তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২-০ গোলের জয়ের পর আবারও আলোচনায় এসেছে দুই তরুণ ফুটবলারের অনন্য জীবনের গল্প—নেস্টোরি ইরানকুন্ডা ও মোহামেদ তুরে। শরণার্থীশিবির থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে জায়গা করে নেওয়া এই দুই আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় এখন ২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
২০ বছর বয়সী ইরানকুন্ডা এবং ২২ বছর বয়সী তুরে শুধু প্রতিভার কারণে নয়, তাদের জীবনের সংগ্রামের কারণেও হয়ে উঠেছেন সকারুজদের নতুন প্রজন্মের প্রতীক।
ইরানকুন্ডার জন্ম তানজানিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে। তার পরিবার বুরুন্ডি থেকে পালিয়ে দীর্ঘ সময় বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকার পর শিশুকালেই অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমায়। অন্যদিকে মোহামেদ তুরের জন্ম গিনির রাজধানী কোনাক্রির একটি শরণার্থীশিবিরে। তার পরিবার লাইবেরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল এবং পরবর্তীতে মাত্র সাত মাস বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসে।
দুজনই অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের যুব একাডেমি থেকে উঠে এসে পেশাদার ফুটবলে জায়গা করে নেন। বর্তমানে তারা ইংল্যান্ডের ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলছেন, যেখানে তুরে নরউইচ সিটির হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন—মাত্র ১১ ম্যাচে ৯ গোল করে তিনি নজর কাড়ছেন সবার।
তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে ইরানকুন্ডার করা প্রথম গোলটি তাদের ক্যারিয়ারের আরেকটি মাইলফলক হয়ে আছে। এই জুটি এখন অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণভাগের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তাদের গল্প শুধু ফুটবলের নয়, বরং অভিবাসন, সংগ্রাম এবং নতুন দেশে নতুন জীবনের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াডে অন্তত ১৫টি ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও জাতিগত পটভূমির খেলোয়াড় রয়েছেন, যা আধুনিক অস্ট্রেলিয়ার বহুজাতিক পরিচয়কে তুলে ধরে।
ইরানকুন্ডা বলেন, শরণার্থী পটভূমি থেকে উঠে এসে জাতীয় দলে খেলা তার কাছে এখনো অবিশ্বাস্য মনে হয়। একইভাবে তুরে জানান, অস্ট্রেলিয়া তাদের সুযোগ দিয়েছে বলেই তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াতে পেরেছেন।
দুজনই আবার যুক্ত আছেন ইউএনএইচসিআরের ‘গেমচেঞ্জিং টিম’-এ, যেখানে শরণার্থী পটভূমি থেকে উঠে আসা ফুটবলারদের নিয়ে একটি প্রতীকী বিশ্ব একাদশ গঠন করা হয়। তাদের সতীর্থ আওয়্যার মাবিলও একই ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলছেন।
এই গল্পগুলো ফুটবলকে ছাড়িয়ে যায়—এগুলো স্বপ্ন, বাস্তবতা এবং সীমান্ত পেরোনো সম্ভাবনার গল্প। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে আজ তারা শুধু খেলোয়াড় নয়, বরং এক নতুন সামাজিক বাস্তবতার প্রতিনিধিও।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
উত্তর আমেরিকার তিন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে পর্দা উঠেছে বিশ্ব ফুটবলের মহোৎসব ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’-এর। বহু বছর পর আবারও এই মেগা আসরের অন্যতম আয়োজক হিসেবে ফিরেছে ফুটবলপ্রেমী দেশ মেক্সিকো। আর নিজেদের দেশের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখতে চায় না মেক্সিকান সরকার। বিশ্বকাপের সময় রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নিটোল নিরাপত্তা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে মেক্সিকোর প্রধানমন্ত্রী ক্লদিয়া শিনবাউম এক বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছেন। এই নির্দেশনায় সব সরকারি কর্মচারীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির সব স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে স্কুলগুলোতে অনলাইন ক্লাস চালু হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ ফুটবল দর্শক মেক্সিকোয় পা রাখছেন। বিদেশী পর্যটক ও দর্শকদের যাতায়াত যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি বা ট্রাফিক জ্যামের মুখে না পড়ে, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মেক্সিকান প্রশাসন। সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত সমস্ত প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির কর্মীদের আপাতত অফিস পরিহার করে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। তবে জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের মতো জরুরি সেবাগুলোকে এই সাধারণ ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, এই খাতের কর্মীরা যথারীতি মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোকেও তাদের কর্মীদের এ সময়ে বাড়ি থেকে কাজ করানোর বিষয়ে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে সরকার। উল্লেখ্য, এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মোট ৪৮টি দেশের ১২৪৮ জন ফুটবলার অংশ নিচ্ছেন। ফুটবল ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বড় ও বর্ধিত পরিসরে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উত্তর আমেরিকার তিন দেশে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হলেও মেক্সিকোর ভাগে পড়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও হাইভোল্টেজ ম্যাচ, যা সফলভাবে সম্পন্ন করতে মেক্সিকান সরকার পুরো প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়েছে।
চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৭ সাল পর্যন্ত। তবে অনেক আগেই আল সাদের দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন রবের্তো মানচিনি। এতে তার আবার ইতালির কোচ হওয়ার যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, সেটি যেন আরও শক্ত ভিত পেল। কাতারের ক্লাবটি শনিবার ৬১ বছর বয়সী এই কোচের দায়িত্ব ছাড়ার কথা জানায়। সৌদি আরব জাতীয় দলের হয়ে ব্যর্থ অধ্যায়ের পর, ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। ইতালিয়ান গণমাধ্যমের খবর, ইতালির কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন মানচিনি। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর, সবকিছু নতুন করে ঢেলে সাজাতে চাইছে চারবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। মানচিনির কোচিংয়েই সবশেষ কোনো বড় সাফল্য পেয়েছে ইতালি, ২০২০ ইউরো জয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে হেরে স্বপ্নভঙ্গের পর, গত এপ্রিলে ইতালির দায়িত্ব ছাড়েন জেন্নারো গাত্তুসো। ওই ব্যর্থতায় পদত্যাগ করেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) সভাপতি গাব্রিয়েলে গ্রাভিনা ও জাতীয় দলের প্রতিনিধি দলের প্রধান জানলুইজি বুফ্ফনও। বর্তমানে ইতালির অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্বে আছেন সিলভিও বালদিনি, যিনি অনূর্ধ্ব-২১ দলের কোচের পদ থেকে এই শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে এসেছেন। আল সাদ এবার কাতারের শীর্ষ লিগের শিরোপা জিতলেও, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিট-এর শেষ চারে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং কাতার কাপের ফাইনালে হেরে যায়।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরাটাই ছিল এক রূপকথা। ফেরার সেই রাজকীয় উপলক্ষকে স্কটল্যান্ড রাঙিয়ে তুলল ৩৬ বছরের এক আক্ষেপ ঘুচিয়ে। ১৯৯৮ সালের পর এবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পেল স্কটিশরা। বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। এর আগে স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে সবশেষ জয়ের দেখা পেয়েছিল ১৯৯০ সালে, সুইডেনের বিপক্ষে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৩৬টি বছর। অবশেষে উত্তর আমেরিকার বিশ্বমঞ্চে এসে জন ম্যাকগিনের গোলটিই ব্যবধান গড়ে দিল। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরো স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের এই ম্যাচে শুরু থেকেই হাইতির ওপর ছড়ি ঘোরাতে থাকে স্কটিশরা। কোচ স্টিভ ক্লার্কের শিষ্যরা একের পর এক আক্রমণ করলেও হাইতির রক্ষণভাগের বাঁধ ভাঙতে পারছিল না। অবশেষে ম্যাচের ২৮তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন স্কটিশ অধিনায়ক জন ম্যাকগিন। ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা একটি ক্রস হাইতির বক্সে জটলার সৃষ্টি করলে, সেখান থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান এই মিডফিল্ডার। উল্লাসে ফেটে পড়ে স্কটিশ গ্যালারি। পিছিয়ে পড়ার পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে হাইতি। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকবার কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে স্কটল্যান্ডের ডিফেন্সে চাপ সৃষ্টি করে তারা। তবে স্কটিশ গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের ফুটবলাররা পুরো ম্যাচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। হাইতির ফরোয়ার্ডদের সব প্রচেষ্টা ভেস্তে গেলে ১-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে স্কটিশরা। এই জয়ে ‘সি’ গ্রুপ থেকে ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে স্কটল্যান্ড। একই গ্রুপের অন্য হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। ফলে ব্রাজিল, মরক্কো ও হাইতিকে পেছনে ফেলে এই মুহূর্তে গ্রুপে সবার ওপরে অবস্থান করছে স্কটিশরা।