মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে ২০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন অস্ত্রব্যবস্থা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এ বিষয়ে অবহিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দফতর জানায়, কুয়েত তাদের পরিচালিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরামত সেবা ও যন্ত্রাংশ কিনবে, যার আনুমানিক মূল্য ৪০ কোটি ডলার। পররাষ্ট্র দফতর মিসরের কাছে ২ হাজারের বেশি এফজিএম-১৪৮ জ্যাভেলিন ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং সর্বোচ্চ ২০০টি জ্যাভেলিন লঞ্চ ইউনিট বিক্রির অনুমোদনও দিয়েছে। এর সঙ্গে থাকবে সিমুলেশন রাউন্ড, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ ও মার্কিন সরকারের প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ সহায়ক সরঞ্জাম। এই বিক্রির আনুমানিক ব্যয় ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। তীব্র হচ্ছে সৌদি-হুথি যুদ্ধ, জড়াচ্ছে সিরিয়া-তুরস্ক-পাকিস্তানতীব্র হচ্ছে সৌদি-হুথি যুদ্ধ, জড়াচ্ছে সিরিয়া-তুরস্ক-পাকিস্তান তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রয়ের অনুমোদন পেয়েছে ইউএই। দেশটি সর্বোচ্চ ১০ হাজার অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম-২ (এপিকেডব্লিউএস-২) কিনতে পারবে, যার আনুমানিক মূল্য ১ বিলিয়ন ৪ কোটি ডলার। লেজার-নির্দেশিত এই কিট আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার জন্য ব্যবহার করা যায়। এপিকেডব্লিউএস-২ কিটের মাধ্যমে রকেটকে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তর করা যায়। এগুলো আক্রমণাত্মক হামলায় ব্যবহৃত হয়। তবে আকাশ থেকে আকাশে ব্যবহারযোগ্য সংস্করণ শত্রুর ড্রোন ভূপাতিত করার কম খরচের উপায় হিসেবেও কাজে লাগে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের জেরে ইরান থেকে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে ইউএই। আকাশ থেকে ভূমিতে ব্যবহারযোগ্য সংস্করণ দিয়ে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো যায়। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র এসব অস্ত্র বিক্রির কথা ঘোষণা করে। পররাষ্ট্র দফতর বিবৃতিতে বলেছে, এই সরঞ্জাম ও সহায়তা বিক্রির প্রস্তাব অঞ্চলের মৌলিক সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনবে না। ফরেন মিলিটারি সেলস (এফএমএস) বলতে অন্য দেশের সার্বভৌম তহবিল দিয়ে মার্কিন অস্ত্রব্যবস্থা কেনা বোঝায়। মিসর ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিংয়ের (এফএমএফ) আওতায়ও প্রায় ১৩০ কোটি ডলার পায়, যা কায়রোর পক্ষে মার্কিন করদাতাদের অর্থে অস্ত্র কেনা। ইসরায়েলের সঙ্গে মিসরের চার দশকের পুরোনো শান্তিচুক্তি থেকেই এই ব্যবস্থার সূচনা। ৭ অক্টোবরের পর যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিয়েছে ইসরায়েল৭ অক্টোবরের পর যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিয়েছে ইসরায়েল এফএমএফের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ইসরায়েল, দেশটি বছরে ৩৩০ কোটি ডলার পায়। ইসরায়েলকে দেওয়া সব সামরিক সহায়তা এ হিসাবে ধরা হয়নি। পৃথক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, তিনটি বিক্রিই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যকে সমর্থন করে। দেশগুলোকে তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শক্তি বলেও উল্লেখ করেছে। পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, জ্যাভেলিন বিক্রির জন্য মিসরে মার্কিন ঠিকাদার বা কর্মী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না। ইউক্রেন রুশ ট্যাংকের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। একইভাবে, এই বিক্রির ফলে ইউএইতে স্থায়ীভাবে বাড়তি মার্কিন কর্মী নিয়োগ করা হবে না। তবে পররাষ্ট্র দফতর জানায়, প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির সেবায় পরিচালনা ও নথিপত্র-সংক্রান্ত সহায়তা দিতে অতিরিক্ত পাঁচ জন মার্কিন ঠিকাদার প্রতিনিধি দুই বছরের জন্য কুয়েতে যাবেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের তীব্র হামলার মুখে পড়ার সময় এই নিয়োগ আসছে। কুয়েত ছিল অঞ্চলের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি।
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আদালতে হাজির হচ্ছেন। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখার দাবি জানাবেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার তার নিউইয়র্কের আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। এ বছরের শুরুতে এক গভীর রাতে কারাকাসের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সেই থেকে তারা নিউইয়র্কের কারাগারে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় বছর আগে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে মাদুরো ও সিলিয়াকে। আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন তারা। অপরাধ প্রমাণ হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। মাদুরো-সিলিয়ার আইনজীবীরা মামলা খারিজের আবেদন জানিয়ে আদালতে বলেন, একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও ফার্স্ট লেডি হিসেবে তাদের কূটনৈতিক সুরক্ষার অধিকার রয়েছে। ৬৯ বছর বয়সী সিলিয়া ফ্লোরেসের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। কারাগারে তার উপযুক্ত চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাই নিউইয়র্কের একটি বাসভবনে তাকে গৃহবন্দী হিসেবে থাকার অনুমতি দেওয়া হোক। আইনজীবীরা জানান, মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় দেওয়াল বা ড্রয়ারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আঘাত পেয়েছেন সিলিয়া। ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী থাকা অবস্থায় তার ১১ কেজি ওজন কমে গেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার হৃদ্যন্ত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া তার মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে। গত জুলাইয়ে তার একটি মৃদু হার্ট অ্যাটাকও হয়। তবে সরকারি আইনজীবীরা এই জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে তারা উল্লেখ করেন, সিলিয়া ফ্লোরেসকে মুক্তি দেওয়া হলে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং তিনি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারেন। প্রয়োজনে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তারা। ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে ধরার অভিযানকে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে মাদুরো বলেছেন, তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে এ বছরের শুরুতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাদুরো।
বাহরাইন পাকিস্তান থেকে ১ হাজার ৮৫০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার। বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তান-বাহরাইন যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের কমিশনের তৃতীয় অধিবেশনে এ তথ্য জানান তিনি। বৈঠকে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানিও উপস্থিত ছিলেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির। বাহরাইনের ন্যাশনাল গার্ডে পাকিস্তান থেকে ১ হাজার ৮০০ সেনাসদস্য নিয়োগের জন্য বাহরাইনকে ধন্যবাদ জানান দার। তাদের মধ্যে ৩০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন বলেও জানান তিনি। দার বলেন, পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মীরা বাহরাইনে ভালো কাজ করবেন এবং তাদের শৃঙ্খলাবোধের প্রশংসা করেন তিনি। এ ছাড়া গত ২৪ জুন পাকিস্তান কোস্ট গার্ড ও বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির আওতায় আরও ১৩ কর্মকর্তা ও ৩৭ সেনাসদস্য বাহরাইনের কোস্ট গার্ডে যোগ দিয়েছেন বলে জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়েও আলোচনা বৈঠকে দার ও আল জায়ানি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়েও আলোচনা করেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যকার সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্ব দেন। আগামী বছর পাকিস্তান ও বাহরাইনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি হবে। একই সঙ্গে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনা পাঠাবে না তুরস্ক। বৃহস্পতিবার এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। হাকান ফিদান বলেন, এটি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি। এর মানে হলো, কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে তাদের প্রতিরক্ষায় সাহায্য করা। এটি কোনো আক্রমণাত্মক চুক্তি নয়। তাই অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডে আক্রমণ চালানোর জন্য তুরস্ক নিজের সেনা পাঠাবে না। প্রতিরক্ষার জন্য ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা মূল্যায়ন করতে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সামরিক প্রতিনিধিদল একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানান ফিদান। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করতে তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে রিয়াদের সঙ্গে মিলে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর ব্যাপারে আঙ্কারা প্রথম থেকেই সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। বর্তমানে ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান সমর্থিত হুতিরা। যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
দীর্ঘ প্রতিক্ষা আর নানান প্রতিকূলকতা পেরিয়ে অবশেষে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিলেছে। এর ফলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরও কাছাকাছি পৌছে গেল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার এ অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযুক্ত করার আগে আরও দুটি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনের সেফটি ভালভের (পিওআরভি/পিওএসভি) জটিলতার কারণে অনুমোদনটি আটকে ছিল। রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে নানান কৌশলে সেই সমস্যার সমাধান করেছে এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় এটি উত্তীর্ণ হয়। এর ফলে আগামী ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্র জানায়, রূপপুরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। সেই ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি শুরুর অনুমতি দিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। এখন রিঅ্যাক্টরে একটি স্থিতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবে। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টর একটি স্থির অবস্থা থেকে সক্রিয় অপারেশনাল পারমাণবিক স্থাপনায় রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে ১ হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর আলোচনা হয়। উপ-প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এমনকি প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বৈঠকে বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল ও খেলাধুলার উপযোগী করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন বলেও জানান সুজন মাহমুদ। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ার জোহর বারু এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সালমান সাদিক সাইফ (২৪) নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর রাতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাইফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ছয়বাড়িয়া গ্রামের মো. সাজন মিয়ার ছোট ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোক নেমে এসেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সাইফ ছিলেন সবার ছোট। পরিবারের হাল ধরতে তিনি মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে পণ্য ডেলিভারির কাজ করতেন। সাইফের একমাত্র বোন লিজা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় কাভার্ড ভ্যানে করে পণ্য ডেলিভারি দিতে যাচ্ছিলেন তার ভাই। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে তাদের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে চালক অক্ষত থাকলেও সাইফ গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। লিজা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ছোট ভাইটা এভাবে চলে যাবে ভাবতেও পারছি না। গত কোরবানির ঈদে ছুটিতে দেশে এসে ধুমধাম করে বিয়ে করেছিল সাইফ। বিয়ের এক মাস না যেতেই আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যায়। ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান লিজা। স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ সাইফের স্ত্রী। ছোট সন্তানকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বাবা-মা। সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে চান তারা।
সরকারের সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের প্রতিটি যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট’ আয়োজিত এক শিক্ষক সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মাহ্দী আমিন বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যে সুযোগ-সুবিধা ও অবসর ভাতা দীর্ঘদিন বকেয়া পড়েছিল, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই ২ হাজার কোটি টাকার সংস্থান করে তা পরিশোধের রূপরেখা ও কার্যক্রম শুরু করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় আগামী দিনগুলোতেও শিক্ষক সমাজের সার্বিক কল্যাণ ও স্বার্থকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আগে যেখানে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো, বর্তমান সরকার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে শতাধিক শিক্ষকে উন্নীত করেছে। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সময়ে যেসব শিক্ষক নিপীড়ন সহ্য করেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও মুক্তিকামে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, তাদের উপযুক্ত সামাজিক ও প্রশাসনিক মূল্যায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষকদের প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ করে তুলতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টিচার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, উচ্চশিক্ষা, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গত ১৬ বছরের রাজপথের সংগ্রাম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে শিক্ষকরা গণতন্ত্রের পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং এমপিও চালু, এনটিআরসিএ গঠন, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার মতো যুগান্তকারী সব উদ্যোগ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই বিএনপির হাত ধরে শুরু হয়েছিল। শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিনিধি অংশ নেন। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ প্রমুখ।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা আরও জোরালো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিকট শব্দ শোনা যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হুতিরা দাবি করেছে, রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর দুই পক্ষের সংঘাত আরও বেড়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণে বিলম্ব হয়। রাজধানীর কিং আবদুল্লাহ ফাইন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টের কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলে। কিছু কূটনীতিকও নিরাপত্তা সতর্কতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। রিয়াদের কয়েকটি স্কুল অভিভাবকদের সন্তানদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব সতর্কতার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইয়েমেনে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর সংঘাত তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলের বেশ কিছু এলাকা দখলে নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দাব প্রণালির কাছেও তাদের অবস্থান শক্ত হয়েছে। হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। তবে সংঘাতের বিভিন্ন ফ্রন্টে হুথিরাও অগ্রগতি করেছে। তারা ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজকে ঘিরে ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে সৌদি আরবকে সহায়তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান এগিয়ে এসেছে। তুরস্ক প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। পাকিস্তান সৌদি সীমান্ত রক্ষায় সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি ইয়েমেনে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে সূত্রের বরাতে জানা গেছে। সিরিয়াও সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। তবে দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিজেদের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতিও আরও খারাপ হয়েছে। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
নাসির উদ্দিন
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা আরও জোরালো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিকট শব্দ শোনা যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হুতিরা দাবি করেছে, রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর দুই পক্ষের সংঘাত আরও বেড়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণে বিলম্ব হয়। রাজধানীর কিং আবদুল্লাহ ফাইন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টের কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলে। কিছু কূটনীতিকও নিরাপত্তা সতর্কতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। রিয়াদের কয়েকটি স্কুল অভিভাবকদের সন্তানদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব সতর্কতার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইয়েমেনে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর সংঘাত তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলের বেশ কিছু এলাকা দখলে নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দাব প্রণালির কাছেও তাদের অবস্থান শক্ত হয়েছে। হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। তবে সংঘাতের বিভিন্ন ফ্রন্টে হুথিরাও অগ্রগতি করেছে। তারা ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজকে ঘিরে ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে সৌদি আরবকে সহায়তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান এগিয়ে এসেছে। তুরস্ক প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। পাকিস্তান সৌদি সীমান্ত রক্ষায় সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি ইয়েমেনে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে সূত্রের বরাতে জানা গেছে। সিরিয়াও সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। তবে দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিজেদের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতিও আরও খারাপ হয়েছে। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের হুমকিতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বন্ড ও শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তেল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা যোগ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ-সংকটের ভয় আরও তীব্র হয়েছে। ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের খবর। দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, সম্ভাব্য হামলার পরিধি, লক্ষ্যবস্তু এবং আদৌ হামলা চালানো হবে কি না- এসব বিষয় এখনও আলোচনায় রয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে ধারণা করা হচ্ছিল, আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাত আর বাড়াতে চাইবে না। তবে দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে একটি ‘সীমিত অভিযান’ চালানো হতে পারে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে। হরমুজে জাহাজে হামলা, সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা হামলার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ইতোমধ্যে অষ্টম মাসে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমেছে এবং বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে একাধিক প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই পথে চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবেও উৎপাদন কমার শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তেলের দাম বাড়িয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগরের চলতি মৌসুমের প্রথম হারিকেনে পরিণত হয়েছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘ইসাইয়াস’। ঝড়টি মেক্সিকো উপসাগরের দিকে অগ্রসর হওয়ায় ওই অঞ্চলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তেল কোম্পানি শেল ও শেভরন জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলে তাদের কিছু উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি শুক্রবার অথবা শনিবার স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। ফলে একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন কমার আশঙ্কা- দুই ধরনের ঝুঁকি একই সময়ে তেলের বাজারে চাপ তৈরি করেছে। জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে বিশ্বব্যাপী পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং কোম্পানি মারস্ক জানিয়েছে, তারা সব রফতানি পণ্য সংগ্রহ এবং আমদানি পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে জরুরি জ্বালানি সারচার্জ বাড়াচ্ছে। জ্বালানি ব্যয় বাড়ার ফলে পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে তা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়ানোর পথে যেতে হতে পারে- এমন আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে বন্ড ও শেয়ারবাজারে। বন্ডবাজারেও বিক্রির চাপ বৃহস্পতিবারও বৈশ্বিক বন্ডবাজারে বিক্রির চাপ অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে ঋণের বোঝা ও সরকারি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে ফ্রান্সের বাজারে চাপ ছিল বেশি। ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার বৃহস্পতিবার ৬ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৯৩১ শতাংশে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে এই সুদহার ৪ দশমিক ৯৯৪ শতাংশে উঠেছিল, যা ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। বন্ডের দাম কমলে তার সুদহার বা ইয়িল্ড বাড়ে। ফলে ফ্রান্সের বন্ড ইয়িল্ডের এই বৃদ্ধি দেশটির ঋণ ও সরকারি ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপের ঋণবাজারের অন্যতম প্রধান সূচক জার্মানির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ইয়িল্ডও বৃহস্পতিবার ২ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৩ দশমিক ৫০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি, যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা এবং বাড়তে থাকা পরিবহন ব্যয়—এসব কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম আরও বাড়লে তার প্রভাব মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরুর পর থেকে ১৮৬০ জন হুতি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি করেছে ইয়েমের সৌদি সমর্থিত সরকার। বৃহস্পতিবার ভোরে ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, চলমান ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের অংশ হিসেবে কয়েকটি ফ্রন্টে হুতিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে তারা ২১০৩টি ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান’ পরিচালনা করেছে। সৌদি আরব সমর্থিত ইয়ামেন সরকার আরও জানিয়েছে, তাদের বাহিনী পশ্চিম তাইজ অঞ্চলের উপকূল পর্যবেক্ষণকারী কৌশলগত পাহাড়ি অবস্থানগুলো দখল করে নিয়েছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রশাদ আল-আলিমি গত রবিবার ইরান সমর্থিত গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণ থেকে রাজধানী সানাসহ সমস্ত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে এই ‘ডন অব ইয়ামেন’ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। ২০১৪ সাল থেকে সানা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের যুদ্ধ মূলত বাবেল মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকাগুলোতে কেন্দ্রভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের কারণে প্রণালিটিতে বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ার পর থেকে এই জ্বালানি রপ্তানি রুটটির গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। গত মাসে হুতিদের দখলে নেওয়া মোখা শহর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিকটের কৌশলগত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে গত মঙ্গলবার একটি নতুন অভিযান শুরু করে ইয়েমেনি সরকার সমর্থিত যৌথ বাহিনী। সূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধ বন্ধ এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে নিজেদের শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপদ নৌপথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কথাও জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধ করা এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইরানের অবস্থান ও শর্ত পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে। অন্য পক্ষের প্রস্তাবের বিষয়ে প্রয়োজনীয় জবাব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দেওয়া হবে।’ ইরানি এই কর্মকর্তা আরও জানান, ওমানের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা ভালোভাবেই এগিয়েছে। দুই দেশ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের ভৌগোলিক সীমারেখা নিয়েও একমত হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থায় কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান বাঘেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথ হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে যেকোনো সমঝোতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তথ্যসূত্র: মেহের
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।