সাতক্ষীরা জেলার বিস্তীর্ণ মাঠে যেদিকে দুচোখ যায় সেদিকেই হলুদের সমারোহ। সরিষার হলুদ ফুলের মদির সুবাসে জুড়ে যায় প্রাণমন। মাঠের পর মাঠ চির সবুজের বুকে যেন কাঁচা হলুদের আলপনা। প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সৌন্দর্যের নান্দনিক রূপে। ফুলে ফুলে মৌমাছি মধু আহরণ করছে। সেই সাথে চলছে সরিষার ক্ষেত থেকে মধু আহরণ।
সাতক্ষীরায় সরিষা ক্ষেতে কাঠের বাক্সে মৌমাছি পালন করে মধু উৎপাদন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে বসানো হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মৌ-বক্স। এসব মৌ-বক্স থেকে ৭৫ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের সহযোগিতা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই মধু বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। যা সাতক্ষীরার স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘এ জেলার অন্যতম প্রধান একটি রবি ফসল হলো সরিষা। এই সরিষার ফুল থেকে মধু ও মোম সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। প্রতিটি মৌ-বক্স থেকে পাঁচ থেকে সাতবার মধু সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে প্রতি মণ সরিষা ফুলের মধু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকায়। ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিরা সরিষা ছাড়াও বরই, লিচু ফুল ও সুন্দরবনের আশপাশে মৌ-বক্স বসিয়ে সারা বছর মধু সংগ্রহ করেন।
তিনি বলেন, মৌমাছি পালনের মাধ্যমে অনেক বেকার যুবক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে ২৮ জন কৃষক প্রায় ১০ হাজার মৌ-বক্স স্থাপন করেছেন। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এবার ৭৫ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ খাতে জেলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে জেলায় ১৯ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল। ২০২৪ সালে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে জেলায় সরিষা চাষ হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৩১ হেক্টর জমিতে। ২০২৫ সালে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৯ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া ও দেবহাটা উপজেলায় সরিষার আবাদ তুলনামূলক বেশি হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, আগের চেয়ে সরিষার আবাদ বেড়েছে। তাই মধু ও মোমের উৎপাদনও বাড়বে।
আশাশুনি উপজেলা বড়দল গ্রামের কৃষক আজগর আলী বাসসকে বলেন, আশ্বিন মাস থেকে সরিষা চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করা হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৫ থেকে ৬ মণ সরিষা উৎপাদনে খরচ হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। গত বছরের ১৭ টাকা কেজির সার এবার ৩০ টাকায় কিনেছেন বলে জানান তিনি। ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলে ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান কৃষকরা।
মৌচাষি আমিরুল গাজী জানান, সরিষা ক্ষেত থেকে বছরে তারা চার মাস মধু সংগ্রহ করে থাকেন। অন্য আট মাস কৃত্রিম পদ্ধতিতে চিনি খাইয়ে মৌমাছি লালন পালন করা হয়। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সরিষা থেকে মধু সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। এসময় সর্বত্র সরিষার ফুল ফোঁটে।
তিনি বলেন, আকার ভেদে একটি বাক্সে ৩০ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া যায়। আমার সরিষা ক্ষেতে মৌ বাক্স রয়েছে ১০০টি। প্রতিটি বাক্সে খরচ হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। আর প্রতি কেজি মধু বিক্রি হয় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। প্রতি বাক্সে লাভ হয় ৪-৫ হাজার টাকার মতো। তিনি জানান, মধু চাষের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায় এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীর মধু ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন জানান, বিসিক শিল্প নগরীতে তার মধু প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিনে নাম মাত্র মূল্যে মধু প্রক্রিয়াজাত করা হয়। মধু বিদেশে রপ্তানি করার জন্য ইতোমধ্যে তিনি বিদেশি ক্রেতাদের সাথে কথাও বলেছেন।
তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে সরিষা ফুলের মধু বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
সাতক্ষীরা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপংকর দত্ত বলেন, ভেজাল শনাক্তে নিয়মিত অভিযান চলছে। মধুতে কেউ ভেজাল পণ্য মেশালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জমির নামজারির ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারি করতে এখন সব ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করতে হবে। আর ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে প্রয়োজন হবে নিবন্ধিত বণ্টননামা। ফলে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত রেকর্ড হালনাগাদ করতে ওয়ারিশদের সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি। জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর সরকারি ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ করার প্রক্রিয়াকে নামজারি বলা হয়। জমির মালিকানা-সংক্রান্ত রেকর্ড ঠিক রাখা এবং ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরাধিকার সূত্রে জমির নামজারিতে নতুন নিয়ম সব ওয়ারিশের নাম দিতে হবে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির আবেদন করার সময় মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম উল্লেখ করতে হবে। প্রত্যেক ওয়ারিশের আইনগত প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী তাদের সহ-অংশীদার হিসেবে খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বণ্টননামা ছাড়াই করা যাবে যৌথ নামজারি ওয়ারিশদের মধ্যে জমি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ করা না হলে যৌথ নামজারির আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধিত বণ্টননামা না থাকার কারণে শুধু সেই অজুহাতে আবেদন বাতিল করা যাবে না। তবে জমির অংশ ভাগ করে প্রত্যেক ওয়ারিশের নামে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা প্রয়োজন হবে। আবেদনের সঙ্গে লাগবে ওয়ারিশ সনদ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ গুরুত্বপূর্ণ নথি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে এ সনদ সংগ্রহ করা যায়। সনদে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ থাকা জরুরি। তথ্যের অসংগতি থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পৃথক খতিয়ানের জন্য নিবন্ধিত বণ্টননামা ওয়ারিশরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে আলাদা খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা সম্পন্ন করতে হবে। এরপর বণ্টন অনুযায়ী প্রত্যেকে নিজের অংশের জন্য পৃথক নামজারির আবেদন করতে পারবেন। নামজারির জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন জমি কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে— ১. নিবন্ধিত দলিলের কপি: জমি কেনার মাধ্যমে মালিকানা অর্জন করলে। ২. আগের খতিয়ানের কপি: সংশ্লিষ্ট জমির বিদ্যমান খতিয়ান। ৩. জমির বিবরণ: দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য। ৪. জাতীয় পরিচয়পত্র: আবেদনকারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য। ৫. ওয়ারিশ সনদ: উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে। ৬. মৃত্যুসনদ: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে। ৭. নিবন্ধিত বণ্টননামা: ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে। ৮. অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি: সরকারি ফি পরিশোধের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাওয়া কাগজপত্র। আবেদনের আগে দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মালিকানার তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। নথিপত্রে অসংগতি থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হতে পারে। অনলাইনে নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট land.gov.bd থেকে ই-নামজারি সেবায় প্রবেশ করে আবেদন করা যায়। আবেদন করতে সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়। প্রথম ধাপ: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ই-নামজারি সেবার লিংক নির্বাচন করুন। দ্বিতীয় ধাপ: আবেদনকারীর পরিচয়, জমির অবস্থান, খতিয়ান ও দাগ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন। তৃতীয় ধাপ: জমি কেনার মাধ্যমে নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা অর্জিত হয়েছে, তা উল্লেখ করুন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে দিন। চতুর্থ ধাপ: নিবন্ধিত দলিল, খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য কাগজপত্র নির্দেশনা অনুযায়ী সংযুক্ত করুন। পঞ্চম ধাপ: আবেদন জমা দিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করুন। আবেদন নম্বর বা ট্র্যাকিং তথ্য সংরক্ষণ করুন। ষষ্ঠ ধাপ: অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করুন। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাইলে নির্ধারিত নিয়মে তা জমা দিন। আবেদনের আগে সরকারি পোর্টালে দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি যাচাই করে নেওয়া ভালো। নথিপত্রের যথার্থতা, জমির ধরন এবং কোনো আপত্তি রয়েছে কি না, তার ওপর আবেদন নিষ্পত্তির সময় নির্ভর করতে পারে। নামজারি না করলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে? জমি কেনার পর বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ না করলে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি হস্তান্তর এবং মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের সময়ও সমস্যায় পড়তে হতে পারে। জমি নিয়ে বিরোধ বা প্রতারণার আশঙ্কা দেখা দিলে সঠিক ও হালনাগাদ নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে নামজারিই জমির চূড়ান্ত মালিকানার একমাত্র প্রমাণ নয়। নিবন্ধিত দলিল, উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত কাগজপত্র, দখল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও মালিকানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। তাই জমির মালিকানা-সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণের পাশাপাশি সময়মতো নামজারি সম্পন্ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করতে হবে। আর জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামার বিধান অনুসরণ করতে হবে।
সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা ও সহযোগিতায় সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকেরা নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়ির বহরটি শহরে পৌঁছায়। এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন পর্যটকেরা। পথে কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধের মুখে পড়লেও সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাঁরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছান। পর্যটকেরা জানান, সাজেকে চলমান আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের কারণে তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। ফেরার পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে পর্যটকদের কেউ হতাহত হয়েছেন বা ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন—এমন খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা থেকে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক আবুল কাশেম বলেন, তাঁরা দুই রাত তিন দিনের ভ্রমণে বুধবার সাজেকে পৌঁছেছিলেন। সন্ধ্যায় সেখানে আন্দোলনের খবর জানতে পারেন। পরে বৃহস্পতিবার তাঁদের সাজেক থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। তিনি বলেন, তিন দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসায় গাড়িভাড়ার বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এ ছাড়া ঢাকায় ফেরার বাসের টিকিটও দুই দিন পরের হওয়ায় বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অয়ন নামে আরেক পর্যটক জানান, সেনাবাহিনীর এসকর্টে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো খাগড়াছড়িতে আনা হয়। পথে দুটি স্থানে প্রায় আধা ঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হয়েছে। সড়ক অবরোধের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সড়কে ভাঙা ইট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। তবে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় পর্যটকেরা নিরাপদে এলাকা পার হতে পেরেছেন। হবিগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক অপু বলেন, আনন্দ ভ্রমণে এসে তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। আন্দোলনের কারণে সাজেক ভালোভাবে ঘুরে দেখার সুযোগও হয়নি। নিরাপদে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন। তিনি আরও জানান, ফেরার পথে তাঁদের গাড়িবহর দুটি স্থানে আটকে পড়ে। বহরের সামনে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পর্যটকবাহী গাড়িগুলোকে ওই এলাকা পার করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুধবার রাতে সাজেকে দুই হাজার ৬০০ জনের বেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে। অবরোধের কারণ সাজেকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন। প্রতিবেদনে সংগঠন দুটিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সমর্থনপুষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠন দুটির দাবির মধ্যে রয়েছে, সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া। তাদের অভিযোগ, ওই সংগঠনের সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের কয়েকটি এলাকায় অবস্থান করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অবরোধ ও আন্দোলনের কারণে সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যাহত হয়েছে। অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এতে পরিবহন ভাড়া এবং ফেরার বাসের টিকিট নিয়েও ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকেরা।
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও একটি ‘গুপ্ত দল’ যৌথভাবে চক্রান্ত এবং অপপ্রচারে লিপ্ত বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি ও ওই দলের কথাবার্তা এবং আচরণে মিল রয়েছে। অতীতের মতো এখনও তারা বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ শেষে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আগে অপপ্রচার চালাত, এখন তাদের সঙ্গে আরেকটি ‘গুপ্ত দল’ যুক্ত হয়েছে। এ দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে বিএনপিকে নিয়ে যেসব অপপ্রচার চালানো হয়েছিল, এখনও একই ধরনের কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে। বিএনপির বিরুদ্ধে অতীতে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, একসময় প্রচার করা হতো, বিএনপি একটি জঙ্গি রাজনৈতিক দল এবং বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে অন্য ধর্মাবলম্বীরা নিরাপদ থাকবেন না। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এসব আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। রিজভী আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করে দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দাবি, গত ১৭-১৮ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরাও পূজার পরিবেশের প্রশংসা করেছেন বলে জানান তিনি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। খ্যাতনামা চিকিৎসকদের পরামর্শে তৈরি লিফলেট সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এসব লিফলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং আক্রান্ত হলে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ এবং দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশ কমার দাবি সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগ সম্পর্কে রিজভী বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ চলছে। অর্থনীতিবিদদের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড বিতরণের মাধ্যমে চলতি বছরেই দেশে দারিদ্র্যের হার আরও ৫ শতাংশ কমতে পারে। এটিকে তারেক রহমানের সরকারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। শান্তিনগরের এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল হক বাবুল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।