সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, বিভাগে প্রাণহানি ২০০

সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর সিলেট বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ জনে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ জন রোগী।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।   স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে রয়েছে সিলেটের বিয়ানীবাজারের শহীদুল ইসলামের এক বছর বয়সী ছেলে আবদুল্লাহ আল সাফওয়ান, কোম্পানীগঞ্জের মকবুল হোসাইনের ৯ মাস বয়সী ছেলে জিসান আহমেদ এবং হবিগঞ্জ সদরের মিজানুর রহমানের তিন মাস ২৪ দিন বয়সী শিশু জায়ান।   সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ মৃত্যু স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর হাম ও এর উপসর্গে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সিলেট জেলায়। জেলাটিতে এ পর্যন্ত ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে ৬৯ জন, হবিগঞ্জে ৩২ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন মারা গেছেন। চার জেলার মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০০ জনে।   এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৯৪ রোগী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৯৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৩০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭৯ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২৩ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১৯ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন এবং নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন ভর্তি রয়েছেন। বিশ্বনাথ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও দুজন।   নিশ্চিত হাম রোগী ১ হাজার ১১৫ জন স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৫ জনে। শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং হাসপাতালে রোগীর চাপ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর হিসাব এক নয়।

১৯ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামীর মঞ্চ মাতাতে যাচ্ছেন ঢালিউড অভিনেতা জায়েদ খান

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামীতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে জমকালো সাংস্কৃতিক উৎসব ‘এশিয়ান ফুড ফেয়ার অ্যান্ড কালচারাল শো’। আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে প্রথমবারের মতো মঞ্চে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন ঢালিউডের আলোচিত অভিনেতা জায়েদ খান।   আগামী ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় শিল্পী ও তারকাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন জায়েদ খান।   আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক জনপ্রিয় গানের সঙ্গে মঞ্চ পরিবেশনায় অংশ নেবেন এই অভিনেতা। তাঁর পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রবাসী দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসাহ মায়ামীতে জায়েদ খানের অংশগ্রহণের খবর প্রকাশের পর সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের পরিচিত এই অভিনেতাকে সরাসরি মঞ্চে দেখার পাশাপাশি তাঁর পরিবেশনা উপভোগ করার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় ভক্ত ও দর্শকেরা।   এক মঞ্চে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তারকারা ‘এশিয়ান ফুড ফেয়ার অ্যান্ড কালচারাল শো’তে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা অংশ নেবেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি এই আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জায়েদ খানের অংশগ্রহণ উৎসবটিতে প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনকে ঘিরে এখন থেকেই প্রস্তুতি চলছে। মায়ামীর আন্তর্জাতিক মঞ্চে জায়েদ খানের পরিবেশনা কেমন সাড়া ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

২০ মিনিট আগে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বন্দি সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের সাজা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সরকার।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।   এদিন সৌদি আরবের রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের মরদেহ দেশে পৌঁছালে তা গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে যান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।   রিয়াদে নিহত শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় তাঁর মরদেহ বহনকারী বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। নিহত শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায়। তিনি দুই সন্তানের বাবা ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শাহেদের মরদেহটি ১১তম হিসেবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা শাহেদের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।   সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়েও আলোচনা সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি মূলত ২০২৩ সালের। প্রতিটি দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা থাকায় বিদেশে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী তাঁকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হয়।   বিদেশে যাওয়ার আগে আইন জানার আহ্বান বিদেশে কর্মরত এবং বিদেশগামী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে শামা ওবায়েদ বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য অন্য দেশে যাওয়ার আগে সেখানকার প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো প্রবাসীদের বিভিন্ন আইনি ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।   অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধির জন্য দালালদের দায়ী বিদেশে কর্মী পাঠানোর খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের তৎপরতার কারণে বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো কাজ করছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

২৩ মিনিট আগে
‘প্রজন্মের ক্ষোভ’: ইউরোপজুড়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে সোচ্চার তরুণরা

ইতালির রাজধানী রোমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধ, মাদ্রিদে তাঁবু গেড়ে অবস্থান এবং ফ্রান্সের রাজপথে বিক্ষোভ—ইউরোপজুড়ে তরুণরা এমন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।    তাদের অভিযোগ, রাজনীতিকেরা তাদের কথা শুনছেন না, তাদের চাহিদা ও সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   তরুণদের দাবিগুলো একেক জায়গায় একেক রকম হলেও একটি বিষয়ে তাদের ঐক্য রয়েছে। তারা চান, রাজনীতি ও সমাজে প্রায়ই উপেক্ষিত তাদের কণ্ঠস্বর গুরুত্ব পাক। দাবি আদায়ে কখনো কখনো তারা কঠোর কর্মসূচিও ঘোষণা করছেন।   অন্যদিকে, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।   রোমের কাভুর হাইস্কুলের ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী দামিয়ানো ফুসা বলেন, ‘আমরা লড়াই করছি এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছি।’   ইতালির রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল কর্মসূচির মধ্যে কাভুর হাইস্কুলই প্রথম অবরুদ্ধ হয়।   ফুসা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিধিত্ব করার মতো কেউ নেই।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কট্টর ডানপন্থি জোটের পাশাপাশি আগের মধ্য-বামপন্থি সরকারগুলোরও সমালোচনা করেন।    তার অভিযোগ, এসব সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমিয়েছে এবং তরুণদের প্রয়োজন উপেক্ষা করেছে।   গত কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কয়েক লাখ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন। কোনো কোনো বিক্ষোভ সহিংসতায়ও রূপ নিয়েছে।   সরকারগুলো মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ফ্রান্সের কিছু এলাকায় আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছে, আর ইতালিতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাসদস্য। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের মূল দাবিগুলোকে আড়াল করছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে।   পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের ১৯ বছর বয়সী মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী লুইস মার্কেস বলেন, ‘রাজনীতিকেরা বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও একেবারেই অযৌক্তিক উপায়ে পরিস্থিতির জবাব দিচ্ছেন।’   শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে লাগামহীন বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরক্ষা খাতের পরিবর্তে শিক্ষায় বেশি অর্থ ব্যয় এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।   তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিক্ষোভের পেছনে আরও গভীর সংকট রয়েছে। ইউরোপের বহু তরুণ মনে করছেন, তাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।   আন্তর্জাতিক সমাজতাত্ত্বিক সমিতির সভাপতি জিওফ্রে প্লেয়ার্স বলেন, ‘এই তরুণেরা শুধু মনে করেন না যে রাজনীতিতে তাদের কোনো জায়গা নেই; তারা মনে করেন, তাদের কথা একেবারেই শোনা হচ্ছে না।’   রোমের লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোজারিও ফোরলেনজা এই আন্দোলনকে ‘ইউরোপজুড়ে প্রজন্মগত বিদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এর মূলে রয়েছে এমন এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট, যার কার্যকর সমাধান দিতে রাজনীতিকেরা ব্যর্থ হচ্ছেন।   তিনি বলেন, ‘তরুণেরা জনসংখ্যার এমন একটি অংশ, যাদের অনুপাত ক্রমেই কমছে। ফলে সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বও ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।’   ‘অন্যদের অনুপ্রাণিত করছি’   ফ্রান্স ও ইতালিতে তরুণদের ক্ষোভ সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। দেশ দুটিতে শনিবার নতুন করে বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।   গত সপ্তাহান্তে ফ্রান্সের বোর্দো শহরে এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২০ বছর বয়সী এডি নামে এক শিক্ষার্থী এএফপিকে বলেন, ‘মানুষ খুব ক্ষুব্ধ, তারা আর সহ্য করতে পারছে না। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করেও কেনাকাটার ঝুড়ি ভরার মতো সামর্থ্য থাকে না।’   তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু ভাঙচুর করলে কি কিছু বদলাবে? আমার মনে হয়, এতে রাজনীতিকদের ঘুম ভাঙতে পারে। নিজেদের কথা শোনানোর জন্য আর কী করতে পারি, তা আমরা জানি না। ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন? এখন আর তাতে আমাদের বিশ্বাস নেই।’   ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী আন্দোলন একে অপরের কাছ থেকে ক্রমেই অনুপ্রেরণা নিচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও নেপালের মতো দেশগুলোতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকেও তারা শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।   ইতালিতে গত সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের একটি স্লোগানে বলা হয়, ‘ফ্রান্সের মতো করো’। এছাড়া জলদস্যুদের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘জলি রজার’ পতাকাসহ বিভিন্ন অভিন্ন প্রতীক ইউরোপের তরুণদের সমাবেশে দেখা যাচ্ছে।   মাদ্রিদের ২২ বছর বয়সী পরীক্ষাগারের মাননিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিবিদ মার্কোস নাভারো বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আন্দোলনকারীরা নিজেদের কর্মপদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।   নাভারো বলেন, ‘তারা আমাদের কাছে এসে জানতে চেয়েছেন, ‘তোমরা কীভাবে আন্দোলন করেছ? কীভাবে নিজেদের সংগঠিত করো?’ আমরা ইতিমধ্যে নিজেদের মধ্যে নানা আইডিয়া বিনিময় করেছি।’   আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্ছেদের প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বর থেকে নাভারো মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় পুয়ের্তা দেল সল চত্বরে শত শত মানুষের সঙ্গে তাঁবু গেড়ে অবস্থান করছেন।   ওই শিবিরের চিকিৎসাকেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা ২৬ বছর বয়সী নৃবিজ্ঞানী আইলা হেরেরো বলেন, ‘আমরা অন্যদের অনুপ্রাণিত করছি—এটা জানতে পারা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। আমাদের আন্দোলন শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।’   ‘এটা গ্রহণযোগ্য নয়’   ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতাও তরুণদের বিক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।   গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকার ১৭ বছর বয়সী হাইস্কুল শিক্ষার্থী নিকোস মাভরুদিস বলেন, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিবর্তে তার স্কুলের পেছনে অর্থ ব্যয় করা হলে তা বেশি কাজে আসত। স্কুলের ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে বলে তিনি জানান।   মাভরুদিস বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’   ভবিষ্যতে রাঁধুনি হওয়ার স্বপ্ন দেখা এই শিক্ষার্থী ইউরোপের অন্য কোনো দেশে চলে যেতে চান। তার ভাষায়, তিনি এমন দেশে যেতে চান, ‘যেখানে পরিস্থিতি আরও ভালো’।   রোমের দখল করা মর্গাগনি হাইস্কুলে শিক্ষার্থীরা টেবিল দিয়ে প্রবেশপথ আটকে রেখেছেন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবকাঠামোকে কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, ইতালির সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতিকেরা কিছু বিক্ষোভকারীর লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।   তিনি বলেন, ‘এর ফলে এই ব্যবস্থার শিকার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ছে।’   বিক্ষোভে সহিংসতার বিষয়ে ইতালির বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইউনিয়নের সমন্বয়ক ২৪ বছর বয়সী সাবরিনা ব্রিজোলা বলেন, তার সংগঠনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই ‘প্রজন্মের ক্ষোভকে’ সংগঠিত করা এবং গঠনমূলক পথে পরিচালিত করা।   তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগগুলো একই রকম, যদিও প্রতিবাদের পদ্ধতি একেকজনের একেক রকম।’

২৫ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
ইতালি-গ্রিস-সাইপ্রাস থেকে দেশে ফেরত এলেন ৩৫ বাংলাদেশি

ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে মোট ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) একটি বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান।   ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন।   ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।   দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের (Frontex) তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়।   এই ফ্লাইটের মাধ্যমে ইউরোপের তিনটি দেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   তবে কী কারণে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে দূতাবাসের বার্তায় বিস্তারিত কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৩, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি
রিয়াদে লাগেজ হারানো যাত্রীদের জরুরি নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ দূতাবাস

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি এয়ারলাইনসের যেসব যাত্রী এখনো তাঁদের লাগেজ ফেরত পাননি, তাঁদের অনলাইনে হারানো লাগেজের অভিযোগ জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এ অনুরোধ জানায়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবরের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি এয়ারলাইনসের যেসব যাত্রী এখনো তাঁদের লাগেজ ফিরে পাননি, তাঁরা এয়ারলাইনসটির নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে ‘লস্ট ব্যাগেজ ক্লেম’ বা হারানো লাগেজের অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।   এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   দূতাবাস আরও জানিয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য এয়ারলাইনসের যাত্রীদের লাগেজসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাসময়ে জানানো হবে।

ছবি: সংগৃহীত
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, বিভাগে প্রাণহানি ২০০

সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর সিলেট বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ জনে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ জন রোগী।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।   স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে রয়েছে সিলেটের বিয়ানীবাজারের শহীদুল ইসলামের এক বছর বয়সী ছেলে আবদুল্লাহ আল সাফওয়ান, কোম্পানীগঞ্জের মকবুল হোসাইনের ৯ মাস বয়সী ছেলে জিসান আহমেদ এবং হবিগঞ্জ সদরের মিজানুর রহমানের তিন মাস ২৪ দিন বয়সী শিশু জায়ান।   সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ মৃত্যু স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর হাম ও এর উপসর্গে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সিলেট জেলায়। জেলাটিতে এ পর্যন্ত ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে ৬৯ জন, হবিগঞ্জে ৩২ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন মারা গেছেন। চার জেলার মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০০ জনে।   এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৯৪ রোগী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৯৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৩০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭৯ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২৩ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১৯ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন এবং নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন ভর্তি রয়েছেন। বিশ্বনাথ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও দুজন।   নিশ্চিত হাম রোগী ১ হাজার ১১৫ জন স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৫ জনে। শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং হাসপাতালে রোগীর চাপ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর হিসাব এক নয়।

ছবি: সংগৃহীত
২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চলবে মহানগর এক্সপ্রেস, প্রকাশ নতুন সময়সূচি

দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রী পরিবহন করা আন্তঃনগর ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ এবার কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে নতুন গন্তব্যে চলাচল শুরু করবে ট্রেনটি।   ওই দিন সন্ধ্যা ৮টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মহানগর এক্সপ্রেসের কক্সবাজারগামী প্রথম যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   চার দশকের পুরোনো ট্রেনের নতুন গন্তব্য বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে দুই মহানগরীর মধ্যে যাত্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ট্রেনটি। শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামের যাত্রীরাই নন, মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরাও নিয়মিত এই ট্রেনে যাতায়াত করে আসছেন। এবার রুট সম্প্রসারণের ফলে ট্রেনটির যাত্রাপথে যুক্ত হচ্ছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার।   মহানগর এক্সপ্রেসের নতুন সময়সূচি রেলওয়ের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। অন্যদিকে ফিরতি যাত্রায় ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নতুন সময়সূচিতে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যাত্রায় প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।   পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রীদের জন্য বাড়ছে সুবিধা বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল করছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাত্রী পরিবহন করছে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস। এই তালিকায় মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের জন্য আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেনের সুবিধা তৈরি হবে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারমুখী যাত্রীদের জন্য বিকল্প ট্রেনসেবা বাড়বে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের স্থানীয় যাত্রীরাও নতুন এই রেল যোগাযোগের সুবিধা পাবেন। রেলপথ সম্প্রসারণের এই উদ্যোগের ফলে রাজধানীর সঙ্গে পর্যটননগরী কক্সবাজারের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মন্ত্রী আব্দুল মঈন খানের খোঁজ নিলেন রাষ্ট্রপতি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাধীন মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন রাষ্ট্রপতি।   রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   হাসপাতাল পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি আব্দুল মঈন খানের বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং চলমান চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তাঁর দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করেন।   তবে মন্ত্রীর অসুস্থতার কারণ কিংবা চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

জাতীয়

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে রেকর্ড দাবদাহে ৫০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৩, ২০২৬

চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে। গবেষকদের হিসাবে, গত ২৬ বছরের মধ্যে এটিই মহাদেশটিতে দাবদাহজনিত সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।   গবেষণা সাময়িকী নেচার হেলথ-এ প্রকাশিত দুটি পর্যালোচিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপে তীব্র গরমের কারণে আনুমানিক ৫০ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০টির বেশি মৃত্যুর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করা হয়েছে।   লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু ও চরম আবহাওয়াবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস জানিয়েছেন, প্রাণহানির পরিসংখ্যান বিবেচনায় ইউরোপের অর্ধেকের বেশি অঞ্চলের জন্য এবারের গ্রীষ্ম সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় ছিল।   স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি তাপমাত্রা গবেষণায় দেখা গেছে, মে মাসের শেষভাগ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করেছে। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপে এবারের গ্রীষ্ম ছিল রেকর্ড উষ্ণ। এ সময় অঞ্চলটির গড় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। কিছু দেশে নির্দিষ্ট দিনে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে সর্বোচ্চ ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যায়। ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ সেখানকার জনস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য ক্রমেই বড় হুমকি হয়ে উঠছে।   ৩০ দেশের ৮৫৪ শহরের তথ্য বিশ্লেষণ দাবদাহে মৃত্যুর সম্ভাব্য সংখ্যা নির্ধারণ করতে বিজ্ঞানীরা ইউরোপের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহরের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় বাস্তবে রেকর্ড করা তাপমাত্রার সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব না থাকলে সম্ভাব্য তাপমাত্রা কত হতে পারত, তার তুলনা করা হয়। এরপর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তাপমাত্রা ও মৃত্যুহারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে একটি বৈজ্ঞানিক মডেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রাণহানির হিসাব তৈরি করা হয়। গবেষকদের দাবি, অতীতেও একই পদ্ধতিতে নির্ণয় করা আনুমানিক মৃত্যুর সংখ্যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের সরকারি স্বাস্থ্য পরিসংখ্যানের কাছাকাছি পাওয়া গেছে। তবে এবারের ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যুর হিসাব সরাসরি নিবন্ধিত মৃত্যুর চূড়ান্ত সংখ্যা নয়; এটি গবেষণাভিত্তিক একটি অনুমান।   সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে প্রবীণরা গবেষণার ফল অনুযায়ী, দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তুলনামূলক শীতল জলবায়ুর যুক্তরাজ্যসহ উত্তর ইউরোপের দেশগুলোও তীব্র গরমের প্রাণঘাতী প্রভাব থেকে রক্ষা পায়নি। দাবদাহে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে। তবে শুধু বয়স্করাই নন, অপেক্ষাকৃত তরুণ জনগোষ্ঠীও এই বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন। গবেষণায় ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী অন্তত ৮০০ জনের মৃত্যুর সঙ্গে অতিরিক্ত তাপমাত্রার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৬৫ বছরের কম বয়সী কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর পেছনেও দাবদাহের প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে গবেষণায় উঠে এসেছে, অতিরিক্ত গরমের কারণে মৃত্যুর পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে ইউরোপে দাবদাহজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় ৪০ শতাংশের সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উষ্ণায়নের সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে সেই হার বেড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। এর ফলে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে।   ‘নীরব ঘাতক’ হয়ে উঠছে তাপপ্রবাহ গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন বিশেষজ্ঞরাও ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক রাকেল নুনেস বলেন, অতিরিক্ত গরমের প্রাণঘাতী প্রভাব অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। এ কারণেই দাবদাহকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। তাঁর মতে, কম বয়সী মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। এটি প্রমাণ করে, তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি শুধু প্রবীণ কিংবা আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।   ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ গ্রীষ্মের সতর্কবার্তা জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের আগে প্রকাশিত এই গবেষণা বিশ্বনেতাদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বৈশ্বিক উষ্ণতা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গবেষক ক্লেয়ার বার্নসের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতি ঠেকাতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।   তিনি সতর্ক করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইউরোপকে আরও ঘন ঘন তীব্র তাপপ্রবাহ এবং বড় ধরনের প্রাণহানির মুখোমুখি হতে হবে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর শুধু পরিবেশগত সংকট নয়; এটি মানুষের জীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
জীবিকার তাগিদে জরায়ু অপসারণের পথে ভারতের আখশ্রমিক নারীরা
আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৩, ২০২৬

জীবিকা নির্বাহ, ঋণের বোঝা আর কাজ হারানোর ভয়—এই তিন চাপের মধ্যে পড়ে ভারতের মহারাষ্ট্রের বহু নারী আখশ্রমিক নিজেদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। মাসিকের সময় ছুটি না পাওয়া, অসুস্থ অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হওয়া এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পারার কারণে তাঁদের কেউ কেউ জরায়ু অপসারণের মতো বড় অস্ত্রোপচারের কথা ভাবছেন। এমনকি অস্ত্রোপচার করানোর পরও অনেক নারীকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও নানা জটিলতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভারতের আখশ্রমিক নারীদের এই কঠিন বাস্তবতা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ আখ কাটার কাজে নিয়োজিত। তাঁদের অনেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে দৈনিক প্রায় ৪০০ রুপি মজুরি পান। কাজের সন্ধানে অনেক শ্রমিককে নিজ এলাকা ছেড়ে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। তাঁদের বড় একটি অংশ মহারাষ্ট্রের বিদ জেলার বাসিন্দা।   মাসিকের সময়ও ছুটি নেই আখ কাটার মৌসুমি কাজে নিয়োজিত নারীদের জন্য মাসিকের সময় বিশ্রাম নেওয়াও কঠিন। অস্থায়ী শ্রমিকশিবিরে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও সুপেয় পানির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এক দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলেও মজুরি কমে যায় কিংবা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়। ফলে অনেক নারী শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও কাজ চালিয়ে যান। মাসিকের তীব্র ব্যথা, গর্ভাবস্থায় কাজের চাপ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাব তাঁদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। পূর্ণিমা নামের এক নারী শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসহ্য ব্যথা সহ্য করছেন তিনি। কাজ বন্ধ করার সুযোগ না থাকায় জরায়ু অপসারণের কথা ভাবছেন। তাঁর আশঙ্কা, এই কাজ চালিয়ে গেলে শারীরিক কষ্ট আরও বাড়বে। কিন্তু জীবিকার বিকল্প না থাকায় কাজ ছেড়ে দেওয়াও তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।   ঋণ ও মজুরির চাপে শ্রমিকেরা মহারাষ্ট্রের বিদ অঞ্চলে আখ কাটা একটি মৌসুমি পেশা। প্রতিবছর ঠিকাদারেরা শ্রমিকদের চিনি কলের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কাজ শুরুর আগে অগ্রিম অর্থ দেন। স্থানীয়ভাবে এই অগ্রিম অর্থকে দাদন বলা হয়। দাদনের অর্থ পরিশোধ করতে শ্রমিকদের মৌসুমজুড়ে কাজ করতে হয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি দল হিসেবে কাজ করেন, যাঁদের স্থানীয়ভাবে ‘কয়তা’ বলা হয়। প্রতিটি দম্পতির কাছ থেকে প্রতিদিন কয়েক টন আখ কাটার প্রত্যাশা থাকে। কাজের পরিমাণের ওপর আয় নির্ভর করায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থ শ্রমিকের কাজের ঘাটতি পূরণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবিতা নামের এক নারী শ্রমিক জানান, অসুস্থ অবস্থায়ও তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। পেটে প্রচণ্ড ব্যথা থাকা সত্ত্বেও ট্রাকে আখ তোলার জন্য মই বেয়ে উঠতে গিয়ে একাধিকবার পড়ে যান তিনি। কিন্তু কাজ বন্ধ করার সুযোগ পাননি। দীর্ঘদিনের শারীরিক কষ্টের পর ২০২৫ সালের মার্চে তিনি জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করান।   অস্ত্রোপচারের পরও কমেনি যন্ত্রণা সবিতা জানান, অস্ত্রোপচারের কয়েক মাস পরও তাঁর রক্তপাত ও পেটব্যথা অব্যাহত ছিল। পরে পুনেতে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত করেন বলে তিনি দাবি করেন। অস্ত্রোপচারের আগের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পেতেও সমস্যায় পড়েন বলে জানান তিনি। সবিতার অভিজ্ঞতা দেখায়, যথাযথ চিকিৎসা পরামর্শ, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা যাচাই এবং পরবর্তী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না হলে এমন সিদ্ধান্ত নারীদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। নারী অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সরকারি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না করে নারীদের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। সেখানে যথাযথ চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়াই জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।   জরায়ু অপসারণের হার নিয়ে উদ্বেগ নারী অধিকারকর্মী সঙ্গীতা চৌহান ও রাজনীতিবিদ ড. নীলম গোরহে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মহারাষ্ট্রের বিদ জেলার নারী আখশ্রমিকদের মধ্যে জরায়ু অপসারণের উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত জরিপ অনুযায়ী, বিদ জেলার ৮২ হাজার ৩০৯ জন নারী আখশ্রমিকের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৬১ জনের জরায়ু অপসারণ করা হয়েছিল। তাঁদের ৪৫ শতাংশের বেশি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিক নিবন্ধন এবং কল্যাণমূলক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রামীণ এলাকায় নিয়োজিত স্বীকৃত সামাজিক স্বাস্থ্যকর্মী বা ‘আশা’ কর্মীদেরও নারীদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে সহায়তা করার দায়িত্ব রয়েছে। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর্মী অস্ত্রোপচারের জন্য রোগী পাঠানোর বিনিময়ে অর্থ পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই এবং যথাযথ তদারকির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।   সরকারি উদ্যোগেও পরিবর্তন সীমিত আখ কাটার শ্রমিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, তাঁরা কাউকে জরায়ু অপসারণে বাধ্য করেন না। তবে শ্রমিকদের বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থতার মধ্যেও কাজ করার চাপ থেকে যায়। ঠিকাদার আশরুবা দত্ত জানান, তাঁদের আয় চিনি কলগুলোতে সরবরাহ করা আখের ওজনের ওপর নির্ভরশীল। শ্রমিক কম থাকলে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের মার্চে বোম্বে হাইকোর্ট আঞ্চলিক সরকারকে শ্রমিকদের নিবন্ধন, কল্যাণমূলক সুবিধা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, মাঠপর্যায়ে তাঁদের জীবনযাত্রা ও কর্মপরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। পূর্ণিমা ও সবিতা দুজনেই জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারি সহায়তা পাননি।   করপোরেট উদ্যোগ ও শ্রমিকদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আখের অন্যতম বড় ক্রেতা কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সলিডারিডাডের সঙ্গে কাজ করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শ্রমিকদের সুপেয় পানি, শৌচাগার, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, উন্নত সরঞ্জাম এবং নারী স্বাস্থ্যসামগ্রী পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ উদ্যোগে ইতোমধ্যে এক লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও পেপসিকো কোনো মন্তব্য করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এদিকে পূর্ণিমার শারীরিক কষ্ট ও আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটেনি। ব্যথার চিকিৎসায় এক বছরে প্রায় ৫০ হাজার রুপি ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি। জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করাতে হলেও তাঁকে নতুন করে ঋণ নিতে হতে পারে। পূর্ণিমার মতো বহু নারী শ্রমিকের সামনে তাই প্রশ্নটি শুধু অস্ত্রোপচার করানো বা না করানোর নয়; বরং স্বাস্থ্য, জীবিকা ও পরিবারের ভরণপোষণের মধ্যে কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবেন, সেই কঠিন সিদ্ধান্তের। বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অসুস্থতাজনিত ছুটি, সহজলভ্য সরকারি চিকিৎসা, চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া অস্ত্রোপচার প্রতিরোধ এবং শ্রমিকদের ঋণনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ জরুরি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের জনশূন্য ক্যাম্পে হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তানের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে আরও তিনজন সশস্ত্র জঙ্গিকে ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের আটক করতে অভিযান চলছে।   এদিকে, গোয়াদর মহাসড়কের কাছে একটি হোটেলে অবস্থানরত সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলটির ভেতরে চার হামলাকারীকে ঘিরে রাখা হয়েছে।   পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে গত ১২ বছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক জঙ্গি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।   তবে গোয়াদরের চলমান অভিযানগুলোর বিস্তারিত এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়নি।

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে ৭ জাহাজে হামলা ও মাইন বিস্ফোরণের দাবি ইরানের
মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান।   তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।   হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।   আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
সারাদেশ
অর্থনীতি

শিক্ষা
স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
সর্বশেষ