আন্তর্জাতিক

উপসাগরে তেল পাচারে ইরানের ‘চোরাচালান’ কৌশল ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রাখতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে একের পর এক গোপন 'শিপ-টু-শিপ' তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে আকাশ ও নৌ ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে কনভয়গুলোকে অপেক্ষমাণ ট্যাংকারের দিকে পথ দেখানো হচ্ছে।

 

হরমুজ প্রণালির প্রান্তে পরিচালিত এই কার্যক্রমে এমন একটি কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহার করে আসছে ইরান।

 

এই তেল স্থানান্তরের দুটি নির্দিষ্ট স্থানের কথা জানিয়েছেন এই কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত ১১ জন ব্যক্তি। এর একটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূল এবং অন্যটি ওমানের সোহার বন্দর সংলগ্ন এলাকা। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা শিপিং ডেটা ও স্যাটেলাইট চিত্র অনুসারে, গত মে মাসের শুরুতে এই কার্যক্রম শুরু হয় এবং অন্তত ১১৬টি জাহাজ এতে অংশ নেয়।

 

স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি মঙ্গলবার সকালেও ওমান উপসাগরে ১২ জোড়া জাহাজ পাশাপাশি দেখা গেছে: আটটি ওমানের সোহার উপকূলে এবং চারটি ফুজাইরাহর কাছাকাছি। গত ১১ জুন যখন এই কার্যক্রম সর্বোচ্চে পৌঁছায়, সেদিনের চিত্র অনুযায়ী দুটি স্থানে একসঙ্গে ১৭ জোড়া জাহাজকে তেল স্থানান্তর করতে দেখা যায়।

 

গত ৯ জুন একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধমূলক বোমা হামলা চালায়। চারজন সূত্রের মতে (যাদের মধ্যে হামলার বিষয়ে অবগত একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাও রয়েছেন), ওই হেলিকপ্টারটি এই মিশনের সঙ্গেই যুক্ত ছিল। রয়টার্স স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখেছে, যেদিন অ্যাপাচি ভূপাতিত হয়, সেদিন সোহার বন্দরের অদূরে একটি ছোট এলাকায় ছয় জোড়া ট্যাংকার জড়ো করা ছিল।

 

তবে এই কার্যক্রমে অ্যাপাচি কী ভূমিকা পালন করেছিল, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, সমুদ্রের বুকে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের কোনো কার্যক্রমে সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বাহিনী অংশ নিচ্ছে না। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন নৌকার সাহায্যে হেলিকপ্টারের দুই ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

 

এই স্থানান্তরের মাত্রা, কীভাবে কাজ করে এবং এতে অ্যাপাচির ভূমিকা নিয়ে আগে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। হোয়াইট হাউস এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য সেন্টকমের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, এই স্থানান্তর নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ইরান সরকার কোনো সাড়া দেয়নি।

 

ওমান উপসাগরে হরমুজ প্রণালির প্রস্থানপথের কাছাকাছি যে দুটি স্থানে এই স্থানান্তর ঘটে, তা 'পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ'-এর (হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য গঠিত নতুন ইরানি সংস্থা) টানা সীমানার খুব কাছে অবস্থিত। ইরানের নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজগুলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে থাকে।

 

যেভাবে উপসাগরীয় তেল সচল রাখছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই কার্যক্রম চলাকালে ফুজাইরাহ বন্দরটিতে বারবার ইরানি হামলা হয়েছে। ব্রিটিশ মেরিটাইম রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে ওমান উপকূলে একটি ট্যাংকারে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। ভ্যানগার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ক্রুরা নিরাপদে আছেন এবং আঘাতের কারণে কিছু কার্গো লিক হলেও কোনো পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি। তবে ট্যাংকারটি তেল স্থানান্তরে জড়িত ছিল কিনা, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়, যেখান দিয়ে সাধারণত বৈশ্বিক তেলের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এর ফলে ইতিহাসে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিঘ্ন ঘটে এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়।

 

এই 'শিপ-টু-শিপ' স্থানান্তরগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ও অকার্যকর হলেও, এটি মূলত উপসাগর থেকে স্বাভাবিক তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধারে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টারই অংশ বলে মনে হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ সপ্তাহে ঘোষিত ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তির কাঠামোর আওতায় শুক্রবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, তবে এর বিস্তারিত এখনও অস্পষ্ট। এই চুক্তি তেল স্থানান্তর কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলেছে কিনা, তা রয়টার্স নির্ধারণ করতে পারেনি।

 

গত ২০ মে প্রকাশিত রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রণালির অপর প্রান্ত দিয়ে জাহাজ পারাপারের জন্য ইরান তাদের নিজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যার মধ্যে রয়েছে দ্বীপ চেকপয়েন্ট, কূটনৈতিক চুক্তি এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফি আদায়।

 

ধাপে ধাপে যাত্রা ও ওয়েপয়েন্ট

তেল স্থানান্তরের এই কার্যক্রম পুরোপুরি মার্কিন সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে বলে আটজন সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে একজন বেসরকারি নিরাপত্তা ঠিকাদারও রয়েছেন, যিনি এই কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

 

সূত্র ও স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, ট্যাংকারগুলোকে প্রণালিতে পৌঁছানোর আগে একটি নির্দিষ্ট মিলনস্থলে যেতে হয়। এরপর তারা ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে ধাপে ধাপে যাত্রা করে।

 

সূত্রের মতে, এসময় জাহাজগুলোর ট্রান্সপন্ডার বন্ধ এবং আলো নিভিয়ে রাখা হয়।

 

নির্ধারিত ট্যাংকারগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ কয়েকটি 'ওয়েপয়েন্ট' ব্যবহার করে। এক সূত্র জানায়, তারা (আমেরিকানরা) স্পষ্টভাবে সবসময় আপনার ওপর নজর রাখছে।

 

ইরানের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ঠিক বাইরে প্রণালি পার হওয়ার পর, ট্যাংকারগুলো প্রাপক জাহাজের (যার বেশিরভাগই ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার বা ভিএলসিসি) পাশে ভিড়ে তেল স্থানান্তর শুরু করে। এটি সম্পন্ন হতে ২৪ থেকে ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে। এরপর খালি ট্যাংকারগুলো প্রণালি দিয়ে ফিরে যায় এবং নতুন বোঝাই করা ভিএলসিসিগুলো গন্তব্যের দিকে যাত্রা করে।

 

ইরানের অবরোধ সত্ত্বেও এই কার্যক্রম সম্ভব হচ্ছে কারণ কিছু শিপার ঝুঁকি নিয়েও অপেক্ষমাণ ট্যাংকারগুলোতে তেল পৌঁছে দিতে রাজি হচ্ছেন। তবে এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের মেরিটাইম ঝুঁকি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ নোয়াম রাইদান বলেন, ইরান কখন ড্রোন বা গানবোট ব্যবহার করে এসব জাহাজের প্রণালি পারাপার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেবে, তা কেউ জানে না।

 

নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান বছরের পর বছর ধরে এই কৌশল ব্যবহার করে আসছে, কারণ এর মাধ্যমে তেলের উৎস গোপন রাখা যায়। ইরান সাধারণত ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে এবং যুদ্ধপূর্ব রপ্তানির পরিমাণ কম হওয়ায় একবারে এক জোড়া জাহাজ ব্যবহার করত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কার্যক্রমে ব্যাপক পরিসরে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যা উপসাগরীয় উৎপাদকদের ইরানি হামলা থেকে সুরক্ষা দেয়।

 

প্রণালির ভেতর দিয়ে

শিপিং রেকর্ড অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ট্যাংকার অপারেটররাই মূলত এই তেল গ্রহণ করছে। এর মধ্যে অন্যতম গ্রিসভিত্তিক ডায়ানাকম ট্যাংকার ম্যানেজমেন্ট। ১ জুন এথেন্সে এক শিপিং সম্মেলনে ডায়ানাকমের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ প্রোকোপিউ বলেন, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা অপরিহার্য এবং কেউ টোল বা অন্য কোনো বোঝা চাপাতে পারে না। আমরা সেবা দিতে এসেছি এবং প্রাচীনকাল থেকেই গ্রিসের অবরোধ ভাঙার ঐতিহ্য রয়েছে।

 

তবে অন্য একটি মেরিটাইম সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থা তাদের শিল্পে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। জাহাজের অবস্থান জানান দেওয়ার ট্রান্সপন্ডারগুলো বন্ধ থাকে এবং কোম্পানিগুলো সাধারণ রিপোর্টিং কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে রিপোর্ট করছে না। রাতের অন্ধকারে আলো নিভিয়ে চলার কারণে জাহাজগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের প্রবল ঝুঁকি থাকে।

 

এই ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত চারটি সূত্র জানায়, যে অপারেটররা এই সিস্টেমে যুক্ত হতে চায়, তাদের ট্রানজিট উইন্ডো পাওয়ার আগে একটি পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ জিওস্পেশিয়াল ট্র্যাকিং ইতিহাস, মালিকানার তথ্য এবং কার্গো ডকুমেন্টেশন জমা দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। অনুমোদন পেলে, এসব জাহাজ বাহরাইনের মার্কিন সামরিক কার্যালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখে যাত্রা করে।

 

শিপিং রেকর্ড অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই স্থানান্তর কার্যক্রমে আরব আমিরাতের রপ্তানি একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। কুয়েত অয়েল ট্যাংকার কোম্পানিও এতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

 

বিশেষজ্ঞ রাইদান বলেন, আমি এর মধ্যে কোনো স্থায়ী সমাধান দেখছি না। এটি কেবল একটি ব্যতিক্রমী সময়ের অস্থায়ী সমাধান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সংঘাতের ব্যয় বাড়িয়ে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে ইরান: বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য পথ, নৌপথ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে ইরান—এমন মন্তব্য করেছেন উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান সরাসরি পূর্ণাঙ্গ সামরিক বিজয়ের চেয়ে সংঘাতের ব্যয় ধীরে ধীরে বাড়ানোর কৌশলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান চায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে ভবিষ্যৎ যে কোনো আলোচনা বা দর-কষাকষিতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।   ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক মাইকেল নাইটস রয়টার্সকে বলেন, ইরান সংঘাতের মাত্রা এমনভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করছে যাতে প্রতিপক্ষকে নতুন নতুন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়।   তিনি বলেন, “তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে আঘাত করার সক্ষমতা নয়; বরং আঞ্চলিক দেশগুলো এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করার ক্ষমতা।”   প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজের পাশাপাশি লোহিত সাগর এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ সুরক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এদিকে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালান এয়ার মনে করেন, ইরানের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ কমাতে বাধ্য করা এবং সংঘাতের গতিপথ পুরোপুরি ওয়াশিংটনের হাতে চলে যেতে না দেওয়া।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা দেশগুলো সরাসরি ইরানের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে সমুদ্রপথ ও বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এই পরিবর্তনকে তেহরান তাদের কৌশলের আংশিক সাফল্য হিসেবে দেখতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।   তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, উভয় পক্ষ যদি পাল্টাপাল্টি চাপ বাড়াতে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠবে।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনের ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে ছাই ৬০০ স্থাপনা

স্পেনের যে গ্রামে একসঙ্গে উপভোগ করা যায় দুই সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের কেশম দ্বীপে ৯০০ কেজির বোমা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২১ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

দক্ষিণ কোরিয়ায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম দেশটিতে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে জনগণকে অবিলম্বে সব ধরনের বাইরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।   দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসন (কেএমএ) জানিয়েছে, রোববার দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়াংসান শহরে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা দেশটির ১২১ বছরের আবহাওয়া ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ইয়াংসানে টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রয়েছে। একই সময়ে ডেগু, বুসানসহ দেশের বিভিন্ন শহরেও তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমল, ক্যাফে ও অন্যান্য ভবনে আশ্রয় নিচ্ছেন। রাজধানী সিউলের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী জু ডং-ইওল বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘বাইরে থাকার মতো পরিস্থিতি নেই। বাড়ি, শপিংমল বা ক্যাফের মতো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গায় থাকাই এখন একমাত্র উপায়।’ রোববার দেশের ২০টিরও বেশি এলাকায় জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়। চলতি বছর বাড়তে থাকা তাপমাত্রার ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন এই সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। কোনো এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলে এই সতর্কতা জারি করা হয়। কেএমএ জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, ‘অবিলম্বে সব ধরনের বাইরের কার্যক্রম বন্ধ করুন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণহীন ঘরের ভেতরেও অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ।’ সংস্থাটি সবাইকে দ্রুত শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বছরে গড় তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৯ দিনে পৌঁছেছে। দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে তাপপ্রবাহের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার বেসবল লিগ চ্যাংওন শহরে নির্ধারিত একটি ম্যাচ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। সেখানে তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। একই শহরে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ বাতিল হলো তাপপ্রবাহের কারণে। কোরিয়া বেসবল অর্গানাইজেশন এক বিবৃতিতে জানায়, দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহসহ চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিচ্ছে। এ বছরের এল নিনো-র প্রত্যাবর্তনও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয় এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মিশরে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প

ছবি: সংগৃহীত

অং সান সু চি দেখা গেল রেড ক্রস প্রতিনিধির সঙ্গে

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতাই বৈদেশিক সম্পর্কের ভিত্তি: ইরানের প্রেসিডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত
মোদির বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা কেজরিওয়ালের

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি চালুর বিরোধিতা ঘিরে ভারতে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এ নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল।  তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে গিয়ে দুই লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র জমা দেবেন। এ উপলক্ষে রাজধানী দিল্লিতে একটি মিছিলও অনুষ্ঠিত হবে।   শনিবার (১ আগস্ট) আয়োজিত জাতীয় গণশুনানিতে কেজরিওয়াল বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে।    তিনি বলেন, আগামী ৪ আগস্ট দুপুরে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনে আবেদনপত্র পৌঁছে দেবেন। তার সঙ্গে এমন একশ জন থাকবেন, যারা গ্রেফতার বা লাঠিচার্জের ভয় না পেয়ে আন্দোলনে অংশ নিতে প্রস্তুত। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, সরকার যদি নিশ্চিত থাকে যে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি সম্পূর্ণ নিরাপদ, তাহলে জনসম্মুখে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে খোলামেলা আলোচনা আয়োজন করতে পারে। সেখানে সরকার ও বিরোধী পক্ষ নিজেদের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে পারবে। কিন্তু সরকার সেই পথে না গিয়ে সমালোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।   তবে এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়েছে বা বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি ঘটনার প্রমাণ কেজরিওয়ালকে দেখাতে হবে। শুধু অভিযোগ করলেই হবে না। ভারতে ধাপে ধাপে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ানোর সরকারি নীতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এতে অনেক গাড়ির জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং ইঞ্জিনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, এ নীতি পরিবেশবান্ধব এবং বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক।   কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, এ নীতির পেছনে শুধু পরিবেশগত যুক্তিই নয়, অন্য স্বার্থও কাজ করছে। তার দাবি, ইথানল ব্যবসার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই ছেলের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   পাশাপাশি তিনি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সমঝোতার কারণেও সরকার এ নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে কেজরিওয়াল তিনটি দাবি উত্থাপন করেছেন। প্রথমত, দেশের প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি—উভয় ধরনের জ্বালানি রাখার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে গ্রাহক নিজের পছন্দমতো জ্বালানি নিতে পারেন। দ্বিতীয়ত, পেট্রোলের দাম কমাতে হবে। তৃতীয়ত, ইথানলের মূল্যও কমাতে হবে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইথানল ইস্যু এখন শুধু জ্বালানি নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো এ ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।   এদিকে আন্দোলনকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার পুলিশি বাধা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৪ আগস্টের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার ও বিরোধী শিবিরের পালটা-পালটি অবস্থানের মধ্যে এ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কতটা জনসমর্থন পায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসী ঢল ঠেকাতে সিউটায় ভাসমান ব্যারিয়ার বসাচ্ছে স্পেন, সীমান্তে কড়াকড়ি

ছবি: সংগৃহীত

৬ বছর পর ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব: দ্য গার্ডিয়ান প্রতিবেদন

0 Comments