দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপকে সচল রাখতে এবং এর ২৬,৬০০ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া ঋণ—যৌথভাবে পুনর্গঠনের কথা বিবেচনা করছে দুটি বিদেশি ব্যাংকসহ মোট ৩৬টি ব্যাংক। বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এই শিল্পগোষ্ঠী।
এই সিন্ডিকেটেড পুনর্গঠন কাঠামো চূড়ান্ত করতে ব্যাংকগুলোর আজ হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রুপটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখা এবং ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের প্রভিশনিংয়ের (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) চাপ এড়ানো। ব্যাংকিং খাতের সূত্রগুলো জানায়, ঋণগুলোকে এখনই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করে—এই প্রস্তাবের আওতায় তা পুনর্গঠন করা হবে এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হবে।
সিটি গ্রুপের এই ঋণগুলো এখনও শ্রেণীকৃত করা হয়নি। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা আজকের বৈঠকের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পগোষ্ঠীটির বার্ষিক আয় প্রায় ৩২,০০০ কোটি টাকা এবং এখানে প্রায় ২৫,০০০ কর্মী কর্মরত আছেন।
অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে খরচ হচ্ছে এবং কী পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে—সেসব বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিটি গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদে (বোর্ড) ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরা থাকবেন। যদি ৩৬টি ব্যাংকই একমত হয়, তবে তারা পর্ষদে বসার জন্য দুই বা তিনজন প্রতিনিধি মনোনীত করবে। এটি মূলত বৈশ্বিক ঋণ পুনর্গঠন মডেল এবং 'ওয়াটারফল মেকানিজম' অনুসরণ করে করা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায় ৩৬টি ব্যাংকের যৌথ মালিকানায় একটি কেন্দ্রীয় এসক্রো অ্যাকাউন্ট থাকবে। ওয়াটারফল মেকানিজমের আওতায়, সমস্ত নগদ অর্থ বা ক্যাশ ফ্লো এই অ্যাকাউন্টে জমা হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি হয়, তবে সেই টাকা প্রথমে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এরপর সেই ১০০ টাকা থেকে ৮০ টাকা সিটি গ্রুপকে চলতি মূলধন হিসেবে ফেরত দেওয়া হবে এবং বাকি ২০ টাকা ঋণ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানও এই প্রস্তাবিত সমাধানের সাথে একমত পোষণ করেছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাসরুর আরেফিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে মে মাসে বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান, ব্যাংকিং খাতের সংকটের কারণে চলতি মূলধনের অপ্রাপ্যতা এবং গ্যাস সংযোগে বিলম্বের কারণে ছয়টি প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়ায়—তীব্র আর্থিক চাপের মুখে পড়ে সিটি গ্রুপ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নীতিগত সহায়তা চেয়েছিল। এরপর গ্রুপটিকে সচল রাখার একটি সমাধান বের করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেন গভর্নর, যাতে ব্যাংকগুলোর ওপর বাড়তি প্রভিশনের বোঝা না চাপে।
উদ্ধার পরিকল্পনার রোডম্যাপ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, সুবিধাগুলো চালু রাখতে এবং ব্যাংকগুলোকে ঋণের প্রভিশনের বোঝা থেকে বাঁচাতে চলতি বছরের ডিসেম্বর বা তার পরবর্তী সময় পর্যন্ত ঋণগুলো খেলাপি না করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে বিশেষ অনুমোদন চাওয়া হবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি স্বতন্ত্র মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে এবং এতে বাইরের পুনর্গঠন বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে।
কৌশলগত রোডম্যাপের মধ্যে রয়েছে, নন-কোর (মূল ব্যবসার বাইরে) ব্যবসা এবং সম্পদ বিক্রি করা। কারণ এর মধ্যে কিছু সম্পদ ব্যালেন্স শিটের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এগুলো থেকে কোনো রিটার্ন বা আয় আসছে না। গ্রুপটির অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) এবং হাই-টেক পার্ক প্রকল্পগুলোও বিক্রি করে দেওয়া হতে পারে। ব্যাংকাররা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, তারা এগুলোর জন্য ক্রেতা খুঁজবেন। ক্রেতারা ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কিছু বিষয়ে নিশ্চয়তা চাইতে পারে এবং ব্যাংক সেই অনুরোধগুলো মূল্যায়ন করবে।
তারা জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম ব্যাংকগুলো একটি সংকটাপন্ন করপোরেট অ্যাকাউন্টকে এসক্রো ব্যবস্থা এবং সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে যৌথভাবে পুনর্গঠন করছে।
একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী বলেন, "শেষ পর্যন্ত ফলাফল কী হবে আমরা জানি না, তবে আমরা এই পদ্ধতিতেই এগোচ্ছি। কোনো একটি ব্যাংক যদি এককভাবে পদক্ষেপ নেয়, তবে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। কিন্তু সব ব্যাংক একসাথে কাজ করলে সফলতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।"
যে কারণে আর্থিক সংকটে সিটি গ্রুপ
২০২৩ সালে সিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের মৃত্যুর পর সমস্যার শুরু হয়। ব্যবস্থাপনায় একক নিয়ন্ত্রণের অভাবে গ্রুপটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, মূলধন ঘাটতি এবং একীভূতকরণসহ (মার্জার) ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকটের কারণে অধিকাংশ ব্যাংক গ্রুপটিকে চলতি মূলধন জোগাতে অপারগতা দেখায়, যা কাঁচামাল আমদানিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে এবং বিক্রি এক-তৃতীয়াংশের নিচে নামিয়ে আনে। তদুপরি, গ্রুপটি বড় ধরনের বৈদেশিক মুদ্রার লোকসানের সম্মুখীন হয় এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে তাদের এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) সীমাও কমে যায়।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাথে আলাপকালে ফজলুর রহমানের ছেলে ও গ্রুপটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হাসান আর্থিক সংকটের জন্য মূলত বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান, ব্যাংকের সমর্থন কমে যাওয়া এবং টাকার তীব্র অবমূল্যায়নকে দায়ী করেন, যা তাদের আমদানি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, "২০২২ সাল থেকে আমরা ২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান দিয়েছি, যা আমাদের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।"
তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতের সংকট তাদের কার্যক্রমকে আরও সংকুচিত করেছে, কারণ বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে বা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি সরবরাহকারীরা কিছু স্থানীয় ব্যাংকের ইস্যু করা এলসি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তাঁর মতে, টাকার অবমূল্যায়ন এবং ঋণের সীমা সংকুচিত হওয়ায়, গ্রুপটির ক্রয়ক্ষমতা প্রায় ৯০ কোটি (৯০০ মিলিয়ন) ডলার কমে গেছে। "কার্যত আমরা প্রায় ৯০ কোটি ডলারের আমদানি সক্ষমতা হারিয়েছি" –বলেন তিনি।
তিনি বলেন, যখন ডলারের দাম বেড়ে গেল এবং ব্যাংকগুলো ঋণের সীমা কমিয়ে দিল, তখন গ্রুপের আমদানি সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। "পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন বেশ কয়েকটি ব্যাংক বড় করপোরেট গ্রাহকদের সহায়তা দিতে কার্যত অক্ষম হয়ে পড়ে। এক্সিম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা ফেরত পাওয়ার পরও আগের মতো সহায়তা দেয়নি।"
"যেমন ইসলামী ব্যাংকের সাথে আমাদের প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকার একটি রিভলভিং ক্রেডিট লিমিট ছিল। ৫ আগস্টের পর সেই সুবিধা কার্যত ভেঙে পড়ে। বিদেশি সরবরাহকারী এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো কিছু স্থানীয় ব্যাংকের ইস্যু করা এলসি গ্রহণ করতে রাজি ছিল না, কারণ ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।"
"আমরা এক্সিম ব্যাংককেও প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছি, কিন্তু আগে যে সমর্থন পেতাম তা আর পাওয়া যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট কিছু বাংলাদেশি ব্যাংকের এলসি কনফার্ম করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যার ফলে কাগজে-কলমে একটি ঋণ সুবিধা থাকলেও, বাস্তবে তার কোনো কার্যকর মূল্য ছিল না। কারণ আমাদের সাপ্লায়াররা (সরবরাহকারীরা) সেটা গ্রহণ করত না।"
মো. হাসান বলেন, "এক সময় ব্যাংকগুলোতে আমাদের প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকার ঋণ সীমা বা ব্যাংকিং লিমিট ছিল। ডলারের বিনিময় হার যখন ৮৫ টাকা ছিল, তখন এর ক্রয়ক্ষমতা ছিল প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। কিন্তু ডলারের দাম ১২৫ টাকা হওয়ায়, সেই ক্রয়ক্ষমতা কমে দাঁড়িয়েছে ২১০ কোটি ডলারে। এর মানে আমরা প্রায় ৯০ কোটি ডলারের আমদানি সক্ষমতা হারিয়েছি।"
তিনি জানান, বর্তমানে মাত্র ১০ থেকে ১২টি ব্যাংক কার্যকর সহায়তা দিতে সক্ষম এবং তাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
"আমরা ব্যাংকের অর্থায়নের বিকল্প হিসেবে জিরো-কুপন বন্ড ছাড়ার পথও খুঁজেছিলাম। আমরা প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকার একটি বন্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু অনুমোদন পেতেই প্রায় ১৪ মাস সময় লেগে যায়। এই ধরনের বিলম্ব আর্থিক পরিকল্পনাকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। অনুমোদন যখন আসে ততক্ষণে বাজারের পরিস্থিতি বদলে গেছে এবং সুদের হার অনেক বেড়ে গেছে।"
"শুরুতে আমরা অর্থায়নের খরচ ১০ শতাংশের কাছাকাছি আশা করেছিলাম, কিন্তু বন্ড অনুমোদিত হওয়ার সময় বাজারের সুদের হার ১২ থেকে ১৩ শতাংশে উঠে যায়। যেহেতু সরকারি সিকিউরিটিজগুলোতেই ১২ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ রিটার্ন দেওয়া হচ্ছিল, তাই বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে একটি করপোরেট বন্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ রেট অফার করার প্রয়োজন হতো। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই ধরনের অর্থায়নের খরচ মোটেও টেকসই নয়। আমাদের এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চলতি মূলধন।"
সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, মুন্সীগঞ্জে ছয়টি শিল্প প্রকল্পের গ্যাস সংযোগে বিলম্বের কারণে সিটি গ্রুপের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস পড়ে রয়েছে, অথচ এর বিপরীতে অর্থায়নের খরচ বা সুদ ক্রমাগত জমা হচ্ছে। "গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত কিন্তু চালু করা যাচ্ছে না এমন প্রকল্পগুলোর কারণে সুদ, স্থায়ী খরচ, বেতন এবং অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে আমাদের প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।"
"আমরা সিকিউরিটি ডিপোজিট বা জামানত হিসেবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা জমা দিয়েছি এবং গ্যাস অবকাঠামো তৈরিতে নিজেরাই বিপুল বিনিয়োগ করেছি। আইডিয়ালি সরকারের এই অবকাঠামোর বেশিরভাগ তৈরি করার কথা ছিল। প্রক্রিয়াটিকে দ্রুততর করতে আমরা নিজস্ব খরচে পাইপলাইন ও সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা নির্মাণ করেছি, কিন্তু তবুও আমরা গ্যাস পাইনি" –তিনি যোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, "আমরা যখন এই বিনিয়োগগুলোর পরিকল্পনা করেছিলাম, তখন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ট্যাক্স হলিডে বা কর অবকাশসহ সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা চালু ছিল। কিন্তু আমরা বিনিয়োগ করার পর নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে চিনি, ভোজ্যতেল, সিমেন্ট এবং স্টিলের মতো খাতগুলোকে সেই সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই ধরনের নীতিগত অসঙ্গতি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করে।"
"এই প্রকল্পগুলোতে আমাদের বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও যুক্ত আছেন। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক একটি অংশীদারের সিমেন্ট ও কাগজ প্রকল্পসহ দুটি যৌথ উদ্যোগে ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এসব বিনিয়োগকারী কিছু প্রতিশ্রুতি এবং প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কার্যক্রম শুরু না হওয়ায়, তারা স্বাভাবিকভাবেই এখন বিকল্প হিসেবে এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার (এক্সিট অপশন) বিষয়ে আলোচনা করছেন।"
হাসান বলেন, গ্রুপটি ব্যাংকগুলোর কাছে ঋণ পুনর্গঠনের আবেদন করেছে, তবে কেবল পুনর্গঠনই কোনো সমাধান নয়। "কারখানাগুলো অবশ্যই চালু হতে হবে। চলতি মূলধন এবং জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া— ঋণ পুনর্গঠন করা হলেও টাকা পরিশোধ করা অসম্ভব।"
গ্রুপটি এখন অভ্যন্তরীণভাবে তহবিল সংগ্রহের জন্য শুরুতে তাদের নন-কোর সম্পদ, যেমন জমি এবং অন্যান্য আয়হীন সম্পদ বিক্রির কথা বিবেচনা করছে। "তবে আমাদের ব্যবসাগুলো যেহেতু আমদানিনির্ভর, তাই ব্যাংকের সমর্থন অপরিহার্য" –বলেন তিনি।
"উদ্বেগের বিষয় হলো, যদি বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী মারাত্মক সংকটের মুখে পড়ে বা খেলাপি হয়ে যায়, তবে এর প্রভাব কেবল ওই কোম্পানিগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত, আন্তর্জাতিক সুনাম, সার্বভৌম ঝুঁকির ধারণা এবং ভবিষ্যতের অর্থায়নের খরচকে প্রভাবিত করে। দেশের ঝুঁকি বেড়ে গেলে বিদেশি সরবরাহকারী ও ঋণদাতারা উচ্চ প্রিমিয়াম দাবি করে, যার ফলে আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয় এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের খরচ বেড়ে যায়।"
"সামগ্রিকভাবে আমাদের বার্তা একদম পরিষ্কার: প্রকল্পগুলো প্রায় সম্পন্ন, কারখানাগুলো তৈরি, বাজারও রয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরাও প্রস্তুত। এখন যা প্রয়োজন তা হলো নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, পর্যাপ্ত চলতি মূলধন সহায়তা এবং নীতিমালার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন" —তিনি যোগ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং রাজস্ব আহরণের গতি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ১৮ আগস্ট রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনকে সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে এনবিআর। স্থান নির্বাচন, সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন, অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করে রবিবার অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক তদারকির জন্য ৩১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান। এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, রাজস্ব আহরণে গতি আনা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরো উৎসাহিত করাই এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে। সম্মেলনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অতিথির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। আমন্ত্রিতদের মধ্যে থাকবেন অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা। এর আগে কর ও কাস্টমস ক্যাডারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে এনবিআরের কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ভ্যাট, শুল্ক ও আয়কর বিষয়ে পৃথক সেমিনার, তথ্য বুথ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরতে রেভিনিউ মিউজিয়াম প্রদর্শনের ব্যবস্থা ছিল। এনবিআরের কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিন দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম শুক্রবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দর কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। অলঙ্কার বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার কেনাবেচা বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়মাবলী বহাল থাকবে। এর আগে, সবশেষ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের দাম বাড়ানোর হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন, সরকারি ক্রয় ও জবাবদিহি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি বড় সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়নে আগামী আগস্টে ঢাকায় আসছে বিশ্বব্যাংকের দুটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ৯ থেকে ১৩ আগস্ট গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের একটি প্রতিনিধিদল এবং ৯ থেকে ১৬ আগস্ট রেজিলিয়েন্স, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট (রেলি) প্রকল্পের লার্নিং অ্যান্ড রেজাল্টস নোট মিশন বাংলাদেশ সফর করবে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল এইচ মার্টিন পৃথক দুটি চিঠিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকীকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্র্যাকটিস ম্যানেজার হিশাম আহমেদ ওয়ালি এবং সিনিয়র অপারেশনস অফিসার আলেকসান্দার কোচেভস্কি। সফরকালে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (পিআইইউ) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, ফিডিউশিয়ারি ও নন-ফিডিউশিয়ারি বিষয়, জবাবদিহি এবং চলমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। অন্যদিকে রেলি প্রকল্পের মূল্যায়ন মিশনের নেতৃত্ব দেবেন টাস্ক টিম লিডার ও সিনিয়র এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট সামিনা ইয়াসমিন। তার সঙ্গে কৃষি, অর্থনীতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, প্রকল্প মূল্যায়ন এবং রেজিলিয়েন্স সূচক বিশ্লেষণের বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একজন বিশেষজ্ঞও মিশনে অংশ নেবেন। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই মিশনের লক্ষ্য হলো রেলি প্রকল্পের ফলাফল, উন্নয়নগত প্রভাব, আর্থিক ও অর্থনৈতিক দক্ষতা মূল্যায়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, সফলতা এবং উত্তম চর্চা নথিভুক্ত করা। এজন্য প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হবে। প্রতিনিধিদলটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি), বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগস্টে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই দুটি মিশনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক একদিকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সুশাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি পর্যালোচনা করবে, অন্যদিকে রেলি প্রকল্পের বাস্তব ফলাফল ও উন্নয়নগত প্রভাব মূল্যায়ন করবে। তাদের মতে, এসব মূল্যায়নের সুপারিশ ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের মানোন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সৌজন্যে: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড