রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদের আসন ছাড়ার পর তার জায়গায় বসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিষয়টি বিএনপির ভেতরে-বাইরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে নতুন আসনবিন্যাসে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনটি পেয়েছেন তিনি। এতদিন ওই আসনে বসতেন মির্জা ফখরুল।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে, সংসদের প্রথম সারিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটি শুধু বসার জায়গা নয়, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্বের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
যদিও এটি সংসদের নিয়মিত আসনবিন্যাসের অংশ, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে এর মধ্যে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি প্রতীকী বার্তাও দেখছেন।
প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কেবল নিয়মিত আসন পুনর্বিন্যাস, নাকি সংসদে সালাহউদ্দিন আহমদকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আনার কোনো প্রস্তুতি? এর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে জাতীয় সংসদের উপনেতা পদটি।
এত দিন সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনে বসতেন বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পরের চেয়ারে বসতেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর পরে ছিল সালাহউদ্দিনের সিট।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। একই সঙ্গে তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন বিন্যাসে মির্জা ফখরুল ইসলামের আসনে উঠে এসেছেন সালাহউদ্দিন। তার পরের আসনে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর পরের আসনে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সালাহউদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে তার রাজনৈতিক ও সরকারি অবস্থানের কারণেও। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। তা ছাড়া দলের সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে তার নামও আলোচনায় রয়েছে।
সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এই নেতাকে সংসদীয় কার্যক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আনার চিন্তা আছে কিনা, সে আলোচনা জোরালো হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদ উপনেতা করার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা হয়নি। জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইটে ত্রয়োদশ সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর তালিকাতেও বর্তমানে সংসদ উপনেতার নাম নেই। সেখানে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, দলের হাইকমান্ড একে একে সব দায়িত্বপূর্ণ পদে শীর্ষ নেতাদের বসালেও কৌশলগত কারণে সংসদ উপনেতার পদটি এখনও পূরণ করেনি। ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার পুনর্গঠনসহ সব জায়গা ঢেলে সাজানো হয়েছে। সংসদের ভেতরে থাকা মোটামুটি সব সিনিয়র নেতাকেই বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে বসানো হয়েছে।
স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপসহ সব পদ পূরণ হয়েছে। শুধু বাকি রয়েছে সংসদ উপনেতার পদটি। তবে এ পদে কাকে বসানো হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
এর মধ্যে স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এখনও কোনও পদ দেওয়া হয়নি। কারও কারও ধারণা, হয়তো তাকেও এখানে দেখা যেতে পারে।
আবার বিগত দিনে সংসদে বিরোধী দলকে মোকাবিলায় সালাহউদ্দিন আহমদের ভূমিকায় ক্ষমতাসীন দলের অধিকাংশ সংসদ সদস্য খুশি। বিশেষ করে আইনগত বিষয়ে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ ও বাগ্মিতার কারণে তাকে নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দেখে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। তাই সংসদে তার পক্ষে অনেক ব্যাখ্যা সালাহউদ্দিন আহমদকেই দিতে হয়। আগামীতে হয়তো সংসদ উপনেতার পদে তাকেই দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন নেতারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। এটি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার এখতিয়ার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে জ্বালানি, কৃষি, সার, বস্ত্র, বাণিজ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতাসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাক্ষরের নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে এ-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে আলজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে জ্বালানি শোধনাগার নির্মাণ, এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতেও সহযোগিতার আগ্রহ জানিয়েছে আলজেরিয়া। দেশটির আলজেরিয়ান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের কর্মসূচি চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষি খাতের চাহিদা মেটাতে সার আমদানির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া আলজেরিয়ার বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আগ্রহ জানান আহমেদ আত্তাফ। ওষুধ, চামড়া ও বস্ত্র খাতেও বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, দুই দেশের পরবর্তী পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের আলোচনা শিগগিরই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি বলছে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রায় সম্পন্ন প্রকল্পটি বাতিল না করে অবশিষ্ট কাজ শেষ করে দ্রুত চালু করা উচিত। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানিয়েছে আইপিডি। এতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ যানজট, যাতায়াতে দুর্ভোগ, সময়ের অপচয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এখন প্রকল্পটি বাতিল করা হলে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। আইপিডির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সংস্কার ও নকশাগত ত্রুটি সংশোধনের উদ্যোগ না নিয়ে প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার ও গণপরিবহনবান্ধব পরিকল্পনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে মনে করে সংস্থাটি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইপিডি বলেছে, একদিকে সরকার ঢাকায় বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিংয়ের মাধ্যমে বাসভিত্তিক গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রায় সম্পন্ন একটি বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এ দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে নীতিগত বৈপরীত্য রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, আরো প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হতে পারে। তুলনামূলক কম বিনিয়োগে চালু করা সম্ভব এমন একটি গণপরিবহন প্রকল্প বাতিলের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আইপিডি। বিজ্ঞপ্তিতে পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণ নিয়ে নাগরিকদের প্রতিবাদের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। আইপিডির মতে, এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে সামগ্রিক জনস্বার্থ, পরিকল্পনা ও পরিবেশগত বিবেচনার গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থাটির অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনস্বার্থের পরিবর্তে বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। বিআরটি প্রকল্পের নকশা, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনায় যেসব ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো নিরপেক্ষ কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে চিহ্নিত করে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে আইপিডি। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, দীর্ঘসূত্রতা ও জনদুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের অপচয় ও দীর্ঘসূত্রতার জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্পের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান না করে সেটি বাতিল করা হলে ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্পেও অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দায় এড়ানোর প্রবণতা তৈরি হতে পারে। প্রকল্পটি চালুর জন্য পাঁচটি সুপারিশ করেছে আইপিডি। এগুলো হলো— প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন ও নকশাগত ত্রুটি সংশোধন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চালুর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এ ছাড়া ঢাকা-গাজীপুর করিডরে বিআরটি, কমিউটার রেল, পদচারীবান্ধব অবকাঠামো ও অন্যান্য পরিবহনব্যবস্থার মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। আইপিডির মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্মিত অবকাঠামো পরিত্যক্ত বা অকার্যকর অবস্থায় ফেলে রাখা উচিত নয়। প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে এসব অবকাঠামোর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। গাজীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমানো এবং গণপরিবহনভিত্তিক টেকসই নগরায়ণের স্বার্থে বিআরটি প্রকল্পটি চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে ইচ্ছুক রোগীরা যাতে সহজে ভিসা পান, সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের সম্মেলনকক্ষে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ইমক্যাব) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা বলেন হাইকমিশনার। ইমক্যাবের সভাপতি শাহীন চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহসহ নির্বাহী কমিটির ১০ জন সদস্য অংশ নেন। সাক্ষাতে ভারতীয় ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরেন ইমক্যাবের প্রতিনিধিরা। জবাবে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভিসা পেতে ভোগান্তির বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে ইচ্ছুক রোগীদের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হাইকমিশনার বলেন, অনলাইনে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার পর সরাসরি আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্লট পেতে কেন দেরি হচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করছে ভারতীয় হাইকমিশন। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যাতায়াত যত বাড়বে, পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সম্পর্কও তত গভীর হবে। সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার ইমক্যাবের সদস্যদের ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেন। প্রতিনিধিদলে আরো উপস্থিত ছিলেন বাসুদেব ধর, কুদ্দুস আফ্রাদ, মীর আফরোজ জামান, আবু আলী, আমিনুল হক ভূঁইয়া, নির্মল চক্রবর্তী, জাকির হোসেন ও মনির হোসেন। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব গোকুল ভিকে উপস্থিত ছিলেন।