খেলাধুলা

স্পেনের বিশ্বজয়ের পর ফের আলোচনায় ‘বাবা ভাঙ্গা’, কতটা মিলল কথিত ভবিষ্যদ্বাণী?

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২০, ২০২৬
লামিনে ইয়ামাল, লিওনেল মেসি ও বাবা ভাঙ্গা। ছবি : সংগৃহীত
লামিনে ইয়ামাল, লিওনেল মেসি ও বাবা ভাঙ্গা। ছবি : সংগৃহীত

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে স্পেন। ফাইনালের ফল প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচলিত বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী। কেউ দাবি করছেন তার কথাই সত্যি হয়েছে, আবার কেউ বলছেন বাস্তবতার সঙ্গে এসব দাবির মিল নেই।

 

যদিও গবেষক ও তথ্য-যাচাইকারীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাবা ভাঙ্গার নামে বিশ্বকাপ নিয়ে প্রচারিত অধিকাংশ পূর্বাভাসের কোনো নির্ভরযোগ্য বা ঐতিহাসিক উৎস নেই। ফলে এগুলোকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রচলিত দাবি হিসেবেই দেখা উচিত।

 

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সকে বিদায় করে স্পেন পৌঁছেছিল শিরোপার লড়াইয়ে। কোটি ফুটবলপ্রেমীর প্রশ্ন ছিল- শেষ হাসি হাসবে কে? সেই আবহেই আবারও আলোচনায় উঠে আসে বাবা ভাঙ্গার কথিত পূর্বাভাস। শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে জয়ী হয়ে বিশ্বকাপ নিজেদের করে নেয় স্পেন।

 

বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রযুক্তি এবং বিশ্বরাজনীতি নিয়ে বাবা ভাঙ্গার নামে নানা ভবিষ্যদ্বাণী প্রচারিত হয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে বিভিন্ন দাবি ঘুরে বেড়ায়। কোথাও বলা হয়, তিনি সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর কথা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আবার কোথাও দাবি করা হয়, বিশ্বকাপে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

 

তবে এসব দাবির সত্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচলিত অধিকাংশ ভবিষ্যদ্বাণীর কোনো নির্ভরযোগ্য বা যাচাইযোগ্য উৎস পাওয়া যায় না। ফলে এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, বরং লোকমুখে প্রচলিত গল্প বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি হিসেবেই দেখা উচিত।

 

যেসব দলকে নিয়ে আলোচনা

প্রচলিত দাবিতে বলা ছিল- বাবা ভাঙ্গা সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে কয়েকটি শক্তিশালী দলের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

আর্জেন্টিনা: বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেভারিট ছিল এবং ফাইনালেও ওঠে। তবে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।

স্পেন: তরুণ ও প্রতিভাবান দল নিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থেকে ফাইনালে পৌঁছে শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নেয়।

ফ্রান্স: শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে টুর্নামেন্টে ভালো খেললেও সেমিফাইনালে বিদায় নিতে হয়।

ইংল্যান্ড: ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পরও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়।

পর্তুগাল: প্রতিভায় ভরপুর দল হলেও ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি।

 

কতটা মিলল সেই কথিত ভবিষ্যদ্বাণী?

স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাস নাকি সত্যি হয়েছে। তবে বাস্তবে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রমাণ নেই, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ের কথা বলেছিলেন। একইভাবে আর্জেন্টিনা, স্পেন বা অন্য কোনো দলকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করারও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না।

 

ফলে বিশ্বকাপের ফল নির্ধারণ হয়েছে মাঠের লড়াইয়ে। রহস্যময় কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়; বরং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, কোচদের কৌশল এবং ম্যাচের বাস্তব ঘটনাই ঠিক করেছে কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপের ট্রফি।

 

বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচারিত এসব পূর্বাভাসের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। তাই এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশে ব্রাজিল, জার্মানি ও পর্তুগাল নেই। ছবি: সংগৃহীত
ফিফার সেরা ৪৮: র‌্যাংকিংয়ে ব্রাজিল, জার্মানি, পর্তুগালের অবস্থান যেখানে

বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শেষ হওয়ার পর সোমবার অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর র‌্যাংকিং (১-৪৮) নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে ফিফা। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে স্পেন আছে সবার ওপরে। দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ স্থানে পর্যায়ক্রমে আছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।      সেমিফাইনালের আগের ধাপ থেকে যেসব দল বিদায় নিয়েছে, তাদের র‌্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়েছে কয়েকটি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে। যেমন, ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত মোট পয়েন্ট (পেনাল্টি শুটআউটে গড়ানো ম্যাচ ড্র হিসেবে গণ্য), গোল ব্যবধান, সব ম্যাচ মিলিয়ে করা মোট গোলের সংখ্যা।   এসব মানদণ্ড প্রয়োগ করার পর সমতায় থাকা দুই বা এর বেশি দল র‌্যাংকিংয়ে সমান অবস্থান ভাগাভাগি করেছে। যেমন- ইকুয়েডর ও দক্ষিণ আফ্রিকা যথাক্রমে ২৫তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।   ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা নরওয়ে র‌্যাংকিংয়ের পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে। এরপর দশম স্থান পর্যন্ত আছে যথাক্রমে বেলজিয়াম (৬), মরক্কো (৭), সুইজারল্যান্ড (৮), মেক্সিকো (৯) ও কলম্বিয়া (১০)।     একাদশ থেকে ২০তম স্থানে আছে টপ ফেভারিট হিসেবে এবারের আসর খেলতে যাওয়া কয়েকটি দল। ব্রাজিলের (১১) পর জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (১২), পর্তুগাল (১৩), কানাডা (১৪), মিসর (১৫), প্যারাগুয়ে (১৬), নেদারল্যান্ডস (১৭), জার্মানি (১৮), আইভরি কোস্ট (১৯) ও ক্রোয়েশিয়া (২০)।     র‌্যাংকিংয়ে বাকি দলগুলোর অবস্থান যথাক্রমে জাপান (২১), অস্ট্রেলিয়া (২২), ডিআর কঙ্গো (২৩), ঘানা (২৪), ইকুয়েডর ও দক্ষিণ আফ্রিকা (২৫), সুইডেন (২৭), অস্ট্রিয়া (২৮), বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা (২৯), আলজেরিয়া (৩০), সেনেগাল (৩১), কেপ ভার্দে (৩২), ইরান (৩৩), কোরিয়া প্রজাতন্ত্র (৩৪), তুরস্ক (৩৫), স্কটল্যান্ড (৩৬), উরুগুয়ে (৩৭), সৌদি আরব (৩৮), চেক প্রজাতন্ত্র (৩৯), নিউজিল্যান্ড (৪০), কাতার (৪১), কুরাসাও (৪২), পানামা (৪৩), জর্ডান (৪৪), হাইতি (৪৫), উজবেকিস্তান (৪৬), তিউনিশিয়া (৪৭) এবং ইরাক (৪৮)।

মারিয়া রহমান জুলাই ২০, ২০২৬

মেসির সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছে আর্জেন্টিনা

নিকো পাজের আবেগঘন পোস্ট, ‘বিশ্বকাপ আবার আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে আনবো’

ছবি: সংগৃহীত

মেসির অবসর জল্পনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন স্কালোনি

লামিনে ইয়ামাল, লিওনেল মেসি ও বাবা ভাঙ্গা। ছবি : সংগৃহীত
স্পেনের বিশ্বজয়ের পর ফের আলোচনায় ‘বাবা ভাঙ্গা’, কতটা মিলল কথিত ভবিষ্যদ্বাণী?

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে স্পেন। ফাইনালের ফল প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচলিত বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী। কেউ দাবি করছেন তার কথাই সত্যি হয়েছে, আবার কেউ বলছেন বাস্তবতার সঙ্গে এসব দাবির মিল নেই।   যদিও গবেষক ও তথ্য-যাচাইকারীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাবা ভাঙ্গার নামে বিশ্বকাপ নিয়ে প্রচারিত অধিকাংশ পূর্বাভাসের কোনো নির্ভরযোগ্য বা ঐতিহাসিক উৎস নেই। ফলে এগুলোকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রচলিত দাবি হিসেবেই দেখা উচিত।   বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সকে বিদায় করে স্পেন পৌঁছেছিল শিরোপার লড়াইয়ে। কোটি ফুটবলপ্রেমীর প্রশ্ন ছিল- শেষ হাসি হাসবে কে? সেই আবহেই আবারও আলোচনায় উঠে আসে বাবা ভাঙ্গার কথিত পূর্বাভাস। শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে জয়ী হয়ে বিশ্বকাপ নিজেদের করে নেয় স্পেন।   বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রযুক্তি এবং বিশ্বরাজনীতি নিয়ে বাবা ভাঙ্গার নামে নানা ভবিষ্যদ্বাণী প্রচারিত হয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে বিভিন্ন দাবি ঘুরে বেড়ায়। কোথাও বলা হয়, তিনি সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর কথা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আবার কোথাও দাবি করা হয়, বিশ্বকাপে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।   তবে এসব দাবির সত্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচলিত অধিকাংশ ভবিষ্যদ্বাণীর কোনো নির্ভরযোগ্য বা যাচাইযোগ্য উৎস পাওয়া যায় না। ফলে এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, বরং লোকমুখে প্রচলিত গল্প বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি হিসেবেই দেখা উচিত।   যেসব দলকে নিয়ে আলোচনা প্রচলিত দাবিতে বলা ছিল- বাবা ভাঙ্গা সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে কয়েকটি শক্তিশালী দলের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আর্জেন্টিনা: বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেভারিট ছিল এবং ফাইনালেও ওঠে। তবে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। স্পেন: তরুণ ও প্রতিভাবান দল নিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থেকে ফাইনালে পৌঁছে শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নেয়। ফ্রান্স: শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে টুর্নামেন্টে ভালো খেললেও সেমিফাইনালে বিদায় নিতে হয়। ইংল্যান্ড: ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পরও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়। পর্তুগাল: প্রতিভায় ভরপুর দল হলেও ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি।   কতটা মিলল সেই কথিত ভবিষ্যদ্বাণী? স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাস নাকি সত্যি হয়েছে। তবে বাস্তবে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রমাণ নেই, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ের কথা বলেছিলেন। একইভাবে আর্জেন্টিনা, স্পেন বা অন্য কোনো দলকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করারও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না।   ফলে বিশ্বকাপের ফল নির্ধারণ হয়েছে মাঠের লড়াইয়ে। রহস্যময় কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়; বরং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, কোচদের কৌশল এবং ম্যাচের বাস্তব ঘটনাই ঠিক করেছে কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপের ট্রফি।   বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচারিত এসব পূর্বাভাসের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। তাই এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব ছাড়তে পারেন স্কালোনি

ছবি: সংগৃহীত

নেইমারের প্রতি শ্রদ্ধা, বিশ্বকাপ ট্রফি উৎসর্গ করলেন নিকো উইলিয়ামস

ছবি: সংগৃহীত

প্রথম ম্যাচে হার, যে মন্ত্রে ঘুরে দাঁড়াল টাইগাররা

লিওনেল মেসির। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর যা বললেন মেসি

স্বপ্নের ট্রফি দ্বীতিয়বারের মতো হাতে নেওয়া হলো না লিওনেল মেসির। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আরেকটি জাদুকরী পারফরম্যান্স করতে পারেননি এই তারকা। ম্যাচ শেষে মেডেল গলায় কাঁদতে দেখা গেল তাকে। তবে জয়ের সবটুকু কৃতিত্ব প্রতিপক্ষ স্পেনকেই দিলেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।   পুরো ম্যাচে স্পেনের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মত। প্রতিটি সূচকে আর্জেন্টিনার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা। ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, গোলে শটের দিক থেকে স্পেন ২০-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল এবং পাসের সংখ্যায় ৮৪৫-৪৩৩ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো কোণঠাসা করে রেখেছিল লা রোজারা।    ম্যাচের পর দর্শকদের সঙ্গে অনুভূতি ভাগাভাগি করতে গিয়ে কান্না আটকে রাখতে পারেননি মেসি। তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত, তবে আমি জানি যে আমরা আমাদের পুরো হৃদয় দিয়ে খেলেছি।’   ফাইনালে এবং পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই স্পেনের আধিপত্য ছিল একচ্ছত্র। ‘লা রোজা’ ফাইনালে শটের দিক থেকে ২০-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল এবং তারা আর্জেন্টিনাকে ৮৪৫-৪৩৩ পাসে পেছনে ফেলে দেয়।   মেসি স্পেনের পারফরম্যান্সকে কৃতিত্ব দিলেন, ‘সত্যি বলতে, ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা খেলায় হেরেছি এবং আমরা তা মেনে নিচ্ছি। তার মানে এই নয় যে আমরা এ পর্যন্ত যা কিছু করেছি তা ভুলে যাব, তাই আমি আমার দেশের মানুষ, খেলোয়াড় ও আমার দেশকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’   টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা মেসি ও তার দল শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও, পরাজয়কে সসম্মানে মেনে নিয়ে মেসি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি ফুটবলের সত্যিকারের ভদ্রলোক। মাঠ ছাড়ার আগে তার সেই চোখের জল কেবল একটি পরাজয়ের কষ্টই নয়, বরং এক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চে আবেগপূর্ণ বিদায়ের প্রতীক হয়ে রইল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এই কান্নাতেই কি শেষ হলো আকাশি-নীল জার্সিতে মেসির অধ্যায়?

ছবি: সংগৃহীত

চোখের জলে বিশ্বকাপকে বিদায় বললেন মেসি

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্যক্তিগত অর্জনেও স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য

0 Comments