সারাদেশ

ফ্লাইট অবতরণের পর অনাকাঙ্ক্ষিত ট্রলি যুদ্ধ, যাত্রীরা ভোগান্তিতে

Unknown অক্টোবর ০৭, ২০২৫

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ‘ট্রলি যুদ্ধ’। দিনে প্রায় ২৫ হাজার যাত্রী এসে পৌঁছান, কিন্তু ট্রলির সংখ্যা মাত্র ৩,৬০০টি। এর ফলে যাত্রীদের সারারাত ভ্রমণ শেষে তাদের মালপত্র তুলতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

 

ভ্রমণকারীরা অভিযোগ করেছেন, ট্রলির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা একেবারেই কষ্টকর। বিশেষ করে বিদেশ থেকে দীর্ঘ ফ্লাইট শেষে ক্লান্ত যাত্রীদের জন্য এটি অতিরিক্ত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলেন, বিদেশের বিমানবন্দরগুলোতে এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায় না, যেখানে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে ট্রলি সহজেই পাওয়া যায়।

 

কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য ট্রলির ঘাটতি এবং ধাক্কাধাক্কি এখন সাধারণ দৃশ্য হয়ে গেছে।

 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত ট্রলি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তবে প্রতিদিনের ফ্লাইট বৃদ্ধির কারণে ট্রলির ঘাটতি এখনও সমস্যা তৈরি করছে। বিশেষ করে সকালে একসাথে একাধিক ফ্লাইট অবতরণের সময়, যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

 

জানা গেছে, অনেক যাত্রী এই পরিস্থিতিতে মালপত্র পেতে চাপা-পিঠে চাপা পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। ট্রলি সংক্রান্ত এই সমস্যা শুধু যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি করছে না, বরং বিমানবন্দর কর্মীদেরও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলছে।

 

যাত্রী এবং পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্রুত ট্রলি সংখ্যা বৃদ্ধি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে এই সমস্যা কমানো সম্ভব হবে। তবে যেহেতু প্রতিদিন ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ছে, তাই সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়াটাও জরুরি।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
সেলিনা হায়াৎ আইভী।
অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন আইভী

১২ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ।   নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার রাত ১০টার দিকে কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, এদিন সন্ধ্যায় আসা আইভীর জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা রয়েছে। সব মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া জামিন পাওয়ার পর তা আপিল বিভাগেও বহাল রাখা হয়। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আইভী একটি গাড়িতে ওঠেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি। তবে কথা বলেছেন আইভীর আইনজীবী মো. আওলাদ হোসেন। তিনি বলেন, আইভীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মামলাগুলোর সঙ্গে আইভী কোনোভাবেই জড়িত নন। গত বছরের মে মাসে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক বছরেরও বেশি সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। “আমরা আইনিভাবে ওনার মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ আদালত থেকে ন্যায় বিচার পেয়েছি। তবে হাই কোর্ট তাকে জামিন দেওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের আদেশ বাতিল করার জন্য চেম্বার জজে যায়। আপিল বিভাগ শুনানি শেষে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রাখে। এতে আইভির মুক্তি পেতে বাধা কাটে”, বলেন তিনি। ২০২৫ সালের ৫ মে গ্রেপ্তারের পর আইভীকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হত্যাসহ পৃথক ১০ মামলায় গত ১০ মে আইভীকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ সেদিন এ আদেশ দেয়। এর আগে হাই কোর্ট ওই ১০ মামলায় জামিন দিলে সাবেক মেয়রকে আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ৩০ এপ্রিল সেই দুই মামলাতেও জামিন দেয় হাই কোর্ট। এ দুটি মামলায় ১৭ মে জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালতের বিচারক। এর আগে এ দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন আইভী। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৬ এপ্রিল হাই কোর্ট রুলসহ আদেশ দেয়। রুলে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে বারবার এবং মিথ্যা প্রকৃতির মামলায় আবেদনকারীকে জড়ানোর কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাকে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়। এর আগে চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন বিষয়ে দেওয়া রুল ২০২৫ সালের নভেম্বরে যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ জামিন দেয়। সেই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে। তখন জামিন স্থগিত করা হয়। এ পাঁচটির মধ্যে তিনটি হত্যা মামলা ও বাকি দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা। পরে ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ৫ মামলায় বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি জামিন দেয়। পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সেগুলো হল- ফতুল্লা থানায় করা বাস চালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। গত ৫ মার্চ হাই কোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ স্থগিত করে চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠায়। পরে ১০ মামলায় আপিল বিভাগে শুনানি হয়। শুনানি শেষে সবগুলোতে জামিন বহাল রাখা হয়।

মারিয়া রহমান জুন ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়া শহর থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে রেললাইন

চট্টগ্রামে ফিরল হজযাত্রীদের প্রথম ফ্লাইট

ছবি : সংগৃহীত

দেশের ৪ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের শঙ্কা

ট্যাংকার জাহাজ। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রামে বর্হিনোঙরে পড়ে আছে ৬০ কোটি টাকার জাহাজ

চট্টগ্রামে ভাঙার উদ্দেশ্যে আমদানি করা প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের একটি কেমিক্যাল ট্যাংকার বন্দরের বহির্নোঙরে পড়ে আছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘মেমেই’ নামের ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি স্ক্র্যাপ হিসেবে ভাঙার জন্য বাংলাদেশে আনা হয়। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জাহাজটি কেনার পর গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। জাহাজটির বাংলাদেশে আগমনের কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। গত ২৮ মে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল খাতকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অধীনস্থ অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি)। সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় ‘মেমেই’ জাহাজকে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জাহাজটি ২০২৪ সালে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশ নিয়েছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শুধু জাহাজটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এভার শাইনিং লিমিটেড এবং সংশ্লিষ্ট আরেকটি জাহাজ ‘ফ্লোরা’-কেও একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে জাহাজটির বাণিজ্যিক ও আইনি অবস্থান আরও জটিল হয়ে পড়ে। এস এন কর্পোরেশনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন ম্যানেজার) ওমর ফারুক জানান, আন্তর্জাতিক ও আইনি জটিলতার কারণে জাহাজটিকে বর্তমানে সৈকতে ভেড়ানো যাচ্ছে না। এটি সমুদ্রে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। আমরা এখনো ফান্ড দেইনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। শিপব্রেকিং শিল্পের একাধিক সূত্র বলছে, সাধারণত স্ক্র্যাপ জাহাজ কেনার সময় জাহাজটির বয়স, কারিগরি অবস্থা, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং মালিকানা সংক্রান্ত বিষয় যাচাই করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি সবসময় সমান গুরুত্ব পায় না। ‘মেমেই’কে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি সেই দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর জাহাজটি আর ভাঙার জন্য ইয়ার্ডে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএন কর্পোরেশনের বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ সময় জাহাজটি বহির্নোঙরে অবস্থান করলে নোঙর, ক্রু ব্যবস্থাপনা, বীমা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনাটি বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পের জন্য একটি সতর্কবার্তা। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপ জাহাজ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এখন শুধু দাম ও ধাতব মূল্য নয়, জাহাজটির পূর্ববর্তী বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং নিষেধাজ্ঞা সংশ্লিষ্ট ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

মারিয়া রহমান জুন ০৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাড়ছে মেট্রোরেল চলাচলের সময়

ছবি : সংগৃহীত

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত অর্ধশতাধিক

ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফের গুলি, আহত দুই বাংলাদেশি

যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান
শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে সম্পাদকদের নতুন সংগঠন

দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান ও আমার দেশ এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে সম্পাদকদের নতুন একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে। ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) নামে এ সংগঠনের আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকবেন শফিক রেহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন মাহমুদুর রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয়ে এক সভায় এ সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্তের তথ্য পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়। শুরুতে গঠিত ১৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির বাকি সব সদস্য মুদ্রিত সংবাদপত্রের সম্পাদক। তবে এটি শুধু মুদ্রিত সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন কি না তা সুস্পষ্ট করা হয়নি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং সম্পাদকদের পেশাগত স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে এনইসি গঠন করা হয়েছে বলে দৈনিক আমার দেশের সহযোগী সম্পাদক আলফাজ আনামের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন – নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, সংগ্রামের সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল আহসান, নিউ নেশনের সম্পাদক মোকাররম হোসেন, ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, মানবকণ্ঠের সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, লোকসমাজের সম্পাদক শান্তনু ইসলাম সুমিত, ডেইলি পিপলস ভিউয়ের সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর ও জালালাবাদের সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্পাদকদের বর্তমানে আরও কয়েকটি সংগঠন রয়েছে। এরমধ্যে একটি ২০১৩ সালে গঠিত মুদ্রিত সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’। আরেকটি এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশ; যেটি সংবাদ প্রকাশনা ও পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের মাধ্যমের সম্পাদকীয় নেতাদের নিয়ে ২০১৮ সালে গঠিত হয়। অপরদিকে ‘টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল’ নামে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংবাদ নেতৃত্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সংগঠন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এজন্য গত ১৪ মে বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ও বার্তা প্রধান আব্দুল হাই সিদ্দিককে আহ্বায়ক এবং সময় টিভির সিইও সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবুকে সদস্য সচিব করে কমিটি করা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে সম্পাদকদের আরেকটি সংগঠন গঠনের ঘোষণা এল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এটি গঠন করার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, “ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে সংবাদমাধ্যমের যে অবক্ষয় ঘটেছে তা অবসানে নতুন এ সংগঠন তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সম্পাদকরা ঐকমত্য পোষণ করেন।” সভায় সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং দ্রুত জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকের সম্পাদকদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।

মারিয়া রহমান জুন ০৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাগেরহাটে মাজার দিঘির কুমিরটিকে অপসারণের সিদ্ধান্ত

ছবি : সংগৃহীত

নিজ বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

এই রুমে নুরজাহান বেগম একাই থাকতেন। ছবি: সংগৃহীত

সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে

0 Comments