শুক্রবার ইলন মাস্কের মহাকাশ ও এআইভিত্তিক কোম্পানি স্পেসএক্সের রেকর্ড-ভাঙা অভিষেক হয় শেয়ারবাজারে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটি ডলারের মালিক হয়েছেন ইলন মাস্ক।
ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলার। তিনি অনেক দিন ধরেই বিশ্বের শীর্ষ ধনী। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, অ্যামাজনের জেফ বেজোস ও ফরাসি বিলাসপণ্যের গ্রুপ এলভিএমএইচের প্রধান বার্নার্ড আর্নল্টের মতো ধনকুবেরদের আরও ছাড়িয়ে গেছেন।
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে প্রযুক্তিজগতে প্রথম আলোড়ন সৃষ্টি করেন মাস্ক। তবে তিনি সব সময় ধনীদের তালিকার শীর্ষে ছিলেন না।
তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, গত ছয় বছরে উল্কার গতিতে ইলন মাস্কের উত্থান হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বের ৩৫তম ধনী ব্যক্তি ছিলেন তিনি, তখন তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত সাড়ে ছয় বছরে তাঁর সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩৮ গুণ।
কিন্তু ওই বছর থেকেই তাঁর সম্পদ লাফিয়ে বাড়তে থাকে। সে বছর মাস্কের দুটি বড় কোম্পানি—বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি টেসলা এবং মহাকাশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারমূল্য দ্রুত বাড়তে শুরু করে। দুটি কোম্পানিতেই মাস্কের বড় অংশীদারত্ব আছে।
টেসলার শেয়ারদরের ওঠানামা, স্পেসএক্সের বাড়তি মূল্য ও ট্রাম্প প্রশাসনে মাস্কের দায়িত্ব পালন—সব মিলিয়ে মাস্কের চলার পথ বেশ নাটকীয়। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির খেতাব পান ইলন মাস্ক। সেবার তিনি ক্ষণিকের জন্য জেফ বেজোসকে ছাড়িয়ে যান। এরপর সময়-সময় তাঁর উত্থান-পতন হয়েছে।
মাস্ক যখন বেজোসকে ছাড়িয়ে প্রথম বিশ্বের শীর্ষ ধনী হন, তখন তাঁর সম্পদমূল্য ছিল ১৯৫ বিলিয়ন বা ১৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এরপর সে বছর টেসলার শেয়ারদর বাড়লে নভেম্বর মাসে তাঁর সম্পদমূল্য বেড়ে হয় ৩৪০ বিলিয়ন বা ৩৪ হাজার কোটি ডলার।
এরপর মাস্কের সম্পদমূল্য কমে যায়। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে যখন টুইটার কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়, তখন তাঁর সম্পদমূল্য ২০৪ বিলিয়ন বা ২০ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর সম্পদমূল্য কমে হয় ১২৪ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এক বছরে মাস্কের সম্পদমূল্য ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি কমে যায়।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে মার্কিন নির্বাচনের সময় মাস্কের সম্পদমূল্য ছিল ২৬৪ বিলিয়ন বা ২৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের মে মাসে যখন তিনি ট্রাম্প প্রশাসন ছেড়ে আসেন, তখন তাঁর সম্পদমূল্য ৩৮৭ বিলিয়ন বা ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যখন স্পেসএক্সের আইপিও বাজারে আসার খবর বেরোয়, তখন মাস্কের সম্পদমূল্য ৬৩৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে স্পেসএক্স ও এক্সএআই একীভূত হওয়ার সময় মাস্কের সম্পদমূল্য ছিল ৬৭০ বিলিয়ন বা ৬৭ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ার পর মাস্কের সম্পদমূল্য উল্কার গতিতে বেড়েছে।
মহামারির সময় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর যে বাড়বাড়ন্ত হয়, তার সুফল পেয়েছেন মাস্ক। তবে ২০২২ সালে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম পড়ে গেলে তাঁর সম্পদমূল্যে ভাটা পড়ে। আবার ২০২৫ সালের শুরুতেও মাস্কের সম্পদমূল্য অনেকটা কমে যায়। ট্রাম্প প্রশাসনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ থেকে টেসলার শেয়ারদর কমে যায়।
কিন্তু প্রতিবারই মাস্ক আরও শক্তি নিয়ে ফিরেছেন। এখন ট্রিলিয়নিয়ার মাস্ক তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ল্যারি পেজের চেয়ে প্রায় চার গুণ এবং মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি ধনী।
মনে রাখা জরুরি, মাস্কের সম্পদ মূলত শেয়ার সম্পদ। এই সম্পদের মূল্য বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ওপর ভিত্তি করে ওঠানামা করতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে নিজের এক্সে অ্যাকাউন্টে এই প্রযুক্তি মোগল বলেন, তাঁর নিট সম্পদের ‘শূন্য দশমিক ১ শতাংশেরও কম’ নগদে অর্থে আছে।
বর্তমানে টেসলায় মাস্কের অংশীদারত্ব ১২ শতাংশ, স্পেসএক্সে ৪২ শতাংশ। তাঁর অনেক শেয়ার আবার ব্যক্তিগত ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা হয়েছে। নগদের বদলে কাগজের সম্পদের ওপর এমন নির্ভরতা একধরনের অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে এই প্রযুক্তি গুরুর ছোট ব্যবসায়ও অংশীদারত্ব আছে, এর মধ্যে টানেল নির্মাণকারী দ্য বোরিং কোম্পানি ও নিউরালিংক উল্লেখযোগ্য।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিরা আর্থিক ও শিল্পের মতো খাতে সম্পদ গড়েছেন। কিন্তু এখনকার ধনীদের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর মধ্যে মাত্র দুজন ছিলেন প্রযুক্তিজগতের। এখন সেই সংখ্যা সাত, আর শীর্ষ ছয়জনই প্রযুক্তি খাতের।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরানের সব এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসনেট জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের এয়ারলাইনসগুলো আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ হারাবে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইরানের ২৭টি এয়ারলাইনসকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করেছিল মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে চীনের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। আগামী দুই দিনের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই পরিকল্পনায় দেশটির ব্যাংকিং ও বাণিজ্য খাতের পাশাপাশি প্রযুক্তি, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন খাতকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার দিনেই বাংলাদেশে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। কাজেই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে কেন বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম? সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং পরিবহন ব্যয় বা ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশে সেই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি। এর ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসিকে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের বাড়তি ব্যয় এবং বিপিসির লোকসান সমন্বয়ের অংশ হিসেবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। একই সময়ে কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা এবং অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হয়। পরে জুনে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রথম দিক পর্যন্ত এসব জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত ছিল। তবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারের চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ক্ষয়ক্ষতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা থাকলেও প্রত্যাশার তুলনায় তেলের সরবরাহ শক্তিশালী থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। সিএনবিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৪৬ ডলারে দাঁড়ায়। অর্থাৎ দেশে নতুন দাম নির্ধারণের দিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও সরকারের সিদ্ধান্তটি এক দিনের আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে নেয়া হয়নি। এর পেছনে গত কয়েক মাসের আন্তর্জাতিক বাজারদর, যুদ্ধের কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিপিসির পুঞ্জিভুত লোকসানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে জ্বালানির দাম ভবিষ্যতে আবার সমন্বয় করা হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় এবং বিপিসির আর্থিক অবস্থাতেও তার প্রভাব পড়ে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরেও পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল আসিম মুনিরের কাছে বিশ্ব পরিস্থিতি ছিল আজকের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। সৌদি আরবের রিয়াদে সে সময় উপস্থিত থেকে ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী হন তিনি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ বলছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ওই চুক্তির আয়োজন করেছিলেন মুনির। তার কাছে সেটি ছিল বড় কৌশলগত সাফল্য। অর্থ সংকটে থাকা পাকিস্তানকে সৌদি আরব বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ও ঋণ দেবে। বিনিময়ে পাকিস্তান সৌদি সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে দেশটিকে রক্ষা করতে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী এগিয়ে আসবে। তখন এমন হামলার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, তখন পাকিস্তান ধরে নিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক শিগগিরই আবার স্বাভাবিক হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম। তবে এরপর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এখন পাকিস্তান, বিশেষ করে আসিম মুনিরের ওপর চাপ ক্রমে বাড়ছে। আগস্টে সৌদি আরবের সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রসারিত করা হয় এবং এর নতুন নাম দেওয়া হয় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। তিন দেশ সম্মত হয়, তাদের যে কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কিংস কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সিনিয়র ফেলো আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘আমার মনে হয় না আসিম মুনির এই অঞ্চলের সামনে থাকা হুমকিগুলো যথাযথভাবে হিসাব করেছিলেন এবং এত দ্রুত যে পাকিস্তানকে নিজেদের সেনাদের যুদ্ধে নামাতে হতে পারে, সেটিও তিনি ভাবেননি।’ সৌদি আরবের কাছে কয়েক হাজার কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বাস্তব যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা তাদের নেই। অন্যদিকে হুতিরা কঠিন ও দৃঢ় প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। ভারতের স্থায়ী হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রশিক্ষিত পাকিস্তানি বাহিনী তাই যুদ্ধের সম্মুখসারিতে সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব যদি হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মক্কা চুক্তি সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পাকিস্তানের সামনে সেনা পাঠানো ছাড়া খুব বেশি বিকল্প থাকবে না। এর মধ্যে সৌদি আরবে প্রশিক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে মোতায়েন থাকা হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনাও রয়েছে। প্রতিরক্ষা অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তান অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিকভাবে প্রায় পুরোপুরি সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি সৌদি আরব পাকিস্তানকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থ ও বিনিয়োগ দিয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সরকারি মন্ত্রী ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিতে শুরু করেন। তারা চুক্তির প্রতি পাকিস্তানের ‘শর্তহীন’ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সৌদি আরবকে রক্ষায় ইসলামাবাদ ‘যে কোনো পর্যায়ে’ যেতে প্রস্তুত বলে জানান। তবে ব্যক্তিগত আলোচনায় পাকিস্তানের কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে দেশটি জড়িয়ে পড়া নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পাকিস্তান এরই মধ্যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে কার্যত সংঘাতের মধ্যে রয়েছে এবং জঙ্গি তৎপরতার বৃদ্ধির মুখোমুখি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মক্কা চুক্তি সক্রিয় করার মতো ঠিক কোন পরিস্থিতিকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান সম্ভবত ধরে নিচ্ছে যে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই বাড়ানোর মাধ্যমে সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। তুরস্কও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা এই সংঘাতে জড়াতে চায় না