রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, এটি সমাধানের গতি প্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করছে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার ওপর। বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত সংঘাত ও যুদ্ধাবস্থা চলছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো শরণার্থীকে জোরপূর্বক বা অনিরাপদ পরিবেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। তবে আমাদের সরকার রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সে লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসনের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময়সীমা এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে আসার সাথে সাথেই যাতে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়, সেজন্য আমাদের সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রাখা হয়েছে। উপযুক্ত সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের স্থায়ী ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন শুরু করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, সরকারের কঠোর নজরদারি ও বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানের ফলে ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে খুনের ঘটনা গত তিন বছরে রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। ২০২৩ সালে ক্যাম্পে খুনের ঘটনা ছিল ৬৬টি। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪৯টিতে। ২০২৫ সালে তা আরও কমে ৩৫টিতে নেমে আসে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে খুনের সংখ্যা মাত্র ৬টিতে দাঁড়িয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লক্ষ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। এ পর্যন্ত ৮ লক্ষ ২৯ হাজার ৩৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের আওতায় ৯১০.৫ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে, যার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ২৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়া গেছে। মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোনো রাজনীতি নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
বর্তমানে দেশে ২৭টিরও বেশি শিক্ষার ধারা বিদ্যমান। তবে মাদরাসা, বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম কিংবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ভিন্ন ভিন্ন ধারার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। এজন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা দরকার, যাতে সব শিক্ষার্থীই সমান সুযোগ ও সমমানের যোগ্যতা অর্জনের অধিকার পায়। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন আয়োজিত ক্যামব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি ভিশন নির্ধারণ করেছে। এ ভিশনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা ও শিক্ষাকে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা।হারা শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য চারটি মূল স্তম্ভ ও একটি নতুন উপাদানের কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, স্ট্রিমসমূহের অ্যালাইনমেন্ট (সমন্বয়), প্রযুক্তির সংযোজনের (এআই ও ফিউচার জবস) ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার -টেকসই উন্নয়নের জন্য চারটি মূল স্তম্ভে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষকদের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাকা ছাড়া যেমন গাড়ি চলতে পারে না, তেমনি শিক্ষক ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা চলতে পারে না।
আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা আইইএলটিএস (IELTS)-এর ফলাফলে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়েছে। কম্পিউটারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থার ভুলের কারণে বিশ্বজুড়ে ৬২ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থী ভুল ফলাফল পেয়েছিলেন। এ ঘটনায় আইইএলটিএসের অন্যতম অংশীদার প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ ইংলিশকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ কোটি ৪২ লাখ ৪৬ হাজার ২০০ টাকা) জরিমানা করেছে যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকোয়াল (Ofqual)। অফকোয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে আইইএলটিএস পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল। এ সময় বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৭ লাখ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৯৩ হাজার ৮৬৫টি উত্তরপত্র ভুলভাবে মূল্যায়িত হয়, যার ফলে হাজারো পরীক্ষার্থীর ফলাফলে প্রভাব পড়ে। পরবর্তীতে ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন করে সংশোধন করা হয়। সংশোধিত ফলাফলে ২০ হাজার ৬০০ জনের বেশি পরীক্ষার্থীর ব্যান্ড স্কোর বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, ১ হাজার ১১৫ জনের ক্ষেত্রে ভুলবশত বেশি নম্বর দেওয়া হয়েছিল, যা পরে প্রকৃত স্কোর অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১ হাজার ১০৮ জন যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ‘সিকিউর ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট’ (SELT) দিয়েছিলেন। এর মধ্যে চারজন পরীক্ষার্থীর ভিসা-সংক্রান্ত যোগ্যতা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে পরে তারা পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে প্রয়োজনীয় স্কোর অর্জন করেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ত্রুটিটি কেমব্রিজ ইংলিশের নিজস্ব মনিটরিং সিস্টেমেও ধরা পড়েনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিস্টেম আপডেট করার সময় বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে এবং তারা তাৎক্ষণিকভাবে অফকোয়ালকে বিষয়টি জানানো হয়। অফকোয়ালের ডেলিভারি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আমান্ডা সোয়ান বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ এই পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কারণে পরীক্ষার্থী এবং ফল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান—উভয় পক্ষই বড় ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছে। আমাদের এই বিশাল অঙ্কের জরিমানা সেই গাফিলতিরই প্রতিফলন।’ এদিকে কেমব্রিজ ইংলিশ তাদের এই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েছে এবং দুঃখ প্রকাশ করেছে। ত্রুটি সংশোধন, পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, সার্বক্ষণিক কাস্টমার সাপোর্ট হাব পরিচালনা এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংস্থাটি ইতিমধ্যে ৬০ লাখ পাউন্ডেরও (প্রায় ৯০ কোটি টাকা) বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে আবারও পরীক্ষা দেওয়া অথবা সম্পূর্ণ ফি রিফান্ড (ফেরত) করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী আইইএলটিএস পরীক্ষা যৌথভাবে পরিচালনা করে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি আইইএলটিএস এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত। ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামের এক সংগঠনের জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়। বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। তবে এদিন আসামিপক্ষের শুনানি শেষ না হওয়ায় পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ধার্য করা হয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার নথি থেকে জানা গেছে, শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জন আসামির মধ্যে ২৫৯ জন পলাতক রয়েছেন। অপরদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৭ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি গ্রুপের জুম মিটিং হয়। সেখানে পলাতক শেখ হাসিনাকে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আনা এবং তা নিশ্চিত করার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। ওই মিটিংয়ে দেশ-বিদেশ থেকে মোট ৫৭৭ জন অংশ নেন এবং শেখ হাসিনার সব নির্দেশ পালন করার ব্যাপারে সবাই একমত প্রকাশ করেন। ড. রাব্বি আলমের (যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি) হোস্টিংয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং হোস্ট, কো-হোস্ট ও অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীদের কথোপকথনে ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনায় ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামক প্ল্যাটফর্মে দেশ-বিদেশ থেকে অংশগ্রহণকারীগণ বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে দেবে না মর্মে আলোচনা হয়। সেইসঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মিটিংয়ে সরকারকে উৎখাত করার জন্য গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের সুস্পষ্ট উপাদান রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। পরে সিআরপিসির ১৯৬ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তাকে মামলা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. এনামুল হক। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম, জয় বাংলা ব্রিগেডের সদস্য কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আজিদা পারভীন পাখি, শাহীন, অ্যাডভোকেট এ এফ এম দিদারুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার, সাবেক এমপি পংকজ নাথ, লায়লা বানু, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, রিতু আক্তার, নুরুন্নবী নিবির, সাবিনা বেগম ও শরিফুল ইসলাম রমজান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেয়া হবে না; বরং তা জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।’ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেছেন, ‘অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।’ তিনি বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এ দেশ থেকে জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সবার চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে এ দেশের অর্থ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা সবাই মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’ দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সবাই আছেন কি না জানতে চাইলে উপস্থিত হাজার হাজার চা শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরষরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন। বিএনপিকে গণ-মানুষের দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল, সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সেই জন্যই বিএনপি সবসময় বলে থাকে জনগণই আমাদের সব ক্ষমতার উৎস। যতবার ভোট দেয়ার সুযোগ এসেছে দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে।’ বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে যখন দেশে জনগণ যখন ফুঁসে উঠেছিল গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য, তখন অনেক বড় রাজনৈতিক নেতারা এ দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনগণকে রেখে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া বলেছিল বাংলাদেশই হচ্ছে আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের আমার শেষ ঠিকানা।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হলাম খালেদা জিয়ার সৈনিক। তাই এই দেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। কাজেই আসুন এই দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। এই দেশে আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে, তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব। বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার জন্য আজকে একটা খুব আনন্দের দিন। কেন জানেন? আজকে থেকে কয়েক মাস আগে যখন নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু হয়, আমি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে সেই প্রচার অভিযান কাজ শুরু করেছিলাম এবং সেই দিনই সিলেটের জনসভা মঞ্চ থেকে বলেছিলাম যে, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা আমাদের চা-বাগানে শ্রমিক হিসেবে যে সব মায়েরা কাজ করে তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আল্লাহর কাছে আমি হাজারও শুকরিয়া জানাই, লক্ষ শুকরিয়া জানাই যে, আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। আমার সরকার আজকে চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে যারা নারী শ্রমিক আছেন, তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি।’ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সব নারী শ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সবার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে সবাইকে একসঙ্গে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেজন্য পুরুষদের পাশাপাশি আমরা যদি নারীদেরকে সাহায্য করতে না পারি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য, তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, সেজন্যই নারীদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটির মতো পরিবার রয়েছে। আমরা বলেছিলাম যে, আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই তাহলে পর্যায়ক্রমিকভাবে সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, বিশেষ করে নারী প্রধানদের কাছে। আমরা নির্বাচন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক মাসেরও কম সময়ের ভেতরে আমাদের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিলাম।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার পাশাপাশি চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ঘর প্রদানের জন্য ২ লাখ টাকা করে দিয়েছি। এখানে স্টেজের মধ্যে তিনজনের হাতে সেই ২ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছি আর প্রশাসনের মাধ্যমে বাকিদের কাছে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই টাকা পৌঁছে দেব।’ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন তাহলে আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে একটাই করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এবং একই সঙ্গে আরেকটা নতুন কথা বলি, করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’ এদিন অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে চা শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে একটি জাম ও কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের অতিরিক্তি সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানি দাস ও ওয়াজেদা বেগম বক্তব্য রাখেন। ২০ বছরের অধিক সময় পরে তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলে আসলেন।
কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইস্তিনাব মাহী (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১টা ৩২ মিনিটে মেয়র অ্যাভিনিউ ও নিউটাউন রোডের সংযোগস্থলের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ সংস্থা রয়্যাল নিউফাউন্ডল্যান্ড কনস্ট্যাবুলারি (আরএনসি) জানায়, চার আরোহী নিয়ে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে সড়কের পাশের কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত চারজনকে হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহীকে মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িতে থাকা অন্য তিন আরোহী আহত হলেও তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাহীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমিউনিটি নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকার দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়মগুলো বিশেষভাবে শিক্ষার্থী, ট্রেনিং ভিসাধারী, দক্ষ কর্মী এবং স্পনসর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে আপিল প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো আবেদনকারী ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনা ট্রাইব্যুনালে (এআরটি) আপিল করলে এখন আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি শুনানিতে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। জমা দেওয়া নথি ও প্রমাণপত্র পর্যালোচনা করেই কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত জানাবে। এর ফলে দীর্ঘসূত্রতা কমে আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রেনিং ভিসা (সাবক্লাস ৪০৭) কর্মসূচিতে নজরদারি বাড়িয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ভিসাধারী কর্মী এবং তাদের স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করছে কি না, তা যাচাই করতে বিভিন্ন কর্মস্থলে সরাসরি পরিদর্শনও করা হচ্ছে। ফলে এই ভিসার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনায় আরও সতর্ক থাকতে হবে। রিজিওনাল বা আঞ্চলিক কর্মী স্পনসরশিপের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে। কর্মী নিয়োগের জন্য ন্যূনতম বার্ষিক বেতন প্রায় ৮০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে ছোট ব্যবসা ও আঞ্চলিক এলাকার নিয়োগদাতাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দক্ষতা মূল্যায়ন সংস্থা ট্রেড রিকগনিশন অস্ট্রেলিয়া (টিআরএ) তাদের স্কিল অ্যাসেসমেন্ট নির্দেশিকাও হালনাগাদ করেছে। যদিও মূল নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, তবে আবেদনকারীদের সুবিধার্থে নির্দেশনার ভাষা আরও সহজ ও বোধগম্য করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরের জন্য পারিবারিক ও প্যারেন্ট ভিসার নির্ধারিত কোটা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এর মধ্যে কন্ট্রিবিউটিং প্যারেন্ট ভিসার জন্য ৬,৮০০টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া সরকার অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত, স্বচ্ছ এবং যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য অধিক কার্যকর করে তুলতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও অবরোধ থাকা সত্ত্বেও ইরানের একাধিক তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জাহাজ ও তেল পরিবহন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্যাঙ্কারট্রাকার্স। বুধবার (১৭ জুন) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির অন্তত দুটি সুপারট্যাংকার—‘ডিওনা’ ও ‘হিরো-২’—নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। জাহাজ দুটিতে মোট প্রায় ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। স্যাটেলাইট চিত্র ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণ করে ট্যাঙ্কারট্রাকার্স জানিয়েছে, এটি গত দুই মাসের মধ্যে ইরানের প্রথম উল্লেখযোগ্য অপরিশোধিত তেল রপ্তানি। পরে সংস্থাটি আরও একটি ইরানি ট্যাংকার একই পথ অতিক্রম করার তথ্যও নিশ্চিত করে। এদিকে দুই দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানি তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরাইলি হামলার খবর সামনে আসায় যুদ্ধ-পরবর্তী স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আবারও বেড়েছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা—দুই বিপরীত বাস্তবতার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।
বিশ্বে মাছ ও সামুদ্রিক খাবারের উৎপাদন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছে ১৮৮.২ মিলিয়ন টন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের খাদ্য হিসেবে মাছ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন ঘটেছে। প্রথমবারের মতো মৎস্যচাষ বা চাষের মাধ্যমে উৎপাদিত মাছই এখন মানুষের খাবারের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। এটি বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মাছ শুধু খাদ্য নয়, বরং মানুষের পুষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রোটিন, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে, যা অনেক মানুষের জন্য সহজে অন্য খাদ্য থেকে পাওয়া কঠিন। বিশ্বে বর্তমানে একজন মানুষ গড়ে বছরে প্রায় ২০ দশমিক ৭ কেজি মাছ খায়। অনেক উপকূলীয় দেশ ও দ্বীপরাষ্ট্রে মাছ প্রাণিজ প্রোটিনের প্রধান উৎস। কিছু দেশে মোট প্রাণিজ প্রোটিনের অর্ধেকেরও বেশি আসে মাছ থেকে। মাছ খাত শুধু খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে নয়, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ৩৮ লাখ মানুষ সরাসরি মাছ ধরা ও মৎস্যচাষের সঙ্গে জড়িত। পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা মিলিয়ে প্রায় ৬০ কোটি মানুষের জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৎস্যচাষ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালে এই খাতের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১০৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন টন। এখন মানুষের খাদ্যের জন্য ব্যবহৃত মাছের বড় অংশই আসে চাষের মাধ্যমে। এশিয়া এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎপাদন অঞ্চল হলেও আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাতেও মৎস্যচাষ দ্রুত বাড়ছে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়ছে। অনেক জায়গায় অনিয়ন্ত্রিত ও ঘন মৎস্যচাষের কারণে পানি দূষণ, রোগ ছড়িয়ে পড়া এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকে, তাহলে এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়বে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, পানির অম্লতা বেড়ে যাওয়া এবং মাছের প্রজাতির পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত মাছ ধরা বা অতিরিক্ত আহরণ অনেক অঞ্চলে মাছের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। এতে স্থানীয় জেলেরা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও অবরোধ থাকা সত্ত্বেও ইরানের একাধিক তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জাহাজ ও তেল পরিবহন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্যাঙ্কারট্রাকার্স। বুধবার (১৭ জুন) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির অন্তত দুটি সুপারট্যাংকার—‘ডিওনা’ ও ‘হিরো-২’—নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। জাহাজ দুটিতে মোট প্রায় ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। স্যাটেলাইট চিত্র ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণ করে ট্যাঙ্কারট্রাকার্স জানিয়েছে, এটি গত দুই মাসের মধ্যে ইরানের প্রথম উল্লেখযোগ্য অপরিশোধিত তেল রপ্তানি। পরে সংস্থাটি আরও একটি ইরানি ট্যাংকার একই পথ অতিক্রম করার তথ্যও নিশ্চিত করে। এদিকে দুই দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানি তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরাইলি হামলার খবর সামনে আসায় যুদ্ধ-পরবর্তী স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আবারও বেড়েছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা—দুই বিপরীত বাস্তবতার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের লনে গত সপ্তাহের শেষে আয়োজিত ‘আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ (ইউএফসি) মিক্সড মার্শাল আর্ট অনুষ্ঠানে এক পরিকল্পিত হামলা নস্যাতের দাবি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। গতকাল মঙ্গলবার এ দাবি করে তারা। আদালতের নথিতে জানা গেছে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতের নথিতে এফবিআই অভিযোগ করেছে, হামলাকারীরা বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন ব্যবহার করে হোয়াইট হাউসের উত্তর পাশে আঘাত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, সেখানে উপস্থিত অতিথিদের একটি নির্দিষ্ট বের হওয়ার রাস্তার (এক্সিট) দিকে ঠেলে দেওয়া। এরপর সেই রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় রাজনীতিবিদ ও অন্যান্য মানুষের ওপর স্নাইপারদের (উন্নত রাইফেলধারী বন্দুকধারী) দিয়ে গুলি চালানো। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ৮০তম জন্মদিনে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা, অনুদানকারী এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত এ পাঁচ ব্যক্তি সরকারবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী বলে মনে হচ্ছে। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনসংক্রান্ত তদন্তের ফাইলগুলো যেভাবে সামলানো হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভ থেকেও তাঁরা এ হামলায় আংশিকভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন এমন আইনপ্রণেতাদের নিশানা বানানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, যাঁরা ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে নির্বাচনী প্রচারণার অনুদান পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল বলেন, ‘১০ জুন এফবিআই ও আমাদের সহযোগী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওয়াশিংটন ডিসির “ইউএফসি আমেরিকা ২৫০” অনুষ্ঠানে একটি সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে জানতে পারে। এই ঘটনার সঙ্গে ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়নের বাইরের কিছু ব্যক্তি জড়িত ছিলেন।’ হেফাজতে নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে অন্তত তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা এখনো আদালতে নিজেদের দোষী বা নির্দোষ হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের আইনজীবীদের কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। ফক্স নিউজ ডিজিটাল জানিয়েছে, এ গোষ্ঠীতে ২৩ জনের মতো জড়িত থাকতে পারেন। কর্তৃপক্ষ এ ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পারে যখন ওহাইও অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় পুলিশকে এক মা ফোন করেন। ১৯ বছর বয়সী সন্দেহভাজন টাইসেন প্রপারের মা পুলিশকে জানান, তাঁর ছেলে বেশ কিছু অস্ত্র কিনেছে এবং অনলাইনে সন্দেহভাজন কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এফবিআই-এর একটি হলফনামা অনুযায়ী, টাইসেন প্রপার পরে এফবিআই এজেন্টদের কাছে স্বীকার করেছেন যে ইউএফসি অনুষ্ঠানে একটি সমন্বিত হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানতেন। এদিকে ফ্রান্সের এভিয়ানে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এ পরিকল্পিত হামলার বিষয়ে কিছু শোনেননি। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সহিংসতার পেছনের আন্ডারগ্রাউন্ড বা গোপন নেটওয়ার্কগুলো খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘মোটা অঙ্কের অর্থায়ন এবং বড় ধরনের সমন্বয় ছাড়া ২৩ জন ওয়াশিংটন ডিসির মতো জায়গায় এত বড় একটি সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন না।’ ভ্যান্স আরও বলেন, ‘এটি শুধু কয়েকজন উগ্র মানুষের পাগলামি নয়, এটি ছিল একটি সুসমন্বিত ও পরিকল্পিত সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র।’
যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রাথমিক চুক্তির বিস্তারিত তথ্য গতকাল মঙ্গলবার থেকে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা হবে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ইরান আবারও তেল বিক্রি করতে পারবে। চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে এর মাধ্যমে এপ্রিল মাসে ঘোষিত নাজুক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে, যেন দুই দেশ স্থায়ী একটি শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারে। প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে। বিনিময়ে ইরান আবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারসহ অন্য জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তিনি আরও বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশ করা হবে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। শুধু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ইরানে হামলার পক্ষে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি যে লক্ষ্যগুলোর কথা বলেছিলেন, তার খুব কমই অর্জিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ইরানের সরকার এখনো টিকে আছে। দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া যায়নি। হিজবুল্লাহর মতো ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনও বন্ধ হয়নি। এ চুক্তির কারণে ট্রাম্প নিজ দলের মধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের নেতারাও চাপের মধ্যে পড়তে পারেন। কারণ, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির নেতারা যদি দেশের অর্থনৈতিক সংকট কমাতে ব্যর্থ হন, তবে তাঁদেরও নতুন করে গণবিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হবে। ইসরায়েল সরাসরি চুক্তির আলোচনায় অংশ নেয়নি। দেশটি এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ও সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি—দুটো থেকেই নিজেকে দূরে রেখেছে। তাই নতুন এই যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ দেশেই এ যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। এ সংঘাতকে কেন্দ্র করে ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের। গত মার্চ মাসে ইরানের মিত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর লেবাননে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, এ চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও লেবাননও আছে। তবে তাঁর এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি গত সোমবার বলেন, ইসরায়েল এ চুক্তি মানার বাধ্যবাধকতায় নেই। তাঁরা দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন না। হিজবুল্লাহর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি দখলদারি চলতে থাকলে ইরান স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে বলে তাঁরা মনে করেন না। ইরানের সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় দপ্তর খাতাম আল–আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স সতর্ক করে বলেছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলকে কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ চুক্তির কারণে ইরান অবিলম্বে তেল ও অন্য জ্বালানি রপ্তানি শুরু করতে পারবে। এ ছাড়া তেল বিক্রি সহজ করতে ব্যাংকিং, পরিবহন ও বিমাসংক্রান্ত সেবাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, ভবিষ্যতে এ চুক্তি ইরানকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে পারে। এর মধ্যে আছে—আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা ও বিদেশে জব্দ থাকা সম্পদ মুক্ত করা। এ ছাড়া ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে তবে দেশটির জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গড়ার পথ তৈরি হতে পারে। যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে এবং যুদ্ধ চলাকালে যেগুলো ইরানের হামলার শিকার হয়েছিল, তারা এ তহবিলের অর্থ দেবে। কঠিন আলোচনা এখনো বাকি আগামী ৬০ দিনে আলোচকেরা আবারও কয়েকটি জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তের কারণে সেই আলোচনা মাঝপথে থেমে যায়। তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যে দুটি বিষয়কে সামনে টেনে যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন, সেগুলো বর্তমান আলোচনার এজেন্ডায় নেই বলে মনে হচ্ছে। বিষয় দুটি হলো—আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করা এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা। এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি বলেন, ইসরায়েল যেভাবে চলছে, তাতে তিনি খুশি নন। ইরানের সঙ্গে পরবর্তী ধাপের আলোচনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান চুক্তিটি করতে চায়।’ যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্প একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে আসছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের আবার ব্যবসা-বাণিজ্যে ফিরতে হবে। এখন সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তাই আমি মনে করি, আলোচনা খুব দ্রুত এগোবে।’ এর আগে ট্রাম্প এ চুক্তিকে ইরানের জন্য ‘পারমাণবিক অস্ত্রের পথে একটি দেয়াল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরান একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এর মাধ্যমে দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করতে রাজি হয়। তবে ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। ফলে ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় মজুত গড়ে তোলে, যা ট্রাম্প এখন অপসারণ বা ধ্বংস করতে চান। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরান চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানোর বিষয়ে একমত। কারণ, তাঁর নিজ দলের কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেছেন, এ বিষয়ে তাঁদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানে যুদ্ধ শুরু করার কারণে ট্রাম্প সমালোচনার মধ্যে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মধ্যেও এ যুদ্ধ খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। চুক্তির খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে। সোমবার প্রায় ৫ শতাংশ পতনের পর গতকাল তেলের দাম আরও ২ শতাংশের বেশি কমে তিন মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। তবে জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাস উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এখনো কয়েক মাস লাগতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে চীন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় ১২ হাজার কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক ডিগ্রি বাতিল করেছে। দেশটি এখন প্রযুক্তি ও এআইভিত্তিক নতুন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক পুরোনো বিষয় এখন চাকরির বাজারের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। তাই এসব বিষয়ের পরিবর্তে এআই, ডেটা সায়েন্স, রোবোটিকসসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কোর্স চালু করা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে চীনে ১০ হাজারের বেশি নতুন ডিগ্রি চালু হয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এআইয়ের কারণে অনেক কাজ এখন সহজে কম্পিউটারের মাধ্যমে করা যাচ্ছে। যেমন ডিজাইন তৈরি, ছবি বা মডেল বানানোর মতো কাজেও এখন এআই ব্যবহার হচ্ছে। ফলে এসব বিষয়ে আগের মতো চাকরির সুযোগ থাকছে না। শুধু চীন নয়, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, স্পেনসহ বিশ্বের অনেক দেশই এখন শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতের চাকরির বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করাই এসব পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।