জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৭৫ সালের মধ্যে বিশ্বের অগভীর পানির প্রায় সব প্রবালপ্রাচীর ধসেচরম বিপন্ন হওয়ার অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এ ধরনের প্রথম বৈশ্বিক মূল্যায়নে বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বিশ্বের ৯৬ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থাকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। এটি ঝুঁকি মূল্যায়নের সর্বোচ্চ শ্রেণি। প্রবাল তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীল এবং মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং প্রবালের ক্ষতিকর ব্লিচিং বা বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে ও তীব্র হচ্ছে। আইইউসিএনের প্রবালপ্রাচীর বাস্তুতন্ত্রের লাল তালিকা মূল্যায়নের বৈজ্ঞানিক প্রধান মিশাল গুদকা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ হুমকি ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে এবং তা অত্যন্ত গুরুতর। এর ফলে এসব বাস্তুতন্ত্রের টিকে থাকার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’ আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্যবিষয়ক কপ-১৭ সম্মেলনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া ‘সুপার’ এল নিনো পরিস্থিতির উদ্ভবও এ বছর প্রবালের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। আইইউসিএন কপ-১৭ সম্মেলনে তাদের এ মূল্যায়ন তুলে ধরেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্েযর ক্ষয় বন্ধ ও তা পুনরুদ্ধারে ঐতিহাসিক চুক্তির বাস্তবায়নে অগ্রগতি অর্জনের জন্য সম্মেলনে সরকারগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। মূল্যায়নের জন্য আইইউসিএন জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মধ্যম মাত্রার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২১০০ সালের মধ্যে শিল্পায়ন-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে দেওয়া গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে বর্তমান আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়িত হলে চলতি শতাব্দীতে তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে বলে বুধবার জাতিসংঘ সতর্ক করেছে। আইইউসিএন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তাপীয় চাপ বিশ্বজুড়ে প্রবালপ্রাচীরের অবক্ষয়ের সবচেয়ে ধারাবাহিক হুমকি।’ সংস্থাটি জানায়, অতিরিক্ত মাছ ধরাও প্রবালের ক্ষতি করছে। কারণ, কিছু তৃণভোজী মাছ ও শিকারি প্রাণী শৈবালের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। প্যারটফিশ ও অন্যান্য গ্রুপার মাছ অতিরিক্ত আহরণের ফলে বিশ্বের ৬৩ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে রয়েছে। উপকূলীয় উন্নয়ন, দূষণ, পর্যটন এবং ঘন ঘন শক্তিশালী ঝড়ও প্রবালপ্রাচীরের জন্য বড় হুমকি। চরম বিপন্ন প্রবালপ্রাচীর আইইউসিএনের বিশ্লেষণে ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের ১২৭টি প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রবালপ্রাচীরের মোট আয়তন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬২ বর্গকিলোমিটার। বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধিক জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ কয়েকটি প্রবালপ্রাচীরকেও ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কোরাল ট্রায়াঙ্গল, ক্যারিবীয় অঞ্চলের মেসোআমেরিকান ব্যারিয়ার রিফ ব্যবস্থা এবং লোহিত সাগরের প্রবালপ্রাচীর। শক্ত প্রবাল, যেগুলো প্রবালপ্রাচীরের জীবন্ত ভিত্তি তৈরি করে, বেশির ভাগ বিলুপ্ত হয়ে সেখানে শৈবাল, ভাঙা প্রবালের টুকরো ও স্পঞ্জের আধিক্য দেখা দিলে একটি প্রবালপ্রাচীর বাস্তুতন্ত্র ধসে পড়েছে বলে বিবেচিত হয়। গত সপ্তাহে ‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক প্রবাল প্রজাতি বিলুপ্তির ‘বর্ধিত আপেক্ষিক ঝুঁকিতে’ ছিল। এ অবক্ষয়ের প্রধান কারণ ছিল জলবায়ু পরিবর্তন। এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে গুরুতর সতর্কতা সত্ত্বেও আইইউসিএন বলেছে, বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলের প্রবালপ্রাচীর এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। সংস্থাটির মতে, ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস বাদ দিয়ে শুধু গত ৫০ বছরে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন বিবেচনা করলে বিশ্বের ২৪ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর বাস্তুতন্ত্রকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হতো। ভবিষ্যৎ উষ্ণায়নের প্রভাব যুক্ত করায় এ হার বেড়ে ৯৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গুদকা বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ও জলবায়ু কার্যক্রম জোরদার করার জন্য এটি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা দাঁড় করেছে।’ তিনি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উপকূলীয় সমুদ্র গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা কর্ডিও ইস্ট আফ্রিকার গবেষণা পরিচালকও। তিনি আরও বলেন, ‘আগামী কয়েক বছরে আমরা যে পদক্ষেপ নেব, তা নির্ধারণ করবে শতাব্দীর শেষভাগে এসব বাস্তুতন্ত্র কেমন থাকবে—আমরা যেভাবে এগুলোকে চিনি, সেভাবে টিকে থাকবে, নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তুতন্ত্রে রূপান্তরিত হবে, যার মূল্য প্রকৃতি ও মানুষের কাছে কম হবে।’ আইইউসিএনের মহাপরিচালক গ্রেথেল আগুইলার বলেন, প্রবালপ্রাচীরকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, কী করা প্রয়োজন—নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং সহনশীল উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র ও এগুলোর ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ধারাবাহিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।’
চীনের প্রত্যন্ত তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানি এবং ৪৬ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে ৩০০টিরও বেশি বাড়িঘর ধসে পড়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ৪৬ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিসিটিভিতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্প শুরু হলে রেস্তোরাঁ থেকে কর্মীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসছেন। একই সময়ে সুপারমার্কেটের তাক থেকে বিভিন্ন পণ্য নিচে পড়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল একটি পার্বত্য এলাকায়। এটি নাগচু শহর থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে এবং আঞ্চলিক রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গত এলাকায় তৃতীয় স্তরের ভূমিকম্পজনিত জরুরি সাড়াদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের বাকেন কাউন্টির মারু টাউনশিপে। সিনহুয়া জানিয়েছে, ওই টাউনশিপের উপপ্রধান লাওয়াং দাগপো বলেছেন, ভূমিকম্পের কম্পন টাউনশিপ কার্যালয়েও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। এতে কার্যালয় ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে ৩০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যকে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগ ৩৪৭ জন সদস্যকে সেখানে মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে সিনহুয়া। সিসিটিভিতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কয়েকটি ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীদের একজনকে এক ব্যক্তিকে বহন করে নিয়ে যেতেও দেখা যায়। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে টর্চের আলো দিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে উদ্ধারকর্মীদের। অন্যদিকে, দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে দেখা যায় সেনাসদস্যদের। চীনে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এর আগে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিব্বতের গ্রামীণ এলাকা তিংরি কাউন্টিতে ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জন নিহত হন। এর আগে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ভূমিকম্পে অন্তত ১২৭ জন নিহত হন বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। ২০১৪ সালে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশে ভূমিকম্পে ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের গানসু ভূমিকম্পের আগ পর্যন্ত ২০১৪ সালের ওই ভূমিকম্পকেই ২০০৮ সালের পর চীনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এছাড়া ২০০৮ সালে সিচুয়ান প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের অধীনে সরকারি খরচায় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ২,৩৮৫টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সেবার মধ্যে সরকারি খরচায় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যম ২,৩৮৫ টি, ৬৪ জেলার লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ২ লাখ ৪০ হাজার ৪৭৫ টি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৮২৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অসহায় বিচারপ্রার্থীদের বিনা খরচে আইনি সহায়তা দিতে প্রণীত ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংস্থাটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীন একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত সেবা সংস্থা।
পাবনা ও কুষ্টিয়ায় রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনে সরকারি সফরে এসে স্ত্রীসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে পাবনার পাকশীতে ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. তাহমিনা হোসেনকে দেখা যায়। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সচিব ফাহিমুল ইসলাম ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা সফর করবেন। এ উপলক্ষে ঢাকা, পাবনা ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপককে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সচিবের একান্ত সচিব ও উপসচিব শামীমুর রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সড়কপথে পাকশী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান সচিব। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. তাহমিনা হোসেন, যিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক। পরে পাকশী রেলওয়ের ভিআইপি রেস্টহাউসে অবস্থান ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকালে তারা রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিভাগীয় প্রকৌশলী (২) নাজিব কায়সার এবং বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজওয়ান উর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে সফরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম এবং সচিবের একান্ত সচিব শামীমুর রহমানসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সরেজমিনে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, সচিব নিজের মতো করে একাই বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখতে চেয়েছেন। এ কারণে তারা সফরে যোগ দেননি। সচিবের একান্ত সচিবও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। এদিকে সরকারি দায়িত্ব পালনের সফরে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি সফরে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ভ্রমণের সঙ্গে সরকারি সুযোগ-সুবিধার ব্যবহার যুক্ত হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাদের মতে, এ ধরনের সফরে সরকারি সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবহার যথাযথ নিয়মের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, তিনি সরকারি কাজের অংশ হিসেবেই রেলওয়ের স্থাপনা পরিদর্শনে গেছেন। তার দাবি, সরকারি সফরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ সফরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের সরকারি বিধি প্রযোজ্য এবং তাদের যাতায়াত বা অবস্থানের ব্যয় কীভাবে বহন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মোংলা বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খুলনার দাকোপ হয়ে মোংলায় পৌঁছে তিনি নৌঘাঁটি, বন্দর ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে বানৌজা মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকাল ৩টায় ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় যোগ দেন তিনি। সভা শেষে মোংলা বন্দরের জেটি ও প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বন্দরের সার্বিক পরিচালন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় বন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা, কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিদর্শন করেন তিনি। বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এর আগে নৌঘাঁটি থেকে সড়কপথে মোংলা বন্দরের জেটিতে যান প্রধানমন্ত্রী। বিকাল ৩টার দিকে বন্দরের প্রধান ফটক দিয়ে জেটি এলাকায় প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সকাল ৯টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার। পরে নলিয়ান লঞ্চঘাট থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে মোংলা বন্দর, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাদের আশা, সফরের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে, বাড়বে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার পাশাপাশি সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় জনপদে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিও এ অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বন্দরের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম এবং এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাবনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের পর থমকে থাকা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি এয়ারলাইনসের যেসব যাত্রী এখনো তাঁদের লাগেজ ফেরত পাননি, তাঁদের অনলাইনে হারানো লাগেজের অভিযোগ জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এ অনুরোধ জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবরের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি এয়ারলাইনসের যেসব যাত্রী এখনো তাঁদের লাগেজ ফিরে পাননি, তাঁরা এয়ারলাইনসটির নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে ‘লস্ট ব্যাগেজ ক্লেম’ বা হারানো লাগেজের অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস আরও জানিয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য এয়ারলাইনসের যাত্রীদের লাগেজসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাসময়ে জানানো হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দরনগরী ডারবানে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে জনতার পিটুনিতে এক বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ জনের একটি দল ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, ডারবানের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার একটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি। এ সময় প্রায় ৫০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তির জাতীয়তা প্রকাশ করেনি পুলিশ। তার বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই বিক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছে। দেশটির ডারবান শহর এসব বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দুই সপ্তাহ আগে সেখানে অভিবাসীবিরোধী মিছিলের পর লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। গত জুন থেকে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করা আফ্রিকান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এসব কর্মসূচির কিছু সহিংসতায় রূপ নেয়। নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, মালাউইসহ কয়েকটি দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের নাগরিকদের কেউ কেউ বিদেশিবিদ্বেষী হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে কয়েকটি দাবির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সহিংসতা এড়াতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় দেশত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার অভিবাসী দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে গেছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় অনেক বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বহু মানুষ পাড়ি জমান। তবে দেশটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অভিযোগ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত এবং সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনথিভুক্ত অভিবাসীরা দেশটিতে প্রবেশ ও অবস্থান করতে পারছেন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন।
বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে জাপান। দেশটির বেসরকারি খাতের মাধ্যমে এ বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে আসন্ন দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। জাপানের এই বিনিয়োগ বাংলাদেশে অটোমোবাইল, অন্যান্য উৎপাদন শিল্প এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে জাপানি ট্রেডিং হাউস সুমিতোমো করপোরেশনসহ অন্য অংশীদারদের উদ্যোগে গড়ে তোলা ‘বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন’-এ জাপানি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি সই করেছে জাপান।
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের জনশূন্য ক্যাম্পে হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তানের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে আরও তিনজন সশস্ত্র জঙ্গিকে ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের আটক করতে অভিযান চলছে। এদিকে, গোয়াদর মহাসড়কের কাছে একটি হোটেলে অবস্থানরত সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলটির ভেতরে চার হামলাকারীকে ঘিরে রাখা হয়েছে। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে গত ১২ বছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক জঙ্গি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে গোয়াদরের চলমান অভিযানগুলোর বিস্তারিত এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দরনগরী ডারবানে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে জনতার পিটুনিতে এক বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ জনের একটি দল ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, ডারবানের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার একটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি। এ সময় প্রায় ৫০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তির জাতীয়তা প্রকাশ করেনি পুলিশ। তার বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই বিক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছে। দেশটির ডারবান শহর এসব বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দুই সপ্তাহ আগে সেখানে অভিবাসীবিরোধী মিছিলের পর লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। গত জুন থেকে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করা আফ্রিকান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এসব কর্মসূচির কিছু সহিংসতায় রূপ নেয়। নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, মালাউইসহ কয়েকটি দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের নাগরিকদের কেউ কেউ বিদেশিবিদ্বেষী হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে কয়েকটি দাবির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সহিংসতা এড়াতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় দেশত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার অভিবাসী দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে গেছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় অনেক বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বহু মানুষ পাড়ি জমান। তবে দেশটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অভিযোগ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত এবং সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনথিভুক্ত অভিবাসীরা দেশটিতে প্রবেশ ও অবস্থান করতে পারছেন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন।
৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে চীনের তিব্বত অঞ্চলে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তর তিব্বতের নাগকু অঞ্চলের একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎপত্তিস্থল। কেন্দ্রস্থলের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার। সংস্থাটি জানায়, স্থানীয় এলাকায় ভূমিকম্পটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। এর কেন্দ্রস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।