বলটি আঘাত করল ব্যাটসম্যানের প্যাডে। মুহূর্তেই হাত তুলে উদ্যাপন শুরু করলেন তাইজুল ইসলাম। আম্পায়ারের আঙুল ওঠার আগেই যেন ফলাফল বুঝে নিয়েছিলেন তিনি। হ্যারি টেক্টর ছিলেন সম্পূর্ণ এলবিডব্লু, তবু আনুষ্ঠানিকতার খাতিরে নিলেন রিভিউ। টিভি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তেও কোনো চমক ছিল না আউট’। আর সেই এক শব্দেই রচিত হলো ইতিহাস।
তাইজুল ইসলাম পৌঁছে গেলেন এক বিরল মাইলফলকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর ৫০০তম উইকেট! বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই অর্জন অত্যন্ত বিরল। তাইজুল হলেন মাত্র তৃতীয় বাংলাদেশি বোলার যিনি প্রথম শ্রেণিতে ৫০০ উইকেটের ক্লাবে নাম লেখালেন। এর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন দুই বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক (৬৩৪) ও এনামুল হক জুনিয়র (৫১৩)।
তাইজুলের প্রথম শ্রেণির যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল, রাজশাহীর হয়ে বরিশালের বিপক্ষে। অভিষেক ম্যাচেই ফরহাদ হোসেনের হাতে ইফতেখার নাঈমকে ক্যাচ বানিয়ে নিয়েছিলেন প্রথম উইকেটটি। সেই ইনিংসে চারটি ও পুরো ম্যাচে ছয়টি উইকেট নিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন নিজের আগমনবার্তা। ১৪ বছর ও ১১৩ ম্যাচ পর সেই ছেলেটিই আজ হয়ে উঠেছেন ইতিহাসের অংশ।
এ পর্যন্ত তাইজুল খেলেছেন পাঁচটি ভিন্ন দলের হয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দল, রাজশাহী বিভাগ, উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এর মধ্যে জাতীয় দলের হয়েই তাঁর সংগ্রহ সবচেয়ে বেশি, টেস্টে ২৪০ উইকেট। রাজশাহীর হয়ে ১৫২, উত্তরাঞ্চলের হয়ে ৭৩, পূর্বাঞ্চলের হয়ে ১৮ এবং বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে নিয়েছেন ১৭ উইকেট।
তাইজুলের এই সাফল্য শুধু পরিসংখ্যানে নয়, ধারাবাহিকতা ও নিষ্ঠার প্রতীকও বটে। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক দুই অঙ্গনেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসা তিনি। সিলেটের মাঠে হ্যারি টেক্টরকে এলবিডব্লু করে যখন ৫০০তম শিকার উদ্যাপন করলেন, তখন সেটি ছিল কেবল এক ইনিংসের মুহূর্ত নয় এক যুগের অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের সার্থক পরিণতি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারতের তরুণ ব্যাটার অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশীর প্রতিভা নিয়ে কোনো সংশয় নেই সাবেক ক্রিকেটার সন্দীপ পাটিলের। তবে দেশের বাইরে খেলতে গিয়ে বলের সুইং ও নড়াচড়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুজনকেই আরও উন্নতি করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। পাটিলের মতে, ঘরের মাঠে দুজনের ব্যাটিংয়ে যে আগ্রাসন দেখা যায়, বিদেশের মাটিতে সেটি সবসময় ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে সিংহ, বিদেশে বিড়াল—এটা হওয়া উচিত নয়।’ এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই ভারতীয় অলরাউন্ডার বলেন, ভারত থেকে বাইরে গিয়ে বল যখন কিছুটা নড়াচড়া করেছে, তখন অভিষেক ও বৈভবকে সমস্যায় পড়তে দেখা গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে তাদের আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অভিষেক পাঁচ ম্যাচে ১৩১ রান করেন। একই সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় বৈভব সূর্যবংশীর। তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ৪২ রান। তবে বিদেশের মাটিতে পরবর্তী সিরিজগুলোতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন দুজনই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত ৩-০ ব্যবধানে জয় পায়। ওই সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতেন বৈভব। সিরিজের শেষ ম্যাচে ম্যাচসেরাও হন তিনি। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় ভারত। সিরিজের শেষ ম্যাচে মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি করে আলোচনায় আসেন অভিষেক শর্মা। অভিষেকের এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে অবশ্য বিস্মিত নন সন্দীপ পাটিল। আধুনিক ক্রিকেটে তরুণদের ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, অভিষেকের সেঞ্চুরি এবং ভারতের ছয় ওভারে ১০০ রান করার কৃতিত্ব তরুণদেরই দিতে হবে। তবে পাটিলের মূল পরামর্শ, ঘরের মাঠের পাশাপাশি বিদেশের কন্ডিশনেও একই ধরনের আত্মবিশ্বাস ও আগ্রাসন ধরে রাখতে তরুণ দুই ব্যাটারকে নিজেদের খেলায় আরও কাজ করতে হবে।
এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে আজ বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছে ভারতের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমেছে ভারতীয়রা। শুরুতে ব্যাট করতে নেমেই একটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছেন ভারতীয় ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানা। নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের রেকর্ড গড়লেন ভারতের সহ-অধিনায়কের। কোরোগি স্পোর্টস পার্কে চলমান এই ম্যাচের তৃতীয় ওভারে আট রান করার পর এই মাইলফলক স্পর্শ করেন মান্ধানা। শুক্রবার জাপানের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্যাট করেননি তিনি। এটি ছিল মান্ধানার ক্যারিয়ারের ১৭৮তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটসকে পেছনে ফেলে শীর্ষে ওঠেন তিনি। মাত্র ১৭১ ইনিংসে এই কীর্তি গড়েন ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ১৭৮ ইনিংসে ৪৭৫৮ রান করেছিলেন বেটস। পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসের হিসেবেও সবার ওপরে আছেন মান্ধানা। ক্যারিয়ারে তার নামে আছে দুটি সেঞ্চুরি এবং ৩৬টি হাফ সেঞ্চুরি। এই ফরম্যাটে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ডও তার দখলে। একশ ছক্কার মাইলফলক থেকে তিনি এখন মাত্র দুই ছক্কা দূরে আছেন। এই মাসের শুরুতে নারী ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে ওঠেন মান্ধানা। দুবাইয়ে এশিয়া কাপ ২০২৬ চলাকালীন ভারতের সাবেক অধিনায়ক মিতালি রাজকে পেছনে ফেলেন তিনি। ক্যারিয়ারের ৩০৩তম আন্তর্জাতিক ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন মান্ধানা। মিতালির ১০৮৬৮ রানের রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। আজ তিনি টি-টোয়েন্টির বিশ্বরেকর্ডও নিজের করে নিলেন। নারী টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রান করা ব্যাটারদের তালিকায় শীর্ষে আছেন মান্ধানা। ১৭১ ইনিংসে তার রান ৪৭৫৯, সর্বোচ্চ ১২৪, গড় ৩০.৬৫ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৬.৫৫। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন সুজি বেটস। ১৭৮ ইনিংসে তার রান ৪৭৫৮। তৃতীয় স্থানে আছেন ভারতের হরমনপ্রীত কৌর। ১৮৬ ইনিংসে তার রান ৪২৮৭। চতুর্থ স্থানে শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু, ১৬৯ ইনিংসে রান ৪২৮২। পঞ্চম স্থানে নিউজিল্যান্ডের সোফি ডিভাইন, ১৫৪ ইনিংসে রান ৩৮১৭।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারের দুই মাস পর আসরে দলের সামগ্রিক দিক নিয়ে কথা বললেন লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনা কোচের মতে, এবার ফাইনালে ওঠার পথে চার বছর আগে কাতারে শিরোপা জেতা আসরের চেয়েও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের। তিনি জানালেন, খেলোয়াড়দের চোট ও ফিটনেসজনিত সমস্যার কারণে কঠিন সব সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল কোচিং স্টাফকে। এশিয়ান মিডিয়া আউটলেট ‘মিগু’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনেক বিষয় নিয়েই কথা বলেছেন স্কালোনি। ৪৮ বছর বয়সি কোচ জানিয়েছেন, কাতারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর সময় তাদের খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। “আগের বিশ্বকাপে আমরা অনেক ভালো অবস্থায় গিয়েছিলাম, যেখানে ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড়ই তাদের সেরা ফর্মে ছিল; কিন্তু এবার আমরা ঠিক যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই নিয়ে গিয়েছিলাম। পরিস্থিতিটা ছিল ভিন্ন; খেলোয়াড়রা শতভাগ ফিট ছিল না, কিন্তু আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। আগের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবার আমাদের অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। “ছেলেদের কাছ থেকে আমরা কী চাচ্ছিলাম, তারা আমাদের কী বলেছিল- সেই সত্য এবং তাদের ওপর আস্থার ভিত্তিতেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। গত আট বছরে যারা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে, তাদের ওপর আস্থা রাখাটা জরুরি ছিল। ফুটবলারের চেয়ে মানুষ হিসেবে তাদের গুরুত্ব বেশি। যারা খেলেছে, তারা সবাই নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই সুযোগ পেয়েছিল।” গত জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের প্রতিটি ধাপ আর্জেন্টিনা পার করে নাটকীয়ভাবে, খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের কখনও হাল না ছাড়ার মানসিকতার কথা তুলে ধরলেন স্কালোনি। “মিশর ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচগুলো আমাদের অনেকের জন্যই ছিল দুর্দান্ত; সবাই সেগুলো উপভোগ করেছে। আমরা কখনোই হাল ছাড়িনি, আর এটাই ছিল আমাদের দেওয়া সেরা বার্তা। এই জার্সিটা যে কারও জন্য নয়। তারা সবাই দারুণ খেলোয়াড় এবং একে অপরের সেরাটা বের করে আনে। হয়তো কারও বছরটা খুব ভালো যায়নি, কিন্তু বিশ্বকাপে তারা দুর্দান্ত খেলেছে। তারা একসঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, যা একটা বড় ইতিবাচক দিক; দলের মধ্যে একটা ইতিবাচক শক্তি কাজ করে।” ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে পুরোটা সময় নিষ্প্রভ ছিল আর্জেন্টিনা দল। তাদের ১-০ গোলে হারের পর ফাইনাল নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা বলা হয় সামাজিক মাধ্যম। তবে সেসবকে পাত্তা দিচ্ছেন না স্কালোনি। “আমরা ভ্রাতৃপ্রতিম জাতি। মাত্র তিন-চারজন মানুষ কিছু বললেই যে বিষয়টির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে, তা নয়। এমন অনেক মানুষও ছিল, যারা চেয়েছিল আমরাই জিতি। রানার্সআপ বা দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পরও মানুষ উদযাপনের জন্য বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। এটাই একটা জয়…আমি আশা করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এভাবেই এগিয়ে যাবে।