আন্তর্জাতিক

কাবুলে বিকট বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, সম্ভাব্য বিমান হামলার তদন্তে তালেবান সরকার

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৯, ২০২৫

মধ্যরাতে আফগান রাজধানী কেঁপে উঠল পরপর বিস্ফোরণে; সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে পাকিস্তানের জড়িত থাকার গুঞ্জন।

 

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরপর কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সময় মধ্যরাতের শুরুতে এসব শব্দে কেঁপে ওঠে শহরের একাধিক এলাকা।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে—অজ্ঞাত কোনো বিমান থেকে হামলা চালানো হয়েছে।

আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, “সম্ভাব্য বিমান হামলার ঘটনার তদন্ত চলছে।”

 

ভারতে সফরে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী, একই সময়ে হামলার খবর


ঘটনার সময় আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারতে এক ঐতিহাসিক সফরে অবস্থান করছেন। তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। এরই মধ্যে কাবুলে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।


সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানকে দায়ী করার দাবি


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কাবুলে বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর যোদ্ধাদের সীমান্ত থেকে সরাতে আফগানিস্তান ১০ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার) দাবি করেছে।

 

জাতীয় পরিষদে বক্তব্যে তিনি বলেন,

“তারা টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং আমাদের দেশে সন্ত্রাসীদের পুনর্গঠনের সুযোগ করে দিচ্ছে।”

টিটিপি হামলায় পাকিস্তানি সেনা নিহত, এরপরই কাবুলে বিস্ফোরণ
এর মাত্র একদিন আগে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুন খাওয়ায় টিটিপির হামলায় ১২ জন সেনা নিহত হয়। সেই ঘটনার পর খাজা আসিফ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন,

“অনেক হয়েছে, আমরা আর সহ্য করব না।”

তার ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই কাবুলে সম্ভাব্য বিমান হামলার ঘটনা ঘটে।

সূত্র: টিআরটি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন শিশুদের কম টিকা দেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন শিশুদের জন্য প্রচলিত টিকাদান কর্মসূচি কমিয়ে আনার নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে মাম্পস, হাম ও রুবেলার (এমএমআর) টিকা আলাদাভাবে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।    সোমবার (১০ আগস্ট) ওভাল অফিসে এ বিষয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, কয়েক দশক আগে শিশুদের তুলনামূলকভাবে অনেক কম টিকা দেওয়া হতো এবং তখন মানুষ বেশি সুস্থ ছিল। বর্তমানে শিশুদের মধ্যে অটিজমের হার বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তবে একাধিক গবেষণায় এমএমআর টিকার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।   ট্রাম্পের নির্দেশে শিশুদের জন্য আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের (এএপি) বর্তমান সুপারিশকৃত ১৮টি টিকার পরিবর্তে ১১টি টিকা রাখার কথা বলা হয়েছে। এসব টিকার মধ্যে রয়েছে হাম, মাম্পস, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশি, পোলিও, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি, নিউমোকক্কাল রোগ, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস এবং ভ্যারিসেলা বা চিকেন পক্স। তবে ট্রাম্পের এই নির্দেশ বাধ্যতামূলক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ভর্তি বা উপস্থিতির জন্য কোন কোন টিকা প্রয়োজন হবে, তা মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর আইন ও নীতির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।   ট্রাম্প বলেন, শিশুদের জন্য গুরুতর ও বিপজ্জনক রোগের বিরুদ্ধে ১১টি মূল টিকার সুপারিশকে তার প্রশাসন স্বীকৃতি দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি টিকার সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি চিকিৎসকের কাছে বারবার গিয়ে টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও কমানোর কথা বলেন।   এমএমআর টিকা একসঙ্গে দেওয়ার বিরুদ্ধেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এটি শিশুর শরীরে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। এক সাংবাদিক এ দাবির প্রমাণ জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এমনটাই শুনেছেন।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, এমএমআর টিকা নেওয়া বেশিরভাগ মানুষের কোনো গুরুতর সমস্যা হয় না। শিশুদের ক্ষেত্রে টিকার পর জ্বরজনিত খিঁচুনির সামান্য ঝুঁকি থাকলেও হাম, মাম্পস বা রুবেলায় আক্রান্ত হওয়ার তুলনায় টিকা নেওয়া অনেক বেশি নিরাপদ।   সিডিসি আরও বলেছে, সমন্বিত এমএমআর টিকাকে তিনটি পৃথক টিকায় ভাগ করলে কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় এমন প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।   বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, টিকার মধ্যে বেশি সময়ের ব্যবধান তৈরি হলে শিশুরা সেই সময়ের মধ্যে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পাশাপাশি একাধিকবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হলে টিকাদানের কোনো কোনো ধাপ বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।   ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেছেন, পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো অভিভাবকদের আরও বেশি পছন্দের সুযোগ দেওয়া; শিশুদের টিকা পাওয়া বন্ধ করা নয়।   ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কেনেডি টিকা-সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো এমএমআর টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি।   ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, নতুন নির্দেশ কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুরা আগের সূচির তুলনায় অনেক কম টিকা পাবে। তবে টিকা বিশেষজ্ঞরা এই হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, সমন্বিত টিকাকে একাধিক ইনজেকশন হিসেবে গণনা এবং বার্ষিক ফ্লু ও কভিড-১৯ টিকা হিসাবের মধ্যে রাখার কারণে ডোজের সংখ্যা অতিরঞ্জিত হয়েছে।   এদিকে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের প্রেসিডেন্ট ডা. অ্যান্ড্রু রেসিন ট্রাম্পের নির্দেশকে বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সময় এমন সিদ্ধান্ত এসেছে।   তিনি বলেন, হামের বিস্তার অব্যাহত থাকা এবং শিশুদের স্কুলে ফিরে যাওয়ার সময় টিকা দিতে দেরি করা বা টিকা বাদ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।   রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও ট্রাম্পের নির্দেশের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, টিকা অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর এবং এর সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক নেই।   ক্যাসিডি অভিভাবকদের টিকা নিয়ে ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সন্তানদের শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানান।   ট্রাম্পের নির্দেশে টিকায় ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের বিকল্প খোঁজা এবং সেসব বিকল্প আরও নিরাপদ ও কার্যকর কি না, তা পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে।   টিকায় থাকা অ্যালুমিনিয়াম লবণ অটিজমসহ বিভিন্ন স্নায়বিক বিকাশজনিত সমস্যা সৃষ্টি করে এমন দাবি রয়েছে। তবে এএপি এসব দাবিকে দীর্ঘদিনের গুজব হিসেবে উল্লেখ করেছে।   সংস্থাটির মতে, গবেষণায় টিকায় ব্যবহৃত অতি অল্প পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম লবণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কয়েক দশক ধরে কিছু টিকায় অ্যালুমিনিয়াম লবণ ব্যবহার করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১

ছবি: সংগৃহীত
পাঁচতারকা হোটেলে দুই মেয়েকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি পাঁচতারকা হোটেলে দুই মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক ব্যক্তি। হোটেলের কক্ষে দুই শিশুর মরদেহ এবং তাদের বাবাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।   পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিহত দুই শিশু শেখ জোয়ার বয়স ১০ ও শেখ জেহারার বয়স ৫ বছর। তাদের বাবা ৪০ বছর বয়সী এসজি ইমরানকে গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত নিয়ে হোটেলের শৌচাগারে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হোটেলের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে মণিপাল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।   পুলিশ জানিয়েছে, ইমরান একটি বেসরকারি ক্যাব কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি নাগাভারা মেইন রোডের কাছে বিলালনগর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি হোটেলের চতুর্থ তলার একটি কক্ষে ওঠেন।   হোটেল কর্মীদের ইমরান জানিয়েছিলেন, রোববার মধ্যরাতের পর দুবাই থেকে একজন অতিথি আসবেন। তাকে গ্রহণ করতেই তিনি হোটেলের কক্ষটি নিয়েছেন। সোমবার সকালে তিনি হোটেল ছেড়ে চলে যাবেন বলেও কর্মীদের জানিয়েছিলেন।    পুলিশ জানায়, ‘নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইমরান হোটেল থেকে বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্ষের দরজায় নক করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি হোটেলের হাউসকিপিং কর্মীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আবারও দরজায় নক করা হয়। তখনও কোনো সাড়া না পাওয়ায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হোটেল ম্যানেজার ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খোলেন।’   পুলিশ আরও জানায়, কক্ষের বিছানার পাশে দুই শিশুর মরদেহ পড়ে ছিল। আর ইমরানকে গলা কাটা অবস্থায় সোফার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তিনজনকে কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। ইমরান এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।   পুলিশের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত বলে সন্দেহ করতেন ইমরান। এ কারণেই তিনি দুই মেয়েকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইমরান বলেছেন, ‘আমি চাইনি আমার সন্তানরা এমন একজন মায়ের সঙ্গে বড় হোক। তাই তাদের এবং নিজেকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’   পুলিশের ধারণা, ইমরান প্রথমে তার দুই মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর নিজের গলা ছুরি দিয়ে কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।   বেঙ্গালুরুর ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) জিকে মিথুন কুমার বলেন, ‘ইমরান ও তার দুই মেয়ে গতকাল সন্ধ্যায় একটি হোটেলে ওঠেন। আজ বিকেল ৪টার দিকে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কক্ষের দরজায় নক করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে কক্ষে প্রবেশ করে তারা দুই মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তাদের মরদেহ বিছানায় পড়ে ছিল। বাবা নিজেও ছুরি দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করেছিলেন।’   তিনি আরও বলেন, ইমরান তার দুই মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।   ডিসিপি বলেন, ‘তিনি জানিয়েছেন, তিনিই তার মেয়েদের হত্যা করেছেন। আমরা হত্যা মামলা দায়ের করছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’   পুলিশ জানিয়েছে, ইমরানের বাড়ি বেঙ্গালুরুর নাগাওয়ারা এলাকায়। তবে তার পেশা কী এবং স্ত্রীকে নিয়ে তার সন্দেহের বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও কীভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   সূত্র: এনডি টিভি

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২০, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

ভারত ও চীনের মধ্যকার বিতর্কিত অনুণাচল প্রদেশের একটি সীমান্ত চেকপয়েন্ট। ছবি : সংগৃহীত

অরুণাচলের ২৭ স্থানের নাম নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্তে চীনের তীব্র সমালোচনা

ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি আর যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না

হরমুজ প্রণালি আর যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ। ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহরের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে আল জাজিরাও।   আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে অ্যাসেম্বলিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিকজাদ বলেন, যুদ্ধ চলাকালে ইরান আগ্রাসী ও ‘ভ্রান্ত’ শত্রুকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে হরমুজ প্রণালি যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে আর ফিরবে না।   তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা বিষয়টি না বোঝার ভান করেছে। কিন্তু সময়ই ভ্রান্ত মানুষদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। আজ আমেরিকান-ইসরায়েলি শত্রু শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী নিয়েও বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে যে হরমুজ প্রণালি খোলার কোনো সামরিক সমাধান নেই।’   নিকজাদের দাবি, এখন তাদের ‘নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার’ কাছে হার মেনে নিতে হবে।   তবে ইরানের বর্তমান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির চেয়েও দেশের অর্থনৈতিক সংকট কমানো বলে উল্লেখ করেন তিনি।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটির পরিস্থিতিতে যেকোনো বড় পরিবর্তন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান হলেন মোহসেন রেজাই

ছবি: সংগৃহীত

আড়াই বছর পর মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের অভিযোগ, ভারতে গ্রেপ্তার ২

বৃষ্টিতে দুর্ভোগে স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনে বৃষ্টি-ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ

0 Comments