মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট গঠন ও অনিয়মের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কয়েকজন সংসদ সদস্যদের মালিকাধীন রিক্রুটিং এজেন্সিসহ ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। রোববার মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছে, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট সব আইন ও বিধি বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের ও গৃহীত হয়েছে। এ অবস্থায়, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’-এর ধারা ১৩ অনুযায়ী এসব রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার ও জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করার কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। বাতিল হওয়া এজেন্সির মধ্যে আছে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তাফা কামালের স্ত্রী ও মেয়ের মালিকানাধীন দুটি এজেন্সি অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল। ঢাকা-২০ আসনের দলটির সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল ও ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড, ফেনী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল। এছাড়া জনশক্তি খাতের আলোচিত ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড এবং মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের আলোচিত রুহুল আমিন ওরফে স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালও তালিকায় রয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও ‘সিন্ডিকেটের’ কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করেছিল মালয়েশিয়া৷ ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর আবার বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রমিক নেওয়ার চুক্তি করে দেশটি৷ ওই সময় শ্রমিক ভিসায় দেশটিতে যেতে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৫৪০ টাকা ফি নির্ধারণ করে সরকার। ২০২২ সালে এক অফিস আদেশে এ খরচ নির্ধারণ করেছিল প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের চুক্তির আওতায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১০টি নির্ধারিত রিক্রুটিং এজেন্সি দেশটিতে শ্রমিক পাঠাত। পরে ২০২১ সালে নতুন একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে দুই দেশ। এতে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়। তবে সেখানেও নতুন ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ১০০ এজেন্সির মধ্যে ২০-২৫টি এজেন্সির ‘সিন্ডিকেটই’ নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে মালয়েশিয়ার কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান নামে দুদক। এর ধারাবাহিকতায় এর আগেও কয়েকটি এজেন্সির কর্ণধারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি। এবার আরও ৬০টি মামলা করার উদ্যোগ নেয় দুদক। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এসব এজেন্সি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন শ্রমিক মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অর্থ নিয়ে তারা মোট ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি ২০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে এমন অনিয়মের অভিযোগে অন্য যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে সেগুলো হল-মেসার্স শাহীন ট্রাভেলস, ইরভিং এন্টারপ্রাইজ, হেইডোরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েট, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, মেসার্স বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, মেসার্স কিউ কে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড। ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড ,জিএমজি ট্রেডিং (প্রাইভেট), লিমিটেড, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, মেসার্স ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, ডাহমাশি করপোরেশন লিমিটেড, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানিসপাওয়ার করপোরেশন, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস। আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, নাতাশা ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএম ট্রাভেলস লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালটেন্সি, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জে জি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পি.আর. ওভারসিজ লিমিটেড, মেসার্স এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক সফর করেন, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করার মত কোনো আইনি এখতিয়ার নিউ ইয়র্ক নগর প্রশাসনের আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আদেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত) হওয়া উচিত।” মেয়র বলেন, “তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অভিযোগ এনেছে। “আর আপনি দেখবেন, গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ড যে পরিণতি ডেকে এনেছে, সে কারণে অনেকেই এমন মত পোষণ করেন।” মামদানি বলেন, কোনো বিদেশি নেতাকে গ্রেপ্তারে নিউ ইয়র্ক পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার তার আছে কি না, তা যাচাই করতে আইন বিভাগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, “আইন আমাকে যা করার অনুমতি দেয়, আমরা সেটাই করব। তবে সেজন্য আমরা নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।” মামদানি এর আগে তার নির্বাচনি প্রচারের সময় নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছিলেন, গাজায় আগ্রাসনের জেরে নেতানিয়াহুর ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, নির্বাচিত হলে সে অনুযায়ী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ তিনি পুলিশকে দেবেন। মামদানি এবং জাতিসংঘের একটি কমিশন গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। তবে সম্প্রতি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়টি উড়িয়ে দেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। বরং তিনি মামদানির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা করার পরই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। রেডিও হোস্ট সিড রোজেনবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “আমার মনে হয়, তার দেখা উচিত সে কার নিন্দা করছে আর কার প্রশংসা করছে।” তিনি এও বলেন, “তিনি ইসরায়েলের নিন্দা করছেন, যেটি একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমেরিকার মূল্যবোধের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এবং সত্যি বলতে আমার মনে হয়, তিনি মনে মনে আমেরিকাকে ঘৃণা করেন।” জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন মামদানির বিরুদ্ধে নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাড়তে থাকা ইহুদি-বিদ্বেষ মোকাবিলায় যথাযথ ভূমিকা না রাখার অভিযোগ এনেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযোগ অস্বীকার করে মামদানি বলেছেন, তার প্রশাসন ঘৃণা ছড়ানোর অপরাধ দমনে সিটির বিশেষ দপ্তরের বাজেট বা অর্থায়ন বাড়িয়েছে। মামদানি ইসরায়েলের ওপর হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন, একইসঙ্গে ইসরায়েলের সমালোচনা করাকে তার রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম অংশ করে তুলেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, মামদানির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বলছেন, তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকে তার প্রজন্মের অন্যতম প্রধান নৈতিক লড়াই হিসেবে দেখেন।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘নৌ অবরোধ’ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। হুতিদের এই পদক্ষেপে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বেড়ে যাওয়া এবং পারস্য উপসাগরের বাইরেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। এক বিবৃতিতে হুতিদের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা চোখের বদলে চোখ নীতি অনুসরণ করে “অপরাধী সৌদি শত্রুর বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করছে, যা তাৎক্ষণিকভাবেই কার্যকর হবে।” তাদের অভিযোগ, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরব যে “অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধ চাপিয়ে রেখেছে” তার জবাবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হুতিদের এই ঘোষণার পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে এশিয়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। ইরান সংকটের কারণে এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ১০ শতাংশ কমেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক ঝুঁকি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বাশা রিপোর্ট’- এর প্রতিষ্ঠাতা ও ইয়েমেনি বিশ্লেষক মুহাম্মদ আল বাশা বলেন, “এখন প্রশ্ন হল, হুতিরা সৌদি আরবের বন্দরের দিকে যাওয়া জাহাজগুলোকে নিশানা করা শুরু করবে কিনা সেটি। এই পর্যায়ে এর কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই।” তিনি আরও বলেন, “হুতিরা যদি কোনও জাহাজে হামলা নাও চালায়, তারপরও তাদের এই নৌ অবরোধের ঘোষণাই জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে এবং সৌদি আরবের বন্দরগুলোর জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। হুতিরা হুমকিকে ছাড়িয়ে সরাসরি কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে যায় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।” গত সপ্তাহে হুতি নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে- এমন অভিযোগ করে গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এর মাধ্যমে সৌদি আরব এবং ইরান-পন্থি হুতিদের মধ্যকার চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হয়।
গণশুনানির মাধ্যমে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার আলোচিত সেই তিন ইউনিয়নের নতুন নামকরণ করা হয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান নতুন নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার মীরবাড়ি ইউনিয়নকে বেতগাড়ী ইউনিয়ন; মোকামতলা উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পরিবর্তে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন এবং দিগন্ত ইউনিয়নের নতুন নাম রহবল ইউনিয়ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের সমন্বয় সভায় তিনটি ইউনিয়নের নতুন নাম অনুমোদন করা হয়েছে। এখন প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর নতুন নামগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এর আগে ১৪ জুন জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় তিনটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এগুলোর নাম রাখা হয় মীরবাড়ি ইউনিয়ন, সীমান্ত ইউনিয়ন ও দিগন্ত ইউনিয়ন। এর মধ্যে ‘মীরবাড়ি’ নামটি বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম। অন্যদিকে সীমান্ত ইউনিয়ন ও দিগন্ত ইউনিয়ন প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়ায়। দুই নতুন ইউনিয়নের নামের সঙ্গে এ নিয়ে মিল থাকায় সংসদে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। সেদিন প্রতিমন্ত্রী ইউনিয়ন করার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তার নির্বাচনি এলাকা বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ও দেউলী ইউনিয়ন দুটি আয়তনে অনেক বড় ছিল। “স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই করে, গণশুনানি করে সৈয়দপুর ইউনিয়নটি যেহেতু গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলা সীমান্তে, সে কারণে সীমান্তবর্তী হওয়ায় নতুন ইউনিয়নের নাম করেছে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’।” দেউলী ইউনিয়নের নামকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি গাইবান্ধার একদম কাছে এবং অনেক দূরবর্তী হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের শুনানির ভিত্তিতে সেই ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’।” শাহে আলম বলেন, “মিরাকল হচ্ছে, আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে ঠিকই। কিন্তু আমার সন্তানদের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত, মীর দিগন্ত।” বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাম পরিবর্তনের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। তারপর ২৩ ও ২৫ জুন দুই দফায় গণশুনানি করে জেলা প্রশাসন।
রাজধানীর পল্লবী থানার একটি মামলায় আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পল্লবী থানার একটি মামলায় মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্ত করা হয়। করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষায় জালিয়াতিসহ নানা কারণে আলোচিত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ। ২০২০ সালের ৬ জুলাই র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এই সময় পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয় র্যাব। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়। এরপর একই বছরের ১৫ জুলাই ভোরে ভারতে পালানোর সময় সাতক্ষীরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর দীর্ঘদিন তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা ছিল। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সবকটি মামলাতেই জামিন পাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
জুলাই বিপ্লবে রেমিট্যান্স শাটডাউনের গুরুত্ব এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রেমিট্যান্স শাটডাউন ছিল দেশের আন্দোলনের প্রতি প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ সংহতি ও প্রতিবাদের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গণঅভ্যুত্থনের প্রতি সমর্থন জোরদারে ভূমিকা রাখে। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন লোকমান হাকিম। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. আবুল বাশার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এনামুল হক। বিশেষ বক্তা ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব আলম রওশন। এছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সদস্য আকাশ আলমগীর, সেলাংগর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল এবং কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস বিথী। অনুষ্ঠানে জুলাইযোদ্ধা আব্দুল আহাদ সরাসরি উপস্থিত থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শহীদ তাহমিদের মা, শহীদ ইমনের ভাই, জুলাইযোদ্ধা কানিজ ফাতেমা, আহত জুলাইযোদ্ধা মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবং শহীদ সাজ্জাদের বাবা। আলোচনায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহত যোদ্ধাদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানান। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত যোদ্ধাদের অবদান সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে দেশে-বিদেশে গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আহত জুলাইযোদ্ধা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, আন্দোলনে আহত হওয়ার পরও তিনি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাননি। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেন। জবাবে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়ার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হবে এবং আহত যোদ্ধার প্রাপ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগঠনের নেতাকর্মী, সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে আলোচনা সভা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে দেশের বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে এই ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায় সংস্থাটি। রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কাঠমান্ডু আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্য। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এ রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ রুটটি পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশ ও নেপালের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দুই দেশের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। এ ছাড়া একই সঙ্গে বহর সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর মাধ্যমে যাত্রীদের আরও উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে ইউএস-বাংলা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের বহরে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ নেক্সট জেনারেশন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কলম্বো, জহুর বারু, পেনাং ও হংকংসহ নতুন কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে লন্ডন, রোমসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহর এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক, টরন্টো ও সিডনিতে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা-যশোর রুটে ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে তিনটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ মোট ২৫টি উড়োজাহাজ। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশের বেশি অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড ধরে রেখেছে তারা। বর্তমানে দেশের পাঁচটি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের পাশাপাশি কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজুসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ইরানকে সম্পূর্ণ দায়ী করেছে কুয়েত। দেশটি এ হামলার আইনি, নৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিণতির জন্য তেহরানকে দায় বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করেছে। শাফাক নিউজ জানায়, রোববার এক বিবৃতিতে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোয় ধারাবাহিক ও ইচ্ছাকৃত হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবের লঙ্ঘন। কুয়েত আরও জানায়, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার ব্যবহার করে দেশের নিরাপত্তা, ভূখণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। এর আগে কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানায়, টানা দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র। হামলায় সেখানে আগুন লাগে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের একাধিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে তার কথা হয়েছে। আলোচনায় কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রোববার ওয়াশিংটনে ফিরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, মার্ক কার্নির সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে ওই অঞ্চলের দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তিনি বলেন, আমরা যদি তাদের সহায়তা করতে পারি, তাহলে করব। কিন্তু হয়তো তাদের আমাদের কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত, অথবা আমরা তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারি। এর আগে, বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই কানাডার ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ট্রাম্প। কানাডা ও উত্তর মিনেসোটা থেকে ছড়িয়ে পড়া ঘন ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে।
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
তাইওয়ানের আশপাশের সমুদ্র এলাকায় চীনের জাহাজের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড। তাইপের ওপর বেইজিংয়ের চাপ বাড়ানোর মধ্যেই এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, তাইওয়ানের দাবি, চীন প্রায় প্রতিদিনই দ্বীপটির আশপাশে সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও কোস্ট গার্ডের জাহাজ মোতায়েন করছে। যদিও তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে চীনের দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে তাইপে। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা জানান, জুন মাসে তাইওয়ান ও আশপাশের দ্বীপগুলোর জলসীমায় ২৬৩টি চীনা জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কোস্ট গার্ড, উদ্ধারকারী ও গবেষণা জাহাজ রয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ২০০টি, আর ২০২৫ সালের জুনে ছিল ১৭১টি। তবে এই হিসাবে যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বলেন, চীন তথাকথিত ‘গ্রে জোন’ কৌশলের মাধ্যমে সামরিক সংঘাতে না জড়িয়েই তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জুনে এ ধরনের কার্যক্রমে ব্যবহৃত সরকারি জাহাজের সংখ্যা ও তৎপরতা—দুইই বেড়েছে। গত মাসে চীন প্রথমবারের মতো তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে ‘আইন প্রয়োগকারী টহল’ শুরু করে। তাইওয়ান এ পদক্ষেপকে উসকানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে। এ ছাড়া, প্রথমবারের মতো চীনা কোস্ট গার্ড তাইওয়ানের পাশ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সঙ্গে রেডিওতে যোগাযোগ করে নাবিকদের পরিচয় ও গন্তব্য জানতে চেয়েছে। তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, চীনের উদ্দেশ্য শুধু জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া নয়; বরং প্রয়োজনে তাইওয়ানের বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজের প্রবেশ ঠেকিয়ে দ্বীপটিকে সরবরাহ সংকটে ফেলার চেষ্টা করা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য অবরোধ বা কোয়ারেন্টিন পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে তাইওয়ান শিগগিরই সরাসরি মহড়া চালাবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে তার কথা হয়েছে। আলোচনায় কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রোববার ওয়াশিংটনে ফিরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, মার্ক কার্নির সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে ওই অঞ্চলের দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তিনি বলেন, আমরা যদি তাদের সহায়তা করতে পারি, তাহলে করব। কিন্তু হয়তো তাদের আমাদের কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত, অথবা আমরা তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারি। এর আগে, বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই কানাডার ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ট্রাম্প। কানাডা ও উত্তর মিনেসোটা থেকে ছড়িয়ে পড়া ঘন ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে।
গাজায় এক হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শুধু শহর, হাসপাতাল ও শরণার্থী শিবির ধ্বংস করেনি; এটি ফিলিস্তিনের তিন দশকের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতাও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ব্যবস্থা এখন আর ফিলিস্তিনিদের বাস্তবতা ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না। ১৯৪৮ সালের নাকবার পর ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। কিন্তু এ সংকটে তাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভক্ত, অকার্যকর ও সংস্কারবিহীন অবস্থায় রয়েছে। অসলো চুক্তির ৩০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমে সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে এবং গাজা দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও অবরোধের মুখে রয়েছে। ফিলিস্তিনি আইনসভা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, বহু বছর ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি এবং অর্থবহ সংস্কারের অভাব নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা বেড়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংকটটি শুধু প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখন মূল প্রশ্ন হলো— ভবিষ্যতে পুরো ফিলিস্তিনি জাতীয় আন্দোলনের নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্ব কীভাবে পুনর্গঠন করা হবে। ২০০৬ সালের সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচনে হামাস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। এরপর আর কোনো নির্বাচন না হওয়ায় সেই জনসমর্থনের নতুন পরীক্ষা হয়নি। তবে গাজা প্রশাসন পরিচালনা, ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা, বন্দি বিনিময় এবং প্রতিরোধ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে হামাস এখনো ফিলিস্তিনি রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদও নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকলেও পশ্চিম তীরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী ফাতাহ আন্দোলনও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও নেতৃত্ব সংকটে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই বর্তমান সংকটের সমাধান হবে না। বরং ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও)-এর ব্যাপক সংস্কার, হামাস ও ইসলামিক জিহাদের মতো প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে জাতীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করাই হতে পারে ভবিষ্যতের পথ। তাদের মতে, গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটি উঠে এসেছে, তা হলো— গাজা, পশ্চিম তীর, জেরুজালেম, শরণার্থী শিবির ও প্রবাসী ফিলিস্তিনিদের নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে ফিলিস্তিনের জাতীয় আন্দোলন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের গতিপথ। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
ফিফা বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ আর আনন্দের উৎস নয়, এর প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। ২০২৬ বিশ্বকাপে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মেসি, নেইমার, এমবাপ্পে, ইয়ামালের মতো তারকাদের খেলা দেখতে ব্যস্ত থাকায় কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের কারণে ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। মানবসম্পদ ও কর্মী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ইউকেজি (UKG)-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার জন্য কর্মীদের অনুপস্থিতি, অফিসে দেরিতে আসা এবং কাজে মনোযোগ কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের উৎপাদনশীলতা নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে। দেশটিতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ১৭০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার সমান। ‘নকআউট টিউসডে’তে কমেছে অফিস উপস্থিতি ইউকেজির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মী ছুটি নিয়েছেন, কেউ অফিসে দেরিতে পৌঁছেছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরেছেন। কর্মক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম এনভয় (Envoy)-এর তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র দল ৬ জুলাই শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ৭ জুলাই মঙ্গলবার দেশটির অফিসগুলোতে কর্মীদের উপস্থিতি হঠাৎ ২৬ শতাংশ কমে যায়। এই অনুপস্থিতির হার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন সুপার বোল ফাইনালের পরদিনের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। শুধু অফিসে কর্মীদের উপস্থিতিই কমেনি, বরং ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ে। ওই দিন ক্লায়েন্ট মিটিং, চাকরির সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক বৈঠকের সংখ্যা প্রায় ৩২ শতাংশ কমে যায়। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিকে এনভয় নাম দেয় ‘নকআউট টিউসডে’ (Knockout Tuesday)। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র দলের ম্যাচের দিনগুলোতেই কর্মীদের কাজে অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। তবে দলটি টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার পর ধীরে ধীরে অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকল্প ব্যবস্থা বিশ্বকাপের সময় কর্মীদের কাজের ক্ষতি কমাতে এবং আয়োজক শহরগুলোতে অতিরিক্ত যানজট এড়াতে বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠান আগাম ব্যবস্থা নেয়। 'জেপি মরগান চেস, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং এসঅ্যান্ডপি'-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যাচের দিন কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দেয়। এদিকে, ফাইনালের পরদিন অফিসে উপস্থিতির হার কেমন হতে পারে, তার একটি পূর্বাভাসও দিয়েছিল এনভয়। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্র না থাকায় সোমবার অফিসে অনুপস্থিতির হার খুব বেশি বাড়বে না বলে ধারণা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাধারণ সোমবারের তুলনায় উপস্থিতি সর্বোচ্চ ১.৮৭ শতাংশ কমতে পারে, যা সুপার বোলের পরদিনের কাছাকাছি। বড় ক্রীড়া ইভেন্টে কর্মক্ষেত্রে প্রভাব নতুন নয় ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বড় কোনো ক্রীড়া বা বিনোদনমূলক আয়োজনের সময় কর্মীদের কাজে প্রভাব পড়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে অলিম্পিক গেমস কিংবা ২০২৩ সালে ‘বার্বি’ ও ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমা মুক্তির সময়ও বিভিন্ন দেশে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি ও উৎপাদনশীলতায় পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা কমেছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের বড় বৈশ্বিক ইভেন্টগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।