স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শুধু ওজন কমানো বা কঠোর কোনো ডায়েট অনুসরণ করার বিষয় নয়। প্রতিদিন আমরা যে খাবার বেছে নিই তার ওপরে আমাদের সামগ্রিক সুস্থতা নির্ভর করে।
ভারতীয় পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জি মনে করেন, কেউ যদি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সুস্থ থাকতে চায় তাহলে প্রতিটি খাবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। ভারতীয় এই পুষ্টিবিদ প্রতিদিন সকালে মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারে কী খাবেন—তা পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন। এই সহজ অভ্যাসটি প্রতিদিনের খাবারে সঠিক পুষ্টিকর উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা সহজ করে তুলতে পারে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে। মুখার্জি সম্প্রতি এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কীভাবে খাবার রুটিন মাফিক খাওয়া যেতে পারে, তা ব্যাখ্যা করেছেন—
১. দিনের শুরুতে কয়েক গ্লাস পানি পান করুন। আপনি যদি আমিষভোজী হন, তাহলে ডিম এবং যদি নিরামিষভোজী হন, তাহলে অঙ্কুরিত শস্য (স্প্রাউটস) খান। এর সঙ্গে এক গ্লাস সবজির জুস নিতে পারেন।
২. দুপুরের খাবারে আটার রুটি, একটি সবজি এবং আপনি নিরামিষভোজী হলে কিছু ডাল খেতে পারেন। আমিষভোজী হলে চিকেন বা মাছ খেতে পারেন। বিকেলে কিছু ছোলা এবং গ্রিন টি খেতে পারেন।
৩. রাতের খাবারে আবার চিকেন বা মাছের সঙ্গে স্যুপ ও সালাদ খেতে পারেন। অথবা রুটি, সবজি, ডাল ও সালাদ খেতে পারেন। প্রতিটি খাবারেই একটি নির্দিষ্ট ভারসাম্য রয়েছে। এতে প্রোটিন, চর্বি, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পলিফেনল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।
তিনি বলেন, আপনি যদি সঠিকভাবে খাবারের পরিকল্পনা করেন, তাহলে এভাবেই সব সময় সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারেন।
শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সঠিকভাবে খাবার খেলে হজমশক্তি ভালো থাকে এবং শরীরকে কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে।
অন্যদিকে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ, অপুষ্টি এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। খাবার আমাদের মেজাজের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ওমেগা-৩ ফ্যাট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার ভালো মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি খাওয়া নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শুধু ওজন কমানো বা কঠোর কোনো ডায়েট অনুসরণ করার বিষয় নয়। প্রতিদিন আমরা যে খাবার বেছে নিই তার ওপরে আমাদের সামগ্রিক সুস্থতা নির্ভর করে। ভারতীয় পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জি মনে করেন, কেউ যদি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সুস্থ থাকতে চায় তাহলে প্রতিটি খাবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। ভারতীয় এই পুষ্টিবিদ প্রতিদিন সকালে মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারে কী খাবেন—তা পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন। এই সহজ অভ্যাসটি প্রতিদিনের খাবারে সঠিক পুষ্টিকর উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা সহজ করে তুলতে পারে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে। মুখার্জি সম্প্রতি এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কীভাবে খাবার রুটিন মাফিক খাওয়া যেতে পারে, তা ব্যাখ্যা করেছেন— ১. দিনের শুরুতে কয়েক গ্লাস পানি পান করুন। আপনি যদি আমিষভোজী হন, তাহলে ডিম এবং যদি নিরামিষভোজী হন, তাহলে অঙ্কুরিত শস্য (স্প্রাউটস) খান। এর সঙ্গে এক গ্লাস সবজির জুস নিতে পারেন। ২. দুপুরের খাবারে আটার রুটি, একটি সবজি এবং আপনি নিরামিষভোজী হলে কিছু ডাল খেতে পারেন। আমিষভোজী হলে চিকেন বা মাছ খেতে পারেন। বিকেলে কিছু ছোলা এবং গ্রিন টি খেতে পারেন। ৩. রাতের খাবারে আবার চিকেন বা মাছের সঙ্গে স্যুপ ও সালাদ খেতে পারেন। অথবা রুটি, সবজি, ডাল ও সালাদ খেতে পারেন। প্রতিটি খাবারেই একটি নির্দিষ্ট ভারসাম্য রয়েছে। এতে প্রোটিন, চর্বি, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পলিফেনল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তিনি বলেন, আপনি যদি সঠিকভাবে খাবারের পরিকল্পনা করেন, তাহলে এভাবেই সব সময় সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারেন। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সঠিকভাবে খাবার খেলে হজমশক্তি ভালো থাকে এবং শরীরকে কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ, অপুষ্টি এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। খাবার আমাদের মেজাজের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ওমেগা-৩ ফ্যাট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার ভালো মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি খাওয়া নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি
দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে কাজ করলে অনেকেরই ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, ব্যথা বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে নিচের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। সময়ের সঙ্গে এই অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জাহির আব্বাস মার্চেন্ট দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের সময় ঘাড়ের ওপর চাপ কমানোর কয়েকটি সহজ উপায় জানিয়েছেন। ল্যাপটপে কাজ করলে ঘাড়ে ব্যথা হয় কেন? সমস্যাটি শুধু ল্যাপটপ ব্যবহারের কারণে নয়, বরং কীভাবে বসে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় নিচের দিকে তাকিয়ে থাকলে ঘাড়ের পেশিকে মাথার ভার ধরে রাখতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এতে পেশিতে ক্লান্তি, শক্তভাব, মাথাব্যথা ও ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। বিশেষজ্ঞের মতে, ঘাড় দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে রাখার জন্য তৈরি নয়। তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে কাজ করলে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। যাদের আগে থেকেই ঘাড় বা মেরুদণ্ডের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বসার ভঙ্গিতেও নজর দিন দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকলে ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁকেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে শুধু ভুল ভঙ্গির কারণে মেরুদণ্ডের সমস্যা হবে—এমন নয়। কিন্তু এটি ঘাড়ে চাপ ও অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই ল্যাপটপে কাজ করার সময় শুধু পর্দার দিকে নয়, নিজের বসার ভঙ্গির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। ওয়ার্কস্টেশনে যে পরিবর্তনগুলো করবেন ঘাড়ের ওপর চাপ কমাতে কর্মস্থলে কয়েকটি সহজ পরিবর্তন আনা যেতে পারে। যেমন— ল্যাপটপ বা মনিটরের পর্দা চোখের সমান উচ্চতায় রাখুন, যাতে বারবার নিচের দিকে তাকাতে না হয়। পিঠ ভালোভাবে সমর্থন করে এমনভাবে বসুন। দুই হাত আরামদায়ক অবস্থানে রাখুন। দুই পা মেঝেতে সমানভাবে রাখুন। দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে বসে থাকবেন না। ল্যাপটপ সরাসরি টেবিলের ওপর রেখে নিচের দিকে তাকিয়ে কাজ করার বদলে সেটিকে কিছুটা উঁচুতে রাখা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আলাদা কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহার করলে আরও আরামদায়কভাবে কাজ করা সম্ভব। কতক্ষণ পরপর বিরতি নেবেন? চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে না থেকে প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পরপর উঠে একটু হাঁটাচলা করা ভালো। এ সময় ঘাড় ও কাঁধ ধীরে ধীরে নড়াচড়া করাও যেতে পারে। নিয়মিত ছোট বিরতি নিলে একই ভঙ্গিতে থাকার কারণে ঘাড় ও কাঁধে তৈরি হওয়া শক্তভাব এবং চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? দীর্ঘ সময় কাজ করার পর ঘাড়ে হালকা ব্যথা বা শক্তভাব হলে বিশ্রাম এবং বসার ভঙ্গি ঠিক করার পর তা কমে যেতে পারে। তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘাড়ের ব্যথা যদি হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় কিংবা হাতে অসাড়তা, ঝিনঝিন ভাব বা দুর্বলতা দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬২ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ২ হাজার ৮৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে তিনজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মশার বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।