জাতীয়

সিন্ডিকেট ভেঙে অর্থনীতি সচল করাই চ্যালেঞ্জ

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
সিন্ডিকেট ভেঙে অর্থনীতি সচল করাই চ্যালেঞ্জ। ছবি: সংগৃহীত
সিন্ডিকেট ভেঙে অর্থনীতি সচল করাই চ্যালেঞ্জ। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে সরকার গঠনের এই আনন্দোৎসবের মধ্যেই প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে ভঙ্গুর অর্থনীতি সচল করার কঠিন কাজ। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যেও অর্থনীতি সচল করার বিষয়টি বারবার গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সরকারের জন্য এই অর্থনীতি সচল করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ও চ্যালেঞ্জ হলো আগের সরকারের আমলে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে অর্থনীতির প্রতিটি খাতে জেঁকে বসা দীর্ঘদিনের শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিন্ডিকেট বাণিজ্য ছিল সবচেয়ে রমরমা। হাতেগোনা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই সিন্ডিকেট শুধু পণ্য বাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল না; নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পাচারের পেছনেও ছিল এই সিন্ডিকেট। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পলিসি পর্যন্ত নির্ধারিত হতো কিছু নির্দিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। এর ফলে বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড় জমেছে। পণ্যবাজারেও ছিল নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর একক আধিপত্য। তৎকালীন সরকার ঘনিষ্ঠরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যেও কিছু ব্যবসায়ী রাতারাতি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ বনে গেছেন, যার চরম মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীকে অন্যায্য কর সুবিধাও দেওয়া হয়েছিল, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছিল সরকার ঘনিষ্ঠদের হাতে। এসব তথাকথিত ব্যবসায়ী নেতারা আবার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্বে থেকে ব্যাংক ঋণ ও সরকারের বাণিজ্য সংক্রান্ত পলিসি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করতেন।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান কালবেলাকে বলেন, ‘প্রতিটি খাতে সিন্ডিকেট খুবই খারাপ। নতুন সরকারের জন্য দীর্ঘদিনের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ।’ তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘চাইলেই এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া যায় না, এ ক্ষেত্রে আরও বেশিসংখ্যক ব্যবসায়ীকে এসব খাতে সম্পৃক্ত করতে হবে। ধরুন, একটি পণ্যের আমদানির বড় অংশ একটি বড় শিল্প গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। হুট করে এই শিল্পগোষ্ঠীর আমদানি বন্ধ করে দিলে মার্কেট কলাপস করবে, আরও বাড়বে পণ্যের দাম। এ কারণে এই পণ্যের আমদানি যাতে আরও অর্ধশত ব্যবসায়ী করতে পারেন, তার ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া পণ্যবাজার সম্পর্কিত সরকারি প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছ করতে হবে। এ-সংক্রান্ত পলিসি যেসব আমলা নির্ধারণ করেন, তাদের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু পণ্য বাজার নয়, আরও কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। তবে একটি সিন্ডিকেট ভাঙতে গিয়ে নতুন করে যাতে আরও একটি সিন্ডিকেট তৈরি না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে নতুন সরকারকে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের ব্যাংকগুলো যত টাকা ঋণ দিয়েছে, তার এক-তৃতীয়াংশের বেশিই এখন খেলাপি। মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা, যার ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ এখন খেলাপি। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠিত হওয়ার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের হিসাব করে থাকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থাৎ তিন মাস পরপর। গত জুনে খেলাপি ঋণ ছিল ৬ লাখ ৮ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে তা বেড়েছে ৩৬ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। ব্যাংকাররা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কম করে দেখানোর যে প্রবণতা ছিল, তা এখন হচ্ছে না। ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে। কিছুদিন পর বরং খেলাপি ঋণের হার আরও বাড়বে বলেও জানান তারা।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা নতুন সরকারের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। এর পাশাপাশি দেশের ওপর চেপে আছে বিশাল ঋণের বোঝা। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের দেশি ও বিদেশি ঋণের মোট পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা এবং দেশি ব্যাংক খাতের ঋণ ১০ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা।

রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রেও নতুন সরকার বড় ধরনের অস্থিরতার সম্মুখীন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ক্যাডার বৈষম্য ও বিভাগ বিভাজন নিয়ে তৈরি হওয়া আন্দোলনের ফলে মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, বছর শেষে এই ঘাটতি আরও বাড়বে। বিগত ফ্যাসিবাদ আমলের অবারিত কর অব্যাহতি সুবিধা এবং এনবিআরের বর্তমান অস্থিরতা সামাল দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা নতুন সরকারের জন্য আরেকটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান কালবেলাকে বলেন, নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি সচল করতে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তার অন্যতম হলো—দক্ষ লোকের হাতে অর্থনীতির দায়িত্ব তুলে দেওয়া। অর্থাৎ যিনি অর্থমন্ত্রী হবেন বা যিনি বাণিজ্যমন্ত্রী হবেন, তাকে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। কারণ, তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ। এ ছাড়া তারা কীভাবে বাণিজ্য নীতি নির্ধারণ করবেন বা কী হবে ব্যাংকিং পলিসি, তা নির্ভর করবে তাদের সিদ্ধান্তের ওপর।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
গণভোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে অস্থিতিশীলতা বাড়বে: শিশির মনির

জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে দেশ সাংবিধানিক ও অনাস্থার সংকটে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইডিবি) মিলনায়তনে জাতীয় সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। শিশির মনির বলেন, সুইজারল্যান্ড থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত ২৬টি দেশের উদাহরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশ্ব ইতিহাসে এমন নজির নেই, যেখানে জনগণ গণভোটে রায় দিয়েছে কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয় না; এটি সংবিধানের বাইরে ঘটে। বর্তমানে এই রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতের আওতায় আনা হয়েছে, যা বিতর্ক তৈরি করছে।   এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, আদালত খোলার পর সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের বিষয়টি উঠতে পারে। তার মতে, আদালত যদি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তবে সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেওয়াই যুক্তিসংগত হবে। শিশির মনির আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রথমে রাজনৈতিকভাবে প্রবর্তিত হলেও পরে আদালতের মাধ্যমে এটিকে ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করা হয়, যার ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। পরে আবার সেটিকে সাংবিধানিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান আদালতের মাধ্যমে খোঁজা হলে সংকট আরও গভীর হয়।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

আগামী সপ্তাহ থেকে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা সহজ করছে ভারত

ছবি : সংগৃহীত

ডা. কামরুল-এর হাসপাতালে যুবদল পরিচয়ে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৪

ছবি: সংগৃহীত

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি: যুবদল নেতা মঈনের ৪ সহযোগী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশ জারি

সারা দেশের বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম জোরদার করতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের একটি তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই তালিকা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   রোববার (১২ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তারের সই করা এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।   চিঠিটি দেশের সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট এবং এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।   এতে আরও বলা হয়, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন এবং গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ ও শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি, গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   উপজেলাভিত্তিকভাবে অবসরপ্রাপ্ত ও সক্ষম শিক্ষকদের নিয়ে একটি শিক্ষক পুল গঠনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করা হয়েছে।   চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ইউএনওর পরামর্শক্রমে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির অনুমোদনে প্রয়োজন অনুযায়ী সাময়িকভাবে এই পুল থেকে শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।   এছাড়া প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে এসব শিক্ষকের সম্মানী ব্যয় নির্বাহ করার নির্দেশনা দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অনুরোধ করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের ডিএনএ ল্যাব হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত

বিচার বিভাগ সুপার স্বাধীন হলে কি রাষ্ট্রের কল্যাণ হবে?

ছবি: সংগৃহীত

২৫ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ভর্তি পরীক্ষা, কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নির্দেশনা জারি

ছবি: সংগৃহীত
হজ ফ্লাইটে স্বস্তি, টিকিটপ্রতি খরচ কমল ১২ হাজার টাকা

এবার হজযাত্রীদের জন্য ফ্লাইট টিকিটের খরচ কমানো হয়েছে। টিকিটপ্রতি প্রায় ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।   রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চলতি বছর কোনো চার্টার্ড ফ্লাইট ছাড়াই ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রীকে পরিবহন করা হবে।   এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হবে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও হজ ফ্লাইটের সময়সূচিতে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   তিনি আরও জানান, শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী হাজী ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতে পারেন।   এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ২৬০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৩৪৪ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে পাচারকালে ২১২ লিটার ডিজেল জব্দ

ছবি: সংগৃহীত

কাপ্তাইয়ে বন্য হাতির হামলায় প্রাণ গেছে এক ব্যক্তির

ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে অবৈধ মজুত থেকে ২,৬০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

0 Comments