ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রের ঘাটতি, ব্যালট পেপারে আগাম সিল মারা এবং জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দোয়ালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা ভোট বর্জন করার উদ্দেশ্যে নির্বাচনে অংশ নিইনি। আমাদের দাবি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন। সামনে আরও স্থানীয় নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনকে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হলে এই উপনির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।’
ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াতের এই প্রার্থী অভিযোগ করেন, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের যথাযথ পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো কর্মকর্তার পরিচয়পত্র থাকলেও তাতে ছবি ছিল না। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যালট পেপার ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন দেলাওয়ার হোসেন। তার দাবি, কয়েকটি কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫টি ব্যালট বইয়ে আগে থেকেই সিল মারা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ধরনের ঘটনা ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি কোনো কোনো ভোটারকে একাধিক ব্যালট পেপার সরবরাহের অভিযোগও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে জামায়াত প্রার্থী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় পাঁচ থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি উপেক্ষা করে ধানের শীষ প্রতীকসংবলিত পোশাক পরে কিছু ব্যক্তিকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, একটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যে ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি বলে তার মনে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মোট ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভূল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৫ অক্টোবর বিএনপির মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন পাঁচজন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন, জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট।
পরবর্তী সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এই আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করে।
এদিকে ভোটগ্রহণের অনিয়ম নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজধানীর উত্তরায় বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে দাফনের জন্য উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে নেওয়া হয়। এর আগে বুধবার বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে উত্তরার বাসায় নিয়ে আসেন।
মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু মাদকসেবী কিংবা মাদক পরিবহনকারীদের গ্রেপ্তার করে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম। তিনি বলেছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্র ও মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, মাদক এখন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা এলাকার সমস্যা নয়, এটি একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ লাখ মাদকসেবী রয়েছে। অথচ দেশের কারাগারগুলোর মোট ধারণক্ষমতা এক লাখেরও কম। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং মাদক সরবরাহ ও ব্যবসার নেপথ্যে থাকা বড় অপরাধী, মাদকচক্রের প্রধান এবং প্রভাবশালী মাফিয়াদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারলে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মাদক ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। মতবিনিময় সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, যানজট এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও কথা বলেন নবাগত পুলিশ সুপার। তিনি জানান, কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা মোকাবিলায় আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে এ সমস্যার কার্যকর সমাধান খোঁজা হবে। পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের নামে সংঘটিত অপরাধ এবং প্রকৃত অপরাধী চক্র চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য সবার সহযোগিতায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের যানজট পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রধান সড়কের বর্তমান অবস্থা ও যানজট পরিস্থিতি তাকে বিস্মিত করেছে। সড়কের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের কারণে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুলিশ সুপার জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শিগগিরই মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মতবিনিময় সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশি সেবা সহজলভ্য করার বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন নবাগত পুলিশ সুপার। এ সময় সাংবাদিক নেতারা জেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জনবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী নদী দখল, শিল্পবর্জ্য ও অবৈধ বালু উত্তোলনের চাপে সংকটের মুখে পড়েছে। চট্টগ্রাম নগর এলাকায় নদীর দুই তীরের শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীতে মিশে পানি দূষিত করছে। অন্যদিকে রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার ও ভলগেট দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পাড় ভাঙছে। এতে নদীর স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি ও বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। নদী রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ থাকলেও পুনর্দখল ঠেকানো, শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর নজরদারির ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে কর্ণফুলীর পরিবেশ, নাব্যতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও হুমকির মুখে পড়বে। উচ্ছেদের পরও পুনর্দখল চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান বলেন, ‘এক দশক আগে কর্ণফুলী রক্ষায় উচ্চ আদালতের রায়ের পর জেলা প্রশাসন ১ হাজার ১৮১ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করেছিল। উচ্ছেদ করা হয়েছিল ৩৫০ জন দখলদারকে। কিন্তু বর্তমানে ওই সব স্থানের অনেকগুলো আবার দখল হয়ে গেছে। পাশাপাশি নতুন নতুন স্থানও দখল হয়েছে। ফলে সংকুচিত হচ্ছে নদী। দখলদার উচ্ছেদের পর তা নিয়মিত তদারকি না করলে এসব উচ্ছেদের কোনো অর্থ থাকে না।’ তিনি আরও বলেন, নদীতীরবর্তী অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানে ইটিপি রয়েছে, সেগুলোর কিছু নিয়মিত চালু রাখা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে শিল্পবর্জ্য সরাসরি কর্ণফুলীর পানিতে মিশছে। শুধু ইটিপি স্থাপন করলেই হবে না, সেগুলো কার্যকরভাবে চালু আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ইটিপিতে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থাও নেওয়া প্রয়োজন। আলীউর রহমানের অভিযোগ, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী এলাকায় নদীর তীরে ব্লক বসানো হলেও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে কোনো কোনো স্থানে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গবেষণায় উঠে এসেছে দূষণের চিত্র কর্ণফুলী নদীর দূষণ নিয়ে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছর *সায়েন্সডাইরেক্ট*-এ প্রকাশিত একটি সমন্বিত মূল্যায়ন গবেষণায় শিল্পকারখানার অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ও নগরের পয়োবর্জ্যের কারণে নদীর পানিতে অ্যামোনিয়াম ও ফসফেটের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণায় এ দূষণের ফলে ইউট্রোফিকেশন বা পানিতে অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান জমার ঝুঁকির বিষয়টিও উঠে এসেছে। এর ফলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে গিয়ে জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের সমীক্ষায় কর্ণফুলী নদীর পানি ও তলানির পলিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। ওই গবেষণায় ক্রোমিয়াম, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়। এসব দূষণ নদীর মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে গবেষণাগুলোর নির্দিষ্ট শিরোনাম, নমুনা সংগ্রহের স্থান, পরীক্ষার ফলাফল ও ব্যবহৃত মানদণ্ড যাচাই করে দূষণের মাত্রা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। ইটিপি স্থাপন হলেও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান জানান, সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগর এলাকার ৩১৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন প্রযোজ্য। এর মধ্যে ২৯২টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলো সচল বলে দাবি করা হয়েছে। আরও ১৪টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি নির্মাণাধীন। বাকি আটটি প্রতিষ্ঠান ইটিপি স্থাপন করেনি। তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ইটিপি স্থাপন করা হলেও সব প্রতিষ্ঠানে তা নিয়মিত চালু রাখা হয় না। ফলে শিল্পবর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই বিভিন্ন খাল ও জলপথের মাধ্যমে কিংবা সরাসরি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে। নগরের পয়োবর্জ্য ও প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্যও নদীর দূষণ বাড়াচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইটিপি স্থাপনের সংখ্যা এবং বাস্তবে সেগুলো কতক্ষণ চালু থাকে- দুটি বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে শিল্পবর্জ্যের পাশাপাশি নগরের পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনাও উন্নত করতে হবে। বালু উত্তোলনে বাড়ছে ভাঙনের ঝুঁকি পরিবেশবিদদের মতে, প্রায় ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রাম বন্দর, আমদানি-রপ্তানি ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নদীর প্রবাহ ও নাব্যতা ব্যাহত হলে নৌপরিবহন, মৎস্যসম্পদ এবং নদীকেন্দ্রিক জীবিকার ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু দূষণ, দখল ও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পরিবেশ ও তীরবর্তী এলাকার স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে। কর্ণফুলী রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে চট্টগ্রাম নগরের পাশ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদীও কর্ণফুলীতে এসে মিশেছে। নদীটির দুই তীরে রয়েছে অসংখ্য বসতি, কৃষিজমি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী, সরফভাটা ও চন্দ্রঘোনা এবং বোয়ালখালী উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভলগেট ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থানে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পাড় ও তলদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা ও জোয়ারের সময় ভাঙন তীব্র হয়ে ফসলি জমি ও বসতভিটা বিলীন হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মুহিবুল্লাহ মারুফী বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে সরফভাটা গোডাউন ব্রিজ থেকে জুরুর মুখ এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলনের কারণে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেসব স্থানে ব্লক আছে, সেগুলোও ধসে পড়ছে। যেখানে ব্লক নেই, সেখানে পাড় ভেঙে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি বিলীন হচ্ছে। পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে নদীর গতিপথ। একাধিকবার স্থানীয়রা মানববন্ধন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বালু তোলার প্রতিবাদ করায় বালুদস্যুরা স্থানীয়দের ওপর হামলাও করেছে।’ তবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের মাত্রা কতটা বেড়েছে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীর গতিপথ, তলদেশের গভীরতা ও ভাঙনের তথ্য নিয়ে কারিগরি সমীক্ষা প্রয়োজন। সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ নদী গবেষক অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, ‘উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও মাস্টারপ্ল্যান থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত কঠোর পদক্ষেপের অভাবে কর্ণফুলী নদী বিলীন হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই এ নদী সংকুচিত হয়ে অর্থনীতির লাইফলাইন অচল হয়ে যেতে পারে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে ইটিপি আছে, সেগুলো নিয়মিত তদারকি করা হয়। ইটিপি চালু না রাখায় বিভিন্ন সময়ে জরিমানাও করা হয়েছে। জনবলসংকট ও অন্যান্য কার্যক্রমের ব্যস্ততার কারণে মাঝেমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান ইটিপি বন্ধ রাখে। তবে খবর পেলেই সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বালু উত্তোলন ও ভাঙন রোধের বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি করা উচিত।’ কর্ণফুলী রক্ষায় নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদের পাশাপাশি পুনর্দখল বন্ধ, শিল্পকারখানার ইটিপি নিয়মিত চালু রাখা, বর্জ্য পরিশোধন নিশ্চিত করা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। একই সঙ্গে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে সুরক্ষাব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও ধারাবাহিক নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে নদীর পরিবেশ ও নাব্যতা রক্ষার উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।