খেলা

টানা পাঁচ ফাইনাল হারের হতাশা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন ফোকিনা

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ক্যারিয়ারের টানা পাঁচটি ফাইনালে হেরে হতাশায় ভুগছিলেন স্পেনের টেনিস রাজা আলেজান্দ্রো ডেভিডোভিচ ফোকিনা। অবশেষে দীর্ঘ হতাশাকে পেছনে ফেলে টেনিস কোর্টে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন এই স্প্যানিশ টেনিস রাজা।

 

 

সোমবার শাংহাই ওপেনের রোমাঞ্চকর ফাইনালে স্বদেশী রাফায়েল জদরকে হারিয়ে চলতি বছরের তৃতীয় এবং নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শিরোপা ঘরে তুললেন ফোকিনা।
ফাইনালে প্রথম সেটে ১-৬ গেমে হেরে পিছিয়ে পড়েছিলেন ফোকিনা। তবে দমে না গিয়ে দ্বিতীয় সেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান এবং টাইব্রেকারে ৭-৬(৫) ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন। শেষ সেটে নিজের নিয়ন্ত্রিত খেলা ধরে রেখে ৬-৪ গেমে ম্যাচ জিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন তিনি।

 

 

 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের এপ্রিলে পেশাদার টেনিসে অভিষেক ফোকিনার। অভিষেকের পর থেকে দীর্ঘ ৭ বছর কোন ট্রফি জিততে পারেনি তিনি। তবে দীর্ঘ ৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিন মাসের ব্যবধানে তিনটি বড় শিরোপা জিতে নিয়েছেন তিনি। 

 

 

 

চলতি বছরের জুনে মায়োর্কা এবং গত মাসে চেংডু ওপেন জয়ের পর, এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় শিরোপা।

 

 

 

বছরের পর বছর হতাশায় কাটার পর, ২০২৬ সালে এসে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এই তিনটি ট্রফি জিতে ফোকিনা এক অনন্য সাফল্যের গল্প তৈরি করলেন এই টেনিস রাজা।

 

 

 

জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে আবেগপ্লুত হয়ে ডেভিডোভিচ ফোকিনা বলেন, ‘এই চাইনিজ কোর্টে আমি যা অর্জন করেছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’ 

 

 

পিঠের ইনজুরির কারণে দীর্ঘ দুই মাস কোর্টের বাইরে থাকার পর এশিয়ার মাটিতে এমন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন তিনি নিজেও কল্পনা করেননি। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফোকিনা আরো বলেন, ‘দুই মাস মাঠের বাইরে থাকার পর আমি যে এভাবে দুটি শিরোপা জিততে পারব, তা কখনোই ভাবিনি। তবে আমি সত্যিই অনেক বেশি আনন্দিত।

 

 

 
আমার দল সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি যখন ইনজুরি নিয়ে ঘরে বসেছিলাম, তখন সময়টা খুব কঠিন ছিল। কিন্তু তারা আমাকে কঠোর পরিশ্রম করার জন্য পুশ করে গেছে। তারা জানত যে আমার এই ধরনের সাফল্য অর্জন করার যোগ্যতা আছে। তাই তাদের এই অবদানের জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, কারণ তারা সবসময় আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিল বলে যোগ করেন তিনি।

 

 

 

পিঠের চোটের কারণে দুই মাস বিরতির পর চেংডুতে নিজের প্রথম টুর্নামেন্টেই জয় পাওয়া ২৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৬ নম্বর থেকে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ১৩ নম্বরে পৌঁছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
টানা পাঁচ ফাইনাল হারের হতাশা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন ফোকিনা

ক্যারিয়ারের টানা পাঁচটি ফাইনালে হেরে হতাশায় ভুগছিলেন স্পেনের টেনিস রাজা আলেজান্দ্রো ডেভিডোভিচ ফোকিনা। অবশেষে দীর্ঘ হতাশাকে পেছনে ফেলে টেনিস কোর্টে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন এই স্প্যানিশ টেনিস রাজা।     সোমবার শাংহাই ওপেনের রোমাঞ্চকর ফাইনালে স্বদেশী রাফায়েল জদরকে হারিয়ে চলতি বছরের তৃতীয় এবং নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শিরোপা ঘরে তুললেন ফোকিনা। ফাইনালে প্রথম সেটে ১-৬ গেমে হেরে পিছিয়ে পড়েছিলেন ফোকিনা। তবে দমে না গিয়ে দ্বিতীয় সেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান এবং টাইব্রেকারে ৭-৬(৫) ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন। শেষ সেটে নিজের নিয়ন্ত্রিত খেলা ধরে রেখে ৬-৪ গেমে ম্যাচ জিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন তিনি।       রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের এপ্রিলে পেশাদার টেনিসে অভিষেক ফোকিনার। অভিষেকের পর থেকে দীর্ঘ ৭ বছর কোন ট্রফি জিততে পারেনি তিনি। তবে দীর্ঘ ৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিন মাসের ব্যবধানে তিনটি বড় শিরোপা জিতে নিয়েছেন তিনি।        চলতি বছরের জুনে মায়োর্কা এবং গত মাসে চেংডু ওপেন জয়ের পর, এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় শিরোপা।       বছরের পর বছর হতাশায় কাটার পর, ২০২৬ সালে এসে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এই তিনটি ট্রফি জিতে ফোকিনা এক অনন্য সাফল্যের গল্প তৈরি করলেন এই টেনিস রাজা।       জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে আবেগপ্লুত হয়ে ডেভিডোভিচ ফোকিনা বলেন, ‘এই চাইনিজ কোর্টে আমি যা অর্জন করেছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’      পিঠের ইনজুরির কারণে দীর্ঘ দুই মাস কোর্টের বাইরে থাকার পর এশিয়ার মাটিতে এমন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন তিনি নিজেও কল্পনা করেননি। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফোকিনা আরো বলেন, ‘দুই মাস মাঠের বাইরে থাকার পর আমি যে এভাবে দুটি শিরোপা জিততে পারব, তা কখনোই ভাবিনি। তবে আমি সত্যিই অনেক বেশি আনন্দিত।       আমার দল সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি যখন ইনজুরি নিয়ে ঘরে বসেছিলাম, তখন সময়টা খুব কঠিন ছিল। কিন্তু তারা আমাকে কঠোর পরিশ্রম করার জন্য পুশ করে গেছে। তারা জানত যে আমার এই ধরনের সাফল্য অর্জন করার যোগ্যতা আছে। তাই তাদের এই অবদানের জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, কারণ তারা সবসময় আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিল বলে যোগ করেন তিনি।       পিঠের চোটের কারণে দুই মাস বিরতির পর চেংডুতে নিজের প্রথম টুর্নামেন্টেই জয় পাওয়া ২৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৬ নম্বর থেকে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ১৩ নম্বরে পৌঁছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আইএইচএফ নেশনস ট্রফি: নেপালকে হারিয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

ত্রিদেশীয় সিরিজ: টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, নেই লিটন-মিরাজ

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম।

জাতীয় দলে ফিরতে জাহানারাকে বিসিবির নতুন শর্ত

ছবি: সংগৃহীত
ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হারল বাংলাদেশ

অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ রানে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে সাদিয়া ইসলামদের। ১৫৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৪ রান করে বাংলাদেশের মেয়েরা।   শুক্রবার ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার মাইমুনা নাহের ও আচেনা জান্নাত কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। শূন্য রানে ফেরেন দুজনই। শিরিনা খাতুন করেন ৬ রান।   চাপের মুখে চতুর্থ উইকেটে নিশিতা আক্তার নিশিকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক সাদিয়া ইসলাম। এরপর সাদিয়া আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে জয়ের আশা জাগে বাংলাদেশের শিবিরে। তবে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি দলটি।   বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন সাদিয়া ইসলাম। ৩৫ বলের ইনিংসটি সাজান তিনটি চার ও একটি ছক্কায়। সাদিয়া আক্তার ২২ বলে করেন ৩৫ রান। নিশিতা আক্তার নিশির ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। এ ছাড়া ফারজানা ১১, বিবি আয়েশা ৩ ও জান্নাতুল ফেরদৌস ৪ রান করেন।   এর আগে শ্রীলঙ্কার হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন ওপেনার সাঞ্জানা কাভিন্দি। ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। উমায়াঙ্গানা পেইরিস করেন ২৮ রান। এ ছাড়া বালাসুলিয়া ২৩, উপেক্ষা ২২, সেওমিনি ১৫ ও মেথসারা ১ রান করেন। শাসিনি গিমানি রানের খাতা খুলতে পারেননি।   শেষ পর্যন্ত ৪ রানের জয় নিয়ে শিরোপা উৎসব করে শ্রীলঙ্কা। অল্পের জন্য শিরোপা হাতছাড়া হলেও ফাইনালে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
সংগৃহীত

ব্যাটিং ধসে বড় হার, অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের হতাশার দিন

সংগৃহীত

প্রতিপক্ষের চুল টেনে বড় শাস্তির মুখে ভিনিসিয়ুস!

সংগৃহীত

বড় সুখবর, হাসান মাহমুদের জন্য এলো স্বস্তির বার্তা

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি লিগে আল নাসরের ম্যাচ স্থগিত, খেলছেন না রোনালদো

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের বিদ্রোহী সংগঠন হুথিদের মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় সৌদি প্রো লিগের তিনটি ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল আল নাসরের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইও।   সৌদি প্রো লিগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিযোগিতার নবম সপ্তাহের এই তিন ম্যাচ নতুন সূচিতে আয়োজন করা হবে। খেলোয়াড়দের ম্যাচের মধ্যবর্তী বাধ্যতামূলক বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং সার্বিক লজিস্টিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষ।   নতুন সূচি অনুযায়ী, পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা আল হিলাল ও আল রিয়াদের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ ডিসেম্বর। একই দিনে মাঠে নামার কথা আল ইত্তিহাদ ও আল শাবাবেরও। তবে আল আহলি ও রোনালদোর আল নাসরের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি পিছিয়ে ২০২৭ সালের ৬ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।   অন্যদিকে, নবম সপ্তাহের বাকি ম্যাচগুলো পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে এসপিএল।   এর আগে সোমবার রিয়াদে উজবেকিস্তানের ক্লাব নেফতচি ফারগানার বিপক্ষে আল নাসরের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ শুরু হতেও বিলম্ব হয়। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর ম্যাচটি শুরু হয়েছিল। এর পেছনে ছিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছিল, রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে হুথিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করা হয়েছে।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৫ সালের পর এটিকে অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।   এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও আয়োজনসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সৌদি ফুটবলের সূচিতেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। ফলে আপাতত পিছিয়ে গেল আল নাসর ও আল আহলির মতো দুই শক্তিশালী দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মেন্ডিসের রেকর্ডের দিনে শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয়

ছবি: সংগৃহীত

মেসির বিদায়ী ম্যাচের ঐতিহাসিক জার্সি এবার জাদুঘরে

সংগৃহীত

ক্রিকেট ইতিহাসে নজিরবিহীন কাণ্ড, গড়ল বিশ্বরেকর্ড

0 Comments