সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
হরমুজ নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণে আমিরাত

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল পাইপলাইনের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে তেল রপ্তানির সক্ষমতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   শুক্রবার (১৫ মে) রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ এক বৈঠকে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানিকে (এডনক) ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে পাইপলাইনটির নির্মাণকাজ চলছে এবং এটি ২০২৭ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে আমিরাতে বিদ্যমান আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন (এডিসিওপি) প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। ওমান উপসাগরীয় উপকূল দিয়ে সরাসরি তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত দুটি দেশেরই হরমুজ প্রণালির বাইরে পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সুযোগ আছে। উল্লেখ্য, ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের জবাবে ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন ব্যাহত হয়। কুয়েত, ইরাক, কাতার ও বাহরাইন প্রায় পুরোপুরি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দেশগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে। এতে বিভিন্ন দেশ জ্বালানি মজুত শুরু করেছে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও বাড়ছে।

২ মিনিট আগে
চীন সফরে ট্রাম্পের অর্জন কী

চীনে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সফর তার দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সফর শেষে ট্রাম্প কী নিয়ে ফিরলেন সেটিই বোঝার চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা।   শুক্রবার (১৫ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানের তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন যেন তেহরানের ওপর নিজেদের প্রভাব খাটায়। তার ধারণা ছিল, বেইজিংকে চাপ দিয়ে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনা যেতে পারে। এমনকি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে পরিচালিত কার্যক্রমেও চীনকে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেছিলেন। গত রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান চান বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, এই যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং আর সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানো দরকার। চীন সফর শেষে ট্রাম্প আশা করছেন, বেইজিং হয়তো ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা আলোচনায় ভূমিকা রাখবে। তবে বাণিজ্য ইস্যুর মতো এখানেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো লিখিত সমঝোতা নেই, যা থেকে বোঝা যায় চীন সরাসরি মধ্যস্থতায় নামছে। যদিও এই সফরে ট্রাম্পকে বিশেষ সম্মান দেখিয়েছে চীন। প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল ব্যতিক্রমধর্মী আতিথেয়তা। তিনি সফর শেষ করেছেন ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে, যা চীনের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অত্যন্ত গোপনীয়, রহস্যময় এবং বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনাগুলোর একটি এই কম্পাউন্ডে বসবাস করেন শি জিনপিং এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বাইরের খুব কম মানুষই সেখানে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং নেদারল্যান্ডসের রাজা। ট্রাম্পকে সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করানো ছিল চীনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ভবিষ্যৎ সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করতেই এমন আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের সরকারি সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিস্তারিত খুব কমই জানানো হয়েছে। অবশ্য এটিই চীনের স্বাভাবিক কূটনৈতিক ধরন। শি জিনপিং সাধারণত খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেন না। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলা। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বৈরিতা কমিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করেছে চীন। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য তদারকির জন্য একটি বোর্ড অব ট্রেড গঠনের বিষয়েও আলোচনা করেছে। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প মনে করছেন তিনি এই সফরে নিজের অনেক লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছেন। তিনি চীনের কাছে আরও বিমান বিক্রির বিষয়টি জোর দিয়ে তুলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, বোয়িং দুইশ উড়োজাহাজ সরবরাহের একটি চুক্তি পেতে যাচ্ছে। এছাড়া আগামী তিন বছরে চীনে আরও বেশি কৃষিপণ্য রপ্তানির আশাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অর্জন ট্রাম্পের জন্য বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। এ কারণেই সফরে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় কোম্পানির প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সব মিলিয়ে, চীনে প্রায় চল্লিশ ঘণ্টার সফরকে সফল বলেই মনে করছেন ট্রাম্প। তবে এটিই দুই নেতার শেষ বৈঠক নয়। চলতি বছরে আরও অন্তত তিনটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে, আর সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফর।

৪ মিনিট আগে
বিশেষায়িত ইউনিটে জনবল বৃদ্ধি চায় পুলিশ

শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ দমন, মহাসড়ক নিরাপত্তা, পর্যটন খাতের সুরক্ষা এবং ভিআইপি নিরাপত্তাসহ ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতে জনবল বাড়ানোর দাবি উঠেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিল্প পুলিশ, নৌ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলো বর্তমানে সীমিত জনবল নিয়ে কাজ করছে। অথচ এসব ইউনিটের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কার্যকর পুলিশিং ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত জনবল, প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা শিল্প পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা বলছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাত, রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প এবং উদীয়মান অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্প পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে শিল্প পুলিশের কার্যক্রম কয়েকটি অঞ্চলে সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, শিল্পপ্রধান সব এলাকায় পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ইউনিট ও জনবল প্রয়োজন। একইভাবে, নৌপথে অপরাধ দমন, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং নদীবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে নৌ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও জোরালো হচ্ছে। পর্যটন খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় ট্যুরিস্ট পুলিশে প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করা গেলে জনসেবা উন্নত হবে এবং দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো আরও দৃঢ় হবে। এদিকে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দক্ষতা বাড়ানো ও সারা দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার জনবল এবং স্থায়ী অফিস ভবন চেয়েছে। পিবিআই প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মোস্তফা কামাল বাসস’কে জানান, বর্তমানে ইউনিটটির জনবল ২ হাজার ৩১ জন। তারা দেশের ৪২টি জেলায় ভাড়া করা অফিসে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর জন্য দু’টি প্রস্তাব ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত পিবিআই প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জটিল অপরাধ, সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের তদন্ত করে থাকে। সম্প্রতি পুলিশের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  তিনি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়ন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের ভাবমূর্তি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে এ ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকারের উদ্যোগ পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

৬ মিনিট আগে
পাকিস্তানকে বড় শাস্তি দিল আইসিসি, টাকা ও পয়েন্ট দুই-ই হারাল

নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্টে হারের স্বাদ পেল পাকিস্তান। সেই লজ্জাজনক পরাজয়ের পর এবার দলের প্রত্যেককে গুনতে হলো জরিমানা। শুধুমাত্র ম্যাচ ফি জরিমানা দিয়েই শেষ হচ্ছে না ব্যাপারটা। ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টও কাটা হয়েছে দলটির।   বিপত্তি বাঁধে ধীর বোলিংয়ের কারণে। আইসিসি জানিয়েছে, ধীর বোলিং করায় পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ৪০ শতাংশ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। আবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ৮ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে শান মাসুদের দলের। যা একটি জয় থেকে অর্জিত পয়েন্ট থেকে মাত্র ৪ পয়েন্ট কম। এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে পাকিস্তান জিতেছে একটি ম্যাচ, দুটি ম্যাচেই হেরেছে। যে ১২ পয়েন্ট ছিল, তা থেকে এখন ঝুলিতে আছে মাত্র ৪!   পাকিস্তানের এই শাস্তি নির্ধারণ করেন ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো। নির্ধারিত সময়ের বাইরে পাকিস্তান ৮ ওভার করেছে। আইসিসি আচরণবিধির আর্টিকেল ২.২২ ও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্লেয়িং কন্ডিশনের আর্টিকেল ১৬.১১.২ অনুযায়ী, প্রতি ওভার পিছিয়ে থাকার জন্য ৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা ও ১ পয়েন্ট জরিমানার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী পাকিস্তানকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ৮ পয়েন্ট ও প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ম্যাচ ফির ৪০ শতাংশ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ অবশ্য দোষ মেনে নিয়েছেন, তাই কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। ঢাকা টেস্টের অনফিল্ড আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবরো ও কুমার ধর্মসেনা, তৃতীয় আম্পায়ার আল্লাউদ্দিয়েন পালেকার এবং চতুর্থ আম্পায়ার গাজী সোহেল অভিযোগটি উত্থাপন করলে এরই ধারাবাহিকতায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান দলকে।

৬ মিনিট আগে
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
তিনদিনের চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন ট্রাম্প

তিনদিনের সরকারি সফর শেষে চীন ত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরের পর বেইজিং থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে নিজ দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।   চীনের রাজধানী বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে বিদায় জানাতে আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হয়। সফরকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন।   দুই নেতার আলোচনায় বাণিজ্য, ইরান ইস্যু এবং তাইওয়ান পরিস্থিতি গুরুত্ব পায়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক অবস্থান ও সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতায় চীনের সহযোগিতা চেয়েছে। অন্যদিকে তাইওয়ান প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে বেইজিং। চীন জানিয়েছে, তাইওয়ানকে একীভূত করার বিষয়ে তারা অনড়।   সফরের অন্যতম আলোচিত দিক ছিল বাণিজ্যিক সমঝোতা। জানা গেছে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের -এর কাছ থেকে ২০০টি বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   সরকারি বৈঠকের পাশাপাশি সফরকালে ট্রাম্প চীনের কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থানও পরিদর্শন করেন।   সূত্র: সিএনএন

আক্তারুজ্জামান মে ১৫, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
খসড়া করপোরেট গভর্নেন্স রুলস নিয়ে মতামত আহ্বান বিএসইসির

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সুশাসন ও স্বচ্ছতা জোরদার করতে প্রণীত খসড়া করপোরেট গভর্নেন্স রুলসের ওপর সংশ্লিষ্টদের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।   বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা অনুযায়ী কমিশন এ খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। খসড়াটির ওপর মতামত প্রকাশের তারিখ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ৩১ মে’র মধ্যে নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠাতে হবে।   বিএসইসি আরও জানায়, খসড়া বিধিমালা কমিশনের ওয়েবসাইটের নির্ধারিত লিংক বা কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে।   নতুন করপোরেট গভর্নেন্স রুলস কার্যকর হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কমিশন।

কোচিং সেন্টারে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
কোচিং সেন্টার কবে বন্ধ হবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

কোচিং সেন্টার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃত বা অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান নয় উল্লেখ করে সেগুলো সরাসরি বন্ধ করার ক্ষমতা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যকর ও মানসম্মত হলে একসময় কোচিং সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা নিজ থেকেই কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোচিং সেন্টার কি রেজিস্টার্ড? আমি কি এগুলো বন্ধ করার অথরিটি? আমি তো কোচিং সেন্টার রিকগনাইজ করি না। তবে কোচিং সেন্টার তখনই বন্ধ হবে যখন আর এগুলোর প্রয়োজন থাকবে না। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মূলত শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত পাঠদান না পাওয়ার কারণেই কোচিংনির্ভর হয়ে পড়ছে। ক্লাসরুমভিত্তিক শিক্ষা উন্নত করা গেলে এবং পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রমের মধ্যে দীর্ঘ বিরতি কমানো গেলে কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ভবিষ্যতে ‘ইন-হাউজ কোচিং’ বা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাধ্যমে অতিরিক্ত পাঠদানের পুরোনো পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিতে চায়। এতে শিক্ষার্থীদের বাইরের কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “আমি তো এত স্মার্ট না, বুঝি নাই যে কোচিং সেন্টার প্রশ্ন ফাঁস করে।”

ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলে শিশুকে ভুল টিকা প্রয়োগ: হাইকোর্টের তীব্র উদ্বেগ, তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশুকে ভুল করে হামের টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পাশাপাশি শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।   আদালত ভুক্তভোগী পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না—এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন।   ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৩ মে) দুপুরে। রিট আবেদনে বলা হয়, ৩৪ মাস বয়সি এক শিশুকে হামের টিকার বদলে ভুলক্রমে দুই ডোজ র্যাবিক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।   শিশুটির পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, টিকা প্রদান করেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম। তবে দায়িত্বে থাকা আরেক স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরু বিষয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে জানা যায়।   এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের নির্দেশে পিআরএলে থাকা এক কর্মীকে ডেকে এনে টিকা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।   ভুল টিকা প্রয়োগের ঘটনায় প্রতিবাদ করলে হাসপাতালের কিছু কর্মীর অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে হাসপাতালে উপস্থিত অন্যান্য অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়।   রিটকারীর আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, আদালত শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত রুল জারি করেছেন।   স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে নজরদারি চলছে।

ছবি: সংগৃহীত
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বৈঠকে তিনি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরান ইস্যু, বাণিজ্য সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।   ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই নেতা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।   ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এমন অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করেছি, যেগুলো অন্য কেউ হয়তো সমাধান করতে পারত না।”   তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি ‘দারুণ বাণিজ্য চুক্তি’ হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক এখন ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।   চীন সফরকালে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে একাধিক দফা বৈঠক হয়। বৈঠকে তাইওয়ান, ইরান এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হলেও উভয় পক্ষই অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে বেশি গুরুত্ব দেয় বলে জানা গেছে।   সফরের শেষ পর্যায়ে দুই নেতা বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ঝংনানহাই কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। পরে রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে চীন ত্যাগ করেন।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে আমিরাত। ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণে আমিরাত
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৫, ২০২৬

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল পাইপলাইনের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে তেল রপ্তানির সক্ষমতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   শুক্রবার (১৫ মে) রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ এক বৈঠকে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানিকে (এডনক) ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে পাইপলাইনটির নির্মাণকাজ চলছে এবং এটি ২০২৭ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে আমিরাতে বিদ্যমান আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন (এডিসিওপি) প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। ওমান উপসাগরীয় উপকূল দিয়ে সরাসরি তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত দুটি দেশেরই হরমুজ প্রণালির বাইরে পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সুযোগ আছে। উল্লেখ্য, ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের জবাবে ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন ব্যাহত হয়। কুয়েত, ইরাক, কাতার ও বাহরাইন প্রায় পুরোপুরি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দেশগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে। এতে বিভিন্ন দেশ জ্বালানি মজুত শুরু করেছে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি : সংগৃহীত
চীন সফরে ট্রাম্পের অর্জন কী
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৫, ২০২৬

চীনে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সফর তার দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সফর শেষে ট্রাম্প কী নিয়ে ফিরলেন সেটিই বোঝার চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা।   শুক্রবার (১৫ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানের তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন যেন তেহরানের ওপর নিজেদের প্রভাব খাটায়। তার ধারণা ছিল, বেইজিংকে চাপ দিয়ে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনা যেতে পারে। এমনকি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে পরিচালিত কার্যক্রমেও চীনকে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেছিলেন। গত রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান চান বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, এই যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং আর সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানো দরকার। চীন সফর শেষে ট্রাম্প আশা করছেন, বেইজিং হয়তো ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা আলোচনায় ভূমিকা রাখবে। তবে বাণিজ্য ইস্যুর মতো এখানেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো লিখিত সমঝোতা নেই, যা থেকে বোঝা যায় চীন সরাসরি মধ্যস্থতায় নামছে। যদিও এই সফরে ট্রাম্পকে বিশেষ সম্মান দেখিয়েছে চীন। প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল ব্যতিক্রমধর্মী আতিথেয়তা। তিনি সফর শেষ করেছেন ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে, যা চীনের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অত্যন্ত গোপনীয়, রহস্যময় এবং বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনাগুলোর একটি এই কম্পাউন্ডে বসবাস করেন শি জিনপিং এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বাইরের খুব কম মানুষই সেখানে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং নেদারল্যান্ডসের রাজা। ট্রাম্পকে সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করানো ছিল চীনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ভবিষ্যৎ সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করতেই এমন আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের সরকারি সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিস্তারিত খুব কমই জানানো হয়েছে। অবশ্য এটিই চীনের স্বাভাবিক কূটনৈতিক ধরন। শি জিনপিং সাধারণত খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেন না। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলা। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বৈরিতা কমিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করেছে চীন। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য তদারকির জন্য একটি বোর্ড অব ট্রেড গঠনের বিষয়েও আলোচনা করেছে। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প মনে করছেন তিনি এই সফরে নিজের অনেক লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছেন। তিনি চীনের কাছে আরও বিমান বিক্রির বিষয়টি জোর দিয়ে তুলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, বোয়িং দুইশ উড়োজাহাজ সরবরাহের একটি চুক্তি পেতে যাচ্ছে। এছাড়া আগামী তিন বছরে চীনে আরও বেশি কৃষিপণ্য রপ্তানির আশাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অর্জন ট্রাম্পের জন্য বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। এ কারণেই সফরে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় কোম্পানির প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সব মিলিয়ে, চীনে প্রায় চল্লিশ ঘণ্টার সফরকে সফল বলেই মনে করছেন ট্রাম্প। তবে এটিই দুই নেতার শেষ বৈঠক নয়। চলতি বছরে আরও অন্তত তিনটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে, আর সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফর।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। ছবি: এআই জেনারেটেড
বারমুডার ‘রহস্য’ উন্মোচন, গবেষণায় মিলল অবিশ্বাস্য তথ্য
মারিয়া রহমান মে ১৫, ২০২৬

দশকের পর দশক ধরে ভূতত্ত্ববিদদের ভাবিয়ে তুলেছে আটলান্টিক মহাসাগরের এক রহস্যময় ধাঁধা। আশপাশের সমুদ্রতলের তুলনায় বারমুডা দ্বীপ এত উঁচুতে অবস্থান করছে কেন, যদিও এর আগ্নেয়গিরিগুলো ৩ কোটিরও বেশি বছর ধরে নিস্তব্ধ? অবশেষে, এই রহস্যের সমাধান খুঁজে পেয়েছেন বলে মনে করছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। আর সেই উত্তর লুকিয়ে আছে দ্বীপটির গভীর ভূগর্ভে। গবেষণায় জানা গেছে, বারমুডা এমন এক ধরনের ভূতাত্ত্বিক গঠনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায়নি। কার্নেগি সায়েন্সের ভূকম্পবিদ উইলিয়াম ফ্রেজার এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের জেফ্রি পার্কের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। হাওয়াইয়ের মতো বেশিরভাগ আগ্নেয় দ্বীপমালা বিজ্ঞানীদের ভাষায় ‘ম্যান্টল প্লুম’-এর ওপর গঠিত হয়। এটি হলো পৃথিবীর গভীর ম্যান্টল স্তর থেকে উঠে আসা উত্তপ্ত ও হালকা শিলার এক বিশাল স্তম্ভ। এই গরম পদার্থ ওপরের দিকে ধাক্কা দিতে থাকলে আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয় এবং সমুদ্রতলও ফুলে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টেকটোনিক প্লেটগুলো যখন ওই প্লুম থেকে সরে যায় এবং আগ্নেয় কার্যকলাপ ধীরে ধীরে কমে আসে, তখন সাধারণত এই স্ফীত সমুদ্রতল আবার নিচে নেমে যায়। কিন্তু বারমুডার ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। কার্নেগি সায়েন্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বারমুডা এখনও একটি বিস্তৃত স্ফীত অঞ্চলের ওপর অবস্থান করছে, যা আশপাশের সমুদ্রতলের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট উঁচু। এই রহস্য অনুসন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট বড় ভূমিকম্প থেকে উৎপন্ন ভূকম্পীয় তরঙ্গ ব্যবহার করেন ফ্রেজার ও পার্ক। এই তরঙ্গ পৃথিবীর ভেতর দিয়ে চলার সময় যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে যায়, সেগুলোর ঘনত্ব ও গঠনের ওপর নির্ভর করে কখনও দ্রুত, কখনও ধীরগতিতে অগ্রসর হয়। বারমুডার একটি ভূকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দ্বীপটির নিচে প্রায় ২০ মাইল গভীর পর্যন্ত পৃথিবীর অভ্যন্তরের একটি চিত্র তৈরি করতে সক্ষম হন। তারা সমুদ্রীয় ভূত্বকের ঠিক নিচে ১২ মাইলেরও বেশি পুরু একটি শিলাস্তর খুঁজে পান। এই শিলার ঘনত্ব আশপাশের ম্যান্টলের তুলনায় কম, ফলে এটি অস্বাভাবিকভাবে ভাসমান। নিচ থেকে কোনো প্লুম ওপরে ঠেলে দেওয়ার পরিবর্তে, এই হালকা শিলাস্তর অনেকটা ভেলার মতো কাজ করছে, যা সমুদ্রতল ও বারমুডাকে ভাসিয়ে রাখতে সহায়তা করছে। গবেষকদের ধারণা, ‘আন্ডারপ্লেটিং’ নামে পরিচিত এই স্তরটি বারমুডার কয়েক কোটি বছর আগের আগ্নেয় অতীতের সময় গঠিত হয়েছিল। তখন কার্বনসমৃদ্ধ গলিত ম্যান্টল শিলা ভূত্বকের নিচের অংশে প্রবেশ করে সেখানেই ঠান্ডা হয়ে জমাট বেঁধে যায়। এই পদার্থের উৎস সম্ভবত পৃথিবীর গভীরে কয়েকশ কোটি বছর আগের, যখন সুপারমহাদেশ প্যাঞ্জিয়া গঠিত হচ্ছিল। আবিষ্কারের গুরুত্ব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফ্রেজার বলেন, ‘বারমুডা গবেষণার জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি স্থান। কারণ এর বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ম্যান্টল প্লুম মডেলের সঙ্গে মেলে না, যা সাধারণত গভীরের পদার্থকে ভূপৃষ্ঠে নিয়ে আসার প্রচলিত ব্যাখ্যা।’ ‘আমরা এখানে ঘন আন্ডারপ্লেটিং দেখতে পেয়েছি, যা অধিকাংশ ম্যান্টল প্লুম অঞ্চলে দেখা যায় না। সাম্প্রতিক ভূ-রাসায়নিক পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে এটি ইঙ্গিত দেয় যে পৃথিবীর ম্যান্টলের ভেতরে আরও কিছু প্রবাহগত প্রক্রিয়া রয়েছে, যেগুলো এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি।’ প্রসঙ্গত, ফ্লোরিডা, বারমুডা এবং পুয়ের্তো রিকোর মধ্যবর্তী অঞ্চলে জাহাজ ও উড়োজাহাজের রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর কারণে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। আর এই রহস্যকে আরও উসকে দিয়েছে এসব ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর সংবাদ এবং বিভিন্ন লোককথা। যদিও বিভিন্ন মিথ বা প্রচলিত ধারণা এসবের পেছনে অলৌকিক শক্তির ইঙ্গিত দেয়, তবে বিজ্ঞানীদের মতে এই ঘটনাগুলোর মূল কারণ হলো ওই অঞ্চলের অত্যধিক যানচলাচল, গালফ স্ট্রিমের মতো চরম প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মানুষের ভুল। সূত্র: এনডিটিভি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: সংগৃহীত
চীন-মার্কিন বৈঠক নিয়ে কী ভাবছেন বিশ্লেষকরা?
মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৫, ২০২৬

চীনের প্রসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে চীন–মার্কিন সম্পর্কের নতুন অবস্থান হিসেবে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘গঠনমূলক কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক’ গড়ে তোলার বিষয়ে সম্মত হন বিশ্বের শীর্ষ এই দুই নেতা, যা আগামী তিন বছর এবং এর পরেও চীন–মার্কিন সম্পর্কের কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।    সেইসঙ্গে আশা করা হচ্ছে, উভয় দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এটিকে স্বাগত জানাবে।  পূর্ব এশীয় বিশেষজ্ঞ এবং ফেয়ারলি ডিকিনসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক জেসি গেটস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আবারও চীন–মার্কিন সম্পর্ককে একটি বড় জাহাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং বলেছেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘‘গঠনমূলক কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক’’ গড়ে তোলা দুই দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অপরিহার্য পদক্ষেপ। উভয় দেশ যদি একে অপরের দিকে এগিয়ে আসে, তবে তা অবশ্যই দুই দেশ ও সমগ্র বিশ্বের জন্য কল্যাণকর হবে। ‘ অস্ট্রেলিয়ান সিটিজেনস পার্টির জাতীয় চেয়ারম্যান রবার্ট বারউইক বলেন, ‘বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বক্তব্য ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রভাবশালী। তিনি দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন এবং সহযোগিতাকে প্রধান ভিত্তি, সংযত প্রতিযোগিতা, নিয়ন্ত্রণযোগ্য মতপার্থক্য এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের ওপর ভিত্তি করে চীন–মার্কিন সম্পর্কের একটি নতুন অবস্থান তুলে ধরেছেন। এ ধরনের বার্তাই বিশ্ববাসী শুনতে চেয়েছিল।’ অনেক আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বই মনে করেন, চীন–মার্কিন সম্পর্ক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা জোরদার করা বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক হবে।   তথ্যসূত্র: সিএমজি

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি