ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত এবং আরও ৪৫ জন আহত হয়েছেন। হামলাটি গতকাল বৃহস্পতিবার চালানো হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সেবা সংস্থাটি শুক্রবার ভোরে জানায়, মস্কোর অব্যাহত আগ্রাসন থামার যে সামান্য আশা ছিল, এই হামলার ফলে তা আরও ক্ষীণ হয়ে গেছে।
রাজধানীতে থাকা এএফপি সাংবাদিকরা জানান, বৃহস্পতিবার কিয়েভজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ ও আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এতে নগরবাসী মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, কিয়েভকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ৬৭৫টি ড্রোন এবং ৫৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৬৫২টি ড্রোন এবং ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
কিয়েভের বাসিন্দা আন্দ্রিই এএফপিকে বলেন, ‘চারপাশে সবকিছু আগুনে পুড়ছিল। মানুষ আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে দৌড়াচ্ছিল।’
তিনি একটি ধসে পড়া সোভিয়েত আমলের আবাসিক ভবনের পাশে দাঁড়িয়ে এ বর্ণনা দেন। তার শার্টে রক্তের দাগ দেখা যায়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাজধানীর অন্তত ২০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, একটি স্কুল, একটি ভেটেরিনারি ক্লিনিক এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো রয়েছে।
সন্ধ্যায় দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত ভবনটির স্থানে এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি আবাসিক ভবনের প্রথম তলা থেকে নবম তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।’
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ শুক্রবার ভোরে জানায়, হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে নিহতের সংখ্যা ১৬ জন বলা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং একজন কিশোরী রয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রাশিয়ার সেনাদের জন্য চীনের একটি গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গত বছর অনুমোদন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এ কর্মসূচিতে অন্তত চারজন রুশ ও চীনা জেনারেল সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে দুই ইউরোপীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ–সম্পর্কিত এই প্রশিক্ষণে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা রাশিয়া-চীন সামরিক সহযোগিতার গুরুত্বকে স্পষ্ট করে। বিষয়টি ইউরোপে উদ্বেগ তৈরি করলেও, বেইজিং এমন কোনো প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি গোপন রুশ নথিতে ২০২৫ সালের আগস্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলৌসভের জারি করা একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনার তথ্য উঠে এসেছে। নথিতে বলা হয়েছে, বেলৌসভের অনুমোদনের পর রুশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রশিক্ষণ নিতে দেশটি সফর করে। তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জৈবিক যুদ্ধবিষয়ক প্রশিক্ষণ নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত নভেম্বরে বেইজিংয়ের একটি সামরিক স্থাপনায় তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জৈবিক সুরক্ষা বিষয়ে তিন সপ্তাহের একটি প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রতিবেদন এবং আরেকটি নথিতে দেখা যায়, রুশ সেনারা চীনা প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে পাঠ নেন, একটি মডেল পারমাণবিক চুল্লি পরিদর্শন করেন এবং রাসায়নিক গোয়েন্দা কার্যক্রম, তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকরণ ও দূষণের মধ্যে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখার কৌশল শেখেন। এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, তেজস্ক্রিয়, জৈবিক ও রাসায়নিক যুদ্ধবিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ সামরিক বিনিময়ের কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের প্রশিক্ষণ সামরিক বাহিনীর জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলেও রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া দেয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইউক্রেন সংকট নিয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’ বেইজিং বরাবরের মতোই দাবি করেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে তারা নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং শান্তি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। গত মাসে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক নথির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, গত নভেম্বরে চীন প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দেয়, যাদের মধ্যে কেউ কেউ পরে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেন। ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে ক্রেমলিন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও পশ্চিমা গণমাধ্যমে ‘ভুল তথ্য’ প্রচারের অভিযোগ তোলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস ১৫ জুন বলেন, ব্রাসেলস নিজস্ব সূত্রে এ প্রশিক্ষণের তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং এখন এর প্রভাব মূল্যায়ন করছে। বেইজিং তার এ মন্তব্যকে ‘নিরেট অপপ্রচার’ বলে অভিহিত করেছে। যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় দুই দেশের পার্থক্য ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে রাশিয়া ব্যাপক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত ও বিশাল সামরিক শক্তির অধিকারী হলেও চীন কয়েক দশক ধরে কোনো যুদ্ধে অংশ নেয়নি। রয়টার্সের হাতে আসা রুশ সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই তুলে ধরা হয়েছে। নানজিংয়ে অনুষ্ঠিত একটি প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতিবেদনে ব্যবহৃত সরঞ্জামের মান, সিমুলেটরের ব্যবহার এবং প্রশিক্ষকদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রশংসা করা হয়েছে। তবে একইসঙ্গে চীনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাবও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য নথিতে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তিন জেনারেলের নামও রয়েছে। রয়টার্সের দেখা একটি রুশ সামরিক নথিতে অংশগ্রহণকারীদের নাম, পদমর্যাদা, জন্মতারিখ, ইউনিট এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্রের স্তর পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, রাশিয়ার স্থলবাহিনীর উপপ্রধান কর্নেল জেনারেল রুস্তাম মুরাদভ রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এতে আরও বলা হয়েছে, পিএলএর তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জৈবিক প্রতিরক্ষা একাডেমির প্রধান মেজর জেনারেল লি জিনসুন একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া তালিকা অনুযায়ী, রুশ মেজর জেনারেল ভিটালি গেরাসিমভ বেনবুতে অনুষ্ঠিত আরেকটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেন।
কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়া ভারতের গুজরাটে তিনটি মসজিদ ও কয়েকটি মাজার ভেঙে ফেলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেট সোমবার (৩০ জুন) এক প্রতেবেদনে জানায়, গুজরাটের কুচ বিভাগে সবমিলিয়ে ৩০টি অবকাঠামো ভাঙা হয়। যারমধ্যে তিনটি মসজিদ ও মাজার রয়েছে। জমিয়ত ই-উলামা হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল এ ঘটনার পর কুচ বিভাগে যায়। এই প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাশমী। তিনি বলেছেন, কেন কোনো নোটিশ ছাড়া মসজিদগুলো ভেঙে ফেলা হলো সেটির কোনো উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাননি। ভেঙে ফেলার মধ্যে রয়েছে জুনা কান্দলা মসজিদ। এ মসজিদের খাদেম জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই মসজিদটি এসে ভেঙে ফেলা হয়। যদি ওই সময় বাধা দেওয়া হতো তাহলে তাদের আটক করা হতো। এই মসজিদটি ১৯৬৫ সাল থেকে ওয়াকফ রেজিস্টি করা। সুন্দর নির্মাণশৈলীর কারণে মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে বেশ পরিচিত ছিল। মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার বলেছেন, তারা মসজিদ ভাঙার সময় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং মসজিদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। এরবদলে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়। ভেঙে ফেলার মধ্যে আদিপুরের আরেকটি মসজিদ আছে। এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে ৩০টি অবকাঠামো ভাঙা হয়েছে। যারমধ্যে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক আর দুটি আবাসিক স্থাপনা রয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আর্মেনীয়দের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছে আজারবাইজান। সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য 'গভীর উদ্বেগের' বিষয়। একই সঙ্গে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। রবিবার (২৮ জুন) ইসরায়েল সরকার ঘোষণা দেয়, ১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনামলে আর্মেনীয়দের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এই সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক তুরস্কের প্রতি ইসরায়েলের একটি রাজনৈতিক বার্তা বা জবাব হিসেবে দেখছেন। কারণ, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তুরস্কের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তুরস্ক নিয়মিত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ তুলছে। যদিও ইসরায়েল এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে আসছে। আজারবাইজান ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা রয়েছে। তবে আজারবাইজানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ তুরস্ক। তাই ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আজারবাইজানের অস্বস্তি প্রকাশ্যেই সামনে এসেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষের মধ্যে পুনর্মিলন বা পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সাহায্য করবে না। বরং অতীতের বিভাজন আরো গভীর করে এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করবে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আজারবাইজান ইসরায়েল সরকারকে তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই আর্মেনিয়া আন্তর্জাতিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। দেশটির দাবি, ১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনামলে প্রায় ১৫ লাখ আর্মেনীয় নিহত হন। তাদের মতে, এটি ছিল পরিকল্পিত গণহত্যা। তবে তুরস্ক এই অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘাত, দুর্ভিক্ষ ও সহিংসতায় আর্মেনীয় ও তুর্কি- উভয় পক্ষেরই কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। তাই ঘটনাটিকে গণহত্যা বলা সঠিক নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিশ্বের দুই ডজনের বেশি দেশ এই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এতদিন ইসরায়েলের সরকারগুলো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত ছিল। কারণ, তারা তুরস্কের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছিল। এক সময় তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল। এদিকে, কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে কয়েক দশক ধরে সংঘাত চলছে। আজারবাইজানের এই অঞ্চলটি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।