খেলাধুলা

ট্রেবলের চাপেও ‘কাবু নন’ পেপ গুয়ার্দিওলা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ম্যানচেস্টার সিটিতে কোচিং ক্যারিয়ারে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন পেপ গুয়ার্দিওলা। তবে এখনও কোনো ‘ক্লান্তি আসেনি তার বা কোনোরকম একঘেয়েমিও পেয়ে বসেনি’ এই স্প্যানিয়ার্ডকে। বরং তার মধ্যে এখনও ‘অবিশ্বাস্য মাত্রার প্রাণশক্তি’ আছে বলে দাবি গুয়ার্দিওলার।

 

ক্লাবটিতে ভুরিভুরি সাফল্য পেয়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে একটি শিরোপা জয়ী দলটির সামনে আছে ট্রেবল জয়ের হাতছানি। তবে এতে কোনোরকম বাড়তি চাপ অনুভব করছেন না, জানালেন গুয়ার্দিওলা।

 

সিটি শিবিরে কয়েক মাস ধরে একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, চলতি মৌসুম শেষে ক্লাব ছেড়ে যেতে পারেন গুয়ার্দিওলা। এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন অবশ্য তিনি বললেন, এই ক্লাবে কাজ করতে এখনও তিনি আগের মতোই প্রেরণা পান।
এখানকার আবহ এতটা অবিশ্বাস্য না হলে, এত এত শিরোপা জয়ের পরও আমি এখানে ১০ বছর থাকতাম না। আমার মধ্যে এখনও অবিশ্বাস্য মাত্রায় প্রাণশক্তি আছে, এখনও আমি যথেষ্ট ভালো, ছুটির দিনেও কাজ করতে চলে আসি।

 

“অবশ্যই আমরা এখানে (এখনও) আছি, কারণ আমরা অনেক জিতেছি- আর একারণেই তারা আমাকে ছাঁটাই করেনি, কারণ তারা এখনও আমার প্রতি বিশ্বাস রেখেছে- তবে এসবের পাশাপাশি এই ক্লাব সত্যিই অসাধারণ।

 

গুয়ার্দিওলা আরও বললেন, যেকোনো রকমের কঠিন সময়ে এই ক্লাব কোচ, খেলোয়াড়দের খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখে। আর এই বিষয়টা তার খুবই ভালো লাগে।


গত মার্চে আর্সেনালকে ফাইনালে হারিয়ে লিগ কাপ জয় করে সিটি। এফএ কাপের ফাইনালে উঠেছে তারা। প্রিমিয়ার লিগে দলটি ভালোমতোই আছে শিরোপা লড়াইয়ে।

 

৩৩ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে গুয়ার্দিওলার দল, দুই ম্যাচ বেশি খেলে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। তাই হাতে বেশি থাকা দুটি ম্যাচ জিতলে শীর্ষে উঠতে পারে সিটি এবং শিরোপা লড়াইয়ের লাগামও থাকবে তাদের হাতে।

 

মৌসুমের এই অবস্থায় আরও বড় প্রাপ্তির হাতছানিতে অনেকে স্নায়ুচাপে ভুগলেও, গুয়ার্দিওলা বরং শান্ত আছেন।

 

“ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে আমি (কিছুটা চাপ) অনুভব করি, কিন্তু দুই ম্যাচের মাঝে প্রস্তুতির সময় আমি শান্ত থাকি।

 

“গত মৌসুমে আমি ২৪ ঘণ্টাই চিন্তা করতাম, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উঠতে না পারলে কী হবে’? এই চাপ তখন অনেক অনুভব করেছি। যে দলগুলো অবনমন এড়ানোর জন্য লড়াই করে, তাদের পরিস্থিতি চিন্তাই করতে পারি না।”

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ফিফার বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত বহাল রাখল উয়েফা

ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা বাতিলের পরও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা(উয়েফা)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার বিশ্ববাপ ফুটবলসহ প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে তাদের ৫৫টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এখনো অটল রয়েছে।   তারা জোর দিয়ে বলেছে, ফিফায় ফিরে আসার জন্য তাদের দেওয়া প্রধান শর্তগুলো পূরণে বিশ্ব ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রির পর ঘোষণার পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সর্বসম্মতিক্রমে ফিফার সব ইভেন্ট থেকে সরে আসার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। এরপর ইনফান্তিনো সেই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেন এবং ক্রীড়াঙ্গন থেকে তীব্র চাপের মুখে বুধবার মরক্কোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন লাভ করেন।   তবে উয়েফা জানিয়েছে, ফিফার সঙ্গে পুনরায় সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ইনফান্তিনোর শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা প্রত্যাহারই একমাত্র শর্ত ছিল না। বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে উয়েফার অন্তর্ভুক্ত অ্যাসোসিয়েশনগুলোর শর্তগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। প্রথমত প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাহার এবং ফুটবলকে বিকৃত করার প্রচেষ্টা আর কখনোই করা হবে না। এই শর্তগুলো পূরণ করা হয়নি।   উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ফিফা ও ইনফান্তিনো একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করে এবং দাবি করে, উপস্থিত সবার পূর্ণ সমর্থন সভাপতির প্রতি রয়েছে। এমনকি তারা নিজেদের কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমাও চায় এবং ভবিষ্যতে যাতে এমনটা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়।   কিন্তু উয়েফা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি এবং একটি কঠোর বার্তা দিয়েছে, যেখানে ফিফার শীর্ষ পদে কে থাকবেন, সেই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শনিবার দেওয়া বিবৃতিতে উয়েফা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আর কোনো আস্থা নেই। বৃহস্পতিবারের(৬ আগস্ট) বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেই অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। যেখানে ফিফা সভাপতির অধীনে কর্মরত এবং তার অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন তাতে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয় না।   উয়েফা মঙ্গলবার আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে যে, তারা ফিফার কাছে একটি ‘নথি সংরক্ষণ সংক্রান্ত চিঠি’  পাঠিয়েছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো, চলমান বা ভবিষ্যতে হতে পারে এমন কোনো আইনি প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য প্রমাণ যাতে মুছে ফেলা বা ধ্বংস না করা হয়, তা নিশ্চিত করা।   সংকটকবলিত বর্তমান প্রধানের ওপর যখন চাপ বাড়ছে, তখন মহাদেশীয় সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার বৃহস্পতিবার বলেছেন, ফিফার পরবর্তী সভাপতিকে হতে হবে ‘এই খেলার অভিভাবক’, যিনি বিশ্ব ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম। ফিফার আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে উয়েফার বয়কটের বিষয়টি প্রথম পরীক্ষার মুখে পড়বে ৫ সেপ্টেম্বর। ওই দিন পোল্যান্ডে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে ইতিহাসে বাটলার

ছবি: সংগৃহীত

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ম্যাচ, আয়ারল্যান্ডের সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন অনিশ্চিত

সংগৃহীত ছবি

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় চাপে আয়ারল্যান্ড

সংগৃহীত ছবি
ত্রিনিদাদ টেস্টে পাকিস্তানের দাপট, পাত্তাই পেল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ত্রিনিদাদে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে আবদুল্লাহ শফিকের দুর্দান্ত ১৬০ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নেয় সফরকারীরা।   এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে সাজিদ খান ও আলি উসমানের ঘূর্ণিতে মাত্র ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে জয়ের জন্য ৭৫ রানের সহজ লক্ষ্য পায় পাকিস্তান, যা তারা ২৩.৩ ওভারেই মাত্র দুটি উইকেট হারিয়ে টপকে যায়। ফলে সিরিজ ড্র হলো।   ম্যাচের ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রথম ইনিংসেই। টসের পর ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৪৪ রান সংগ্রহ করলেও বড় সংগ্রহের সুযোগ হাতছাড়া করে। জাস্টিন গ্রিভস ৭৩ ও অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৭০ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। ব্রেন্ডন কিং ৪৬ রান করেন, শাই হোপ যোগ করেন ২৯ রান। তবে কেউই ইনিংসকে শতকের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি।   পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অফস্পিনার সাজিদ খান। তিনি ৩২.৪ ওভারে ৮৫ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। সমানভাবে কার্যকর ছিলেন আলি উসমান, ৩৫ ওভারে ৮০ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট। মোহাম্মদ আলি ও উবাইদ শাহও দুটি করে উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের বড় সংগ্রহ থেকে আটকে রাখেন।   জবাবে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ৩৪ রানেই হারায় ইমাম-উল-হককে। তবে আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ শফিক দ্বিতীয় উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন। আজান ৫৫ রান করে ফিরলেও এরপর বাবর আজমকে নিয়ে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন শফিক।   তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ১৮৩ রান। বাবর ১৪৭ বলে ৮৮ রানের দারুণ ইনিংস খেললেও শতকের আক্ষেপ নিয়ে রানআউট হন। অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন আবদুল্লাহ শফিক। ৩২৩ বল মোকাবিলা করে ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় ১৬০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন এই ওপেনার।   নিচের সারিতে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ১৮ ও সাজিদ খানের ৩০ রান পাকিস্তানকে ৩৮৭ রানে পৌঁছে দেয়। ফলে প্রথম ইনিংস শেষে ৪৩ রানের মূল্যবান লিড নেয় সফরকারীরা।   ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান। তিনি ৪৬ ওভারে ১১২ রান দিয়ে একাই ৬ উইকেট শিকার করেন। শামার জোসেফ নেন দুটি এবং জেইডেন সিলস একটি উইকেট।   দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৪০ রান ওঠার পর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। কেভেম হজ সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন।   রস্টন চেইজ ১৭, শাই হোপ ১৫ ও ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ১৭ রান করলেও আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। ইনজুরির কারণে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রান করা ব্র্যান্ডন কিং দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটই করতে পারেননি।   ফলে ৪৬.১ ওভারে মাত্র ১১৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানের হয়ে আবারও জ্বলে ওঠেন সাজিদ খান ও আলি উসমান। দুজনই ৪টি করে উইকেট শিকার করেন। আলি উসমান ১৯.১ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন, আর সাজিদ খান ১২ ওভারে ৩২ রান খরচায় সমানসংখ্যক উইকেট তুলে নেন। মোহাম্মদ আলি নেন বাকি একটি উইকেট।   ৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান যদিও শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায়। ইমাম-উল-হক ৯ এবং আজান আওয়াইস ১৮ রান করে ফেরেন। তবে কোনো নাটকীয়তার সুযোগ দেননি আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম। তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটিতে দলকে জয় এনে দেন তারা।   শফিক ৫১ বলে অপরাজিত ২৪ রান করেন। বাবরও ৩০ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন, যার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। ২৩.৩ ওভারেই ২ উইকেটে ৭৭ রান তুলে ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলো।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

পোলার্ডের রেকর্ড ভেঙে টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষে বাটলার

সংগৃহীত ছবি

ভিনিসিয়াসকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব রিয়ালের

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ ছক্কায় ঝড়ো ফিফটি, জাফনার হয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন হৃদয়

তাওহীদ হৃদয় ও সাকিব আল হাসান। ছবি : সংগৃহীত
হৃদয়ের ঝোড়ো ব্যাটিং ও সাকিবের উইকেটে ফাইনালে জাফনা কিংস

তাওহীদ হৃদয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে এলপিএলের ফাইনালে উঠেছে জাফনা কিংস। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে লিগ পর্ব শেষ করার পর প্রথম কোয়ালিফায়ারেও দাপট দেখিয়েছে দলটি। গল গ্যালান্টসকে ২৪৩ রানের অসম্ভব লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন সাকিব-হৃদয়রা।     কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় গল গ্যালান্টস। নুরুল হাসান সোহান গলের একাদশে জায়গা না পেলেও জাফনার একাদশে ছিলেন তাওহীদ হৃদয় ও সাকিব আল হাসান দুজনই।     যদিও শুরুতে হৃদয়কে খুব একটা ভাবতেই হয়নি দলের কথা। কারণ কামিল মিশারা ও খাজা নাফে মিলে রীতিমত উড়ছিলেন। অভিষকা ফার্নান্দো ১৪ বলে ১৯ রান করে বিদায় নিলে দুজনে গড়েন ১৩৮ রানের অনবদ্য জুটি। যে জুটি ভাঙে ৩২ বলে ৫৪ রান করে নাফে বিদায় নিলে। তার আগে বিপিএল দিয়ে উঠে আসা পাকিস্তানি এই তরুণ চারটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকান।   দলীয় ১৭৩ রানে নাফে বিদায় নিলে অধিনায়ক ভানুকা রাজাপক্ষে নিজে ক্রিজে না নেমে ভরসা করেন হৃদয়ের ওপর। আর হৃদয় নেমেই শুরু করেন তাণ্ডব। একের পর এক ছক্কা হাকিয়ে ভেঙে দেন গল গ্যালান্টসের বোলারদের মনোবল। আর দলের রানও তড়তড় করে বাড়তে থাকে।     ঈশান মালিঙ্গার করা ১৯তম ওভারে টানা দুই ছক্কা হাঁকান হৃদয়। শেষ ওভার শুরু করেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক দাসুন শানাকাকে ছক্কা হাঁকিয়ে। সেই ওভারে আরও একটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকান। এক ওভার থেকেই নেন ২২ রান। মাত্র ২০ বলে অর্ধশতক পূরণের পর ২১ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। তিনটি চারের সাথে হাঁকান পাঁচটি ছক্কা, যেখানে স্ট্রাইক রেট ছিল ২৫৭.১৪। তার এই দানবীয় ইনিংসের সামনে মলিন হয়ে যায় কামিল মিশারার ৫৫ বলে গড়া ১০৮ রানের অপরাজিত ইনিংসও। হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ফিনিশিংয়ে নিরধারিত ২০ ওভার শেষ ২ উইকেট হারিয়ে ২৪২ রান দাঁড়ায় জাফনার সংগ্রহ।     জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে গলও। তবে হৃদয়ের ফিনিশিংয়ে যে পাহাড়সম রান জড়ো করেছিল জাফনা, তা পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়নি দলটির। বল হাতে এদিন খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি সাকিব আল হাসান। তবে শেষপর্যন্ত ফাইনাল নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে জাফনা কিংস।     কিছুটা খরুচে হলেও সাকিবকে অবশ্য উইকেটশূন্য থাকতে হয়নি। ১৪তম ওভারে তিনি সাজঘরে ফেরান ভয়ংকর হয়ে ওঠা চামিকা করুনারত্নেকে, ২১ বলে তিনটি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে যিনি ৩৯ রান করেন। সাকিবের এনে দেওয়া ব্রেক থ্রুর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি গল। ফাইনালে যাওয়ার জন্য অবশ্য আরেকটি সুযোগ পাবে দলটি।     গলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান আসে ওপেনার স্যাম হার্পারের ব্যাট থেকে। জাফনার পক্ষে মোহাম্মদ সিরাজ তিনটি ও লিজাড উইলিয়ামস দুটি উইকেট পান। একটি উইকেট পাওয়া সাকিব ৩ ওভারে খরচ করেছেন ৩৬ রান।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডারউইনে অনুশীলন শেষ করলেন লিটন, প্রস্তুতি ম্যাচে খেলা নিয়ে পর্যবেক্ষণ

ছবি: সংগৃহীত

ইনফান্তিনোর পদত্যাগ চেয়ে লুইস ফিগোর খোলা চিঠি

ছবি: সংগৃহীত

কমনওয়েলথ গেমস শেষে দেশে ফেরেননি উগান্ডা-পাকিস্তানের পাঁচ বক্সার

0 Comments