অন্যান্য

শিখন ঘাটতির বছরে মাত্র ৯২ দিন ক্লাস, পরীক্ষায় বসছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫

এক বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটির বেশি শিক্ষার্থী মাত্র ৯২ দিন ক্লাস পেয়েছে। সরকারি ছুটি, সাপ্তাহিক বন্ধ, শিক্ষক আন্দোলন, কর্মবিরতি, শাটডাউন, বিক্ষোভ–সমাবেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পাঠ্যবই বিলম্বে বিতরণ—সব মিলিয়ে শিক্ষাক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। এ অবস্থায় শিখন ঘাটতি নিয়েই আজ রবিবার থেকে প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকরা শর্তসাপেক্ষে পরীক্ষার বাইরে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।

 

সরকারি শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ বছরে ৭৬ দিন সরকারি ছুটি এবং ১০৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটিতে মোট ১৮০ দিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। বাকি ১৮৫ দিনের মধ্যে বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষকরা ৪০ দিন কর্মবিরতি পালন করেন এর মধ্যে পূর্ণদিবস ১৬ দিন এবং অর্ধদিবস ২৪ দিন। কর্মবিরতির দিন বাদ দিলে অবশিষ্ট থাকে ১৪৫ দিন। এ সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নিতে হয়েছে ২৭ দিন, ফলে ক্লাসের জন্য থাকে ১১৬ দিন। শৈত্যপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও দুর্ঘটনাজনিত কারণে আরো ১১ দিন বন্ধ থাকে বিদ্যালয়। অন্যদিকে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত পাঠ্যবই হাতে না পাওয়ায় কার্যত ক্লাস হয়েছে মাত্র ৯২ দিন।

দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত, যার বড় অংশই সহকারী শিক্ষক। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় দুই কোটি; এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ে এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী। টানা আন্দোলন, কর্মবিরতি এবং শাটডাউন কর্মসূচির কারণে এসব বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ে।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাঁচ শতাধিক সহকারী শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় বদলির আদেশ দেয়। শুধু নোয়াখালী থেকেই বদলি করা হয় ৪০ জন শিক্ষককে। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দাবি, এগুলো স্পষ্টতই শাস্তিমূলক বদলি এবং তাদের দাবির আন্দোলনকে চাপের মুখে ফেলতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালীর ২৪৩টি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা বন্ধ থাকায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সেসব বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করা, বিদ্যালয় তালাবদ্ধ রাখা এবং সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তিন কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

 

বদলির তালিকায় থাকা শিক্ষক নেতা আবুল কাশেম ময়মনসিংহ থেকে প্রায় ৩৫০ মাইল দূরে বরিশালে বদলি হয়েছেন। সহকর্মীদের সঙ্গে দূরবর্তী জেলায় বদলির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে আসেন। অন্য আরেক নেতা রোকনুজ্জামান রাসেলকেও জামালপুরে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, আন্দোলন ভাঙতেই তাদের দূরবর্তী এলাকায় বদলি করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে সরকার: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আমরা নির্বাচনের আগে দেখেছি, আমাদের যিনি এখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তিনি বলেছিলেন আপনারা সবাই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেবেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে সেই গণভোটের কাজ বাস্তবায়নের জন্য যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হওয়ার কথা, সেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ তারা নিলেন না। এই জাতির সঙ্গে, এদেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দিনে-রাতে প্রতারণা করে তারা সরকার চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরের রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু একটি দীর্ঘ সময় কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, জাতীয় সংসদে বিরোধী দল একসঙ্গে দেশের স্বার্থে কাজ করার কথা বলেছে। সরকারকে সহযোগিতা করার কথাও বলেছে। কিন্তু আমরা দেখি, এই সরকার শুধুমাত্র জনগণের ভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণাই করেনি, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রেও বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। গত ১৭ বছরের গুম-খুন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আজ মাত্র চার-পাঁচ মাস হলো। এর মধ্যেই বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না বলেও রেকর্ড পরিমাণে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। রেকর্ড পরিমাণে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে আমার দেশের জনগণ, আমার দেশের মেহনতী মানুষ যে বাজার ১০০ টাকা দিয়ে করত, সেই বাজার এখন দেড়শ টাকা দিয়ে করতে হচ্ছে। সুতরাং এই সময়ে বিএনপি কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে, কতটুকু তারা সফল হবে, সেটা আমাদের সবার দেখা হয়ে গেছে। আসিফ মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক অত্যাচার, অনিয়ম, অন্যায় করেছে। তাদের পতন শুধুমাত্র অত্যাচার, অন্যায়-অনিয়মের জন্য হয়নি। তাদের পতন হয়েছে দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিকে ডুবিয়ে দেওয়ার কারণে। এই সরকারও সেই একই পথে হাঁটা শুরু করেছে। সরকার যদি জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে বিরোধী জোট হিসেবে জনগণের পক্ষে আমাদের দাঁড়াতে হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দেখলাম প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করলেন। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পেজে অনেক ধরনের গান-টান শুনলাম। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দুই-তিন বছর ধরে বন্ধ। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়ে আসলেন। আমরা ধরে নিয়েছিলাম শ্রমবাজার খোলার ঘোষণা আসবে। তিনি সেটাও করতে পারলেন না। আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি চীন গেলেন। সেখানেও আমরা মিডিয়াতে অনেক লোক দেখলাম, অনেক কিছু দেখলাম, অনেক কথা শুনলাম। কিন্তু আমার দেশের জনগণের জন্য কী নিয়ে আসলেন? এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য বা অর্জন আমরা দেখলাম না। আপনি যদি শোঅফ করার জন্য ঘুরতে যেতে চান, তাহলে সেটা অন্য কথা, সেটা আপনি করতে পারেন, সমস্যা নেই। কিন্তু দেশের জনগণের জন্য কিছু নিয়ে আসতে পারলেন না। পররাষ্ট্রনীতিতেও সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, সেটার প্রমাণ জনগণ পেয়েছে।

মারিয়া রহমান জুন ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মেট্রোরেলে ৫০ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের সুবিধা পাবেন যারা, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করছেন সাবেক এমপি প্রাণ গোপাল দত্ত

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি সার্বভৌমত্বের পক্ষে থাকলে এনসিপি পাশে থাকবে: সারজিস আলম

ছবি: সংগৃহীত
ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক ভারসাম্যের অভাব: ছাত্রশিবির ছাড়লেন ডা. সাব্বির

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে পদত্যাগ করেছেন বরিশাল মহানগরের সাবেক নেতা ডা. সাব্বির এলাহি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামের কাছে পদত্যাগপত্রও পাঠিয়েছেন তিনি।   ডা. সাব্বির এলাহি বরিশাল অঞ্চলের সদস্য। এর আগে তিনি ২০২৩-২৪ সেশনে পরামর্শ সভার সদস্য ছিলেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৪-২৫ সেশনে বরিশাল মহানগর ছাত্রশিবিরের বিজ্ঞান, প্ল্যানিং, ছাত্রকল্যাণ এবং স্পোর্টস সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালে সেখানেও ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন সাব্বির।   কেন্দ্রীয় সভাপতিকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে ডা. সাব্বির এলাহি লিখেছেন, বর্তমানে কিছু সমস্যার কারণে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক ভারসাম্য বজায় রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে গেছে। এ কারণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রশিবিরে নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। নতুন নতুন অনেকে সংগঠনে এসে বিভিন্ন বিষয় সৃষ্টি করছে। ক্যাডারভিত্তিক সিস্টেমটি সঠিকভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে না। একটি ক্যাডারভিত্তিক সংগঠনের জন্য এগুলো মানানসই নয়। তাই মানিয়ে নেওয়া কঠিন হচ্ছিল। এ ছাড়া আরও বহু বিষয় রয়েছে। এজন্য চেয়েছিলাম ছুটি নিতে। কিন্তু সেটি না হওয়ায় আমি পদত্যাগ করেছি।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ

ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঠিক মিলন না হলে সভ্যতা গড়ে উঠবে না: বিএনপি এমপি ফজলুর রহমান

ছবি : সংগৃহীত

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে নিজেই জেরা করার অনুমতি চাইলেন জুনাইদ আহমেদ পলক

ছবি : সংগৃহীত
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন ‘আউট অব লিস্ট’ করল হাইকোর্ট

অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদন করার সুযোগ থাকায় নতুন বেঞ্চে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার আইনজীবী।   দুটি মামলার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছে হাই কোর্ট।   তবে অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদন করার সুযোগ থাকায় নতুন বেঞ্চে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার আইনজীবী।   হাই কোর্টের বিচারপতি আতায়োর রহমান ও বিশ্বজিৎ দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার জামিন আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়।   আদালতের এই আদেশের পর মামলার এজাহার ও শুনানির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন  বলেন, তার বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা রয়েছে, যার একটি আইসিটিতে, একটি পল্টন থানার এবং আরেকটি বাড্ডা থানার।   “পল্টন ও বাড্ডা থানার দুই মামলার দুই মামলায় তার জামিন চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত তা ‘আউট অব লিস্ট’ করেছে।”   জামিন না দিয়ে আদালত কী আদেশ দিয়েছে জানতে চাইলে এ আইনজীবী বলেন, "আদালত সরাসরি জামিন প্রত্যাখ্যান করেনি। দীর্ঘ শুনানির পর আবেদনটি আউট অব লিস্ট করে আদালত বলেছে, ‘লিবার্টি টু মুভ বিফোর অ্যানি আদার বেঞ্চ’ অর্থাৎ আসামিপক্ষ চাইলে অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদনটি নিয়ে যেতে পারবে।"   গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে অন্তত চারবার এই মামলার দীর্ঘ শুনানি হয়েছে জানিয়ে শেখ আলী আহমেদ বলেন, "বিচারকদের যদি কোনো কারণে আদেশ দিতে সংকোচ থাকত, তবে তা আগেই বলা যেত। দীর্ঘ শুনানির পর এখন এটি অন্য বেঞ্চে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।"   তিনি জানান, ২০২৫ সালের ২৪ অগাস্ট পল্টন ও বাড্ডা থানার দুটি মামলায় তৌফিক-ই-ইলাহীর জামিন আবেদন নাকচ হয়। ঢাকার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ মো. ইব্রাহিম মিয়া একই দিনে দুই মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেন।   অধস্তন আদালতে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর গত বছরের নভেম্বরে তারা হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন। সে সময় হাই কোর্ট সরাসরি কোনো অন্তর্বর্তীকালীন জামিন না দিয়ে রুল জারি করেছিল।   বৃহস্পতিবার সেই রুলেরই চূড়ান্ত শুনানি হয়, যার শেষে আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়।   বাড্ডা থানার মামলার এজহারে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাড্ডা থানাধীন উত্তর বাড্ডা ফুজি টাওয়ারের উত্তর পাশের প্রগতি সরণি রাস্তার ওপর আন্দোলনকারীদের দমনে আসামিরা ‘অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে’ হামলা চালায়। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মো. সুমন সিকদার (৩১)।   ওই ঘটনার পর নিহতের মা মোছা. মাছুমা বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে শেখ হাসিনাসহ এজাহারভুক্ত ১৭৯ জন আসামির মধ্যে তৌফিক-ই-ইলাহীর নাম ছিল না। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে বনানীর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা বলে এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   তার আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ বলেন, "এজাহারে নাম না থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হলেও রিমান্ড রিপোর্টে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা বা স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।"   পল্টন থানার মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও মকবুল নামের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়। সেখানে মোট ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নাম ছিল ৪ নম্বরে।   তার আইনজীবী বলেন, বাড্ডা মামলায় কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর পল্টন থানার এই মামলায় তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   এ মামলার জামিনের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শেখ আলী আহমেদ বলেন, “তার জামিন মেলেনি, অথচ একই মামলায় সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী ৪২ নম্বর আসামি হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।   “তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী আওয়ামী লীগের কোনো পদে বা সাধারণ সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও এবং শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থাকা সত্ত্বেও তাকে জামিন দেওয়া হল না। অথচ আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী পল্টন থানার এই মামলায় অন্তত ৩৬ থেকে ৩৮ জন আসামি ইতোমধ্যে জামিন পেয়েছেন।"   তিনি বলেন, "ঘটনার তারিখ ২০২২ সালে; ২০২৬ সালের মে মাস পার হয়ে গেলেও পুলিশ কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। বিনা বিচারে এ বয়সের একটা মানুষকে প্রায় দুই বছর ধরে জেলে থাকতে হচ্ছে।”   তৌফিক-ই-ইলাহীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় জামিনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তার আইনজীবী বলেন, “উনি ৮৪ বছর বয়সী একজন প্রবীণ ব্যক্তি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। উনি হার্ভার্ড থেকে পিএইচডি করা একজন প্রাক্তন সিএসপি অফিসার, যিনি মুজিবনগর সরকারের মেহেরপুরের এসডিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী বয়স, অসুস্থতা ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় জামিন দেওয়ার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।"   শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, তার মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে ‘খুব দ্রুতই’ অন্য কোনো বেঞ্চে জামিন আবেদন করে শুনানি উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি এমপির অভিযোগের জবাবে সংসদে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ হাসনাতের

ছবি : সংগৃহীত

বসুন্ধরার সঙ্গে ‘আন্ডারটেবিল’ সমঝোতা হয়েছে কি না, সংসদে প্রশ্ন হাসনাতের

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই স্মরণে জামায়াত জোটের ৩৬ দিনের কর্মসূচি

0 Comments