সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
নামাজ শেষে আর ঘরে ফেরা হলো না প্রবাসী ইব্রাহীমের

বাহরাইনে ফজরের নামাজ শেষে ঘরে ফেরার পথে গাড়ির ধাক্কায় একজন প্রবাসী নিহত হয়েছেন।   ইব্রাহীম আহমেদ (৫৭) নামে এ বাংলাদেশির বাড়ি সিলেটের কোতোয়ালি থানার শিবের বাজার রায়ের গ্রামে। তিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাহরাইনে বসবাস করছিলেন।   স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির বুদাইয়া এলাকার আল সত্তার মার্কেটের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মো. মাহফুজ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   নিহতের ভাতিজা, আরেক প্রবাসী মো. রনি জানান, প্রতিদিনের মতো ওইদিন ভোরে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে বাসায় ফিরতে রাস্তা পার হচ্ছিলেন ইব্রাহীম। এসময় একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে তিনি আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।   নিহত ইব্রাহীম দেশটির লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটির (এলএমআরএ) অধীনে ফ্লেক্সি ভিসায় কর্মরত ছিলেন। বাহরাইনে ‘ফ্লেক্সি ভিসা’ হলো একটি বিশেষায়িত কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট, এর মাধ্যমে একজন প্রবাসী কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তা (কফিল) বা কোম্পানির অধীনে না থেকে নিজেই নিজের স্পন্সর হয়ে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পান।   শ্রম কাউন্সেলর মো. মাহফুজ রহমান জানান, নিহতের লাশ বর্তমানে সালমানিয়া মেডিকেল কমপ্লেক্সের মর্গে রাখা হয়েছে।   দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

২ মিনিট আগে
ইউরোপীয়ান বাংলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

ইউরোপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ইউরোপীয়ান বাংলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ তাদের নতুন কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন করেছে।   স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে এক ভার্চুয়াল সভায় আগামী ২ বছরের জন্য ২৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে তারা।   নতুন পর্ষদে অস্ট্রিয়া প্রবাসী মাহবুবুর রহমানকে সভাপতি এবং গ্রিস প্রবাসী জহিরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।   নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় গত দুই বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। তারপর নতুন কমিটি ঘোষণা করেন নেতারা।   সভাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের সদস্য সচিব এসকে এমডি জাকির হোসেন সুমন এবং সদস্য কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ডালিম।   নবগঠিত কমিটির অন্যান্য পদাধিকারীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি এনায়েত হোসেন সোহেল (ফ্রান্স), সহ-সভাপতি এসকে এমডি জাকির হোসেন সুমন (ইতালি), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান খান সোহেল (ইতালি) এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ডালিম (গ্রিস)।   অন্যান্য সম্পাদকীয় পদে রয়েছেন- অর্থ সম্পাদক কবির আহমেদ (অস্ট্রিয়া), সহ-অর্থ সম্পাদক তাহির হোসেন (পর্তুগাল), সাংগঠনিক সম্পাদক রহমান মাহবুবুর (সুইজারল্যান্ড), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইমরুল হাসান (গ্রিস), দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ সোহেল (ভেনিস), আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহ সোহেল আহমেদ (ফ্রান্স), প্রচার সম্পাদক কাজী মাহফুজ রানা (আয়ারল্যান্ড), সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক খন্দকার মেবিজ পরমা (গ্রিস), মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাজনীন আক্তার (ইতালি), সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন স্বপন (ইতালি), ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত খোকন (ফ্রান্স), অভিবাসন বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বিপ্লব (জার্মানি) এবং সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম টগর (ইতালি)।

৪ মিনিট আগে
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়াতে সমঝোতার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

পশ্চিম এশিয়ার যে যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারকে জোর ধাক্কা দিয়েছে তা আরও ৬০ দিন স্থগিত রাখতে রাজি হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।   মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।   ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, ৮ এপ্রিল এক নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে তা থামে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ফের যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলেও পাকিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে তেহরান-ওয়াশিংটন মতবিরোধ কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।   ট্রাম্প গত সপ্তাহেই বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবার ইরানে পরিকল্পিত হামলার পথ থেকে সরে এসেছেন।   এরপর শনিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনার কথা জানাল।   মধ্যস্থতাকারীরা এখন অন্তর্বর্তীকালীন একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন যা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার দ্বার খুলে দিতে পারে, বলছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।   অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যেসব শর্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে- পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের কাছে থাকা উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সংলাপ।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি শনিবার বলেছেন, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানার প্রথম ধাপ হিসেবে তেহরান একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ চূড়ান্ত করছে, যা পরের ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ করে দেবে।   তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ট্রাম্প চাইছেন, ইরান তার উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিক এবং নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইস্পাহানে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে তা ভেঙে ফেলুক।   অন্যদিকে ইরানের নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সার্বভৌম অধিকার তাদের রয়েছে।   দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কলিবফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না এবং তারা আলোচনায়ও আন্তরিক নয়। এরপরও তেহরান কূটনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।   মধ্যস্থতাকারীদের আশা, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানো হলে তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে বিস্তৃত পর্যায়ে ‍কূটনীতির সুযোগ করে দেবে।   আলোচনা সম্বন্ধে অবগত এক কূটনীতিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, চুক্তি ঠিকঠাক দিকেই এগুচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইরান তাদের পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আরও ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে তারা তা করবে না। চুক্তি ওই দূরত্ব কমাতে সহায়তা করবে।   পাকিস্তান আর কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর থমকে থাকা আলোচনা গতি পায়। আলোচনায় ‘উৎসাহব্যাঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে পরে জানায় ইসলামাবাদ।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো ওয়াশিংটন-তেহরান দূরত্ব কমাতে তৎপর হয়ে ওঠে।   আলোচনা ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের ইরানের ওপর হামলা চালানো শুরু করতে পারে, যার পাল্টায় তেহরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ছুড়তে পারে এবং হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ অনেকদিন অব্যাহত থাকতে পারে—এসব আশঙ্কাই তাদের তৎপর করেছে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের।   ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় নিয়েই তাদের মতবিরোধ এখনও প্রকট।   ওয়াশিংটনের দিক থেকে ‘পরস্পরবিরোধী বিবৃতি’ আসছে জানালেও বাঘেয়ি বলেছেন, পরস্পরের জন্য সন্তোষজনক একটি সমাধানের পথে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ‘কাছাকাছি আসছে’।

৭ মিনিট আগে
বিএটিবিসির ‘মালিকানা জালিয়াতি’ অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান, নথি তলব

ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএটিবিসি) ‘মালিকানা জালিয়াতির মাধ্যমে ৩০ বিলিয়ন ডলার’ পাচারের একটি অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমে কোম্পানিটির বিভিন্ন নথি তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।   এসব নথি ও তথ্য চেয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটি এবং যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে (আরজিআরসি) গত বৃহস্পতিবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে এসব নথির সত্যায়িত অনুলিপি ও তথ্য দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।   এর আগে দুদকে আসা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বিএটিবিসির বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি ও মানি লন্ড্রারিংয়ের’ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একজন সহকারী পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয় অনুসন্ধান কর্মকর্তার। শনিবার দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, অভিযোগটি নিয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে। বেশ কিছু নথিপত্রও তলব করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি তিনি। সম্প্রতি দায়িত্ব পাওয়ার পর অনুসন্ধানের কাজ শুরুর অংশ হিসেসে সহকারী পরিচালক সাজিদ-উর-রোমান এ বিষয়ক নথি তলব করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের দুই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৫৪০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি বিএটিবিসির মোট শেয়ারের মধ্যে ৭১ দশমিক ৯১ উদ্যোক্তা পরিচালকদের এবং শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের। বাকিটা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের। পাকিস্তান আমলে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি কারখানা খুলে ব্যবসা চালু করা বহুজাতিক কোম্পানিটির বিরুদ্ধে সম্প্রতি নথি ও কাগজপত্র ‘জালিয়াতির’ মাধ্যমে এর মালিকানা বিএটির (ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো) হাতে রেখে দেওয়ার অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে। তবে কে বা কারা এ অভিযোগ করেছেন তা বলেননি দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি এ অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসেবে যাচাইবাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, পাকিস্তান আমেরিকান টোবাকো (পিএটি) নামে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কারখানায় সিগারেট উৎপাদন করা কোম্পানিটি স্বাধীনতার পর ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে পুরোপুরি বাংলাদেশের মালিকানায় থাকার’ কথা থাকলেও তা হয়নি। ‘জাল কাগজপত্র তৈরি ও প্রভাব খাটিয়ে কোম্পানিটিকে’ বাংলাদেশে নিবন্ধিত দেখিয়ে বিএটিবিসি গত ৫৫ বছরে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে বিদেশে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে বিভিন্ন তথ্য ও যুক্তি তুলে ধরে বলা হয়, অথচ কারখানাগুলো আইনত বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন হওয়ার কথা ছিল। যে অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে তাতে বলা হয়, পিএটি ১৯৪৭ সালে করাচিতে প্রথম কারখানা স্থাপন করে। পরে ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামে এবং ১৯৬৫ সালে ঢাকায় কারখানা স্থাপন করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওই দুই কারখানা পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের মালিকানায় যাওয়ার কথা ছিল। পিএটির ১৯৭২, ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে তাদের দুটি কারখানা হারানোর কথা তুলে ধরেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়, ওই তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে কর ছাড় ও ক্ষতিপূরণও নেয় কোম্পানিটি। এরপর জাল কাগজপত্র তৈরি ও প্রভাব খাটিয়ে কোম্পানিটিকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই কারখানাসহ কোম্পানিটির মালিকানা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর হাতে বহাল থাকে। দুদকে করা অভিযোগে বলা হয়, সাবেক পিএটির তৎকালীন ফাইন্যান্স ম্যানেজার কয়েকজন মন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে জাল কাগজপত্র তৈরি ও দাখিলে ভূমিকা রাখেন। তখন আরজেএসসি এসব নথি গ্রহণে আপত্তি তুললেও সেসব প্রভাবশালীদের চাপে শেষ পর্যন্ত নথি নিতে বাধ্য হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পাকিস্তানে নিবন্ধিত কোম্পানির স্থলে বাংলাদেশ টোব্যাকো কোম্পানি বা বিএটিসিকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত দেখানো হয়। এর মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই কারখানাসহ কোম্পানির মালিকানা বিএটির অধীনে বহাল থাকে। এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং কর ও ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ আড়াল করতে বিএটি গত তিন দশকে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বা সচিবদের বোর্ডে নিয়োগ বা মনোনয়ন দিয়েছে। পাশাপাশি রাজনীতিকদের লাভজনক এজেন্সি ব্যবসার মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে দুদককে ঢাকার যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নথির পাশাপাশি পাকিস্তানের করাচিতে পিটিসির ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে। এ জন্য ইসলামাবাদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও করাচিতে কনস্যুলেটের মাধ্যমে নথি সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে এটিকে ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং’ বলে দাবি করা হয়েছে।   যেসব নথি চেয়েছে দুদক অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা বাংলাদেশ টোবাকো কোম্পানি লিমিটেড, পাকিস্তান টোবাকো কোম্পানি লিমিটেড ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ কোম্পানির নিবন্ধন সম্পর্কিত সব রেকর্ডপত্র চেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে অনুমোদিত মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন, আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন, কোম্পানির মালিকানা, নিবন্ধিত অফিস, কারখানার তালিকা, সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশনের নম্বর ও তারিখ, অনুমোদিত মূলধন, পরিশোধিত মূলধন এবং শেয়ারের সংখ্যা। এছাড়া কোম্পানির পরিচালক, পরিচালকদের সম্মতিপত্র এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান ও অভিযোগের বিষয়ে বিএটিবিসি এর বক্তব্য জানতে চাইলে কোম্পানির তরফে প্রথমে বলা হয় তাদের গণমাধ্যম দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি।  

৯ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার সম্পন্নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নজরুল পুরস্কার-২০২৫ও প্রদান করা হয়।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে আগামী এক মাসের মধ্যে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।   তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে কেউ শিশু বা নারীর বিরুদ্ধে এমন নৃশংস অপরাধ করার সাহস পাবে না।”   অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান মে ২৩, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয়ান বাংলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

ইউরোপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ইউরোপীয়ান বাংলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ তাদের নতুন কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন করেছে।   স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে এক ভার্চুয়াল সভায় আগামী ২ বছরের জন্য ২৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে তারা।   নতুন পর্ষদে অস্ট্রিয়া প্রবাসী মাহবুবুর রহমানকে সভাপতি এবং গ্রিস প্রবাসী জহিরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।   নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় গত দুই বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। তারপর নতুন কমিটি ঘোষণা করেন নেতারা।   সভাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের সদস্য সচিব এসকে এমডি জাকির হোসেন সুমন এবং সদস্য কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ডালিম।   নবগঠিত কমিটির অন্যান্য পদাধিকারীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি এনায়েত হোসেন সোহেল (ফ্রান্স), সহ-সভাপতি এসকে এমডি জাকির হোসেন সুমন (ইতালি), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান খান সোহেল (ইতালি) এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ডালিম (গ্রিস)।   অন্যান্য সম্পাদকীয় পদে রয়েছেন- অর্থ সম্পাদক কবির আহমেদ (অস্ট্রিয়া), সহ-অর্থ সম্পাদক তাহির হোসেন (পর্তুগাল), সাংগঠনিক সম্পাদক রহমান মাহবুবুর (সুইজারল্যান্ড), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইমরুল হাসান (গ্রিস), দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ সোহেল (ভেনিস), আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহ সোহেল আহমেদ (ফ্রান্স), প্রচার সম্পাদক কাজী মাহফুজ রানা (আয়ারল্যান্ড), সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক খন্দকার মেবিজ পরমা (গ্রিস), মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাজনীন আক্তার (ইতালি), সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন স্বপন (ইতালি), ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত খোকন (ফ্রান্স), অভিবাসন বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বিপ্লব (জার্মানি) এবং সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম টগর (ইতালি)।

ছবি: সংগৃহীত
নামাজ শেষে আর ঘরে ফেরা হলো না প্রবাসী ইব্রাহীমের

বাহরাইনে ফজরের নামাজ শেষে ঘরে ফেরার পথে গাড়ির ধাক্কায় একজন প্রবাসী নিহত হয়েছেন।   ইব্রাহীম আহমেদ (৫৭) নামে এ বাংলাদেশির বাড়ি সিলেটের কোতোয়ালি থানার শিবের বাজার রায়ের গ্রামে। তিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাহরাইনে বসবাস করছিলেন।   স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির বুদাইয়া এলাকার আল সত্তার মার্কেটের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মো. মাহফুজ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   নিহতের ভাতিজা, আরেক প্রবাসী মো. রনি জানান, প্রতিদিনের মতো ওইদিন ভোরে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে বাসায় ফিরতে রাস্তা পার হচ্ছিলেন ইব্রাহীম। এসময় একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে তিনি আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।   নিহত ইব্রাহীম দেশটির লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটির (এলএমআরএ) অধীনে ফ্লেক্সি ভিসায় কর্মরত ছিলেন। বাহরাইনে ‘ফ্লেক্সি ভিসা’ হলো একটি বিশেষায়িত কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট, এর মাধ্যমে একজন প্রবাসী কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তা (কফিল) বা কোম্পানির অধীনে না থেকে নিজেই নিজের স্পন্সর হয়ে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পান।   শ্রম কাউন্সেলর মো. মাহফুজ রহমান জানান, নিহতের লাশ বর্তমানে সালমানিয়া মেডিকেল কমপ্লেক্সের মর্গে রাখা হয়েছে।   দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়াতে সমঝোতার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

পশ্চিম এশিয়ার যে যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারকে জোর ধাক্কা দিয়েছে তা আরও ৬০ দিন স্থগিত রাখতে রাজি হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।   মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।   ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, ৮ এপ্রিল এক নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে তা থামে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ফের যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলেও পাকিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে তেহরান-ওয়াশিংটন মতবিরোধ কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।   ট্রাম্প গত সপ্তাহেই বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবার ইরানে পরিকল্পিত হামলার পথ থেকে সরে এসেছেন।   এরপর শনিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনার কথা জানাল।   মধ্যস্থতাকারীরা এখন অন্তর্বর্তীকালীন একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন যা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার দ্বার খুলে দিতে পারে, বলছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।   অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যেসব শর্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে- পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের কাছে থাকা উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সংলাপ।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি শনিবার বলেছেন, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানার প্রথম ধাপ হিসেবে তেহরান একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ চূড়ান্ত করছে, যা পরের ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ করে দেবে।   তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ট্রাম্প চাইছেন, ইরান তার উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিক এবং নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইস্পাহানে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে তা ভেঙে ফেলুক।   অন্যদিকে ইরানের নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সার্বভৌম অধিকার তাদের রয়েছে।   দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কলিবফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না এবং তারা আলোচনায়ও আন্তরিক নয়। এরপরও তেহরান কূটনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।   মধ্যস্থতাকারীদের আশা, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানো হলে তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে বিস্তৃত পর্যায়ে ‍কূটনীতির সুযোগ করে দেবে।   আলোচনা সম্বন্ধে অবগত এক কূটনীতিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, চুক্তি ঠিকঠাক দিকেই এগুচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইরান তাদের পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আরও ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে তারা তা করবে না। চুক্তি ওই দূরত্ব কমাতে সহায়তা করবে।   পাকিস্তান আর কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর থমকে থাকা আলোচনা গতি পায়। আলোচনায় ‘উৎসাহব্যাঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে পরে জানায় ইসলামাবাদ।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো ওয়াশিংটন-তেহরান দূরত্ব কমাতে তৎপর হয়ে ওঠে।   আলোচনা ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের ইরানের ওপর হামলা চালানো শুরু করতে পারে, যার পাল্টায় তেহরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ছুড়তে পারে এবং হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ অনেকদিন অব্যাহত থাকতে পারে—এসব আশঙ্কাই তাদের তৎপর করেছে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের।   ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় নিয়েই তাদের মতবিরোধ এখনও প্রকট।   ওয়াশিংটনের দিক থেকে ‘পরস্পরবিরোধী বিবৃতি’ আসছে জানালেও বাঘেয়ি বলেছেন, পরস্পরের জন্য সন্তোষজনক একটি সমাধানের পথে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ‘কাছাকাছি আসছে’।

ছবি: সংগৃহীত
সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ টানতে আগ্রহীদের পরামর্শে নতুন পিএসসি

সাগরের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।   আগের দরপত্রে বাইরের কোম্পানিগুলোর সাড়া না মেলায় এবার আগ্রহীদের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে এগোনোর কথা বলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। পেট্রোবাংলা বলেছে, এর অংশ হিসেবে তারা নতুন ‘মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্র্যাক্ট’ (এমপিএসসি) প্রস্তুত করেছে। রোববার সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬, বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগের দরপত্রে যারা ডকুমেন্ট কিনেছিল, কিন্তু বিড জমা দেয়নি, তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। “তাদের কাছে আমরা কারণ জানতে চেয়েছিলাম। মূলত তাদের পরামর্শ এবং আমাদের কনসালট্যান্টদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই মডেল পিএসসি ২০২৬ প্রস্তুত করা হয়েছে।”   নতুন মডেল পিএসসিতে আন্তর্জাতিক কোম্পানির আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। শোয়েব বলেন, “তাদের কিছু বিষয় এখানে এসেছে। আমরা দেখেছি, আন্তর্জাতিকভাবে এসব বিষয় থাকে। এজন্য মনে করছি, এবার ভালো সাড়া পাব।” পেট্রোবাংলার দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সমুদ্রের ১১টি অগভীর ব্লক এবং ১৫টি গভীর ব্লক তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। অগভীর ব্লকগুলো হলো ‘এসএস ০১’ থেকে ‘এসএস ১১’ পর্যন্ত। গভীর সমুদ্রের ব্লকগুলো হলো ‘ডিএস ০৮’ থেকে ‘ডিএস ২২’। কোম্পানিগুলো এককভাবে অথবা যৌথভাবে এক বা একাধিক ব্লকের জন্য দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। একটি টেন্ডার শিডিউল কিনেই একাধিক ব্লকে অংশ নেওয়া যাবে। তবে প্রতিটি অগভীর ও গভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য আলাদা আবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি থাকা দুটি গভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য একটি চুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে।   কী বদলাল নতুন পিএসসিতে পেট্রোবাংলার পরিচালক শোয়েব বলেছেন, ‘সিগনেচার বোনাস’ না থাকা, রয়্যালটি না থাকা, শতভাগ কস্ট রিকভারি এবং করপোরেট আয়কর পেট্রোবাংলার বহনের মতো সুবিধা আগের পিএসসিতে ছিল। তিনি বলেন, “এগুলো আগেও ছিল। আমরা মূলত এবার পাইপলাইন ট্যারিফটা যোগ করেছি। আর আগে দশ বছর পর ৫০ শতাংশ এলাকা ছেড়ে দেওয়ার বিষয় ছিল, সেটা এখন ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তার মানে ৮০ শতাংশ এলাকায় তারা আরও সিসমিক বা এক্সপ্লোরেশনের জন্য সময় পাবে।” নতুন মডেল পিএসসিতে ঠিকাদার কোম্পানিগুলো অর্জিত মুনাফা পুরোপুরি নিজ দেশে ফেরত নিতে পারবে। কোনো সিগনেচার বোনাস বা রয়্যালটি দিতে হবে না। অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও উৎপাদন পর্যায়ে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিতে শুল্ক অব্যাহতির সুবিধা রাখা হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের করপোরেট আয়করও পেট্রোবাংলা বহন করবে। অগভীর ও গভীর সমুদ্র— উভয় ক্ষেত্রেই শতভাগ কস্ট রিকভারি বা ব্যয় পুনরুদ্ধারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বছরে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় তুলে নেওয়া যাবে। গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক ব্রেন্ট ক্রুডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। গত পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গড় ব্রেন্ট মূল্যের ভিত্তিতে ফ্লোর ও সিলিং নির্ধারণ করা হবে। পাইপলাইন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আলাদা পাইপলাইন ট্যারিফের বিধান রাখা হয়েছে, যা ক্রেতা পরিশোধ করবে। পেট্রোলিয়াম মুনাফা ভাগাভাগি হবে ‘আর-ফ্যাক্টর’ ভিত্তিতে। দরদাতারা নিজেদের প্রস্তাবে এর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা তুলে ধরতে পারবে। তেলের দাম নির্ধারণ হবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাজারের প্রচলিত ন্যায্য মূল্যের ভিত্তিতে।   বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত বড় আর্থিক সুবিধা দেওয়ার পরও বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক শোয়েব। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “আমরা এই জায়গাটায় এখনও একেবারেই ব্লাইন্ড, বিশেষ করে ডিপ সিতে। অগভীর অংশে একসময় কাজ ছিল, কিন্তু এখন সেখানেও আমাদের কোনো কাজ নেই।” জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্রে অনুসন্ধান ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে টানতে আর্থিক শর্তে ছাড় দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস মিললে তা আমদানিনির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। দরপত্রে অংশ নিতে হলে কোম্পানিকে অন্তত একটি অফশোর ব্লকের অপারেটর হতে হবে। অগভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য দৈনিক অন্তত ৫ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ৭৫ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য দৈনিক অন্তত ১০ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নিজ দেশের বাইরে অন্তত একটি দেশে তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও বাধ্যতামূলক। অপারেটরশিপ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশ, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা অথবা সরকারি সংস্থার সনদ বা প্রমাণপত্র দিতে হবে। বাধ্যতামূলক কাজের অংশ সীমিত রাখা হয়েছে ‘টু-ডি সিসমিক জরিপে। তবে দরদাতাদের বাধ্যতামূলক কাজের বাইরে অতিরিক্ত কাজের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। কোনো কোম্পানি সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিদ্যমান ‘টু-ডি মাল্টিক্লায়েন্ট সিসমিক ডেটা কিনলে বাধ্যতামূলক কাজের পরিমাণ আনুপাতিক হারে কমানো যাবে। প্রথম অনুসন্ধান কূপ শুকিয়ে গেলে অথবা বাণিজ্যিকভাবে অকার্যকর হলে দ্বিতীয় বা পরবর্তী কূপের ক্ষেত্রে ঠিকাদারের মুনাফার ভাগ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। পেট্রোবাংলা গ্যাস কিনতে না পারলে ঠিকাদার কোম্পানি দেশের ভেতরে তৃতীয় পক্ষের কাছে নিজেদের অংশের গ্যাস বিক্রি করতে পারবে। তবে পেট্রোবাংলার অধিকার থাকবে সবার আগে। একই শর্তে ঠিকাদার অংশের গ্যাস রপ্তানির সুযোগও রাখা হয়েছে। অগভীর সমুদ্র ব্লকে বাপেক্সের জন্য ১০ শতাংশ ক্যারিড ইন্টারেস্ট রাখা হয়েছে। চুক্তি সইয়ের পর ন্যূনতম অনুসন্ধান কর্মসূচি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা হিসেবে নির্ধারিত ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে। তবে সরকার কোনো সফল দরদাতার হাতে ব্লকের সংখ্যা সীমিত রাখার অধিকার সংরক্ষণ করেছে। নতুন দরপত্র ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানি যোগাযোগ করেছে কি না জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক শোয়েব বলেন, “এখনও সময় হয়নি। তবে গতবার যে কোম্পানিগুলো দরপত্র কিনেছিল, তারা আমাদের ডেটাগুলো নিয়েছে। তারা হয়ত অপেক্ষা করছে। আগের দরপত্রে সাতটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব জমা পড়েনি বলে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।   দরপত্র জমা নভেম্বর পর্যন্ত পেট্রোবাংলা বলেছে, ১ জুন থেকে ‘বেসিক ইনফরমেশন’ প্যাকেজ পাওয়া যাবে। এর মূল্য ১০০ ডলার অথবা সমপরিমাণ টাকা। বিডিং ডকুমেন্টসহ প্রমোশনাল প্যাকেজের দাম ৭ হাজার ডলার অথবা সমপরিমাণ টাকা। এই প্যাকেজ কেনা দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্যতামূলক। আরও বিস্তারিত সিসমিক, গ্র্যাভিটি, ম্যাগনেটিক ও ভূতাত্ত্বিক তথ্যের জন্য আলাদা প্যাকেজ থাকবে। দরপত্র জমার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর দুপুর ১টা। একই দিন দুপুর ২টায় পেট্রোবাংলা কার্যালয়ে দরপত্র খোলা হবে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের সমুদ্রে বড় আকারে বাণিজ্যিক তেল গ্যাস আবিষ্কার হয়নি। ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের বড় সুযোগ তৈরি হয়। তবে আন্তর্জাতিক কোম্পানির আগ্রহ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে নতুন পিএসসি করা হলেও সে সময় দরপত্র ডাকা হয়নি। পরে পিএসসি ২০২৩ এর আলোকে ২০২৪ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই সময় টিজিএস ও শ্ল্যামবার্জারের বঙ্গোপসাগরে টু ডি জরিপের তথ্যও বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। তবু শেষ পর্যন্ত কোনো কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়নি। জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলে আসছেন, গ্যাসের দাম, পাইপলাইন ব্যয়, কস্ট রিকভারি, লাভ ভাগাভাগি ও তথ্যের সীমাবদ্ধতা বিদেশি কোম্পানির অনীহার বড় কারণ ছিল। এর আগে গভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে কাজ শুরু করেছিল কনোকোফিলিপস। দ্বিমাত্রিক জরিপের পর গ্যাসের দাম নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে তারা কাজ ছেড়ে যায়। স্যান্টোস ও পস্কো দাইয়ুও চুক্তির পর শেষ পর্যন্ত কাজ এগিয়ে নেয়নি। অগভীর সমুদ্রের এসএস ০৪ ও এসএস ০৯ ব্লকে ভারতের ওএনজিসি অনুসন্ধান চালালেও পরে তারা ছেড়ে দেয়।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়াতে সমঝোতার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৪, ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ার যে যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারকে জোর ধাক্কা দিয়েছে তা আরও ৬০ দিন স্থগিত রাখতে রাজি হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।   মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।   ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, ৮ এপ্রিল এক নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে তা থামে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ফের যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলেও পাকিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে তেহরান-ওয়াশিংটন মতবিরোধ কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।   ট্রাম্প গত সপ্তাহেই বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবার ইরানে পরিকল্পিত হামলার পথ থেকে সরে এসেছেন।   এরপর শনিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনার কথা জানাল।   মধ্যস্থতাকারীরা এখন অন্তর্বর্তীকালীন একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন যা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার দ্বার খুলে দিতে পারে, বলছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।   অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যেসব শর্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে- পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের কাছে থাকা উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সংলাপ।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি শনিবার বলেছেন, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানার প্রথম ধাপ হিসেবে তেহরান একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ চূড়ান্ত করছে, যা পরের ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ করে দেবে।   তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ট্রাম্প চাইছেন, ইরান তার উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিক এবং নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইস্পাহানে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে তা ভেঙে ফেলুক।   অন্যদিকে ইরানের নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সার্বভৌম অধিকার তাদের রয়েছে।   দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কলিবফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না এবং তারা আলোচনায়ও আন্তরিক নয়। এরপরও তেহরান কূটনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।   মধ্যস্থতাকারীদের আশা, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানো হলে তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে বিস্তৃত পর্যায়ে ‍কূটনীতির সুযোগ করে দেবে।   আলোচনা সম্বন্ধে অবগত এক কূটনীতিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, চুক্তি ঠিকঠাক দিকেই এগুচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইরান তাদের পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আরও ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে তারা তা করবে না। চুক্তি ওই দূরত্ব কমাতে সহায়তা করবে।   পাকিস্তান আর কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর থমকে থাকা আলোচনা গতি পায়। আলোচনায় ‘উৎসাহব্যাঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে পরে জানায় ইসলামাবাদ।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো ওয়াশিংটন-তেহরান দূরত্ব কমাতে তৎপর হয়ে ওঠে।   আলোচনা ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের ইরানের ওপর হামলা চালানো শুরু করতে পারে, যার পাল্টায় তেহরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ছুড়তে পারে এবং হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ অনেকদিন অব্যাহত থাকতে পারে—এসব আশঙ্কাই তাদের তৎপর করেছে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের।   ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় নিয়েই তাদের মতবিরোধ এখনও প্রকট।   ওয়াশিংটনের দিক থেকে ‘পরস্পরবিরোধী বিবৃতি’ আসছে জানালেও বাঘেয়ি বলেছেন, পরস্পরের জন্য সন্তোষজনক একটি সমাধানের পথে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ‘কাছাকাছি আসছে’।

ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প, সিদ্ধান্ত আসতে পারে দ্রুত
আক্তারুজ্জামান মে ২৩, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ অবসান এবং পারমাণবিক ইস্যুতে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।   শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য চুক্তির মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং তাদের মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য উপায়ে নিয়ন্ত্রণে আনা।   ট্রাম্প বলেন, “আমি শুধুমাত্র এমন একটি চুক্তিতেই সম্মত হব, যেখানে আমাদের সব শর্ত পূরণ হবে।”   এর আগে একই দিনে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও জানায়, প্রায় তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।   অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তি নিয়ে তিনি তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রোববারের মধ্যেই যুদ্ধ পুনরায় শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।   এসময় কড়া হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “হয় আমরা একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”   উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল-গ্যাস সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয় সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। এরপর থেকেই কূটনৈতিক সমাধান ও সামরিক চাপ—দুই কৌশলই একসঙ্গে অনুসরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।   সূত্র: রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিখাতে ছাঁটাইয়ের ধাক্কা, বিপাকে হাজারো ভারতীয় কর্মী
আক্তারুজ্জামান মে ২৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান গণছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছে হাজার হাজার ভারতীয় কর্মীর ওপর। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীরা সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।   প্রতিবেদনে বলা হয়, খরচ কমানো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর কার্যক্রম বাড়ানোর অংশ হিসেবে একের পর এক কর্মী ছাঁটাই করছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। সম্প্রতি ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করেছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসাধারীরা চাকরি হারালে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে হয়। অন্যথায় তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। কারণ এই ভিসা সাধারণত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরশিপের মাধ্যমে কার্যকর থাকে।   তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন চাকরি পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। প্রযুক্তি খাতে নিয়োগ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু প্রবাসী ভারতীয় পরিবার।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু মেটাই প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। একইসঙ্গে অ্যামাজন ও লিঙ্কডইনসহ আরও কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনছে।   অনেক ভারতীয় কর্মী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সেখানে পরিবার গড়ে তুলেছেন, সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছেন এবং বাড়িঘর কিনেছেন। কিন্তু চাকরি হারানোর পর এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।   সূত্র: এনডিটিভি

ছবি: সংগৃহীত
বন্ধ করে দেওয়া হলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
মোঃ নাহিদ হোসেন মে ২৩, ২০২৬

‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে ওয়েবসাইটটি ধীরগতিতে চলছিল এবং পরে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর হয়ে যায়। ব্যবহারকারীরা সাইটে প্রবেশ করতে গেলে “সার্ভার নট ফাউন্ড” বা “এই পেজটি পাওয়া যাচ্ছে না” ধরনের বার্তা দেখতে পান। এতে দলটির অনলাইন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   দলটির একাধিক স্থানীয় সমর্থক সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলো ও দলীয় তথ্য এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই প্রচার করা হতো। হঠাৎ করে সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন।   অন্যদিকে, কিছু অনলাইন পর্যবেক্ষক মনে করছেন এটি হয়তো প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ডোমেইন নবায়ন না করা, কিংবা হোস্টিং সমস্যার কারণে ঘটতে পারে। আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক টানাপোড়েনের সঙ্গেও যুক্ত করে দেখছেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হতে পারে।   ঘটনার পর অনলাইনে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে “সাময়িক কারিগরি সমস্যা” হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে দলের ডিজিটাল উপস্থিতির দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করছেন।   বিশ্লেষকরা বলছেন, আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জন্য শুধু মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নয়, বরং শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা দলটির যোগাযোগ ও প্রচারণায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে।   সব মিলিয়ে, ওয়েবসাইট বন্ধের কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি