জাতীয়

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ-চীনের সমীকরণে চাপে ভারত

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (টিআরসিএমআরপি) সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চুক্তিকে ঘিরে ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেকের কাছে প্রকল্পটির অবস্থান নয়াদিল্লির জন্য নতুন নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশ তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য একটি চুক্তি সই করে। এর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও জোরদার হলেও, প্রকল্পটির অবস্থান ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

 

তিস্তা প্রকল্প কী?

 

৪১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তঃসীমান্ত তিস্তা নদীর উৎপত্তি পূর্ব হিমালয়ে। এটি ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে।

 

টিআরসিএমআরপি একটি বৃহৎ নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প। এতে নদী খনন, বাঁধ নির্মাণ, ভূমি পুনরুদ্ধার এবং নদীর গতিপথ স্থিতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নদীতীরজুড়ে সড়ক, সেচব্যবস্থা, নগরকেন্দ্র, পর্যটন সুবিধা ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বন্যার ক্ষতি কমানো, নৌচলাচলের উন্নতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

 

প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা

 

২০১৬ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চীনের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়নার সঙ্গে প্রকল্পটির মাস্টারপ্ল্যান ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা তৈরির জন্য সমঝোতা স্মারক সই করে। ২০১৯ সালে এটি সরকারি কাঠামো পায় এবং ২০২০ সালে মেগা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

 

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করলেও অর্থায়ন নিশ্চিত বা চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। বর্তমান সরকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষার নতুন চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটিকে আবারও এগিয়ে নিচ্ছে।

 

কেন চীনকে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ?

 

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিপুল অর্থায়ন ও উচ্চ পর্যায়ের প্রকৌশল দক্ষতা প্রয়োজন। নদী থেকে ১৪০ মিলিয়ন ঘনমিটার পলি অপসারণ, ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার, ৮২টি জেটি নির্মাণ, বাঁধ শক্তিশালীকরণ এবং ২২৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

আরেকটি কারণ হলো তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা। ২০২৪ সালে ভারত এক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের প্রস্তাব দিলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেটি এগোয়নি। এরপর চীনের সঙ্গে সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত হয়।

 

ভারতের উদ্বেগ কোথায়?

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প এলাকার অবস্থান ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার লাগোয়া এবং শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি। মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রস্থের এই করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ।

 

কৌশলগত বিশেষজ্ঞ তারা কার্থার মতে, বাংলাদেশে চীনের এই প্রভাব ভারতের দুই ফ্রন্টের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। পাকিস্তান যখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুর্বলতাগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বেইজিং তার কৌশলগত পরিধি বাড়াচ্ছে।

 

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূততিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূত

কার্থা ‘ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল’-কে বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে বেইজিংয়ের অবস্থান নেওয়ার অর্থ হলো ভারত এখন নিশ্চিতভাবেই দুই ফ্রন্টের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেখানে পাকিস্তানের নজর সব সময়ই চীনের দিকে রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশে চীনের উপস্থিতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, এমনকি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। চীন অত্যন্ত কার্যকরভাবে তার সফট পাওয়ার প্রদর্শন করছে।

 

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) গবেষকদের মতে, চীনের সম্পৃক্ততা তিস্তা ইস্যুকে শুধু পানিবণ্টন বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে না; বরং এটি আরও বড় নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

 

ভারতের অবস্থান

 

গত ৩ জুন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে এএনআই নিউজ এজেন্সিকে জানান, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিমধ্যে ঢাকাকে জানানো হয়েছে এবং তিস্তা ইস্যুতে ভারতের পদক্ষেপ সমস্ত প্রাসঙ্গিক বিষয় ও উন্নয়নকে বিবেচনায় নিয়েই নির্ধারিত হবে। আমরা তিস্তা ইস্যুর সামগ্রিক পদক্ষেপে এই সংক্রান্ত সমস্ত উন্নয়নকে বিবেচনায় রাখব।

 

২০২৫ সালের অক্টোবরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বলেছিলেন, ভারত গঙ্গা ও তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তিসহ পানি সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। বাংলাদেশি সংবাদপত্র দ্য ডেইলি স্টার-এর বরাত দিয়ে মিস্রি বলেন, গঙ্গা পানি চুক্তি এখনও বৈধ রয়েছে এবং আমরা যৌথ নদী কমিশনের কাঠামোর মধ্যে এ সংক্রান্ত আলোচনা অব্যাহত রাখব।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পূর্ণাঙ্গ প্রকল্পে রূপ নিলে তিস্তা কেবল ভারত-বাংলাদেশের পানিবণ্টন ইস্যু থাকবে না; এটি ভারত ও চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
বেনজীরকে ফেরাতে দুবাইয়ের জবাবের অপেক্ষায় পুলিশ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারকে দেওয়া চিঠির উত্তরের অপেক্ষায় পুলিশ। ১৬ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই চিঠি পাঠানো হয়। পরদিন তা কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছায়। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানান, সেই চিঠির উত্তর এখনো আসেনি। দুদক ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানান, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ১৬ জুন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়। ইন্টারপোলের স্থানীয় সমন্বয় শাখা পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) এআইজি আলী হায়দার চৌধুরীর নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল দুদকের অনুসন্ধান দলের সঙ্গে এ কার্যক্রমে অংশ নেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলামের উপস্থিতিতে নথিপত্র প্রস্তুত, অনুবাদ ও ফাইল করার কাজ শেষ করে ওই দিন বিকালেই তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ ছয়টি দুর্নীতি মামলা রয়েছে।   এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় ইতোমধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্র জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটির বিচার চলছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন ৩০ কর্মদিবসে আনার উদ্যোগ রাজউকের

শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

সুদসহ টাকা ফেরত পাবেন সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীরা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ বা অর্থ কর্তন ছাড়াই সুদসহ টাকা ফেরত পাবেন বলে জাতীয় সংসদে আশ্বস্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন ও ব্যাংক একীভূতকরণের মাধ্যমে আমানত সুরক্ষা এবং পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে সরকার আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান নিয়োগসহ সমন্বিত আইনি কাঠামো গড়ে তুলেছে বলেও জানান তিনি।   বুধবার (৮ জুলাই) সংসদে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।   জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসন-৪ এর সদস্য রেহানা আক্তার রানুর উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে।   তিনি বলেন, ‘কোনো হেয়ারকাট হবে না। আমানতকারীরা তাদের টাকা ও সুদ— দুটিই ফেরত পাবেন। আমি এ বিষয়ে আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’   আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সব অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব নয়।   তিনি বলেন, ‘আরেকটু ধৈর্য ধরুন। এসব ব্যাংকই লোকসানে চলছে এবং প্রতিদিন লোকসান বাড়ছে। একটি ব্যাংক যখন আমানতের টাকাই ফেরত দিতে পারে না, তখন সেই ব্যাংকের জন্য সুদ পরিশোধ কতটা কঠিন, তা সহজেই বোঝা যায়।’   তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।   মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব, আমানতকারীরা তাদের মূল অর্থ ও সুদ— উভয়ই পাবেন। তবে এর জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।’   ব্যাংকিং সংকটে মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক আমানতকারী চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন।   তিনি বলেন, ‘আমি জানি মানুষের অপেক্ষা করার সময় নেই। কেউ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন, কেউ মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না। প্রতিদিনই আমি এসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।’   তিনি বলেন, এ সংকট নিরসনে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে আমানতকারীদের অর্থ নিরাপদ রয়েছে।   অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন। সুদও পাবেন। এটি নিশ্চিত। তবে সবাইকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’   অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। এর মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও বহুমাত্রিক ব্যাংক পুনর্গঠন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৮, ২০২৬

বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে সরকার’

মোবাইল জার্নালিজমের নামে অনৈতিক কার্যক্রম সমর্থন করে না সরকার: তথ্যমন্ত্রী

বগুড়ায় হবে সামরিক ড্রোন কারখানা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চামড়া রফতানি ১০-১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে রোডম্যাপ হবে: শিল্পমন্ত্রী

চামড়া রফতানি ১০-১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সরকার রোডম্যাপ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাতকে আরও গতিশীল করে রফতানি আয় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সরকার ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।’   বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দল (জামায়াতে ইসলামী)-এর সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।     সাভার চামড়া শিল্পনগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খাতটিকে পরিবেশসম্মত ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার আধুনিক প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।   মন্ত্রী জানান, সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কারিগরি মূল্যায়ন ইতোমধ্যে ইতালীয় প্রতিষ্ঠান ইতালপ্রোজেত্তি সম্পন্ন করেছে।   মন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সিইটিপির বর্জ্য শোধন সক্ষমতা জরুরি ভিত্তিতে ২৫ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় সক্ষমতা ৪০ হাজার এবং পরবর্তীতে ৫০ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করতে প্রস্তুত করা হবে আলাদা নকশা ও ডিজাইন।   কেন্দ্রীয় শোধনাগারের ওপর চাপ কমাতে ছয়টি ট্যানারিকে নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। এছাড়া আরও ২০ থেকে ২৫টি তুলনামূলক বড় ট্যানারিকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।   মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় শোধনাগারের ওপর চাপ কমাতে ছয়টি ট্যানারিকে নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি চালু হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২০ থেকে ২৫টি তুলনামূলক বড় ট্যানারিকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।   বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, ট্যানারি বর্জ্যকে মূল্যসংযোজিত শিল্পপণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে সরকার সার্কুলার ইকোনমি বা পুনর্ব্যবহারভিত্তিক অর্থনীতির ধারণা বাস্তবায়ন করছে।   মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জে-ডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি লিমিটেড ক্রোম শেভিং ডাস্ট থেকে শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী প্রোটিন পাউডার উৎপাদন শুরু করেছে। এ ছাড়া ফ্লেশিং বর্জ্য থেকে ট্যালো ও জৈব সার উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাঁচা কাটিং বর্জ্য থেকে জেলাটিন উৎপাদন ও রফতানিও সফলভাবে চলমান রয়েছে।   চামড়া শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ ও নগদ সহায়তা সহজ করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান শিল্পমন্ত্রী।   মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং পরিবেশসম্মত শিল্পে পরিণত হবে।’’   মন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মান অর্জন এবং লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজির) সনদ অর্জনে ট্যানারি মালিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।’’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৮, ২০২৬

তিন মন্ত্রী অনুপস্থিত, মাঝপথে স্থগিত হলো সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

ছবি : সংগৃহীত

কৃচ্ছ্রসাধনে কঠোর সরকার, বন্ধ হচ্ছে গাড়ি কেনা ও বিদেশ ভ্রমণ

0 Comments