সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
মেসেঞ্জারে কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যাবে, যা বললেন আহমাদুল্লাহ

ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো লিখিত বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় অথবা প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, জবাবে ছেলে/ মেয়ে তিনবার ‘কবুল’ বলে তা গ্রহণ করে, তাহলে কি তাদের বিয়ে হয়ে যায়?   সম্প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহকে এমন প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘সাক্ষী, একই বৈঠক ও মোহর ছাড়া শুধু ম্যাসেঞ্জারে কবুল বললে বিয়ে হবে না। তবে দুজন সাক্ষী ও প্রতিনিধির উপস্থিতিতে দুষ্টমি করেও কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে যদি প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বলে, ‘আমি তোমাকে বিয়ে করলাম’। মেয়ে যদি সম্মতি দেয়, তাহলে বিয়ে হয়ে যাবে।’ বিয়ের জন্য মূল শর্ত হলো—পাত্র ও পাত্রী বা তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধি একই বৈঠকে উপস্থিত থেকে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করা। অনলাইন বা বার্তার মাধ্যমে এই ‘একই বৈঠকে উপস্থিতি’ নিশ্চিত হয় না। তাই এসব মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়া ও গ্রহণ করলেও তা শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হয় না। এছাড়াও বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য সাক্ষীর উপস্থিতি অপরিহার্য। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কমপক্ষে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী সাক্ষী থাকতে হবে। যদি এই শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে সরাসরি মুখোমুখি ইজাব-কবুল হলেও বিয়ে শুদ্ধ হবে না। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—‘অভিভাবক এবং দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে (শুদ্ধ) হয় না।’ (ইবনে হিব্বান) তবে সাক্ষীর ক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য— দুজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আলাদা করে সাক্ষী হিসেবে নির্ধারণ করাই বাধ্যতামূলক নয়। যদি কোনো বিয়ের আকদ এমন স্থানে সম্পন্ন হয় যেখানে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকে, এবং তারা ইজাব-কবুল প্রত্যক্ষভাবে শুনতে পায়, তাহলে তাদের মধ্য থেকেই সাক্ষীর শর্ত পূরণ হয়ে যায়। যেমন— মসজিদে বিয়ের আকদ হলে, সেখানে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে যারা সাক্ষী হওয়ার যোগ্য এবং ইজাব-কবুল শুনেছে, তারা সবাই সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবে।   সুতরাং, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শুধুমাত্র ‘কবুল’ বলা যথেষ্ট নয়; বরং নির্ধারিত শরয়ি শর্তসমূহ পূরণ হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

৩ মিনিট আগে
ফুলহ্যামকে হারিয়ে জয়ে প্রিমিয়ার লিগ শুরু চেলসির

নতুন মৌসুমের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রোমাঞ্চকর জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে চেলসি। লন্ডনের প্রতিবেশী ক্লাব ফুলহ্যামের মাঠে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জিতে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে ব্লুজরা।   ম্যাচটি ছিল দুই সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচেরও মুখোমুখি লড়াই। চেলসির ডাগআউটে জাবি আলোনসো আর ফুলহ্যামের দায়িত্বে ছিলেন আলভারো আরবেলোয়া। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আলোনসোর দল।   চেলসির জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন কোল পালমার। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৩১ সেকেন্ডেই তার পাস থেকে জোয়াও পেদ্রো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর নিজেও গোলের দেখা পান ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। বার্নড লেনোর পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে চেলসির জয় নিশ্চিত করেন তিনি।   গ্রীষ্মের দলবদলে চেলসির রেকর্ড চুক্তির খেলোয়াড় মর্গান রজার্সও অভিষেক ম্যাচে গোল করে কোচ আলোনসোকে স্বস্তি দিয়েছেন। ম্যাক্সেন্স লাকরোইক্সের কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।   তবে ম্যাচে সহজে ছাড় দেয়নি স্বাগতিক ফুলহ্যাম। দলের তরুণ মিডফিল্ডার জশ কিং প্রথমার্ধে দারুণ এক গোল করে ব্যবধান কমান। শক্তিশালী শটে চেলসির গোলরক্ষক রবার্তো সানচেজকে পরাস্ত করেন তিনি।   এরপর রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ফুলহ্যামে আসা গনসালো গার্সিয়াও অভিষেক ম্যাচেই গোল করেন। তার গোলে ম্যাচে সমতায় ফেরার আশা জাগে আরবেলোয়ার দলের। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।   ৩-২ গোলের জয়ে প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরু করল চেলসি। একই সঙ্গে ২০২২-২৩ মৌসুমের পর আবারও লিগ অভিযান জয় দিয়ে শুরু করার স্বাদ পেল দলটি।

১ ঘন্টা আগে
৯ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কতা

দেশের নয়টি অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।   মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।   এ সময় এসব অঞ্চলে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। সম্ভাব্য ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছিল, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।   এ ছাড়া দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।   আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।   নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
‘জরিনা’ চরিত্রের পর কুরুচিকর প্রস্তাবে বিপাকে অনংশা

ভারতীয় ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’-এর ‘জরিনা’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন বাঙালি অভিনেত্রী অনংশা বিশ্বাস। তবে চরিত্রটির জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তিক্ত অভিজ্ঞতারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পর্দার চরিত্রের কারণে বাস্তব জীবনে পাওয়া নানা কুরুচিকর বার্তা ও প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।   ‘মির্জাপুর’-এর প্রথম সিজনে ‘জরিনা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন অনংশা। চরিত্রটির জন্য প্রশংসা পেলেও সিরিজটি মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল ও ব্যক্তিগত ইনবক্সে অশালীন মন্তব্য ও অনৈতিক প্রস্তাব পেতে শুরু করেন তিনি।   অভিনেত্রীর ভাষ্য, প্রথম সিজন মুক্তির পর পরিস্থিতি তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে উঠেছিল। নতুন অভিজ্ঞতা হওয়ায় এসব বার্তা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল।   অনংশা বলেন, প্রথম সিজনের পর তিনি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ইনবক্স—বিভিন্ন জায়গায় কুরুচিকর ভাষায় বার্তা আসত, যা দেখে তিনি নিজেই অস্বস্তিতে পড়ে যেতেন।   এসব ঘটনায় একসময় নিজের কাজ নিয়েও প্রশ্ন জাগত অনংশার মনে। তার প্রশ্ন ছিল, তিনি নিজের অভিনয়ের কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করলেও কেন কিছু মানুষ তাকে এ ধরনের অশালীন কথা বলছেন।   অভিনেত্রী জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যার একটি ছিল পর্দার চরিত্র এবং তার ব্যক্তিজীবনকে এক করে দেখা। ‘জরিনা’ চরিত্রটি যেমন ছিল, বাস্তব জীবনেও অনেকে তাকে তেমন ভাবতে শুরু করেন। এর জেরেই সরাসরি নানা ধরনের কুপ্রস্তাবের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।   অনংশা জানান, কেউ কেউ তাকে এক রাতের জন্য পারিশ্রমিক কত—এমন প্রশ্নও করতেন। আবার কেউ তাকে কয়েক দিনের জন্য বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব দিতেন। এ ধরনের বার্তায় তার ইনবক্স ভরে যেত।   এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন অনংশা। তার মতে, একজন অভিনেতা পর্দায় যে চরিত্রে অভিনয় করেন, সেটি তার বাস্তব ব্যক্তিত্বের পরিচয় নয়। অভিনয়কে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার মানসিকতা পরিবর্তন করা জরুরি।   এদিকে বড় পর্দায় আসছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। সিনেমাটিতেও ‘জরিনা’ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে অনংশা বিশ্বাসকে। সিনেমাটি মুক্তির আগে পুরোনো সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য ও পর্যটন ভিসায় প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা প্রায় ২ লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে পাওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   নথি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বি-১ ও বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন—এমন ব্যক্তিদের একটি বড় অংশকে এ উদ্যোগের আওতায় আনা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আবেদনকারীদের শনাক্ত করে ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট এপিকে জানিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর যারা আশ্রয়ের আবেদন করে দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করছেন, তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তবে ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। টমি পিগোট বলেন, প্রক্রিয়াটি চলমান থাকায় এই মুহূর্তে চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।   প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের উদ্যোগগুলোর একটি হতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৫, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
লোডশেডিংয়ে ঝুঁকিতে জয়পুরহাটের হিমাগারের আলু, বাড়ছে জেনারেটর ব্যয়

বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জয়পুরহাটের হিমাগার মালিক, কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় হিমাগারে সংরক্ষিত বীজ ও খাবার আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আলু রক্ষায় জেনারেটর চালাতে গিয়ে হিমাগার মালিকদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি জ্বালানি খরচ।   জেলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ১৪টি, ক্ষেতলালে চারটি, পাঁচবিবিতে দুটি এবং আক্কেলপুরে দুটি—সব মিলিয়ে ২২টি হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারে প্রায় দুই লাখ টন বীজ ও খাবার আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।   লোডশেডিংয়ের সময় হিমাগারের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে জেনারেটর চালু করতে হচ্ছে। হিমাগার মালিকদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি খরচের চাপ আরও বাড়বে।   কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের লোকসান এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে। চলতি মৌসুমেও আলুর বাজারদর তুলনামূলক কম থাকায় তারা উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সংরক্ষিত আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে।   কৃষক চঞ্চল বাবু বলেন, তিনি হিমাগারে ১০০ বস্তা আলু রেখেছেন। বাজারে আলুর দাম কম থাকায় এমনিতেই চিন্তায় আছেন। এর মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে আলু নষ্ট হলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে।   কালাইয়ের পুনট কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার ঘোষ বলেন, তাদের হিমাগারে বিভিন্ন কোম্পানির বীজ আলু সংরক্ষিত রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে জেনারেটর চালাতে হয়। এতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে।   আক্কেলপুরের গোপীনাথপুর হিমাগার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ফরহাদ আহম্মেদ জানান, বর্তমানে তাদের হিমাগারে প্রায় ছয় হাজার টন বীজ ও খাবার আলু রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালু রাখতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায় অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।   পাঁচবিবির চাঁনপাড়া এলাকার মেসার্স সাথী হিমাগার-৩-এর ব্যবস্থাপক রতন কুমার চৌধুরীও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন।   ক্ষেতলালের হিমাদ্রী লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, তাদের হিমাগারে প্রায় এক লাখ ৫৬ হাজার বস্তা আলু রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ হাজার বস্তা বীজ আলু এবং বাকি আলু খাবার হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জেনারেটর চালিয়ে হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।   জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক বলেন, প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা একই থাকে না। বিশেষ করে রাতে চাহিদা বাড়লে লোডশেডিং করতে হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমের সময় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বাড়ে। তবে আগের কয়েক দিনের তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।   হিমাগার মালিক ও কৃষকদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে একদিকে যেমন সংরক্ষিত আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে, অন্যদিকে জেনারেটর চালানোর অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে তাদের আর্থিক ক্ষতিও আরও বাড়তে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে ৩৪ দেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি, সুবিধা পাবেন যেসব পাসপোর্টধারী

বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমানে ৩৪টি দেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি রয়েছে। তবে সব দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য নয়। ৩১টি দেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। দুটি দেশের ক্ষেত্রে শুধু কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য এই সুবিধা রয়েছে। আর একটি দেশের ক্ষেত্রে সব ধরনের পাসপোর্টধারী ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন।   সোমবার (২৪ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন শাখা-২ থেকে প্রকাশিত তালিকায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান ভিসা অব্যাহতি চুক্তির ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও বাংলাদেশের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তিতে আবদ্ধ দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, চিলি, লাওস, বেলারুশ, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কুয়েত, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, ভারত, চীন, ব্রুনেই, ওমান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, কাতার, বতসোয়ানা, কসোভো, দক্ষিণ কোরিয়া, সার্বিয়া, আর্জেন্টিনা, কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, তিমুর-লেস্তে, গাম্বিয়া, পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি রয়েছে। তবে এসব দেশের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত, কার্যকারিতা ও অবস্থানের মেয়াদ এক নয়।   জাপান ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি শুধু কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য প্রযোজ্য। তবে তালিকায় উজবেকিস্তানের চুক্তিকে এখনো প্রস্তাবিত ভিসা ওয়েভার অ্যাগ্রিমেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হলেও এটি এখনো কার্যকর হয়নি।   মালদ্বীপের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিকদের সব ধরনের পাসপোর্টের জন্য ভিসা অব্যাহতি সুবিধা রয়েছে। তবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালদ্বীপে গেলে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। দক্ষিণ কোরিয়া ও মালদ্বীপের ক্ষেত্রে দুই দেশের নাগরিকরা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া অবস্থান করতে পারেন।   চুক্তি অনুযায়ী দেশভেদে ভিসা ছাড়া অবস্থানের মেয়াদ ভিন্ন।  সিঙ্গাপুরের সঙ্গে চুক্তিতে ৯০ দিন, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, চিলি, তুরস্ক, লাওস ও বেলারুশের সঙ্গে ৯০ দিন পর্যন্ত থাকার সুযোগ রয়েছে। ভারতীয় কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য এই মেয়াদ ৪৫ দিন।    এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ব্রুনেই, ওমান, সার্বিয়া, ব্রাজিল, কাতার, কসোভো, বতসোয়ানা, আর্জেন্টিনা, কাজাখস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তিতে সাধারণত ৩০ দিনের ভিসা অব্যাহতি সুবিধা রয়েছে।   চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক, সরকারি ও সাধারণ সরকারি চাকরির পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি রয়েছে। সেখানে অবস্থানের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় কয়েকটি চুক্তিকে ‘প্রস্তাবিত ভিসা ওয়েভার অ্যাগ্রিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   তিমুর-লেস্তের সঙ্গে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর হলেও এটি এখনো কার্যকর হয়নি। মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর এবং উজবেকিস্তানের সঙ্গে একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর হলেও এসব চুক্তিও এখনো কার্যকর হয়নি।   গাম্বিয়ার সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে গাম্বিয়ার সঙ্গে চুক্তি কার্যকর ও বাস্তবায়নের বিষয়ে নোটিশও প্রকাশ করেছে।   অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট ঢাকায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ৩০ দিনের ভিসা অব্যাহতির সুবিধা রয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদা নোটিশও প্রকাশ করেছে।    ভিসা অব্যাহতি মানেই সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য ভিসা ছাড় নয়। বেশিরভাগ চুক্তিই কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য। সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে কোন দেশে ভিসা লাগবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব ভিসানীতি অনুযায়ী আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষক পরিবার হত্যা: তদন্তভার পেল ডিবি

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছ থেকে বদলি করে গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। অধিকতর স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার জন্যই তদন্ত সংস্থা বদল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান সনাতন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, সোমবার বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জী গোয়েন্দা পুলিশের অফিসে গিয়ে মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলীর কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র হস্তান্তর করেন। বিকালে পুরাতন ও নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তাই ঘটনাস্থল মাছুয়াপাড়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের বাড়ি পরিদর্শন করেন। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিষয়ে ব্রিফ করেন নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে। এখন ডিবি ঘটনা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেবে।   সনাতন চক্রবর্তী বলেন, রবিবার রাত পর্যন্ত দুই অভিযুক্ত ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমরা যেটা আদালত সূত্রে জানতে পেরেছি আসামিরা তারা অ্যাজ ইট ইজ অর্থাৎ আমাদের কমিশনার স্যার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের যেটা বলেছেন, দেশবাসীকে যেটা জানিয়েছেন, একই ঘটনা তারা বলেছেন। তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে যুক্তও করেছে, যেটা আমাদেরকে বলেনি।   সনাতন চক্রবর্তী আরও বলেন, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক জিন্নাত আলী, তিনি এখন হচ্ছে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার জন্যই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   গত শনিবার রাতে বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   এ ঘটনায় রবিবার ভোরে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো- নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। এদিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) আবদুল মাবুদ জানান, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।   রবিবার বিকালে নিহত চার জনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।   রবিবার রাতে রংপুর মহানগর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলামের আদালতে দুই আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বলে জানায় পুলিশ। এর আগে রাত ৮টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) নির্মল চন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।   সোমবার (২৪ আগস্ট) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, ইরানের আর্থিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাই নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য। তিনি বলেন, তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেশটির অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার সব ধরনের পথ বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।   নতুন পদক্ষেপের আওতায় ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি খাত—ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন—বিশেষভাবে নজরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।   ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বেসেন্ট বলেন, কোনো দেশই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয়। ইরানের তেল পাচার ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক, মধ্যস্থতাকারী ও আর্থিক চ্যানেলগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।   ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীনও নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশেষ নজরে রয়েছে। তবে চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা দেয়নি ওয়াশিংটন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ কোনও আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধান করে না। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বেইজিং।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে আগেই ‘ব্যর্থ’ হবে বলে মন্তব্য করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন চাপের জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পক্ষ থেকে এর আগে নতুন মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।   নতুন মার্কিন পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নৌপথে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার আগে তেলের দাম কিছুটা কমলেও এর আগে টানা দুই সপ্তাহ দাম বেড়েছিল।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নৌপথে চাপ বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, ১ ডলারে ২০ লাখ রিয়াল
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৫, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই ইরানি রিয়ালের দরপতন নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) দেশটির খোলাবাজারে এক মার্কিন ডলারের দাম ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে যায়।   মুদ্রাবাজারের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের মুক্তবাজারে ডলারের দাম ২ লাখ তোমানের ওপরে উঠে যায়। ইরানে ১ তোমান সমান ১০ রিয়াল হওয়ায় এর অর্থ দাঁড়ায়, এক ডলারের দাম ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়েছে। সোমবারও বাজারদর ২০ লাখ রিয়ালের আশপাশে ছিল।   গত সপ্তাহের শুরুতে এক ডলারের দাম ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৬৫ হাজার রিয়াল। অর্থাৎ এক সপ্তাহেরও কম সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার দরপতন হয়েছে ৭ শতাংশের বেশি।   মূলত বিদেশি মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন অর্থনৈতিক চাপকে ঘিরে উদ্বেগই রিয়ালের এই দ্রুত পতন। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রবেশাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।   ইরানের মুক্তবাজারের বিনিময় হার দেশটির অর্থনীতির বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সরকারি মুদ্রাবাজার ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সেখানে নির্ধারিত বিনিময় হার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ডলার কিনতে যে মূল্য দেন, তা সবসময় প্রতিফলিত করে না।   রয়টার্সও রিয়ালের এই রেকর্ড দরপতনের খবর জানিয়েছে। এর আগে ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা কোনো বিস্তৃত চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।   ওই সমঝোতায় ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে ছাড় এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি অর্থে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বেড়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের উদ্যোগ
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৫, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য ও পর্যটন ভিসায় প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা প্রায় ২ লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে পাওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   নথি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বি-১ ও বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন—এমন ব্যক্তিদের একটি বড় অংশকে এ উদ্যোগের আওতায় আনা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আবেদনকারীদের শনাক্ত করে ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট এপিকে জানিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর যারা আশ্রয়ের আবেদন করে দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করছেন, তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তবে ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। টমি পিগোট বলেন, প্রক্রিয়াটি চলমান থাকায় এই মুহূর্তে চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।   প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের উদ্যোগগুলোর একটি হতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৫, ২০২৬

ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।   সোমবার (২৪ আগস্ট) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, ইরানের আর্থিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাই নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য। তিনি বলেন, তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেশটির অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার সব ধরনের পথ বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।   নতুন পদক্ষেপের আওতায় ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি খাত—ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন—বিশেষভাবে নজরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।   ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বেসেন্ট বলেন, কোনো দেশই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয়। ইরানের তেল পাচার ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক, মধ্যস্থতাকারী ও আর্থিক চ্যানেলগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।   ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীনও নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশেষ নজরে রয়েছে। তবে চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা দেয়নি ওয়াশিংটন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ কোনও আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধান করে না। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বেইজিং।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে আগেই ‘ব্যর্থ’ হবে বলে মন্তব্য করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন চাপের জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পক্ষ থেকে এর আগে নতুন মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।   নতুন মার্কিন পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নৌপথে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার আগে তেলের দাম কিছুটা কমলেও এর আগে টানা দুই সপ্তাহ দাম বেড়েছিল।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নৌপথে চাপ বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৪, ২০২৬

দুর্বল মার্কিন ডলারের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে নতুন সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। রয়টার্সের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে শাফাক নিউজ এজেন্সি।   সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৪১ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুতে দাম ১৫ মে-এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর আগে গত সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দামও ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   বাজারে মার্কিন ডলারের দর কয়েক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি থাকায় স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। সাধারণত ডলারের দাম কমলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচক এবং ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব তথ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সুদের হার সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যেই বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি কমেছে।   অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৮ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৭৮ দশমিক ৮৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ হাজার ৩৫০ ডলারে স্থির ছিল।   সূত্র: শাফাক নিউজ

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি