জাতীয়

বিভিন্ন স্থানে আগুন স্বৈরাচারের দোসরদের চক্রান্ত: সারজিস আলম

খবর৭১ ডেস্ক, অক্টোবর ১৮, ২০২৫ 0

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘স্বৈরাচারী শক্তির দোসরদের পরিকল্পিত চক্রান্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম। শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এসব আগুন কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়; বরং জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নেওয়া ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা।

 

সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, দেশের মানুষ যখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, তখন স্বৈরাচারী চক্রের সহযোগীরা নাশকতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে আন্দোলনকে দমন করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, “আগুন লাগিয়ে তারা প্রমাণ করতে চাইছে দেশে বিশৃঙ্খলা চলছে, যাতে দমননীতির অজুহাত তৈরি করা যায়। কিন্তু জনগণ এখন সচেতন—তারা জানে কারা এসবের পেছনে।”

 

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের ষড়যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, যা কখনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, কখনো প্রশাসনিক দুর্বলতা হিসেবে আড়াল করার চেষ্টা হয়। সারজিস আলম দাবি করেন, এসব ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

 

বিবৃতিতে তিনি সাধারণ মানুষকে শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগুনে পোড়ানো হচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি, বাজার, যানবাহন—আসলে এটা জনগণের মনোবল পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা। কিন্তু স্বৈরাচারের দোসররা সফল হবে না।”

 

রাজধানীর সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড, বিমানবন্দর এলাকা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থানে লাগা আগুনের ঘটনাগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। তবে সারজিস আলমের মতে, এসব ঘটনার মধ্যে এক ধরনের পরিকল্পিত বার্তা লুকিয়ে আছে, যা সরকারের বিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তিকে দুর্বল করার কৌশল হিসেবেই কাজ করছে।

 

তিনি সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে নয়, বরং ‘রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত’ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত করা হোক।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
আরো তিন কার্গো এলএনজি আমদানি করছে সরকার

আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিঙ্গাপুরের তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই এলএনজি আমদানি করতে ব্যয় হবে ২ হাজার ১৮৬ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ২২৪ টাকা।   বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। জানা গেছে, বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি-১০৫ (৩) (ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে ৩ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ৮-৯ জুন, ৯-১০ জুন এবং ১৪-১৫ জুন সময়ে এসব এলএনজি দেশে আসবে।   সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং গানভর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এই তিন কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে।

মারিয়া রহমান মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

১৩২ টাকা বাড়ানোর পর এবার কমছে জেট ফুয়েলের দাম

ছবি : সংগৃহীত

আয়কর রসিদেই জানানো হবে করের টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে : তিতুমীর

ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের পাথর কোয়ারি ইজারা প্রদানে কমিটি গঠিত

ছবি : সংগৃহীত
মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহার করা উচিত। অন্যথায় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আজ রাজধানীর ইস্কাটনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মিলনায় তনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম,   মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর সহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়কবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ও প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন অথচ বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে তালিকাভুক্ত হয়ে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক অমুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব ব্যক্তিরা শুধু রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাই নেননি, বরং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ও সুযোগও গ্রহণ করেছেন, যা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অন্যায়। আহমেদ আজম খান বলেন, “আমি আজও আহ্বান জানাচ্ছি—যারা অমুক্তিযোদ্ধা, তারা স্বেচ্ছায় তালিকা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করুন। এতে শাস্তির মাত্রা লঘু হতে পারে। কিন্তু তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও কল্যাণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। বরং তাদের চিকিৎসা, কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনা করা হবে। সভায় তিনি জানান, সারাদেশে জরাজীর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সসমূহ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব কমপ্লেক্সের তালিকা ও সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনার কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আগামী জুনের মধ্যে কাউন্সিল গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের গঠনতন্ত্র প্রণয়নের পর শীঘ্রই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।  স্বাক্ষরিত/- (এম এ খায়ের) তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

মোঃ ইমরান হোসেন মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

১৩২ টাকা বাড়ানোর পর জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ২২ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত

ছবি : সংগৃহীত

শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

বৃষ্টিভেজা পথে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত
তিস্তা ইস্যুতে আর ভারতের অপেক্ষা নয়, কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তিস্তার পানি সংকট সমাধানে ভারতের জন্য অপেক্ষা করবে না বাংলাদেশ। এ সংকট কাটাতে যে ক’টি উপায় রয়েছে, সবগুলো নিয়ে কাজ করবে ঢাকা। মঙ্গলবার চীন সফরে যাওয়ার আগে এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চীনে উচ্চপর্যায়ের এই সফর নিয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, বড় বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগে ভারত সফর করবেন, নাকি চীন–এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটি এখনও জানি না। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। বিষয়টি শুধু আমাদের নয়, যে দেশে সফর সেই দেশের প্রধানের সুবিধাও দেখতে হবে। সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী সে সময় থাকবেন কিনা, ইত্যাদি। অনেক কিছু বিচার্য বিষয় রয়েছে।’ বেইজিংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে চীনের সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু দেশ। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আমি চীন যাচ্ছি। দুই দেশের সম্পর্ককে গভীর করা ও ব্যাপ্তি বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক পারস্পরিক সহযোগিতামূলক প্রকল্প ও কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছি। এ সম্পর্ককে কৌশলগত সহযোগিতার চাইতেও ওপরে নেওয়া যায় কিনা, এ নিয়ে আমরা আলোচনা করব।’ চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তিস্তা নিয়ে আলোচনা হবে। এটি আমাদের উত্তরাঞ্চলের বাঁচা-মরার বিষয়। এ অঞ্চলের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে। তিস্তা পারের মানুষ বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। এটি তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়। আমরা যেভাবে পারি, যে ক’টি উপায় রয়েছে, সবগুলো উপায় নিয়ে কাজ করব। সবচেয়ে বড় বিচার্য বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ, বাংলাদেশ সবার আগে।’ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবিত চীনের চারটি প্রধান উদ্যোগ–বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই), বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ (জিএসআই), বৈশ্বিক সভ্যতা উদ্যোগ (জিসিআই) এবং বৈশ্বিক সুশাসন উদ্যোগে (জিজিআই) বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি আমাদের যৌথ বিবৃতিতে থাকবে। এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বড় জয়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তা নিয়ে ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে এখনও সরকার গঠন হয়নি। তারা কী ভাবছে বা কী করবে, তা না জানালে তাদের মন আমি পড়তে পারব না।’ তিস্তা নিয়ে ভারতের কাছে প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যাশা থাকবে, যে চুক্তিটি হয়েছিল বর্তমান পরিস্থিতিতে বিবেচনায় নেওয়া যায় কিনা। তবে এর জন্য তো আমরা বসে থাকতে পারি না। আমাদের কাজ আমরা করব। পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম থেকে পুশ ইনের কোনো আশঙ্কা রয়েছে কিনা–এ প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যখন আসামের মুখ্যমন্ত্রী কথাটি বলেছিলেন, স্বীকার করেছিলেন যে তিনি কিছু কাজ করেছেন। আমরা সেটির কড়া প্রতিবাদ দিয়েছি, সে বিষয়ে আমাদের যা যা ব্যবস্থা আমরা নেব।’ নাম না প্রকাশের শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, আগামী জুনের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন যাওয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে। দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি। বেইজিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে তা নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদী তিস্তার বাংলাদেশ অংশে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প নিয়ে নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছিল। তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দিল্লি থেকে কোনো সমাধান না পেয়ে যতটুকু পানি পাওয়া যাচ্ছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার ও সংরক্ষণে মনোযোগ দেয় ঢাকা। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে নদী খনন ও ভূমি পুনরুদ্ধারসহ নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয় ঢাকা-বেইজিং। সেই থেকে তিস্তা নিয়ে কাজ করতে থাকে চীন।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাজ্য

ছবি : সংগৃহীত

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

ছবি : সংগৃহীত

শর্ত না মানলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকবে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

0 Comments