বিশ্ব

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২১, আহত ৪৫

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত এবং আরও ৪৫ জন আহত হয়েছেন। হামলাটি গতকাল বৃহস্পতিবার চালানো হয়।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সেবা সংস্থাটি শুক্রবার ভোরে জানায়, মস্কোর অব্যাহত আগ্রাসন থামার যে সামান্য আশা ছিল, এই হামলার ফলে তা আরও ক্ষীণ হয়ে গেছে।

রাজধানীতে থাকা এএফপি সাংবাদিকরা জানান, বৃহস্পতিবার কিয়েভজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ ও আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এতে নগরবাসী মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, কিয়েভকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ৬৭৫টি ড্রোন এবং ৫৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৬৫২টি ড্রোন এবং ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।

কিয়েভের বাসিন্দা আন্দ্রিই এএফপিকে বলেন, ‘চারপাশে সবকিছু আগুনে পুড়ছিল। মানুষ আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে দৌড়াচ্ছিল।’

তিনি একটি ধসে পড়া সোভিয়েত আমলের আবাসিক ভবনের পাশে দাঁড়িয়ে এ বর্ণনা দেন। তার শার্টে রক্তের দাগ দেখা যায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাজধানীর অন্তত ২০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, একটি স্কুল, একটি ভেটেরিনারি ক্লিনিক এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো রয়েছে।

সন্ধ্যায় দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত ভবনটির স্থানে এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি আবাসিক ভবনের প্রথম তলা থেকে নবম তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।’

ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ শুক্রবার ভোরে জানায়, হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে নিহতের সংখ্যা ১৬ জন বলা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং একজন কিশোরী রয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

১৪ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

পর্দার নায়ক যেন এবার আসল জীবনের নায়ক। দক্ষিণের জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয় রাজনীতির ময়দানে নেমেও একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন। চলতি বছরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পরই কৃষকদের জন্য দিলেন বড় সুখবর।   ঋণের বোঝায় জর্জরিত কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে ঘোষণা করলেন প্রায় ১৪ লাখ ৪৪ হাজার কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফের। শুধু তাই নয়, আগে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের যে সীমা ছিল, তা বাড়িয়ে ৭৫ হাজার রুপি করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   সোমবার (১৭ আগস্ট) ভারতের বিধানসভায় ১১০ নম্বর বিধির আওতায় এই ঘোষণা দেন বিজয়। তার নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ১০০ দিন পূর্তির দিনেই কৃষকদের জন্য আসে এই সুখবর।   নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ রুপি পর্যন্ত কৃষিঋণ নেওয়া ২ লাখ ৩৮ হাজার ২৬৪ জন কৃষক অতিরিক্ত ঋণ মওকুফের সুবিধা পাবেন। আগে যারা ঋণ মওকুফের সুবিধা পেয়েছেন, তাদের অনেকেই এবার অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৪০ হাজার রুপি পর্যন্ত মওকুফের সুযোগ পাবেন।   এই অতিরিক্ত ঋণ মওকুফ বাস্তবায়নে তামিলনাড়ু সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ৯৫৩ কোটি ৬ লাখ রুপি।   সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ ৪৪ হাজার কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসবেন। তাঁদের জন্য সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ৬ হাজার ২২০ কোটি রুপি।   কৃষকদের বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ জুন ঋণ মওকুফের নিয়ম সংশোধনের জন্য আদেশ জারি করা হয়েছিল বলেও জানান বিজয়। কৃষকদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তামিলনাড়ুর কৃষকদের কল্যাণেই আমাদের কল্যাণ।’ কৃষকদের স্বার্থে সরকার এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।   এর আগে কৃষিঋণ মওকুফের অর্থ কয়েক বছর ধরে সমবায় ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করত সরকার। ২০২১ সালের কৃষিঋণ মওকুফের অর্থও ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১২ কিস্তিতে সমবায় ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়েছে।   তবে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের ২০২৫ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন ঋণ মওকুফের পুরো অর্থ ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সমবায় ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করতে হবে। নতুন সিদ্ধান্তে তাই কৃষকদের পাশাপাশি সরকারের ওপরও তৈরি হয়েছে বড় আর্থিক দায়।   পর্দায় নায়ক হিসেবে দর্শকের মন জয় করার পর এবার রাজনীতির মঞ্চেও কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই ‘নায়ক’ পরিচয়ই যেন নতুন করে তুলে ধরছেন বিজয়। কৃষকের ঋণের বোঝা কমিয়ে তাদের ঘরে স্বস্তি ফেরানোই এখন তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।   দ্য হিন্দু ও হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৮, ২০২৬

সরকার ছয় মাসে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি: জামায়াত

ছবি: সংগৃহীত

৯০ শতাংশ ইউরোপীয় বিদেশে থাকতে চান, পছন্দের শীর্ষে স্পেন

ছবি: সংগৃহীত

গাজায় যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে চিড়িয়াখানায়

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলায় ব্রিটিশ ড্রোন, চটল মস্কো

রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলায় ব্রিটিশ ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ তুলে যুক্তরাজ্যকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো। রুশ দূতাবাস বলেছে, ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করে যুক্তরাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত আরও বাড়াচ্ছে। এর জন্য লন্ডনকে ‘মূল্য দিতে হবে’।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমসের এক প্রতিবেদনের পর সোমবার এ প্রতিক্রিয়া জানায় লন্ডনে রুশ দূতাবাস।   সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার হামলায় ব্রিটেনের দুটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের কয়েকটি সামরিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার শিল্প ও সামরিক স্থাপনায় এসব ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ভলগোগ্রাদ ও ইয়ারোস্লাভলের তেল শোধনাগারও রয়েছে।   রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, একদিকে ব্রিটেন শান্তির কথা বলছে, অন্যদিকে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যুদ্ধ আরও তীব্র করছে। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে লন্ডন ইউক্রেনের হামলার সহযোগী হয়ে উঠছে।   রুশ দূতাবাস আরও জানিয়েছে, সংঘাতে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা যত বাড়বে, যুক্তরাজ্যকে এর ‘মূল্য’ তত বেশি দিতে হবে।   ২০২২ সালে ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর থেকেই কিয়েভের অন্যতম প্রধান সামরিক সহায়তাকারী দেশ ব্রিটেন। গত জুনে লন্ডন জানিয়েছিল, বছরের শেষ নাগাদ ইউক্রেনকে ১ লাখ ৫০ হাজার ড্রোন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   এর আগে ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এসব অস্ত্র রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে মস্কো অভিযোগ করে আসছে।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা বেড়েছে। মস্কোর দাবি, এসব হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো, আবাসিক এলাকা ও অন্যান্য স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের সামরিক ও শিল্প স্থাপনা, সরবরাহব্যবস্থা এবং সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। সূত্র: আরটি

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের সামরিক শক্তি বাড়ছে, উদ্বিগ্ন চীন

ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনৈতিক সংকটে ইরান, ১৯ আগস্ট পেট্রোল বিক্রি শুরু

পবিত্র কাবা শরিফ।
হজযাত্রীদের নিরাপত্তায় নতুন আবাসন নীতি অনুমোদন দিল সৌদি আরব

২০২৭ সালের পবিত্র হজকে সামনে রেখে আগত হজযাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থাপনায় নতুন বিধিমালা ও শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ডের অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত আবাসন স্থাপনাগুলোর সম্ভাব্য লঙ্ঘন ও অনিয়মের একটি তালিকাও অনুমোদন করা হয়েছে।       মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসর আল আনসারি বলেন, নতুন পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো নিয়ন্ত্রক ও পরিচালন কাঠামো আরও শক্তিশালী করা, আবাসনসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি বাড়ানো এবং হজযাত্রীদের গ্রহণের আগে সেগুলো নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করছে কি না তা নিশ্চিত করা।       নতুন মানদণ্ডে পরিচালনাগত প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের মান, জরুরি ও প্রয়োজনীয় সেবার ধারাবাহিকতা এবং পরিচালনাসংক্রান্ত বিধি মেনে চলার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আবাসন নিশ্চিত করা।       নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী, হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের আবাসন সুবিধাগুলোকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে- ইকোনমি ও ফার্স্ট ক্লাস। প্রতিটি শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড ও শর্ত প্রযোজ্য হবে।     নতুন বিধিমালায় আবাসন প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ব্যবহার্য স্থান, অতিথিকক্ষ, অভ্যর্থনা এলাকা, পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অতিথিসেবার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিদর্শন ও তদারকির জন্য একাধিক ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্স দেওয়ার আগে, আবাসন প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরুর আগে এবং কার্যক্রম চলাকালে নিয়মিত পরিদর্শন থাকবে।     মন্ত্রণালয় বলেছে, হজযাত্রীদের আতিথেয়তা দেওয়া শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি যৌথ জাতীয় দায়িত্ব। নতুন মানদণ্ডের মাধ্যমে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এটি হজযাত্রীদের সেবায় সৌদি আরবের অঙ্গীকারও প্রতিফলিত করবে।     ২০২৭ সালের হজ মৌসুমের জন্য লাইসেন্স নিতে আগ্রহী আবাসনসেবা পরিচালনাকারীদের দ্রুত নতুন শর্ত পূরণের কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সব রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৭, ২০২৬
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। ছবি : আইআরএনএ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আইআরজিসির গোপন আলোচনার খবর অস্বীকার করল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের ৬ মাস: রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের ইতিবাচক চেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

0 Comments