জাতীয়

শরীয়তপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৮, ২০২৬

পদ্মা মেঘনা বিধৌত শরীয়তপুরের চরাঞ্চলে মূলত পলি যুক্ত ও দোআঁশ মাটি বিদ্যমান। এ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় জেলার জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চারাঞ্চলীয় জমিতে পেঁয়াজের ব্যাপক চাষ হয়েছে।

এ বছর পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে বলে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৩৫২ হেক্টর জমিতে। চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৬৫২ হেক্টরে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি।

ইতোমধ্যে মুড়ি কাঁটা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। ফলে, পেঁয়াজের দামও কমতে শুরু করেছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ পঞ্চাশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, জেলায় মোট পেঁয়াজের চাহিদা ২৯ হাজার ৭৭২ টন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬১ হাজার ৫১ টন। যা চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ।

এদিকে পেঁয়াজের ভালো ফলনে চাষীরা খুশি থাকলেও ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। 

নাওডোবার পেঁয়াজ চাষী তবারক আলী জানিয়েছেন, ঋণ করে পেঁয়াজ চাষ করেছি। ন্যায্য দাম না পেলে পথে বসতে হবে। তিনি ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হবে। ইতোমধ্যেই পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে টোকিওতে অনুপস্থিত রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী

আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারেক রহমানের জাপান সফরের সময় টোকিওতে থাকছেন না দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। সফরের আগে তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।    প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলামকে টোকিও পাঠানো হয়েছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, গত ১৫ অক্টোবর চিঠি দিয়ে রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে ঢাকায় ফিরতে বলা হয়। দুই দিনের মধ্যে ফেরার নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দেশে আসেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায় রয়েছেন তিনি।   গত বুধবার টোকিও পৌঁছেছেন সচিব নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সেখানে থাকার কথা রয়েছে। সফরের প্রস্তুতি তদারকির পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের দায়িত্বও পালন করবেন তিনি।   সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এ সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করারও প্রত্যাশা রয়েছে।   দাউদ আলী ও নজরুল ইসলাম দুজনই ১৫তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা। জাপানে রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগে দাউদ আলী রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আগামী ৭ ডিসেম্বর তার অবসর-উত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে দাউদ আলীকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা শঙ্কায় দাম্মাম ও রিয়াদ রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি ও বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

সাইবার হামলার আশঙ্কায় সাময়িক বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুর-বিমানবন্দর বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি আইপিডির

গাজীপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রায় শেষ হওয়া প্রকল্পটি বাতিল না করে দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, প্রকল্পটির প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজের কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পাশাপাশি প্রকল্পে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি বাতিলের পরিবর্তে অবশিষ্ট কাজ শেষ করে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করাই বেশি যৌক্তিক ও জনস্বার্থসম্মত।   আইপিডির অভিযোগ, বেসরকারি বাস মালিক ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিআরটি প্রকল্প বাতিল করে সাধারণ সড়কে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত টেকসই পরিবহন পরিকল্পনা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং গণপরিবহনবান্ধব নগরায়ণের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   সংগঠনটি বলছে, গাজীপুরবাসীর চাহিদা এবং পরিকল্পনাবিদদের সুপারিশ উপেক্ষা করে প্রকল্প বাতিল করা হলে গণপরিবহনভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সরকারি অঙ্গীকার প্রশ্নের মুখে পড়বে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকার একদিকে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিংয়ের মাধ্যমে রাজধানীতে বাসভিত্তিক গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রায় সম্পন্ন বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইপিডির মতে, এই দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে নীতিগত অসংগতি রয়েছে।   সংগঠনটির দাবি, আরও প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে বিআরটি প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হতে পারে। মেট্রোরেলের তুলনায় কম বিনিয়োগে চালু করা সম্ভব এমন একটি বিদ্যমান গণপরিবহন প্রকল্প বাতিলের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।   এ ছাড়া পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্প নির্মাণ নিয়ে নাগরিক ও পরিবেশবাদীদের আপত্তির প্রসঙ্গ তুলে আইপিডি বলেছে, একটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব চুক্তির বাধ্যবাধকতার যুক্তি দেখানো হলেও বিআরটি প্রকল্প বাতিলের ক্ষেত্রে একই ধরনের বিবেচনা করা হচ্ছে না। অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এমন ভিন্ন অবস্থানকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে সংগঠনটি।   আইপিডি আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ যানজট, যাতায়াতে ভোগান্তি, সময়ের অপচয় এবং আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এখন প্রকল্পটি বাতিল করা হলে তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিনিময়ে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না।   সংগঠনটির মতে, গাজীপুর থেকে ঢাকায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি। তাই প্রকল্পটি বাতিল না করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।   একই সঙ্গে বিআরটি প্রকল্পের নকশা, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান ত্রুটিগুলো নিরপেক্ষ কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছে আইপিডি।   প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের অপচয়, দীর্ঘসূত্রতা ও জনদুর্ভোগের জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তদন্ত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।   আইপিডির আশঙ্কা, প্রকল্পের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান না করে সেটি বাতিল করা হলে ভবিষ্যতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার জন্য দায়মুক্তির প্রবণতা তৈরি হতে পারে।   বিজ্ঞপ্তিতে বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তে কারা লাভবান হচ্ছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিদ্যমান বাস পরিচালনা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এবং ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর পরিবহনব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: মীর শাহে আলম

সংগৃহীত ছবি

৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হওয়া বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তে আইপিডির উদ্বেগ

সংগৃহীত ছবি

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারিতে মানতে হবে নতুন নিয়ম

ছবি: সংগৃহীত
ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনবলসহ সাংগঠনিক কাঠামোর খসড়া তৈরি করে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠাতে বলেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবটি নিয়ে কাজ শুরু করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।     অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে বর্তমানে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওপর সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের গতি বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বোর্ড অব গভর্নরসের বর্তমান কাঠামো বিলুপ্ত হবে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে বলেও জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা।     অধিদপ্তর করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি ছিল। তবে সম্প্রতি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জায় কর্মরত ১০ লাখের বেশি ধর্মীয় ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে কার্যালয় ও প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো গড়ে তোলা হবে।       তৈরি হচ্ছে প্রস্তাব গত ১৭ সেপ্টেম্বর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সেলের সপ্তম সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।     সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনবল কাঠামোসহ কার্যালয় স্থাপনের জন্য খসড়া সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চেকলিস্টসহ পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়।     ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটা নীতিনির্ধারণী বিষয়। বোর্ড অব গভর্নরসের কাছে আমরা উপস্থাপন করব। তবে আমরা এটাকে অধিদপ্তর করার প্রক্রিয়াও শুরু করছি। অন্যদিকে বোর্ড কী বলে, না বলে, সেটার জন্যও অপেক্ষা করছি।’     অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওপর সরকারের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ আরও প্রতিষ্ঠিত হবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল দায়িত্ব বোর্ড অব গভর্নরসের হাতে থাকলেও অধিদপ্তর হলে সরকার সরাসরি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবে। এতে বর্তমান স্বায়ত্তশাসন আর থাকবে না     তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে। বোর্ড অব গভর্নরসের মতামত ও অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রস্তাব নিয়ে বোর্ডের বৈঠক কবে হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।’     সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, হারাবে স্বায়ত্তশাসন বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৭৫‘ অনুযায়ী এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত, বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় বোর্ড অব গভর্নরসের ভূমিকা রয়েছে। অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সরাসরি প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হবে। সে ক্ষেত্রে এটি স্বায়ত্তশাসন হারাবে, বোর্ডের বর্তমান কাঠামো আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।   তারা জানান, অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওপর সরকারের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ আরও প্রতিষ্ঠিত হবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল দায়িত্ব বোর্ড অব গভর্নরসের হাতে থাকলেও অধিদপ্তর হলে সরকার সরাসরি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবে। এতে বর্তমান স্বায়ত্তশাসন আর থাকবে না।     মন্ত্রণালয়ের সংস্থা অধিশাখার যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন অধিদপ্তর হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের গতি বাড়তে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের জন্য বোর্ডের সভা ও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হয়। দীর্ঘদিন বোর্ডের সভা না হওয়ায় কার্যক্রমেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। অধিদপ্তর হলে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত দিতে পারবে।     ’ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বাজেট অনুমোদন, বই প্রকাশ এবং গবেষণার মতো বিষয়েও বর্তমানে বোর্ডের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে এসব কার্যক্রমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে। এতে মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করেন যুগ্ম সচিব।       ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি নিজস্ব আয় থেকেও ব্যয় নির্বাহ করে। অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে।     অন্যদিকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে বোর্ড অব গভর্নরসের অনুমোদন নিতে হয়। অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। বর্তমানে কোন বই প্রকাশ করা হবে, কী ধরনের গবেষণা পরিচালিত হবে, সেসব বিষয়েও অনেক ক্ষেত্রে বোর্ডের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। অধিদপ্তর হলে এসব কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের গতি বাড়তে পারে।     চাকরির সুবিধা বাড়ার সম্ভাবনা, তবে অনিশ্চয়তা জনবল নিয়ে   অধিদপ্তরে রূপান্তরের সম্ভাব্য সুবিধা হিসেবে চাকরির নিশ্চয়তা ও রাজস্ব খাতে জনবল বাড়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধাও কতটা বাড়বে এবং বর্তমানে কর্মরত কতজনকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।     ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে ২ হাজার ৩১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সম্মানী বা ভাতার ভিত্তিতে ৭১ হাজার ১৮৫ জন সহ সর্বমোট ৮৪ হাজার ২৫৩ জন কর্মরত রয়েছেন।     ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী বলেন, ‘অধিদপ্তর হলে রাজস্ব খাতে জনবল বাড়ার সম্ভাবনা বেশি আছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব খাতের জনবলের পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক কর্মীরাও কাজ করছেন। অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে কোন পর্যায়ের কর্মীদের রাজস্ব খাতে আনা হবে, তা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। মোট জনবল কত হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।     ’পেনশন ও চাকরির সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি বলেন, ‘অধিদপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটু সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি হলো, আমরা ফুল পেনশন পাব। এখন সরকার আমাদের বাজেট দেয়, আবার নিজস্ব ইনকাম জেনারেটও করতে হয়। তখন (অধিদপ্তর হলে) তো আর নিজস্ব ইনকাম থাকতে হবে না।’     অধিদপ্তরে রূপান্তরের জন্য আলাদা কোনো আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। সরকারের সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে এটি করা সম্ভব। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বর্তমানে যে আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে সেই আইন রহিত করতে হবে।- মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়     অন্যদিকে মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের মতে, অধিদপ্তর হলে জনবল বাড়বে নাকি কমবে, সেটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। অর্থ মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যুক্ত থাকবে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।     পুরোনো দাবি   ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের দাবি নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এখনো ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি।     যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন এবং বোর্ড অব গভর্নরসের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এখনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি।’     আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়ে যুগ্ম সচিবের ভাষ্য, অধিদপ্তরে রূপান্তরের জন্য আলাদা কোনো আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। সরকারের সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে এটি করা সম্ভব। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বর্তমানে যে আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে সেই আইন রহিত করতে হবে।     ধর্মীয় কার্যক্রমে সরকারি নির্দেশনার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ   অধিদপ্তরে রূপান্তরের ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি এলেও প্রতিষ্ঠানটির ধর্মীয় ও গবেষণামূলক কাজের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বর্তমানে বোর্ড অব গভর্নরসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কিছু সিদ্ধান্ত নিজস্ব বিবেচনায় নিতে পারে। সরকারি অধিদপ্তরে পরিণত হলে সেই সুযোগ সীমিত হতে পারে।     ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ফাউন্ডেশনের কোনো কোনো কর্মকর্তা মনে করেন, স্বায়ত্তশাসন থাকলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এতে কখনো কখনো ইসলামের মূলনীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।     তারা এটিও বলেছেন, তাত্ত্বিকভাবে স্বায়ত্তশাসন একটি ভালো ব্যবস্থা হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্নভাবে সরকারের প্রভাবের মধ্যে থাকে। ফলে কাগজে-কলমে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও বাস্তবে সরকারের প্রভাব এড়ানো কঠিন।     উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা   ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের বিষয়টিও এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধর্মীয় কল্যাণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং দেশের বিভিন্ন উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।     মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী জানান, উপজেলা পর্যায়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ রয়েছে। এর মাধ্যমে ইসলামের বিভিন্ন কার্যক্রম মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে মডেল মসজিদ রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কিছু কর্মী ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত জনবলও কাজ করছেন।     তবে উপজেলা পর্যায়ে নতুন কার্যালয় স্থাপন, জনবল কাঠামো নির্ধারণ এবং বিদ্যমান কর্মীদের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে প্রস্তাব পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ ফোন বন্ধে ২০২৭ সাল থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে এনইআইআর

ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসা ভিসা সহজ করতে উদ্যোগ নিচ্ছে ভারতীয় হাইকমিশন

ছবি: সংগৃহীত

সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ি ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকেরা

0 Comments