জাতীয়

টোলসহ দূরপাল্লার বাস ও মহানগরের নতুন ভাড়া নির্ধারিত

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর দূরপাল্লার বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। নতুন ভাড়ার তালিকায় কিলোমিটারপ্রতি ভাড়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সেতু, ফেরি, এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোলও যুক্ত করা হয়েছে।

 

 

নতুন তালিকা অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে।

 

 

 

বিআরটিএর পুনর্নির্ধারিত ভাড়ায় ৫১ আসন ও ৪০ আসনের বাসের জন্য পৃথক হিসাব রাখা হয়েছে। যেসব রুটে সেতু, ফেরি, এক্সপ্রেসওয়ে বা ফ্লাইওভার ব্যবহার করা হয়, সেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য টোল মূল ভাড়ার সঙ্গে যোগ করা হয়েছে।

 

 

গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী বাসের ক্ষেত্রে ৫১ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ৯ টাকা টোল যুক্ত হয়েছে।

 

 

সায়েদাবাদ থেকে নতুন ভাড়া

 

 

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের নতুন ভাড়ার মধ্যে রয়েছে-

বরিশাল : ১৭১ কিলোমিটার দূরত্বে ৫১ আসনের বাসে ৪৯৩ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৬২৯ টাকা।

পটুয়াখালী : ২১০ কিলোমিটারে ৫১ আসনের বাসে ৬০৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৭৭২ টাকা।

বরগুনা : ২৫৩ কিলোমিটারে ৫১ আসনের বাসে ৭১৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯১৪ টাকা।


সিলেট : ২৫৭ কিলোমিটারে ৫১ আসনের বাসে ৬২৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৭৯৬ টাকা।

কুয়াকাটা : ২৮০ কিলোমিটারে ৫১ আসনের বাসে ৭৮১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯৯৬ টাকা।

জকিগঞ্জ : ৫১ আসনের বাসে ৮৪৮ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ৮১ টাকা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসান। সংগৃহীত ছবি
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসান

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।     বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।       এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। ওই অডিওতে সরকার, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্য শোনা যায়।      অডিওটি নিজের নয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন রাকিবুল।       রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সংবাদ লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত জানা যায়নি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত

সংগৃহীত ছবি

টোলসহ দূরপাল্লার বাস ও মহানগরের নতুন ভাড়া নির্ধারিত

সংগৃহীত ছবি

সহকারী কমিশনার ভূমি পদে ৫২ কর্মকর্তার নতুন পদায়ন

সংগৃহীত ছবি
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার উদ্যোগ

চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে ভিশনস্প্রিং। বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ও জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।     বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক ভবনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রেল ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান।     উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাবিবুর রশীদ বলেন, সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাধারণত অবকাঠামো উন্নয়ন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়। তবে নিরাপদ সড়কের জন্য চালকের দৃষ্টিশক্তিও গুরুত্বপূর্ণ। চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা দেওয়ার এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিষয়টি আরো গুরুত্ব পেয়েছে।       প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সড়ক অবকাঠামোর পাশাপাশি চালকদের স্বাস্থ্য, সক্ষমতা ও সচেতনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।       চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা, নিজেদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন থাকা এবং ট্রাফিক আইন মেনে নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানান তিনি। তিন দিনের এ কর্মসূচিতে প্রায় ২০০ চালককে চক্ষুসেবা দেওয়া হবে বলে জানান হাবিবুর রশীদ। পরীক্ষার পর প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হবে। তার মতে, চালকের ভালো দৃষ্টিশক্তি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।     পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়েও চালকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।       তিনি বলেন, চালকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা শুধু তাদের নিজেদের বিষয় নয়, এটি সরকারের দায়িত্বেরও অংশ। নিরাপদ সড়ক ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার, পরিবহন মালিক, চালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।     সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, চালকদের চোখ পরীক্ষা, রক্তচাপ পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর পর চালকদের বিশ্রামের সুযোগ দিতে দেশের চারটি জেলায় বিশ্রামাগার তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে।       ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ভিশনস্প্রিংয়ের উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ। দৃষ্টিশক্তি কম থাকা কোনো চালক গাড়ি চালালে চালক, যাত্রী ও পথচারী—সবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তাই চালকদের অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি ভালো দৃষ্টিশক্তি থাকাও প্রয়োজন।     অনুষ্ঠানে ভিশনস্প্রিংয়ের সহযোগী ব্যবস্থাপক উম্মে সালমা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মূলত প্রান্তিক ও স্বল্পআয়ের মানুষের জন্য কাজ করে। সি-টু-বি-সি কর্মসূচির আওতায় প্রায় আট লাখ চালকের চোখ পরীক্ষা এবং তাদের মধ্যে প্রায় চার লাখ চালককে চশমা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।       ভিশনস্প্রিং একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি স্বল্পআয়ের মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে চশমা ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার সেবা পৌঁছে দেয়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৫১তম বিশেষ বিসিএসে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

সংগৃহীত ছবি

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে গতি ফেরাতে এগিয়ে আসছে চীনের দুটি ব্যাংক

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার আখতার হুসেন আর নেই

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে ৬২৪ জন আটক

কুমিল্লা জেলার কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ।    গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে রাত দেড়টা পর্যন্ত চলা অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে ৬২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।   আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও রয়েছে। তাদের পরিচয়, বয়স ও কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বাসস’কে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার মো.আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।   তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতা রয়েছে, এমন সব এলাকা চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের আগের কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না তা যাচাই করা হচ্ছে।   পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাকি আটকদের অভিভাবকদের কাছে সতর্ক করে হস্তান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।   পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭৫ জন, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৪৬, বুড়িচং থানায় ৫০, মনোহরগঞ্জ থানায় ৪১, দাউদকান্দি মডেল থানায় ৫৯ এবং লাকসাম থানায় ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। জেলার অন্যান্য থানায় আটক ব্যক্তিদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।   কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বাসস’কে বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষার্থী কারা, তাদের বয়স কত এবং কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি-না এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদের সতর্ক করে পরিবারের জিম্মায় দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।    জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা থেকে দূরে রাখতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।   সম্প্রতি কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে বিভিন্ন মহল থেকে জোরালো দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার আসামিদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।   অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।   কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বাসস’কে বলেন, গত বছরের ৩০ নভেম্বর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কুমিল্লায় ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অনেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে পুনরায় একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে অনেক কিশোরের মা-বাবাকে ডেকে মুচলেকাও নেয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

আগামী বছরের জানুয়ারিতে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মীর শাহে আলম

জামায়াত দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ: মীর শাহে আলম

নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়ার সুযোগ কম: ইসি আনোয়ারুল

0 Comments