বিশ্ব

সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহারের জন্য ৮৯ মরদেহ ‘বিক্রির’ অভিযোগ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় কর্মস্থলে বসে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা পান মেডিক্যাল কেস ম্যানেজার মরিয়ম ভলপিন। এটি পাঠিয়েছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার (ইউএসসি) একজন শিক্ষানবিশ সাংবাদিক।

জেনিফার নেহরার নামের ওই শিক্ষার্থী (শিক্ষানবিশ সাংবাদিক) একটি অনুসন্ধানী দলের সদস্য ছিলেন। দলটি একটি গুরুতর অভিযোগের তদন্ত করছিল। অভিযোগটি হলো, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা মরদেহগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এমনকি এর মধ্যে কিছু মরদেহ ইসরায়েলি সামরিক সার্জনদের হাতেও পৌঁছে থাকতে পারে।

মরিয়ম ভলপিন আল-জাজিরাকে বলেন, ‘খবরটি শুনে আমার পেট মোচড় দিয়ে উঠেছিল এবং আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছিলাম।’

২০২১ সালে মরিয়মের ১০১ বছর বয়সী মা জ্যানেট মারা যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিমানবাহিনীর নার্স হিসেবে সেবা দেওয়া জ্যানেট মৃত্যুর আগে নিজের শরীর ইউএসসিতে দান করার ব্যবস্থা করে গিয়েছিলেন।

মরিয়ম ভলপিন এখন আশঙ্কা করছেন, তাঁর মায়ের মরদেহও হয়তো ইসরায়েলি সামরিক শল্যচিকিৎসক (সার্জন) দলের প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের চালানো নৃশংস যুদ্ধের মতো সংঘাতে ব্যবহারের জন্যই দেশটিকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
আল-জাজিরার ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘ডাইরেক্ট ফ্রম’ মরিয়ম ভলপিনসহ এমন আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। পরিবারগুলো এখন শঙ্কিত যে তাদের প্রিয়জনদের মরদেহের অবশিষ্টাংশ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না।

২০২৫ সালে যে শিক্ষানবিস সাংবাদিকেরা এ চাঞ্চল্যকর খবরটি সবার সামনে এনেছিলেন, ‘ডাইরেক্ট ফ্রম’ তাঁদের সঙ্গেও দেখা করেছে। দলটির লক্ষ্য ছিল, এই অনুসন্ধানকে আরও এগিয়ে নেওয়া।
ওই শিক্ষানবিশ সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মার্কিন নৌবাহিনীর মাধ্যমে ইসরায়েলি শল্যচিকিৎসক দলগুলোর জন্য মৃতদেহ সরবরাহ করেছিল। ইউএসসি ছিল এগুলোর একটি।
নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে ইউএসসি মার্কিন নৌবাহিনী ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণের চুক্তি বাস্তবায়নে কমপক্ষে ৮৯টি তাজা মরদেহ সরবরাহ করেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এ প্রশিক্ষণসংক্রান্ত উন্মুক্ত তথ্য বেশ সীমিত। তবে ২০২০ সালে ইউএসসি ও মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশিক্ষকদের লেখা একটি চিকিৎসাসংক্রান্ত গবেষণা প্রবন্ধ থেকে এ প্রক্রিয়ার ভেতরের এক বিরল চিত্র পাওয়া যায়।

লাশের ‘পুনরুজ্জীবন’

ওই গবেষণা প্রবন্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ‘ফরোয়ার্ড সার্জিক্যাল টিম’–এর জন্য চার দিনের একটি ‘কমব্যাট ট্রমা সার্জারি স্কিলস কোর্স’ বা যুদ্ধকালীন আঘাতজনিত শল্যচিকিৎসা কোর্সের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এ বিশেষ দলগুলো সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে একেবারে সম্মুখভাগে কাজ করে থাকে।

প্রশিক্ষণ চলাকালে পারফিউশন নামের এক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা মৃতদেহগুলো কৃত্রিম উপায়ে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করা হয়েছিল।

রক্তপাত ও বোমার আঘাতের কৃত্রিম রূপ

ওই প্রক্রিয়ায় মৃতদেহের মধ্য দিয়ে কৃত্রিম রক্ত পাম্প করা হয়। এর ফলে মরদেহগুলো যতটা সম্ভব জীবন্ত মানুষের মতো দেখায়। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের শরীর থেকে যেভাবে রক্ত ঝরে, ঠিক সেই পরিস্থিতিরই একটি কৃত্রিম রূপ তৈরি করা হয় এর মাধ্যমে।

গবেষণা প্রবন্ধটিতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের যুদ্ধকালীন কৃত্রিম আঘাতের ওপর দেওয়া প্রশিক্ষণের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। এর মধ্যে ছিল বুকে ও পায়ে গুলির আঘাত এবং ঘরে তৈরি বোমা বা আইইডির বিস্ফোরণে মুখ ও ঘাড় ক্ষতবিক্ষত হওয়ার মতো পরিস্থিতি। মরদেহগুলোর ওপর ঠিক কী ধরনের আঘাতের দৃশ্য কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও ইউএসসি কোনো সাড়া দেয়নি।

এদিকে মার্কিন নৌবাহিনী আল–জাজিরাকে জানিয়েছে, কৃত্রিম আঘাতগুলো ‘শল্যচিকিৎসাসংক্রান্ত’ কৌশলের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল।

মার্কিন নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এ প্রশিক্ষণ চলাকালে অভিজ্ঞ ট্রমা সার্জনরা শল্যচিকিৎসার যন্ত্রপাতির সাহায্যে জটিল আঘাতের ধরনগুলো তৈরি করেন। এর উদ্দেশ্য হলো, অত্যন্ত নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত একটি প্রশিক্ষণের পরিবেশ তৈরি করা।’

তবে বেশ কয়েকজন ট্রমা সার্জন বলেছেন, কৃত্রিম রক্ত সঞ্চালিত মরদেহগুলো সাধারণত অত্যন্ত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। বেশির ভাগ সাধারণ শল্যচিকিৎসা কার্যক্রমে এ পদ্ধতির ব্যবহার সচরাচর দেখা যায় না।

যেভাবে মরদেহ সংগ্রহ

সামরিক চুক্তিগুলো নিয়ে সম্প্রতি জনমনে আগ্রহ ও উদ্বেগ বাড়লেও এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রায় এক দশক ধরে চলছে বলে জানা গেছে।

ফেডারেল চুক্তিগুলো থেকে দেখা যায়, ২০১৮ সাল থেকে ইউএসসি ইসরায়েলি সামরিক কর্মসূচির জন্য মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে মরদেহ বিক্রি করে আসছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক চিকিৎসকেরা ই

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
১৭ হাজার কোটি রুপির ড্রোন কিনে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের মধ্যে এবার দেশীয় শিল্প থেকে ২ বিলিয়ন ডলার বা ১৭ হাজার কোটি রুপিরও বেশি মূল্যের সামরিক ড্রোন কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি হবে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ড্রোন ক্রয় কর্মসূচি।   সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা শিল্প সংগঠন ড্রোন ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (ডিএফআই) সভাপতি স্মিত শাহ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নতুন ক্রয় পরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে এসব ড্রোন সরবরাহ করা হতে পারে। বর্তমানে ভারত সরকার প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন রুপি মূল্যের ট্যাকটিক্যাল শ্রেণির ড্রোনের অর্ডার দিয়েছে। তবে পরবর্তী ধাপে সেই পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়িয়ে ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ড্রোন কেনা হতে পারে। স্মিত শাহ বলেন, ভারতে পরবর্তী পর্যায়ের ট্যাকটিক্যাল ড্রোন সংগ্রহের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে। জরুরি সামরিক প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত ক্রয় প্রক্রিয়ার আওতায় নতুন এই অর্ডার দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে ড্রোন সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। তবে সম্ভাব্য এই ক্রয় পরিকল্পনা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ভারতের এই উদ্যোগের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘটিত সামরিক উত্তেজনাকে। সেই সংঘাতে প্রথমবারের মতো দুই দেশই ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করে। এতে তুলনামূলক কম খরচের ড্রোনের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা নতুনভাবে সামনে আসে। এ ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতও বিশ্বব্যাপী ড্রোন ব্যবহারের প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং যুদ্ধের কৌশলেও বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি বছরের মার্চে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২ দশমিক ৩৮ ট্রিলিয়ন রুপি মূল্যের পরিবহন বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং সশস্ত্র ড্রোন কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। যদিও সেখানে ড্রোন খাতে কত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইজি ডিফেন্সের কর্মকর্তা এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র পাধি বলেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম উপাদান। তিনি বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী জরুরি ও দ্রুতগতির ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব বড় পরিসরে ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করার পথে এগোচ্ছে। বর্তমানে ভারতে ৬০০-এরও বেশি প্রতিষ্ঠান ড্রোন ও ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদন করছে। এর মধ্যে শতাধিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রতিরক্ষা খাতের জন্য কাজ করছে। এই খাতে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে আদানি গ্রুপ, লারসেন অ্যান্ড টুবরো এবং টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস। একই সঙ্গে আইডিয়াফোর্জ, নিউস্পেস রিসার্চ ও অ্যাস্টেরিয়া অ্যারোস্পেসের মতো স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানও দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো নজরদারি ড্রোন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ড্রোন, লয়টারিং মিউনিশন, নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ড্রোন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরিতে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভারতের সামরিক পরিকল্পনায় ড্রোনকে কেন্দ্রীয় অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে ড্রোনভিত্তিক সামরিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র : রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সব কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা

ছবি : সংগৃহীত

জুলাইয়ে নিহতের সংখ্যা নিয়ে আ.লীগের প্রশ্নের জবাব দিল জাতিসংঘ

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ দখল নিতে চাওয়া খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলা

ছবি : সংগৃহীত
কুয়েত বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা ভারতের

নিহত ভারতীয়কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হওয়ায় গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছে ভারত। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের শুরু থেকেই বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোতে হামলার বিরোধিতা করে আসছে ভারত।   তারা অবিলম্বে এ ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।এ ঘটনায় আহত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তায় কুয়েতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা ভারতীয় মিশনগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।এর আগে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভোরে ইরানের হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি কূটনৈতিক স্থাপনাও ক্ষতির মুখে পড়েছে।হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কুয়েত বলেছে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।   এদিকে ইরানের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আংশিকভাবে আবারও চালু হয়েছে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল বন্ধ থাকলেও বিকল্প টার্মিনাল থেকে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। তবে আপাতত অন্যান্য এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালু হয়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহারের জন্য ৮৯ মরদেহ ‘বিক্রির’ অভিযোগ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে

ছবি : সংগৃহীত

সৌদির মরুভূমিতে সুখবর, শত বছর পর জন্ম নিল বিরল বুনো গাধা

ছবি : সংগৃহীত

ইরান পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, ইতিবাচক ফলের আশা ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত
খামেনির দাফনে ২ কোটি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানী তেহরানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। এ কারণে নগর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, পরিবহন ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছে। তেহরানের পাশাপাশি কোম ও মাশহাদেও বড় পরিসরে স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। খামেনির স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে সতর্কতা জারি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার দায় কুয়েত ও বাহরাইনেরও আছে : ইরান

ছবি : সংগৃহীত

সংঘাতের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

0 Comments