পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই)-এর চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেছেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হতে এবং ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার পথ সুগম করতে শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়ন, করের আওতা বাড়ানো, কর প্রশাসনকে ডিজিটালাইজ করা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে বাণিজ্য নীতির সামঞ্জস্য বিধান করা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেবে, কারণ বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক সরকারগুলো সাধারণত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে।
আজ বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ম্যাক্রোইকোনমিক ইনসাইটস: অ্যান ইকোনমিক রিফর্ম এজেন্ডা ফর দ্য ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে পিআরআই চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
ড. জাইদী সাত্তার ১৯৯০ দশকের শুরুর দিকে গৃহীত সংস্কারগুলোর মতো বর্তমান সময়েও সাহসী ও মৌলিক অর্থনৈতিক সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য জরুরি কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যা ১৯৯০-৯১ সালের সংস্কার সময়ের সাথে তুলনীয়, যখন দেশ একটি আরও উন্মুক্ত এবং বাজারমুখী অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়েছিল।’
পিআরআই এবং অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড (ডিএফএটি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুরশিদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিন্টন পোবকে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই’র প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট ড. আশিকুর রহমান। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম. মাসরুর রিয়াজ। সমাপনী বক্তব্য দেন পিআরআই পরিচালক ড. আহমদ আহসান।
ড. জাইদী সাত্তার জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
পিআরআই চেয়ারম্যানের মতে, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ধাক্কা প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে ৪ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে এলেও এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনাকে প্রতিফলিত করে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে কোনো সংস্কার ছাড়াই অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির হার ৫.৫ থেকে ৬ শতাংশে ফিরতে পারে। তবে সময়োপযোগী ও জোরালো কাঠামোগত সংস্কার করা গেলে প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই বাংলাদেশ আর ‘যেমন চলছে তেমন চলবে’ নীতিতে এগোতে পারবে না।
পিআরআই চেয়ারম্যান বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিকে (ইপিএ) একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ তুলনামূলক কম প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে জাপানের বাজারে বড় ধরনের প্রবেশাধিকার পাবে।
একই সাথে তিনি সতর্ক করেন যে, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভারতের উন্নত বাজার সুবিধা এবং উৎপাদন-ভিত্তিক প্রণোদনা ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দিতে পারে, যেখানে বাংলাদেশ বর্তমানে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে থাকায় তিনি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি এফটিএ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. সাত্তার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর গভীর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, অর্থনৈতিক রূপান্তরকে সমর্থন করার জন্য এই প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠন জরুরি।
পরিশেষে পিআরআই চেয়ারম্যান রপ্তানি বহুমুখীকরণের সীমাবদ্ধতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে আলাদাভাবে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বুধবার (৮ এপ্রিল) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জরুরি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়। তিনটি প্রস্তাবই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে উপস্থাপন করা হয় এবং ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এগুলো নীতিগতভাবে অনুমোদন করে। এছাড়াও, টিকাদান কর্মসূচি ইপিআইয়ের আওতায় মাঠ পর্যায়ে টিকা নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয়ের পদ্ধতিতে নীতিগত অনুমোদন প্রস্তাব দেয়া হয়। এর আগে, গত শনিবারও (৪ এপ্রিল) সরকারি ছুটির দিনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
চট্টগ্রাম বন্দর নানা সীমাবদ্ধতার পরও কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে অগ্রগতি ধরে রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের বিক্ষোভের প্রভাব থাকলেও, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে কনটেইনার পরিবহনে অগ্রগতি কিছুটা বৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং এবং জাহাজ আসার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ— এই তিন মাসে বন্দরে ৭ লাখ ৯৯ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৯৫ হাজার। সে হিসাবে কনটেইনার বেড়েছে ৩ হাজার ৮৪৫টি। তবে একই সময়ে পণ্য হ্যান্ডলিং কমেছে। এই সময়ে মোট পণ্য ওঠানামা হয়েছে ৩ কোটি ৫৯ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ২ লাখ ৪১ হাজার টন কম। জাহাজ আগমনও কমেছে। গত বছরের ১ হাজার ১১১টির বিপরীতে এ বছর এসেছে ১ হাজার ৮৭টি জাহাজের আগমন হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই নয় মাসে মোট কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৮ টন; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। এ সময়ে বন্দরে জাহাজ এসেছে ৩২৩০টি, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে, অক্টোবর ২০২৫ একক মাসে ২১ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন বন্দর কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, ডলার সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং জ্বালানি, গম ও শিল্প কাঁচামাল আমদানি বৃদ্ধিকে এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বন্দরে এ সময়ে জাহাজের গড় অবস্থানকাল কমার পাশাপাশি বর্হিনোঙ্গরে জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যতে নেমে এসেছে বলেও দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘বন্দরের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সেবার অটোমেশনসহ নানা উদ্যোগের ফলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। অর্থবছরের বাকি সময়েও বন্দর কর্তৃপক্ষ এ অগ্রগতি চলমান রাখতে চায়।’ বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের (সিডিডিএল) অধীনে যাওয়ার পর কার্যক্রমে গতি এসেছে। ই-গেট ও টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম চালুর ফলে দক্ষতা বেড়েছে। এখন বন্দরে জাহাজের অপেক্ষার সময় নেই বললেই চলে। জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম চার দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৫৩ দিনে নেমে এসেছে। ‘সিপিএ স্কাই’ ও প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেস (পিএপি)-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, এনসিটি’র কার্যক্রম হস্তান্তরের পর দক্ষতা ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম বজায় থাকায়, এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভাড়া ২০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এ ছাড়া এনসিটি বিদেশি অপারেটরের কাছে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে বন্দর কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল। ট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন, জাহাজের গড় ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বার্থ অকুপেন্সি দক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে চলমান আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে, ভবিষ্যতে এই প্রবৃদ্ধির ধারা আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি যোগ করবে।
চলতি এপ্রিলের প্রথম পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে। গত বছর একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ১১৯ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৫ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২৬,৭৪৯ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২১,৯০৪ মিলিয়ন ডলার।