জাতীয়

শুরু হলো সেন্টমার্টিন যাত্রা, ছেড়ে গেছে ৩টি জাহাজ

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ০১, ২০২৫

আজ থেকে শুরু হচ্ছে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল, রাত্রীযাপন করা যাবে আগামী দুই মাস। এরইমধ্যে এই প্রবাল দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করেছে তিনটি জাহাজ। 

 

সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজগুলো রওনা করে, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে প্রথম এই যাত্রায় রয়েছেন ১১০৬ জন পর্যটক।

 

দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক এই প্রবাল দ্বীপটিতে যেতে পারবেন না, বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম। 

 

তিনি বলেন, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা দুই মাস পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবেন। এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারী সিন্দাবাদন ও কেয়ারী ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন নামের চারটি জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের অনুমতি নিয়েছে। এছাড়া সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথা জানান শাহিদুল আলম। 

 

সরকারি নির্দেশনা মেনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক যেতে পারবেন অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজগুলোতে, পরবর্তী দুই মাস (৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) থাকছে দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ। 

 

যাত্রার ক্ষেত্রে পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

 

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত অক্টোবরে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। 

 

দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়াফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরযান চলাচল বন্ধ এবং নিষিদ্ধ পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহারও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও জানিয়েছে, মিয়ানমার সীমান্তে হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।     বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।     স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ১১ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে এবং বাকিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশইন প্রচেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে।     মন্ত্রী আরও জানান, মিয়ানমার সীমান্তে হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও এমন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।     সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে।   তিনি বলেন, সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি। তবে বাংলাদেশ সবসময়ই আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে এবং ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহিতার বিষয়টি বিভিন্ন বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৭, ২০২৬

সংসদে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান দেখানোতে আপত্তি জামায়াত এমপির

দুদকের মামলায় আবেদ আলীর ছেলে সোহানুরের বিচার শুরু

খুলনায় নদী খননের মাটিতে চাপা পড়েছে আশ্রয়ণের শতাধিক ঘর

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ‘ওয়াই’ আকৃতি নিয়ে বিতর্ক

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নতুন গতি পেলেও এর সম্ভাব্য রুট বা অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পাবনাকে যুক্ত করে ‘ওয়াই আকৃতির’ সেতুর একটি বিকল্প প্রস্তাব সামনে এসেছে। এতে প্রকল্পের ব্যয়, প্রকৌশলগত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।   সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তুলতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য অর্থায়নকারী দেশ হিসেবে চীনের নাম আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরেও প্রকল্পটি গুরুত্ব পেতে পারে। তবে, এরই মধ্যে নতুন অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১২ মে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা নদীর সমীক্ষা-সংক্রান্ত নথি পাঠানো হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের দপ্তরে।   গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ের পিআইডিতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু সম্পর্কে সেতুমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নে হাত দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবকাঠামো উন্নয়নে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।   জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর জন্য পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ রুটটি দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় নদী পারাপার করিডর হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। মূল পদ্মা সেতু নির্মাণের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায়ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া অন্যতম আলোচিত বিকল্প ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাওয়া-জাজিরা রুটকে অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়। এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে, প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতুকে পাবনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা যায় কিনা। এ দাবির প্রেক্ষাপটে একটি ‘ওয়াই-জংশন’ বা ত্রিমুখী সেতুর ধারণা সামনে এসেছে, যেখানে মূল সেতুটির দুটি শাখার একটি রাজবাড়ী হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দিকে এবং আরেকটি শাখা পাবনা হয়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে চলে যাবে। মূলত স্থানীয় একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনায় নতুন মোড় নিয়েছে।   সংশ্লিষ্টরা জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত এপ্রিলে আরিচা-পাটুরিয়া-কাজিরহাট রুটে ওয়াই-জংশন সেতু নির্মাণের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। আর বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) ২০২৫-২০৫০ মেয়াদি মাস্টার প্ল্যানে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সংযোগ স্থাপনে পাটুরিয়া- গোয়ালন্দ রুটে পদ্মা নদীর ওপর আরিচা-নাটাখোলা অংশে যমুনা নদীর ওপর কিংবা কাছাকাছি উপযুক্ত ভিন্ন কোনো স্থানে সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে। মাস্টার প্ল্যানে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ সেতু ও আরিচা-নাটাখোলা সেতু দুটি যথাক্রমে ২০৩৫ ও ২০৪০ সালের মধ্যে নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টার প্ল্যানে সরাসরি কোনো ওয়াই টাইপ বা ত্রিমুখী জংশন সেতুর অন্তর্ভুক্তি নেই।   সংস্থাটি আরও বলেছে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এখনো শুরু হয়নি। পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই কোনো অ্যালাইনমেন্ট দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই হবে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাটি এখনই ওয়াই-জংশন প্রস্তাবকে সমর্থন বা বাতিল কোনোটিই করছে না; বরং সমীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষার কথা বলছে।   প্রকৌশল ও অবকাঠামো খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণ সেতুর তুলনায় ওয়াই-আকৃতির সেতু অনেক বেশি জটিল। এ ধরনের কাঠামো নির্মাণ করতে হলে অতিরিক্ত স্প্যান, সংযোগ সড়ক, ইন্টারচেঞ্জ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং নদীশাসন কাজের প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ওয়াই-টাইপ জংশন সেতু কারিগরি দিক থেকে বেশি জটিল ও সংবেদনশীল। এ ছাড়া হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল স্থায়িত্ব বজায় রাখার জন্য এবং ভূতাত্ত্বিক বা অপ্রত্যাশিত প্রযুক্তিগত জটিলতা এড়াতে পর্যাপ্ত পরীক্ষানিরীক্ষা করা প্রয়োজন, যাতে সরকারি অর্থ ও সময়ের অপচয় না হয়। নদীর প্রবাহ, পলি সঞ্চয়ন, নদীতল পরিবর্তন এবং ভূতাত্ত্বিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো গভীরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সমীক্ষা ছাড়া এমন কাঠামোর যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।   সূত্র আরও জানায়, সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টার প্ল্যানে পাবনা-রাজবাড়ী রুটে (সুজানগর-রাজবাড়ী সদর) সেতু নির্মাণের জন্য ২০২৪ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়। সমীক্ষায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ওই রুটে পদ্মা ও যমুনা নদীর সংযোগস্থল থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার উজানে ৩,৩০০ মিটার (প্রায়) একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা করা হয়।   পদ্মা ব্যারাজ কি বদলে দেবে সমীকরণ : ওয়াই-জংশন সেতুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনায় নতুন একটি বিষয় সামনে এসেছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। গত ১৩ মে অনুমোদন পাওয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় (হাবাসপুর) পদ্মা ও যমুনা নদীর সংযোগস্থল থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার উজানে পদ্মা নদীর উপর নির্মাণের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। ব্যারাজটির ভৌগোলিক অবস্থান ও নকশা অনুযায়ী এটি রাজবাড়ী ও পাবনা জেলাকে যুক্ত করবে এবং মূল বাঁধের ডেককে রাজবাড়ী ও পাবনা জেলার মধ্যে সরাসরি ২.১ কিলোমিটার চার লেন সড়ক সংযোগের জন্য ব্যবহার করা হবে। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যারাজের উপর দিয়েই চার লেন সড়ক স্থাপন করা হবে। ব্যারাজ চালু হলে পাবনা ও রাজবাড়ীর মধ্যে সরাসরি সড়ক সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে, পাবনাকে যুক্ত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করে পৃথক শাখা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে মূল্যায়ন করতে হতে পারে।   একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, যদি ব্যারাজই সেই সংযোগ নিশ্চিত করে, তাহলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুকে মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া করিডরেই সীমাবদ্ধ রাখা অর্থনৈতিকভাবে অধিক উপযুক্ত হতে পারে।   পরিবহন পরিকল্পনাবিদদের মতে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু প্রকল্প নয়; এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন কৌশলের অংশ। তাই রাজনৈতিক দাবি বা আঞ্চলিক চাহিদার বাইরে গিয়ে যানবাহনের চাপ, অর্থনৈতিক লাভজনকতা, আঞ্চলিক বাণিজ্য, পরিবেশগত প্রভাব এবং নির্মাণ ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।   অনেকের মতে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট হবে, নাকি পাবনাকে যুক্ত করে ওয়াই-জংশন কাঠামো গ্রহণ করা হবে, সে সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফলের ওপর। তবে, ইতোমধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তেমন বিতর্ক না থাকলেও এর রুট নি0র্ধারণই এখন প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় নীতিগত ও অর্থনৈতিক প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৭, ২০২৬
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।

সরকারি দায়িত্ব পেলেন আফরোজা আব্বাস

ছবি: সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ড অস্বচ্ছল পরিবারের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে: ডিসি ফরিদা

ছবি: সংগৃহীত

তারাগঞ্জে গাঁজা সেবনকারীর এক বছরের কারাদণ্ড

জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেয়া হবে না; বরং তা জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।’   বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   তিনি বলেছেন, ‘অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।’   তিনি বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এ দেশ থেকে জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সবার চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে এ দেশের অর্থ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা সবাই মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’   দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সবাই আছেন কি না জানতে চাইলে উপস্থিত হাজার হাজার চা শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরষরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।   বিএনপিকে গণ-মানুষের দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল, সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সেই জন্যই বিএনপি সবসময় বলে থাকে জনগণই আমাদের সব ক্ষমতার উৎস। যতবার ভোট দেয়ার সুযোগ এসেছে দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে।’   বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে যখন দেশে জনগণ যখন ফুঁসে উঠেছিল গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য, তখন অনেক বড় রাজনৈতিক নেতারা এ দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনগণকে রেখে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া বলেছিল বাংলাদেশই হচ্ছে আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের আমার শেষ ঠিকানা।’   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হলাম খালেদা জিয়ার সৈনিক। তাই এই দেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। কাজেই আসুন এই দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। এই দেশে আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে, তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।   বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার জন্য আজকে একটা খুব আনন্দের দিন। কেন জানেন? আজকে থেকে কয়েক মাস আগে যখন নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু হয়, আমি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে সেই প্রচার অভিযান কাজ শুরু করেছিলাম এবং সেই দিনই সিলেটের জনসভা মঞ্চ থেকে বলেছিলাম যে, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা আমাদের চা-বাগানে শ্রমিক হিসেবে যে সব মায়েরা কাজ করে তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেব।’   তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আল্লাহর কাছে আমি হাজারও শুকরিয়া জানাই, লক্ষ শুকরিয়া জানাই যে, আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। আমার সরকার আজকে চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে যারা নারী শ্রমিক আছেন, তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি।’   আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সব নারী শ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সবার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে সবাইকে একসঙ্গে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেজন্য পুরুষদের পাশাপাশি আমরা যদি নারীদেরকে সাহায্য করতে না পারি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য, তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’   তিনি বলেন, সেজন্যই নারীদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটির মতো পরিবার রয়েছে। আমরা বলেছিলাম যে, আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই তাহলে পর্যায়ক্রমিকভাবে সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, বিশেষ করে নারী প্রধানদের কাছে। আমরা নির্বাচন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক মাসেরও কম সময়ের ভেতরে আমাদের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিলাম।’   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার পাশাপাশি চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ঘর প্রদানের জন্য ২ লাখ টাকা করে দিয়েছি। এখানে স্টেজের মধ্যে তিনজনের হাতে সেই ২ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছি আর প্রশাসনের মাধ্যমে বাকিদের কাছে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই টাকা পৌঁছে দেব।’   সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন তাহলে আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে একটাই করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এবং একই সঙ্গে আরেকটা নতুন কথা বলি, করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’   এদিন অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে চা শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।   বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে একটি জাম ও কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।   সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের অতিরিক্তি সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানি দাস ও ওয়াজেদা বেগম বক্তব্য রাখেন।   ২০ বছরের অধিক সময় পরে তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলে আসলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে নারী এমপির বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

বাজেট ঘোষণার পরে সিগারেট, মদের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মিছিল হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

আশিক রুবাইয়াত। ছবি: সংগৃহীত

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশিক রুবাইয়াতের পদত্যাগ

0 Comments