সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
দুই মাস কারাভোগের পর মিথ্যা মামলার বাদীর এক বছরের জেল

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় এক ব্যক্তিকে প্রায় দুই মাস কারাভোগে বাধ্য করার অভিযোগে করা মামলায় বাদী লিপি আক্তারকে (৩৯) এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।   দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. নুরুল কবির রুবেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন লিপি আক্তার। ওই সময় লিপি ধর্ষণের শিকার হয়ে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে দাবি করেন। এ মামলায় কামাল উদ্দিনকে প্রায় দুই মাস কারাভোগ করতে হয়। পরে সন্তান জন্ম নেওয়ার পর ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, কামাল উদ্দিন ওই সন্তানের বাবা নন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামালকে খালাস দেন আদালত।   এরপর মিথ্যা অভিযোগে কারাভোগের প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।

১ ঘন্টা আগে
ভারতে গঙ্গায় নৌকাডুবি, প্রাণ গেল ১১ জনের

ভারতের বিহার রাজ্যে গঙ্গা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে রাজ্যের হাজিপুরের রাঘোপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নৌকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা পাশের গ্রামের একটি বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। পথে রামপুর শ্যামচন্দ গ্রামের কাছে গঙ্গা নদীর মাঝপথে হঠাৎ নৌকাটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রাঘোপুর থানার পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। নদীতে ডুবুরি নামিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে উদ্ধার করা হয় একের পর এক মরদেহ।   বৈশালীর জেলাশাসক বর্ষা সিং জানিয়েছেন, নৌকাডুবিতে এখন পর্যন্ত শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান চলছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।   এদিকে নৌকাডুবির কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নৌকাটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল কি না এবং কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১ ঘন্টা আগে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাফল্য, ডিএমপির পুরস্কার পেলেন শ্রেষ্ঠরা

ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণকে পুরস্কৃত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।   মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের ৬ষ্ঠ তলার সম্মেলন কক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডিএমপি কমিশনার।   পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম), অতিরিক্ত দায়িত্বে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) মো. ফারুক হোসেন। তিনি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় যারা শ্রেষ্ঠ হলেন তাদের নাম উপস্থাপন করেন।   সেপ্টেম্বর-২০২৬ মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে মিরপুর বিভাগ। মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ থানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে মিরপুর মডেল থানা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আদাবর থানা এবং তৃতীয় স্থান উত্তরা-পশ্চিম থানা।   অপরদিকে, সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল বাসার মোল্যা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন।    শ্রেষ্ঠ এসআই ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মিরপুর থানার এসআই তারেক রহমান। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন ডেমরা থানার এসআই কাকন মিয়া এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন কদমতলী থানার এসআই অশোক কুমার সরকার। এএসআইদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মোহাম্মদপুর থানার এএসআই মো. ইমদাদুল হক। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে পল্টন থানার এএসআই দুর্জয় বড়ুয়া এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই মোহাম্মদ মজলিশ মিয়া ।   গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ী চুরি প্রতিরোধ টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।   ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্টদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মহাখালী-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট আঞ্জুম আল হাসিব এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে এয়ারপোর্ট-ট্রাফিক জোনের মো. মারুফ রহমান ভূইয়া।   পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাra উপস্থিত ছিলেন।

১ ঘন্টা আগে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি

দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের কুফল, কিশোর গ্যাং রোধ, ইভটিজিং ও ‘র্যাগ ডে’র নামে বিশৃঙ্খলা বন্ধ এবং রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।   সেই সঙ্গে, আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালকদের এসব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন কম্পাইল করে আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।    মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মাউশির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।    নির্দেশনায় বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত মাদকবিরোধী ডকুমেন্টারি ও থিম সং প্রদর্শন এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ইভটিজিং প্রতিরোধ ও র্যাগ ডে’র নামে যেকোনো বিশৃঙ্খলা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ, সভা-সেমিনার ও প্রচারণাপত্র বিতরণের মাধ্যমে রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে সচেতনতা বাড়াতে হবে।   আঞ্চলিক অফিসে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আওতাধীন জেলার মোট প্রতিষ্ঠান সংখ্যা, মাদকবিরোধী ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের হার, ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন, অভিভাবক সমাবেশ এবং রাতে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে গৃহীত কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি ছক আকারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

১ ঘন্টা আগে
ফাইল ছবি
জাতীয়
রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (এনপিপি) ১ ও ২ নম্বর ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এপিসিএস) স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসেই পারমাণবিক বিক্রিয়া (ক্রিটিক্যালিটি) শুরুর অনুমোদন পাওয়া এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত ইউরেনিয়াম রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি আরও দৃশ্যমান হলো।   রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ ও ২ নম্বর ইউনিটে এপিসিএস স্থাপনের পর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রূপপুরই রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের প্রথম প্রকল্প—যেখানে আধুনিক ‘অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম’ (ওআইএসএস) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   রোসাটম সূত্রে জানা গেছে, রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস (রাসু) সরবরাহকৃত এই ব্যবস্থাগুলোতে ৪৩টি সিস্টেমের আওতায় প্রায় ২০ হাজার সরঞ্জাম রয়েছে। এগুলো চুল্লির স্থিতিশীলতাসহ ৭ হাজারেরও বেশি প্রক্রিয়াগত প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করবে, যা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনায় সহায়তা করবে।   প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ওআইএসএস। বিদ্যুৎ ইউনিটের একটি ‘ডিজিটাল টুইন’ ব্যবহার করে রাসু এই সিস্টেমটি তৈরি করেছে। এটি ইতোমধ্যে ১ নম্বর ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং চালুকরণ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। একই ধরনের একটি সিস্টেম ২ নম্বর ইউনিটেও স্থাপন করা হবে।   ওআইএসএস ৩৬০টি প্রক্রিয়াগত সিস্টেম থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে, বিভিন্ন বিচ্যুতি শনাক্ত করে এবং ৮০টিরও বেশি নির্দেশনার ভিত্তিতে অপারেটরদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করে। এসব নির্দেশনার মধ্যে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জটিল পরিচালনাগত তথ্য সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে সিস্টেমটি অপারেটরদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং কার্যকরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সহায়তা করবে।   রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র শুধু রাশিয়ান ফেডারেশন ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার সবচেয়ে বড় প্রকল্পই নয়, বরং আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের একটি অগ্রগামী প্রকল্প। বিদেশে নির্মিত রোসাটমের কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এই প্রথম অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, এই সিস্টেমের মাধ্যমে পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সময় কমবে, পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং কন্ট্রোল রুমের কর্মীরা একটি নির্ভরযোগ্য সহায়ক ব্যবস্থা পাবেন।   রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে তৃতীয় প্রজন্মের প্লাস (জেনারেশন ৩+) প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে।   এর আগে গত ৮ অক্টোবর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া (ক্রিটিক্যালিটি) শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল বাংলাদেশ।   প্রকল্প সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর গাইডলাইন মেনে রাশিয়ার সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রকল্পের ‘বি-ওয়ান’ ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সবশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ টেস্টের জটিলতা কেটে যাওয়ার পর শুরু হতে যাচ্ছে ‘বি-টু’ (B-2) ধাপ। এই ‘বি-টু’ ধাপে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হবে। চেইন রিঅ্যাকশন সফলভাবে শুরু হলে চুল্লিতে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ শেষে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছলে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হবে।   এরই ধারাবাহিকতায় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম প্রকল্পে পৌঁছানো হয়।   রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আন্তর্জাতিক নিয়ম ও গাইডলাইন অনুসরণ করে এই পারমাণবিক জ্বালানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিশেষ শেডে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সাধারণত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর এক থেকে দেড় বছর পর কিছু ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি পরিবর্তন করতে হয়। প্রথম ইউনিটের সেই বাড়তি জ্বালানিই এখন প্রকল্প এলাকায় আনা হয়েছে।   রোসাটম জানিয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট ৯টি চালানে ২০০টিরও বেশি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি আনা হচ্ছে, যার সবটির সরবরাহ সম্পন্ন হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই। এর আগে ২০২৩ সালে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের যে জ্বালানি আনা হয়েছিল, তা চলতি বছরের মে মাসে পারমাণবিক চুল্লিতে বসানো হয়েছে।   প্রকল্প সূত্রের দাবি, সেফটি ভালভে ১৬ মেগাপ্যাসকেল (এমপিএ) উচ্চ-চাপ পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পরবর্তী ধাপে ১৮ এমপিএ চাপে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। এটি সফল হওয়ার পর ফিশন রিঅ্যাকশন শুরু করা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষে পাওয়ার স্টার্টআপে যেতে পুরো অক্টোবর মাস লেগে যাবে। আর পাওয়ার স্টার্টআপের পরেই গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু হবে।   সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন এবং স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের মধ্য দিয়ে স্বপ্নের রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট ও বাস্তব রূপ নিল।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৩, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি
সৌদির তিন স্থাপনায় হামলার হুমকি হুতিদের, লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় যদি কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তবে তার উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত হুতি বিদ্রোহীরা। এর অংশ হিসেবে সরাসরি সৌদি আরবের জ্বালানি ও পরিবহন খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রাণকেন্দ্রকে ধ্বংস করার কড়া হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।    মঙ্গলবার এক ঘোষণায় হুতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সানা আক্রান্ত হলে সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত আরামকোর প্রধান কার্যালয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানী রিয়াদেই অবস্থিত আরামকোর শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।   হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যেকোনো তেল স্থাপনাকে তারা তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। এই সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যেই তিনি সৌদি তেল স্থাপনাগুলোতে কর্মরত সকল বিদেশি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী এবং সাধারণ শ্রমিকদের জীবনঝুঁকি এড়াতে অবিলম্বে ওইসব এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শুধু তেলক্ষেত্রই নয়, এর আগে যেসব বিমানবন্দর ও আকাশপথকে হুতিরা নিজেদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছিল, সেই একই কারণে বিমান সংস্থা, সাধারণ যাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্মীদেরও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।   সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে হুতিদের এই নতুন হুমকি দুই পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান সংঘাতের পারদকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। মূলত এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার সকালেই, যখন সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার আল-সাবাহা এলাকায় অবস্থিত ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির কেন্দ্রীয় স্টেশনটি সাধারণ নাগরিকদের অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দেয়। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, আসন্ন একটি সামরিক অভিযানের আগেই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতেই এই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   আর ঠিক এর পরপরই পাল্টা জবাবে হুতিরা এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। তারা সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে রিয়াদ এবং দাম্মামের উল্লেখিত তিনটি মূল স্থাপনা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে, কারণ সৌদি বাহিনী যদি সানায় তাদের পূর্বঘোষিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, তবে তার বিপরীতে এই স্থাপনাগুলোতেও অবধারিতভাবে হামলা চালানো হবে।    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার এই সংকটময় মুহূর্তে এই পারস্পরিক হুমকি-ধমকি পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও রক্তক্ষয়ী করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ছবি: সংগৃহীত
অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি বাড়ছে, পাঁচ দেশেই ৫৬.৫৮ শতাংশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বা নতুন বাজারের মধ্যে শীর্ষ পাঁচ দেশেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে রপ্তানির প্রায় ৫৭ শতাংশ। দেশগুলো হলো—জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া।   রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এই পাঁচ দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১০২ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের।   আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৯.৬২ শতাংশ। পর্যালোচনাধীন সময়ে সব অপ্রচলিত বাজার মিলিয়ে মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮১ কোটি ডলারের।   চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এটি মোট অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির ১৮.৯৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ২.৬১ শতাংশ।   দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় তিন মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.০২ শতাংশ বেশি।   তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তবে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে একমাত্র ভারতেই রপ্তানি কমেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৫.৩৭ শতাংশ।   অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুরস্কে। দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১২৩.১৪ শতাংশ বেড়ে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।   দক্ষিণ কোরিয়ায় পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৮.৮১ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারে।   প্রথম তিন মাসের সামগ্রিক চিত্রের পাশাপাশি একক মাস হিসেবেও সেপ্টেম্বরে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মাসটিতে শীর্ষ পাঁচ দেশে পোশাক রপ্তানি ১৬.৭৭ শতাংশ বেড়ে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।   সেপ্টেম্বরেও প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল তুরস্ক। দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২২৪.৯৩ শতাংশ, যার পরিমাণ ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৭.৮৮ শতাংশ এবং জাপানে ৫.১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে এ সময়ে ভারতে রপ্তানি কমেছে ০.৮৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ০.১৪ শতাংশ।   তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও ভয়েস অব অ্যাপারেলের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির অংশ ও প্রবৃদ্ধি বাড়া অত্যন্ত ইতিবাচক। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রচলিত বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে নতুন বাজার সম্প্রসারণ জরুরি।   তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ অপ্রচলিত বাজারগুলোতে যাচ্ছে। এই অংশ বাড়াতে পারলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।   মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। দেশটিতে আরও বেশি পোশাক রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। একইভাবে ভারতের বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও তা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রয়ক্ষমতা ভালো হওয়ায় সেখানেও বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে পণ্যের গুণগত মানের পাশাপাশি এফওবি মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এসব বাজারে শুধু পণ্যের পরিমাণ নয়, বৈচিত্র্য, মান ও মূল্যের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই মূল্য সংযোজিত ও উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়াতে নতুন বাজারগুলোতে আরও মনোযোগ দিতে হবে।

ছবি: সংগৃহীত
জাইমা রহমানের জাতিসংঘে যোগদান ব্যক্তিগত অর্জন: মুশফিক

দাদা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, দাদি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, নানা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী, বাবা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর আসনে আসীন এবং মা স্বনামধন্য চিকিৎসক।   এমন একটি পরিবারের সদস্য ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে ঘিরে দেশের সাধারণ মানুষ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি তার নিজস্ব শিক্ষা, মেধা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও অর্জনকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।   জাইমা রহমানকে নিয়ে সংবাদ, প্রতিবেদন কিংবা সাক্ষাৎকার প্রকাশের বিষয়টিকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তার কর্মস্থল, কাজের ধরন, পেশাগত যোগাযোগ ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। জনপরিসরে পরিচিত একজন মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের আগ্রহ অপ্রত্যাশিত নয়। তবে সেই আলোচনায় তার ব্যক্তিগত অর্জনের জায়গাটিও যথাযথভাবে থাকা প্রয়োজন।   সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। সেখানে তিনি পারিবারিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের নিজস্ব পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত প্রস্তুতি এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে তাঁর আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।   মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব একটি পরিচয় রয়েছে। পড়াশোনা, আইনি প্রশিক্ষণ, ব্যারিস্টার হয়ে ওঠার পথ, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সংগ্রাম তাঁর জীবনের একটি নিজস্ব অধ্যায়।   তিনি উল্লেখ করেন, জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও রাজনীতিতে স্নাতক এবং ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যোগ্যতাপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার। তার মতে, এই অর্জনগুলোকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া মোটেও ন্যায্য নয়।   জাতিসংঘে কাজের সুযোগ নিয়ে ব্যাখ্যা জাইমা রহমানের পেশাগত সুযোগ প্রসঙ্গে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, নিজের শিক্ষা, মেধা ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘে পি-৩ পর্যায়ের একটি পদে কাজ করবেন, এটি অস্বাভাবিক কোনো প্রত্যাশা নয়।   তিনি মনে করেন, পারিবারিক পরিচয়কে যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতার চূড়ান্ত সনদ হিসেবে বিবেচনা করলে ব্যক্তির প্রতি সুবিচার করা হয় না।   এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের কর্মী কাঠামোর বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দপ্তরের ৪০ জন কর্মীর মধ্যে আটজনের বেতন-ভাতা জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে অর্থায়িত হয়। চারজন জাতিসংঘের অন্য সংস্থা বা বিভাগ থেকে প্রেষণে কর্মরত, ২০ জন সদস্যরাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রেষণে নিয়োজিত এবং বাকি আটজন সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কর্মরত।   মুশফিকুল ফজল আনসারী উল্লেখ করেন, জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে যে পদে যোগ দিয়েছেন, সেটি পি-৩ গ্রেডের এবং জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের অর্থায়নে পরিচালিত। অর্থাৎ, তার ভাষ্য অনুযায়ী, পদটি বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ে প্রেষণে দেওয়া পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়।   জাতিসংঘের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নিজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিজেও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি একসময় একটি অধিভুক্ত সংস্থায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। সে ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়েছেন।   তার ভাষায়, ‘কানেকশন থাকাটা অযোগ্যতা নয় বরং যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবেই ধরা হয়।’   বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গ জাতিসংঘের পেশাগত পদে বেতন-ভাতা নিয়েও নিজের বক্তব্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে। পেশাগত পদের বেতন গ্রেড ও ধাপ জীবনযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। মূল বেতনের সঙ্গে কর্মস্থলের জীবনযাত্রার ব্যয়ভিত্তিক সমন্বয়ও যুক্ত হয়।   তার মতে, বেতনের কোনো অঙ্ক নিয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট গ্রেড, কর্মস্থল এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধার নিয়মও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   সাধারণ পরিষদের সভাপতির সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, সভাপতির নিজের বেতন, আবাসন, গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা জাতিসংঘের তহবিল থেকে বহন করা হয় না। এ ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকেই ব্যয় বহন করতে হবে। তবে জাতিসংঘের দায়িত্বসংক্রান্ত সফর ও কার্যক্রমে দপ্তরের বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থায়ন করা হয়।   একপেশে মূল্যায়ন নয়, যোগ্যতার স্বীকৃতি চান ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে জাইমা রহমানকে ঘিরে আগ্রহ, প্রশ্ন ও তার কাজের মূল্যায়নের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, তার কাজের মূল্যায়নে নিজস্ব প্রস্তুতি, পরিশ্রম, মেধা ও পেশাগত পরিচয় যেন যথাযথ স্থান পায়।   তিনি মনে করেন, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য জাইমা রহমানের প্রতি মানুষের আগ্রহের যৌক্তিক কারণ। একই সঙ্গে তার নিজ যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জিত সুযোগ যেন অযৌক্তিক বিতর্ক ও একপেশে মূল্যায়নের শিকার না হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

সংগৃহীত ছবি
মেন্ডিসের রেকর্ডের দিনে শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয়

কুশাল মেন্ডিসের রেকর্ড গড়া ম্যাচে দাপুটে জয় পেল শ্রীলংকা ক্রিকেট দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ খেলায় জয় পায় সফরকারীরা।   অবশ্য প্রথম দুই ম্যাচে জিতে আগেই সিরিজ নিজেদের করে নেয় পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটে ১৮২ রান করেও ৪ উইকেটে হেরে যায় শ্রীলংকা।   দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান রেকর্ড ২১৫ রান করে। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রানের বেশি করতে পারেনি শ্রীলংকা। ৮২ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিক পাকিস্তান।   আজ মঙ্গলবার প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৬৮ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে কুশাল মেন্ডিসের ব্যাটিং তাণ্ডবে ১৭ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের দাপুটে জয় পায় শ্রীলংকা। দলের জয়ে ৪৮ বলে ৯টি চার আর ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৮৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন কুশাল মেন্ডিস।   এই ইনিংস খেলার পথে তিনি শ্রীলংকার হয়ে টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে রেকর্ড সর্বোচ্চ রানের মালিক হন। ২৭৮৪ রান করে শীর্ষে ছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা। আজ তাকে ছাড়িয়ে শীর্ষে  উঠে গেলেন কুমাল মেন্ডিস। তার সংগ্রহ ২৭৯১ রান।    আজ শ্রীলংকার জয়ে ২৭ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন কামিন্দু মেন্ডিস। ২৬ বলে ২৮ রান করেন সিনেথ জয়াবর্ধনে।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ভারতে গঙ্গায় নৌকাডুবি, প্রাণ গেল ১১ জনের
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬

ভারতের বিহার রাজ্যে গঙ্গা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে রাজ্যের হাজিপুরের রাঘোপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নৌকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা পাশের গ্রামের একটি বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। পথে রামপুর শ্যামচন্দ গ্রামের কাছে গঙ্গা নদীর মাঝপথে হঠাৎ নৌকাটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রাঘোপুর থানার পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। নদীতে ডুবুরি নামিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে উদ্ধার করা হয় একের পর এক মরদেহ।   বৈশালীর জেলাশাসক বর্ষা সিং জানিয়েছেন, নৌকাডুবিতে এখন পর্যন্ত শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান চলছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।   এদিকে নৌকাডুবির কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নৌকাটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল কি না এবং কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাকে হামলাকারী নারী। ছবি: সংগৃহীত
পূজা উদ্বোধনে যাওয়ার পথে মমতার ওপর হামলার চেষ্টা, আটক নারী
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।    মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপ উদ্বোধন করতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঠিক কী ঘটেছিল এবং ওই নারীর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।   মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালীঘাট মিলন সংঘের দুর্গাপূজার উদ্বোধন করতে যাচ্ছিলেন মমতা। তার বাড়ির কাছেই ওই পূজামণ্ডপ।    তৃণমূল কংগ্রেসের সূত্রের দাবি, মমতা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ভিড়ের মধ্যে মিশে যান এক নারী। এরপর তিনি মমতার খুব কাছে পৌঁছে তাকে ঘুষি মারার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। ওই নারী অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজও করেন বলে দাবি করা হয়েছে।   ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজনকে ‘গায়ে কে হাত দিল’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে ওই নারী মাটিতে শুয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে। পরে মমতার নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। কালীঘাট থানার পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।   প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক নারীর বাড়ি কলকাতার এস এন ব্যানার্জি রোড এলাকায়। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করছে। তবে তার মানসিক অবস্থা বা আচরণের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তপ্ত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন মমতা। সেখান থেকে কলকাতায় ফেরার পর মঙ্গলবার রাজাবাজার এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি মিছিল করার কথা ছিল। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর বাধায় সেই কর্মসূচি এগোতে পারেনি বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর সন্ধ্যায় পূজামণ্ডপ উদ্বোধনে যাওয়ার পথে মমতার ওপর হামলা চেষ্টার অভিযোগ সামনে আসে। ফলে তার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।    তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, আটক নারী কীভাবে মমতার এত কাছে পৌঁছালেন এবং নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।   মমতা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী। তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের উপস্থিতিতেই যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ ও পুলিশের তদন্তের ফল সামনে না আসা পর্যন্ত নিগ্রহের অভিযোগের সব দিক নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সংগৃহীত ছবি
রাশিয়া-ইরান ও এআইয়ের হুমকি, সতর্কবার্তা ব্রিটিশ গোয়েন্দাপ্রধানের
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৩, ২০২৬

রাশিয়ার হাইব্রিড যুদ্ধ, ইরানের আগ্রাসী তৎপরতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর অপব্যবহার নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভের প্রধান স্যার কেন ম্যাককালাম।    সম্প্রতি লন্ডনে এমআইফাইভের সদর দফতর টেমস হাউসে দেয়া তার বার্ষিক ভাষণে তিনি জানান, কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের চেয়েও বর্তমান সময়ে যুক্তরাজ্যকে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর হুমকি মোকাবিলায় অনেক বেশি সম্পদ ও শক্তি নিয়োজিত করতে হচ্ছে। গত এক দশকে দেশটির বিরুদ্ধে বিদেশি শত্রুদের হুমকি চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।   এমআইফাইভ প্রধান বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে সমর্থন দেয়া ইউরোপীয় দেশগুলোকে কোণঠাসা করতে তারা স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের চেয়েও বেশি হাইব্রিড যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক রুশ গোয়েন্দা বহিষ্কারের ফলে ক্রেমলিনের ঐতিহ্যবাহী গোপন নেটওয়ার্ক বা ছদ্মবেশী গোয়েন্দা উপস্থিতি অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে বিশ্বব্যাপী প্রায় এক হাজার রুশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বহিষ্কৃত হওয়ায় এখন তারা সন্ত্রাসী ও পেশাদার অপরাধীদের অর্থ দিয়ে ভাড়া করে তাদের দিয়ে আক্রমণ ও চক্রান্ত বাস্তবায়ন করছে।    ম্যাককালামের মতে, ভাড়াটে অপরাধীদের ব্যবহার করা কোনো পরাশক্তির কৌশলগত শক্তির লক্ষণ নয় বরং এটি তাদের দুর্বলতার প্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া ন্যাটো দেশগুলোর সাথে সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়িয়ে গেলেও সাইবার হামলা, অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ক্ষতিকর মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলোতে অস্থিরতা তৈরি করতে চাচ্ছে।   যুক্তরাজ্যে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ম্যাককালাম বরিস জনসন বা সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্ডি বার্নহামের তোলা ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানান, এটি নতুন কোনো খবর নয়। ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটে রুশ গণমাধ্যম এবং ইন্টারনেট ট্রল ও বট ফার্মগুলো জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল—যা সরকারি নথিতেই স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তবে তিনি বলেন, সেই হস্তক্ষেপের চেষ্টা এবং অর্জিত ফলাফলের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে এবং ওই গণভোটের ফল নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাশিয়ার এই ট্রল বা বট ফার্মগুলোকে অতিরিক্ত শক্তিশালী হিসেবে উপস্থাপন করে শত্রুপক্ষের ফাঁদে পা দেওয়া ব্রিটিশদের উচিত হবে না।   সূত্র: বিবিসি

ফাইল ছবি
ইরানের এক হামলায় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বহু দেশের ইন্টারনেট
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ডেটা সেন্টার, ইন্টারনেট ক্যাবল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোয় হামলা চালানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি।   তার এই হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ইউরোপ-এশিয়ার ইন্টারনেট সংযোগের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী ইয়েমেনের কিছু ভূখণ্ড গত মাসে ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা বেড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও হুতিদের মধ্যে বাব আল-মানদেব প্রণালিসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র লড়াই চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চলাচল করে বলে ধারণা করা হয়।   এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ডেটা সেন্টার এবং মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। তেহরান দাবি করেছিল, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এসব পাল্টা হামলা চালানো হয়েছিল।   গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বড় ধরনের সক্রিয় যুদ্ধ অনেকটাই থেমে গেছে। তবে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের ইন্টারনেট অবকাঠামো আসলে কতটা ঝুঁকিতে? সম্ভাব্য হামলা কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতকে প্রভাবিত করতে পারে?   কেন ঝুঁকিতে ডেটা সেন্টার ও ইন্টারনেট ক্যাবল? বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তথ্য অল্প কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পথে পরিবাহিত হওয়ায় এসব অবকাঠামো তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ডেটা পরিবহনের সক্ষমতার ৯০ শতাংশের বেশি লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা ক্যাবলগুলোর ওপর নির্ভরশীল।   এসব ক্যাবল বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে। সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে প্রণালিটির প্রস্থ প্রায় ২৬ কিলোমিটার। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সমুদ্রপথে যোগাযোগের অন্যতম ব্যস্ত রুট এটি।   সমুদ্রতলের ক্যাবল জাহাজের নোঙরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার পরিকল্পিত নাশকতার মাধ্যমেও এগুলো কেটে দেওয়া সম্ভব। যুদ্ধ চলাকালে এসব ক্যাবল মেরামত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। মেরামতকারী জাহাজের চলাচলের অনুমতি, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কাজ করার সুযোগ- সবকিছুই তখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।   অন্যদিকে, ডেটা সেন্টার হলো বড় আকারের স্থায়ী স্থাপনা, যেখানে ব্যাংকিং অ্যাপ, ক্লাউড কম্পিউটিং, ব্যবসায়িক সফটওয়্যার এবং বিভিন্ন অনলাইন সেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি রাখা হয়।   লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ আল-জাজিরাকে বলেন, একটি স্থাপনার সব সার্ভার ধ্বংস না করেও হামলার মাধ্যমে পুরো কেন্দ্রটিকে অকার্যকর করে দেওয়া সম্ভব।   তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ডেটা সেন্টার সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, শীতলীকরণব্যবস্থা এবং টেলিযোগাযোগ সংযোগ অপরিহার্য। এসবের যেকোনও একটি গুরুতরভাবে ব্যাহত হলে পুরো স্থাপনার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।   সমুদ্রতলের কেবলগুলোও সার্বক্ষণিকভাবে সুরক্ষিত রাখা কঠিন। একটি গুরুত্বপূর্ণ কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে একই সঙ্গে একাধিক দেশের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হতে পারে। বারবার হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তি অবকাঠামোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। ১১ মার্চ আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তু’ শিরোনামে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে গুগল, মাইক্রোসফট এবং ওরাকলের ক্লাউড অবকাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়।   একই মাসে আইআরজিসি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক পোস্টে ১৭টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল গুগল, মেটা ও অ্যাপল। তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠান জি৪২-এর নামও ছিল।   ক্রিগ বলেন, রেজায়ির হুঁশিয়ারিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করার সক্ষমতা এবং সেখানকার পুরো ডিজিটাল অবকাঠামো পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার সক্ষমতা এক বিষয় নয়।   তার মতে, রেজায়ির বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, তিনি শুধু নতুন কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দেননি; বরং এমন এক ধরনের কৌশলগত অবকাঠামোকে সামনে এনেছেন, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের পরিকল্পনাকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত শক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করে।   ক্রিগের বিশ্লেষণ, এই হুমকির মূল উদ্দেশ্য প্রতিরোধমূলক চাপ সৃষ্টি করা। এর লক্ষ্য শুধু ওয়াশিংটন নয়; আবুধাবি, রিয়াদ ও দোহাও। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় সরকারগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনও সামরিক অভিযান নিরুৎসাহিত করার জন্য চাপের মুখে ফেলা হতে পারে। আগেও হামলার শিকার হয়েছে প্রযুক্তি অবকাঠামো মধ্যপ্রাচ্যের ডেটা সেন্টার ও ইন্টারনেট অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা ক্যাবল ভবিষ্যতের কোনও সম্ভাবনা নয়। এরই মধ্যে এ ধরনের স্থাপনায় হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। মার্চে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের দুটি স্থাপনা সরাসরি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। বাহরাইনে তাদের আরেকটি স্থাপনার কাছে হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে।   এডব্লিউএসের এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সময় আবুধাবি কমার্শিয়াল ব্যাংক জানিয়েছিল, পুরো অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তিগত বিঘ্নের কারণে তাদের অ্যাপ ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। তবে ব্যাংকটি সরাসরি এই সমস্যার জন্য এডব্লিউএসের ক্ষয়ক্ষতিকে দায়ী করেনি। গত সেপ্টেম্বরে এডব্লিউএস জানায়, বাহরাইনের কয়েকটি স্থাপনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি স্থানে তাদের সেবা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, সামরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকলেই বাণিজ্যিক প্রযুক্তি স্থাপনাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ হয়ে যায় না।   ক্রিগের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক বাহিনী আকাশপথে আসা অধিকাংশ হুমকি প্রতিহত করতে পারলেও অল্প কয়েকটি হামলা সফল হলেই অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন দিয়েও শত শত কোটি ডলারের যন্ত্রপাতি থাকা স্থাপনার কার্যক্রম ব্যাহত করা সম্ভব।   সমুদ্রতলের ক্যাবলও আগেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার নজিরও রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লোহিত সাগরে তিনটি ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ডেটা সেন্টার ডায়নামিকসের প্রতিবেদনে শিল্পসংশ্লিষ্ট মহলের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বলা হয়, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অচল হয়ে পড়া রুবিমার নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজের টেনে নিয়ে যাওয়া নোঙরের আঘাতেই সম্ভবত কেবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেগুলো মেরামত করতে কয়েক মাস লেগেছিল।   তবে এ ঘটনায় হুতিরা সরাসরি ক্যাবল কাটার চেষ্টা করেছিল- এমন কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গোষ্ঠীটি ২০২৪ সালের ক্ষয়ক্ষতির জন্য নিজেদের দায়ও অস্বীকার করেছে।   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের জেদ্দার কাছে আরও দুটি ক্যাবল কেটে যায়। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেটের গতি কমে গিয়েছিল। তবে ক্যাবল দুটি কী কারণে কাটা পড়েছিল, তা নিশ্চিত করা যায়নি। এই ঘটনাগুলো দেখায়, সরাসরি সামরিক হামলা ছাড়াও দুর্ঘটনা, জাহাজের নোঙর কিংবা অজ্ঞাত কারণে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।   বাব আল-মানদেব ঘিরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ হুতিরা সরাসরি সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল আক্রমণ করেছে- এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে বাব আল-মানদেব প্রণালি ও আশপাশের ভূখণ্ডে তাদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ক্যাবলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হুতিরা মোখা বন্দর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর তারা মাইয়ুন দ্বীপেও পৌঁছে যায়। দ্বীপটি প্রণালিকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছে। তবে গত ৫ অক্টোবর ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দাবি করে, তারা মোখা বন্দর এবং প্রণালির কাছে কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখল করেছে। হুতিরা এ দাবি অস্বীকার করেছে।   এই এলাকায় সংঘাত অব্যাহত থাকলে সমুদ্রতলের ক্যাবল মেরামত, নতুন ক্যাবল স্থাপন এবং নিরাপদে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। লোহিত সাগরের বিকল্প পথ তৈরি হচ্ছে লোহিত সাগরের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প স্থলপথ ও নতুন যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং আঞ্চলিক সরকারগুলো। তবে এসব বিকল্পের ব্যয় বেশি এবং অনেক প্রকল্প এখনও নির্মাণাধীন। গত ১০ সেপ্টেম্বর ইরাকের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইরাকের ভূখণ্ড হয়ে ইউরোপে ডেটা পরিবহনের জন্য কাতারভিত্তিক ওরেদুর সঙ্গে চুক্তি করেছে বাগদাদ।   ইরাকের সংবাদ সংস্থাকে দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জাবার সানাদ জানান, পরিকল্পিত ভূগর্ভস্থ ক্যাবলটি আল-ফাও থেকে তুরস্কের সীমান্তসংলগ্ন রাবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। গত ৭ অক্টোবর ওরেদুর আন্তর্জাতিক শাখা ইরাকের আইকিউ নেটওয়ার্কসের কাছ থেকে ফাইবার সংযোগ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়। এর মাধ্যমে তুরস্কের দিকে যোগাযোগপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। মাইক্রোসফটও গত সেপ্টেম্বরে জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রতলের ও স্থলভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে তারা ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে।   প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘রেস্ট অব ওয়ার্ল্ড’ গত ৭ অক্টোবর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাতে জানায়, গুগল ও মেটা ইরাকের মধ্য দিয়ে কিছু ইন্টারনেট ট্রাফিক পাঠানো শুরু করেছে। তবে এ বিষয়ে আল-জাজিরার মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠান দুটি সাড়া দেয়নি। ক্রিগের মতে, ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থাকে সত্যিকার অর্থে ঝুঁকিমুক্ত করতে হলে একই ভৌগোলিক অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সংযোগ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরেও কিছু স্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। তবে এতে একটি জটিলতা রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কম্পিউটিং অবকাঠামো নিজস্ব সীমানার মধ্যে রাখতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। একদিকে তথ্যের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, অন্যদিকে অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা- এই দুই লক্ষ্য সব সময় একসঙ্গে অর্জন করা সহজ নয়।   এআই প্রযুক্তির কেন্দ্র হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষায় প্রভাব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর উপসাগরীয় দেশগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জি৪২ ওপেনএআই, এনভিডিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে ‘স্টারগেট ইউএই’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এটি পরিকল্পিত পাঁচ গিগাওয়াট সক্ষমতার একটি বৃহৎ ইউএই-যুক্তরাষ্ট্র এআই ক্যাম্পাসের অংশ।   সৌদি আরবের সরকারি বিনিয়োগ তহবিল পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ২০২৫ সালের মে মাসে ‘হুমেইন’ নামে একটি এআই প্রতিষ্ঠান চালু করে। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং আরবি ভাষাভিত্তিক এআই মডেল তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। কাতারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্লু আউলের সঙ্গে তিন শ’ কোটি ডলারের ডেটা সেন্টার বিনিয়োগ উদ্যোগে যুক্ত হয়।   এছাড়া মাইক্রোসফট গত সেপ্টেম্বরে জানায়, ২০৩০ সাল পর্যন্ত কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে তারা। এ পরিকল্পনায় ‘ডিজিটাল স্থিতিস্থাপকতা’ বা সংকট মোকাবিলায় ডিজিটাল অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাহরাইনের কিছু স্থাপনায় থাকা তথ্য পুনরুদ্ধারের বিষয়ে এডব্লিউএস জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য সব বিকল্পই চেষ্টা করেছে। তবু কিছু তথ্য ও সেবা পুনরুদ্ধার করা যায়নি। ক্রিগের মূল্যায়ন, ইরানের হুমকি উপসাগরীয় দেশগুলোর এআই ও প্রযুক্তিকেন্দ্র হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি থামিয়ে দেবে না। তবে এর ফলে বিনিয়োগের ব্যয়, অবস্থান নির্বাচন এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অস্থিতিশীল অঞ্চলের মধ্যে স্থিতিশীল বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু যুদ্ধ সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত? ক্রিগের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, দেশটির এআই কৌশল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এতে আমিরাতের প্রযুক্তি অবকাঠামো ইরানের কাছে আরও আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায় কাতার রাজনৈতিকভাবে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে কাতারের অবকাঠামো সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইরানের হুমকির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ক্রিগ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইরান এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে, যা দেশগুলোর সামুদ্রিক অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে দেখা গেছে। অর্থাৎ, নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ও অবকাঠামোকে ভূরাজনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ারে পরিণত করা।   আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে ডেটা সেন্টার ও ইন্টারনেট ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ ডেটা পরিবহন এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একাধিক দেশের ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যবসা, ক্লাউড সেবা এবং ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে। একই সঙ্গে এআই খাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎও নিরাপত্তাঝুঁকির হিসাবের ওপর নির্ভর করবে। নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের পাশাপাশি বিকল্প বিদ্যুৎ, একাধিক ইন্টারনেট সংযোগ, ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন ব্যাকআপ ব্যবস্থা এবং দ্রুত মেরামতের সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজন বাড়বে।   তবে ইরানের হুমকির অর্থ এই নয় যে পুরো অঞ্চলের ইন্টারনেট অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়া অনিবার্য। বরং বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, অল্প কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা যোগাযোগপথে বিঘ্ন ঘটিয়েও বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি করা সম্ভব।   সুতরাং বলা যায়, উপসাগরীয় অঞ্চলের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ এখন শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করছে না; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামরিক নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি এবং বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সক্ষমতা। মধ্যপ্রাচ্যকে এআই ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাই অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করাই হয়ে উঠছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র: আল-জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ
বিশ্ব