সারাদেশ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার্জ গঠনের শুনানি আজ, শুরু হতে পারে আনুষ্ঠানিক বিচার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন শুনানি সোমবার (১ জুন) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন আদালত।

 

ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত গত ২৪ মে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ দিন শুনানির তারিখ ধার্য করেন।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে কি-না, সে বিষয়ে আজ আদালতে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

 

এর আগে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া। পরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয় বলে জানা গেছে।

 

এর আগে গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

 

ঘটনার পর স্বপ্না আক্তারকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে।

 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সোহেল রানা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
স্বস্তিদায়ক সেবা, তবু পিংক বাসে যাত্রী সংকট

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা। রাজধানীর তালতলা মার্কেটের পাশে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে একটি পিংক বাস। ১০ মিনিট পর মাত্র একজন যাত্রী নিয়েই ছাড়ল বাসটি। মতিঝিল পর্যন্ত পথে যাত্রী বাড়ল বটে; তবু ফাঁকা ছিল অধিকাংশ সিট। এদিন একই চিত্র দেখা যায় ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে ছেড়ে আসা গুলিস্তান অভিমুখী পিংক বাসেও। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারের চালু করা এই বিশেষ বাসসেবা এখনো আশানুরূপ সাড়া পায়নি। যদিও বাসসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রুট ও বাসের সংখ্যা কম হওয়া এবং সড়কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই আশানুরূপ যাত্রী মিলছে না। তবে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে যাতায়াত করতে পেরে সন্তুষ্ট যাত্রীরা; তারা বাসের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।   বাসচালক এস কে ফাহিমা সানজা যুগান্তরকে বলেন, যাত্রী একেবারে নেই, কথাটি সঠিক নয়। আমরা দিনে নির্ধারিত দুটি ট্রিপ দিই। ট্রিপ শেষে যখন বাসটি ডিপোতে ফিরিয়ে নেওয়া হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই বাসে কোনো যাত্রী থাকে না। এই খালি বাস ডিপোতে যাওয়ার সময় যারা দেখেন তারা ভেবে নেন বাসে কোনো যাত্রী উঠছে না। বাস্তবতা হচ্ছে আগের তুলনায় আমাদের যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রাখছে। নারীরা পিংক বাসে চলাচল করছে।   নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে গত ১৮ আগস্ট ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ করপোরেশন (বিআরটিসি)। এদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া জেলায় ১৪টি ‘পিংক বাস’ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। ভোটাধিকারের দিক থেকেও তারা সমান অংশীদার। রাষ্ট্র গঠনে নারীদের অবদান স্মরণীয়। তাদের যোগ্যতাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে গণপরিবহণে নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকেই নারীবান্ধব ও নারী পরিচালিত এই পরিবহণ চালু করা হয়েছে।   বিআরটিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে রাজধানীতে ১৩টি পিংক বাস চলাচল করছে। ১৫ জন নারী চালক ও ২৪ জন হেলপার এ বাস পরিচালনা করছেন। এছাড়াও ৩২ জন নারী চালক ও হেলপার নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অনেককে দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। মূলত বাস পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যাত্রী চাহিদা পর্যালোচনা করে আগামীতে বাসের সংখ্যা ও রুট উভয়ই বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।   রাজধানীর গণপরিবহণে চলাচল করা নারীদের অনেক সময় শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হতে হয়। ফলে অনেকে গণপরিবহণ ছেড়ে ব্যক্তিগত পরিবহণে চলাচল করে। নারীদের এমন হয়রানি নিয়ন্ত্রণ, সুরক্ষা নিশ্চিত ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টও অনেকে।   আমিনা খাতুন নামে এক যাত্রী যুগান্তরকে বলেন, অন্যান্য পাবলিক বাসে হেনস্তার শিকার হতে হয়। বাধ্য হয়ে সিএনজি বা অটোরিকশায় অফিসে যাতায়াত করতাম। এতে আমার অনেক টাকা খচর হতো। এক মাস ধরে পিংক বাসে যাতায়াত করছি। এখানকার পরিবেশ অনেক নিরাপদ ও সুন্দর। আমরা চাই নারীদের জন্য এ বাসের সংখ্যা ও রুট সরকার বৃদ্ধি করুক।   আরেক যাত্রী রাবেয়া যুগান্তরকে বলেন, নারীদের জন্য পৃথক সার্ভিস সত্যিই ভালো উদ্যোগ। তবে একটি রাস্তায় একটি বাস দিলে চলবে না। একাধিক বাস দিতে হবে। তাহলে সব মানুষ এই সেবা গ্রহণ করবে।   পিংক বাসের চালক-হেলপাররা বলছেন, নারী বাস চালু ও বাসের সুফল পেতে খুব বেশি সময় লাগবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই সব নারীকে সেবার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী চালক যুগান্তরকে বলেন, বাস চালাতে বেশি সমস্যা রাস্তার সাধারণ মানুষ। তারা সুযোগ পেলেই খারাপ অঙ্গভঙ্গি করেন। যা ভালোভাবে নিতে পারেন না সাধারণ যাত্রীরা। ফলে অনেকে পিংক বাস এড়িয়ে চলছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

রমনা পার্কের পাশে ফুটপাত থেকে মর‌দেহ উদ্ধার

রংপুরে অযত্নে-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে ৪০০ বছরের মন্দির

পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে একজন নিহত

হা‌নিফ ফ্লাইওভারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন হানিফ ফ্লাইওভারে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় কবির হোসেন (৩২) নামে সোনালী ব্যাংকের এক নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল চালক সুমন মিয়া (২৪)।   বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   ‌নিহ‌তের রুমমেট পবন চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, রাতে হানিফ ফ্লাইওভারে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন।     পরে দুজনকে উদ্ধার করে রাত পৌনে একটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য করিরকে প্রাইভেট হাসপাতালে (প্রাইম হাসপাতাল) নেওয়া হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় পঙ্গু হাসপাতালে। পরে আবার সেখান থেকে শুক্রবার (১৮ সে‌প্টেম্বর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।    সত্যতা নিশ্চিত করে যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান সরকার বলেন, মর‌দেহ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি কাযর্ক্রম চলমান রয়েছে।   মৃত কবিরের বাসা মতিঝিল গোপিবাগ। তার বাবার নাম মো. নূর ইসলাম।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণের চেইনের জন্য বৃদ্ধাকে হত্যা, গ্রেফতার ৩

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেলেন মো. ইদ্রিস মিয়া

পুরনো ধান ফুরিয়ে গেছে, নতুন ধান ঘরে উঠতে এখনো বাকি। এই কঠিন সময়ে মাঠে ‘মঙ্গার ধান’ নামে পরিচিত স্বল্পমেয়াদি আগাম ধানের চারায় দেখা দিয়েছে শীষ। বুধবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের চন্দনের হাট এলাকার একটি ক্ষেতে।
বোরো ও আমনের মাঝে আউশ চাষে ঘুরছে রংপুরের অর্থনীতি

পুরনো ধান ফুরিয়ে গেছে, নতুন ধান ঘরে উঠতে এখনো বাকি। এই কঠিন সময়ে মাঠে ‘মঙ্গার ধান’ নামে পরিচিত স্বল্পমেয়াদি আগাম ধানের চারায় দেখা দিয়েছে শীষ। বুধবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের চন্দনের হাট এলাকার একটি ক্ষেতে। ছবি: কালের কণ্ঠ বোরো ধান ঘরে তোলার পর আমন চাষ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত একসময় রংপুরের কৃষিতে চলত স্থবিরতা। জমির একটি বড় অংশ পড়ে থাকত।       কাজের অপেক্ষায় থাকতে হতো কৃষিশ্রমিকদের। অনেক পরিবারকে পার করতে হতো অভাব-অনটনের সময়। সেই বাস্তবতার সঙ্গেই জড়িয়ে ছিল ‘মঙ্গা’ শব্দটি। সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে।   বোরো ও আমনের মধ্যবর্তী সময়টাও আর পুরোপুরি ফাঁকা থাকছে না। আউশসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদে জমি যেমন রয়েছে উৎপাদনের আওতায়, তেমনি বাড়ছে কৃষিকাজের সুযোগ। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস জানিয়েছে, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী—এই পাঁচ জেলার কৃষিতে আউশ এখন বোরো ও আমনের মধ্যবর্তী সময়কে কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল। কৃষকের আগ্রহ ও চাষের বিস্তারে গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে আউশের আবাদও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য।       কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ অঞ্চলে আউশের আবাদ হয়েছিল ২৪ হাজার ৯৮৮ হেক্টর জমিতে। ওই বছর হেক্টরপ্রতি ফলন ছিল ২ দশমিক ৯৮ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছিল ৭৩ হাজার ৬৫৬ মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে আবাদ হয়েছিল ৪০ হাজার ৬১৮ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে ফলন ছিল ৩ দশমিক ০৪ মেট্রিক টন।       ওই বছর উৎপাদন হয়েছিল এক  লাখ ২৩ হাজার ৪৭৮ মেট্রিকটন।    ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ছিল ৪৭ হাজার ৭৭৬ হেক্টর জমি। প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছিল ৩ দশমিক ১৪ মেট্রিক টন। সেই হিসেবে ১ লাখ ৫০ হাজার ১৬ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৬০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমি। ওই বছর ৩ দশমিক ১০ মেট্রিক টন উৎপাদন হলেও মোট উৎপাদন ছিল এক লাখ ৮৬ হাজার ৮৬৮ মেট্রিক টন। ২০২১-২২ সালে ৬২ হাজার ৯০ হেক্টর, ২০২২-২৩ সালে ৬৩ হাজার ৬৮০ হেক্টর এবং ২০২৩-২৪ সালে ৬১ হাজার ৭৮২ হেক্টর জমিতে আউশ চাষ হয়।        ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬১ হাজার ১৫৭ হেক্টর জমিতে চাষ হয়, উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৮০ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ১৬৩ হেক্টরে। একই সময় হেক্টরপ্রতি ফলন বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ০২ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে মোট উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন।     অর্থাৎ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলে আউশের আবাদ প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরের ওপরেই রয়েছে। গত ৯  বছরের ব্যবধানে আউশের আবাদ বেড়েছে ৩৬ হাজার ১৭৫ হেক্টর। আবাদ বাড়ার পাশাপাশি ফলনেও এসেছে বড় উন্নতি।       কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রি-৪৮, ব্রি ৯৮, বিনা-২১,ধানী গোল্ড, গোল্ডেন-১, জনকরাজসহ অন্তত ৩০ ধরনের আউশ ধান চাষ হচ্ছে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায়।       সরেজমিন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলে এক সময় ‘মঙ্গা’ শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কাজের অভাব ও খাদ্যসংকটের দীর্ঘ ইতিহাস। বোরো ধান কাটার পর আমন চাষ শুরুর আগ পর্যন্ত কৃষিশ্রমিকদের হাতে কাজ কমে যেত। কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো তখন আয়-রোজগারের সংকটে পড়ত।      তবে, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন এসেছে। আউশসহ বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ও মৌসুমি ফসলের আবাদ বাড়ায় বছরের বিভিন্ন সময়ে জমি চাষের আওতায় আসছে। ফলে কৃষকের পাশাপাশি কৃষিশ্রমিকদেরও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।       গংগাচড়ার কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমাদের এখানে ধুধু চর। কখনো শুকনো মৌসুম, কখনো পানিতে ডুবে থাকতে হয়। বোরো ও আমনের মধ্যবর্তী সময়ে কাজের সংকট ছিল। এখন আউশসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ বেড়েছে। ফলে ওই সময়টাতেও জমিতে কৃষিকাজ হচ্ছে, এখন সময়টা অনেক ভালো।’     আব্দুর রহিম বলেন, কয়েক বছর আগেও কাজের অভাব ছিল, আমাদের মঙ্গা এলাকার লোক বলত। এখন মানুষের হাতে কাজ আসছে। কোনো সময়ই আমরা বসে থাকি না। আউশ অনেকটাই আমাদের ভাগ্য বদল করে দিয়েছে।       কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বড় বাড়িগ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘বোরো কাটার পর জমি ফেলে না রেখে আউশ (বড় ধান) চাষ করা যায়। এতে একই জমি থেকে ফাও (বাড়তি) আরেকটা ফসল পাওয়া যায়। পরিশ্রম কম, খরচ কম। মোটামুটি লাভও হচ্ছে। এতে জমি ফেলে না রেখে আবাদ করায় মানুষের যে অভাব ছিল সেটা এখন আর নেই।’     কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আউশ ধানের আবাদ বেড়েছে, কৃষক অনেক বেশি লাভবান না হলেও আগ্রহটা বেড়েছে। তারা জানান, এক একর জমিতে আউশ ধান উৎপাদনে বীজ, বীজতলা ও সার, চারা, সেচ, কিটনাশক মজুরি, মাড়াইসহ মোট খরচ প্রায় ৫২ হাজার ৫১২ টাকা। এক একরে ধানের উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় এক হাজার ৫৩০ কেজি। খড়ের মূল্য বাদ দিলে ধানের নিট উৎপাদন ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৪৪ হাজার ৯১২ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২৯ টাকা।       কৃষক পর্যায়ে প্রতিকেজি ধান ৩৪ টাকা দরে বিক্রি হলে একরপ্রতি মুনাফা থাকে প্রায় চার হাজার ৭০০ টাকা।     কৃষকরা জানান, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। আবার ধান কাটার মৌসুমে বাজারদর কমে গেলে লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ধানের দাম ভালো থাকলে কৃষক এই ধান চাষে আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে।       কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ বলেন, আউশের আবাদ আরো বাড়াতে হলে উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি উপকরণে ভর্তুকি বা প্রণোদনা, মানসম্মত বীজ ও সার সহজলভ্য করা এবং বাজারে ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে আউশ চাষে কৃষকের আগ্রহ আরো বাড়বে। এতে এক সময়ের মঙ্গা যেভাবে দূর হয়েছে, ঠিক একইভাবে আরো আর্থিক সচ্ছলতা বাড়বে এই অঞ্চলের কৃষকদের।       রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, রংপুর অঞ্চলের কৃষিতে বড় পরিবর্তনের একটি দিক হলো বছরের মাঝের সময়টুকুও এখন আর আগের মতো পুরোপুরি অনাবাদি থাকছে না। আউশসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল সেই সময়টাকে উৎপাদনের মধ্যে নিয়ে এসেছে। ফলে জমির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি কৃষিকাজের পরিধিও হয়েছে বিস্তৃত।        অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, আউশ স্বল্পমেয়াদি ফসল হওয়ায় বোরো ও আমনের মধ্যবর্তী সময়ে এই ধান চাষ হয়। উন্নত জাত নির্বাচন, সময়মতো চাষ, সুষম সার প্রয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ফলন আরো বাড়াতে কৃষকদের সাবির্ক সহযোগিতা করা হচ্ছে। 

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪৮৪

তাসপিয়া আহমেদ তিসা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে মাইলস্টোন শিক্ষিকার মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্যসহ চালান জব্দ

0 Comments