সর্বশেষ
সর্বশেষ সংবাদ
কোরবানির বদলে যে কারণে চিড়িয়াখানায় জায়গা হলো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’

অবশেষে রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানায় জায়গা হয়েছে আলোচিত অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’। কোরবানির পশুর হাটে অদ্ভুত চেহারা ও মাথার সোনালি চুলের কারণে ভাইরাল হওয়া এই মহিষটি শেষ পর্যন্ত কোরবানি না হয়ে এখন দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হতে যাচ্ছে।   মহিষটির মুখমণ্ডল ও চুলের ধরন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিল থাকায় এর মালিক আদর করে নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নারায়ণগঞ্জের একটি পশুর হাট থেকে প্রথম আলোচনায় আসে মহিষটি। পরে দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।   বিরল প্রজাতির এই মহিষ দেশে দ্বিতীয়টি নেই— এমন তথ্য সরকারের নজরে আসার পর কোরবানি স্থগিত করা হয়। পরে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মালিকের কাছ থেকে মহিষটিকে নিয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থান দেয়।   চিড়িয়াখানার সেড নম্বর ৭-এ গয়াল, মায়া হরিণ ও চিতাবাঘের পাশের অংশে রাখা হয়েছে মহিষটিকে। ঈদুল আজহার দিন থেকেই দর্শনার্থীরা এটি দেখতে পারবেন বলে জানা গেছে।   অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি। দেখতে শান্ত স্বভাবের মনে হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি পুরোপুরি শান্ত নয়। তাই দর্শনার্থীদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   মহিষটির মালিকপক্ষ জানিয়েছে, কোরবানি না হয়ে জীবিত অবস্থায় সংরক্ষিত হওয়ায় তারা মানসিকভাবে স্বস্তি পেয়েছেন। যদিও প্রাণীটি থেকে আলাদা হতে তাদের খারাপ লাগছে, তবু এটি মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে থাকবে— এমন ভাবনায় তারা সন্তুষ্ট।   জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে রাজশাহীর একটি পশুর হাট থেকে গোলাপি রঙের বিরল অ্যালবিনো মহিষটি কিনে আনেন নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা। মহিষটির চুল ও চোখের গঠন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিল থাকায় তাঁর ছোট ভাই এর নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।   পরে মহিষটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। রয়টার্স, দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য মিরর, এএফপি, নিউইয়র্ক পোস্ট, ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর, ম্যানিলা টাইমস ও গালফ নিউজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।   ভাইরাল হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মহিষটি দেখতে খামারে ভিড় করতে শুরু করেন। গত সোমবার বিকেলে মহিষটিকে পুরান ঢাকার জিনজিরায় ক্রেতা সামিরের বাসায় নেওয়া হলে লাল গালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে বিদায় জানানো হয়। পরে নতুন স্থানেও রাজকীয় আয়োজনে মহিষটিকে বরণ করে নেওয়া হয়।

১ ঘন্টা আগে
ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় রেকর্ড ৯ ইংলিশ ক্লাব

প্যালেস খেলবে কীভাবে? চলতি মৌসুম শেষে তারা সেরা দশেও নেই। লিগ শেষ করেছে ১৫ নম্বরে থেকে। এরপরও ইউরোপা লিগে জায়গা করে নিয়েছে তারা। কীভাবে সম্ভব হলো? প্যালেস বুধবার (২৭ মে) কনফারেন্স লিগের ফাইনালে রায়ো ভায়েকানোকে হারিয়েছে। ১-০ গোলের এই জয়ের মাধ্যমে ট্রফি তো জিতে নিয়েছেই, পেয়েছে ইউরোপা লিগে খেলার টিকিট। নিয়ম অনুযায়ী, কনফারেন্স লিগ জয়ীরা ইউরোপা লিগে সুযোগ পেয়ে থাকে, ইউরোপা লিগ জয়ীরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। ইউরোপা লিগ জয়ী অ্যাস্টন ভিলা পয়েন্ট টেবিলের হিসাবেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সুযোগ পেয়েছে। তাদের মৌসুম শেষ হয়েছে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের চার নম্বরে থেকে।   চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সুযোগ পাওয়া বাকি ৪টি দল হলো লিগ জয়ী আর্সেনাল, রানার্সআপ ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুল। ইউরোপা লিগ খেলবে ৬-এ থাকা বোর্নেমাউথ ও ৭-এ থাকা স্যান্ডারল্যান্ড। ৮ নম্বরে থেকে কনফারেন্স লিগ নিশ্চিত করেছে ব্রাইটন। অর্থাৎ ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় আগামী মৌসুমে ৯টি ক্লাব অংশ নিবে। ৯ সংখ্যাটি রেকর্ড-সংখ্যা। এক মৌসুমে এর চেয়ে বেশি প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের ইউরোপমঞ্চে সুযোগ পাওয়ার নজির নেই। এবারের মতো গত মৌসুমেও প্রিমিয়ার লিগের ৯টি ক্লাব ইউরোপের তিনটি প্রতিযোগিতায় খেলেছিল। লিভারপুল, আর্সেনাল, ম্যানসিটি, চেলসি ও নিউক্যাসল গিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। ইউরোপা লিগে অ্যাস্টন ভিলা, নটিংহ্যাম ফরেস্ট ও টটেনহ্যাম। প্যালেস খেলেছে কনফারেন্স লিগে।

১ ঘন্টা আগে
বাস্তবায়নের আগ মুহূর্তে পে স্কেলের সুবিধায় যুক্ত হচ্ছেন যারা

এবার প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেলের সুবিধায় যুক্ত হচ্ছেন সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত পৌনে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে তারা সুবিধা পাবেন। তাদের জন্যও জুলাইয়ে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দুই মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, সরকারি পর্যায়ে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তবে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে শতভাগ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর আলোচনাও রয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরিসহ দেশে এমপিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৬ হাজার ৯৩টি। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৮।   পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, চতুর্থ গ্রেডভুক্ত এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে, তা গিয়ে দাঁড়াবে ৭৫ হাজার টাকায়। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের বর্তমান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে হতে পারে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা। সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের ২৯ হাজার টাকার মূল বেতন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকায়। একইভাবে, নবম গ্রেডের কলেজ প্রভাষকদের বর্তমান ২২ হাজার টাকার বেতন বেড়ে ৩৩ হাজার টাকা এবং দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের ১৬ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ২৪ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য দুই ধরনের হিসাব সামনে এসেছে। একটিতে ৫০ শতাংশ এবং অন্যটিতে ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। ১১তম গ্রেডের বিএডবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে, তা হবে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। শতভাগ কার্যকর হলে তা গিয়ে দাঁড়াবে ২৫ হাজার টাকায়। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে হবে ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা এবং দ্বিগুণ হলে দাঁড়াবে ১৮ হাজার ৬০০ টাকায়। ১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদের বর্তমান ৮ হাজার ৮০০ টাকার মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়লে হবে ১৩ হাজার ২০০ টাকা এবং ১০০ শতাংশ বাড়লে হবে ১৭ হাজার ৬০০ টাকা। ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়াদের ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে দাঁড়াবে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা। আর শতভাগ কার্যকর হলে তারা পাবেন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।   অপরদিকে, বেতনের পাশাপাশি বাড়ছে এমপিওভুক্তদের বাড়িভাড়া ভাতাও। গত বছরের ২১ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা দুই ধাপে মোট ১৫ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দেয়।   প্রথম ধাপে গত বছরের নভেম্বর থেকে মূল বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া কার্যকর হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে দ্বিতীয় ধাপে, আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ যুক্ত হয়ে মোট বাড়িভাড়া ভাতা দাঁড়াবে মূল বেতনের ১৫ শতাংশে। তবে সর্বনিম্ন ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকবে।

১ ঘন্টা আগে
রাতের মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য সরানো সম্ভব হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আধঘণ্টার ব্যবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কাজ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।   ঈদের দিন আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে প্রথমে বর্জ্য অপসারণ কাজের উদ্বোধন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আর বেলা দুইটার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নির্ধারিত সময়ের (১২ ঘণ্টা) আগেই রাতের মধ্যে পুরো নগরীর বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ ছাড়া আগামী দুই দিনও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে। কারণ, এখনো অনেকেই কোরবানি দিচ্ছেন এবং মাংস কাটার কাজ করছেন। বেলা দুইটার দিকে মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের সিরামিক রোড এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটির বর্জ্য অপসারণ কাজ শুরু হয়। এ সময় ওই এলাকার বর্জ্য অপসারণের কাজ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, এই কার্যক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রায় ১৬ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশ নিয়েছেন এবং ৭৫২টি যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রশাসকসহ পুরো সিটি করপোরেশন দলের ওপর আস্থা রাখা যেতে পারে। নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে নিরলসভাবে কাজ চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সিটি করপোরেশনের সরবরাহ করা নির্ধারিত ব্যাগে বর্জ্য রেখে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি আট ঘণ্টার মধ্যে; অর্থাৎ আজ রাত ৯টার মধ্যে ঈদের প্রথম দিনের বর্জ্য অপসারণ কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর ঢাকা উত্তর সিটি এই কাজটি ১২ ঘণ্টার আগেই; অর্থাৎ রাত দুইটার আগেই শেষ করবে বলে জানিয়েছে। সবাইকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঈদের দিন ও পরের দুই দিনসহ টানা ৭২ ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। সিটি করপোরেশনের সরবরাহ করা হলুদ পলিথিনে বর্জ্য সংরক্ষণ করে নির্ধারিত স্থানে রাখতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান শফিকুল ইসলাম খান। এতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সহজে সেগুলো সংগ্রহ করে অপসারণ করতে পারবেন বলেন তিনি। দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ঈদের প্রথম দিনে মাঠপর্যায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম দিনে প্রায় ১৫ হাজার ৯৩৫ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদের তিন দিনে মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য অপসারণের ব্যাপক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ডিএসসিসি।  

১ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবাই যার যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ ধীরে ধীরে গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে দেশটাকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার।   পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ আয়োজিত এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেনানিবাসে থাকাকালীন তার শৈশব ও জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জীবনের বড় একটা অংশের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে।   প্রীতিভোজ শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনাসদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে সেনা মেসে অবস্থানরত সৈনিকদের জীবনযাপনের খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেনা মেস চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।    এ ছাড়া সেনা মেসের মসজিদে জোহরের নামাজ আদায়ের পর উপস্থিত সেনা কর্মকর্তা ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারেক রহমান।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৮, ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত
হরমুজে আটকে জাহাজ, সাগরেই ঈদ কাটালেন ৩১ বাংলাদেশি নাবিক

পরিবার-স্বজন থেকে হাজার মাইল দূরে, পারস্য উপসাগরের বুকে ভাসমান জাহাজেই কাটল ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের ঈদুল আজহা। ইরানের অনুমতি না মেলায় এখনো দেশে ফিরতে পারেননি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা।   ঈদুল ফিতরের পর এবার কোরবানির ঈদও তাদের কাটাতে হলো জাহাজে বসেই। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করার আশায় বুক বাঁধলেও শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। বুধবার (২৭ মে) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জাহাজটির নেভিগেশন ব্রিজে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। জাহাজের মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম খানর ইমামতিতে নামাজ আদায় করেন ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক। ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশের শান্তি, পরিবারের সুস্থতা এবং দ্রুত ঘরে ফেরার আকুতি জানান তারা। জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরদিনই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জটিলতায় পড়ে জাহাজটি। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরানের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এখনো হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি মেলেনি জাহাজটির। এ সময় অন্য অনেক দেশের জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি পেলেও বাংলাদেশি এই জাহাজটি এখনো অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। নাবিকদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ও নাবিকদের একাধিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত পারস্য উপসাগর ত্যাগের অনুমতি পাওয়া যায়নি। ঈদ উপলক্ষে জাহাজে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও প্রিয়জনদের কাছ থেকে দূরে থাকার কষ্ট কাটেনি নাবিকদের। অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন গুনছেন তারা। ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘কবে নাগাদ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারব, এখনো নিশ্চিত নই। দীর্ঘ তিন মাস ধরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আমরা সাগরে আটকে আছি।’

দখল-বেদখলে স্থায়ী বিবাদে ইসলামী ব্যাংক

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ায় এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।   বিশেষ করে আওয়ামী লীগ আমলে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এবং ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের 'মব জাস্টিস'-এর মুখে পড়ে তার পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।   তাছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সময় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে কয়েক বছর আগে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে খুরশীদ আলমের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। এই কাতারে জুলকার নায়েন সায়ের ও আকবর হোসেনের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও ইনফ্লুয়েন্সারও শামিল হয়েছেন।   এমনকি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের সঙ্গে তোলা খুরশীদ আলমের পুরোনো ছবিও সামনে এনেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।   ফলে ৫ আগস্টের পর থেকে নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে এই নিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন দেখা দেয়।   এরই অংশ হিসেবে সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম মানববন্ধন করে খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়।   এ সময় তারা এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।   মানববন্ধন থেকে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকে ঢুকতে দেওয়া হবে না—এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। ঢাকার বাইরে খুলনাসহ আরও কয়েকটি জেলায় এ ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়। একই রকম হুঁশিয়ারি ফেসবুকেও দেখা গেছে।   প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইসলামী ব্যাংক পুনর্গঠন করা হয়। এস আলমের প্রায় ৮৩ শতাংশ শেয়ার ব্লক করে রাখা হয়। ব্যাংকটিকে এস আলমমুক্ত করতে গেলে ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সময় ২০১৭ সালের আগে ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এর পরে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হন।   এরপর ২২ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকে মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে চেয়ারম্যান করা হয়। তিনি আ. লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। তার ভাই আ. লীগ সরকারের একজন সচিব ছিলেন। ব্যাংকটিতে যোগদানের এক বছর না যেতেই তিনি পদত্যাগ করেন। এর পরপরই অন্য একটি ব্যাংকের দায়িত্বে থাকাকালে সংঘটিত ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।   এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে নিয়োগ পাওয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনিরুল মাওলা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রায় এক বছর পদ দখল করে থাকেন। অনেক নাটকীয়তার পর ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি পদত্যাগ করেন। জুন মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক প্রভাষক এম. জুবায়দুর রহমান। তবে তিনিও ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বগুলো সঠিকভাবে সমাধান করতে পারেননি। বরং এমডি ওমর ফারুক খাঁনের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি প্রতিপক্ষ দাঁড় করানোর জন্য একচেটিয়াভাবে একজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) নিয়োগ দেন। এএমডিকে ক্ষমতাশালী করতে বিভিন্ন কৌশল হাতে নেন। এতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ে। গত এপ্রিলে এমডিকে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠান চেয়ারম্যান। এর আগে থেকেই ব্যাংকটির এএমডি কামাল উদ্দীন জসিমের কার্যক্রমে মনে হতে থাকে তিনিই এমডি।   এই সময়ে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ কর্মী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এস আলম গ্রুপের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৫ হাজার ৩৮৫ কর্মকর্তার যোগ্যতা ও দক্ষতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মীকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয় এবং নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগে কয়েকশ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এই চাকরিচ্যুতরা বেশিরভাগই একটি অঞ্চলের লোক এবং তাদের অনেকেরই ব্যাংকে চাকরি করার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না। তবে চাকরি হারিয়ে তারাও মাঠে নামে। বিভিন্ন সময়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করে।   সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের এই দখল-বেদখলের বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'ব্যাংক দখল হয়েছে ইন্টেরিম সরকারের সময়, ব্যাংক দখল হয়েছে আওয়ামী লীগের সময়। তবে স্টাইলটা একটু ভিন্ন ছিল। কেউ সরকারি গোয়েন্দা ব্যবহার করে হোটেলে ডেকে নিয়ে ব্যাংক দখল করেছে, কেউ নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর বলে ব্যাংক দখল করেছে।'   ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি থিংক অ্যান্ড ইকোনোমিক রিসার্চ সেন্টারের (পিটিইআরসি) চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, 'একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। একসময়ে এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে থাকা এই ব্যাংকটিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে গ্রাহকের আস্থা অনেকটা নষ্ট হয়েছে। এরপরও ব্যাংকটির রেমিট্যান্স আহরণের কারণে এখনও অর্থনীতিতে, বিশেষ করে রিজার্ভ সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ব্যাংক একটি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া ছিল একটি অভিশপ্ত অধ্যায়। অর্থনীতির স্বার্থে, রাষ্ট্রের স্বার্থে ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।'   অভিযোগ রয়েছে, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁনকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বিক্ষোভের মধ্যেই জুবায়দুরেরও পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাতে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে যেসব আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে, সেসবের তদন্ত অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ওই তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভিযোগের সত্যতা পায়নি। ফলে জেনারেল ম্যানেজার (বর্তমানে পরিচালক পদ) থেকে ধাপে ধাপে নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পান খুরশীদ আলম।   অতীতের কর্মদক্ষতা ও সততার মূল্যায়ন করেই খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য দুই চেয়ারম্যানের তুলনায় এবার বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।   ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর একটি বেসরকারি চ্যানেলকে দেওয়া খুরশীদ আলমের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারটি ফেসবুকে অনেক বেশি ভিউ হতে দেখা যায়। সেখানে তাকে বলতে দেখা যায়, 'ইনশাআল্লাহ, ইসলামী ব্যাংক আবারও দেশের ১ নম্বর ব্যাংক হবে।'   এই বক্তব্যকে সামনে রেখে 'সম্মিলিত ব্যাংক পরিবার' নামের একটি পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে অনেকেই ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তাদের মধ্যে একজন লিখেছেন, 'ব্যাংকিং খাতের এক অনন্য বিজ্ঞ ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্বকে নেতৃত্বে পেয়ে দেশবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।'   মঙ্গলবার আবদুস সালাম কাজী নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী খুরশীদ আলমের সঙ্গে তার একটি ছবি পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, গণসংহতি আন্দোলনের (জিএসএ) নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন খুরশীদ আলম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইশতেহার প্রকাশ করে জিএসএ। পোস্টে খুরশীদ আলম ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ পাওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান তিনি।   জানা গেছে, খুরশীদ আলমকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় তৎকালীন সরকার।   আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়ে খুরশীদ আলমসহ চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।   চাকরি জীবনেও খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তার কিছু সহকর্মী। বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (বর্তমানে পরিচালক পদ) থাকাকালে তার গৃহীত ছাদবাগান কর্মসূচিকে ঘিরে ওই অভিযোগ তোলা হয়। এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়নি।   অথচ এসব অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষোদ্গার দেখা যায়। বিবিসির সাংবাদিক আকবর হোসেন তার এক ভ্লগে বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সখ্য ছিল এমন একজন লোককে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় একটা প্রশ্ন উঠেছে যে, তিনি (খুরশীদ আলম) ইসলামী ব্যাংকে এসে এস আলমের স্বার্থ রক্ষা করবেন কি না। একজন ক্লিন ইমেজের লোককে এখানে নিয়োগ দিলে এমন প্রশ্ন উঠত না।'   জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলানিউজকে বলেন, 'জুলাই আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর 'মব জাস্টিস' করে খুরশীদ আলমকে পদত্যাগ করানো হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।'   বাংলানিউজকে দেওয়া তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের এই কাজটিকে 'চ্যালেঞ্জিং' বলে মন্তব্য করেন খুরশীদ আলম। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংকটিকে সফলভাবে পরিচালনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং তার ভিন্ন কোনো অভিসন্ধি নেই বলেও দাবি করেন।   মো. খুরশীদ আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ থেকে স্নাতকোত্তর ও এমবিএ করেন। ১৯৮৮ সালে সহকারী পরিচালক পদে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেন। ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ, কৃষিঋণ বিভাগ, পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন, এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ, সচিব বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। খুরশীদ আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

আর্সেনাল পাঞ্জাবিতে ঈদের নামাজ মামদানির, ব্রঙ্কসে বাংলাদেশিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ব্রিটিশ ফুটবল ক্লাব আর্সেনালের থিমে তৈরি পাঞ্জাবি পরে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী নিউইয়র্ক সিটিতে এই নামাজের পর স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্সটাগ্রামে তিনি যেসব ছবি প্রকাশ করেন, তা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে পড়েছে। নিউইয়র্ক সিটির অধীনস্থ পাঁচটি বোরো বা পৌরসভার মধ্যে ব্রঙ্কসে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অভিবাসীরা বসবাস করেন।   যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। মামদানি নামাজ পড়েন ব্রঙ্কসের একটি ঈদগাহে।   নামাজ শেষে সেখানকার মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মামদানি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের এমপি আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্টেজ তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।   নিজের ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঈদের জামাত এবং পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি প্রকাশ করে মামদানি বলেন, “আজ, আমরা যারা নবী (হযরত) ইব্রাহিম (আ.)-কে শ্রদ্ধা জানাই, ঈদুল আজহা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে কোরবানি কোনো বোঝা নয়। এটি আমাদের অনেক বড় কিছুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। যাদের সাহায্য দরকার, তাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার শিক্ষা দেয়।”   “নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করি এবং আমি সবসময় সবার সঙ্গে সংহতির ভিত্তিতে নিউইয়র্ক সিটিকে নেতৃত্ব দিতে চাই। নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বাসস্থান, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের সেবা পাওয়া নিশ্চিত করতে আমরা সবাই কাজ করছি।”

বাবা-মায়ের সঙ্গে বিরোধ, ঈদের দিন প্রাণ দিলেন যুবক

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মেহেদী হাসান (২১) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের কান্দাকুল গ্রামের নিজ বাসস্থান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   নিহত মেহেদী হাসান ওই গ্রামের হাফিজুর রহমানের পুত্র।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান বেশিরভাগ সময় মামার বাসস্থানে অবস্থান করতেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দুই দিন পূর্বে তিনি নিজ বাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে জামাতে ঈদের নামাজ আদায় শেষে বাড়িতে ফেরেন। পরে পরিবারের সদস্যরা কোরবানির কাজে ব্যস্ত থাকায় বাসস্থানের বাইরে ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন মেহেদী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সরল কুমার বিশ্বাস পুলিশ ফোর্সসহ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।   ময়না ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, পিতা-মাতার সঙ্গে বিবাদ করে সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানতে পেরেছি।   জানতে চাইলে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে— গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব ও পাকিস্তান
আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৮, ২০২৬

ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট, স্পষ্ট এবং স্থায়ী সমাধান সূত্র তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না সৌদি আরব। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে দেশটির এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে রিয়াদের এই কঠোর ও অনড় অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।   সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশেষ মন্তব্যের পর সৌদি আরবের এই দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থানের বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সামনে এসেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে একটি সামগ্রিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলো একে একে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প।   তবে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রিয়াদ তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেনি। সৌদি নীতির মূল কথাই হলো, তেল আবিবের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্ত হলো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতি।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিতে শামিল হবে বলে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। এর পাশাপাশি ট্রাম্প একটি কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখেন। তিনি জানান, যদি এই বিশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কোনো কারণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, তবে এমন সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে যা ইতিহাসে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।   গণমাধ্যমের এই প্রতিবেদনে আরও তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে যে, বিগত বছরের নভেম্বর মাসে আয়োজিত একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।   সিএনএন-এর সূত্র মারফত জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই প্রস্তাবের উত্তরে সৌদি যুবরাজ স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সৌদি আরব এই ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির অংশীদার হতে আগ্রহী, তবে তার জন্য একটি অবশ্য পালনীয় শর্ত রয়েছে। সেই শর্তটি হলো—দ্বি-রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে হবে।   মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হওয়া সেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাকে অত্যন্ত গঠনমূলক হিসেবেই বর্ণনা করেছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি সেই সময়ে আরও যোগ করেন যে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের এই লক্ষ্য পূরণের জন্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও শর্তাদি তৈরি করতে রিয়াদ তাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কাজ করে যেতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।   সৌদি আরবের পাশাপাশি ট্রাম্পের এই আহ্বানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তানও। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মুসলিম-প্রধান দেশগুলোকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে আহ্বান জানিয়েছেন, পাকিস্তানের উচিত হবে না তার সামনে নতি স্বীকার করা। গণমাধ্যম সামা টিভিকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সরাসরি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব কোনোভাবেই পাকিস্তানের নিজস্ব মৌলিক রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।   সামা টিভির একটি আলোচিত টক শো-তে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে খাজা আসিফ বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন না যে পাকিস্তানের এমন কোনো চুক্তিতে সই করা উচিত যা দেশের মূল চেতনার পরিপন্থী। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানা অনুযায়ী এবং পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদ ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেবে না। নিজেদের ৭৮ বছরের ইতিহাসে পাকিস্তান কখনোই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং এই নীতিগত কারণে পাকিস্তানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশটির কোনো নাগরিকের ইসরায়েল ভ্রমণের আইনি অধিকারও নেই।   বৈশ্বিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বিস্তারের জন্য জোর তৎপরতা ও চাপ সৃষ্টি করছে। তবে ফিলিস্তিনের মূল সংকটকে একপাশে সরিয়ে রেখে সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশ এবং পারমাণবিক শক্তির অধিকারী পাকিস্তানের মতো মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে ইসরায়েলের জন্য কূটনৈতিক স্বীকৃতি আদায় করা ওয়াশিংটনের জন্য আগামী দিনে একটি বিশাল ও জটিল চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ছবিসহ ২৫০ ডলারের নোট চালুর চাপ, মত না দেওয়ায় চাকরি হারালেন কর্মকর্তা
মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৮, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ছাপানোর দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবিসংবলিত ২৫০ ডলারের নোটের নকশা তৈরি করতে চাপ দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক কর্মকর্তারা। দেশটির ইতিহাসে ১৫০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে মার্কিন মুদ্রায় কোনো জীবিত ব্যক্তির ছবি দেওয়ার এমন উদ্যোগ এই প্রথম।   এই রাজনৈতিক চাপের বিরোধিতা করায় খেসারত দিতে হয়েছে ব্যুরো অব এনগ্রেভিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের (বিইপি) প্রথম নারী পরিচালক প্যাট্রিসিয়া ‘প্যাটি’ সোলিমেনকে। আইনি ও পদ্ধতিগত আপত্তির কথা তোলায় গত মাসে তাঁকে আকস্মিকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদায়বেলায় সহকর্মীদের পাঠানো এক ই–মেইলে সোলিমেন লিখেছেন, ‘দ্য বাক স্টপড হেয়ার’ (অর্থাৎ সব আইনি জবাবদিহির শেষ আশ্রয়স্থলটি এখানেই ছিল এবং আমি নীতিতে অটল ছিলাম)।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের (অর্থ মন্ত্রণালয়) দুজন রাজনৈতিক মনোনীত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা—ইউএস ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচ এবং তাঁর সিনিয়র উপদেষ্টা মাইক ব্রাউন গত বছর থেকে এই নোটের খসড়া তৈরি করতে কর্মীদের ওপর বারবার চাপ সৃষ্টি করেন। বিষয়টি নিয়ে বিইপির কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মচারী জানান, বর্তমান ফেডারেল আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় কোনো জীবিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অবৈধ। ১৮৬৬ সালের পর থেকে মার্কিন মুদ্রায় কোনো জীবিত মানুষের ছবি দেওয়া হয়নি। সে সময় এক সরকারি কর্মকর্তার ছবি ৫ সেন্টের নোটে আসার পর আইন করে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।   ট্রাম্পের পছন্দের ব্রিটিশ শিল্পী অভিযোগ উঠেছে, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচ ব্যুরোর কর্মীদের কিছু নমুনা নকশা সরবরাহ করেন। এর একটিতে ২৫০ ডলারের নোটের ঠিক মাঝখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখচ্ছবি দেখা গেছে। আর এই মুখচ্ছবির দুই পাশে রয়েছে ট্রাম্প এবং বর্তমান অর্থসচিব স্কট বেসেন্টের স্বাক্ষর।   যুক্তরাজ্যের চিত্রশিল্পী ইয়ান আলেকজান্ডার এই নকশা তৈরি করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নকশায় কিছু পরিবর্তন এনেছেন। ট্রাম্পের পরামর্শেই নকশায় মার্কিন পতাকার রং এবং দেশের ও ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর লোগো যুক্ত করা হয়। আলেকজান্ডার বলেন, ‘ট্রাম্প আমাকে তাঁর প্রিয় ব্রিটিশ শিল্পী বলে ডাকতে পছন্দ করেন।’   নোটের অপর পিঠে আমেরিকার বিপ্লবকালীন পতাকা তৈরিকারক নারী বেটসি রসের ছবি দিয়ে ‘নারী মুক্তি’ থিম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা ট্রাম্প অত্যন্ত পছন্দ করেছেন বলেও জানান এই ব্রিটিশ শিল্পী।   ‘রাতারাতি মুদ্রা ছাপা সম্ভব নয়’ মুদ্রণ ব্যুরোর সদ্য অপসারিত পরিচালক সোলিমেন ও তাঁর অধীনস্থ বিশেষজ্ঞরা প্রশাসনকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে একটি নতুন নোটের নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করতে সাধারণত ৬ থেকে ৮ বছর সময় লাগে। জালিয়াতি রোধে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই নোট তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।   একজন কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রাজনৈতিক কর্তারা মনে করেন, রাতারাতি একটা নোট ছেপে ফেললেই হলো। আর সেটা এটিএম মেশিনে কাজ করা শুরু করবে! এটা পুরোপুরি পাগলামি।’ সোলিমেন আইনি বাধার কথা বলে কাজ এগোতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৭ এপ্রিল তাঁকে আকস্মিকভাবে বদলি করা হয়। তাঁর জায়গায় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক করা হয়েছে ট্রাম্পেরই আরেক অনুগত কর্মকর্তা মাইক ব্রাউনকে। ১০০ ডলারের নোটে ট্রাম্পের স্বাক্ষর ২৫০ ডলারের নোটে ট্রাম্পের ছবির বিষয়ে আইনি জটিলতা থাকলেও, মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো বর্তমান প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর–সংবলিত ১০০ ডলারের নোট ছাপানোর কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনের ডাউনটাউন কার্যালয়ে এই নোটগুলো ছাপা হচ্ছে। মুদ্রা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নোটে স্বাক্ষর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই।   চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন শুরু করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই উৎসবকে কেন্দ্র করেই ২৫০ ডলারের বিশেষ স্মারক নোটটি চালুর মরিয়া চেষ্টা চলছে। কংগ্রেসে এ–সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করা হলেও তা এখনো ঝুলে আছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কংগ্রেস যদি বিলটি পাস করে, তবে ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে স্মরণীয় রাখতে তারা অগ্রিম প্রস্তুতি হিসেবে এই কাজ করছে। এদিকে গত মাসে কোনো আইনি অনুমোদন ছাড়াই স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে তারা ট্রাম্পের ছবি ও স্বাক্ষর–সংবলিত বিশেষ পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু করবে।

ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন উত্তেজনা, মুখ খুললেন মোজতবা খামেনি
মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৮, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেন, সামরিক ব্যর্থতা পুষিয়ে নিতে এই দুই দেশ ইরানকে ‘হাঁটু গেড়ে বসতে’ ( আত্মসমর্পণে) বাধ্য করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি দেশের নাগরিকদের ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।   জাতীয় আইনসভা প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ওই বার্তায় খামেনি বলেন, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অবরোধ ও প্রচারণার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার ভাষায়, শত্রুপক্ষের পরিকল্পনা হলো অভ্যন্তরীণ বিভাজন সৃষ্টি করে রাষ্ট্রকে দুর্বল করা।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ২৭ মে রাতে ইরান কুয়েতের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যা কুয়েতি বাহিনী প্রতিহত করে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির আশপাশে পাঁচটি আক্রমণাত্মক ড্রোন হামলার অভিযোগও আনে ওয়াশিংটন। পরে বন্দর আব্বাস থেকে আরেকটি ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।   অন্যদিকে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। মূলত দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।   মোজতবা খামেনি মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে খুব কমই এসেছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির এক বিমান হামলায় তিনি আহত হন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এখন গোপন স্থানে অবস্থান করছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে গুরুতর সংঘাত, যা চলমান শান্তি আলোচনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

ইরানে ঈদুল আজহা: ভর্তুকির মাংসও সাধারণের নাগালের বাইরে
আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৮, ২০২৬

মুসলিম জাতির অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা এবার ইরানের সাধারণ জনগণের জন্য এক অসহনীয় সময়ে এসেছে।   ইরানে কুরবানির পশুর গোশত খাওয়ার রীতি থাকলেও, দেশটির বন্দরগুলোতে চলমান অবরোধ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে গোটা দেশে গোশতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আকাশছোঁয়া হয়ে পড়েছে।   পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’-এর মতো ঈদুল আজহা ইরানে ততটা বিস্তারিতভাবে উদযাপিত না হলেও, মসজিদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত পশু বিক্রয় ও জবাই কেন্দ্রের মাধ্যমে কুরবানির রীতিনীতি পালন করে থাকে।   এই কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ইসলামি শরিয়ত মেনে পশু কুরবানি করা হয়। তবে এই ব্যবস্থার আরেকটি প্রধান লক্ষ্য হলো, বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে গোশত সরবরাহ করে নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা।   তেহরান সিটি কর্পোরেশনের একটি সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, নির্দিষ্ট দোকানগুলোতে কুরবানির গোশত প্রতি কেজি ৭৪ লাখ রিয়াল (৪.৩০ ডলার) মূল্যে বিক্রি করা হবে।   অথচ সাধারণ বাজারে মান এবং এলাকার ওপর নির্ভর করে এই একই পরিমাণ গোশতের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি হতে পারে।   উল্লেখ্য, ইরানে বর্তমানে একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি প্রতি মাসে ১০০ ডলারেরও কম।   তেহরানের একজন মধ্যবয়সী নারী বাসিন্দা আল-জাজিরাকে বলেন, তিনি সাধারণত প্রতি তিন সপ্তাহে একবার তরকারি বা অন্য পদের জন্য গোশত কেনেন। তাঁদের মহল্লার কিছু পরিবারের কাছে এটি এখন এক ধরনের বিলাসিতার পণ্যে পরিণত হয়েছে।   তিনি জানান, গোশতের বিকল্প হিসেবে এখন মানুষ মুরগি, ডিম এবং ডাল জাতীয় খাবার গ্রহণ করছে, তবু এসব নিত্যপণ্যের দামও অনেক বেড়ে গেছে।   গোশত প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রতিনিধি মাসুদ রাসুলি চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির রাষ্ট্র-সম্পৃক্ত সংবাদ সংস্থা ‘মেহর’-কে জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় গোশতের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।   তিনি জানান, মার্কিন অবরোধের প্রভাব সামাল দিতে কিছু গোশত আমদানি করা হলেও বর্তমানে স্থানীয় বাজারে চাহিদা এতটা কম যে, বাজারের সব প্রয়োজন পূরণের জন্য দেশীয় পশুই যথেষ্ট।   ইরানের শ্রমজীবী সংক্রান্ত সংবাদ সংস্থা ‘ইলনা’-র চলতি সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, ঈদে সরকার ঘোষিত গোশতের সর্বনিম্ন কেজি প্রতি মূল্য ১০ বছর আগের একটি ৫০ কেজি ওজনের জীবিত ভেড়ার দামের সমান।   দক্ষিণ-পশ্চিম তেহরানের একটি কসাইখানার একজন যুবক কর্মী জানান, সরবরাহকারীরা দাম বাড়ানোর পর গত কয়েক মাসে তাঁদেরও বেশ কয়েকবার গোশতের দাম বাড়াতে হয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

স্বাস্থ্য
আবহাওয়া
বিশ্ব
অর্থনীতি