সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
সৌদি জোটে যোগ দেওয়ার কারণ জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ইয়েমেনের বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ১৪টি দেশ নিয়ে মেরিটাইম জোট (সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা) গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। এই জোটে এ অঞ্চলের বাংলাদেশ ও পাকিস্তান রয়েছে। বাংলাদেশ কেন এই জোটে যুক্ত হয়েছে- এ নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। রোববার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই মেরিটাইম জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য জানতে চেয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এটি রিয়াদের সঙ্গে ‘কৌশলগত’ সম্পর্ক তৈরির অংশ উল্লেখ করে বলেন, ‘হুতিদের ঠেকাতে’ সৌদি আরবের নেতৃত্বে বহুজাতিক এই জোটে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মূল বিষয় হচ্ছে, সৌদির সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এবং আমরা সৌদির সঙ্গে সম্পর্ককে কেবল হজ-ওমরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছি না। কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে কৌশলগত এবং এটা খুবই মজবুত সম্পর্ক হবে।’ মক্কা-মদিনার দুটি পবিত্র মসজিদের রক্ষক হওয়ার কারণে সৌদির সঙ্গে বাংলাদেশের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ থাকার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যেকোনো সময় যদি সৌদি আরব নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো সহায়তা চায়, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নৈতিক ও আদর্শিক জায়গা থেকে সবসময়ই সাড়া দেবে এবং সহায়তা করবে। মূলত এটি সেখানে হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য। অন্যদিকে, আমরা কিন্তু ইরানের সাথেও কথা বলছি। সুতরাং এমন নয় যে, ইরানকে আক্রমণ করতে হবে।’ জোটে অংশগ্রহণটা কেমন হবে, বাংলাদেশ সৈন্য পাঠাচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এটি হুতিদের কর্মকাণ্ড মোকাবিলার জন্য একটি জোট। তো, হুতিদের মোকাবিলা করতে যে ধরনের সহায়তা লাগবে, বাংলাদেশের যে ‘রিসোর্সেস’ রয়েছে, সে অনুযায়ী আমরা সেটা দেব।

৪ মিনিট আগে
পাকিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’ চলাকালে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩

  পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো এক বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই বিস্ফোরণের কিছু দৃশ্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।  ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, সোয়াত জেলার একটি শহরে স্থানীয়দের অংশগ্রহণে একটি ‘শান্তি সমাবেশ’ চলাকালে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।  প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে মনে হলেও, সরকারের বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।  বিগত কয়েক মাস ধরে এলাকাটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। সোয়াতের নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে স্থানীয় উপজাতীয় পরিষদ ‘সোয়াত আমান জিরগা’ এই শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছিল। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা এলাকায় শান্তি ফেরানোর দাবিতে নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করায়। বর্তমানে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকাটি কর্ডন করে ঘিরে রেখেছে এবং ঘটনা তদন্তে তল্লাশি চালাচ্ছে।  সূত্র: এনডিটিভি 

৩৪ মিনিট আগে
গ্যাস না পেয়ে লক্ষ্মীপুরে সিএনজিচালকদের সড়ক অবরোধ

লক্ষ্মীপুরে গ্যাস না পাওয়ায় ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। এতে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানজট সৃষ্টি হয়।   ‎এসময় সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।     রবিবার (২ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত জেলা শহরের ইসলাম মার্কেট এলাকায় গ্রিন লাইফ ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে বিক্ষুব্ধ চালকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।       এদিকে গ্যাস না থাকায় পাম্পে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি চলে যান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।       ‎বিক্ষোভকারী সিএনজিচালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটের কারণে জেলার একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। তাদের দূরবর্তী এলাকা থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আয় কমে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।       তারা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং ফিলিং স্টেশন চালুর দাবি জানান।     এদিকে ‎অবরোধের কারণে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তাদের দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।       লক্ষ্মীপুরের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, সিএনজিচালকরা গ্যাস পাচ্ছেন না, তাই তারা হট্টগোল করেন।     পরে আমরা গিয়ে তাদের শান্ত করি। একইসঙ্গে বুঝিয়ে বলা হয়, এটা স্থানীয় সমস্যা নয়, জাতীয়ভাবেই গ্যাসের সমস্যা চলছে। পরে তারা রাস্তা ছেড়ে দেন। এখন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

৩৮ মিনিট আগে
টঙ্গীতে ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে’ পাথর নিক্ষেপ, আহত ২

সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনে বাহির থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ট্রেনে থাকা দুইজন আহত হয়েছেন।     রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় টঙ্গী স্টেশনের কাছাকাছি আসলে বাহির থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।     আহতরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামের বাসিন্দা ফাহিম মিয়া (১৪) ও একই জেলার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামুড়া গ্রামের লিটন মিয়া (৫০)।     ফাহিমের বড় ভাই আরমান মিয়া বলেন, আমি ও আমার ছোট ভাই ফাহিম আশুগঞ্জ থেকে জয়ন্তিকা ট্রেনের ‘ট’ বগিতে উঠি। বগির মাঝামাঝি বসা ছিলাম দুই ভাই। ফাহিম আসনের সিটে বসা ছিল, আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। টঙ্গী স্টেশনের কাছাকাছি আসলে বাহির থেকে একটি পাথর ট্রেনের জানালা দিয়ে এসে পাশের একজনের মাথায় লেগে আমার ভাইয়ের গলায় এসে আঘাত লাগে। আমাদের ঢাকায় ব্যাগের ব্যবসা আছে। দুই ভাই ব্যাগের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ফাহিম ট্রেনে ব্যথায় ও ভয়ে কাঁপছিল, তাই কোনো কথা বলতে পারেনি।         আহত লিটন মিয়া বলেন, আমি মুকুন্দপুর স্টেশন থেকে উঠেছি। ব্যবসার কারণে ঢাকায় বেশি থাকা হয়। আমার মাথায় প্রথমে পাথরের আঘাত লাগে, তারপর আরেকজনের গলায় লাগে। ঢাকায় গিয়ে সিটিস্ক্যান করতে হবে। এমন পাথর নিক্ষেপ যেন না ঘটে, সে জন্য সচেতনতা ও সরকারের প্রচার বাড়াতে হবে বলে তিনি মনে করেন।       ট্রেনের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল আ. রউফ বলেন, ট্রেন ছাড়লে সবাইকে ট্রেনের জানালা বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়, কিন্তু যাত্রীরা গরমের কথা বলে খোলা রাখে। আহত দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
তরুণদের উদ্ভাবনেই দেশের সম্ভাবনা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তরুণ উদ্ভাবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ এবং তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকার সবসময় পাশে থাকবে।   রবিবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আন্ডারওয়াটার রোবোটিক ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতা ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা এ কথা জানান। বিজয়ী দলের সদস্যরা বাংলাদেশের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী। উপ প্রেস সচিব জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এত বড় সাফল্যের জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।   আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য অসাধারণ গৌরব বয়ে আনায় বিজয়ী দলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ধরনের উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ’   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হলে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। তারা যদি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চান, তবে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়া হবে। ’ মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, সাক্ষাৎকালে এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি বিশ্বজয়ী আন্ডারওয়াটার রোবটটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন। রোবটটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তারেক রহমান।   প্রধানমন্ত্রী জানান, রোবটটির অধিকতর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এমআইএসটির (উদ্ভাবকদের) ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। তারা পড়াশোনা শেষে প্রযুক্তি খাতেই কাজ করতে এবং নিজেদের উদ্যোগে নতুন কিছু করতে আগ্রহী বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানান।   জবাবে তারেক রহমান বলেন, তারা যদি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চান, তাহলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।   অর্থনীতিকে গতিশীল করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে শক্তিশালী করে বহুমুখী রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।   বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদের দেশে ফিরে এই খাতের বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি খাতে সবাই নিজ অবস্থান থেকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। ’ উল্লেখ্য, কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে গত ২৩ থেকে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বের ১৮টি দেশের ৮৮টি দল অংশ নেয়।   যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পেছনে ফেলে এমআইএসটির ‘মিস্ট ম্যাভিরভ’ দল প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র রানার্স-আপ এবং আয়োজক দেশ কানাডা তৃতীয় স্থান লাভ করে। বৈঠকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিজয়ী দলের ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০২, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
কেন দেশে ফেরানো গেল না বেনজীরকে

দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে বন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুবাইয়ের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন বেনজীর আহমেদ। এর আগে ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে তার মুক্তির পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যেসব মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয়েছিল, সেসবের প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনার পর ঢাকার সঙ্গে দুবাই পুলিশের পুনরায় যোগাযোগ হলেও কেন তাকে বাংলাদেশে ফেরানো গেল না? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়; এটি সদস্য দেশগুলোর কাছে কোনো পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত বা সাময়িকভাবে আটক করার অনুরোধ মাত্র। কাউকে নিজ দেশে প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত ও সরকারের ওপর নির্ভর করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি নিজ দেশের নাগরিকত্বের পাশাপাশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্য দেশের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট গ্রহণ করেন, তাহলে তাকে প্রত্যর্পণ করা আরও জটিল হয়ে পড়ে। স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ বিনিয়োগের মাধ্যমে তুরস্কের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতেও তার উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইউএই কর্তৃপক্ষ কিংবা বেনজীর আহমেদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যারাবিয়ান পোস্ট-এর এক্সিকিউটিভ এডিটর এবং গালফ নিউজ-এর সাবেক অ্যাসোসিয়েট এডিটর সাইফুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, বেনজীর আহমেদ যদি দুবাইয়ের বৈধ বাসিন্দা হয়ে থাকেন এবং সেখানে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ না থাকে, তাহলে তার আইনজীবীরা সেই বিষয়টি আদালতে তুলে ধরতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানের প্রসঙ্গ টানেন। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হলেও ভারতীয় পাসপোর্ট থাকায় তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার নথিপত্র, অভিযোগের আইনি ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট দেশের আইন এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ। অভিযুক্ত ব্যক্তি চাইলে স্থানীয় আদালতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আপত্তিও জানাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আদালত অভিযোগের ধরন, মানবাধিকার ইস্যু এবং বিচারপ্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেয়। এদিকে বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে দুবাই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। রোববার (২ আগস্ট) এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালবেলার পক্ষকে দুবাই পুলিশ জানায়, তারা এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করে না।ইমেইলের জবাবে পুলিশ জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স থেকে বলা হয়, এ বিষয়ে তথ্য জানতে হলে বেনজীর আহমেদের কোনো আত্মীয়কে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করতে হবে।   যদিও আদালতের শর্ত অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের দুবাই ত্যাগের অনুমতি নেই এবং তার পাসপোর্টও কর্তৃপক্ষের কাছে জমা রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরের ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) জানিয়েছে, তারা বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে অবগত নয়। রোববার দুপুর পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে বেনজীর আহমেদকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় তার নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পকে কূটনীতির পথে হাঁটার আহ্বান সৌদি যুবরাজের

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও না বাড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। এ বিষয়ে তিনি রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।   সৌদি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং এর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উত্তেজনা কমানো, সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। তিনি সতর্ক করেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   এর আগে গত ৩১ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর’ সামরিক হামলা চালাবে। তবে রোববার তিনি জানান, সম্ভাব্য একটি সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হওয়ায় এবং ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ অনুরোধ করায় পরিকল্পিত সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।   ট্রাম্পের দাবি, সম্ভাব্য ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত হুমকিরও অবসান ঘটবে।   তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ছবি: সংগৃহীত
এথেন্সে ভয়াবহ দাবানল, অগ্নিকাণ্ডের কারণ সন্দেহে গ্রেপ্তার ২

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমে ভয়াবহ দাবানল তৃতীয় দিনের মতো জ্বলছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আরও কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রিক সংবাদপত্র একাথিমেরিনি জানায়, আগুন মেগারা শহরের দিকে ছড়িয়ে পড়ায় মেগারা শিল্পাঞ্চলসহ ক্যান্ডিলি, আগিয়া স্কেপি, তুতুলি, নিয়া দাফনি, পেফকেনিয়াস ও আগিওস সারানতিস এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একটি বেসরকারি উইন্ড ফার্মের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তার থেকে বের হওয়া স্ফুলিঙ্গ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা একজন বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী ও তার স্থাপনের দায়িত্বে থাকা আরেকজনের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। উইন্ড ফার্মের মালিককেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৫০০ দমকলকর্মী, ১৩৪টি ফায়ার ইঞ্জিন, আটটি পানি নিক্ষেপকারী বিমান এবং ফ্রান্স ও রোমানিয়ার বিশেষ দমকল দল কাজ করছে। তবে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটি জানিয়েছে, পোর্তো জারমেনো এলাকায় প্রায় ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বন ও ঝোপঝাড় পুড়ে গেছে। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস বলেছেন, চরম আবহাওয়ার কারণে দেশটি কঠিন সময় পার করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। শুক্রবার আগিওস ভাসিলিওস এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা পোর্তো জারমেনো হয়ে মেগারা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া গ্রিসের আরও কয়েকটি এলাকায় ছোট আকারের দাবানল জ্বলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহেও গ্রিসের ক্রিট ও পেলোপোনেস অঞ্চলে পৃথক দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে তিনজন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়। সূত্র: আনাদোলু নিউজ এজেন্সি

ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন শহরের কাছে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পুরো অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর এএফপির। গভর্নর বব ফার্গুসন বলেছেন, টানা চতুর্থ বছরের রেকর্ড খরা এবং তীব্র বাতাসের কারণে দাবানলের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এ কারণে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ খোলা জায়গায় এবং কৃষিকাজে আগুন জ্বালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ওয়াশিংটনে এরই মধ্যে ২ লাখ একরের বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। পাবলিক ল্যান্ডস কমিশনার ডেভ আপথেগ্রোভ বলেন, আগস্ট মাসের শুরুতেই এটি রেকর্ডের অন্যতম ব্যস্ত দাবানল মৌসুমে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ‘ওল্ড ট্রেইলস’ নামের দাবানলটি শনিবার স্পোকেন নদী পেরিয়ে শহরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর শহরের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘গো নাউ’ অর্থাৎ দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবার রাত পর্যন্ত আগুন ৩ হাজার ৫০০ একরের বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য স্পোকেন কনভেনশন সেন্টারে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়াশিংটন ন্যাশনাল গার্ড উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা পূর্ব ওয়াশিংটনের জন্য ‘রেড ফ্ল্যাগ অ্যালার্ট’ জারি করে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, তীব্র গরম, শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মোদির বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা কেজরিওয়ালের
মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০২, ২০২৬

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি চালুর বিরোধিতা ঘিরে ভারতে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এ নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল।  তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে গিয়ে দুই লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র জমা দেবেন। এ উপলক্ষে রাজধানী দিল্লিতে একটি মিছিলও অনুষ্ঠিত হবে।   শনিবার (১ আগস্ট) আয়োজিত জাতীয় গণশুনানিতে কেজরিওয়াল বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে।    তিনি বলেন, আগামী ৪ আগস্ট দুপুরে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনে আবেদনপত্র পৌঁছে দেবেন। তার সঙ্গে এমন একশ জন থাকবেন, যারা গ্রেফতার বা লাঠিচার্জের ভয় না পেয়ে আন্দোলনে অংশ নিতে প্রস্তুত। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, সরকার যদি নিশ্চিত থাকে যে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি সম্পূর্ণ নিরাপদ, তাহলে জনসম্মুখে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে খোলামেলা আলোচনা আয়োজন করতে পারে। সেখানে সরকার ও বিরোধী পক্ষ নিজেদের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে পারবে। কিন্তু সরকার সেই পথে না গিয়ে সমালোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।   তবে এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়েছে বা বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি ঘটনার প্রমাণ কেজরিওয়ালকে দেখাতে হবে। শুধু অভিযোগ করলেই হবে না। ভারতে ধাপে ধাপে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ানোর সরকারি নীতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এতে অনেক গাড়ির জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং ইঞ্জিনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, এ নীতি পরিবেশবান্ধব এবং বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক।   কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, এ নীতির পেছনে শুধু পরিবেশগত যুক্তিই নয়, অন্য স্বার্থও কাজ করছে। তার দাবি, ইথানল ব্যবসার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই ছেলের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   পাশাপাশি তিনি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সমঝোতার কারণেও সরকার এ নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে কেজরিওয়াল তিনটি দাবি উত্থাপন করেছেন। প্রথমত, দেশের প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি—উভয় ধরনের জ্বালানি রাখার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে গ্রাহক নিজের পছন্দমতো জ্বালানি নিতে পারেন। দ্বিতীয়ত, পেট্রোলের দাম কমাতে হবে। তৃতীয়ত, ইথানলের মূল্যও কমাতে হবে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইথানল ইস্যু এখন শুধু জ্বালানি নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো এ ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।   এদিকে আন্দোলনকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার পুলিশি বাধা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৪ আগস্টের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার ও বিরোধী শিবিরের পালটা-পালটি অবস্থানের মধ্যে এ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কতটা জনসমর্থন পায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসী ঢল ঠেকাতে সিউটায় ভাসমান ব্যারিয়ার বসাচ্ছে স্পেন, সীমান্তে কড়াকড়ি
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০২, ২০২৬

উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটায় (Ceuta) প্রাণঘাতী অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্পেন। মরক্কো সীমান্তবর্তী উপকূলে ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান বাধা (ফ্লোটিং ব্যারিয়ার) স্থাপনের কাজ শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়।   স্পেন সরকার জানিয়েছে, নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর পর রাতভর সিউটায় অবৈধভাবে অভিবাসীদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা সীমান্তে নজিরবিহীন ঘটনা। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   শনিবার রয়টার্সের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার মধ্যে প্রায় জনশূন্য তারাজাল (Tarajal) সৈকতে টহল দিচ্ছেন স্পেনের সেনা ও পুলিশ সদস্যরা।   তারাজাল উপকূলে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তারাজাল ব্রেকওয়াটারে ভাসমান বাধা স্থাপনের কাজ শুরু করে সিভিল গার্ড পুলিশ। এটি সিউটায় প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত।   বাধাটি পানির ওপর ৩০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকবে এবং পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর পাশাপাশি নোঙর করা ভাসমান বয়া (বুই) বসানো হচ্ছে। দুটি বাধার মাঝখানে একটি চ্যানেল রাখা হবে, যাতে সিভিল গার্ডের টহল নৌযান চলাচল করতে পারে।   জরুরি বৈঠক ডাকল ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইইউর ২২টি সদস্য দেশ যৌথভাবে একটি চিঠি দিয়ে বহিঃসীমান্ত সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   বর্তমান ইইউ প্রেসিডেন্সির দায়িত্বে থাকা আয়ারল্যান্ড মঙ্গলবার সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক আহ্বান করেছে।   এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইতালির এক মাসের জন্য স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির আওতায় পাসপোর্টমুক্ত যাতায়াত স্থগিত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।   ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে এ ধরনের স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।’   মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ স্পেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তের স্প্যানিশ অংশ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কেউ সমুদ্রে ডুবে এবং কেউ ব্রেকওয়াটার ও সীমান্তবেষ্টনী টপকানোর সময় পদদলিত হয়ে মারা যান।   কর্তৃপক্ষের মতে, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য অনেক মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় উদ্বুদ্ধ করেছে।   স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা মানবপাচারকারী চক্রকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, এসব চক্র দুর্বল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে।   সিউটা সফরকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তবে সংকট পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘মরক্কো সিউটা বা স্পেনের জন্য কোনো হুমকি নয়। তারা আমাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। গণহারে প্রবেশের বিষয়ে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্যও ছিল না।   আরও পুলিশ চায় সিভিল গার্ড স্পেনের সিভিল গার্ডের ইউনিয়ন (AUGC) জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তত আরও ২০০ অতিরিক্ত সদস্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, নতুন ভাসমান বাধা ঘুরে সাঁতরে প্রবেশ ঠেকাতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।   স্পেন সরকার জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে সিউটায় প্রবেশ করেছেন, তারা মূল ভূখণ্ড স্পেন বা শেনজেন অঞ্চলের অন্য কোনো দেশে যেতে পারবেন না। সিউটা থেকে সমুদ্র বা আকাশপথে বের হওয়ার সময় প্রত্যেক যাত্রীকে পুলিশি পরিচয় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   অন্যদিকে ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় অভিবাসন নীতিতে তুলনামূলক উদার অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটি পাঁচ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতার আওতায় আনার কর্মসূচি চালু করেছে।   তবে সরকারের দাবি, এই কর্মসূচির কারণেই সিউটায় অভিবাসীদের ঢল নেমেছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। কারণ বৈধতার জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীদের ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে থেকেই স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং আবেদনকালে টানা পাঁচ মাস সেখানে অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে হবে।

ছবি: সংগৃহীত
৬ বছর পর ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০১, ২০২৬

প্রায় ছয় বছর বন্ধ থাকার পর কোভিড মহামারি ও সীমান্ত উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে পূর্ব সিকিমের ঐতিহাসিক নাথুলা পাস দিয়ে ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে।     শনিবার (১ আগস্ট) দুই দেশের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়ায় ইন্দো-চীন নাথুলা বর্ডার ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অনিল গুপ্তা সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের বকেয়া বা ওপারে আটকে থাকা পণ্য উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকা ব্যবসায়ীদের মাঝে এর ফলে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। তবে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া ও ভেড়ার পাশাপাশি বর্তমান যুগের বাণিজ্যিক চাহিদা মেটাতে অনুমতিপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ করে শিল্পপণ্য অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।  ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ জন ব্যবসায়ী পাস পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই করছে। এই বাণিজ্যিক পুনরুজ্জীবন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।   সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব: দ্য গার্ডিয়ান প্রতিবেদন
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০১, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্যে ইয়েমেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন আল-বাইদা প্রদেশে স্থল অভিযান চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরে নৌ-অভিযানের প্রস্তুতিও চলছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীর কিছু ইউনিট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের অবরোধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনের চেষ্টা করছে রিয়াদ।   সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটকে সমর্থন জানিয়েছে।   ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর সৌদি অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে।   এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি আরও চাপে পড়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই বাধা তৈরি হওয়ায় সৌদি তেলবাহী জাহাজের জন্য সুয়েজ খালই এখন প্রধান বিকল্প। তবে এটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ।   হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজের পাশাপাশি সৌদি আরবের ভেতরেও একাধিক হামলা চালিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে সৌদি আরব ইরাকে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালায়। এছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরেও সৌদি হামলার খবর পাওয়া গেছে।   ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিমান হামলা ও নৌ অবরোধের জবাবে হুতিরা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনায় সেই স্থিতাবস্থা ভেঙে পড়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি