জাতীয়

স্থায়ী আবাসন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ৮০ শতাংশ কোটা চাইল হরিজন ঐক্য পরিষদ

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ এবং দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ।

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটির নেতারা।

 

বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হরিজন জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, আবাসন ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। অথচ দেশের পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

 

তাদের ভাষ্য, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা এবং আউটসোর্সিং ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট চাকরির অনিশ্চয়তা দূর করা জরুরি। এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন তারা।

 

মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত দাবির মধ্যে রয়েছে: 

  • হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করা।
  • পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ।
  • দীর্ঘদিন কর্মরত অস্থায়ী ও দৈনিকভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ী করা।
  • শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।
  • কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
  • সামাজিক বৈষম্য দূর করে সংবিধানস্বীকৃত সমঅধিকার বাস্তবায়ন।
  • শিক্ষিত হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি চাকরিতে ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ।

 

মানববন্ধনে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি লেবু বাসফোর, মহাসচিব বিমল ডোম, সাবেক সভাপতি কৃষ্ণলাল, উপদেষ্টা বাইজু লাল সরদার এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি কৃষ্ণচরণ কুঞ্জমালসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

উত্তরা ফাইন্যান্সের ৬৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ: দুদকের ১২ মামলার অনুমোদন

কোনো আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জামানত ছাড়াই ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি থেকে ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ৪৬ হাজার ১১৮ টাকা আত্মসাতের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঋণ দেওয়ার বিষয়টি বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়নি, নেওয়া হয়নি বোর্ডের অনুমোদনও। পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের এ ঘটনায় ১২টি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।     বৃহস্পতিবার দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ বলেন, উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট একটি লিজিং কোম্পানি। কোনো আবেদন বা জামানত ছাড়াই এবং বোর্ডে উপস্থাপন না করে ১১টি প্রতিষ্ঠান ও এক ব্যক্তির নামে প্রায় ৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা অসৎ উদ্দেশ্যে ও সুপরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরস্পর যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় কমিশন ১২টি মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে।       তিনি বলেন, ১২টি মামলায় মোট আসামি ৫৪ জন। একই ব্যক্তিরা একাধিক মামলায় আসামি হওয়ায় প্রকৃত আসামি ২২ জন। এর মধ্যে ছয়জন বিভিন্ন মামলায় কমন আসামি।       দুদকের মানিলন্ডারিং অনুবিভাগের ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান শাখার নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।     দুদক জানায়, ১১টি প্রতিষ্ঠানের নামে দেওয়া ঋণের মাধ্যমে ৫৫ কোটি ৭১ লাখ ৯২ হাজার ৯২৮ টাকা এবং উত্তরা ফাইন্যান্সের সাবেক সিনিয়র অফিসার মিঠু কুমার সাহার ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা ১৩ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার ১৯০ টাকাসহ মোট ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ৪৬ হাজার ১১৮ টাকা আত্মসাতের তথ্য রয়েছে।       দুদক আরও জানায়, ম্যাক্স সোরেটার বিডি লিমিটেডের নামে ৬ কোটি, সাদ মুসা ফেব্রিক্স লিমিটেডের নামে ৪ কোটি, সাজিদ মাহমুদ কটন মিলস লিমিটেডের নামে ৪ কোটি এবং জেসন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের নামে ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৮৬ টাকা আত্মসাতের তথ্য রয়েছে। সবচেয়ে বেশি অর্থের ঘটনা বেইজ টেক্সটাইল লিমিটেডে। প্রতিষ্ঠানটির নামে ৩০ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ১১৯ টাকা আত্মসাতের তথ্য নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় আসামি তিনজন।     এছাড়া প্যান এশিয়া ট্রেড হাউসের নামে ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯০১ টাকা, ডাইনামিক স্টক ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের নামে ১ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার ৩০৬ টাকা, শাহ মো. সগীর অ্যান্ড কোংয়ের নামে ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ৩২২ টাকা, এসটিসি শিপিং লাইন্স লিমিটেডের নামে ৬০ লাখ টাকা, জাগো আর্ট সেন্টার ও মেসার্স ইন্টারন্যাশনালের নামে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং রকিবুল আনোয়ার হাসপাতাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ঢাকা লিমিটেডের নামে ১ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য রয়েছে।       দুদকের নথিতে প্রকৃত আসামি হিসেবে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা হলেন- ম্যাক্স সোরেটার বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মনিরুজ্জামান, পরিচালক সেলিনা জামান, কাজী সিরাজুজ্জামান ও কাজী আবুল কালাম আজাদ; সাদ মুসা ফেব্রিক্স ও সাজিদ মাহমুদ কটন মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহসিন এবং পরিচালক মোসাম্মত রোকেয়া বেগম ও শামীমা নার্গিস।     এছাড়া জেসন ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালক আযরা সেলিম, জিনাত সেলিম, এনাম মালিক ও নাফিজা সেলিম, বেইজ টেক্সটাইলের ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ার শাহাদাত ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান শিবলী, প্যান এশিয়া ট্রেড হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফাইজুল হক এবং রকিবুল আনোয়ার হাসপাতাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রকিবুল মোহাম্মদ আনোয়ার ও তার স্ত্রী নাফিজা আক্তার আনোয়ার রয়েছেন।       এর সঙ্গে উত্তরা ফাইন্যান্সের সাবেক ছয় কর্মকর্তাকে কমন আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শামসুল আরেফীন, সাবেক সিনিয়র অফিসার মিঠু কুমার সাহা, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আরিফুজ্জামান, সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম কামরুজ্জামান এবং সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার রাকিবুল ইসলাম।       দুদক জানায়, দুদকের নথিতে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করার কথা বলা হয়েছে।       নথির বর্ণনা অনুযায়ী, কোনো আবেদন বা প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র জমা না দিয়ে, জামানত ছাড়াই এবং বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে ঋণ দেওয়া হয়। পরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে এসব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।  

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: পিআইডি

গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে, শত্রুতা নয়: জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাব বিলুপ্তিসহ ৬টি বিল পাসের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সংসদ অধিবেশন

ছবি: সংগৃহীত

পিলখানা ঘটনায় চাকরিচ্যুত ৮,৭৯৬ বিডিআর সদস্যের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
ব্রিকস নিয়ে ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্ন, জাতিসংঘে কড়া বার্তা খলিলুর রহমানের

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এক ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।   তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট দেশের জাতীয় স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করা নয়; বরং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা ও সমঝোতা বাড়ানো।   বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে দায়িত্ব গ্রহণের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই সাংবাদিক জানতে চান, আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অথবা বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি দল অংশ নেবে কি না।   জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “আমি এখানে কোনো জাতীয় কাজ নিয়ে আসিনি।”   তিনি ব্যাখ্যা করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব এক নয়। সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তাঁকে নিরপেক্ষতা ও ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করতে হবে। কোনো দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজাই হবে তাঁর অন্যতম দায়িত্ব।   জাতিসংঘের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটিকে প্রতিনিধি ও কর্মী—দুই ভূমিকাতেই কাছ থেকে দেখেছেন। এ কারণে জাতিসংঘের কার্যক্রমকে তিনি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।   তাঁর ভাষায়, জাতিসংঘকে তিনি কখনো প্রতিনিধি হিসেবে, আবার কখনো কর্মী হিসেবে দেখেছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর বিস্তৃত অভিজ্ঞতা রয়েছে।   বিশ্বের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি। সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলেও গঠনমূলক আলোচনা সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রধান আকাঙ্ক্ষা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া।   রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের আরও কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।   এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘ইউএন৮০’ উদ্যোগের প্রতিও সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন ড. খলিলুর রহমান।   এর আগে মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্ব শেষে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে আগামী এক বছরের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে এলেন বাংলাদেশের এই কূটনীতিক। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাবনায় ১০ বছরের শিশু নিখোঁজ, একদিনেও মেলেনি খোঁজ

ছবি: সংগৃহীত

বাসি খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, চট্টগ্রামে তিন রেস্টুরেন্টকে জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

মুক্তাগাছায় যুবকের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন, হাসপাতালে মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন: শফিকুর রহমান

বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।   বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে গেলেও দেশের মানুষকে শান্তি দেননি। বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি উসকানি দিচ্ছেন এবং দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।   তিনি বলেন, ‘এই আসি, ওই আসি—আসিই আসি বলেন, তাহলে গেলেন কেন? দেশে থাকতেন, রাজনীতি করতেন।’   অপরাধীদের দেশত্যাগের প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, অপরাধ করলে তার শাস্তি গ্রহণ করা উচিত। তার ভাষ্য, দোষী, অপরাধী, চোর ও লুটেরারাই সাধারণত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। সৎ মানুষ পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, দেশেই থেকে যায়।   শেখ হাসিনার সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। এ সময় তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ ও সাধারণ মানুষের ভূমিকার প্রশংসা করেন।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সাফল্যের পেছনে তরুণদের নেতৃত্বের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা ছিল। আন্দোলনে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক পক্ষগুলোকেও তিনি অভিনন্দন জানান।   ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক হবে না।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে ভালো ও আন্তরিক প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক চায়। তবে এ ধরনের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় দেশের সদিচ্ছা ও পারস্পরিক সম্মান প্রয়োজন।   সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা আর দেখতে চান না। ফেলানী হত্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সীমান্তে কোনো বাংলাদেশির মরদেহ দেখতে চান না তারা।   তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট আর মেনে নেওয়া যায় না।   এর আগে দীর্ঘ বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন, ২০০৮ সালের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।   ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের তথ্যের বরাত দিয়ে দাবি করেন, ওই আন্দোলনে অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তার দাবি, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন শেষ পর্যন্ত তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় সম্মানী পাবেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ধর্মীয় নেতা-সেবাকর্মী

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রদবদল

0 Comments