বিশ্ব

‘সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল’, পরবর্তী নিশানা কে—তুরস্ক না পাকিস্তান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির এক মন্ত্রী চলতি সপ্তাহে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, আজ হোক বা কাল, ইসরায়েলকে সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে হবে।

 

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারগুলোয় মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘উগ্র সুন্নি অক্ষ’ গড়ে উঠছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

সিরিয়ার বর্তমান ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে এ কট্টরপন্থী মন্ত্রী বলেন, ‘আইএস ও আল-কায়েদার আদর্শে বিশ্বাসী একটি “জিহাদি” শাসনব্যবস্থা, যাদের মূল লক্ষ্য জেরুজালেম দখল করা, তারা কখনো ইসরায়েল রাষ্ট্রের পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করতে পারে না।’

 

আইএস ও আল-কায়েদার আদর্শে বিশ্বাসী একটি ‘জিহাদি’ শাসনব্যবস্থা, যাদের মূল লক্ষ্য জেরুজালেম দখল করা, তারা কখনো ইসরায়েল রাষ্ট্রের পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করতে পারে না।

 

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের আর্মি রেডিওর সঙ্গে আলাপকালে আমিচাই চিকলি তাঁর দৃষ্টিতে গড়ে ওঠা এক নতুন ইসরায়েলবিরোধী জোটের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতার মিলে এ নতুন জোট গঠন করেছে।’

 

এ জোট নিয়ে চিকলি এতটাই চিন্তিত যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক শান্তিচুক্তির চেয়েও এটি তাঁকে বেশি উদ্বিগ্ন করছে।

 

লিকুদ পার্টির এই মন্ত্রী অবশ্য স্বীকার করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ইরান বড় ধরনের কিছু সাফল্য অর্জন করেছে। তবে তিনি বলেন, ‘এর চেয়েও অনেক বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো মধ্যপ্রাচ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা নতুন এ অক্ষ বা জোট।’

 

ইসরায়েলি এই মন্ত্রীর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা ও সমঝোতায় পাকিস্তান ও তুরস্ক বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। আর এর মধ্য দিয়েই তারা এই নতুন জোটের অংশ হয়ে উঠেছে।

 

বৃহস্পতিবার ‘কোল বারামা’রেডিওকে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে চিকলি এই নতুন জোটে কাতারের ভূমিকা কেমন, তা ব্যাখ্যা করেন। পারস্য উপসাগরীয় এই দেশটিকে তিনি ‘জিহাদিদের জনসংযোগ শাখা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

 

পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতার মিলে গঠিত ইসরায়েলবিরোধী নতুন জোট নিয়ে চিকলি এতটাই চিন্তিত যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক শান্তিচুক্তির চেয়েও এটি তাঁকে বেশি উদ্বিগ্ন করছে।

 

আমি চাই চিকলি বিশ্বজুড়ে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদ ও সরকারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার কাজ করছেন। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের কট্টরপন্থী উসকানিদাতা টমি রবিনসনের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। রবিনসনের আসল নাম স্টিফেন ইয়াক্সলে-লেনন।

 

রাশিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর ব্রিটিশ পুলিশ রবিনসনকে আটকে দেয় এবং তাঁর মুঠোফোনগুলো জব্দ করে।

 

এ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে মন্ত্রী চিকলি বলেন, ‘প্রকৃত “ইসলামি সন্ত্রাসের” বিরুদ্ধে ব্রিটেনের অন্যতম স্পষ্ট এক কণ্ঠস্বরকে এখন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় হেনস্তা করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্রিটেন খুব দ্রুতই ইউরোপের দ্বিতীয় ইসলামি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে।’

 

‘কোল বারামা’রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি এই মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক হলো ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের শত্রু, যারা (এই তিন দেশ) আবার ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

 

বুধবার ‘১০৩এফএম’রেডিওকে চিকলি বলেন, ‘আমরা আমাদের চোখের সামনে একটি নতুন অক্ষ বা জোটের উত্থান প্রত্যক্ষ করছি।’ তুরস্ক, কাতার ও পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে তিনি কথিত এ জোটকে ‘একটি উগ্র সুন্নি অক্ষ, যা তাঁর আগে দেখা যেকোনো কিছুর চেয়েও বেশি বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেন।

 

সাক্ষাৎকারে চিকলি কাতার ও পাকিস্তান—উভয় দেশের কথা উল্লেখ করলেও মূল মনোযোগ ছিল তুরস্কের ওপর। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দূরদর্শিতা বা লক্ষ্যকে তিনি ‘আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সংমিশ্রণ’ বলে আখ্যা দেন।

 

চিকলি বলেন, তুরস্ক মূলত সিরিয়ায় ‘একটি তুর্কি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘তুরস্ক ও সিরিয়া আমাদের জন্য ইরানের চেয়ে ১০ হাজার গুণ বেশি উদ্বেগের কারণ।’

 

লিকুদ দলীয় এই মন্ত্রীর মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। সম্প্রতি এরদোয়ান বলেছেন, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা তাঁর দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

 

চলতি মাসের শুরুর দিকে তুর্কি নেতা বলেছিলেন, ‘ইসরায়েলকে অবশ্যই থামাতে হবে, এটি মানবতার দায়িত্ব।’

 

চিকলি বলেন, ‘প্রকৃত “ইসলামি সন্ত্রাসের” বিরুদ্ধে ব্রিটেনের অন্যতম স্পষ্ট এক কণ্ঠস্বরকে এখন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় হেনস্তা করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্রিটেন খুব দ্রুতই ইউরোপের দ্বিতীয় ইসলামি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে।’

অন্যদিকে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তফা চিফৎচি সম্প্রতি জেরুজালেম মুক্ত করার বিষয়ে কথা বলেছেন।

 

তুরস্কের কাছ থেকে হুমকি আসার কথা বলা প্রথম ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ নন চিকলি। গত সপ্তাহে লিকুদ পার্টিরই আরেক আইনপ্রণেতা আরিয়েল কেলনার তুরস্ককে একটি ‘শত্রু রাষ্ট্র’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ ছাড়া গত মাসে ইসরায়েলি সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহর বলেছিলেন, ইসরায়েলের ‘অবশ্যই তুরস্ককে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে তুরস্ককে ভারী আঘাত সইতে হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।

 

গত ফেব্রুয়ারিতে সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি তুরস্ককে শত্রু হিসেবে দেখেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘তুরস্ক হলো নতুন ইরান।’

 

বৃহস্পতিবার চিকলিকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, আড়াই বছরের যুদ্ধের পর ইসরায়েলিরা কি এখন একটু শান্তিময় সময়ের আশা করতে পারে? জবাবে বলেন, তিনি তেমনটাই আশা করেন, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

 

চিকলির মতে, তুরস্কের ‘খুব স্পষ্ট উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে’ এবং তারা ইসরায়েলের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েলের আঙ্কারা জয়ের কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই এবং সিরিয়া ও তুরস্কের সঙ্গে যুদ্ধ না হলে তিনি খুবই খুশি হবেন।

 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার ঘটনা থেকে তিনি কী শিক্ষা পেয়েছেন, তা মনে করিয়ে দিয়ে চিকলি বলেন, ‘শত্রু যখন কিছু বলে, আমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনি।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ফাইল ছবি
১৫ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের নতুন ভিসা নীতি কার্যকর

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সিটিজেনশিপ সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এফ (F), জে (J) ও আই (I) ক্যাটাগরির ভিসায় অবস্থানরত শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ভিসার অবস্থান বাড়ানো ও কাজের অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন ফরমের সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করেছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। ওই দিন থেকে ফরম আই-৫৩৯—অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানো বা ভিসা ক্যাটাগরি পরিবর্তনের আবেদন—এবং ফরম আই-৭৬৫—কাজের অনুমতির আবেদন—এর নতুন সংস্করণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে। নির্ধারিত তারিখের পর পুরোনো সংস্করণের ফরম জমা দিলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। বাতিল হচ্ছে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নতুন নীতির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ (D/S) সুবিধা বাতিল করা। এতদিন এফ-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীরা অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা এবং নির্দিষ্ট প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং শেষ করা পর্যন্ত তাদের স্ট্যাটাস বজায় রাখতে পারতেন। নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। ফরম আই-২০-তে উল্লেখ করা কোর্সের মেয়াদ বিবেচনায় সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে। কোর্স শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় পাওয়া যাবে। তবে কোনো শিক্ষার্থীর কোর্সের মেয়াদ চার বছরের বেশি হলে কিংবা নির্ধারিত সময়ের পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের প্রয়োজন হলে তাকে নিয়ম অনুযায়ী অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ির ধারাবাহিকতা গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে ধারাবাহিকভাবে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী ভিসার নতুন নিয়মকেও সেই বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে এফ, এম ও জে ভিসার যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আনা হয়েছে। ইউএসসিআইএস শিক্ষার্থীদের আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশোধিত ফরম ও নিয়মাবলি সম্পর্কে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ১৫ সেপ্টেম্বরের পর আবেদনকারীদের অবশ্যই নতুন সংস্করণের ফরম ব্যবহার করতে হবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৬, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন

আমাদের চেহারা বন্ধুত্বপূর্ণ না হলেও সম্পর্ক দারুণ: কিমকে নিয়ে ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ভানুয়াতুতে ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত

ছবি: সংগৃহীত

কঙ্গোয় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি, মৃত্যু ৩০ হাজার

ভিসার মেয়াদ শেষ হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে: কানাডা

  কানাডায় গ্রাজুয়েশন পরবর্তী কর্মসংস্থান পারমিট পেতে অসুবিধার মুখে পড়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি শিক্ষার্থীরা যখন প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, ঠিক তখনই আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ তার আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা সাময়িক স্টাডি ভিসায় কানাডায় এসেছেন, স্থায়ী রেসিডেন্সি বা পিআর না পেলে ভিসা শেষ হওয়ার পর তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ড্যানিয়েল স্মিথ বলেন, কানাডায় পড়াশোনার জন্য স্টুডেন্ট ভিসা একটি সাময়িক নথি। শুরু থেকেই বিষয়টি এমনটাই নির্ধারিত ছিল।   তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো আলবার্টার করদাতাদের অর্থে তৈরি, যার প্রথম ও প্রধান অধিকার আলবার্টার শিক্ষার্থীদের। যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সুযোগ রয়েছে, সেখানকার শর্তগুলো খুবই সহজ। আপনারা শিক্ষা অর্জন করুন, তারপর সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে জীবন গড়তে নিজ দেশে ফিরে যান।   স্মিথ আরও বলেন, কানাডার এমন একটি অভিবাসন ব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হবে।   পোর্টেজ কলেজে পড়াশোনা শেষ করার পর পোস্ট-গ্রাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট পেতে সমস্যায় পড়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা, যাদের একটি বড় অংশ ভারতীয়রা। তাদের প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটেই কথা বলছিলেন স্মিথ, যেখানে তিনি পোর্টেজ কলেজকে ‘ডিপ্লোমা মিল’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করলেও স্বীকার করেছেন যে, কিছু প্রোগ্রাম হয়তো অভিবাসনের সুযোগের ক্ষেত্রে বাড়িয়ে বলা বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়েছিল।   স্মিথ বলেন, এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যেখানে অসাধু পরিচালকরা ডিপ্লোমা দেওয়ার প্রোগ্রাম চালু করেছে এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ গ্রহণ করেছে। তবে নিজের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে তিনি জানান, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট-আপনি যদি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে এখানে আসেন এবং স্থায়ী রেসিডেন্সি না পেয়ে ভিসা শেষ হয়ে যায়, তবে আপনাকে অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে।   স্মিথের এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থার সার্বিক কড়াকড়ি। ইমিগ্রেশন, রিফ্যুজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া কাজ করার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। এর মধ্যে কানাডা থেকে বহিষ্কার, পাঁচ বছরের জন্য পুনরায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং অভিবাসন রেকর্ডে স্থায়ী জালিয়াতির তকমা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অননুমোদিত কাজ ভবিষ্যতে ভিসা ও স্থায়ী রেসিডেন্সির আবেদনকেও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।   আইআরসিসি জানায়, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রোগ্রামের নীতি-নৈতিকতার মান উন্নত করতেই এই সংস্কারগুলো আনা হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৬, ২০২৬

তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে মিসর: এরদোয়ান

ভূমিকম্পে উদ্ধারকাজে ভেনেজুয়েলার চেয়ে এগিয়ে কলম্বিয়া

ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির সঙ্গে ৭০ হাজার কোটি রুপির সাবমেরিন চুক্তির কাছাকাছি ভারত

ছবি: সংগৃহীত
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯৪

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইউএনজিআরডির বরাতে শনিবার তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।    ইউএনজিআরডি জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভূমিকম্পে ৩ হাজার ৯৩৫ জন আহত হয়েছেন। এখনো ৩২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আগের দিনের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৮৮ জন। অর্থাৎ নতুন করে আরও ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।   নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া এবং ভূমিকম্পে কোথায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ের জরুরি কার্যক্রম সমন্বয় করছে ইউএনজিআরডি। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব হালনাগাদ করা হচ্ছে।   নিখোঁজ ৩২০ জনকে খুঁজে বের করাই এখন উদ্ধার তৎপরতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও বাসিন্দাদের সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করছে।   ভূমিকম্পে বিভিন্ন অবকাঠামোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তাও যাচাই করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজনগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো পূরণের চেষ্টা চলছে।   তবে হতাহতের এই সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। উদ্ধার অভিযান এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও মৃত, আহত বা নিখোঁজ মানুষের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার তথ্য যাচাই শেষে সংখ্যায় পরিবর্তনও হতে পারে।   কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনের মেফেয়ারে উপসাগরীয় ধনীদের আলাদা এক দুনিয়া

ফরাসি কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে গোপন নেটওয়ার্ক গড়ার অভিযোগ ইরানের গোয়েন্দাদের

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দখল করা এত সহজ নয়, ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের

0 Comments