জাতীয়

হাতিয়ার ইউএনওর সঙ্গে হান্নান মাসউদের স্ত্রীকে জড়িয়ে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
আব্দুল হান্নান মাসউদ ও শ্যামলী সুলতানা জেদনী। ছবি : সংগৃহীত
আব্দুল হান্নান মাসউদ ও শ্যামলী সুলতানা জেদনী। ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিনের ব্যক্তিগত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একাধিক নারীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ধরা পড়ে। এই ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনীকেও জড়ানো হয়। হান্নান মাসউদকে উদ্ধৃত করে ‘আমার বউয়ের সঙ্গে হাতিয়ার ইউএনওর অপ্রীতিকর ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে বলে যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে তথ্য যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।

শনিবার (২৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে রিউমর স্ক্যানার জানায়, হান্নান মাসউদ এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে সত্য ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যালোচনায় দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান করলেও বিশ্বস্ত গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবিটির সমর্থনে কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘গুপ্ত টেলিভিশন’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ২৪ মার্চ আলোচিত ফটোকার্ডটি পোস্ট হতে দেখা যায়।

‘গুপ্ত টেলিভিশন’ পেজটি পরিচিতি অংশে উল্লেখ রয়েছে, ‘This is Gupto TV। একটি Satire & Parody Platform। All contents are for entertainment purpose only। আমাদের কনটেন্ট হাস্যরস, ব্যঙ্গ ও parody এর মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়, যার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিনোদন।’ এ ছাড়া পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এরূপ আরও অনেক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আলোচিত পোস্টটিও মূলত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।

 

 

পরবর্তীতে, হান্নান মাসউদের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করলে আলোচিত বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ‘আমার বউয়ের সঙ্গে হাতিয়ার ইউএনওর অপ্রীতিকর ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে বলে যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে’ শীর্ষক আব্দুল হান্নান মাসউদের মন্তব্য দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংগৃহীত ছবি
‘মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, ২৪ হলো ৭১-এর এক্সটেনশন।’ শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন ‘টিফিন’-এর স্বাধীনতা দিবস সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন ও ‘তরুণ প্রজন্মের চোখে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেছেন। আলোচনাসভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে ‘টিফিন’ ও ‘ব্রেইন’। টিফিন ম্যাগাজিনটি এবারই প্রথম প্রকাশিত হলো। সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা এবং তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর রহমান, বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ড. সাইমুম পারভেজ, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বুলবুল আশরাফ সিদ্দিকী, চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দা নীলিমা দোলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আদনান আরিফ সালিম,  সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট সাইয়েদ আবদুল্লাহ, গণমাধ্যমকর্মী রাফসান গালিব প্রমুখ। আলোচনায় ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো মুক্তিযুদ্ধকে তাদের মতো করে বর্ণনা করার চেষ্টা করতে পারে। এটাকে মারাত্মক ক্রাইম আমি মনে করি না। কেউ যদি রাজনীতি না করেন, তার নিজস্ব একটা রাজনীতি থাকে।’ তিনি বলেন, ‘কোনো হিস্ট্রি যখন আমরা লিখতে যাই, তখন কি আনবায়াস্ট কোনো হিস্ট্রি লিখতে পারি? বলা হয়ে থাকে ফ্যাক্ট অবজেক্টিভ, ট্রুথ সাবজেক্টিভ। কিন্তু সমস্যাটা যে জায়গায় হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে একটা জায়গায় বেঁধে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা যেহেতু মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এখন বিএনপি দল ক্ষমতায়, হতেও পারে তারা তাদের মতো করে একটা ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ হলো সরকার ইতিহাস চর্চাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না। আমি মনে করি, সরকার সেই পথে যাবে না, একটা মুক্ত ইতিহাস চর্চার পরিবেশ থাকবে। সরকার সেটা করতে দেবে বলে মনে করি। ফ্যাক্ট হলো, ৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, ২৪ হলো ৭১-এর এক্সটেনশন।’ সভায় ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘জুলাই আমাদের গর্বের একটা জায়গা। উপস্থিত এখানে অনেকেই আছেন, যারা কোনো না কোনো ফর্মে ওই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু জুলাইকে মুক্তিযুদ্ধের মতো করে উপস্থাপন করার চেষ্টা হয়েছে। যা সফল হয়নি। এটা যতবার চেষ্টা করা হবে, ততবারই তারা ব্যর্থ হবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করি। আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনের বড় একটা পার্ট।’ সৈয়দা নীলিমা দোলা বলেন, ‘বিগত সময়ে মুক্তিযুদ্ধ একটি দলের হয়ে গিয়েছিল। তারা মনে করত এটা শুধু তাদের দলের।’ ড. মো. আদনান আরিফ বলেন, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধে যার যা অবদান তাকে তা দিয়ে দিতে হবে। ইতিহাসে যার যা অবদান তার মাধ্যমেই মূল্যায়ন করার চর্চা করতে হবে।’ ড. বুলবুল আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। দেশের একটা অংশ মুক্তিযুদ্ধ বিমুখ। এ ক্ষেত্রে স্বাধীনতার ইতিহাস চর্চাকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

মারিয়া রহমান মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

ফিলিং স্টেশনে তেলের দৈনিক হিসাব প্রকাশের নির্দেশ বিপিসির

সংগৃহীত ছবি

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিমানবাহিনীতে অনারারি কমিশন প্রদান

সংগৃহীত ছবি

জ্বালানি তেলে সরকার মাসে ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে

আব্দুল হান্নান মাসউদ ও শ্যামলী সুলতানা জেদনী। ছবি : সংগৃহীত
হাতিয়ার ইউএনওর সঙ্গে হান্নান মাসউদের স্ত্রীকে জড়িয়ে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিনের ব্যক্তিগত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একাধিক নারীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ধরা পড়ে। এই ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনীকেও জড়ানো হয়। হান্নান মাসউদকে উদ্ধৃত করে ‘আমার বউয়ের সঙ্গে হাতিয়ার ইউএনওর অপ্রীতিকর ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে বলে যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।   এ বিষয়ে তথ্য যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম। শনিবার (২৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে রিউমর স্ক্যানার জানায়, হান্নান মাসউদ এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে সত্য ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যালোচনায় দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান করলেও বিশ্বস্ত গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবিটির সমর্থনে কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘গুপ্ত টেলিভিশন’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ২৪ মার্চ আলোচিত ফটোকার্ডটি পোস্ট হতে দেখা যায়। ‘গুপ্ত টেলিভিশন’ পেজটি পরিচিতি অংশে উল্লেখ রয়েছে, ‘This is Gupto TV। একটি Satire & Parody Platform। All contents are for entertainment purpose only। আমাদের কনটেন্ট হাস্যরস, ব্যঙ্গ ও parody এর মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়, যার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিনোদন।’ এ ছাড়া পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এরূপ আরও অনেক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আলোচিত পোস্টটিও মূলত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।     পরবর্তীতে, হান্নান মাসউদের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করলে আলোচিত বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। সুতরাং, ‘আমার বউয়ের সঙ্গে হাতিয়ার ইউএনওর অপ্রীতিকর ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে বলে যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে’ শীর্ষক আব্দুল হান্নান মাসউদের মন্তব্য দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেলের পরিচালকের ফাঁসি হওয়া উচিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ডিপোতে জ্বালানি তেল বিপণনের সময় পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত

সিঙ্গাপুরে চিকিৎধীন অবস্থায় স্পিকারের সহধর্মিনী দিলারা হাফিজের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
র‌্যাবের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব

র‍্যাবের ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। শনিবার (২৮ মার্চ) দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।   বিসিএস ১৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি থেকে এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তার দীর্ঘ বর্ণিল চাকরি জীবনে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ৪ এপিবিএন, ডিএমপি, সিএমপি, এসএমপিসহ রাঙামাটি, শরীয়তপুর এবং নারায়ণগঞ্জ জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া আহসান হাবীব পিবিআই হেডকোয়ার্টাসে প্রশাসনিক ও তদন্ত কার্যক্রমে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।   পদোন্নতি সূত্রে রেঞ্জ ডিআইজি চট্টগ্রাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কসোভো, লাইবেরিয়া, সুদান ও দক্ষিণ সুদানে দায়িত্ব পালন করেছেন র‌্যাব মহাপরিচালক। বাংলাদেশ পুলিশের অনন্য সেবাদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল’ পদকে ভূষিত হন। আহসান হাবীব পলাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে বিএসএস (সম্মান) এবং এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

জাতীয় সংসদ ভবন। ছবি : সংগৃহীত

এমপিদের বাসভবন বরাদ্দে নতুন তথ্য দিলেন চিফ হুইপ

ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান পোশাকে পুলিশ সন্তুষ্ট নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments