ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধে নতুন আইন অনুমোদন করেছে। ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর হবে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রুশ পাইপলাইন ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বন্ধ থাকবে। তবে বিদ্যমান চুক্তির জন্য কিছু সময় দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ জুনের আগে করা স্বল্পমেয়াদি চুক্তি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ২০২৮ সালের শুরু পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এই সিদ্ধান্ত ইইউ’র আরই-পাওয়ার-ইইউ পরিকল্পনার অংশ। এর লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা। যেসব দেশ এখনও রুশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে নিজস্ব পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
ইইউ কমিশন দুই বছরের মধ্যে আইনটির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনে সরবরাহ সংকটে সাময়িক ছাড় দেওয়া হতে পারে।
ইইউ এর আগে রাশিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ইইউ জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।
২০২৫ সালে ইইউ-তে রুশ তেল আমদানি ৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তবে রুশ গ্যাস এখনও মোট আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ, যার বার্ষিক মূল্য ১৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছেন আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান। তিনি বলেন, এ বছর আরব বিশ্বে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে। শাওয়াল মাসের প্রথমদিন হতে পারে ২০ মার্চ। ইব্রাহিম আল জারওয়ান বলেন, আগামী বুধবার ২৯তম রমজানে, আরব দেশগুলোর আকাশে কোনো অর্ধচন্দ্র থাকবে না। অর্থাৎ আগামী ২০ মার্চ শুক্রবার সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতারসহ ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশে ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সূত্র: দ্য ন্যাশনাল
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করায় বিপাকে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। মার্কিন রাজনীতিবিদরা এ যুদ্ধ তাদের নয় মন্তব্য করে প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমালোচনা করছেন। ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর তাদের ঝোড়ো প্রতিক্রিয়া রুখতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। তেহরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। মাঠে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত ফল না আসা, বেসামাল তেলের বাজার আর যুদ্ধের অতি ব্যয় নিয়ে ভয়াবহ চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। এ পরিস্থিতি সামলাতে হরমুজ সচল করার জন্য সহায়তার আহ্বান জানানো হলেও মিত্ররা ওয়াশিংটনকে না বলে দিয়েছে। তেহরানের হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যুদ্ধে না জড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও গ্রিস। এ প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল বলছে, যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করলে দ্রুত জবাব দিতে শুরু করে তেহরান। প্রথম দিকে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তু করে ইরানের বাহিনী। পরে তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম বৈশ্বিক জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা হয়। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী ওই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল পরিবহনের মোট ২০ শতাংশ ও এলএনজির ২৫ শতাংশ যায়। এমন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ হওয়ায় জ্বালানির দাম বিশ্বজুড়ে বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে দেশে ও বিদেশে ভয়াবহ চাপে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে গত শনিবার ট্রাম্প যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ মিত্রদের সহায়তা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হরমুজে নৌপথের সুরক্ষায় রণতরি পাঠানোরও আহ্বান জানান তিনি। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে না। এর এক দিন আগে সতর্ক করে দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ মিত্র দেশগুলো যদি এ অঞ্চলে সামরিক সহায়তা না দেয়, তাহলে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্পের এমন হুমকির পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নিজেদের ও মিত্রদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাই যুক্তরাজ্যের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে ব্রিটেন কোনো সংঘাতের অংশ হবে না। ইরানের যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে জার্মানি। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, জার্মানি এ যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং সামরিক উপায়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার কোনো অভিযানেও যোগ দেবে না। তিনি বলেন, যতদিন এ যুদ্ধ চলবে, জার্মানি কোনোভাবেই এতে অংশ নেবে না। এমনকি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার কোনো প্রচেষ্টাতেও আমাদের অংশগ্রহণ থাকবে না। একইভাবে গ্রিসও হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে জড়াবে না বলে জানিয়েছেন গ্রিক সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস। জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও বলে দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথ পাহারা দিতে জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনাই তাদের নেই। গতকাল জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মধ্যপ্রাচ্যে নৌযান পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের দেশের। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র অস্ট্রেলিয়াও বলেছে, হরমুজ খুলতে সহায়তার অংশ হিসেবে তারা কোনো নৌযান পাঠাবে না। অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাথেরিন কিং বলেন, ‘আমরা জানি এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু এমন কিছু করতে আমাদের অনুরোধও করা হয়নি, কিংবা আমরা করবোও না।’ এর মধ্যে ন্যাটোকে ট্রাম্প হুমকি বলেছেন, এ সামরিক জোট তাদের এ কাজে সহায়তা না করলে ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হবে। এর মধ্যে চীনের কাছেও সহায়তা চেয়েছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বেইজিং কোনো মন্তব্য করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীন দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংগিউ বলেছেন, স্থিতিশীল ও বাধাহীন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে সব পক্ষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। উত্তেজনা কমিয়ে আনতে চীন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল শিক্ষা পেয়েছে, বললেন আব্বাস আরাগচি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যতদূর প্রয়োজন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি এখন তারা (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) একটি ভালো শিক্ষা পেয়েছে এবং বুঝেছে, তারা কেমন জাতির বিরুদ্ধে লেগেছে। ইরানিরা এমন এক জাতি যারা আত্মরক্ষা করতে দ্বিধা করে না; যারা প্রস্তুত থাকে যে কোনো স্থানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে যত দূর পর্যন্ত তা প্রয়োজন হয়।’ হরমুজ প্রণালি নিয়ে তিনি বলেন, শত্রুদের জন্য এ প্রণালি বন্ধ থাকবে। তেহরানসহ তিন শহরে হামলা: ইরানের তেহরান, শিরাজ এবং তাবরিজে বড় পরিসরে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ইরানের রাজধানী তেহরান দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। তাবরিজ দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম শহর, যা দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। তাবরিজের অবস্থান তুরস্ক, আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান সীমানার কাছে। আর শিরাজ ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সোমবার রাতে ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে তারা হামলা চালিয়ে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ব্যবহৃত উড়োজাহাজটি ধ্বংস করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর ৩৩৬৯ ইসরায়েলি আহত: যুদ্ধ শুরুর পর হামলায় ৩ হাজার ৩৬৯ ইসরায়েলে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ১৪২ জন। সোমবার ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৩ হাজার ৩৬৯ জন বেসামরিক এবং সামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলায় ১৫ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ খুব সম্ভবত আরও কয়েক সপ্তাহ চলবে, দাবি ইসরায়েলের: ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহার বলেছেন, চলমান যুদ্ধে আগামী কয়েক দিনে উত্তেজনা বাড়তে পারে। সে জন্য তার দেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ খুব সম্ভবত আরও কয়েক সপ্তাহ চলবে। মার্কিন রণতরিকে সহায়তা করা যে কোনো কেন্দ্র হামলার নিশানা হবে, ইরানের হুমকি: যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডকে সহায়তা করা যে কোনো কেন্দ্র ইরানের হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়ার কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র রোববার এই হুমকি দেন। তিনি বলেন, লোহিত সাগরে ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের উপস্থিতি ইরানের জন্য হুমকি তৈরি করছে। সৌদি-আরব আমিরাতে হামলা: সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে দেড় ঘণ্টায় ৩৭টি ড্রোন ধেয়ে গেছে। তবে সেসব ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ড্রোন-সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ভ্রমণকারীদের তাদের ফ্লাইটসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার: ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ১ হাজার ২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে এ সংঘাতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট রোববার সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় নিয়ে এই তথ্য দেন।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাইদুগুরিতে একাধিক বিস্ফোরণে কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমা হামলার পর পুলিশ তিনটি স্থানে বিস্ফোরক অপাসরণ দল মোতায়েন করেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) মাইদুগুরি বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের প্রবেশপথে এবং ডাকঘর ও সোম্বার বাজার নামে পরিচিত দুটি স্থানীয় বাজারে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, নাইজেরিয়ার জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মাইদুগুরির অপারেশন প্রধান সিরাজো আব্দুল্লাহি জানান, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সঠিক হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষদর্শী বাগোনি আলকালি জানান, তিনি নিজে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। তার মতে, শুধু জরুরি বিভাগেই দুই শতাধিক আহত চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, তিনি বাজার দুটি থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। হাসপাতালেও কিছু আহত মারা গেছেন বলে তিনি জানান এবং জরুরি ভিত্তিতে রক্তের আহ্বান জানান। তার মতে, এটি মাইদুগুরিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি। এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে হামলাটি এমন সময়ে ঘটল যখন নাইজেরিয়া উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে জটিল নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে রয়েছে। বোকো হারাম ও আইএসআইএল-এর সহযোগী গোষ্ঠী আইএসডব্লিউএপি এই মাসেই বোর্নোজুড়ে সেনা ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে, কয়েকজন সেনাকে হত্যা করেছে এবং অস্ত্র লুট করেছে। সোমবার ভোরে মাইদুগুরির উপকণ্ঠে সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের একটি হামলা নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী প্রতিহত করেছে বলেও জানানো হয়েছে। বোর্নো রাজ্যের গভর্নর বাবাগানা জুলুম এই হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলা বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে সাম্বিসা জঙ্গলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের সঙ্গে। তিনি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঘটনাটিকে ‘চরম বর্বর ও অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছেন। পুলিশের মুখপাত্র বাসিন্দাদের শান্ত থাকতে এবং ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন। একসময় মাইদুগুরিতে প্রায় প্রতিদিনই গুলি ও বোমা হামলা হতো। ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে হামলা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরটি তুলনামূলক শান্ত ছিল। সর্বশেষ বড় হামলা হয়েছিল ২০২১ সালে, যখন বোকো হারাম মর্টার হামলায় ১০ জনকে হত্যা করে। তবে গত ডিসেম্বরে একটি মসজিদে বোমা হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন এবং শহরের আশপাশের গ্রামাঞ্চলে সহিংসতা কখনো থামেনি। গত সপ্তাহেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে ‘সমন্বিত হামলায়’ ১০ সেনাসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ায় সেনা পাঠানো শুরু করেছে। মোট ২০০ মার্কিন সেনা নাইজেরিয়ার বাহিনীকে প্রযুক্তিগত ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেবে বলে আফ্রিকম জানিয়েছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খ্রিস্টানদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলার পর নাইজেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ায়।