মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরান পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে অন্তত ১ কোটি ১৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল চীন-এ পাঠিয়েছে। ট্যাংকার ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে ইরানের সামগ্রিক তেল রপ্তানি কমলেও চীন কৌশলগত মজুত (স্টকপাইলিং) গড়তে এ তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNBC-এর বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান TankerTrackers.com-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান অন্তত ১ কোটি ১৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাঠিয়েছে, যার বেশিরভাগই চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে তারা তেলবাহী জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে থাকে। ফলে কোনো জাহাজ ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দিলেও সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা জাহাজগুলোর ওপর হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পর অনেক জাহাজই তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দেয়। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান Kpler-এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।
কেপলারের ক্রুড বিশ্লেষক নিহয়ে খিন সোয়ে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনই ইরানি অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা। তাই এসব চালানের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত চীনের দিকেই যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা তেলবাহী জাহাজগুলোকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর ইরান থেকে যাত্রা করা ছয়টি তেলবাহী ট্যাংকারের মধ্যে তিনটিই ছিল ইরানের পতাকাবাহী।
ট্যাংকার ট্র্যাকারসের তথ্য অনুযায়ী, একটি ইরানি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোড করা হচ্ছিল। গত পাঁচ বছরে ওই স্থানে এটি মাত্র পঞ্চমবারের মতো তেল লোডিংয়ের ঘটনা। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বোঝা যায় যে তেহরান হরমুজ প্রণালির বাইরে বিকল্প রুট খুঁজে দেখার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ চলাচল করে। তবে গত মাসে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। অনেক তেলবাহী ট্যাংকার এখন নিরাপত্তাজনিত কারণে এই পথ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে।
এদিকে International Maritime Organization-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে অন্তত ১০টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় জাহাজে থাকা অন্তত সাতজন নাবিক নিহত হয়েছেন।