তীরে এসে তরী ডুবল নেপালের। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৪ রানে হেরে গেছে হিমালয়ের দেশটি। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৭ ওভারে ১৮৪ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। জবাবে ৬ উইকেটে ১৮০ রান করতে সক্ষম হয় নেপাল।
যৌন হয়রানি ও অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। তার নিযুক্ত আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মাহবুব অ্যান্ড কোম্পানি’ জাহানারার পক্ষ থেকে আজ রোববার এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়। জাহানারা আলমের আইনজীবীদের দাবি, অভিযোগকারী হিসেবে তদন্তের ফলাফল জানার পূর্ণ অধিকার তাঁর থাকলেও বিসিবি তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি। এমনকি প্রতিবেদনের কোনো অনুলিপিও তাঁকে সরবরাহ করা হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যৌন হয়রানি, অসদাচরণ, প্রতিশোধমূলক আচরণ ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের গোপনীয়তা হতাশাজনক। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ায় জাহানারা আলম স্বস্তি বোধ করলেও এর স্বচ্ছতার অভাবে তিনি হতাশ। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিবৃতির প্রেক্ষিতে এই বিবৃতিটি প্রদান করা হয়। জাহানারার আইনজীবীদের দাবি, বিসিবির কাছে ইমেইলের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে স্পষ্টিকরণ চাওয়া হলে বোর্ড জানিয়েছে যে প্রতিবেদনটি বর্তমানে লিগ্যাল টিমের পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে জাহানারাকে আদৌ এই প্রতিবেদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি। বিসিবির বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির কাছে জাহানারা আলমের করা চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির সত্যতা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে কী কী তথ্যগত ভিত্তি কাজ করেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেনি বিসিবি। জাহানারা আলমের পক্ষ থেকে অভিযোগের গুরুতর প্রকৃতি বিবেচনায় এই অস্পষ্টতাকে হতাশাজনক বলা হয়েছে। বিসিবি দাবি করেছে, অনুসন্ধান কমিটি জাহানারার অভিযোগের ভিত্তিতে নয় বরং নিজস্ব উদ্যোগে গঠিত হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাহানারা আলম স্পষ্ট করছেন যে কমিটিটি মূলত তাঁর করা যৌন হয়রানি সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তদন্তের জন্যই গঠিত হয়েছিল।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি সবসময় বিশ্বাস করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। আমরা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, যা মানুষের সাধ্য ও ক্ষমতার বাইরে বা যা ইহজগতে সম্ভব নয়। যা মানুষের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব, এমন প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছি।’ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে মাঠে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য প্রতিটি ঘরে গৃহিণীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে, যেখানে ভাষা শিক্ষা ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা নিজেরা ব্যবসা করতে পারবে অথবা বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা চাকরি নিয়ে বিদেশে যাবে, তাদের যেন জমি বিক্রি করতে না হয়। এজন্য স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশও ভালো থাকবে। এজন্য কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ করা হবে। ঢাকা-১৫ এলাকার মানুষের চিকিৎসা সুবিধার জন্য এখানে হাসপাতাল স্থাপন করা হবে এবং দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ১০০ ফিট রাস্তার কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।’ নারী ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন, তিনি চেষ্টা করেছেন দেশের নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করে দিতে। যার ফলে আজ বাংলাদেশের মেয়েরা ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা জুলাই আন্দোলনে আহত হয়েছেন এবং যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১০ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সব পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে আগামী ১০/০২/২০২৬ থেকে ১৫/০২/২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য সকল বিভাগ/ইনস্টিটিউট ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর পরীক্ষা আদেশক্রমে স্থগিত করা হলো।
এই সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘উনারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) আমাদের (বর্তমান সরকার) কাছে একটু সময় চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের হাতে মাত্র ২টি কার্যদিবস বাকি আছে। তাই এ সময়ের মধ্যে হচ্ছে না।’ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আশিক চৌধুরী বলেন, ‘প্রজেক্টটা ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে ফাইনাল বোঝাপড়ার ধাপটা শুরু হয়েছিল। যা এখনো চলমান। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। যা চলমান থাকবে। এটা সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।’ এদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির ফলে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন এবং বহির্নোঙরসহ (আউটার লাইটারেজ) সব জায়গায় পণ্য খালাস ও পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের ৪ নম্বর গেটসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের ভেতরে যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়। তবে আন্দোলনকারীরা এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে বন্দরে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।’ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’ এর আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচির ঘোষণা দেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। এনসিটি ইজারা বাতিলের পাশাপাশি পরিষদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো যখন তাদের ইশতেহার প্রকাশ করছে সে সময় একটি গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধান দলগুলোর ইশতেহারসমূহ একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্যে ইতোমধ্যে প্রকাশিত ইশতেহারগুলোও যুক্ত করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রকল্পের গবেষক হচ্ছেন আলী রীয়াজ এবং এম এম মুসা। ওয়েবসাইটটির এ্যাড্রেস https://www.votemanifesto.com/ ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কী প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন এবং কী কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছিলেন গবেষক, সাংবাদিক এবং নাগরিকদের তা বিবেচনা করতে সহযোগিতার লক্ষ্যে এই ডাটাবেজে বিভিন্ন দলের প্রকাশিত ইশতেহার একত্রিত করা হয়েছে। গবেষণা প্রকল্পের বর্ণনায় বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি প্রধান অঙ্গ হচ্ছে নির্বাচন। সংসদীয় ব্যবস্থায় জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নাগরিকরা আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। অবাধ, সুষ্ঠূ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন একটি দেশের শাসনব্যবস্থায় নাগরিকের অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করে। নির্বাচনে একাধারে রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় প্রত্যেকটি দল ‘নির্বাচনী ইশতেহার’ প্রকাশ করে যাতে দলের আদর্শিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচী সন্নিবেশিত হয়। নির্বাচনী ইশতেহার হচ্ছে নাগরিকদের কাছে দলের প্রতিশ্রুতি। সেই বিবেচনায় ইশতেহার হচ্ছে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের পরবর্তী কার্যক্রম বিচারের মাপকাঠি। অধ্যাপক আলী রীয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এবং আমেরিকান ইন্সিটিটিউট অব বাংলাদেশ (এআইবিএস)-এর প্রেসিডেন্ট। ড. রীয়াজ বর্তমানে উপদেষ্টা পদ-মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে কর্মরত। এম এম মুসা লেখক ও গবেষক, পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি নিয়মিতভাবে উন্নয়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবন বিষয়ে লেখালেখি করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড করে নারীদের নিয়ে করা অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এ দাবি জানানো হয়। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদনপত্র জমা দেন তারা। এ সময় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের জানান, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন। লিখিত আবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি জামায়াত আমির তার ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। এসব মন্তব্য দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর আত্মমর্যাদা, সামাজিক অবদান ও শ্রমের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল। পরে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও, একটি ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীরা মনে করেন। আবেদনে আরও বলা হয়, কথিত হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রামাণ্য তথ্য এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। ফলে হ্যাকিংয়ের দাবি সন্দেহজনকই থেকে যাচ্ছে। আবেদনে বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবারের (১০ ফেব্রুয়ারি) ছুটির বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে দেশব্যাপী সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, কর্মচারীদের জন্য চলতি মাসে ১০ তারিখের বিশেষ ছুটি বহাল থাকবে। তবে, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের বিশেষ ছুটি ভোগের ক্ষেত্রে স্ব স্ব নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ চলতি মাসে ১০ তারিখের পর সুবিধাজনক যেকোনো একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে ‘কর্মদিবস’ ঘোষণা করতে পারবে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা যেসব কারখানা কার্যকর করবে, তারা প্রয়োজনে পরবর্তীতে যেকোনো দিনে শ্রমিকদের দিয়ে এক দিন কাজ করিয়ে সেই ছুটি পুষিয়ে নিতে পারবে।’ বিজিএমইএর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে ওই পোস্টে জানানো হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, এবার যদি তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে গিয়ে আপনারা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেন, আপনারা বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন না। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের জনসভায় এ কথা বলেন তিনি। সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রার্থী এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজের সমর্থনে এ নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়। হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটকেন্দ্র দখলকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এবার যদি তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে গিয়ে আপনারা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেন, আপনারা বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন না। আপনারা মা-বাবার দোয়া নিয়ে, সন্তান স্ত্রীর থেকে দোয়া নিয়ে আসবেন; এটা হবে আপনাদের আখেরি দিন। আমাদের শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ভোটাধিকার নিশ্চিত করব। তিনি বলেন, একটা পক্ষ তরুণ প্রজন্মকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ভারত চায় না তরুণ প্রজন্ম জিতুক, ব্যবসায়ী কুলাঙ্গাররা চায় না তরুণরা জিতুক। মিডিয়া মাফিয়ারা চায় না এই তরুণ প্রজন্ম জিতুক। অতীতের বস্তাপচা রাজনীতিবিদরা চায় না এই তরুণরা জিতুক। চাঁন্দাবাজ-টেন্ডারবাজরা চায় না এই তরুণরা জিতুক। প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছেন। দিনের ভোট রাতে করেছেন, মরা মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দিয়েছেন, আমি-ডামি নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। এসপি-ডিসিরা সাক্ষী থেকে, ওসি-কনস্টেবলরা সাক্ষী থেকে এসব জনগণবিরোধী কার্যক্রম আপনারা করেছেন। আপনাদের প্রতি জনগণের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেই অনাস্থা দূর করে আস্থা ফিরিয়ে আনতে আগামী নির্বাচনে জনতার কাতারে নেমে এসে জনতার নির্বাচন করেন। জনগণ আপনাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। জনসভায় শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজসহ জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন। এদিন প্রধান অতিথি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁনের হাত ধরে শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়ন বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামে যোগ দেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি সবসময় বিশ্বাস করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। আমরা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, যা মানুষের সাধ্য ও ক্ষমতার বাইরে বা যা ইহজগতে সম্ভব নয়। যা মানুষের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব, এমন প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছি।’ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে মাঠে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য প্রতিটি ঘরে গৃহিণীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে, যেখানে ভাষা শিক্ষা ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা নিজেরা ব্যবসা করতে পারবে অথবা বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা চাকরি নিয়ে বিদেশে যাবে, তাদের যেন জমি বিক্রি করতে না হয়। এজন্য স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশও ভালো থাকবে। এজন্য কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ করা হবে। ঢাকা-১৫ এলাকার মানুষের চিকিৎসা সুবিধার জন্য এখানে হাসপাতাল স্থাপন করা হবে এবং দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ১০০ ফিট রাস্তার কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।’ নারী ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন, তিনি চেষ্টা করেছেন দেশের নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করে দিতে। যার ফলে আজ বাংলাদেশের মেয়েরা ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা জুলাই আন্দোলনে আহত হয়েছেন এবং যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে লাহোর গেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। মহসিন নাকভি-বুলবুলের এই বৈঠকে থাকার কথা সিঙ্গাপুর ক্রিকেট বোর্ডের ইমরান খাজা ও আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের মোবাশ্বির উসমানিরও। মূলত পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়া আইসিসি এখন সমাধানের পথ খুঁজতে এই বৈঠকের মাধ্যমে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বৈঠক থেকে কী পাচ্ছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে না যেতে চাওয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে পাশে পেয়েছে বাংলাদেশ। তাদের সমর্থনে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। শেষ পর্যন্ত দেশটি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে বিশাল অঙ্কের ক্ষতি গুনতে হবে আইসিসিকে। বেশ কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই অঙ্কটা ৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসির সঙ্গে সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ চুক্তি বাতিল করতে পারে জিও স্টার। এমন কিছু হলে নিশ্চিতভাবেই মুখ থুবড়ে পড়বে আইসিসি। সংস্থাটির আয়ের সিংহভাগই আসে এই চুক্তি থেকে। পাকিস্তান-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ দিয়ে শনিববার (৭ ফেব্রুয়ারি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে। এরপরও স্বস্তিতে থাকার উপায় নেই আইসিসির। পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনার সব চেষ্টাই করে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা। আইসিসি চিঠি চালাচালি এমনকি সরাসরি বৈঠকও করছে পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে। তাতেও কাজের কাজ হয়নি। ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই সমাধানের পথ খুঁজতেই লাহোরে পিসিবি-বিসিবি-আইসিসির বৈঠকের আয়োজন। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর প্রতিনিধি হয়ে সমঝোতা করতে লাহোরে সিঙ্গাপুরের ইমরান খাজা ও মোবাশ্বিরের উপস্থিতি। নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পাকিস্তান আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে নামলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাবে আইসিসি। তবে তাতে তো আর এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হবে না বাংলাদেশের। এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু করে দিয়েছে স্কটল্যান্ড। বিসিবির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশকে ‘ক্ষতিপূরণ’ দিতে পারে আইসিসি। সেই ‘ক্ষতিপূরণ’ হতে পারে আর্থিকভাবে, হতে পারে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কোনো আইসিসির ইভেন্ট আয়োজনের সত্ত্ব দিয়ে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের লাভের ভাগ দিতে পারে আইসিসি। ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব আইসিসির ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেটা থেকেও বের হয়ে আসতে পারে তারা। কিংবা ভিন্নভাবেও বাংলাদেশকে কোনো ‘সান্ত্বনা’ বা সমর্থনসূচক বিবৃতিও দিতে পারে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে যেতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। এই ইস্যুতে সরকারের সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়ে বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। বাংলাদেশের বিকল্প ভেন্যুর দাবি না মেনে উল্টো তাদের বিশ্বকাপের বাইরে রাখে আইসিসি। এতে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে খেলার সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিসিবি এবং ক্রিকেটাররা। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বকাপ না খেলতে পারার যন্ত্রণায় পুড়ছে পুরো বাংলাদেশ। নিশ্চয়ই বাংলাদেশকে মিস করছে বিশ্বকাপও!
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে আলোচনার আগে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রেক্ষাপটে ইরানকে আলোচনায় বসাতে সফল হলেও দেশটির সামনে পাঁচটি বড় শর্ত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে পাঁচটি প্রধান দাবি তুলেছে। এগুলো হলো ইরানের সমৃদ্ধকৃত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া, দেশের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নষ্ট করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননে থাকা মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা বন্ধ করা। বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি ইরানের জন্য মানা কঠিন হবে। কারণ এসব ক্ষেপণাস্ত্রকে দেশটির প্রধান প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবে দেখা হয়। এদিকে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান যদি এসব শর্ত না মানে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি নতুন সংঘাতের দিকে যেতে পারে। তথ্যসূত্র : মিডল ইস্ট আই।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ কথা জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে না। কাতারভিত্তিক আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি এসব মন্তব্য করেন। ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার পর আরাঘচি এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, পরবর্তী দফার আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আলোচনা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই হতে পারে। এ বিষয়ে আরাঘচি বলেন, আমরাও এবং ওয়াশিংটনও মনে করি, আলোচনা দ্রুত হওয়া উচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নৌ ও সামরিক শক্তি জড়ো করার পর ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দেয়। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য অস্বীকার করে আসছে। আরাঘচি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার জন্য হুমকি ও চাপ থেকে সরে আসা জরুরি। তবে যেকোনো সংলাপের জন্য হুমকি ও চাপ পরিহার করতে হবে। আমরা কেবল পারমাণবিক ইস্যু নিয়েই আলোচনা করি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করব না। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। এরপর তেহরান দাবি করে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করেছে। সেই হামলার জবাবে ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কাতার একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পরিস্থিতি একই রকম হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন আরাঘচি। তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে হামলা চালাতে পারব না, কিন্তু এই অঞ্চলে তাদের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করব। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা করব না; বরং সেসব দেশে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানব। এই দুইয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে গ্রীষ্মের আগেই একটি সমাধানে পৌঁছাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে এমন চাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে নতুন দফার আলোচনা প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই আলোচনা এক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং কিয়েভ এতে সম্মত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমেরিকানরা প্রস্তাব দিচ্ছে, গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার আগেই উভয় পক্ষ যেন যুদ্ধ শেষ করে এবং তারা সম্ভবত এই সময়সূচি মানতে চাপ সৃষ্টি করবে। (মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন) তাদের কাছে অবশ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নির্বোধ না হই। আর তারা বলছে, জুনের মধ্যেই সবকিছু শেষ করতে চায়। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন একটি পর্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য জানাননি তিনি। আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের শান্তি আলোচনায় বড় কোনও অগ্রগতি না হলেও উভয় পক্ষ ১৫৭ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে। পাঁচ মাসের বিরতির পর দুই দেশের মাঝে ওই বন্দি বিনিময় আবার শুরু হচ্ছে। জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধবন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। ইউক্রেনের এই প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কীভাবে নজরদারি করা হবে; সে বিষয়ে সামরিক দলগুলো বিস্তারিতভাবে কারিগরি বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছে। ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তিও আলোচনায় এসেছে; যাকে কর্মকর্তারা ‘সমৃদ্ধির পরিকল্পনা’ বলে উল্লেখ করছেন। এতে যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তিনি এমন আলোচনার প্রতিবেদন পেয়েছেন; যেখানে রাশিয়ার বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এমন কোনও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ইউক্রেনের সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারে না। সূত্র: রয়টার্স
১৪ বছরের বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের পর অর্থনীতি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সিরিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে। বিমান চলাচল, জ্বালানি, আবাসন ও টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি করেছে দুই দেশ। শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সিরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির প্রধান তালাল আল-হিলালি এসব চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে আলেপ্পোতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, সিরিয়া-সৌদি যৌথ উদ্যোগে একটি স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন চালু এবং ‘সিল্কলিংক’ নামে একটি টেলিযোগাযোগ প্রকল্প। এসবের মূল লক্ষ্য সিরিয়াকে একটি আঞ্চলিক সংযোগকেন্দ্রে পরিণত করা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে উৎখাতের পর ক্ষমতায় আসা সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান সমর্থক সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ডিসেম্বরে সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর এটি দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ জানান, সদ্য চালু হওয়া ‘এলাফ ফান্ড’ আলেপ্পো শহরের দুটি বিমানবন্দর উন্নয়নে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল) বিনিয়োগ করবে। এই তহবিলের মাধ্যমে সৌদি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সিরিয়ার যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুলসালাম হায়কাল জানান, টেলিযোগাযোগ খাতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংযোগ জোরদারে হাজার হাজার কিলোমিটার কেবল স্থাপন করা হবে। এদিকে সৌদি বাজেট এয়ারলাইন ফ্লাইনাস এবং সিরিয়ান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি যৌথভাবে ‘ফ্লাইনাস সিরিয়া’ নামে একটি নতুন এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এতে ৫১ শতাংশ মালিকানা সিরিয়ার পক্ষের হাতে থাকবে। এয়ারলাইনটি ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে কার্যক্রম শুরু করার কথা রয়েছে। সিরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের এসিডব্লিউএ পাওয়ারের সঙ্গে পানি ও জ্বালানি সংক্রান্ত একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প পরিচালনার জন্য পরিচিত। তালাল আল-হিলালি বলেন, এই চুক্তিগুলো এমন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছে, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে এবং সিরিয়ার অর্থনীতি পুনর্গঠনের মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সৌদি-সিরিয়া চুক্তির প্রশংসা করে বলেন, বিমান চলাচল, অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগে কৌশলগত অংশীদারিত্ব সিরিয়ার পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় অর্থবহ ভূমিকা রাখবে। তবে করাম শার অ্যাডভাইজরির জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক বেঞ্জামিন ফেভ সতর্ক মন্তব্য করে বলেন, স্বল্পমেয়াদে এসব চুক্তি অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, গত এক বছরে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ঘোষণা দেওয়ায় সিরিয়া সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারণ অনেক প্রতিশ্রুতি এখনো বাধ্যতামূলক চুক্তিতে রূপ নেয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।