জাতীয়

আ.লীগের বিচারে শুরু হচ্ছে তদন্ত কার্যক্রম

Admin অক্টোবর ০৫, ২০২৫

জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার দায়ে রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে প্রসিকিউশন। ব্যক্তির অপরাধের দায় নির্ণয়ের পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রসিকিউশন এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

যদিও আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনেও বিচারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দলটিকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে কিনা তা নিয়ে এতদিন সিদ্ধান্তহীনতা ছিল। সম্প্রতি প্রসিকিউশনের তরফ থেকে এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৩ ধারার উপধারা (২)-এর অধীন অপরাধ সংঘটন করেছে, আদেশ দিয়েছে-তাহলে ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক দল ও তার অঙ্গসংগঠনকে শাস্তি দিতে পারবেন। আইনের এ ধারায় আওয়ামী লীগের বিচার করতে তদন্ত শুরু করতে চায় প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগকে অপরাধী সংগঠন হিসাবে বিচারের মুখোমুখি করতে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও প্রাথমিক তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে।

তাজুল ইসলাম রোববার সাংবাদিকদের বলেন, দল হিসাবে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এনডিএম (জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন) নামের একটি রাজনৈতিক দল অভিযোগ করেছে। প্রসিকিউশন তার ভিত্তিতে তদন্ত করছে।

তিনি বলেন, বলা যেতে পারে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দল ও অপরাধী সংগঠন হিসাবে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রাথমিক তদন্তের কাজটা শুরু হচ্ছে। সেটা পুরোদমে শুরু হলে বলা যাবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়টা কতদূর এগিয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘এখন কি বলা যাবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হয়েছে’-জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, হ্যাঁ, অভিযোগ এসেছে। তদন্ত সংস্থা এটা গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করছে। এরপর শিগগিরই আনুষ্ঠানিক তদন্ত হবে। প্রসিকিউশনের কাছে দাখিল হওয়া অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অপরাধ সংঘটনে সরাসরি জড়িত ছিল।

অপরদিকে, ট্রাইব্যুনালে দাখিল হওয়া বিভিন্ন অডিও-ভিডিও পরীক্ষায় দেখা গেছে, আন্দোলনকারীদের নিশ্চিহ্ন করতে দলীয় লোকজনকে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে টেলিফোন কথোপকথনেও একই রকম নির্দেশনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তার নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশের মাধ্যমে জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ অপরাপর অপরাধ সংঘটন করেন যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা বিভিন্ন অভিযোগ ও সাক্ষ্যসাবুদে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী শাসনের সাড়ে ১৫ বছর শেখ হাসিনা প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় লোকদের দানবে পরিণত করেন। জনগণের বিরুদ্ধে দলীয় লোকদের ব্যবহার করেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে দেশজুড়ে মানুষ হত্যায় তাদের সম্পৃক্ত করেন। এ অপরাধের দায় দলীয় লোকদের পাশাপাশি শেখ হাসিনার ওপর বর্তায়। ফলে দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত।

ট্রাইব্যুনাল রাজনৈতিক দলকে শাস্তি দিতে পারবে : ১০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এতে ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবেন। এতে বলা হয়, ‘এই আইন বা প্রযোজ্য অন্যান্য আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, যদি ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতীয়মান হয় যে কোনো সংগঠন এই আইনের ৩ ধারা উপধারা (২)-এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেছে, আদেশ দিয়েছে, চেষ্টা করেছে, সহায়তা করেছে, উসকানি দিয়েছে, মদদ দিয়েছে, ষড়যন্ত্র করেছে, সহযোগিতা করেছে অথবা অন্য যে কোনো ভাবে সেই অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছে, তবে ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা থাকবে সংগঠনটির কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করার।’ ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা থাকবে ‘সংগঠনের নিষিদ্ধ ঘোষণার, এর নিবন্ধন বা লাইসেন্স স্থগিত অথবা বাতিল করার এবং এর সম্পত্তি জব্দ করার। আইনে সংগঠন শব্দটির সংজ্ঞায়নও করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় সংগঠন বলতে যে কোনো রাজনৈতিক দলকেও বোঝাবে। পাশাপাশি দলের অধীনস্থ, সম্পর্কিত বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠন অথবা গোষ্ঠীকে বোঝাবে।’

আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রাথমিক তদন্ত : ‘কয়েক দিন আগে বরিশালে আইন উপদেষ্টা বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা খুব শিগগিরই উঠছে না। তিনি আরও বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে বিচারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার কাছ থেকে জানতে চাই- এর জবাবে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আইন উপদেষ্টা কোথায় কী বলেছেন, সেটার জবাব আমার দেওয়া উচিত হবে না।

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। বেলা পৌনে ১২টায় ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নিয়ে শুনানি হয়। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আদেশের জন্য সোমবার (৬ অক্টোবর) দিন ধার্য করা হয়। এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি নতুন ফরমাল চার্জ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। এর ওপর শুনানিও হয়েছে। তবে অপরাধ আমলে নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছে প্রসিকিউশন। আদালত আগামীকাল (সোমবার) আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

হানিফের বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ : প্রসিকিউশন হানিফের বিরুদ্ধে কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগে এনেছে। জুলাই আন্দোলনকারীদের জবাব দেওয়ার জন্য ‘ছাত্রলীগই যথেষ্ট’-ওই প্রেস কনফারেন্সে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে হানিফও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া গত বছরের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বৈঠকের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের ষড়যন্ত্র করেন তিনি। এছাড়া কুষ্টিয়া শহরে ৬ জনকে হত্যার দায়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

সিরাজগঞ্জে তিন হত্যায় হেনরির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ল : জুলাই আন্দোলনে ৩ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি ড. জান্নাত আরা হেনরিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আগামী দুই মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর চানখাঁরপুলে স্কুলছাত্র আসানসহ ৬ জনকে হত্যা মামলায় ১৮তম সাক্ষ্য দিয়েছেন জব্দ তালিকার সাক্ষী এসআই আনিসুর রহমান। তিনি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় লাইব্রেরিয়ানের দায়িত্বে আছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জে গৃহবধু তানিয়া হত্যার মূল আসামি গ্রেফতার

শাহ কামাল সবুজঃ মামলা হাতে নেয়ার দ্রুত সময়ের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আলোচিত গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২৪) হত্যার মূল আসামি, স্বামী সোহাগ মিয়া জুলহাসকে (৩৩) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জানা গেছে গত ১১ আগষ্ট মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার বাস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার(এসপি) মোস্তফা কামাল রাশেদ। পিবিআই’র তথ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই সকালে সোহাগ মিয়া জুলহাস নিহত তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তারের কাছে বাসার চাবি রেখে তাকে জানান যে, তানিয়া গার্মেন্টসে কাজে গেছেন। পরে বাসায় যেতে বলেন তিনি। বিষয়টা সন্দেহ জনক মনে হলে কিছুক্ষণ পর নাছিমা আক্তার গার্মেন্টসে গিয়ে জানতে পারেন, তানিয়া কর্মস্থলেই যাননি। পরে তিনি বাসায় গিয়ে দরজার তালা খুলে মশারির ভেতর তানিয়ার নিথর দেহ দেখতে পান। তার নাক-মুখে রক্তের দাগ ছিল এবং শরীর শক্ত হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধারসহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর পরিবারের অমতেই প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন তানিয়া ও সোহাগ। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ঝগড়া বিবাদ চলছিল। স্থায়ী কোনো কাজ না থাকায় সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হতো। এ সময় সোহাগ স্ত্রীকে মারধর করতেন বলেও তদন্তে উঠে আসে। পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ দাবি করেছেন, সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি তানিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পরদিন সকালে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে তানিয়ার নাকের স্বর্ণের নাকফুল খুলে নেন।পরে বাসার চাবি তানিয়ার খালার কাছে রেখে মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যান।   পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার(এসপি) জনাব, মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের সরকারি নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত: এসি গোলাম রুহানী বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

ছবি: সংগৃহীত
দুই সন্তানকে নিয়ে বের হয়ে একা ফেরেন বাবা, পরে উদ্ধার হলো দুই শিশুর মরদেহ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় নিখোঁজ দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশু দুটির বাবা কামরুল ইসলামকে (৩২) আটক করা হয়েছে।   বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার।   আটক কামরুল ইসলাম দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামের মধুপুর এলাকার বাসিন্দা। নিহত দুই শিশু হলো মোহাদ্দিছ মিয়া (৭) ও তুলনা আক্তার (৪)।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে কামরুল তার দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি ও শিশুরা নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি চালালেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে কামরুল একা বাড়ি ফেরেন।   পরে সন্তানদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।   এর আগে মঙ্গলবার শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোধরতপী এলাকায় সড়কের পাশ থেকে একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পরে তুলনা আক্তারের বলে শনাক্ত করা হয়। বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের পাশ থেকে আরেকটি অর্ধগলিত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়; সেটি মোহাদ্দিছ মিয়ার বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।   দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।   পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

কারাগারে মারা যাওয়া আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপির চার সহকারী পুলিশ কমিশনারের নতুন পদায়ন

ছবি: সংগৃহীত
ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানে বিএসইসির তিন সদস্যের কমিটি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শেয়ার লেনদেন, স্বার্থের সংঘাত, আর্থিক অনিয়ম, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।   গত ১০ আগস্ট জারি করা এক আদেশে বিএসইসি এ নির্দেশ দেয়। কমিশন জানিয়েছে, দেশের পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও স্টক এক্সচেঞ্জের সুষ্ঠু প্রশাসনের স্বার্থে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।   কমিটির সদস্যরা হলেন— বিএসইসির পরিচালক এএসএম মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান।   আদেশ অনুযায়ী, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।   বিএসইসি জানিয়েছে, ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের শেয়ারবাজারে লেনদেন, পরিবারের সদস্যদের পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় সম্পৃক্ততা, নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর ভূমিকা এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিধান যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না— সেসব বিষয় অনুসন্ধান করা হবে।   কমিশন আরও বলেছে, বিষয়গুলো বর্তমানে অভিযোগ ও অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১২, ২০২৬

দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

উত্তরা এলাকায় সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই: আসামিদের ধরতে ডিবির জোর অভিযান

সংগৃহীত ছবি

ট্রাইব্যুনালে কাদের-হারুনের ফোনালাপ: ‘যা করেছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইজিপির নির্দেশেই’

0 Comments