সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্যামিলি কার্ডে দুর্নীতি করলে ছাড় দেওয়া হবে না: ডেপুটি স্পিকার

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, আমি নির্বাচনের আগেও পকেটে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ঘুরেছি এবং স্পষ্ট বলেছিলাম—কার্ড নিয়ে দুর্নীতি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। আজও সতর্ক করছি, এবারও ব্যত্যয় ঘটলে ছাড় দেওয়া হবে না, সোজা চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেতে হবে।     রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি-২০২৬’ এবং ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ-২০২৬’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।       ডেপুটি স্পিকার বলেন, পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। পূর্বে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে কাজ না করলেও তাদের সততার অভাব ছিল। যে কারণে তারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারেননি। অতীতে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের সময় দেখা গেছে, সুবিধা পাওয়ার কথা যাদের, তাদের না দিয়ে বিল্ডিংয়ে বসবাসকারী স্বচ্ছল ব্যক্তি বা বিবাহসূত্রে অন্য উপজেলায় চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।     তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কলমাকান্দা-দুর্গাপুরবাসীকে অত্যন্ত ভালোবাসেন বলেই প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলক যে ২-৩টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়েছিল, তার মধ্যে কলমাকান্দাকে রেখেছিলেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রাহকদের অনিয়মের কারণে এই ভালোবাসার অপব্যবহার হয়েছিল। বিষয়টি ঢাকায় তুলে ধরার পর প্রধানমন্ত্রী তা আমলে নেন এবং তথ্য সংগ্রহের পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা লেংগুড়াতে এসে দুদিন অবস্থান করে মাঠপর্যায়ের সমস্যা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন।         তথ্য সংগ্রাহকদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এবার তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করতে হবে একদম ছাঁপরা ঘর বা গৃহহীন অসহায় মহিলাদের বাড়ি থেকে। পর্যায়ক্রমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নাম তালিকায় আনতে হবে। ভুলবশতও যেন শুরুতেই বিল্ডিং বা হাফ-বিল্ডিংয়ের অধিবাসীদের নাম না দেওয়া হয়। যদিও সরকারের প্যাকেজে প্রতিটি নাগরিকেরই কার্ড পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তবে অগ্রাধিকার পাবে অসচ্ছল মানুষ।     মাঠপর্যায়ের গাফিলতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে বলা হয়েছিল, তথ্য সংগ্রাহকেরা এমন বাড়িতে যান যেখানে বসে এক কাপ চা বা নুডুলস খাওয়া যায়। কিন্তু দরিদ্রের কুঁড়েঘরে বসতে পারবেন না বলে সেখানে যান না। এবার এই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই। সর্বশেষ দরিদ্র ব্যক্তিটির কাছে আগে যেতে হবে।     দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, সরকার আপনাদের কষ্টের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানী দিচ্ছে। এর বাইরে কোনো দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি করলে দুটিই সমান অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আমি নির্বাচনের আগেও পকেটে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ঘুরেছি এবং স্পষ্ট বলেছিলাম—কার্ড নিয়ে দুর্নীতি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। আজও সতর্ক করছি, এবারও ব্যত্যয় ঘটলে ছাড় দেওয়া হবে না, সোজা চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেতে হবে।         উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।

৩ ঘন্টা আগে
ব্যান্টনের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড

টম ব্যান্টনের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, হ্যারি ব্রুক ও জর্ডান কক্সের ঝোড়ো ব্যাটিং—সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড।       লন্ডনের ওভালে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে ২২৩ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ইংলিশরা।       ওয়ানডেতে এটিই লঙ্কানদের বিপক্ষে তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়।     টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বেন ডাকেটকে হারায় ইংল্যান্ড। তবে এরপর জো রুটকে নিয়ে ৬২ রানের জুটি গড়েন ব্যান্টন। রুট ১৮ রানে ফিরলেও ব্যান্টনকে থামানো যায়নি।       হ্যারি ব্রুককে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ১৫০ রান যোগ করেন তিনি।     ৯৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা ব্যান্টন শেষ পর্যন্ত ১০৫ বলে ১২৬ রানে থামেন। তার ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও ৫টি ছক্কা। ব্রুক করেন ৭৭ রান।       শেষ দিকে জর্ডান কক্সের ৭৬ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৫৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ইংল্যান্ড। জবাবে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ২৯.১ ওভারে মাত্র ১৩২ রানে অলআউট হয় তারা। সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস। ইংল্যান্ডের লিয়াম ডসন ২৬ রানে ৩টি এবং গাস অ্যাটকিনসন ২৬ রানে নেন ২ উইকেট।

৩ ঘন্টা আগে
সাপকে বিশ্বাস করা গেলেও জামায়াতকে যায় না: ফজলুর রহমান

সাপকে বিশ্বাস করা গেলেও জামায়াতকে বিশ্বাস করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির বলেছিলেন বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবেন, অথচ সারা পৃথিবী বলে জামায়াতের মতো মুনাফেক দল পৃথিবীতে আর সৃষ্টি হয়নি।       রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নাশকতা, নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাসের প্রতিবাদে নানারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।       দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ফজলুর রহমান বলেন, বিএনপিকে এবং তারেক জিয়াকে ক্ষমতায় রাখতে চাইলে নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও ক্ষমতার দাপট দেখানো বন্ধ করতে হবে, কারণ বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সচেতন। বিগত দুই বছরে কিছু ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা থেকে তওবা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারেক রহমান কখনো মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারেন না; তাই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে তার পাশে দাঁড়াতে হবে।

৩ ঘন্টা আগে
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা

এক ম্যাচ হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৩২ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকেরা।     তিন ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা এখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে।     টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই জশ হ্যাজলউডের বলে শূন্য রানে ফিরেছিলেন এইডেন মার্করাম। তবে এরপর ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা।     টেম্বা বাভুমা ও ডেভিড মিলারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ পায় তারা।       বাভুমা ১১৬ বলে ১০৩ রান করেন। মিলার ছিলেন আরো ভয়ংকর। মাত্র ৯৩ বলে ১৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ১২টি চার ও ৯টি ছক্কা মারেন তিনি।     শেষ দিকে ডুয়ান ইয়ানসেনের ২৭ রানের ক্যামিওতে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৬৫ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে উড়ন্ত সূচনা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের ব্যাটে ১৩০ রানে পৌঁছে যায় তারা। দুজনই করেন ৮৪ রান। তবে তাদের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা।       শেষ দিকে জাভিয়ার বার্টলেট ২৬ বলে ৫০ রান করে আশা জাগালেও তা যথেষ্ট হয়নি। ৪৯.৫ ওভারে ৩৩৩ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার লিজাড উইলিয়ামস নেন ৩ উইকেট। ম্যাচসেরা হন ১৪২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা মিলার।     সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে আগামী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পচেফস্ট্রুমে।

৩ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
পর্যটনশিল্পকে আধুনিক ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা সরকারের অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।   ২৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আজ শনিবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যটন শুধু অবকাশযাপনের সুযোগ নয়; এটি কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।’   এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, পর্যটন পেশাজীবী ও উদ্যোক্তা, দেশ-বিদেশের পর্যটক এবং দেশের সর্বস্তরের পর্যটনপ্রেমীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।   পর্যটন দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আগামীর পর্যটন’-পর্যটনের ভবিষ্যৎ রূপান্তরের দিকনির্দেশনা তুলে ধরে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা ও স্মার্ট প্রযুক্তি পর্যটনসেবা আরো ব্যাপক, সহজ, নিরাপদ ও ব্যক্তিকেন্দ্রীক করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।   বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনি ইশতেহারে পর্যটনকে একটি আধুনিক ও ভূমি-সাশ্রয়ী সেবাখাত হিসেবে বিকশিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালার আধুনিকায়ন এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বর্তমানে সরকার সকল অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে চলছে।   তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে দেশের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে ৩০টিরও বেশি জেলায় পর্যটন ক্লাস্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিউনিটি, ইকো, গ্রামীণ, কুলিনারি, নদী ও উপকূলীয় পর্যটনের বিকাশ ঘটিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে আধুনিক হোটেল, বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটন আকর্ষণ গড়ে তোলার কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের পর্যটন ব্যবসা এবং নতুন পর্যটন স্টার্টআপের জন্য নীতিগত সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্প্রসারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি বিস্তৃত জাতীয় বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বাংলাদেশে আসা-যাওয়া আরো সহজ করবে। উচ্চমূল্য সংযোজনকারী হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদন কেন্দ্রসহ কম ভূমিনির্ভর সেবাখাতের প্রসারের মাধ্যমে সীমিত ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটনশিল্প ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্য পূরণে অবদান রাখবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ নারী, তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে। পর্যটনের বিকাশ হতে হবে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উপকূলীয় ও প্রাকৃতিক পর্যটনে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার, বেসরকারি খাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’   প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘কোর কমিটি’ সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।   এ বিষয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের নিরাপত্তা শাখা-২ থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। পরে ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর থেকেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘কোর কমিটি’ সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী সারা দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।   এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনা অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়।   ডিএমপির চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোর কমিটির সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী- সারা দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।  

ছবি: সংগৃহীত
মিরসরাইয়ে ক্যামিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ আগুন

চট্টগ্রামের মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীতে ‘নাছির কারখানা’ নামে একটি ক্যামিক্যাল কারখানায় বিকট শব্দে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।   শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ওয়ারলেস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কারখানায় ক্যামিক্যাল থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।   মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা হ্লা মারমা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।   এদিকে কারখানায় আগুন লাগার পর নাছির কারখানার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারে আসছে আন্তর্জাতিক পাঁচ তারকা ইকো-রিসোর্ট, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ৫০০ মিলিয়ন ডলার

মালয়েশিয়ার  ধনকুবের ও শীর্ষ  হোটেল- রিসোর্ট  ব্যবসায়ী তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো, মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি এবং পর্যটন মন্ত্রী আহমেদ আদিব ও ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। বাংলাদেশের পর্যটন খাতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ তারকা পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।                                                                                                                                                                          এ লক্ষ্যে কুয়ালালামপুরের পুলম্যান হোটেলে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট  ব্যবসায়ী তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো, মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিব এবং ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান।   প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে একটি বৃহৎ টেকসই ও বিলাসবহুল পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে একটি যৌথ বিনিয়োগ কোম্পানি গঠন করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।   আন্তর্জাতিক হোটেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্বের উদ্যোগ: প্রস্তাবিত প্রকল্পের আন্তর্জাতিক পরিচালনা ও ব্র্যান্ড অংশীদারিত্বের জন্য মুভেনপিক, নভোটেল ও গ্র্যান্ড হায়াত-সহ বিশ্বখ্যাত হোটেল ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা প্রক্রীয়াধীন এবং  বাণিজ্যিক আলোচনার পর চূড়ান্ত হোটেল ব্র্যান্ড ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে।   প্রস্তাবিত অবকাশকেন্দ্রে বিলাসবহুল হোটেল ও ভিলা, আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরাঁ, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র, বিনোদন সুবিধা এবং প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।   মালয়েশিয়ার হোটেল খাতের অভিজ্ঞতা: তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো মালয়েশিয়ার হোটেল ও পর্যটন খাতের একজন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও একাধিক বিশ্বমানের ব্রান্ডেড হোটেলের প্রতিষ্ঠাতা।তাঁর সঙ্গে ফোর সিজনস কুয়ালালামপুর, কনকর্ড হোটেল, কাসা ডেল মার লাংকাউই, কাসা ডেল রিও মালাক্কা, জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট রিসোর্ট, হার্ড রক হোটেল পেনাং এবং হার্ড রক ক্যাফে-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও অবকাশকেন্দ্র উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠায় সম্পৃক্ততা রয়েছে।   সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর তান শ্রী জোজো বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটন খাতের একটি নতুন অধ্যায়ের অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত। কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ তারকা পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা আমাদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং বিনিয়োগ বান্ধব।”   তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও  কাজে লাগাতে চান।   মালদ্বীপের পর্যটন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে: মালদ্বীপের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিব তাঁর দীর্ঘ সরকারি ও পর্যটন খাতের অভিজ্ঞতা এই প্রকল্পে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগকে তিনি  সময়ের সঠীক সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্তব্য করেন।   তিনি বলেন, “মালদ্বীপের পর্যটন উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগানোর এটি একটি অসাধারণ সুযোগ। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমি আমার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই উদ্যোগে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”   ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান বলেন, “বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আনা এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব এবং দেশপ্রেমের অংশও বটে। তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আদিবের মতো আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদার হতে আগ্রহী—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।”   তিনি বলেন, “আমরা শুধু একটি হোটেল নির্মাণ করতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য কক্সবাজারে এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র তৈরি করা, যা বাংলাদেশের পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দেশী ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরবে।” প্রস্তাবিত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, বিস্তারিত পর্যালোচনা, স্থান নির্বাচন, সরকারি অনুমোদন এবং চূড়ান্ত বিনিয়োগ চুক্তির ওপর নির্ভরশীল।   কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য একটি বিশ্বমানের টেকসই বিলাসবহুল পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ছবি: সংগৃহীত
হ্যাকারদের হাতে এফবিআই কর্মীদের গোপন চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংবেদনশীল চিকিৎসা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গোপনীয় রেকর্ড চুরির দাবি করেছে কুখ্যাত হ্যাকিং দল ‘শাইনিহান্টার্স’।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সাইবার হামলায় এফবিআইয়ের কর্মী ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দাদের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত মূল্যায়নপত্র হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে এফবিআইয়ের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইট হ্যাক করে প্রায় ২ থেকে ৩ টেরাবাইট ডেটা চুরির ঘোষণা দেয় ওই হ্যাকিং দল।   হ্যাকারদের প্রকাশিত নথিপত্রের একটি অংশ আংশিকভাবে সত্য বলে যাচাই করেছে রয়টার্স। নথিতে থাকা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং চিকিৎসা পরীক্ষার তারিখগুলো যাচাই করে সেগুলোর সত্যতা মিলেছে। ফিজিক্যাল ফিটনেস পরীক্ষার এসব নথিতে প্রার্থীর দৈনন্দিন ওষুধ সেবন, বিভিন্ন অ্যালার্জি, ইসিজি পরীক্ষার ফলাফল এবং এমনকি সম্ভাব্য কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যগত মূল্যায়নের বিস্তারিত তথ্যও রয়েছে।   এই ঘটনাকে আমেরিকার জন্য একটি গুরুতর প্রতি-গোয়েন্দা ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা এবং নেক্সাসিউর এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা এরিক ও’নেইল জানিয়েছেন, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত এই ডেটাগুলো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে। বিশেষ করে রুশ গোয়েন্দারা এই সংবেদনশীল তথ্য পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।   এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এফবিআই। তবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সাইবার হামলার ঘটনা অত্যন্ত কঠোর ও আগ্রাসীভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এর আগে গত মে মাসে এফবিআই জানিয়েছিল যে শাইনিহান্টার্স প্রায়ই তাদের সাইবার অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে প্রচার করে। তবে বর্তমান এই নথিপত্র ফাঁসের ঘটনা মার্কিন নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   সূত্র: রয়টার্স 

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জাপানে জামাইকেই দত্তক নিয়ে উত্তরসূরি বানায় অনেক পরিবার
আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

জাপানে মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে পরিবারের ছেলে ও ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি করার একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও আইনি প্রথা রয়েছে। ‘মুকোয়োশি’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বিয়ের পর স্ত্রীর পরিবারে দত্তক হয়ে পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন।   বিশ্বের অনেক দেশে দত্তক নেওয়ার বিষয়টি মূলত শিশুদের ঘিরে হলেও জাপানে প্রাপ্তবয়স্কদের দত্তক নেওয়ার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির মোট দত্তকের বড় অংশই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে।   সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের এ ধরনের দত্তক প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়। তবে এর পেছনে শুধু পারিবারিক সম্পর্ক নয়, অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা ও উত্তরাধিকার ধরে রাখার পরিকল্পনাও কাজ করে।   ছেলে না থাকলে জামাইই উত্তরসূরি জাপানের বহু পুরোনো পারিবারিক ব্যবসা প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই পরিবারের মালিকানায় পরিচালিত হয়ে আসছে। কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে বা পরিবারের নিজস্ব সন্তানকে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত মনে না হলে অন্য একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নেওয়ার পথ বেছে নেওয়া হতে পারে। মেয়ের স্বামীকে এভাবে দত্তক নিলে তিনি স্ত্রীর পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন। একই সঙ্গে পরিবারের ব্যবসা, সম্পদ ও উত্তরাধিকার ব্যবস্থার অংশ হয়ে ওঠেন। ফলে একজন জামাই পারিবারিকভাবে ছেলের মর্যাদা পাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যবসার নেতৃত্বও নিতে পারেন।   ‘মুকোয়োশি’ প্রথার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পদবি ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। বিশেষ করে পুরুষ উত্তরসূরি না থাকলে মেয়ের স্বামীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ঐতিহ্য ও সম্পদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। জাপানের বেশ কিছু পরিচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাসেও এ ধরনের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার নজির রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশনের সাবেক প্রধান ওসামু সুজুকিও মুকোয়োশি প্রথায় পরিবারে আসা একজন দত্তক ঘরজামাই ছিলেন। নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।   ব্যবসার বাইরেও রয়েছে ব্যবহার মুকোয়োশি শুধু পারিবারিক ব্যবসার উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিঃসন্তান দম্পতিরা সম্পত্তি ও পারিবারিক দায়িত্ব ভবিষ্যতে কার হাতে থাকবে, তা নিশ্চিত করতেও প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে দত্তক নিতে পারেন। জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে দত্তক প্রক্রিয়াটি নিবন্ধিত হয়। দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যক্তি নতুন পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন এবং জন্মসন্তানের মতোই উত্তরাধিকার ও পারিবারিক দায়িত্ব লাভ করেন। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্বও তার ওপর বর্তাতে পারে।   বিদেশিরাও কি মুকোয়োশি হতে পারেন? নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশিরাও প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে জাপানি পরিবারের দত্তক সন্তান হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটির নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া নয়। নাগরিকত্ব ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়গুলো আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।   কমছে জন্মহার, গুরুত্ব পাচ্ছে উত্তরাধিকার পরিকল্পনা জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ার সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসার উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নটিও নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান থাকলেও উপযুক্ত পুরুষ উত্তরসূরি নাও থাকতে পারে। আবার সন্তান ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বা সক্ষম নাও হতে পারেন।   এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের দীর্ঘদিনের ব্যবসা চালিয়ে নিতে উপযুক্ত জামাইকে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এমনকি উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে দেওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক উত্তরাধিকার বিবেচনায় ম্যাচমেকিং সেবারও অস্তিত্ব রয়েছে। তবে আধুনিক জাপানে মুকোয়োশি প্রথা নিয়ে নতুন আলোচনাও রয়েছে। নারীরা এখন ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে বেশি সক্রিয় হওয়ায় শুধু পুরুষ উত্তরসূরি খোঁজার ঐতিহ্যগত ধারণার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তারপরও মুকোয়োশি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। জাপানে এটি একই সঙ্গে পরিবার, বিয়ে, ব্যবসা, সম্পদ ও উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্ত একটি ঐতিহাসিক সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থা হিসেবে টিকে আছে।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ঝড়ের তাণ্ডব, বিদ্যুৎহীন হাজার হাজার মানুষ
মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হেনেছে মৌসুমের প্রথম শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় নর'ইস্টার। ঝড়ের প্রভাবে নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, ডেলাওয়্যার এবং নিউইয়র্কসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিরাজ করছে চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া।    প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ইতিমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন এবং বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক বন্যা।   জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৬৫ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর ফলে গাছপালা উপড়ে পড়া এবং রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিউ জার্সির সার্ফ সিটি ও মানাসকুয়ানসহ বেশ কিছু নিচু এলাকার রাস্তাঘাট ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং জরুরি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।   ঝড়ের কারণে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বোস্টন, নিউইয়র্ক, নান্টাকেট ও মার্থাস ভিনইয়ার্ড বিমানবন্দরগুলোতে শত শত ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে জনপ্রিয় গায়ক এড শিরানের নির্ধারিত কনসার্ট এবং বোস্টন রেড সক্সের খেলার সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শরৎকালের এই শুরুতে গাছগুলোতে পর্যাপ্ত পাতা থাকায় বাতাসের প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি কাজ করছে, যা গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন ভেঙে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 

হান ঝেং। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিন চালাবে ফিলিস্তিনিরাই: চীন
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা উত্তেজনার মাঝে ফিলিস্তিনিরাই ফিলিস্তিন শাসন করবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে চীন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে এই বার্তা দিয়েছেন দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেং।    তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জাতিসংঘ বা নিরাপত্তা পরিষদের নিয়ম ভেঙে একা একা কোনো দেশের ওপর হামলা চালানো অন্যায়। এর চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে সব ঝগড়া মেটানোই বুদ্ধিমানের কাজ। বড় দেশগুলো যদি আইন মেনে চলে, তবেই কেবল বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখা সম্ভব।   মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হান ঝেং বলেন, উপসাগরের দেশগুলোর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে সবার সম্মান করা উচিত। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিকঠাক রাখতে পণ্যের সরবরাহ চেইন সচল রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।   ফিলিস্তিন ও গাজার মানুষের ভাগ্য নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, ফিলিস্তিনের মানুষ নিজেরাই নিজেদের দেশ চালাবে। এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিম তীরের উন্নতি ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন কাজ এগিয়ে নিতে হবে। এই সংকটের চিরস্থায়ী সমাধানের একমাত্র পথ হলো যত দ্রুত সম্ভব দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ফর্মুলায় ফিরে যাওয়া।   বিশ্বের বাকি প্রান্তে চলা অশান্তি নিয়েও কথা বলেছেন চীনের এই নেতা। ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতে চীন নিজের মতো করে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে কিউবার ওপর থেকে সব ধরনের অন্যায় নিষেধাজ্ঞা ও হুমকি অবিলম্বে তুলে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।   প্রযুক্তির দুনিয়া নিয়ে বলতে গিয়ে হান ঝেং জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার যেন মানুষের ভালোর জন্যই হয়। ধনী-দরিদ্রের ডিজিটাল দূরত্ব ঘুচিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ছবি: সংগৃহীত
হুতিদের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে গোয়েন্দা যুদ্ধ
মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্টে হুতিদের অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার পেছনে শুধু তাদের জনবল বা সামরিক শক্তি দায়ী নয়; বরং রাশিয়া ও ইরানের সমন্বিত গোয়েন্দা ও কমান্ডব্যবস্থার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো এখন সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী কাজে লাগাতে শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়েছে এক সামরিক বিশ্লেষণে।   বিশ্লেষণটিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা তথ্য (জিওইন্ট) ও সিগন্যাল গোয়েন্দা তথ্য (সিগইন্ট) ইরানের নেতৃত্বাধীন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার (সি২) সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। পরে এসব তথ্য হুতিদের সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়।   একই সঙ্গে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে তারিক সালেহের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের (এনআরএফ) ভেতরে মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।   এর ফলে পশ্চিম উপকূলীয় ফ্রন্টে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, সেনা মোতায়েন ও কমান্ড কাঠামোর দুর্বলতা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিল। সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েই হুতিরা অগ্রসর হতে পেরেছিল বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে।   মহাকাশ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র বিশ্লেষণটির লেখক দাবি করেছেন, তার তৈরি ‘প্রজেক্ট অরোরাহ’ নামের একটি জিওইন্ট ও সিগইন্ট ফিউশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সময় সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ইরাক, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের ওপর রাশিয়ার সামরিক নজরদারি কার্যক্রম শনাক্ত ও ধারাবাহিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল।   তার দাবি, ওই প্রকল্পের একটি বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত অংশ রাশিয়ার কক্ষপথভিত্তিক গোয়েন্দা কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত বহুসেন্সর ব্যবস্থা হিসেবে পুনর্গঠন করে। এর মাধ্যমে ইরান কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনায় নির্ভুল হামলার আগে গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যায়।   বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার এখন শুধু নজরদারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং হামলা চালানোর আগেই বাহিনীর অবস্থান, চলাচলের পথ, সদর দফতর ও রসদ সরবরাহের পরিবর্তন সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র তৈরিতে এসব তথ্য ব্যবহৃত হচ্ছে।   একাধিক স্যাটেলাইট, একীভূত গোয়েন্দা তথ্য একটি মাত্র স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের তথ্য সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করাই এই ব্যবস্থার বড় সুবিধা বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে কোথায় কোন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে বা তাদের গতিবিধি কী, তা বোঝা যায়। অন্যদিকে সিগন্যাল গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক সংকেত, কমান্ড কাঠামো ও যোগাযোগের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।   ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় রাশিয়ার স্যাটেলাইটভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য কীভাবে ইরানের নির্ভুল হামলার সক্ষমতা বাড়িয়েছে, ইয়েমেনের ক্ষেত্রেও সেই মডেল ব্যবহৃত হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে।   ইয়েমেনে গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে মানবসূত্রের সমন্বয় ইয়েমেনে এই গোয়েন্দা তথ্যকে কার্যকর সামরিক সুবিধায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।   রাশিয়া থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে হুতিদের নিজস্ব মাঠপর্যায়ের তথ্য এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের ভেতরে থাকা মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তথ্য একত্র করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে তারিক সালেহের বাহিনীর কমান্ড কাঠামো কীভাবে কাজ করছে, কোন সদর দফতর কার্যকর রয়েছে, কোথায় বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে এবং কোথায় যোগাযোগ ও কমান্ডে ঘাটতি রয়েছে- এসব শনাক্ত করা সম্ভব হয় বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।   এর ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড (জেএফসি) এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মধ্যে সমন্বয়ের দুর্বল জায়গাগুলো হুতিরা কাজে লাগাতে পেরেছিল।   ভুল তথ্যেই ভেঙে পড়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্ট বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে মূল সমস্যা ছিল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ভেঙে পড়া।   একদিকে জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের সদর দফতর ও ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের কিছু ইউনিটের মধ্যে একটি কমান্ড চ্যানেল ছিল। অন্যদিকে এসব ইউনিটের নিজেদের মধ্যে এবং তাদের ঊর্ধ্বতন কমান্ডের সঙ্গে আরেকটি যোগাযোগব্যবস্থা ছিল। দুটি ব্যবস্থাই যখন অবিশ্বস্ত হয়ে পড়ে, তখন নিচের দিক থেকে ভুল তথ্য ওপরে যেতে থাকে এবং ওপর থেকে বিভ্রান্তিকর বা বিকৃত নির্দেশ নিচের দিকে পৌঁছাতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে।   একজন এনআরএফ কমান্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখার নির্দেশ পাওয়ার পরও সেখান থেকে সরে যান বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেক কমান্ডার দাবি করেন, একটি ইয়েমেনি সামরিক ইউনিট বিমানঘাঁটি ছেড়ে গেছে। পরে দেখা যায়, ওই ঘাঁটিতে তখনও সেনাসদস্যরা অবস্থান করছিলেন। ফলে নিজেদের বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে কমান্ডারদের কাছে ভুল তথ্য পৌঁছায় এবং হামলায় হতাহতের ঝুঁকি বাড়ে।   মোখা এলাকায় মোতায়েন সৌদি বিশেষ বাহিনীর একটি ইউনিট প্রথম বুঝতে পারে যে, মাঠপর্যায়ে বাহিনীর প্রকৃত অবস্থান এবং কমান্ড সিস্টেমে থাকা তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।   বিমান হামলাতেও তৈরি হয় সংকট সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী হামলার প্রস্তুতি নিলেও নিজেদের সেনাদের অবস্থান নিশ্চিতভাবে জানা না থাকায় বিমানশক্তি অবাধে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।   সমস্যা আরও বাড়ে যখন এনআরএফ-এর কয়েকটি ব্রিগেড সক্রিয় করার সময় দেখা যায়, নিবন্ধিত সদস্যদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই দায়িত্বে হাজির হননি। অথচ এর আগে জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড কয়েক মাস ধরে এসব সদস্যের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন, বেতন পুনর্বহাল এবং বাহিনী পুনর্গঠনের কাজ করেছিল।   গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র জাবাল আল-নারকে ঘিরে সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়ার পর এনআরএফ-এর কয়েকটি ইউনিট হুতিদের প্রধান বাহিনী সেখানে পৌঁছানোর আগেই নিজেদের অবস্থান ছেড়ে দেয় বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে।   মোখার ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা মোখা এলাকার এই ব্যর্থতাকেই এখন সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর জন্য বড় শিক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি-ইয়েমেনি এবং সৌদি-পাকিস্তানি যৌথ টার্মিনাল অ্যাটাক কন্ট্রোলার (জেটিএসি) দলগুলো এখন উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ইউনিটগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো মাঠপর্যায়ের বাহিনী এবং জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের হামলা-ব্যবস্থার মধ্যে একটি যাচাইকৃত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা।   একই সঙ্গে সৌদি অপারেশনাল মেন্টরিং অ্যান্ড লিয়াজোঁ টিম (ওএমএলটি) ইয়েমেনি বাহিনীগুলোর জনবল, অবস্থান ও যুদ্ধপ্রস্তুতি স্বাধীনভাবে যাচাই করছে বলে দাবি করা হয়েছে।   নির্দেশের ইতিবাচক যাচাই, পৃথক ও নিয়ন্ত্রিত তথ্যপ্রবাহ এবং বিকল্প এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে মোখায় যে, দুর্বলতাগুলো প্রকাশ পেয়েছিল, সেগুলোও কমানোর চেষ্টা চলছে।   আগেও একই কৌশল ব্যবহার করেছে সৌদি আরব বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সৌদি আরব এর আগে ভিন্ন এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছে।   ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের সামরিক কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স দক্ষিণ ইয়েমেনে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে দুর্বল করে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে।   মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ ও লক্ষ্য নির্ধারণের ব্যবস্থাও সচল রাখা হয়েছিল। ফলে বাহ্যিক সহায়তার স্তরটি দুর্বল হয়ে পড়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতসমর্থিত ইউনিটগুলো দ্রুত নিজেদের কার্যক্ষমতা হারায় এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানের চাপে পিছু হটে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।   হুতিদের ব্যবস্থাও এখন ঝুঁকির মুখে হুতিদের সহায়তা করা রাশিয়া-ইরানের গোয়েন্দা ও কমান্ডব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত হলেও এর মধ্যেই বড় দুর্বলতা রয়েছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।   এই ব্যবস্থার জন্য নিরাপদ যোগাযোগ, বিশেষজ্ঞ জনবল, গোয়েন্দা তথ্য একীভূত করার কেন্দ্র, কারিগরি পরামর্শক এবং সানা ও যুদ্ধক্ষেত্রের সদর দফতরগুলোর মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ প্রয়োজন।   এসব সংযোগের কোনও একটি স্তর ভেঙে পড়লে পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। বিশ্লেষণটির দাবি, এসব দুর্বলতাকেই এখন লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।   সানায় হুতিদের শীর্ষ কমান্ডে বড় ধাক্কার দাবি ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে ইরান-সমর্থিত হুতিদের শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে।   এতে অন্তত দুই মেজর জেনারেল, সাত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং ৩২ কর্নেলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হুতি সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সহকারী, স্টাফ ও যোগাযোগব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   এছাড়া মেজর জেনারেলের চেয়েও উচ্চপদমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি ব্যক্তিদেরও নিষ্ক্রিয় করা হয়ে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এসব তথ্যের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি এবং স্বাধীনভাবে যাচাইও সম্ভব হয়নি।   সংখ্যা নয়, কমান্ডব্যবস্থার ওপর আঘাতই গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণের মতে, হতাহতের সংখ্যা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কমান্ড কাঠামোর ওপর এর প্রভাব।   সামনের সারির কমান্ড দুর্বল করার পাশাপাশি সানায় হুতিদের উচ্চপর্যায়ের সদর দফতরগুলোতেও ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সামরিক অভিযান পরিচালনার মধ্যকার সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে।   সদর দফতরগুলো স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হলে, বেঁচে থাকা কমান্ডাররা অধীনস্থ ইউনিটের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করলে এবং ইরানি উপদেষ্টারা বিকল্প যোগাযোগপথ তৈরি করলে নতুন নতুন যোগাযোগ ও অবস্থানগত সংকেত তৈরি হয়। এগুলো শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে।   কেন পশ্চিম উপকূলে আগের গতি ফিরছে না এই কারণেই হুতিদের পশ্চিম উপকূলীয় ফ্রন্টের মতো দ্রুত অগ্রগতি এখন আর দেখা যাচ্ছে না বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।   যে কমান্ড ও যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হুতিরা আগে সাফল্য পেয়েছিল, সেগুলো সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী এখন শক্তিশালী করছে। বিপরীতে হুতিদের নিজেদের বহিরাগত সহায়তাপ্রাপ্ত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।   অর্থাৎ পশ্চিম উপকূলের ব্যর্থতা সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর জন্য স্থায়ী দুর্বলতা হয়ে থাকেনি; বরং সেটি এখন তাদের সামরিক কৌশল পরিবর্তনের বড় শিক্ষা হিসেবে কাজ করছে।   বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের সামরিক সমীকরণ ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড কমান্ড, যোগাযোগ, গোয়েন্দা ও যুদ্ধ সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবস্থা-অর্থাৎ সি৬আইএসআর- উন্নয়নে জোর দিয়ে আসছে। লক্ষ্য নির্ধারণ এবং গোয়েন্দা তথ্য থেকে দ্রুত হামলা চালানোর সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে।   একই সময়ে হুতিদের দীর্ঘদিনের হামলা ও সামরিক চাপ সৌদি আরবের এতদিনের সংযত নীতির সীমাও ক্ষয় করেছে বলে বিশ্লেষকের মত।   ফলে বড় ধরনের সৌদি নেতৃত্বাধীন স্থল, আকাশ ও নৌ অভিযান শুরু হলে তা এমন এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হতে পারে, যার বহিরাগত কমান্ড ও গোয়েন্দা সহায়তা এরই মধ্যে চাপের মুখে রয়েছে।   নির্ণায়ক হয়ে উঠছে ‘গোয়েন্দা যুদ্ধ’ বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য হলো, হুতিদের সামরিক সক্ষমতা শুধু তাদের নিজস্ব অস্ত্র বা জনবলের ওপর নির্ভর করছে না। রাশিয়ার স্যাটেলাইট ও সিগন্যাল গোয়েন্দা তথ্য, ইরানের সমন্বয় এবং হুতিদের মাঠপর্যায়ের তথ্য- এই তিন স্তরের সমন্বয় তাদের সামরিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।   কিন্তু একই ব্যবস্থা এখন তাদের জন্য দুর্বলতার কারণও হয়ে উঠতে পারে। কারণ উন্নত কমান্ডব্যবস্থা যত বেশি নির্ভর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ, বিশেষজ্ঞ জনবল ও নির্দিষ্ট গোয়েন্দা অবকাঠামোর ওপর, সেসব অবকাঠামো ধ্বংস বা বিঘ্নিত হলে পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতাও দ্রুত কমে যেতে পারে।   ফলে ইয়েমেনের চলমান সংঘাতে এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে কে কত সেনা বা অস্ত্র মোতায়েন করছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং কে আগে প্রতিপক্ষের গোয়েন্দা তথ্য, যোগাযোগ ও কমান্ডব্যবস্থা বুঝতে এবং অকার্যকর করতে পারছে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে যুদ্ধের ফল নির্ধারণের অন্যতম প্রধান বিষয়।   সূত্র: আল-জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব