রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে গত ৫ মাসে অস্ত্রোপচার করা ২৬৭ ক্যান্সার রোগীর মধ্যে ১০২ জন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এ ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা করাতে না পেরে অনেকে মারা যাচ্ছেন। তাই স্তন ক্যান্সার রোধে স্ক্রিনিংসহ সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার ব্যাপারে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের আয়োজনে লেকচার গ্যালারি-১ এ ‘স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব তথ্য জানান।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সামিহা তাসনিম মুনমুন সেমিনারে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্রেস্ট ক্লিনিকে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত স্তনের সমস্যা নিয়ে মোট ১ হাজার ১৩৭ জন রোগী সেবা নিতে এসেছিলেন। এর মধ্যে ৫৪ জনের ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৪২ জন ক্যান্সারের তৃতীয় অথবা চতুর্থ পর্যায়ের রোগী।
ডা. সামিহা তাসনিম মুনমুন জানান, রমেক হাসপাতালে ক্যান্সারে আক্রান্ত অস্ত্রোপচার করা ২৬৭ জন রোগীর মধ্যে রেক্টাম ক্যান্সারে আক্রান্ত ১৫ দশমিক ৫৪ ভাগ, কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত ২১ দশমিক ৯ ভাগ, স্ট্রোমাক ক্যান্সারে আক্রান্ত ২৪ দশমিক ৪২ ভাগ এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত ৩৭ দশমিক ৭৪ ভাগ রোগী।
তাই স্তন ক্যান্সার রোধে স্ক্রিনিংসহ সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার ব্যাপারে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয় সেমিনারে।
সেমিনারে রমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, প্যাথলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ, মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মোখলেছুর রহমান সরকার। আরও বক্তব্য দেন হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট ডা. শফিকুল ইসলাম, রমেকের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক নুর ইসলাম, সার্জারি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক ডা. জাবেদ আখতারসহ অন্যরা। রমেকের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন।
রমেক হাসপাতাল ইলেক্ট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহে সারা দেশে তৃতীয় স্থান অর্জন করায় সরকারিভাবে পুরস্কৃত হয়েছে বলে জানানো হয় সেমিনারে।
এর আগে মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে একটি জনসচেতনতামূলক র্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এরপর কলেজ প্রাঙ্গনে সচেতনতা দিবসের কেক কাটা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর জীবনের ‘শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের’ পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। একইসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করে নিজেকে আরও পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি। স্ট্যাটাসের শুরুতে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ ছাড়া বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ বিএনপির শীর্ষ নেতা এবং ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে রাকিব বলেন, তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃত্ব সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। ঢাকার পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের নেতাকর্মীদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের শ্রম-ঘামে রাজপথের কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে এবং তারা নানা ষড়যন্ত্র দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের প্রশংসা করে রাকিব বলেন, আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও তারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়েছেন। শুধু নিজেরা সৎ ও পরিশ্রমী থাকার পাশাপাশি অধীনস্থ নেতাকর্মীদেরও সততা, নীতি ও আদর্শ নিয়ে চলতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি বিকাশে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করেছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কারণে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সেদিকে তিনি বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন। নিজ দলের বাইরের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার কাছে এলে নিজের জায়গা থেকে তা সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান ছাত্রদল সভাপতি। রাকিব-নাসির কমিটির সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকর ভূমিকা পালন ছিল এই কমিটির অন্যতম প্রধান সাফল্য। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট, ২০২৪ পরবর্তী বাস্তবতায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত মবকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধারাবাহিক বুলিংকে উপেক্ষা করে নেতৃত্ব প্রদান করতে হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে রাকিব বলেন, ‘ভুল ত্রুটির ঊর্ধ্বে কেউ না।’ দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকালে তার কোনও আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি। স্ট্যাটাসের শেষ দিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন রাকিব। তিনি আরও লেখেন, একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়তে চাই।
রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনে চারটি প্রধান আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবায়নে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান ছাড়া গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ টার্মিনাল আপাতত আগের স্থানেই থাকছে। বর্তমানে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী ও ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান টার্মিনালকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর বাইরে শ্যামলী, কল্যাণপুর, আসাদগেট, রাজারবাগ, নটর ডেম কলেজ এলাকা ও দোলাইরপাড়সহ বিভিন্ন স্থানে বাস স্টপেজের নামে কার্যত অস্থায়ী টার্মিনাল গড়ে উঠেছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত স্টপেজ না থাকায় নগর পরিবহনের বাস যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা করায় সড়কে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে মালিবাগ, রামপুরা ও কুড়িল রোড এলাকায় নির্দিষ্ট বাস স্টপেজের অভাব প্রকট। গত জুন মাসে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী— ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান → কেরানীগঞ্জ গাবতলী → হেমায়েতপুর মহাখালী → পূর্বাঞ্চলে অস্থায়ীভাবে, পরে টঙ্গীর কাছে স্থায়ীভাবে সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী → কাঁচপুর তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত টার্মিনাল নয়, বাস ডিপো স্থানান্তরের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। পূর্বাচল, নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে ডিপোর জন্য সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন স্থানে যাত্রী পরিবহন, খাবার, পানি, গাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে টার্মিনাল স্থানান্তর কার্যকর হবে না। মহাখালী থেকে কিছু বাস পূর্বাচলে পাঠানো হলেও চালকদের অনাগ্রহের কারণ হিসেবে এসব সুবিধার ঘাটতির কথা উঠে এসেছে। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বহাল আছে, তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় দূরপাল্লার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়বেন। পরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, ঢাকার বর্তমান টার্মিনালগুলো যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্রের চেয়ে বাস ডিপো হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন টার্মিনালগুলোও যেন একই সমস্যায় না পড়ে, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এদিকে গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, বর্তমানে সংগঠন পরিচালনার জন্য সীমিত প্রশাসনিক ব্যয় ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু টার্মিনাল সরিয়ে নিলেই ঢাকার যানজট সমস্যার সমাধান হবে না; এর সঙ্গে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা, নির্ধারিত বাস স্টপেজ, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং টার্মিনাল ও ডিপোর পৃথক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে রুবি আক্তার (১৬) নামে এক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ডান হাত কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গোলমুন্ডা ঘাটের পাড় ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত রুবি আক্তার পূর্ব গোলমুন্ডা নাড্ডাপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে এবং গোলমুন্ডা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে রুবি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি দাওয়াত অনুষ্ঠানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথিমধ্যে গোলমুন্ডা ঘাটের পাড় ব্রিজের কাছে পৌঁছালে চলন্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাকায় তার ওড়না পেঁচিয়ে যায়। এতে তিনি সড়কে পড়ে যান এবং ডান হাত চাকায় ঢুকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে হাতটি কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, “ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”