চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে নিয়মিত ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলছিল। এ সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের পর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত হন এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। আহত সেনা কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে দুর্ঘটনার ধরন বা এর বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল ‘জাতিগত নিধন চালাচ্ছে’ বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তেল আবিবের দখলদারিত্বকে ‘অবৈধ’ঘোষণা করে ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এসব ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করছে, স্থায়ীভাবে সার্বভৌমত্ব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ করছে। এসব কারণেই ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টিতে ইসরাইলের দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতকে যুক্তরাজ্য স্বীকৃতি দিল। ওই মতামতে আদালত ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছিল এবং তা প্রতিরোধে অন্য দেশগুলোর দায়িত্বের কথাও জানিয়েছিল। মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনের ঘটনা ঘটছে। তার অভিযোগ, এসব ঘটনায় ইসরাইলি সরকার অনেক সময় চোখ বন্ধ করে থেকেছে; বরং সরকারের কিছু সদস্য ফিলিস্তিনিদের জোর করে উচ্ছেদের পক্ষে বক্তব্য ও পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ জনগণ চায় না তাদের দেশের দোকান ও সুপারমার্কেটে অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্য বিক্রি হোক। তাই অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। বসতি নির্মাণ, অবকাঠামোয় অর্থায়ন ও রিয়েল এস্টেটের মতো কাজে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। মিলিব্যান্ড সতর্ক করে বলেন, যারা অবৈধ বসতিতে অর্থায়ন বা অন্যভাবে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সর্বোচ্চ মাত্রার নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করবে। আরও ১১ দেশের সমর্থন যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আরও ১১টি দেশ মঙ্গলবার একটি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বা তা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশগুলো হলো—কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন। ফ্রান্স ও কানাডা আজ থেকেই ইসরাইলি বসতিগুলোর পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা জানিয়েছে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সেপা) নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চাওয়া হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সেপা ও আরসিইপিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। আলোচনায় জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, কনস্যুলার সহযোগিতা, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে। বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ইন্দোনেশিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ করেন তিনি। বিশেষ করে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও দুই দেশের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহজ ভিসা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত ওষুধসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়ে তার দেশের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা: বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূতও সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানান। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সর্বোত্তম কর্মপদ্ধতি বিনিময়ের পাশাপাশি সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বৈঠকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও এগিয়ে নিতে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থনও চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে অনুমোদিত কাজকে বিধিবহির্ভূতভাবে একাধিক প্যাকেজে ভাগ করে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের বুধবারের (৯ সেপ্টেম্বর) অভিযানে বিভাজিত অন্তত চারটি প্যাকেজের কাজের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এরপরও এসব কাজের বিপরীতে বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে নথিপত্র পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এ অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এসব তথ্য পেয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্যাকেজ বিভাজনে অনিয়ম, ই-জিপি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি, বাস্তবে কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। দুদকের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিপিপি, আরডিপিপি কিংবা হেড অব প্রোকিউরমেন্টের অনুমোদন না নিয়েই একই ধরনের কাজকে আটটি আলাদা প্যাকেজে ভাগ করে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে আটটি প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদিত কাজ ছিল একটি প্যাকেজে: দুদক জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২৭৯ কোটি ৫৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট প্রোকিউরমেন্ট কমিটির (সিসিজিপি) অনুমোদিত কাজ ছিল একটি—ডব্লিউ-১ প্যাকেজ। ডিপিপি ও আরডিপিপি অনুযায়ী, ওই প্যাকেজের আওতায় কাজ করার অনুমোদন ছিল। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিইএল) ওই কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশটির মূল্য ছিল ১৫৫ কোটি ৭০ লাখ ৪ হাজার টাকা। তবে দুদকের অভিযোগ, পরবর্তীতে ডিপিপি, আরডিপিপি বা হেড অব প্রোকিউরমেন্টের অনুমোদন ছাড়াই একই খাতের বিভিন্ন কাজ আলাদাভাবে আটটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়। এসব প্যাকেজের জন্য ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করে পৃথক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। যে কাজগুলো নিয়ে প্রশ্ন: দুদকের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, আটটি পৃথক প্যাকেজের আওতায় যেসব কাজ দেখানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পাশে নতুন বেকারি ও ক্যান্টিন নির্মাণ। এ ছাড়া রেকর্ড ভবনের তিনটি বেসমেন্ট ফ্লোর নির্মাণের জন্য অস্থায়ী ট্রিপল ওয়ার্ক স্থাপন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভেন্যু সংস্কার, ব্র্যান্ডিং ও ক্যাটারিংয়ের কাজও এসব প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে গাইড ওয়াল, মাস্টার ড্রেন ও র্যাম্প নির্মাণ, হাই-টেনশন কেবল লাইন অপসারণ, অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ, অস্থায়ী ড্রেন ও সিআই শিটের বেড়া তৈরি এবং বালু ভরাট। এ ছাড়া বৃষ্টির পানি অপসারণ ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজও বিভাজিত প্যাকেজগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছিল বলে দুদকের নথিপত্রে উঠে এসেছে। দুদক জানিয়েছে, অভিযানে সংগৃহীত নথিপত্র আরও পর্যালোচনা করা হবে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে নিয়মিত ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলছিল। এ সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের পর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত হন এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। আহত সেনা কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে দুর্ঘটনার ধরন বা এর বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষককে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করে সনদ সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করে সনদ ডাউনলোড করতে হবে শিক্ষকদের। শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায় এ অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মাউশির প্রশিক্ষণ শাখা থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব শিক্ষককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সটি সম্পন্ন করতে হবে। মাউশির নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশিক্ষণ কোর্সটি চালু রয়েছে। শিক্ষকরা নিজ নিজ পিডিএস আইডি ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মে লগইন অথবা রেজিস্ট্রেশন করে কোর্সে অংশ নিতে পারবেন। প্রশিক্ষণে মোট ছয়টি মডিউল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ মডিউলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কার্যক্রম শেষ করার পর সেটির ছবি বা ভিডিও নির্ধারিত অনলাইন লিংকে জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হয়েছে। ছয়টি মডিউল ও নির্ধারিত শ্রেণি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার পর শিক্ষকরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। সনদে মাউশি ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা অ্যাকাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালকদের স্বাক্ষর থাকবে। মাউশি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষককে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
রাশিয়া একের পর এক খাদ্য গুদাম ও রসদ সরবরাহ চেইনে হামলা চালানোয় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে তৈরি হয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। সুপারমার্কেটগুলোর তাকগুলো এখন ফাঁকা পড়ে আছে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। স্থানীয় একটি সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা ৬৮ বছর বয়সী পেনশনভোগী ভ্যালেন্টিনা নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, রাশিয়া ইউক্রেনীয়দের জীবনকে অসহনীয় ও অসম্ভব করে তুলতে চায় এবং তারা এতে সফলও হচ্ছে। ৬৮ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা জানান, স্বল্প জমানো টাকায় তাকে চলতে হয়, কিন্তু ইদানীং সসেজসহ প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোর চারপাশে রসদ ও খাদ্য গুদামে সাম্প্রতিক সময়ে আক্রমণ জোরদার করেছে মস্কো। কিয়েভের ওপর এই হামলা ছিল সবচেয়ে তীব্র। সাময়িক এক যুদ্ধবিরতি শেষে গত সোমবার রাতে ড্রেন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ফের রাজধানী কিয়েভে তোলপাড় সৃষ্টি করে রুশ বাহিনী, যাতে প্রাণ হারান দুইজন। নোভুস সুপারমার্কেটে বাজারে আসা ৪০ বছর বয়সী দারিয়া মালিউকোভা খালি তাকের দিকে তাকিয়ে বলেন, পরিস্থিতি ভীতিকর হলেও তিনি শহর ছেড়ে কোথাও যাবেন না। ইউক্রেনের কৃষি নীতি ও খাদ্যমন্ত্রী তারাস ভিসোৎস্কি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অবকাঠামোতে হামলার কারণে খাদ্যপণ্যের দাম ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে ইউক্রেনের বিলাসবহুল ব্র্যান্ড গুডওয়াইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা দ্মিত্রো ক্রিমস্কি মনে করেন, এই দাম বৃদ্ধির পরিমাণ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। গত ১ সেপ্টেম্বর কিয়েভের কাছে ক্রিমস্কির একটি গুদামে হামলা চালিয়ে প্রায় ৪০ লাখ ইউরোর পণ্য ধ্বংস করে দেওয়া হয়। তিনি জানান, পণ্যের ঘাটতির চেয়ে রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতেই খরচ বেশি হবে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে। গুদাম সুরক্ষিত রাখতে তিনি এখন পোল্যান্ডের মতো প্রতিবেশী দেশে গুদাম স্থানান্তর কিংবা একাধিক ছোট সাইটে মজুদ ভাগ করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি আরও জানান, তাদের কর্মচারীরা বিমান হামলার কারণে দিনে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারছেন। আগস্টের শেষ দিক থেকে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেবল খাদ্য গুদামই নয়, বরং ই-কমার্স লজিস্টিক হাব এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার মানবিক সাহায্যের ওষুধ গুদামও ধ্বংস হয়েছে। বায়োকন নামে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির তিন মাসের ওষুধের পুরো মজুদ এই হামলায় ছাই হয়ে গেছে এবং তাদের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে চার বছরের যুদ্ধে অভিজ্ঞ ইউক্রেনীয়দের মাঝে আগের মতো আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। ব্রোভারির একটি এটিবি সুপারমার্কেটে আসা ৫৪ বছর বয়সী ইরিনা মেসিয়ানঝিনোভা বলেন, পচনশীল জিনিসপত্র বেশি কিনে রেখে লাভ নেই, সেগুলো পচে যাবে। তিনি ভবিষ্যতের কথা না ভেবে শুধু আজকের দিনটি পার করার চেষ্টা করছেন। খাদ্যমন্ত্রী তারাস ভিসোৎস্কি দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, এটিবি, সিলপো ও ফোরা-র মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিটি সুপারমার্কেট চেইনের লজিস্টিক কেন্দ্রগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এটি যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আক্রমণ। ২০২২ সালে তারা যদি কৃষি রফতানি অবকাঠামো এবং পরবর্তী বছরগুলোতে জ্বালানি খাতকে টার্গেট করে থাকে, তবে ২০২৬ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের আক্রমণগুলো সরাসরি সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাত। এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও আশা হারাচ্ছেন না স্থানীয় অধিবাসীরা। কিয়েভের কেন্দ্রীয় কৃষক বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ৩৬ বছর বয়সী ট্রাভেল ম্যানেজার ওলেনা জুক বলেন, যুদ্ধের পর থেকে তারা এ ধরনের অনেক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন, তারা বেঁচে থাকবেন এবং না খেয়ে মরবেন না। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সেপা) নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চাওয়া হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সেপা ও আরসিইপিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। আলোচনায় জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, কনস্যুলার সহযোগিতা, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে। বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ইন্দোনেশিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ করেন তিনি। বিশেষ করে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও দুই দেশের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহজ ভিসা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত ওষুধসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়ে তার দেশের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা: বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূতও সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানান। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সর্বোত্তম কর্মপদ্ধতি বিনিময়ের পাশাপাশি সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বৈঠকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও এগিয়ে নিতে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থনও চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
হরমুজ প্রণালিতে অত্যাধুনিক একটি মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে হরমুজের প্রবেশমুখে গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক, মানুষবিহীন ও স্মার্ট একটি সাবমেরিন আটক করেছে তাদের নৌবাহিনী। আইআরজিসির বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এই স্মার্ট সাবমেরিন পানির নিচের ক্ষেত্রে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা ২০২৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছিল। শিগগির আটক করা সাবমেরিনটির ছবি প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা। ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনুষ্যবিহীন এই ডুবোজাহাজের প্রধান সক্ষমতাগুলোর মধ্যে রয়েছে পানির নিচে অনুসন্ধান ও নজরদারি, সমুদ্রের তলদেশের ম্যাপিং, মাইন শনাক্তকরণ এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন পরিদর্শন। তবে ইরানের এই দাবির পরপরই আলজাজিরার কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, একদিনেরও বেশি সময় আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন বিকল হয়ে পড়েছিল। ওই কর্মকর্তার দাবি, ড্রোনটি চলমান অভিযানের সহায়তায় আঞ্চলিক জলসীমায় জরিপ চালাচ্ছিল। এটি একটি পুরোনো মডেলের ড্রোন ছিল। এটি কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করত না এবং এতে কোনো গোপন সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সমুদ্র পরিবহণে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রেখেছে তেহরান। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইরানের এই পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ইরানের বন্দরগুলোতে পালটা অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরার।
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল ‘জাতিগত নিধন চালাচ্ছে’ বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তেল আবিবের দখলদারিত্বকে ‘অবৈধ’ঘোষণা করে ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এসব ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করছে, স্থায়ীভাবে সার্বভৌমত্ব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ করছে। এসব কারণেই ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টিতে ইসরাইলের দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতকে যুক্তরাজ্য স্বীকৃতি দিল। ওই মতামতে আদালত ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছিল এবং তা প্রতিরোধে অন্য দেশগুলোর দায়িত্বের কথাও জানিয়েছিল। মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনের ঘটনা ঘটছে। তার অভিযোগ, এসব ঘটনায় ইসরাইলি সরকার অনেক সময় চোখ বন্ধ করে থেকেছে; বরং সরকারের কিছু সদস্য ফিলিস্তিনিদের জোর করে উচ্ছেদের পক্ষে বক্তব্য ও পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ জনগণ চায় না তাদের দেশের দোকান ও সুপারমার্কেটে অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্য বিক্রি হোক। তাই অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। বসতি নির্মাণ, অবকাঠামোয় অর্থায়ন ও রিয়েল এস্টেটের মতো কাজে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। মিলিব্যান্ড সতর্ক করে বলেন, যারা অবৈধ বসতিতে অর্থায়ন বা অন্যভাবে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সর্বোচ্চ মাত্রার নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করবে। আরও ১১ দেশের সমর্থন যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আরও ১১টি দেশ মঙ্গলবার একটি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বা তা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশগুলো হলো—কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন। ফ্রান্স ও কানাডা আজ থেকেই ইসরাইলি বসতিগুলোর পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা জানিয়েছে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
রাশিয়া একের পর এক খাদ্য গুদাম ও রসদ সরবরাহ চেইনে হামলা চালানোয় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে তৈরি হয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। সুপারমার্কেটগুলোর তাকগুলো এখন ফাঁকা পড়ে আছে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। স্থানীয় একটি সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা ৬৮ বছর বয়সী পেনশনভোগী ভ্যালেন্টিনা নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, রাশিয়া ইউক্রেনীয়দের জীবনকে অসহনীয় ও অসম্ভব করে তুলতে চায় এবং তারা এতে সফলও হচ্ছে। ৬৮ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা জানান, স্বল্প জমানো টাকায় তাকে চলতে হয়, কিন্তু ইদানীং সসেজসহ প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোর চারপাশে রসদ ও খাদ্য গুদামে সাম্প্রতিক সময়ে আক্রমণ জোরদার করেছে মস্কো। কিয়েভের ওপর এই হামলা ছিল সবচেয়ে তীব্র। সাময়িক এক যুদ্ধবিরতি শেষে গত সোমবার রাতে ড্রেন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ফের রাজধানী কিয়েভে তোলপাড় সৃষ্টি করে রুশ বাহিনী, যাতে প্রাণ হারান দুইজন। নোভুস সুপারমার্কেটে বাজারে আসা ৪০ বছর বয়সী দারিয়া মালিউকোভা খালি তাকের দিকে তাকিয়ে বলেন, পরিস্থিতি ভীতিকর হলেও তিনি শহর ছেড়ে কোথাও যাবেন না। ইউক্রেনের কৃষি নীতি ও খাদ্যমন্ত্রী তারাস ভিসোৎস্কি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অবকাঠামোতে হামলার কারণে খাদ্যপণ্যের দাম ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে ইউক্রেনের বিলাসবহুল ব্র্যান্ড গুডওয়াইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা দ্মিত্রো ক্রিমস্কি মনে করেন, এই দাম বৃদ্ধির পরিমাণ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। গত ১ সেপ্টেম্বর কিয়েভের কাছে ক্রিমস্কির একটি গুদামে হামলা চালিয়ে প্রায় ৪০ লাখ ইউরোর পণ্য ধ্বংস করে দেওয়া হয়। তিনি জানান, পণ্যের ঘাটতির চেয়ে রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতেই খরচ বেশি হবে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে। গুদাম সুরক্ষিত রাখতে তিনি এখন পোল্যান্ডের মতো প্রতিবেশী দেশে গুদাম স্থানান্তর কিংবা একাধিক ছোট সাইটে মজুদ ভাগ করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি আরও জানান, তাদের কর্মচারীরা বিমান হামলার কারণে দিনে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারছেন। আগস্টের শেষ দিক থেকে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেবল খাদ্য গুদামই নয়, বরং ই-কমার্স লজিস্টিক হাব এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার মানবিক সাহায্যের ওষুধ গুদামও ধ্বংস হয়েছে। বায়োকন নামে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির তিন মাসের ওষুধের পুরো মজুদ এই হামলায় ছাই হয়ে গেছে এবং তাদের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে চার বছরের যুদ্ধে অভিজ্ঞ ইউক্রেনীয়দের মাঝে আগের মতো আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। ব্রোভারির একটি এটিবি সুপারমার্কেটে আসা ৫৪ বছর বয়সী ইরিনা মেসিয়ানঝিনোভা বলেন, পচনশীল জিনিসপত্র বেশি কিনে রেখে লাভ নেই, সেগুলো পচে যাবে। তিনি ভবিষ্যতের কথা না ভেবে শুধু আজকের দিনটি পার করার চেষ্টা করছেন। খাদ্যমন্ত্রী তারাস ভিসোৎস্কি দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, এটিবি, সিলপো ও ফোরা-র মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিটি সুপারমার্কেট চেইনের লজিস্টিক কেন্দ্রগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এটি যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আক্রমণ। ২০২২ সালে তারা যদি কৃষি রফতানি অবকাঠামো এবং পরবর্তী বছরগুলোতে জ্বালানি খাতকে টার্গেট করে থাকে, তবে ২০২৬ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের আক্রমণগুলো সরাসরি সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাত। এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও আশা হারাচ্ছেন না স্থানীয় অধিবাসীরা। কিয়েভের কেন্দ্রীয় কৃষক বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ৩৬ বছর বয়সী ট্রাভেল ম্যানেজার ওলেনা জুক বলেন, যুদ্ধের পর থেকে তারা এ ধরনের অনেক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন, তারা বেঁচে থাকবেন এবং না খেয়ে মরবেন না। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত ঘটানো হিমবাহ ধসের আগে ওই এলাকায় বছরের এই সময়ের তুলনায় নজিরবিহীন তাপমাত্রা বিরাজ করছিল। এক গবেষকের আবহাওয়া-সংক্রান্ত বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় থাকা পাহাড়ের হিমবাহ এলাকায় ২১ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি ওই সময়ের জন্য অত্যন্ত বেশি তাপমাত্রা। গত ৫৫ বছরেরও বেশি সময়ের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে সেখানে তাপমাত্রা কখনোই ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ায়নি। তবে এই অস্বাভাবিক গরমের সঙ্গে হিমবাহধসের সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্কলি আর্থের প্রধান বিজ্ঞানী রবার্ট রোডে এই তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী,হিমবাহধসের স্থানে ২১ থেকে ২৬ আগস্টের গড় তাপমাত্রা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। রোডের হিসাব বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত উষ্ণতা না থাকলে এমন তাপমাত্রার পরিস্থিতি কয়েক হাজার বছরে একবার ঘটার মতো বিরল হতে পারত। ইউরোপের কোপার্নিকাস পর্যবেক্ষণ সংস্থার ১৯৭০ সাল থেকে সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হিমবাহধসের সময় লাংটাং অঞ্চলে ওই বছরের গ্রীষ্ম ছিল রেকর্ডের মধ্যে চতুর্থ উষ্ণতম। অতিরিক্ত গরম কি হিমবাহধসের কারণ? ফরাসি জলবায়ুবিদ ভ্যালেরি ম্যাসোঁ-দেলমোত বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে পাহাড়ের জমাট মাটি বা ‘পারমাফ্রস্ট’ গলে যেতে পারে, যার ফলে পাহাড়ের ঢাল ও হিমবাহ একসঙ্গে ধসে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পারমাফ্রস্ট অনেকটা বরফের সিমেন্টের মতো কাজ করে, যা পাহাড়ের পাথর ও ঢালকে শক্ত করে ধরে রাখে। এটি গলে গেলে পাহাড় আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। দুর্যোগের কয়েক দিন আগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরফ গলার প্রমাণও পেয়েছে স্যাটেলাইট। ফ্রান্সের সিএনআরএসের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ এতিয়েন বের্তিয়ের বলেন, গলা বরফের পানি পাহাড়ের ফাটলে ঢুকে ভূমিধসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত করে বলছেন না যে তাপপ্রবাহই পাহাড়ধসের সরাসরি কারণ। গ্রেনোবল আল্পস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-রূপ বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টেন কুক বলেন, শুধু তাপমাত্রা বেড়ে গেলেই পাহাড়ধস হয়—বিষয়টি এত সরল নয়। তার মতে, তাপমাত্রা যদি ধসের ট্রিগার হয়ে থাকে, তাহলে পাহাড়টি আগে থেকেই ধসের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল। গবেষকেরা এখন পাহাড়ধসের আগের বছরগুলোতে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নড়াচড়া এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখছেন। রবার্ট রোডের মতে, গলা বরফের পানি বা পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ার কারণে পাহাড়ের ফাটলের আশপাশের পাথর উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে সেটিই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের পাঁচটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো অকার্যকর করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানের আল আজরাক এলাকায় থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, ওমান উপসাগর ও ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে পাঁচটি ইরানি ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, রোববার ও সোমবার হরমুজ প্রণালিতে টহলরত মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে আইআরজিসি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পাঁচটি ট্যাংকারকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। মার্কিন বাহিনীর প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার পাঁচটি জাহাজ হলো—এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন ১, এম/টি রিয়েস্কো এবং এম/টি দেরিয়া। এর মধ্যে প্রথম চারটি ওমান উপসাগরে এবং অপর জাহাজটি খার্গ দ্বীপের কাছে অবস্থান করছিল। সেন্টকম জানিয়েছে, হামলায় ট্যাংকারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে কোনো ক্রু নিহত বা আহত হননি। মার্কিন বাহিনী হামলার আগে জাহাজগুলোর ক্রুদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবিও ট্যাংকারে মার্কিন হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি: ট্যাংকারে হামলার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জর্ডানের আল আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। জর্ডানের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, আল আজরাক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে দেশটির এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর পর তার জবাব হিসেবে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ পরিচালনা করা হয়েছে। দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্তের দাবি: হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগও স্বীকার করেছে আইআরজিসি। সংগঠনটির দাবি, ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার—ইউএস নেভি ডিডিজি-১১৯ এবং ইউএস নেভি ডিডিজি-৫৩—গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরগুলোতে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে সংগঠনটি ওই দুই দেশের বন্দরে অবস্থানরত তেলবাহী জাহাজের ক্রুদের দ্রুত জাহাজ ত্যাগ করার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে এসব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকির ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।