তুষারপাত ও তীব্র শীতের কারণে বুধবার সকালে প্যারিসের শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
পাশাপাশি ফ্রান্সের রাজধানীর অরলি বিমানবন্দরে বাতিল করা হয়েছে আরো ৪০টি ফ্লাইট। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
মঙ্গলবার গভীর রাতেই এই বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো সিএনিউজ টেলিভিশনকে বলেন, বুধবার বিকেলের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন তিনি।
সড়ক বরফে ঢেকে যাওয়ার কারণে প্যারিস ও আশপাশের উপশহরে বাস চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে পরিবহন কর্মকর্তারা জানান। তবে, মেট্রো ও শহরতলির রেলব্যবস্থার বেশিরভাগই সচল রয়েছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশের মূল ভূখণ্ডের ৯৬টি বিভাগের মধ্যে ৩৮টি ভারী তুষারপাত ও বরফ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে তিন থেকে সাত সেন্টিমিটার তুষার জমেছে।
সংস্থাটি জানায়, এই শৈত্যপ্রবাহ মৌসুমের তুলনায় ‘অস্বাভাবিকভাবে তীব্র।’ এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ বুধবার প্যারিসের জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে ও সম্ভব হলে বাসা থেকে কাজ করতে আগেই সতর্ক করেছে।
চলতি মৌসুমে ইউরোপজুড়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র এই শৈত্যপ্রবাহে ফ্রান্সে আবহাওয়া-সম্পর্কিত দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গ শাখার নেতা শুভেন্দু অধিকারীর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গাড়ি থামিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় বুদ্ধদেব নামের আরো একজন আহত হন। বুধবার (৬ মে) রাতে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যমগ্রামের দোহারিয়াতে এ ঘটনা ঘটে। চন্দ্রনাথ রথ পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা হলেও উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকায় থাকতেন। শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী ছিলেন চন্দ্রনাথ। তার হয়ে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, সভামঞ্চের তদারকিসহ সবকিছুই সামলাতেন চন্দ্রনাথ। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনেও শুভেন্দুর ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সব কাজই সামলাতেন তিনি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি বাইক থেকে গুলি করা হয়েছে। সেই গাড়ির ছবিও সামনে এসেছে, যার কাচে তিনটি বুলেটের চিহ্ন স্পষ্ট। বাইকের কোনো নম্বর প্লেট ছিল না। বাইকে কারা ছিলেন? দুর্বৃত্তরা আসলে কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয় পুলিশের কাছে। আততায়ীদের মাথায় হেলমেট ছিল। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার কাছে গাড়িটিকে থামানো হয়। তারপর কাচ ভেদ করে গুলি করা হয় চন্দ্রনাথকে। জানা গেছে, কাজের সূত্রে মধ্যমগ্রাম থেকে বারাসতের দিকে যাচ্ছিলেন। তখনই কেউ বা কারা বাইকে এসে গাড়িটি থামিয়ে গুলি করা হয়। গুলি লাগে মাথায় ও পেটে। গাড়ির চালকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এসএসকেএমে চিকিৎসা চলছে তার। বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর হয়ে যে ‘টিম’ কাজ করেছিল তার অন্যতম সদস্য ছিলেন চন্দ্রনাথ। তার সঙ্গে গুলিবিদ্ধ বুদ্ধদেবও ওই টিমের সদস্য ছিলেন। ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন বিজেপির একাধিক নেতা। সদ্য নির্বাচিত প্রার্থীরাও উপস্থিত রয়েছেন। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে পৌঁছবেন বলে জানা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল বিজয়ের তিন দিনের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটল।
গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়, তখন এই পদক্ষেপের প্রভাব তেলের বাজারের বাইরেও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের একসময়ের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব ভেঙে গিয়ে প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত। ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবই ছিল তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকের প্রভাবশালী সদস্য। সৌদি আরব তাদের বিশাল উৎপাদনক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাপী তেলের দামকে প্রভাবিত করেছে। তাই এই সংস্থা থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নিয়ন্ত্রিত বলে মনে করা হতো। সৌদি ও আমিরাতের নেতাদের মধ্যে এই মতপার্থক্য রাতারাতি ঘটেনি। এক দশক আগে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং আমিরাতের নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকে আদর্শগতভাবে অভিন্ন মিত্র হিসেবে দেখা হতো। আরব বসন্তের জোয়ারকে তারা তাদের শাসনব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে দেখতেন। এই অঞ্চলটিকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টায় উভয়েই ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী, দৃঢ়চেতা এবং একমত। একসঙ্গে তারা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগে তারা পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী কাতারকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যও যৌথভাবে পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা কাতার অস্বীকার করে। তারা তাদের অভিন্ন আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। আজ সেই সম্পর্কটি অনেকটাই ভিন্ন। দেশ দুটি আঞ্চলিক যুদ্ধে ক্রমশই পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করছে, পরস্পরবিরোধী জ্বালানি কৌশল অনুসরণ করছে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। তেল ও অর্থনীতি নিয়ে সংঘাত কয়েক দশক ধরে, আমিরাতের দুবাই শহর মধ্যপ্রাচ্যের অর্থায়ন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলোর প্রধান কেন্দ্র ছিল। কিন্তু গত ১০ বছরে, সৌদি আরবকে ব্যবসা ও পর্যটনের এক শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত করতে যুবরাজ মোহাম্মদের ব্যাপক পরিকল্পনা দেশটিকে ক্রমশ আমিরাতের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিয়েছে। সৌদি কর্মকর্তারা এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুস্পষ্ট করে তোলেন একটি ঘোষণার মাধ্যমে। তারা সরকারের সঙ্গে লাভজনক চুক্তি করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে রাজধানী রিয়াদে আঞ্চলিক সদর দপ্তর স্থাপন করতে বাধ্য করেন। গত বছরের মার্চ মাসে সৌদি কর্মকর্তারা জানান যে, ৬০০-র বেশি সংস্থা রিয়াদে আঞ্চলিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। আমিরাতের কর্মকর্তাদের কাছে বার্তাটি ছিল সুস্পষ্ট: সৌদি আরব আর তেল সম্পদ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর নির্ভর করে সন্তুষ্ট নয়, বরং তারা সরাসরি তাদের অর্থনৈতিক ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে। উভয় দেশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বৈশ্বিক অবকাঠামোর মতো উদীয়মান খাতগুলোতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে এবং প্রায়শই একই বিনিয়োগকারী ও বাজারকে লক্ষ্য করছে। যদিও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ওপেকে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। আমিরাতের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন যে, ওপেক তাদের উৎপাদন সক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে বাধা দিয়েছে। মিত্রতা থেকে সংঘাতে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত দরিদ্র ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনে এই বিভাজন স্পষ্ট। ২০১৫ সালে যখন সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বোমা হামলা শুরু করে, তখন তারা ইরান-সমর্থিত হুথিদের মোকাবিলা করতে এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরুদ্ধার করতে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট উপস্থাপন করেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, সেই অভিন্ন লক্ষ্যে ভাঙন ধরে। একটি দীর্ঘ, অরক্ষিত সীমান্ত থাকায়, সৌদি আরব তার দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিকূল শক্তির হুমকি প্রতিরোধের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ ইয়েমেনকে অপরিহার্য বলে মনে করে। ইয়েমেনের সঙ্গে কোনো সীমান্ত না থাকায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত সেখানে নিজস্ব মিত্র তৈরি করেছে। বিশেষ করে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে সমর্থন দিচ্ছে তারা। এই সশস্ত্র গোষ্ঠী দক্ষিণে একটি বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। উদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলে সঙ্গে জোটের মাধ্যমে আমিরাত দক্ষিণ আরব উপদ্বীপের কৌশলগত বন্দর ও নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে স্বার্থের এই ভিন্নতা সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয়। আমিরাত সমর্থিত গোষ্ঠী দক্ষিণ ও পূর্ব ইয়েমেনের ভূখণ্ড দখল করে নেয়, যা সৌদি স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিসেম্বরে এই সংকট চরমে পৌঁছায়। সে সময় সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী পণ্যবাহী জাহাজের ওপর হামলা চালায়। এ বিষয়ে তাদের দাবি ছিল, ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য ওই জাহাজে করে অস্ত্র পাঠাচ্ছিল আমিরাত। সুদান নিয়ে দ্বন্দ্ব সুদানের গৃহযুদ্ধ নিয়েও দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। দেশটিতে গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের পতনের পর, সৌদি আরব এবং আমিরাত উভয়ই সুদানের রাজনৈতিক পালাবদলকে নিজেদের অনুকূলে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। দেশটি যখন সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছিল, তখন তাদের পথ ভিন্ন হয়ে যায়। সৌদি আরব সুদানের সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করে এবং এই সমর্থনকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা ও আরো বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মিশরের নিরাপত্তা এবং লোহিত সাগরের ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য সুদানের স্থিতিশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন রিয়াদ। আমিরাতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী আধাসামরিক গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সমর্থন করার অভিযোগ উঠেছে। এর বিপরীতে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আমিরাতের কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দ্বন্দ্ব থাকলেও সম্পর্ক ছিন্ন করার লক্ষণ নেই এই ফাটল হোয়াইট হাউস পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমিরাতের শেখ মোহাম্মদকে জানিয়েছিলেন, সুদানে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সমর্থন দেওয়ায় আমিরাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে তাকে অনুরোধ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ তাকে । ওই আলাপচারিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজন ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। দ্বন্দ্ব থাকলেও সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি দেশ দু’টি। উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা এই সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন। ঐতিহাসিকভাবে, সংকটের সময়ে দেশ দুটি ঐক্যবদ্ধ থেকেছে। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন করে ইরানি হামলার শিকার হওয়ার পর, শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকে ফোন করে ওই হামলার নিন্দা জানান মোহাম্মদ বিন সালমান। আমিরাতের নিরাপত্তা রক্ষায় সংগতিও প্রকাশ করেন তিনি। তবে আমিরাতের ওপেক ত্যাগ এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধও এই দুই নেতার মধ্যকার উত্তেজনা দূর করতে পারছে না। উপসাগরীয় এই দুই পরাশক্তির মধ্যকার টানাপোড়েনের সম্পর্ক সম্ভবত আগামী বছরগুলোতে এই অঞ্চলের গতিপথকে প্রভাবিত করবে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস
রাশিয়ার পর এবার চীন সফরে গেলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল নিয়ে বুধবার (০৬ মে) তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। খবর আল জাজিরার। ইতিমধ্যেই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেইজিংয়ে বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের আলোচনা করার কথা রয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফর করেছেন। রাশিয়া সফরে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। মস্কো সফরের পরপরই এবার বেইজিং সফরে এলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি এবং একটি সমঝোতার লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালিতে চলমান সামরিক অভিযান প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশ সময় বুধবার (০৬ মে) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতির কারণে প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হলো। তবে ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।