বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাঁদের ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি শেয়ার, সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য আর্থিক হিসাবের লেনদেনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশের সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এসব তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ। বিএফআইইউর চিঠিতে মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর হিসাব খোলার ফরম, লেনদেনের বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য চিঠি পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ-সংক্রান্ত আইনের আওতায় এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে অপেশাদার আচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনার তদন্ত চলছে। সূত্র জানায়, প্রথম ঘটনাটি গত ২৬ ফেব্রুয়ারির। ওই দিন নতুন গভর্নর নিয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি গভর্নর কবির আহম্মদ ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামকে কয়েকটি আদেশে জোরপূর্বক সই করানোর অভিযোগ ওঠে মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে তদন্ত চলছে। মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগটি তদবির-সংক্রান্ত। আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চিকিৎসক এইচ বি এম ইকবালের বিরুদ্ধে বিএফআইইউ যাতে কোনও ব্যবস্থা না নেয়, সে বিষয়ে একজন নির্বাহী পরিচালকের কাছে তদবির করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতার রেফারেন্স দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএফআইইউর পক্ষ থেকে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে লিখিত অভিযোগ করা হয়। তবে মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলবের বিষয়ে বিএফআইইউর চিঠিতে কী কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলও প্রকাশিত হয়নি।
ইসরাইলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনের ভোট গণনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের চমক দেখা যাচ্ছে। মোট প্রদত্ত ভোটের ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ গণনার পর দেখা যাচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির সুসংগঠিত আরব দলগুলোর নজিরবিহীন সাফল্য। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাডি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে নেসেটের দুটি আরব নেতৃত্বাধীন দল যৌথভাবে ১৯টি আসনে জয়লাভ নিশ্চিত করার পথে রয়েছে, যা ইসরাইলের নির্বাচনী ইতিহাসে আরব দলগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ও অভূতপূর্ব সাফল্য। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে আরব দলগুলো সর্বোচ্চ ১৫টি আসন লাভ করেছিল। এবার জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১২টি আসন এবং মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম লাভ করেছে ৭টি আসন। হিসাব অনুযায়ী, প্রধান আরব শহরগুলোতে ভোটদানের হার রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদায়ী সরকারÑযাকে ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে চরমপন্থী ও আরববিরোধী সরকার হিসেবে গণ্য করা হয়Ñতাকে ক্ষমতার বাইরে পাঠাতেই অণগ্রসর আরব সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে এই গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আরব দলগুলো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করলেও নতুন সরকারে তারা সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে কিনা তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা রয়েছে। রা’আমের নেতা মনসুর আব্বাসের দল নেতানিয়াহু বিরোধী ‘পরিবর্তন জোটে’ যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, ওই জোটের বেশ কিছু দল নীতিগতভাবে কোনো আরব দলের সাথে সরকার গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে, ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের জয়েন্ট লিস্ট সরকারে সরাসরি যোগ না দিয়েও কৌশলগত অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা ভোটদানে বিরত থেকে বা বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে সহায়তা করতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতে থাকার পরপরই জয়েন্ট লিস্টের সিনিয়র নেতা আহমেদ তিবি সামাজিক মাধ্যমে একটি বহুল আলোচিত মন্তব্য পোস্ট করেন। তিনি লেখেন: ‘হয় বিবি (নেতানিয়াহু), নয়তো তিবি।’ ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দুটি মূল জোটের কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায়, ডাবল-এনভেলপ বা বিশেষ ভোটগুলো গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত অচলাবস্থা কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর দেশটির সংসদীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ। মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) নির্বাচনে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৭৩ লাখ ৩০ হাজার যোগ্য ভোটারের মধ্যে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোট দিয়েছেন। এবারের ভোটদানের হার ২০২২ সালের নির্বাচনে রেকর্ড করা ৭০ শমিক ৬৩ শতাংশের তুলনায় প্রায় ৭ শমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ১৯৯৯ সালের নেসেট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৮ শমিক ৭ শতাংশ। ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। সম্প্রচারমাধ্যমটির দাবি, এই হার ১৯৯৯ সালের রেকর্ডের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। সূত্র : আল-জাজিরা, দ্য টাইমস অব ইসরাইল।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়টির নাম ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের নাম কে ঠিক করে, আর কেনই বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের এমন আলাদা নাম রাখা হয়? আসলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ কোনও ব্যক্তি বা একটি দেশের ইচ্ছামতো করা হয় না। এর জন্য রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিয়ম ও আগাম প্রস্তুত করা নামের তালিকা। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখে কারা? বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের দায়িত্ব উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। এ ব্যবস্থায় ১৩টি দেশ নাম প্রস্তাব করে। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। প্রতিটি দেশ আগাম কিছু নাম জমা দেয়। এরপর নির্ধারিত ক্রম অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ব্যবহার করা হয়। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র (আরএসএমসি), যখন ঝড়টি নাম দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তীব্রতায় পৌঁছায়। বাংলাদেশও এই তালিকার জন্য নাম প্রস্তাব করে। যেমন— ‘অর্ণব’ নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নামগুলোর একটি। তবে কোনও দেশ নাম প্রস্তাব করলেই সেই দেশের উপকূলে ঝড়টি আঘাত হানবে, এমন নয়। নামের তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে নাম ব্যবহার করা হয়, আর ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নির্ভর করে আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর। ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয় কেন? ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা এবং এর বিষয়ে সতর্কবার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শুধু অবস্থানাঙ্ক বা কারিগরি পরিচয় ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্দিষ্ট ঝড়টি মনে রাখা কঠিন হতে পারে। কিন্তু একটি পরিচিত নাম ব্যবহার করলে সংবাদমাধ্যম, আবহাওয়াবিদ, উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারেন কোন ঝড়ের কথা বলা হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নামকরণের ফলে সতর্কবার্তা আদান-প্রদান সহজ হয়, একাধিক ঝড়ের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি কমে এবং দুর্যোগের প্রস্তুতি সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ে। ধরা যাক, একই সময়ে একাধিক সামুদ্রিক ঝড় তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ঝড়ের আলাদা নাম থাকলে কোনটির গতিপথ কোথায়, কোন অঞ্চলে সতর্কতা জারি হয়েছে এবং কোন ঝড়ের প্রভাব কেমন হতে পারে এসব তথ্য আলাদা করে বোঝানো সহজ হয়। নামগুলো কীভাবে বেছে নেওয়া হয়? ঘূর্ণিঝড়ের নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম রয়েছে। নামগুলো সাধারণত সংক্ষিপ্ত, সহজে উচ্চারণযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিত হওয়ার উপযোগী করে নির্বাচন করা হয়। পাশাপাশি নাম যেন অন্য নামের সঙ্গে সহজে গুলিয়ে না যায়, সেটিও বিবেচনা করা হয়। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে ব্যবহার করা হয়। একবার কোনও নাম ব্যবহার হয়ে গেলে এই অঞ্চলের তালিকায় সেটি আবার ব্যবহার করা হয় না। ফলে প্রতিটি নতুন ঘূর্ণিঝড়ের জন্য তালিকা থেকে পরবর্তী নামটি নেওয়া হয়। ঘূর্ণিঝড়ের নাম সব সময় কোনো ব্যক্তি বা জায়গার নামে রাখা হয়—এমন ধারণাও সঠিক নয়। নামের উৎস হতে পারে বিভিন্ন ভাষার শব্দ, প্রকৃতি কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশের প্রস্তাবিত অন্য কোনো নাম। তবে নামটি যেন আপত্তিকর না হয় এবং সহজে ব্যবহার করা যায়, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। নাম থাকলেই কি ঝড়ের ভয়াবহতা বোঝা যায়? না। ঘূর্ণিঝড়ের নামের সঙ্গে এর শক্তি বা ধ্বংসক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক নেই। নামটি মূলত ঝড়টিকে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। একটি ঝড় কতটা শক্তিশালী, বাতাসের গতি কত, কোথায় আঘাত হানতে পারে এবং কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এসব জানতে আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে হয়। কোনও ঘূর্ণিঝড়ের নাম পরিচিত বা আকর্ষণীয় হলেই সেটি বেশি শক্তিশালী, এমন নয়। আবার তুলনামূলক সাধারণ নামের ঝড়ও ভয়াবহ হতে পারে। তাই নামের চেয়ে ঝড়ের অবস্থান, তীব্রতা, সম্ভাব্য গতিপথ এবং সরকারি সতর্কবার্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ঘূর্ণিঝড়ের নাম জানার পাশাপাশি সতর্ক থাকাও জরুরি ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুধু পরিচিতির জন্য নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যোগাযোগ সহজ করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। ‘অর্ণব’-এর মতো কোনও ঝড়ের নাম সংবাদে শুনলে সেই ঝড় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা, আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। সবশেষে, ঘূর্ণিঝড়ের নাম কোনও একক ব্যক্তি ঠিক করেন না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিয়মে নাম ব্যবহার করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, সতর্কবার্তা পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়ানো।
নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, রাঙামাটি-বান্দরবান আঞ্চলিক মহাসড়কের (আর-১৬১) ২১তম কিলোমিটারে সেতুটি নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ৭ দশমিক ৫২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ২৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুর চূড়ান্ত নকশা তৈরি করে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন ডিপিপি পুনর্গঠন করে আবার পাঠাতে হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। ২০৩১ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ফেরিতে একবারে মাত্র ৮ থেকে ১০টি ট্রাক বা বাস এবং ১৫ থেকে ২০টি ছোট ও হালকা যানবাহন পারাপার করা যায়। একবার নদী পার হতে আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বাড়লে, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের গেট খুলে দিলে কিংবা নদীতে পানি কমে গেলে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সেতুটি চালু হলে দীর্ঘদিনের ফেরি পারাপারের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি পর্যটন ও বাণিজ্যে গতি আসবে, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। চন্দ্রঘোনার ব্যবসায়ী ফরিদ আহমদ বলেন, চন্দ্রঘোনা ফেরি দিয়ে দৈনিক ৯০০ থেকে ১ হাজার ছোট-বড় যানবাহন পারাপার হয়। তবে ফেরির কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে ছোট ছোট সাম্পানে নদী পার হন। তিনি বলেন, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার কয়েক লাখ মানুষ চন্দ্রঘোনা ফেরির ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও তিন পার্বত্য জেলা ঘুরে কক্সবাজার যাওয়ার এই পথটি বেশ জনপ্রিয়। কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা থোয়াই অং মারমা বলেন, ‘ফেরি অচল থাকলে আমরাও থেমে থাকি। দুই-তিন মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা, কখনো তারও বেশি সময় লাগে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন জরুরি রোগীরা। রাত-বিরাতে অ্যাম্বুলেন্সকেও ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অথচ সেতু থাকলে কয়েক মিনিটেই নদী পার হওয়া যেত।’ রাইখালী বাজারের ব্যবসায়ী তনয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ফেরির ঝামেলায় পাহাড়ি এলাকার কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছানো যায় না। অনেক সময় ফেরি বিকল হয়ে মাঝনদীতে আটকে পড়ে। এই সেতু হলে বান্দরবান ও রাঙামাটির সঙ্গে আমাদের ব্যবসার চেহারাটাই বদলে যাবে। ট্রাকচালক রহিম উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ইট আনা-নেওয়ার কাজে তাকে এই ফেরি পার হতে হয়। কখনো এক ঘণ্টায় নদী পার হওয়া যায়, আবার কখনো দীর্ঘ যানজটে বসে থাকতে হয়। সেতুটি হলে সময়ের অপচয় ও জীবনের ঝুঁকি—দুটিই কমবে। সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কীর্তি নিশান চাকমা জানান, সেতুটি শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, রাঙামাটি ও বান্দরবানের পর্যটনশিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘দুই পার্বত্য জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনশিল্পের বিকাশে এই সেতু মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’ কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, চন্দ্রঘোনায় সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং দুই জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাস্টার খলিলুর রহমান শেখ বলেন, সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য বান্দরবান, রাজস্থলী, চন্দ্রঘোনা, রাইখালী, রাঙ্গুনিয়া ও কাপ্তাই এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি প্রকল্পে প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। স্বাক্ষরিত দলিলগুলোতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের বিভিন্ন অর্জনের বিষয়ে উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন এ তথ্য জানান। দলিলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ২.১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অনুদান চুক্তি রয়েছে। এ ছাড়া, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইএসডিপি) বিষয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতা জোরদারে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট-এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে। অন্যদিকে, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫.৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। এ ছাড়া, উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০.৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দুটি প্রকল্পে ঋণের মোট পরিমাণ ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। এসব দলিল, সহযোগিতা স্মারক ও ঋণের প্রতিশ্রুতিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এর আগে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান আগমন করেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তার সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান আসেন।
চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার শিল্পাঞ্চল দুটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সদস্য (প্রকৌশল) আব্দুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী পরিচালক (নিরাপত্তা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসীন হাসান এবং চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম অতিথিদের বেপজার সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় শিল্পাঞ্চলগুলোর বিনিয়োগ, রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান, অবকাঠামোগত সুবিধা, শ্রমিক কল্যাণ এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড ও তালিসমান পারফরমেন্স লিমিটেড এবং কর্ণফুলী ইপিজেডের কেনপার্ক অ্যাপারেলস (হিরদারামানি বাংলাদেশ) ও পার্ক বিডি শিল্পকারখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনব্যবস্থা, কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে বেপজার আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিকল্পিত অবকাঠামো, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, রপ্তানিমুখী উৎপাদন কার্যক্রম এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন কর্মকর্তারা। তারা দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিকল্পিত শিল্পায়নে বেপজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ নুরজাহান খানম এবং পরিচালক-১ ফাহমিদ ফারহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের সাধারণ ব্যালট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবার শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ পদ্ধতিতে দেওয়া ‘ডাবল খামের’ ভোট গণনা। প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ভোটারের এসব ব্যালট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ও আসন বণ্টনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোতের জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী কোনো জোটই এককভাবে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তবে ‘ডাবল খামের’ ব্যালট গণনা শেষে আসনের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অধিকাংশ ভোটার নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সাধারণ ব্যালটে ভোট দেন। তবে বিশেষ কিছু শ্রেণির ভোটারের জন্য রয়েছে ‘ডাবল খাম’ পদ্ধতি। ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ভোটার এ পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন। এই ব্যবস্থায় ভোটারের ব্যালট দুটি পৃথক খামের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। ভোটারের পরিচয় যাচাই ও ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ইসরায়েলে বিশেষ এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান সেনাবাহিনীর সদস্য, কারাবন্দি, হাসপাতালে অবস্থানরত রোগী ও কর্মী, বিদেশে কর্মরত কূটনীতিক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে যেতে অক্ষম ভোটাররা। তবে বিদেশে বসবাসরত সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য এই সুবিধা নেই। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে তাদের ইসরায়েলে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে হয়। ‘ডাবল খাম’ পদ্ধতিতে একজন ভোটার প্রথমে পছন্দের প্রার্থী বা দলের পক্ষে ভোট দিয়ে ব্যালটটি একটি খামে রাখেন। এরপর সেই খামটি ভোটারের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যসম্বলিত আরেকটি খামে রাখা হয়। পরে খামগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। নির্বাচন কমিশন প্রথমে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ভোটার অন্য কোনো ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আবার ভোট দিয়েছেন কি না। দ্বৈত ভোটের প্রমাণ না পাওয়া গেলে ব্যালটটি বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এরপর পরিচয়সংক্রান্ত বাইরের খাম থেকে ভেতরের ব্যালটের খাম আলাদা করে ভোট গণনা করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের কারণে সাধারণ ব্যালটের তুলনায় এই প্রক্রিয়ায় বেশি সময় লাগে। ইসরায়েলের সর্বশেষ ২০২২ সালের নির্বাচনে প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোটার ‘ডাবল খাম’ পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় সাড়ে ছয় লাখে পৌঁছেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভোটগুলোর প্রভাব সাধারণত ১২ থেকে ১৫টি আসনের বণ্টনের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী জোটগুলোর মধ্যে আসনের ব্যবধান কম থাকায় বিশেষ ব্যালটের ফলাফল রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন জোট শেষ পর্যন্ত কতটি আসন পাবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধে নতুন একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে কাতার। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে তেহরান ও মধ্যস্থতাকারীদের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে মতবিরোধ। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার ইরানের কাছে নতুন শান্তি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে এবং সপ্তাহের শেষ নাগাদ তেহরানের জবাব পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, কাতার কেবল কিছু ‘অগ্রহণযোগ্য ধারণা’ দিয়েছে, যা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নয়। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাতারের খসড়ায় দুই পক্ষের উদ্বেগ মোকাবিলায় সাত দিনের একটি সময়সীমা রাখা হয়েছে। প্রতিদিনের জন্য আস্থা তৈরির পদক্ষেপও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে এই প্রক্রিয়া চালু হতে পারে। চুক্তি বাস্তবায়নে কয়েকটি দেশ গ্যারান্টর হিসেবে কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় ইরান। যুক্তরাষ্ট্র চায়, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরুর পর্যায় থেকেই ইরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত হোক। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো শর্ত আগে পূরণ করতে হবে। ইরান বরাবরই তাদের পরমাণু কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হওয়ার পশ্চিমা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এদিকে যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবার হামলার হুমকি দেন। একই সময়ে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল লক্ষ্য করে আক্রমণের বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছে তেহরান। সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে মঙ্গলবার কাতার বলেছে, মধ্যস্থতার উদ্যোগ সফল করতে ইরানকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতি হুমকি বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। এই সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে। যুদ্ধের আগের পর্যায়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়েছিল। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াইও নতুন করে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধটি ট্রাম্পের জনসমর্থনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে কার্যকর হওয়া স্থানীয় যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় দিনেও কার্যকর রয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার উভয় পক্ষই এ তথ্য জানিয়েছে। এতে অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের কাছে জরুরি খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানোর আশা জোরালো হয়েছে। বার্তা সংস্থাটি জানায়, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রুশ দখলাধীন ওলেশকি শহরের বাসিন্দারা কয়েক মাস ধরে খাদ্য, পানি ও ওষুধের সংকটে ভুগছেন। দুই পক্ষের লড়াইয়ের মাঝখানে পড়ে তাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এখনো শহরটিতে থাকা মানুষের যোগাযোগ রয়েছে শহরের এমন সাবেক বাসিন্দারা এএফপিকে জানান, শহরটিতে এখনো অবস্থানরত আনুমানিক দুই হাজার মানুষের মধ্যে কেউ কেউ কবুতর শিকার করে তা খেতে বাধ্য হয়েছেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক ন্যায়পালরা বুধবার জানান, মঙ্গলবার ভোরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে। ইউক্রেনের দিমিত্রো লুবিনেৎস বলেন, ‘ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির ৩০ ঘণ্টা পার হয়েছে, এ সময়ে একটি ঘটনাও ঘটেনি।’ রাশিয়ার ইয়ানা লানত্রাতোভাও প্রায় একই ভাষায় দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির ৩০ ঘণ্টায় কোনো সংঘাতের ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’ শহরটির বাসিন্দাদের ভাগ্য নিয়ে কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প পরিকল্পিত এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। কতজন বাসিন্দা শহর ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, কিংবা তাদের কোন পথে যেতে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দিনিপ্রো নদী বরাবর বিস্তৃত যুদ্ধরেখা পেরিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। রাশিয়ার নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাসিন্দাদের রুশ-অধিকৃত ক্রিমিয়া হয়ে যেতে হতে পারে। রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, শহর ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক বেশির ভাগ মানুষ ইতোমধ্যে চলে গেছেন। ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, শহরের অনেক মানুষই সেখানে থেকে যেতে চান। তাই মানবিক সহায়তা শহরটিতে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই যুদ্ধবিরতির এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার হামলা শুরুর সময় ওলেশকি দখল করে নেয় রুশ বাহিনী। ২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইউক্রেনের আইনপ্রণেতা দাভিদ আরাখামিয়া এই যুদ্ধবিরতিকে ‘২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা প্রশমন’ বলে বর্ণনা করেছেন। অর্থোডক্স ইস্টারের মতো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে এর আগে যুদ্ধ চলাকালে স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এসব বিরতিতে আকাশপথে হামলা কমলেও উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
নাসির উদ্দিন
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইসরাইলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনের ভোট গণনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের চমক দেখা যাচ্ছে। মোট প্রদত্ত ভোটের ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ গণনার পর দেখা যাচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির সুসংগঠিত আরব দলগুলোর নজিরবিহীন সাফল্য। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাডি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে নেসেটের দুটি আরব নেতৃত্বাধীন দল যৌথভাবে ১৯টি আসনে জয়লাভ নিশ্চিত করার পথে রয়েছে, যা ইসরাইলের নির্বাচনী ইতিহাসে আরব দলগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ও অভূতপূর্ব সাফল্য। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে আরব দলগুলো সর্বোচ্চ ১৫টি আসন লাভ করেছিল। এবার জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১২টি আসন এবং মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম লাভ করেছে ৭টি আসন। হিসাব অনুযায়ী, প্রধান আরব শহরগুলোতে ভোটদানের হার রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদায়ী সরকারÑযাকে ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে চরমপন্থী ও আরববিরোধী সরকার হিসেবে গণ্য করা হয়Ñতাকে ক্ষমতার বাইরে পাঠাতেই অণগ্রসর আরব সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে এই গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আরব দলগুলো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করলেও নতুন সরকারে তারা সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে কিনা তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা রয়েছে। রা’আমের নেতা মনসুর আব্বাসের দল নেতানিয়াহু বিরোধী ‘পরিবর্তন জোটে’ যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, ওই জোটের বেশ কিছু দল নীতিগতভাবে কোনো আরব দলের সাথে সরকার গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে, ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের জয়েন্ট লিস্ট সরকারে সরাসরি যোগ না দিয়েও কৌশলগত অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা ভোটদানে বিরত থেকে বা বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে সহায়তা করতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতে থাকার পরপরই জয়েন্ট লিস্টের সিনিয়র নেতা আহমেদ তিবি সামাজিক মাধ্যমে একটি বহুল আলোচিত মন্তব্য পোস্ট করেন। তিনি লেখেন: ‘হয় বিবি (নেতানিয়াহু), নয়তো তিবি।’ ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দুটি মূল জোটের কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায়, ডাবল-এনভেলপ বা বিশেষ ভোটগুলো গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত অচলাবস্থা কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর দেশটির সংসদীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ। মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) নির্বাচনে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৭৩ লাখ ৩০ হাজার যোগ্য ভোটারের মধ্যে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোট দিয়েছেন। এবারের ভোটদানের হার ২০২২ সালের নির্বাচনে রেকর্ড করা ৭০ শমিক ৬৩ শতাংশের তুলনায় প্রায় ৭ শমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ১৯৯৯ সালের নেসেট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৮ শমিক ৭ শতাংশ। ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। সম্প্রচারমাধ্যমটির দাবি, এই হার ১৯৯৯ সালের রেকর্ডের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। সূত্র : আল-জাজিরা, দ্য টাইমস অব ইসরাইল।
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতে ১৪ জন নাবিকসহ মোট ২২ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে দেশটির উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং প্রাণহানির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জয়সওয়াল বলেন, আমরা এই পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। অত্যন্ত দুঃখজনক, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ১৪ জন নাবিকসহ মোট ২২ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায় এবং সমুদ্রগামী কর্মীদের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে জয়সওয়াল জানান, ভারতের কূটনৈতিক মিশনগুলো সেখানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সেখানে আমাদের মিশন এবং ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছি। ওই অঞ্চলে প্রাণহানির বিষয়ে আরও তথ্য দিতে গিয়ে তিনি জানান, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে সৌদি আরবেও তিনজন ভারতীয় নাগরিক মারা গেছেন। জয়সওয়াল বলেন, সৌদি আরবে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনায় তিনজন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত ভারতের কূটনৈতিক মিশনগুলো সেখানকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ সামুদ্রিক পথে কর্মরত ভারতীয় কর্মী ও নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়। এদিকে জেদ্দায় অবস্থিত ভারতের কনসুলেট জেনারেল একটি নতুন ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করেছে। এতে সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ফ্লাইট বিঘ্নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিক বিশেষ করে ওমরাহ পালনকারীদের যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত ফ্লাইট সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ববর্তী নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় কূটনৈতিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্স এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণ করা যায়। এক্সে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জেদ্দায় ভারতের কনসুলেট জেনারেল জানিয়েছে, পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সৌদি আরব ও ভারতের মধ্যে বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আমাদের চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে, আমরা কিছু নতুন তথ্য জানাতে চাই। সৌদি আরবের প্রধান ট্রানজিট কেন্দ্রগুলো থেকে বিমান চলাচল সম্পর্কে কনসুলেট জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশের বিমানবন্দরগুলো থেকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পরিষেবাগুলো এখনও সচল রয়েছে। এদিকে সৌদি বিমান সংস্থাগুলো ভারতে তাদের পরিষেবা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোও তাদের নিজ নিজ হাবের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার সুযোগ (ওয়ান-স্টপ কানেকশন) দিচ্ছে। সৌদি আরবের বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘ফ্লাইনাস’ পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে আটকা পড়া যাত্রীদের সহায়তার জন্য দাম্মাম ও রিয়াদ থেকে ভারতের প্রধান মহানগরী ও আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। রিয়াদ ও জেদ্দায় অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনগুলো হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের পরিচালনাকারী ট্যুর অপারেটরদের অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা এই বর্ধিত ফ্লাইট সূচি কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের সুশৃঙ্খলভাবে দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দূতাবাস ও কনস্যুলেট বিভিন্ন বিমান সংস্থা এবং কমিউনিটি সংগঠনগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে, যাতে ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকরা বিশেষ করে ওমরাহ যাত্রীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা পেতে পারেন। কনস্যুলেট যাত্রীদের পুনরায় বুকিং নিশ্চিত না করে বিমানবন্দরে যেতে সতর্কতা জারি করেছে। বরং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যম উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সৌদি আরব ইয়েমেনের হুতিদেন গোষ্ঠীকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এটি ইরান-মধ্যস্থতাকারী একটি চুক্তির অংশ, যার লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধ করা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান হুথিদের সাথে যুদ্ধবিরতির আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেছিলেন। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় ইরানের মাধ্যমে হুথি গোষ্ঠীকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হস্তান্তরের কথা রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে।
নতুন নির্বাচন এড়ানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। বুধবার এ আহ্বান জানান তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবারের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকোট সরকার গঠনের পথ খুঁজছেন। এ পরিস্থিতিতে আরব দলগুলো সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট সামান্য এগিয়ে থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম নির্বাচন। ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কট্টর ডানপন্থী ও অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট একটি বিস্তৃত বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দুজনই পরবর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কারও অর্জনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। প্রাথমিক হিসাবে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং আইজেনকোটের বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ইসরাইলের আরব দলগুলোর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি স্পষ্ট। দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এএফপি জানায়, সরকার গঠনের জন্য কোন নেতাকে মনোনীত করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট হারজগের ওপর। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর বিশেষ করে নতুন নির্বাচন এড়াতে আমাদের অবশ্যই সবকিছু করতে হবে।’ তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘উন্মুক্ত মনোভাব’ নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানান। বামপন্থী আরব-অধ্যুষিত জয়েন্ট লিস্টের প্রধান ইউসেফ জাবারিন বলেন, ইসরায়েলের জনগণ নতুন নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নেতানিয়াহু সরকারের বিকল্প দিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এখন হয় বর্ণবাদের ধারাবাহিকতা, বর্জনের ধারাবাহিকতা ও আধিপত্যবাদ চলবে, নয়তো ইহুদি-আরবদের মধ্যে প্রকৃত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।’ ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব। এ জনগোষ্ঠীর সদস্যরা মূলত ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সেখানে থেকে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের বংশধর। নেতানিয়াহু সরকারের ইহুদি জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে নীতির কারণে আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে। আইজেনকোট অবশ্য আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে অনীহা দেখিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় নেতানিয়াহু বারবার বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেছেন, তাদের সরকার গঠিত হলে আরবরা ক্ষমতায় আসবে। তার প্রচারণার স্লোগান ছিল, ‘হয় ডানপন্থীরা, নয়তো ফিলিস্তিন।’ আইজেনকোটের শিবিরের অংশ ইসরায়েলের প্রধান বামপন্থী দলের নেতা ইয়াইর গোলান প্রথমবারের মতো আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গোলান বলেন, ‘ইহুদি ও আরবদের ভোটের মধ্যে নেতানিয়াহুর বর্ণবাদী বিভাজন আমরা আর মেনে নিতে পারি না।’ তবে আইজেনকোটের জোটে এমন ডানপন্থী নেতারাও রয়েছেন, যারা নেতানিয়াহুর অনেক কঠোর নিরাপত্তানীতির সঙ্গে একমত এবং আরব আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কাজ করার বিরোধিতা করেন। জোটে সরাসরি যোগ না দিয়েও আরব আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্টের বিভিন্ন ভোটে প্রয়োজন অনুযায়ী আইজেনকোটকে সমর্থন দিতে পারেন। এতে তিনি সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এমন ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন না। কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে জোটের সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা চলতে পারে। আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনও হতে পারে। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গিডিয়ন রাহাত বলেন, ‘হয়তো এই নির্বাচনে আরব দলগুলো ছাড়া সবাই হেরেছে। কিন্তু আরব দলগুলো তাদের বড় সাফল্য কাজে লাগাতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।’ রাজনৈতিক অচলাবস্থা আপাতত নেতানিয়াহুর জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের ধাক্কায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইরান। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, আয় কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সংকটে খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক পরিবারকে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, ঋণ করতে হচ্ছে কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ইরানে ভোক্তাপণ্যের দাম প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে। বার্ষিক মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশে। খাদ্য ও পানীয়ের দাম বেড়েছে ১২১ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে পরিবারগুলো খাবার কেনার ব্যয় সামলাতে গিয়ে অন্যান্য খাতে খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে। ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের ৪৭ বছর বয়সী দোকানি মোহাম্মদ আলি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই। আমরা ভয়ে বেঁচে থাকতে থাকতে ক্লান্ত—আবার যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাবে, সেই ভয়; আবার মাস শেষে সংসারের খরচ চালাতে পারব না, সেই ভয়।’ দেশটির অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ মঙ্গলবার জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চাপ বহন করছেন পেনশনভোগী, শ্রমিক ও সরকারি কর্মচারীরা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তিন সদস্যের একটি শ্রমজীবী পরিবারের মাসিক ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ৩৩৬ ডলার। অথচ মুক্তবাজারের বিনিময় হার অনুযায়ী গড় মাসিক মজুরি প্রায় ৯২ ডলার। অর্থাৎ আয়ের তুলনায় ব্যয় কয়েক গুণ বেশি। সেপ্টেম্বরে বাড়িভাড়া বেড়েছে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। আবাসন, পরিষেবা ও জ্বালানির ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। চাকরির বাজারেও বাড়ছে চাপ। বসন্তকালে ইরানের বেকারত্বের হার বেড়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেকার। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমিয়ে নতুন নিয়োগ বন্ধ রাখায় চাকরিপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। যুদ্ধের কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের তেল রপ্তানি, বাণিজ্য ও সরকারি রাজস্বে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার প্রভাব। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের মূল্য গত এক বছরে অর্ধেকেরও বেশি কমে যাওয়ায় বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্নও ভেঙে যাচ্ছে অনেক তরুণের। তুরস্কে দুই বছর চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার পর টিউশন ফি দিতে না পেরে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী শাহরিয়ার। তার মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারিত নিষেধাজ্ঞা। গত ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ঘোষিত এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের জন্য তেহরানের অর্থায়ন কমানো। তবে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রা ও কাঁচামাল সংগ্রহে বাধা এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সংকটে পড়েছে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা ইরানের সরকারের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে দেশটিতে একাধিকবার বিক্ষোভ হয়েছে। জানুয়ারির অস্থিরতায় হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানি কর্মকর্তারা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। যুদ্ধ, বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।