অন্যান্য

শবেবরাতের ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয়

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
শবেবরাতের ফজিলত, নামাজ, দোয়া ও বর্জনীয় আমল
শবেবরাতের ফজিলত, নামাজ, দোয়া ও বর্জনীয় আমল

 

মহান আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মদি তথা আখেরি নবীর উম্মতের জন্য ইবাদতের বিশেষ কিছু সুবিধা দিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচটি রাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইবাদতের এ বিশেষ পাঁচটি রাত হলো শবেজুমা বা জুমার রাত, শবেইদাইন বা দুই ঈদের রাত, শবেবরাত বা মুক্তির রাত তথা ‘নিসফ শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্যরাত, শবেকদর বা কদরের রাত অর্থাৎ মর্যাদাপূর্ণ রজনী। এসব রাতে ইবাদত-বন্দেগি করলে বিশেষ মর্যাদা ও সওয়াব লাভ করা যায়। আল্লাহর নির্ধারিত সময় বাদে অন্য যে কোনো সময়ই ইবাদত-বন্দেগি করা যায়। তবে সময়ের ভিন্নতায় ইবাদতের বরকত হ্রাস-বৃদ্ধি হয়। যেমন—শবেবরাতের বরকতময় মুহূর্ত অর্থাৎ ১৪ শাবানের দিনগত রাতটা ইবাদতের জন্য খুবই বরকতময়। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম (সা.) তাকে বলেছেন, ‘এ রাতে বনি কালবের ভেড়া-বকরির পশমের (সংখ্যার পরিমাণের) চেয়েও বেশিসংখ্যক গুনাহগারকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।’ (তিরমিজি: ৭৩৯)।

শবেবরাতের বরকতময় রাতটা আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিসহ নানা প্রার্থনায় অশেষ বরকত হাসিল করার সুবর্ণ সুযোগ। হজরত আলি বিন আবু তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনি আসে (শবেবরাত), তখন তোমরা রাতে নামাজ পড়ো, দিনের বেলায় রোজা রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ এ রাতে সূর্য অস্তমিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর আসমানে এসে বলেন, ‘কোনো গুনাহগার ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আর আমি তাকে ক্ষমা করে দেব? আছে কোনো রিজিকপ্রার্থী? আমার কাছে রিজিক প্রার্থনা করবে আর আমি তাকে রিজিক দেব? আছে কোনো বিপদগ্রস্ত? আমার কাছে মুক্তি চাইবে আর আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দেব? মহান আল্লাহ এভাবে ফজর পর্যন্ত আহ্বান করতে থাকেন।’ (ইবনে মাজা: ১৩৮৮)

পবিত্র এ রাতে মহানবী (সা.) খুব গুরুত্বের সঙ্গে কাটাতেন। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ালেন এবং এত দীর্ঘ সেজদা করলেন যে, আমার ধারণা হলো তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম, তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল; তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে আয়েশা! তোমার কীসের আশঙ্কা হয়েছে?’ আমি উত্তরে বললাম, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার আশঙ্কা হয়েছিল আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না।’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘তুমি কি জানো এটা কোন রাত?’ আমি বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলই ভালো জানেন।’ তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘এটা হলো অর্ধশাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন, ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করে দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন।’ (শুয়াবুল ইমান: ৩/৩৮২)

বিখ্যাত তাবেয়ি খালিদ বিন মাদান, মকহুল, লোকমান বিন আমের (রহ.) প্রমুখ প্রসিদ্ধ তাবেয়ি মধ্যশাবানের রাতকে সম্মান করতেন এবং এতে স্বাভাবিক অভ্যাসের চেয়েও বেশি ইবাদত-বন্দেগি করতেন (লাতায়েফুল মায়ারিফ: ২৬২)। ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেন, বছরের পাঁচটি রাতে দোয়া কবুল হয়। জুমার রাত, দুই ঈদের দুই রাত, অর্ধশাবানের রাত এবং রজব মাসের প্রথম রাত (কিতাবুল উম্ম: ২/৪৮৫)। হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) নিজেই এ রাতে ইবাদত করতেন এবং অন্যদেরও ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য নির্দেশ দিতেন। একদা তিনি বসরার গভর্নরের উদ্দেশে চিঠি দিয়ে জানালেন যে, তারা যেন লাইলাতুল বরাতে বিশেষ ইবাদত করে। একদা তিনি নিজে এ রাতে নামাজ আদায়কালে সেজদা থেকে মাথা উত্তোলন করে দেখতে পেলেন একটি সবুজ কাপড়ের টুকরো, যার থেকে আলো বিচ্ছুরিত হয়ে আসমানের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ওই টুকরোর মধ্যে লেখা ছিল মহাপরাক্রমশালীর পক্ষ থেকে এটি তার বান্দার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির বার্তা। (রুহুল বয়ান: ৮/৩১১)


নবীজি, সাহাবি ও তাবেয়িদের আমল দেখে সে যুগের মক্কার লোকেরাও শবেবরাতে রাতভর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকতেন। শবেবরাতে মক্কার অধিবাসীদের আমল সম্পর্কে আল্লামা আবু বকর ফাকেহি (২১৭-২৭৫ হি.) বলেন, অতীতকাল থেকে আজ পর্যন্ত আহলে মক্কার বা মক্কাবাসীর আমল ছিল, অর্ধশাবানের রাতে সাধারণ মানুষ মসজিদুল হারামের উদ্দেশে বের হতো। তারা নামাজ আদায় করত, তওয়াফ করত এবং সারা রাত ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করত। এমনকি সকাল পর্যন্ত কোরআন তেলাওয়াত, খতমে কোরআন এবং নামাজের মাধ্যমে অতিবাহিত করত। নামাজের মধ্যে তারা প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহা এবং ১০ বার সুরা ইখলাস পড়ত। তারা জমজমের পানি পান করত, তা দিয়ে গোসল করত এবং অসুস্থদের জন্য জমা করে রাখত। উদ্দেশ্য ছিল এ রাতের বরকত হাসিল করা। (আখবারে মক্কা: ৩/৮৪)

বরকতময় এ রজনি আমরা আর নাও পেতে পারি। এজন্য এ রাতের অশেষ বরকত কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবে না। এ রাতে আমরা যেসব আমল করতে পারি, তা হলো—নফল নামাজ আদায় করা, কোরআন তেলাওয়াত করা, তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা, তওবা-ইস্তেগফার করা, দরুদ শরিফ পাঠ করা, জিকির-আজকারে নিয়োজিত থাকা, প্রার্থনায় সবার কল্যাণ কামনা করা, কবর জিয়ারত করা, দান-সদকা করা এবং পরের দিন রোজা পালনসহ বিভিন্ন ইবাদতে মশগুল থাকা। কিন্তু আমাদের দেশে অনেককে দেখা যায়, এ রাতে হালুয়া-রুটি, গোশতসহ বিভিন্ন প্রকার মজাদার খাদ্য তৈরি করে আত্মীয়স্বজন নিয়ে মহাব্যস্ত সময় পার করে ইবাদত-বন্দেগির সময়-সুযোগ হারিয়ে ফেলে। এটা কখনোই একজন মুমিনের কাম্য হতে পারে না। শবেবরাত যেহেতু মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিন বান্দার জন্য এক বিশেষ অনুগ্রহ, তাই এ রাতে বিভিন্ন গর্হিত কাজ থেকেও আমাদের দূরে থাকতে হবে। যেমন—আতশবাজি ফোটানো, খেলাধুলায় মত্ত থাকা, ঘরবাড়িতে আলোকসজ্জা করা, শরিয়তবিরোধী কাজ করা, অপচয় করা, কারও ইবাদতে বিঘ্ন ঘটানো, অযাচিত আনন্দ-উল্লাস করা, বেহুদা কথাবার্তা ও ঘোরাঘুরি করা, সওয়াবের উদ্দেশ্যে মসজিদে খিচুড়ি রান্না করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পুণ্যময় রজনির বরকত হাসিল করার তওফিক দান করুন।

লেখক: ইমাম ও খতিব

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
মাটিরাঙ্গায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভু্ইয়া।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পাহাড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে : ওয়াদুদ ভুইয়া

  মাটিরাঙ্গায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভু্ইয়া। ছবি : কালবেলা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভু্ইয়া বলেছেন, ১৮ বছর আগে খাগড়াছড়িতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে উন্নয়নের পাশাপাশি সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। আমরা পাহাড়ি-বাঙালিদের বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি চাই। কেউ কারো প্রতিপক্ষ নয়। মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নবীনগর, গাজীনগর, পলাশপুর, বাবুপাড়া, চৌধুরীপাড়া, মুসলিমপাড়া এবং মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের ওয়াছু এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। ওয়াদুদ ভু্ইয়া বলেন, বিগত সতের বছর উন্নয়নের নামে লুটপাট আর দুঃশাসন ছিল। দুর্নীতি ও দুঃশাসন মুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে হলে বিএনপি তথা তারেক রহমানের বিকল্প নাই। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট নিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করে দুঃশাসন দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময় আমি-ডামি আর নিশিরাতের ভোট করে যেভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, একটি দল ঠিক সেভাবেই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তারা নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। গ্রামে-গঞ্জে তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাছির আহম্মদ চৌধুরী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আযাদ, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল কাজল, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বদিউল আলম, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম পাটোয়ারী, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মো. সাদ্দাম হোসেন, মাটিরাঙ্গা পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. গিয়াসুদ্দিন প্রমুখ।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
শবেবরাতের ফজিলত, নামাজ, দোয়া ও বর্জনীয় আমল

শবেবরাতের ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয়

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিকের প্রতিটি স্কুলকে ‘স্বায়ত্তশাসিত’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমকে সামাজিক শক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার

ছবি: সংগৃহীত
ঢাবিতে ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি (টিএফপি) বিভাগের উদ্যোগে ‘২য় টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে। বিভাগের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার ১৯ জন শিক্ষার্থীর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ বছর প্রতিযোগিতায় চলচ্চিত্র ও সংবাদ প্রতিবেদনসহ মোট ১২৯টি কাজ জমা পড়েছিল। দেশের প্রখ্যাত নির্মাতা, প্রযোজক, চিত্রগ্রাহক, চলচ্চিত্র সমালোচক, চিত্রনাট্যকার, সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত জুরিবোর্ডের মধ্য থেকে ১৯টি ক্যাটাগরিতে ৪১টিকে মনোনীত করে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে মনোনীত ২৬টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শনী শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরে টেলিভিশন ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগ একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির সংযোগ তৈরিতে দারুণ সফলতা দেখিয়েছে। তাদের এ সৃজনশীল কাজের ধারাবাহিকতা আগামীতেও বজায় থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এ সময় তিনি পুরস্কারজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম ও সৃজনশীলতাকে এগিয়ে নিতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সভাপতির বক্তব্যে বিভাগের চেয়ারম্যান সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীম বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করার জন্যই আমাদের এ আয়োজন। যথাযথ বরাদ্দ পেলে এই বিভাগ বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিতে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সারাবিশ্বে সৃজনশীল কাজের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হবে। তিনি উপস্থিত অতিথিবৃন্দ, জুরিবোর্ডের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলকে বিভাগের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ক্যাপস ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত

বিএমইউ অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন গঠন : ইয়াহিয়া সভাপতি আমিন সাধারণ সম্পাদক

ছবি : সংগৃহীত

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগ, প্রতিবাদ জানাতে বঙ্গভবনে প্রতিনিধি দল

ছবি : সংগৃহীত
প্রতিপক্ষকে বিতর্কে আহ্বান জামায়াত আমিরের

রাজনীতিতে সহিংসতা বর্জন করে সৃজনশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।   সোমবার রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দেশের মানুষের সেবায় নতুন আইডিয়া বা ধারণা নিয়ে গঠনমূলক বিতর্কে লড়ার প্রস্তাব দেন।   তিনি বলেন, আমি আমার প্রতিপক্ষদের স্বাগত জানাই। আসুন, আমরা ভাবনার লড়াইয়ে প্রতিযোগিতা করি—কে এই দেশের মানুষকে আরও ভালোভাবে সেবা দিতে পারে, তা দেখার জন্য। আসুন, নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক করি, মানুষের কথা শুনি এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য সর্বোত্তম নীতিমালা প্রণয়ন করি। জামায়াতে ইসলামীর আমির আরও বলেন, জামায়াত প্রতিদিনের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আলোচনা ও শোনার এক ভিন্ন ধারার পথ দেখাচ্ছে। মানুষ অতীতেও সহিংসতা প্রত্যাখ্যান করেছে, এখনও করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। এভাবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
(বাঁ থেকে) রিদওয়ান হাসান, সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর ও এহসান সিরাজ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে গ্রীন পার্টি’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

বিএনপির লোগো।

রাতে ১ নেতাকে সুখবর দিল বিএনপি

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির।

এনসিপি নেতা শিশিরকে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

0 Comments