একসময়ের অলিগলির ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকসহ তিন চাকার যান এখন অপ্রতিরোধ্যভাবে মহাসড়কে চলাচল করছে। এতে গতির সড়কে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। বেড়েছে যানজট। একইসঙ্গে অবাধে এসব যান চলাচলের কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। ২০১২ সালের অক্টোবরে উচ্চ আদালত মহাসড়কে তিন চাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ। মহাসড়কের বুকে সগৌরবে চলছে তিন চাকার যান। এতে প্রতিনিয়তই ঝরছে প্রাণ। মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে মহাসড়ক। বড় যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা বলছেন, তিন চাকার যান প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে চলে আসায় তীব্র যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মূলত পাড়া-মহল্লার গলিতে চলাচলের জন্য তৈরি এই ধীরগতির ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনগুলো যখন দূরপাল্লার দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে রাজপথে চলছে, তখন সড়কের গতি যেমন থমকে যাচ্ছে, তেমনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। কারণ বড় যানের সঙ্গে এসব ছোট যানবাহন কোনোভাবেই মহাসড়কে চলার উপযোগী নয়। নিয়ন্ত্রণহীন গতি ও দুর্বল ব্রেকিং সিস্টেম সাধারণ প্যাডেল রিকশায় মোটর ও ব্যাটারি যুক্ত করে এগুলোতে গতি বাড়ানো হলেও এগুলোর ব্রেকিং সিস্টেম বা ভারসাম্য রক্ষা করার প্রযুক্তি উন্নত করা হয়নি। ফলে মোড় নেওয়ার সময় বা দ্রুত ব্রেক করতে গিয়ে এগুলো প্রায়ই উল্টে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। আবার এগুলোর কারণে বড় গাড়িও দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। মহাসড়কে কাঠামোগত অমিল গ্রামের রাস্তা বা গলির জন্য তৈরি এই অটোরিকশাগুলো যখন মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মতো দ্রুতগতির যানবাহনের লেন দখল করে, তখন গতির পার্থক্যের কারণে পেছনের গাড়িগুলোকে অনবরত ব্রেক চাপতে হয়। সামান্য ধাক্কা লাগলেই অটোরিকশার যাত্রীদের জন্য তা ডেকে আনছে বিপর্যয়। লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণের অভাব বেশিরভাগ অটোরিকশা চালকদের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা ট্রাফিক নিয়মের জ্ঞান নেই। এছাড়া বিপুল সংখ্যক অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা রাজপথ দখল করায় বড় শহরগুলোর ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জীবিকা বনাম সড়ক নিরাপত্তা দেশের একটি বড় অংশের মানুষ এই পেশার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এবং অল্প পরিশ্রমে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় কৃষি বা অন্যান্য পেশা ছেড়ে অনেকেই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালাচ্ছেন। ফলে প্রশাসন এগুলো বন্ধের উদ্যোগ বা নিষেধাজ্ঞা দিলে চালকদের ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে, যা পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দাপট গ্রামীণ সড়কের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা এখন চলছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে। শুধু ইজিবাইক নয়, থ্রি-হুইলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রাসহ অনেক তিন চাকার যান বেপরোয়া গতিতে বাস-ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না তারা। এখন আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও তেমন তৎপরতা দেখা যায় না। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ফোরলেন হওয়ার পর সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ কারণে ইউটার্ন ছাড়া সড়কের দুই পাশ থেকে কোনও যানবাহন প্রবেশ করার সুযোগ নেই। কিন্তু এর চিত্র ভিন্ন। গ্রামের সড়কে চলাচল করা ইজিবাইক অনায়াসে উল্টোপথে এসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। শুধুই ইজিবাইক নয়, মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ড গড়ে তোলে যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে দাবিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে বড় যানবাহনগুলো। অথচ তিন চাকার যানের নেই সরকারি কোনও রেজিস্ট্রেশন নম্বর। এমনকি বেশিরভাগ চালকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। এরপরও কীভাবে মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল করছে, এ নিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যা বলছে সাধারণ মানুষ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের ময়মনসিংহ সদরের চুরখাই মোড়ের দোকানি কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্রামের সড়কের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এখন মহাসড়কে চলছে। মহাসড়কের চুরখাই মোড়ে নিষিদ্ধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। অথচ এসব যানবাহনের সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই। অবৈধভাবে এসব যানবাহন চলাচল করছে। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা ঘটছে তেমনি বিভিন্ন মোড়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে আমরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে পারি না। কারণ এসব যানের কারণে বাসের গতি কমে যাচ্ছে। বাসগুলোকে জায়গায় জায়গায় ব্রেক করতে হয়।’ ত্রিশাল সদরের বাসিন্দা সামসু মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড মোড়ে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারের স্ট্যান্ড গড়ে তুলে সব সময় যানজটের সৃষ্টি করছেন চালকরা। এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বড় যানবাহন চলাচলে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। যানজটে আটকে থাকতে হয়। পথচারীরাও দুর্ভোগে পড়ছেন।’ ঝুঁকি জেনেও চালানোর কথা বলছেন তিন চাকার যানের চালকরাও ত্রিশালের ইজিবাইক চালক সুমন মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে আসলেই ঝুঁকি আছে। তবু চালাতে হচ্ছে। কারণ ইজিবাইক গ্রামেগঞ্জে চালালে ভাড়ার খরচ ও আয় উঠানো যায় না। বাধ্য হয়েই আমরা উপজেলা সদরে এসে যাত্রীদের নিয়ে মহাসড়কে ঢুকতে হয়। মহাসড়কে ডিভাইডার থাকায় ইউটার্ন নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। তবে সাবধানে চালানোর চেষ্টা করি।’ মাহিন্দ্রাচালক সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমাদের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন না থাকলেও সংগঠনের মাধ্যমে আমরা চালিয়ে আসছি। সংগঠনের নেতারা বিষয়গুলো দেখে থাকেন। অন্য কাজ করতে পারি না বলে নিষিদ্ধ থাকার পরও মহাসড়কে মাহিন্দ্রা চালিয়ে সংসার পরিচালনা করে আসছি। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশ জরিমানা করে।’ ১৪৯ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ১৪৩ প্রাণ ময়মনসিংহ জেলা বিআরটিএ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৪৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৪১ জন আহত হন। ময়মনসিংহ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহাসড়কে তিন চাকার অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্য মাঝেমধ্যে আমরা প্রশাসনের সহায়তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকি। তবে জনবল সংকটের কারণে সবসময় অভিযান চালানো সম্ভব হয় না।’ সুযোগ পেলেই মহাসড়কে উঠে যান চালকরা ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আছে। মহাসড়কে এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এরপরও সুযোগ পেলেই চালকরা গ্রামের সড়ক থেকে মহাসড়কে ঢুকে যান। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে এসব যান মহাসড়কে চলাচল করতে না পারে।’
দেশের সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগ হচ্ছে, প্রতিদিন সড়কে নামছে নতুন নতুন বিলাসবহুল গাড়ি। কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। দুর্ঘটনার ভয়াবহতাও যেন কমছে না। প্রায় প্রতিদিনই সড়কে প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, বয়োবৃদ্ধ, নারী ও শিশু। ২০১৮ সালে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে। তখন অনেকেই আশা করেছিলেন, এবার বুঝি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে, থামবে মৃত্যুর মিছিল। আট বছর পর সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন কতটা ঘটেছে? বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬৯ হাজার ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯৫ হাজার ৭৬১ জন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার মানুষ। শুধু ২০২৫ সালেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৯ হাজার ১১১ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, একই বছর দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৫৯। সংখ্যার এই ব্যবধান দুই সংগঠনের হিসাবে পার্থক্য তুলে ধরলেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ব্যাপকতা স্পষ্ট করে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের স্লোগান এখনো দেয়ালে আছে। কিন্তু সড়ক কি সত্যিই নিরাপদ হয়েছে? ১২ বছরে প্রায় ৯৬ হাজার মানুষের মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে সারা দেশে ৫ হাজার ৯২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৫৮৯ জন নিহত ও ১৭ হাজার ৫২৪ জন আহত হন। ২০১৫ সালে ৬ হাজার ৫৮১টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৮ হাজার ৬৪২ জন। আহত হন ২১ হাজার ৮৫৫ জন। ২০১৬ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩১২টিতে। ওই বছর ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হন। ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৯৭টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত এবং ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হন। ২০১৮ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫১৪টিতে। এসব দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৪৬৬ জন আহত হন। ২০১৯ সালে ৫ হাজার ৫১৬টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৮৫৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ১৩ হাজার ৩৩০ জন। ২০২০ সালে ৪ হাজার ৮৯১টি দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৬৮৬ জন নিহত ও ৮ হাজার ৬০০ জন আহত হন। ২০২১ সালে ৫ হাজার ৬২৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৭ হাজার ৮০৯ জন। আহত হন ৯ হাজার ৩৯ জন। ২০২২ সালে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি আরও বেড়ে যায়। ওই বছর ৬ হাজার ৭৪৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৯৫১ জন নিহত ও ১২ হাজার ৩৫৬ জন আহত হন। ২০২৩ সালে ৬ হাজার ২৬১টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯০২ জন নিহত এবং ১০ হাজার ৩৭২ জন আহত হন। ২০২৪ সালে ৬ হাজার ৩৫৯টি দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৫৪৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ১২ হাজার ৬০৮ জন। আর ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৯ হাজার ১১১ জন। আহত হন ১৪ হাজার ৮১২ জন। অন্য হিসাবেও উদ্বেগজনক প্রাণহানি রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সংগঠনটির হিসাবে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১৬ হাজার ৪০২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৬ হাজার ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বছরভিত্তিক হিসাবে, ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ২১৪ জন, ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৭৩টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন, ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৮৭ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন নিহত হন। ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৬৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ জন। দুর্ঘটনার পেছনে যেসব কারণ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়কের অবকাঠামো, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিও দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখছে। সাইদুর রহমান বলেন, ‘অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। এই গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি এবং চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ দরকার। যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং পথচারীদের অসচেতনতার কারণে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে। এজন্য সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বিশেষ করে, নিয়োগপত্র, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকার কারণে বাস এবং পণ্যবাহী যানবাহনের অধিকাংশ চালক শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। তারা সবসময় অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালান। ফলে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হন। তাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে পরিবহন শ্রমিকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা এবং সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’ প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও আইনের প্রয়োগে জোর সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দক্ষ চালক তৈরি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলেছে সংগঠনটি। মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ করে সেগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বসড়ক বা সার্ভিস রোড নির্মাণ, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার তৈরি, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং রেল ও নৌপথ সংস্কারের মাধ্যমে সড়কের ওপর চাপ কমানোরও সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাধাহীনভাবে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা, যানবাহনের ফিটনেস পদ্ধতি আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন স্ক্র্যাপ করা, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক প্রসিকিউশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সচেতন নাগরিক সমাজ তৈরি করা গেলে ধীরে ধীরে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে। ২০৩০ সালের লক্ষ্য, সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গবেষণা ও বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। এ লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত উদ্যোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিআইপিআরবি’র নির্বাহী উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. একেএম ফজলুর রহমান। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রোড সেফটি প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী বোরহান উদ্দিন। মূল প্রবন্ধে বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র, বাংলাদেশে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ এবং বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন ও নীতিমালার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ কার্যকরভাবে প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি এ বিষয়ে সিআইপিআরবি’র বিভিন্ন কার্যক্রমও তুলে ধরা হয়। আলোচনায় সড়কে নিরাপদ চলাচলে পথচারী, যাত্রী ও চালকদের দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মুক্ত আলোচনায় অ্যাম্বুলেন্সচালকদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ, সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবার জন্য নির্দেশিকা তৈরির প্রস্তাব দেন অংশগ্রহণকারীরা। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দুর্ঘটনার তথ্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা, সড়ক ব্যবহারে মানুষের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং যানবাহনে শিশুদের জন্য নিরাপদ আসন স্থাপনের উপায় নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় সড়ক নিরাপত্তায় সিআইপিআরবি’র চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির উপনির্বাহী পরিচালক ও আরটিআই প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী। তিনি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সমাপনী বক্তব্যে সিআইপিআরবির নির্বাহী পরিচালক ড. আমিনুর রহমান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে ‘দৃঢ় প্রতিজ্ঞ’ বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর করা, দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো তৈরিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ আট বছর আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। এরপরও বিভিন্ন সংগঠনের পরিসংখ্যানে সড়কে প্রাণহানির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জকেই সামনে আনছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, চালকদের প্রশিক্ষণ, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, আইনের প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুপারিশ এসেছে বারবার। এখন এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমানোর অগ্রগতি।
চলতি মাসের শুরুতে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র একটি পর্বে অমিতাভ বচ্চন জানিয়েছিলেন, আগের দিনের শুটিংয়ের সময় তার হাঁটুতে চোট লেগেছে। এবার কয়েক দিনের বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ পাওয়ার কথা জানালেন বলিউডের এই মেগাস্টার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন অমিতাভ বচ্চন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কয়েক দিন বিশ্রাম নিতে হবে। অমিতাভ লেখেন, ‘আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কয়েক দিন বিশ্রাম নেওয়া এবং সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য আমাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাই আমি কিছু লিখতে পারছি না।’ এদিকে, মে মাসেও অমিতাভ বচ্চনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছিল। পরে ই-টাইমস এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, খবরটি সঠিক নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়মিত মাসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিনি নানাবতী হাসপাতালে গিয়েছিলেন এবং সেদিনই বাড়ি ফিরে আসেন। বর্তমানে কয়েক দিনের বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ পাওয়ার কথা নিজেই জানিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন অনুরাগীরা।
শিশুদের সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্পলাইনের তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে শিশুদের সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা বেড়েছে ৪২ শতাংশ, যা শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতে মোবাইল ফোন পেয়ে শিশুরা অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আবার কখনো কখনো অভিভাবকেরাই পড়াশোনা, যোগাযোগ কিংবা বিনোদনের জন্য বয়স বাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুর অ্যাকাউন্ট খুলে সাইবার বিপদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন। এ জন্য অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও তদারকির পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একটি বহুজাতিক সংস্থার কর্মকর্তা জানান, তিনি করোনাকালে ২০২০ সালে অনলাইন ক্লাসের জন্য বয়স বাড়িয়ে মেয়েকে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছিলেন। তখন মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। পরে ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মেয়ের সঙ্গে সমবয়সী পরিচয় দেওয়া অপরিচিত এক ব্যক্তির বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে কৌশলে ওই ব্যক্তি মেয়ের পাসওয়ার্ড জেনে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আপত্তিকর ছবি, ভিডিও ধারণ করে মেয়েকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে সে। ভয়ে-আতঙ্কে মেয়েটি প্রথমে কিছু জানায়নি। মেধাবী মেয়েটি একপর্যায়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পড়াশোনা থমকে যায়। পরে দীর্ঘদিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাউন্সেলিংয়ে থেকে সে স্বাভাবিক হয়েছে। মাধ্যমিক পাস করেছে। কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে পুরোনো ট্রমা ফিরে আসে। ওই মেয়ের মতো অসংখ্য শিশু এমন ঘটনার শিকার হয়ে বিভীষিকাময় সময় পার করছে। শিশুদের ক্রমবর্ধমান সাইবার হয়রানির বিষয়টি উঠে এসেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এর তথ্যেও। এই তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর হেল্পলাইনে শিশুদের সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত কল আসার পরিমাণ ৪২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে এই হেল্পলাইনে মোট ৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬১টি কল গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৫৯৭টি ছিল শিশুদের সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত। এসব কলের মধ্যে ১৭৯টি ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে হেল্পলাইনে আসা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৯৫৪টি কলের মধ্যে ৫৬৫টি ছিল সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত। এসব ঘটনায় ১৭০টি ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চাইল্ড হেল্পলাইনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সাইবার হয়রানি বিষয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০টি কল এসেছিল। চলতি বছর প্রতি মাসে গড়ে ৭০টির বেশি কল এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো শুধু হেল্পলাইনে আসা ঘটনার হিসাব। এর বাইরেও শিশুদের সাইবার হয়রানির অনেক বেশি ঘটনা ঘটছে, যা হেল্পলাইনে না জানানোয় সামনে আসেনি। হেল্পলাইন ১০৯৮-এর ব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. মোহায়মেন গত শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, পরিবারগুলো ভেঙে ছোট হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের বদলে শিশুরা অনলাইনে অপরিচিত মানুষের সংস্পর্শে আসছে। অথচ কে প্রকৃত পরিচয়ে যোগাযোগ করছে, আর কে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছে, তা বোঝার ক্ষমতা তাদের সব সময় থাকে না। অপরাধীরা অনেক সময় শিশুর সমবয়সী পরিচয় দিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। পরে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও কিংবা তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করতে পারে। তাই সন্তানের অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার পর কারা তার বন্ধু হচ্ছে, কী ধরনের বার্তা আসছে এবং কেউ ব্যক্তিগত তথ্য চাইছে কি না, তা নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি। ফেসবুক, টিকটকসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৩ বছরের কম বয়সে অ্যাকাউন্ট করা যায় না। কিন্তু অনেকে বয়স বাড়িয়ে অ্যাকাউন্ট খোলে। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে শিশুদের ঘর ছাড়ার ঘটনা মাঝে মাঝেই গণমাধ্যমে আসছে। সম্প্রতি কুমিল্লার পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া তিন শিশু তৃতীয় শ্রেণিপড়ুয়া এক শিশুকে নিয়ে ঘর ছেড়েছিল। পরে তাদের হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়। কুমিল্লারই সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর মোবাইল ফোনে এক তরুণের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে কক্সবাজারে যাওয়া এবং বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় না। ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানগুলো প্যারেন্টাল গাইডলাইন মেনে চলে না। ফলে শিশুরা কার্টুন দেখার সময় বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করার সময় প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট চলে আসতে পারে। এমন অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছে অনেক শিশু। অনেকে সেগুলোতে আসক্ত হচ্ছে। অনেক সময় এগুলো তাদের বিপদ ডেকে আনছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১০০টি পরিবারের ওপর সমীক্ষা চালায় বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। ওই সমীক্ষায় দেখা যায়, দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ মোবাইল ফোনে আসক্ত। তার মধ্যে কার্টুন এবং ভিডিও গেম দেখে প্রায় ৯৫ শতাংশ। টিকটক দেখে প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু। ২০১৯ সালে ইউনিসেফ বাংলাদেশ ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ২৮১ শিশুর ওপর জরিপ করে। এই জরিপে অংশ নেওয়া ৩২ শতাংশ শিশু অনলাইনে সাইবার বুলিং, সহিংসতা বা হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানায়। ২৫ শতাংশ শিশু ১১ বছর বয়সের আগেই ডিজিটাল জগতে প্রবেশের কথা জানিয়েছিল। একই জরিপে ৭০ শতাংশ ছেলে ও ৪৪ শতাংশ মেয়ে অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করার কথা জানায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে সাইবার বুলিং, সহিংসতা ও হয়রানির শিকার শিশুর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। অনেক বাবা-মা সন্তানের জন্মদিন, স্কুলে যাওয়ার ছবি, পুরস্কার গ্রহণ, ঘুরতে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এই প্রবণতাও পরে শিশুটিকে বিপদে ফেলতে পারে। সেই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসার শিশুর এই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা গত শনিবার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা সাধারণ পারিবারিক ছবিও এআই ব্যবহার করে যৌন নিপীড়নমূলক ছবি বা ভিডিওতে রূপান্তর করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ) ২০২৫ সালে এমন ৩ হাজার ৪৪০টি ভিডিও শনাক্ত করেছে। যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩টি। তিনি বলেন, অভিভাবকদের প্রথমে বুঝতে হবে, শিশু কোনো কনটেন্ট নয়। অপ্রয়োজনে শিশুর নামে প্রকাশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সাইবার হয়রানি থেকে রক্ষা করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগত রাখা, অনুসারীদের তালিকা নিয়মিত যাচাই করা, শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি। শিশুদেরও অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো সংযোগ বা লিংকে প্রবেশ, উপহার দেওয়ার প্রলোভন, ভিডিও কলে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব, গোপনে কথোপকথন চালানোর অনুরোধ কিংবা ব্যক্তিগত ছবি চাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করতে হবে। কোনো অনলাইন যোগাযোগে অস্বস্তি বোধ করলে বা কেউ ভয় দেখালে যেন তারা নির্ভয়ে অভিভাবককে জানাতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার বলেন, সন্তানের মোবাইল ফোন নিয়মিত পরীক্ষা করা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রেখে অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। শিশুকে অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের গুরুত্ব, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি এবং হয়রানির শিকার হলে করণীয় সম্পর্কে শেখানোও জরুরি। অনলাইনে কোনো ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার হলে তাড়াহুড়ো করে সব মুছে না ফেলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট লিংক, ব্যবহারকারীর নাম, বার্তা, স্ক্রিনশট, ঘটনার সময় এবং মূল ফাইল সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানানো উচিত। অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত। ডিজিটালি রাইট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলা নিষিদ্ধ করা কোনো সমাধান নয়। এ জন্য নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা ও তদারকির পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্কুলপর্যায় থেকে অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার, সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফর করবেন। সফরকালে বাগেরহাটের মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোন পরিদর্শনসহ দিনব্যাপী একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। ১০টা নাগাদ আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় অবস্থিত নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে লঞ্চঘাটে গিয়ে নৌপথে বাগেরহাট জেলার বানৌজা মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। দুপুরে বানৌজা মোংলা জেটিতে পৌঁছে ওয়ার্ডরুমের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মধ্যাহ্ন বিরতির পর বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় অংশ নেবেন তিনি। বিকেলে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখবেন। দিনব্যাপী সরকারি কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিকেল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়া নিয়ে অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। এ যুদ্ধের বিষয়ে বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় একাধিকবার নিজের উদ্বেগ ও বিরোধিতার কথা জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ট্রাম্প জুনিয়র চাইতেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে। তার অবস্থান ছিল, দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে বিদেশের সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরে থাকা উচিত। ২০২৪ সালে ইরান যখন ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছিল, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্প জুনিয়র লিখেছিলেন, ‘মনে আছে, তারা বলেছিল ট্রাম্প আমাদের ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবেন? এমন সময় আমাদের উপলব্ধি করা উচিত, ট্রাম্প, তার শক্তি ও দৃঢ় নেতৃত্বকে পেয়ে আমরা কতটা সৌভাগ্যবান।’ তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সেই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান তৈরি হয়েছে। প্রায় আড়াই বছর পর ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সূত্রগুলোর দাবি, ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে ট্রাম্প জুনিয়র ব্যক্তিগতভাবে বাবার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে তিনি বরাবরই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়াত রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের সঙ্গে ট্রাম্প জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কার্কও ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। দ্য আটলান্টিক-কে এক সূত্র বলেন, ‘ডন এ বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্তিগত পর্যায়ে রেখেছেন। এমন কোনো বিষয়ে তিনি কখনো প্রকাশ্যে বাবার সঙ্গে মতবিরোধে যাবেন না। তবে তাকে যারা চেনেন, তাঁদের কেউই এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত অবস্থান জেনে অবাক হবেন বলে আমার মনে হয় না।’ ‘মাগা’ শিবিরেও বাড়ছে বিভক্তি ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) সমর্থকগোষ্ঠীর ভেতরেও বিভক্তি বাড়ছে। এই শিবিরের একাংশ মনে করে, বিদেশে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক সূত্র ট্রাম্প জুনিয়রকে ‘সবচেয়ে বেশি মাগাপন্থী’ বলে উল্লেখ করেছেন। শুধু ট্রাম্প পরিবারের মধ্যেই নয়, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়েও ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করা উচিত কিনা, তা নিয়ে আলোচনার সময় ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এ ছাড়া সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া প্রাথমিক প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানে সরকার পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ওপর অসন্তুষ্ট অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান সংঘাত মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান সংঘাত পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তুষ্ট। বিপরীতে, ৩৩ শতাংশ তার পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত ওই জরিপে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত নিয়ে মার্কিন জনগণের উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের সমর্থনও কমেছে। মার্চে যেখানে ৬৯ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, সেখানে তা কমে ৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরান সংঘাত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। অথচ শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন এ সংঘাতের মেয়াদ চার থেকে ছয় সপ্তাহ হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিল। সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমর্থকগোষ্ঠী ও প্রশাসনের ভেতরে মতপার্থক্য বাড়ছে। একই সঙ্গে জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেশটিতে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে আলোচনার মধ্যেই হেগসেথের এ সফরের খবর সামনে এলো। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সফরে তিনি মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। তবে তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করবেন না বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের হেগসেথ বলেন, ‘আমি সেখানে আমাদের সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ হয়েছে। আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে ভালো অংশীদার হিসেবে আমি তাদের প্রশংসা করি।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার অঘোষিত সফরে ইসরাইলে যান হেগসেথ। এ সময় দখলদ্বার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। সফরের বিষয়ে আগে থেকে কোনো ঘোষণা দেয়নি পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় ভ্রমণের কথা আগে স্বীকার করলেও ইসরাইল সফরের বিষয়টি স্পষ্ট করেননি হেগসেথ। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, সফরটি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল না। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান জানান, ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত উভদা বিমানঘাঁটিতে হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। স্পিলম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলা এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদ্বার ইসরাইলের অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েও কথা বলেন তারা। ইসরাইলে হাজার হাজার মার্কিন সেনাসদস্যকে আতিথ্য দেওয়ার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান হেগসেথ। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক ও তার প্রতি ট্রাম্পের সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে বলে জানান স্পিলম্যান। তিনি বলেন, ‘এখানে গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে, যা এই আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল।’ ইরানকে ঘিরে নতুন হামলার আশঙ্কা ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আলোচনার মধ্যেই হেগসেথের এ সফর অনুষ্ঠিত হলো। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের বিস্তার নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এসব পরিকল্পনায় জিবিইউ-৪৩/বি নামের শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের বিষয়টিও থাকতে পারে। বোমাটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত। প্রতিবেদনটি ইরানে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, এর অর্থ এই নয় যে অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্র: সামা টিভি
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। ১১ বছরের মধ্যে মালদ্বীপের কোনো প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম পাকিস্তান সফর। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রেক্ষাপটেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান আসিম মুনির বৈঠকে মালদ্বীপের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি গঠনমূলক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে এবং অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে দেশটির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশটির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। এর আগে মালদ্বীপের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ সময় দুই দেশের মধ্যে ২০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই দুই দেশ ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ মালদ্বীপের জনগণের প্রতি উষ্ণ অভিনন্দন ও আন্তরিক ভালোবাসা জানান। তিনি মালদ্বীপকে ‘দ্বীপের দেশ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই জাতির চেতনা ঠিক তাদের চারপাশ ঘিরে থাকা মহাসাগরের মতোই বিশাল। সূত্র: ডন,রেডিও পাকিস্তান।
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরামকো পরিচালিত একটি তেলক্ষেত্রে আঘাত হানার সময় একটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে এ ঘটনায় দুই জন নিহত ও দু জন আহত হয়েছেন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার একটি তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন ফিলিপাইন ও ও একজন নেপালি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে আহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। গত মাসে, হুতিদের একটি ড্রোন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সৌদি আরবে বসবাসরত এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হন। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনায় সেখানে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে। ইয়েমেনে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মাসে হুতিদের একাধিক হামলার পর ১০ অক্টোবর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে বুধবার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদিয়া এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স সেখানে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্সসহ বড় বড় এয়ারলাইন্সগুলো নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের পরিষেবা বাতিল করেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
নাসির উদ্দিন
এস এম তাসদীদ সোয়াদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
গত সপ্তাহে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ । এ সময় অনেকের হাতে থাকা কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে দেখা যায় একটি স্লোগান, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নামে শুরু’। আর ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। এ দুইয়ের মিশেলে তৈরি হয়েছে স্লোগানটি। বাক্যটির অর্থ আপাতদৃষ্টিতে অস্পষ্ট মনে হতে পারে। তবে গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষা সরঞ্জামের অভাবে তরুণদের প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর থেকে এই স্লোগান একটি প্রজন্মগত ব্যবধানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ওই বিক্ষোভ পরে ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল। কোথা থেকে স্লোগানটির উৎপত্তি ধারণা করা হচ্ছে, স্ন্যাপচ্যাটে প্রকাশিত একটি বার্তা থেকেই স্লোগানটির সূত্রপাত। ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন এমন এক ব্যক্তি বার্তাটি পাঠান। বার্তার শুরুতে লেখা ছিল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’, যা ফ্রান্সের তরুণদের মধ্যে প্রচলিত আরবি ও ফরাসি ভাষার মিশ্র কথ্যরীতির অনুকরণ বলে মনে হয়। এরপর ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’ লেখক মামাদৌ ও আবদুল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রোফাইল থেকে কয়েকবার বার্তাটি পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অন্যান্য স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারী এই বাক্যকে হাস্যকর মনে করে বার্তার স্ক্রিনশট নেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। নিউইয়র্ক টাইমস বার্তাগুলোর মূল উৎস যাচাই করতে পারেনি। এরপর কী ঘটল অনেক তরুণের সন্দেহ, বার্তাগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এসেছে। তাঁরা আনাড়িভাবে শিক্ষার্থী প্রতিবাদ আন্দোলনে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ বাক্যটিকে একটি ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। তাদের আন্দোলনকে দমন করতে কর্তৃপক্ষ যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তাকে উপহাস করা–ই ছিল এই স্লোগানের উদ্দেশ্য। এই স্লোগানকে এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আন্দোলনকারীদের বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার একটি রূপক হিসেবে অভিব্যক্তি দেখা হচ্ছে। ফরাসি উপনিবেশগুলোর সাবেক বাসিন্দাদের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ এবং আরব ফরাসিরা দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। বার্তাগুলোর মাধ্যমে তাদের ভুলভাবে তুলে ধরার পুলিশের চেষ্টা হিসেবে অভিযোগ করে আসছেন তারা। জানতে চাইলে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এজেন্টরা এ ধরনের বাক্যটি ব্যবহার করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা স্বীকার করেছে, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে অনলাইনে ছদ্মবেশ ধারণ করেন, যাতে বিক্ষোভে বেআইনি কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের ওপর নজরদারি রাখা যায়। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই প্রেক্ষাপটে, তদন্তকারী এজেন্টের একটি ছদ্মনাম তৈরি করার সুবিধা রয়েছে, যাতে ‘অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের যোগাযোগ বের করে সংরক্ষণ করা যায় এবং আইনি প্রক্রিয়ায় এসব কিছু প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।’ কেন স্লোগানটি এতটা সাড়া ফেলল শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের কাছে এই অদ্ভুত বাক্যটি তাদের আন্দোলন এবং সরকারের মধ্যকার প্রজন্মগত ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। সরকার তাদের দাবি মানতে অনেকটা অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। ফ্রান্সের প্রভাবশালী শিক্ষার্থী ইউনিয়নের মুখপাত্র সাবরিন খারবাচ বলেন, কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না। তরুণেরা এই বাক্যটিকে তাদের নিজস্ব করে নিয়েছে এটা বোঝাতে, তাদের আন্দোলনে নজরদারি বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চোখ এড়িয়ে যায় না। তারা সেগুলোর তোয়াক্কা না করেই নিজেদের গুছিয়ে নিতে সক্ষম। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদানি সাবাদি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, স্ন্যাপচ্যাট বার্তাগুলো কর্তৃপক্ষের একধরনের ‘পূর্বসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাস’–কে তুলে ধরেছে। কারা ব্যারিকেড তৈরি করছে বা ‘সবকিছু ভেঙে ফেলার’ চেষ্টা করছে, সেটা যেন তারা অনুমান করে ফেলেছে। প্যারিসের উচ্চবিদ্যালয়ের ফেদ্রে কেমেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ জাতীয় কৌতুকে পরিণত হয়েছে। কারণ, ‘এটি একজন তরুণের অত্যন্ত বাজে এক নকল রূপ’। ফেদ্রে আরও যোগ করেন, বাক্যটি বর্ণবাদের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এই বাক্যের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, যারা সম্পত্তি ভাঙচুর করতে যাচ্ছে, তারা সবাই আরব। ফ্রান্সের বাইরে এই স্লোগান কীভাবে ছড়াল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ স্লোগানটি বেলজিয়াম ও জার্মানির অনুরূপ বিক্ষোভেও ব্যবহার করা হয়েছে। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ শিক্ষার্থী আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিওতে এই বাক্যটি উচ্চারণ করেছেন। ভিডিওতে থুনবার্গ ‘জেন-জি’ প্রজন্মের তরুণদের অন্যান্য অঙ্গভঙ্গিও দেখান। এর মধ্যে ‘সিক্স-সেভেন’ সম্পর্কিত একটি অঙ্গভঙ্গিও ছিল, যা মিম হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। নতুন এই স্লোগানের ব্যবহার ভারতের ‘ককরোচ আন্দোলন’-এর হাস্যরসের সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে এক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল। ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণ ও বেকার ভারতীয়দের ‘পরজীবী’ এবং ‘রুই-কাতলা/কাকরোচ’ (তেলাপোকা) বলে ব্যঙ্গ করার পর প্রতিবাদকারীরা তাদের আন্দোলনের নামকরণ করেছিলেন সেই ব্যঙ্গাত্মক শব্দের নামে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। ১১ বছরের মধ্যে মালদ্বীপের কোনো প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম পাকিস্তান সফর। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রেক্ষাপটেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান আসিম মুনির বৈঠকে মালদ্বীপের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি গঠনমূলক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে এবং অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে দেশটির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশটির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। এর আগে মালদ্বীপের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ সময় দুই দেশের মধ্যে ২০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই দুই দেশ ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ মালদ্বীপের জনগণের প্রতি উষ্ণ অভিনন্দন ও আন্তরিক ভালোবাসা জানান। তিনি মালদ্বীপকে ‘দ্বীপের দেশ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই জাতির চেতনা ঠিক তাদের চারপাশ ঘিরে থাকা মহাসাগরের মতোই বিশাল। সূত্র: ডন,রেডিও পাকিস্তান।
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরামকো পরিচালিত একটি তেলক্ষেত্রে আঘাত হানার সময় একটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে এ ঘটনায় দুই জন নিহত ও দু জন আহত হয়েছেন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার একটি তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন ফিলিপাইন ও ও একজন নেপালি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে আহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। গত মাসে, হুতিদের একটি ড্রোন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সৌদি আরবে বসবাসরত এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হন। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনায় সেখানে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে। ইয়েমেনে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মাসে হুতিদের একাধিক হামলার পর ১০ অক্টোবর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে বুধবার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদিয়া এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স সেখানে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্সসহ বড় বড় এয়ারলাইন্সগুলো নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের পরিষেবা বাতিল করেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কাছে ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা চলছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ইরাকি গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক আল-আখবারিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আরাগচি। তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধের মূল কারণ ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা এবং দেশটির ওপর মার্কিন আধিপত্য মেনে না নেওয়া। তার মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মূল সমস্যার অজুহাত মাত্র। আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অবস্থান মেনে নিতে চায় না, যেখানে মার্কিন আধিপত্যের বিরোধিতা করা হবে এবং দেশটির ক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। এ কারণেই পরমাণু ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনা নিয়ে অবিশ্বাসের কথাও তুলে ধরেন ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এর আগে তিন দফা আলোচনায় বসেছিল ইরান। কিন্তু প্রতিবারই আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়েছে। গত বছরের জুনে এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে চালানো হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার দাবি, দুই দফা হামলার সময়ই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছিল। এ ছাড়া গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল, যা পরে যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আরাগচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর আস্থা রাখার কোনো সুযোগ নেই।’ তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়া ঠেকাতে ইরান সাত দিনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে বলে জানান তিনি। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বন্ধ রেখেছে বলে জানান তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। এরপর হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। সম্মত শর্তের ভিত্তিতে নৌপথটি পুনরায় চালু করার পর চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে পরবর্তী আলোচনা হতে পারে। আরাগচি বলেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ যাতে পুরোপুরি ব্যর্থ না হয়, সে লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। তবে এর সফলতা নির্ভর করছে অপর পক্ষের ওপর। আলোচনায় হওয়া সমঝোতাগুলো যুক্তরাষ্ট্র মেনে চললেই কেবল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগের প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপরই পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে। সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।