মাত্র ২৫ বছরের জীবন, চার বছরের অভিনয়জীবন। কিন্তু এত অল্প সময়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রে এমন প্রভাব ফেলেছিলেন যে আজও দর্শকদের হৃদয়ে তিনি অমর। সালমান শাহ শুধু নায়ক নন, ছিলেন এক যুগের পরিবর্তনের প্রতীক।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষক ও ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জাকির হোসেন রাজু বলেন, সালমান শাহ যে সময়টিতে অভিনয়ে এসেছিলেন, তখন ছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে পালাবদলের সময়। ১৯৯২ সালে কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন সালমান শাহ। এটি জনপ্রিয় একটি হিন্দি সিনেমার অফিসিয়াল রিমেক হলেও, সালমান শাহর উপস্থিতিই ছবিটিকে নতুন মাত্রা দেয়।
মুক্তির পরপরই সালমান শাহ পর্দায় হয়ে ওঠেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ, সংলাপ বলার ধরন, স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় সব কিছুই দর্শকদের কাছে নতুন ও আকর্ষণীয় ছিল। খুব দ্রুতই তিনি রোমান্টিক হিরো হিসেবে পরিচিতি পান।
পরিচালক শাহ আলম কিরণ বলেন, ও যা-ই করত, সেটাই ভালো লাগত। অল্প সময়েই সে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল।
মাত্র চার বছরে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে নব্বইয়ের দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রে আলোড়ন তুলেছিলেন সালমান শাহ। তাঁর অভিনীত বেশির ভাগ সিনেমাই ছিল আলোচিত ও ব্যবসাসফল।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষক জাকির হোসেন রাজু বলেন, ১৯৭০–৮০-এর দশকের নায়কদের পর সালমানের আবির্ভাব ছিল তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের প্রতীক। রাজ্জাক, আলমগীর ও ফারুকের পর নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে সালমান শাহ ছিলেন সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল।
দর্শকরা তাঁর মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন ভিন্নধারার এক অভিনয়শৈলী। অনেকে তাঁকে বলিউডের তারকাদের সঙ্গে তুলনা করলেও, সালমান শাহ নিজস্ব গুণে গড়ে তুলেছিলেন অনন্য এক পরিচিতি।
চার বছরের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারেই সালমান শাহ এমন এক অবস্থান তৈরি করে গেছেন, যার অভাব আজও অনুভব করেন দর্শক, পরিচালক, প্রযোজক সবাই। প্রতি বছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে অসংখ্য ভক্ত ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এই ক্ষণজন্মা নায়ককে।
সালমান শাহর অকাল মৃত্যু এখনও অনেকের কাছে এক রহস্য। কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা, প্রভাব এবং দর্শকের ভালোবাসা প্রমাণ করে বাংলা সিনেমায় সালমান শাহ ছিলেন, আছেন, থাকবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর জন্য ২৭ জুন শুধু নিজের জন্মদিন নয়, এটি তার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন ও আনন্দের দিনও। কারণ, এই একই দিনে জন্মদিন তার একমাত্র ছেলে জায়ান ফারুক আয়াশেরও। তাই প্রতি বছর ২৭ জুন এলে একসঙ্গে বাবা-ছেলের জন্মদিন উদযাপনের আনন্দে ভরে ওঠে অপূর্বর পরিবার। ১৯৮৫ সালের ২৭ জুন শরীয়তপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন অপূর্ব। আজ তিনি ৪১ বছর পূর্ণ করে ৪২ বছরে পা রাখলেন। অন্যদিকে, একই তারিখে জন্ম নেওয়া ছেলে জায়ানও উদযাপন করছে নিজের জন্মদিন। বিশেষ এই উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবা-ছেলেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন সহকর্মী, নির্মাতা ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। একই দিনে বাবা-ছেলের জন্মদিন হওয়াকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় আশীর্বাদ মনে করেন অপূর্ব। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, 'বাবা-ছেলের একই দিনে জন্মদিন হওয়ায় আমি অনেক বেশি খুশি।' ছেলের প্রতি অপূর্বর ভালোবাসার প্রকাশও বারবার দেখা গেছে। এক বাবা দিবসে জায়ানকে উদ্দেশ করে তিনি লিখেছিলেন, 'আমি তোমাকে যখনই দেখি তখনই চিন্তা করি, তুমি কীভাবে হুবহু আমার মতো দেখতে হলে? আল্লাহ আমাকে কী স্বর্গীয় উপহার দিয়েছেন!' সেই আবেগঘন কথাগুলো আজকের দিনটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। অপূর্বর ব্যক্তিগত জীবনে নানা উত্থান-পতন থাকলেও ছেলে জায়ানের সঙ্গে তার সম্পর্ক সবসময়ই ছিল গভীর। ২০১১ সালে নাজিয়া হাসান অদিতিকে বিয়ে করেন তিনি। সেই সংসার ভেঙে গেলেও তাদের একমাত্র সন্তান জায়ান ফারুক আয়াশ বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের একটি অংশ হয়ে আছে। পরে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শাম্মা দেওয়ানকে বিয়ে করেন অপূর্ব। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর তাদের ঘর আলো করে আসে কন্যাসন্তান আনায়া। বর্তমানে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে নতুন সংসারে সুখের সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেতা। অভিনয়জীবনের শুরুটা হয়েছিল ২০০২ সালে ‘ইউ গট দ্য লুকস’ প্রতিযোগিতায় ‘মি. বাংলাদেশ’ খেতাব জয়ের মাধ্যমে। এরপর বিজ্ঞাপন, নাটক ও টেলিফিল্মে নিজের অভিনয়গুণে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০০৬ সালে গাজী রাকায়েত পরিচালিত ‘বৈবাহিক’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তবে ২০১৭ সালে মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত ‘বড় ছেলে’ নাটকে অসাধারণ অভিনয় তাকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। বর্তমানে টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত কাজ করছেন অপূর্ব। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত থ্রিলারধর্মী ওয়েবফিল্ম ‘হেডলাইন’, যেখানে রহস্যঘেরা এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে অপূর্বর জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হয়তো আর কিছুই নয়—নিজের জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার জন্য পাশে রয়েছে তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, ছেলে জায়ান। তাই প্রতি বছরের মতো এবারও ২৭ জুন অপূর্বর কাছে শুধুই জন্মদিন নয়, বাবা-ছেলের ভালোবাসার এক অনন্য উদযাপনের দিন।
তামিল সিনেমার সুপারস্টার থেকে রাজনীতির শীর্ষে ওঠা বিজয় আবার আলোচনায়। তবে এবার কোনো সিনেমা, রাজনৈতিক ভাষণ বা নির্বাচনী প্রচারণার জন্য নয়। নতুন সরকারি বাস উদ্বোধনের পর সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে উঠে চালক ও কন্ডাক্টরের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সম্প্রতি চেন্নাইয়ে ৩০০টি নতুন সরকারি বাস উদ্বোধন করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তিনি নিজেই নতুন বাসগুলোর একটিতে চড়ে বসেন। সঙ্গে ছিলেন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও কর্মকর্তাও। কিন্তু সবার নজর কেড়ে নেয় বিজয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও সানগ্লাস পরা বিজয় বাসের ভেতরে বসে কন্ডাক্টরের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কন্ডাক্টরের সঙ্গে ছবি তুলছেন। আশপাশের মানুষের মুখে তখন হাসি। অন্য একটি মুহূর্তে বাসচালকের কাঁধে স্নেহভরে হাত রেখে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। রাজনীতিতে আসার আগে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তামিল চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন বিজয়। ‘ঘিলি’, ‘থুপ্পাক্কি’, ‘ভারিসু’, ‘লিও’সহ অসংখ্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে চলতি বছরের ১০ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম। দুই বছরের মধ্যেই নির্বাচনে জয় পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। নতুন বাসে চড়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার ঘটনাও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভিডিওগুলোতে আরও দেখা যায়, বাসটি চেন্নাইয়ের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়ানো মানুষদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বিজয়। অনেকেই মোবাইলে সেই মুহূর্ত ধারণ করেন। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন ৩০০ বাস যুক্ত করার মাধ্যমে রাজ্যের গণপরিবহনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে জানিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। বিশেষ করে শহর ও শহরতলির যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দিন শেষে মানুষ সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেছে বাস প্রকল্প নয়, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের আচরণ নিয়ে। একজন কন্ডাক্টরের সঙ্গে ছবি তোলা, চালকের কাঁধে বন্ধুত্বপূর্ণ হাত রাখা কিংবা চলন্ত বাসে বসে সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে গল্প করার দৃশ্য অনেকের কাছে মনে করিয়ে দিয়েছে তাঁর তারকাখ্যাতির দিনগুলোর জনপ্রিয় ইমেজকে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজে মুগ্ধ গোটা বিশ্ব। সেই উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশের বিনোদন জগতেও। প্রিয় দলকে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন অনেক তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের পর নিজের ফেসবুক পেজে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা দুটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবিগুলোর সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছেন, ‘মেসির প্রতি ভালোবাসা আমাকে আর্জেন্টিনার সমর্থক বানিয়েছে, আর আর্জেন্টিনাই আমাকে চিরদিনের জন্য ভালোবাসায় আটকে রেখেছে।’ লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েছেন এবং সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসা পুরো দলের প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে। তার এই পোস্টে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। লাখেরও বেশি মানুষ প্রতিক্রিয়া জানান, হাজারো মন্তব্য আসে এবং শত শতবার পোস্টটি শেয়ার করা হয়। পূর্ণিমার স্বামী আশফাকুর রহমানও আর্জেন্টিনার সমর্থক। জানা গেছে, সোমবার রাতে তিনি স্বামী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে ঢাকার শাহীনবাগের একটি রেস্তোরাঁয় বসে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ উপভোগ করেন। এক সাক্ষাৎকারে পূর্ণিমা বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার খেলা দেখে আসছেন। তবে দলের প্রতি তার আবেগ আরও গভীর হয়েছে মেসির কারণে। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের খেলা ও অসাধারণ নৈপুণ্য তাকে বরাবরই মুগ্ধ করেছে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও মেসির দুই গোল তাকে দারুণ আনন্দ দিয়েছে বলে জানান তিনি। পূর্ণিমার মতে, শুরুতে মেসির প্রতি মুগ্ধতা থেকেই আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করা শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে দলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতিও তার ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। পোস্ট করা ছবিগুলোর একটিতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জার্সি পরে টেলিভিশনের সামনে বসে খেলা দেখছেন পূর্ণিমা। অন্য ছবিতে ফুল ও কেক নিয়ে দলের জয় উদ্যাপন করতে দেখা যায় তাকে। সোমবার রাতে টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। দলের হয়ে দুটি গোলই করেন লিওনেল মেসি, যা সমর্থকদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।