জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা-৭–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘ভিক্ষা’ করেছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, সে (মেলোনি) আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘ভিক্ষা’ করেছিল। সে আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য খুবই মরিয়া ছিল। আমি আসলে ছবি তুলতাম না, কিন্তু তার জন্য খারাপ লাগায় রাজি হয়েছিলাম।
ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, আমি কিংবা ইতালি কখনো কারও কাছে কিছু ‘ভিক্ষা’ চায় না।
মেলোনি আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন তার মিত্রদের প্রতি এমন আচরণ করেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এক বার্তায় মেলোনি বলেন, ‘আমি জানি না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন। এটি প্রথমবার নয়। হতাশাজনক বিষয় হলো, পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের প্রতি তিনি এমন কঠোর অবস্থান দেখান না; বরং তাদের নেতাদের প্রতি অনেক বেশি সহনশীলতা প্রদর্শন করেন।’
এ ঘটনায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ইতালির প্রতি অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাজানি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে করা গুরুতর ও অপমানজনক মন্তব্য পুরো ইতালিকেই অপমান করেছে। এজন্য আগামী ২১ ও ২২ জুন নির্ধারিত আমার যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সূত্র: রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সৌদি আরবের একাধিকবার প্রবেশের সুবিধাসহ (মাল্টিপল-এন্ট্রি) ওমরাহ ভিসার মেয়াদ ৩৬৫ দিন হলেও, প্রতিবার ওমরাহ পালনের আগে নতুন করে অনুমোদিত সার্ভিস প্যাকেজ কেনা ও ওমরাহ পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। রোববার গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাল্টিপল-এন্ট্রি ওমরাহ ভিসাধারীদের প্রতিটি সফরের জন্য নুসুক প্ল্যাটফর্মে অনুমোদিত ওমরাহ সেবা প্রদানকারীর কাছ থেকে সার্ভিস প্যাকেজ কিনতে হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে যাওয়ার আগে নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে ওমরাহ পারমিট নিতে হবে। জুলাইয়ে চালু হওয়া এই মাল্টিপল-এন্ট্রি ওমরাহ ভিসার মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ৩৬৫ দিন। এই সময়ের মধ্যে ভিসাধারীরা একাধিকবার সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে পুরো ভিসার মেয়াদজুড়ে সৌদিতে অবস্থানের মোট সময় সর্বোচ্চ ৯০ দিন । মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো ওমরাহ পালনকারীদের সফর পরিকল্পনায় আরও নমনীয়তা দেওয়া। তবে ভিসার মেয়াদ এক বছর হওয়ায় প্রতিটি সফরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বুকিং ও অনুমতিপত্রের শর্ত বাতিল হবে না। মন্ত্রণালয়ের এই ব্যাখ্যার ফলে স্পষ্ট হয়েছে, শুধু বৈধ মাল্টিপল-এন্ট্রি ওমরাহ ভিসা থাকলেই পরবর্তী সফরে সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালন করা যাবে না। প্রতিবার যাওয়ার আগে অনুমোদিত সার্ভিস প্যাকেজ বুকিং এবং ওমরাহ পারমিট নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের অন্যান্য প্রবেশ ও ভ্রমণসংক্রান্ত যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি সফরের জন্য কেনা সার্ভিস প্যাকেজের মেয়াদ ভিসায় অবশিষ্ট অনুমোদিত সময়ের বেশি হতে পারবে না। একইভাবে, নুসুক অ্যাপ থেকে নেওয়া ওমরাহ পারমিটের তারিখও সার্ভিস প্যাকেজের তারিখের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। প্রথমবার সৌদি যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে নুসুকের মাধ্যমে অনুমোদিত সার্ভিস প্যাকেজ কিনতে হবে। এরপর ভিসার আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সৌদি আরবে বিমানে ওঠার আগেও ভ্রমণকারীর যোগ্যতা যাচাই করা হবে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর প্রবেশের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। পরে দেশ ছাড়ার সময় প্রস্থান-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করে ভিসাধারীর ৯০ দিনের মোট অনুমোদিত অবস্থানকাল থেকে কত দিন ব্যবহৃত হয়েছে, তা হিসাব করা হবে। সূত্র: গালফ নিউজ
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ২০২৫ সালে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ। একই সময়ে রোগটিতে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের। তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার দেশটির জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রকাশিত তথ্য থেকে এ সংখ্যা জানা গেছে। এতে বলা হয়, গত বছর ম্যালেরিয়ায় মোট ২৯ হাজার ৯৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উপপরিচালক গাই দেমবো বলেন, ম্যালেরিয়া এখনো কঙ্গোর সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সংকটগুলোর একটি। তিনি বলেন, বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরও দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের ওপর ম্যালেরিয়ার চাপ অনেক বেশি। তাই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি নতুন পদ্ধতিও খুঁজে বের করতে হবে। ইতুরি প্রদেশে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দেমবো জানান, ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে ম্যালেরিয়ার ওষুধ বিতরণ শুরু করেছে সরকার। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ ও আক্রান্তদের চিকিৎসায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ম্যালেরিয়া নির্মূলে সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী, বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন দেমবো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা অঞ্চলে প্রতিবছর ম্যালেরিয়ায় লাখো মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে ছোট শিশুরা। সূত্র: আনাদোলু
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রায় ৭০ হাজার কোটি রুপির সাবমেরিন প্রকল্পে এবার অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ভারতে। জার্মানির সঙ্গে ছয়টি অত্যাধুনিক প্রচলিত সাবমেরিন তৈরির এই প্রকল্পের প্রস্তাব শিগগিরই ভারতের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। অনুমোদন মিললে চুক্তি সই ও নির্মাণকাজ শুরুর পথ খুলে যাবে। প্রজেক্ট-৭৫(আই) নামের এই প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছয়টি সাবমেরিন তৈরি করা হবে। মুম্বাইয়ের মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স এবং জার্মানির থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (টিকেএমএস) যৌথভাবে ভারতে এসব সাবমেরিন তৈরি করবে। প্রকল্পটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক বছর ধরে আলোচনা চলছে। তবে দাম, বাণিজ্যিক শর্ত এবং প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে চুক্তিটি বারবার পিছিয়েছে। ভারতের জন্য এই প্রকল্প শুধু ছয়টি নতুন সাবমেরিন কেনার বিষয় নয়। দেশেই সাবমেরিন তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের সক্ষমতা গড়ে তোলাও এর বড় লক্ষ্য। এরই মধ্যে টিকেএমএস ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব তৈরি করছে। হায়দরাবাদের ভিইএম টেকনোলজিসের সঙ্গে ভারী টর্পেডো তৈরি, সংযোজন ও ভবিষ্যতে আধুনিকায়নের বিষয়ে কাজ করছে জার্মান প্রতিষ্ঠানটি। টিকেএমএসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটলাস ইলেকট্রনিকও এতে যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি মুম্বাইয়ের সিএফএফ ফ্লুইড কন্ট্রোলের সঙ্গে পানির নিচে শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত ও মোকাবিলার প্রযুক্তি নিয়েও অংশীদারত্ব করেছে টিকেএমএস। প্রস্তাবিত সাবমেরিনগুলোতে এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন বা এআইপি প্রযুক্তি থাকার কথা রয়েছে। এই প্রযুক্তির কারণে সাবমেরিনগুলো সাধারণ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনের তুলনায় দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকতে পারবে। এতে আধুনিক সেন্সর, টর্পেডো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থাও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারি, গোপন অভিযান এবং প্রয়োজনে শত্রুর বিরুদ্ধে হামলার সক্ষমতা বাড়বে। বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনী প্রচলিত সাবমেরিনের ঘাটতির মুখে রয়েছে। তাই নতুন ছয়টি সাবমেরিন নৌবাহিনীর পানির নিচে অভিযান ও নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সময়ে ভারত মহাসাগরে চীনের সাবমেরিন তৎপরতা বাড়ছে। ফলে ভারতের জন্য পানির নিচে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগে ফ্রান্সের সহযোগিতায় মাজাগন ডক ভারতে ছয়টি কালভারি শ্রেণির সাবমেরিন তৈরি করেছে। এর প্রথমটি ২০১৭ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়। সর্বশেষ আইএনএস ভাগশির ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নৌবাহিনীতে কমিশন করা হয়। সাবমেরিন তৈরিতে জার্মানির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ভারতীয় নৌবাহিনী কয়েক দশক ধরে জার্মান নকশার টাইপ-২০৯/১৫০০ শিশুমার শ্রেণির সাবমেরিন ব্যবহার করছে। এর কয়েকটি সাবমেরিন ভারতের মাজাগন ডকেই তৈরি হয়েছিল। নতুন টিকেএমএস-মাজাগন ডক অংশীদারত্ব সেই পুরোনো সহযোগিতাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারে। এবার মূল লক্ষ্য শুধু সাবমেরিন তৈরি নয়, বরং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো। সিসিএস অনুমোদন দিলে পরবর্তী ধাপে চুক্তি সই হবে। এরপর সাবমেরিন নির্মাণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে আধুনিকায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।