গোপালগঞ্জ শহরের পাচুড়িয়ায় জ্বালানি তেল মজুত করে সাত দিন ধরে দোকান বন্ধ রেখেছিলেন ‘গঙ্গা মটরস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান চালিয়ে দোকান থেকে ১ হাজার ৫০০ লিটার তেল উদ্ধার করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোকানের মালিক অর্ণব শর্মা-কে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারদিন খান প্রিন্স, শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বেশি লাভের আশায় তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল, যা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্ধারকৃত তেল ছিল ৯০০ লিটার অকটেন ও ৬০০ লিটার পেট্রোল। জরিমানা ছাড়াও তেলগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দোকানের সামনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। স্বল্পমূল্যে তেল পেয়ে মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে প্রতিষ্ঠান মালিক অর্ণব শর্মা দাবি করেন, অসুস্থতার কারণে দোকান এক সপ্তাহ বন্ধ ছিল এবং তেল জমে গিয়েছিল; তার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে কৃত্রিম তেল সংকট রোধ এবং সাধারণ জনগণের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চালানো হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গোপালগঞ্জ শহরের পাচুড়িয়ায় জ্বালানি তেল মজুত করে সাত দিন ধরে দোকান বন্ধ রেখেছিলেন ‘গঙ্গা মটরস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান চালিয়ে দোকান থেকে ১ হাজার ৫০০ লিটার তেল উদ্ধার করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোকানের মালিক অর্ণব শর্মা-কে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারদিন খান প্রিন্স, শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বেশি লাভের আশায় তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল, যা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্ধারকৃত তেল ছিল ৯০০ লিটার অকটেন ও ৬০০ লিটার পেট্রোল। জরিমানা ছাড়াও তেলগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দোকানের সামনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। স্বল্পমূল্যে তেল পেয়ে মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে প্রতিষ্ঠান মালিক অর্ণব শর্মা দাবি করেন, অসুস্থতার কারণে দোকান এক সপ্তাহ বন্ধ ছিল এবং তেল জমে গিয়েছিল; তার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে কৃত্রিম তেল সংকট রোধ এবং সাধারণ জনগণের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চালানো হবে।
সিরাজগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে সূর্যমুখী চাষ। কম খরচে বেশি লাভ এবং ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই ফসলকে করে তুলেছে সম্ভাবনাময়। ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন সূর্যমুখী আবাদে, আর তাতে বদলে যাচ্ছে কৃষির সামগ্রিক চিত্র। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় প্রায় ২৮০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। বীজ বপনের পর প্রায় তিন মাসেই ফসল ঘরে তোলা যায়। প্রতি হেক্টরে গড়ে দেড় টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। কম খরচ, স্বল্প সেচ এবং কম রোগবালাইয়ের কারণে কৃষকেরা অনাবাদি ও পতিত জমিতেও এই ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সদর, কাজীপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ একদিকে যেমন দৃষ্টিনন্দন, অন্যদিকে কৃষকদের মুখে ফুটিয়েছে স্বস্তির হাসি। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, প্রতি বিঘায় তুলনামূলক কম খরচে ভালো লাভ পাওয়া যায়। বাজারে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বাড়ায় ন্যায্য দাম পাওয়ার আশাও করছেন তারা। চরাঞ্চলের বালুময় জমিতেও এ ফসল ভালো ফলন দিচ্ছে। সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের এক কৃষক জানান, চার বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলনের আশা করছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ করে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। অন্য এক কৃষক বলেন, গত দুই বছর ধরে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফল পাচ্ছেন। এবারও জমি ফুলে ভরে গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লাভ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন। চৌহালী উপজেলার ওমরপুর চরের কৃষক আলতাফ হোসেন জানান, সূর্যমুখী চাষের মূল লক্ষ্য তেল উৎপাদন। প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ৯ মণ পর্যন্ত বীজ পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে অন্তত আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। সে হিসাবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত তেল মিলতে পারে। বর্তমানে প্রতি লিটার সূর্যমুখী তেলের দাম কমপক্ষে ২৫০ টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। তেল ছাড়াও বীজের খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তিনি বলেন, অন্য ফসল ভালো না হলেও সূর্যমুখী তুলনামূলক ভালো ফলন দিচ্ছে। স্বল্প সেচ ও কম পরিচর্যায় এ ফসল উৎপাদন সম্ভব। এ কারণে দিন দিন কৃষকেরা ঝুঁকছেন সুর্যমূখীর আবাদে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন জানান, সদরে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি সূর্যমুখী ফুলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর আড়াই হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলে চাষের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা জানান, এ জেলার জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। এ বছর সূর্যমুখী ফুলের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮০ হেক্টর, যা থেকে ২৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে হাঁস-মুরগির খাবার প্রস্তুত করা যায় এবং তেলের উৎস হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে থাকা লিনোলিক এসিড হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী। কৃষি বিভাগ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিয়ে সূর্যমুখী চাষ বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।
মাগুরার শ্রীপুরে এক চা বিক্রেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত রাখা ১২২ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে প্রশাসন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের দোরাননগর গ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান সূত্রে জানা গেছে, দোরাননগর গ্রামের চা বিক্রেতা নির্মল বিশ্বাস কেতু তার বাড়িতে ব্যারেলের মধ্যে অবৈধভাবে ডিজেল মজুত করে রেখেছেন- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানকালে তার বাড়ি থেকে ব্যারেলের মধ্যে সংরক্ষিত ১২২ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় নির্মল বিশ্বাস কেতুকে পাওয়া যায়নি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ জনসাধারণের সঙ্গে আলোচনা করে সবার সম্মতিতে জব্দকৃত ডিজেল স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত রেটে বিক্রয়ের উদ্যোগ নেন। প্রতি কৃষকের কাছে ২ লিটার করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে লিটারপ্রতি ১০২ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। অভিযানকালে কাদিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা অনিক কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধভাবে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন মজুতকারীদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান কাদিরপাড়া ইউনিয়নের দোরাননগর গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১২২ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তিকে না পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সম্মতিতে তা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। অবৈধভাবে তেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’