শনিবার রাতভর ভয়াবহ সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত। দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে এই সংঘর্ষে অন্তত ৫৮ পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আফগান তালেবান প্রশাসন। অপরদিকে, আফগানিস্তানের নয় সেনা নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাবুল।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে সীমান্তে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তিনি জানিয়েছেন, এই অভিযান ছিল পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব, যা আফগান ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয়েছে।
পাকিস্তান এখনো আফগান সরকারের এই দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির নিরাপত্তা সূত্র জানায়, আফগান বাহিনীর গোলাগুলির জবাবে সীমান্তের একাধিক পোস্টে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। এতে আফগান সীমান্তের অন্তত ১৯টি চৌকি দখল করা হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত বৃহস্পতিবারের বিমান হামলা থেকে। তালেবান প্রশাসনের দাবি, সেদিন কাবুল ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তান বিমান হামলা চালায়, যেখানে কয়েকজন আফগান নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনার পর আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
শনিবার রাতের সংঘর্ষে আফগান বাহিনী হেলমান্দ, কান্দাহার, জাবুল, পাকতিকা, খোস্ত, নাঙ্গারহার ও কুনার প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি পোস্ট লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ চালায়। এসব প্রদেশ সরাসরি পাকিস্তান সীমান্তের লাগোয়া হওয়ায় গোলাগুলির তীব্রতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়েতুল্লাহ খোয়ারাজমি বলেন, এটি পাকিস্তানের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া ছিল। তিনি জানান, স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর অভিযান শেষ হয়, তবে যদি ভবিষ্যতে পাকিস্তান আবারও আকাশসীমা লঙ্ঘন করে, তাহলে আফগান বাহিনী আরও শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আফগান গোলাবর্ষণের সময় তাদের সেনারা সীমান্ত সুরক্ষায় তৎপর ছিল এবং সময়মতো জবাব দিয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, আফগান সীমান্তের মনোজবা ক্যাম্প ব্যাটালিয়ন সদর দফতর, জান্দুসার পোস্ট ও খারচর দুর্গসহ কয়েকটি ঘাঁটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে এই নতুন সংঘর্ষ সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)-কে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, বরং জানিয়েছে—তারা নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বই পালন করছে।
এই ঘটনার পর থেকে দুই দেশের সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ, তবে আন্তর্জাতিক মহল দুই দেশকে সংযম ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
লিবিয়া বা অন্যান্য ট্রানজিট দেশ হয়ে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে আর দেশটির ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় আইন কার্যকর হওয়ার পর এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ঢাকায় ইতালির দূতাবাস। সোমবার (১৫ জুন) এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, গত ১২ জুন থেকে নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের সীমান্তেই আটক করা হবে এবং দ্রুত ফেরত পাঠানো হবে। ফলে তাদের পক্ষে ইতালিতে অবস্থান করা বা সেখানে কাজ করার সুযোগ থাকবে না। দূতাবাস আরও জানায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের পাচারকারী ও অপরাধী চক্রের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। যারা অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তারা মানবপাচারকারী চক্রকে সহযোগিতা করেন, যা একটি অপরাধ। বার্তায় বলা হয়, ইতালিতে বৈধভাবে অভিবাসনের সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য হাজার হাজার কর্মসংস্থান, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং শিক্ষার্থী ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। এসব সুযোগ কেবল বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণকারীদের জন্য উন্মুক্ত। দূতাবাস বৈধ পথে ইতালিতে যাওয়ার জন্য আগ্রহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নিয়ম মেনে আবেদন করুন এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে নতুন হিজরি মাস গণনা শুরু হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী ২৫ জুন (১০ মহররম) পবিত্র আশুরা পালিত হবে। সোমবার (১৫ জুন) চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে। চাঁদ দেখা যাওয়ার মধ্য দিয়ে সৌদি আরব, আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ১৪৪৮ হিজরি সনের নতুন বছর শুরু হয়েছে। ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মহররম মাসের ১০ তারিখকে পবিত্র আশুরা হিসেবে পালন করা হয়। এ দিনটি মুসলিম বিশ্বে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়, যেখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) শহীদ হন। ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, এই দিনটি বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি বহন করে এবং মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তা পালন করেন।
পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ বা কিসওয়ার ক্যালিগ্রাফির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী মুখতার আলম শাকদার। সৌদি আরবে জন্ম নেওয়া এই খ্যাতিমান ক্যালিগ্রাফার দীর্ঘদিনের সাধনা, গবেষণা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে আরবি ক্যালিগ্রাফির জগতে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছেন। ইসলামের অন্যতম পবিত্র নিদর্শন কাবা শরিফের কিসওয়ার ক্যালিগ্রাফির দায়িত্বে তাঁর সম্পৃক্ততা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানা যায়, ১৪২২ হিজরিতে জেদ্দার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মাদ সালেম বাজনাইদের সঙ্গে মুখতার আলমের পরিচয় হয়। তাঁর অসাধারণ ক্যালিগ্রাফি দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে বাজনাইদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর নাম সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর ১৪২৩ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসে, যা ২০০২ সালের জুলাই মাসের সমতুল্য, মুখতার আলম আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের কিসওয়া তৈরির কারখানায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ঘটান। বিশেষায়িত কম্পিউটারভিত্তিক ইলেকট্রনিক প্রোগ্রাম ব্যবহারের মাধ্যমে কিসওয়ার ক্যালিগ্রাফিতে নিখুঁততা ও মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার সত্ত্বেও কিসওয়ার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী নকশা ও শৈলী অক্ষুণ্ন রেখেছেন মুখতার আলম। হারামাইন আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান কিসওয়ার নকশা বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার শাইখ আবদুর রহিম আমিন বুখারির তৈরি ‘সুলুস’ লিপির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। মুখতার আলম সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে অক্ষরের গঠন, নকশার অনুপাত এবং অলংকরণে আরও সূক্ষ্মতা ও নান্দনিকতা যুক্ত করেছেন। বিশেষ করে কাবার দরজার পর্দা ও এর চারপাশের অলংকরণে তাঁর শিল্পসৌন্দর্যের ছাপ কিসওয়ার গাম্ভীর্য ও আভিজাত্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।