অন্যান্য

শহীদ জাকিরের মেয়ের বিয়েতে উপহার পাঠালেন তারেক রহমান

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
শহীদ জাকিরের মেয়ের হাতে উপহার তুলে দেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যরা
শহীদ জাকিরের মেয়ের হাতে উপহার তুলে দেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যরা


বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের নির্দেশনায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের গণআন্দোলনে নিহত শহীদ জাকির হোসেনের মেয়ে ও চকরিয়া পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহাইলা জান্নাত রিসতার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় উপহার হস্তান্তর করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাদ জুমা কক্সবাজার জেলা শহরে অনুষ্ঠানে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল এই উপহার সংশ্লিষ্টদের হাতে তুলে দেন।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা মো. আবুল কাশেম ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক এই যৌথভাবের সংগঠনটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য শাকিল আহমেদ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামীম আরা স্বপ্না, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, চকরিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন রিপন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
রক্তচাপ ও হার্ট কন্ট্রোলে রাখতে পারে যে খাবার

আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার হচ্ছে মাছের ডিম। মাছকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলা হয়, তা আমরা জানি। কিন্তু মাছের ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। কী আছে এই মাছের ডিমে, তা জানুন আজকের প্রতিবেদনে। মাছের ডিমের পুষ্টিগুণ ভেরিওয়েলফিট ডট কম-এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মাছের ডিমে অল্প পরিমাণে তিন ধরনের ফ্যাট থাকে—স্যাচুরেটেড, পলিআনস্যাচুরেটেড ও মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট। এই তিন ধরনের ফ্যাটই শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে সাহায্য করে। মাছের ডিমে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড (ওমেগা থ্রি) থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই উপাদানগুলো হৃদয়কে শক্তিশালী করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং রক্ত পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।   চোখ ও মস্তিষ্কের জন্যও উপকারডিএইচএ (ডিএইচএ) ও ইপিএ (ইপিএ) জাতীয় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড চোখের রেটিনা ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত মাছের ডিম খেলে চোখের দৃষ্টি উন্নত হতে পারে এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়তে পারে। এই উপকারিতা বিশেষত শিশু, প্রবীণ ও এমন ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ, যারা দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে চান বা তাদের মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে চান।   মাছের ডিমে থাকা উপাদানগুলো হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। এটি মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, যারা হৃদয়, চোখ বা মস্তিষ্কের সুস্থতা বাড়াতে চান, তাদের জন্য মাছের ডিম উপকারী হতে পারে। তবে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, রক্তের সমস্যা বা অন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত উদ্বেগ আছে, তাদের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। সূত্র : নিউজ ১৮

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
শহীদ জাকিরের মেয়ের হাতে উপহার তুলে দেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যরা

শহীদ জাকিরের মেয়ের বিয়েতে উপহার পাঠালেন তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত

সুস্থ থাকতে খাদ্য তালিকায় রাখুন এসব খাবার

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে গুপ্ত হামলা চালানো হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় উদ্দেশ্যে জামায়াত আমিরের দুটি স্পষ্ট নির্দেশনা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামের পক্ষ থেকে জাতির কাছে দুটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, দেশের স্বার্থে সবাইকে একটি জায়গায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরস্পরকে আঘাত বা আক্রমণ না করে নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে। উত্তরবঙ্গে দুদিনের নির্বাচনি সফর শুরুর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের আমির বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্জনের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণই বেশি হয়েছে। এ সময় তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে দেশ ধীরে ধীরে চোরাবালিতে হারিয়ে গেছে; ধ্বংস করা হয়েছে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতির ঘাড়ে চাপানো হয়েছে বিপুল ঋণের বোঝা। এমন প্রতিকূল বাস্তবতায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কিছু অর্জন যে হয়নি, তা তিনি অস্বীকার করেন না। তবে সামগ্রিকভাবে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। বিশেষ করে দেশের সবগুলো সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে এবং রাষ্ট্রকে বিপুল ঋণের বোঝার মধ্যে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যৎ সরকারের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, এমতাবস্থায় যারা সরকার গঠন করবে, তাদের জন্য এটি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা সংকট এখনো কাটেনি। যুবসমাজ এখনো বেকারত্বে ভুগছে, কর্মক্ষেত্রে কর্মীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। চলাফেরা ও কর্মস্থলে মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সমাজ এখনো ব্যর্থ। জামায়াত আমির বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান এবং এগুলো মোকাবিলা করতেই হবে। এমন বাস্তবতার মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জনগণ যাদের ভোট দিয়ে গ্রহণ করবে, তাদের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। ভিন্ন কোনো কায়দায় নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো পর্যায়ের কেউ যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনি প্রচারণায় আজ পঞ্চগড়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

সংগৃহীত ছবি

জীবনযাপনের যেসব ভুলে বাড়তে পারে থাইরয়েডের সমস্যা

৪৬তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার্থীদের জরুরি নির্দেশনা পিএসসির

ছবি : সংগৃহীত
দুগ্ধজাত গাভির দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে জীবন্ত খামির ও তিসির বীজ কার্যকর : খুবি’র গবেষণা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দুগ্ধজাত গাভির দুধের মান উন্নত করতে জীবন্ত খামির এবং তিসির (তিসির বীজ) সম্পূরক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আজ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত "দুগ্ধজাত গাভিতে জীবন্ত খামির এবং তিসির বীজের পরিপূরক করণের মাধ্যমে দুধ উৎপাদন এবং গুণমান বৃদ্ধি" শীর্ষক কর্মশালায় এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর আর্থিক সহায়তায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রযুক্তি ডিসিপ্লিন এই গবেষণা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. সরদার শফিকুল ইসলাম তার মূল বক্তব্য উপস্থাপনায় বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবারের জন্য দুগ্ধ খামার জীবিকা নির্বাহের একটি প্রধান উৎস। তবে খামার পর্যায়ে দুধের উৎপাদন এবং গুণগত মান এখনও প্রত্যাশিত মান অর্জন করতে পারেনি, যার প্রধান কারণ অপর্যাপ্ত সুষম পুষ্টি এবং আধুনিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির অভাব। তিনি ব্যাখ্যা করেন, পুষ্টিগত জৈবপ্রযুক্তি গবাদি পশুর পুষ্টিতে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে জীবন্ত খামির এবং তিসির বীজের মতো প্রাকৃতিক খাদ্য সংযোজন কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। গবেষণার ফলাফল অনুসারে, জীবন্ত খামির রুমেন গাঁজন দক্ষতা বৃদ্ধি করে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং গরুকে খাদ্য থেকে সর্বাধিক পুষ্টি আহরণ করতে সক্ষম করে। এর ফলে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, দুধের গঠন উন্নত হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, শরীরের অবস্থা উন্নত হয় এবং প্রজনন কর্মক্ষমতা উন্নত হয়। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এমন খাদ্য উপাদান তিসির বীজ উচ্চমানের তেল, প্রোটিন, ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি প্রাকৃতিক উৎস, যা দুধের পুষ্টিগুণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম তিসির বীজের সাথে দুগ্ধজাত গরুর খাদ্যতালিকায় পরিপূরক হিসেবে দুধের উৎপাদন গড়ে ২০ থেকে ২৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। খুলনা অঞ্চলে পরিচালিত একটি মাঠ পরীক্ষণে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রতি গরুর দুধ উৎপাদন ৮.৫৫ কেজি থেকে বেড়ে ১০.৪৮ কেজি হয়েছে। গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, তিসির বীজে উপস্থিত আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড দুধে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, বিশেষ করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে, মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। এছাড়াও সম্পূরক হিসেবে দুধের প্রোটিন, চর্বি এবং মোট কঠিন পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যার ফলে দুধের গুণমান এবং বাজার মূল্য উন্নত হয়। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এমন খাদ্য উপাদান তিসির বীজ উচ্চমানের তেল, প্রোটিন, ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি প্রাকৃতিক উৎস, যা দুধের পুষ্টিগুণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. হারুনুর রশীদ খান বলেন, গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো এর ফলাফল জনগণের কল্যাণে এবং জাতীয় উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখা নিশ্চিত করা। তিনি কৃষি খাতে গবেষণা বৃদ্ধির গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, দুধের উৎপাদন ও গুণমান উন্নত করার জন্য আরও গবেষণার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ অতিথি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নুরুন্নবী জোর দিয়ে বলেন, গবেষণার ফলাফল প্রান্তিক কৃষক এবং তৃণমূল পর্যায়ের সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাতে হবে। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি প্রযুক্তি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম। গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং খুলনা জেলা ভেটেরিনারি অফিসার ড. সঞ্জয় বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষায় প্রশাসনিক জট নিরসনে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অনুমোদন

ঢাবি ইতিহাস বিভাগের নবীন বরণ

ছবি : সংগৃহীত

সিলেটে তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনি জনসভা

0 Comments