শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ শেষে সিলেট টাইটান্সের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন ৬ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকা ইথান ব্রুকস। সেখানে শামীম হোসেনের ৮১ রানের ইনিংসের প্রশংসা করেছেন ব্রুকস।
তিনি বলেন, ‘না তেমন না (শেষ দিকে ভয় কাজ করে)। তবে যেখানে কৃতিত্ব দেওয়া জরুরি সেখানে তো কৃতিত্ব দিতেই হবে। দল হিসেবে পাওয়ারপ্লেতে আমরা অনেক ভালো বল করেছি। পাওয়ারপ্লেতে শুরুতে আমরা উইকেট নিয়েছি। একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল অনেক সহজেই জিতে যাব। শেষ দিকে সে (শামীম) অনেক ভালো ইনিংস খেলেছে। বাউন্ডারি বের করেছে। আমাদের কাজ কঠিন করে দিয়েছে। তবে দিন শেষে জয় মানে জয়ই। ৩ ম্যাচে ২ জয়, দারুণ।’
ব্রুকস আরও বলেন, ‘(শামীম) অবিশ্বাস্য খেলেছে। ভালো বলেও ছক্কা মেরেছে। ৩৬০ ডিগ্রিজুড়ে খেলেছে। বোলারের কাজ কঠিন বানিয়ে দিয়েছে। সে অনেক ভালো খেলে দলকে জেতানোর খুব কাছে চলে গিয়েছিল। তবে আমাদের জয় হয়েছে দিনশেষে।’
গত ম্যাচের বিরতিতে কোচ মাহবুব আলি জাকির জানাজার সময় দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন ব্রুকস। সেদিনের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, ‘আসলে একজন মানুষকে হারিয়ে ম্যাচ শুরু করা অবশ্যই ভালো নয়। আমার মনে হয়েছে, যদি আমার জায়গা থেকে কিছুটা সম্মান দেখানো যায়, আমি এটা দেখাতেই পারি। সম্মানের কারণেই আমি এমনটা করেছিলাম।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের উপস্থিতি এবার রেকর্ড গড়েছে। নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া তিনটি দলের মোট ২২ জন ফুটবলার ইতোমধ্যে একবার করে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন এবং এবার তারা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে লড়ছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে একই আসরে এত বেশি সংখ্যক বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় আগে কখনো অংশ নেননি। এর আগে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৯ জন সাবেক বিশ্বজয়ী ফুটবলার খেলেছিলেন। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ১৭ জন ফুটবলার এবারও দলে রয়েছেন। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পাশাপাশি ২০২২ সালের শিরোপাজয়ী দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিও আবারও শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আছেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমও নিজের দলকে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফরাসি দলের কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, এন’গোলো কাঁতে ও লুকাস হার্নান্দেজ দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। এদিকে জার্মানির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ারও তালিকায় রয়েছেন। তিনি ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানির শিরোপাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। চলতি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়রা হলেন: লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ, থিয়াগো আলমাদা, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, রদ্রিগো দে পল, এজেকুয়েল পালাসিওস, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নিকোলাস ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মলিনা, গঞ্জালো মন্তিয়েল, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, জেরোনিমো রুলি, কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, এন’গোলো কাঁতে, লুকাস হার্নান্দেজ এবং ম্যানুয়েল ন্যয়ার।
৩৯ বছর বয়সটা অধিকাংশ ফুটবলারের জন্য বুট জোড়া তুলে রেখে অবসরের গল্প লেখার সময়, অথচ লিওনেল মেসি এই বয়সে এসেও প্রতি ম্যাচে বিশ্বফুটবলের ইতিহাস নতুন করে লিখছেন। সোমবার টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে জর্ডানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে দলের যখন তাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, ঠিক তখনই বদলি নেমে দেখালেন নিজের চিরচেনা মহাজাগতিক রূপ। ম্যাচের ৮০ মিনিটে চোখধাঁধানো এক ট্রেডমার্ক ফ্রি-কিক গোল করে জর্ডানের প্রতিরোধ ভেঙে আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসের এক অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন এই মহাতারকা। বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা ৭টি ম্যাচে গোল করার একক বিশ্বরেকর্ড এখন শুধুই এই আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। এর আগে বিশ্বকাপের টানা ৬ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছিল ১৯৫৮ সালের ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন এবং ১৯৭০ সালের ব্রাজিলের জাইরজিনহোর। জর্ডানের বিপক্ষে এই জাদুকরী গোলটির মাধ্যমে ফন্টেইন ও জাইরজিনহোকে ছাড়িয়ে ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৭ ম্যাচে গোলের মহাকাব্য লিখলেন মেসি। কাতার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শেষ ৩ ম্যাচের পর চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচ—সব মিলিয়ে টানা ৭টি ম্যাচের প্রতিটিতেই জালের দেখা পেলেন এলএমটেন। চলতি আসরে মাত্র ৩টি ম্যাচ খেলেই ইতিমধ্যে ৬টি গোল করে গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে আছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সে এসেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে যেভাবে তিনি এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন, তা প্রমাণ করে কেন তাকে সর্বকালের সেরা বলা হয়। তার এই অতিমানবীয় ফর্মের ওপর ভর করেই গ্রুপ 'জে' থেকে শতভাগ জয় নিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করলো আর্জেন্টিনা, যেখানে আগামী ৩ জুলাই তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দ।
বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলায় এই ম্যাচে নিয়মিত একাদশের প্রায় সবাইকে বিশ্রাম দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া মাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে, ডালাস স্টেডিয়ামের এই ম্যাচে অধিনায়ক লিওনেল মেসি থাকছেন বেঞ্চে এবং দল মাঠে নামছে মূলত একঝাঁক রিজার্ভ খেলোয়াড় নিয়ে। অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারানোর পর আলজেরিয়া জর্ডানকে হারিয়ে দিলে গ্রুপ ‘জে’তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার। তাই স্কালোনি প্রথম দুই ম্যাচে সুযোগ না পাওয়া ফুটবলারদের ম্যাচ সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ম্যাচের মূল একাদশ থেকে মাত্র ২ জন খেলোয়াড়কে এই ম্যাচে ধরে রেখেছেন স্কালোনি। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এবং ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজ ছাড়া একাদশের বাকি ৯টি পজিশনেই এসেছে পরিবর্তন। রক্ষণভাগে সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ হিসেবে ডান-ব্যাকে জায়গা পেয়েছেন হুলিয়ানো সিমিওনে। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গী হচ্ছেন মার্কোস সেনেসি এবং বাঁ-প্রান্তে থাকছেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। মাঝমাঠে হলুদ কার্ডের ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও খেলা শুরু করবেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস, তার সাথে থাকবেন এজেকুয়েল পালাসিওস এবং বাঁ-প্রান্তে বিশ্বকাপ অভিষেক হতে যাচ্ছে জিওভানি লো সেলসোর। আক্রমণভাগের ঠিক পেছনে লিংক-ম্যান হিসেবে খেলবেন তরুণ নিকো পাস। আক্রমণভাগে স্কালোনির প্রথম পছন্দ না হলেও এই ম্যাচে একসঙ্গে জুটি বাঁধবেন হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ। আর্জেন্টিনার শুরুর সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলরক্ষক); হুলিয়ানো সিমিওনে, নিকোলাস ওতামেন্দি, মার্কোস সেনেসি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; লেয়ান্দ্রো পারেদেস, এজেকুয়েল পালাসিওস, জিওভানি লো সেলসো; নিকো পাস; হুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজ।