অন্যান্য

টানা এক মাস ডালিম খেলে শরীরে ঘটে অবিশ্বাস্য ১০ পরিবর্তন

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ১৩, ২০২৫ 0

ফলের মধ্যে ডালিমকে বলা হয় ‘রত্নভান্ডার’। শুধু লালচে দানাগুলো চোখের আরামই নয়, এর ভেতর লুকিয়ে আছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ। প্রাচীনকাল থেকেই ডালিমকে স্বাস্থ্যরক্ষার প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন নিয়ম করে এই ফলটি খেলে শরীরে ঘটে নানা ইতিবাচক পরিবর্তন।

 

১. হৃদ্‌যন্ত্র পায় বাড়তি সুরক্ষা

ডালিম হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, টানা আট সপ্তাহ ডালিমের রস পান করলে রক্তচাপ ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে, আর ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বেড়ে যায়। এতে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে এবং রক্তনালির প্রদাহ হ্রাস পায়।

 

২. ত্বকে আসে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা

ডালিম ত্বকের কোলাজেন ধরে রাখে ও ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমায়। এতে বলিরেখা হ্রাস পায় এবং ত্বক হয় মসৃণ ও উজ্জ্বল।

 

৩. শরীরের প্রদাহ কমে যায়

ডালিমে থাকা পিউনিকালাজিন নামক যৌগ প্রদাহবিরোধী হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত খেলে শরীরের প্রদাহ, ব্যথা ও ক্লান্তি কমে।

 

৪. স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ডালিম বা এর রস গ্রহণ করলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও মনোযোগ বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদি সেবনে শেখা ও মনে রাখার ক্ষমতাও উন্নত হয়।

 

৫. হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

ডালিম প্রাকৃতিক প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। এটি অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটিয়ে হজম প্রক্রিয়া মসৃণ রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাস–অম্বল দূর করে।

 

৬. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ডালিম উপকারী। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

 

. ব্যায়ামের পর দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে

নিয়মিত ব্যায়ামকারীদের জন্য ডালিম প্রাকৃতিক রিকভারি ড্রিঙ্ক হিসেবে কাজ করে। এটি ক্লান্তি দূর করে, পেশির প্রদাহ কমায় ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

 

৮. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

একটি মাঝারি আকারের ডালিমে দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন–সি–এর প্রায় ৩২ শতাংশ থাকে। এতে থাকা ফোলেট, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি–কাশিসহ মৌসুমি অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে।

 

৯. কিডনি ভালো রাখে ও টক্সিন দূর করে

ডালিম শরীরের খনিজ ভারসাম্য রক্ষা করে এবং কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি কমায়। এটি মূত্রতন্ত্র পরিষ্কার রাখে ও শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে।

 

১০. ওজন কমাতে সাহায্য করে

গবেষণায় দেখা গেছে, টানা ৩০ দিন ডালিমের নির্যাস গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ওজন, রক্তে গ্লুকোজ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে আসে।

 

সারকথা:
ডালিম শুধু একটি ফল নয়, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষা করে এবং ত্বক, হৃদ্‌যন্ত্র, মস্তিষ্ক, কিডনি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই লালচে রত্ন যোগ করলেই আপনি নিজেই টের পাবেন পরিবর্তন।

সূত্র: এনডি টিভি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
শুধু জিপিএ-৫ নয়, শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শুধু জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক প্রথাগত শিক্ষা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না, আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, 'আমাদের মূল লক্ষ্য প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করা, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।' আজ (শনিবার) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে 'চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন সহযোগিতা ফোরাম-২০২৬'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের উদ্যোগে এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সমিতির ব্যবস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, 'আমাদের শিল্প এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নেই। এই শূন্যতা দূর করতে হবে। আমাদের বিশাল জনশক্তিকে আমরা দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে চাই, যারা সরাসরি কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে।' ড. মিলন বলেন, 'আমরা গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতে এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে এটি অর্জনে যা যা প্রয়োজন, বর্তমান তারেক রহমানের সরকার সবই করবে। শিক্ষকদের উদ্দেশে আমার আহ্বান—শুধু বছর শেষে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। প্রতিদিনের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।' চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'চীনের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত এবং খুব বেশি ব্যয়বহুল নয়। বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সেখানে সফলভাবে পড়াশোনা করছে।' তিনি বলেন, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা সরকার থেকে ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছি। বিশেষ করে চীনা ভাষা শিখলে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও উচ্চশিক্ষার বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সরকার ইতিমধ্যে পাঠ্যক্রম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনছে। চীনের সঙ্গে শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক; বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ; বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. বদরুজ্জামান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। ফোরামে দু’দেশের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং চীন ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৯, ২০২৬ 0

এসএসসি খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার: ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

বিএনপির তিন সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব: সাবেক ছাত্রনেতারা আলোচনায়

ছবি: সংগৃহীত

১১৫ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলায় নূর আলী

ছবি: সংগৃহীত
নতুন মুখ খুঁজছে ঢাকা মহানগর বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পর এবার সাংগঠনিক কাজে নজর বিএনপির। আন্দোলন-সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা মহানগর বিএনপির (উত্তর ও দক্ষিণ) নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। মূলত সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন ও পুরোনো নেতৃত্বের সমন্বয়ে কমিটি গঠনে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে দলটির হাইকমান্ড। যে কোনো সময় ভেঙে দেওয়া হতে পারে দলের ঢাকা মহানগরীর দুই কমিটি।   সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই মহানগরীর শীর্ষ দুজন নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মহানগর বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কাজে তারা ব্যস্ত থাকায় মহানগরের রাজনীতিতে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থবিরতা ও শৃঙ্খলার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো দরকার। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুরোনো নেতাদেরও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। কেননা, অভিজ্ঞদের রয়েছে বিরাট কর্মীবাহিনী এবং সাংগঠনিক দক্ষতা। ফলে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীতে রাজনৈতিক গতিহীনতা কাটাতে এবং মহানগর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা নেতৃত্বে পরিবর্তন করতে আগ্রহী বলে সূত্রের দাবি।   যদিও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে। একটি হলো—এমপি-মন্ত্রী রেখেই দল পরিচালনা করা; অন্যটি হচ্ছে—নতুন-পুরোনো মিলে একটি চৌকশ কমিটি করা। তবে দলটির দায়িত্বশীল নেতারা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলছেন না। বরং তারা বলছেন, কমিটি গঠনে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি কোন প্রক্রিয়ায় কমিটি দেবেন, সেটি তিনিই ভালো জানেন।   বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এবারও নতুন ও পুরোনো নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠন করা হবে। যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য—তাদেরই শীর্ষ পদে অগ্রাধিকার থাকবে। শিগগির এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে জানান দিতে চায়, যা আগামী দিনে যে কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে। এবার কমিটি গঠনে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলনে ত্যাগ ও সক্রিয় ভূমিকা এবং বিতর্কমুক্ত ও ক্লিন ইমেজ।   এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, বহু বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে। সুতরাং বিএনপির জনগণের প্রতি যে কমিটমেন্ট আছে সেটাও দেখতে হবে, বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা সরকারে নেই তারা দলীয় কার্যক্রমগুলো দেখছেন। তবে সারা দেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে, কোথাও সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো এক এক করে দেওয়া হবে। সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা স্থান পাবেন। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৭ জুলাই রফিকুল আলম মজনুকে আহ্বায়ক এবং তানভীর আহমেদ রবীনকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং সাইফুল আলম নীরবকে আহ্বায়ক ও সাবেক ফুটবলার আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগে পরবর্তী সময়ে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আমিনুল হককে আহ্বায়ক ও মোস্তফা জামানকে সদস্য সচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। এতে বাদ দেওয়া হয় সাইফুল আলম নীরবকে।   খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির অধীনে ২৪টি থানা এবং মহানগর উত্তর বিএনপির অধীনে ২৬টি থানা। দক্ষিণ বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু জানান, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ২৪টি থানার মধ্যে ২২টিতে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। প্রায় সব ওয়ার্ডেও কমিটি হালনাগাদ করা হয়েছে।   মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাদের মহানগরে ২৬টি থানা এবং ৭১টি ওয়ার্ড ও ৬১৯টি ইউনিট। সবকটিতেই হালনাগাদ কমিটি করা হয়েছে।   এদিকে নতুন কমিটির বিষয়ে দলটির কয়েকজন নেতা জানান, এ নিয়ে দলের ভেতরে দুই ধরনের আলোচনা আছে। প্রথমত, বর্তমান নেতৃত্ব কাজ করতে আগ্রহী হলে নতুন কমিটি হবে না। দ্বিতীয়ত, তারা যদি মনে করেন, সরকারি কাজ এবং দলীয় কাজ একসঙ্গে করা যাবে না, তাহলে তারা দলের নীতিনির্ধারককে জানাবেন। এতে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।   জানা যায়, সাংগঠনিক কাজে গতি বাড়াতে মূল দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো গুছিয়ে আনতে চাইছে বিএনপি। এজন্য চলতি বছরেই দলের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি রয়েছে। মূলত গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর এককভাবে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। কিন্তু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কিছুটা মন্থর গতিতে এগোচ্ছে। এমন অবস্থায় গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বসে বিএনপি। সেখানে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে বিভিন্ন নির্দেশনা এসেছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। মূল দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগেই এ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য নেতৃত্বের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তারা আরও জানান, সরকারে দায়িত্বে আছেন অথবা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমন কেউ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ পদে জায়গা না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।   আলোচনায় ডজনখানেক নেতা: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির দুই আহ্বায়কই সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার মধ্যে দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ফেনী-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক নির্বাচনে বিজয়ী না হতে পারলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দুজনকে জাতীয় সংসদে ও নিজের নির্বাচনি এলাকায় অনেক সময় দিতে হয়। তারা আর আগের মতো মহানগরীর রাজনীতিতে সময় দিতে পারছেন না বা পারবেন না। যে কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসছে। দুই মহানগরে বিএনপির আগামীর নেতৃত্বে কারা আসছেন—এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ঘুরেফিরে অন্তত ডজনখানেক নেতার নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।   জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের জন্য জোরালোভাবে নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার এবং বর্তমান সহসভাপতি লিটন মাহমুদের। ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তাদের নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা-৫ আসনে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী, দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু।   উল্লিখিত নেতাদের মধ্যে কাজী আবুল বাশার দীর্ঘদিন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ছিলেন। তিনি সেসময় ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে হামলা-মামলার শিকার হয়েও রাজপথের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। পুরান ঢাকার স্থানীয় এই নেতার রয়েছে বিশাল কর্মীবাহিনী।   কাজী আবুল বাশার প্রায় ১৮ বছর একাধারে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ছিলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণে প্রায় সব কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তাকে ঢাকা-৬ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি জোর আলোচনায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ফলে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা তাকে আবারও ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হিসেবে দেখতে চান।   অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক আমিনুল হক ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। পরে তাকে সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়। তিনিও মহানগরীর রাজনীতিতে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না। ফলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিতেও পরিবর্তন আসন্ন। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নতুন কমিটির শীর্ষ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, বর্তমান কমিটির সদস্য ও সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মামুন হাসান, উত্তর বিএনপির সদস্য এ জি এম শামসুল হক। বিগত দিনের আন্দোলনগুলোয় তাদের প্রায় সবার সক্রিয় ভূমিকা হাইকমান্ডের নজর কেড়েছে।   আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মহানগরীর রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। হামলা-মামলা সহ্য করে রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন। দলের হাইকমান্ড যদি মহানগর বিএনপির দায়িত্বে আমাকে যোগ্য মনে আমি প্রস্তুত। সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এফ রহমান হলের নির্বাচিত ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। দল যেখানে দায়িত্ব দেবে তিনি সেখানে কাজ করবেন।   এ জি এম শামসুল হক বলেন, নতুন কমিটির বিষয়ে আলোচনা শুনছি। কিন্তু আমাদের কাছে পরিষ্কার কোনো বার্তা নেই।   মামুন হাসান যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছিল। একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। তিনি বলেন, দলের প্রয়োজনে যেখানেই দায়িত্ব দেবে, আমি কাজ করতে রাজি।   বড় চ্যালেঞ্জ কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব: অনেকেই মনে করেন, বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এ দুই কমিটিতে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা। যেখানে দক্ষ, পরিচ্ছন্ন ও জনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দিতে হবে। একদিকে প্রতিপক্ষের আগাম প্রস্তুতি, অন্যদিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা—এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারলে নির্বাচনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে দলটিকে।   ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের একাধিক নেতা বলেন, যারা কঠিন সময়ে মাঠে ছিল, এখন তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং নতুন করে আসা বা বিতর্কিতদের কমিটিতে জায়গা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংগঠন আরও দুর্বল হবে এবং সিটি নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।   জানতে চাইলে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন কালবেলাকে বলেন, ‘দলের কমিটি দেওয়া না দেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি।   অন্যদিকে মহানগর উত্তর বিএনপির দুজন যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, তারা কমিটি গঠনের বিষয়টি মুখে মুখে শুনছেন। তবে তাদের কাছে এখনো কোনো চূড়ান্ত ম্যাসেজ আসেনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী কে

ফতুল্লায় হাতকড়াসহ ৫ আসামি ছিনতাই, থানার ২ এসআইসহ ৬ পুলিশ প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব বেড়েছে: নাহিদ

ছবি : সংগৃহীত
স্বামীসহ জাবি’র সাবেক উপাচার্য ফারজানার আয়কর নথি জব্দের আদেশ

নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন থাকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী মো. আখতার হোসেনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তার স্বামী, পুত্র ও তৃতীয় হাতের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী মো. আখতার হোসেন একজন আয়কর দাতা।  অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী মো. আখতার হোসেন কর্তৃক বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গোপনের সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযোগটি সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী মো. আখতার হোসেনের নামীয় মূল আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র/তথ্যাদির সত্যায়িত অনুলিপি ও প্রয়োজনে জব্দকরণের লক্ষ্যে বিজ্ঞ আদালতের যথাযথ আদেশ একান্ত প্রয়োজন। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাগ, পোশাক ও ফুটওয়্যার সামগ্রী বিতরণ করা হবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্ভুক্তিমূলক বীমায় আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন চালু করল ইউএনডিপি ও ঢাবি

ছবি : সংগৃহীত

এনসিপিতে যোগ দিলেই মিলবে ‘মিল্লি কার্ড’, ছাত্রশক্তি নেতার প্রচারণা ভাইরাল

0 Comments