রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় রায়ের জন্য আজ (রোববার) ধার্য রয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করবেন।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের এ দিন ধার্য করেন। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল। মামলা দায়েরের পর ৪ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ সব ক্ষেত্রেই ছিল দ্রুতগতি। আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এত দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাওয়ার নজির দেশে খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণত তদন্ত প্রতিবেদন, বিচার শুরু ও সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন ধাপ পার হতে বছরের পর বছর লেগে যায়।
যেভাবে এগিয়েছে মামলা : ১৯ মে সকালে পল্লবীতে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২ টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। ওইদিনও মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন ধার্য করেন। ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন আসামি সোহেল রানা ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন চার্জশিটভূক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরদিন বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। সেদিন শুনানিতে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার ধার্য করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি আজিজুর রহমান দুলু যুক্তি উপস্থাপন করেন। এসময় সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যায়ক্রমে পড়ে শোনান তিনি এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানিতে তিনি আসামি সোহেল রানার সর্বনিম্ন শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রার্থনা। অপর আসামি স্বপ্নার শুধুমাত্র লাশ গুম চেষ্টায় সহযোগিতার আপরাধের শাস্তি চান। পরে আদালত রায় ঘোষণার জন্য রোববার ধার্য করেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই শিশুটির সাথে যা হয়েছে এর বর্ণনা শুনে পুরো দেশের মানুষ স্তব্ধ। এ নৃশংস ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এটা সবার চাওয়া। যারা সাক্ষী দিয়েছে তারা ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার আপ্লূত হয়েছেন। আদালতে ও এজলাসের বাইরে উপস্থিত সকলেই এই নৃশংসতার বর্ণনা শুনে অঝোরে কেঁদেছেন।
প্রসিকিউটর ফারুকী বলেন, এটা একটা চাঞ্চল্যকর মামলা। আমি মনে করি সরকার এখানে যথেষ্ট আন্তরিক। ঘটনার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তার, আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও পরবর্তীতে বিচার শুরু প্রক্রিয়া যৌক্তিকভাবে দ্রুততম সময়ে হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর প্রথম দিনেই সমাপ্ত করা গেছে। এখানে আদালতের আন্তরিকতা, সাক্ষীদের স্ব-প্রণোদিত অংশগ্রহণ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। আশা করছি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে। দেশের মানুষ ন্যায়বিচার চায়, বিচার ব্যবস্থায় আস্থা রাখতে চায়। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে সমাজে এমন ঘৃণ্য অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় রায়ের জন্য আজ (রোববার) ধার্য রয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করবেন। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের এ দিন ধার্য করেন। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল। মামলা দায়েরের পর ৪ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ সব ক্ষেত্রেই ছিল দ্রুতগতি। আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এত দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাওয়ার নজির দেশে খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণত তদন্ত প্রতিবেদন, বিচার শুরু ও সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন ধাপ পার হতে বছরের পর বছর লেগে যায়। যেভাবে এগিয়েছে মামলা : ১৯ মে সকালে পল্লবীতে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২ টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। ওইদিনও মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন ধার্য করেন। ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন আসামি সোহেল রানা ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন চার্জশিটভূক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরদিন বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। সেদিন শুনানিতে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার ধার্য করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি আজিজুর রহমান দুলু যুক্তি উপস্থাপন করেন। এসময় সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যায়ক্রমে পড়ে শোনান তিনি এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানিতে তিনি আসামি সোহেল রানার সর্বনিম্ন শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রার্থনা। অপর আসামি স্বপ্নার শুধুমাত্র লাশ গুম চেষ্টায় সহযোগিতার আপরাধের শাস্তি চান। পরে আদালত রায় ঘোষণার জন্য রোববার ধার্য করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই শিশুটির সাথে যা হয়েছে এর বর্ণনা শুনে পুরো দেশের মানুষ স্তব্ধ। এ নৃশংস ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এটা সবার চাওয়া। যারা সাক্ষী দিয়েছে তারা ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার আপ্লূত হয়েছেন। আদালতে ও এজলাসের বাইরে উপস্থিত সকলেই এই নৃশংসতার বর্ণনা শুনে অঝোরে কেঁদেছেন। প্রসিকিউটর ফারুকী বলেন, এটা একটা চাঞ্চল্যকর মামলা। আমি মনে করি সরকার এখানে যথেষ্ট আন্তরিক। ঘটনার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তার, আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও পরবর্তীতে বিচার শুরু প্রক্রিয়া যৌক্তিকভাবে দ্রুততম সময়ে হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর প্রথম দিনেই সমাপ্ত করা গেছে। এখানে আদালতের আন্তরিকতা, সাক্ষীদের স্ব-প্রণোদিত অংশগ্রহণ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। আশা করছি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে। দেশের মানুষ ন্যায়বিচার চায়, বিচার ব্যবস্থায় আস্থা রাখতে চায়। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে সমাজে এমন ঘৃণ্য অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে। মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ। এ ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঢাকার অলিগলি, কাঁচাবাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ড্রেন ও আবাসিকের আশপাশে বেড়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। দিনের বেলায়ও খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়া এসব প্রাণী নগরবাসীর জন্য শুধু বিরক্তির কারণই নয়, বরং একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঁদুর বিভিন্ন রোগ জীবাণুর বাহক। এদের মলমূত্র ও শরীরের সংস্পর্শে খাবার বা পানি দূষিত হলে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় এ ঝুঁকি আরো বেশি। নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে রাজধানীতে ইঁদুরের বংশবিস্তার ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়া, খোলা জায়গায় ময়লা ফেলে রাখা এবং পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের অভাব পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। অথচ নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দেশে এখনো কার্যকর ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে নগরীতে ইঁদুর, মশা ও রোগবাহক অন্যান্য প্রাণীর উপদ্রব ক্রমেই বাড়ছে। আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত অবস্থায় গত মে মাসে হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজন মৃত্যুবরণ করেন। ইঁদুরবাহিত এ ভাইরাস মানুষে সংক্রমিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। বিশেষজ্ঞরা তার পরও সতর্ক করে বলছেন, হান্টা ভাইরাস ছাড়াও ইঁদুর থেকে অন্তত ৬০ ধরনের রোগ বিভিন্নভাবে মানুষের দেহে ছড়াতে পারে, যার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে নগর এলাকায় বসবাসরতদের ক্ষেত্রে। প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুর অত্যন্ত অভিযোজনক্ষম ও বুদ্ধিমান স্তন্যপায়ী প্রাণী। মানুষের বসতবাড়ির আশপাশের পরিবেশেই মূলত এর বাস। সাধারণত গর্ত, ড্রেন, নর্দমা, আবর্জনার স্তূপ, গুদামঘর, রান্নাঘরের ফাঁকফোকর কিংবা দেয়ালের ফাটলের মতো অন্ধকার ও নির্জন স্থান ইঁদুরের বসবাসের জন্য উপযোগী। ইঁদুরের প্রধান দুটি প্রজাতি হলো বড় আকারের ব্রাউন র্যাট ও গৃহস্থালি বা ছাদের ইঁদুর। তবে বিভিন্ন পরিবেশে আরো নানা প্রজাতির ইঁদুর দেখা যায়। সর্বভুক প্রাণী হওয়ায় এরা শস্যদানা, চাল, গম, ফলমূল, সবজি, খাদ্যবর্জ্য এমনকি পচা জৈব পদার্থও খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। খাদ্য সংকটে কাগজসহ অন্যান্য নরম বস্তু কুটে খাওয়ার ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়। ফলে অপরিচ্ছন্ন ও বর্জ্যপূর্ণ পরিবেশে ইঁদুর দ্রুত বংশবিস্তার করে। একসময় গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের জন্য ইঁদুর ছিল বড় দুশ্চিন্তার কারণ। খেতের ধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন শস্য রক্ষায় এর উপদ্রব ছিল দীর্ঘদিনের এক বড় চ্যালেঞ্জ। ফসল রক্ষায় তাই এসব প্রাণীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বাড়তি শ্রম দিতে হতো, পাশাপাশি বহন করতে হতো অতিরিক্ত ব্যয়ও। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে গ্রামাঞ্চলে ইঁদুরের উপদ্রব আগের তুলনায় কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর বিপরীতে শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে রাজধানীতে, ইঁদুরের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। ঢাকার কাঁচাবাজার, আবর্জনার স্তূপ এবং আধুনিক আবাসিক ভবনেও এখন ইঁদুরের বিচরণ চোখে পড়ার মতো। প্রাণী গবেষকদের মতে, নগরজীবনের অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও খাদ্যবর্জ্যের সহজলভ্যতা শহরে ইঁদুরের আধিপত্য বৃদ্ধি বা বংশবিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকসহ নানা বর্জ্যে ভরাট হয়ে যাওয়া ড্রেন, নালা-নর্দমা ও খালগুলো পরিণত হয়েছে প্রাণীটির নিরাপদ আশ্রয়স্থলে। এছাড়া দ্রুত নগরায়ণের ফলে জলাভূমি ও খোলা জায়গা কমে যাওয়ায় ইঁদুর তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ছেড়ে শহরমুখী হয়েছে বলেও মনে করেন প্রাণী গবেষকরা। পাশাপাশি নগরজুড়ে চলমান নির্মাণকাজ এবং উচ্চ জনঘনত্বও এ সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়ামুল নাসের বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইঁদুর বেড়েছে এটা নিশ্চিত। রাজধানীর যেকোনো কাঁচাবাজার এলাকায় গেলেই দিনদুপুরে বড় বড় ইঁদুর দেখা যায়। হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারে গেলে তো প্রচুর দেখা মেলে।’ রাজধানীতে ইঁদুর বাড়ার পেছনে বর্জ্যই মূল কারণ জানিয়ে ড. নিয়ামুল নাসের বলেন, ‘যেকোনো প্রাণী বা কীটপতঙ্গের সংখ্যা বাড়ার একটি মৌলিক সূত্র রয়েছে—খাবারের প্রাপ্যতা যত বাড়ে, সেই প্রাণীর সংখ্যাও তত বাড়ে। রাজধানীতে ইঁদুরের অস্বাভাবিক বাড়ার পেছনেও কাজ করছে একই কারণ। নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার, রাস্তার পাশে ও আবাসিক এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, অব্যবস্থাপিত বর্জ্য এবং পড়ে থাকা শস্যবর্জ্য ইঁদুরের জন্য সহজলভ্য খাদ্য সরবরাহ করছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রাণীটির দ্রুত বংশবিস্তার হচ্ছে। শুধু বাজার বা খোলা স্থানেই নয়, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ঢাকার বাসাবাড়িতেও ইঁদুরের উপস্থিতি বেড়েছে।’ সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এভাবে ইঁদুর বাড়তে থাকলে একসময় নগরীতে সাপের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে। কারণ সাপের খাবার হলো ইঁদুর। তাই পরিচ্ছন্ন নগরী নিশ্চিত করতে না পারলে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি জীবননাশী অন্যান্য পোকামাকড় ও প্রাণীও রাজধানীতে বাড়তে থাকবে।’ ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুর বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর বাহক। তাদের মল, মূত্র ও শরীরের সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে নানা রোগে। সেই সঙ্গে খাদ্যদ্রব্য দূষিত হওয়া, পানির উৎস দূষণ এবং ঘরের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়া—সব মিলিয়ে এ ঝুঁকি বহুমাত্রিক। নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা থাকলে ইঁদুরের পাশাপাশি মশা, মাছি ও অন্যান্য রোগবাহী প্রাণীর সংখ্যাও বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ইঁদুরের বর্ধিত উপস্থিতির সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও সরাসরি জড়িত—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইঁদুর থেকে হান্টা ভাইরাস ও লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো জীবননাশী রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে বাতজ্বর ও টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগ-জীবাণু বিস্তারে প্রাণীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হাসান সিদ্দিকী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইঁদুরের মাধ্যমে সাধারণত হান্টা ভাইরাস ছড়ায় এবং বাংলাদেশেও এ ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে। তবে এর ভ্যারিয়েন্টটি তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী। তা সত্ত্বেও ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। ইঁদুর শুধু ভাইরাসই নয়, বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াও ছড়ায়। এর শরীর, লোম, মলমূত্র থেকে এসব জীবাণু সরাসরি বা বাতাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে, এমনকি খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ইঁদুর সরাসরি টাইফয়েডের জীবাণু বহন না করলেও যদি কোনো খাদ্য বা বাসনপত্রের ওপর দিয়ে হাঁটে, তখন তার শরীরে থাকা জীবাণুটি সেসবের সঙ্গে লেগে যেতে পারে। এর ফলে মানুষ পরোক্ষভাবে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।’ ইঁদুরের পাশাপাশি ‘চিকা’ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হাসান সিদ্দিকী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই ইঁদুর ও চিকার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। অথচ চিকার কামড়ে জলাতঙ্ক (র্যাবিস) হতে পারে, যা চিকিৎসা না নিলে প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমার মতে, হান্টা ভাইরাসের চেয়েও চিকার মাধ্যমে ছড়ানো র্যাবিস ভাইরাস বেশি ভয়ংকর।’ রাজধানীর অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো রোগী ও তাদের স্বজন চিকিৎসাসেবা নিতে এখানে ভিড় করেন। তবে হাসপাতালটির সার্বিক পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন সেবাগ্রহীতারা। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর, বারান্দা এবং খোলা জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা, তীব্র দুর্গন্ধ এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ। অনেক স্থানে খোলা ড্রেনের পাশেই জমে থাকে বর্জ্যের স্তূপ, যা পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তোলে। এসব এলাকায় মাছি ও মশার পাশাপাশি ইঁদুরের উপদ্রবও চোখে পড়ার মতো। ফলে একদিকে যেমন রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজধানীতে ইঁদুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া মানেই জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইঁদুর সরাসরি সব সময় রোগ ছড়ায় না, তবে এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ইঁদুর থেকে সরাসরি রোগ সংক্রমণের প্রবণতা তুলনামূলক কম। কিন্তু ইঁদুর সাধারণত পচা-গলা বর্জ্যের মধ্যে বসবাস করে। সেখান থেকে তারা পানিতে যায়, খাদ্যদ্রব্য বা বাসনপত্রে বসে। তখন ওই বর্জ্যে থাকা বিভিন্ন জীবাণু ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই রাজধানীতে প্রাণীটি বেড়ে যাওয়া মানে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।’ রাজধানীতে শুধু ইঁদুরই নয়, বর্জ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য কীটপতঙ্গ, বিশেষ করে মশা ও মাছির বিস্তারও বাড়ছে; যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। অথচ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে বেশ পিছিয়ে বলে জানান পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদা পারভীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো উৎস থেকেই বর্জ্য আলাদা করা। এরপর তা বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করে নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে তা সম্পদে রূপান্তর করা। পৃথিবীর অনেক দেশেই এখন বর্জ্য বলে কিছু নেই, সবই সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ঢাকায় মাছের আঁশ, শাকসবজির বর্জ্য, পুরনো কাপড়, এমনকি ওষুধের বোতল—সব একসঙ্গে সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ সমস্যার শুরুটাই গোড়া থেকে।’ দ্রুত কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে ইঁদুর ও মশা-মাছির মতো রোগবাহক প্রাণীর বিস্তার আরো বাড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নগরবাসীর জন্য যা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, আধুনিক ডাস্টবিন স্থাপন এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর কথাও জানান তারা। তবে নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উৎস থেকে বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ করাই সঠিক পদ্ধতি, কিন্তু আমরা এক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে আছি। তবে নগরবাসীর সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথককরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে, যা ধীরে ধীরে পুরো নগরীতে সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।’
মেহেরপুর সীমান্তে ভারত থেকে কথিত পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসী। এ সময় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থান নেয় বিজিবি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সীমান্তের একটি পয়েন্ট দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হচ্ছে—এমন তথ্য পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় বিজিবি। স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়ে পুশইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিজিবি জানায়, সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কাউকে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সীমান্তের যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের ঘটনা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সতর্ক রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা সবসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সংশ্লিষ্ট এলাকায় যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে জানা গেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশইনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সব মিলিয়ে, মেহেরপুর সীমান্তে বিজিবি ও গ্রামবাসীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় কথিত পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।