বিশ্ব

সৌদি আরবে আগামী বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় কী কী পরিবর্তন আসছে

মারিয়া রহমান জুন ০২, ২০২৬
সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত মসজিদুল হারাম | ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত মসজিদুল হারাম | ছবি: সংগৃহীত


হজযাত্রীদের সেবা সহজতর করা, আবাসনের মান উন্নত করা এবং হজ কার্যক্রমের তদারকি জোরদার করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ সংস্কার আনতে যাচ্ছে সৌদি আরব। এসব সংস্কার বাস্তবায়নসহ আগামী বছরের হজ মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু করেছে দেশটি।

মক্কায় হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক সমাপনী অনুষ্ঠানে হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী তৌফিক আল রাবিয়াহ এসব পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। সেখানে কর্মকর্তারা আগামী হজ মৌসুমের আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজবিষয়ক কার্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের প্রাথমিক রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হচ্ছে সমন্বিত সেবা মডেল প্রবর্তন। এর আওতায় একটি একক বা ইউনিফাইড প্যাকেজের অধীন মক্কা ও মদিনার আবাসনের সঙ্গে পরিবহন ও খাবারের সেবাকে যুক্ত করা হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থানকালে এসব সেবা হজযাত্রীদের ভ্রমণ কর্মসূচির বাধ্যতামূলক অংশ হয়ে উঠবে।

মন্ত্রণালয় হজ প্যাকেজ পুনর্গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছে। বিদ্যমান অফারগুলো কমিয়ে তিনটি শ্রেণিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো হজযাত্রীদের চাহিদা ও পছন্দের সঙ্গে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্য রেখে অধিকতর সেবা দেওয়া। নতুন এই ব্যবস্থায় বর্তমান প্যাকেজগুলোর মধ্যে থাকা ‘প্যাকেজ ডি’ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

কার্যক্রমের মান উন্নত করার লক্ষ্যে আরও একটি পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি কর্তৃপক্ষ হজবিষয়ক কার্যালয়গুলোয় কর্মরত কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করবে। হজ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রয়োজনীয় ভিসা ও অনুমতিপত্র (পারমিট) পাওয়ার ক্ষেত্রে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করা পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য হবে।

মন্ত্রণালয় ১৪৪৮ হিজরির (২০২৭ সাল) হজ মৌসুমের প্রস্তুতির সময়সূচিও নির্ধারণ করেছে। চলতি মাসের ৩০ জুন থেকে হজবিষয়ক কার্যালয় এবং আন্তর্জাতিক হজসেবা প্রদানকারীরা মক্কা ও মদিনায় আবাসনের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বুকিং বা সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে পারবেন।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব সংস্থা পবিত্র স্থানগুলোয় (মিনা-আরাফাহ) তাদের বিদ্যমান অবস্থান বা জায়গা ধরে রাখতে চায়, নতুন সমন্বিত সেবা প্যাকেজে চুক্তি করার সময় তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই বুকিংয়ের সময়সীমা চলতি বছরের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই বার্ষিক ধর্মীয় সমাবেশ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সৌদি আরব হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করতে এবং সেবার মান শক্তিশালী করতে নানামুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; এসব পদক্ষেপ তারই অংশ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮

ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে একটি অবৈধ আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) শহরের বাস্ত্রাল এলাকায় অবস্থিত ‘ট্যালেন্ট ফায়ারওয়ার্কস’ নামের ওই কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আহমেদাবাদের সিভিল হাসপাতাল ও মণিনগরের এলজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে দমকল বাহিনী ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে। ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ) থেকে ২ লাখ রুপি করে দেওয়া হবে। এছাড়া আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেওয়া হবে। এক বিবৃতিতে মোদি বলেন, আহমেদাবাদের আতশবাজি কারখানায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকট

ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালে মাঠের বাইরে ফিলিস্তিন-ইসরাইল ইস্যুর উত্তাপ

ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তুরস্ক, আতঙ্কে ঘরছাড়া মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলা তীব্র করতে ইসরায়েলে আরও মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ইসরায়েলে আরও কয়েক ডজন আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী রিফুয়েলিং বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েকজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর অ্যাক্সিওসের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে নতুন কয়েকটি সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর হোয়াইট হাউস ইরানে হামলার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির আশপাশে যে হামলা চলছে, নতুন পরিকল্পনায় তার চেয়েও বিস্তৃত অভিযান চালানোর কথা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনা। এছাড়া পিকঅ্যাক্স মাউন্টেইনের ভূগর্ভস্থ একটি স্থাপনাতেও হামলার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, সেখানে ইরান নতুন সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলছে। তবে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইরানকে আরও বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপে ফেলতে তিনি হামলার তীব্রতা বাড়ানোর পক্ষে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই হামলার মাত্রা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। এরই মধ্যে টানা পঞ্চম দিনের মতো হরমুজ প্রণালি ও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্দর আব্বাসের আশপাশের অন্তত সাতটি সেতুতে হামলা হয়েছে। এই শহরকে হরমুজ এলাকায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। দেশটির দাবি, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া সিরিয়ায় একটি মার্কিন ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। যদিও কয়েক মাস আগেই ওই ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বর্তমানে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০টি রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে। ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের রেমন বিমানঘাঁটিতেও প্রায় একই সংখ্যক মার্কিন বিমান রয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই আরও কয়েক ডজন রিফুয়েলিং বিমান পাঠাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এতে যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিমাণ মার্কিন বিমান ইসরায়েলে ছিল, সেই অবস্থায় ফিরে যাবে দেশটি। মার্কিন বাহিনী বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরকেই সবচেয়ে নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য বিমানঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সামরিক বিমান বেন গুরিয়নে অবস্থান করায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক সাধারণ ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ বেন গুরিয়ন থেকে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান সরিয়ে নেওয়া বা সংখ্যা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, অতিরিক্ত মার্কিন বিমান কোথায় রাখা হবে, সেই ব্যবস্থা ইসরায়েল সরকারকেই করতে হবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৮, ২০২৬
ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

যেকোনো সময় ইসরায়েলে অ্যাটাক, হিজবুল্লাহকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন হামলায় ইরানের ওয়াটার সাপ্লাই বন্ধ, সংকটে ১০ হাজার মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে লিজিওনেয়ার্স রোগে একজনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
বন্দি পালানো ঠেকাতে এবার কারাগারে কুমির রাখছে ইসরায়েল

ফিলিস্তিনি বন্দিদের পালানো ঠেকাতে কুমির দিয়ে ঘেরা বিশেষ কারাগার তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। এ জন্য নীল নদের কুমিরের বিশেষ সংরক্ষিত প্রাণীর মর্যাদা বাতিল করে নতুন আইন করেছে দেশটি। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, গত বুধবার দেশটির পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলম্যান একটি অধ্যাদেশে সই করেন। এর ফলে নীল নদের কুমিরকে নতুন একটি আইনি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় নিরাপত্তার প্রয়োজনে রাষ্ট্র কুমির নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারবে। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নিরাপত্তা বাহিনী কুমির ব্যবহার করতে পারবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের প্রস্তাবের পরই এ সিদ্ধান্ত আসে। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য চারপাশে কুমির দিয়ে ঘেরা একটি কারাগার তৈরির প্রস্তাব দেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ ডিটেনশন সেন্টার থেকে তিনি এ ধারণা পেয়েছেন। তবে ইসরায়েল প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলেছেন, কুমিরকে শুধু শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা উচিত। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টা নেটা ডোরি বলেন, এ পরিকল্পনার পক্ষে যথেষ্ট আইনি বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অন্যদিকে কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, আক্রমণাত্মক কুকুর সামলানোর অভিজ্ঞতা থাকায় তারা কুমিরও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তবে এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে নেটা ডোরি বলেন, কুমিরের মতো বিপজ্জনক বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনায় কারা কর্তৃপক্ষের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। পরিকল্পনাটি অনুমোদনের পর বেন গাভির ফেসবুকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে তাকে শিকলে বাঁধা একটি কুমির টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, সন্ত্রাসীরা পালানোর কথা ভাবার আগে আরেকবার ভাবুক। এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, পাহারার কাজে বন্যপ্রাণী ব্যবহার করা অনৈতিক এবং এতে কুমির ও মানুষের নিরাপত্তা—দুইই ঝুঁকিতে পড়বে। তারা আরও বলেন, কুমিরের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য বিশেষ পরিবেশ প্রয়োজন। এছাড়া শীতকালে কুমিরের চলাফেরা অনেক কমে যায় এবং তারা প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কুমির ব্যবহার কার্যকর হবে না। উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে ইসরায়েলে নীল নদের কুমির সংরক্ষিত প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। গত বছর পশ্চিম তীরের একটি খামারে ২৫০টির বেশি সংরক্ষিত কুমির হত্যা করেছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ঘটনাটি নিয়ে সে সময়ও পরিবেশ ও পশুকল্যাণ সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৮, ২০২৬
লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম

সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম

ছবি: সংগৃহীত

৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তুরস্ক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহু আবার ক্ষমতায় এলে দেশ ছাড়ার ভাবনায় এক-চতুর্থাংশ ইসরায়েলি

0 Comments