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়াতে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আইসা সভাপতি নেহা বোরা, রাজ্যসভার সংসদ সদস্য কপিল সিব্বল, অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং অন্যান্য নাগরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ।   নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়ন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।   সেখানে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, “এই সরকার বারবার বলে চলেছে, এটি নাকি বিরোধীদের পরিচালিত সরকার পরিবর্তনের নীল নকশা। আমরা তো কেবল এই দেশের নির্বাচনি গণতন্ত্রকে বাঁচানোর আবেদন জানাচ্ছি। কিন্তু এই ধরনের বর্বরতা যদি চলতেই থাকে, তবে নিশ্চিতভাবেই সরকার পরিবর্তন হবে।   “আমরা সবাই তো শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনই চাই। এতে ভুল বা অন্যায়ের কী আছে? সরকার পরিবর্তন প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার, আর সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করা কোনো অপরাধ নয়।”   তার এ বিস্ফোরক মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে গ্রহণ করে বিজেপি দাবি করেছে, সিইসির পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চলমান এই আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য কেবল নির্বাচনি সংস্কার নয়, বরং নরেন্দ্র মোদী সরকারকে উৎখাত করা।   যেভাবে উঠে এল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্যের আগেই ভারতে চলমান আন্দোলনকে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছিল।   ওই আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।   বুধবার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় আইসা সভাপতি নেহা বোরা ২০২৪ সালের বাংলাদেশে শেখ হাসিনা পতনের আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।   ভিডিও বার্তায় নেহা বোরা বলেন, “আজ আমরা ভারতে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা প্রথমে বাংলাদেশে হয়েছিল। আমাদের পথ দেখানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন। আমরা আপনাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাই। আপনাদের পরিচালিত লড়াই থেকে আমরা অনুপ্রেরণা ও শিক্ষা গ্রহণ করছি।”   ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত জুনে দিল্লিতে সিজেপির যে আন্দোলন হয়েছিল সেখানেও অংশ নিয়েছিলেন জেএনইউ শিক্ষার্থী নেহা।   এছাড়া সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে পদযাত্রাও করেছে কংগ্রেস তথা ইনডিয়া জোট, সেখানেও তাকে অংশ নিতে দেখা গেছে।   ফলে নেহার এ বক্তব্য বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বিজেপি। নেহার বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে শেয়ার করেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি।   এই ছাত্রনেতাকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘পোস্টার গার্ল’ আখ্যা দিয়ে ভান্ডারি লেখেন, “নেহা বোরা বলছেন বাংলাদেশ নাকি আমাদের বিপ্লবের পথ দেখিয়েছে! এটা কি সরকার পরিবর্তনের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি নয়? রাহুল গান্ধী এবং তার সঙ্গীরা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকি!”   ইন্ডিয়া টুডে বলছে, নেহা বোরা বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঘটনাকে গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার রক্ষার অনুপ্রেরণা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু বিজেপি সেটিকে অগণতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে শেখ হাসিনাকে হঠানোর কৌশলকে সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো কিছু অভিযোগ, যেখানে দাবি করা হচ্ছে বিরোধীদের আন্দোলনের পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফোর্ড ফাউন্ডেশন এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ জড়িত রয়েছে।   ‘বাংলাদেশি মডেলের’ চক্রান্ত দেখছে বিজেপি ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, বিজেপি মনে করছে প্রশান্ত ভূষণ ও নেহা বোরার বক্তব্যগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সিজেপির আন্দোলন, বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর সংহতি এবং কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’ প্রচারণার একটি বৃহত্তর চক্রান্তের অংশ।   রাজপথে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে মোদী সরকারকে অস্থিতিশীল করার এটি এক সুসংহত প্রচেষ্টা বলেও বিজেপি মনে করেছে।   প্রদীপ ভান্ডারি বৃহস্পতিবার নেহার বক্তব্য নিয়ে রাহুল গান্ধীকে জড়িয়ে যে অভিযোগ করেছেন, সেটিকে শুক্রবার নতুন মাত্রায় নিয়ে যান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।   তিনি অভিযোগ করেন, “দেশের তরুণ সমাজকে অরাজকতার রাজনীতিতে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো রাজপথে সহিংসতা উসকে দিয়ে বাংলাদেশের মতো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছে।”   রাজনাথ সিং জোর দিয়ে বলেন, “ভারতের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। সংঘাতের পথ ছেড়ে আমাদের সংলাপ ও রাষ্ট্রগঠনের পথ বেছে নিতে হবে।”   পরবর্তীতে একে একে বিজেপির অন্য শীর্ষ নেতারাও এ নিয়ে মন্তব্য করেন।   মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এক্সে এক পোস্টে লেখেন, “শেষ পর্যন্ত দেখা গেল সবই ছিল সরকার পরিবর্তনের কৌশল। ছাত্র ও কৃষকদের উসকে দিয়ে, জাতিগত ও ভাষাগত বিভেদ ছড়িয়ে এবং দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে ক্ষমতা দখলই এদের প্রধান লক্ষ্য।”   গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত বলেন, “বিরোধীরা কি নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন চায় নাকি সংবিধানবহির্ভূত আন্দোলনের মাধ্যমে? ভারতে জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠিত ও পরিবর্তিত হয়, বলপ্রয়োগ বা সংবিধান লঙ্ঘন করে নয়।”   বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “প্রশান্ত ভূষণ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাদের লড়াই সরকার পরিবর্তনের জন্য। এই দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের নয়। এটি ১৪০ কোটি মানুষের। তাদের এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, সিইসি বা এসআইআর বিষয়গুলো কেবল বাহানা, আসল উদ্দেশ্য অরাজকতা তৈরি করা।”   সিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা ইন্ডিয়া টুড লিখেছে, বিজেপির তীব্র আক্রমণের মুখে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সরকার পতনের অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।   বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা কেবল নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা দাবি করছি। আমরা সরকার পরিবর্তনের কথা বলছি না। আমরা শুধু বলছি, জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে এক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হোক। এটি কি কোনো অপরাধ?”   দীপকে তাদের আন্দোলনকে কংগ্রেস এবং নেহা বোরার বাংলাদেশ কেন্দ্রিক বক্তব্য থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও, বিজেপি তাদের সবাইকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন একই সূত্রে গাঁথছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব