সারাদেশ

সীমান্ত বাণিজ্য নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের কয়লা ব্যবসায়ীদের আলোচনা

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কয়লা বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজীকরণ এবং সীমান্ত বাণিজ্যের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি হোটেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ভারতীয় কয়লা রপ্তানিকারকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্থানীয় কয়লা আমদানিকারকদের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

বৈঠকে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের নেতৃত্ব দেন হালুয়াঘাট আমদানিকারক-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের নেতৃত্ব দেন এক্সপোর্টার এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা বিজয় সিং‌ দোসি।

 

বৈঠকে কয়লা আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক সহযোগিতা, পণ্য পরিবহন, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং উভয় দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

 

এ সময় সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‌‘হালুয়াঘাট সীমান্ত বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল। কয়লা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এ বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা, সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা জরুরি।’

 

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ, স্বচ্ছ ও গতিশীল হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর এবং স্থানীয় জনগণও অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন।’

 

প্রিন্স আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। হালুয়াঘাট সীমান্তের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে আমরা আগ্রহী।’

 

তিনি ভারতীয় রপ্তানিকারক ও বাংলাদেশি আমদানিকারকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

বৈঠকে উভয় দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

 

বৈঠকে হালুয়াঘাট আমদানিকারক-রপ্তানিকারক গ্রুপের মহাসচিব অশোক কুমার সরকার, সহ সভাপতি জয়নাল আবেদীন, চন্দন কুমার ঘোষ, খালিদ ইকবাল নিটল, স্টিফেন স্ট্যান্টন রংদি, শহিদুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম, রাজীব কুমার দত্ত, কামরুজ্জামান দুলাল, শামসুল আলম শামস, আসাদুজ্জামান আসিফ, এমদাদুল ইসলাম, আলিমুল ইসলাম, আব্দুল বারী, অপু সরকার এবং ভারতীয় রপ্তানিকারক নেতৃবৃন্দের মধ্যে জর্জ এস. মারাক, প্রভাস রিছিল মারাক, মনোজ কুমার সারাওয়াগি, বরুণ রিছিল মারাক, দীপক চক্রবর্তী, কুলদীপ কুমার বানসাল, শশী ভূষণ শর্মা, দেবপ্রসাদ পাল, অচিন্ত বরাহ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: সিজিএস

গর্বিত ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নারী-পুরুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান।    তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সামনের সারিতে থেকে প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু এরপরও নির্বাচন ও রাজনীতিতে তাঁদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে দৃশ্যমান হয়নি। নারীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দল ও নেতাদের নিতে হবে।   বৃহস্পতিবার বরিশাল ক্লাবে সিজিএস আয়োজিত ‘নেতৃত্বে নারী ও তরুণ: বাধা কোথায়?’ শীর্ষক সংলাপ ও কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিজিএসের ‘রাজনীতিতে নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক চলমান প্রকল্পের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মশালায় সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থিত নেদারল্যান্ডস দূতাবাস।   অনুষ্ঠানে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, নেতৃত্বে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা মানসিকতা। নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাহস প্রয়োজন, যা নারীদের মধ্যে থাকতে হবে। সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে নারী ও পুরুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।   তিনি বলেন, নিজের কর্মক্ষেত্রে নারীদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। বরিশাল নগরীকে নারীবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগও নিয়েছেন। নারীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে দেশের উন্নয়নে সবাইকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের আন্দোলনে বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকায় নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। অথচ গত নির্বাচনে নারীরা পাঁচ শতাংশ মনোনয়নও পাননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।   জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বরিশাল জেলার আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ ও নারীদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ট্রল করা, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা এবং ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার প্রবণতা রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। নারী-পুরুষ ও তরুণদের সবাইকে সঙ্গে নিয়েই রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে হবে।   জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করতে হবে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে নারী প্রতিনিধি ১৩ শতাংশ, জাপানে ১৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। দেশপ্রেম ও রাজনীতির চেতনা শুধু স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসায় গেলেই তৈরি হয় না; তা মানুষের মনেও ধারণ করতে হয়। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে কাজই করা হোক না কেন, তা যেন দেশের স্বার্থে হয়।   ইসলামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ নাসির বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের নিজেদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   সারাদিনব্যাপী এ সংলাপ ও কর্মশালায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, তরুণ রাজনীতিবিদ, নারী নেতৃত্ব, বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী, অধিকারকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের বাধা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বে লিঙ্গভিত্তিক মানদণ্ড সম্পর্কে তরুণদের সচেতনতা ও সক্ষমতা বাড়ানো ছিল কর্মশালার মূল লক্ষ্য।   সিজিএস বাংলাদেশের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। প্রতিষ্ঠানটি সুশাসন, দুর্নীতি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণা এবং গণমাধ্যমবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত বাণিজ্য নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের কয়লা ব্যবসায়ীদের আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই দিনে প্রাণহানি ২

ছবি: সংগৃহীত

কিশোর হৃদয় হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার দেখানো হলো স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কৃত বগাকে

ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলে মাটির নিচে মিলল ১২টি রকেট লঞ্চারসদৃশ বস্তু, ৩টি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কৃষিজমির মাটির নিচ থেকে জং ধরা দুটি লোহার বাক্স উদ্ধার করা হয়েছে। বাক্স দুটির ভেতরে ১২টি রকেট লঞ্চারসদৃশ বস্তু ও তিনটি গোলাকার হাতবোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া গেছে।   বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কচুয়া থলচালা এলাকার একটি কৃষিজমি থেকে এসব বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক মো. আশ্রব আলী তাঁর ছেলে শাকিলকে নিয়ে জমিতে মাটি কাটছিলেন। একপর্যায়ে মাটির নিচে লোহার তৈরি দুটি বাক্স দেখতে পান তাঁরা। পরে বাক্স দুটি মাটি থেকে তুলে জমির আইলে রেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে।   পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা রকেট লঞ্চারসদৃশ বস্তুগুলো বেশ পুরোনো। দুটি বাক্সের প্রতিটিতে ছয়টি করে মোট ১২টি বস্তু পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তিনটি গোলাকার হাতবোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। বাক্স দুটির গায়ে ইংরেজিতে ‘East Pakistan Police Tangail’ লেখা একটি নেমপ্লেট রয়েছে।   কৃষক আশ্রব আলী জানান, ছেলেকে নিয়ে জমিতে মাটি কাটার সময় মাটির নিচে লোহার বাক্স দুটি দেখতে পান। পরে সেগুলো তুলে জমির আইলে রেখে পুলিশকে খবর দেন।   স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসান আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক মানুষকে দেখতে পান তিনি। উদ্ধার করা বস্তুগুলো দেখে তাঁর কাছে বহু পুরোনো কোনো নিদর্শন বলে মনে হয়েছে। তাঁর ধারণা, এগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কিংবা তার আগের সময়ে পূর্ব পাকিস্তান পুলিশের ব্যবহৃত সরঞ্জাম হতে পারে।   সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, উদ্ধার করা বস্তুগুলো পুরোনো ও জং ধরা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলো গ্রেনেড নয়, রকেট লঞ্চার। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা: প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় তাহসিফ সৌরির দাফন সম্পন্ন

ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামে খেলতে গিয়ে নদীতে ডুবে প্রাণ গেল দুই চাচাতো ভাইয়ের

ছবি: সংগৃহীত
ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে টঙ্গীতে মহাসড়ক অবরোধ

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের টঙ্গী গাজীপুরা এলাকায় ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী জাবেদ মাইক্রোবাস চাপায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে নামেন।   ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ছুটি শেষে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্য রাস্তা পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুর দুইটা থেকে অবরোধ কর্মসূচি চলছে। এতে করে মহাসড়কের উভয়পাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন যাত্রীরা পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। আহত ওই শিক্ষার্থী আলিম প্রথম বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির পৃথক অভিযান ইস্কাফ সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ২

ছবি: সংগৃহীত

মাদক নির্মূলে মূল হোতাদের ধরতে চায় পুলিশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নতুন এসপি

ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর, স্বচ্ছ ভোটের দাবি

0 Comments