নভেম্বরে শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ফিফা উইন্ডো। ওই সময়ে বছরের শেষ দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। যার জন্য কোচ কার্লো আনচেলত্তি গতকাল (সোমবার) রাতে সেলেসাওদের ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। এবারও জাতীয় দলে জায়গা হয়নি নেইমার জুনিয়রের। তবে সৌদি প্রো লিগে অনেকটাই আড়ালে থাকা অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ফ্যাবিনিয়োকে ডেকেছেন ব্রাজিল কোচ।
এবারের উইন্ডোতে ব্রাজিলের উভয় প্রতিপক্ষই আফ্রিকান দেশ। ১৫ নভেম্বর লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে খেলবে আনচেলত্তির দল। এর তিনদিন পর (১৮ নভেম্বর) ভিনিসিয়ুস-ক্যাসেমিরোরা ফ্রান্সের লিলে ডেকাথলন স্টেডিয়ামে তিউনিসিয়ার সঙ্গে লড়বে। এই দুটি দেশই আফ্রিকা মহাদেশের বাছাই থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করেছে। আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আফ্রিকান দলের বিপক্ষে খেলোয়াড়দের মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে সাজানো হয়েছে এই সূচি।
গত মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন আনচেলত্তি। এরপর থেকে চতুর্থবার স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। যা তার বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ করে তুলছে। এরপর ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে পরের বছরের মার্চে। ওই সময় দুটি ইউরোপিয়ান দেশের সঙ্গে খেলার পরিকল্পনা করছে সিবিএফ ও কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ওই সময়ই বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের শেষবার স্কোয়াড ঘোষণা হতে পারে। যদিও জুনে বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে শেষবারের মতো নিজেদের রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানায় খেলতে চায় ব্রাজিল।
যথারীতি আনচেলত্তির চতুর্থ দফায় ঘোষিত স্কোয়াডেও জায়গা হয়নি নেইমারের। তিনি অবশ্য দেড় মাস পর সম্প্রতি চোট কাটিয়ে সান্তোসের জার্সিতে মাঠে ফিরেছেন। এদিকে, সৌদি প্রো লিগের দল ইত্তিহাদে খেলা ৩২ বছর বয়সী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফ্যাবিনিয়ো ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরেছেন তিন বছর পর। ব্রাজিলের ক্লাব ও মহাদেশীয় লিগে ফর্মে থাকা ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ফিরেছেন ভিটর রকিকেও আনচেলত্তি প্রথমবার ডাকলেন। ২০২৩ সালে অভিষেক ম্যাচ খেলার পর আর সুযোগ পাননি বার্সেলোনার সাবেক এই ফুটবলার।
স্বাভাবিকভাবেই সেলেসাওদের স্কোয়াডে নেই চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া ও লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। এ ছাড়া গত উইন্ডোর স্কোয়াডে থাকা ফুটবলারদের মধ্যে ডিফেন্ডার কার্লোস আগুস্তো, ডগলাস সান্তোস, বেরালদো ও ভ্যান্ডারসন, মিডফিল্ডার জোয়েলিন্টন ও হোয়াও গোমেস এবং ফরোয়ার্ড গাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি (ইনজুরি) ও ইগর জেসুস বাদ পড়েছেন।
ব্রাজিলের স্কোয়াড
গোলরক্ষক : বেন্তো, এডারসন মোরায়েস, হুগো সুজা
ডিফেন্ডার : অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো, কাইয়ো হেনরিক, এডার মিলিটাও, ফ্যাব্রিসিও ব্রুনো, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, লুসিয়ানো জুবা, মার্কিনিয়োস, পাউলো হেনরিক, ওয়েসলি
মিডফিল্ডার : আন্দ্রে সান্তোস, ব্রুনো গুইমারেস, ক্যাসেমিরো, ফ্যাবিনহো, লুকাস পাকেতা
ফরোয়ার্ড : এস্তেভাও উইলিয়ান, জোয়াও পেদ্রো, লুইজ হেনরিক, ম্যাথিউস কুনহা, রিচার্লিসন, রদ্রিগো গোয়েস, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ভিটর রকি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশের পেসারদের জন্য ইংলিশ কাউন্টিতে খেলার সুযোগের দুয়ার আরও খুলছে। হাসান মাহমুদের পর এবার তার দল কেন্টের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার প্রস্তাব পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। চলতি মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের চারটি ম্যাচের জন্য শরিফুলকে দলে নিতে আগ্রহী কেন্ট। বিষয়টি শরিফুলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে খেলতে হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রয়োজন হবে। বর্তমানে সেই অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন শরিফুল ও কেন্ট কর্তৃপক্ষ। শরিফুল এখন হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এরই মধ্যে ফিটনেস পরীক্ষাও দিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই পেসার। বিসিবির মেডিকেল বিভাগ থেকে সবুজ সংকেত পেলেই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন তিনি। চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের টেস্ট দলে শুরুতে শরিফুলকে রাখা হয়নি। তবে দল ঘোষণার সময় জানানো হয়েছিল, ফিটনেস প্রমাণ করতে পারলে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াডে বিবেচনা করা হতে পারে তাকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পর সেপ্টেম্বরে কেন্টের হয়ে খেলার জন্য এনওসি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শরিফুলের। সেটি হলে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হবেন তিনি। এর আগে সাকিব আল হাসান ও হাসান মাহমুদ ইংলিশ কাউন্টিতে খেলেছেন। শরিফুলের সঙ্গে একই দলে ইতিমধ্যে খেলছেন হাসান মাহমুদ। আগামী মাসে কেন্টের হয়ে চারটি ম্যাচ খেলার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে এই ডানহাতি পেসারের। চলতি মৌসুমে কেন্টের হয়ে প্রথম দফায় দুটি ম্যাচ খেলেছেন হাসান। তবে দেশে ফেরার আগে চার ইনিংসে নিয়েছেন ১২ উইকেট। এর মধ্যে এক ইনিংসে মাত্র ৬৯ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেন তিনি। সূত্র: ডেইলি সান
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তান ৩ উইকেটে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল। একই সঙ্গে আফ্রিকার দক্ষিণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট কাটল তারা। তাদের এই জয়ে চূড়ান্ত হয়ে গেছে কাট-অফ তারিখের মধ্যে কোন আট দল শীর্ষ র্যাংকিংয়ের ৯টি স্থানে থাকবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের পর শীর্ষ আট র্যাংকিংধারী দল বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে। তবে সেরা আটে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা থাকায় নবম স্থানের দলও সুযোগ পাচ্ছে বিশ্বকাপে খেলার। আর যোগ্যতা অর্জনের এই শেষ জায়গাটিতে আছে বাংলাদেশ। তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে যোগ দেবে। দশ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে কাট-অফ তারিখের আগে দুটি ওয়ানডে রয়েছে। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে সেই দুই ম্যাচ জিতলেও ৯ নম্বরে ওঠার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার মানে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবারও তাদের কোয়ালিফায়ারে খেলতে হবে। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার বাছাইপর্ব খেলবে উইন্ডিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পায়নি। কোয়ালিফায়ার খেলতে হয়েছিল তাকে। সুপার সিক্স স্টেজে তারা পঞ্চম স্থানে থেকে শেষ করে এবং ছিটকে যায়। প্রথমবার বিশ্বকাপে দর্শক ছিল তারা। কোয়ালিফায়ারের বিজয়ী দল ২০২৭ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে সরাসরি খেলবে। তারপর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তদল সুপার সিরিজ নামের একটি পর্বে খেলবে। এই ত্রিদেশীয় সিরিজের শীর্ষ দল উঠবে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে।
রোববার দুপুরে রোজারিওর এল প্রাদো কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির শেষকৃত্য। পরিবারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করা হলেও সেই গোপনীয়তা রক্ষা পায়নি। কবরস্থান এলাকায় ড্রোন উড়িয়ে শোকাহত পরিবারের ছবি ধারণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ মেসির আইনজীবীরা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ৬৮ বছর বয়সে রোজারিওর একটি হাসপাতালে মারা যান হোর্হে মেসি। এরপর পেরেস এলাকার রুট ৩৩-এর পাশে অবস্থিত বেসরকারি কবরস্থান এল প্রাদোতে পারিবারিকভাবে তার শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়। বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও তিন সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ বিমানে রোজারিও পৌঁছান মেসি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি, ভাইবোনসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা। শেষকৃত্যকে ঘিরে কবরস্থানের নিরাপত্তাও ছিল কঠোর। শনিবার দুপুর থেকেই সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কেবল অনুমোদিত যানবাহনকে ভেতরে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এই নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও কবরস্থানের ওপর দিয়ে ড্রোন উড়তে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, বুয়েনস আইরেসভিত্তিক কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল এই ড্রোন ব্যবহার করে শোকাহত পরিবারের ছবি ধারণের চেষ্টা করে। রোজারিওর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা কাপিতালসহ কয়েকটি আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমও ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তে এভাবে ছবি ধারণের চেষ্টাকে সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে সান্তা ফে পুলিশ জরুরি ভিত্তিতে কবরস্থান এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করে। রোববার শেষকৃত্য শেষ হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। ঘটনার পর মেসির আইনি দল বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে মেসি পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছিল, হোর্হে মেসির শেষকৃত্যে কোনো প্রকাশ্য শোকসভা থাকবে না। পরিবার চেয়েছিল, বাবার শেষ বিদায়টি যেন একান্ত ব্যক্তিগতভাবেই সম্পন্ন হয়। তবে কবরস্থানের বাইরে ভক্তদের ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। মেসির প্রতি সমর্থন জানাতে অনেকেই সেখানে জড়ো হন। তাদের মধ্যে ছিলেন ১৫ বছর বয়সি লুকাস ব্লাঙ্কো, যিনি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসেছিলেন। তার মতো অনেক ভক্তের হাতে ছিল পোস্টার—‘মেসি শক্ত থাকুন’। ভক্তদের এই উপস্থিতি যেন কঠিন সময়ে মেসি পরিবারের প্রতি আর্জেন্টাইনদের ভালোবাসা ও সমবেদনারই প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। তথ্যসূত্র : ডেইলিস্পোর্টস.নেট