জাতীয়

শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের আজ যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (২০ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই অনুষ্ঠান হবে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের নেতাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

 

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই অনুষ্ঠানে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলের দেড় শতাধিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে আমন্ত্রিত নেতাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর কার্ড পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আতিকুর রহমান রুমন।

 

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে অনিয়ম: এমপিদের ৪টিসহ ৪৯ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট গঠন ও অনিয়মের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কয়েকজন সংসদ সদস্যদের মালিকাধীন রিক্রুটিং এজেন্সিসহ ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ক‌রে‌ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। রোববার মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছে, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট সব আইন ও বিধি বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের ও গৃহীত হয়েছে। এ অবস্থায়, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’-এর ধারা ১৩ অনুযায়ী এসব রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার ও জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করার কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। বাতিল হওয়া এজেন্সির মধ্যে আছে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তাফা কামালের স্ত্রী ও মেয়ের মালিকানাধীন দুটি এজেন্সি অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল। ঢাকা-২০ আসনের দলটির সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল ও ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড, ফেনী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল। এছাড়া জনশক্তি খাতের আলোচিত ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড এবং মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের আলোচিত রুহুল আমিন ওরফে স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালও তালিকায় রয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও ‘সিন্ডিকেটের’ কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করেছিল মালয়েশিয়া৷ ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর আবার বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রমিক নেওয়ার চুক্তি করে দেশটি৷ ওই সময় শ্রমিক ভিসায় দেশটিতে যেতে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৫৪০ টাকা ফি নির্ধারণ করে সরকার। ২০২২ সালে এক অফিস আদেশে এ খরচ নির্ধারণ করেছিল প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের চুক্তির আওতায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১০টি নির্ধারিত রিক্রুটিং এজেন্সি দেশটিতে শ্রমিক পাঠাত। পরে ২০২১ সালে নতুন একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে দুই দেশ। এতে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়। তবে সেখানেও নতুন ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ১০০ এজেন্সির মধ্যে ২০-২৫টি এজেন্সির ‘সিন্ডিকেটই’ নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে মালয়েশিয়ার কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান নামে দুদক। এর ধারাবাহিকতায় এর আগেও কয়েকটি এজেন্সির কর্ণধারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি। এবার আরও ৬০টি মামলা করার উদ্যোগ নেয় দুদক। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এসব এজেন্সি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন শ্রমিক মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অর্থ নিয়ে তারা মোট ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি ২০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে এমন অনিয়মের অভিযোগে অন্য যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে সেগুলো হল-মেসার্স শাহীন ট্রাভেলস, ইরভিং এন্টারপ্রাইজ, হেইডোরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েট, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, মেসার্স বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, মেসার্স কিউ কে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড। ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড ,জিএমজি ট্রেডিং (প্রাইভেট), লিমিটেড, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, মেসার্স ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, ডাহমাশি করপোরেশন লিমিটেড, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানিসপাওয়ার করপোরেশন, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস। আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, নাতাশা ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএম ট্রাভেলস লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালটেন্সি, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জে জি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পি.আর. ওভারসিজ লিমিটেড, মেসার্স এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড।

মারিয়া রহমান জুলাই ২০, ২০২৬
বিএসটিআইয়ের লোগো

মানহীন ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

সংগৃহীত ছবি

ওমরাহ যাত্রীদের সুখবর, এক বছরের মাল্টিপল ভিসা চালু করল সৌদি

ছবি - সংগৃহীত

জুলাইকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার দায়িত্ব সব দলের: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
চশমার প্রযুক্তিতে নতুন রূপ পাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের কারখানায় সেলাই মেশিনের চাকা ঘোরে অবিরাম গতিতে। সুঁইয়ে সুতা গলানো, নিখুঁত হেম তৈরি কিংবা বোতাম লাগানোর মতো সূক্ষ্ম কাজ করতে হয় শ্রমিকদের। আর এই তীব্র মনোযোগের কাজে সামান্য দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘ফরচুন’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন। মাত্র ১০ ডলারের (প্রায় ১,২০০ টাকা) একটি সাধারণ চশমা কীভাবে পোশাক শ্রমিকদের জীবন এবং দেশের অর্থনীতিতে কোটি কোটি ডলারের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে, তা-ই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।   গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার সুইং মেশিন অপারেটর রুমা আক্তার। প্রতিদিন হাজার হাজার পোশাক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা থাকে তার সামনে। চোখের সমস্যার কারণে আগে সুঁইয়ে সুতা পরাতে তার দীর্ঘ সময় লাগত, সাথে বোনাস হিসেবে থাকতো তীব্র মাথাব্যথা আর চোখের ক্লান্তি। রুমা বলেন, "চশমাটি পাওয়ার পর এখন চোখের পলকেই আমি সুঁইয়ে সুতা পরাতে পারি। আগের চেয়ে ভুল অনেক কমে গেছে, আর মাথাব্যথা তো একদমই নেই।" রুমার মতো হাজারো শ্রমিকের কাজের গতি ও মান দুই-ই বদলে দিয়েছে এই সামান্য রিডিং গ্লাস। চীন-এর পর বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। দেশের জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ১১% এবং এখানে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক। দরিদ্র দেশগুলোতে স্বল্পমূল্যে চোখের সেবা দেওয়া আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ‘ভিশনস্প্রিং’ এর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের প্রতি ৩ জনের মধ্যে ১ জনেরই চশমা প্রয়োজন, কিন্তু তাদের বেশিরভাগেরই তা নেই।   কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভিশনস্প্রিং শ্রমিকদের জন্য ১০ ডলারের কম মূল্যে এই চশমা সরবরাহ করছে। ভিশনস্প্রিং-এর প্রধান নির্বাহী এলা গুডউইন জানান, চশমা ব্যবহারের ফলে শ্রমিকরা খুব সহজেই তাদের দৈনিক কোটা ও মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন। এর ফলে সেলাই বাদ পড়া বা ভুল বোতাম লাগানোর মতো ত্রুটিগুলো অনেকাংশে কমে গেছে।   ‘ব্রিটিশ জার্নাল অফ অফথালমোলজি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার পেছনে প্রতি ১ ডলার বিনিয়োগ করলে মাত্র ১২ সপ্তাহে উৎপাদনশীলতা থেকে ৩ ডলার ৩৭ সেন্ট আয় সম্ভব। এই গবেষণা অনুযায়ী, যদি বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার (২৭,০০০ কোটি মার্কিন ডলার) বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশের মাসকো গ্রুপের পরিচালক ফাহিমা আখতার জানান, প্রথমে তারা বুঝতেই পারেননি কত শ্রমিক চোখের সমস্যায় ভুগছেন, কারণ শ্রমিকরা সাধারণত সহজে অভিযোগ করেন না। মাসকো গ্রুপ তাদের ৫,০০০ শ্রমিকের চোখ পরীক্ষা করে প্রায় ৩০% শ্রমিককে বিনামূল্যে চশমা দিয়েছে। বাকি ২০,০০০ শ্রমিকের জন্যও এই কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ফাহিমা আখতার জোর দিয়ে বলেন, "শ্রমিকরা যদি পরিষ্কার দেখতে পান, তবে কারখানার উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি তাদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাও বাড়বে। পরিষ্কার দৃষ্টি এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের কারখানার অন্যতম প্রধান প্রয়োজনীয়তা।" এক সময় শ্রমিকদের বয়স ৩০ বা ৪০-এর কোঠায় পৌঁছালে চোখের চালশে সমস্যার কারণে উৎপাদনশীলতা কমে যেত এবং অনেকে কাজ ছেড়ে দিতেন। কিন্তু কারখানার ভেতরেই এই বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যের চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা বিতরণ কর্মসূচির ফলে এখন সাশ্রয়ী উপায়ে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হচ্ছে। 

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ভারত ছেড়ে চীন ও দক্ষিণ এশিয়ামুখী বাংলাদেশিরা, শঙ্কায় কলকাতার পর্যটন

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে ভারতের ২০০ ব্রডগেজ কোচ

শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালকসহ কাস্টমসের তিন শীর্ষ পদে রদবদল

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে রাজনীতিকরা কেন অযোগ্য হবেন, হাইকোর্টের রুল

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা রাজনৈতিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচন, মনোনয়ন কিংবা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করে বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধন অথবা নতুন বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।     একই সঙ্গে রুলে স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত শিক্ষানুরাগী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সৎ ও স্বনামধন্য সমাজসেবক, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকদের এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে বিচারিক নির্দেশনা (জুডিসিয়াল গাইডলাইন) কেন জারি করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।    এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে সোমবার (২০ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।    আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. নাদির খান ও মো. সোহেল রানা।    এর আগে গত ৭ জুন রুবেল মিয়া একজন অভিভাবকের পক্ষে অ্যাডভোকেট নাদির খান জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।    রিট আবেদনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০২৪–এর বিধি ৭ সংশোধন অথবা সব শিক্ষা বোর্ডের জন্য নতুন বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা দলীয় পদধারী ব্যক্তিদের এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের প্রশ্নে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তাই এসব কমিটিতে সমাজে গ্রহণযোগ্য, শিক্ষানুরাগী ও সৎ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২০, ২০২৬

জুলাই অন্ততপক্ষে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে: রিজভী

বেনজীরকে ফেরত দিতে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইল দুবাই পুলিশ

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

0 Comments