অর্থনীতি

সঞ্চয়পত্রের প্রভাবে পুঁজিবাজারে

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৬, ২০২৬

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর ঘোষণা আসার পর পুঁজিবাজারে টানা দুই কার্যদিবসে বড় উত্থান দেখা যায়। তবে পরে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় পুঁজিবাজারে ফের দরপতন শুরু হয়। একই সঙ্গে কমে লেনদেনের গতিও।


সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় ছিল অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। এতে প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে মূল্যসূচক কমলেও সিএসইতে সূচক বেড়েছে। তবে উভয় বাজারেই লেনদেনের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করে। স্কিমভেদে মুনাফার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয় ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ মুনাফার হার এক শতাংশের বেশি কমানো হয়।

এই সিদ্ধান্তের পর নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান দেখা যায়। একই সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় পর ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছায়। তবে ৪ জানুয়ারি বিকেলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল হলে বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর প্রভাবেই সোমবার পুঁজিবাজারে ফের দরপতন হয়।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিনের প্রথম ঘণ্টায় সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দরপতনের তালিকা বড় হতে থাকে। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমার মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়।
ডিএসইতে এদিন ১৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৮৯টির দাম কমেছে এবং ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে, ৮০টির কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৬টির দাম বেড়েছে, ৪৫টির কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির শেয়ার দাম বেড়েছে, ৬৪টির কমেছে এবং ২১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে, ৮টির কমেছে এবং ১৫টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

সব মিলিয়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৮৬ পয়েন্টে নেমে গেছে।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে দুদিন ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে দীর্ঘদিন দরপতনের কারণে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম তলানিতে থাকায় এ প্রভাব সাময়িক হতে পারে।

এদিকে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮৫ কোটি ৮১ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৫৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এ হিসাবে একদিনে লেনদেন কমেছে ৫১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল উত্তরা ব্যাংক (১৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা) এবং তৃতীয় স্থানে ছিল মালেক স্পিনিং (১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা)। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হান কটন, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও রহিমা ফুড।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দায়িত্বে বসছে প্রশাসক

আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে না পারা দেশের ব্যাংকবহির্ভূত পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (এনবিএফআই) আটকে থাকা টাকা আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জনগণের করের টাকা থেকে সরকার এই অর্থ জোগান দেবে। তার আগে পাঁচ প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়ন করা হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রশাসক বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, প্রশাসক নিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর ছোট ছোট আমানতকারীর টাকা ফেরত দেওয়া উদ্যোগ নেওয়া হবে। টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে সরকারের সম্মতি পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারপরও প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, অবসায়ন বা বন্ধের তালিকায় যে পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো হলো এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রশাসক নিয়োগের পর শুরুতে ব্যক্তি আমানতকারীরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন।   বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতভাগ ঋণই খেলাপি।   প্রতিষ্ঠান পাঁচটির মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ছিলেন চট্টগ্রামের বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (এস আলম)। অন্য চারটির নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেলেঙ্কারির দায়ে বহুল আলোচিত ব্যক্তি প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার। তাঁদের মেয়াদে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে টাকা তুলে নেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব প্রতিষ্ঠান সচল বা অবসায়ন করে আমানতকারীদের দুর্ভোগ লাঘবের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কাজটি তারা শেষ করে যেতে পারেনি। এ অবস্থায় বর্তমান সরকারও অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। এ জন্য ২০২৬–২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসক নিয়োগের পর প্রথমে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। পরে অন্যদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এসব প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রেখে শুধু শুধু খরচ বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব, অবসায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হবে। এরপর এসব প্রতিষ্ঠান একীভূত করে ব্যাংকগুলোর মতো প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। বর্তমানে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।   উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কেন ২০টি এনবিএফআই বন্ধ করা হবে না মর্মে গত বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ছয়টি বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে বাদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রিমিয়ার লিজিংকে বাদ দিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি দলের একজন নেতা প্রিমিয়ার লিজিং সচল করার উদ্যোগ নেবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়েছেন। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে আপাতত অবসায়নের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ১২ জুন বাজেট–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে ১২ বছর ধরে সমস্যা হচ্ছে। আগামী এক–দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬

এনবিআরের রাজস্ব আদায় দেশের ইতিহাসে রেকর্ড

ইসলামী ব্যাংকের লোগো

সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা ইসলামী ব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত

তহবিলে ধস, তবু বেতন-ভাতায় উৎসব

ছবি : সংগৃহীত
বিএসইসির পক্ষে আদালতের রায়, স্বস্তিতে সংশ্লিষ্টরা

সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত থেকে পক্ষে রায় পেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ফলে ক্লোজড-এন্ড (মেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ডকে ওপেন-এন্ড (বেমেয়াদি) ফান্ডে রূপান্তর বা অবসায়ন এবং বেস্ট হোল্ডিংস-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা কেটেছে।   এতে করে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা পরিপালনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।   ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের সব ট্রাস্টিকে ক্লোজড-এন্ড স্কিমগুলোর অবসায়ন অথবা ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর সংক্রান্ত সদ্য প্রণীত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে।   বিএসইসির কঠোর অবস্থান এবং আদালতের রায়ের ফলে স্বস্তি মিলেছে সংশ্লিষ্ট খাতের বিনিয়োগকারীদের।   জানা গেছে, আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টের পৃথক দুটি রিটে হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থা স্থগিত এবং স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছেন।   এতে করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা হয়েছে বলে মনে করে কমিশন।   এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বাংলানিউজকে বলেন, আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের ফলে ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড রূপান্তর বা অবসায়ন এবং বেস্ট হোল্ডিংস-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আর বাধা নেই।   তিনি বলেন, ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডকে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর বা অবসায়ন সংক্রান্ত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা বিধি ৬২(২) এবং ৭ মে জারি করা আদেশের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পাঁচজন ইউনিটধারী রিট আবেদন করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে হাইকোর্ট থেকে একটি স্থিতাবস্থা আদেশ জারি হয়েছিল। তবে সেই আদেশ স্থগিত করা হয়। এর আগে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা বাস্তবায়নে বিএসইসি গত ৯ ও ১১ জুন ট্রাস্টিদের পৃথক চিঠি পাঠায়। বেস্ট হোল্ডিংস-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর থাকা স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমাদের ল ডিভিশন রায়ের বিষয়টি কনফার্ম করেছে।   তারা যে রিট করেছিল সেটা ভ্যাকেট হয়ে গেছে তাহলে তো আর কোনো বাধা থাকে না। বেস্ট হোল্ডিং এর তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে তো বাধা থাকার কথা না। কমিশনের মূল কাজটা হলো ইনভেস্টর প্রটেকশন। আর বর্তমান কমিশন সেই কাজটা করে যাচ্ছে। ইনভেস্টর সুরক্ষায় আমাদের যারা আইনজীবী আছে তারা তাদের মত করে লড়তে থাকেন। আর যে রায় আসছে এটা ইনভেস্টরের পক্ষেই যাচ্ছে, কমিশন বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সঠিক দায়িত্ব পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হঠাৎ ইসলামী ব্যাংকের সতর্কবার্তা জারি

ছবি : সংগৃহীত

শেয়ারবাজার চাঙ্গা হচ্ছে না কেন?

ছবি : সংগৃহীত

তেল কারসাজি: ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ টিকে গ্রুপের বিরুদ্ধে

ছবি : সংগৃহীত
বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে বিনিয়োগে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

দেশের বন্ধ ও অলাভজনক কারখানা চালু করতে বিনিয়োগ করলে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত ‘রোড শো’ অনুষ্ঠানে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।   তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা চাই আপনারা আরও এগিয়ে যান, বিকশিত হোন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।   শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ কারখানায় বিনিয়োগ আকর্ষণে এ রোড শো’র আয়োজন করে শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।   অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে মোট ৪৪টি কারখানার বিস্তারিত তথ্যসহ (কারখানাগুলোর অবস্থান, বিদ্যমান অবকাঠামো, বিনিয়োগ সুবিধা, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা) বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।   উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা খোলামেলাভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।   অনুষ্ঠানে দেশি শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল, এসিআই লিমিটেড, ওয়ালটন, মেঘনা গ্রুপ, রানার গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, ট্রান্সকম গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ ও লাল তীর, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।   বিদেশি কোম্পানির মধ্যে জাপানি মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কোং (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেড, সোজিৎস এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, জেট্রো বাংলাদেশ অফিসের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশ নেন।   উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আগেও বলেছি, আমরা চাই আপনারা এগিয়ে যান এবং আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই। আপনারা নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন। কীভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সেই মতামতও দিয়েছেন। আমরা ইতোমধ্যে কিছু বিষয়ে কাজ শুরু করেছি।   তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব হল প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সমস্যাগুলো কাটিয়ে তোলার পথ তৈরি করা। কিন্তু সরকারের পক্ষে তা একা সম্ভব নয়।   বাস্তবতা হল, আমরা একবারে সব সমস্যার সমাধান করতে পারব না। তবে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে সমাধান করতে পারি। আমার অনুরোধ, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন, যাতে আমরা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে পারি এবং একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি।’   তিনি বলেন, শুধু বলতে চাই, আসুন আমরা পরিবর্তন আনার জন্য একসঙ্গে কাজ করি। সমস্যা আছে, চ্যালেঞ্জও আছে। কিন্তু আমরা এটাও উপলব্ধি করেছি যে, যদি আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে এসব সমস্যা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব।   অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬

শেয়ারবাজারে আম্বানির মেগা ধামাকা

ছবি : সংগৃহীত

রপ্তানি আয়ের প্রণোদনায় বাড়ছে করের চাপ

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমার রেকর্ড

0 Comments