সিঙ্গাপুরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আগামী জানুয়ারি থেকে স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচের ব্যবহার আরও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে বিধিনিষেধের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এটা করা হচ্ছে। গত রোববার দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্বের যেসব দেশের মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমের সঙ্গে ব্যাপকভাবে যুক্ত, সিঙ্গাপুর তাদের অন্যতম। দেশটির বর্তমান আইন অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ। নতুন নিয়মে তা পাঠদানের সময়ের বাইরেও কার্যকর হবে। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে স্কুল প্রাঙ্গণে ঢোকার পর স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচ লকার বা স্কুলব্যাগের মতো নির্দিষ্ট স্থানে রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক।
নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মন্ত্রণালয় বলেছে, এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যা শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি করবে, স্ক্রিন (স্মার্টফোন) ব্যবহারের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলবে এবং সার্বিক সুস্থতা বাড়াবে। তারা আরও বলেছে, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার ঘুম, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তবে মন্ত্রণালয় মনে করে, প্রয়োজনে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহার অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সম্প্রতি একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইউনেসকোর তথ্যমতে, বিশ্বের ৪০ শতাংশ শিক্ষাব্যবস্থায় স্কুলে এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। আগামী সপ্তাহ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা চালু হবে। বিশ্বে এ ধরনের সিদ্ধান্ত এটাই প্রথম।
ইউনেসকোর ওয়েবসাইটে স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারের কড়াকড়ির কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। যেমন চীনের ঝেংঝৌ শহরের স্কুলে শিক্ষাগত কারণে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহারের জন্য মা-বাবার লিখিত অনুমতি দরকার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসা পেতে নতুন শর্ত জুড়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারে জানাতে হবে যে তারা নিজ দেশে কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হননি এবং দেশে ফিরে যেতে ভয় পান না। নচেৎ ভিসা প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের হাতে পাওয়া এক অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে এ প্রক্রিয়া কার্যকর করতে বলা হয়েছে। সাক্ষাৎকার চালিয়ে যাওয়ার শর্ত হিসেবেই এই তথ্য নিশ্চিত করতে হবে আবেদনকারীদের। নতুন নির্দেশনায় দুটি প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে: আবেদনকারী নিজ দেশে কোনো ক্ষতি বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না এবং দেশে ফিরে গেলে তিনি এমন ঝুঁকি অনুভব করেন কি না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দাবি করেছে, ভিসা প্রক্রিয়ায় অনেক আবেদনকারী তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেন। বিশেষ করে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ার পেছনে এই প্রবণতা কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্দেশনায় বলা হয়, বর্তমান পদ্ধতিতে আবেদনকারীদের ঝুঁকি বা ভয়ের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই নতুন এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বাজারে বিক্রি হওয়া শিশুদের কিছু খেলনায় ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান অ্যাসবেস্টস শনাক্ত হওয়ায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে হবি ক্রাফট ব্র্যান্ডের প্লে স্যান্ডে এই বিষাক্ত খনিজের উপস্থিতির তথ্য উঠে আসে। এরপর ৩০ ধরনের বেশি খেলনা বাজার থেকে তুলে নেয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মোমবাতি তৈরির কিট, স্ট্রেচি রাবার টয়সহ বিভিন্ন পণ্যে এই ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব খেলনায় ব্যবহৃত রঙিন বালি চীনের বিভিন্ন খনি থেকে এসেছে, যেখানে প্রাকৃতিকভাবেই অ্যাসবেস্টস মিশে থাকতে পারে। অ্যাসবেস্টস নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। যুক্তরাজ্যে এ উপাদানের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও সাধারণ মানের পরীক্ষায় ধরা না পড়ায় কিছু পণ্য নিরাপদ সনদ নিয়ে বাজারে এসেছে। ভোক্তা অধিকার সংস্থা হুইচ জানায়, গত তিন মাসে বিপুল খেলনা প্রত্যাহারের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। সংস্থাটি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কঠোর নজরদারি এবং উন্নত ল্যাব পরীক্ষার দাবি জানিয়েছে। সোর্সঃ দ্য গার্ডিয়ান
ইরানের উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি নিক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের সমাপ্তির পর দেশটি পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে, তবে তা ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী প্রটোকলের অধীনেই হবে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর প্রেস টিভির। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে বর্তমানে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ইরান স্বীকার করে। তবে তিনি দাবি করেন, এসব বিধিনিষেধ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়া, যা গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হয়ে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে স্থগিত হয়। তিনি আরও বলেন, আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ হলে এবং ইরানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় এমন প্রটোকল মানা সাপেক্ষে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে। তার মতে, যুদ্ধের সমাপ্তির পর বাণিজ্যিক জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হবে, যদি এমন প্রটোকল অনুসরণ করা হয় যা ইরানের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে না। এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি আইনগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান সরকার ও পার্লামেন্ট। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার আওতায় ইসরায়েল-সম্পৃক্ত জাহাজের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। পাশাপাশি শত্রুভাবাপন্ন দেশ ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের জাহাজের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। এছাড়া, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের পরিকল্পনাও করছে তেহরান। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারে পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো।