আদালতে আইনজীবীদের ব্যবহৃত বিশেষ ব্যান্ড পরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি তার পোশাক পরিধান নিয়েও আলোচনা করেছেন।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নিজের পোশাক নিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।এ সময় তিনি দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছাঁটাই করে মাত্র ১ টাকা করার দাবি জানান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আদালতের বাইরে এই বিশেষ ব্যান্ড পরা যায় না, তা তিনি একজন আইনের শিক্ষার্থী ও আইনজীবী হিসেবে খুব ভালো করেই জানেন।
’ তবে কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং কেন তিনি এটি পরে সংসদে এসেছেন, তা স্পিকার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি দেশের সাম্প্রতিক অপরাধের কিছু খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাসেই সারা দেশে রেকর্ড ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ, ২২১৪টি চুরি এবং ১২৯টি পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
দেশের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ বাজেট বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয়, তারপরেও এই মন্ত্রণালয়ের কতটুকু উন্নয়ন হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, তিনি নিজেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শোনেন, কিন্তু এই মুগ্ধতা যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার কাজের মাধ্যমে পুরো মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন, তাহলে হয়ত আজ ছাঁটাই প্রস্তাব আনার প্রয়োজন হতো না।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ রুমিন ফারহানার পোশাক পরিধানের বিষয়ে আইনি, সাংবিধানিক ও সংসদীয় অবস্থান পরিষ্কার করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের মতামতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জানান যে, সংসদের ভেতরে বাইরের কোনো আদালতের বিধি-বিধান কার্যকর হয় না। সংসদ সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি বা রুলস অব প্রসিডিউর অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যা প্রণয়নের পূর্ণ ক্ষমতা দেশের সংবিধান সরাসরি এই সার্বভৌম হাউসকে দিয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে কোনো নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করে প্রবেশ করা যাবে না বা যাবে, এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বাধ্যবাধকতা চাপানো নেই। জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের প্রসঙ্গ টেনে হাস্যরসের সৃষ্টি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের ভাষায় ‘শি ইনক্লুডস হি’। তিনি রুমিন ফারহানার পোশাকটিকে অত্যন্ত ‘শোভন পোশাক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, সংসদে নিজের পছন্দমতো পোশাক পরিধানের পূর্ণ স্বাধীনতা ওই নারী সংসদ সদস্যের রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুনে মার্কেটটির ছয়তলায় থাকা সব মালামাল পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছেন। ফায়ার সার্ভিস আরও জানায়, পুরান ঢাকার সরু রাস্তাঘাট এবং ভবনের কাঠামোগত জটিলতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেদারল্যান্ডস সরকারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার এইচই স্টিভেন কোলেট। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিনিয়োগ, খাল খনন ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং দেশের সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসায় নেদারল্যান্ডসের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভকামনা জানানো হয়। বৈঠকে দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে ডাচ বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। নেদারল্যান্ডসের বহু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বাংলাদেশে সফলভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তাদের জন্য আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এছাড়া কৃষি, টেক্সটাইল, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা, সামগ্রিক অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে আলাপ হয়। এ সময় উল্লেখ করা হয় যে, নেদারল্যান্ডস নিয়মিত বাংলাদেশ থেকে সুস্বাদু আম আমদানি করে এবং বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে নেদারল্যান্ডসের উন্নত জাতের আলু বীজ সফলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। একই সঙ্গে ব্লু ইকোনমি ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ এবং ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলোর কারখানায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষ কথা বলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন রূপকল্প, জনকল্যাণমুখী নীতি ও বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে নদী ও খাল সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খনন প্রকল্প, তিস্তা ব্যারেজ এবং পদ্মা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডসের আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ দক্ষতার পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের রূপান্তরে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, শিল্প ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সমন্বয়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয় খাতের শ্রমিকদের দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সরকারের বহুভাষিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় তৃতীয় ভাষা হিসেবে ডাচ ভাষা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগসহ সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব শিল্প কারখানা স্থাপন এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর জাতীয় মহাপরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এছাড়া প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সুরক্ষায় গৃহীত জনকল্যাণমুখী নীতি, যেমন নারীদের ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে কৃষক কার্ড চালুর যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো ডাচ প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও তুলে ধরেন, বর্তমান সরকার দেশে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। একটি অত্যন্ত চমৎকার ও প্রাণবন্ত সংসদ পরিচালনা, সংসদে বিরোধী দলের জন্য অবাধ মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও কার্যকর স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়ার দ্রুত অগ্রগতি এবং জবাবদিহিতা বাড়াতে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয়গুলোও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচিত হয়। বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত এইচই জোরিস ভ্যান বোমেল এবং দেশটির টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক রাষ্ট্রদূত এইচই ওয়াম্পি লিবন।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস আগামীকাল। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন চ্যানেল অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি যথাযথ গুরত্বের সাথে পালিত হবে। দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে বিভিন্ন টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে। এ উপলক্ষ্যে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। দিবসটি উদযাপনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ‘বাংলাদেশ’ নামের এ ভূখন্ডটি প্রকৃতির সঙ্গে এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস বহন করে। বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী অবস্থান, দেশের বুক চিরে প্রবহমান অসংখ্য নদ-নদী, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং বিশাল জনগোষ্ঠীর সৃষ্ট চাপ, সবমিলিয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, ভূমিধস, অগ্নিকান্ড, ভূমিকম্প প্রভৃতি দুর্যোগ এখানে অনিবার্য বাস্তবতা। এমন প্রেক্ষাপটে মানুষ যখন হতবিহ্বল হয়ে পড়ে তখনই পাশে এসে দাঁড়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। দুর্যোগের দুর্ভোগ প্রশমনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির মাধ্যমে মানুষকে শান্তি ও স্বস্তি দেওয়াই দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য।